Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস – শ্রী কৈলাসচন্দ্ৰ সিংহ প্রণীত

    তপন বাগচী এক পাতা গল্প451 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজমালা ২.২

    দ্বিতীয় অধ্যায়

    বৌদ্ধ বিপ্লব সময়ে ব্রাহ্মণগণ ভারতের দিগ্‌ দিগন্তে আপনাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য যত্নবান হইয়াছিলেন। ভারতের যে সকল ক্ষত্রিয় নরপতি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ পূর্বক ব্রাহ্মণদিগের অসীম আধিপত্যের মূলে কুঠারাঘাত করিতে সমুদ্যত হইয়াছিলেন, ব্রাহ্মণগণ সেই সকল ক্ষত্রিয়বর্গকে ব্রাত্য শ্রেণীতে সন্নিবিষ্ট করিয়া, আপনাদের আশ্রয়দাতা নরপতিবর্গকে চন্দ্র সূর্য্য বংশীয় প্রচার করত তাঁহাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন মানসে বদ্ধপরিকর হইয়াছিলেন। যে লিচ্ছবি ক্ষত্রিয়গণ সার্দ্ধদ্বিসহস্র বৎসর পূর্বে সর্ব প্রথম সাধারণ তন্ত্র শাসন প্রণালী জগতে প্রচারিত করিয়াছিলেন, সেই ভারতের গৌরব- জগতের গৌরব- সূর্য্যবংশীয় লিচ্ছবি ক্ষত্রিয়গণের প্রতি ব্রাহ্মণদিগের জাতক্রোধের অপূর্বকাহিনী আমরা বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করিয়াছি।[১] যে মল্ল ক্ষত্রিয়গণের বীরত্ব কাহিনী কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ মহাভারতে বর্ণনা করিয়াছেন, –ভগবান শাক্যসিংহের চিতাভষ্ম লইয়া যে মল্ল ক্ষত্রিয়গণ সমস্ত ভারতে সমরানল প্রজ্জ্বলিত করিতে সমুদ্যত হইয়া ছিলেন, ব্রাহ্মণগণ বুদ্ধদেবের প্রিয় শিষ্য বশিষ্ঠ গোত্রজ- বীর॥ ১১॥ কুলাগ্রগণ্য সেই মল্ল ক্ষত্রিয়দিগকে ব্রাত্য শ্রেণীতে সন্নিবিষ্ট করিয়া অপার আনন্দ লাভ করিয়াছেন।[২]

    সেনাপতি ভট্টার্ক কণক সেন ও তাঁহার বংশধরগণ প্রায় সার্দ্ধদ্বিশত বৎসর বল্লভী দেশে অধীন ও স্বাধীনতার রাজদণ্ড পরিচালন করিয়াছিলেন। সেই রাজবংশের অনেকগুলি তাম্রশাসন আবিষ্কৃত হইয়াছে। সেই সকল অনুশাসন পত্রে তাঁহারা সূর্য্যবংশজ বলিয়া আত্ম পরিচয় প্রদান করেন নাই। রাজপুতনার ভট্টকবিগণ মিবার রাজবংশকে ভট্টার্ক সেনাপতির বংশধর প্রচার করত তাঁহাদিগকে সূর্যবংশ তিলক ভগবান রামচন্দ্রের জ্যেষ্ঠপুত্র লবের বংশে উদ্ভুত বলিয়া দুন্দুভি নিনাদিত করিয়াছেন। রাজস্থানের ভট্টকবিগণ এবপ্রকার অন্যান্য রাজবংশকে ও সূর্য্যবংশের শাখা প্রশাখা বলিয়া প্রচার করিতে ত্রুটী করেন নাই। কিন্তু মূলবংশ সমূহের অসংখ্য প্রস্তর লিপি ও তাম্রশাসন আবিষ্কৃত হইয়া ভট্টকবিগণের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার মূলে কুঠারাঘাত করিয়াছে। রাজস্থানে যে রূপ সূর্য্যবংশের বাহুল্য প্রদর্শিত হইয়াছে, বাঙ্গালা ও তৎপার্শ্ববর্ত্তী দেশ সমূহে তদ্রূপ চন্দ্রবংশের ছড়াছড়ি দেখা যাইতেছে। উড়িষ্যার কেশরী বংশীয় নরপতিগণের অনুশাসন পুত্রে তাঁহাদিগকে চন্দ্রবংশজ বলিয়া ঘোষণা করা হইয়াছে। বাঙ্গালার সেন রাজগণ ও সোমবংশ সমুদ্ভুত বলিয়া বর্ণিত হইয়াছেন। চট্টগ্রামাধিপতি যে দামোদর দেবের নাম পূর্বে উল্লেখ করা হইয়াছে, তাম্রশাসনে তিনিও চন্দ্ৰবংশজ বলিয়া কীৰ্ত্তিত হইয়াছেন। শ্রীহট্টাধিপতি গোবিন্দ দেব ও ঈশান দেবের তাম্রফলকে তাঁহাদিগকে “নিশাপতি” বংশজ বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। ত্রিপুরা ও কাছাড় রাজবংশীয়গণ এক আদিপিতা হইতে উদ্ভুত হইয়াও একটি শাখা যযাতিপুত্র দ্রুহ্যের বংশধর ও অন্যটি ভীম- পুত্র ঘটোৎকচের সন্তান বলিয়া বর্ণিত হইয়াছেন। মিতাই অর্থাৎ মণিপুর রাজবংশ সার্দ্ধদ্বিশত বৎসর পূর্বে হিন্দু সমাজে প্রবেশ লাভ করত শ্রীহট্টের অধিকারী ব্রাহ্মণদিগের কৃপায় অৰ্জ্জুনপুত্র বভ্রুবাহনের বংশধর বলিয়া পরিচিত হইয়াছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা-মগ নরপতিগণ অল্পকাল মধ্যে চট্টগ্রামের ব্রাহ্মণ মহাশয়দিগের কৃপায় চন্দ্রবংশজ বলিয়া আখ্যাত হইয়াছেন। কেবল আসামের প্রাচীন “আহুম” বংশীয়গণ ইন্দ্ৰবংশজ এবং কোচবিহার পতিগণ শিববংশজ বলিয়া পরিচিত হইয়াছেন। তদ্ব্যতীত বাঙ্গালা ও তৎপার্শ্ববর্তী দেশীয় নরপতিগণ সকলেই চন্দ্ৰবংশজ বলিয়া আখ্যাত হইয়াছেন।

    যে কারণে ব্রাহ্মণগণ রাজস্থানের প্রধান রাজবংশগুলিকে সূর্য্যবংশজ বলিয়া প্রচার করিয়াছেন, সেই কারণর বশবর্ত্তী (১৩) হইয়াই ব্রাহ্মণ মহাশয়গণ রাজমালা গ্রন্থে ঘোষণা করিয়াছেন যে, :

    চন্দ্রবংশাবতংশ মহারাজ যযাতি স্বীয় পুত্র যদু, তুর্বসু, দ্রুহ্যু, এবং অনুকে বর্জ্জন করিয়া সর্ব কনিষ্ঠ পুরুষকে সাম্রাজ্যাসন প্রদান করেন। মহাবল দ্রুহ্যু পিতা কর্তৃক পরিত্যক্ত হইয়া হস্তিনানগর হইতে পূর্বাভিমুখে গমন করিত কিরাত ভূমিতে[৩] উপনীত হন এবং কতিপয় প্রধান কিরাত নরপতিকে জয় করিয়া “কোপল” নদীর তীরে ত্রিবেগ— নাম্নী নগরী নির্মাণ-পূর্বক তথায় রাজপাঠ সংস্থাপন করেন।

    দ্রুহ্যের স্থাপিত রাজ্য সীমা রাজমালায় এইরূপ লিখিত হইয়াছে, ইহার পূর্বে মেখলিদেশ, উত্তরে তৈড়ঙ্গ নদী, পশ্চিমে বঙ্গদেশ, দক্ষিণে আচরঙ্গ নামক রাজ্য। ত্রিবেগ রাজ্যের এইরূপ সীমা নির্দ্দেশ দ্বারা রাজমালালেখক আমাদের মতের সত্যতা দৃঢ় হইতে দৃঢ়তররূপে পোষণ করিতেছেন। কাছাড়বাসিগণ দ্বারা “মিতাই” অর্থাৎ মণিপুরিগণ ও তাহাদের বাসভূমি “মেখলি” আখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছে। সুতরাং সেই মেখলি দেশের পশ্চিম স্থ ত্রিবেগ রাজ্য আধুনিক কাছাড় ব্যতীত অন্য কোন স্থান হইতে পারে না। (১৪)

    সেই দ্রুহ্যের পুত্র ত্রিপুর।[৪] মতান্তর দ্রুহ্যের বংশে দৈত্য নামক নরপতি জন্মগ্রহণ করেন। সেই দৈত্যের ঔরসে ত্রিপুরের জন্ম।[৫] তিনি কিরাত নামের উচ্ছেদ সাধন পূর্বক স্বীয় নামানুসারে রাজ্যের নাম “ত্রিপুরা” এবং স্বজাতীয় ব্যক্তিবর্গকে ত্রিপুরাজাতি বলিয়া প্রচার করেন। আমাদের ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে ত্রিপুর হইতে বংশাবলী গণনা করা সঙ্গত। (৫) তৎপূর্ববর্ত্তী যযাতি, দ্রুহ্যু প্রভৃতি নামগুলি বৌদ্ধদ্রোহি ব্রাহ্মণদিগের কল্পনা প্রসূত। রাজমালা লেখক বলেন, যুধিষ্ঠিরের রাজসূয়কালে এই ত্রিপুর নরপতি সহদেবকর্তৃক বিজিত হইয়াছিলেন।[৬] এইরূপ বর্ণনা যে নিতান্ত কবিকল্পনা প্রসূত তাহা বারংবার উল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন।

    ত্রিপুর অতিশয় প্রজাপীড়ক নরপতি ছিলেন। তিনি “দেবদ্রোহী”, “নিত্য- পরদার রত” ও “পররাজ্যাপহারক” বলিয়া রাজমালায় বর্ণিত হইয়াছেন। প্রজাগণ ত্রিপুরের অত্যাচারে উৎপীড়িত হইয়া শিবারাধনায় রত হইল। দেবাদিদেব আশুতোষ প্রজাগণের কাতরোক্তিতে সদয় হইয়া ত্রিশূলদ্বারা ত্রিপুরকে নিপাত করিলেন।

    মহাদেব কর্তৃক ত্রিপুর হত হইলে বিধবা রাজ্ঞী হীরাবতী সিংহাসন আরোহণ পূর্বক যথানিয়মে রাজ্যশাসন করিতে লাগিলেন। কিন্তু রাজ্যের উত্তরাধিকারী নাই, ভবিষ্যতে কিরূপে ইহার শাসন সংরক্ষণ হইবে, এই চিন্তায় প্রজাগণ অধীর হইল। দৈবানুকম্পা ভিন্ন অন্য উপায় অদর্শনে তাহারা পুনর্বার মহাদেবের উপাসনায় প্রবৃত্ত হইল। দেবাধিদেব আশুতোষ তাহাদের আরাধনায় সন্তুষ্ট হইলেন। ভগবানের (১৬) কৃপায় বিধবা রাজ্ঞী গর্ভবতী হইয়াছিলেন।[৭] তৎকালে তিনি উপযুক্ত পুত্র লাভাকাঙ্ক্ষায় চতুৰ্দ্দশ দেবতার আরাধনা করিয়াছিলেন।[৮] কালক্রমে বিধবা রাজ্ঞী শিবাংশ সম্ভূত-সৰ্ব সুলক্ষণাক্রান্ত, চন্দ্র, শূল ও ধ্বজচিহ্ন বিশিষ্ট এক মনোরম পুত্র প্রসব করেন। এই শিশু যৎকালে ভূমিষ্ঠ হইল, তৎকালে তাঁহার ললাটে একটি নেত্র দৃষ্ট হইয়াছিল, এজন্য তিনি ত্রিলোচন আখ্যা প্রাপ্ত হন। দশম বর্ষ বয়ক্রমে ত্রিলোচন সিংহাসন আরোহণ করেন। তাঁহার মাতা যে চতুৰ্দ্দশ দেবতার আরাধনা করিয়াছিলেন, তিনি সেই চতুৰ্দ্দশ দেবতার মূৰ্ত্তি সংস্থাপন পূর্বক তৎপূজা পদ্ধতি প্রচলিত করেন। ইহারাই ত্রিপুর রাজবংশের আদি- কুলদেবতা। সেই আদিম পুরোহিত “চন্তাই” দ্বারা আদ্যাপি সেই চতুৰ্দ্দশ দেবমুণ্ডের পূজা হইতেছে। (১৭) ইহার সহিত হিন্দু শাস্ত্রোক্ত পূজা বিধির কোনরূপ সংশ্রব নাই।

    দ্বাদশবর্ষ বয়োক্রমকালে মহারাজ ত্রিলোচন কাছাড়াধিপতির কন্যাকে বিবাহ করেন। সেই রাজ্ঞীর গর্ভে ত্রিলোচনের দ্বাদশটি পুত্র জন্ম গ্রহণ করে।

    ত্রিলোচনের দ্বাদশ পুত্রের নাম দৃকপতি, দক্ষিণ, দক্ষ, দ্রুমায়ূ, দ্রবিণ, দৃষ্টঘ্নো, ভৃগু, দুর্দ্ধর, দ্রুহ, দুষ্মায়ূ, দৈবিরি এবং দম্প। রাজকুমারগণ সকলেই নাতিদীর্ঘ নাসিকা, স্থুল কলেবর, সুন্দরকর্ণ, বিশালবক্ষ, সুচন্দ্রবন, রক্তপঙ্কজলোচন, গজ-গ্রীবা ও শালতরু সদৃশ হস্তপদবিশিষ্ট ছিলেন। মহারাজ ত্রিলোচন ১২০ বৎসর প্রবল পরাক্রমে রাজ্য শাসন করিয়াছিলেন।

    ত্রিলোচনের জ্যেষ্ঠ পুত্র দৃকপতি তাঁহার অপুত্রক মাতামহ কর্তৃক তদীয় উত্তরাধিকারী মনোনীত হন। কাছাড়পতির মৃত্যুর পর দৃকপতি সেই রাজ্যের রাজদণ্ড ধারণ করিলেন। ত্রিলোচন স্বীয় দ্বিতীয় পুত্র দক্ষিণকে যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত করিয়াছিলেন। তদনুসারে দক্ষিণ পিতার মৃত্যুর পর পৈত্রিক আসন অধিকার করেন। দৃকপতি পিতার মৃত্যু সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া, দক্ষিণকে পৈত্রিক আসন পরিত্যাগ করিতে লিখিলেন। তদুত্তরে দক্ষিণ স্বীয় জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাকে লিখিলেন, ॥১৮॥ “মাতামহ আপনাকে পুত্রিকা, পুত্র স্বরূপ গ্রহণ করিয়াছিলেন, সুতরাং পৈত্রিক রাজ্যে আপনার অধিকার নাই; বিশেষত ধর্মপরায়ণ স্বর্গীয় পিতা মহারাজ আমাকে পৈত্রিক রাজ্যের উত্তরাধিকারী মনোনীত করিয়া গিয়াছেন; সুতরাং আমিই তাহার অধিকারী।” দক্ষিণের পত্র প্রাপ্ত হইয়া দৃকপতি তাঁহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিলেন। ৭ দিবস ঘোরতর সংগ্রামের পর দৃকপতি জয়লাভ করত পৈত্রিক রাজধানী অধিকার করিলেন। মহারাজ দক্ষিণ মধ্যকাছাড়ে উপনীত হইয়া, বড়বক্র নদী তীরে এক অভিনব রাজধানী নির্মাণ করেন। প্রবাদ অনুসারে মহারাজ দক্ষিণ ত্রিবেগ হইতে পলায়ন কালে চতুৰ্দ্দশ দেবতার মুণ্ড লইয়া আসিয়াছিলেন। তদবধি দক্ষিণের সন্তানগণ সেই চতুৰ্দ্দশ দেবমুণ্ডের পূজা করিয়া আসিতেছেন। দৃকপতির বংশধরগণ দীর্ঘকাল সেই ছিন্নশীর্ষ চতুৰ্দ্দশ দেবতার আরাধনা করিয়াছিলেন। ত্রিবেগনগরী পরিত্যাগ পূর্বক, মহারাজ দক্ষিণের বড়বক্র নদী তীরে রাজ পাটসংস্থাপন দ্বারা, ত্রিপুরবংশীয় দিগের দক্ষিণদিকে রাজ্য বিস্তারের সূত্রপাত হইল।

    দক্ষিণের মৃত্যুরপর তৎপুত্র তয়দক্ষিণ সিংহাসন আরোহণ করেন। তয়দক্ষিণ হইতে নাগপতি পৰ্য্যন্ত ৪১ জন রাজার শাসনকালের কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা রাজমালায় প্রাপ্ত (১৯) হওয়া যায় না। নাগপতির পুত্র শিক্ষরাজ নরমাংস ভোজন করিয়াছিলেন।[৯]

    মহারাজ বিমারের[১০] পুত্র কুমার ধার্ম্মিক ও শিবভক্তিপরায়ণ নরপতি ছিলেন। তিনি মনুনদীতীরস্থিত শ্যাম্বল নগরে গমনপূর্বক শিবলিঙ্গ দর্শন করিয়া ছিলেন।[১১] তিনি (২০) সেই স্থানে বাসস্থান নির্মাণ পূর্বক আজীবন শিবারাধনা করিয়াছিলেন। রাজমালার উক্ত বর্ণনা দ্বারা ত্রিপুরবংশীয় দিগের আর এক পদ দক্ষিণদিকে অগ্রসর হওয়ার প্রমাণ প্রাপ্ত হওয়া যায়। পূর্বে উল্লেখ করা হইয়াছে যে, মহারাজ ত্রিলোচনের পুত্র দক্ষিণ জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাদ্বারা তাড়িত হইয়া, কোপল নদীর তীরস্থিত ত্রিবেগ নগরী পরিত্যাগ পূর্বক বড়বক্র (বড়াক) নদীর তটে রাজপাট স্থাপন করেন। মহারাজ কুমার সেই রাজধানী পরিত্যাগ পূর্বক মনুনদী তীরস্থিত শ্যাম্বলনগরে উপনীত হইয়াছিলেন।

    মহারাজ রাজেশ্বরের দুই পুত্র। জ্যেষ্ঠ মিসলিরাজ কনিষ্ঠ তেজাঙ্গ ফা। পিতার মৃত্যুর পর মিশলিরাজ সিংহাসন আরোহণ করেন। রাজমালা বলেন, মিশলিরাজের প্রকৃত (২১) নাম ক্রোধেশ্বর। ইনি অত্যন্ত ক্রোধপরায়ণ ছিলেন। তিনি পুত্রার্থী হইয়া মহাদেবের আরাধনা করেন। মহাদেব তাঁহার সাক্ষাতে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, “তোমার পুত্র হইবে না।” মহাদেবের বাক্য শ্রবণে রাজা ক্রোধে অন্ধ হইয়া ধনুর্বাণ হস্তে মহাদেবকে বধ করিতে উদ্যত হইলেন। মহাদেবের ক্রোধ দৃষ্টিতে রাজা তৎক্ষণাৎ অন্ধ হইলেন। রাজ পুরোহিত চন্তাই রাজার চক্ষু প্রদান জন্য মহাদেবের আরাধনা করিলেন। চন্তাইর আরাধনায় সন্তুষ্ট হইয়া আশুতোষ বলিলেন, “নরবলি দ্বারা আমার পূজা করিলে, রাজা পুনর্বার দৃষ্টিশক্তি প্রাপ্ত হইবেন। কিন্তু স্ত্রী সহবাসকালে তাঁহার মৃত্যু হইবে। আমি আর সাক্ষাৎ দর্শন দিব না। এই মন্দিরে আমার পদচিহ্ন মাত্র থাকিবে।” নরবলি দ্বারা মহাদেবের পূজা করিয়া মিশলিরাজ দৃষ্টিশক্তি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। কেদা তিনি স্বীয় পত্নী সন্দর্শনে কামোন্মত্ত হইয়া রতিক্রীড়ায় প্রবৃত্ত হন। মহাদেবের অভিসম্পাতে তিনি তৎক্ষণাৎ কালগ্রাসে পতিত হইলেন। জ্যেষ্ঠের মৃত্যুর পর কনিষ্ঠ মহারাজ তেজাঙ্গ ফা সিংহাসন আরোহণ করেন।

    শুক্ররায়ের পুত্র মহারাজ প্রতীতের শাসনকালে বড়বক্র নদী কাছাড় ও ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যসীমা নির্ণীত হয়। ইহা দ্বারা স্পষ্ট প্রতীত হয় যে, কাছাড় পতিগণ যেরূপ দিমাপুর পরিত্যাগ করিয়া দক্ষিণদিকে অগ্রসর হইতেছিলেন, ত্রিপুরা (২২) পতিগণও সেইরূপ দক্ষিণদিকে আপনাদের রাজ্য বিস্তারের জন্য যত্নবান হইয়াছিলেন। এই সময় মনু নদীর নিকটবর্তি স্থানে ত্রিপুরার রাজপাট সংস্থাপিত ছিল। তদনন্তর তাহা কৈলাড় গড়ে উঠিয়া আইসে। প্রাচীন মুসলমান ইতিহাসে কৈলাড় গড় “জাজীনগর” আখ্যায় আখ্যাত হইয়াছে। কৈলাড়গড়ের উপকণ্ঠস্থ একখানি পল্লী অদ্যাপি জাজীশার নামে পরিচিত রহিয়াছে।

    নওয়াবের পুত্র জুঝারু ফা যুদ্ধকাৰ্যে বিশেষ নিপুণ ছিলেন। তিনি বিশালগড় নামক স্থানে একটি রাজভবন নির্মাণ করেন। তাঁহার শাসনকালে লিখ (বা নিক্ষ) নামক নরপতি রাঙ্গামাটীয়া রাজ্য শাসন করিতেছিলেন। জুঝারুফা তাঁহাকে জয় করিয়া রাঙ্গামাটীয়া নগরীতে ত্রিপুরার রাজপাট সংস্থাপন করেন।

    মহারাজ ছেংথুমফা বিশেষ পরাক্রমশালী নরপতি ছিলেন। তিনি মিহিরকুল[১২] (প্রাচীন কমলাঙ্ক বা পাটীকাড়া রাজ্য) জয় করিয়া মেঘনাদ তীর পর্য্যন্ত ত্রিপুরা রাজ্যের সীমা বিস্তার করিয়াছিলেন।

    ত্রিপুরেশ্বরের অধিকার মধ্যে “হিরাবন্ত” নামক জনৈক ধনবান্ (২৩) সামন্ত বাস করিতেন। তিনি বঙ্গেশ্বরের প্রধান কর্মচারী ও বিশেষ পরাক্রমশালী ছিলেন। “হিরাবন্ত ত্রিপুররাজের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করিয়াছিলেন। তাঁহাকে ধৃত করিবার জন্য মহারাজ ছেংথুমফা বৃহৎ একদল সৈন্য সহ তিনজন সেনাপতি প্রেরণ করিলেন। ত্রিপুর সৈন্যগণ গঙ্গাতীরে উপনীত হইলে, “হিরাবন্ত” ভয়াতুর হইয়া গৌড়েশ্বরের আশ্রয় গ্রহণ করেন। গৌড়াধিপতি মহাক্রুদ্ধ হইয়া বৃহৎ একদল সৈন্য ত্রিপুরেশ্বরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করিলেন। গৌড়সৈন্যগণ ত্রিপুররাজ্য সীমায় উপনীত হইলে মহারাজ ছেংথুমফা স্বীয় সৈন্যাপেক্ষা বিপক্ষের সৈন্য অধিক বিবেচনায় ভয়াতুর হইয়া স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্র গমনে অনিচ্ছুক হইলেন। তাঁহার রাজ্ঞী স্বামীকে রণ পরাঙমুখ দর্শনে স্বয়ং সেনাপতিগণকে আহ্বান করিয়া বলিলেন, ‘সাহসাদ্ভজয়ে লক্ষ্মী” আমি স্বয়ং রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইয়া বিপক্ষ বিনাশে কুলগৌরব রক্ষা করিব; তোমরা প্রস্তুত হও।” রাজ্ঞী তৎপর দিবস যুদ্ধে গমন করিবেন বলিয়া সৈন্যগণকে বহু সংখ্যক মহিষ এবং ছাগ দ্বারা ভোজ দানে পরিতুষ্ট করিয়াছিলেন। পর দিবস প্রত্যুষে রণসজ্জা করা হইল, ত্রিপুরেশ্বরী হস্ত্যারোহণ পূর্বক রণক্ষেত্রে গমন করিলেন। মহারাজও বাধ্য হইয়া যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হইয়াছিলেন। ভীষণ সংগ্রামে রণক্ষেত্রে মহারক্ত স্রোত প্রবাহিত করিয়া, ত্রিপুরেশ্বরী বিজয়ী মালায় বিভূষিতা হইলেন। ভারতীয় মহিলাকুল মধ্যে এরূপ (২৪) দৃষ্টান্ত অতি বিরল। গড়মণ্ডলের অধিশ্বরী দুর্গাবতী এবং ঝানসীর রাজ্ঞী লক্ষীবাই ভীষণ সমরে স্ব স্ব প্রাণ আহুতি প্রদান পূর্বক অক্ষয় কীৰ্ত্তি সংস্থাপন করত বীরেন্দ্র সমাজের বরণীয়া হইয়া রহিয়াছেন; কিন্তু বিজয় লক্ষ্মীর সাহচর্য্য তাঁহাদের অদৃষ্টে ঘটে নাই, বিজয়ী পতাকা তাঁহাদের শীর্ষে উডডীন হয় নাই। ইহা নিতান্তই দুঃখের বিষয় যে, রাজমালা লেখক বীরেন্দ্র সমাজের বরণীয়া এহেন রমণী রত্নের নাম স্বীয় গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন নাই।

    যুদ্ধাবসানে মহারাজ ছেংথুমফা রণক্ষেত্রে পরিভ্রমণ করিয়া হতাহত জীবগণ দর্শনে নিতান্ত বিস্মিত হইয়াছিলেন। এই সংগ্রামে মহারাজ ছেংথুমফার জামাতা বিশেষ বীরত্ব প্রদর্শন করিয়াছিলেন। এজন্য মহারাজ তাঁহাকে সর্বপ্রধান সেনাপতির পদে নিযুক্ত করেন। তদবধি রাজ জামাতৃগণের সেনাপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার প্রথা, ত্রিপুরায় প্ৰবৰ্ত্তিত হইয়াছিল।

    পাল অথবা সেনরাজগণের বাঙ্গালা শাসনকালে, কিম্বা মুসলমানদিগের লক্ষণাবতী অধিকারের পরে উল্লেখিত যুদ্ধ ঘটনা হইয়াছিল এক্ষণে তাহা নির্ণয় করা সুকঠিন। ১১৬৫ শকাব্দে (১২৩৪ খ্রিস্টাব্দে) লক্ষ্মণাবতীর “মালিক” (শাসনকৰ্ত্তা) ইজাজদ্দিন আবুল ফতে ভূগ্রল খাঁ জাজনগর আক্রমণ করিয়া সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হন। কোন কোন (২৫) ইতিহাস লেখক এই জাজনগরকে ত্রিপুরা নির্ণয় করিয়াছেন। এই সিদ্ধান্ত সত্য হইলে তুগ্রল ভূগন খাঁ ছেংথুমফার মহিষী দ্বারা পরাজিত হইয়াছিলেন বলিয়া লেখা যাইতে পারে। মতান্তরে ভূগন খাঁ যে জাজনগর আক্রমণ করেন তাহা উড়িষ্যার জাজদানী যাজপুর লিখিত হইয়াছে। মেজর ষ্টুয়ার্ট উড়িষ্যাপতিকে ভূগনখাঁর পরাজয়কারী বলিয়া লিখিয়াছেন।[১৩] খ্যাতনামা হন্টার সাহেব ষ্টুয়ার্টের মতানুসরণ করিয়াছেন।[১৪] আমাদের বিবেচনায় ষ্টুয়ার্ট ও হন্টার সাহেবের সিদ্ধান্ত সঙ্গত বলিয়া বোধ হইতেছে।[১৫] (২৬)

    মহারাজ ছেংথুমফার শাসনকালে কিম্বা তাহার অল্পকাল পরে চট্টলাচলে ত্রিপুরা রাজপতাকা উড্ডীন হইয়াছিল।

    মহারাজ ছেংথুমফা পরলোক গমন করিলে, তাঁহার পুত্র আচঙ্গফা সিংহাসনে আরোহণ করেন। ইনি মাতৃগুণ লাভ না করিয়া পিতৃগুণ লাভ করিয়াছিলেন। তিনি তাঁহার পত্নী স্বীয় শ্বশুর ন্যায় তেজস্বিনী, বিদ্যাবতী এবং গুণসম্পন্না ছিলেন। তাঁহার উৎসাহে ত্রিপুরাতে শিল্পকার্য্যের যথেষ্ট উন্নতি হইয়াছিল। মহারাজা আচঙ্গফা পরলোক গমন করিলে তাঁহার একমাত্র পুত্র ক্ষিছংফা রাজদণ্ড ধারণ করেন। তদনন্তর তৎপুত্র ডুঙ্গুরফা রাজ্যাধিকারী হইলেন। তিনি অষ্টোত্তরশত দার পরিগ্রহ করিয়াছিলেন, তাঁহার অষ্টাদশ পুত্র জন্মিয়াছিল। তিনি পুত্রগণের বুদ্ধি পরীক্ষা দ্বারা ভবিষ্যৎ রাজ্যাধিকারিত্ব স্থির করণ মানসে যুদ্ধের কুক্কুটসকল নিরাহারে আবদ্ধ রাখিতে ভৃত্যদিগকে অনুমতি করেন; পরে যখন স্বয়ং পুত্রগণের সহিত একত্রে আহার করিতে বসিলেন, তখন একজন অনুচরকে ঐ সকল কুক্কুট আহার স্থলে আনিয়া ছাড়িয়া দিতে গোপনে আদেশ করিলেন। তদনুসারে যখন ৩০টী কুক্কুট ছাড়িয়া দেওয়া হইল, তখন তাহারা সমস্ত দিন নিরাহারের পর ভোজ্যদর্শনে রাজকীয় পাত্রের দিকে ধাবিত হইল; মহারাজ কুক্কুট সকল যাহাতে পাত্ৰ স্পর্শ করিতে না পারে, তদুপায় বিধান জন্য কুমারগণকে আদেশ (২৭) করিলেন; কিন্তু কুমারেরা সমস্ত কুক্কুট একেবারে নিবারণের বিষয় চিন্তা করিয়া কিছুই স্থির করিতে পারিলেন না, তাঁহারা ইতিকর্ত্তব্যতাবিমূঢ় হইয়া রহিলেন। তৎকালে সর্ব কনিষ্ঠ কুমার রত্নফা সহসা পাত্র হইতে কতকগুলি অন্ন লইয়া কুক্কুটগণের সম্মুখে নিক্ষেপ করিলেন।১৬ নৃপতি তাঁহার আশ্চর্য্য বুদ্ধিমত্তা এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব দর্শনে তাঁহাকেই উত্তরাধিকারী মনোনীত করিলেন। কিন্তু ইহাতে তাঁহার অবশিষ্ট পুত্রগণ নিতান্ত দুঃখিত ও ঈর্ষাপরবশ হইয়া নানাবিধ ষড়যন্ত্র করিতে লাগিলেন, এবং মহারাজ ডুঙ্গুরফা পরলোক গমন করিলে সমস্ত কুমারেরা একত্রিত হইয়া রত্নফাকে বহিষ্কৃত করিয়া সর্বজ্যেষ্ঠকুমার রাজাফাকে সিংহাসনে স্থাপন করিলেন।

    টীকা

    ১. মল্লিখিত “লিচ্ছবি রাজাগণ’ প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য। (ভারতী ১২৯৭ বঙ্গাব্দ)

    ২. মনুসংহিতা। দশম অধ্যায়, ২২ শ্লোক।

    ৩. বিষ্ণুপুরাণে লিখিত আছে, ভারতবর্ষের পূবর্বপ্রান্তে কিরাত দিগের বাস।

    ৪. দ্রুহ্যুরাজ সুতোজাত স্ত্রীপুরাখ্যো মহাবলঃ।
    সংস্কৃত রাজমালা

    মহারাজ রামগঙ্গা মাণিক্যের কৃত (১৮০৪ খ্রিস্টাব্দের) বংশাবলীতে দ্রুহ্যের পুত্র ত্রিপুর লিখিত হইয়াছে। চক্রধবজ ঠাকুর বনামে বীরচন্দ্র যুবরাজ, ১৮৬৩ইং ৯নং এবং রাজকুমার নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মন বনামে বীরচন্দ্র মাণিক্য বাহাদুর, ১৮৭৪ ইং ৩৫ নং দেওয়ানী মোকদ্দমায়, বিবাদী মহারাজ বাহাদুর স্ববংশের যে সুদীর্ঘ বংশাবলী উপস্থিত করিয়াছিলেন তাহাতেও ত্রিপুর পেছরে দ্রুহ্যু’ লিখিত রহিয়াছে। কিন্তু জলতরঙ্গের কৃপায় রাজবংশের যে অভিনব বংশাবলী প্রকাশিত হইয়াছে, তাহাতে দ্রুহ্যু ও ত্রিপুরের মধ্যে কতগুলি কাল্পনিক নাম সন্নিবেশিত হইয়াছে। একেই আমাদের প্রাচীন ইতিহাস কল্পনা জালে জড়িত, তাহার আবার উপর এরূপ ঘৃণিত কাৰ্য্য নিতান্তই বিস্ময়জনক

    ৫. যযাতি রাজার পুত্র গ্রুহ্য নাম যার।
    তানবংশে দৈত্যরাজা চন্দ্রবংশ সার।
    তাহান তনয় রাজা ত্রিপুর নামে ধর্ম্মে।
    (সংক্ষিপ্ত রাজমালা)

    ৬. যুধিষ্টিরস্য যজ্ঞার্থে সহদেবেন নির্জিতঃ।
    (সংস্কৃত রাজমালা)

    ৭. শিবলিঙ্গ নতা ধ্যানাৎ সাবভূম সুগর্ভিনী।
    (সংস্কৃত রাজমালা)

    ৮. শঙ্করঞ্চ শিবানীঞ্চ মুরারিং কমলাং তথা।
    ভারতীঞ্চ কুবেরঞ্চ গণেশং বেধসং তথা।
    ধরণীং জাহ্নবীং দেবীং পয়োধিং মদনং তথা।
    হতাশঞ্চ নগেশঞ্চ দেবতান্তাঃ শুভাবহাঃ
    (সংস্কৃত রাজমালা)

    মহান্তরে :-

    হারোমা হরিমা বাণী কুমারোগণকো বিধিঃ।
    ঋদ্ধি গঙ্গা শিখী কামো হিমাদ্রিশ্চ চতুৰ্দ্দশাঃ।

    ৯. তস্য পুত্র শিক্ষরাজ নরমাংস খায়।
    (সংস্কৃত রাজমালা)

    নাগপতেঃ সুতাজাত শিক্ষারাজ ইতিরিতঃ। সে একদাবনং যাতোমৃগায়ার্থং মহীপতিঃ। বহুকালং বনে ভ্রান্তা মৃগংন প্রাপ্তবান নৃপঃ। অতি শ্রান্ত স্ততোরাজা নিজ মন্দিরজগৎ। ততঃ ক্ষুধাৰ্ত্তো নৃপতি মাংস পাকার্থ মুক্তবান। মৃগমাংসম নাবা প্রাপ্য বিহ্বল পাচক স্তদা। অষ্টাম্যাং দেবদওস্য নরস্য মাংস মানয়ৎ। তন্মাংসমতি সৎপক্কং ভোজয়া মাস ভূমিপং। শিক্ষরাজস্তুতদ্ভুক্তা সন্তুষ্টঃ প্রাহ পাচকং। ঈদৃশং সুরসং মাংসং কুতস্ত্বংসমুপেতবান্। পাচকস্তু ততঃ প্ৰাহ ভুমিপং সুভায়াতুরঃ। দেবদত্ত নরস্মৈতস্মাংসং ভৌজিতং মায়া। ইতিশ্রুত্বা ততোরাজা কম্পান্বিত কলেবরঃ। হরেত্রাহি হরেত্রাহি বিমূস্যাতি পুনঃ পুনঃ মহাবৈরাগ্য মাস্থায় বনবাস মূপাশ্রিতঃ।
    (সংস্কৃত রাজমালা)

    ১০. রাজমালায় ইহার নাম বিমার, কিন্তু মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্য বাহাদুরের কৃত পূর্বোক্ত বংশাবলীতে এই নরপতির নাম ‘প্রমার’ লিখিত হইয়াছে।
    ১১. এই শিবলিঙ্গ সম্বন্ধে রাজমালায় লিখিত আছে যে ‘পুরাকৃত যুগে রাজন মনুনা পূজিতঃ শিবঃ। অত্রৈব বিরলে স্থানে মনুনাম নদী তটে। গুপ্তভাবেন দেবেশঃ কিরাতনগরে বসৎ। একাকিরাতিনী তত্র স্থিতা পরম সুন্দরী। রূপ যৌবন সম্পন্না নিত্যং শিবমপূজয়ৎ। ততঃ প্রত্যক্ষ মেধাসৌ দেবাদেব স্তদালয়ং। গত্বা কিরাতিনাংতাঞ্চ বুভুজে সুচিরং শিবঃ। ইতিশ্রুত্বা জগন্মাতা পাববতী বহুকোপিতা। বেশেদ্যাকৃষ্য সংতাড্য সংজহার কিরাতিনাং। ততোতি লজ্জিতঃ শম্ভুঃ শিব লিঙ্গ মুপাবিশ‍।’ এস্থলে রাজমালা লেখক আমাদিগকে কোচবিহার রাজবংশের আদি মাতা হীরার কাহিনী স্মরণ করিয়া দিতেছেন। (যোগিনীতন্ত্র। ত্রয়োদশ পটল দ্রষ্টব্য)

    ১২. মিহিরকুল হইতে মেহেরকুল নামের উৎপত্তি।
    ‘তানপুত্র ছেংথুম রাজা মেহেরকুল জিনে।’
    (সংস্কৃত রাজমালা)

    ১৩. Stewart’s History of Bengal PP. 38. 39

    ১৪. Hunter’s Orissa Vol. II P. 4

    ১৫. মল্লিখিত ‘জাজনগর রাজ্য’ শীর্ষক প্রবন্ধে প্রদর্শিত হইয়াছে যে, উৎকলাধিপতি বীরচূড়ামণি নরসিংহদেব, (যিনি উড়িষ্যার ইতিহাসে সাঙ্গুলীয়া নরসিংহ নামে পরিচিত) বারংবার তুগন খাঁকে পরাজিত করিয়া লক্ষণাবতী (গৌড়নগরী) অধিকার ও লুন্ঠন পূর্ব্বক স্বদেশে প্রস্থান করেন। (ভারতী সপ্তম ভাগ, ১২, ১৩ পৃষ্ঠা)। উড়িষ্যাই হউক, আর ত্রিপুরাই হউক, জাজনগর পতিদ্বারা তুগন খাঁ নিঃসন্দেহে পরাজিত ও লাঞ্ছিত হইয়াছিলেন। কিন্তু জাতীয় পক্ষপাতান্ধ ফেরেস্তা পবিত্র ইতিহাস কলঙ্কিত করিয়া গৌড় বিজেতাকে চেঙ্গিস খাঁ লিখিয়াছেন। হিন্দুর হস্তে মুসলমানের এরূপ লাঞ্ছনা বর্ণনা করিতে মুসলমান লেখক নিতান্ত সঙ্কুচিত হইয়াছিলেন।

    ১৬. সংস্কৃত রাজমালা লেখক বলেন যে, ভীম একাদশীর পারণের সময়ে ঘটনাক্রমে এইরূপ হইয়াছিল। মহারাজ ডুঙ্গর ফা ইচ্ছা পূবর্বক এরূপ করেন নাই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলো হাতে সেই মেয়েটি – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জীবনী – তপন বাগচী

    Related Articles

    তপন বাগচী

    রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জীবনী – তপন বাগচী

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }