Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রামায়ণের উৎস কৃষি – জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প204 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. সংযোজন : “রামায়ণের উৎস কৃষি” সম্বন্ধে মন্তব্য – শ্রী শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ

    ১৪. সংযোজন : “রামায়ণের উৎস কৃষি” সম্বন্ধে মন্তব্য – শ্রী শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ

    শ্ৰীযুক্ত জিতেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় মহাশয় যে অসাধারণ পরিশ্রম করিয়া এই গ্রন্থ রচনা করিয়াছেন, তজ্জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদার্হ।

    ‘বাল্মীকি-রামায়ণট সাধারণভাবে একটি ধর্মগ্রন্থ বলিয়াই পরিচিত। পূর্বে এবং ইদানীন্তন কালেও রামায়ণ-পারায়ণ অর্থাৎ এক সপ্তাহের মধ্যে সপ্তকাও রামায়ণের পাঠ সমাপনই রামায়ণ-পারায়ণের অর্থ। একজন পাঠক ও দুইজন ধারক ব্ৰতী হইয়া এই ধর্মানুষ্ঠান করিয়া থাকেন।

    এজন্য আমার বাল্যকালে আমাদের গৃহেও রামায়ণ-পারায়ণ অনুষ্ঠানটি হইয়াছিল এবং আমাকে ১৫/১৬ বৎসর বয়সে রামায়ণের উপর কথকতা ভঙ্গিতে ব্যাখ্যান দিতে হইয়াছিল, সেইজন্য বাল্মীকি রামায়ণের বহুলাংশ আমার পঠিত ও আলোচিত।

    এই গ্রন্থকার যাহা মনে করিয়াছেন, আমিও তাহাই মনে করি যে, রামায়ণের রূপকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করিলে বামায়ণের মাহাত্ম্য—অর্থাৎ ধর্মগ্রন্থস্বরূপতা বা ঐতিহাসিকতা নষ্ট হইবে—তাহা নহে।

    কারণ ইহা ভারতীয় ভাবধারার পরম্পর সিদ্ধ।

    (১) ঋগ্বেদের ১ মণ্ডল ১৬৪ সূক্তের ২০ সংখ্যক মন্ত্রটি—‘দ্বা সুপর্ণা সযুজা সখায়া’ ইত্যাদি, একটি রূপক। সংসার—একটি অশ্বত্থ বৃক্ষ। জীব ও ঈশ্বর যেন দুই পক্ষী—একজন কর্মফল ভোজন করে, আর একজন সাক্ষী, অথচ ইহা একটি মন্ত্র।

    সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শনে ৩৭০ নং সিলে ইহার একটি চিত্রও পাওয়া গিয়াছে। সেই চিত্রে একটি অশ্বত্থবৃক্ষ আর তাহাতে দুইটি পক্ষী মুখোমুখী বসিয়া আছে।

    এই প্রমাণ দৃষ্টে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ৺বেণীমাধব বড়ুয়া এই চিত্রটি আবিষ্কার করিয়া বলিয়াছিলেন ইহা বৈদিক সভ্যতারই প্রতীক। স্যর্‌ জন মার্শ্যাল সিন্ধুসভ্যতা অনার্য্য-সভ্যতার নিদর্শন— যাহা বলিয়াছিলেন, তাহ প্রমাণ সিদ্ধ নহে। ইহা ব্যতীত শবদাহ চিত্র (দগ্ধ বংশখণ্ড, একটি কলস প্রভৃতি) আরও অনেক নিদর্শন পরে আবিষ্কত হইয়াছে, তাহাতে আর্য্য-সভ্যতারই পরিচয় পাওয়া যায়। শবদাহ প্রথা— আর্য্যদেরই ‘ভস্মান্তং শরীরম্ (ঈশোপনিষৎ-যজুৰ্বেদ)। অনার্য্যদের কবর দেওয়াই প্রথা—রামায়ণে (অরণ্যকাণ্ড, চতুর্থ সৰ্গ ২২ শ্লোক) প্রমাণ পাওয়া যায়—রাক্ষসাং গতসত্ত্বানামেষ ধৰ্ম্ম সনাতনঃ। অবটে যে নিধীয়ন্তে তেষাং লোকাঃ সনাতনাঃ ৷ ভূগর্ভে যাহাদের দেহ প্রোথিত হয়, তাহাদের নিত্যলোক প্রাপ্তি হয়, গতপ্রাণ রাক্ষসদের (অনার্যাদের) ইহাই চিরন্তন ধর্ম। এই গ্রন্থকার সিন্ধু সভ্যতা প্রসঙ্গে আর্য্য-অনার্যের সংমিশ্রণ কথার উল্লেখ করিয়াছেন–রামায়ণ-আলোচনার মধ্যে ইহা অপ্রাসঙ্গিক ও সন্দিগ্ধ বিষয়।

    (২) ঋগ্বেদের (১০ মণ্ডলের ১০ম সূক্ত) যম-যমী বিষয়ক মন্ত্রগুলি দিন-রাত্রির রূপকরূপে প্রকাশিত।

    (৩) শ্রীমদভাগবতে চতুর্থ স্কন্ধে ২৭-২৯ অধ্যায়ে পুরঞ্জন উপাখ্যান বর্ণনার পর উপসংহারে ইহা যে রূপক, তাহা বলা হইয়াছে, এরূপ বহু রূপক চিন্তার দৃষ্টান্ত দেখান যাইতে পারে। সুতরাং গ্রন্থকারের রূপকবাদ দোষাবহ নহে।

    গ্রন্থকার স্বীকার করিয়াছেন যে, ওয়েবার সাহেবের লেখা হইতে এই রূপকবাদের প্রেরণা পাইয়াছেন, তাহাও আমি দোষের মনে করি না। বরাহকৃত বৃহৎসংহিতায় (জ্যোতিষ গ্রন্থ) লিখিত হইয়াছে যে,—
    ম্লেচ্ছা হি যবনা স্তেষু সম্যক্‌ শাস্ত্রং ব্যবস্থিতম্।
    ঋষিবৎ তেহপি পুজ্যন্তে কিমন্যে ব্রাহ্মণ ব্রুবাঃ॥
    ম্লেচ্ছ (বর্ণহীন) যবন (গ্রীক, রোমক)দের নিকটে জ্যোতিষ শাস্ত্র সম্যগ্‌ভাবে প্রতিষ্ঠিত, তাহারাও ঋষিবৎ সম্মানের পাত্র, অন্য যাহারা ব্রাহ্মণতুল্য তাহাদের ত’ কথাই নাই। সুতরাং বিদেশীয় মনীষীর প্রেরণাও দোষাবহ নহে; যদি তাহা সত্যভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি সংস্কারমুক্ত চিত্তে নিরপেক্ষভাবে এই গবেষণা গ্রন্থের আলোচনা করিবার চেষ্টা করিতেছি।

    (ক) সীতা শব্দের অর্থ লাঙ্গল পদ্ধতি—হলরেখা, ইহা অভিধান সম্মত, এ বিষয়ে দ্বিমত হইতে পারে না।

    ওয়েবার সাহেবও বলিয়াছেন—সীতা = furrow of plough, সীতার সহিত সম্বন্ধ-স্থাপনের উদ্দেশ্যে রামকে এজন্য হলধর রাম সহ অভিন্ন কল্পনা করিতে হইয়াছে। সেই কারণে রামায়ণকে মহাভারতের পরবর্তী গ্রন্থ বলা ব্যতীত উপায় ছিল না। নতুবা ‘হলধর রাম’ রামায়ণে অজ্ঞাত পুরুষ। সুতরাং সঙ্গতি থাকে না। আমাদের গ্রন্থকার বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় ‘রাম’ অর্থে ‘মেঘ’ কল্পনা করিয়াছেন। এই কল্পনার মূলে আবেস্তার ‘রামাহুর’ ও আরবী ভাষায় ‘রামা’ শব্দ সহ রাম’ শব্দের সম্বন্ধ কল্পনা করিয়া ‘মেঘ” অর্থ সঙ্গতির চেষ্টা করিয়াছেন। (ইংরাজী Ram এবং Rum শব্দ দুইটি সহ কোন অর্থগত সাদৃশ্য না থাকায় তাহা উল্লিখিত হয় নাই।)

    এই গবেষণা গ্রন্থে দশটি পরিচ্ছেদ আছে—(১) প্রাকৃকথা  (২) আদি শ্লোক—মা নিষাদ (৩) প্রথম নাম—পৌলস্ত্য বধ (৪) রাম জন্ম-কথা (৫) রাম নামের উৎস (৬) সম্পাতি রহস্য (৭) কৃষিশ্রী সীতা (৮) ইক্ষ্বাকু বংশ (৯) কুশ বংশ (১০) জনক বংশ।

    (খ) প্রাকৃ-কথা প্রসঙ্গে গ্রন্থাকারের মন্তব্য—“মূল কাহিনীর সঙ্গে উত্তরকাণ্ড প্রায় সম্পর্কহীন।” ইহার তাৎপৰ্য্য ঠিক বুঝা যায় না। কারণ সীতার বনবাস, রামায়ণ বক্তা বাল্মীকির আশ্রমে সীতার গমন, লবকুশের উৎপত্তি—উত্তরকাণ্ডেই বর্ণিত।

    মহাকবি কালিদাস ও ভবভূতি উত্তরকাণ্ডের ঘটনা লইয়া রঘুবংশ, উত্তর রামচরিত এবং আরও অনেক কবি উত্তরকাণ্ডকে পূৰ্ববতী ছয় কাণ্ডের সহিত সংযুক্ত বলিয়া গ্রহণ করিয়াছেন। এই গ্রন্থকারও উত্তরকাণ্ডের বর্ণিত বেদবতীর উপাখ্যান (৭১ পৃঃ) সীতার পূর্ব-জন্ম-কথার আলোচনা করিয়াছেন। (গ) “অনুরূপভাবে বালকাণ্ডের অধিকাংশ উপাখ্যানগুলির সঙ্গে মূল কাহিনীর সম্পর্ক বিশেষ নাই। ঐ কাহিনীগুলির জন্য রাম কাহিনীর দেবত্ব মানিতে হয়।” (২য় পৃষ্ঠা)…… “রাম কাহিনীর মানবিক সত্ত সুপ্রতিষ্ঠিত”।

    এই উক্তির সহিত লঙ্কাকাণ্ডের দুইটি শ্লোকার্থ তুলনা করিলে রাম নিজেই স্বীকার করিতেছেন যে আমি মানব।

    আত্মানং মানুষং মন্যে রামং দশরথাত্মজম্।
    সোহহং যশ্চ যতশ্চাহং ভগবাংস্তদূরবীতু মে॥
    আমি নিজেকে দশরথতনয় মানুষ রাম বলিয়াই জানি। আমি কে বা কোথা হইতে আগত, সে কথা ভগবান আপনিই বলুন। ব্রহ্মা উত্তর করিলেন—

    সীতা লক্ষ্মীর্ভবান বিষ্ণুদেব কৃষ্ণঃ প্রজাপতিঃ।
    বধাৰ্থং রাবণস্যেহ প্রবিষ্টে মানুষীং তনুম্॥
    সীতা লক্ষ্মী, আপনি বিষ্ণু দেব কৃষ্ণ ও প্রজাপতি।

    সুতরাং এবিষয়ে বালকাণ্ড ও উত্তরকাণ্ডের সহিত লঙ্কাকাণ্ডের পূর্ণ সঙ্গতি (১১৯সর্গ ১১, ২৭ ও ২৮ শ্লোক) দেখা যায়।

    (ঘ) “বাল্মীকি নারদের মুখে রাম কাহিনী প্রথম শুনেছিলেন, সুতরাং বাল্মীকি রাম কাহিনীর স্রষ্টা ন’ন। প্রচলিত একটি কাহিনী” ইত্যাদি এ মন্তব্যও লেখকের সমীচীন নহে। কারণ, বাল্মীকি জিজ্ঞাসা করিলেন— “কোন্বিহ সাম্প্রতং লোকে গুণবান কশ্চ বীৰ্য্যবান” ইত্যাদি। সাম্প্রতম্‌—বর্তমান সময়ে, ইহলোকে এই ভূখণ্ডে কে এমন ব্যক্তি আছেন যিনি গুণবান বীৰ্য্যবান ধৰ্মজ্ঞ কৃতজ্ঞ প্রভৃতি গুণসম্পন্ন?

    নারদ তপঃ স্বাধ্যায়রত, বাল্মীকিও তপস্বী—উভয়ই জ্ঞানী। যেরূপ প্রশ্ন—তাহারই অনুরূপ উত্তর কি হইবে? একটি “প্রচলিত কাহিনী”? ইহা কি বর্তমান ব্যক্তি না কল্পিত ব্যক্তি? দশরথ তনয় রাম যে বাল্মীকির সমসাময়িক-ইহা পূর্বাপর ঘটনাবলির দ্বারাই প্রমাণিত।

    রাম-কাহিনীর স্রষ্টা রাম নিজেই। বাল্মীকি বা নারদ কেহই নহেন। পর্য্যটক নারদ তাহ প্রত্যক্ষভাবে জানিয়াছেন, বাল্মীকি তাঁহার মুখে শুনিতে চাহিলেন। মনে হয় বাল্মীকি লোকমুখে যাহা শুনিয়াছিলেন তাহা সত্য কিনা জানিবার জন্য (verify করিবার জন্য) সর্বজ্ঞ যোগী নারদকে জিজ্ঞাসা করিলেন। ইহা কল্পিত কোন কাহিনী নহে। এই বৃত্তান্ত জানার পর তমসা নদীতে স্নান করিতে গেলেন। স্নানান্তে কলশ রাখিয়া বল্কল (পরিধেয় বস্ত্র) গ্রহণ করিলেন।

    (ঙ) গ্রন্থকার বন্দ্যোপাধ্যায় কলশ ও বল্কল শব্দে দুইটি বাদ্যযন্ত্র একটিকে রাখিয়া অপরটিকে গ্রহণ করিলেন, এইরূপ অর্থ করেন। স্নানের সময়ে বাল্মীকি যদি একজন কৃষক ও অথচ সঙ্গীতবিশারদ হন, তাহা হইলেও স্নানকালে দুইটি বাদ্যযন্ত্র স্কন্ধে লইয়া বা শিষ্যের স্কন্ধে চাপাইয়া লইয়া যাওয়ার কল্পনা কি স্থান কাল বিরুদ্ধ নহে? কলশ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থও সমীচীন নহে। ‘কলম্’ অব্যক্ত মধুরং শব্দং শ্বতি (শো + ড), সো ও শো ধাতুর অর্থ বিনাশ করা। বাদ্যের বিপরীতাৰ্থ প্রকাশক হইতেছে। বল্কল শব্দের ব্যুৎপত্তি যাহা দেখান হইয়াছে, তাহাও কোন ব্যাকরণ বা অভিধান সম্মত নহে।

    (চ) এখন দেখা যাউক, “আদি শ্লোক—মা নিষাদ” ইত্যাদি শ্লোকের অর্থ—(লেখকের অভিপ্রেত) সঙ্গতিপূর্ণ হইয়াছে কি না?

    মা অর্থে ‘লক্ষ্মী, নিষদ এবং নিষাদ সমার্থক যার অর্থ পতি (ইহা কোন অভিধানে পাওয়া যায় না); সুতরাং ‘মা নিষাদ’ শব্দে লক্ষ্মীপতি অর্থাৎ নারায়ণ। নার (জল) এ যার অয়ন (শয়ন, আশ্রয়) সহজ কথায় ‘মেঘ” (১৩পৃঃ)।

    ‘ক্ৰৌঞ্চ’ অর্থে রাক্ষস বিশেষ। রক্ষ (রক্ষা করা) ধাতু নিষ্পন্ন রাক্ষস শব্দের অর্থ যাহা হইতে (ধনাদি) রক্ষিত হয় (রাক্ষস শব্দের এরূপ অর্থ কোন অভিধানে বা প্রয়োগে দেখা যায় না)। ‘প্রাণ জগতের সৃষ্টি এবং স্থিতির মূলে দাবাপৃথ্বী; এই দ্যৌঃ এবং পৃথ্বী আদিম পিতা ও মাতা। স্থূলভাবে দ্যেীঃ অর্থে অন্তরীক্ষের সূৰ্য্য এবং পৃথী অর্থে কর্ষণযোগ্য ভূখণ্ড, এই দুই এর সংযোগ মূলতঃ মানবসমাজের অগ্রগতির উৎস’। ‘সূৰ্য্য এবং পৃথিবী সকল সময়েই মিথুনাবদ্ধ থাকিলেও—(ইহা লেখকের কল্পনামাত্র। কোথায় সূৰ্য্য আর কোথায় পৃথিবী?) “দক্ষিণায়নাদির প্রাক্‌কালে গ্রীষ্মঋতুতে ধরিত্রী উত্তপ্ত হয়ে উঠে—এই তপ্ত অবস্থাকে মহাকাব্যে কামমোহিত বলা হইয়াছে।” ইহাও কি কল্পনা-মাত্র নহে? পৃথিবীকে সূর্য্যের সহিত মিথুনরূপে গ্রহণ অত্যন্ত কষ্ট কল্পিত। দ্যাবাপৃথ্বীকে মিথুনপদে বরং গ্রহণ করা যায়।

    (ছ) কামমোহিত শব্দে–‘গ্রীষ্মকালে উত্তপ্ত ইহাও কষ্টকল্পিত।

    মেঘবন্দনার মধ্যে বলা হইয়াছে—’হে মেঘ! শাশ্বতকালের জন্য প্রতিষ্ঠা লাভ কর’—মেঘ যদি পর্জন্যদেবও হয়, তাহা হইলেও কেহ মেঘের চিরস্থায়ি প্রতিষ্ঠার কামনা করে না। ‘কালে বর্ষতু পর্জন্যঃ’ ইহাই বলা হয়। শশ্বহদ্‌ বৰ্ষতু পর্জন্যঃ ইহা চিন্তার অতীত।

    যেমন মেঘ না থাকিলে কৃষি হয় না, ধরিত্রী বন্ধ্যা থাকে, তেমনই মেঘের চিরস্থিতিও বাঞ্ছনীয় নহে। অতিবৃষ্টি অথবা বহুদিনব্যাপী মেঘের আচ্ছাদানবশতঃ কৃষিশ্রী বিনষ্ট হইয়া থাকে।

    এরূপ অসঙ্গতি চিন্তনীয়।

    দ্বিতীয় অসঙ্গতি এই যে,—পৃথিবী গ্রীষ্মকালে উত্তপ্ত হইবার পর মেঘ আবিভূত হইলে বা বর্ষণ হইলে বাল্মীকি কেন সর্বজীবই আনন্দ বা শান্তি লাভ করে। গ্রন্থকারও লিখিয়াছেন– “প্রচও গ্রীষ্মের পর মেঘের আবির্ভাব শান্তি বা আরাম প্রদান করে।” (৪২ পৃঃ) কিন্তু ঐ দ্বিতীয় সর্গে বর্ণিত হইয়াছে—ঋষের্ধর্মাত্মনস্তস্য কারুণ্যং সমপদ্যত। শোকাৰ্ত্তস্য প্রবৃত্তো মে শ্লোকো ভবতু নান্যথা। ‘শোকঃ শ্লোকত্বমাগতঃ’।

    অর্থাৎ মহৰ্ষির করুণরসের উদ্ভব হইল—‘শোকাৰ্ত্ত আমার এই বাণী শ্লোকরূপে পরিণত হউক’—শোকই শ্লোক হইল-ইত্যাদি মূল বাক্যের সহিত গ্রন্থকারের রূপকবাদ অত্যন্ত অসঙ্গত হইতেছে না কি? রূপকবাদ স্বীকার করিলেও পূর্বাপর সামঞ্জস্য অবশ্য চিন্তনীয় মনে করি।

    (জ) ‘মূল কাহিনীর সঙ্গে আপাত দৃষ্টিতে ক্ৰৌঞ্চবধের কোন সম্পর্ক নাই।’ ইহাও লেখকের অমূলক আশংকা। কারণ সংস্কৃত ভাষায় তখনও কোন ছন্দোবদ্ধ বাণীর উৎপত্তি হয় নাই। সেই উৎপত্তির কারণরূপে বলা হইয়াছে—বাল্মীকি হৃদয়ের শোকময় ভাবোচ্ছদাস। ক্ৰৌঞ্চবধ ঘটনা দর্শন—ভাবোচ্ছাসের কারণ। ইতিপূর্বে নারদের মুখে রামবৃত্তান্ত শুনিয়াছেন, সেই বিষয়বস্তু (Plot) অবলম্বন করিয়া শ্লোকময় রামায়ণ রচনা করা হইয়াছে—ইহাতে অসঙ্গতি কি আছে? বরং লক্ষ্মী (সীতা)পতি রাম যে ক্ৰৌঞ্চেরমিথুন রাক্ষসদম্পতি রাবণ ও মন্দোদরীর একটি (পুরুষ) রাবণকে বধ করিয়া চিরন্তন গৌরব লাভ কর—এই অর্থটিই ব্যঞ্জিত হইয়াছে। অবশ্য ইহা পরবর্তীকালে টিকাকারদের উদ্ভাবিত অর্থান্তর; রূপকবাদে কম্পিত অর্থ অপেক্ষা এই ব্যঞ্জনালভ্য অর্থ সঙ্গতিপূর্ণ মনে হয় না কি?

    ঋষিমুখ হইতে স্বতঃস্ফূর্ত এই ছন্দোবদ্ধ বাণী যে বহুলার্থদ্যোতক তাহাই পরবর্তী মণীষীরা প্রমাণিত করিয়াছেন।

    (ঝ) গবেষণা গ্রন্থে লিখিত হইয়াছে যে—“ভারতের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে বেদ রচনা শুরু হয়”—এই রচনা ঋষি নামধারী মানবগোষ্ঠী দ্বারা সংসাধিত হইয়াছিল—ইহাই লেখকের অভিপ্রায় মনে হয়, কিন্তু রামায়ণের আদিশ্লোক বাল্মীকির মুখ হইতে প্রকাশিত হওয়ায় তাহার বিস্ময়ের সীমা ছিল না। বিস্ময়ের কারণ, ছন্দোবদ্ধ তন্ত্রীলয়সমন্বিত এই বাণী। অথচ বেদ যদি মনুষ্যরচিত হয়—তাহাতে শত শত অনুষ্টুপ ছন্দের শ্লোক থাকিতে বাল্মীকির বিস্ময়ের কারণ কি? বস্তুতঃ বেদ যে অপৌরুষেয়-ইহা নির্ণয়ের পক্ষে আদিকবি বাল্মীকির এই বিস্ময় অন্যতম কারণরূপে গ্রহণ করা যাইতে পারে।

    (ঞ) লেখকের একটি উদ্ভট মন্তব্য—যথা (৪ পৃঃ) “নাসাকর্ণচ্ছেদন হিন্দু সমাজে প্রাচীনকাল হতে বিবাহ অনুষ্ঠানের একটি রীতি। সেই রীতি শূৰ্পণখার ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হ’ল কেন?”

    কন্যাকালে (বিবাহের বহু পূর্বে) মেয়েদের নাক-কান বিঁধান হয় অলঙ্কার পরিধানের জন্য। আর তাড়কা ও শূৰ্পণখার নাসাকর্ণচ্ছেদন বিরূপ করিবার জন্য, উভয় কাৰ্য্যকে এক পর্যায়ে ফেলার অর্থ আমাদের অবোধ্য।

    (ট) “শূর্পণখার নাসাকর্ণচ্ছেদকালে ‘সত্যবাদী রাম’ লক্ষ্মণকে অবিবাহিত বলিয়াছিলেন—অথচ উভয়ের এক সময়ে বিবাহ হইয়াছিল।” ইহা লেখকের মন্তব্য।

    রাম সত্যবাদী এবং ধর্মজ্ঞ; ধর্মশাস্ত্রে আছে যেমন, ‘ন নর্মযুক্তং বচনং হিনস্তি’ অর্থাৎ পরিহাস করিয়া মিথ্যা বলিলে দোষ হয় না। তেমনই ‘ন স্ত্রীষু’ ‘ন বিবাহকালে’ ‘প্রাণাত্যায়’—স্ত্রীলোকের নিকট, বিবাহসময়ে, প্রাণবিনাশ কালেও মিথ্যাভাষণ দোষাবহ নহে। সুতরাং রাম চরিত্রের কোন অসঙ্গতি হয় নাই।

    (ঠ) ঊর্মিলা, মন্থরা, শূৰ্পণখা, মাণ্ডবী, শ্রুতকীর্তি এবং বিশ্বামিত্র প্রভৃতি কতকগুলি প্রাসঙ্গিক চরিত্রের পরবর্তী বৃত্তান্তের মধ্যে উল্লেখ না থাকায় রামায়ণ গ্রন্থের ত্রুটি লক্ষ্য করিয়াছেন লেখক মহাশয়।

    অলঙ্কার শাস্ত্রানুসারে কাব্যে বা নাটকে দ্বিবিধ চরিত্র অঙ্কিত করা হয়। (১) আধিকারিক (২) প্রাসঙ্গিক। আধিকারিক অর্থাৎ প্রধান নায়ক নায়িকাদের চরিত্র শেষ পর্যন্ত বর্ণনীয়। আর প্রাসঙ্গিক চরিত্রগুলি যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই বর্ণনীয়। ইহাকে ত্রুটি বলা যায় না। (সাহিত্য দর্পণ; ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ)

    (ড) “বলা হয়েছে যে রাম অযোধ্যার রাজপথে লবকুশকে গান গাইতে দেখে রাজপ্রাসাদে ডেকে এনেছিল। উত্তরকাণ্ডে বাল্মীকি অশ্বমেধ যজ্ঞে লবকুশকে এনেছিল—ইহা বলা হয়েছে।”

    রাজপ্রাসাদে লবকুশকে ডেকে আনার পর তারা যে আর বাল্মীকির আশ্রমে ফিরে যাওয়ার প্রমাণ না থাকিলে—ইহা একটি অসঙ্গতি বা ত্রুটি বলা যাইতে পারে।

    (ঢ) আদি নামকরণ–পৌলস্ত্যবধ—ইহা হইতে অগস্ত্য নক্ষত্রের উদয় ও দক্ষিণায়ন সূৰ্য্যগতির সঙ্কেত-যাহ বর্ণিত হইয়াছে তাহা উপাদেয়, তবে বধ শব্দের অর্থটি পরিস্ফুট হয় নি।

    (ণ) রাম জন্ম কথা—এই প্রকরণটি লেখকের অসাধারণ প্রতিভার পরিচায়ক। দুই একটি শব্দের অর্থ কষ্ট কল্পিত—যথা ঋষ্যশৃঙ্গ—মৃগশিরা নক্ষত্র। ঋষ্য শব্দের অর্থ মৃগ, ইহা কল্পিত। অঙ্গনা অর্থে কন্যারাশি–ইহা সহজবোধ্য। অঙ্গনা শব্দে বৃষ, কৰ্কট, বৃশ্চিক, মীন ও মকর রাশি বুঝায়—ইহার প্রমাণ উল্লিখিত হয় নাই। তথাপি এই প্রকরণে রূপকরামও যে ‘উচ্চস্থে গ্রহপঞ্চকে—মেষং গতে পুষণি—লগ্নে কর্কটকে’ ইহার সহিত সামঞ্জস্য করা হইয়াছে—ইহাই প্রতিভার পরিচায়ক। কৌশল্য, কৈকেয়ী, সুমিত্র শব্দেরও রূপকার্থ গ্রহণীয়।

    (ত) ‘রাম নামের উৎস’। এই গ্রন্থকারের মতে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা অতি প্রাচীন, এবং রাম শব্দটি ঐ ভাষা হইতে ভারতে প্রবেশ করিয়াছে। অথচ ইউরোপীয় সভ্যতা যে ৪০০০ চার হাজার বৎসরের অধিক পুরাতন নহে, ইহা সর্বস্বীকৃত। ডঃ হারম্যান জ্যাকবি সাহেবও প্রমাণ করিয়াছেন যে, ‘কৃত্তিকাঃ প্রাব্য ন চ্যবন্তে’—শতপথব্রাহ্মণের এই কৃত্তিকানক্ষত্রের তাৎকালিক অবস্থান এবং বৰ্ত্তমান অবস্থান দ্বারা জোতিষগণনার ফলে অন্তত পাঁচ হাজার বৎসর পাওয়া যায়। এবং বালগঙ্গাধর তিলক মহোদয় তাহার ‘Orion’ নামক প্রবন্ধেও ঐরূপ সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছেন। ‘রাম নামের উৎস’ প্রকরণটি তেমন ভাল লাগিল না।

    ভারতবর্ষের বৈদিক মন্ত্রগুলিকে কৃষকসঙ্গীত (চাষার গান) বলিয়া ইউরোপীয় মনীষিগণ অনেকদিন পূর্বেই উদ্‌ঘোষিত করিয়াছিলেন। সমগ্র বেদে যেমন ইন্দ্র, পর্জন্য, বরুণ প্রভৃতি মেঘবাহন দেবতার উল্লেখ আছে—তেমনিই অগ্নি, অশ্বিদ্বয়, বিশ্বদেব, সরস্বতী, ঋভুগণ, সবিতা, দ্যাবাপৃথিবী, বিষ্ণু, বায়ু, মরুৎ, রুদ্র, সোম, ঊষা, সূৰ্য্য প্রভৃতি বহু মেঘসম্বন্ধহীন দেবতারও স্তুতি আছে। বস্তুতঃ বৈদিক মন্ত্রগুলি যজ্ঞ সম্পাদনের জন্যই ব্যবহৃত হইত। কৃষিকার্য্যের অঙ্গীভূত গীতি নহে। এই যজ্ঞের পরম্পরা রামায়ণেও আসিয়াছে—অশ্বমেধ, পুত্রেষ্ঠি প্রভৃতি যজ্ঞের কথা বার বার উল্লিখিত হইয়াছে।

    (থ) সম্পাতি রহস্য প্রকরণে বলা হইয়াছে যে,—‘হনুমানরা জানত যে সীতাকে রাবণ হরণ ক’রে লঙ্কায় রেখেছে, সুতরাং সম্পাতির ব্যাপারটি উদ্দেশ্যবিহীন, এজন্য ইহা রহস্যময় এবং রূপক কল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে’ (৪৮ পূঃ)। লেখক মহোদয়ের এটি প্রমাদপূর্ণ মন্তব্য। কেননা, রামায়ণের কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ডে ৪২ সৰ্গ হইতে ৫৫ সর্গ পর্যন্ত সীতার অন্বেষণ বৃত্তান্ত হনুমান ও বানরগণের দ্বারা কিরূপভাবে সম্পাদিত হইয়াছিল, তাহার বর্ণনা আছে, সম্পাতি পক্ষী আসিয়া সীতার হরণের পর লঙ্কায় অবস্থানের কথা জানাইয়া দেয়। হনুমানরা যে জানিত না, ইহা স্পষ্ট বলা আছে।

    (দ) ‘কৃষিশ্রী সীতা’ এই প্রকরণে—বৈদিক মন্ত্রে সীতার উল্লেখ (ঋগ্বেদ ৪ মণ্ডল ৫ অঃ ৫৭ সূত্ত্বে ৬৭ মন্ত্র) আছে। সীতা শব্দে লাঙ্গল পদ্ধতি বা ‘সীতাধার কাষ্ঠ’ অর্থাৎ লাঙ্গল বলা হইয়াছে। ইহা অভিধানেও উক্ত হইয়াছে, ইহা নিঃসন্দেহ। ‘সীতা’ শব্দের রূপক অর্থ সর্বস্বীকৃত। ‘কৃষিশ্রী’ অর্থটি তাহা হইতে টানিয়া আনিতে হইবে।

    (ধ) ইক্ষ্বাকুবংশ, কুশবংশ ও জনকবংশ–এই তিন অধ্যায়ে বহু কষ্টকল্পনা করা হইয়াছে। একটি দৃষ্টান্ত দিই—জনক শব্দে ‘বীজ’ গ্রহণ করা হইয়াছে। জনক যদি ‘বীজ’ হয়, আর সীতা যদি লাঙ্গল পদ্ধতি হইতে উৎপন্ন কৃষিশ্রী হয়, তাহা হইলে জনকের লাঙ্গল কর্ষণের ফলে বসুন্ধরা হইতে সীতার উৎপত্তি—এ অংশটি সঙ্গত হয় কি?

    (ন) অশ্বত্থ শব্দে অশ্বিনীনক্ষত্র ইঙ্গিত করা হয়েছে (৪৯ পৃঃ), ইহাও কষ্টকল্পনা।

    (প) নিশা শব্দের অর্থ—মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, ধনুঃ ও মকর রাশি। কর অর্থ হস্তপ্রান্ত।

    ‘সুতরাং নিশাকর শব্দে কর্কট ও মেঘরাশির প্রান্তদ্বয় ইঙ্গিত করেছে।’ এখানে বক্তব্য এই যে,–এরূপ প্রান্তদ্বয় পাইবার কোন যুক্তি দেখান হয় নাই।

    (ফ) ‘রামায়ণের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ স্বতন্ত্রভাবে আলোচনার যোগ্য। বর্তমানে ঐ প্রসঙ্গ পাশ কাটিয়ে রামায়ণের কৃষিভিত্তিক সত্তা নিয়ে আপাততঃ আলোচনা হচ্ছে।’ (১১ পৃঃ)

    “বাল্মীকি তার মহাকাব্য রচনার উদ্দেশ্যমূলকভাবে রূপকের আশ্রয় নিয়েছেন পুরোপুরি।” “সুতরাং ব্যক্তি ও স্থান নামগুলি অধিকাংশক্ষেত্রেই রূপক মানতে হবে, নতুবা রামায়ণের বিবিধার্থবোধক বিশেষণটি ব্যর্থ হয়” ইত্যাদি। এখানে আমাদের মনে একটি প্রশ্ন জাগে যে,—ব্যক্তি ও স্থান নামগুলির রূপক মানতে হবে, রামায়ণে যে কয়টি প্রসিদ্ধ ঘটনা আছে, তাহার সহিত সামঞ্জস্য রক্ষা করা এই রূপক বাদে উচিত কি না চিন্তনীয়।

    (১) পৌলস্ত্যবধ (২) রাম ও সীতার চৌদ্দবৎসর বনবাস বা নির্বাসন (৩) বনবাসকালে সীতা হরণ (৪) সীতার বনবাস (৫) বাল্মীকির আশ্রমবর্ণনায় কোন কৃষির উল্লেখ আছে কি না?

    (১) পৌলস্ত্যবধের রূপক ব্যাখ্যা ভালই হইয়াছে, তবে বধ শব্দের অর্থ পরিস্ফুট হয় নাই।

    (২) রাম ও সীতার চৌদ্দ বৎসর বনবাসকালে অর্থাৎ মেঘ ও কৃষিশ্রী বর্জিত অযোধ্যা বা যে কোন ভূখণ্ড কি দশায় উপস্থিত হইয়াছিল তাহার বর্ণনা রামায়ণে দেখা যায় না। রামায়ণে, চৌদ্দবৎসর অনাবৃষ্টি বা কৃষি উৎপন্ন হয় নাই এরূপ উল্লেখ নাই।

    (৩) বনবাসকালে সীতাহরণ—ওয়েবার সাহেব লিখিয়াছেন যে,— দাক্ষিণাত্যে তখন কৃষিকাৰ্য্য ছিল না, তাই হলধর সহ লাঙ্গল পদ্ধতির প্রচলনই সীতার বনবাসের উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় কিছু লিখেন নাই।

    (৪) সীতার পুনঃ বনবাস রূপকবাদে ব্যাখ্যাত হয় নাই।

    (৫) বাল্মীকির আশ্রমবর্ণনায় কোথাও দেখা গেল না যে,—বাল্মীকির আশ্রমে কৃষিক্ষেত্র ছিল, এমনকি বাল্মীকির একখানা লাঙ্গল ছিল, একথারও উল্লেখ নাই। জনকের লাঙ্গল ছিল, কিন্তু তিনি ত রামায়ণ রচয়িতা নহেন। রূপকবাদে তিনি ত ‘বীজ’ মাত্র। বাল্মীকি যে সঙ্গীতজ্ঞ কবি ইহার প্রমাণ পাওয়া যায় কিন্তু তিনি যে কৃষক বা কৃষিক্ষেত্রের পরিচালক, ইহার প্রমাণ নাই। শুধু নামগুলির অর্থান্তর অনুসন্ধান করিলেই কি সমগ্র রামায়ণের রূপকবাদ স্থাপিত হইবে? ঘটনাগুলির সামঞ্জস্য বিধান কি আবশ্যক নহে?

    আমি যতদুর পারি, পরিশ্রম করিয়া নিরপেক্ষভাবে শ্রীযুক্ত জিতেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় মহাশয়ের লিখিত এই গবেষণা গ্রন্থ পাঠ করিয়াছি এবং আমার মনে যে প্রশ্নগুলি জাগিয়াছে তাহা অন্তে সন্নিবেশিত করিয়াছি।

    আমার শেষকথা এই যে, ‘রামায়ণের উৎস কৃষি’ এই রামায়ণ শব্দের অর্থ যদি রামায়ণ গ্রন্থ হয়, তাহা হইলে বাল্মীকিকে কোন না কোন সময়ে ‘কৃষিশ্রী’ দর্শনের ঘটনা উল্লিখিত হওয়া উচিত ছিল। যেমন ক্ৰৌঞ্চ মিথুনের অন্যতমকে বধ করার ঘটনা হইতে রামায়ণের রচনার প্রবৃত্তি জাগিয়াছিল। রামায়ণে বর্ষাবর্ণনায় বা শরৎকাল বর্ণনায় বহু শ্লোকের মধ্যে দুই একটি শ্লোকে কৃষির বর্ণনা আছে মাত্র। আর যদি রামায়ণের অর্থ হয় ‘মেঘের আগমন’ তাহা হইলে ‘কৃষির উৎস রামায়ণ’– এইরূপ বিপরীত নামকরণ হওয়া উচিত।

    আমি যদি ভ্রমবশতঃ কিছু ত্রুটিপুর্ণ উক্তি করিয়া থাকি, তাহ বার্ধকাবশতঃ মার্জনীয়। ইতি—

    –শ্রী শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশুনছ, কোথাও আছো কি কেউ?
    Next Article জিম করবেট অমনিবাস (অখণ্ড) – মহাশ্বেতা দেবী সম্পাদিত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }