Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজনগর – অমিয়ভূষণ মজুমদার

    লেখক এক পাতা গল্প546 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. দলিল-দস্তাবেজ

    পঞ্চম পরিচ্ছেদ

    ০১.

    ঘটনা কী সে সম্বন্ধে ভিন্ন মত আছে। উপরন্তু যদি কেউ সে সময়ের দলিল-দস্তাবেজ উল্টে পাল্টে দেখে তবে তার হঠাৎ অনুমান হতে পারে তখনই তো এক নতুন জাতের সব ঘটনার সুচনা হচ্ছিলো গ্রামে। একটা উদাহরণ নাও। কাছারিতে তখন রানীমার জন্মোৎসবের কথাই প্রাধান্য পাচ্ছিলোতা ঠিকই, কিন্তু সেই একরকমের যুদ্ধ, যার অন্য নাম আধুনিকতাও বলা যায়, তার কথাও এসে পড়ছিলো।

    মূলে সেই রাস্তা কাটার ব্যাপারটাই। সোজা সে কথা? নাক কেটে দেওয়ার চাইতে কম কিছু? তাও কার? ডানকানের? হতে পারে সে স্কচ, একেবারে যোলআনা ইংরেজ নয়, তা হলেও সে কি রাজার দেশের লোক নয়? জ্ঞাতকুটুম্বদের মধ্যে পড়ে না? অথচ মাথা ফাটলো না দু-পাঁচজনের, দু-চারজনের বুকে বল্লম বিধলো না, এক কথায় রক্তে মাটি ভিজলো না। এদিকে নায়েবমশায়ও যেন ব্যাপারটাকে নিজের মনের মধ্যে চেপে রেখেছেন। রাগ (নাকি ক্রোধই বলবে) ছাড়া কী? দারুণ ক্রোধ। নতুবা আলাপ-আলোচনা নেই, কথাবার্তা নেই, শাসানো নেই। লাঞ্চো খেলে তো একই সঙ্গে বসে (না-হয় নায়েব নিজে খাননি) আর সেই লাঞ্চো থেকে উঠে এঁটোমুখেই হুকুম গেলো সড়ক কাটার। এদিকে সব শুমশাম। যেন কিছুই নয়। কিছু না-ঘটাই তো একটা ঘটনা।

    কারো কারো মতে এটাই ঘটনা যে ১৮৫৭ শেষবারের মতো ঘটেছে আর ঘটবে না, ঘটনা এটাই যে এখন থেকে নতুনভাবে ঘটবে। এসব লক্ষ্য করেই তারা বলতে পারে :হতে পারে তখনও স্যার বানেশ পীকক কলকাতার হাইকোর্টে জমকালো হয়ে বসেনি। কিন্তু এখানে যেন পরে যা হবে তার সূচনা সেবারই দেখা দিয়েছিলো। একটা বড়ো রকমের পরিবর্তনের সূচনা। তুমি তোমার ধর্মমত, আর্থিক সঙ্গতি এমনকী চামড়ার রং নিরপেক্ষ অন্য সকলের সমান। এ কি আগে কখনো ছিলো? তুমি বিধর্মী হলেই কোণঠাসা, তোমার চামড়ার রং কালো বলেই তোমার কথা মিথ্যা এইনা-এতদিন, পাঁচশ বছর ধরে, হয়ে এসেছে। এখন দ্যাখো সমান হচ্ছে। ন্যায়নীতির প্রতিষ্ঠা হবে। এই সমান কথাটা নিয়ে রসিকতা আছে। ফুটপাথে শুয়ে থাকা ধনী-নিধনের পক্ষে সমান অপরাধ। সত্যমিথ্যা নিয়েও কম গোলযোগ নেই। প্রকৃতপক্ষে সত্য কি তাই নয় যা প্রমাণিত হলো! আর প্রমাণ মানেই হলপ করে বলা কথা।

    কথাটা ন্যায়নীতি নিয়ে। ন্যায়নীতির কথায় অবশ্যই কিছু কিন্তু আছে! এ বিষয়ে নায়েব মশাই ও হরদয়ালের আলাপই উদাহরণ হতে পারে। হরদয়াল বলেছিলো, দেখছি জমিটা মূলে ফরাসডাঙার, দখলদার কৃষক শামসুদ্দিন। নায়েব বলেছিলো, তাহলেও প্রমাণ হয় না জমিটাতে মনোহরের স্বত্ব অর্শাচ্ছে। হরদয়াল বলেছিলো, জমিটা হয়তো মনোহরের কাছে দায়বদ্ধ। নায়েব বলেছিলো, জমি দায়বদ্ধ হতে পারে, তাতে কিন্তু তার উপরে স্থায়ী রাস্তা করার অধিকার মনোহরের জন্মায় না। হরদয়াল হেসে বলেছিলো, তা বটে, কিন্তু আমরাই বা কোন পক্ষ? জমিটা ফরাসডাঙার যে বলবে তা কি প্রমাণসাপেক্ষ নয়? যদি অন্যরকম প্রমাণ হয় তা কি সত্য হয় না? সত্য কী? যা এভিডেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী তোমার বক্তব্যকে প্রমাণ করে। এটা কি হরদয়াল আর নায়েবমশায়ের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য হরদয়ালের মন কি এখনো রাজনীতিতে ন্যায়-অন্যায়ের বিচার করে? শেষ পর্যন্ত রাজনীতির দাবি তাকেও মানতে হয়, কিন্তু কিছুটা তা কি নিজের মনের সঙ্গে বিবাদ করে? অন্যদিকে নায়েবমশায় যেন ন্যায়-অন্যায় বিচারের অসারত্ব সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ।

    নায়েবমশায়ের এই মনোভাবকে অথবা মাঝপথে মনোভাব বদলানো তাদের একটা বিশেষ আধুনিকতা বলেই মনে হয়েছিলো। মানুষ এখন থেকে ক্রোধ, হিংসা ঈর্ষা, থেকে সরে যাওয়ার এক নতুন পথ পাবে। এতদিন তো হাতাহাতি, দাঁতের বদলে দাঁত, নাকের বদলে নাক নেওয়া ছিলো। এখন যেন সেসব থেকে দূরে থাকা হবে কৌশল। যে মামলায় জিতলো সে তো শান্ত হলোই, যে হারলো সে-ও ভাবলো, কী আর করা যাবে বলো, এবার থামো। যদি বলা হয় এ ধরনের শান্তিতে প্রকৃত কিছু লাভ নেই, তাহলে অপরপক্ষ বলবে যা নিয়ে বিবাদ তারইবা প্রকৃত মূল্য কী? কিছুদিন পরে বিবাদের উভয়ংক্ষিই বুঝতে পারে যা নিয়ে এত উত্তেজনা, কলহ, তা সবই নিতান্ত মূল্যহীন। এ যেন এক খেলার আইন মেনে চলা। জুয়ার খেলাতেও আইন আছে, যদিও সে আইনে টেবলের মালিকের লাভ হয় শেষ পর্যন্ত।

    যাকে অন্যায় বলে মনে হয় তার প্রতিকারের জন্য মানুষের যুদ্ধ করার দিকে ঝোঁক। আছে। এবং এই আধুনিক প্রথায় সে-ঝোঁকটারও তৃপ্তি হয়ে থাকে। সূচনায় চিনতে কিছু অসুবিধা হচ্ছে বটে। দলিল দস্তাবেজ, কমিশন আর মিশন, গাউন-পরা শিক্ষিত উকিল ব্যারিস্টারের ছুটোছুটি আদালতে, গাউন ছাড়াই তাদের ছুটোছুটি সেনেটে আর মাঠে-পরবর্তী একশো বছরের সেসব বাকযুদ্ধের সূচনা পাবে এতেই! আর এও যে এক রকমের যুদ্ধ তা নাকি রানীমাই উল্লেখ করেছিলেন। অন্তত তার কথাতেই যুদ্ধ শব্দটার উল্লেখ ছিলো।

    .

    ০২.

    অন্যান্য দিনের মতো কাছারিতে কাজ হচ্ছে। নিঃশব্দেই বলা যায়। অর্থাৎ নায়েবমশায়ের খাসকামরার দিকে যত এগোবে ততই নিঃশব্দ। নতুবা এ-ঘরে ও-ঘরে চাপা গলার আলাপ, এমনকী তামাক টানার মৃদু শব্দ নিশ্চয় আছে।

    কিছুক্ষণ আগে জমানবিশ মহেন্দ্র বেরিয়েছে নায়েবের কামরা থেকে, এখন আবার। সুমারনবিশ সুরেন্দ্রর ডাক পড়লো। জমানবিশকে চিন্তাকুল মুখে বেরোতে দেখা গিয়েছে।

    তাকে সে অবস্থায় যে দেখেছে সে সদর-আমিন সোনাউল্লা। সোনাউল্লা চট করে সামনে যে-দরজাটা পেলো তা দিয়েই ঢুকে পড়লো। সে ঘরটা ল-মোেহরার গৌরীর।

    সোনাউল্লা বললো–গতিক ভালো দেখি না।

    –শুনছি তাই। বললো– গৌরী। –আসলটা জানেন কিছু?

    -আরে আমি ভাই লেঠেলদের সদ্দার। কাগজপত্রের খোঁজ কী রাখি?

    যেখানেই জমি নিয়ে বিবাদ সেখানেই আমিনের ডাক পড়ে। জমি মাপজোখের জন্য সঙ্গে লোকলস্কর থাকে এবং যেহেতু বিবাদ সঙ্গে দুচারজন পাইকবরকন্দাজও। এ থেকেই সোনাউল্লা কাজী, যে প্রায় মুনসেফ-ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ করে, নিজেই লেঠেলদের সদ্দার–কথাটা নিজের সম্বন্ধে তৈরি করেছে।

    সে হেসে বললো–আমিও ভাবছি আলি বলে বেরিয়ে পড়ি। বিলমহলের মাপজোখ শেষ করে ফেলি। ওদিকে এ ওর জমিতে কামড় দিচ্ছে।

    –আপনার কি মনে হয় গতিকটা মন্দ কাজ ফেলে রাখার জন্যই?

    -শুনছি গত বছরের তুলনায় এই আট মাসের গড় আদায় বেশকিছু কম। পরগনায় পরগনায় নায়েব আহিলকারদের কাছে কড়া চিঠি যাচ্ছে নাকি।

    –আপনার ভদ্রপুরের ঝামেলাটা মিটলো? গৌরী জিজ্ঞাসা করলো।

    -ওটা আর আমার ঝামেলা নয়। বাঙালি নীলকরের নাম শুনেছো? দত্তবাবুরা নীলকর হতে চাইছে, জোড়াসাঁকোর ঠাকুররা যেমন হয়েছিলো।

    লাভ?

    সাতপুরুষে ব্যবসাদার ওরা। তেজারতী বন্ধকী তো ছিলোই, এখন দাদন ব্যবসা। শুনছি আগে তাঁতীদের মহাজন ছিলো। এখন তাঁতী কই? নীলছাড়া আর ব্যবসা কোথায়? একটা তুলোর ক্ষেত দ্যাখো?

    কারখানাও করবে?

    –আপাতত মরেলগঞ্জের সঙ্গে বন্দোবস্ত। কিন্তু তোমার ঘরে মুসলমানী হুঁকো যদি না রাখো, আমার আসাই বন্ধ করতে হবে।

    -রাখবো। গৌরী বললো–শামসুদ্দিনের দরুন সেই রাস্তা কাটার জমিটা আপনি মেপেছিলেন নাকি?

    কবে! না এবার উঠি। চক্‌ ইসমাইলের দিকে যাবো। ভদ্রপুরের কানুনগোকেও চিঠি দিতে হবে। আরে গৌরী, এবার রানীমার জন্মোৎসবের খাওয়াদাওয়ার ইনচার্জো কে? গতবার মুসলমান জোতদাররা কলাপাতায় খেতে বিরক্ত হয়েছিলো।

    উঠেছিলো বটে কথাটা। দেখতে সুন্দর হয়নি। মনে হয় সুরেনবাবুই ভার নেবেন। টেবল-চেয়ার কাঁচের বাসন হলেই হয়।

    .

    নায়েবের খাসকামরায় সুমারনবিশ সুরেন্দ্র দেখলো নায়েব তখনো জমার বই দেখছেন। পাশে গত সনের জমার চুম্বক-নথিনাকি রেভেনিউ অ্যাবস্ট্রাক্ট বলে। আঙুলের ডগায় ডগায় হিসাব হচ্ছে।

    নায়েব বললো–বসো, সুরেন্দ্র।

    দুপাঁচ মিনিট আরো হিসাব চললো। চুম্বক-নথিতে লাল পেনসিলের দাগ পড়লো। খাসবরদারকে ডেকে নায়েব বললো, রানীমার সঙ্গে দেখা করবো। হুকুম আনো। আর্জি নিয়ে খাসবরদার চলে গেলো, জমা বই ঠেলে দিয়ে নায়েব মুখ তুলো।

    সাহসী সুরেন্দ্রও চমকে উঠলো।

    নায়েব বলেলা–দ্যাখো, সুরেন্দ্র, দেওয়ান উৎসবটা শুরু করেছিলেন, তখন নিশ্চয় হেতু ছিলো। এখন কিন্তু ওটা আমাদেরই ব্যাপার। আমরাই উৎসাহ নিয়ে এগোবো। যাঁর জন্মতিথি তিনি কী আর বলেন? ছেলেরা নাটক করার কথা বলছে, কিন্তু তোমার দফাওয়ারি আগাম হিসাব, নাকি তাকে বডজেট বলে?

    -এবার তিথিটাই আজ্ঞে এগিয়ে এসেছে। আমি দুএক দিনেই পেশ করবো বড়জেট।

    হলেই বা। সেদিন সুমার দেখতে দেখতে হঠাৎ নজরে না পড়লে আরো কয়েকদিন পিছিয়ে যেতো জোগাড়যন্তর।

    তা কি আর হতে দিতাম, হুজুর। রেলের শেয়ারের দরুন অ্যাটর্নির খত দেওয়ানজির মন্তব্যসমেত এসেছে। আড়াই লাখ মতো।

    –হুঁ। বডজেটে ধরো।

    সুমারনবিশের উৎকণ্ঠাটা গেলো।

    সে বললো–সব পরগনার সব জোতদারদের কি বলা হবে?

    গতবারও বলেছিলো বটে। কিন্তু একজায়গায় তো থামবে। বার্ষিক দাখিল পাঁচ হাজার পর্যন্ত পত্র দাও। জমানবিশের সেরেস্তায় লিস্টি করতে বলল।

    সুমারনবিশ উঠলো। কিন্তু যেন দাঁড়িয়ে পা ঘষে, যেন কিছু বলবে।

    নায়েব তা লক্ষ্য করলো।

    নাচগান আর আতসবাজীর কথা নাকি?

    সুমারনবিশ খুশি গোপন করে বললো–আচ্ছা, হুজুর, তা পরে বলবো।

    সকালের কাছারি ভাঙে দুপুরের আগে। এগারোটা বাজে আজকাল তখন। সময়টা সেদিকে চলেছে। নায়েবের খাসবরদার আর্জি পৌঁছে দিয়ে ফিরে গড়গড়ার জল বদলে ছিলিম দিলো। নায়েব দুএক টান দিলেন। হাঁ, ঠাণ্ডা বটে এ তামাকটা। যে বয়সের যা এই রকম একটা চিন্তা নায়েবের মনে একপাক ঘুরে গেলো। রাজবাড়ি থেকে রূপচাঁদ এলো। নায়েব তখনো তামাক টানছেন। কাছারি ভাঙলে যেতে বলেছেন রানীমা।

    তামাক শেষ করে নায়েবউঠলো। ধীর পায়ে কাছারির বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। কখনো কখনো কোনো সেরেস্তায় ঢুকে পড়ে নায়েব আমলাদের খাতাপত্তর পরীক্ষা করে থাকে। কাজেই যতটুকু দেখা যায় দরজা-জানলার ফাঁকে নায়েবকে তেমন দেখে নিয়ে আমলারা কাগজে চোখ নামিয়ে নিলো।

    নায়েব এই সময়ে লক্ষ্য করলো সদর-দরজা দিয়ে হরদয়াল এগিয়ে আসছে।

    দেওয়ানকুঠি থেকে কোথাও যেতে খানিকটা কাছারির দিকেই আসতে হয়।

    হরদয়াল কাছে এলে নায়েব বললো, নমস্কার-কাছারিতে নাকি?

    হরদয়াল বললো–রানী ডেকেছেন।

    নায়েব বললো–আমিও তো যাচ্ছি, তাহলে

    হরদয়াল একটু ভেবে, হেসে বললো, দুজনকেই দরকার হয়তো একত্রে।

    রাজবাড়ির দরজাতে রূপচাঁদ জানালো, রানীমা দরবার-ঘরে। দেউড়ির ঘড়িতে তখন সশব্দে এগারোটা বাজলো। দরবার-ঘরের নিচু কৌচে রানী বসেছিলেন। কাছারির প্রধানতম দুজন দরবারে। রূপচাঁদ সুতরাং যথোপযুক্ত আসনের ব্যবস্থা করে রেখেছিলো।

    রানী বললেন–বসো হরদয়াল, বসুন নায়েবমশাই।

    নায়েব দরবার চেয়েছিলো, সুতরাং সে-ই আগে বলবে। জানালো জন্মোৎসব সম্বন্ধে বলতে চায়।

    .

    ০৩.

    রানী শুনে বললেন, তুমি যখন সে বিষয়ে এখনো আলাপ করার কথা ভাবছো, সব পাকা হয়নি। ওটাকে কি চালিয়েই যেতে হবে? না-হলেই কি নয়?

    –আজ্ঞে, এটা এক বিশেষ উৎসব যা আমাদের অঞ্চলেই হয়। দশজনের আনন্দ, গ্রামের সুখ্যাত।

    বলো।

    গতবার জোতদারদের মধ্যে বড়োদের, সদরের হাকিমদের, মরেলগঞ্জের ওদের নিমন্ত্রণ হয়েছিলো। এবার

    –মরেলগঞ্জে দিতে চাচ্ছো না? ইংরেজদের সঙ্গে ফৌজদারি-ফরিয়াদিতে কিন্তু লাভ হয় না। একটু দেরি হলো নায়েবের উত্তর দিতে। বললো–এখনো সবটা ভেবে উঠতে পারিনি।

    কৌতুক বোধ করে রানীমা ভাবলেন, এ কি কখনো সম্ভব নায়েবের, মরেলগঞ্জেই দু একজন লোক নেই যে ডানকান কী করবে তা ধরতে পারছে না? বললেন–মামলা চলুক, নিমন্ত্রণ পাঠাও। তাছাড়া লীজের হলেও মরেলগঞ্জও তোমাদের একরকম পত্তনীদার। দেওয়ানি স্বত্বের মামলা ভালো নাকি বিলেত পর্যন্ত নেওয়া যাবে। বেনে নীলকরেরা ততদুর যেতে চাইবে না বোধ হয়।

    কিন্তু তখনই স্নিগ্ধ ডাগর চোখদুটো যেন চঞ্চল হলো, গালে কোথাও একটু যেন রং লাগলো। বললেন রানী–তুমি কি শুনেছো? তোমাদের পেত্রো নাকি ইংরেজদের একটা কথাই ইংরেজিতে বলতেন : দেয়ার্স নাথিং আনফেয়ার ইন লভ অর ওঅর!

    দরবার শেষ হলো, নায়েব উঠলো। কিন্তু ডানকান আর তার মামলা সম্বন্ধে নির্দেশ নিয়ে দরবার ভাঙা যায় কি? বরং দরকারি কথার মাঝে এসে পড়েছিলো এমন ভাবটা থাকা উচিত।

    বিচক্ষণ নায়েব সেজন্যই যেন বললো–ঘরবাড়ি সংস্কার ইত্যাদির কাজে খরচটা বৃদ্ধির দিকে। রানী কথা না বলে নায়েবকে বলতে দিলেন।

    নায়েব বললো– হাসিমুখে নরেশ, সুরেন, এরা যত কাজ করছে, তত যেন কাজ বাড়ছে। ওদের একটা আলাহিদা দপ্তর করলে হয় না? পৃথক হিসাবনিকাশ, তদারকি। দেওয়ানজিকে অনুরোধ করেছি ভার নিতে।

    ভাবতে যেন মুহূর্তই যথেষ্ট। রানী বললেন–ভালো করেছে। নিয়োগপত্রের দরকার হবে? আচ্ছা, আমি বলি, হরদয়াল, নরেশদের কাজ দেখে দিলে তোমার উপরে খুব চাপ পড়বে?

    কোনো কোনো বিষয় খুব দ্রুত অগ্রসর হয় দেখা যাচ্ছে। নতুন এই পূর্তবিভাগটি পৃথক করে খোলার ব্যাপারে তা দেখা গেলো।

    নায়েব চলে গেলে হরদয়াল বললো, আমাকে ডেকেছেন?

    -হ্যাঁ, হরদয়াল, বসো। রানী বললেন, ভালোই হলো তোমার হাতে কাজের ভারটা এসে। একটা শহর গড়ে তোলার মধ্যেও পৌরুষ থাকে, নয়? রানী হাসলেন। পরে অন্য পুরুষ এসে তাকে অন্য রকমে গড়তে চাইবে, তাহলেও কিছু একটা করেছি এরকম অনুভব থেকে যায় না? তুমি ভেবে দেখো আমাদের এই বাড়িতে গাড়িবারান্ডা জুড়লে কেমন হবে, তার জন্য নাকি আলগা কয়েকটা মিনারও বসাতে হবে মাথায়। কিন্তু তার চাইতেও বেশি ভাবা দরকার ছ-আনির কায়েতবাড়ি পর্যন্ত রাজবাড়ির সদর থেকে বর্ষায় বেচাল হয় না এমন পাকা সুরকি রাস্তা কী করে হয়।

    কায়েতবাড়ি? হরদয়াল বিস্মিত হলো–কোথা দিয়ে যাবে? মরেলগঞ্জের আড়াআড়ি?

    রানী যেন কৌতুকে হাসলেন। বললেন–না না। ফরাসডাঙা দিয়ে।

    -সে তো তিন-চার ক্রোশ হয়ে যাবে, অনেক–

    রানী বললেন, অনেক টাকা বলেই তো নায়েবমশাই তোমাকে ভার নিতে বলছেন।

    দরবার কি দীর্ঘস্থায়ী হবে? কৌচের উপরে কুশন ছিলো। হেলে বসলেন রানী। মোটা বাঁশগিরে রুলিতে আলো চিকমিক করলো যেন। বললেন–চীনে নানকিং কী? টাইপিং কী বিষয়?

    হরদয়াল লক্ষ্য করছিলো, ভঙ্গিটা পরামর্শের বটে। সে অতি দ্রুত চিন্তা করলো, চিন্তায় থই পেয়ে বরং বিস্মিত হলো। টাইমস কাগজে সোরগোল। টাইপিং বিদ্রোহে ইংরাজ অন্য পক্ষ, সুবিধা করতে পারছে না। এমনকী সেনাপতি বদলের কথা হচ্ছে। কিন্তু রানী জানলেন কী করে? চীনাদের এক অংশ স্বজাতির স্বার্থে, ইংরেজ তাদের অবাধ বাণিজ্যের নামে মুখোমুখি।

    রানী হালকা কথার সুরে বললেন, কায়েতবাড়ির ছেলে ইংরেজ পক্ষে সাবলটার্ন না কী হয়ে যেতে চায় সেখানে।

    আমরা? হরদয়াল বললো–অনেকদিন পরে আবার সে রাজবাড়ির পক্ষকে আমরা বললো–আমাদের কিছু ভাবতে হবে? সাবলটার্ন বলছেন?

    রানী ভাবলেন, বললেন অবশেষে-ছেলেরা যদি মত চায়, তার অবশ্য একুশ পার হয়েছে। মতনা-চাইলেও কী হতো? একটু থেমে বললেন আবার কেউ কেউ বাপের মতো হবেই। সবদিক ভেবে দেখে বলল।

    রানী উঠলেন।

    .

    ০৪.

    নায়েব রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে খাসকামরায় বসতেই খাসবরদার একটু দ্বিধা করলো, কিন্তু বসছেন যখন এই ভেবে ছিলিম পাল্টে আলবোলার নলটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো–এবার রানীমার জন্মদিনে তসরের গড়া চাই, হুজুর।

    -সে কী? ও আচ্ছা। তা তো বটেই। গৌরীকে ডেকে দাও একবার।

    ল-মোহরার গৌরী এলে নায়েব চেপে চেপে হাসলো, বললো–কীবল ছোকরা কি ব্যারিস্টার? দ্যাখো তো মনোহরকে সে-ই পরামর্শ দিচ্ছে কিনা।

    অবাক গৌরী বললো–আচ্ছা-আচ্ছা, খোঁজ রাখতে হচ্ছে, হুজুর।

    কিন্তু গৌরী একা নয়। সুমারনবিশকে সামনে রেখে বেশ কয়েকজন ভিড় করে এলো। নায়েব চোখ তুলো। তার কী বুঝতে আর বাকি? বললো–ঢের হয়েছে, হাতের কাছে রামযাত্রা আছে কিনা দ্যাখো।

    সুমারনবিশ আজ্ঞে বলে ইতি করতে চাইলো, কিন্তু তার পিছনে অন্যেরা এমন দরজা জুড়ে যে পিছানোর উপায় নেই।

    দরজার পাশ থেকে একজন জানালো-আজ্ঞে, নাটক কলকাতায় যা হয়, ঠিয়াটার। আমাদের ব্রজকান্ত দেওয়ানজির সঙ্গে গিয়ে দেখেছে। দেওয়ানজিকে বলেছিলো ব্রজ। তিনি বলেছেন, দ্যাখোনা চেষ্টা করে। আপনি বললে রিহারস্যাল শুরু করি।

    –এই মরেছে! এখন যাও, এখন যাও। ঠিয়াটারে রক্ষে নেই রিস্যাল দোসর। সেরেছো তোমরা। এখন বোঝোগে, সে কিন্তু রানীমার চোখে পড়তে পারে।

    আমলারা খুশি মুখে চলে যেতেই নায়েব জমাবন্দির খাতাটা খুলছিলো, কিন্তু খাসবরদার নিবেদন করলো এগারোটা বেজে এ বেলার কাছারি ভাঙলে তবেই তিনি রাজবাড়ি গিয়েছিলেন। তিনি না-উঠলে আমলারা কেউ যেতে পারছে না।

    কাছারি বারান্দায় নায়েবের পালকি। হঠাৎ একদিন যেমন সে শুনতে পেয়েছিলো সেদিন সকাল থেকেই সে নায়েব আর নয়, নায়েব-ই-রিয়াসৎ, তেমনি হঠাৎ একদিন কাছারির গোড়ায় ছ বেহারার পাকিটাকে দেখতে পেয়েছিলো।

    কে এলো রে? আজ্ঞে, কেউ নয়। আপনার বাসায় যেতে।

    পালকিটা চলেছে মাঝারিগতিতে। একহাত নিচে পথটা সরে সরে যাচ্ছে। রানীমার ছোটো আট বেহারার পালকিটাও মাটি থেকে কোমরসমান উঁচুতে থাকে। তাকিয়ায় কনুই রেখে আধশোয়া অবস্থায় নায়েব। এখন সে কিছু ভাবতে চায় না। এখন স্নানাহার বিশ্রামের সময় নয়? কিন্তু, তার মনের মধ্যে কেউ ফাঁকিটা ধরে হাসলোম্মুঃ। তাহলে তো উল্টোদিকে যোগই হলো।

    হুঁই-হাই করে চলছে পালকি। হ্যাঁ, নিচুই তো। কাহারদের সে বেঁটে দেখে দেখে বাছাই করেছে। পাকির ছাদের দিকে চাইলো নায়েব। বেশ উঁচু। ও, হ্যাঁ, কোনো-কোনো ঘোড়ার পিঠ ওরকম উঁচু হয় বৃটে। তা ছিলো। আর লাফিয়ে উঠতো তার পিঠে। কায়েতের ছেলে, কিন্তু লাফিয়েই উঠতো বুজরুকের মতোই।

    কাহাররা গুমগুম গুনগুন করে উঠলো। নায়েব বললো–আস্তে চলো, বাপারা, এ কি রাজবাড়ির পাকা হাতা?

    নায়েব ভাবলো পাকা রাস্তাই তো কথায় উঠেছিলো। তা ভালো সদরে গেলে বোঝ যায় সুবিধা কোথায়, ফীটিন বলল, ল্যান্ডো বলল, সকলেরই সুবিধা। …আর রাজবাড়ির দেউড়ির কাছে যখন পাকা রাস্তায় উঠেছে বুরুকের ঘোড়া লাল আগুনের শিখার মতো ধুলো উড়তো, নাকি বালামচি?

    কিন্তু, কিন্তু তুমি বাপু কায়েতের ছেলে গোবরা, তোমার কেন তেমন ঘোড়া? কী লাভ?

    কী লাভ?

    নায়েব নিজেকে জানালো, আসলে গৌরী বেজোদের দেখে মনে পড়েছে তোমার। তাদেরই সমবয়সী ছিলো তো। থাকলে ওদের ঠিয়াটারে জমতো।

    সে স্থির করলো গিন্নিকে আজ বুঝিয়ে দেবে, (প্রথম) যে গিয়েছে সে শত কান্নাতেও ফেরে না, (দ্বিতীয়) পেটের ছেলের শোকও মানুষ ভোলে, ভাগনা বলে শোক বেশি হয় না, (তৃতীয়) আমি তো আর-এক ভাগনাকে এনে দিয়েছিলাম, ভরলো তোমার বুক?

    কাহাররা কাঁধ বদলালো, তাই একটা মৃদু ঝুঁকি লাগলো। নায়েব দু হাত একত্র করে বুকে রাখলো।

    না, আনন্দ হয় এমন কোনো বিষয়ে আজ আলাপকরতে হবে। তেমন বিষয়ের খোঁজেই যেন তার মনে পড়লো রানীমার কথা। সেই স্নিগ্ধ ডাগর চোখ দুটির চঞ্চল হয়ে ওঠা, ঠোঁটের কোণের সলজ্জতা আর হাসির মধ্যে সেই ইংরেজি কথা। রানীমা ইংরেজি বলেছেন শুনে তুমি কাঠ হবে, গোবরার মামী। তা এক বিদ্যুতের ঝিলিক।

    হঠাৎ যেন কাহারদের হুই-হাই বেড়ে উঠলো। সে বাড়ির গিন্নিকে খুশি করতে। তো, রাজবাড়ির তত্থা। গিন্নি কাপড়চোপড় দেন, এ সুযোগে-সে সুযোগে মাহিনায় দশদিন খাওয়ান।

    মর্যাদার প্রশ্ন এসব।

    রানীমা অবশ্য যুদ্ধের কথা বলেছিলেন। কিন্তু সড়ক কাটা কি যুদ্ধ? যুদ্ধ? আঃ অন্ধকারে অদৃশ্য ঘোড়ার কাজলকালো পেশীর মতো কিছু কী তার মনের মধ্যে টগবগিয়ে উঠছে। নাকি এক হিংস্র দাঁতের সারি। আর, জানো বাপু, বুড়োবয়সে রাশ টেনে রাখতে পিঠ ভেঙে আসে, দম ফেটে যায়; হাত…

    বাড়ি পৌঁছে ধীরে-সুস্থে স্নানাহার করে নায়েব গিন্নিকে ডেকে বললো, গোবরার মামী, শোনো। একটু শোও দেখি, বাছা, আমার পাশে। এখনই সলতে পাকাতে হবে কেন? সলতে, সলতে…প্রদীপে ঘর সাজিয়ে লাভ?

    তিরস্কারের মতো সুর শুনে নায়েবগিন্নি বিছানায় এলো।

    নায়েবের চোখ দুটি দুপুরের ঘুমে জড়িয়ে আসছে, সেই কত দিনের অভ্যাস তো। হঠাৎ যেন উৎকর্ণ হলো সে। যেন কিছু শুনছে? পাখি? ক্রোক-ক্রোক করে ডাকছে। খুব নিস্তব্ধ দুপুরে, কিংবা পোড়োবাড়ির কাছে শোনা যায়। কাঠঠোকরাই। কিন্তু এ কী? আমার বাড়ির কাছে? নায়েব ধড়মড় করে উঠে বসলো।

    পাশের লোক উঠে পড়লে শুয়ে থাকা যায় না। নায়েবগিন্নিও উঠে বসলো।

    –খাস সিন্ধুকের চাবির গোছাটাই বোধ হয় ভুলে এসেছি। সেরেছে!

    –আদৌ না, এসেই আমার হাতে দিয়েছে।

    –এই মরেছে! ধরা পড়েছে তা গোপন করতে নায়েব হাসলো। তা, উঠেই যখন পড়লাম, চাকরকে বলো তামাকু দিতে।

    গিন্নি শয্যা থেকে নামতে গেলো। নায়েব বললো, আহা, এখনি নেবে যাচ্ছো কেন?

    গিন্নি হেসে বললো, চাকর তোমার শোবার ঘরে কবে ঢুকলো যে তোমার শোবার ঘরের তামাকে হাত দেবে?

    নায়েবগিন্নি নিজেই তামাক সেজে ডাবাসমেত নিয়ে এলো।

    নায়েব বললো, চলো, এবার তোমাকে কলকেতা দেখিয়ে আনি। ওদিকে কালীঘাট দক্ষিণেশ্বর দেখা হয়ে যাবে, এদিকে কলকেতা শহর, এস্তেক নবদ্বীপ। যেখানে যাও, প্রাণ ভরে ঢিপঢিপ।

    গিন্নি বললো, সে শহরে নাকি গাছপালা অনেক কম, সব বাড়ি নাকি পাকা, রাস্তাঘাট সব সুরকির? রাস্তার মোড়ে মোড়ে নাকি আলো? আর

    কী আর? কলকেতা বলছো?

    –পথে পথে নাকি ইংরেজ-ঠাসা? এখেনে এক ডাংকাং-এ রক্ষে নেই

    শহরটাই তো ইংরেজের। ওরাই পত্তন করেছে। সেখানে সবই ইংরেজি। ছোটো ছোটো বাঙালি ছেলে ফুট ফুট করে ইংরেজি বলে। বড়োদের তো কথাই নেই। স্বপ্নও নাকি ইংরেজিতে দ্যাখে। সেখানে টেবল ইংরেজি, চেয়ার ইংরেজি, মদ ইংরেজি। শিবঠাকুরও নাকি রবিবারে ইংরেজি মতে পুজো নেন।

    রবিবার নিষ্ফলা না?

    দ্যাখো কাণ্ড। সে কি ধূপধুনোর পূজো? আর্গিন বাজিয়ে গান। সবাই নাকি চোখ মুদে বসে থাকে আর একজন খুব বক্তৃতা দেয়? ; হু-হুঁ করে চোখের জল পড়ে।

    -ছেলেছোকরারা যায়?

    যায় না আবার। পেশকার বেজো বলে, আমি শুনি। মাগীরাও। হাতটাকা জামা কামিজ, পায়ে জুতোমুজো।

    নায়েবগিন্নির গালটা লাল হলো। বললো, দ্যাখো, আমি শুনেছি, যেসব ইংরেজ এখেনে আসে তাদের নাকি বাপ নেই। মানে মা আছে কিন্তু, বুঝলে তো? কলকেতারও কি তাই?

    –ছি-ছি! কী যে বলো? আজকাল ছেলেছোকরারা কি বাপ-মার কথা শোনে? কোনো দিনই কি শোনে? আমাদের গোবরাই ভাবলো আমাদের কথা?

    দ্যাখো, তুমি আমার গোবরাকে, তুমি ওসব ছেলের সঙ্গে তুলনা দিও না। ঝটকায় উঠে দাঁড়ালো নায়েবগিন্নি।

    -পরের ছেলেরা ভুল করছে, আর তোমরা ছেলে বুঝি ঠিক করেছিলো? ডাবা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো : সেও ভুল করেছে, ভুলই। কলকেতার সব ভদ্রলোক সব শিক্ষিত লোক যার নিন্দে করছে, এস্তেক আমাদের দেওয়ানজি, তাই কিনা করতে গেলে তোমার ছেলে! দ্যাখো দেখি কত তফাত, যখন যে-বছর লখনউ, কানপুর, ঝাসিতে মারপিট, ঠিক সে-সময়ে সে বছর বিশ্ববিদ্যালয় বসলো কলকেতায়। কেন? ইংরেজি শিখতে নয়?

    ভারি ঢং-এর কথা বোলো না গোবরার মামা। আমার ছেলে ভুল করে না। তুমি কী জানো? তুমি কী শুনেছো? খবরদার কাউকে বোলো না যেন; কিন্তু জানো আর-একজনও ছিলো সেই দলে, বলবো? রাজকুমার।

    শেষ কথাটায় গলার স্বরটা অনেক নামিয়ে আনলো নায়েবগিন্নি। আঁচল তুলে চোখের কোণটা মুছলো।

    -আহা-হা! বললো– নায়েব। কী লাভ? এসব খোঁজ নেওয়াই বা কেন আর এখন? ওরে তামুক দে, গেলো কোথা সব, হারামজাদাদের বাড় বেড়েছে দেখছি।

    -রাগ কোরো না। শোবার ঘরে ওরা ঢোকে না। তামুক তো হাতেই।

    নায়েব ভাবলো, সড়ক কাটার ব্যাপারটার সঙ্গে কী করে যেন গোবরা জড়িয়ে যায়। কিন্তু কথায় বলে নায়েব। হঠাৎ যেন খোলামেলা দেখতে পেলো। বলবে ভুল করে, কিংবা

    পেত্রোর পাল্লায় পড়ে, যে করে হোক, ইংরেজ গোবরার শত্রু। তা থেকেই সেদিন ইংরেজদের উপরে রাগ হয়েছিলো। তা থেকে সড়ক কাটা। আশ্চর্য কথা দেখছি। কিন্তু এ কি উচিত তোমার রাগে মনিবকে মামলা-হামলায় জড়ানো?

    গিন্নি বললো, তামুক খেয়ে কি এখনই কাছারিতে যাবে? তাহলে জলপান

    -আমি বলি কী–এখন কিছুদিন দইয়ের শরবৎ দিও।

    –এই শীতে দইপানা?

    –পিত্তটা বিশেষ কুপিত মনে হচ্ছে না? খামকো রাগ হয়ে যায়।

    –তাহলে ওষুধ করতে হয়। বলো কী!

    কী লাভ বলো? নায়েব হেসে উঠলো। তামাকের ধোঁয়াটাও গলায় লাগলো। হাসি ও কাশির মধ্যে বললো– তো, একবেলায় খোঁয়াড়সমেত সায়েবটাকে ছাই করা যায়। সবকটাকে, বন্দুকে ঠেকে না, গ্রামসমেতই যদি বলো। তাতে কিন্তু পিত্তই কুপিত হয়। রাস্তা কেটে কী বা হয় বুড়োবয়সে পিত্ত কুপিত হওয়া ছাড়া?

    কাছারিতে ফিরে নায়েব ল-মোহরারকে ডাকলো। সে এলে বললো, একটা কথা ঠিক রেখো। মামলায় লম্বা লম্বা তারিখ নেবে। ঢিলে দিতে থাকো, উকিলকে টাকা ঢেলে দিক ডানকান। এদিকে শামসুদ্দিনকে ফিরিয়ে আনেনা, জমিতে চাষ দিক। না আসে, অন্য কাউকে বসাবে জমিতে। গ্রামে কি শামসুদ্দিনের অভাব পড়েছে? তাকিয়ে তাকিয়ে দ্যাখো, খেলো খেলো এগোও। জেবন কেটে যাক ওই সড়কে। স্বত্বটা দেখে নিক।

    গৌরী গেলে নায়েব হেসে তামাকেই মন দিলো আবার। তার নায়েবি মাথায় তখন খেয়াল–স্বত্বের কিন্তু দুই পক্ষ, এক স্বামীত্ব করে, অন্যে বলে তারই হক। ফিরিঙ্গি পেত্রোর ফরাসডাঙায় স্বামীত্বই বা কে করে? …ওদিকে দ্যাখো, গিন্নি যেমন বললো, রাজকুমার নাকি কী কাণ্ড!নায়েব তার ফরাস আর দেয়াল বরাবর সাজানো কুর্সির মাঝখানে ধোঁয়ায় ভরা ফাঁকটাকে দেখছিলো। ধোঁয়া, খালি পাক খাওয়া ধোঁয়া। আরে কাণ্ড! সে একেবারে স্তম্ভিত! দোলডগর, লোকলস্কর, খানাপিনায় চেপে গিয়েছে ব্যাপারটা। দখল বলে দখল? শোবার ঘরে বাঁশগাড়ি। হাওয়াঘরে শিব-গাড়া! রানীর বিচক্ষণতায় সে দিশেহারা হয়ে গেলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহিষকুড়ার উপকথা ও একটি খামারের গল্প – অমিয়ভূষণ মজুমদার
    Next Article গড় শ্রীখণ্ড – অমিয়ভূষণ মজুমদার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }