Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ‘কস্মৈ হবিঘা বিধেম’?

    আলোচনাটা রেলগাড়ি হইতে আধ্যাত্মিকতায় গড়াইয়া পড়িল।

    শুভেন বলিল, ও জিনিসটা আমাদের দেশের নদীনালাগুলোকে শৃঙ্খলিত করে, ম্যালেরিয়ায় দেশটাকে জর্জরিত করে দিয়েছে, এখন সেদিক থেকে ফুরসুত পেয়ে ধর্ম নিয়ে পড়েছে।

    তারাপদ মুখ তুলিয়া প্রশ্ন করিল, ধর্ম নিয়ে?

    শুভেন উত্তর করিল, ধর্ম নিয়ে। না বিশ্বাস হয়, আজ একবার হাওড়া স্টেশনটা ঘুরে এস। পুজোর ছুটি আরম্ভ হয়ে গেল তো? সমস্ত কলকাতার লোককে ঝেঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত; স্পেশাল ট্রেন, টিপ্লিকেট, বিজ্ঞাপনের চটকটাও লক্ষ্য করো—চ’লে এস সব— অভাবনীয় কন্‌সেশন—ভুবনবিখ্যাত তাজ দেখবে চল, শারদ-জ্যোৎস্নাস্নাত তুষারস্বপ্ন দেওয়ান-ই-খাস, জব্বলপুরের মর্মরশৈল, অজন্তা, ইলোরা। পুজো রইল শিকেয় তোলা, রেলের ডাকের কাছে মায়ের ডাক? বাড়ির পুজো তো উঠেই গেছে বলা চলে, আসর রেখেছে বারোয়ারি। মা এখন সর্বজনের ঘর থেকে মানে মানে বেরিয়ে এসে, সৰ্বজনীন নামে কোন রকমে টিকে আছেন; তবে লৌহদানবের সঙ্গে কম্পিটিশনে এটুকুও বজায় থাকবে কি না বলা যায় না; আরও গোটাকতক স্পেশাল, ডুপ্লিকেট, ভাড়া সম্বন্ধে আরও একটু কনসেশন,—দেখবে, সর্বজনীন বারোয়ারিতলাগুলোও ফাঁকা মাঠ হয়ে গেছে।

    তারাপদ বলিল, তোমার যে পুজোর ওপর অর্থাৎ বাড়িতে প্রতিমার সামনে ব’সে পুজোর ওপর এ রকম গভীর আস্থা, এটা আমার জানা ছিল না।

    শুভেন উত্তর করিল, পুজোর ছুটির ওপর ষোল আনা আস্থা থাকবে আর পুজোটির ওপর থাকবে না, এর আমি মানে বুঝি না। আসল কথা, পুজোর আবেষ্টনীর মধ্যে থেকে আমরা স’রে যাই ব’লেই পুজোর ওপর আস্থা ক’মে আসছে। সেই কথাই আমি বলছিলাম। এই স’রে যাওয়ার সুবিধে ক’রে দিয়েই রেলগাড়ি আমাদের সর্বনাশ সাধন করছে।

    তারাপদ বলিল, শুভেনের নিজের মতেই লৌহদানবে যখন পেরে ওঠা যাবে না, তখন তার কথা থাক। বাকি থাকে পুজো, প্রার্থনা—এই সব। এ সম্বন্ধে কি আমরা সকলেই শুভেনের সঙ্গে একমত?

    শৈলেন বলিল, তোমার মতটা কি শুনি আগে?

     

     

    আমার মত, আমরা বিংশ শতাব্দীর লোক।

    শুভেন টিপ্পনী করিল, বিশ্বমানবতার স্বপ্নবিলাসী! রাধানাথ?

    রাধানাথ ডান হাতের আস্তিন গুটাইয়া উপর-হাতে বাঁধা গোটাকতক মাদুলি মেলিয়া ধরিল, তাহার পর আস্তিনটা আবার যথাপূর্ব নামাইয়া দিয়া টীকাস্বরূপ বলিল, এগুলোকে পুজোও বলতে পার, প্রার্থনাও বলতে পার। অবশ্য সবাই ফলপ্রদা নয়; রূপোরটি— মা শীতলা বাঁচিয়েছিলেন, বাঁচানোয় যে কৃতিত্বও ছিল, তা মুখের দাগগুলো দেখেই বুঝতে পারবে, যমরাজ এই গরিবের প্রাণটুকুর জন্যে কি খোঁড়াখুঁড়িটা লাগিয়েছিলেন। তামারটি— ওলাইচণ্ডী, শাশুড়ির সুপারিশ। কিছু ফল এখনও পাই নি; সম্প্রতি একটা শর্ত পেশ করেছি, যদি আবার এই শীতকালটায় বাতে উপদ্রব না করে তো ষোড়শোপচারে পুজো দিয়ে মাদুলিটা সোনার ক’রে দেবো, দেখি কি হয়! তবে খতিয়ে দেখেছি, মোটের ওপর শতকরা পঞ্চাশটা প্রার্থনা পূর্ণ হয়। জীবনভোর প্রার্থনা ক’রেই কেটে গেল ব’লে কোন্ অলক্ষ্য শক্তির দ্বারা সেগুলো পূর্ণ হয়, সে তত্ত্বের কথাটা অবশ্য ভেবে দেখবার সময় পাই নি। আর একটা মজা দেখি, এটা বোধ হয় মাত্র আমারই জীবনের একটা বিশেষত্ব দেখেছি, সেই শক্তি প্রার্থনাগুলি অল্টার নেট্‌লি মঞ্জুর করেন, একটি তথাস্তু, পরেরটি নৈবচ। অবশ্য ভুল হয়ে যায় তবুও যতটা পারি প্রার্থনাগুলিকে রেগুলেট ক’রে চলবার চেষ্টা করি। যেমন ধর, পূর্ণ হবার পালা জেনে এই সেদিন প্রার্থনা করেছিলাম, মা, অন্তত পাঁচটা টাকাও মাইনে বাড়িয়ে দাও। জানই তো, গত মাস থেকে তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশে উঠেছি। এর পরেরটি মঞ্জুর হবে না, দেবী বোধ হয় বেশি আশকারা দিতে চান না; তাই প্রার্থনা করেছি, মা, যেন শত পুত্র লাভ করি। বেশ পৌরাণিক গোছের প্রার্থনা, কিন্তু ও ধৃতরাষ্ট্রেরই পোষায়, পঁয়ত্রিশ টাকায় তো অতবড় হেঁপা সামলানো যায় না। এ প্রার্থনা মঞ্জুরও হবে না। বেশ নিশ্চিন্দি আছি। এর পরের প্রার্থনা করব, গিন্নীর বাপের বাড়ি থেকে ফিরে আসবার মন হোক, গেছেও অনেক দিন। তার পরের প্রার্থনাটা হবে (শুভেনের পানে চাহিয়া) শুভেনের রেল-দানবকে বিনষ্ট করবার জন্যে।

     

     

    শুভেন রাগতভাবে চাহিতে গিয়া হাসিয়া ফেলিল।

    তারপর বলিল, বাকি রইলে শৈলেন তুমি। এ সম্বন্ধে তোমার বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কথাটা জানতে পারলে মন্দ হ’ত না।

    শৈলেন বলিল, আমায় আপাতত দিন-কতকের জন্যে রেহাই দিলে পারতে, কেন না আমি এখন ওই দুটোর মধ্যে দোল খাচ্ছি, কোন একটা মীমাংসায় পৌঁছতে পারি নি।

    শুভেন বলিল, তবুও বল না শুনি। আরে, সন্দেহ-দোলায় তো আমরা সকলেই দুলছি। মানুষ মাত্রেরই দোলায় আগমন ঘোড়ায় যাত্রা, ছত্রভঙ্গ ক’রে।

    শৈলেন বলিল, আমি তোমার দেবতাও মানি, আবার দেবতা মেনেও তারাপদর বিশ্বমানবতা মানতে বাধা দেখি না; কিন্তু সবচেয়ে স্পষ্টভাবে মানতে হচ্ছে ব্যক্তি-মানবকে অর্থাৎ রাম-শ্যাম-যদুকে, যে দেবতা আর বিশ্বমানব দুইকেই আড়াল ক’রে নিজেকে প্রকট ক’রে দাঁড়িয়েছে। দেবতাও আছেন, বিশ্বমানবও নিতান্ত কবি-কল্পনা নয়; কিন্তু পুজো করতে হ’লে আর সবকে ছেড়ে এই ব্যক্তি-মানবকেই আগে করব। কেননা দেখা গেছে, তাকে সন্তুষ্ট করতে পারলে দেবতার ভোগ থেকেও কেটে দেওয়ার তার ক্ষমতা আছে; অথচ দেবতার ক্ষমতা নেই যে তার কাছে মাথা তোলেন। তোমরা চাইছ নিশ্চয়, কিন্তু অকস্মাৎ সেদিন শিলা-দেবতার পুজো করতে গিয়ে এই মানব-দেবতার পুজো ক’রে ফেলে একটু প্রত্যক্ষ ফল পেয়েছিলাম, সেই থেকে আমার ভক্তিটা একটু যেন এই দিকে ঢলেছে। আমরা পুজো করি বিজেতার (বা বিজেত্রীর)। ধর, ছিন্নমস্তক এবং শূলবিদ্ধ না হয়ে মহিষাসুরই যদি মার বাহুটাতে শিঙ বিঁধে তাঁকে কাবু করতে পারত, পুজোটা কাকে দিতে আজ—তা ভয়েই হোক বা ভক্তিতেই হোক? মহিষাসুর বেশে দেবতার কাছে হেরেছিল যে দানব, সে এখন মানববেশে দেবতাকে দাবিয়ে রেখেছে, নানারূপে পৃথিবী পরিব্যাপ্ত করে। পুজোয় আমি বিশ্বাস করি, কিন্তু পুজোটা দোব আমি কাকে, তাই নিয়ে আমি একটা সমস্যায় পড়েছি, একটু পরিবর্তন ক’রে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, কস্মৈ হবিষা বিধেম—দেবায় দানবায় বা? হবিঃ আমি কাকে দোব? দেবতাকে না দানবকে?

     

     

    রাধানাথ বলিল, শৈলেনের কথাটা নেহাত ফেলবার নয়; পুজো যদি লেগে যায় তো প্রত্যক্ষ ফল দিতে মানুষের মত কেউ নয়, তবে মানুষের হাঁ-টা বেশি বড়, অল্পে মন পাওয়া যায় না। পাশের বাড়িতেই শুনলাম, সুবিনয়ের ঠকুমা সওয়া পাঁচ আনা মানত ক’রে নাতিটিকে মা-কালীর মধ্যস্থতায় ম্যাট্রিক পাস করিয়ে দিয়েছেন, এদিকে ডালিতে সওগাতে আমার প্রায় টাকা দশেক বেরিয়ে গেল, ভাইটিকে নিতে পারবেন কি না—সে উত্তরটি বড়বাবুর কাছে এখন পর্যন্ত পাওয়া গেল না। বোঝ কাণ্ডটা, দশ টাকা আর কোথায় সওয়া পাঁচ আনা, তফাতটা দেখ একবার।

    শৈলেন মুখ হইতে সিগারেটটি সরাইয়া ধোঁয়া ছাড়িয়া বলিল, আমি যাঁর কথা বলছি, তিনি ঠাকুরের চেয়ে পৌনে আটআনার বেশি পুজোতেই তৃপ্ত হলেন, অবশ্য চাকরি দেন নি, কেননা তাঁর হতে চাকরি ছিল না, তবে যা কিছু হাতে ছিল তার মুখ্যাংশ যে আমায় দিয়েছিলেন, এ কথা স্বীকার না করলে অধর্ম হবে।

    তারাপদ কাঁকালে একটা বালিশ টানিয়া লইয়া অর্ধশয়ান হইয়া বলিল, তবে একটু সবিস্তারে বল। এত অল্পেই যিনি কল্পবৃক্ষের কাজ করেন, তাঁর কাহিনী দিয়েই আজ সন্ধ্যাটুকু পবিত্র করে নেওয়া যাক।

     

     

    শৈলেন বলিতে লাগিল, আমি এবার দিল্লি থেকে ফেরবার পথে বৃন্দাবন হয়ে আসি। পৌঁছুলাম সন্ধ্যার সময়। পরের দিন সকালে একটা ট্যাক্সি এনগেজ ক’রে বড় বড় দর্শনীয় যা আছে সব দেখে ফেললাম। রাত দশটায় আমার গাড়ি। ভাবলাম, বিকেলটা তা হলে হেঁটেই দেখে আসি। একটু গলিঘুঁজির ভেতর পর্যন্ত গিয়ে না দেখলে শুধু সাজানো জায়গাগুলো দেখেই কোন একটা স্থান সম্বন্ধে ঠিক মত ধারণা হয় না, যেমন শুধু পোশাকী বেশে এবং পোশাকী কথায় কোন লোকের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় না। গলি-ঘুঁজি ঘোরা ট্যাক্সি কিংবা টাঙ্গার দ্বারা সম্ভব নয়। রোদটা একটু ভাল ভাবে পড়তেই বেরিয়ে পড়লাম এবং এ গলি সে গলি ঘুরতে ঘুরতে সন্ধের সময় একটা অপেক্ষাকৃত ফাঁকা জায়গায় এসে পড়লাম; তিনটে গলি সেখানে মিশেছে, একপাশে খানিকটা খোলা জায়গা, তার পেছনে একটা মাঝারি গোছের মন্দির।

    আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, খোলা জায়গাটাতে একটা পাথরের বেঞ্চের মত ছিল, গিয়ে তার ওপর ব’সে পড়লাম। দৃশ্যের মধ্যে কোন বিচিত্রতা নেই। মন্দিরে কিছু লোক যাওয়া-আসা করছে; সামনে একটি টিউব-ওয়েল; মেয়েরা ঘড়া নিয়ে আসছে, জল ভ’রে মাথায় তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে।

     

     

    তারাপদ বলিল, আশ্চর্য! তবুও তুমি বিচিত্রতার অভাব পেলে? জলভরণ আয়ী ব্রজনারী—

    শৈলেন তারাপদর পানে একটু মৃদু হাসিয়া চাহিল, বলিল, একটা টিপ্পনী যে হবে এ জায়গাটিতে, তা আমি জানতাম; কিন্তু বৈচিত্র্য কই বল? তুমি যে অর্থে বৈচিত্রের কথা বলছ, সে তো দূরের কথা, ওরা যে ব্রজনারী তাই গিয়েছিলাম ভুলে, কেননা টিটেগড় কিংবা নৈহাটির কুলি লাইনের চেয়ে স্থানটা বিশেষ আলাদা ছিল না। ব্রজনারীর সার্থকতা যমুনায়, শ্যামতৃণাস্তীর্ণ পুলিন, তার ওপর লুটিয়ে পড়ছে কালো জলের ঢেউ। তমালশাখায় শিখীর দল, তারা মুরলীর তানে পেখম ধ’রে কেকাধ্বনিতে কালিন্দীর তীর উচ্চকিত ক’রে তুলছে। আসছে ব্রজাঙ্গনার দল, হাস্যেলাস্যে, কৈশোর-যৌবনের শত ভঙ্গিমায় চঞ্চল লহরী তুলে, জলের স্রোতে একটি লীলাচপল রূপের স্রোত মিশতে আসছে। যাদের বঙ্গনারী বলে আমরা জানি, তাদের উদ্দেশ্য তো জল ভরা থাকত না, তাদের উদ্দেশ্য থাকত শুধু যমুনা—প্রেমের তীর্থ যমুনা, কালো জলে, তীরের শ্যামলিমায়, আকাশপ্লাবী সুরের মূর্ছনায় ঢলঢল। জল ভরার জন্য আসা নয়, জল ভরাটা ছিল মাত্র সাধন; আসা হিসাবের সংসার পেছন ফেলে বেহিসাবের নমক্রীড়ায়, কার কলসী গেল ভেসে, কার গেল জলের পূর্ণতায় অতল জলে তলিয়ে, তার হিসেবে রাখা হত না। তার জায়গায় সঙ্কীর্ণ গলির প্রান্তে পায়োনিয়ার ফাউন্ড্রি কিংবা আর্থার ডেভিসন কোম্পানীর নলকূপ। মিউনিসিপ্যালিটি লেজারের আয়ব্যয় কড়াকান্তিতে পর্যন্ত ক’ষে নিয়ে আড়াই ফিট একটি পাকা চত্বর গড়িয়ে দিয়েছে। সেইটুকুতে কলসী আগে বসাবার অধিকার নিয়ে তোমার জলভরণ আয়ীদের মধ্যে থেকে যে সুললিত ব্রজবুলীর বুকনি মাঝে মাঝে নির্গত হচ্ছে, তাতে—রক্ষে যে মন্দিরের দেবতা পাষাণরূপেই রয়েছেন—নবরূপে থাকলেও সঙ্গে সঙ্গে পাষাণ মেরে যেতে হ’ত।

     

     

    শুভেন হাসিয়া বলিল, শৈলেনকে চটিয়েছে তারাপদ।

    তারাপদ বলিল, মাফ চাইছি শৈলেন। অত অল্প একটু উসকে দিতেই যে তোমার মধ্যেকার কবিটি এমন উগ্র হয়ে বেরিয়ে পড়বেন, এমন আশঙ্কা করি নি। গল্প বল।

    শৈলেন বলিয়া চলিল, আমি অলসভাবে এইসব কথা ভাবছিলাম, অতীতের সঙ্গে বর্তমানের এই বিরোধ। সেটা ছিল যুবদেবতার যৌবন অর্থাৎ আতিশয্যের কাল; এটা হচ্ছে যেন বার্ধক্য, এখন জল পরিবেশন করতেও যেন হিসেবে খতিয়ে তার হাত কেঁপে উঠেছে; নলকূপের সঙ্কীর্ণ জলধারা আর তাই নিয়ে এই কলহ দেখে-শুনে আমার এই কথা মনে হচ্ছিল। সন্ধ্যা গাঢ় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জলের কলের লোক ক’মে এল এবং মন্দিরে দু- একটি করে পূজকের সংখ্যা বেড়ে উঠতে লাগল। তারপর হঠাৎ একসময় কাঁসর ঘণ্টা বেজে উঠল। দেখলাম আরতি শুরু হয়েছে। উঠে গিয়ে একপাশটিতে দাঁড়ালাম।

    হিন্দু হ’লেও স্বীকার করবে, হিন্দুদের পূজা-অনুষ্ঠান জাতিগত সৌন্দর্যজ্ঞানের একটা চমৎকার নিদর্শন, তার মধ্যেও আরতি জিনিসটি সৌন্দর্যের একেবারে চরমোৎকর্ষ, সময় হিসেবে, আবার চারুশিল্প হিসেবেও, যদি পুজোর একটা অঙ্গকে চারুশিল্প বলতে আপত্তি না কর।

     

     

    আরতি শেষ হ’লে পেছনকার লোকেরা এক-একটা প্রণাম ক’রে ধীরে ধীরে চ’লে গেল। খালি পেয়ে আমি সামনে এগিয়ে গেলাম। মথুরা-বৃন্দাবনের অধিকাংশ মূর্তির মত এও দেখলাম রাধাশ্যামের যুগল মূর্তি। আগন্তুকদের যারা বাকি রইল, তারা স্বভাবতই একটু বেশি ধর্মপ্রবণ বুঝতেই পার, না হ’লে বাইরের দিকে দাঁড়িয়েই এক-একটা প্রণাম ঠুকে খ’সে পড়তে পারত। তারা প্রায় সবাই স্ফুট বা অস্ফুট স্বরে দু-একটা ক’রে স্তব আওড়ালে, তারপর সাড়ম্বরে আবার প্রণাম করে প্রায় সকলেই একটি ক’রে পয়সা বেদীতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে দু-একজন ক’রে চ’লে যেতে লাগল।

    আমি একটু ফাঁপরে পড়লাম। একটিও স্তব জানা নেই, অথচ এসে দাঁড়িয়েছি একেবারে মূর্তির সামনে। এতক্ষণ মনের মধ্যে যে অপরিসীম একটি তৃপ্তি অনুভব করছিলাম, যা সত্যিকার পুজো, সেটা কোথায় গেল, আর সন্ধান পেলাম না। দেবতা কি ভাবছেন বলা যায় না, তবে দেখলাম, কয়েকজন মানুষ যেন আমায় দেখে একটা দুর্বোধ্য সমস্যায় প’ড়ে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে, ভাবটা যেন—এ আবার কি জীব, মন্দিরে আসে, অথচ স্তব জানে না! এই সমস্যাপীড়িতদের মধ্যে একজন মন্দিরের পুরোহিত, পাণ্ডা বা অন্য সহকারী। সে লোকটা মূর্তি থেকে একটু দূরে দুই হাঁটুতে ভর করে কোমর মুড়ে দাঁড়িয়েছিল। লোকটাকে আমার মোটেই ভাল লাগছিল না, কেমন একটা হিসাবকুটিল তীক্ষ্ণ দৃষ্টির মূর্তির দিকে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে, মনে হচ্ছে, যেন অব্যর্থ দৃষ্টিতে প্রণামী পয়সাগুলোর হিসেব কষে যাচ্ছে, বোধ হয় পরে ভাগাভাগিতে ইতরবিশেষ না হয় সেই জন্যে। সঙ্গে সঙ্গে আবার আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টি নিক্ষেপ করছিল,—যদি ঠিক বুঝে থাকি তো তাতে শ্লোক না জানার জন্যে কৌতূহল ছিল শ্লোক না জেনে মন্দিরে এতদূর এগিয়ে আসার জন্যে বিদ্বেষ ছিল এবং সেই শ্লোক না জানার অপরাধটার জন্যে ভাল রকম প্রণামী দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করছি, কি না করছি, সেই নিয়ে একটু লুব্ধ উদ্বেগ ছিল। আর সবাই যারা আমার অজ্ঞতায় কৌতূহল অনুভব করছিল, তাদের অগ্রাহ্য করলাম, কিন্তু এর দৃষ্টির সামনে আমি কোনমতেই নিজের অন্তরে শুদ্ধিটাকে ধ’রে রাখতে পারলাম না। একটু পরে যেন ধ্যান করছি এই ভাবে, অর্ধস্তিমিত নেত্রে আস্তে আস্তে শুরু করে বেশ দ্রুতভাবেই ঠোঁট নাড়তে লেগে গেলাম। তোমরা শুনে নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট হ’লে না, দেবতাও নিশ্চয় সেদিন ওই মেকী ঠোঁট-নাড়ায় সন্তুষ্ট হন নি; কিন্তু তখন ভাবগ্রাহী দেবতা তো আমার কাছে সত্য নয়, সত্য ছিল দুটি সন্ধানী দৃষ্টির বিষাক্ত তীক্ষ্ণ চাহনি। তাকেই নরম করবার জন্যে আমার সমস্ত সত্তা উঠে পড়ে লেগেছিল, কথাটা তোমার প্রিয় সাইকলজি-সম্মত তারাপদ। হাসছ বটে, কিন্তু নিতান্ত হেসে উড়িয়ে দেবার মত নয়।

     

     

    তারাপদ বলিল, হেসে ওড়াবার জন্যে হাসছি না, তোমার তৎকালিক অবস্থাটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে, স্পষ্ট যেন দেখতে পাচ্ছি, দুটো উগ্র চোখের সামনে পরিত্রাহি ঠোঁট নেড়ে যাচ্ছ, তাই—

    শৈলেন বলিল, তোমার কল্পনা আছে, কিন্তু সহানুভূতি নেই, নইলে আমার অবস্থাটা চোখের সামনে ভেসে উঠলে চোখ দুটো অশ্রুতে ভেসে যাওয়ার কথা। যাক, অনভ্যাসের দরুন ঠোঁট যখন প্রায় আড়ষ্ট হয়ে এসেছে, একবার আড়চোখে চেয়ে দেখলাম। দেখি, কোন ভাবান্তর নেই, কিংবা যদি ভাবান্তর ছিলই তো বরং আরো উগ্রতার দিকে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে সে আমার স্ফূরিত অধরোষ্ঠের সব ফাঁকই যখন ধ’রে ফেলেছে। সেই দৃষ্টির মধ্যে ছিল একটা হিংস্র উল্লাস—যেন একটা আশা, এইবার দুর্বলতাকে কেন্দ্র ক’রে মোটারকম ঘুষ আদায় করতে পারবে। পাণ্ডাজাতীয় লোকদের মধ্যে তুমি এই জিনিসটা আকছারই দেখতে পাবে। পাণ্ডা হচ্ছে ধর্মের খেয়ার আমাদের পারানি, কিন্তু ধর্মসম্বন্ধীয় আমাদের কোন ত্রুটি- বিচ্যুতি বা দুর্বলতায় ওরা মোটেই দুঃখিত নয়, কেননা এই ত্রুটি-বিচ্যুতিই ওদের উপজীবিকা। কথাটা বড় অদ্ভুত নয়? কিন্তু বড় সত্য। তুমি যত পাপ করবে, তত বড় তোমার প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা, তত বড় মোটা কাঞ্চনমূল্য পুরুতঠাকুর বা পাণ্ডার ট্যাকে গিয়ে উঠবে, তার দুঃখ করবার ফুরসত কোথায় বল?

     

     

    অত্যন্ত অস্বস্তি বোধ হতে লাগল। বলবে বোধ হয়, মন্দির ত্যাগ করে আসছিলাম না কেন? তার দুটো কারণ ছিল, প্রথমত তো চ’লে আসতে পা উঠছিল না, যেন আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল; আর দ্বিতীয়ত-পা যদি কোন রকমে উঠতও, চলে আসতে সাহস হচ্ছিল না। না হবার কারণ, পেটে যেমন একটাও শ্লোক ছিল না, পকেটে তেমনই একটাও পয়সা ছিল না যে প্রণামী দিয়ে স’রে পড়ি। স্তব আর পয়সা দুদিক দিয়েই ফাঁকি দিয়ে এদের সামনে দিয়ে চ’লে আসবার যে দারুণ লজ্জা আর অস্বস্তি, তার আমি সম্মুখীন হয়ে উঠতে পারছিলাম না। আমি একটা ফাঁকতালের অপেক্ষা করছিলাম। অন্যান্য কৌতূহলীরা একে একে যাচ্ছে, পাণ্ডাঠাকুরের একটু সুমতি হ’লেই স’রে পড়ব। ততক্ষণ ঠোঁট যেমন নড়ছে নড়ুক।

    হাসিও পায়; এসেছি দেব-মন্দিরে, কিন্তু আমার দ্রুত পরিবর্তনটা লক্ষ্য কর। দেবতাকে তো আর সেখানে থাকতে দেয় নি ওরা। তা হ’লে নিশ্চয় করুণাপরবশ হয়ে তিনি আমায় বাঁচাতেন।

    ঠিক কথা, পকেটে পয়সা ছিল না বটে, একটা আধুলি ছিল। কিন্তু গোটা একটা আধুলি তো প্রণামী দেওয়া যায় না, বিশেষ ক’রে প্রণামী যখন ঠাকুরকেই দেওয়া হচ্ছে না, ভাঙাবারও কোন অন্য উপায় নেই। ঠোঁট নাড়ার নেপথ্যে, কি যে করব মনে মনে ভাবছি, হঠাৎ স্মরণ হ’ল, ব্যাগে একটা অচল পয়সা আছে; অচল মানে সেটা মোগল আমলের কিংবা ওই রকম কোন সময়ের পয়সা। এবারে দিল্লিতে সংগ্রহ করি। ছাপ-টাপগুলো বেশ আছে। যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল।

     

     

    চামড়ার ব্যাগ মন্দিরে বের করা যাবে না, আস্তে আস্তে পকেটে হাত পুরে দিলাম, সন্তর্পণে বোতাম টিপে পকেটের ভেতরেই ব্যাগটা খুললাম। উদ্বেগে হাতটা কাঁপছিল, কম্পিত আঙুলেই মুদ্রা দুটোকে অনুভব ক’রে একটা ধরলাম। বের করতে গিয়ে একবার প’ড়ে গিয়ে ব্যাগের কোণে স’রে গেল। সিগারেটের পাইপ, ডাক-টিকিট প্রভৃতির মাঝ থেকে আবার তাকে উদ্ধার ক’রে মুঠোয় নিয়ে বের করলাম এবং মূর্তির পায়ের কাছে ফুলের গাদার ওপর ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। কাজটা একা আমার হাতই সারলে, কেন না আমার দৃষ্টি এদিকে বরাবরই পাণ্ডাঠাকুরের দিকে ছিল; স্তব জানি আর নাই জানি, এদিকে আমার ভক্তি যে মূল্য হিসেবে আর সবার সঙ্গেই সমান, সেদিকে যে আমি দেব-মূর্তিকে ফাঁকি দিচ্ছি না, সেটা জানার বিশেষ সতর্কতা ছিল। তারপর প্রণাম ক’রে বেরিয়ে এলাম।

    .

    কথাটা শুনতে কেমন কেমন লাগে বটে, কিন্তু মন্দির থেকে বেরুতেই বাইরের হাওয়া লেগে কপালটা যেন জুড়িয়ে গেল।

     

     

    বাইরে একটু রক, তাই থেকে একটা সিঁড়ি নেমে গেছে। কয়েকজন স্ত্রীলোককে উঠতে দেখে আমি এক পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়েছি, এমন সময় পেছন থেকে রুক্ষ গলাটাকে সাধ্যমত মোলায়েম করে কে একজন ডাকলে, বাবুজী!

    ফিরে দেখি সেই পাণ্ডা। অথচ পয়সা চালাবার অপরাধে মন দুর্বল হয়েই ছিল, বুকটা যেন ধড়াস করে উঠল। যথাসাধ্য মনের ভাবটা সামলে নিয়ে শুষ্ক কণ্ঠে উত্তর করলাম, কেয়া মহারাজ? সঙ্গে সঙ্গে তার মহারাজত্বটাকে আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে যুক্তকর মাথায় ঠেকিয়ে বললাম, দণ্ডবৎ হই। বিদেশ-বিভূঁই, একা মানুষ বুঝতেই তো পারছো অবস্থাটা।

    পাণ্ডাজী বললেন, আপকো জরা ভিতর আনে পড়েগা, বড়া পাণ্ডাজীকা ঘরমে।

    আত্মারাম খাঁচা ছাড়বার উপক্রম করছে। বললাম, যেতাম, বড় মহারাজের সঙ্গ লাভ—সে তো মহাভাগ্য, পরম কাম্য জিনিস; কিন্তু আমায় এক্ষুনি বাসায় ফিরতে হবে।

    পাণ্ডাজী একটু গূঢ় মৃদু হাস্যের সঙ্গে ডাইনে ও বাঁয়ে মাথা নাড়লেন, শেষে বললেন, রাধাস্বামী নারাজ হোয়গা বাবুজী, ছোড় নেহি সকতে।

    সর্বনাশ! আবার রাধাস্বামীকেও জড়িয়েছে। ছাড়বে তো নাই, তবু একবার শেষ চেষ্টা করা। বললাম, না ছাড় মহারাজ, যেতেই হবে; কিন্তু ছেড়ে দিলেই ভাল করতে। বাসায় একগুষ্টি মেয়েছেলে, চারজন অসুখে পড়েছে, নেহাত রাধারমণকে না দেখলে প্রাণ আইঢাই করে, সেইজন্যে কোন রকমে একবার আসা।

    ভেতর থেকে একজন গলা বাড়িয়ে হাঁক দিলে, লে আয়া বাবুকো মথরা-পরসাদ?

    তাঁর চেহারা নজরে পড়ল না, কিন্তু আওয়াজ শুনে যা ধারণা হ’ল, তাতে আমি একেবারেই হাল ছেড়ে দিলাম। অবসন্ন কণ্ঠে বললাম, চল তা হ’লে!

    দু পা এগিয়ে মনে হ’ল, অদৃষ্টে যা আছে সে তো ফলবেই, তবু আগে থেকে সাফাই গেয়ে রাখা ভাল। বললাম, পাণ্ডাজী মহারাজ, ওই প্রণামীটা যা দিয়েছি নেহাত নিরুপায় হয়েই, না হ’লে ও কি আর জেনেশুনে কেউ রাধাস্বামীর শ্রীপাদপদ্মে দিতে পারে? ওঁর কাছে তো সবাই সমান, মোগল রাজাই বল আর ইংরেজ বল আর গর্ভমেন্টই বল। শুভেন, তোমার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, যেন ভয়ানক উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছ!

    শুভেন বলিল, তোমায় ফাঁসিতে ঝোলাতে নিয়ে যাচ্ছে, উৎকণ্ঠিত হব না? বন্ধুবিচ্ছেদের কষ্ট।

    শৈলেন বলিল, কষ্টের বদলে এবার হিংসে হবে। বধ্যভূমিতে নিয়ে গিয়ে ফাঁসির বদলে যদি গলায় পুষ্পমাল্য তুলে দেয় তো—

    তিনজনেই একসঙ্গে বলিয়া উঠিল, মানে?

    শৈলেন বলিতে লাগিল, দেবতার বেদী থেকে একটু দূরে একপাশে একটা ছোট ঘর। মূর্তির সামনে আসতেই বড় পাণ্ডাজী সেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসে, ‘আইয়ে বাবুজী’ ব’লে দু হাত বাড়িয়ে আমায় আমন্ত্রণ করলেন এবং দু-একবার এদিক ওদিক চেয়ে আমি কিছু ভাববার বোঝবার পূর্বে শ্রীকৃষ্ণের হাত থেকে মালাটি নিয়ে আমার গলায় পরিয়ে দিয়ে বললেন, বৈঠিয়ে।

    মেঝেতে নয়, একটি নির্দিষ্ট আসনে বসলাম। তিনিও আমার সামনে বসলেন। ভুঁড়িটি পায়ের অনেকখানি ঢেকে ফেলেছে, মুখে প্রসন্ন হাসি, পায়ের তেলোয় হাত বুলাতে বুলোতে দুলে দুলে বাংলা-হিন্দি মিশিয়ে বললেন, ভক্তি তো আজকাল বড় দেখা যায় না বাবুজী, তাই খাঁটি ভক্ত দেখলেই বড় আনন্দ হয়। অরে, চন্নামৃৎ দেও বাবুজীকে মথরা, আওর ভোগকা পরসাদি; উঠো, লে আও।

    মথুরাপ্রসাদ একটু বিমূঢ়ভাবে বড় পাণ্ডাজীর মুখের দিকে চেয়ে রইল—যেন কিছু বলতে চায়, অথচ আমার সামনে বলা সমীচীন হবে কি না বুঝে উঠতে পারছে না। বড় মহারাজ হেসে বললেন, আরে, রাতহিকা পরসাদিসে লে আও দো-চার পেঁড়ে, দো পত্তি তুলসী ডাল দেও।

    বুঝলাম, সন্ধ্যের প্রসাদ ইতিমধ্যে কাবার করেছে এরা। রাত্রের ভোগের জন্যে রাখা মিষ্টি থেকে কিছু বের ক’রে, দুটো তুলসীপাতা ফেলে দিয়ে আমায় খুশি করতে চায়। ভেতরে ভেতরে শিউরে উঠলাম; আপত্তিও করলাম মৃদু গোছের। জোর আপত্তি করবার শক্তি ছিল না বা ক্রমেই লোপ পাচ্ছিল, সব দেখেশুনে আমি ক্রমেই অভিভূত হয়ে পড়ছিলাম।

    বড় মহারাজ বিস্মিত হয়ে বললেন, আরে, দোষ কি আছে? ভগবান তো ভক্তের মুখ থেকেই আহার লেন। আগে ভক্ত তব্ ভগবান, আগে সুদামা তব্ কিষুণজী, আগে তুলসী তর্—আরে, তু খড়া কেঁও রহে মথরা, যাও। ভক্তি বোলো আর বিশোয়াস বোলো বাবুজী—এক খালি বাঙ্গালিয়নমে হ্যায়, ব্যস্। আমি তো দূর থেকে ব’সে দেখছিলাম বাবুজী, কেতো লোক আসছে, কেতো যাচ্ছে, লেকিন চেহরে পর ভক্তি কাঁহা?

    বিমূঢ় হয়ে গেছি; এর পরিণাম কোথায়? ঠাট্টা করছে নাকি?

    মথুরাপ্রসাদ প্যাড়া আর চিনি ভরা একটি মাঝারি গোছের সরা সামনে বসিয়ে কুষি ক’রে হাতে চরণামৃত দিলে, তারপর সামনে মেঝের ওপর বসে চোখ পাকিয়ে পাকিয়ে হাত নেড়ে বললে, ঐ তো মুগ্ধ বনে ওহি দেখ রহা থা, আঁখ আঁধা মুনে হুয়ে ক্যা ধ্যানকা ভার! মানো কে শিবজী রাধাশ্যামকা ধ্যান কর রহে হ্যাঁয়—ব্যস্–সিফ ওঁঠ (ঠোট) জরা জরা হিপ রহা হ্যাঁয়। কহা তো—মুগ্ধ বনে ওহি দেখ রহা থা।

    মন্দিরে তখন লোক যাওয়া-আসা করছে, কেউ দিচ্ছে একটি পয়সা, কেউ দিচ্ছে না; প্রণামী দেওয়ার মত হাত চললেই দুজনের নজর কথাবার্তার মধ্যেও সেই দিকে গিয়ে পড়ছে। আমি এই বিশিষ্ট রকম আপ্যায়নে লজ্জিত যে না হয়ে উঠেছিলাম এমন নয়; কিন্তু জানই তো, সব বিশিষ্টতা অর্জনের মধ্যে একটা মাদকতা আছে। আমি চারিদিকের অনাদৃতদের মধ্যে এই আদর-অভ্যর্থনায় অসন্তুষ্ট হচ্ছিলাম না, যদিও এত বড় অন্যায় ব্যাপারটা দেবমন্দিরেই হচ্ছিল। আমি শুধু আশ্চর্য হচ্ছিলাম, কি এমন ব্যাপার ঘটেছে, যার জন্য এই একটু আগে যার বা যাদের দৃষ্টি আমায় স্ফুর বিদ্বেষে বিঁধছিল, তাদের কাছে আমি এত বড় ভক্ত হয়ে গেলাম যে, আমার সুস্পষ্ট প্রবঞ্চনাকে ওরা শিবের ধ্যানের সঙ্গে তুলনা করতেও পেছপা হল না। বাঙালি বলে? বৃন্দাবনে বাঙালি তো কম নয়, এবং আমার সামনেই আরও দু-একজনকে প্রণাম করে যেতে দেখলাম। তবে?

    আরও খানিকটা সময় গেল। সময়টুকু পাণ্ডাজী ভক্তিত্ব সম্বন্ধে গভীর উপদেশ দিয়ে ভরিয়ে দিলেন—দেবতার ওপর ভক্তি এবং দেবসেবকের ওপর, কারণ ওঁর থিয়োরি অনুযায়ী আগে দাস, তবে দেবতা, সামনের খুরিতে তার নজিরও উপস্থিত। আমিও বিধিমত নীচুর দিক থেকে আরম্ভ করলাম এবং শেষ পর্যন্ত দেবসেবককে ভক্তিরসে এতটা দ্রব করে ফেললাম যে, তিনি আমার ঘাড়ে আর একটি প্যাড়ার খুরি না চাপিয়ে ছাড়লেন না। সঙ্গে সঙ্গে কিছু নির্মাল্য, এবং উপঢৌকন হিসাবে একটি রাধাকৃষ্ণের পিতলের ছাপ পর্যন্ত। বলাবাহুল্য বাসার ঠিকানা আর দেশের বাড়ির ঠিকানা না নিয়ে ছাড়লেন না, অবশ্য যে বাসার ঠিকানা আর দেশের বাড়ির ঠিকানা তিনি পেলেন তা বৃন্দাবন চষে ফেললেও খুঁজে পেতেন না, কেন না গলির নাম আর বাড়ির নম্বর দুটোই দিল্লি থেকে ধার করা; আর দেশের ঠিকানা ধরে গেলে তাঁকে ভবানীপুরে আমার কাছে না পৌঁছে বরিশালে সুলোচন দত্ত চৌধুরীর কাছে পৌঁছতে হত। লোকটা নেহাত কাল্পনিক চরিত্র নয়, আমার কিছু টাকা মেরে এখন দেশে গিয়ে দোকান ফেঁদেছে। ঘাড়ে গোটা দুয়েক পাণ্ডা চাপলে আমার আনন্দ হবার কথা।

    শৈলেন বালিশে হেলান দিয়ে নূতন একটা সিগারেট ধরাইবার আয়োজন করিতে লাগিল। তিনজন উৎসুক ভাবে খানিকটা অপেক্ষা করিল, তাহার পর তারাপদ বলিল, কি হে, তোমার কাহিনী শেষ হয়ে গেল নাকি? অন্যদের তুলনায় কেন যে হঠাৎ অত খাতির, সে কথা বললে না তো?

    শৈলেন বলিল, সে তো আগেই বলেছি, ধরতে পারলে না বুঝি? অন্যদের পুজোর সঙ্গে আমার পুজোর পৌনে আট আনা পার্থক্য ছিল। সেটা টের পেলাম বাসার কাছে এসে টাংগা থেকে নেমে। বেশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। ব্যাগ থেকে আধুলিটা বের ক’রে টাংগাওয়ালার হাতে দিয়ে বললাম, তিন আনা পয়সা ফেরত দে।

    টাংগাওয়ালা ঝুঁকে হাতের তেলোর উপর মুদ্রাটা দেখলে, তারপর বিস্ময় এবং বিরক্তির স্বরে বলে উঠল, বাবুজী, তরি করতে হ্যাঁয়?

    বললাম, সে কি, ঠাট্টা করব কেন রে?

    সে বললে, দেখিয়ে তো কেয়া দিয়া!

    মথুরা-বৃন্দাবনের টাংগাওয়ালা, ওর মুহূর্তের মধ্যে একটা আধুলি বদলে ফেলে হাঙ্গামা বাধানো কিছুই নয়, গোড়া থেকেই কড়া ভাব দেখিয়ে শুরু করতে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ কি মনে করে থেমে গেলাম; পকেট থেকে দেশলাই বের করে জ্বালাতেই দেখি—সত্যিই আধুলি নয়, একটা পয়সা।

    শুভেন কপালে চোখ তুলে বলে উঠল, বারে! ওইটুকুর মধ্যেই ব্যাটা আধুলিটা বদলে পয়সায়—

    শৈলেন ঠোটের কোণে সিগারেটটা চাপিয়া বলিল, এবং আমার সেই মোগল আমলের পয়সাটাই। মন্দিরের যত ভেল্কি সেই আধুলিটা করিয়েছে, আমার অজ্ঞাতে আমার হাত থেকে বেরিয়ে গিয়ে।

    কিন্তু সে কথা থাক; কথা হচ্ছে, সেদিন দেব-মন্দিরে মানবই আমার দেবতাকে আড়াল ক’রে দাঁড়িয়ে ছিল দানববেশে, তার বিভীষিকা, তার কদর্যতা দিয়ে। দেবতাকে টেনে নামিয়ে সামান্য একটা রূপোর টুকরো তাঁর বেদীতে বসিয়েছিল, দেবতা প্রতিরোধ করতে পারেন নি। ব্যাপারটা বোধ হয় সামান্য; কিন্তু মনে রাখতে হবে, তারকেশ্বরে, গয়ায় যে কাণ্ড হয়ে গেল, এ তারই সগোত্র। কিন্তু আমার বক্তব্য এই যে, সেই দানব যদি অন্যদের চেয়ে পৌনে আট আনা বেশি দক্ষিণাতেই সন্তুষ্ট হয়ে দেবতার হাতের একটি মালা, এমন কি দেবতার ভোগের সামগ্রী পর্যন্ত আমার হাতে তুলে দিতে পারে তো আমি তাকে ঠেলে আর কার পুজো করব, কে আমার পুজোর যোগ্য অধিকারী? তোমরা দেবতার কথা, পুজোর কথা তুলেছিলে; কিন্তু ধর্ম, সমাজ, রাষ্ট্র—সর্বত্রই দেবতাকে পেছনে ফেলে এই দানবই বিজয়ী বীরের মত এগিয়ে দাঁড়াচ্ছে, পুজো করলে প্রত্যক্ষ ফল হাতে তুলে দিচ্ছে, তাই আমি এ প্রশ্নের উত্তর চাই। সম্ভবামি যুগে যুগে, কিন্তু আর কবে? শুষ্ক সান্ত্বনার কথাটি আঁকড়ে আর কত দিন লোকে বিশ্বাসের বাতিটুকু জ্বেলে রাখবে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)
    Next Article রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }