Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প222 Mins Read0
    ⤶

    জালিয়াত

    ১

    হায়, পল্লীর দুলালী, সে আজ কলিকাতার বধূ! বোধ হয় ভাবে—

    হায় রে রাজধানী পাষাণ-কায়া।
    বিরাট মুঠিতলে          চাপিতে দৃঢ়বলে,
    ব্যাকুল বালিকারে নাহিকো মায়া।

    প্রাণ তাহার কাঁদে–

    কোথা সে খোলা মাঠ          উদার পথঘাট
    পাখির গান কই, বনের ছায়া!

    কিন্তু ওই পর্যন্ত, ইহার বেশি আর কবিবরের মানসী-প্রতিমার সঙ্গে এই মেয়েটির কিছু মিলে না। তাহার কারণ বোধ হয় এই যে, প্রত্যেক ব্যাপারেই ইহার নিজস্ব মতামত খুব দৃঢ় এবং স্পষ্ট। যাহা ভাল লাগে তাহা চাইই; যাহা লাগে না, তাহা চাই না। সিঁদূরে আমের লোভে যেদিন গাছের মগডালে উঠিয়া জীবন সঙ্কটাপন্ন করিয়াছিল, সেদিনও ছিল এই কথা; আর আজ, ভাল না লাগার দরুন, কলিকাতা ছাড়া চাই বলিয়া যেসব ফন্দি-ফিকির মনে মনে আঁটিতেছে, তাহারও মূলে সেই একই কথা।

    মেয়েটির নাম চপলা। নাম যখন রাখা হইয়াছিল, সে সময় সকলের দৃষ্টি ছিল ওর মায়ের কাঁচা সোনার রঙটির দিকে; এবং কাহারও আর সন্দেহ ছিল না যে, এমন মায়ের মেয়ের দেহলতাটির মধ্যে একদিন বিদ্যুতের চপলদীপ্তি শান্তশ্রীতে ফুটিয়া উঠিবে। মেয়েটি যেন তাহার স্বভাবসিদ্ধ অবাধ্যতার বশেই সবাইকে এই দিক দিয়া নিরাশ করিয়া দিল। কিন্তু তবু নামটা রহিল সার্থক। আকাশের বিদ্যুৎ কেমন করিয়া সত্যই যেন ওর শ্যাম দেহটুকুর মধ্যে আটক পড়িয়া গিয়াছে; তাই ওর মিহি ভ্রু দুইটি কথায় কথায় বিদ্যুৎস্ফুরণের মতো অত কুঞ্চিত হইয়া উঠে, কালো চোখের তারা অত চঞ্চল এবং ঠোঁটের কোণে আচমকা হাসি ফুটিয়া একটু রেশ না রাখিয়াই অমন হঠাৎ মিলাইয়া যায়।

    কনে দেখানোর সময় বাপ পরিচয় দিয়াছিলেন, বড় শান্ত লক্ষ্মী মেয়ে আমার—এ কিছু বড়াই করে বলছি না। বাড়ির বাইরে পা দিতে জানে না, কলকাতায় বিয়ে হবার জন্যে যেন তোয়ের হয়ে জন্মেছে।

     

     

    আগাগোড়া বানানো কথা। ওর বাড়ি ছিল সদর-রাস্তা, বন-বাদাড়, দীঘির ধার। এখন সেখান হইতে তাহারা সর্বদাই ওকে যেন কান্নার সুরে ডাকিতে থাকে।

    আদুরে দুষ্টু মেয়ের মত অত্যাচারের দাগ স্নেহের পরতে পরতে আঁকা, আসন্ন বিচ্ছেদের সময় সেগুলো রাঙাইয়া উঠে। তবুও মেয়ের বাপ, তাঁহাকে বলিতেই হয়, “বুঝেছেন কিনা, আমার মা’র মতন শান্ত মেয়ে দুটি পাবেন না, এ কিছু নিজের মেয়ে বলেই যে বলছি তা নয়।”

    প্রবঞ্চনা ধরা পড়িতে অবশ্য দেরি লাগে নাই। শ্বশুর আপিস হইতে ফিরিয়া বাড়ির চৌকাঠ ডিঙাইয়া সঙ্গে সঙ্গেই ডাকেন, “কই গো, আমার শান্তশিষ্ট মা-টি কোথায় গেলে?”

    চপলা যেমন ভাবে যেখানেই থাকুক, লঘুগতিতে আসিয়া হাজির হয়। লঘুগতি কথাটা মোলায়েম ভাবেই বলা গেল, আসলে শ্বশুরের এই ডাকটিতে কলিকাতার অষ্টাবক্র বাড়িখানি হঠাৎ চপলার পক্ষে ঋজু সরল হইয়া যায়, কঠিন বিলাতী মাটির মেঝে বেলপুকুরের মাটির মতো পায়ের নীচে পরম স্নিগ্ধ মিঠা হইয়া উঠে। সে এক রকম গোটাকতক লাফেই শ্বশুরের নিকট আসিয়া পৌঁছায়, আবদারের ভর্ৎসনায় চক্ষের তারকা নাচিতে থাকে, চাবির গোছাসুদ্ধ আঁচলটা মাটি হইতে তুলিতে তুলিতে বলে, “না বাবা, আজ আপনি বড্ড দেরি করেছেন, তা বলে দিচ্ছি, হ্যাঁ।”

     

     

    দেরি যে রোজ হয়ই এমন নয়; তবে এই মিলনটুকুর মূল্য অনেক; তাই উৎকণ্ঠার বশে পুত্রবধূর রোজই মনে হয়, বড় দেরি হইয়া গিয়াছে। তাহারই রোজ অনুযোগ।

    শ্বশুর রোয়াকে নির্দিষ্ট ইজি-চেয়ারটিতে দেহখানা এলাইয়া দেন। বধূ পাখা আনিয়া হাওয়া করে, পায়ের কাছে বসিয়া জুতার ফিতা খুলিয়া পা দুইখানি খড়মের উপর বসাইয়া দেয়, চাদর খুলিয়া জামা নামাইয়া ঝাড়িয়া-ঝুড়িয়া রাখে।

    ধীরে ধীরে এই সব চলে আর গল্প হয়, “ঠিক হল বাবা? বড্ড যেন দেরি হয়ে যাচ্ছে; আমার আর মোটেই ভাল লাগছে না আপনার এই কলকাতা, হ্যাঁ।”

    “আর দেরি নেই মা, একটা বাড়ি ঠিক হয়েছে, খালি হলেই আমরা উঠে যাব।”

    শ্বশুর-বউয়ের পরামর্শ পাকা হইয়া গিয়াছে, কলিকাতায় আর থাকা হইবে না। কলিকাতার বাইরে বেশ পাড়াগাঁ দেখিয়া বাড়ি দেখা হইতেছে, ঠিক হইলেই সব উঠিয়া যাইবে।

     

     

    বধূকে শ্বশুর কোলের কাছে টানিয়া লন, মাথায় ধীরে ধীরে হাত বুলান, করতল হইতে স্নিগ্ধ আশীর্বাদ ঝরিতে থাকে। বাৎসল্যের প্রবঞ্চনায় মুখে শান্ত হাসি ফুটে, ভাবেন, এই দীর্ঘায়িত আশার মধ্য দিয়া পাড়াগাঁয়ের স্বপন কাটিবে, ক্রমে এই বাড়িরই ইটকাঠের সঙ্গে মনটা মায়ায় মায়ায় গাঁথিয়া যাইবে।

    স্বপ্ন কিন্তু কাটে না, বরং মনটা এদিকে বিরূপ হইয়া সেই স্বপ্নকেই মায়ার পাকে পাকে জড়াইয়া ধরে।

    অনামধেয় একটা জায়গা; কিন্তু কেমন করিয়া যেন মনের পটে তাহার একটা স্পষ্ট ছবি আঁকিয়া গিয়াছে। বেলপুকুরের সঙ্গে অনেকটা মিলে, ভিজে ভিজে কালচে মাটি, এখানে ওখানে গাছপালার ঘন সবুজ দিয়া ঢাকা, উপরের আকাশের নীল আস্তরণখানি উবুড় হইয়া পড়িয়াছে, পাশাপাশি দুইটি কোঠাঘর, সামনে পাকা রোয়াক, বিকালের পড়ন্ত রোদটি সেখানে জ্বলজ্বল করিতে থাকে। ওদিক পানে রান্নাঘর, সকাল-সন্ধ্যায় তাহার গোলপাতার ছাউনি ফুঁড়িয়া ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠে। পাকা ঘরের পাশ দিয়া রাস্তা। সেটা সদরদুয়ারের চৌকাঠ ডিঙাইয়া বাহির হইয়া গিয়াছে, ডাইনে জামরুল গাছের নীচে দিয়া। বাঁয়ে কাহাদের পুকুর, তাহার পুরানো ঘাটের শেষ রানায় কাহাদের ঘোমটা-টানা বউ বাসন মাজে, তাহার শাড়ির রাঙা পাড়ে আর ছোট রাঙা ঠোটের মাঝখানে নোলকটি দুলদুল করে। কে সমবয়সী আসিল, বউ হাতের উলটা দিক দিয়া ঘোমটা উঁচু করিয়া হাসিয়া কথা কয়।

     

     

    আর কিছু দূরে লতা-জড়ানো পুরানো আমগাছের দুই পাশ দিয়া রাস্তাটা ফিরিয়া দুই দিক দিয়া বাহির হইয়া গিয়াছে, আমগাছের শিকড়ের কাছে ইট নুড়ি খোলামকুচি রাংচিতের পাতার ছড়াছড়ি, তাহার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট পায়ের দাগ। মনটি এইখানেই আটকাইয়া যায়, যেন নিজেকেই দেখা যায়, গাছের তলায় লুব্ধ দৃষ্টিতে চাহিয়া আছে।

    অন্যমস্কতা হইতে হঠাৎ সজাগ হইয়া বধূ হাসিয়া বলে, “তা বলে আপনি যেন ভাববেন না বাবা, আমি কচি মেয়েদের মতো পাড়ায় পাড়ায় খেলাঘর রচে কাটাব—সে ভয় আপনার একটুও নেই বলে দিচ্ছি। কিন্তু দেরি করলে হবে না, হ্যাঁ।”

    মন ভুলাইবার দিকে স্বামীর চেষ্টারও ত্রুটি নাই। ছোট বোন ক্ষান্তমণির উপর হঠাৎ অত্যধিক স্নেহপ্রবণ হইয়া পড়িয়াছে। বলে, “ক্ষেন্তী, চিড়িয়াখানায় একটা নতুন জন্তু এসেছে, যাবি নাকি দেখতে?”

    ক্ষান্তমণি উৎসাহের সহিত বলে, “হ্যাঁ, যাব!” তারপর হঠাৎ একটু সঙ্কুচিত হইয়া মিনতি করে, “একটা কথা রাখবে দাদা?”

     

     

    “কি কথা আবার?”

    “বউদিকেও—।” আর শেষ করিতে সাহস করে না।

    “হ্যাঁ, অত লোকের ঝক্কি বওয়া—সে আমার কুষ্টিতে লেখে নি।”

    এই করিয়া চিড়িয়াখানা, মিউজিয়াম, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হইয়া গিয়াছে! রাত্রে স্বামী উৎসাহভরে বলে, “এইবার কি দেখবে বল—ডালহৌসী স্কোয়ার, হাওড়া স্টেশন?”

    বধূ নাসিকা কুঞ্চিত করিয়া বলে, “কিছু না।”—বলিয়া ফিরিয়া শোয়।

    অনেক সাধাসাধি চলে, “কলকাতায় এত দেখবার জিনিস রয়েছে, দেশ-বিদেশ থেকে লোক আসছে দেখতে—গড়ের মাঠ, গঙ্গার জাহাজ, কত বড় বড় বাড়ি, ওপরে চাইতে গেলে ঘাড় উলটে পড়ে—”

    “পড়ুক গিয়ে ঘাড় উলটে যার সাধ আছে, আমার কলকাতার কিচ্ছু ভাল লাগে না; আমায় বাড়ি দিয়ে এস।”

     

     

    “কলকাতার কিছুই ভাল লাগে না। আমরাও তো কলকাতার—আমি তো—”

    ঝাঁজিয়া উত্তর হয়, “তোমাদের কাউকেও ভাল লাগে না; যারা কলকাতা ভালবাসে, তাদের দু চক্ষে দেখতে পারি না।”

    দারুণ নিরাশার কথা।

    পরের দিন ভগ্নীস্নেহে আবার জোয়ার আসে। প্রশ্ন হয়, “কই রে ক্ষেন্তী, শিবপুরে রামরাজাতলার মেলা ফুরিয়ে এল, একদিনও তো গেলি নি? দিব্যি পাড়াগেঁয়ে পাড়াগেঁয়ে জায়গাটি, আমার তো বড্ড ভাল লাগে।”

    আজ তিন বৎসর দাদার খোশামোদ করিয়া ফল হয় নাই; বলিলেই ‘অজ পাড়াগাঁ, এঁদো ডোবা’ বলিয়া নাক সিঁটকাইয়াছে। আজ বিধি অত অনুকূল!

    ক্ষান্তমণি হাতের কাজ ফেলিয়া ছুটিয়া হাজির হয়, “হ্যাঁ দাদা, যাব। আর একটি কথা দাদা শুনবে? বউদিদিকেও নিয়ে চল দাদা, আমার দিব্যি। আহা, বেচারী গো, পাড়াগাঁয়ের কথা বলতে বলতে আত্মহারা হয়ে ওঠে।”

     

     

    দাদা রাগিয়া বলে, “ওঃ–ই, আপনি পায় না, আবার শঙ্করাকে ডাকে! ওইজন্য কোথাও তোকে নিয়ে যেতে ইচ্ছে হয় না।”

    ২

    —রামরাজা কি বাতাই-চণ্ডীতলা হইতে ফিরিয়া ফল হয় উলটা। পিঁজরার পাখি একবার ছাড়া পাইয়া আবার পিঁজরায় বন্ধ হইলে যেমন অতিষ্ঠ হইয়া উঠে, মেয়েটির অবস্থা হয় সেই রকম। প্রাণটা আইঢাই করে। প্রতিমুহূর্তে বেলপুকুরের কোনো না কোনো একটা ছিন্ন দৃশ্য চোখের সামনে ভাসিয়া উঠে; কথায় কথায় ভুল হয়, ঝিকে ডাকিতে বাপের বাড়ির দাসী পদীপিসির নাম মুখে আসিয়া পড়ে; ননদকে ডাকিতে বাহির হইয়া পড়ে, ‘সই!’

    ননদ দুই-একবার ভুলটা ভুলের হিসাবেই ধরে, শেষে ‘এই যে আসি সই’ বলিয়া হাসিতে হাসিতে সামনে আসিয়া দাঁড়ায়। বলে, “মরণ! বলি তোমার হয়েছে কি আজ? দাদা এলেই বলব, তোমার বুনো হরিণকে বনে ছেড়ে দিয়ে এস।”

    বন্য মৃগ নিজেই সে ব্যবস্থায় তৎপর হইয়া উঠে; কলিকাতায় থাকা চলিবে না, কোনমতেই নয়।

     

     

    শ্বশুরকে বলে, “আমি বলছিলাম বাবা—”

    “হ্যাঁ মা, বল।”

    “এই বলছিলাম, মাস তিনেক পরেই তো আপনি কাজ নিয়ে কমাসের জন্যে ঢাকা চলে যাবেন! এর মধ্যে আমাদের আর নতুন বাসা করে কাজ নেই। আপনারও অসুবিধে বাবা, আর বাসা-বদলির একটা হিড়িকও তো কম নয়, খরচও এতগুলি, এই মাগি-গণ্ডার দিন—”

    শ্বশুর নিজের চিকিৎসার এ রকম আশু সাফল্যে উল্লসিত হইয়া উঠেন, শুধু পাড়াগাঁয়ের নেশা কাটিয়া যাওয়া নয়, সঙ্গে সঙ্গে গৃহিণীপনার গাম্ভীর্য আসিয়া পড়া একেবারে। বধূর মাথাটি নিজের বুকে চাপিয়া বলেন, “ঠিকই তো মা। দেখ তো, কথাটা আমার মাথায়ই ঢোকে নি। আর বুড়ো হতে চললাম, এইবার মা-ই আমাদের বুদ্ধি দেবে কিনা। আমি তা হলে ওদের খোঁজাখুঁজি করতে বারণ করে দোব। ঢাকা থেকে ফিরে আসি, তখন বরং একটা পাকা রকম ব্যবস্থা করা যাবে, কি বল?”

     

     

    “হ্যাঁ।”—বলিয়া শ্বশুরের বুকে মাথাটি আরও গুঁজিয়া দেয়। ক্ষণেকের জন্য বোধ হয় একটু দ্বিধা আসে, সেটুকু কাটাইয়া ধীরে ধীরে আরম্ভ করে, “তাই বলছিলাম বাবা—”

    “হ্যাঁ মা, বল—বল।”

    “এই বলছিলাম, ততদিন না হয় আমাকে একবার বেলপুকুরেই রেখে আসুন না।”

    রোগটা মজ্জাগত; অমন ভাবে নিরাশ হইয়া চিকিৎসক হাসিবেন, কি কাঁদিবেন, স্থির করিতে পারেন না। চিকিৎসার নূতন প্রণালী আবিষ্কার করিতে হয়। এই করিয়া দিন চলে। শ্বশুরের পাঠানোর যে সেরকম গা নাই—এ কথাটা ক্রমেই স্পষ্ট হইতে স্পষ্টতর হইয়া উঠে।

    শাশুড়ির কাছে চালাকি করিতে সাহস করে না; কারণ শাশুড়ি ব্যাটা ছেলে নয়, এবং সেইজন্য, তাহার মতে, বোকা নয়! সোজাই কথাটা পাড়ে—বাপ, মা, ভাই, ছোট বোনটি এদের অনেক দিন দেখে নাই, তাই—”

     

     

    শাশুড়ি চোখ কপালে তুলিয়া বলেন, “ওমা, অমন কথা বলো না বউমা। এই তো মোটে কটা মাস এসেছ, আমি সেই মোটে ন বছরের মেয়েটি শ্বশুরঘর করতে এলাম, আর ঝাড়া তিনটি বছর কাটিয়ে—”

    চপলারও আশ্চর্যের সীমা থাকে না। বলে, “এই কলকাতায় মা?”

    “পোড়া কপাল! কলকাতা কোথা? তা হলে তো বাঁচতাম। শ্বশুর থাকতেন ডাহা পাড়াগাঁয়—মাঝেরপাড়া! নাইবে? সেই আধ কোশ ভেঙে ইচ্ছেমতী। খাবার জল চাই? সেই আধ কোশ ভেঙে ইচ্ছেমতী! গা ধোবে? সেই আধ কোশ—”

    বধূ আর প্রাণ ধরিয়া শুনিতে পারে না। “ওইঃ বেড়ালটা বুঝি কি ফেললে গো!” বলিয়া হয়তো হঠাৎ সে স্থানত্যাগ করে।

    স্বামীর উপর উপদ্রব হয়! সে বেচারী জর্জরিত হইয়া অভিমান করিয়া বলে, “বেশ তো, বাবাকে মাকে রাজী করাও; আমার রেখে আসতে কি? আমায় যখন ভালই বাস না, মিছিমিছি এখানে থেকে কষ্ট পাও কেন?”

     

     

    অবাধে মিথ্যা বলে, একেবারে নির্জলা মিথ্যা, “বাবা মা তো খুবই রাজী। বাবা বললেন, আমার তো ছুটি নেই; অজিতকে বললেই বলবে, পড়ার ক্ষতি হবে, না হয়, আসুক না রেখে। মা বলেন, আমার আর কি অমত মা; আহা, এতদিন এসেছ, তবে আজকাল হয়েছে ছেলের মত আগে। তা তুমি ঠিক এই রকম করে মাকে বল তো। বল, মা, অত ঘ্যানঘ্যান করছে যখন, রেখেই আসি নয় দিন কতকের জন্যে; বাবাকে বলে দিও আমার কলেজের ক্ষতি হবে না।”

    স্বামী অতটা বোকা নয়, এ ফন্দি খাটে না।

    কয়েক দিন আবার মুখ অন্ধকার হইয়া থাকে; কথাবার্তা বন্ধ। যত সব বেয়াড়া আবদার ভাবিয়া স্বামীও কয়েক দিন বেপরোয়া ভাবাটা জাগাইয়া রাখে, তাহার পর তাহাকেই মাথা নোয়াইতে হয়। বলে, “যা হবার নয়, তাই ধরে বসে থাকলে চলবে কেন? বরং চল, দক্ষিণেশ্বর দেখিয়ে নিয়ে আসি, পাড়াগাঁকে পাড়াগাঁও, কলকাতা থেকে অনেক দূরও; বালি হয়ে গেলে বরং নৌকোও চড়া হবে; রাজী?” পরামর্শ আঁটা হয়; দুপুরে ক্ষান্ত যখন স্কুলে থাকিবে, চপলা গিয়া শাশুড়ির আদেশ চাহিয়া লইবে মিউজিয়াম দেখিবার নাম করিয়া।

    বধূ জিজ্ঞাসা করে, “তোমারও তো কলেজ আছে?”

    “আমার ঘণ্টাখানেক মাথা ধরবে, তারপর ক্ষেন্তী চলে গেলে ভাল হয়ে যাবে।”

    কথাটা বুঝিতে একটু দেরি হয়, চপলা স্বামীর মুখের দিকে একদৃষ্টে চাহিয়া থাকে, শুধু ভূ-জোড়াটি অল্প অল্প স্ফুরিত হইতে থাকে। তাহার পর হঠাৎ খিলখিল করিয়া হাসিয়া উঠে, বলে “ও, বুঝেছি। বাব্বাঃ, তোমার দুষ্টু বুদ্ধ কম নয় তো!”

    .

    প্রশস্ত শান্ত গঙ্গায় নৌকা চড়িয়াই চপলার মনটা প্রসারিত হইয়া পড়ে। ও-পারে প্রকাণ্ড ঘাটের নীচে গিয়া নৌকা লাগে। নামিয়াই একহাঁটু করিয়া কাদা, এত বড় বিলাসিতা অনেকদিন তাহার ভাগ্যে জুটে নাই। পা টানিয়া টানিয়া চলিতে স্বামীর হাতটা চাপিয়া ধরে। বলে, “উঃ, বড্ড মজা, না?”

    সিঁড়ি বাহিয়া সুবিস্তীর্ণ চত্বর, যে দিকটা ইচ্ছা হনহন করিয়া অনেকটা চলিয়া যায়, পায় পায় কতদিনের শৃঙ্খল যেন খসিয়া পড়িতেছে। মন্দিরে উঠে, সুগঠিত সৌম্য মূর্তির সামনে মাথা নোয়াইয়া থাকে অনেকক্ষণ; কিছুই প্রার্থনা করে না, পড়িয়া থাকার মুক্ত অবসর, তাই পড়িয়া থাকে। গঙ্গার ধারে ধারে পরিষ্কার চওড়া রাস্তা, ঘন আমগাছের মস্ত বাগান, পাতার গাঢ় সবুজে সবুজে যেন অন্ধকার হইয়া গিয়াছে, পিছনে আয়ত পুষ্করিণী, বেলপুকুরের দীঘির মতো, একটু ছোট এই যা! ক্রমাগত ঘোরে, একটি মুক্ত বেগচঞ্চল প্রাণ প্রতি মুহূর্তে দেহতটে আসিয়া উচ্ছলিত হইয়া পড়ে—চপল অঙ্গবিক্ষেপে, প্রগল্ভ হাসিতে, কথার অসংযত স্বরে; মাঝে মাঝে পিছন ফিরিয়া চাহিয়া বলিয়া উঠে, “কই গো! ওমা, এখনও ওখানে। পুরুষের পা না?”

    পুকুরের ঘাটে আসিয়া বসিল। পা দুলাইতে দুলাইতে পাশের লতাগুল্মের সঙ্গে স্বামীকে পরিচিত করিয়া দিতে লাগিল, “ওটা ঘেঁটু, ঘেঁটুফুল মহাদেব খুব ভালবাসেন, সত্যিকারের মহাদেব নয়- খেলাঘরের মহাদেব। আচ্ছা, এর মধ্যে অমূললতার গাছ কোথায় দেখাও দিকিন, কত বুদ্ধিমান দেখি! পারলে না তো? ওই দেখ, কলকে ফুলের গাছটার মাথার ওপর ওই হলদে হলদে—ভয়ঙ্কর বিষ মশাই। একটু যদি গেল পেটে তো বাড়তে বাড়তে—ওগো, কুচকম্বলের চারা—নিশ্চয়ই এক্কেবারে। নিয়ে আসি তুলে।”

    উৎসাহের সঙ্গে নামিয়া ক্ষিপ্রগতিতে পুকুরপারে জঙ্গলের দিকে চলিল। ঝিরঝিরে- পাতা ছোট চারাগাছটি, হাওয়ায় নধর ডগাটি একটু একটু দুলিতেছে। কাছে গেল তুলিবার জন্য, ঝুঁকিয়া কি ভাবিয়া থামিয়া গেল, তাহার পর ধীরে ধীরে ফিরিয়া আসিয়া আবার শানের বেঞ্চিটার উপর বসিয়া পড়িল।

    স্বামী হাসিয়া বলিল, “কি হল আবার? খেয়ালী মেয়ে!”

    “নাঃ, থাক্; কলকাতায় সেই মাটির টবে তো? আমার মতন দুর্দশা হবে বেচারীর।”

    দুইজনেই খানিকক্ষণ চুপ করিয়া রহিল। একটু পরে চপলা স্বামীর হাতটা নিজের কোলে লইয়া বলিল, “এক কাজ করলে হয় না? বলছিলাম—বলছিলাম, আমায় এই দিক থেকেই বেলপুকুরে রেখে আসবে?”

    অজিত হাসিয়া দুষ্টুমির সহিত বলিল, “বেশ তো। টাকা?”

    “আমার দু হাতের দুগাছা চুড়ি দিচ্ছি।”

    স্বামী কি ভাবিয়া আবার একটু চুপ করিয়া রহিল; তাহার পর বলিল, “সে মন্দ কথা নয়; মাকে কিন্তু কি বলব?”

    “সে আমি ভেবে রেখেছি, বলবে—নাইতে গিয়ে ডুবে গিয়েছে।”

    আবার একটু চুপচাপ। চপলা তাগাদা দিল, “কই, কি বলছ?”

    স্বামীর হঠাৎ একটি দীর্ঘনিশ্বাস পড়িল; কিন্তু মনের ভাবটা গোপন করিয়া হাসিয়া বেশ উৎসাহের সঙ্গে বলিল, “উঃ, খাসা হয়; কিন্তু তারপর?”

    “তারপর অনেক দূর গিয়ে ভেসে উঠব, আমায় একজন মাঝি তুলবে, একটু চোখ খুলে বেলপুকুরের নাম করব—নভেলে যেমন হয় গো—”

    “নভেলে মিউজিয়ামের কোঠাবাড়িতে কেউ ডুবে মরে না। চল, ওঠ, বেলা পড়ে এল।” বলিয়া স্বামী উঠিয়া পড়িল।

    শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী—সবাইকে বোঝা যায়। চপলা মনে মনে বলে, খুব চালাক সব; আচ্ছা, আমিও কম সেয়ানা নয়, দেখি!

    বাবার কাছে গোপনে পত্র যায়—কাঁদুনিতে, মিথ্যা কথায় ভরা; এরা সব মারে-ধরে, চাবি দিয়ে রাখে—দু চক্ষের বিষ হয়ে আছি। কখনও কখনও এমন থাকে। পাড়ার মেয়েদের কাছে আমার আর মুখ দেখাবার জো নেই; যে-ই দেখে, বলে, ওমা, কেমন পাষাণ বাপ-মা গো! এতদিন হল মেয়েকে পাঠিয়েছে, একবার নিয়ে যাবার নাম করে না! ওই দুধের মেয়ে—

    চিঠি যা আসে, তাহাতে এ সবের উত্তর হিসাবে কিছুই থাকে না; একরাশ উপদেশ থাকে মাত্র! চপলা মনে মনে বলে, চপীর ভাগ্যে সব সমান। আচ্ছা, বেশ।

    ৩

    গ্রীষ্মের দুপুরবেলা। শ্বশুর আপিসে, স্বামী কলেজে, ননদ স্কুলে! চপলা শাশুড়ি আর পিসশাশুড়িকে রামায়ণ পড়িয়া শুনাইতেছিল, তাঁহারা একে একে ঘুমাইয়া পড়িলেন। একটু পরে বই বন্ধ করিয়া বাহিরে আসিল। রামায়ণে তিনজন আসিয়া পঞ্চবটী বনে বাসা বাঁধিয়াছেন। ঠিক এই জায়গাটিতে শাশুড়িরা ঘুমাইয়া পড়িলেও চপলা বিন্ধ্যকাননের সেই অপূর্ব বর্ণনা শেষ না করিয়া উঠিতে পারে নাই। অযোধ্যার রামচন্দ্রর চেয়ে পঞ্চবটীর রামচন্দ্রকে বেশি ভাল লাগে। কাননচারিণী সীতার উপর একটা ঈর্ষামিশ্রিত সহানুভূতি জাগিয়া উঠিয়া মনটাকে তৃপ্তি আর অস্বস্তি—দুইয়েই ভরিয়া তোলে।

    বারান্দায় আসিয়া দাঁড়াইল। চাওয়া যায় না। মনে হয়, সারা কলিকাতাটায় যেন আগুন লাগিয়াছে, উঁচু নীচু লক্ষ বাড়ির দেওয়াল বাহিয়া ছাত কুঁড়িয়া শিখা লকলক করিয়া উঠিতেছে—কি এক রকম সাদাটে নীল আগুন, যাহাতে একটু ধোঁয়ার স্নিগ্ধতা নাই। এই সময়ে বেলপুকুরের কথা বেশি করিয়া মনে পড়ে, দীঘির পাড়ে সেই অন্ধকার সপ্তপর্ণীগাছের তলা, কালো জলের উপর তরতরে ঢেউ।

    “চিঠি আছে।” সঙ্গে সঙ্গে সদর-দরজায় পিয়নের মুঠির ঘা পড়িল। চপলা তাড়াতাড়ি নামিয়া যাইতে যাইতে দরজার ফাঁক বাহিয়া একখানি পোস্টকার্ড উঠানে আসিয়া পড়িল। বাবার চিঠি-শ্বশুরকে লেখা।

    পড়িল। মামুলী চিঠি, তাহার বিশেষ উল্লেখও নাই। ‘আশা করি, বাড়ির সর্বাঙ্গীণ কুশল’-এর মধ্যে আর মামুলী আশীর্বাদে সে যতটুকু আসিয়া পড়ে।

    স্বামীর পড়িবার ঘরে গিয়া বসিল। এটা সেটা লইয়া খানিকটা নাড়াচাড়া করিয়া আবার বাবার চিঠিটা লইয়া পড়িল। বাবার চমৎকার লেখা। এদের বাড়িতে কাহারও লেখা এমন নয়। বলিতে নাই—গুরুজন, কিন্তু শ্বশুরের লেখা তো একেবারে বিশ্রী! স্বামীর লেখাটা অত খারাপ নয় বটে, তবুও বাবার লেখার সামনে ঘেঁষিতে পারে না।

    স্বামীর গানের খাতাটা টানিয়া লইয়া তুলনা করিতে লাগিল।—কিসে আর কিসে! ডাগর ডাগর ছাপার মতো অক্ষর, ওপরে ঢেউখেলানো মাত্রা, এ এক জিনিসই; স্বামী বলে, একটু কাঁচা লেখা। কি সব পাকা লেখা যে নিজেদের!

    লেখার দিকে বাবার ঝোঁক ছিল বড্ড; চপলাকে লইয়াও অনেকটা চেষ্টা করিয়াছিলেন। একেবারে বাবার মতো লেখা হওয়া বরাতের কথা, তাহা হইলেও স্বামীকে সে খুবই হারাইয়া দিতে পারে।

    লেখার কথাতেও বেলপুকুর আসিয়া পড়ে। বাবা-মায়ের মধ্যে তর্ক হইতেছে। বাবা বলিতেছেন, চপীর লেখা দেখেই তো ওর শ্বশুর পছন্দ করে ফেললে।

    মা বলিতেছেন, আর ওর অমন চোখ মুখ গড়ন বুঝি কিছুই নয়?

    আজকাল শ্বশুরবাড়িতে নানা মুখে প্রশংসা শুনিয়া মায়ের গুমরের চোখ মুখ গড়ন সম্বন্ধে একটা কৌতূহল হইয়াছে, একটা সজ্ঞানতা আসিয়া পড়িয়াছে। টেবিলের উপর হইতে হাত-আরশিটা তুলিয়া লইয়া প্রতিচ্ছায়ার দিকে চাহিল—হাসি-হাসি সলজ্জ, যেন অন্য কাহার চোখ। বাপের বাড়ির আরশিতে এ রকম ছায়া পড়িত না; যত চায়, চোখ দুইটা যেন লজ্জায় ভরিয়া আসে।

    “ছাই চোখ মুখ, ছাই গড়ন।” বলিয়া আরশিটা রাখিয়া দিল। অন্যমনস্ক হইয়া কলমটা লইয়া পোস্টকার্ড লিখিতে লাগিল,—”অনেকদিন যাবৎ আপনাদের কোনো সংবাদ না পাইয়া”–ঘাড় নাড়িয়া নাড়িয়া মিলাইতে লাগিল। বেশ একটু আদল আসে বাবার লেখার মতো। তবুও অনেক দিন অভ্যাস ছাড়িয়া গিয়াছে।

    কি রকম একটা ঝোঁকের বশে লিখিতে লাগিল, অনেকদিন যাবৎ, অনেকদিন যাবৎ, দুই বার, চার বার, আট বার—দশ বারেরটা অনেকটা মেলে। এখনও আছে তফাৎ, তবে বাপের মেয়ের লেখা বলিয়া দিব্য চেনা যায় বটে। হঠাৎ কথাটা যেন মাথায় পাক দিয়া ঘুরিতে লাগিল, বাপের মেয়ের লেখা—বাপের মেয়ের লেখা—

    চপলা আস্ত আস্তে কলমটা রাখিয়া দিয়া জানালার বাহিরে চাহিয়া দাঁতে নখ খুঁটিতে লাগিল। দৃষ্টি স্থির, ভ্রু দুইটি কুঞ্চিত হইয়া খয়েরের টিপটির কাছে একসঙ্গে মিলিয়া গিয়াছে। ক্রমে তাহার বুকের ঢিপঢিপানিটা বাড়িয়া গেল, সমস্ত মুখটা উজ্জ্বল হইয়া উঠিল এবং ঠোঁটের কোণে নিতান্ত অল্প একটু হাসির আভাস ফুটিয়া উঠিল। বাপের মেয়ের লেখা, আর যদি ওটুকু তফাতও মিটাইয়া ফেলা যায়!

    মাথার মধ্যে একটি মতলব জাঁকিয়া উঠিতেছে, চপলা একমনে সেটিকে বেশ ভাল করিয়া পরিস্ফুট করিয়া তুলিল। একবার উঠিয়া একটু ঘুরিয়া আসিল। শাশুড়িরা অকাতরে ঘুমাইতেছেন। ঘড়িতে মোটে একটা বাজিয়াছে। স্বামীর কলেজ বোধ হয় আজ চারটা পর্যন্ত। এখনও ঢের সময়।

    ঘরে আসিয়া পোস্টকার্ডটি সামনে, বইয়ের তাড়ার গায়ে হেলান দিয়া রাখিল, তাহার পর কতকগুলো কাগজ লইয়া ইস্তক শ্ৰীশ্রীদুর্গা সহায় হইতে শ্রী অখিলচন্দ্র দেবশর্মণঃ পর্যন্ত সমস্তখানি নকল করিতে লাগিয়া গেল।

    দুইটা বাজিয়া গেল, আড়াইটা, তিনটা। কপালের ঘাম মুছিয়া মুছিয়া আঁচলখানি ভিজিয়া গিয়াছে। তা যাক; ওদিকে প্রত্যেক অক্ষরের বাঁক, কোনকান, মাত্রা একেবারে বাবার লেখার মতো হইয়া দাঁড়াইয়াছে, মেয়ে লিখিয়াছে বলিয়া চিনুক দেখি কে চিনবে!

    তাহার পর আসল কাজ, যাহার জন্য এত মেহনত। বাপের চিঠি হইতে অক্ষর বাছিয়া একটা আলাদা কাগজে সন্তর্পণে লিখিল—”

    পুনশ্চ। আর বৈবাহিক মহাশয়, আপনার বেহান কদিন থেকে একেবারে শয্যাধরা। একবার চপুকে দেখিবার জন্য বড়ই ব্যাকুল হইয়াছেন। শ্রীমান অজিত বাবাজীবনের সহিত অতি সত্বর পাঠাইয়া দেন তো ভাল হয়। ইতি—শ্রীঅখিলচন্দ্র দেবশর্মণঃ

    কাগজখানি পোস্টকার্ডের পাশে একেবারে সাঁটিয়া ধরিল। অবিকল বাবার লেখা। চপলা লেখাটুকু আরও আট-দশ বার ভাল করিয়া মক্‌শ করিয়া লইল, তাহার পর সর্বসিদ্ধিদাত্রী দুর্গাকে স্মরণ করিয়া সমস্তটুকু বাবার পোস্টকার্ডে ঠিকানা লেখার দিকে খালি জায়গাটুকুতে সাবধানে লিখিয়া ফেলিল।

    লিখিয়াই তাহার মুখটা শুকাইয়া গেল, কলমটা রাখিয়া বলিল, “ওই যাঃ!”

    ঠিকানার কালির সঙ্গে এ কালির মোটেই মিশ খায় না। উল্টাইয়া-পাল্টাইয়া দুই পিঠ তুলনা করিতে লাগিল। না, স্পষ্ট বুঝা যাইতেছে, আজকের সদ্য লেখা। এ চিঠি দিলেই তো সর্বনাশ! আবার না দেওয়াও বিপজ্জনক! এখন উপায়!

    ভাবিতে ভাবিতে সে নিতান্তই বিচলিত হইয়া উঠিল এবং তাহার কাজটা ক্রমে একটা অপরাধের আকারেই তাহার মনে প্রতীয়মান হইয়া উঠিতে লাগিল। ব্যাকুল হইয়া বলিল, “এ কি করলে মা দুর্গা? তা হলে লেখাতে গেলে কেন অত করে মা?”

    চপলার এখন বিশ্বাস, মা দুর্গা নিজের অন্যায়টুকু বুঝিতে পারিয়া হঠাৎ তাহার মাথায় আর একটু বুদ্ধি আনিয়া দিলেন। সে তাড়াতাড়ি নিজের ঘরে গিয়া বাক্স খুলিয়া একটি চিঠি বাহির করিল, কাল দুপুরে বসিয়া সইকে খানিকটা লিখিয়াছিল, এখনও শেষ হয় নাই! কম্পিত বক্ষে চিঠিটার ভাঁজ খুলিয়া পোস্টকার্ডে বাবার লেখার পাশে ধরিল, এক্কেবারে এক কালি। আশ্বস্ত হইয়া নিজের মনে বলিল, “মা যে বলেন, ভাল কাজে বিঘ্নি অনেক’, তা মিছে নয়। যাক, কেটে গেল।”

    বিকেলে আসিয়া শ্বশুর অভ্যাসমতো জিজ্ঞাসা করিলেন, “আজ কোনো চিঠি-ফিটি এসেছিল গা শান্ত মা?”

    চপলা একটুও দ্বিধা না করিয়া উত্তর দিল, “কই, না তো বাবা।”“

    একটু পুরানো হইয়া দুই রকমের কালির গরমিল মিটাইয়া চিঠিটা আসিল তাহার পরদিন; উঠানের এক পাশেই পড়িয়া ছিল, শাশুড়ি তোলেন। শ্বশুর বালিশের নীচে আপিসের চাবি রাখিতে গিয়া আপনিই পাইলেন। চপলা সেদিন বাড়িতে ছিল না তখন

    পাশের বাড়ির হইতে বেড়াইয়া আসিয়া নিজের ঘরে ঢুকিয়া পড়িল। কেমন যেন শ্বশুরের সামনে আসিতে পা উঠিতেছে না, বুকটা ধড়াস ধড়াস করিতেছে।

    ডাক পড়িল—”কই গো, চঞ্চলা মাকে আজ দেখতে পাচ্ছি না কেন?”

    যতটা সম্ভব সহজভাবেই আসিয়া দাঁড়াইল। “কি বাবা?”—বলিয়া মুখ তুলিতেই চোখের পাতা কিন্তু নামিয়া আসিল।

    “অমন শুকনো কেন মা? আজ ঘুমোও নি, না? এঃ-ই, দেখেছ দুষ্টু পাড়া-বেড়ানী মেয়ের কাণ্ড!” কাছে টানিয়া লইলেন, “অসুখ করবে যে। বাবার চিঠি এসেছে, দেখেছ?”

    “কই, না।”—চোখ তুলিতেই আবার সঙ্গে সঙ্গে নামিয়া পড়িল। মুখটাও একটু রাঙা হইয়া উঠিয়াছে। শ্বশুর দেখিলেন, পাগলী মেয়ে বাপ লইয়া যান না বলিয়া চিঠির নামেই অভিমান; কটা দিনই বা সে আসিয়াছে, তাহা তো হিসাব করিয়া দেখিবে না।

    বলিলেন, “এসেছে। আর তোমায় একবার যেতে লিখেছেন বেয়াই মশাই।” আসল কথাটি জানাইবেন কি না ভাবিতে লাগিলেন; কদিন থেকে শয্যাধরা, বেশ ভাবনায় কথা। বলিলেন, বেয়ান-ঠাকরুণের একটু অসুখ লিখেছেন। কিন্তু কেমন যেন একটু খাপছাড়া খাপছাড়া, হঠাৎ শেষের দিকে পুনশ্চ দিয়ে একটু লেখা। আর, এই সেদিন চিঠি এল, কিছু তো লেখেন নি! যাই হোক, অজিত গিয়ে একবার তোমায় রেখে আসুক।”

    সফলতার আনন্দে শরীর-মনের সঙ্কোচটা কাটিয়া যাইতেছে; বুদ্ধিও খুলিতেছে। চপলা বলিল, “খাপছাড়া যে বলছেন বাবা, বোধ হয় মনটা সুস্থির নেই, তাই আগে লেখেন নি।”

    বাপের অসঙ্গতির জন্য কন্যার দুশ্চিন্তা লক্ষ্য করিয়া এবং অদ্ভুত জবাবদিহি শুনিয়া শ্বশুর হাসিয়া উঠিলেন; বলিলেন, “বাপ নিশ্চয় গাঁজাটাজা খায়, উল্টো-সোজা জ্ঞানগম্যি নেই।”

    যাক, কথাটা চপলা পূর্বে অত খেয়াল করে নাই। বাবার গাঁজাখুরির অপবাদে যদি আপাতত ওটা চাপা পড়ে তো তাহার আপত্তি নাই।’

    মনে মনে খুশি হইয়া বলিল, “যান, ঠাট্টা করছেন আপনি।”

    মনে পড়িল, একটা কথা জিজ্ঞাসা করা হয় নাই, যাহা প্রথমেই জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল। প্রশ্ন করিল, “মার কি খুব অসুখ নাকি বাবা? আমার তো ভয়ে হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসছে। হঠাৎ যেতে বলা কেন বাপু!”—মুখটা বিমর্ষ করিবার চেষ্টা করিল! সরল আনন্দকে কৃত্রিম বিষাদে চাপা দিতে পারিল না। সেটুকু শ্বশুরের লক্ষ্য এড়াইল না, তবে বাৎসল্য নাকি নিজেকেই নিজে প্রবঞ্চিত করে, তাই ভাবিলেন, আহা, বড় ছেলেমানুষ, বাড়ি যাওয়ায় আহ্লাদেই ও এখন আত্মবিস্মৃত; ভালই, যত ভুলিয়া থাকে।

    উত্তর দিলেন, “না, এই সামান্য একটু জ্বর। তবে দেখতে চাইছেন, দেখে এস একবার।”—মুখে সহজ প্রফুল্লতার ভাব টানিয়া রাখিবার চেষ্টা

    বধূরও লক্ষ্য এড়াইল না। শ্বশুরকে প্রবঞ্চনা করার জন্য একটু অনুতাপও বোধ হয় হইল, আহা, বুড়া মানুষ, তায় গুরুজন। কিন্তু তখনই মনে পড়িল, আরও একটু প্রবঞ্চনা করা দরকার, উচিত হিসাবেও আবার ওই গোলমেলে চিঠিটা হস্তক্ষেপ করিয়া ফেলিবার জন্যও। বলিল, “কই, চিঠিটা তো দেখলাম না বাবা; কি লিখেছেন, দেখি না একবার। আমি যেন কিছু বুঝতে পারছি না বাপু।”

    শ্বশুর বলিলেন, “হ্যাঁ, এই যে।”

    এ পকেট সে পকেট খুঁজিলেন। বলিলেন, “কোথায় যে রাখলাম। দোব’খন খুঁজে। ভালই আছেন, এমন কিছু নয়! যাও, একবার পাঁজিটা নিয়ে এস দিকিন।”

    ভাবিলেন, একেবারে ‘শয্যাধরা’ লেখা রহিয়াছে, চিঠিটা দেখানো ঠিক নয়। আহা, নিতান্ত ছেলেমানুষ এ ক্ষেত্রে একটু প্রবঞ্চনা করাই ভাল। করিলেনও।

    বাক্সপত্র গুছাইতে গুছাইতে আবার হঠাৎ একটা কথা মনে উদয় হইয়া চপলার সর্বশরীর যেন শিথিল করিয়া দিল, শ্বশুর যে বাবাকে চিঠির উত্তর দিবেন। তাহা হইলেই তো সব কথা ফাঁস হইয়া যাইবে। আর তাহার পর যে লাঞ্ছনা, যে কেলেঙ্কারি, তাহা ভাবিতেও যে গা শিহরিয়া উঠে।

    এমনই অসহায় অবস্থা যে, মা দুর্গাকে খোশামোদ করিলেও কোনো সুরাহা হইবার নয়। মরীয়া হইয়া ধিক্কার দিল, “এই ছিল তোমার মনে মা শেষকালে? তোমারও বাপের বাড়ি আছে, পাগলের মতো ছুটে আসতে হয়!”

    যুক্তিটা নিশ্চয় মা দুর্গার মর্মে লাগিল। প্রথম ঘোরটা কাটিয়া গিয়া চপলার মাথাটা একটু পরিষ্কার হইল। শ্বশুরের কাছে গিয়া বলিল, “বাবা, বলছিলাম যে—”

    “হ্যাঁ মা, বল।”

    “এই বলছিলাম, আপনি বাবাকে চিঠিটা লিখে আমায় দিয়ে দেবেন, আমিও তার ওপর দুটো কথা লিখে ডাকে—”

    “চিঠি লিখে তো কোনো ফল হবে না মা, তোমরা তো কাল সকালেই যাচ্ছ। তাই ভাবছি—”

    “হ্যাঁ বাবা, থাক্।”—একটি স্বস্তির নিশ্বাস পড়িয়া বুকটা হালকা হইল।

    “তাই ভাবছিলাম, একটা না হয় টেলিগ্রাম—”

    সর্বনাশ! চপলা একেবারে কপালে চোখ তুলিয়া বলিল, “টেলিগ্রাম!”

    “হ্যাঁ মা, তাই ভাবছিলাম; কিন্তু হিসেব করে দেখছি, সেও তোমাদের গাঁয়ে তোমাদের আগে পৌঁছবে না।”

    আর একটি স্বস্তির নিশ্বাস। বাবা, ফাঁড়া যেন কাটিয়াও কাটে না।

    তাড়াতাড়ি বলিল, “হ্যাঁ, মিছিমিছি পয়সা খরচও, এই মাগি গণ্ডার দিন।”

    বুদ্ধির জোয়ার নামিয়াছে। একটু থামিয়া বলিল, “আর এও তো ভেবে দেখতে হবে বাবা, মা’র অমন অসুখ, এর মধ্যে খবর করে বাড়িতে এক টেলিগ্রাম! শেষকালে কি হতে কি হয়ে পড়বে; আপনিই বলুন না? তার চেয়ে আমার হাতে বরং ভাল করে চিঠি লিখে দেবেন, আমি গিয়েই বাবাকে দিয়ে দোব।”

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Next Article রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }