Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আশা

    ভবানীপুরে, যেখানে বেগমত্ত বিক্ষুব্ধ কলকাতা নিজেকে ভুলে একটু নিরিবিলিতে অলসতার আমেজে গা ঢেলে পড়ে আছে। এখানে তার কাজ নেই মোটেই। আর চিন্তা? হ্যাঁ, তা একটু আছে বটে; তবে তার সমস্তটাই অকাজের। সে যেন বিশ্বকর্মার কারখানা পলাতক মজুর, এখানে তার গোপন সখী প্রকৃতির সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যত সব অ-দরকারের আলোচনায় লেগে গেছে।

    রোগের পর আরোগ্যের অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে এখানে এসে একটি বাড়ি ভাড়া করে আছি। ডাক্তার-বন্ধু বললেন, ভবানীপুরেই চল; সেখানে আলো-বাতাস সহজেই পাবে, যা তোমার এখন দরকার। ওখানে আকাশের নীল আর পৃথিবীর সবুজের রঙ-করা ছোট ছোট বাড়িগুলো প্রকৃতির আলোবাতাসের স্পর্শ যেন অযাচিত ভাবেই পায়, নতুন শিশু যেমন মায়ের সোহাগ পায় আর কি। তোমার কলকাতার মত নয় এখানে ধেড়ে ধেড়ে উৎকট বাড়িগুলা পাকা বিষয়ী ছেলেদের মত সেই আলোবাতাস নিয়ে কাড়াকাড়ি ভাগাভাগি লাগিয়ে গিয়েছে। ওরা ও দুটোকে সম্পত্তি বলে টের পেয়েছে কি না, আর রক্ষে আছে!

    বাড়ি নিয়েছি শ্রীনিবাস রোডে। ঠিক রোড নয়, তবে গলিও নয় একেবারে। লাল সুরকির রাস্তা নিজের ইচ্ছামত এঁকেবেঁকে গেছে, জিওমেট্রির কোনও কড়া আইনের গোলাম নয়। ফুটপাথ আছে কি না আছে, অর্থাৎ পথিকদের মধ্যে গতির উগ্রতা কি লঘুতা নিয়ে যে বিরোধ এবং তার চুক্তি, এখানে তার কোন নিশানা নেই। মোটেরই হোক, গাড়িতেই হোক, কিংবা পায়ে হেঁটেই হোক, সবাই নিরুদ্বেগ গতিতে নিজের কাজে-অকাজে ওই লাল রাস্তাটুকু দিয়েই যাতায়াত করে। ফুটপাথ যেখানে আছে বা ঘাসে ভরা, যেন অবসরের তৃপ্তি।

    বিশ্বকর্মার কারখানার পেয়াদা তার লোক-লস্কর নিয়ে পলাতক মজুরের সন্ধানে ভবানীপুরে প্রবেশ করেছে বটে রসা রোড দিয়ে; কিন্তু এদিকটা খুব তফাতে আছে; তার তাগিদের কর্কশ হুঙ্কার এখানে মোটেই পৌঁছয় না।

    বাড়িটা দোতলা। ওপরে ছোট-বড় দুটি ঘর, ডাক্তারে আমাতে পাশাপাশি থাকি। দিনটা প্রায় একলাই কাটে, ডাক্তার যান ‘কলে’। একদিন বললেন, তুমি সমস্ত দিন বড় নিঃসঙ্গ থাক, হাতের কেসগুলো গেলে আর নিচ্ছি না।

    বললাম, না, এই চলতি পসারের সময় ছেলেমানুষি নয়। আমি খাসা আছি। এই ছোট্ট পল্লীটিতে অল্পস্বল্প যা কিছুই পাচ্ছি, সেটুকুর মধ্যেই বেশ একটু পরিপূর্ণতা আছে। সুতরাং তুমি নিশ্চিন্ত থাক।

     

    আরও দেখুন
    কখনো আসেনি
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি সরঞ্জাম
    বাংলা উপন্যাস
    ই-বই
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    PDF
    Library
    লেখকের বই
    বাঁশি
    অনলাইনে ই-বই

     

    দুপুরে যখন চারিদিকে চুপচাপ, আমি দিব্যি গা এলিয়ে পড়ে থাকি। স্তব্ধ প্রকৃতি তার অপলক দৃষ্টি আমার নিশ্চেষ্ট চোখ দুটির ওপর ফেলে রাখে, ভাবের ব্যাকুলতায় সে যে কি গভীর! কোন মূক নারীকে একঠায় আবিষ্ট হয়ে ব’সে থাকতে দেখেছ কখনও? তা হ’লে অনেকটা বুঝতে পারবে।

    দুপুরে যায়। বিকেলে পল্লীটাতে যখন একটু সজীবতা ফিরে আসে আমার মনটা পশ্চিম দিকের প’ড়ো জমিটার ওধারে ওই বাড়িটায় গিয়ে গুটিয়ে বসে। ওটি যেন ভবানীপুরের মধ্যেও ভবানীপুর। এসে পর্যন্ত ওর একটা স্বর শুনেছ? দোর-জানালা বন্ধ করে নিজের স্নিগ্ধতার মধ্যে ডুবে রয়েছে। আমি ওটির ভক্ত হয়ে পড়েছি।

    বন্ধু হেসে বললেন, ভক্তি তোমার উড়ে যায়, যদি বাড়িটার সম্বন্ধে আমাদের মালীর মতামতটা শোন।

    জিজ্ঞাসা করলাম, কি রকম?

    মালীর মতে ওটা এই পাঁচ-ছ বছর থেকে ‘তানাদের নীলেভূমি’ হয়ে রয়েছে। সহজ মানুষ ওখানে আমল পায় না। তানাদের মানে, তোমাদের শুদ্ধ ভাষায় যাদের বল অশরীরী আত্মা তাঁদের, গঞ্জিকার ধুমে যাঁদের জন্ম আর কি। তারপর? দুপুর হ’ল, বিকেল হ’ল—

     

    আরও দেখুন
    বই পড়ুন
    অনলাইন বুক
    নতুন বই
    বাংলা অডিওবুক
    বইয়ের
    বাংলা বই প্রকাশনা
    বাংলা ফন্ট সফ্টওয়্যার
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    অনলাইনে ই-বই

     

    অন্যমনস্কভাবে বললাম, হানাবাড়ি? যাক, সন্ধের একটু পরে দুটি স্বরের লহরী ওঠে—দূরের ওই বাড়িটাতে একটি মেয়ে গান করে, আর দক্ষিণের ওই হলদে বাড়িটাতে কে ক্ল্যারিওনেট শেখে। তুমি হাসলে বটে, কিন্তু এ নিস্তব্ধতার পটভূমিতে সেই সুরের ছন্দ আর বেসুরে তাণ্ডব মিলে যে কি একটা মায়া রচনা করে, তা যদি তোমায় বোঝাতে পারতাম—

    বন্ধু ভীতির অভিনয় করে বললেন, একটা জিনিস বুঝেছি, সেটা এই যে, তোমায় একলা ফেলে রাখা আর মোটেই নিরাপদ হচ্ছে না। তোমার কবিতার খাতাটা সঙ্গে আন নি তো?

    বললাম, আনলে ‘বিষ’ বলে একটা লেবেল সেঁটে দিতে, এই তো? কথাটা বলে কিন্তু আমাদের এ দেশটার প্রতি বড় অবিচার করলে ডাক্তার। আমার তো মনে হয়, এ দেশের বর্ণ, স্বর, আলো, বাতাস—এসবের মধ্যে এমন একটা কি আছে, যাতে কবি না হয়েই পারা যায় না। অত কথা কি, এ দেশের চিকিৎসকরাও হতেন কবি; শুধু কবি নন—কবিরাজ। তার মানে, তাঁদের শিক্ষা এই প্রকৃতির সঙ্গে তাঁদের একটা নিগূঢ় যোগ ঘটিয়ে দিত। মানুষের প্রাণশক্তিকে সমৃদ্ধ করবার তাঁদের যে প্রচেষ্টা, তা তাঁদের প্রকৃতির মহাপ্রাণের সঙ্গে পরিচিত করে দিত, যে মহাপ্রাণের বিকাশ দেখি, স্বরে, স্তব্ধতায়, আলোয়, আঁধারে; আর জীবে উদ্ভিদে তো বটেই। তাঁরা হতেন ধ্যানী, না হয়ে উপায় ছিল না। প্রকৃতির সঙ্গে তাঁদের সম্বন্ধটা ছিল মৈত্রীর। আর তোমাদের শিক্ষাদীক্ষা কাণ্ডকারখানা সব উল্টো। প্রকৃতির প্রতি তোমাদের ভাবটা সশ্রদ্ধ নয়; ছুরি, কাঁচি, ফর্ক, কাঁটা প্রভৃতি যন্ত্রপাতি নিয়ে

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার
    বাংলা বইয়ের প্রতিযোগিতা
    কখনো আসেনি
    বাংলা বই প্রকাশনা
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    Books
    পিডিএফ বই
    উপন্যাস পড়ুন
    অনলাইনে ই-বই
    নতুন উপন্যাস

     

    বন্ধু হেসে হাতজোড় করে বললেন, হয়েছে, এবার শরসংহার কর।

    হেসে চুপ করলাম। একটু ভাবের ঘোরে পড়ে গিয়েছিলাম বটে, তার কারণ এ জায়গাটা আমার লাগছে বড়ই সুন্দর। শুধু কি এ জায়গাটাই? নিজের কাছে নিজেকেও আজকাল বড় মনোরম বলে বোধ হয়। মনে হয়, আমার নবীভূত প্রাণ যেন ধমনীতে ধমনীতে সঞ্চারিত হয়ে সমস্ত বাহু দিয়ে আমায় জড়িয়ে ধরেছে, আমার প্রতি অনুপরমাণুতে তার উষ্ণ আলিঙ্গন অনুভব করি।

    এক এক সময় মনে হয় হঠাৎ যেন একটা কূলভাঙা ঢেউ উঠল। আমার প্রাণ তো আর আমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ওই ছুটল ও—সমস্ত জগৎটাকে স্রোতের টানে নাইয়ে ছুটল, ওই আলোর মত ঝাঁপিয়ে পড়ে কি এক নূতন বর্ণের সুষমা সৃষ্টি করতে করতে ছুটল, জগতের স্বর-লহরের মধ্যে কি এক নূতন সুর ঢেলে দিলে! এত বিচিত্র সৌরভের উৎসই বা ওর মধ্যে কোথায় লুকানো ছিল?

    মাধুর্য আরও উগ্র হয়ে পড়ে! কি উন্মত্ত! আমার মধ্যে হঠাৎ এ কি উত্তাপ সৃষ্টি করলে! তারপর, এ কি, সমস্ত পৃথিবীর, ওরই দেওয়া এই নূতন বর্ণ-গন্ধ-স্পর্শের ওপরে আমার সমস্ত সত্তাকে দ্রবীভূত করে ঢেলে দিলে যে! সুন্দরের অঙ্গে এ কি অভিনব প্রলেপ দিয়ে দিলে!

     

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের কুইজ
    বাংলা বই প্রিন্ট
    বাংলা বইয়ের প্রতিযোগিতা
    গ্রন্থাগার
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা ই-বই
    বাংলা অনুবাদ পরিষেবা
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    পিডিএফ বই
    নতুন বই

     

    আমার রুগ্ন দেহের অন্ধকারের মধ্যে আবদ্ধ এই প্রাণ উষার মত রূপসৃষ্টির অফুরন্ত শক্তি নিয়ে জেগে উঠেছে, মনে হচ্ছে যেন তাকে অভিনন্দিত করবার জন্যে একটা বিরাট সমারোহ পড়ে গেছে চারদিকে।

    এই ভাবে সৌন্দর্যের সঙ্গমস্রোত বয়ে চলে, স্নান করে ধরণী অপরূপ হয়ে ওঠে।

    কোনো কিছুকেই আর তুচ্ছ বলে মনে হয় না, হীরকখণ্ডের মত এই পৃথিবীর প্রতি রেখা অনুরেখা হতে যেন আলোর দীপ্তি ঠিকরে পড়তে থাকে।

    শুধু বাইরেই নয়, যখন ঘুমোই, দেখি—এ সৌন্দর্যের আভাস আমার সুপ্তি ভেদ করে স্বপ্নের স্তর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে; কিরণ যেন জলের ওপরটা উদ্ভাসিত করে তার নিম্নতল পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

    কয়েকদিন পরের কথা।

    সেদিন দুপুরের সৌন্দর্য-পিয়ালায় চুমুক দিতে দিতে যখন ঘুমিয়ে পড়লাম, আমার স্বপ্নলোকে সঙ্গে সঙ্গে একটা অপূর্ব মিলন-বাসর জেগে উঠল—রূপে, আলোয়, সঙ্গীতে অনির্বচনীয় হয়ে। সে এক মহা বিস্ময়কর ব্যাপার। ঘুমটা ভেঙে গিয়ে মন যেন বেদনায় আতুর হয়ে উঠল। আমার এ মনে হল না যে কল্পলোক থেকে বাস্তব জীবনে ফিরে এলাম; মনে হল, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে নিবদ্ধ, রসঘন, এই বাস্তবের চেয়ে অতি বাস্তব একটা জীবনে ফিরে এলাম, আমার জাগ্রত চেতনার মধ্যে এখনও তার আলোর আভা লেগে রয়েছে, তার হাসি আর গানের তরঙ্গ আমার অন্তর্চেতনায় দুলে দুলে উঠছে।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা বইয়ের ব্লগ
    Books
    বই পড়ুন
    বাইশে শ্রাবণ
    বুক শেল্ফ
    বাংলা অনুবাদ পরিষেবা
    বইয়ের
    বাংলা সাহিত্য আলোচনা
    বাংলা বইয়ের ফ্যান ক্লাব

     

    এই ঘোরটা বেশিক্ষণ এরকম নিবিড় রইল না। সমৃদ্ধ পৃথিবী আবার তার স্পর্শ দিয়ে আমায় সচেতন করে তোলবার চেষ্টা করতে লাগল—তার প্রাণের উত্তাপের উষ্ম স্পর্শ দিয়ে। জানলার চৌকো প্রেমে বাঁধানো পটভূমি—ওটুকুর মধ্যেই জীবনের কী বিচিত্র স্রোত চলেছে চলচ্চিত্রের খেলার মত। জানলার গায়ে ঝুমকো জবার গোটাকতক ডাল এসে পড়েছে, দুটো ফুল ঝুলে পড়েছে। ছোট একটা কি পাখি–মিশকালো, লম্বা চঞ্চু দুটো তীক্ষ্ণ আওয়াজ করে এসে বসল—ডালে নয়, পাতায় নয়, জবার একটা বাঁকা পাপড়ির ওপর একেবারে। মাঝে মাঝে সেই তীক্ষ্ণ আওয়াজ—আনন্দের নিখাদ স্বর; একটু ঘাড় নড়ে, সমস্ত জবাটি দুলে ওঠে। দূরে রৌদ্রের দীপ্তিমাখা নীল আকাশ; সাদা বিচ্ছিন্ন মেঘের ছোট- বড় টুকরো সব ভেসে চলেছে। কোনটার কোলে—শ্বেত অঙ্গে তিলের দাগের মত মন্থরগতি একটা চিল। পৃথিবীর কাছাকাছি গতিটা চঞ্চল–গাছের শাখা-পত্রের দোলা, পাখিদের প্রজাপতিদের ব্যস্তভাবে উড়ে বেড়ানো—

    সবচেয়ে চঞ্চলতা পড়েছে আমার জানলার ওপর। পাখিটা বুঝি মধুর সন্ধান পেয়েছে, ফুলেতে আর ওতে বেজায় লুকোচুরি কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে।

    জায়গাটা নিজের কুহক ছাড়িয়ে আমার স্বপ্নের বেদনাটা মুছিয়ে দিতে চায়। তবু কোথায় যেন একটু অভাব,–বেদনার রেশ আর মিটতে চায় না। এখনও মনে হয় সত্যই কি স্বপ্ন ছিল ওটা?

     

    আরও দেখুন
    বাইশে শ্রাবণ
    নতুন উপন্যাস
    ট্রেন টু পাকিস্তান
    বাংলা বইয়ের প্রতিযোগিতা
    কখনো আসেনি
    বাংলা বইয়ের ফ্যান ক্লাব
    বই
    বইয়ের ধরণ
    নতুন বই
    বইয়ের

     

    ঘুমের জড়িমাটা চোখে লেগে রয়েছে, তাতে চেতনা জগতের স্পন্দনের ওপরেও স্বপ্নের কুহেলিকা বিস্তার করেছে; আশা হচ্ছে, এখনই এমন একটা কিছু ঘটবে যাতে স্বপ্ন আর বাস্তব জগতের অন্তরায়টা মিলিয়ে গিয়ে সব একাকার হয়ে উঠবে। মন যেন সে মুহূর্তটার জন্যে মাঝে মাঝে উদগ্র হয়ে উঠছে।

    এমন সময় দৈবাৎ আমাদের বাসার পশ্চিম দিকের জনশূন্য বাড়িটার পানে নজর গেল, এবং একটু আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, তার ওপরের জানালা দুটো খোলা। আজ দেড় মাসের মধ্যে এই প্রথম।

    মনে মনে বললাম, যাক, লোক শেষ পর্যন্ত এল তা হলে!

    এ সিদ্ধান্তে একটু বাধা পড়ল, কাশির আওয়াজে আকৃষ্ট হয়ে দেখলাম, ও-বাড়ির বৃদ্ধ মালী ফটকে তালা লাগিয়ে বাইরে যাচ্ছে। ভাবলাম, বাঃ, এ তো মন্দ হল না!

    হঠাৎ বন্ধুর কথাটা মনে পড়ে গেল, এবং সেই সঙ্গে এ প্রহেলিকার মধ্যে যেন একটা অর্থ ফুটে উঠল,—একটা আশা। যেন একটা গূঢ়সঙ্কেতে উঠে গিয়ে আমার ঘরের পশ্চিমমুখো জানালার কাছে দাঁড়ালাম। তারপর যা দেখলাম, তাতে সমস্ত শরীরটা যুগপৎ বিস্ময় আর পুলকে কণ্টকিত হয়ে উঠল।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    অনলাইনে ই-বই
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা সাহিত্য আলোচনা
    পিডিএফ
    বাংলা ভাষা শিক্ষা
    পিডিএফ বই
    অনলাইন বুক
    অনলাইন বই
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন

     

    জানালার পথে ঘরে আলো প্রবেশ করেছে। মাঝখানে একটি শুভ্র শয্যা; তার ওপর কে একজন গা ঢেলে শুয়ে আছে। রঙিন শাড়ির নিম্নপ্রান্তের খানিকটা দেখা যায়, তার পাড়ের বেষ্টনীর নীচে দুখানি অলক্তকমাখা চরণ—দুটি আধফোটা রক্তপ্রান্ত পদ্মকোরকের মত গায়ে গায়ে লেগে রয়েছে।

    সুপ্ত কার দুখানি অচঞ্চল চরণ, আর কিছু দেখা যায় না। কিন্তু এই আমার সমস্ত অন্তরাত্মাকে নিমেষে অভিভূত করে দিলে। আমার যদি তখন মনে হয়ে থাকে যে, আমার ধ্যানের দেব—আমার স্বপ্নের মায়াপুরিকা মূর্তি পরিগ্রহ করে নেমে এসেছে—শুধু আমারই সোনার কাঠির স্পর্শটুকুর অপেক্ষা, তো তাতে কিছু আশ্চর্য হবার নেই। আর কোন সময়ে এবং অন্য কোন বাড়িতে এ সামান্য দৃশ্যটুকুর মধ্যে কিছু নূতনত্ব পাওয়া যেত না; কিন্তু ভবানীপুরে, সেই নিঝুম দুপুরে, সেই পরিপাটি, সুবিন্যস্ত অথচ বিসদৃশভাবে জনহীন বাড়ির শুধু একটিমাত্র ঘরে নিদ্রিত নারীর সেরূপ হঠাৎ আবির্ভাব, এতে আর অন্য রকম ধারণার অবসরই ছিল না—বিশেষ করে আমার রোগমুক্ত মনের সে সময়ের অবস্থায়।

    মাথার মধ্যে বন্ধুর ঠাট্টাচ্ছলে বলা কথাটাও ঘনিয়ে ঘনিয়ে উঠছিল,—মালীর মতে ওটা ‘তানাদের নীলেভূমি’, যাদের বল—অশরীরী আত্মা, তাঁদের।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    লেখকের বই
    অনলাইনে ই-বই
    বাংলা বইয়ের কুইজ
    বই পড়ুন
    নতুন উপন্যাস
    অনলাইন বুক
    বইয়ের ধরণ
    PDF
    বই

     

    সকলের ওপরে ছিল বোধ হয় ও-বাড়ির মালীর ওরকম নির্লিপ্তভাবে ফটক বন্ধ করে চলে যাওয়া; যাতে করে মনে হল, তার সম্পূর্ণ অজ্ঞাতসারেই বাড়িটার মধ্যে একটা কাণ্ড ঘটে চলেছে। প্রদীপের যাদুবলে রাজকন্যার শয্যা যে সুরক্ষিত রাজপুরীর মধ্যে থেকে উঠে গিয়ে অন্যত্র দাখিল হত, এ ঘটনাটি যেন ঠিক তারই সগোত্র।

    নির্নিমেষ চোখে চেয়ে রইলাম। ক্রমে আমার সমস্ত শরীর মন যেন একটিমাত্র সুতীব্র আকাঙ্ক্ষায় রূপায়িত হয়ে উঠল। রাস্তা দিয়ে তীক্ষ্ণ হর্ণ দিয়ে একটা মোটরগাড়ি চলে গেল। পাশের বাড়ির ঝি খুব আড়ম্বরের সঙ্গে বাসন মাজতে শুরু করে দিয়েছে। পরিচিত সেই শিক্ষানবিশের ক্ল্যারিওনেটের কল্লোল উঠল আজ অসময়েই। ভবানীপুর আমায় এই যুগ এবং এই পৃথিবীর কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যে অশেষ চেষ্টা করতে লাগল। কানে যাচ্ছিল সব, কিন্তু ওই দুখানি ক্ষুদ্র চরণ যুগাতীত লোকাতীত কি এক মোহ বিস্তার করে আমায় অমোঘ আকর্ষণে সব থেকে টেনে নিতে লাগল।

    কোথায় গিয়ে দাঁড়ালে আমার ছায়াময়ী মোহিনীকে সমগ্রভাবে দেখা যায়, নির্ণয় করবার জন্যে চটিজুতোটা পায়ে দিয়ে উঠতে যাবো, এমন সময় বন্ধুবর এসে উপস্থিত। হাতে একটা স্টেটসম্যান, বললেন, ওহে, ওদিকে আফগানিস্তানের খবর যে গুরুতর হয়ে উঠল, বাচ্চা-ই-সাক্কাও—ও কি! আজ তোমার স্তব্ধপুরীর জানালা খোলা যে! যাক, বাঁচা গেল; তবে লোক এসেছে! কি জান? লোক নেই, জন নেই, অথচ সেজেগুজে ফিটফাট হয়ে রয়েছে, এ রকম বাড়ি যত সব কুসংস্কারের জন্মদাতা। আমি ওই নিয়ে আজকাল একটু মাথা ঘামাচ্ছি কিনা। সেদিন বললাম না তোমায় মালীর কথাটা?

     

     

    বন্ধুর সেদিন অবসর ছিল, বিকাল পর্যন্ত নানারকম গল্প চলল। দিন বুঝেই কি অবসর হতে হয়?

    কয়েকদিন একলা আছি। ডাক্তার দূর মফঃস্বলে একটা ‘কলে’ গেছেন।

    .

    একলা আছি শরীরে, মনটা একটা অপূর্ব রাজ্যে বিচরণ করছে। সে রাজ্যের সৃষ্টিকেন্দ্র দুখানি চরণ, কিন্তু সেই অল্পকেই আশ্রয় করে কত হাসিকান্না ভাঙা-গড়ার লীলা দিনরাত বয়ে চলেছে!

    রজনী আমার কোন এক বিচিত্র প্রবাস-বিলাসে কাটে। ভোরে জাগরণের সঙ্গে যখন ফিরে আসি, দেখি জানালা-দুয়ার সব বন্ধ,—এই রহস্যপুরীতে প্রবেশের আবেদন নিয়ে দিনের আলো বাইরে অপেক্ষা করছে। আমি ব্যাকুল উদ্বেগ নিয়ে চেয়ে থাকি, আশা হয়, এই এখনই জানালা মুক্ত হবে, দুখানি ভুজবল্লরী জানালার পল্লব দুটিকে মুক্ত করতে করতে আলিঙ্গনের আকারে প্রসারিত হয়ে পড়বে, আর বাইরে অপেক্ষমান পৃথিবীর আলো, বাতাস, আকাঙ্ক্ষা তার পূর্ণ অঙ্গের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে—যে বর-অঙ্গের আভাস দুখানি রাতুল চরণে পাওয়া গেছে।

     

     

    জানালা কিন্তু মুক্ত হয় না। বাড়িও থাকে নিস্তব্ধ, নির্জন, এক সেই বৃদ্ধা মালী ছাড়া। ঘনপল্লবিত বৃক্ষলতার মধ্যে মাঝে মাঝে তাকে এখানে সেখানে দেখা যায়—শীর্ণ, পলিত- কেশ—মনে হয়, যেন হাওয়ার মধ্যে মূর্ত হয়ে উঠে আবার মিলিয়ে গেল।

    দুপুরে উঠে দেখি, পরিচিত জানলাটি খুলে গেছে, শুভ্র দেওয়াল থেকে ঠিকরে পালঙ্কের পাশতলায় এক ঝলক আলো পড়েছে, আর অনবদ্য সেই দুখানি চরণ—

    অসহ্য হয়ে উঠেছে। বেশ বুঝতে পারছি, রহস্যের গুরুভারটা আমার সুখের মধ্যেও ক্লান্তি এনে দিয়েছে। এক এক সময় মনটা বন্ধুর জন্যে বড় অধীর হয়ে পড়ে,—সে এসে তার হাসিঠাট্টা দিয়ে, তার কল্পনাবিমুখ সুস্থ মনের স্পর্শ দিয়ে আমায় তাদের স্থূল সুনির্দিষ্ট জগতে ফিরিয়ে নিক। আমি কল্পনার ঢেউয়ের দোলায় পরিশ্রান্ত হয়েছি, কঠিন মাটির স্পর্শ চাই।

    মনে প’ড়ে গেল, আমাদের মালী তো আসল কথাটা জানে। তাকে ডাক দিলাম।

     

     

    ডেকেই কিন্তু মনে হ’ল, নাঃ, পরের বাড়ি নিয়ে আলোচনা করাটা, বিশেষ ক’রে চাকরের সঙ্গে, আরও বিশেষ ক’রে আমাদের বয়সের সঙ্গে যখন একটা রহস্য জড়িত রয়েছে—

    মালী এলে বললাম, হ্যাঁ, ওর নাম কি, ডাক্তারবাবু কবে আসবেন ব’লে গেছেন?

    মালী আমার দিকে স্থিরনেত্রে ক্ষণকাল চেয়ে বললে, সেদিনকে আমি তো ছেলাম না বাবু, ঠাকুর জানে, তাকে ডেকে দি গা? আর, আপনাকে ব’লে যান নি বাবু?

    বুঝলাম, প্রশ্নটা বেখাপ্পা হয়ে গেছে, বললাম, বলেছিল আমায়, তবে দেরি হয়ে যাচ্ছে কেন বুঝছি না। দে তো ঠাকুরকে একবার ডেকে।

    মালী হঠাৎ পশ্চিমের জানালাটার দিকে একটু চেয়ে বললে, ওটা ভেজায়ে দি বাবু, রোদ আসবার লাগছে, জষ্টির কড়া রোদ আপনার লেগে মোটেই ভাল নয়।

    পরের দিন বন্ধু এলেন—দুপুরবেলা, আমি তখন ঘুমুচ্ছিলাম। জাগিয়ে, একথা সে কথার পর বললেন, হ্যাঁ, তোমার নামে এসেই যে এক গুরুতর অপরাধের নালিশ!

    বললাম, যথা?

    তুমি নাকি পশ্চিম দিকের জানালাটা খুলে রাখ? জান না? এ বয়সের মনডা লোতুন উড়ুখ্যু পাখির পারা—জালও চেনে না, ফাঁসও চেনে না।

    ভাষাটা মালীর বুঝে হেসে বললাম, কেন, আমার পাখি তো পিঁজরের মধ্যে বেশ লক্ষ্মীটি হয়ে ব’সে আছে ব’লেই জানি।

    ব্যাপারটা বন্ধু সবিস্তারে বললেন, মোটর থেকে নামতেই মালী বিষণ্ণবদনে এসে একটি সেলাম ঠুকে তো দাঁড়াল। একটু ভীত হয়েই জিজ্ঞাসা করলাম, কি রে, খবর ভাল তো?

    মালী মাটির দিকে দৃষ্টি নামিয়ে ডাইনে বাঁয়ে শুধু ঘাড় নাড়লে। বলতে কি, আমার শরীরটা হিম হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি প্রশ্ন করলাম, কেন, বাবু ভাল আছে তো?

    মালী তেমনই ভাবে বললে, শরীরে তো ভালই আছেন, কিন্তু আমরা না হয় মুরুখ্য- সুরুখ্য লোক, আপনি তো ডাক্তারবাবু। বলি আগে মন, পরে শরীল?

    ভরসার নিশ্বাস ছেড়ে বললাম, একশো বার; তা মনই বা ভাল নেই কেন শুনি?

    মালী বললে, আপনাকে সেদিন বলতে গেলাম বাবু, তা কথাটা গেরাহ্যির মধ্যে আনলেন না। ও পশ্চিমের বাড়িটা আপনাদের তরে বেলকুলই ভাল নয়, কত লব্য জোয়ানের যে মাথা বিগড়ে একেবারে পাগল করে দিয়েছে বলবার পারি না। ভয়ে ভয়ে আমরা বুড়ারাও ওদিকে লজর করি না; চুপচাপ নিজের কাজটি সেরে ঘরকে যাই। আপনি এই তেতেপুড়ে নামলেন, একটু ঠাণ্ডা হোন গা। মোদ্দা, ওনার লাড়ীটা একবার পরখ করবেন; আর গরিবের আর্জি ওনাকে পশ্চিম দিগের জানলাডা বন্ধ রাখতে বলবেন। কি জানেন বাবু? এ বয়সের মনডা লোতুন উড়ুখ্যু পাখির পারা—জালও চেনে না ফাঁসও চেনে না।

    এই তো মালীর অভিযোগ; তোমার পশ্চিম দিকে জানলাও তো খোলা দেখছি, ওদিকে ‘হানাবাড়ির’ জানলাও ঠিক সামনাসামনি খোলা, কোন অলোকসুন্দরীর কুদৃষ্টিতে ঘায়েল হচ্ছ না তো? নাড়ী-টাড়ি হাতড়ে পাব কি?

    বন্ধু হাসতে লাগলেন।

    অনেক চেষ্টায় মুখের সহজ ভাবটা বজায় রেখে বললাম, কুদৃষ্টি-সুদৃষ্টির খোঁজ রাখি না, তবে আমার নাড়ী বরং বন্ধুবিরহের উদ্বেগে কদিন একটু বেশি রকম চঞ্চল ছিল। তারপর? কেমন ছিলে বল? কই, তোমার এত দেরি হ’ল কেন, বললে না তো? কোন রকম—

    কিন্তু বোধ হয় ধরা প’ড়ে গেলাম, সম্ভবত এই চাপা দেওয়ার সবিস্তারে চেষ্টা করতেই ডাক্তারের কৌতূহলটাকে জাগিয়ে তুললাম। তিনি আমার কথাটাই উল্টে নিয়ে আমার ওপর প্রয়োগ করলেন, মুখের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে বিস্ময়ের ভান করে বললেন, অ্যাঁ, কি বললে? নাড়ী বেশি রকম চঞ্চল, তবে নির্ঘাত প্রণয়ের চোট, তাতে আর সন্দেহ মাত্র নেই; সে আঘাতে বিদ্যুৎপ্রবাহ থাকে কিনা, চঞ্চলতা আনবেই।

    আমি তখনও আত্মগোপনের চেষ্টাটা পরিত্যাগ করলাম না, হেসেই জবাব দিলাম, সত্যি নাকি? তা হলে ওটা তোমাদের ডাক্তারিরই একটা অঙ্গ বল— X’rays battery- গোছের একটা ব্যাপার। এ যুগে নিতান্তই একটা ঘরোয়া জিনিস। তোমরা ‘প্রেম প্রেম’ কর, আমার একটা ভয় ছিল, না জানি বাঘ-ভাল্লুক কি একটা হবে বা।

    কথা কি একটু বেশি বলে ফেললাম? বন্ধুর দৃষ্টি আর হাসি দেখলাম আরও ধারালো হয়ে উঠেছে, তাঁর বিশ্লেষণের ছুরির মত। হাসতে হাসতে বললেন, ভয় এবার আমাদের হবার পালা; লক্ষণ তো ভাল বোধ হচ্ছে না।

    পরিত্রাণের বৃথা চেষ্টা।

    ধরা পড়ে গিয়ে হঠাৎ যেন মরিয়া হয়ে উঠলাম। কেন বলব না? এত গোপনের আয়াস কিসের? যা আমার কাছে দিনের আলোর মত সত্য, তা দিনের আলোর মতই সবার কাছে মুক্ত হয়ে থাক্, এত প্রত্যক্ষ যার চোখে পড়বে না, তার দৃষ্টিশক্তির জন্যেই চিন্তিত হবার কথা।

    পূর্বাপর সমস্ত ঘটনা একসঙ্গে মনে জেগে উঠে সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠল। আমার অটল বিশ্বাসের দুর্বার শক্তি নিয়ে আমি যেন বন্ধুর অবিশ্বাসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম, বললাম, শোন ডাক্তার, আমি মালী নয়, ওই বাড়িটাতে যে একটা কিছু ব্যাপার হচ্ছে তা তোমায় বিশ্বাস করতেই হবে। আমি স্বচক্ষে দেখেছি—

    হাঃহাঃহাঃ—শব্দে চমক ভাঙল। বন্ধু হেসে বললেন, আমার থিওরি, বাড়ি অন্ধ সংস্কার মাথায় ঢোকাবেই। এই দেখ, তোমাকেও পাকড়াও করেছে, শিক্ষাদীক্ষা সব জাহান্নামে গেল। তা হলে মালী বেচারা আর কি দোষ করেছে, বল?

    আমার আজ হার, বন্ধুরই জয়, তাঁর ভাষা আমায় বিপন্ন করে তুলেছিল। বলতে লাগলেন, দেখেছ তা হলে? কি দেখলে? কোথাও কিছু নেই, ঘরের মধ্যে এক অনৈসর্গিক আলো ফুটে উঠল, আর দেখতে দেখতে এক অসামান্য সুন্দরী—বল, আমায় একটু এগিয়ে দাও, অকবি মানুষ, তোমাদের ভাষা ধার করেই তো বলতে হবে।

    বৃষ্টির ধার প্রবলবেগে নেমে যেমন মাটির স্পর্শমাত্র নিজেই চূর্ণ হয়ে যায়, আমার অত দম্ভের বিশ্বাস যেন তেমনই শতধা খণ্ডিত হয়ে গেল। আমি নিতান্ত অপ্রতিভ হয়ে পড়েছিলাম। নিজেকে সামলে নেবার চেষ্টা করে বললাম, আঃ, কি আপদ! সবটা শোনই না আগে, দেখেছি কেউ ও বাড়িটার কাছে ঘেঁষতে চায় না।

    বন্ধু বললেন, কিন্তু সেটা কি একটা প্রমাণ? দেখ বন্ধু, বিধাতা দুনিয়াটাকে এমন ঠেসে বাজে জিনিস দিয়ে ভরাট করে দিয়েছেন যে, ওসবের জন্যে আর জায়গা নেই। ভুল করে ফেলেছেন নিশ্চয়, কিন্তু আর উপায় নেই তাঁর। ব’স, ধড়াচূড়ো ছেড়ে আসি; নালিশের বিচার অসম্পূর্ণ রইল।

    .

    সেদিন সন্ধ্যার একটু আগে।

    বাগানে একটা ক্যাম্প-চেয়ারে বসে ছিলাম। ডাক্তার অনেক পূর্বে কোথায় বেরিয়ে গেছেন।

    আজ বিরুদ্ধমুখী চিন্তায় আমায় অবসন্ন করে ফেলেছে।

    ডাক্তারের কল্পনাবিমুখ, সুস্থ মনের স্পর্শ চেয়েছিলাম, তা পেয়েছি। কিন্তু তার এই শক্তি থেকে জোর পেয়ে আমি যতই আমার অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধি থেকে কল্পনার অংশটা ঠেলে ফেলবার চেষ্টা করছি, ততই সেটা ঘনীভূত অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠছে। মনে হচ্ছে, আজ যেন কাকে বিদায় দিতে বসেছি। আমার রোগ, আমার আরোগ্য সমস্তই তারই বিধান, এই সবের মধ্য দিয়ে সে আমায় তার নিজের কাছে আকর্ষণ করে এনেছিল, সেই-ই আমার স্বপ্নের মধ্যে মায়ালোক বিস্তার করেছিল, তারপরই সেই মায়ালোক থেকে নেমে এসে যখন সে আমারই জন্যে নিজেকে এই পৃথিবীর স্পর্শের অধীন করে তুলেছে, আর আমার বাসনার শতদল তার চরণ দুখানি ঘিরে বিকশিত হয়ে উঠেছে, এই সময় বন্ধু এসে একটা বিপ্লব বাধিয়ে সমস্ত ছিন্নভিন্ন করে দিলেন। আজ এ কি হল? ওরা যাকে বিভ্রম বলে প্রমাণ করতে চাইছে, তারই অভাবে আমার জীবনে কি শূন্যতা, আজ তা কাকে বোঝাব?

    আজ চোখে মাঝে মাঝে অশ্রু জমে উঠছিল, এমন আর কোনদিন হয় নি। বাড়িটা এখান থেকে আর কখনও দেখিনি। বৃক্ষ-শাখা-লতার মধ্য দিয়ে বাড়িটার কিছু কিছু দেখা যায়, আভাসের মত। ছায়ার ভাগটা বেলাশেষের দিকে অন্ধকারে গ্রাস করছে, আর যেখানে তার গোলাপী রঙের আঁচ একটু একটু দেখা যায়, সেখানে বাড়িটা যেন অস্তমান সূর্যের কিরণে মিশে গেছে। সজল চোখের ঝাপসা দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে আজ মনে হচ্ছে, সে আমার জন্যে অজ্ঞাতের তিমির থেকে নেমে এসে নিজেকে আলোর মধ্যে মেলে ধরেছিল, আজ ব্যর্থতার ক্ষোভে সে এই কঠিন জড়পিণ্ডটাকে মুছে নিয়ে তার বিদায়ের চিহ্নহীন পরিচয় রেখে যাবে।

    বন্ধুর হাসি মনে পড়ে গেল। নিজের কাছেই লজ্জিত হয়ে চোখের জল মুছে ফেললাম, ভাবলাম, এই ঘেরা জমিটুকুর মধ্যে বসে বসে রাত্রিদিন কি এ আকাশকুসুম রচনা করছি? যাই, একটু ঘুরে আসি।

    উঠলাম। রাস্তায় পা দিতেই পশ্চিম দিকের বাড়ির পানে নজর গেল। সঙ্গে সঙ্গে যেন লাগাম কষে দৃষ্টিকে ফিরিয়ে আনলাম। তখন মনের মধ্যে প্রশ্ন হল, আচ্ছা, পশ্চিমদিকটাই কি অপরাধ করেছে? ওদিকে না যাওয়াটাই কি দুৰ্বলতা নয়?

    এই প্রশ্নের মধ্যেও একটা সূক্ষ্ম আকর্ষণের ইঙ্গিত ছিল, তাই এর উত্তরস্বরূপ আমি চিত্তের সমস্ত বলপ্রয়োগ করে পূর্ব দিকে অর্থাৎ বাড়িটার ঠিক উল্টো দিকে পা বাড়ালাম এবং অগ্রসর হলাম।

    কিন্তু আমার পা যেন একটুর মধ্যেই অতিরিক্ত ভারী বোধ হতে লাগল। লাগবারই কথা, একে দুর্বল শরীর, তায় বসে বসে হাঁটার অভ্যাসটা নষ্ট হয়ে গেছে। আমার কিন্তু তখন একথা মনে হ’ল না, আমার মনে হ’ল, পূর্ণ বিশ্বাস হল যে কিসের সঙ্গে আমি যেন শৃঙ্খলিত হয়ে গেছি নিরুপায় ভাবে। যতই আগুয়ান হবার চেষ্টা করছি, পেছনে টান ততই প্রবল হয়ে উঠছে।

    শেষে ফিরলাম। এতক্ষণ মনের মধ্যে কিসের সঙ্গে একটা তুমুল দ্বন্দ্ব তর্কবিতর্ক চলছিল, হেরে গিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম। ফেরবার সময় মনে হল, দিব্যি লঘু গতিতে চলেছি। আমার বাসার সামনে এলাম; একটু দ্বিধা, এক লহমার উপেক্ষা, তারপর পশ্চিম দিকে এগুলাম। এই দ্বিতীয় পরাজয়ে আর একটা আনন্দের দীর্ঘনিশ্বাস পড়ল।

    সেই বাড়ির ফটকের সামনে দাঁড়ালাম, আসা পর্যন্ত এই প্রথম। অনুভব করছি, একটা চাপা উত্তেজনায় পা কাঁপছে, শরীরটা হয়ে এসেছে শিথিল। আর একটি পা বাড়ালেই কোন্ এক নূতন আলোবাতাসের মধ্যে গিয়ে দাঁড়াব, যেন মৃত্যুর চেয়েও এক পরমাশ্চর্য ব্যাপার এখনই ঘটবে।

    আগলটা তুলে প্রবেশ করতে যাব, দেখি ডাক্তার-বন্ধু সেই বাড়িটা থেকে বেরিয়ে আসছেন। কাছে এসে প্রশ্ন করলেন, তুমি এখানে?

    .

    আমাদের বাগানে এসে দুখানা চেয়ারে মুখোমুখি হয়ে বসলাম। বন্ধুর ভাবটা আজ নতুন রকম, কিছু বিব্রত, বিষণ্নও। কি ভেবে জানি না, আমায় আর কোন প্রশ্ন করলেন না। বললেন, ও-বাড়িটায় কিছু একটা ব্যাপার হচ্ছে বটে। তবে সেটা এই গরিব অশীতিপরা পৃথিবীরই এলাকার—এই যা।

    আর একটু চুপ করে রইলেন, তারপর বলতে লাগলেন, তোমার ঘটকালি করতে গিয়েছিলাম। অপ্সরা-কিন্নরীরা আমাদের এই পোড়া কপালের যুগটাকেই বয়কট করেছেন বলে সেদিন তোমায় বেশি উৎসাহ দিতে পারলাম না, কিন্তু আমাদেরই মত রক্তমাংসের কোন খেঁদি-পেঁচি এসে বাড়িটাতে ডেরা ফেলেছেন এবং আমার বন্ধুটির ওপর ভর করবার জন্যে ডানা ঝাপটাচ্ছেন, তাতে আর আমার কোন সন্দেহ রইল না। ভাবলাম, দেখতে হচ্ছে। যোগাযোগ হয়, বন্ধুকে বুঝিয়ে বললেই হবে, এতেই সন্তুষ্ট হও, গরিবের পক্ষে রাঙই সোনা!

    ছুটলাম তাড়াতাড়ি।

    গিয়ে দেখলাম এক জোড়া পাগল—স্বামী আর স্ত্রী। অতি সাধারণ ব্যাপার, না? কিন্তু সবটা শোন, তখন টের পাবে, পশ্চিম দিকের বাড়িটার গুজবের উৎপত্তি কোথায়!

    দুজনেই বৃদ্ধ এবং একটু বেশি রকম বিষণ্ণ; তবে হঠাৎ পাগল বলে মনে হবার কিছু নেই, সেটা টের পেলাম পরে।

    যেতেই অভ্যর্থনা করে বসালেন। কথাবার্তা হল, কিন্তু এত স্বল্প এবং পরিমিত যে, আমার মনে একটা অনধিকার প্রবেশের অস্বস্তি জেগে উঠতে লাগল! মহা ফ্যাসাদে পড়া গেল, আর রাগ হতে লাগল তোমার উপর। একটা কিছু বলে উঠে আসব আসব করছি, এমন সময় কর্তা হঠাৎ বললেন, এখানে আমরা তিনজন এসে আছি আপাতত, আশা এলেই চারজন হই।

    গৃহিণী কথাটা একটু পরিষ্কার করে দিলেন, আশালতা আমাদের মেয়ে, এই এল বলে, যতক্ষণ না আসছে—

    যাক, তোমার একটি ‘আশা’ যে আছেন তা হলে, এটুকু আবিষ্কার করে অনেকটা আশ্বস্ত হলাম। কিন্তু কতক্ষণ গেল, তাঁর আর দেখাই নেই। আসরেও বিশ্রী রকম নিঝুমের পালা।

    শেষে প্রশ্ন করলাম, কোথায় গেলেন তিনি?

    কোন উত্তর পাওয়া গেল না, দম্পতি শুধু পরস্পরের মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। আমার এই সময় একটু খটকা লাগল।

    শেষে গৃহিণী বললেন—সে এক অদ্ভুতভাবে, আমায় বিশ্বাস করাবার জন্যে যেন ভয়ানক জোর দিয়ে—যাবার সময় ঠিক বলতে পারলে না কোথায় গেল, কিন্তু আসবে ঠিক, এ কথার কোন

    এমন সময় কর্তা ‘যাই মা’ করে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলেন—এক বিকৃত আওয়াজ। আমার শরীরটা ঘন ঘন শিউরে শিউরে উঠল।

    গৃহিণী কথার মাঝে মাঝে থেমে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগে যেন আড়ষ্ট হয়ে গেলেন। কর্তা আস্তে আস্তে উঠে গেলেন, অতি সন্তর্পণে দু মিনিট, চার মিনিট, দশ মিনিট গেল, কর্তা শেষে বেরিয়ে এলেন; এইটুকুর মধ্যেই কত পরিবর্তন হয়ে গেছে চেহারার।

    গৃহিণীর যেন চোখ দিয়ে কথা বেরুল, আসে নি?

    কর্তা শুধু বললেন, এসেছিল বইকি, ডাকলে, শুনলে না?

    আমি মূঢ়ের মত বসে রইলাম, শোকের এ কি ভয়ঙ্কর রূপ।

    বোধহয় আধ ঘণ্টার মধ্যে আরও পাঁচ-ছয়বার এই রকম ব্যাপার। কখনও কর্তা ‘যাই মা’ করে উঠে যান, কখনও গৃহিণী; অথচ আমি সমস্ত শরীরটাকে এক জোড়া কানে পরিণত করেও একটু টু শব্দ পেলাম না। আরও কিছুক্ষণ এই ভাবে গেল; তারপর একবার কর্তা সেই রকম ‘যাই মা’ করে উঠে গৃহিণীকে বললেন, আমায়ই ডাকলে বটে, কিন্তু চল এবার দুজনেই যাই। আমায়ও অত্যন্ত মিনতির সুরে বললেন, আপনিও একটু সঙ্গে আসবেন কি? ক্রমাগতই আমাদের সঙ্গে এ কি লুকোচুরি করছে! এরকম ছিল না সে!

    তিনজনে ভেতরে গেলাম, আমি রইলাম তাঁদের পেছনে।

    তন্নতন্ন করে খুঁজলেন, এক এক জায়গায় ঘুরে ফিরে দু-তিনবার করে। বলতে কি, এই অদ্ভুত সঙ্গীদের সঙ্গে সন্ধ্যের অন্ধকারে বিকৃতি মস্তিষ্কের একটা খেয়ালী সৃষ্টিসাধনে ঘুরতে ঘুরতে আমারও মাথায় যেন একটা ঘূর্ণি পাক দিয়ে উঠতে লাগল। এক এক সময় এমনই আত্মবিস্মৃত হয়ে উঠছিলাম যে মনে হচ্ছিল, এক্ষুনি এই হালকা অন্ধকারের মধ্যে একটা মূর্তি জমাট বেঁধে উঠবে। শব্দহীন বাড়িটা পর্যন্ত যেন তার জন্যে উৎকট প্রতীক্ষায় নিশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

    নিরাশ হয়ে বৃদ্ধ খোঁজার মাঝে হঠাৎ বলে উঠলেন, দেখলেন তো? আজ পাঁচ বছর এই রকম করে ঘোরাচ্ছে।

    পাঁচ বছর চার মাস হল।—বলে গৃহিণী করুণ অনুযোগের দৃষ্টিতে আমার দিকে চাইলেন।

    ডাক্তারের নির্বিকল্প প্রাণ; কিন্তু তবুও যেন আমার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। বললাম, চলুন বাইরে।

    আমার পেছনে পেছনে তাঁরা বেরিয়ে এলেন।

    খানিকক্ষণ বসে দু-একটা প্রশ্ন করে যা বুঝলাম তা এই যে, বছর পাঁচেক পূর্বে, ঠিক এই সময়টা, এই বাড়িতে, সামনের ওই দোতলার ঘরটাতে ওঁদের একটি সতেরো বছরের মেয়ে মারা যায়। পর হয়ে যাবে বলে তখনও প্রাণ ধরে তার বিয়ে দিতে পারেন নি— সেই আশালতা। তাতেই ওঁদের মস্তিষ্ক একরকম বিগড়ে গেছে। এখন একটা বিশ্বাস দাঁড়িয়েছে যে, শিগগিরই ফিরে আসবে; কোথা থেকে, কোন পথে তার কোন নির্দিষ্ট ধারণা নেই। তার অনির্দিষ্ট আগমনের আশাতেই বারো মাস অষ্টপ্রহর বাড়িটাকে তৈরি রাখেন। বছরের এই সময়টা আর বাইরে থাকতে পারেন না, যেন টেনে নিয়ে আসে। তারপর এই আশা-নিরাশা, শেষ কয়েকদিন দেখে আবার হতাশ হয়ে ফিরে যায়।

    শুধু মালীর হাতে বাড়িটি রেখে পাঁচ বছর চার মাস ধরে এই ব্যাপার চলছে। আমার কিন্তু ধোঁকা লেগে রইল, তিনজনের তৃতীয়টি কে? জিজ্ঞেস করতে যাব, এমন সময় আলো নিয়ে মালীটা এসে দাঁড়াল। বললে, চলুন বাবু, রাত হয়ে এল।

    দম্পতিও কিছু না বলায় কথাটা অনেকটা ভাল কথায় বের করে দেওয়ার মত শোনাল। নমস্কার করে উঠে পড়লাম; আমার আর প্রশ্ন করা হল না। তাছাড়া ভাবলাম, সম্ভবত মালীকে ধরেই তিনজনের কথা বলেছেন। যাক্, ওটা পরে কোন দিন জেনে নিলেই হবে।

    বেরিয়ে এসে যখন রাস্তায় পড়লাম, একটা শব্দে ফিরে দেখি, মালী ফটকে তালা লাগাচ্ছে, ওর অভিপ্রায় নয় আর কি, কেউ এই পাগলের খেয়ালের মধ্যে এসে কোন রকম দখল নেয়।

    বন্ধু একটু চুপ করলেন। তারপর সমস্ত ব্যাপারটা তাঁর ডাক্তারের শরীর-মন থেকে এককালীন যেন ঝেড়ে ফেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, ইতি উদ্বাহখণ্ডে ঘটকরাজ-কাহিনী সমাপ্ত। ওঠ, চল, ওপরে যাই। ও কি! শ্রুতিফল—মূর্ছা হবার কথা নয় তো! তোমার ও কি চাউনি!

    আমার চাউনির মধ্যে যে শোকের অবসাদ আর সফলতার উন্মাদনা একসঙ্গে ফুটে বেরুচ্ছিল।

    আমি আর নিজেকে রুখে রাখতে পারলাম না; ডাক্তারের হাতটা চেপে ধরে বলে উঠলাম, ডাক্তার, বিশ্বাস কর। এ কি তোমাদের অত্যাচার! অস্বাভাবিক আবেগে আমি নিশ্চয় কাঁপছিলাম।

    ডাক্তার ভীতভাবে আমার মুখের পানে চেয়ে একটু থেমে আস্তে বললেন, কি বিশ্বাস করব? কিসের অত্যাচার?

    তোমাদের অবিশ্বাসের। অত্যাচার নয়? এই অবিশ্বাসের বিষ তুমি তো এখানকার বাতাসে ছড়িয়ে দিয়েছ, তা ছাড়া আমার মধ্যেও সংক্রামিত করে আমার সেই তপস্যা নষ্ট করে দিয়েছ, যার দ্বারা আমি তাকে পাবার একেবারে কাছাকাছি গিয়ে পড়েছিলাম। আবার অবিশ্বাসের হাসি? কিন্তু আমি তোমায় বলছি ডাক্তার, আমি দেখেছি; সেদিন আমি মিথ্যে দিয়ে সত্যিটা ঢাকা দিয়েছিলাম, তোমার হাসির ভয়ে; কিন্তু আজ আমার সে সত্য পূর্ণ হয়ে ফুটে উঠেছে, তোমার গল্পের মধ্য দিয়ে।

    কি দেখেছ? কি সত্যের কথা বলছ?

    তাকে দেখেছি, আশাকে। সে আছে, কেউ তার ডাক শুনতে পায়। তুমি পাও নি তোমার নিষ্ঠার অভাবে, আর কারুর কাছে সে প্রত্যক্ষ হয়ে উঠেছে, তাকে আমি দেখেছি।

    বেশ, দেখাও আমায়।

    কি বলব ডাক্তার, এই সন্ধ্যের মাঝখানে, সঙ্গে সঙ্গে আমি দুপুরটাকে এনে ফেলতে পারলাম না; না হলে দেখতে, সে তার অপার্থিব দুখানি পায়ের শোভায় ঘরটা আলো করে শুয়ে আছে। এই দু-মাস ধরে সে এমনই করে পৃথিবীর কাছে নিজেকে ধরা দিচ্ছে, সন্ধ্যের আবছায়ায় নয়, রাত্রের অন্ধকারেও নয়—ভরা দুপুরে, আলো যখন পৃথিবীর কানায় কানায় ভরে থাকে।

    ডাক্তার একটি হাত আমার কাঁধের ওপর দিয়ে বললেন, তুমি বড় চঞ্চল হয়ে পড়েছ। আচ্ছা, বেশ ঠাণ্ডা হয়ে আমার একটি কথার জবাব দাও তো!

    কি?

    আমি বলছি, তোমার কথাটাই বরং আমার গল্পটাকে পূর্ণ করছে।

    আমি একটু বিস্মিত হয়ে বললাম, তার মানে?

    তুমি যাঁকে দেখে থাক, তিনি হচ্ছেন সেই তৃতীয় ব্যক্তি যাঁকে আমি খুঁজছিলাম।

    একটু ব্যঙ্গের সুরে বললাম, মালীকে পেয়ে সন্তুষ্ট হতে পারলে না?

    না, কারণ কেউ মালীকে সচরাচর নিজের পরিবারের মধ্যে ধরে না। ওটা হয়েছিল আমার হিসেবের গোঁজামিল।

    কিন্তু তুমি তো অত খুঁজেও তাঁকে পাও নি সেদিন।

    ঠিক সেইসময়টিতে বোধ হয় ছিলেন না বাড়িতে।

    আর ঠিক দুপুরবেলাটিতে থাকেন?

    তুমি রোজ ওই সময়টায় দেখ বলেই যে দুপুরবেলাতেই থাকেন, আর আমি একদিন সন্ধের সময় দেখতে পেলাম না বলে কোন সন্ধেয়ই থাকেন না—এ রকম নিয়ম বেঁধে ফেলি কি করে? এবার খোঁজ নিলেই এঁর পরিচয়, গতিবিধি সব টের পাব। একটা কথা ভেবে দেখ, এই রকম দুজন পাগলকে কেউ পরস্পরের ভরসায় ছেড়ে দিতে পারে না, কোন আত্মীয় যে সঙ্গে—

    আমি আবার ডাক্তারের হাতটা ধরে অসহিষ্ণুভাবে বলে উঠলাম, না, আমি তোমার সব কথা বিশ্বাস করে নিচ্ছি ডাক্তার, তুমি তোমার অবিশ্বাসের উপদ্রব নিয়ে ওর মধ্যে যে ও না। তোমার দোহাই, তোমার বিজ্ঞান-দেবতার দোহাই!

    সেদিন সন্ধ্যে থেকেই কতকগুলো খণ্ড খণ্ড মেঘ আকাশে এসে জড়ো হয়েছিল। রাত যেমন এগিয়ে চলল, হাওয়াটা একটু প্রবল হয়ে সেগুলোকে আকাশ-প্রাঙ্গণে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত করতে লাগল। নীচের জ্যোৎস্না বেয়ে মেঘের দীর্ঘ সচল ছায়াগুলো ঘোরা-ফেরা করে সে রাত্রে পৃথিবীর ওপর কি এক যেন অলৌকিক ব্যাপারের আয়োজন লেগে গেল।

    ক্রমে রাত্রি গাঢ় হল। ভবানীপুরের দৈনিক জীবনের শেষ স্পন্দনটুকু থেমে গিয়ে আকাশ-ভূতল স্তব্ধ হয়ে গেল। সুপ্ত জনপদবাসী নিশাচরদের জন্যে আসরটা যেন খালি করে দিলে।

    শুধু আমার চোখে ঘুম নেই। আজ পর্যন্ত তর্ক-অবিশ্বাসের আবর্জনা পায়ে ঠেলে যেন এক মহা পুরস্কারের অধিকারী হয়েছি, জানি না তা মিলনের হাসি, কি চির-বিদায়ের অশ্রুজল! কিন্তু আমি বদ্ধাঞ্জলি হয়ে বিনিদ্রনয়নে তারই অপেক্ষায় বসে আছি। বেশ অনুভব করছি, পৃথিবীর সঙ্গে আমার যোগসূত্র দ্রুত শিথিল হয়ে আসছে, তার চিন্তাধারা, তার হিসেবের সঙ্গে যেন কোন মিল নেই।

    প্রতীক্ষায় প্রতীক্ষায় ক্লান্ত হয়ে শেষরাত্রে বোধ হয় তন্দ্রালু হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ একটা ব্যস্ত খট-খট খট খট শব্দে তন্দ্রা ভেঙে গেল। হাওয়াটা ঠাণ্ডা ছিল বলে পশ্চিম দিকের জানালাটা একটু আগে বন্ধ করে দিয়েছিলাম, তারই ওপর যেন সনির্বন্ধ করাঘাত পড়ছে।

    হন্তদন্ত হয়ে উঠে খুলে দিতেই একটা দমকা হাওয়া ঘরে ঢুকে পড়ে আসবাবপত্রগুলোকে বিচলিত করে তুললে।

    মনটা যেন ছাঁৎ করে উঠল, যাঃ, একরত্তি ভুল—একটু দেরিতে সব গেল!

    তীব্র উৎকণ্ঠায় বাইরে চেয়ে রইলাম।

    কিছু নেই। শুধু বাতাসের হা-হা-রব। যেন কার মর্মন্তুদ শোকোচ্ছ্বাস, কোথাও সান্ত্বনার মধ্যে বিরাম না পেয়ে ক্রমাগতই বয়ে চলেছে—হা—হা- -হা-হা—

    আর সেই সঙ্গে ছায়ার সেই নিঃশব্দ মিছিল।

    বিশেষের মধ্যে চোখে পড়ল, পশ্চিমের বাড়ির পরিচিত জানলা দুটো খোলা। জোর হাওয়ায় দেওয়াল-সংলগ্ন লতার খানিকটা স্থানচ্যুত করে কপাটের ওপর ফেলেছে।

    তবে কি রাত্রির শেষ প্রহরেও দিনের নাট্যের আর একটা অঙ্ক অভিনীত হয়? না, এটা—

    এই সময় একখণ্ড মেঘ সরে গিয়ে ম্লান জ্যোৎস্নাটা হঠাৎ তীব্রভাবে পরিস্ফুট হয়ে উঠল এবং আমার চিন্তার মাঝখানেই আমার শিরা-উপশিরার মধ্যে রক্ত-চলাচল বন্ধ হয়ে যেন নিশ্চল হয়ে গেলাম।

    স্পষ্ট দেখলাম, একটি দীপ্ত নারীমূর্তি আবেগভরে জানলার গরাদের ওপর তার সমস্ত শরীরটা চেপে স্থিরদৃষ্টিতে সমুখের পানে চেয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দেহের ঊর্ধ্বভাগ থেকে বসন খসে গেছে আর আলুলায়িত কেশের স্তবক বুকে মুখে বাহুমূলে নিবিড়ভাবে বিলম্বিত।

    আমার মনে হল, শরীরের সমস্ত বন্ধনী ছিঁড়ে একটা চিৎকার করে উঠি। কি করতাম জানি না, কিন্তু এই সময় নৈশ আকাশকে দীর্ণ করে একটা বুকভাঙা স্বর উঠল, যাই মা!

    আমি সঙ্গে সঙ্গে একটা ‘ওঃ’ করে আওয়াজ করে উঠেছিলাম মনে পড়ে। তারপর ঘরের কপাট খুললাম, বারান্দা দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামলাম, বাগান অতিক্রম করে ফটক খুলে বেরুব, কাঁধে একটা শীতল স্পর্শে চকিত হয়ে ফিরে চাইতেই দেখলাম, ডাক্তার!

    বললেন, কোথায় যাচ্ছ?

    ওদের বাড়িতে। এই মাত্র ‘যাই মা’ করে সাড়া দিলে। আমি যাচ্ছি দেখিয়ে দিতে।

    তুমি দেখেছ?

    স্পষ্ট, এত স্পষ্ট আমিও কখনও দেখি নি।

    বেশ ফেরো, আগে আমায় দেখাও, তারপর নয় দুজনেই যাব।

    ফিরে এসে আমরা জানলার সামনে দাঁড়ালাম। আমি সন্তর্পণে বললাম, ওই, জানলায় দেখ!

    ডাক্তার একটু স্তম্ভিত বিমূঢ়ভাবে চেয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর মাথাটা হেলিয়ে দুলিয়ে নিরীক্ষণ করতে লাগালেন। শেষে স্থির হয়ে আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, এদিককার জানলাটার ওপর একটা লতা ঝুঁকে আছে দেখতে পাচ্ছ?

    আবার তর্ক। অথচ সে রূপ তখনও আমি সমস্ত দেহমন দিয়ে উপলব্ধি করছি। আমি সেদিকে না চেয়েই কিছু বিরক্তভাবেই বললাম, পাচ্ছি।

    অস্তমান পূর্ণিমার চাঁদটা আকারে প্রকাণ্ড হয়ে ওদিকের ওই খোলা জানলাটার ঠিক সামানসামনি এসে পড়েছে, আর ওদিককার জানলার গায়ে লতার ঝুরিগুলো—

    আমি অধৈর্যভাবে বলে উঠলাম, ডাক্তার তোমার হাতে ধরছি, তোমার তর্কের হাত থেকে আমাদের রেহাই দাও, অন্তত এই রাতটা। ওই শোন, আবার সেই আওয়াজ! আমায় একটু মুক্তি দাও, এসে তোমার তর্ক শুনছি। ওই দেখ, এখনও ঠায় সেই ভাবে—

    কথাটা শেষ হবার পূর্বেই একখণ্ড গাঢ় মেঘের ছায়া সমস্ত জ্যোৎস্নাটাকে মলিন করে দিলে। সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রদীপ্ত রূপশিখা যেন নিবে বিলীন হয়ে গেল। আমি বুঝলাম, চিরতরেই—

    যাঃ, ডাক্তার! …বলে আমি চিৎকার করে উঠলাম। ডাক্তার বলেন, সঙ্গে সঙ্গেই নাকি অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলাম।

    .

    পরের দিন প্রায় নটার সময় বন্ধু এসে বললেন, চল এবার তোমায় একটু লাইলিয়ার সারাউন্ডিংস (livelier surroundings)-এ নিয়ে যাব; ক্রমশঃ সওয়াতে হবে কিনা। বাড়ি ঠিক ক’রে এসেছি হাজরা রোডে। কিই বা আমাদের এত হাঙ্গামা, খাওয়া- দাওয়া করে দুপুরের আগেই বেরিয়ে পড়ব ভাবছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)
    Next Article রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }