Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    খাঁটির মর্যাদা

    বঙ্কু আসিয়া উপস্থিত হইল। একটু যেন বেশি রকম প্রফুল্ল ভাব। এমনই কুকুর বেড়াল দুই চক্ষে দেখিতে পারে না, আজ অসিয়াই আমার জিমিটাকে টুসকি দিয়া শিস দেওয়ার চেষ্টা করিয়া নাচাইতে লাগিল। বলিল, জাতটা বড্ড নোংরা, নইলে মন্দ নয়, যদি কামড়াবার আর পাগল হওয়ার ভয় না থাকত; আর এই ঘাড়ে-ওঠা আর হাত-চাটা রোগ! যা যা, গেট অ্যাওয়ে।

    বলিলাম, ব’স্; কি খবর বঙ্কু? আজ সকালে ছিলি কোথায় রে? তোর জন্যে আমরা সব ব’সেব’সে—ব’সে—

    বঙ্কু বলিল, তোমাদের কি ভাই? দিব্যি খাচ্ছ-দাচ্ছ আর রাজা-উজির মেরে বেড়াচ্ছ, আগে পড় আমার মত ইয়ের পাল্লায়—। বলিয়া ছোট করিয়া একটু হাসিল।

    এটা বঙ্কুর পেটেন্ট বুলি, সরল অর্থ হইতেছে—বিয়ে না করিয়া ভ্যাগাবন্ডের মত ঘুরিয়া বেড়াও তোমরা, আমার প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের কথা আর কি বুঝিবে বল?

    ইহার পর সামান্য একটা সূত্র ধরিয়া টান দিলে বউয়ের কথা আসিয়া পড়ে। সেসব কায়দা-কানুন আমাদের সব জানা আছে। যখন বঙ্কুর মনটা বেশি রকম হৃষ্ট থাকে আমাদের কিছুই করিতে হয় না, নিজেই সূত্রটা ধরাইয়া দেয়।

    সে-ই প্রশ্ন করিল, কই, চশমার কথা জিজ্ঞাসা করলি নি?

    বলিলাম, হ্যাঁ, তাই তো জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছিলাম; কি হ’ল তোর চশমা বঙ্কু?

    বউ ভেঙে দিয়েছে।—কথাটা বলিয়া এমন ভাবে ফিক করিয়া একটু হাসিল যে, বেশ বুঝা গেল, ব্যাপারটিতে বঙ্কু বেশ আনন্দ পাইয়াছে। শ্রোতার তরফ হইতে কোন রকম ঔৎসুক্য প্রকাশ না করিলেও চলিত, তবুও প্রশ্ন করিলাম, সত্যি নাকি? চোখে কোন রকম আঘাত লাগে নি তো?

    বঙ্কু আবার হাসিল; বলিল, যদি লাগতই আঘাত, ধর যদি নেহাত চোখ দুটো যেতই তো কোর্টে তো আর নালিশ করতে যাওয়া যেত না। ভায়া, এ যে কি হ্যাঙ্গাম, তা তোমরা কি বুঝবে বল? নির্ঝঞ্ঝাট আছ, দিব্যি গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়াচ্ছ, হুঁঃ।

    বলিতে লাগিল, পরশু বলে, আজ সিনেমা দেখতে চল। আমি সোজা ব’লে দিলাম, না। ও অভিনয় দেখা আমার ধাতে সয় না—থিয়েটারই হোক, সিনেমাই হোক আর মিলিটারি প্যারেডই হোক। যে যা নয়, সে তাই সেজে ন্যাকামি করবে, কিংবা ছোট হাজরি খেয়ে এসে গড়ের মাঠে নিরীহ বাঙালিদের দেখিয়ে দেখিয়ে ফাঁকা আওয়াজ দাগতে থাকবে, এসব তঞ্চকতায় যার মন ওঠে উঠুক, বঙ্কার ওঠে না। এর ওপর কোনো কথা আছে। নিকুঞ্জ ময়রাও অর্জুন নয়, ভৈরব তেলীর বখাটে ছেলে যতেও কিছু অভিমন্যু নয়, অথচ আসরে সেজেগুজে ভোল ফিরিয়ে কি বাহবাটাই না লুটছে! তোমরা যখন দেখছ নিকুঞ্জ অভিমন্যুর মৃত্যুতে ছেলের রূপগুণ ব্যাখ্যানা ক’রে হাপুস-নয়নে কাঁদছে আর খুলে যাওয়া গালপাট্টা এক হাতে চেপে অন্য হাত নেড়ে ভীষণ প্রতিহিংসা নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করছে, আমি ততক্ষণে স্পষ্ট দেখছি, অভিমন্যু যতে সাজঘরে পরচুলাটা বগলে করে গাঁজায় দম মারছে। দেখার ভুলে তোমরা দাও বাহবা, আর আসল রূপটি মনশ্চক্ষের সামনে থাকে বলে আমার কেমন অস্বস্তি বোধ হয়। যতেকে যদি চিনতে তো বুঝতে পারতে, সপ্তরথীতে মিলে তাকে সাবাড় ক’রে পাড়ার কি উপকারটাই করেছে! অবশ্য যদি সত্যি সাবড়াতে পারত। রোজ সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত মেয়ে-পুরুষ মিলিয়ে দুশো লোকে তার মৃত্যু কামনা করছে। আবার আশ্চর্য দেখ, একটা মখমলের সাজ প’রে সেই যতেই মরেছে ব’লে তারাই সব কেঁদে ভাসিয়ে দিচ্ছে, লজিক্যালি দেখতে গেলে যতে যথার্থই ম’ল না ব’লেই যাদের কাঁদা উচিত ছিল। মিছে বলছি?

     

     

    সিনেমা দেখতে গেলে—এতে আর্টের আরও কারচুপি, তার মানে ভাঁড়ামি আরও এক পর্দা ছাড়িয়ে। সেবারে কি একটা ইংরিজি সিনেমা দেখে এসে বউ তো রাত্তিরে আহার- নিদ্রাই ত্যাগ করলে এক রকম; কেবলই—আহা, অমন সতীলক্ষ্মীর এত হেনস্তা! যত বলি, ও গল্প, ওসব কি ধরতে আছে? কিন্তু এসা গেঁথে ব’সে গেছে মনে, কিছু কি শুনতে চায়? শেষে বললাম, তোমার ওই সতীলক্ষ্মী নায়িকার খোঁজ ক’রে দেখতে গেলে একাদিক্রমে বোধ হয় আটদশটি বিবাহ, তা ছাড়া স্বাধীন প্রেমের পরীক্ষা যে মাঝে মাঝে কত চলছে—

    বলতে যা দেরি! সে আমার যে নাকালটা হ’ল, তা আর ক’য়ে কাজ নেই। হিন্দুর মেয়ে নিজের গা বাঁচিয়ে স্বামী-দেবতাকে যতটা গালমন্দ দিতে পারে সে তো হ’লই, সে রাত্রে অনাহার, তার পরের দিন সাধন ময়রার দোকান না থাকলে তাই হ’ত; তিন দিন কথা বন্ধ, চার দিনের দিন ঘাট মেনে শান্তি স্থাপন হ’ল, বলে, টের পেলে তো সতীলক্ষ্মীর নামে কুকথা বলার মজা?

    বিদ্যাসাগর মশাই গিরিশ ঘোষকে জুতো ছুঁড়ে মেরেছিলেন। শুনেই তোমাদের তাক লেগে যায়, প্রবঞ্চনাটা কতদূর এগুতে পারে বোঝ! স্বামীস্ত্রীতে মুখ-দেখাদেখি বন্ধ!

     

     

    কি কথায় কি এসে পড়ল! হ্যাঁ, পরশু বললে, আজ সিনেমা দেখতে চল। সাফ জবাব দিলাম, কোন মতেই না। যেতেই হবে; আলবত যাব না। আমারও মরদকা বাত—একেবারে গ্যাঁট হয়ে ব’সে রইলাম। দাঁতে দাঁত দিয়ে উঠে টেবিল থেকে অ্যাস-ট্রেটা নিয়ে মারলে ছুঁড়ে জানলায়, আমার চোখ ঘেঁষে সোজা গিয়ে গরাদে লেগে চুরচুর হয়ে গেল। বললাম, চোখটা যেত এক্ষুনি।

    উপযুক্তই হত। ব’লে সিগারেটের টিন থেকে এক গোছা সিগারেট বের ক’রে দু হাতে ছিঁড়ে কুচি-কুচি করে ঘরময় দিলে ছড়িয়ে। বলে, হিন্দুর মেয়ের ঘরে এসব নেশাপত্র চলবে না। বললাম, বেশ, চলবে না তো চলবে না, আর আসব না ঘরে! আরও উঠল আগুন হয়ে; ও গরমের সময় বরফ আর রাগের সময় ঠাণ্ডা জবাব মোটেই বরদাস্ত করতে পারে না। আমার হাতটা ধ’রে মারলে একটা হ্যাঁচকা, দোরের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললে, তুমি যাও বেরিয়ে, এ ঘরে নেশাখোরের জায়গা নেই, হিদুর ঘর। আমিও গোঁ ধ’রে বসে আছি—বঙ্কার গোঁ বাবা! আস্তে আস্তে আসছি বেরিয়ে, ‘ওই, নাও তোমার নেশার সরঞ্জাম’ ব’লে দিলে সিগারেটের খালি টিনটা ছুঁড়ে। রেলিঙে ঠিকরে পায়ে লেগে পড়ল গিয়ে উঠোনে।

     

     

    আমার জিদটা গেল আরও বেড়ে, ঘুরে দাঁড়িয়ে বললাম, বটে? তারপর হনহন ক’রে বাইরে বেরিয়ে গেলাম। মনে মনে বললাম, না, আর নাই দেওয়াটা ঠিক নয়, ঢের হয়েছে।

    বঙ্কু মুখটা বাঁকাইয়া অত্যন্ত ক্রুদ্ধভাবে একদিকে তাকাইয়া রহিল। আমি বললাম, না গিয়ে ঠিকই করেছিস; ও-জাতের সব কথাতে সায় দিলে—

    বঙ্কুর মুখটা মোলায়েম হইয়া আসিল। আমার দিকে না চাহিয়া একটু হাসিয়া বলিল, তোমাদের কি ভাই? বেপরোয়া জীবন দিব্যি, কত ধানে কত চাল তা তো জানে না; বলে দিলে, না গিয়ে ঠিকই করেছিস। না যাওয়া এমনই মুখের কথা কিনা!

    যাক, তোকে আর কত বলব, কতই বা তুই শুনবি? শেষ পর্যন্ত আমার জিদটা গিয়ে রাগে দাঁড়াল, ঘুরে এসে বললাম বেশ, চল যাচ্ছি।

    পুরুষকে বোঝা যায়; কিন্তু কথায় বলে—স্ত্রিয়াশ্চরিত্রং—মেয়েমানুষের মেজাজ বোঝাই দায়রে ভাই! এই এতক্ষণ রাগে কাঁই হয়েছিল দেখলে তো? আমি যেই রাজী হলাম, সঙ্গে সঙ্গে জিদ ধ’রে বসল, কক্ষনই যাব না। কেন যাবে না? এই এর জন্যে এত কাণ্ড হয়ে গেল! আমি যাব না আমার খুশি। খুশি আমার।—ব’লে সে এক ঘর-ফাটানো চিৎকার। সঙ্গে সঙ্গে গলা ভেঙে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না, নিজের খোঁপা টেনে ছেঁড়া; গায়ের ব্লাউজ ছিঁড়ে, ড্রয়ার থেকে সাবান, পাউডার, জরির ফিতে, আলতার শিশি টান মেরে ফেলে দিয়ে, পানের ডিবে আছড়ে বালিশে মুখ গুঁজে পড়ল।

     

     

    বঙ্কু থামিল।—যেন সদ্যই ওই দুর্যোগটার ভিতর হইতে বাহির হইয়া আসিয়া একটু বিশ্রাম লইতেছে।

    আমি বলিলাম, যাক, এবারে তা হ’লে আত্মনেপদ হ’ল; তোর জিনিসপত্র এবং পৈতৃক শরীরটা বেঁচে গেল! তবু ভাল।

    বঙ্কু বলিল, মুখের কথায় কিছু লাগে না, অমনই ব’লে দিলে—তবু ভাল। হ’লে টের পাবি রে ভাই, পরস্মৈপদীর চেয়ে আত্মনেপদীর হেপা সামলানো কত শক্ত! নিজের গায়ে একটা চোটফোট লাগলে তবু ভরসা থাকে, দেখে বোধ হয় একটু মমতা হবে এক সময় না এক সময়। জিদ রাগ মাথায় রইল, খোশামোদ করতে করতে প্রাণান্ত। আর এই সময় খোশামোদই কি কম শক্ত! কোন্ কথা যে কি ভাবে নেবে ঠাহরই হয় না; ওর চেয়ে চার হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ নিয়ে নাড়াচাড়া করা ঢের সহজ।

    যাক, বিস্তর সাদাসাধির পর যেতে রাজী হ’ল; কিন্তু শাসিয়ে দিলে, খবরদার, শেষে কোনদিন যদি খোঁটা দাও যে, জিদ করে বায়স্কোপ দেখতে গিয়েছিলাম তো ভাল হবে না। নেহাত অবাধ্য বলে লোকের কাছে দুষবে, তাই রাজী হচ্ছি।

    ভয়ঙ্কর আশ্চর্য হয়ে বললাম, বাঃ, জিদটা তোমার হ’ল কোনখানটা? গোড়া থেকে নেহাত গোঁ ধ’রে ব’সে আছি, না নিয়ে গিয়ে ছাড়ব না, তাই না যাচ্ছ? দয়া মানে জিদ হ’ল?

     

     

    বঙ্কিম স্ত্রীর সামনের সেই বিস্ময়ের ভাবটি মুখে ফুটাইয়া কথা বলিতেছিল, আমার হাসি লক্ষ্য করিয়া বলিল, হাসছ? বেশ, হেসে নাও যদ্দিন পার। তখন বললে, যাব তো আলতার শিশিটা তো গেল তোমার পাল্লায় প’ড়ে।

    বললাম, তোমার নিজের দোষ। কেন, বালিশের ওপর ছুঁড়ে ফেলতে পারলে না? নিদেন আমার গায়ে এসে পড়লেও আমি সামলে নিতে পারতাম তো?

    ভয়ে ভয়ে হাসবার চেষ্টা করে একটু ঠাট্টাও ক’রে দিলাম চোখ কান বুজে; বললাম, মনে করতাম না হয়, মানের পালার পর একটু হোলিখেলাই হয়ে গেল।

    ও-ও হেসে ফেললে, মুখ ঘুরিয়ে বললে, নাও, আর রঙ্গ করতে হবে না, কতই জানেন!

    পকেট থেকে একটা টাকা ফেলে দিয়ে বেরিয়ে গেলাম।

    ফার্স্ট শোতে যাওয়ার সময়ই পাওয়া গেল না; কাজেই যখন বায়স্কোপ দেখে ফিরে এলাম, তখন বারোটা বেজে গেছে। শুতে সাড়ে বারোটা হয়ে গেল। তখন থেকে ঠায় আড়াইটে পর্যন্ত বায়স্কোপের গল্প শুনে কাটাতে হ’ল—আচ্ছা, ইলা ব’লে ওই মেয়েটির সেইখানটা তোমার কেমন লাগল? সেই যেখানটা ডাক্তারের কথায় অম্লানবদনে নাড়ী কেটে রক্ত দেওয়ার জন্যে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিলে? নাড়ী কেটে রক্ত দিতে আমার বেশ লাগে, হ্যাঃ, তোমার যেন কিছু হয়ে কাজ নেই, মা-ওলাইচণ্ডী রক্ষে করুন। কি রকম আস্তে আস্তে নির্জীব হয়ে পড়ল মেয়েটা! আহা, আমার সেই থেকে মনটা এমন হয়ে আছে— সেই আস্তে আস্তে চোখ দুটি বুজে আসছে, সেই ঠোট নেড়ে কি যেন বলবার চেষ্টা, সেই দুবার ডান হাতটি তোলবার চেষ্টা ক’রে হার মেনে ডাক্তারের দিকে চাওয়া, ডাক্তার ভাগ্যিস বুঝে নিয়ে হাতটা সীতেশের কাঁধে তুলে রেখে দিলে। তুলে দিতে চোখ দুটি কেমন বুজে এল আপনি আপনি! শেষকালে যতক্ষণ না হাসপাতালে বেঁচে উঠতে দেখলাম, আমার মনের মধ্যে কি যে হচ্ছিল! আর তোমার মনে?

     

     

    আমার বোধ হয় চোখ ঢুলে এসেছিল, একটা ঠেলা দিয়ে বললে, ছাই হয়েছিল ওঁর মনে। হ্যাঁ গা, তোমার চোখে ঘুম আসছে আজকে? মনিষ্যি না কি!

    আমি সামলে নেবার চেষ্টা ক’রে বললাম, আমার সেই গানের সুরটা কানে লেগে রয়েছে, হাজার চেষ্টা ক’রেও চোখ চেয়ে থাকতে পারছি না। এখনও যেন শুনতে পাচ্ছি নিশি ভোর হ’ল শুধু জাগরণে।

    বউয়ের গলার স্বর বদলে গেল; আস্তে আস্তে স্পষ্ট ক’রে জিজ্ঞাসা করলে, এটা সেই বাইজীটার গান না?

    ঝাঁ ক’রে আমার ঘুমটা ছুটে গেল। আবার সামলাবার চেষ্টা ক’রে বললাম, হ্যাঁ, পেত্নী বেটীর নাকে-কাঁদুনি; শুনে আমার এমন মাথা ধ’রে গেছে যে, কোন মতেই চেয়ে থাকতে পারছি না। ঠিক এই ভুরুর ওপরটা যেন—

    বউ আমার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল। তারপর চিপটেন কেটে বললে, দেখ, আমি কচি খুকীটি নই। কিছু কিছু বুঝি। এসব কথা ব’লে কি আর মেয়েছেলেদের ঠকানো যায়? ওঁর মাথা ধ’রে গেছে, তাই চোখ চাইতে পারছেন না! আসলে সে মাগী তোমার মাথা চিবিয়ে খেয়েছে। সীতেশবাবুকে প্রায় শেষ করেছিল, এবার তোমার দফা নিবেশ করতে বসেছে।

     

     

    শাসিয়ে বললে, কিন্তু স্থির জেনো, আমি ইলার মত নাড়ী কেটে রক্ত দিতে পারব না। ঘুমোও, আর বড়বড় ক’রে ব’কে আমায় জ্বালিও না। উনি পেত্নী দেখেছেন! আমার চোখে ধুলো দেবে, না?

    আমার বেজায় রাগ হ’ল। এ কি ব্যাপার! প্রতিজ্ঞা ভেঙে খোশামোদ ক’রে নিয়ে গেলাম। এককাঁড়ি টাকার শ্রাদ্ধ, তার ওপর প্রায় দু ঘণ্টার ওপর বসে যেন পিঁজরেয় বন্ধ হয়ে মৃত্যুযন্ত্রণা; তার পুরস্কার গিয়ে এই দাঁড়াল? একেবারে চরিত্র নিয়ে সন্দেহ?

    পাছে রাগের মাথায় উৎকট একটা কিছু ক’রে বসি, এই ভয়ে আর কোন কথা কইলাম না। রাতটা কোন রকমে কাটিয়ে সক্কালবেলা মুখ হাত ধুয়ে বেরিয়ে পড়লাম। চা-টা সারলাম পুরন্দরের বাড়ি; সেইখানে প্রায় নটা পর্যন্ত কাটিয়ে মনে করলাম এইবার বাড়ি যাওয়া যাক! গিয়ে কি দেখলাম বল তো?

    কি জানি, বুঝি মনস্তাপ—

    বঙ্কু একটা কঠিন ব্যঙ্গের হাসি হাসিয়া বলিল, হয়েছে! মনস্তাপ! না প’ড়েই সব বিদ্বান হয়েছে কিনা। মনস্তাপ ওর শত্রুর হোক। গিয়ে দেখি, নীচে ঝিটা থামে ঠেস দিয়ে দিব্যি নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে। উনুনে আঁচ পড়ে নি। বেড়ালটা ধীরে-সুস্থে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল। কিচ্ছু নেই, চুরিও করতে হয় নি, না-হক লোক দেখেই বা ভড়কাতে যাবে কেন? ঝিকে ন ভূতে ন ভবিষ্যতি যাচ্ছেতাই ক’রে জিজ্ঞেস করলাম, বউ কোথায়? বললে ওপরে। সেই রাগ মাথায় ক’রে ওপরে উঠে গেলাম। দেখি, বউ শোবার ঘরে সোফাটায় হেলান দিয়ে ব’সে টিপয়ে একটা হাত আলগাভাবে ফেলে রেখে জানলার বাইরে চেয়ে আছে।

     

     

    দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমার সিনেমার একটা দৃশ্য মনে প’ড়ে গেল। সীতেশ এক মাস কোন চিঠিপত্তর না দিয়ে আজ বাড়ি এসেছে, ইলা ঠিক এই রকম ভাবে আকাশের দিকে চেয়ে ত্রিভঙ্গমুরারি হয়ে বসে আছে। সীতেশ এসে ঘরে ঢুকল, তারপর একচোট নানা রকম বিটকেল পসচার দেখিয়ে সোফার এক পাশটিতে বসল। তারপর মানভঙ্গের সে এক পালা!

    আমার দুঃখে রাগে ঘেন্নায় মনটা যে কি ক’রে উঠল বলতে পারি না। আমি দশটা পর্যন্ত বাড়ি নেই, পরের বাড়ি চা খেয়ে বেড়াচ্ছি, সমস্ত রাত চক্ষে ঘুম নেই, আর ও কিনা ব’সে ব’সে অভিমানের পোজ অভ্যেস করছে! যে অভিনয়কে ন্যাকামিকে, আদিখ্যেতাকে আমি এত ঘেন্না করি, শেষকালে তাই কিনা আমার বাড়ির মধ্যে! ওর আমি কি অত্যাচার, কি আবদারই না সইছি! ঝগড়াঝাঁটি, গালমন্দ, ছেঁড়াছিঁড়ি— কোন্‌টা বাদ যাচ্ছে? কখনও কখনও রেগেছি বটে, সেটা ব্যাটাছেলের পক্ষে স্বাভাবিক, কিন্তু মনে গ্লানি উপস্থিত হয় নি আজ পর্যন্ত; তার কারণ কি—না, সেগুলো ওর মনের খাঁটি অভিব্যক্তি, অভিনয় নয়। সেই ও কিনা আজ—

    বঙ্কু একটু গুম হইয়া রহিল, তাহার পর বলিল, তক্ষুনি ফিরলাম, মনে মনে কড়া দিব্যি করলাম, সমস্ত দিন আর বাড়িতে পা দোব না; থাক্ ও ওর থিয়েটারি পোজ নিয়ে।

     

     

    ঠিকই করেছিলি। বলিয়া আমি বঙ্কুর কার্যের সমর্থন করিতে যাইতেছিলাম, আমার কথায় কান না দিয়া বলিল, কিন্তু সিঁড়ির কাছে এসে মনে হ’ল—এ ঠিক হচ্ছে না; পালিয়ে পালিয়ে বেড়ালে চলবে না তো, ঠিক ক’রে বুঝে নিতে হবে—ব্যাপারটা খাঁটি, না, মেকী— সত্যিই মনে দুঃখ হয়েছে, না, অভিনয়; একেবারে কৃতনিশ্চয় হয়ে তারপর অন্য ব্যবস্থা। কাঁটা দিয়ে কাঁটা বের করতে হবে।

    আস্তে আস্তে গিয়ে সোফার ধারে ওর পিছনটিতে গিয়ে দাঁড়ালাম, ঠিক সীতেশ যেমনটি ক’রে এক মাস পরে এসে দাঁড়িয়েছিল—অবশ্য যতটা পারলাম। বুঝলে—এসেছি, কিন্তু, ফিরে চাইলে না। আমি তখন একটু সামনে এগিয়ে গেলাম, ও-ও ঠিক সেই পরিমাণ অন্যদিকে ঘুরে গেল। ঠিক মিলে যাচ্ছে—ইলার নকল। দুঃখে বিরক্তিতে আমার গা জ্ব’লে যাচ্ছে, কিন্তু ছাড়লাম না। একটু মুখে হাসি টেনে এনে সোফাটা ঘুরে সামনে এসে দাঁড়ালাম। বউ জানলার উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসল; হুবহু সীতেশ-ইলা, আর কোন সন্দেহই নেই, পাশ ঘেঁষে সোফাটাতে ব’সে পড়লাম, কোণটাতে স’রে গিয়ে সোফার হাতলে মাথা গুঁজড়ে দিলে। বুঝতে পারছ তো? তুমি সব সিনেমাতেই অভিনয়ের এই মার্কামারা অভিনয় দেখতে পাবে- পেটেন্ট। ইংরিজি ফিল্ম থেকে বাংলা ফিল্মে এসেছে, সেখান থেকে এখন বাঙালির ঘরে ঘরে ঢুকছে; ভীম-দ্রৌপদীই বল, আর সীতেশ-ইলাই বল, ওই এক জিনিস— সোফার চারিদিকে ঘোরাঘুরি।

     

     

    আমি মনের রাগ মনে চেপে স্থির ক’রে ব’সে আছি, শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে। ঘুরে মাথা গুঁজড়ে বসতেই আমি আমার ডান হাতটা ওর ডান হাতের চুড়ির ওপর তুলে দিলাম, তারপর বাঁ হাতটা পিঠের ওপর দিয়ে সীতেশী স্টাইলে যেই খোঁপার ওপর রাখব, বাস্, আর কোথায় আছে! বন্ ক’রে ঘুরে গিয়ে দিলে টিপয়টা লাথিয়ে ঠেলে, সেটা ছিটকে গিয়ে একটা ঠ্যাং ভেঙে গড়িয়ে পড়ল; তারপর উঠে আমার চশমাটা টেনে নিয়ে মারলে আছাড়, চুরচুর করে কাঁচগুলো ছড়িয়ে পড়ল—ষোল টাকা দামের চশমা। তারপর আমার ফাউন্টেন পেনটা পকেট সুদ্ধ ছিঁড়ে টেনে ফেলে, বোতামগুলোয় একটা হ্যাঁচকা টান দিয়ে কেঁদে চেঁচিয়ে সে এক মহামারী কাণ্ড করে তুললে; তাতেও যখন আশ মিটল না, আমি সাবধান হবার আগেই—’খোঁপায় টান দিলে কেমন লাগে এই দেখ দেখ এই’–বলে আমার সামনের চুলটা দু মুঠোয় কষে ধ’রে দুটো কড়া ঝাঁকানি দিয়ে, আছড়ে সোফায় প’ড়ে ফোঁপাতে শুরু ক’রে দিলে! বড় জোর দুটি মিনিট—কিন্তু ঘরে যেন একটা খণ্ডপ্রলয় হয়ে গেল।

    বঙ্কু চুপ করিয়া উত্তেজনায় অল্প অল্প হাঁপাইতে লাগিল।

    আমি মেয়েছেলের এতটা স্পর্ধায় একটা রূঢ় মন্তব্য প্রকাশ করিতে যাইতেছিলাম, হঠাৎ বঙ্কুর মুখে প্রসন্ন হাসির উদয় দেখিয়া থামিয়া গেলাম। বঙ্কু আমার হাত হইতে অর্ধদগ্ধ সিগারেটটা লইয়া হাসিমুখেই বলিল, বুঝতে পারলি তো?

     

     

    বিমূঢ়ভাবে চাহিয়া রহিলাম। বঙ্কু সিগারেটে একটা টান দিল, তাহার পর হাসিতে একটু ব্যঙ্গ মিশ্রিত করিয়া বলিল, এটুকু আর বুঝলি নি?—বোকা! অভিনয় নয়, খাঁটি জিনিস। আমারই ভুল হয়েছিল; অভিনয় হ’লে কি আর মাথার চুল ধ’রে হ্যাঁচকা টান মারে! সেই থেকে ভাই, মনটি এমন হাল্কা হয়ে আছে, কি বলব! একবার ভেবে দেখ না, সন্দেহে সন্দেহে একেবারে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছিলাম—সোজা কথা!

    অনেকক্ষণ পরে, বিস্তর সাধ্যিসাধনার পর ঠাণ্ডা হল, কথা কইলে। তখন জিজ্ঞাসা করলাম, আচ্ছা, কি চাই বল?

    বললে, পদ্মলতা পাড়ের শাড়ি।

    মনে পড়ল, ফিল্‌মে ইলা ঐ রকম একখানা শাড়ি পরেছিল বটে। তা হোক, দিলাম একখানা এনে।

    বলিয়া বঙ্কু খুব পরিতৃপ্ত একটা হাসি হাসিয়া, সামনের চুলগুলা ধীরে ধীরে মাথার উপর তুলিয়া দিতে লাগিল।

    তাহাদের গোড়ায় যেন খাঁটি সুখের আমেজ তখনও লাগিয়া আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)
    Next Article রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }