Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প213 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হার-জিত

    ১

    শেখরের সহিত তাহার স্ত্রী অরুণার কলহ বাধিয়াছে। শাস্ত্রকারেরা বলেন দম্পতিদের মধ্যে এ জাতীয় ঘটনা নাকি বিপজ্জনক নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে যেন একটু চিন্তার বিষয় হইয়া উঠিতেছে, কারণ অরুণা কথায় কথায় বলিয়া বসিল, “আমি চললাম বাপের বাড়ি— আজই।”

    শেখর নিশ্চয়ই একটু ভয় পাইল, কথাটাকে হাল্কা করিয়া ফেলিবার জন্য একটু রসিকতা করিবার চেষ্টা করিল, বলিল, “বেশ, তাই চল।”

    কিন্তু ফল হইল উল্টা। স্ত্রী রসিকতার জবাব না দিয়া আরও গম্ভীর হইয়া বলিল, “আর মন্টু ডলি কেউ সঙ্গে যাবে না। ভোগো। কেন, আমিই বা সর্বত্র টাঙিয়ে নিয়ে বেড়াব কেন?”“

    শেখর বলিল, “না, ওদের মাসি তো আসছেই, ভালও বাসে। কথাটা আমার মনেই ছিল না। তা হ’লে তোমার সঙ্গে যাবার আমারও আর তাড়া নেই।”

    অরুণা আজ সকালে ছোট ভগ্নীকে আসিবার জন্য শ্বশুরালয়ে নিমন্ত্রণ করিয়া পাঠাইয়াছিল। স্বামীর দিকে কড়া চোখে চাহিয়া বলিল, “আমি নেই, অথচ সে এসে থাকবে? বুদ্ধিসুদ্ধি কি লোপ পেল নাকি?”

    শেখর ঠোঁটে হাসি চাপিয়া বলিল, “আমি তো মনে করি, তুমি থাকবে না ব’লেই তার থাকাটা আরও দরকার। একজন প্রতিভূ দিয়ে না গেলে আমারই বা—”

    অরুণা আর শেষ করিতে দিল না, সংক্ষেপে অথচ দৃঢ়তার সহিত বলিল, “স্ত্রী আর দাসী নেই।”

    শেখর বলিল, “না, আমি অভিভাবকের কথাই বলছিলাম। স্বামী এখনও নৌকোটিই হয়ে আছে কি না, তার অষ্টপ্রহর একটি কর্ণধার না থাকলে—”

    “কান নেহাত চুলকোয়, স্ত্রী যখন এর পর আসবে দেখা যাবে। এখন রসিকতা থাক্। আমি চললাম আজ। সেখানে ডাকতে গিয়ে যেন বেহায়াপনা না করা হয়। ঝি!”

     

    আরও দেখুন
    উপন্যাস পড়ুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি সরঞ্জাম
    বাংলা বই
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা বইয়ের ব্লগ
    বাংলা বইয়ের ফ্যান ক্লাব
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    Library
    বাংলা অডিওবুক
    বই ডাউনলোড

     

    “তার সূত্রপাত তো তুমিই করছ। একে তো সেখানে যাওয়ার কোনও সঙ্গত কারণ নেই, ঝগড়ার সন্দেহ করবেই সব। তবু যেন গেলেই। তারপর তারা যদি দু দিন থাকবার জন্যে জিদ করে, তখন তোমার আমার ওপর টান ধরবে। চোখ রাঙালে তো হয় না, সত্যি কথাই বলছি। আমার এই আকর্ষণের ক্ষমতাটাতে গৌরব আছে বটে, কিন্তু—”

    অরুণা আরও জোরে ডাকল, “ঝি! কানের মাথা খেয়েছিস?”

    ঝি আসিতেই ছিল; একটু পা চালাইয়া আসিয়া উপস্থিত হইল। অরুণা বলিল, “শোফারকে ডেকে দে নীচে, আর দেখ, ডলি আর মন্টুকে একটু সাজিয়ে-গুজিয়ে রাখ্, ওদের মামার বাড়ি যাবে।”

    ঝি চলিয়া গেলে শেখর বলিল, “এই না অন্য রকম হুকুম হয়েছিল?”

    “খুশি। এতে টিপ্পনীর কোনও দরকার নেই। যদি ভাল না লেগে থাকে “না, মতটা যে কথায় কথায় বদলায়, সেই কথাটাই মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম।”

     

    আরও দেখুন
    নতুন বই
    বাংলা অনুবাদ পরিষেবা
    বইয়ের ধরণ
    বুক শেল্ফ
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা উপন্যাস
    অনলাইন বুক
    বই পড়ুন
    বাংলা বইয়ের কুইজ
    উপন্যাস পড়ুন

     

    “বদলাবার উদ্দেশ্য থাকলে বদলায়। যে দুটোর জন্যে টান, তারা সঙ্গেই থাকবে—”

    ব্যাস্,—নির্ঝঞ্ঝাট। আর কারুর জন্যে আমি ভাবি না, একটুও না। এইবারে ভুল ধারণাগুলা বেশ ভাল ক’রে ভেঙে দিতে চাই। এই চাবির থোলো—সব জায়গার চাবি এতেই আছে। আর আমায় জ্বালাতন করবার কোনই দরকার নেই।”

    টেবিলের উপর চাবির গুচ্ছটা ঝনাৎ করিয়া আছাড় খাইয়া পড়িল। পর্দার বাহির হইতে কি খবর দিল, শোফার নীচে দাঁড়াইয়া আছে।

    শেখর বিনীতভাবে বলিল, “কি বলব?”

    “আমি বলতে জানি, উপকারে দরকার নেই।”

    বারান্দায় গিয়া শোফারকে বলিল, “পাঁচটার সময় গাড়ি তোয়ের থাকবে, চন্দননগর যাবে। দরোয়ানকে তোয়ের থাকতে বল; আর চট ক’রে বাগবাজারে সরীর বাড়িতে গিয়ে খবর দিয়ে আসুক—বিশেষ কাজ থাকায় আমি চন্দননগর যাচ্ছি। আবার না এসে পড়ে, বরং দরোয়ানকে পাঠিয়ে দাও, একটা চিঠি নিয়ে যাক।”

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদ পরিষেবা
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    ট্রেন টু পাকিস্তান
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক ভ্রমণ
    কখনো আসেনি
    গ্রন্থাগার
    বই পড়ুন
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা বইয়ের রিভিউ
    Books

     

    ঘরে ফিরিয়া আসিয়া দেখিল, শেখর চাবির গুচ্ছটা হাতে লুফিতে লুফিতে মৃদু মৃদু হাসিতেছে! সন্দিগ্ধভাবে প্রশ্ন করিল, “কি?”

    শেখর সহজভাবে বলিল, “কই, কিছু না তো!”

    দ্বিগুণ সন্দেহে অরুণা বলিল, “নিশ্চয় কিছু, বলতে হবে।”

    “আজ আমি হুকুমের বাইরে এসে পড়েছি না?”

    অরুণা রাগের উপর আবার অভিমান করিয়া বলিল, “ও! আচ্ছা থাক্।”

    “তবু দয়া করে বলতে পারি।”

    “কিছু দরকার নেই। উঃ, দয়া!”

     

    আরও দেখুন
    অনলাইন বুক
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি সরঞ্জাম
    বাংলা বইয়ের ফ্যান ক্লাব
    ই-বই
    বাংলা সাহিত্য
    নতুন বই
    Books
    পিডিএফ বই
    বাংলা বইয়ের ব্লগ
    বাংলা বইয়ের প্রতিযোগিতা

     

    “শুনলে যাওয়ার শখটা আর থাকত না। অনেক হাঙ্গামা পোয়ানো থেকে বাঁচা যেত— উভয় পক্ষেরই।”

    অরুণা ভ্রু-কুঞ্চিত করিয়া ক্ষণমাত্র চিন্তা করিল। বোধ হয় এখানে হাঙ্গামা পোহানোর অর্থ কি হইতে পারে, নিজের আন্দাজমত স্থির করিয়া লইল; তাহার পর বলিল, ““থাক্ হাঙ্গামার ভয় করি না; যার ভয় আছে, সে সাবধান হোক।”

    “তা হ’লে দয়া করে শোনই না হয়। আর কিছু নয়, কথাটা হচ্ছে-

    “না না, আমি দয়া করতে চাই না কাউকে। আমার শরীরে কি দয়ামায়া আছে? আমি কি একটা মানুষের মধ্যে? তা হলে কি আমার কথায় কথায় এত হেনস্থা হয়? দয়ামায়া যে মানুষ জীবনে পেয়েছে কখনও, সেই জানে, দয়ামায়া কি! আমি কি কারুর কাছে কখনও-–”

    অরুণা চক্ষে দিবার জন্য হাতে আঁচলের একটা কোণ তুলিয়া লইল। শেখর উদগ্রীব হইয়া চাহিয়া রহিল, কারণ এসব স্থলে কান্না নামিলে অনেকটা আশা, কিন্তু সে শান্তিজল বর্ষিত হইবার পূর্বেই দারোয়ান আসিয়া বাহিরে সেলাম করিয়া দাঁড়াইল।

     

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    অনলাইনে ই-বই
    লেখকের বই
    উপন্যাস পড়ুন
    বাংলা ইবুক রিডার
    বাংলা বইয়ের প্রতিযোগিতা
    ট্রেন টু পাকিস্তান
    বাংলা ই-বই
    পিডিএফ

     

    অরুণা বলিল, “দাঁড়াও, চিঠি দিই।”

    পাশের ঘর হইতে চিঠি লিখিয়া আনিয়া দরোয়ানের হাতে দিয়া তাহাকে দুই-একটা

    উপদেশ দিয়া বিদায় করিল।

    শেখর বলিল, “তা হলে পাকা হয়ে গেল।”

    অরুণ তাহার দিকে না চাহিয়াই বলিল, “আমার সব কাজই পাকা।”

    “কিন্তু চাণক্য বলেছেন—দাম্পত্যকলহে চৈব, খুব পাকাপাকি হ’লেও নাকি—”

    অরুণা সেই ভাবেই বলিল, “চাণক্য ঠিকই বলেছেন, পুরুষেরা গায়ে পড়ে মিটিয়ে নেয়।” বোধ হয় কোনও বিশেষ দিনের ঘটনা স্মরণ করাইয়া দিবার জন্য স্বামীর দিকে কটাক্ষ করিয়া বলিল, “কখনও কখনও পায়ে ধ’রেও।”

     

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    গ্রন্থাগার
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বইয়ের
    বাংলা বই প্রিন্ট
    নতুন উপন্যাস
    লেখকের বই
    Books
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক ভ্রমণ
    বাংলা অডিওবুক

     

    “কে পায়ে পড়ে এইবার, তার বড় রকম সাক্ষী রাখব—কথাটা মনে থাকে যেন।”

    শেখর নীচে নামিয়া গেল। বৈঠকখানায় টেবিলের দেরাজ হইতে টাইমটেব্লটা বাহির করিয়া একবার দেখিয়া লইল।

    তিনটা চল্লিশ হইয়া গিয়াছে। চারটা পাঁচে একটা গাড়ি, সেটা পাইবার কোনও আশা নাই। তাহার পরের গাড়িটা পাঁচটা পনরোয়। অরুণার মোটর যদি পাঁচটার সময়ই ছাড়ে তো তাহার প্ল্যানটা আর খাটে না।

    একটু চিন্তা করিল, তাহার পর টেবিলের উপর একটা নিষ্পত্তিসূচক আঘাত দিয়া অস্ফুটভাবে বলিল, “হয়েছে।”

    উপরে গিয়া শোফারকে নীচের উঠানে ডাকিয়া পাঠাইল। অরুণাকে শুনাইয়া শুনাইয়া বলিল, “যেতে আসতে প্রায় পঞ্চাশ মাইল। গাড়িটা ঠিক আছে তো?”

    অরুণা আসিয়া উৎকর্ণ হইয়া দুয়ারের নিকট দাঁড়াইল।

    মোটর জিনিসটা একেবারে ঠিক কখনও থাকে না। শোফার একটু চিন্তা করিয়া বলিল, “চ’লে যাবে হুজুর।”

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদ পরিষেবা
    Library
    নতুন উপন্যাস
    অনলাইন বুক
    বাংলা বই প্রকাশনা
    বাংলা বইয়ের কুইজ
    বাংলা বইয়ের প্রতিযোগিতা
    বইয়ের
    লেখকের বই
    ট্রেন টু পাকিস্তান

     

    অরুণা “তা হ’লে” বলিয়া কি বলিতে যাইতেছিল, শেখর তাহার কথা চাপা দিয়া বলিল, “চ’লে যাওয়া-যাওয়ি নয়। খালি মেয়েদের নিয়ে যাচ্ছ। এরা সব জিদ করছে বটে, কিন্তু আমি সঙ্গে যেতে পারছি না। এখুনি বিশেষ কাজে বেরুতে হবে, বেশ ক’রে ভেবে দেখ। কিছু হ’লে বাড়িতে যদি টেলিগ্রামও কর তো ঘণ্টা-ছয়েকের আগে আমি পাব না।” এরূপ কথার উপর ছোটখাটো খুঁত থাকিলেও প্রকাণ্ড হইয়া পড়ে। শোফার বলিল, ‘ব্রেকটা একটা চাকায় যেন একটু আলগা ধরছে, তাতে তো বিশেষ ক্ষতি নেই, আর খুলতে গেলেও ঘণ্টা-দুয়েকের কমে হবে না।”

    “পৌনে চারটে, হয়েছে পৌনে ছটা, ধর ছটাই।”—হিসাবটুকু সারিয়া স্ত্রীর দিকে চাহিয়া আস্তে বলিল, “এক ঘণ্টা দেরি হ’লে মশাইয়ের রাগ প’ড়ে যাবার ভয় আছে কি? আমি তো ব্রেকটাকে বিশেষ ছোট ব’লে মনে করি না। সেদিন বউবাজারের মোড়ে যা কাণ্ড দেখলাম, মনে হ’লে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে, এক গাড়ি মেয়েছেলে ঠাসা, হঠাৎ—”

    অরুণা ভয় চাপিবার চেষ্টা করিয়া সিধা শোফারকেই বলিল, “না না, তুমি একবার খুলে ঠিকঠাক ক’রে নাও, হোকগে একটু দেরি।”

     

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    বাংলা সাহিত্য আলোচনা
    বাংলা ফন্ট সফ্টওয়্যার
    ই-বই
    বইয়ের
    নতুন বই
    বাংলা বইয়ের সংগ্রহশালা
    বাংলা ই-বই
    বই
    Library

     

    শেখর অধর দংশন করিয়া অনেক কষ্টে হাস্য সংবরণ করিল। অরুণা অস্বস্তির সহিত

    প্রশ্ন করিল, “কোথায় যাওয়া হবে বাবুর?”

    উত্তর না পাইয়া আবার জিজ্ঞাসা করিল, “কখন আসা হবে?”

    “দেখি কখন ছাড়ে, সেখানে তো জোর নেই নিজের।”

    “কোন্‌খানে?”

    “কোনখানেই নয়। যার নিজের স্ত্রীর ওপরেই জোর রইল না—”

    ধাঁধার মধ্য পড়িয়া অরুণা উষ্ণ হইয়া উঠিতেছিল, বলিল, “স্ত্রীর ওপর জোর না করতে পারলে বাবুরা সব হাঁপিয়ে ওঠেন। ইস, জোর! জোরটা কিসের শুনি?”

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক ভ্রমণ
    বাংলা বইয়ের সংগ্রহশালা
    বাংলা ই-বই
    পিডিএফ বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা বইয়ের রিভিউ
    বই ডাউনলোড
    পিডিএফ
    পোর্টেবল স্পিকার
    বাংলা অনুবাদ পরিষেবা

     

    “খোসামোদের।”

    অরুণা হাসিয়া ফেলিল; কিন্তু রাগের সময় হাসিয়া ফেলাটা একটা পরাজয় বলিয়া রাগটা বাড়িয়াই যায়। তাই নিজেকে কষ্টে সংবৃত করিয়া লইয়া বেশি রকম চটাচটি করিবার জন্য বলিল, “যেখানে খুশি যাও, আমার দেখা আবার ছ মাস পরে।”

    শেখর ফিরিয়া বলিল, “ছ ঘণ্টার মধ্যে সেধে দেখা করবে।”

    অরুণা আরও রাগিয়া বলিল, “তা হ’লে ছ বছরের ভেতর যদি এ বাড়ি মাড়াই তো—”

    শেখর বলিল, “আর ছ ঘণ্টা পরে যদি ফিরে না আসতে হয় তো—”

    অরুণা রাগে গরগর করিতে করিতে দুইটা ঘর পার হইয়া গিয়াছিল, সেইখান হইতেই চেঁচাইয়া বলিল, “দেখা যাবে।”

    শেখর আর জবাব দিল না, বারান্দার রেলিংয়ে ঝুঁকিয়া মিটিমিটি হাসিতে লাগিল।

     

    আরও দেখুন
    নতুন বই
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক ভ্রমণ
    বাংলা বইয়ের প্রতিযোগিতা
    উপন্যাস সংগ্রহ
    নতুন উপন্যাস
    অনলাইনে ই-বই
    বই ডাউনলোড
    বাংলা বই
    বাংলা বইয়ের ব্লগ

     

    .

    ২

    চন্দননগরে গঙ্গার ধারে বাড়িটা, পিছনে গঙ্গা, সামনে রাস্তা, বাড়ির সামনে খানিকটা বাগান।

    শেখর আধ ঘণ্টা হইল আসিয়াছে। হাত-পা ধুইয়া জিয়া হঠাৎ এই অভ্যুদয় সম্বন্ধে শ্বশুর-শাশুড়িকে একটা মনগড়া কারণ দর্শাইল, খানিকটা এ-কথা সে-কথা লইয়া গল্প করিল, তাহার পর বড় শ্যালিকাকে বলিল, “চল শচীদি, বাগানে একটু পায়চারি করিগে।” শ্বশুর বলিলেন, “তার চেয়ে গঙ্গার ধারে গিয়ে বসলে পার, হু-হু করে বাতাস দিচ্ছে।”

    রাস্তার দিকে থাকাই শেখরের দরকার, বলিল, “হ্যাঁ, তাও মন্দ নয়।”

    কথার মধ্যে অনিচ্ছার রেশটি লক্ষ্য করিয়া শ্যালিকা বলিল, “তাহ’লেও বাগানটা একটু ঘুরে আসি, এস; কতকগুলো নতুন গোলাপ বসানো হয়েছে। একটা ব্ল্যাক্‌প্রিন্স যা আনিয়েছি, এ তল্লাটে ও-রকম নেই, না বাবা?”

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা বইয়ের প্রতিযোগিতা
    বাংলা ই-বই
    বাংলা বইয়ের সংগ্রহশালা
    অনলাইনে ই-বই
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা বইয়ের ফ্যান ক্লাব
    পোর্টেবল স্পিকার
    বই

     

    আট-নয় বছরের ছোট শ্যালী মলিনা ভগ্নীপতির হাত ধরিয়া টানিতেই শুরু করিয়া দিল; বলিল, “আর আমার করবীর ঝাড়ও দেখবেন চলুন জামাইবাবু, গাছ আলো ক’রে আছে। বলতে হবে, কারটা ভাল, হ্যাঁ! ম্যাগ্‌গে, কালো আবার গোলাপ! প্রিন্স তো রাজকুমার, আমি সে জানি, তা রাজকুমারই হোক আর কোটালপুত্তুরই হোক, কালো আবার নাকি ভাল হয়! কি পছন্দ দিদির! ম্যাগ্‌গে!”

    শচী লজ্জায় রাঙিয়া উঠিতেছিল, মা মুখ ফিরাইলেন, পিতা বিশেষ কিছু না বুঝিয়াই সরল প্রাণে হাসিতে লাগিলেন। শেখর কথাটা আর বাড়িতে না দিয়া বলিল, “চল, তোমার করবী দেখিগে।”

    আসিতে আসিতে আবার মলিনা ব্ল্যাক্‌প্রিন্স সম্বন্ধে তর্ক তুলিতে যাইতেছিল, দিদি ধমক দিয়া বলিল, “আচ্ছা তুই চুপ কর্, ভেঁপো মেয়ে।” শেখরকে জিজ্ঞাসা করিল, “এত কাছে রয়েছো, মুখুজ্জে, অথচ মাঝে মাঝে যে এক-আধবার আসবে—”

    শেখর, মলিনা যে কথাটি বলিতে যাইতেছিল, তাহারই উত্তর দিল, “কি জান গো মলিনাসুন্দরী, যে যেটাকে ভালবাসে, তার কাছে—”

    বড় শ্যালিকা রাগিয়া বলিল, “ওই বাজে কথাই হ’ল বড়, আর আমার প্রশ্নের বুঝি—”

    “এর মধ্যেই তোমারও জবাব আছে দিদি, তোমার বোনের ভালবাসার অত্যাচারে আর বেরুবার জো আছে! কি চোখেই যে অধমকে দেখেছেন, দু দণ্ড চোখের আড়াল হবার জো নেই! অমনই জবাবদিহি কর। তাও যদি মনঃপূত না হ’ল তো কান্নাকাটি, রাগ, অভিমান—”

    “কই, এমন তো ছিল না! একটু আবদারে বরাবরই ছিল বটে, কিন্তু—”

    “আজকাল হয়েছে। বন্ধুরা বলে—লাকি ডগ, তোকে দেখে হিংসে হয়।’ বলি— ক্ষ্যামা দাও ভাই; একদণ্ড বাড়ি ছেড়ে বেরুবার জো নেই, এ ভালবাসা, না কোণঠাসা ক’রে মারা?”

    শ্যালিকা ভগ্নীর এইরূপ আদর্শ অনুরাগ সমর্থন করিয়া দুঃখিতভাবে বলিল, “তোমাদের ভাই প্রাণ খুলে দিলে তোমরা সন্তুষ্ট হও না, আর সঙ্গোপনে দিলে তোমরা তা অনুভব করতে পার না। ভালবাসা দেওয়ার আর উপায়ই বা আছে কি, স্ত্রী বেচারীরা তো আর ভেবে পায় না।”

    শেখর বলিল, “বুঝলাম শচীদি, সব আমাদেরই দোষ। ইট-পাথরের মত আমরা যে হৃদয়হীন—এ বদনামটা তো চিরদিনই আছে। কিন্তু ধর, এই এখানে এসেছি, কাজটা সারতে চার-পাঁচ দিন লাগবে! ভেবেছি, রোজ যাওয়া-আসা না ক’রে এ কটা দিন এইখানেই থেকে যাই। হঠাৎ তোমার বিরহিণী ভগ্নী বাড়ি-ঘরদোর বন্ধ ক’রে সব নিয়ে এসে হাজির হলেন, ডবডব করছে চোখ, মুখ ভার, কি রকম আতান্তরে পড়ি বল তো?”

    শ্যালিকা হাসিয়া বলিল, “আমাদের তো লাভই ভাই! অনেক দিন দেখি নি তাদের, তোমাদের যদি কানের টানে মাথা আসে তো মন্দ কি?”

    শেখর মাঝে মাঝে গোপনে রাস্তার দিকে উৎসুক দৃষ্টি নিক্ষেপ করিতেছিল, বলিল, “তা সত্যিই তিনি যদি এসে হাজির হন তো আমি মোটেই আশ্চর্য হব না!”

    মলিনা সব না বুঝিলেও দিদির আসিবার সম্ভাবনায় চঞ্চল হইয়া উঠিতেছিল, প্রশ্ন করিল, “কিসে ক’রে আসবেন জামাইবাবু? মোটরে?”

    শেখর বলিল, “তিনি জানেন। চাই কি জ্ঞানশূন্য হয়ে ‘হা নাথ, হা নাথ’ করতে করতে ছুটেও আসতে পারেন।”

    মলিনা অকৃত্রিম বিস্ময়ে চোখ দুইটা বড় বড় করিয়া বলিল, “ও বাব্বা!”

    দিদি তাহার রকম দেখিয়া হাসিয়া ফেলিল, বলিল, “মর, পোড়ারমুখী, দিদি কি তোর পাগল হয়েছে নাকি?”

    শেখর বলিল, “আমি ভাবছি, যদি সত্যিই এসে পড়ে তো বাবা মা কি ভাববেন?”

    “কি আর ভাববেন? বললেই হবে, ওরা মোটরে বেড়াতে বেড়াতে এসেছে, তোমার রেলপথে একটু কাজ ছিল। কিন্তু কোথায় কি তার ঠিক নেই, মিছে মাথা ঘামানো।”

    “তার আসবার কথা তো তাঁদের বলা হয় নি!”

    “ভুলে গিয়েছিলে। চল্ মলি, তোর করবী দেখাবি চল্।”

    “আগে তোমার গোলাপ দেখুন। তুলে আনি একটা?”

    দিদি ধমকাইয়া বলিল, “না।”

    শেখর বলিল, “পরের জিনিসে এত লোভ কেন মলিনা? ছিঃ!”

    মলিনা হো-হো করিয়া হাসিয়া উঠিল, “ওমা, দিদির জিনিস বুঝি পরের জিনিস হ’ল? বুদ্ধি যা হোক!”

    শেখর উচ্চৈঃস্বরে হাসিয়া উঠিল, এবং লজ্জিতা হইয়া পড়িলেও মলিনার দিদি না হাসিয়া পারিল না। বলিল, “কি হচ্ছে ছেলেমানুষের সঙ্গে?”

    শেখর বলিল, “খুব সলা দিলে তো দিদি! ওদের বলব, ভুলে গিয়েছিলাম? নিজের স্ত্রী সম্বন্ধে এত ভুল, আর সে স্ত্রী আবার ওঁদেরই মেয়ে! তার চেয়ে বললেই হয়—”

    শচী বিরক্তির ভান করিয়া বলিল, “দেখ দেখি পাগলামি! কে আসছে তার ঠিক নেই, ক্রমাগতই বাজে কথা! আমার বোনটিরই দোষ দিচ্ছ, কিন্তু আসা পর্যন্ত তো দেখছি, তার কাছে মনটি প’ড়ে আছে, টান কার বেশি, তা তো বুঝতেই পারলাম না।”—বলিয়া মুখের দিকে চাহিয়া একটু ক্রুরভাবে হাসিল।

    কথাটা সত্য। মোটরের ভাবনাটা মনের মধ্যে জাঁকিয়া থাকায় শেখর যে ক্রমাগত স্ত্রীর প্রসঙ্গ চালাইয়া আসিতেছে, সে বিষয়ে তেমন সতর্ক ছিল না, একটু অপ্রতিভ হইয়া পড়িল।

    মলিনা ফুলের তোড়া বাঁধিতেছিল, গম্ভীর মুখে বলিল, “মা বলছিলেন না দিদি- আহা, দুটিতে মনের বেশ মিল আছে, ভগবানের ইচ্ছেয়।

    শেখরের লজ্জার পালা পড়িয়াছে।

    স্নেহভরে ভগ্নীর কাঁধে একটি হাত দিয়া দিদি বলিল, ‘আর বলছিলেন—মলিনারও ওই রকম একটি মনের মিলের বর হয়!”

    “ধ্যাৎ”!…বলিয়া মলিনা মাথা নিচু করিল।

    শচী বলিল, “চল, এবার গঙ্গার ধারে যাই, বাবা বোধ হয় ওই দিকে গিয়েই বসেছেন।”

    মলিনা বলিল, “বাঃ, আর তোমার ব্ল্যাক্‌প্রিন্স দেখালে না? তা হ’লে কি ক’রে বলবেন যে—”

    সরলপ্রাণা ভগ্নী ও চতুর ভগ্নীপতি মিলিয়া শখের ফুল দেখাইবার মত তাহার আর অবস্থা রাখে নাই। শচী লজ্জিতভাবে বলিল, “নাঃ, থাক্‌গে।”

    ভগ্নী আবদার ধরিয়া বলিল, “না না, দেখাবে চল। আচ্ছা বাপু, আমি বলছি, আমার হিংসে হবে না, ভয় নেই।”

    দিদির ব্রীড়াভারাক্রান্ত চোখ দুইটা অবাধ্যভাবেই একবার ভগ্নীপতির মুখের উপর পড়িল। চকিতে সে দুইটাকে ভূমিনত করিয়া বলিল, “পোড়ার বাঁদর মেয়ে!”

    শেখর হাসিতে হাসিতে বলিল, “তোমার হিংসের ভয় করছেন না মলিনা, উনি ভয় করছেন বোধ হয় আমাদের হিংসের!”

    “না, আমি চললাম। তোমরা দুই রসিকে থাক।”—বলিয়া কৃত্রিম রাগ দেখাইয়া শচী যাইবার জন্য পা বাড়াইতেই, উপস্থিতির একটা দীর্ঘ হর্ন দিয়া গেটের সামনে একটা মোটর আসিয়া দাঁড়াইল।

    “কে এল?”—বলিয়া শচী গ্রীবা ঘুরাইয়া দাঁড়াইল। মলিনা “ওমা, মেজদিদি যে!” বলিয়া আগে সংবাদ দিবার জন্য বাড়ির দিকে ছুটিল। শেখর বিস্ময়ের ভান করিয়া বলিল, “দেখলে তো দিদি?”

    শ্যালিকা রহস্য ভেদ করিবার চেষ্টা করিয়া একটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি হানিল। পর-মুহূর্তেই বলিল, “দাঁড়াও ভাই, আগে নামাইগে ওদের।”—বলিয়া দ্রুতপদে আগাইয়া গেল।

    শেখর দুই-একটা গাছের আড়ালে আড়ালে একটু গা-ঢাকা দিয়া ধীরে ধীরে অগ্রসর হইল।

    শচী অরুণার কোল হইতে ডলিকে লইল, মন্টুর হাত ধরিয়া নামাইল, তাহার ভগ্নীকে বলিল, “এস, অগ্রদূত তোমার হাজির।”

    অরুণা মোটর হইতে নামিল, ভগ্নীর রসিকতা বুঝিবার কোন চেষ্টা না করিয়া “সবাই ভাল আছ তো দিদি?” বলিয়া ভগ্নীর পদধূলি গ্রহণ করিবার জন্য প্ৰণত হইল।

    এই সময়টিতে শেখর ঝোপের অন্তরাল হইতে সামনে আসিয়া দাঁড়াইল। মুহূর্তের মধ্যে মন্টু, “বাবা, বাবা! ও মা, বাবা গো!” বলিয়া আহ্লাদে চিৎকার করিয়া উঠিল এবং ডলিও মাসির কাঁধ বাহিয়া বাপের কোলে যাইবার জন্য ব্যগ্রভাবে দুইটি কচি হাত বাড়াইয়া দিল।

    অরুণা চকিতে উঠিয়া দাঁড়াইল এবং স্বামী-স্ত্রীতে চোখাচোখি হইল।

    .

    ৩

    দুইজনে দাঁড়াইয়া রহিল যেন বায়স্কোপের দুইখানি ছবি, মুখে রা নাই, উগ্র বিস্ময়ের ভাব মুখ এবং সমস্ত শরীর দিয়া যেন ফুটিয়া বাহির হইতেছে। বিশেষ করিয়া শেখরের বিস্ময়টা চেষ্টাপ্রসূত বলিয়া আর্ট যেন তাহার মধ্যে মূর্তি ধরিয়া উঠিয়াছে। লোকটির থিয়েটারে নাম আছে, এই অরুণাই কত প্রশংসা করিয়াছে।

    শেখর প্রথমে কথা কহিল, “তুমি হঠাৎ?”

    অরুণা বেচারীর মুখে কোন কথাই যোগাইতেছিল না। অসহায়ভাবে বলিল, “হঠাৎ কি?”

    শেখর একবার বক্র ইঙ্গিতে শ্যালিকার দিকে চাহিল। তাহার পর স্ত্রীর দিকে মুখ ফিরাইয়া বলিল, “না, ঠিক হঠাৎ না বটে; কিন্তু তোমায় অত ক’রে বারণ ক’রে এলাম

    স্ত্রী বিমূঢ়ভাবে বলিল, “কি বারণ করলে?”

    মলিনা আসিয়া দাঁড়াইয়াছিল, শেখর এবার তাহার দিকে চাহিয়া বলিল, “এই দেখ মলিনা, একেই বলে জ্ঞানশূন্য হওয়া, তোমায় এক্ষুনি বলছিলাম না। অর্থাৎ আমার আসবার কথায় তোমার দিদির মনটা এমনই বিকল হয়ে গিয়েছিল যে, এক ঘণ্টা ধরে যে ওকে বোঝালাম, সে সব কথা এক্কেবারেই মনে নেই।”

    মলিনা আশ্চর্যে হাঁ করিয়া বলিল, “ও বাব্বা! হ্যাঁ দিদি?”

    অরুণা শচীর দিকে চাহিয়া বলিল, “কি ব্যাপার বল দেখি দিদি?”

    শচী স্পষ্ট কিছু না বুঝিলেও কিছু একটা কৌতুকের আভাস পাইয়া বলিল, “ব্যাপার তোমরাই জান ভাই। এখন চল, বাবা মা বারান্দায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন, পরে বোঝাপড়া হবে’খন।”

    অরুণার চলিবার অবস্থাই ছিল না। স্বামীর দিকে চাহিয়া বলিল, “তুমি এখানে হঠাৎ যে?”

    স্বামী অবিচলিতভাবে বলিল, “এটা আমার শ্বশুরবাড়ি।”—যেন ভূতগ্রস্তের সঙ্গে কথা বলিতেছে, “মেলা কথা বলবার দরকার নাই।”

    দুইজন মুখোমুখি হইয়া চুপ করিয়া রহিল। শেখরই মৌনতা ভঙ্গ করিল, “যাক, যখন এসে পড়েছ উপায় নেই। মেলা লজ্জা পেয়েই বা আর কি হবে? দিদিকে অনেকটা ব’লে রেখেছি তোমার রোগের কথা।”

    অরুণা সোৎসুক নেত্রে তাহার দিদিকে প্রশ্ন করিল, “কি রোগের কথা দিদি?”

    শেখর আবার কহিল, “তোমায় গিয়ে—–আসবার সময় চাবি কার কাছে—”

    অরুণা গ্রীবা বাঁকাইয়া কহিল, “চাবি? চাবি তো তোমার হাতেই দিলাম তখন!”

    শেখর ঈষৎ হাসিয়া মলিনার দিকে চাহিয়া কহিল, “দেখছ তো মলিনা? স্বামীকে না দেখতে পেলে এই রকমই হয়। অবশ্য তোমাদের বোনের একটু বাড়াবাড়িই দেখছি।”

    স্ত্রীকে বলিল, “তুমি আসবার সময় আমার হাতটাই যে সেখানে ছিল না। অবশ্য মনটা কিছু কিছু ছিল,–কিন্তু—”

    অরুণা দিদির দিকে চাহিয়া ব্যাকুলভাবে কহিল, “কি রোগের কথা বলেছে বল না দিদি? আমি বাপু, এ লোকের সঙ্গে আর পেরে উঠি না।”

    দিদি তাহার হাতটা ধরিয়া আসিয়া বলিল, “বলছি। আরে, চল্ ওদিকে, বাবা মা এগিয়ে আসছেন, কি ভাবছেন জানি না।

    চলিতে চলিতে বলিল, “রোগ আবার কি? বাবুদের ওটুকু না হলেও দিশেহারা হন, অথচ ঠাট্টা করা চাই। তুই একলাটি থাকতে না পেরে চ’লে আসবি, সেই কথাই আমায় বলা হচ্ছিল। তা এতে আর দোষ কি হয়েছে? আর তা ছাড়া সে ভালই করেছিস ভাই, আমায় একলা পেয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপে–-”

    অরুণা গালে চারটি আঙুল চাপিয়া দাঁড়াইয়া পড়িল। ক্ষণমাত্র চিন্তা করিল, স্বামীর দিকে সরোষ নেত্রে চাহিল। তাহার পর দিদির দিকে ফিরিয়া বলিল, “ও হরি! বুঝেছি। এতক্ষণ পরে সব কথা বুঝতে পেরেছি। কি মতলববাজ লোক ভাই! এইজন্যেই তখন বললে—ছ ঘণ্টার মধ্যে দেখা হবে।”

    শেখর শ্যালিকাকে মধ্যস্থ মানিয়া বলিল, “কি করব শচীদি? যে রকম কাতরানি, চোখের জল। কাজেই ব’লে আসতে হয়েছিল—আজ রাত্রেই ফিরে আসব, ছ ঘণ্টার বেশি দেরি হবে না। একেবারেই কাছছাড়া হতে দেবে না।”

    একটা কুটিল জবাব ঠোঁটে আসিল এবং কোন সঙ্গত উত্তর দিতে না পারায় রাগের মাথায় অরুণা সেইটাই দিয়া বসিল, বলিল, “হ্যাঁ ঠিকই তো, এক দণ্ড তোমাদের বিশ্বাস করে ছাড়া চলে না, তোমরা এমনই।”

    শেখর দুঃখের অভিনয় করিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলিল, “ছি অরুণা, এটা এক হিসেবে ‘যে শচীদিদিকেও বলা হ’ল। কি মনে করবেন উনি বল দেখি।”

    বিদ্রূপটা বুঝিতে না পারিয়া অরুণা বিস্ময়ে এবং ভয়ে চক্ষু বড় করিয়া কহিল, “ওমা, দিদিকে আবার কি বললাম! দেখ দেখি!”

    দিদি বুঝিয়াছিল, ওদিকে বাবা মা কাছে আসিয়া পড়িয়াছিলেন, আস্তে আস্তে বলিল, তোরা একটু চুপ কর বাপু, মুখুজ্জের মুখের কি কোন আড় আছে যে, ওর সঙ্গে তর্ক করছিস অরু?”

    মন্টু গিয়া দিদিমার কোল দখল করিয়াছিল। অরুণার পিতা লাঠিতে ভর দিয়া আস্তে আস্তে আসিতেছিলেন, একটু দূর হইতেই বলিলেন, “বাঃ, অরুণাও এসেছে! বেশ হয়েছে। কিন্তু কই, শেখর আমায় কিছু বল নি তো?”

    শচীই উত্তর দিল, “অরুর আসবার কোন ঠিক ছিল না বাবা তাই বলেন নি। ওর এক বন্ধু বেড়াতে এসেছিল, তাকে বিদায় ক’রে সময় থাকলে অরু মোটরে আসবে—এই রকম কথা ছিল।”

    এর পরে যে প্রশ্ন হইবে, তাহার উত্তর শেখর পূর্ব হইতেই দিয়া রাখিল, “আমিও সঙ্গেই আসতাম। বিকেলে বদ্যিবাটিতে একটু কাজ ছিল, তাই আগেই বেরিয়ে পড়ি।”

    তাহার জন্যই এইসব মিথ্যার সৃষ্টি—বিশেষ করিয়া দিদির তরফ হইতে। অরুণা লজ্জায় যেন পা উঠাইতে পারিতেছিল না। স্বামীটি পূর্বে আসিয়া আরও কি সব গাহিয়া রাখিয়াছে, সে কথা ভাবিয়া সে নিতান্ত অস্বস্তি বোধ করিতেছিল। দিদির তো একরকম ধারণাই জন্মাইয়া দিয়াছে যে, সে স্বামীর টানেই পিত্রালয়ে আসিয়াছে। ছি ছি সাংঘাতিক লোক—সব পারে!

    কথাবার্তা, স্বামীর দিকে কখন মিনতির নরম চোখে চাহিয়া, কখন রাগের কড়া চোখ দেখাইয়া খুব সন্তর্পণে চালাইয়া গেল! শ্বশুর-শাশুড়ির কাছেও একটু-আধটু বেহায়াপনার ইঙ্গিত করিয়া দেওয়া ওর পক্ষে আশ্চর্য নয়। মনে মনে বলিল, “ঘাট হয়েছে বাপু, আর তোমার সঙ্গে লাগব না।”

    জিরাইয়া কিঞ্চিৎ জলযোগের পর সকলে গঙ্গার ধারে বসিল। পিতা কিছুক্ষণ পরে উঠিয়া আসিলেন—জ’লো হাওয়া তাঁহার লাগানো মানা। মাতাও একটু পরে উঠিলেন। শেখর হাঁপাইয়া উঠিতেছিল, এইবার মুখ খুলিবার একটু সুযোগ পাইল।

    কহিল, “আমাদের হিন্দু-ললনাদের সুখ্যাতি এতদিন ধ’রে যে কীর্তিত হয়ে এসেছে—”

    অরুণা একবার মুখের দিকে সন্ধিগ্ধভাবে চাহিয়া বলিল, “আচ্ছা, হয়ে আসুকগে, তুমি থাম।”

    “না, তোমার এই পাতিব্রত্যের নিদর্শনটুকু রেখেও যদি সেটুকুর কদর না করি তো ঘোর অকৃতজ্ঞতা—”

    অরুণা উত্যক্ত হইয়া বলিল, “ওগো, আমি হার মানলাম, আমার ঘাট হয়েছে, আর দিদির সামনে বেহায়াপনা করো না, তোমার পায়ে ধরি।”

    শেখর মৃদু মৃদু হাসিতে লাগিল; আস্তে আস্তে—যেন নিজের মনেই বলিল, “পায়ে ধরাটা শুনেছি নাকি আমাদেরই একচেটে হয়ে গেছে।”

    আজ বিকালেরই কথা।

    অরুণা একটু আড়ে না চাহিয়া পারিল না। কথাগুলা চাপা দেওয়ার জন্য বলিল, “আর তোমাদের অন্য কথা নেই দিদি?”

    শচী বলিল, “মুখুজ্জে আজ আমাদের অতিথি, শুধু তোর চর্চা করতেই যদি আজ পছন্দ হয়ে থাকে তো কি ব’লে নিরাশ করি, বল?”

    অরুণা বলিল, “কেন? আমিও তো এইটুকু এসেই কথা কইবার অনেক পেয়েছি। এই জায়গাটার কথাই ধরা যাক না—কেমন সুন্দর জ্যোৎস্না, খোলা গঙ্গার তীর, কি সুন্দর হাওয়া, আমার তো এই জায়গাটুকুর জন্যে

    শেখর তাড়াতাড়ি বলিল, “তা ব’লে তুমি যেন আমাদের দুজনকে রেখে টপ ক’রে উঠে যেয়ো না শচীদি। অরুণা সে ভেবে বলছে না নিশ্চয়।”

    সে হাসিতে লাগিল। শচীও হাসিয়া মুখ ফিরাইল। অরুণা হঠাৎ থমকিয়া দুইজনের দিকে চাহিল, তাহার পর স্বামীর গূঢ় বিদ্রূপ বুঝিতে পারিয়া লজ্জায় ও রাগে বলিয়া উঠিল, “না বাপু আমি চললাম। কোনখানে গিয়ে একটু সোয়াস্তি নেই। কে জানত বল, এখানেও আগে থাকতে এসে ব’সে আছে?”

    শেখর শ্যালিকার দিকে চাহিয়া বলিল, “ওই কথাটি বোঝাবার জন্যে অরুণা কি রকম ব্যস্ত, দেখছ শচীদি? আমি তখনই ওকে বলেছিলাম—যেয়ো না, বড্ড লজ্জায় পড়ে যাবে। কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। বলে—সে আমি সামলে নোব’খন, কেউ বুঝতে পারবে না।”

    অরুণা জ্বালাতন হইয়া বলিল, “বাবা বাবা! তোমার কি লজ্জা-শরম কিছু নেই গা?”

    শেখর কহিল, “খুব আছে। তবে কিনা আসল কথাটা যদি না ব’লে দিই তো শচীদির মনে হতে পারে, এদের মধ্যে কিছু একটা হয়েছে। মিছিমিছি ভাবতে পারেন, মুখুজ্জে বোধ হয় ঝগড়াঝাঁটি ক’রে চ’লে এসেছে, তাই বোনটি পেছন পেছন ছুটে এসেছে।”

    অরুণা ভিতরে ভিতরে যেন জর্জরিত হইয়া গিয়াছিল। তাহার হার তো হইয়াছেই, যদি স্বীকার করিলে স্বামী অব্যাহতি দেয় তো সে রাজী। কিন্তু তাহার সুবিধা কই। আর ইতিমধ্যে অসহায়ভাবে সে কত বিদ্রূপবাণ সহ্য করিবে?

    স্বামীর কথায় দম্ভ করিয়া বলিল, “ইস, ছুটে আসবে!” সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু দিদির দৃষ্টি এড়াইয়া একবার সকরুণ মিনতির নেত্রে চাহিল।

    স্বামী নিষ্ঠুর বিজেতারই মত হাস্যকুটিল দৃষ্টি দিয়া তাহার মৌন উত্তর দিল। এই সময় পরাজয় স্বীকারের একটু সুবিধা হইল।

    মলিনা ডলি আর মন্টুকে লইয়া অদূরে ছুটাছুটি খেলা করিতেছিল, ডলি কোল হইতে পড়িয়া কাঁদিয়া উঠিল। শচী মলিনাকে ধমক দিয়া ডলিকে তুলিয়া লইবার জন্য ছুটিয়া গেল।

    অরুণা একবার চকিতে দেখিয়া লইল, আঘাত কিছু লাগে নাই। তারপর স্বামীর হাতটা খপ করিয়া ধরিয়া বলিল, “আমি হার মানছি গো, দয়ামায়া কি নেই একেবারে?”

    স্বরটা ভারী হইয়া উঠিল।

    হাতটা ছাড়িয়া দিয়া একটু সরিয়া গেল, অনুযোগের সুরে বলিল, “কি রকম বেহায়াপনা করছ বল দেখি তখন থেকে?”

    শেখর বলিল, “ফিরে যেতে রাজী তো?”

    “কখন?”

    শেখর হাসিয়া বলিল, “ছ ঘণ্টা পরে।”

    অরুণা অভিমান করিয়া বলিল, “এক্ষুনি চল না তার চেয়ে, বাবা-মার সঙ্গে ভাল ক’রে কথাবার্তাও হয় নি! আমার আবার বাপের বাড়ি আসা!’

    বেশ কখন যাবে তুমিই বল না হয়—কাল সন্ধ্যেয়?”

    “পরশু। অনেক দিন আসি নি।”

    “এই কি হারের লক্ষণ?”

    অরুণা চোখের কোণে চাহিয়া বলিল, “ইস, একজনের কাছে আমার হার আছে নাকি?”

    শেখর একটু হাসিল, বলিল “বেশ তাই হবে; পরশুই রইল।”

    মলিনা, মন্টু ও ডলিকে লইয়া শচী রেলিংয়ের ধারে দাঁড়াইয়া ছিল। গঙ্গার নৌ- স্টীমার দেখাইয়া ডলিকে ভুলাইতেছিল—এদিকে দম্পতিকে একটু সুবিধা করিয়া দেওয়াই বোধ হয় মুখ্য উদ্দেশ্য।

    খানিকক্ষণ চুপ করিয়া সামনের দিকে চাহিয়া শেখর বলিল, “বড় চমৎকার জ্যোৎস্নাটি।”

    স্ত্রী ঘাড় বাঁকাইয়া একটু আড়ে চাহিয়া বলিল, “নাঃ, সে সব হবে না—দিদি এক্ষুনি যদি ফিরে চান?”

    শেখর পত্নীর কাছে একটু সরিয়া গিয়া তাহার কাঁধ স্পর্শ করিয়া মৃদু স্বরে বলিল, “দিদি অতবড় বোকা নন—এটা বেশ জেনো।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Next Article শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }