Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প222 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চিত্ত ও চিত্র

    হেমেন্দ্রনাথ মজুমদারের “অভিযান” চিত্রটি দেখিয়া )

    চিত্র-শিল্পের মডেল সে।

    পঙ্কে তাহার জন্ম; কিন্তু বোধ করি, বিধাতা সে কথা ভুলিয়া গিয়াছিলেন, তাহার অম্লান রূপ দেখিলে এই রকমই মনে হয়। মানুষও সে রূপের সমুচিত সম্বর্ধনা করিয়াছে; সুতরাং জীবনে তাহার ক্ষোভের আঁচড়টুকু পড়িতে পায় নাই। ‘বেলা’ বলিতে লোকে যেটুকু বুঝিত, অর্থাৎ সেরা ভাস্করের হাতে কোঁদা প্রস্তরমূর্তির মতো নিখুঁত নিটোল একটি দেহযষ্টি, তাহার যাহা পাওনা, লোকে তাহা অকার্পণ্যে মিটাইয়া আসিয়াছে। তাহার অভাব নাই কোনোখানেই—না রূপে, না যৌবনে, না আদরে, না অর্থে। জীবন-শতদলের সব পলাশগুলিই একটি একটি করিয়া ফুটিয়া উঠিয়াছে; আর সে ইহাকেই তাহার নারীত্বের চরম পূর্ণতা মানিয়া লইয়া ইহারই মাদকতায় বিভোর ছিল।

    শিল্পী তরুণ, নবীন তাহার প্রতিভা। বেলা সৌন্দর্যের রানী, আর হাবভাবের অলঙ্কার দিয়া সে সৌন্দর্য সাজাইতে দক্ষ; সুতরাং চলিল ভালোই। শিল্পীর প্রতিভার সহিত বেলা যেটুকু সংযোগ করিয়া দিত, তাহার ফলে চিত্রগুলি একেবারে অপরূপ হইয়া দাঁড়াইত। শিল্পী অন্তরের ভাবের ঐশ্বর্যে তন্ময় হইয়া মডেলকে কত ভঙ্গিমায় বসায়, শায়িত করে, কত ঠামে দাঁড় করায়, তাহার পর আঁকিবার আসনে আসিয়া দেখে তরুণী আবার তাহাতে পলকে শতগুণ সৌন্দর্য ফুটাইয়া তুলিয়াছে—কখনও সামান্য পাঁচটি অঙ্গুলির ললিত বিলাসে, কখনও নয়ন-কোণের কোথাও একটু কুটিল চপলতাকে সংযত করিয়া, কখনও গ্রীবার একটি অলস হেলনে, আবার কখনও বা এমন অনির্বচনীয় একটা কিছুর দ্বারা, যাহা অঙ্গের কোনোখানেই ঠিক ধরা পড়ে না, অথচ যা সৌরভের মতো সমস্ত অঙ্গটিকে আচ্ছন্ন করিয়া থাকে।

    শিল্পী পাগল হইয়া যায়। কি আঁকিবে সে? তুচ্ছ এ তুলির বর্ণে কতটুকু বা ধরা দেয়? বাস্তব যেখানে সীমাহীন, অনুকরণ তাহার কতটুকুকে সীমাবদ্ধ করিবে?

    বাহিরে তসবির প্রকাশিত হয়। রসজ্ঞেরা বাহবায় দেশের হাওয়া মাতাইয়া ভোলে। কিন্তু সে প্রশংসার উচ্ছ্বাস শিল্পীর মনের যেখানটা খালি থাকিয়া যায়, সেখানটা কিছুতেই পূৰ্ণ করিতে পারে না। দ্রষ্টারা দেখে যতখানি হইয়াছে, তাহাতে উল্লসিত হইয়া উঠে; চিত্রী ভাবে কতখানি যে হয় নাই তাহাই, তাহার অন্তরের হাহাকার শান্ত হয় না, অনায়ত্তের জন্য চিত্ত উদ্‌ভ্রান্ত হইয়া থাকে।

     

     

    এতই সুন্দর সে বেলা, আর এমনই মুগ্ধ সে চিত্রকর। কিন্তু এ মোহের মধ্যে একটা বিশেষত্ব ছিল। শিল্পী রূপটিকে মানুষ হইতে সম্পূর্ণ আলাদা করিয়াই দেখিয়া আসিয়াছে, এবং সেই জন্যই রূপের যে একটা বৈষয়িক দিক আছে, সেদিক দিয়াই তাহার সমাদর করিয়া আসিয়াছে। অর্থাৎ অর্থের বিষয়ে সে একেবারে উদার হইয়া পড়িল। বাঁধা মাহিনা যাহা ছিল বেলার, তাহার উপর সে কত পাইত, তাহার আর হিসাব ছিল না। ইহার কারণ ছিল, শিল্পী যে রূপ তুলির দ্বারা মাপিয়া উঠিতে পারিত না, তাহা অর্থের দ্বারা মাপিয়া অনেকটা আশ্বস্ত হইত। তাহার ছবির ক্রেতা যেমন সমুচিত মূল্য দিয়া তাহার ছবির সমাদর করিত, সেও বেলার মাধুর্য সম্বন্ধে সেই পন্থাই অবলম্বন করিয়াছিল, কারণ দাম জিনিসটা পরিমাপের একটা সুস্পষ্ট উপায়; মূল্য দিয়া বেশ সহজে অনেকটা বুঝানো যায়, জিনিসটার এই পরিমাণ কদর, এতটা যোগ্যতা।

    এ বন্দোবস্ত বেশ চলিয়া যাইতেছিল। বেলা নিয়মমত আসিত, বসিত; শিল্পী মনের মতো করিয়া তাহার ভঙ্গিমাটুকু চুনিয়া লইত। প্রয়োজনের বাহিরে দুই-একটা কথা কোনোদিন হইত, কোনোদিন বা হইত না। তাহার পর বেলার ছুটি হইয়া যাইত; আর শিল্পী রঙের সমাবেশে মশগুল হইয়া পড়িত।

     

     

    সাধারণত এরূপ ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীর মনস্তত্ত্ব লইয়া একটু গোলমাল হইয়া থাকে বটে; কিন্তু এ স্থলে সে ভয় ছিল না, কারণ মনের দিকটা, আকাঙ্ক্ষার দিকটা একেবারেই বাদ পড়িয়া গিয়াছিল উভয় তরফেই। তরুণ চাহিয়াছিল উৎকর্ষের দিকটায়। মডেলের কোন ভঙ্গিমাটিতে কতটুকু মধুরিমা ফুটিল, কতটুকু ইঙ্গিত হইয়াই রহিল; তাহার মধ্যে আবার সেই বা কতটুকু ছানিয়া লইতে পারিল, কতটুকু তুলির সূক্ষ্মতাকেও এড়াইয়া গেল—এই লইয়াই সে ব্যস্ত থাকিত। তাহার নয়নে লাগিয়া থাকিত রূপের বিস্ময় অথবা চিত্রের সৌকর্যের জন্য আত্মপ্রসাদ। তাই হাজার মধুর হইলেও কোনো ভঙ্গিমাই তাহার মনটাকে শিথিল করিয়া ফেলিতে পারিত না। বাহির হইতে দেখিলে বোধ হইত, কী এ তপস্বীর মতো সংযম! কিন্তু এ সংযমের মধ্যে তাহার বিশেষ কোনো প্রয়াসই ছিল না। কারণ সে ছিল শিল্পের সাধন লইয়া বিভোর, বাসনার স্থানই ছিল না সেথায়।

    আর তরুণীর ছিল রূপই বেসাতি। তাই নিজের শরীরের এক-একটা ভঙ্গিমায় নিজেরই মনে যে এক-এক রকম ভাব জাগায়, সে কথা সাধারণে খাটিলেও বেলার পক্ষে খাটিত না। তাহার উদ্দেশ্য দেখানো, এবং সে দেখানোয় আর্টের যতটা ব্যঞ্জন থাকে, ততই তার বেশি মূল্য তাহার পক্ষে। প্রথম প্রথম যেটুকু বা আন্তরিকতা ছিল, অভ্যাসে আবার তাহা একেবারেই লুপ্ত হইয়া গিয়াছে। প্রতীক্ষার তীব্র উৎকণ্ঠা, কি সোহাগের তারল্য দেখানো এখন চলাফেরা-শোওয়া-বসার মতোই সহজ স্বতঃস্ফূর্ত হইয়া পড়িয়াছে; মনকে আর জাগাইতে হয় না।

     

     

    .

    কিন্তু এ ভাবে আর বেশিদিন চলিল না। কারণ মনের সুপ্তি এক দিক দিয়া যেমন নিবিড়, অন্য দিকে আবার তেমনই লঘু, কখন একটা কুসুমের মতো পেলব স্পর্শে সে যে জাগিয়া উঠে, বলা যায় না।

    কারণটা ঠিক ধরা গেল না—একদিন যেন অহৈতুক ভাবেই বেলার সমস্ত মনের উপর একটা কিসের ব্যথা ছাইয়া গেল। এ অদ্ভুত বেদনা কোনো একটা আকার পরিগ্রহ করিল না। বেলার শুধু এইটুকুই মনে হইল, যেন একটা মস্ত বড় ফাঁকির মধ্যে এতদিন সে কাটাইয়া দিয়াছে, পৃথিবী যেন একটা অলীক মোহের ফাঁদে ফেলিয়া তাহাকে নিষ্ঠুরভাবে বঞ্চনা করিয়া আসিয়াছে এতদিন। অথচ পৃথিবী বিশেষ কেহ নয়, কাহার কাছেই বা অনুযোগ করে সে! তা ছাড়া কি-ই বা এমন প্রাপ্য ছিল তাহার, যাহা সে পায় নাই?

    এসব কথার কোনও সঙ্গত উত্তর পাওয়া গেল না, তবে বেদনাটা ধীরে ধীরে এমনই বিপুল বিস্তৃত হইয়া পড়িল যে, তাহার সমস্ত জীবনটা যেন নিতান্তই অর্থহীন, লঘু এবং শূন্যময় হইয়া উঠিল।

     

     

    এমনই করিয়া কয়েকদিন গেল; অবশেষে একদিন এই মূক ব্যথার সঙ্গীত একটা সামান্য আঘাতে তাহার হৃদয়ের তারে ক্রন্দনের মীড়ে জাগিয়া উঠিল।

    একদিন শিল্পী বেলার সামনে একটা অনেকদিনের পুরানো ছবি আনিয়া ধরিল; হাসিয়া বলিল, “পৃথিবীতে সব জিনিসেরই দেখছি একটা দাম আছে! এই ছবিটাও শেষ পর্যন্ত বেশ দামে বিকোতে চলল। এর যে কখনও কদর হবে, তা স্বপ্নেও ভাবি নি।”

    কার চোখে কিসে নেশা ধরায়, বলা যায় কি? “দেখি, কোন ছবিটা?”–বলিয়া বেলাও হাসিয়া ছবিটা হাতে করিয়া লইল; কিন্তু ছবিটা এবং তলায় তাহার নামটাতে দৃষ্টিপাত করিতেই তাহার মনটা হঠাৎ যেন বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠিল এবং ক্রমে হাসিটা মিলাইয়া গিয়া চক্ষু দুইটা ঈষৎ সিক্ত হইয়া উঠিল।

    একটা সামান্যই ছবি। নিতান্ত একটা সাধারণ বেষ্টনীর মধ্যে নিরালায় কিশোরী নিজের অন্তরের পানে চাহিবার অবসর পাইয়া যেন কাহার স্মৃতিতে নিমগ্ন হইয়া গিয়াছে। কেহই কাছে নাই; কিন্তু কিসের শরম, কিসের শঙ্কা এবং শরম-শঙ্কাজড়িত কি এক মাধুর্যে মাথাটি নুইয়া পড়িয়াছে। মনে হয়, অন্তরে যে দেবতা জাগিয়াছে, তাহার মানসী মূর্তির কাছে কিশোরী নিরবশেষভাবে আপনাকে নিবেদন করিয়া দিতেছে। নীচে লেখা আছে, “সমৰ্পণ”।

     

     

    বেলা যেন আত্মবিস্মৃত হইয়াই চাহিয়া রহিল। পূর্বেও ছবিটা এই ঘরের ছবির ভিড়ের মধ্যে নিশ্চয় দেখিয়াছে; কিন্তু আজ নূতন করিয়া তাহার মনে হইল, যেন তাহারই অন্তরের ব্যথা এই বর্ণ আর রেখার ভাষায় মুখর হইয়া উঠিয়াছে, যেন সে তাহার দয়িতের কাছে নিতান্তই আজ ধরা পড়িয়া গেল। তাই শিল্পী কথা কহিতেই সে হঠাৎ সচকিত হইয়া মুহূর্তেই লজ্জাবতী লতাটির মতো সঙ্কুচিত হইয়া পড়িল।

    শিল্পী বলিল, “তোমায়ই দেখে, অনেক দিন আগে, বোধ হয় প্রথম আঁকা ছবি।”

    আবার বলিল, “তখন রঙ ফলানোয় আর আঁকার ভঙ্গিমায় তেমন হাত খোলে নি, কিন্তু তা হলেও আত্মনিবেদনের ভাবটা জীবন্ত হয়েছিল খুব, না? আমার চোখেও যেন নতুন করে ভালো লাগছে।”

    আশা-আশঙ্কায় বেলার অন্তরটা যেন মথিত হইয়া উঠিল। ছবি হইতে আরম্ভ করিয়া শিল্পীর সমস্ত কথাগুলো পর্যন্ত আজ নূতন অর্থে অর্থবান হইয়া উঠিয়াছে।

    শিল্পী আবার বলিয়া চলিল, “যিনি কিনবেন, নতুন বিয়ে করেছেন শুনলাম, ছবিটি বড় চোখে লেগেছে। যাক্, আমাদের কাজটা তবুও সার্থক হল।”

     

     

    হায়, ভুল আশা! বেলার বুক ঠেলিয়া ক্রন্দন উঠিতেছিল—ওগো, আমার সার্থকতা এতে নয়—এতে নয়। সে কথা তোমায় আজ কি করে বোঝাই? আমার প্রাণের নিবেদনকে তুলি দিয়ে একটু একটু করে আহরণ করে যে ছবি সৃষ্টি করে তুললে, তা অপরের কাছে অর্থপূর্ণ হয়ে উঠল; কিন্তু তোমার বুকেই কেবল এতটুকুও স্পন্দন জাগাতে পারলে না? কি করে তোমায় জানাই যে, এ চিত্রে সত্যই আমারই অন্তরের প্রতিচ্ছায়া ফুটে উঠেছে, সমস্তটাই তোমার কল্পনার লীলা নয় এ? হে উদাসীন, একবার আজ নিবিষ্ট হয়ে দেখ, চিরদিনই কি এই রকম ভাবে ভুল বুঝে আমায় বিড়ম্বিত করবে?

    অত কথা কিন্তু বলা গেল না; নিতান্তই মিনতিক্লিষ্ট স্বরে বেলা শুধু বলিতে পারিল, “এ ছবিটা আর ঘর থেকে যেতে দিয়ে কাজ নেই সরোজবাবু, কাজ নেই বেচে।”—এটুকুও যে কি রকম করিয়া মুখ দিয়া বাহির হইল, সে নিজেই বুঝিতে পারিল না।

    প্রথমটা সরোজ যেন একটু বিস্মিত হইয়া গেল। তাহার পর একবারে হো-হো করিয়া উচ্চহাস্য করিয়া উঠিল, “ওঃ, বুঝছি; সত্যিই ছবিটা দেখতে তেমন নয়, কাঁচা হাতের আঁকা কিনা; তুমি ভাবছ, বাজারে বদনাম হয়ে পড়বে। এক হিসেবে ঠিক ধরেছ বটে; তবে রিটাচ করে-টরে অনেকটা সামলে আনব।”

     

     

    বেলা শিল্পীর মুখের দিকে চাহিয়া নিশ্চল হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল, আর একটা কথাও তাহার মুখ দিয়া বাহির হইল না।

    দুই দিন পরে আবার যখন আসিল, দেখিল ছবিটি নাই। সে কোনো প্রশ্ন করিল না, শুধু অসম্ভব সব জায়গায় ব্যাকুলভাবে চাহিতে লাগিল, মন যেন জানিয়াও নিদারুণ সত্যটা বিশ্বাস করিতে চাহে না। সরোজ হাসিয়া বলিল, “নিয়ে গেছে সেটা, যে তাগাদা যদি দেখতে! তুমি একটু বস।”—বলিয়া বাড়ির মধ্যে চলিয়া গেল।

    বেলার বক্ষে একটা রূঢ় আঘাত লাগিল। তাহার মনে হইল, তাহার যৌবন-আরম্ভের সেই সামান্য প্রতিমূর্তিটার একটা মূক ভাষা ছিল। সেটা যে সরোজের এই ঘরটিতে টাঙানো ছিল এবং সরোজকে যে মাঝে মাঝে দেখিতে হইত, এসবের ভিতর তাহার জীবনের অনেকটা সাফল্য ছিল! এ কথাটি পূর্বে কখনও এমন করিয়া মনে উদয় হয় নাই এবং আজও ইহার সম্যক অর্থ ধরা গেল না; কেবল মনে অকারণ একটা করুণ সুর ঘনাইয়া উঠিতে লাগিল—বেলা যেন আজ চলিয়া গিয়াছে, সরোজ তাহার অন্তরের নিবেদন, তাহার কৈশোরের প্রথম নিবেদন, তাহার নারী-হৃদয়ের চিরন্তন নিবেদন গ্রাহ্য করে নাই, তাহাকে বিদায় করিয়া দিয়াছে। অর্থই এই লুব্ধ শিল্পীকে অন্ধ ও বধির করিয়া তুলিয়াছে। কথাটা ফেনাইয়া ফেনাইয়া এই রকম ভাবেই মনে জমিয়া উঠিতে লাগিল।

     

     

    কিন্তু এ আবার কবেকার কোন্ বেলা ছিল, আর কিসের জোর তাহার এই শিল্পীর উপর, যাহা অর্থের উপরও আত্মপ্রতিষ্ঠা করিতে চায়? মন এ কথারও উত্তর দিতে পারে না।

    সরোজ হাসিতে হাসিতে প্রবেশ করিল, হাতে একমুঠো টাকা। ছবির দামের একটা মোটা অংশ, বেলাকে দিবে। অপ্রত্যাশিত সফলতায় মনটা উদার করিয়া দিয়াছিল, এ তাহারই একটা নিদর্শন।

    “বেশ দামে বিকোল ছবিটা, রাখ এ টাকাগুলো।”—বলিয়া তাহার সঙ্কুচিত দক্ষিণ অঞ্জলি খুলিয়া ধরিবার চেষ্টা করিল।

    বেলা অঞ্জলি খুলিল না। নির্বাকভাবে খানিকক্ষণ সরোজের মুখের পানে চাহিয়া রহিল। তাহার পর কহিল, “না না, আমায় মাফ করুন সরোজবাবু, এ টাকা আমায় স্পর্শ করতে বলবেন না। তখন আমার এত হাবভাব ছলাকৌশল শেখা হয় নি, আমার ও-ছবিতে কোনো কৃতিত্ব ছিল না, আপনার পায়ে ধরি, টাকা দিয়ে আর আমার জীবনের সমস্তটাই ভরিয়ে নিরেট করে দেবেন না—”

    তাহার পর কথাগুলো একেবারেই অস্পষ্ট হইয়া গেল এবং চক্ষের কূল ছাপাইয়া অঝোর ধারায় অশ্রু নামিল।

     

     

    জীবনে এ এই প্রথম।

    .

    চিত্রকর একদিন শুনিল, বেলা থিয়েটারে অভিনেত্রীর পদে ইস্তফা দিয়াছে। ব্যাপারটা খুবই সাধারণ, আকছারই হইয়া আসিতেছে। সে আর ইহাতে বিস্ময় মানিল না। সাধারণত ইহার যে গোটাকতক ধরা-বাঁধা কারণ আছে, তাহা দিয়াই সমস্যাটুকু পূরণ করিয়া লইল, অর্থাৎ ভাবিল, অন্যত্র টাকা পাইয়াছে বেশি, কাজেই পূর্বের দল ছাড়িয়া দিয়াছে, কিংবা নাম বাহির হইয়াছে, সুতরাং মূল্য বাড়াইবার এ একটা ফন্দি, অথবা এই রকম গোছের একটা কিছু হইবে। কিন্তু তাহার একটু ধাঁধা লাগিল, যখন প্রশ্ন করায় বেলা ছোট্ট করিয়া জবাব দিল, “এমনিই ছেড়ে দিলাম। না, অন্য জায়গায় কাজ পাইনি!”

    সরোজ বিস্মিতভাবে মুখের দিকে চাহিয়া কহিল, “কিন্তু বড় লোকসান হল যে?”

    বেলা বলিল, “অত লাভ-লোকসান খতিয়ে দেখি নি; ওসব আর তেমন ভালো লাগে না, তাই ছেড়ে দিলাম।—” বলিয়া মুখের দিকে চাহিয়া অপ্রতিভভাবে একটু হাসিল।

     

     

    সরোজ মাথাটা নীচু করিয়া একটু নিরুত্তর রহিল। কথাটা তেমন সে বুঝিতে পারিতেছিল না। সচরাচর যে কারণগুলো খাটে, তাহার কোনোটা এ-ক্ষেত্রে লাগে না দেখিয়া সে একটা অস্বস্তি অনুভব করিতেছিল! যেন নিজের মনেই বলিতে লাগিল, “ভালো করলে কি? এ সময় অভিনয়গুলো তোমার বেশ স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। বাজারে বেশ—”

    অসহিষ্ণুভাবে বেলা বলিল, “অভিনয় স্বাভাবিক করবার জন্যে নিজেকে কতটা অস্বাভাবিক করে এনেছি জানেন সরোজবাবু? থাক সে কথা। নিন, বলুন, আজ কি করবেন আমায় নিয়ে! এখনও তো এই দাঁড়ানো-বসা-শোওয়ার অভিনয় চলবেই; না হয় কথার অভিনয়েই জবাব দিয়ে এসেছি।”

    মডেলের স্বরে আজকাল প্রায়ই এই রকম একটা মিশ্রণ থাকে, যাহা তাহার চিরন্তন হর্ষ-কৌতুকের নয়। সরোজ লক্ষ্য করিল, একটু ভাবিলও, তাহার সেই দিনটার কথাও মনে পড়িয়া গেল, কিন্তু বেশি ভাবিয়া অবসর নষ্ট করিল না। উঠিয়া মডেলকে বলিল, “হ্যাঁ, নাও তো, আজ দাঁড়াতে হবে এই ভাবে। রসো, আইডিয়াটা আগে তোমায় বলে দিই; ধরো সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, সে এসেছে নদীর ঘাটে জল নিতে। সমস্ত পথটা ঘোমটা ছিল; এখানে এসে নিশ্চিন্দি হয়ে খুলতে যাবে, এমন সময় খানিকটা দূরে কোনো নৌকোতেই, কিংবা ডাঙাতেই কাউকে দেখে, হঠাৎ আধখানা ঘোমটা খুলে থেমে গেছে। সন্ধ্যার অস্পষ্ট আলোয় স্পষ্ট কিছু বুঝতে পারছে না বলে ঘাড় বাঁকিয়ে ভ্রুদুটি চোখের ওপর চেপে দাঁড়িয়ে আছে। দুটি পা সিঁড়ির দুটি ধাপে উঁচু-নীচু হয়ে আছে, কলসিটি কাঁকাল থেকে নামিয়েছে, এখন কলসি রেখে ঘোমটাটি খুলবে কি তার আড়াল থেকে সন্দেহটা একেবারে মিটিয়েই নেবে, তা ঠিক করতে পারছে না। আমার ছবিটা হবে ঠিক এই সময়কার, বুঝলে? কাঠের সিঁড়ি এই তোয়ের করে রেখেছি; এই কলসিটা ধর। নাও, দাঁড়াও দিকিন।”

     

     

    “বাবা বাবা, মাথায় এতও খেলে আপনার!”—-বলিয়া একটু হাসিয়া বেলা কাঠের সিঁড়ির প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে পা দিয়া, সুগৌর বাম হস্তটিতে কলসি লইয়া এবং নিজের যৌবনশ্রীমণ্ডিত অপরূপ দেহখানির হিল্লোল সংযত বসনের রেখা-তরঙ্গে ফুটাইয়া বঙ্কিম ঠামে দাঁড়াইয়া রহিল। বলিল, “তাড়াতাড়ি সেরে নেবেন; আজ কি অপরাধে বেঞ্চির ওপর দাঁড় করানো হল, জানি না।”

    আঁচলের ঝুল, কি কাপড়ের ভাঁজ, কি কোথাও ঘোমটার পাড়ের একটা বাঁক ঠিক করিতে করিতে চিত্রকর হাসিয়া জবাব দিল, “থিয়েটারের চাকরি ছেড়ে নিজের প্রতি যে অন্যায় করেছ, তার জন্যে। তুমি আজকাল বেজায় দুষ্টু হয়ে পড়েছ বেলা!”—বলিয়া একবার ভালো করিয়া দেখিয়া লইয়া আঁকিতে শুরু করিয়া দিল।

    একটা রেখার টানে একটু সন্দেহ হওয়ায় দেখিয়া লইবার জন্য মুখ তুলিল। দেখিল, মডেলের মুখের ভাব বদলাইয়া গিয়াছে। শুধরাইয়া দিবার জন্য বলিল, “উঁহু, বদলে ফেলেছ যে! ভ্রূ আরও নামিয়ে দাও, আর চাউনিটা আর-একটু আড়ে হবে, সন্দেহের ভাবটি ঠিক ফোটে নি যে!”

    বেলার ঠিক করিয়া লইতে দেরি হইল না। চিত্রকর আঁকিতে লাগিল। একটু পরে চোখ তুলিয়া দেখিল, সে আবার সব মাটি করিয়া বসিয়াছে। কি যে হইয়াছে তাহার, বলা যায় না। গ্রীবার ঈষৎ ঝোঁকটিতে যে একটা আচম্বিতের ভাব ফুটিয়া উঠিয়াছিল, সেটা আর নাই এবং তীক্ষ্ণ কৌতূহলের ভাব তিরোহিত হইয়া চোখে একটা উদাস আনমনা ভাব আসিয়া পড়িয়াছে। সরোজ একটু অসহিষ্ণু হইয়া পড়িল। মডেলের কাছ হইতে আজ সে মোটেই সহযোগ পাইতেছিল না অথচ এই-ই পূর্বে একই ভঙ্গিমায় এবং একই ভাব ফুটাইয়া একটানা প্রয়োজনমতো দাঁড়াইয়া থাকিত। সে হাসিয়া বলিল, “তোমার কি হয়েছে বেলা? তোমায় দেখে বোধ হচ্ছে, বেচারা ঘাটে এসে এমন কাউকে দেখেছে, যাকে দেখে একেবারে মন হারিয়ে ফেলেছে, সতর্ক স্ত্রীলোকের যে ত্রস্ত অথচ সুসংযত ভাব থাকে, সেটা কই? এ যেন বেচারার সব এলোমেলো হয়ে গেছে। এ ভাবটা যদি তোমার মনে এতই আধিপত্য করে থাকে, অমন একদিন না হয় তোলা যাবে’খন; আজকে আমার ভাবটা একেবারে নষ্ট করছ যে!”—বলিয়া সরলভাবে হাসিতে লাগিল। বেলা নিতান্ত অপ্রতিভ হইয়া পড়িল। শুধরাইবার চেষ্টা করিল বটে, কিন্তু সরোজ ক্রমাগতই অপছন্দসূচক ঘাড় নাড়িতে লাগিল। তখন আর সে পারিল না, নামিয়া আসিয়া একটা সোফায় লজ্জিতভাবে বসিয়া পড়িল, কহিল, “না সরোজবাবু; আজ কেমন হয়ে উঠছে না।”

    সরোজ পেন্সিলটা রাখিয়া দিল। তাহার পানে চাহিয়া বলিল, “থাক তবে এখন, কিন্তু এ আবার কি হল?”

    “হবার তো কিছু দেখি না, বোধ হয় কদিন থেকে শরীরটা তেমন—মরুক গে, আবার কবে হাজির দিতে হবে বলুন।”—বলিতে বলিতে দুয়ারের নিকট চলিয়া গেল।

    সরোজ উত্তর করিল, “খবর দোবখ’ন।”

    “বেশ।”—বলিয়া বেলা বাহির হইয়া গেল।

    চিত্রকর একটু অন্যমনস্ক ভাবে চিন্তা করিয়া নিজের মনেই বলিল, “হুঁ।” তাহার সেদিনকার ঘটনাও মনে পড়িল, কিন্তু আর সময় নষ্ট না করিয়া অন্য একটা ছবিতে রঙ ফলাইতে বসিয়া গেল।

    এই রকমই হইতে লাগিল। দুইমাস গেল, চার মাস গেল, একখানা আর ভালো ছবি শেষ করা হয় না। ছিন্নতন্ত্রী বীণার সুরের মতো সবগুলাই অসময়ে গতিহীন হইয়া পড়ে, আর কিছুই করা যায় না। শিল্পী নিজের খেয়াল ছাড়িয়া দিয়া মডেল যে ভাবে আবিষ্ট থাকে, তাহাই তাহার চিত্রফলকে মুদ্রিত করিবার চেষ্টা করে। কিন্তু বৃথা, নির্বোধ ঔদাসীন্যের সময় তাহার কোথা হইতে যে সঙ্কোচ আসিয়া পড়ে এবং গভীর সঙ্কোচের মাঝে কখন যে মনটা মুক্তপক্ষ হইয়া দূর দিগন্তে বিলীন হইয়া যায় কিছু বলা যায় না। চিত্রকর তুলিকা ছাড়িয়া দেয় এবং অপ্রকাশের ব্যথা লইয়া হতাশভাবে বসিয়া থাকে।

    সত্তপ্ত চিত্তে বেলা প্রতিদিনই অনুরোধ করে, “আমায় ছেড়ে দিন, আমি কোনো মতেই পেরে উঠছি না, হাজার চেষ্টা করেও না। আমি নিজেই অন্য কাউকে না হয় ঠিক করে দিচ্ছি।”

    শিল্পী বলে, “সে না হয় হল; কিন্তু কি হয়েছে তোমার বল দিকি?”

    তবুও ছাড়ে না। ভাবে, ইহাকে লইয়াই তাহার এত প্রতিষ্ঠা; মানসিক চাঞ্চল্যের সময়ই এটা; দুই দিন কাটিয়া গেলে পরে আবার ঠিক হইয়া যাইবে। চাই কি ইহার মধ্য দিয়াই এই তরুণীর একটা নূতন রূপ ফুটিতে পারে, সেটা তাহার চিত্ররচনায় একটা অভিনব সম্পদ হইয়া দাঁড়াইবে। এই রকম গোছের একটা আশাও ছিল, তা ছাড়া এই ঘরের প্রত্যেক জায়গাটির সহিত, তাহার নিজের আঁকা প্রত্যেক ছবিটির সহিত বেলার স্মৃতি একান্তভাবে জড়িত। তাহার সৌন্দর্যসৃষ্টির ইতিহাসে যে এতটা স্থান জুড়িয়া আছে, তাহাকে বিচ্ছিন্ন করিবার কথা কি ভাবিতে পারা যায়?

    তাহা না যাক, কিন্তু বেলার তরফ হইতে ছুটির তাগাদা বড় জোর হইয়া পড়িল। তাহার মনে যে বেদনা, সেটা বেশিদিন কিছু তাহার কাছে রহস্যাবৃত রহিল না। তখন সে মনে মনে শিল্পীকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, আমার দেহ অর্থাৎ দেহের ললিত ভঙ্গিমা লইয়াই তো তোমার কারবার? সে দিকটা যখন আমার চিরদিনের মতো অন্তর্হিত হইয়া গিয়াছে, তখন আর কেন? আমাকে বিদায় দাও। নিজের হাতে বাঁধন ছিঁড়িয়া যাইব, সে শক্তি আমার রাখ নাই; তাই ভিক্ষা—তুমি নিজের মুখেই বিদায় দাও; এইটিই তোমার মহাদান বলিয়া মনে রাখিব।

    এই রকম আরও সব কথা, যার একটাও স্পষ্ট করিয়া বলিতে পারে না।

    মুখ ফুটিয়া বলে শুধু, “আমি পারি না সরোজবাবু, আমায় ছেড়ে দিন, আমায় মুক্তি দিন।”

    তাহার পর দুইটি মর্মাহত প্রাণীর ক্লিষ্ট নীরবতায় ঘরের হাওয়াটা থমথম করিতে থাকে!

    .

    একদিন নিতান্ত আড়ম্বরহীন বেশে অসময়ে স্টুডিওতে প্রবেশ করিয়া বেলা একটায় সোফায় বসিয়া পড়িল, অশ্রুনিরুব্ধ ভারি আওয়াজে বলিল, “আজ বিদায় নিতে এলাম।”

    সরোজ অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া তুলি লইয়া নিতান্ত নিবিষ্ট মনে কি একটা আঁকিতেছিল একেবারে তন্ময় হইয়া। মুখ না ফিরাইয়া, তুলির একটা দীর্ঘ টান দিতে দিতে অন্যমনষ্ক ভাবেই বলিল, “নিতান্তই বিদা—য়। তা বেশ।”—বলিয়া আঁকিয়া চলিল; কাজটুকু শেষ হইবার পূর্বেই কিন্তু তাহার চমক ভাঙিল, সন্ত্রস্তভাবে কি একটা বলিবার জন্য ফিরিয়া দেখিল, বেলা নাই।

    একটা বিষম আঘাত লাগিল, এবং সেই সংযত শিল্পীর মনের দুর্গে এতদিনে এই আঘাতটি একটা বিদারণ-চিহ্ন অঙ্কিত করিল। হঠাৎ মনে হইল, বোধ হয় এইমাত্র উঠিয়া গিয়াছে, ফিরাইয়া আনি; এ ভাবে বিদায় দেওয়া নিতান্ত নিষ্ঠুরতা। কিন্তু নিম্নতল পর্যন্ত নামিয়া রাস্তায় গিয়াও দেখিল, সে নাই। সে ফিরিয়া আসিয়া সোফাটায় হেলিয়া পড়িল এবং অনুভব করিল, তাহার অস্তিত্বের কোনখানটায় হঠাৎ খানিকটা যেন বেজায় শূন্যময় হালকা ঠেকিতেছে।

    তাহার আর সেদিন আঁকা হইল না। এতদিন কাজের সময়টাকে সে নিতান্ত সমাদরের চোখে দেখিত। আজ কিন্তু তাহার মনে হইল, যেন সময়ের এবং সেই সময়টাকে পূর্ণ করিবার জন্য যে কর্ম, জীবনে তাহার বিশেষ কোনো সার্থকতা নাই।

    কেন এমন হইল, ভাবিতে গিয়া চিত্রীর ভূতে সংশয়ের কুঞ্চন ফুটিয়া উঠিল, এমন কি চক্ষু দুইটাও দুই বিন্দু অশ্রুর আলোকে ঝলমল করিয়া উঠিল; এবং অনেকক্ষণ পরে যখন সে উঠিল, তখন একটা উষ্ণ দীর্ঘশ্বাসে জানাইয়া দিল যে, ভিতরে তাহার একটা জায়গা উত্তপ্ত হইয়া উঠিয়াছে।

    .

    বেলা বিদায় লইল। ভাবিল, অভিমানের একটা প্রচণ্ড আঘাত দিয়া সে ইহকালের জন্য সুদূর হইয়া পড়িবে। এই শহর, এই দেশ, এমন কি শেষে এই পৃথিবী হইতে এত আলাদা হইবে যে, কখনও যদি অনুতপ্ত শিল্পী প্রয়োজন বোধ করে, তাহা হইলে তাহাকে আর খুঁজিয়া পাইবে না। তখন যে একটা বেশ প্রতিশোধ লওয়া হইবে, সে চিন্তা তাহাকে বড় তৃপ্তি দিল, যদিও সে ভাবিয়া দেখিল না, কিসের সে প্রতিশোধ, অপরাধ কোনখানটায় এবং তাহার এ অভিমানের দাবিই বা উদয় হইল কোথা হইতে!

    সুদূর এবং অলভ্য হইতে চাহিল বটে, কিন্তু তাহাও আবার সহজ হইল না। বহুদিনের বাড়িটা ত্যাগ করিল; কিন্তু শহর না ছাড়িয়া সরোজের বাড়ির আরও নিকটে একটা বাসায় আসিয়া উঠিল এবং তাহাতে নিজের প্রতি বিরক্ত হইল। একটা বড় রকম সক্ষমতায় এই ক্ষুদ্র দুর্বলতাকে চাপা দিবার জন্য সে একেবারে দেশ ছাড়িবার জন্যই আয়োজন জুড়িয়া দিল।

    কিন্তু তাহাও আর শেষ হইয়া উঠে না। কিছুই গুছাইবার নাই। বিলাস সম্পর্কিত আলয় ব্রহ্মচর্যের কঠোর দৈন্যে শূন্য হইয়া গিয়াছে; শৌখিন পরিচ্ছদ, অলঙ্কার, আসবাব বিশেষ কিছুই আর নাই; কিন্তু তবু তাহার আর গোছানো হইয়া উঠে না। তাহার প্রবল উৎসাহ সমস্ত ব্যস্ততার মধ্যে হঠাৎ নিবিয়া যায়; সজল নয়নে বেলা নিশ্চলভাবে বসিয়া থাকে। জোয়ারের জল যেমন ভিতর হইতে ফুলিয়া সাগরের প্রান্তে চাপিয়া ধরে, একটা নিদারুণ অভিমান তেমনই করিয়া তাহার মনের শেষ সীমা পর্যন্ত ঠেলিয়া উঠে; এবং সেই আত্মনিরুব্ধ অভিমান কাহারও উপর উচ্ছ্বসিত হইয়া পড়িতে পায় না বলিয়া অসহ্য বেদনায় বক্ষের শিরা-উপশিরাগুলি চাপিয়া ধরে।

    শহর দেশ কিছুই ছাড়া হইল না, সুদীর্ঘ একটা বৎসর এই দূরত্বহীন কঠোর অজ্ঞাতবাসে কাটিয়া গেল; এবং সকলের অপেক্ষা বিস্ময়কর ব্যাপার এই হইল যে তরুণী একদিন হঠাৎ শিল্পীর গৃহে আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহার মনে কি যে তর্ক উঠিল যাহার এই অদ্ভুত মীমাংসা, তাহা বলা যায় না; তবে এই পর্যন্ত দেখা গেল, বেলা এক গ্রীষ্মাবসানের মন্ধ্যাহ্নে দর্পণের সামনে বসিয়া সুচারুরূপে কেশ বাঁধিল, মণিবন্ধে সোনার চুড়ি এবং বাহুতে বহুদিনের অনাদৃত অনন্ত পরিল, একটা খয়ের রঙের বেনারসী শাড়িতে তাহার তরুণ যৌবনখানি মুড়িয়া কটিতে চন্দ্রহার দুলাইয়া দিল এবং রক্তাধরে তাহার সকলের চেয়ে মদির হাস্যটি ফুটাইয়া গাড়িতে উঠিল। যাইবার সময় হুকুম রাখিয়া গেল, আজ সব যেন প্রস্তুত থাকে, এখানে আজ শেষ দিন।

    দাসী জিজ্ঞাসা করিল, “কোথায় যেতে হবে?”

    দর্পণের সামনে তোলা হাসিটিকে বেলা নষ্ট হইতে দিল না; তেমনই ভাবে বলিল, “জাহান্নমে, কারণ আমার দুনিয়ায় মাত্র দুটি বিভাগ আছে : এক—এই স্বর্গ, দ্বিতীয়- জাহান্নম।”

    দাসদাসীরা পরস্পরের সহিত দৃষ্টি বিনিময় করিল, অর্থাৎ শুভ লক্ষণ, কর্ত্রীর মুখে অভিনয়ের বুলি দেখা দিয়েছে, বোধ হয় এবার দিন ফিরিবে।

    এক বৎসর পরে বেলা আবার সেই ঘরটিতে প্রবেশ করিল। শিল্পী তখন ছিল না। বেলা পুরাতন অভ্যাসমতো সোফাটায় গিয়া বসিল, কিন্তু বসিবার আগে সেটাকে একবার ভালো করিয়া ঝাড়িয়া লইতে হইল, কেননা চিরন্তন প্রথানুযায়ী যেরূপ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা উচিত, সেটা সেরূপ ছিল না। শুধু তাহাই নয়, বেলা লক্ষ্য করিল, ঘরটার আর সর্বত্রও একটা করুণ শ্রীহীনতা ছড়াইয়া রহিয়াছে। সামনে বদ্ধ জানালার খড়খড়িতে ধূলা জমিয়াছে এবং তাহার উপর কয়েকটা মাকড়সা সূক্ষ্ম জালের পর্দা বুনিয়া নিরুপদ্রবে বসবাস করিতেছে। বুঝিতে পারিল, অনেকদিন ওই জানালা খোলা হয় নাই। দেওয়ালে ঠেস দেওয়া ছবিগুলায়ও ধূলা, এমন কি ঘরের মেঝেয়ও অনেকদিন ঝাঁট পড়ে নাই, এবং বেশি যে কেহ ঘরটাতে প্রবেশ করে না, তাহাও স্পষ্ট বোঝা গেল।

    সৌন্দর্যের অধিষ্ঠান গৃহটির এই আতুর ভাবটি বেলার মনের এক জায়গায় বেদনা জাগাইল বটে, কারণ সে ইহাতে অভ্যস্ত ছিল না, কিন্তু সেই বেদনার পাশে একটা সুখের আভাস যে না ফুটিল এমন নয়, কারণ অন্তরের অন্তরে সে বুঝিতে পারিল এ তাহারই অভাবে।

    বেলা অন্যমনস্ক ভাবে উঠিল এবং জানালাটি খুলিয়া দিয়া একে একে ছবিগুলা ঝাড়িতে লাগিল।

    সবগুলিই প্রায় তাহারই দেহপ্রাণের সহিত জড়িত, তাহারই সৌন্দর্যের মূক সাক্ষী। আজ কি একটা ভাবিয়া বেলা অনেকদিন পরে নিজের হতাদর যৌবনশ্রীর পানে চাহিয়াছে, সুতরাং একান্ত নূতনভাবে সে তাহারই এই আলেখ্যগুলোকে আজ ভালোবাসিল। এক- একটাকে সে দুরন্ত আবেগভরে বক্ষে চাপিয়া ধরিল। এই স্ফুট-চেতনা, ব্যথিতা, নিঃসঙ্গা নারীর মনে হইল, তাহার রক্তমাংসের প্রতিরূপ, এই চিত্রগুলায় তাহার মর্মের হাহাকারও বোধ হয় সঞ্চারিত হইয়া থাকিবে, বক্ষের কাছে চাপিয়া ধরিলে সমবেদনাময়ী সখীর মতো ইহাদেরও বুঝনো যাইবে, তাহার বেদনা কিসে এবং কতই না গভীর!

    হঠাৎ একটি ছবির উপর তাহার চোখ পড়িয়া নিস্পন্দ হইয়া রহিল। পুরাতন ছবি, যে মালিক, সে বোধ হয় সংস্কারের জন্য রাখিয়া গিয়াছে। এক লতাকুঞ্জের দ্বারে হেলান দিয়া একটি নারী দাঁড়াইয়া আছে, দৃষ্টি তাহার বহুদূরে নিবদ্ধ, যেখানে বিতানের সঙ্কীর্ণ পথ অস্পষ্ট হইয়া চক্রবালরেখায় মিলাইয়া গিয়াছে। বসন্ত বহিয়া গিয়াছে। রিক্ত কুঞ্জ, সুখের ক্ষীয়মাণ স্মৃতির মতো দুই-একটা ফুল এখানে-ওখানে ধরিয়া রাখিয়াছে, নিদাঘের উষ্ণ নিশ্বাসে সেগুলাও তেমন ভালো করিয়া ফুটিতে পায় নাই, কেমন যেন মুছিয়া গিয়াছে। এই ম্রিয়মাণ সৌন্দর্যের সহিত একই ছন্দ মিলানো সেই রমণীমূর্তি। তাহার পূর্ণায়ত চক্ষে বেদনার গাঢ় ছায়া, আবেগের উগ্র শিখা আর আশার সৌম্য জ্যোতি কেমন করিয়া মিলিয়া গিয়া এক অতল রহস্যের সৃষ্টি করিয়াছে। নীচে লেখা আছে, “প্রতীক্ষা”। প্রতি বর্ণের প্রতি অণুপরমাণু হইতে একটা ব্যাকুল ভাষা যেন মৌনতা ভাঙিয়া আসিতে চায় : ওগো নিষ্ঠুর, কেন ‘আসি’ বলিয়া এখনও আসিলে না? আর কতদিন এ বিফল পথ-চাওয়া? হে অবিচারী, তোমারই জন্য সজ্জিত এ কুঞ্জশোভা লুব্ধ কাল তিল তিল করিয়া হরণ করিয়া লয় যে! হে নিষ্ঠুর, কি সে তোমার কঠোর বৈরাগ্য, যাহা এই মর্মন্তুদ কাহিনীর কাছেও এত অটল? কুঞ্জের বসন্ত কাঁদিয়া ফিরিয়া গিয়াছে, আর হে দেবতা, এ যৌবন-পুষ্পপাত্রের সব ফুল যে শুষ্কপ্রায় : তবুও এস, এ জীবনে এই বিপুল ব্যর্থতার অর্ঘ্য দিয়াই তোমার পূজা সাঙ্গ হইবে। তোমার হৃদয়হীন পাষাণমূর্তিতে এই চিরপ্রতীক্ষমাণা ভক্তই অন্তরের নিবিড় বেদনা দিয়া প্ৰাণপ্রতিষ্ঠা করিবে। তুমি শুধু সকল নিরাশার মধ্যে একটি মাত্র আশা সফল করিও; তোমার বাণী চাহি না, তোমার স্পর্শ চাহি না, শুধু একটি মুহূর্ত-যুগব্যাপী প্রসন্ন দৃষ্টিতে এই ব্যর্থ জীবন একটি স্মৃতিমাত্রের সম্বল দিয়া, এই ক্ষুদ্র অপ্রয়োজনের নিকট হইতে সংসারের নির্মম প্রয়োজনে ফিরিয়া যাইও।

    কিন্তু কে শোনে অন্তস্তলের এই গভীর ক্রন্দন?

    তীব্র অভিমানে বেলার হৃদয় পূর্ণ হইয়া উঠিল। সেই কঠিন গৃহ-প্রাচীরের গায়ে বাম হস্তের আবেষ্টনীর মধ্যে বদ্ধকবরী মস্তকটি রাখিয়া পিছন ফিরিয়া দাঁড়াইয়া রহিল। সোনার কাজ-করা ভারি আঁচলখানি সোনার দেহ হইতে বস্ত্রাবরণ খসাইয়া দিয়া ভূমে লুটাইতে লাগিল, এবং স্থানভ্রষ্ট কটিহারটা গতাশ্রয়া ক্ষুদ্র লতিকার মতো ক্ষীণ কটির একটা লঘু বাঁকের অবলম্বন ধরিয়া অধোদেশ ঘেরিয়া দুলিতে লাগিল। দেহটি দুই-তিন স্থানে নুইয়া গিয়াছে—যেন অন্তরের অভিমান-ভরেই।

    এই অনাদৃতা যুবতী আজ নিজেই উন্মুখ হইয়া আসিয়াছিল বটে; কিন্তু স্থির করিল, না, আর কথা কহিবে না, হাজার সাধিলেও না। শিল্পীর একটা অনুতপ্ত কাল্পনিক মূর্তিকে নিজের পার্শ্বে দাঁড় করাইয়া সে অভিমানে মুখ ফিরাইয়া রহিল। এমনসময় সরোজ তাহার সত্য-মূর্তিতেই ঘরে প্রবেশ করিল এবং অসংযত ভাবে চিৎকার করিয়া উঠিল, “বেলা!”

    কোনো উত্তর হইল না। শুধু সেই দেহবল্লরী ঈষৎ স্পন্দিত হইয়া আবার নিশ্চল হইয়া গেল।

    সরোজ একটু দাঁড়াইল; তাহার পর ধীরে ধীরে কাছে গিয়া বেদনার স্বরে বলিল, “বিদায় কি ওই ভাবেই নেয় বেলা?”—ইচ্ছা হইল, অন্তত কাঁধের উপর একটা হাত দিয়া কথাটা বলে; কিন্তু কি ভাবিয়া তাহা করিল না।

    মনে হইল, যেন রুদ্ধ অভিমানের ঢেউ ভিতর হইতে উচ্ছ্বসিত হইয়া এই তন্বীর দেহটিকে ভাঙিয়া খানখান করিয়া দিবে। বেলা ফুলিয়া ফুলিয়া কাঁদিতেছে; কোনো কথা বলিল না কিংবা ফিরিয়াও চাহিল না।

    সরোজ নির্বাকভাবে অনেকক্ষণ দাঁড়াইয়া রহিল। এই বিক্ষুব্ধা সুন্দরীর পাশে দাঁড়াইয়া সৌন্দর্য-উপাসক পুরুষের মনে কি হইতেছিল, কে বুঝিবে? সে একটাও সান্ত্বনার কথা বলিতে পারিল না। তাহার স্থির ঈষৎ সিক্ত চক্ষে হৃদয়ের মধ্যকার একটা তুমুল দ্বন্দ্বের আভাস ফুটিয়া উঠিতেছিল। ক্রমে এই সংযমী যুবার বাহুদ্বয় অবশভাবে আলিঙ্গনের আকারে সেই ক্রন্দমানা রমণীর দেহ ঘিরিয়া ফেলিল, কিন্তু স্পর্শ হইবার পূর্বেই তাহার চমক ভাঙিয়া গেল।

    তখন এই মনুষ্যটির মধ্যে ব্যথিতের পরিবর্তে চিত্রীই প্রধান হইয়া পড়িল। সে ভাবিল, অনুশোচনার কথা, সান্ত্বনার কথা বলিবার ঢের সময় পাওয়া যাইবে, কিন্তু সাক্ষাৎ অভিমানের মূর্তি ধরিয়া এই যে একটি নবীনা তাহার সম্মুখে দাঁড়াইয়া—এ সুবিধাটুকু ছাড়িয়া দিলে আর তাহার আপসোস রাখিবার কি ঠাঁই থাকিবে? বেলা তো ফিরিয়াই আসিয়াছে, তাহার সাময়িক চাঞ্চল্য কাটিয়া গিয়াছে, কিন্তু এই সুদীর্ঘ বর্ষাকাল পরে নিতান্ত অজ্ঞাতসারে সে যে একটিমাত্র নিখুঁত ভাবের ভঙ্গিমা তাহার সামনে ধরিয়াছে, তাহার মধ্যে এতটুকুও কৃত্রিমতার খাদ নাই—সেটিকে যদি বিচলিত করিয়া নষ্ট করে তো সে ভুল কি আর সারা জন্মে মিটাইতে পারিবে? তাহার চিত্তে যে দরদ উঠে নাই এমন নয়, তবে সে দরদ তাহার গভীর সৌন্দর্যানুভূতিকে লুপ্ত করিতে পারিল না। সে এই অভিমানীর শোকবিদীর্ণ অভ্যন্তর হইতে চক্ষু সরাইয়া বাহিরে ন্যস্ত করিল, মুগ্ধ নেত্রে দেখিতে লাগিল, অবশ অঙ্গের প্রতি রেখায় রেখায় এবং ত্রস্ত বসনের পরতে পরতে কি পূর্ণভাবেই না সেই শোক ফুটিয়া উঠিয়াছে!

    তা, এইসময় সমব্যথার পিয়াসী নারীর হৃদয় যখন রুদ্ধ বিক্ষোভের ঝড় তাহার প্রতি শিরা-উপশিরা টানিয়া ছিঁড়িয়া ফেলিতেছিল, সেই সময় চোরের মতো অতি সন্তর্পণে, সৌন্দর্যের ভাণ্ডার হইতে কিছু সঞ্চয়ের জন্য সেই যশস্বী শিল্পী তুলিকা লইয়া বসিয়া গেল। সে ভাবিল, বেলা তো ফিরিয়াই আসিয়াছে, তাহার দুই দিনের চাঞ্চল্য কাটিয়া গিয়াছে, কিন্তু সৌন্দর্যের সাগরে মুহূর্তের জন্য এই যে হিল্লোলটি উঠিয়াছে, ইহাকে তো আর ধরিয়া রাখা যাইবে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Next Article রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }