Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিপন্ন

    এম. এস-সি পাস করিলাম; সঙ্গে সঙ্গে একটি চাকরিও জুটিয়া গেল। বয়স তখন এত অল্প যে, প্রফেসার সেন তাঁহার নিজস্ব প্রথায় অভিনন্দিত করিয়া বলিলেন, শৈলেন, তুমি, যাকে বলে এঁচড়ে পেকে গেলে।

    চাকরি—বেহারে কোন একটি কলেজে প্রফেসারি। সত্বর যোগদান করিবার তাগিদও ছিল, তাহার উপর কাকা ‘শুভস্য শীঘ্রম্ শুভস্য শীঘ্রম্’ করিয়া বাড়িটাতে এমন একটা উৎকট তাড়ানো-ভাব দাঁড় করাইলেন এবং আমি বালকসুলভ অবুঝপনার বশে চাকরিটা হারাইবই জানিয়া শেষ পর্যন্ত এমন নিরাশ হইয়া হাল ছাড়িয়া দিলেন যে, বাহালি-পত্র পাওয়ার পরদিনই তাড়াতাড়ি যাত্রা করিতে হইল। তাহাতে খুঁটিনাটি অনেক প্রয়োজনীয় দ্রব্যই কেনা হইয়া উঠিল না।

    কর্মস্থানে পৌঁছিয়া বৈকালের দিকে বাজারে বাহির হইয়া গেলাম এবং একটু ঘুরিয়া ফিরিয়া একটি বড় দেখিয়া মনিহারী দোকানে প্রবেশ করিলাম। দোকানটিতে বেশ ভিড়, বেশির ভাগ লোকই দাঁড়াইয়া; কাউন্টারের সামনে সারি সারি কতকগুলি চেয়ার পাতা, সবগুলিই অধিকৃত। আমার একটু বসিতে পারিলেই ভাল হইত, কেন না, অনেকগুলি জিনিস লইতে হইবে, বিলম্ব হইবার কথা। এদিক-ওদিক চাহিতেছি, হঠাৎ নজর পড়িল, একটি কোণাপানা জায়গায় একটি ছোকরা আমার দিকে একদৃষ্টে চাহিয়া আছে। চোখোচোখি হইতেই তাহার চেয়ারটি ছাড়িয়া একটু সরিয়া দাঁড়াইয়া বলিল, আপনি এইখানে আসুন না; দাঁড়িয়ে কেন?

    হিন্দিতে কথা বলিল, তাহা না হইলে বেহারী বলিয়া চিনিবার উপায় ছিল না। মাথায় আধা-বাবরি-গোছের ব্যাক-ব্রাশ চুল, কোঁচায় কাবুলীফেরতা দেওয়া কাপড় পরা, গায়ে বোতামের কালো ফিতা বাহির করা একখানি পাশ-বোতাম পাঞ্জাবি—টায়টোয়ে কোমরের নীচে পর্যন্ত নামিয়াছে, পায়ে নাগরা—এদেশী নয়, যাহা কলিকাতায় গিয়া বাংলার সুকুমারত্বের ছাপ লইয়া আবার এখানে ফিরিয়া আসিয়াছে। একটু হাসিয়া ইংরেজিতে বলিলাম, না, থাক, ধন্যবাদ। আমি বেশ আছি।

    এক ধরনের খাতির আছে যাহা অত্যাচারের নামান্তর মাত্র, দেখিলাম এও তাই। তাও কি হয়?—বলিয়া ছোকরা হাসিতে হাসিতে দুই পা আগাইয়া আসিল এবং আমার হাতটা ধরিয়া চেয়ারে বসাইয়া দিয়া সামনের বিক্রেতাকে বলিল, নাও, আমার এখন থাক্, আগে এঁকে দাও; সেই থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভদ্রলোক।

    সন্দেহ হইল, দালাল নাকি? তাই বা কেমন করিয়া হয়? দেখিলাম, কাউন্টারের উপর তাহার নিজেরই বাছাই করার জন্য একরাশ জিনিস রহিয়াছে। ফুলেল তৈল, সাবান, আরশি, চিরুনি, কয়েক রকম সুগন্ধি, লেটার প্যাড, আরও নানা রকম জিনিস—যাহা শৌখিন ও আবার প্রয়োজনীয়ও হয়। ইতিমধ্যে বিক্রেতা কাউন্টারের কাছ হইতে একখানা চেয়ার তুলিয়া তাহার জন্য এদিকে নামাইয়া দিল। বোঝা গেল, শাঁসালো খদ্দের বলিয়া বেশ খাতির আছে।

     

     

    আমি বিক্রেতাকে বলিলাম, আগে আমায় একটা স্টোভ দেখাও দেখি; প্রাইমাস হানড্রেড আছে?

     

     

    দোকানী বলিল, আছে বাবু, তবে একটু দেরি হবে, সামান্য একটু। আজই বাক্স এসে পৌঁছেছে, প্যাকিং খুলে এখুনি নিয়ে আসছি।–—বলিয়া সে ফিরিল; ছোকরা চেয়ারে বসিয়া পড়িয়া বলিল, খুলে, দাম খতিয়ে নিয়ে এস, নইলে একটা যা-তা দাম ব’লে এঁকে ঠকাবে। কিছু তাড়াতাড়ি নেই এঁর।

    তাহার পর আমায় প্রশ্ন করিল, আপনি কি বেশি ব্যস্ত?

    বলিলাম, না, তেমন আর কি! তবে ততক্ষণ বরং অন্য একজনকে ব’লে যাক্ না, আমায় তেল, সাবান, ব্লেড এইগুলো দিক বের ক’রে।

    আচ্ছা, সে হচ্ছে। তুই যা শিগগির, দেখিস, যেন আবার মেলা তাড়াহুড়ো ক’রে যা- তা নিয়ে আসিস নি। ও-ই আসুক মশাই, ভাল সেলম্যান। সিগারেট খান?

     

     

    পকেট হইতে একটি সিগারেট-কেস বাহির করিয়া সামনে ধরিল। একটা সিগারেট বাহির করিয়া মুখে দিলাম; ছোকরা নিজেও একটা ঠোঁটের মাঝে আলগা করিয়া ধরিয়া কেতাদুরস্তভাবে দেশলাই জ্বালিয়া আমার সামনে ধরিল। তাহার পর নিজেরটা ধরাইয়া, একমুখ ধোঁয়া ছাড়িয়া বলিল, স্মোক ইজ মাই প্যাশন।

    একেবারে আপ-টু-ডেট।

    লক্ষ্য করিলাম, সিগারেট খাইতে খাইতে খুব চকিত এবং সংযতভাবে দুই-একবার পাশের জিনিসগুলির উপর দৃষ্টিপাত করিল এবং নিতান্ত অন্যমনস্কভাবে কি যেন ভাবিতে লাগিল; তাহার ভাবটা দেখিলে সন্দেহ হয়, যেন কি একটা কথা বলিতে চাহিতেছে, অথচ যেন জো পাইতেছে না।

    নিতান্ত চুপ করিয়া থাকার অস্বস্তি কাটাইবার জন্য বলিলাম, ও জিনিসগুলো বুঝি আপনি পছন্দ করবার জন্যে আনিয়েছেন?

     

     

    মুখের ধোঁয়া ছাড়িতে ছাড়িতে মাথা নাড়িয়া জানাইল, হ্যাঁ। সঙ্গে সঙ্গে যেন হঠাৎ মনে পড়িয়া গেল এইভাবে বলিল, ঠিক কথা, এই তো আপনাকে পাওয়া গেছে, দিন তো মেহেরবানি ক’রে আমার গোটাকতক জিনিস পছন্দ ক’রে। বলবেন বোধ হয়, কেন, আপনি নিজে কি পছন্দ করতে পারেন না? পারি, কিন্তু জানেনই তো টু হেডস আর বেটার দ্যান ওয়ান।

    আমার মুখে এরূপ একটা অশোভন আপত্তি ধরিয়া লওয়ায় আমি একটু লজ্জিত হইয়াই বলিলাম, সে কি কথা? আমার দ্বারা যদি সামান্য সাহায্য হয় তো আমি বিশেষ আনন্দিতই হব।

    সে আমি বাঙালিদের জানি, তাঁদের সম্বন্ধে আমার ধারণাও খুব উচ্চ। আচ্ছা, এই সাবানের কথাই ধরা যাক্।

    সাবানের বাক্সগুলি একে একে সরাইয়া দিয়া বলিল, এই তো ভিনোলিয়া, ইর্যামিক, হিমানী, ন্যাসকো, পামঅলিভ, ক্যালকাটা সোপ ওয়ার্কস, মাইসোর—আরও এইসব কি কি রয়েছে, আপনি কোন্টা রেকমেন্ড করেন?

    আমি বলিলাম, মাফ করবেন, বিলিতীগুলির সম্বন্ধে আমি কিছু বলব না। তবে— ছোকরা ভিনোলিয়া, পামঅলিভ, ইরামিকের বাক্সগুলি সঙ্গে সঙ্গে পাশে সরাইয়া রাখিয়া বলিল, নিন, বলুন এবার। মানে, ভিনোলিয়া দাবি করে, অমন সফ্‌ট আর ডেলিকেট স্কিন অন্য সাবানে দিতে পারে না। তা যাক গিয়ে; এদিকে আবার স্বরাজও তো চাই মশাই! এখন এগুলোর মধ্যে আপনার কোটা পছন্দ? এক কোম্পানিরই পাঁচ-সাত রকম আছে। আচ্ছা, আপনি সায়েন্স, না, আর্টস?

    বলিলাম, সায়েন্স।

    আই. এস-সি?

    না, এইবার এম. এস-সি পাস করেছি।

    ছোকরা গভীর শ্রদ্ধার সহিত আমার দিকে চাহিল, তাহার পর বলিল, তবে তো কথাই নেই, দি ম্যান ফর ইট। আচ্ছা, সাবানে গায়ের রঙ ইমপ্রুভ করতে পারে? ধরুন—

    সেকেন্ড কয়েক একটু চিন্তা করিয়া লইল, তাহার পর কহিল, ধরুন—এই ধরুন কেউ যদি পাড়াগাঁয়ে মনে করুন, এই তেরো-চৌদ্দ বছর বয়স পর্যন্ত কাটিয়ে থাকে, জানেনই তো, পাড়াগাঁয়ে ধুলো কাদা মেঠো হাওয়া—এসবের মধ্যে রঙ তো আর ঠিক থাকে না; তা এখন যদি সে রেগুলারলি সাবান মেখে যায় তো রঙটার জলুস বাড়বে ব’লে আপনাদের সায়েন্স গ্যারান্টি দিতে পারে?

     

     

    কোথায় ব্যথা এবং আমার এত খাতিরের কারণটাই বা কি এতক্ষণে বুঝিলাম। বলিলাম, কি জানেন? সায়েন্স যে গায়ের রঙ আর সাবানের কথা ধ’রেই কোন বিশেষ কথা বলেছে তা মনে পড়ে না; তবে সাবান জিনিসটা লোমকূপগুলো বেশি পরিষ্কার রাখে, বাইরের ময়লাও জমতে দেয় না, কাজেই গায়ের চামড়ার স্বাস্থ্যটা থাকে ভাল, সেই থেকেই—

    ছোকরা গালে হাত দিয়া মাথাটি কাত করিয়া খুব মনোযোগ সহকারে কথাগুলো শুনিতেছিল; সোজা হইয়া বসিয়া, তর্জনীটা একটু নামাইয়া বলিল, দেয়ার ইউ আর, হয়েছে। আচ্ছা, যদি হয় তো এক বার করে সাবান মাখলে যে পরিমাণে উন্নতি হবে; দু’ বার করে মাখলে তার চেয়ে বেশি উন্নতিই হবে নিশ্চয়, তিন বার করে মাখলে সেই অনুপাতে তার চেয়েও বেশি? চার বার—ছ বার—আট বার—

    হায় রে, চোদ্দ-পনেরো বৎসরের গাত্রচর্ম, তোমার বিপদও অনেক! আমি আর না থাকিতে পারিয়া বলিলাম, হেজে যেতে পারে।

    ছেলেটি যেন একটু অপ্রতিভ হইয়া হঠাৎ থামিয়া গেল। ক্ষণমাত্রে সামলাইয়া লইয়া বলিল, না, ছ বার আট বার একটা কথার কথা বলছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে সাবান পর্ব যেন চাপা দেওয়ার জন্যই একটা তুলিয়া লইয়া বলিল, তা হ’লে এ সাবানটার সম্বন্ধে কি বলেন? কোম্পানিটাও ভাল, গন্ধটাও ডিসেন্ট–

    খুব বড় সাবানবেত্তা বলিয়া আমার কোন কালেই নাম ছিল না; তবু বেচারাকে সপ্রতিভ করিয়া তুলিবার জন্যই বলিলাম, দেখি, হ্যাঁ, এইটিই আজকাল কলকাতায় খুব চলেছে, হট ফেবারিট।

    মুখটি পুলকে দীপ্ত হইয়া উঠিল, বাক্সটা একটু তুলিয়া ধরিয়া এক পাশে নামাইয়া রাখিল, মনে মনে, বুঝিবা কাহার দুটি কঙ্কণ-পরা হাতে তুলিয়া দিল। বলিল, এই দেখুন বেয়াদবি, আপনাকে পান অফার করা হয় নি!

    পকেট হইতে একটা রূপার ডিবা বাহির করিয়া ডালাটা খুলিয়া ধরিল। জিজ্ঞাসা করিল, জরদা খান?

    না।

    আচ্ছা, তেল আজকাল কলকাতায় সবচেয়ে কোন্‌টা বেশি চলছে?

    সাবান সম্বন্ধে সমস্ত কলিকাতাকে টানিয়া আনিয়া ভাল করি নাই দেখিতেছি; কি উত্তর দিব ভাবিতেছি, ছোকরা বলিয়া উঠিল, অত কথায় কাজ কি, আপনি নিজে কি ব্যবহার করেন তাই বলুন না? আপনারও তো চমৎকার চুল দেখছি।

     

     

    উত্তর করিলাম, আমার কথা ছেড়ে দিন, যখন যেটা হাতের কাছে পাই, খানিকটা দিই মাথায় চাপড়ে।—বলিয়া একটু হাসিলাম।

    ছোকরা নেহাত যেন খাতিরে পড়িয়া মুহূর্তের জন্য মুখটাতে একটু হাসি টানিয়া আনিল, সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর ব্যস্ততার সহিত জেরা শুরু করিয়া দিল।

    আচ্ছা, হাতের কাছে কোন্‌টা বেশি পান?

    তার কি কোন ঠিক আছে। কোনদিন হয়তো দিলামই না তেল মাথায়।

    নাছোড়বান্দা। ক্ষণমাত্র ভাবিয়া বলিল, আচ্ছা, না হয় অন্যদিক দিয়েই দেখা যাক্, সবচেয়ে কম কোটা পান?

    আমি আর একবার হাসিয়া বলিলাম, সেটা আরও বলতে পারি না। যেটা সবচেয়ে বেশি পাই, সেটার কথাই যখন মনে থাকে না, তখন সবচেয়ে কমের কথা কি করে মনে থাকবে বলুন?

    আবার একটু অপ্রস্তুত ভাব; একটু মৌন থাকিয়া বলিল, আচ্ছা আপনাদের সায়েন্স কি বলে, চুলের সঙ্গে তেলের সম্বন্ধ বিষয়ে?

    বলিলাম, কেশতৈল সম্বন্ধে সায়েন্স বিশেষ করে কোথাও ব’লে গেছে ব’লে তো মনে পড়ে না। তবে কথা হচ্ছে, তেল-টেল মাখলে, একটু শ্যামপুইং করলে চুলটা থাকে ভাল।

    ছোকরা আমার কথার সঙ্গে সঙ্গে তর্জনীটা নামাইয়া বলিল, থাকে ভাল। বেশ এইবার এই দিক থেকে দেখা যাক, কেশতৈল হচ্ছে মোটামুটি তিন ক্লাসের—তিলের, নারকেলের, আর এন্ডির, এই তিনের কোনো-না-কোনো একটা দিয়ে ভাল কেশতৈল তৈরি; এখন দি কোশ্চেন ইজ, এর মধ্যে কোটি চুলের পক্ষে সবচেয়ে ভাল? আপনাদের সায়েন্স কি বলে? ধরুন—। একটা ঢোক গিলিয়া বলিল, এই ধরুন, আমার এক আত্মীয়া প্রায় তের- চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত পাড়াগাঁয়েই ছিল। আমাদের দেশের বাপ-মায়েরা সৌন্দর্য সম্বন্ধে কতটা গাফিল, জানেনই তো। বিশেষ ক’রে বেহারে। এরা আবার স্বরাজ চায় মশাই! আমার হাতে থাকলে আমি এখন দুশো বছর কিছু দিতাম না। চুল যে সৌন্দর্যের একটা কতবড় অঙ্গ, সেটুকুও যারা জানে না, তারা আবার স্বরাজ চায় কোন্ মুখে, মশাই? ‘স্বাস্থ্য ভাল, স্বাস্থ্য ভাল’ ব’লে যে তার বাপ-মা গুমর করে, তাতে তাদের কি বাহাদুরি? সে তো নেচার দিয়েছে, শুধু চুলটার দিকে তোমরা একটু লক্ষ্য রাখতে পারলে না? শেম!

    বেজায় চটিয়াছে। একবার মনে হইল, বলি, আজকাল তো সভ্য এবং স্বাধীন জগতে চুলটা বাদই দিতেছে—বলিয়া স্বরাজকামীদের এবং তাহার ‘আত্মীয়া’র বাপ-মায়েদের উপস্থিতির জন্য বিপন্মুক্ত করি; কিন্তু কেশের মোহ তাহাকে যেমন পাইয়া বসিয়াছে, তাহাতে এ ধরনের কথায় ফল হইবে না জানিয়া কহিলাম, আপনি যদি তাঁর চুলের উন্নতি চান তো এখনও যে একান্ত না হয় এমন নয়।

     

     

    ছোকরা ব্যস্তভাবে বলিল, কি ক’রে? আমি এইজন্যই তো আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি, বাঙালি বলেই। আর আমি মশাই, বাঙালিদের একটু ভালবাসি। এদিকে আমরা বলি, বেহার ফর বেহারীজ, ওদিকে আপনারা পাল্টা জবাব দিন, বেঙ্গল ফর বেঙ্গলিজ—এই ক’রে দুটো প্রতিবেশী জাতের মধ্যে ভাবের কিংবা অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান বন্ধ হয়ে যাক—বাস্, তা হ’লেই স্বরাজ মুঠোর মধ্যে এসে পড়বে আর কি! নিন, সিগারেট খান। চুলোয় যাক সব, তবে আমাকে আপনার বন্ধু ব’লেই জানবেন।

    বলিলাম, বড় আনন্দ এবং সৌভাগ্যের বিষয়। বলেছেন ঠিকই, পাশাপাশি দুটি জাতের মধ্যে এ ধরনের মনোমালিন্য থাকা উচিতও নয়, আশা করা যায়, থাকবেও না বেশিদিন। ঠিক কথা, কেশ সম্বন্ধে আমাদের দেশের স্ত্রীলোকেরা যা করেন—

    ছোকরা তর্জনীটা উৎসাহভরে টেবিলে ঠুকিয়া বলিল, দেয়ার ইউ আর; আমি সেই কথাই জিজ্ঞাসা করব করব করছিলাম, অথচ লেডিদের কথা তুললে আপনি কি মনে করবেন ভেবে জিজ্ঞাসা করতে পারছিলাম না। হ্যাঁ, তাঁরা কি করেন? বাঙালি ছেলেমেয়েদের কেশসৌন্দর্য নামী। আমাদের এখানে কথায় বলে, ‘ছাজা, বাজা, কেশ— তিনে বাংলা দেশ!’ ‘ছাজা’ হ’ল ঘরের ছাউনি, ‘বাজা’ বুঝতেই পারেন, বাজনা, আর ‘কেশ’—এই তিন নিয়ে বাংলা দেশ। আচ্ছা ধরুন, তাঁরা যে উপায় অবলম্বন করেন, তাতে কতটা পর্যন্ত উন্নতি হতে পারে? যার চুল কোমর পর্যন্ত কায়ক্লেশে যায়, কতটা নামাতে পারে তার চুল? হাঁটু পর্যন্ত? নাঃ, হাঁটু পর্যন্ত আর হতে হয় না, টু লেট, কি বলেন?

    নূতন বিবাহ, নূতন সাধ; নিরাশ করিয়া আর পাপের ভাগী হই কেন? বলিলাম, চোদ্দ- পনেরো আর এমন কি বিশেষ দেরি হ’ল। এই তো মোটে চুল হবার সময় আরম্ভ হয়েছে। ছোকরা আমার কথাগুলি শুনিতে শুনিতে স্মিতবদনে পানের ডিবা বাহির করিতেছিল; বলিল, আসুন, পান খান। আচ্ছা, চুল কি হাঁটুর নীচেও নামতে পারে? সে রকম যত্ন নিলে? এই দেখুন না, এই হেয়ার অয়েলটার বাক্সের এই ছবিটা!

    বেজায় হাসি পাইল। তবুও ভাবিলাম, যাহার এমনই সঙ্গিন অবস্থা যে তুচ্ছ একটা বিজ্ঞাপনের ছবিকে ধ্রুব সত্য বলিয়া মানিয়া লইয়াছে, তাহাকে দমানো নিতান্ত পাষণ্ডের কাজ। বলিলাম, তুলির টানে যতটা সহজে চুল নীচে নামানো যায়, বাস্তবক্ষেত্রে ততটা আশা করা যায় না, তবে চেষ্টার অসাধ্য তো কিছু নেই।

    নিশ্চয়ই, নেপোলিয়ান আল্পস ক্রস করেছিলেন কি ক’রে মশাই? চেষ্টা করেই তো? তা হ’লে ধরুন পায়ের গুলের নীচ পর্যন্ত? যদি খুব যত্ন নেওয়া যায়, প্রাণপণে? সম্ভব?

    বড়ই বাড়াবাড়ি হইয়া উঠিতেছে। বিনীতভাবে, যেন এক অনির্দিষ্ট পক্ষের জন্য ওকালতি করিতেছি এইভাবে বলিলাম, দেখুন, ও-রকম যত্ন নেওয়া কি এক উপদ্রবে দাঁড়াবে না? গোড়ালি পর্যন্ত চুল নিয়ে জীবন কাটানো—খোঁপা করে রাখলে তার ভারে মাথা ঠিক রাখা দায়, খুলে রাখলে পায়ে জড়িয়ে আছাড় খাওয়ার সম্ভাবনা।

     

     

    ছোকরা বোধ হয় ঝোঁকের মাথায় নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার অধোগতির বহর দেখিয়া লজ্জিত হইয়া পড়িল। একটু আমতা-আমতা করিয়া বলিল, না, ও একটা এমনই জিজ্ঞাসা করছিলাম, কথায় কথায়। কি জানেন, আপনার কোন আত্মীয়ার সৌন্দর্যটুকু যথাসাধ্য বাড়িয়ে যদি একটু উপকার করতে পারেন তো করেন না কি? বললে শুনব কেন? আপনারা, বাঙালিরা, তো এটা একটা কর্তব্যের মধ্যেই ধরেন।

    সেই নেহাত গদ্যময় স্থানে, বেচা-কেনার হট্টগোলের মধ্যে রচিত নিভৃতে এই নূতন প্রণয়ীর মূঢ়তা, বিহ্বলতা বেশ মিষ্ট লাগিতেছিল। একবার ইচ্ছা হইল, একটি সুমিষ্ট প্রশ্নের আঘাতে কৃত্রিম অথচ স্বচ্ছ রহস্যটুকু ভাঙিয়া দিয়া ব্যাপারটিকে চরমে আনিয়া ফেলি; শুধাই আত্মীয়াটি কি ধরনের, অর্থাৎ সৌন্দর্য বাড়াইয়া উপকার করিলে উপকারটি আসলে কোথায় পৌঁছিবে বন্ধু?

    কি ভাবিয়া প্রশ্নটা আর করিলাম না।

    ***

    ভালই করিয়াছিলাম।

    পরের দিন কর্মে যোগদান করিলাম। প্রিন্সিপ্যাল রায় আমায় সমস্ত কলেজটি একবার ঘুরিয়া লইয়া দ্বিতীয় বাৎসরিক শ্রেণীর ঘরে লইয়া গিয়া পরিচিত করিয়া দিলেন; এই ক্লাসেই আমার অধ্যাপনা শুরু।

    ক্লাসটির উপর একবার চোখ বুলাইয়া লইতে গিয়া হঠাৎ চতুর্থ বেঞ্চের এক জায়গায় আমার চক্ষু সেকেন্ড কয়েকের জন্য নিরুদ্ধ হইয়া গেল। দেখি, একটি ছোকরা একদৃষ্টে আমার পানে চাহিয়া আছে; চোখে জ্বলন্ত বিস্ময়, তাহাতেই যেন মাথার চিতাইয়া আঁচড়ানো চুল খাড়া হইয়া উঠিয়াছে, মুখে ছোট্ট একটি গোল হাঁ, বাঁ হাতে কালো ফ্রেমের চশমা; শখের জিনিস, দৃষ্টিকে নিঃসন্দেহ করিবার জন্য যেন পথ ছাড়িয়া দাঁড়াইয়াছে।

    কালকের সেই ছেলেটি, দোকানে যাহার সহিত পরিচয় হইয়াছিল। আমি তাড়াতাড়ি চোখ ফিরাইয়া লইলাম।

    রোল কল করিতে করিতে মনে হইল, যে ছেলেটি ৮৮-তে উত্তর দিয়াছিল, সে-ই যেন আবার ৯২-তেও সাড়া দিল। প্রক্‌সি; আন্দাজে কাহার প্রকৃসি তাহাও বুঝিলাম, তবুও দৃষ্টি একবার চতুর্থ বেঞ্চে গিয়া পড়িল। দেখিলাম, সেই কেশবিলাসী ছেলেটির জায়গা খালি, হাজরির বন্দোবস্ত করিয়া কখন নিঃসাড়ে চলিয়া গিয়াছে।

    ৮৮ এবং ৯২-কে আর একবার ডাকিলেই প্রবঞ্চনাটা হাতে হাতে ধরা পড়িত; কিন্তু তাহা আর করিলাম না। ভাবিলাম, যাক, আপাতত সেও যেমন বাঁচিয়াছে, আমিও তেমনই একটা প্রবল অস্বস্তির হাত হইতে রক্ষা পাইয়াছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)
    Next Article রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }