Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজনগর – অমিয়ভূষণ মজুমদার

    লেখক এক পাতা গল্প546 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. সে রাতের রাজবাড়ি

    অষ্টম পরিচ্ছেদ

    সে রাতের রাজবাড়ি অন্যান্য রাতের চাইতে কিছু পৃথক হয়ে উঠলো। অনেক বেশি আলো এবং নোক-চলাচল। পালকি যখন সদর-দরজায়, তখনই আলোগুলো চোখে পড়েছিলো। নয়নতারার। কাছারির বড়ো চত্বরটা পার হয়ে যেতে যেতেই নয়নতারা দেখলো, প্রাসাদের কাছাকাছি হাতিটা বসেছে। তার চোখে পড়লো হাতিটাকে কিছু দূরে রেখে রাজকুমার তার। ঘোড়ায় আর-একটা দরজার দিকে গেলো। হাতির হাওদা থেকে সিঁড়ি বেয়ে বিলেতি পোশাকের একজন নামছে। তাকে সাহায্য করতে, এগিয়ে নিতে বরকন্দাজ ও পরিচারকেরা এগিয়েছে। কিন্তু রূপচাঁদই এদিকে এদিকে বলে তার পালকির আগে আগে ছুটে পালকিটাকে খিলানের তলা দিয়ে অন্দরে নিয়ে গেলো।

    নয়নতারা ভাবলো, সত্যি কি তাই হয়, সময় কি নদীর স্রোতের মতো সরে যায়? তা কি ওড়াগের মতো কোনো ব্যক্তিত্বের আধারে স্থির থাকে না?

    আমাদের চিন্তার প্রবাহ অবিরত অখণ্ড কিনা তা নিয়ে তর্ক আছে, কিন্তু আলাপ যে তার খানিকটাকে কিছু সময়ের জন্য আয়ত্তে আনতে পারে সন্দেহ নেই।

    রানীমাকে তার দোতলার বসবার ঘরেই পাওয়া গেলো। নয়নতারাকে বাড়ি যাওয়ার আগে তো দিনের খবরগুলো দিয়ে যেতে হবে। রানীকে মন্দির সম্বন্ধে বলা শেষ হলে নয়নতারা নদীর বাঁধানো পাড়ে ফাটলের কথাও বললো। রানী বললেন–তাই? অবশ্য বাঁধানো পাড় ধীরে ধীরে ঢালু স্বাভাবিক পাড় হয়ে গেলেই বা ক্ষতি কি? নয়নতারার মনে পুরোহিতের রসিকতাটা এলো। তা কিন্তু রানীর সামনে বলা যায় না। রানী নিজেই বললেন, নদী ফিরলে ভয়ের কথা। কিন্তু তা ফিরবেই তা বলা যায় না। তখন আবার বাঁধ দেওয়া শক্ত কি? হাসলেন রানী, বললেন আবার-ওদিকে কিন্তু সময়ের বন্যা আছে।

    রানী সেই রাতে নতুন কিছু করলেন, অভাবিতভাবে, যেমন শুধু রাজকুমারের বেলাতে তার আবদারেই হয়ে থাকে, নয়নতারাকে পাশে নিয়ে রাত্রির আহার করলেন। ব্যাপারটা কাল সকাল থেকেই গল্প হয়ে ছড়াবে। আর তাই যেন রানী, যাঁর এসব ব্যাপারের কড়াকড়ি সার্বভৌম পাড়াকে হার মানায়, তিনিই চাইলেন।

    সে কিন্তু কিছুটা রাত হলে। তার আগে, রানী তখন বসবার ঘরেই, নয়নতারা তো ছিলোই, হৈমীকে ডাকিয়ে আনলেন। বললেনবসো হৈমী, সারাদিনে তা করোনি। হেসে বললেন–এ দিকের ঘরগুলোকে দেখেছো, নয়ন? চিনতে পারবে না। ইকিরিন, শোপা, টেবিল গাচেতে ছয়লাপ। হৈমী এসব বোঝে ভালো।

    সেখানেই রূপচাঁদ এদিকে এদিকে বলে ছ-আনির কুমারকে নিয়ে এলো।

    রানী বললেন–বসো। জলযোগ হয়েছে তো? পথে নিশ্চয় খুব ক্লান্ত হয়েছে। তোমার থাকবার জায়গা পছন্দ হলো তো? এঁর নাম হৈমী। ইনি তোমার দেখাশুনা করবেন। কাল তোমার চীনের গল্প শুনবো। কালই হরদয়াল আর নায়েবমশায়ের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবো। রাজুর সঙ্গেও তখন আলাপ হতে পারবে।

    ছ-আনির কুমার প্রণাম করে বসেছিলো, প্রণাম করে উঠে দাঁড়ালো। তখন রানী-হৈমীকে বললেন–ইনি মুকুন্দকুমার। কাছে কাছে থেকে ওঁর যত্ন কোরো।

    নয়নতারার একটু অবাক লাগলো। প্রথম, অবশ্য, কৌতূহলের নিবৃত্তি। এই তাহলে কায়েতবাড়ির কুমার। এসবক্ষেত্রে অবগুণ্ঠন থাকে, নয়নতারা ও হৈমীর তা ছিলো। কিন্তু সে অবগুণ্ঠন রেশমের, যা স্বচ্ছ। আলাপে না আনলেও বোঝা যায় তা রানীর অভিপ্রেত ছিলো,নতুবা সঙ্গে নিয়ে বসতেন না। কিংবা নাকি মনের চঞ্চলতাকে আড়ালে রাখতে পার্ষদ নিয়ে বসা। নয়নতারা অনুভব করলো কায়েতবাড়ির কুমার সম্বন্ধে রানী কি কিছু বলতে চাইছেন? যেন, যা একদিন গোপন ছিলো এখন প্রকাশ হতে চলেছে, কিন্তু প্রকাশটাকে আয়ত্তে রাখতে হবে।

    কথা বলার আগে রানীউঠলেন। নয়নতারাকে নিয়ে এ-ঘর ও-ঘর ঘুরলেন। তার নিজের শোবার ঘরের পাশের ঘরটিতে এসে বললেন–দ্যাখো। এ ঘরে ঘুমোতে কি অসুবিধা হবে তোমার? রাত করে আর বাড়িতে ফিরো না।

    বসবার ঘরে ফিরে কথা বলার আগে কী এক আমোদ পেয়ে হাসলেন নিঃশব্দে, বলতে বলতে একটু জোরে হেসে উঠলেন। শুনেছো নাকি? পিয়েত্রোর এক বাবুর্চি নাকি তার বাংলোতেই থেকে গিয়েছিলো। বন্দা না কী নাম। রাজু তাকে পিলখানায় রেখেছে কিছুদিন হয়। নাকি ভালো রসুই। তো পিয়েত্রো তো ফরাসী। বড়ো বড়ো সোনা ব্যাং দেখেছো?

    ম্যাগো! সেসব রাঁধতো কিনা বন্দা কে জানে! রূপচাঁদ বলতেই হৈমী বললো–সে থাকলে সুবিধা হয়। বন্দা ব্যাং না রাঁধুক শোর যে রাঁধতে সন্দেহ কি? শোর মেরে মেরে একটাও কি আর রেখেছিলো এ তল্লাটে!

    নয়নতারা বললো– বুনো শোর বিপজ্জনক হয়ে থাকে। কমিয়ে দেওয়াই ভালো হয়েছে।

    –ও হরি, তাই, পরোপকার ভেবেছো? প্রতি রবিবারে ঘোড়ায় চড়ে বল্লমে বিধে মারা! কী হৈ রৈ! এখানকার রাজাও সঙ্গী। খেতে অমর্ত! ঘেন্নায় মরি। তা বন্দার এখানে এই প্রথম রাঁধা। রাজু আবার একদিন তার হাতে ভগবতী খেতে চাইবে কিনা কে জানে! একবার…হরদয়াল বলেছিলো, কলকাতার ভদ্রলোকের ছেলেরা নাকি আজকাল…।

    একটু থেমে রানী বললেন আবার রাজু অবশ্য…আজকাল সে রোজ পিলখানায় যায় হাতির তদ্বির করতে। ওখানে নাকি বন্দার সঙ্গে তরোয়াল খেলে। রূপচাঁদের কথা, বলে বিপজ্জনক। রাজু অবশ্য হাসে। ওতে নাকি বুক কাঁধ চওড়া হয়, হাতের গুলকবজি ফোলে, চোখের ধার বাড়ে।

    রানী একটু ভাবলেন-বললেন, যাক গে, একটা গল্প বলো শুনি।

    নয়নতারা বললো–যদি আপনি বলেন দয়া করে

    রানী একটু ভেবে নিয়ে বললেন–তোমরা ফার্সি পড়বে না, আরব্য উপন্যাসের গল্পও জানলে না। তুমি কি সিন্ধুবাদের গল্প শুনেছো?

    নয়নতারা বললো–সেই সিন্ধুবাদ নাকি, যার কথা সেদিন মানদাদিদি বলতে শুরু করেছিলো?

    -হ্যাঁ, সেই বটে। মস্ত বণিক, দুধর্ষ সাহস। ধনরত্নের জন্য প্রাণকে পণ রাখতে আপত্তি নেই। জাহাজ ডুবছে, শেষ রক্ পাখির পায়ে নিজেকে বেঁধে পাহাড়ের উপরে সাপের রাজ্য, নাকি অগ্নিয়গিরির গর্তে হীরার জন্য। হীরা যে প্রাণের চাইতে বড়। কিন্তু সেই হীরা পেয়েও কি ঘরে থাকতে পারছে?

    নয়নতারা বললো–আপনি কি বলবেন এ সেই ন জাতু কামঃ।

    রানী বললেন কী শক্তি দ্যাখো সেই কামের, যে বুদ্ধিমান সিন্ধুবাদকে চালিয়ে নিয়ে বেড়ায়। যেন তাতেই ভালো হবে। সেই সিন্ধুবাদ একদিন দ্বীপের বুড়োর খপ্পরে পড়েছিল। বুড়ো তার কাঁধে বসে দুই হাঁটুতে এমন গলা চেপে ধরেছিলো যে প্রাণ যায়। বুড়ো ধুর্ত বটে, কিন্তু খোঁড়া।

    নয়নতারা বললে–আপনি জ্ঞান বুদ্ধি এসবকে খোঁড়া বলছেন?

    রানী হেসে বললেন–তুমি তো আবার ন্যায়রত্নের বোন;নব্যন্যায়ের ঘর। একটু হাসলেন তিনি।

    তাঁর দৃষ্টি কোমল হলো। বললেন–তা হয় না, না? একটা জিনিস লক্ষ্য করো। সেই মহাভারতের সময়ে লোভ, হিংসা, ক্রোধ ছিলো, এখনো তারা সব তেমনি আছে, তখন বুদ্ধি করে করে যেসব নীতি করা হয়েছিলো এখন সেগুলোকে বোকামি বলা হয়। ভাবো দ্রৌপদীর সংসার, কিংবা অর্জুনের পত্নীমালা। মনে হয় না কি যে বুদ্ধিটার এক যুগ পার হয়ে অন্য যুগে যাওয়ার ক্ষমতা নেই?

    নয়নতারা হেসে বললো–সমাজের নীতিটিতি মানুষ বুদ্ধি দিয়ে করে বটে।

    কিন্তু রানীকে উঠতে হলো। হৈমী কায়েতকুমার মুকুন্দর ব্যবস্থা ভালোভাবেই করবে সন্দেহ নেই, রাজুর খোঁজও নেওয়া দরকার।

    তখন রাতের আহার পর্ব মিটেছে। হৈমী নিজেই এলো। জানালো খাওয়া শোয়ার ব্যবস্থা মুকুন্দকুমারের পছন্দ হয়েছে। বন্দাকে আশ্বাস দিলেন।

    রানী বললেন–নিশ্চিন্ত করলে।

    এইসময়ে হৈমী বললো–উনি নাকি চীনে যাবেন। সেখানে নাকি ইংরেজ-চীনে যুদ্ধ, গর্ডন না কী গার্ডন নামে এক সেনাপতির জাহাজ কলকাতায় ভিড়েছে। অনেকে যাচ্ছে। কেউ কেউ কমিসরিয়াটের কাজে। তবে উনি যেতে চাইছেন যুদ্ধ করতে। আপনি অনুমতি দিলে আর কেউ আপত্তি করবে না।

    এ সম্বন্ধে রানী তাকে আগেই বলেছেন, ভাবলো নয়নতারা। তাহলেও তার বিস্ময়বোধ হচ্ছে, কায়েতবাড়ির ছেলে এ বাড়ির অনুমতি চাইছে! কিন্তু তার চাইতে বিস্ময়ের, মানুষ কি স্বভাবতই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকে না? তা তো অন্যের যুদ্ধ, অন্য দেশে।

    কথার কথা বলার মতো ভঙ্গিতে নয়নতারা বললো–এরকম যেতে কি আপনি অনুমতি দেবেন?

    রানী বললেন–এবার ওর একুশ পার হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক হলে কিছু করতে চাইবে তো! এদিকে ইংরেজরা তো এদেশে আর কাউকে মনসবদার করছেনা। রানী যেন আমোদ পেয়ে হাসলেন।

    হৈমী বললো–নিজেরই কিন্তু ঘোড়া, বন্দুক, তরোয়াল এসব কিনে দিতে হবে।

    রানী বললেন–তোমার সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে তো!

    নয়নতারা অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলো, সে ভাবলো, নিজের চিন্তার ভুল ধরলো যেন, সেজন্য অবাক লাগছে না। এটাও অবাক হওয়ার মতো। একই বয়সের। একজন চলেছে ইংরেজের পক্ষে অন্যদেশে যুদ্ধ করতে, আর অন্য একজন…?

    কিন্তু রানীর হাই উঠলো।

    রানীর পাশের ঘরেই তো নয়নতারার শোবার ব্যবস্থা। রানীমা শুয়ে পড়লে নয়নতারা নিজের জন্য নির্দিষ্ট শোবার ঘরে সামনে অলিন্দে দাঁড়ালো। রাত্রির রাজবাড়ির অন্দরমহল তার চোখে পড়লো। এখন চতুষ্কোণ উঠোনটার চারিদিকের সবগুলো ঘরেই আলো। লোকজনের সাড়াও যেন। দোতলার অলিন্দের দেয়ালগিরিগুলো জ্বলছে, কিন্তু অনেক ঘরের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অলিন্দে বরং কোমল অন্ধকার এখানে ওখানে। বাঁ দিকটায় বেশ কয়েকটা ঘরের পরে একটা ঘরের পর্দার আলো আসছে অলিন্দে। এবার সেটা বন্ধ হলো। ও ঘরটা কি হৈমীর, অথবা ও ঘরেই কি মুকুন্দকুমার? নয়নতারা এবার ডানদিকে চাইলো। বড়ো একটা থামের পাশ দিয়ে অলিন্দটা ঘুরে গিয়েছে কোণ তৈরী করে। থামটাই প্রমাণ যে ওখানেই দোতলায় উঠবার সিঁড়ি। সেজন্যই ওখানে একটা ঝাড় যা থামের পাশ দিয়ে খানিকটা চোখে পড়ছে। সিঁড়ির থাকটাই রাজকুমারের মহলকে রানীর মহল থেকে পৃথক করে। রানী শুয়ে পড়েছেন, দোতলা নিঃশব্দ হয়ে আসছে। কার্নিশের নিচে বসান ঝরোকায় আলো আসছে, আন্দাজ করা যায় ওটাই রাজকুমারের ঘর।

    আশ্চর্য! নয়? –এই ভাবতে ভাবতে নয়নতারা তার শোবার জন্য নির্দিষ্ট রানীমার ঘরের পাশের ঘরে ফিরে এলো। অসাধারণ শয্যা। রানীমার নির্দেশে যে রকম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কেন যে এমন করেন?

    শয্যায় বসে সারাদিনের ক্লান্তি সত্ত্বেও নয়নতারার ঘুম আসতে দেরি হলো। বরং রানীর কথাগুলো মনে এলো তার। আলাপে আলাপে বাঁধের ফাটলের সমস্যা, তার সমাধান, কায়েতবাড়ির মুকুন্দকুমার, চীনের যুদ্ধ, বান্দা বাবুর্চির তরোয়াল খেলার কথা হয়েছিলো। দ্যাখো কাণ্ড, বলে ভাবলো নয়নতারা, জাঁ পিয়েত্রোর বাবুর্চির নাম বন্দা, যে নাকি তরোয়ালবাজ, যেমন বুজরুক ছিলো তার মসলিনরেশম কারবারের ম্যানেজার। এসব কি পিয়েত্রোর পরিকল্পনা না খেয়াল? হয়তো খোঁজ করলে জানা যাবে, বন্দা ছিলো প্রকৃতপক্ষে তাঁর অবিচল দেহরক্ষী।

    তরোয়াল খেলার গল্পটা যেন হঠাৎ তার বুকের ভিতরে কিছুকে ধাক্কা দিলো। বন্দুকও প্রাণঘাতী। কিন্তু তরোয়াল খেলা, কি নকল তরোয়াল দিয়ে হয়? সে মনে মনে বললো, কী আশ্চর্য, এ তো আমাকে বলোনি! এ বিষয়ে আলাপ করা দরকার নয়? তরোয়ালকে কৃপাণ, করবাল ইত্যাদিও তো বলে। পিয়েত্রোর সেই মখমলে ঢাকা কিন্তু অদ্ভুত ধারালো। মস্ত তরোয়ালটা ব্যবহার করে নাকি? লোহার জামা গায়ে দিয়ে নেয় তো? দেখা দরকার। না, না। তা ভালো নয়। সে কাছে থাকলে যদি রাজকুমার অন্যমনস্ক হয়?

    কিন্তু কী করে একা একা অনুভব করে সমস্যার সমাধান হয়। কারো সঙ্গে আলাপ করতে পারলে হতো। শিকল বুনে বুনে জামা তৈরীর কথা যদি বলো (নয়নতারার অজ্ঞাতে এটা কি ইস্পাতের জামার ছায়া?) সোয়েটারটা কিন্তু বোনা হয়নি। কী আগ্রহে উল আনালো কলকাতা থেকে, কি আগ্রহে বুনতে শেখা। কিন্তু আশ্চর্য, আগ্রহটা কেন নেই? কারো সঙ্গে আলাপ করা দরকার নয় কি?

    রাজকুমারকে একবার নিজের হাতে সুতো কেটে ধুতি চাদর উপহার দিয়েছিলো বটে। তেমন সেই এক উৎসবের রাতে অনভ্যস্ত মদে বিহ্বল কিশোর রাজকুমার তার বাড়িতে গিয়ে তার বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েছিলো।

    আলাপের কথাতে মনে পড়লো নয়নতারার, এ বিষয়ে একজনই মাত্র বেশ স্পষ্ট করে আলাপ করেছে। ঘটকী, সেই ব্ৰহ্মঠাকরুন। সেই যে অঙ্কের ধাঁধার মতো স্ত্রী-পুরুষের বয়সের পাশাপাশি হিসাব।

    ছি ছি! এসব কি আলাপে আনা যায়? রাজকুমারের এখন একুশ হবে। যেন উপরের পাতার চাপে জল এসে নয়নতারার নিচের পাতার পক্ষগুলো জলবিন্দুতে ভারি হলো। সে। স্থির করলো সে ঘুমোবে। দরজা বন্ধ করে টিপয়ায় বসানো বড়ো ডোমদার সেজটাকে নিবিয়ে বিছানায় এলো সে। দেয়ালে লাল কাকড়ার মৃদু দেওয়ালগিরিটা জেগে থাকবে। এখন সে গায়ের কাপড় আলগা করে দিচ্ছে।

    শুয়ে নয়নতারা ভাবলো, রানী কিন্তু বিচলিত নন। বাঁধটাকে নতুন করে শক্ত করে তুলবেন। ফাটলগুলো থাকবে না। পুরোহিত যেমন বলেছিলো, গঙ্গার সেই বুঢ়াকে…কিন্তু ক্ষতি কি যদি অগাধ শান্ত হয়ে নদীটা মন্দিরের কিছু দূরে প্রবাহিত হতে থাকে।

    চোখে যখন ঘুম জড়িয়ে আসছে সার্বভৌমপাড়ার মেয়ের মনে হলো : তোমার কাছে। আকবর বাদশার কাল আর রাজুর কালে ব্যবধান নেই। রানীমার মন্দির কখন আকাশ স্পর্শ করে, কখন আবার মাটিতে মিশে যায়, দু-তিনশো বছরের সেব্যবধানও তোমার কাছে মূল্যহীন। কিন্তু তুমি তো মহাকাল, সৃষ্টির উৎস। স্নেহ নেই কেন? সময়ের ব্যবধানে আমাদের যা অতীত হয়ে যায় তা কি তুমি করুণায় পূর্ণ করো না?

    এক দারুণ উৎকণ্ঠায় আর লজ্জায় ঘুম ভেঙে গেলোনয়নতারার। বিছানায় উঠে বসলো সে। কিন্তু বিছানা, ঘর, আলো যেন বিশ্বাসে আসছে না। স্বপ্নটা এরকম যেন : এক অগাধ জলরাশির পার বাঁধানো চলেছে কিংবা গতিশীল জলরাশিকে বাঁধেহ্রদে পরিণত করা হচ্ছে। রানীমা, হরদয়াল, নায়েবমশাই, লোকজন। কিন্তু যেন চিড় ধরলো। মেঘের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে ফুলেফেঁপে সেই জল মন্দিরকে বিগ্রহকে গিলে ফেলছে। বিষণ্ণ উৎকণ্ঠায় যেন দম বন্ধ হবে। যেন হাহাকার করা হচ্ছে। কিন্তু যেন গোপনে নয়নতারা সুখী হয়ে উঠলো।

    আশ্চর্য! সে বিছানার দিকে চেয়ে চেয়ে ভাবলো, এ কি অন্যায় যে রানীমার পরাজয়ে সে এত সুখী হয়েছিলো! রানীমাকে সে কি বিদ্বেষ করে?

    নয়নতারা উঠলো। দাঁড়াতে গিয়ে পা দুটো একটু শিরশির করলো। একটা জানলা খুলে দিলো সে। তখন পেটাঘড়িতে একটা একটা করে এগারোটা বাজলো। রাত হয়েছে বটে, তবে তেমন বেশি নয়। জানলা ধরে দাঁড়ালো সে। বাতাসটা বেশ ঠাণ্ডাই। সে কি একটা বাজনা শুনতে পেলো? মৃদু, যেন ক্রমশ ফুরিত হচ্ছে। আগে কি ছিলো? কিন্তু পিয়ানো বাজাতে বসার পক্ষে এখন কি বেশি রাত নয়?

    .

    নয়নতারা ভুল শোনেনি। বিছানা দেখে মনে হচ্ছে, সে এতক্ষণ বসেই ছিলো। স্থির হয়ে বড়ো চেয়ারটায় চিবুকের নিচে ডান হাতে চেপে ধরার ভঙ্গিতে ছুঁয়ে বসে থাকাকে আর কিছু বলে না। এখন সে উঠে পিয়ানোর সামনে বসলো। মিউজিক শীটটার গায়ে ইংরেজি অক্ষরে লেখা চপিন। শিশাওয়ালও তাই বলেছিলো। কিন্তু এতক্ষণ ভেবে সি ঠিক করেছে ফরাসী হলে সিএইচ শ হয়ে যাবে, শেষের এনটা চন্দ্রবিন্দু। এই উচ্চারণ বিভ্রাটই যেন তাকে ভাবাবে। সে স্কোর শীটটার উপরে চোখ বোলালো। অভ্যাসের ফলে টানা লাইনে নানাভাবে নিবদ্ধ স্বরগুলির শব্দ তার মনে মনে ঝংকার তুলতে লাগলো।

    রাজচন্দ্র অবশ্যই এই চপিন-শপ্যাঁ সম্বন্ধে এই প্রথম জানছে। আজ সন্ধ্যাতেই পৌঁছানোর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই শিশাওয়াল তার সঙ্গে দেখা করে মিউজিক শীটের রোলটা তাকে দিয়ে বলেছিলো, এটা সার, আপনার জন্য এই অধমের আনা উপহার। জঙ্গিলাটের প্রাইভেট সেক্রেটারির স্ত্রীর কাছে সংবাদ পেয়ে সেই রাতেই সংগ্রহ করি। তো স্পিংক সাহেব আমাকে বললো, এটা যখন রচনা হচ্ছে চপিন প্যারিসে, স্বদেশ পোল্যান্ড থেকে নির্বাসিত। যেন স্বদেশ স্বকাল থেকে বিচ্যুত। আর সেখানে খবর এসেছিলো পোল্যান্ডকে চিরকালের আগ্রাসপন্থী রাশিয়া গ্রাস করে ফেলছে। সেই রাগে এটার রচনা। শুনে হাসি পাওয়া স্বাভাবিক। শিশাওয়াল ভালো সেলসম্যানের মতো অনর্গল কথা বলতে পারে, কেউ তার কথা বিশ্বাস করছে কিনা তা পরোয়া করে না। তার গল্পের কোন অংশটা মিথ্যা কে বলবে?

    কিন্তু পিয়ানোই রাজুকে আকর্ষণ করলো। নোটেশনগুলোতে চোখ পড়তে তার মনে হচ্ছে, বাজালে তা বুকের মধ্যে তরঙ্গ তুলবে। শীটের মাথায় ইংরেজ-প্রকাশক রিভলিউশনারী স্টাডি কথাটা জুড়ে দিয়েছে। রাজু বাজাতে শুরু করলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সুর এমন হলো যে কিছু যেন ভেঙে পড়ছে, কোথাও বিদ্রোহ যেন, আক্রোশ আর বেদনা, হার না মানার প্রবল প্রতিজ্ঞা।

    সে রাত্রিতে রাজু শপ্যাঁর সেই রিভলিউশনারী স্টাডি বারবার বাজিয়ে যেন মুখস্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো। যেন রিহার্শাল, কাল তাকে শ্রোতাদের সামনে উপস্থিত হতে হবে। অস্বীকার করা যায় না যে কোনো বিচক্ষণ শ্রোতার কানে ধরা পড়তে বাজানোর ব্যাপারটা প্রতিবারে শপার নির্দেশ মতো হচ্ছে না। ইম্প্রোভাইজ করা হচ্ছে যেন, অন্তত তীব্র কঠোর ধ্বনিগুলি দীর্ঘায়ত আর উচ্চরব হচ্ছে। যেন বাঁধনছেঁড়া, বাঁধভাঙা, তাকে তীব্রভাবে অস্বীকার করা যা তোমাকে স্বাধীন হতে দেয় না, আর ব্যর্থতা যখন ভাগ্যের মতো তখন বিষণ্ণতার ঘাটগুলো বেজে উঠছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহিষকুড়ার উপকথা ও একটি খামারের গল্প – অমিয়ভূষণ মজুমদার
    Next Article গড় শ্রীখণ্ড – অমিয়ভূষণ মজুমদার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }