Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প213 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অকাল বোধন

    বিবাহের পরে ননদ প্রথম বার শ্বশুর-বাড়ি যাইবে, নন্দাই লইতে আসিয়াছে; পঙ্কজিনীকে তাহার নিজের ঘরটি কিছুদিনের জন্য এই নব-দম্পতিকে ছাড়িয়া দিতে হইল, কারণ বাড়িতে ঘরের অভাব। কর্তার বন্দোবস্ত হইল সদর-ঘরে। ছোট যে ভাঁড়ার-ঘরটি ছিল, তাহারই জিনিসপত্র সরাইয়া পঙ্কজিনী নিজের পুত্রকন্যাদের এবং দেবরটির সংস্থান করিয়া লইল।

    কোলের ছেলেটি এই পরিবর্তনের কারণ বুঝিতে না পারিয়া মার গলা জড়াইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “আমাদের ঘরে ছুলে না কেন মা?”

    “তোর পিসি তাড়িয়ে দিয়েছে।”

    “বাবাকেও তালিয়ে দিয়েতে?”

    “হ্যাঁ, দিয়েছে বই কি।”

    “কেন?”

    আড়ি পাতিবার সময় উৎরাইয়া যাইতেছিল। ছেলের কানের উপর ঘুমপাড়ানির লঘু আঘাত করিয়া জননী বলিল, “নে, ঘুমো দিকিন তুই এখন, বকর বকর করতে হবে না, ওই, আয় তো রে হুমো—”

    সমস্ত দিনের দৌরাত্ম্য-ক্লান্ত শিশু অমন পিসিমার স্বভাবের এই আকস্মিক পরিবর্তনের কথা, হুমোর অলৌকিক চেহারা এবং কীর্তিকলাপের কথা এবং দিবসের হাসিকান্নার দুই-একটা আধবিস্মৃত কথা ভাবিতে ভাবিতে মায়ের কোলে নিদ্রায় এলাইয়া পড়িল। একটু পরেই পাড়ার কয়েকজন যুবতীর চুড়ির ঠুনঠুন, কাপড়ের খসখসানি এবং চাপা গলার ফিসফিসানিতে ঘরের পাশের হাওয়াটা কৌতুক-চঞ্চলতায় জীবন্ত হইয়া উঠিল। পঙ্কজিনী কোলের ছেলেটিকে আরও দুই-একটা নরম আঘাত দিয়া শোয়াইয়া দিল; ঘরের অন্যান্য ঘুমন্ত মুখগুলির উপর চক্ষু বুলাইয়া লইল; তাহার পর চাপা স্বরে অনিচ্ছার আভাস মিশাইয়া বলিল, “জুটেছিস পোড়ারমুখীরা? বলিহারি শখ তোদের, কোথায় একটু চোখ বুজব, না—!” বলিতে বলিতে খিড়কির দরজাটার অর্গল খুলিয়া দিল।

    একজন ভিতরে আসিতে আসিতে নথের ঝাঁকি দিয়া বলিল, “নাঃ, শখে আর কাজ কি! তোমার কত্তার কাছে গিয়ে ভাগবতে দীক্ষা নিগে যাই। বলি হ্যাঁ, তাঁকে বাড়ির বাইরে করেছ তো? নইলে আমাদের মতলব টের পেলে এই রাত-দুপুরে ডাকাত-পড়া কাণ্ড ক’রে তুলবেন’খন।”

     

     

    এই সম্মিলনীটিতে বয়সে বোধ হয় পঙ্কজিনীই সবচেয়ে বড় তাই সে সলজ্জ গাম্ভীর্যের সহিত বলিল, “দেখিস, বেশি বাড়াবাড়ি করিস নি কিন্তু সব। এই দেড় দিন গাড়িতে এসে হা-ক্লান্ত হয়ে আছে বেচারা, একটু ঘুমুনো দরকার।”

    এই সহানুভূতিতে একটি তরুণী নরম পর্দাতেই খিলখিল করিয়া হাসিয়া ফেলিল। অপরের গা ঠেলিয়া বলিল, “দিদি ভুলে গেছে সব; ঘুমের জন্যেই ওদের মাথা-ব্যথা বটে।” ইহাতে দলটির একপাশে কয়েকজনার মধ্যে একটু টেপা হাসি, অর্থপূর্ণ চাহনি এবং দুই- একটা অন্যবিধ বয়স-সুলভ ইশারার বিনিময় হইয়া গেল। যাহারা এই চপলতাটুকুর মূল কোথায় বুঝিল না, তাহারা কপট বিরক্তির সহিত মত দিল, এ সব ছ্যাবলাদের সঙ্গে কোথাও যাইতে নাই।

    অমনই ছ্যাবলাদের দলের একজন হঠাৎ ভারিক্কি হইয়া বলিল, “তাই না তাই, দু চক্ষের বালাই সব—”

    এই ছলাটুকুতে সকলে হাসিয়া উঠিল। পঙ্কজ ঠোঁটে হাসির একটু রেশ টানিয়া রাখিয়া বলিল, “পোড়ার মু–খ, রঙ্গ নিয়েই আছেন!”

    ইহারা যতই আনন্দমুখর হইয়া উঠিতেছিল, পঙ্কজিনীর উৎসাহটা যেন ততই শিথিল হইয়া আসিতেছিল। ইহারা সকলে মিলিয়া হঠাৎ ঘরটার মধ্যে পূর্ণ যৌবনের এমন একটা রসহিল্লোল তুলিল যে, যৌবন সীমাগতা এই নারীর ইহাদের মধ্যে নিজেকে নিতান্ত খাপছাড়া বলিয়া বোধ হইল। যদি চিন্তার ক্ষমতা থাকিত, তাহা হইলে স্ফুটমান কলিটির পাশে যে ফুলটি ফোটা শেষ করিয়া দুই-একটি দল হারাইয়া বৃত্তসংলগ্ন রহিয়াছে, সেও বোধ করি এক রকমই ভাবিত। একেবারে তাহার সমবয়সী-গোছের কেহই ছিল না সেখানে, তাহার পাতানো ‘গোলাপ’ পর্যন্ত নয়। কেন যে ছিল না, পঙ্কজ তাহার কারণ নিজের মনকে নিজেই দিল—তাহারা সব নিজেদের সাত-আট দশ বৎসরের পুত্রকন্যা লইয়াই ব্যস্ত, এই সব লঘুতার কি আর অবসর আছে? একজনকে প্রশ্ন করিল, “কই, গোলাপ এল না রে ছোট বউ?” উত্তর পাইল, “তাঁর শরীরটা তেমন ভাল নয়।”

     

     

    সেই মুখরা মেয়েটা একটু পিছনে সরিয়া গিয়া একজনের ঘাড়ে মুখ গুঁজিয়া বলিল, “মোটে দুদিনের ছুটিতে গোলাপের ‘ভোমরা’ বাড়ি এসেছে।”

    কে তাহার গাল দুইটা টিপিয়া ধরিল, বলিল, “মুয়ে আগুন, রস যে ধরে না আর! তোমার ভোমরারও শিগগির আসা দরকার হয়ে পড়েছে।”

    পঙ্কজিনী হঠাৎ বলিল, “তা সব দাঁড়িয়ে রইলি যে? যা করতে এসেছিস করুগে।”

    একজন বলিল, “বাঃ, আর তুমি?”

    “নাঃ, আমি আর না; তোদের সব দোর খুলে দিতে উঠেছিলুম।”

    সে গেলই না; বিছানায় গিয়া শুইল এবং উঠানের ওপার হইতে যখন মাঝে মাঝে ত্রস্ত মলের শিঞ্জিনী এবং রুদ্ধ হাসির তরল ঝঙ্কার ভাসিয়া আসিতে লাগিল, সে খোকার মাথায় হাত বুলাইতে বুলাইতে কি ভাবিয়া শরমে সঙ্কুচিত হইয়া উঠিল।

     

     

    .

    বাড়িটা কয়েক দিন ধরিয়া পাড়ার কৌতুক-রহস্যের কেন্দ্র হইয়া রহিল। রাত্রে যুবতীদের রঙ্গরস, সকালে ছোট মেয়েদের দৌরাত্ম্য এবং মধ্যাহ্নে গুলের-কৌটা হাতে ঠানদিদির তামাক গুঁড়ার মতই ঝাঁঝালো রসিকতা—এসবের মধ্যে পঙ্কজিনীকে সহায়িকা হইয়া থাকিতে হইত। ফলে, প্রথম প্রথম তাহার এই নবদম্পতির উপর যে স্বাভাবিক করুণার ভাবটি ছিল, তাহাও তিরোহিত হইয়া ইহাদিগকে বিদ্রূপলাঞ্ছিত করিবার ইচ্ছাটা প্রবল হইয়া উঠিতে লাগিল। তাই সকাল বেলা স্বামীর পূজার জন্য চন্দন ঘষিবার সময় সে দুষ্টামির হাসি হাসিতে হাসিতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের উপদ্রবের নব নব প্রণালীতে তালিম দিতে লাগিল; রাত্রে আড়ি পাতিবার সুবিধার জন্য দুয়ার-জানালা যাহাতে বাহির হইতে খোলা যায়, তাহার উপায় করিয়া রাখিতে লাগিল; এবং মধ্যাহ্নে প্রবীণারা যখন নূতন বরটিকে ঘিরিয়া আসর জমাইয়া বসিত, তখন সেও পাশ হইতে ফোড়ন দিতে লাগিল, “ঠাকুর-জামাইয়ের আজকাল ওই রকমই গোলমাল হচ্ছে। নিজে পান খান না, অথচ সকালে ঠোঁটের ওপর রাঙা ছোপ লেগে থাকে; আর বিছানা থেকে উঠলে মুখে নয় একটু সিঁদুরের দাগ, নয় কোনখানে সোনার আঁচড়, সে তো রয়েছেই—”

     

     

    ইহার উপর কেহ বোধ হয় তাহাকেই খোঁচা দিয়া বলিত, “মর্, তোর কথার ভাবে বোধ হয়, সারা সকালটা নাতজামাইয়ের চাঁদমুখটির দিকেই হাঁ করে চেয়ে বসে থাকিস।”

    সে উত্তর দিত, “তা একটু থাকি বইকি। জানি দুপুরবেলা দশটি রাহুতে মুখটি নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগবে যে!”

    এই রকমই হইতে লাগিল। মোট কথা, শান পড়িলে অস্ত্রখানিকে লইয়া কেবল যেমন চোপ বসাইতে ইচ্ছা করে, ক্রমাগত চর্চার ফলে পঙ্কজের রহস্যবিদ্রুপের প্রয়োগ সম্বন্ধে সেই রকম একটা প্রবল ইচ্ছা দাঁড়াইয়া গেল। মাঝে পড়িয়া নাকাল হইতে লাগিল এই লাজুক বরটি।

    মনটা পঙ্কজের তারল্যে ছলছল করিতে লাগিল। সে নেহাত কোলে-পিঠে করিয়া মানুষ-করা বলিয়া, ননদের সহিত ঠাট্টা করিত না, কিন্তু আজকাল তাহার বিদ্রূপের দুই- একটা ঝাপটা সে বেচারীকেও বিব্রত করিতে লাগিল।

    হঠাৎ যেন নিজের বয়সের ভার ছাড়িয়া পঙ্কজিনী খানিকটা হালকা হইয়া পড়িল।

     

     

    কিন্তু স্বামী তাহার মাঝে মাঝে রসভঙ্গ করিয়া দিত। জমাট মজলিসের মধ্য হইতে তাহাকে ডাকিয়া লইয়া কখনও বলিত, “নাও নাও, ঢের হয়েছে, আমার ‘বেদান্তদর্পণে’র পাতাটা যে খুঁজতে বলেছিলুম, মনে আছে?”

    পাতাটা চার মাস যাবৎ নিরুদ্দেশ। পঙ্কজিনী বোধহয় বলিয়া ফেলিত, “কথাটা ঠিকই মনে আছে, কিন্তু পাতাটা বাড়িতে নেই।”

    স্বামী গম্ভীরভাবে বলিত, “আমি জানি, এই বাড়িতেই আছে; তার হাত-পা গজায় নি যে—”

    “কিন্তু হাত-পা আছে এমন ছেলেপিলে তো ফেলে দিয়ে আসতে পারে?”

    “যেখানে মেয়েমানুষ এমন লঘুচিত্ত, সে বাড়িতে ছেলেপিলেরা সবই করতে পারে। আমি বলি, রঙ্গরস ছেড়ে একটু খুঁজলে ভাল করতে। যত সব—”

    একদিন মধ্যাহ্ন-বৈঠক হইতে পঙ্কজের জরুরি তলব হইল। “ব্যাপার কি?” বলিয়া সে একটু বিরক্তভাবেই স্বামীর সামনে আসিয়া দাঁড়াইল এবং বলিল, “তোমার কি একটু আক্কেল নেই? ও-পাড়ার ঠাকরুণদিদি কি বললেন জান?”

     

     

    “কি?”

    “হ্যাঁ, তোমায় আমি সেই কথা বলিগে! আক্কেল খুইয়ে যখন-তখন ডাকলে তো বলবেই।”

    “আহা, বলই না, অন্তত আমার আক্কেল বজায় রাখার জন্যেও তো বলা উচিত।” কথাটা পঙ্কজের মনটা আলোড়িত করিতেছিল; সে ঈষৎ হাসিয়া রাগতভাবে বলিল, কেন! বললে, ‘বরের সঙ্গে যে বড় আটা হয়েছে দেখছি!’ কি ঘেন্নার কথা বল দিকিন! এই বয়েসে সবার সামনে —”

    স্বামী কপট গাম্ভীর্যের সহিত বলিল, “তা বলেছেন ঠিকই, এই বয়েসে বুড়ো বরকে ছেড়ে কোথায় অন্য—”

    “চুপ কর বলছি, আস্পদ্দা।”—বড় বড় চোখ দুইটা আরও বড় করিয়া পঙ্কজিনী স্বামীকে থামাইল। তাহার পর জিজ্ঞাসা করিল, “নাও, কেন ডাকছ বল? দেরি হয়ে যাচ্ছে ওদিকে।”

    “একজন অবধূত পদার্পণ করেছেন; মস্ত বড়—”

     

     

    পঙ্কজের হাসি-হাসি মুখটা মুহূর্তে অন্ধকার হইয়া গেল। সে বিরক্তভাবে বলিল, “তা আসুন, আমার অত ঘি-ময়দা নেই। তা ছাড়া বাড়িতে একটা জামাইয়ের খরচ আছে।”

    “সে সংসারের খবর আমিও খুব রাখি। তা ব’লে সাধু-ফকির একজন দয়া ক’রে যখন এসেছেন—”

    “কেতাত্ত করেছেন। বল, চ’লে গেলে বেশি দয়া করা হবে—,” বলিয়া পঙ্কজ চলিয়া যাইতেছিল; স্বামী কহিল, “আরে শোন।”

    না ফিরিয়া পঙ্কজ উত্তর দিল, “কি? আমি শুনতে চাই না।”

    “রাত্রে ‘হরিকথা’ কইবেন তারও উজ্জ্বগ-টুজ্জগ—”

    “ওসব কিচ্ছু হবে-টবে না, ব’লে দিলুম, এক কথা।—” পঙ্কজ উঠান ছাড়িয়া রকে উঠিল।

    “আর একটা কথা শুনছ?”

     

     

    পঙ্কজ আবার না ফিরিয়া উত্তর করিল, “না, শোনাবার দরকার নেই।”

    “তোমার গিয়ে বিনোদকেও ডেকে দাও : বাজে ফষ্টিনষ্টি ছেড়ে একটু সদালাপ শুনবে’খন।”

    “তুমি একলাই শোন গিয়ে, বিনোদের ভাগ বসাবার দরকার নেই।”

    তখন এই তত্ত্বান্বেষী পুরুষটি নিজেই দুই পা আগাইয়া ভগ্নীপতিকে ডাকিয়া যাহাতে তাহার আধ্যাত্মিক উন্নতির সুবিধা হয়, সেইজন্য সন্ন্যাসীর নিকট আনিয়া বসাইল এবং সেদিনকার মত সেই অনাধ্যাত্মিক সভাটিও উঠিয়া গেল।

    মাত্র দুই-একটা উদাহরণ দেওয়া গেল, কিন্তু এই রকম রসভঙ্গ প্রায়ই ঘটিত। পঙ্কজিনী বর্ষীয়সীদের বিদ্রূপবাণে জর্জরিত হইয়া স্বামীর উপর ঝাল ঝাড়িত, “আচ্ছা, কেন তোমার এমন ধরন বল দিকিন? দু দণ্ড ব’সে একটু আমোদ-আহ্লাদ করে, তাতে তোমার গায়ে ফোসকা পড়ে?”

    স্বামী তখন লেক্‌চার জুড়িয়া দিত, বলিত, “ওই—ওইখানেই তোমাদের সঙ্গে মেলে না আমার। এখন দেখতে হবে, তোমরা যে অসার বাক্যালাপকে আমোদ বলছ, সেটা ঠিক আমোদ কি না, সেটা নির্ণয় করতে হ’লে আগে বুঝতে হবে, শুদ্ধ আমোদের স্বরূপটা কি। তা হ’লে দেখা যাক, শঙ্কারাচার্য এ সম্পর্কে—”

     

     

    যাঁহারা পঙ্কজিনীকে চিনিয়াছেন, তাঁহারা সহজেই বুঝিতে পারিবেন, এ বক্তৃতা কখনও শেষ হইত না। শুধু স্ত্রীলোকেরাই পারে, এমনভাবে মুখখানা ঘুরাইয়া লইয়া পঙ্কজ হনহন করিয়া চলিয়া যাইত, বলিত, “ক্ষ্যামা দাও, ঢের ভক্তিমে হয়েছে, যত সব অসৈরণ—”

    স্ত্রীর আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্বন্ধে হতাশ হইয়া স্বামী একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলিত; বলিত, “ওই তো মুশকিল, মেয়েমানুষের মন ঠিক জায়গায় আসতে আসতে আবার কেমন বিগড়ে যায়।”

    .

    যেদিন যাওয়ার কথা ছিল, তাহার আগের দিন পঙ্কজের ননদ অসুখ করিয়া বসিল, সুতরাং যাত্রা স্থগিত হইয়া গেল। স্বামী চটিয়া বলিল, “কেবল অনাচারে এটি হয়ছে, এর জন্য কে দায়ী জান?

    পঙ্কজ হাসিয়া বলিল, “জানি বইকি।” কিন্তু সে শেষ করিবার পূর্বেই তাহার উত্তরটি কি হইবে আন্দাজ করিয়া তাহার স্বামী তাড়াতাড়ি বলিল, “ঠাট্টা রাখ, তোমাদের জন্যেই হয়েছে এটি; রাত দুপুর পর্যন্ত হুডুদ্দুম ক’রে ঘুমের ব্যাঘাত জন্মানো। আমি তখনই পইপই ক’রে বারণ করতুম; তা গরিবের কথা বাসী না হলে তো আর-

     

     

    পঙ্কজ একটু সঙ্কুচিতভাবে বলিল, “হ্যাঁ, এ বয়সে রাত জাগলে নাকি আবার অসুখ করে।” বলিয়া সলজ্জ কুটিল হাসির এমনই একটি সঙ্কেত করিয়া স্বামীর মুখের দিকে চাহিল যে তাহার আচারশুদ্ধ মনেও বহু পুরাতন স্মৃতির একটি অসংযত সৌরভ ক্ষণিকের জন্য জাগিয়া উঠিল;—সেই তাহারা দুইটিতে যখন অনর্থক উদ্দেশ্যহীন আলাপে কত বিনিদ্র রজনী অক্লান্তভাবে কাটাইয়া দিত, যখন গ্রীষ্মের রাত্রি উত্তাপ হারাইয়া আর শীতের রাত্রির শৈত্য হারাইয়া কোথা দিয়া যে চলিয়া যাইত—সেই সব দিনের কথা। মনে পড়ে, এক শ্রাবণের রাতে পঙ্কজ অভিমানভরে পাশ ফিরিয়া শুইয়া ছিল, হাজার মিনতিতেও কথা কয় না, ফিরে না; তারপর হঠাৎ একটা মেঘের ডাকে মুহূর্তে ফিরিয়া সে তার বুকে ভয়ে মিশিয়া গিয়াছিল। স্বামী বধূকে বলিয়াছিল, “তোমার চেয়ে বাজও কোমল, সে আমার কাতরানি শুনলে।”

    স্বামী কয়েক মুহূর্তের জন্য নিষ্ঠা, সংযম প্রভৃতি দশবিধি সোপানের কথা ভুলিয়া অনেক দিন পরে স্ত্রীর মুখের পানে চাহিয়া যৌবনের সেই বিহ্বল হাসি একটু হাসিল, এবং এই ভাবের আমেজে আর একটা কি শাস্ত্রবিরুদ্ধ কাজ করিবার জন্য মুখটা বাড়াইয়া হঠাৎ নিজেকে সামলাইয়া লইল ও হাসিয়া বলিল, “দিন দিন বয়ে যাচ্ছ তুমি।”

    স্ত্রীও শুধু একটু হাসিল, তাহার পর বলিল, “ঠাকুরঝিকে তো আর কয়েক দিন পাঠানো যাবে না, কিন্তু ঠাকুরজামাই আর থাকতে চান না যে।”

     

     

    “ও বোধ হয় ভাবছে, শ্বশুরবাড়িতে আর কত দিন কাটাব। তা আমি বুঝিয়ে বলব’খন। কাছেপিঠে নয় তো যে, আবার দুদিন পরে এসে নিয়ে যাবে।”

    প্রতিদিনই উপশম হইবার আশা দিয়া অসুখটা দশ-বারো দিন পর্যন্ত বিস্তার করিল এবং তাহার পর রোগিণীটিকে এমনই নিস্তেজ করিয়া দিয়া গেল যে; তাহার আর উঠিয়া চলাফেরা করিবার সামর্থ্য রহিল না। দেখিয়া বোধ হইতে লাগিল, যেন প্রাণটি নেহাত নিরাশ-ভাবেই এই শুষ্ক দেহের অবলম্বন ধরিয়া দুলিতেছে।

    লাজুক বরটি বড় মুশকিলে পড়িয়া গেল। শ্বশুরবাড়িতে আর অধিক দিন থাকাও যায় না, অথচ নূতন বালিকা-বধূটির জন্যও প্রাণটি নিতান্ত কাতর হইয়া পড়িল। বাড়িতে গিয়া পাঁচ-সাত দিন অন্তর শ্যালকের এক-আধখানা চিঠির উপর ভরসা করিয়া সে যে কি করিয়া থাকিবে, তাহা ভাবিয়া পাইল না। এই তো এইখানেই দিনের মধ্যে কতবার করিয়া খবর পাইতেছে, এবং কাছে বসিবার সুযোগও বউদিদি যথেষ্ট করিয়া দিতেছেন, কিন্তু তাহাতেও তো উৎকণ্ঠার অন্ত নাই—চোখের আড়াল হইলে আর প্রাণে সোয়াস্তি নাই।

    এ অবস্থায় যখন শ্যালক আসিয়া হিন্দুদের বৈবাহিক আচার-ব্যবহার, স্ত্রী-পুরুষের শাস্ত্রসঙ্গত প্রকৃত সম্বন্ধ, অন্যান্যের প্রতি শাস্ত্রনির্দিষ্ট কর্তব্য প্রভৃতি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করিয়া একটি সারবান উপদেশ দিয়া বলিল, তাহার থাকাটা একান্ত প্রয়োজন এবং পাড়ার প্রবীণাদের দ্বারাও যখন সেই কথাই বলাইল ও তাহার উপর আবার যাইবার কথা তুলিতে শ্যালকব্জায়া যখন তাচ্ছিল্যভরে হাসিয়া জানিতে চাহিল, বউয়ের অসুখে মাথা খারাপ হইয়া গিয়াছে কি না, তখন বেচারা যেন হাঁপ ছাড়িয়া বাঁচিল। ইহার পরে যাহা সামান্য একটু দ্বিধা ছিল, তাহা নিঃশেষ হইয়া গেল বধূটি যখন বড়ই অভিমানভরে ঠোঁট দুইটি কাঁপাইয়া বলিল, “তা যাবে বইকি। আমি আর তোমার কে?”

    এ কথার পরেও কে চলিয়া যাইতে পারে, জানি না। কিন্তু সে থাকিয়া গেল। বাড়িতে লিখিয়া দিল, তাহার নিজের শরীর খারাপ, কিছুদিন যাওয়া চলিবে না, তবে ভাবিবার কিছুই নাই। নববধূটির মায়ায় আটকাইয়া রহিল—এই সত্য কথাটুকু লিখিতে যেন কেমন কেমন বোধ হইতেছিল। এখানে বউদিদিকে বলিয়া দিল, বাড়িতে আর চিঠি দেওয়ার দরকার নেই, আমি সব কথা লিখে দিয়েছি। এবং বধূকে বলিল,”সেখানে গিয়া যেন সব কথা ফাঁস ক’রে দিও না—বড্ড লজ্জায় পড়তে হবে তা হ’লে।”

    বধূটি ছোট্ট মাথাটা দুলাইয়া বলিল, “তা ব’লে তোমার অসুখ করেছিল, এমন অলুক্ষুণে মিছে কথা বলতে পারব না।”

    ইহাতে নবপরিণীত যুবকটি একটা অপরিসীম তৃপ্তি অনুভব করিল এবং বধূর মুখের কাছে মুখটি লইয়া আবেগভরে কহিল, “মিছে কথা আর কি? মনের অসুখ কি অসুখ নয় শৈল? আমি যে কি অসুখে রয়েছি, কি বুঝবে তুমি? এর চেয়ে তুচ্ছ শরীরের অসুখ যে—” ইত্যাদি অনেক কথা, যাহা না লিখিলেও স্ত্রী-পুরুষ সকলেই আন্দাজ করিয়া লইতে পারেন।

    মোদ্দা কথাটা হইতেছে, সে মাসখানেক থাকিয়া গেল। কলেজের পার্সেন্টেজের কথা হিসেব করিল বটে, কিন্তু পার্সেন্টেজের জন্য যেমন এ পর্যন্ত কোন ছাত্রের জীবনের প্রিয়তম কাজটিতে বাধা পড়ে নাই, সেইরূপ তাহারও পড়িল না। সে মনে মনে এই সুদীর্ঘ মানবজীবনে যৌবনের অচিরস্থায়ী দিনগুলোর পার্সেন্টেজ এবং তাহারও মধ্যে আবার নবপরিণয়ের এই স্বপ্নাবিষ্ট দিনগুলোর পার্সেন্টেজ কষিয়া ফেলিল। ফলে যতদিন পর্যন্ত না বধূটি আরোগ্যলাভ করিয়া সক্ষম হইয়া উঠিল, সে আর কাছ-ছাড়া হইল না।

    যখন বধূকে নিজের মুখে কহিতে শুনিল যে, আর তাহার বিশেষ কষ্ট নাই, তখন শ্যালকজায়ার নিকট আরজি পেশ করিল, “বউদি, এবার যেতে হচ্ছে—একটা দিন- টিন—”

    পঙ্কজ গাল দুইটি ভার করিয়া বলিল, “তা কি দিয়ে আর রুকে রাখব ভাই? রোকবার যা, তা তো সঙ্গে চলল। কিন্তু এখনও বড্ড কাহিল নয়?”

    “না, আর তেমন কাহিল কি? শরীর তো বেশ সেরে উঠেছে।”

    পঙ্কজ চাপা হাসির সহিত হঠাৎ ঘাড়টা কাত করিয়া গালে তর্জনীটা টিপিয়া বলিল, “ওমা, তাও তো বটে, আজকাল ঠাকুরঝির শরীরের কথা আর আমরা কি জানব?”

    বেচারা বরটি লজ্জিত হইয়া পড়িল। হাসিয়া বলিল, “এইজন্যেই আপনার কাছে বলতে সাহস হয় না বউদি। কিন্তু ঠাট্টা রেখে দাদার সঙ্গে পরামর্শ ক’রে একটা দিন-টিন দেখুন। আর তাও বলি, দাদারও শরীরটা বাইরে প’ড়ে থেকে থেকে খারাপ হয়ে গেছে; ওটা তো আর ঠাকুরঝির শরীর নয় যে, পরেই ভাল তদারক করবে।”

    যে বিদ্রূপ অন্তরের কথাটির সহিত মিলিয়া যায়, তাহার আর ভাল জবাব যোগায় না। সলজ্জ সঙ্কোচের সহিত পঙ্কজ শুধু বলিল, “এই যে মুখ ফুটেছে!”—বলিয়া সে তাড়াতাড়ি সে স্থান পরিত্যাগ করিতে যাইতেছিল, এমন সময় ‘বেদান্তদর্পণে’র সে পাতাটা পাওয়া গিয়াছে কি না—প্রশ্ন করিয়া স্বামীটি সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইল।

    দশ বৎসরের বালকের মা পঙ্কজ নিজেকে সামলাইয়া লইতে পারিল না। নন্দাইয়ের এই ঠাট্টাটুকুর পরেই স্বামীকে সামনে পাইয়া নূতন বধূটির মতই শরমে রাঙা হইয়া ত্বরিতপদে ঘরের ভিতরে আশ্রয় লইল।

    ননদটি আজ চলিয়া গিয়াছে।

    পঙ্কজের মনটা সমস্ত দিন বড় ছোট হইয়া আছে। ছোট কন্যার মত মানুষ করা ছেলেমানুষ ননদটি বুকের মাঝখানটায় এমন খানিকটা শূন্যতা সৃজন করিয়া গিয়াছে যে, সেটা আর কিছু দিয়াই পূর্ণ করা যায় না! কেবলই মনে হইতেছে, আহা, এটি ও বড় ভালবাসিত; আহা, বড় ছেলেমানুষ; আহা কিছু শিখে নাই সে।

    বাড়িটিও দুই দিন হাস্যকলরবে অধিকতর পূর্ণ হইয়া হঠাৎ যেন নির্বাণশিখা প্রদীপটির মত মলিন হইয়া গিয়াছে। নূতন-পরিচিত যুবকটি—যে ‘কৌতুকআলাপের মধ্য দিয়া ছোট ননদিনীর পার্শ্বে তাহার হৃদয়ে একটি স্থান অধিকার করিয়া লইয়াছে, তাহার কথাও বড় বেশি মনে হইতে লাগিল। তাহাকে লইয়া কখন কি অত্যাচারটি করা হইত, প্রবহমাণ দিনটির প্রহরে প্রহরে মনে পড়িয়া মনটাকে আকুল করিতে লাগিল। বিকেলবেলায় সে আর বাড়ি থাকিতে পারিল না। প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়া বিগত কুড়ি-পঁচিশ দিনের খুঁটিনাটি সব আলোচনা করিয়া ভারী মনে কাটাইয়া দিল।

    স্বামী বাড়ি ছিল না, নূতন রাস্তা, তাহাতে আবার রেলে কয়েকটি বদলি আছে, সে ভগ্নীপতিকে খানিকটা আগাইয়া দিতে গিয়াছে! কাল সন্ধ্যার পূর্বে ফিরিবে না। চাকরটা পর্যন্ত সঙ্গে গিয়াছে।

    পঙ্কজ সকাল সকাল ছেলেমেয়েদের আহার করাইয়া শুইয়া রহিল, সেদিন নিজের ঘরে গিয়া শুইতে ইচ্ছা হইল না। শুইয়া ননদ-নন্দাইয়ের চিন্তার পাশে অলক্ষিতে আর একজনের যে চিন্তাটা আসিয়া উদয় হইল, সেটা স্বামীর—বড় অগোছালো বেহিসাবী মানুষ, ঘর ছাড়িয়া খুব কমই বাহিরে যায়।

    .

    পরদিন নূতন করিয়া ঘরদোর গুছাইতে, পুরানো রাস্তায় চালাইবার পূর্বে একবার সংসারটাকে দেখিয়া লইতে কাটিয়া গেল। সকলের মধ্যেই যেন পঙ্কজের মনে হইতে লাগিল, স্বামীর জন্য এতদিন যথেষ্ট করা হয় নাই। আজ যে হঠাৎ এত দরদ কোথা হইতে উদয় হইল—সে বুঝিতে পারিল না, বুঝিবার চেষ্টাও করিল না। শুধু যেখানে যেখানে পারিল, স্বামীর জন্য প্রচুর ত্যাগস্বীকার করিয়া নূতন বন্দোবস্তটা যতদূর পারিল নিরস্ত্র করিয়া দাঁড় করাইল, এমন কি ঘরদুয়ার গুছাইতে গুছাইতে ননদ-নন্দাইয়ের কথা ভাবিতে ভাবিতে তাহার ইহাও মনে হইতে লাগিল, আহা এই তালে যদি ওর সেই বইয়ের পাতাটা পেয়ে যেতুম; কতবার যে বলেছে, গা করা হয় নি!

    কবে দুইটা রূঢ় কথা বলিয়াছে, কবে একটা আবেদন-অনুরোধ হেলায় অগ্রাহ্য করিয়াছে, নন্দাই থাকিবার সময় আমোদ-প্রমোদে বাধা পাইয়া কবে একটু অবহেলা বিরক্তি দর্শাইয়াছে, সমস্ত আজ তাহার মনের মেঘে এপার ওপার করিয়া এক-একটা বেদনার বিজলীরেখা টানিয়া দিতে লাগিল। সন্ধ্যার সময়ে স্বামী আসিবে; কত দিনের বিরহিণীর মত পঙ্কজ সূক্ষ্ম যত্নের সহিত অভ্যর্থনার আয়োজন করিয়া রাখিতে লাগিল। ঝকঝকে করিয়া মাজা গাড়ুটা টাটকা জলে পূর্ণ করিয়া পাট-করা গামছায় ঢাকা দিয়া পা-ধোয়ার জায়গায় রাখিয়া দিল; আলনায় আহ্নিক করিবার গরদের কাপড়টি এবং তাহার পর পরিবার থান- কাপড়টি মিহি করিয়া কোঁচাইয়া টাঙাইয়া রাখিল! যখন যেটি দরকার, হাতের কাছে করিয়া গুছাইয়া রাখিল। বহুদিনের অনাদৃত স্বামীর আদরের পাত্রী মেজো মেয়েটিকে পর্যন্ত ফিটফাট করিয়া ধুইয়া মুছিয়া সাজাইয়া রাখিল। সন্তানের মুখে বক্ষের স্তন্য উজাড় করিয়া দিয়াও প্রসূতির যেমন অতৃপ্তি থাকিয়া যায়, সেইরূপ তাহারও যেন হাজার করিয়াও আশ মিটিতেছিল না।

    তাহার পর সে বিছানা রচনা করিবার জন্য খাটের কাছে আসিয়া দাঁড়াইল। হঠাৎ শরীরে কিসের যে একটা প্রবাহ খেলিয়া গেল, পঙ্কজের সমস্ত শরীরটা রোমাঞ্চে শিহরিয়া উঠিল। নবদম্পতির সদ্যত্যক্ত গৃহে বিলাসের মোহ এখনও লিপ্ত হইয়া আছে। ফুলের ও এসেন্সের মিশ্রিত মৃদু গন্ধে ঘরটি আমোদিত। শয্যার মাথার দিকে এক কোণে একটা গন্ধ তীব্র হইয়া উঠিতেছিল, কুতুহলী হইয়া চাদরের কোণটা উঠাইয়া সে দেখিল, একটি বকুলের মালা সন্তর্পণে কুণ্ডলী করিয়া রাখা। পঙ্কজ একটু হাসিয়া সেটা বাহির করিয়া লইল। তাহার পর অন্য দিকে চাহিয়া অন্যমনস্কভাবে মালাটা দুই হস্তের অঙ্গুলির মধ্যে জড়াইয়া, খুলিয়া, আংটির মত পরিয়া, আবার মণিবন্ধে বলয়ের মত পরিয়া খেলা করিতে লাগিল।

    আজ যৌবনের সায়াহ্নে পঙ্কজের প্রথম যৌবনের কথা মনে পড়িয়া গেল। এই সেই গৃহ—এই রকম গন্ধেরও রেশ মাথার মধ্যে যেন ঘনাইয়া উঠিতেছে—তাহাদেরও ঘর আলো করিয়া নিশ্চয়ই এমনই ফোটা ফুলের মেলা তখন বসিত, আর তাহার পায়ের কাঁচা আলতাও কি এমনই করিয়া যেখান-সেখান রাঙাইয়া দিত না? দিত নিশ্চয়, কিন্তু কই, তখন তো সে এত কথা বুঝে নাই! জীবনে তখন যে বসন্ত আসিয়াছিল, তাহার অভ্যর্থনার কলগীতি তো তেমন করিয়া গাওয়া হয় নাই! স্বামী কতটুকু কদর করিয়াছিল, কে জানে— এখন ভাল করিয়া মনে পড়ে না। আর এই তো ভোলানাথ স্বামী–এর কাছে নিজেই যখন নিজের যৌবন-সম্পদকে ভাল করিয়া পরিচিত করিয়া দিতে পারে নাই, তখন কি আর যথাপ্রাপ্যটুকু পাওয়া গিয়াছিল!

    আজিকার গৃহিণী পঙ্কজিনী সেদিনকার পনেরো বৎসরের বধূ পঙ্কজিনীকে সখীর মত বক্ষের মধ্যে চাপিয়া ধরিল। অন্তর তাহার ব্যর্থতার বেদনায় মথিত হইয়া উঠিল। তাহার পর ধীরে ধীরে একটা কথা, যাহা এতক্ষণ বাষ্পাকারে মনের মধ্যে ভাসিয়া বেড়াইতেছিল, স্পষ্ট হইয়া উঠিল। বাম হস্তে জড়ানো বকুলের মালাটা দক্ষিণ হস্তে আবেগভরে চাপিয়া ধরিয়া বালিশের মধ্যে মুখ গুঁজিয়া পঙ্কজ ভাবিল, এখনও কি সে ভুল শোধরানো যায় না? একদিনের জন্যও নয়—এক মুহূর্তের?

    এবার একটু সামলাইয়া লইয়া ভাবিল, কেন হইল এমনটা? তাহার একটা সুস্পষ্ট উত্তর খুঁজিয়া পাইল না বটে; তবে বিগত সমস্ত মাসটা ব্যাপিয়া ননদ-নন্দাই, পাড়াপড়শী আর সখীবৃন্দ লইয়া যে হাস্যকলরবে কাটানো গিয়াছে, তাহার স্মৃতি মনের মধ্যে স্বপ্নের আমেজে জাগিয়া উঠিল। আর তাহার পর এটা অন্তত বেশ বুঝিতে পারিল যে মনটা পূর্ব হইতেই শিথিল হইয়া পড়ুক আর নাই পড়ুক, আজ এই শূন্য গৃহের মধুময় স্মৃতি তাহাকে পূর্ণভাবেই অভিভূত করিয়া ফেলিয়াছে—আজ আর তাহার আকাঙ্ক্ষার উপর সংযম নাই, তা সে হাজারই বিসৄদশ হউক না কেন?

    পঙ্কজিনী গিয়া আয়নার সম্মুখে দাঁড়াইল। প্রথমটা নিজের প্রতিচ্ছবি দেখিয়াই বালিকাটির মতই লজ্জায় সঙ্কুচিত হইয়া উঠিল। তবে এ ভাবটা রহিল না। ক্রমে সে যত্ন করিয়া কবরী বাঁধিল; মুখটি ভাল করিয়া মুছিয়া কপালে একটি খয়েরের টিপ পরিল; তুলিয়া রাখা কানের দুলজোড়া বাহির করিয়া কানে দুলাইয়া মাথার কাপড়ে ঢাকিয়া রাখিল; পায়ে আলতা দিল; অধরোষ্ঠও রঞ্জিত করিতে যাইতেছিল, কিন্তু কি ভাবিয়া আর করিল না। আয়নায় নিজের ছায়াটিকে চোখ রাঙাইয়া বলিল, “মরণ আর কি, বড় বাড় যে!”—তাহার পর সীমন্তে মিহি করিয়া সিন্দুরের রেখা টানিয়া দিয়া সুন্দর মুখখানিকে হেলাইয়া দুলাইয়া আরশিতে নিজেকে একটু ভাল করিয়া দেখিয়া লইল। একটা ভাল কাপড় পরিবার ইচ্ছা ও হইল; কিন্তু পুত্রকন্যাদেবরের মধ্যে নিতান্ত বাধ-বাধ ঠেকিতে লাগিল। তবে একখানি ভাল কাপড় ট্রাঙ্ক হইতে বাহির করিয়া আলনায় স্বামীর পিরানের নীচে লুকাইয়া রাখিল—সময় বুঝিয়া পরিবে। তাহার পরে বহুদিনের ছাড়া শয্যাটি প্রাণের সমস্ত দরদ দিয়া রচনা করিয়া, তাহার এই সমস্ত আয়োজনের দেবতার জন্য অন্তরের কাতর প্রতীক্ষা লইয়া সংসারের কাজে আনমনা হইয়া ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিল।

    .

    এদিকে তাহার দেবতাটি যখন বহুদূর পর্যন্ত অগ্রসর হইয়া ছোট ভগ্নীটিকে বিদায় দিল, তখন তাহার শান্ত সমাহিত চিত্তেও মায়ার একটা তীব্র আঘাত লাগিল। ইহার আগে যে মুখ সে কখনও অশ্রুসিক্ত হইতে দেখে নাই, অশ্রুজলে-ভরা বিদায়কালীন সেই ছোট মুখটি তাহার মনে বিষাদের একটা মৌন ছবি আঁকিয়া দিল, যাহা সে শাস্ত্রের কোন বচন দিয়াই মুছিয়া ফেলিতে পারিল না। ইহাতে অন্য কোন অবাধ মানবকে বোধ হয় সংসারের আপনজনগুলির কাছে নিবিড়তর করিয়া টানিয়া আনিত; কিন্তু এই সতর্ক মুক্তিকামীকে আরও স্বতন্ত্র করিয়া আরও দূরে সরাইয়া দিল। সে ভাবিল, ইহা কিছুই নয়, ‘তাঁহার’ একটি পরীক্ষা মাত্র। যে ভববন্ধন হইতে ত্রাণ পাইতে চাহে, তাহাকে এই অগ্নিপরীক্ষায় উতরাইয়া যাইতে হইবে, নইলে সমস্ত সাধনাই পণ্ড।

    সেইজন্য শাস্ত্রও যখন এই মিথ্যা অবিদ্যাজাত মায়ার নিকট পরাস্ত হইল, সে স্থির করিল, একেবারে বাড়ি না গিয়া রাস্তায় দুই এক দিবস গুরুগৃহে থাকিয়া বিক্ষিপ্ত মনটা সুস্থির করিয়া লইবে। আর অনেক দিন গুরুদেবের চরণদর্শনও ঘটে নাই; যখন এটা আসাই গিয়াছে, তখন এই সুবিধাটুকু ছাড়াও উচিত নয়। তাই ফিরিবার পথে সে আর বাড়ি পর্যন্ত নিজের টিকিট করিল না। শুধু চাকরটাকে পাঠাইয়া দিল, আর বলিয়া দিল, “ব’লে দিস, যদি গুরুদেবের সঙ্গে আবার গঙ্গাস্নানটা সেরে আসবার ঝোঁক হয় তো চাই কি আরও দু-একদিন দেরি হয়ে যেতে পারে। আর দেখিস, মেয়েটাকে যেন না বেশি বকে-টকে।”

    .

    পঙ্কজ সমস্ত আয়োজন নিখুঁত করিয়া শেষ করিল; সকাল সকাল সংসারের কাজকর্ম সারিয়া লইল এবং আর সকলের আহারাদি পর্যন্ত মিটাইয়া ছোট সেই দুরন্ত ছেলেটিকে বুকে চাপিয়া আবেগ-শিথিল চরণে শয়নগৃহে প্রবেশ করিল।

    এই সময় দেবর আসিয়া খবর দিল, “দাদা আজ এলেন না বউদি, দুখীরাম একলা ফিরে এসেছে।”

    পঙ্কজ শূন্য দৃষ্টিতে দেবরের দিকে চহিয়া রহিল, কোন কথাই কহিতে পারিল না। দুখীরাম নিজেই আসিয়া বলিল, “হ্যাঁ, তেনার মনটা বড় খারাপ দেখলাম বউমা, বোধ হয় গুঠাকুরের সঙ্গে তিথি-টিথি সেরে আসবেন পাঁচ-সাত দিন পরে, গুঠাকুরও বোধ হয় পায়ের ধুলো দেবেন একবার।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Next Article শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }