Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প232 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কৈকলার দাদা

    তারকেশ্বর যাইতেছি। আমি বসিয়া আছি এক কোণে। গাড়িতে কিছু সাধারণ যাত্রী আছে, বাকী বেশির ভাগই ডেলি-প্যাসেঞ্জার। দোরের ওদিকটায় একস্থানে জটলা একটু ঘন, হাঁটুর উপর চাদর পাতিয়া তাস খেলা হইতেছে, মাঝে মাঝে অবান্তর আলোচনার ছিটেফোঁটা। ওরই মধ্যে কয়েকজন একটু বিশিষ্ট,—নাম মুখস্থ হইয়া গেল—হরেন, শিবু, জহর মাইতি, ভজহরি,–এ লোকটি অত্যন্ত নস্য নেওয়ার ফলে ‘ন’য়ের উচ্চারণ হারাইয়াছে।

    ট্রেন শ্যাওড়াফুলিতে প্রবেশ করিয়া তারকেশ্বর ব্রাঞ্চের প্লাটফর্মে দাঁড়াইল। হরেন তাসসুদ্ধ যুক্তকর কপালে ঠেকাইয়া চক্ষু বুজিয়া বিড়বিড় করিয়া মন্ত্র পড়িতে লাগিল।

    জমাট খেলার মধ্যে ‘সেথো’র এরকম আচরণে জহর মাইতি একটু বিরক্তির সহিত তাহার মুখের পানে চাহিয়া প্রশ্ন করিল, “ওটা কি হচ্ছে?”

    হরেন কথা কহিল না; আরও খানিকটা বিড়বিড় করিয়া যুক্তকর কপালে তিনবার ঠেকাইয়া উত্তর করিল, “বাবার সেকশনে এসে ঢুকলাম, একটু ভক্তিটক্তি করতে শেখো, বুড়োকে বুড়ো বলে নেহাত উড়িয়ে দিও না।”

    জহর বলিল, “অতি-ভক্তি: কোথায় তারকেশ্বর স্টেশন, কোথায় বাবার মন্দির, ব্রাঞ্চ আরম্ভ হয়েছে আর অমনই—”

    শিবু বলিল, “যা বলেছ। এ যেন ‘এই মাটিতে শ্রীখোল হয়েছে’ বলে ভুঁয়ে গড়াগড়ি দেওয়া। নাও, নাও, দান ফেল। অতি-ভক্তিতেই দেশটা গেল, ত্রিপুরী, ওয়েলিংটন স্কোয়ার, দেখছ তো?”

    ত্রিপুরী-ওয়েলিংটনের নামেই বোধ হয় একটা কলরব উঠিল, গাড়ি ছাড়িয়া দেওয়ায় কিন্তু সেটা স্পষ্ট বোঝা গেল না।

    হরেন বলিল, “তোমরা ঠিক উল্টো বুঝলে। বাবার এখতিয়ারের বাইরে ত্রিভুবনে কোনো জায়গাই নেই, তবে শ্যাওড়াফুলিতে এসে গাড়িটা এই লাইনে এসে দাঁড়ালে বাবার কথাটা একটু বিশেষ করে মনে করিয়ে দেয়। ওঁনাদের কথা এমন করে যত বেশি মনে পড়ে ততই ভালো। শুধুই তো—’আই হ্যাভ দি অনার টু বি সার্’ করে সমস্ত জীবনটা গেল।”

    তাহার পর উহাদের আর একটু চটাইবার জন্য একটু বক্রহাস্য করিয়া বলিল, “যখন স্বরাজ হয়ে বাংলা টাইমটেবিল হবে, আমি ধুতি-চাদর পরে গবর্মেন্টের কাছে প্রোপোজ করব, তারকেশ্বরের সব গাড়িগুলোকেই ‘বাবার গাড়ি’ নাম দেওয়া হোক, নম্বর দিয়ে আর ত্রিশূলমার্কা করে; আর শ্যাওড়াফুলি থেকে এই সেক্‌শনটার নাম রাখা হোক—বাবার সেক্‌শন।”

     

     

    ভজহরি নস্য লইয়া হাতটা ঝাড়িয়া বলিল, ‘বাবার এলাকা বল; স্বরাজে আবার সেক্‌শঁল কেঁল?”

    হরেন হাসিয়া বলিল, “থ্যাঙ্ক ইউ, থুড়ি–ধন্যবাদ।”

    শিবু বলিল, “সে সময় আমায় একটু মনে করিয়ে দিও হরেন, স্বরাজের খুশিতে যদি নেহাত ভুলে যাই। আমি একটু অ্যামেন্ডমেন্ট জুড়ে দোব—শ্যাওড়াফুলি থেকে ইঞ্জিনগুলো কয়লা নামিয়ে শুধু গাঁজার আগুনে চলবে।”

    সকলে হো হো করিয়া হাসিয়া উঠিল। হরেনও যোগ দিল।

    ভজহরি বলিল, ‘শুধু তাই কেঁল? কাশী, বৈদ্যলাথই বা বাদ যায় কেঁল? আমি তো বলি এ সব বাঁচেই গাড়ি ঢোকবার আগে অঁল্য জাতের ড্রাইভার বদল করে গেরুয়া, রুদ্রাক্ষের মালা-পরা পাল্টা ড্রাইভার ভর্তি করে দেওয়া হবে।”

    হাসি চলিল।

    নিতান্ত ঘরের দেবতা ভোলানাথ, এমন ঠাট্টা অবাধেই চলে। শীঘ্র চটেন না, চটিলেও আশুতোষ, তাছাড়া যতকিছু অশিব গরল লইয়া ভক্তদেরও একটু হাত-পা ছড়াইয়া দুই কথা বলিবার সুযোগ করিয়া দিয়াছেন—কাঁহাতক শুধু হাতজোড় করিয়াই থাকে সব তেত্রিশ কোটি দেব-দেবীর মাঝে? তাস পড়িয়া রহিল। মাহাত্ম্য-বর্ণনায়, স্বপ্ন-কাহিনীতে, ঠাট্টায়, তর্কে-বিতর্কে কয়েকটা স্টেশন কাটিয়া গেল। তারকেশ্বরের গাড়ির এই একটা বিশেষত্ব।

     

     

    ওরই মধ্যে কখন সুবিধা পাইয়া শিবের আসরে রাজনীতি আসিয়া পড়িল—হইতে পারে, ব্যাপারটা আজকাল নিতান্ত নন্দীভৃঙ্গীর খাস দখলে রহিয়াছে বলিয়াই। হিন্দুসভা, লীগ, ত্রিপুরী, ওয়েলিংটন স্কোয়ার, সোদপুর, বৃন্দাবন সব আসিয়া জুটিল। গাড়িটা যখন কৈকালায় আসিয়া দাঁড়াইল, ততক্ষণে ব্যাপারটা তাণ্ডবের এতটা কাছাকাছি আসিয়া পৌঁছাইয়াছে যে, অহিংস আস্তিন-গোটানো পর্যন্ত আরম্ভ হইয়া গিয়াছে। এই অবস্থায় হঠাৎ একটা পরিবর্তন ঘটিয়া গেল এবং আরে, দাদা যে!’ ও দাদা!” ‘এদিকে এদিকে— ‘এ অদিনে’ বা ‘কি সৌভাগ্য?’—ইত্যাকার একটা তুমুল হর্ষকলরব উত্থিত হইল; শুধু আমাদের গাড়ি হইতেই নয়, প্রায় সব গাড়ি হইতেই। একটি লোক বিহ্বল হাস্যের সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে একবার এদিক একবার ওদিক করিয়া অনিশ্চিত ভাবে ছুটাছুটি করিতেছিল, “আরে, সে কি হয়?” বলিয়া আমাদের কামরা হইতেই একটি যুবক নামিয়া গেল এবং তাহাকে দখল করিয়া কামরায় আনিয়া তুলিল। বিজয়ের আনন্দে একটা নাটকীয় শব্দ উঠিল। গাড়ি তখন অল্প অল্প চলিতে আরম্ভ করিয়াছে।

    লোকটি মাঝবয়সী। শরীরের অভ্যন্তরে চর্বির এবং বাহিরে তৈলের অভাবে চেহারাটা রুক্ষ। মাথায় অবিন্যস্ত বড় বড় চুল, গলায় মোটা রুদ্রাক্ষের মালা, পরনে লালপেড়ে গেরুয়া কাপড় এবং অনুরূপ একটা উড়ানি। শরীরটা বাহ্যত রুক্ষ হইলেও মুখের ভাবটা প্রসন্ন, কৌতুকদীপ্ত।

     

     

    সকলে ভালো করিয়া মাঝখানে জায়গা করিয়া দিল। ভজহরি নস্যির কৌটার ঢাকনাটা খুলিয়া সামনে ধরিয়া বলিল, “লঁস্যি ইচ্ছে করুল দাদা।” একজন পানের ডিবা হইতে ভিজা ন্যাকড়ায় জড়ানো পান দিল। একজন একটা বিড়ি হাতে দিয়া খচ করিয়া দেশলাই জ্বালাইয়া বাড়াইয়া ধরিয়া বলিল, “আসুন দাদা।”— খাতিরের ছড়াছড়ি পড়িয়া গেল।

    তাহার পর প্রশ্ন হইল, “এমন অ-বারে চলেছ যে দাদা, ব্যাপার কি? তোমার তো শুধু মঙ্গলবারটি বাঁধা সমস্ত হপ্তাটির মধ্যে বাবা।”

    দাদা পানটা মুখে দিয়া এক খামচা জরদা চালান করিয়া দিল, তাহার পর একটা দীর্ঘ টানে বিড়িটার অর্ধেকটা দগ্ধ করিয়া স্মিতহাস্যের সহিত বলিল, “বাবা টানলে অ-বারে, কি করব?”

    তাহার পর গলা উঁচু করিয়া একবার সমস্ত গাড়িটা দেখিয়া লইয়া বলিল, “কোনো মেড়ো ভক্ত-টক্ত যাচ্ছে না? তোমাদের এ বিড়ি কতক্ষণ টানব খুচখুচ করে বাবা? মজুরি পোষায় না।” বলিয়া আর একটা টানে বিড়িটা নিঃশেষ করিয়া বাহিরে ফেলিয়া দিল। পাঁচ- ছয়টা বিড়ি আবার পাশে আসিয়া জড়ো হইল, একটা দেশলাইয়ের বাক্সও।

     

     

    দাদা একটা তুলিয়া লইয়া অগ্নি-সংযোগ করিতে করিতে বলিল, “ভক্তেরা আর আসবে কোথা থেকে? বাবার লাইনে পাপ ঢুকেছে। আর নির্ভয়ে সেরকম করে কি কেউ যাওয়া আসা করতে পারে? সেদিন নাথুনীমলের সঙ্গে, প্রায় মাস তিনেক পরে, হঠাৎ দেখা।—কি শেঠজী? দেখাই যে আর পাওয়া যায় না তোমার বাবা? লোকটা খাঁটি ছিল, দু’একদিন অন্তর একবার করে আসতই বাবার দর্শনে, সঙ্গে একটি করে কাপড়ের গাঁটরি থাকত। ওই লিলুয়া কি বালি পর্যন্ত একটা টিকিট করত, এদিকটা বাবাই চালিয়ে দিতেন। সব চেনা হয়ে গিয়েছিল, কালেভদ্রে কখনও এক-আধটা অচেনা ক্রু-টু উঠল, সিকিটা দোয়ানিটে ধরিয়ে দিলে হাতে—বাস্। বাবার দৌলতে হপ্তা গেলে গাঁটরিগুলো বেচে কিছু আসত হাতে বেচারীর। আমায় কৈকালায় দেখলেই তুলে নেওয়া চাই, নিজের হাতে এক ছিলিম সেজে আগ বাড়িয়ে দেওয়া—’গোসাঁইজী, পরসাদি করিয়ে দাও।’ যেমন ভক্তি সাধু- সন্ন্যাসীতে, তেমনই মিষ্টি কথাগুলি। আর সে একটি ছিলিম যা সাজত, একেবারে মেওয়া জিনিস! হঠাৎ তিন মাস পরে দেখা—আরে কি শেঠজী, কোথায় ডুব দিয়েছিলে? মেরাজাইয়ের পকেট থেকে একখানি টিকিট বের করে তুলে ধরলে। বলে, ‘বাবাকে লাইনমে আর সে ইজ্জত নেই গোসাঁইজী। লুতন ক্রু, লুতন টিকিস-কালেক্টার, দু-তিনবার দণ্ড দিলুম, তারপর আর কত ঘাটি সইব? বাবা ভাবে, বেটা খালি নিজের মতলবে আসত, তাই তিন মাস পরে এই টিকিট কাটিয়ে চলেছি, পুরানো গাহকরাও সব রয়েছে, এবার বাজার- ভাওটাও দেখে আসব।’…অনেক দুঃখ করতে লাগল বেচারী।”

     

     

    দাদা ধীরে ধীরে বিড়ি টানিতে লাগিল। চারিদিক হইতে কতকগুলো সহানুভূতিসূচক মন্তব্য হইতে লাগিল।

    “দেখ তো সাহস! ভক্তের টিকিট চাওয়া! এ রেল এবারে যাবে দাদা, দেখছ তো কলিশনের ঘটা! আর ওই রকম বনেদী একটা ভক্ত, কতদিন থেকে সে ঐ করে বাবার সেবা করে আসছে—”

    একজন দাদাকে উত্তেজিত করিবার জন্য মন্তব্যকারীদের প্রশ্ন করিল, ‘কেন চাইবে না টিকিট, চাঁদ? তুমি বাবার দোহাই দিয়ে নিজেকে তো পার করছই, গাঁটরি কে গাঁটরি পর্যন্ত—”

    দাদা উগ্রদৃষ্টিতে যুবকটির পানে চাহিয়া প্রশ্ন করিল, “কেন করবে না পার মশাই? কেন টিকিট নেবে? কার রাজ্যি এটা? কাশী, বৈদ্যনাথ, তারকেশ্বর, বাবার ত্রিশূলের ওপর এসব জায়গার পত্তন, তা জানা আছে? একজোড়া রেললাইন পেতে দিলেই আপনার দখলে এসে গেল, না? রাইট জমিয়ে রাখলেন, দরকার হলে দখল সাব্যস্ত করে বাবার নামে একটা নম্বরী ঠুকে দেবেন, না? একবার জটা নাড়লে রাইট দেখিয়ে ছাড়বে বুড়ো। দেখলেন তো বেহারের দশাটা কি করে ছেড়েছিল। দুটি মিনিটের ওয়াস্তা—একবার শুধু কপালের চোখটা একটু খোলা, কোথায় থাকবে আপনার হাইকোর্ট, কোথায় থাকবে জজসাহেব, আর কোথায় থাকবে—”

     

     

    গাড়ি বাহিরখণ্ড স্টেশন ছাড়াইয়া আসিয়াছে। দাদা বিড়িটা ফেলিয়া দিতে হরেন সিগারেটের ডিবা বাহির করিয়া একটা সিগারেট দাদার দিকে বাড়াইয়া বলিল, “এইবার একটা কাঁচি চলুক দাদা। এদিকে তোমার সঙ্গে ব্যবহার কি রকম করছে, বেটারা?”

    দাদা সিগারেটটা হাতে লইয়া বলিল, “চামারের মতো, এক্কেবারে চামারের মতন। কিন্তু আমি মেড়ো নই, দেখিয়ে দোব বাছাধনকে। হপ্তায় একটিবার করে আসা আমার বাবার কাছে। তোমরা তো জানই, মঙ্গলবার এক ট্রেনে আসা, বাবার দর্শন সেরে কেনাকাটা করে ফিরে যাওয়া। গাঁয়ে দোকান নেই, তা ভিন্ন তারকেশ্বরে জিনিসটা রাখে ভালো, একেবারে বাবার নজরের নিচে, বাবার পেয়ারের জিনিসটা নিয়ে বেইমানি করতে ততটা সাহস করে না। তাই ওই হপ্তায় একটিবার করে এসে হপ্তার রসদটুকু যোগাড় করে নিয়ে যাওয়া। আর কি সম্বন্ধ তোদের লাইনের সঙ্গে বাপু! মরগে যা না তোরা। আজ তেরো বছর থেকে এই করে আসছি, রুটিন বাঁধা। কেউ কখনও টুকতে সাহস করে নি, আর ও- বেটা বেল্লিক আমায় আটকে সেই শ্যাওড়াফুলি থেকে মাশুল গুনে নিলে! নতুন এসেছে। আমায় চেনে না, কিন্তু আজ এমন চেনান চেনাব যে সাতপুরুষেও ভুলতে পারবে না। হাতে এমন পয়সা রইল না যে দুটো দিনেরও রসদ নিয়ে ফিরি। পরশু এসেছিলাম, আবার এই আজ দৌড়তে হয়েছে। বোঝ!”

     

     

    ভজহরি বলিল, “বেটা যতদিঁল থাকবে এখালে, টিকিটে আপনার কতগুলি করে পয়সা লোকসান করাবে তো দাদা! ঘোর কলি এঁলে ফেললে—লিঁ লস্যি লিঁল।”

    টিপ তুলিয়া লইয়া দাদা নিরতিশয় তাচ্ছিল্যের সহিত একবার ভজহরির পানে চাহিয়া বলিল, “রামঃ, নেহাত কায়দায় পেয়েছিল সেদিন, ঘায়েল হয়েছিলাম। আজ? চুপ করে সব তামাশাটা দেখ না। নাও, তোমার দোক্তার কৌটোটা দাও দিকিন এগিয়ে একবার, পান আর আছে নাকি? আর একটু জরদাও দাও। আরে ছ্যাঃ, খালি সিগারেট আর বিড়ি! নাড়ী যেন ঝিমিয়ে আসছে। এতদিন বাবার লাইনে যাতায়াত করে কি করলে গো তোমরা?”

    লোকনাথ অনেকক্ষণ পার হইয়া গিয়াছে। দাদা একবার গলা বাড়াইয়া দেখিল। তাহার পর কপালে এবং বুকে যুক্তকর ঠেকাইয়া দেবোদ্দেশে প্রণাম করিয়া বলিল,

    “ইস্টিশান এসে গেল, নাও কেউ একটা টিকিট বের কর দিকিন।”

    সবাই বিমূঢ় ভাবে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করিল একবার; মাইতি বলিল, “আমাদের তো সব মান্থলি। তা ছাড়া তুমি পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙবে নাকি দাদা? যার টিকিট নেবে, নিজে সে কি করবে?”

     

     

    দাদা একটু বিমূঢ়ভাবে বলিল,—”সবার মান্থলি তোমাদের? তাহলে তো এ-গাড়িতে চড়া ভুল হয়েছে দেখছি।”

    ভজহরি বলিল—”সবার মালে আমাদের প্যাসেঞ্জারদের সবার। অঁল্য যাদের আছে, তারা দেবে কেঁল দাদা? প্রালের টান তো লেঁই তোমার সঙ্গে আমাদের মত।”

    দাদা বিরক্তির সহিত বলিল, “দেবে কেন? আরে আমি কি খেয়ে ফেলব টিকিট, না সবটাই চাইছি?”

    “তবে?”

    “আমার একরত্তি দরকার, সুদ্ধু কোণ থেকে একটু কেটে নোব, ও তোমার নম্বর তারিখ সব যেমনকার তেমনই থাকবে। বেমালুম একটু কেটে নোব, ছোট কাঁচি পর্যন্ত এনেছি।”

    হরেন বলিল, “একটা কোণ নিয়ে তুমি কি করবে দাদা, তুক-টুক আছে নাকি কিছু?” দাদা বলিল, “আরে, খেলতে জানলে কানাকড়ি নিয়েই খেলা যায়। তোমরা দাও তো একটা যোগাড় করে, এসে পড়ল যে ইস্টিশান।”

     

     

    দলটি চারিদিকে একবার চাহিল, প্যাসেঞ্জারদের কেহ মুখ ঘুরাইয়া লইল, কেহ স্পষ্টই টিকিট দিতে অসম্মতি জানাইল। আমি এক কোণে বসিয়া তামাসা দেখিতে ছিলাম, শিবু আমার পানে চাহিয়া বলিল, “আপনার মান্থলি নয় বোধ হয়? আপত্তি আছে নাকি টিকিটটা দিতে একবার, অবশ্য ওই শর্তে—শুনলেন তো?”

    আমার কৌতূহলটা সত্যই প্রবল হইয়া উঠিতেছিল, টিকিট বাহির করিয়া বাড়াইয়া দিলাম।

    দাদা এক কোণ হইতে সামান্য একটু কাটিয়া লইয়া আমার টিকিট ফেরত দিল।

    গাড়ি আসিয়া স্টেশনে দাঁড়াইতে দাদা নামিয়া প্ল্যাটফর্মের মেঝেটা চারিটি আঙুল দিয়া স্পর্শ করিয়া আঙুল কয়টা জিবে ঠেকাইল, তাহার পর সিধা হইয়া দাঁড়াইয়া দূরে গেটের কাছে টিকিট কালেক্টারের দিকে কটমট করিয়া চাহিয়া আপনমনেই বলিল, “হুঁ!”

    কি একটা পর্ব উপলক্ষে বেশ একটু ভিড় ছিল। চাপের মধ্যে টিকিট দিয়া বাহির হইয়া আসিয়াছি, দেখি, দাদাও কখন বাহির হইয়া সব প্যাসেঞ্জারদের ছাড়াইয়া গিয়াছে। ডাক দিব, এমন সময় আওয়াজ হইল, “ও মশাই! ও মশাই! টিকিট দিয়ে যান!”

     

     

    সবাই ফিরিয়া চাহিলাম; শুধু দাদা ছাড়া, সে হনহন করিয়া আগাইয়া চলিয়াছে।

    টিকিট-কালেক্টার আঙুল দিয়া দেখাইয়া বলিল, “ওই ওঁকে বলছি—বাবাজীকে। ও মশাই!”

    দাদা ফিরিয়া দাঁড়াইল, বুকের মাঝখানে তর্জনী ঠেকাইয়া বিস্মিতভাবে বলিল, “আমায় ডাকছেন?”

    “হ্যাঁ, আপনার টিকিট?”

    “টিকিট! সে তো আমি দিয়ে এলাম মশাই এক্ষুনি, ওকি সর্বনেশে কথা!” বলিয়া দাদা আগাইয়া আসিল।

    “দিয়ে গেলেন? বটে! কোনো রকমে গলে বেরিয়ে পড়তে পারলেই বুঝি দিয়ে যাওয়া হল? বড় কাঁচাছেলে পেয়েছেন, না? ওসব গেরুয়া-টেরুয়ার খাতির নেই আমার কাছে। পরশুই না আপনি উইদাউট টিকিটে এসে গুণগার দিলেন, আমার কাছেই? আপনিই তো, এ চেহারা তো ভুল হবার জো নেই।

    ভিড় জমিয়া উঠিল। দাদা বলিল, “আজ্ঞে হ্যাঁ, দিয়েছি গুণগার। তবে টিকিটও দিয়েছি, গুণগারও দিয়েছি, ভালমানুষের যুগ নেই তো আর—।

     

     

    “শুনুন আপনারা, পরশু এমনি করে আমায় ফিরিয়ে ডেকে এনে টিকিটের কথা একেবারে উড়িয়ে দিয়ে জংশন থেকে মাশুল আদায় করেছেন উনি। ওঁর কাণ্ডই এই, খুব পাকা টিকিট কালেক্টার কিনা; কিন্তু আমিও অত কাঁচা নই। তা ছাড়া কত দণ্ড সইব মশাই? গরিব সন্ন্যাসী মানুষ; পাঁচজনের কাছ থেকে মেঙে-চেঙে চালাই। এবার সাবধান হয়েছি। নিন, দয়া করে বার করুন তো ০২৮৬ নম্বর টিকিটটা, আজকের তারিখের, দেখুন তো পেয়েছেন কি না?”

    টিকিট কালেক্টর প্রায় ভ্যাঙচাইয়াই বলিল, “আজ্ঞে ও ভাঁওতা চলবে না, বের করুন পয়সা। একটা টিকিটের নম্বর জেনে নেওয়া যেন এতই শক্ত।” টিকিটগুলো মুঠার মধ্যে আরও গুছাইয়া লইয়া বলিল, “সাত ঘাটের জল খেয়ে এসে এই তারকেশ্বরেই ঘায়েল হতে হবে দীনো সান্ডেলকে? বটে! টিকিটের নম্বর!”

    দাদা সকলের দিকে চাহিয়া বলিল—”আপনারা দেখছেন তো? আচ্ছা, বেশ আমি আরও প্রমাণ দিচ্ছি। আমার টিকিটের কোণটা কাটা, এবার ওইটে আমি চেহ্ন দিয়ে রেখেছিলাম আমার টিকিটে। এই দেখুন, কাঁচিও রয়েছে সঙ্গে। বার বার কতই বা দণ্ড দোব মশাই? সন্ন্যাসী মানুষ। আর কতই বা অপমান সইব? আপনারা পাঁচজন ভদ্রলোক রয়েছেন, বের করতে বলুন ওঁকে, কোণকাটা অত নম্বরের টিকিট যদি না থাকে, যা দণ্ড আপনারা বলেন, দোব।’

    টিকিট-কালেক্টরের মুখটা যেন একটু শুকাইল, সামলাইয়া লইয়া অত্যন্ত ক্রুদ্ধভাবে বলিল, “বের কর পয়সা, ওসব ধাপ্পাবাজী চলবে না। না বের কর তো হ্যান্ড-ওভার করে দোব পুলিশে। গেরুয়া পরে কাঁচি নিয়ে এই সব করে বেড়ানো হচ্ছে! কি আমার সন্ন্যাসী রে!”

    কয়েকজন ভদ্রলোক বলিল, “উনি বলছেন যখন, দেখুন না টিকিটগুলো মশাই, ওই নম্বরের, ওই ধরনের টিকিট আছে কিনা!”

    বিশ্বাস করুক, না করুক, বেশ বোঝা গেল সমস্ত দলটাকে একটা উগ্র কৌতূহলে পাইয়া বসিয়াছে।

    এবার দাদার পালা, সিধা হইয়া আহত গর্বের স্বরে বলিল, ‘উনি না বের করেন, এই আমি করছি, দেখুন”—বলিয়া সবার সামনে মুষ্টিটা প্রসারিত করিয়া ধরিল।—করতলের মাঝখানে সেই টিকিটের কোণটি।

    সবার জেদের চাপে টিকিট-কালেক্টারকে টিকিটগুলো জমিতে বিছাইতে হইল। দাদা “এই আমায় টিকিট!” বলিয়া ছোঁ মারিয়া কাটা টিকিটটা তুলিয়া লইল এবং সবার বিস্মিত দৃষ্টির সামনে কাটা অংশটুকু একেবার নিশ্চিহ্নভাবে জোড়া দিয়া বলিল, “এই দেখুন আপনারা! দেখুন সব! সাধু-সন্ন্যাসীর ওপর একবার অত্যাচারটা দেখুন, বাবার নাকের নিচে!”

    তাহার পর শুধু নির্বাক রহিল সেই টিকিট-কালেক্টার—মূঢ়, বিস্মিত, অপ্রতিভ। আর কাহারও মুখ বন্ধ রহিল না, দাদার তো নহেই, ধিক্কারে, হুমকিতে, টিটকারিতে জায়গাটা একটুর মধ্যেই মুখর হইয়া উঠিল।

    হ্যাঁ, টিকিট-কালেক্টারের মতো আরও একজন নির্বাক ছিল, সেই এই কাহিনীর লেখক। থাকা উচিত ছিল না, বুঝি; কিন্তু কেন যে ছিলাম এখনও পর্যন্ত ঠিক বুঝিয়া উঠিতে পারি নাই। বিস্ময়ে? না, ভয়ে? তখন কি এই মনে হইয়াছিল যে, যদি বলিই আসল কথাটা তো দাদার গুণগ্রাহীরা আমার বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দিয়া আমাকেও ওই টিকিট-কালেক্টারের দশায় ফেলিবে? তাও হইতে পারে, অথবা সে সময় বোধ হয় শঙ্কা হইল, আমার সম্বন্ধেও লোকটা পেটে পেটে কি আঁটিয়া রাখিয়াছে, কে জানে! ভয়ঙ্কর পাকা খেলোয়াড়! অথবা— এখন আন্দাজ অনেক কিছুই করিতেছি, কিন্তু তখনকার মনের অবস্থাটা ঠিক ধরিতে পারিতেছি না। মোটের উপর, টিকিটের রহস্য আর উদ্‌ঘাটিত হয় নাই, এবং আমার চোখের উপর দিয়াই দাদা পুরো দলের মধ্যে জেলফেরত সত্যাগ্রহীর মতোই নিঃসঙ্কোচে গটগট করিয়া বাহির হইয়া গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Next Article রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }