Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জীবনী – তপন বাগচী

    তপন বাগচী এক পাতা গল্প180 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. কতিপয় চরিত্র-বৈশিষ্ট্য

    ০৭. কতিপয় চরিত্র-বৈশিষ্ট্য

    রুদ্র ছিলেন দ্রোহী, অভিমানী, হাস্যোজ্জ্বল এক প্রাণবন্ত যুবক। আড্ডায় তার জুড়ি নেই। কবিতায় স্থির, সিদ্ধ কিন্তু বৈষয়কি বুদ্ধিতে অস্থির, ব্যর্থ। বারবার পেশা বদলিয়েছেন, কিন্তু সাহিত্যের দৃষ্টিভঙ্গি বদলান নি। তার সম্পর্কে আমাদের প্রধান কবি শামসুর রাহমান বলেছেন–

    এই তরুণ কবির মধ্যে এক ধরনের বাউণ্ডুলেপনা ছিল, যা তাকে সুস্থির হতে দেয় নি, নিজেকে পুড়িয়েছেন আতশবাজির মতো। যারা এই দৃশ্য দেখে তাদের কাছে সেটা মনোহর, চিত্তাকর্ষক মনে হয় কিন্তু যে পোড়ে তার পক্ষে এই জ্বলতে থাকা অত্যন্ত, যন্ত্রণাময়।(২৯)

    রুদ্র ছিলেন প্রচণ্ড মিশুক প্রকৃতির। অল্পসময়েই আপন করে নিতে পারতেন বড়-ছোট, পরিচিত-অপরিচিত কিংবা খ্যাতিমান ও খ্যাতিহীনকে। যাটের অন্যতম প্রধান কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন–

    রুদ্রের অহেতুক কিছু কাজকর্মে আমি ওর উপর রাগ হতাম এবং না-করার জন্য বলতাম তবে বয়সে তরুণ হলেও আমার একান্ত বন্ধু ছিল। অসীম সাহার ছাপাখানায় রুদ্রের আড্ডায় আমিও অংশ নিতাম। আমার ভালো লাগছে ওর জীবদ্দশায়–মুহম্মদ নূরুল হুদা ও রুদ্রকে আমার সর্বশেষ প্রকাশিত কাব্যখানি উৎসর্গ করেছিলাম।(৩০)

    ষাটের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি মহাদেব সাহা রুদ্র-সম্পর্কে লিখেছেন–

    মৃত্যুর পর রুদ্রকে আমি দেখি নি। আমি ছিলাম ঢাকার বাইরে। জীবিত রুদ্রের হাস্যোজ্জ্বল মুখই আমার কাছে তার শেষস্মৃতি। রুদ্র সবসময়ই ছিলো অসম্ভব রকম জীবন্ত ও সক্রিয়। নানা আগ্রহ ও কৌতূহল আকর্ষণ করতো তাকে। তার মধ্যে হয়তো অবান্তর ও অপ্রয়োজনীয় আগ্রহও ছিলো। এই সব আগ্রহ, কৌতূহল ও উদ্যমের মাত্রা কিছুটা প্রশমিত হলে তার কাব্যজীবনই সম্ভবত লাভবান হতো। কিন্তু তবুও সে প্রশ্ন এখন অবান্তর। কেননা একেকজন মানুষের স্বভাব বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একেক রকম, কবিরতো কথাই নেই, এই ভিন্নতা তার জন্যে আরো বেশি সত্য। বাইরের একধরনের উদ্যমশীলতা, আয়োজন-মগ্নতা ও হুল্লোড়-প্রিয়তার মধ্যেও তার নির্জন অসুখী জীবন তার প্রতি আগ্রহী কোনো মানুষেরই সম্ভবত চোখ এড়ায় নি। এড়ানোর কথাও নয়, যদিও এই আত্মদহনের নিদারুণ যন্ত্রণা সে খুবই সাবধানে নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করতো। ব্যক্তিগত কথা সে জানতো না সত্য, কিন্তু তার জীবনাচরণের মধ্যে তা অনেকটাই উন্মোচিতও হয়ে পড়তো। সে যে কষ্ট পাচ্ছিলো তা না-বললেও প্রায় কারো কাছেই খুব অগোচরও ছিলো না। আমাদের জীবনাচরণের একটি ভাষা আছে, সেই নিঃশব্দ অনুচ্চারিত ভাষাও অনেক কিছুই বলে দেয়। রুদ্র তার দেহ ও হৃদয়ে পীড়িত থেকেও আত্মার উদ্দেশ্যকে ম্লান হতে দেয় নি। এই কাজটি করেছিলো সে প্রকৃত কবির মতো। সেজন্যেই এই রোগ ও অসুস্থতা, দুঃখ ও হতাশার মধ্যেও সে ক্রমাগত বেড়ে উঠছিলো, আরো কবি হয়ে উঠছিলো।

    রুদ্র তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো পার করেছেন কবি অসীম সাহার আড্ডায় বসে। বলা যায় অসীম সাহার আড্ডাই ছিল তার সে-সময়ের বাঁচার অবলম্বন। অসীম সাহার সঙ্গে তার গভীর ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়েছিল। রুদ্রসম্পর্কে কবি অসীম সাহার উপলব্ধি—

    ব্যক্তিগত জীবনে রুদ্র ছিলেন একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমার সামান্য ছাপাখানায় প্রায়ই কবি যেতেন এবং আড্ডা বসাতেন। কবির অস্থির এবং হতাশাগ্রস্ত মন সবসময় আমাকে দংশন করতো। সবসময়ই কিছু একটা করার ইচ্ছা ছিল মনে। অনেক ছোটখাট ঘটনায় কবি অনেকের কাছ থেকে আঘাত পেয়ে একা একা থাকতে ভালোবাসতেন।(৩২)

    কবি-সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ রুদ্রের সহপাঠী, রুদ্রের জীবনের অনেক আনন্দ-বেদনার সঙ্গী। এক লিখিত সাক্ষাতকারের তিনি বলেন–

    ভিন্ন আদলে গড়া এক অনিরুদ্ধ মানুষ ছিল। যেন তার সব কিছুতেই এক স্বতন্ত্র আবহ, বৈশিষ্ট্যটুকুও নিজস্ব। মোহমুগ্ধ আকর্ষণে অনায়াসে টেনে নিতো যে-কোনো জনকেই। তারুণ্যের অসম সাহস, অন্তহীন ভালোবাসা গ্রহণের দক্ষতা আর হৃদয় উজাড় করে বিলিয়ে দেবার পাশাপাশি নানা গুণের মিশ্রণে সম্পন্ন মানুষের পথে চলেছিল। মাঝপথ পেরিয়ে যাওয়া হলো না আর।

    দেখার আগেই লেখার সঙ্গে পরিচয়পর্বটি ৭৩ সালের। ‘পূর্বদেশ’ দৈনিকের ‘চাঁদের হাট’, কিশোর পাতা। আর সেখানেই ‘বরণী’ শিরোনামের ১২ লাইনের অন্ত্যমিলের কবিতার সঙ্গে নামটক টেনে নিয়েছিল। চাদরে হাটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি তখন আয়োজন। হয়েছিল অবজারভার-ভবনে। সেই অনুষ্ঠানে পাঠ করা ঐ কবিতাটি, আর গ্রুপছবিতে ও ধরা পড়েছিল। ‘৭৪ সালের গোড়ায় সেই নামটুকু আবার পেলাম ঢাকা কলেজে ইন্টারমেডিয়েটে ভর্তি হবার সময়। সেবার ভর্তি পরীক্ষা হয় নি। এসএসসিতে পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে নোটিস বোর্ডে টাঙানো তালিকায় মানবিক বিভাগে প্রথম নামটিই ছিল রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে বেশ কয়েকটি বিষয়ে লেটার মাকসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিল। তাই মানবকি বিভাগের তালিকার শীর্ষে ছিলো তার নাম। কলেজের প্রথমদিনের ক্লাশেই শুশ্রুমণ্ডিত তার সাথে পরিচয়। তারপর কত ঋতু, কত বছর, মাস, দিন-রজনী পেরিয়ে গেছে, সূর্য-রৌদ্রে নিজেদের ভিজিয়ে হেঁটেছি পথ।

    জীবনযাপনের সব প্রসঙ্গটুকু এড়িয়ে যাবার প্রবণতা ছিল না। বাইরে যতটা এলোমেলো ভেতরে তত গোছানো–এমনটাই ছিল। তবু তার অস্থিরতার পায়রাগুলো ছটফট করতো। সৃজনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশকে ডেকে নিতো কত অবলীলায়। সংকীর্ণতা তাকে ছোয় নি কখনো, পরাধীনতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পথে শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে যাবার সাধনায় ছেদ পড়ে নি।

    জাগতিক বিষয়ের মধ্যে থেকেই লেখালেখির নিরন্তর সাধনা তার ছিল অপরিসীম। মধ্যরাতে জেগে উঠে কাগজ-কলম নিয়ে বসে যাওয়া, বারবার উচ্চারণে ছন্দের গতিপথ নির্ধারণ করা, শব্দকে নেড়েচেড়ে, ঝাঁকিয়ে, কত না ভেঙেচুরে বসিয়েছে ছন্দের নিজস্ব নিয়মে। চিন্তার পরিধি তার ছড়াতো সুন্দর আবহে। নতুন সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যান্দোলনে নিজেকে নিবেদিত করে পরিবর্তনের ধারা নির্মাণের ব্যাকুলতারও কমতি ছিল না।

    নষ্ট সময় আর নষ্ট প্রজন্মের ভিড়ে সুদিনে সুবাতাস বইয়ে দেবার জন্য প্রান্ত থেকে প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছে। সৃষ্টিশীলতার ভেতরে সঁপে দেয়া এক জীবন বহন করে গেছে। কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

    অভিমানের বিশাল আকাশটুকু দেখা যেতো মাঝে মাঝেই। মানুষের কাছে মানুষের কথা, জীবনের কাছে জীবনের কথা পৌঁছে দেবার শ্রমে অভূতপূর্ব আলোড়ন তুলেছিল। আমার সময়ের বিশাল হৃদয়ের সহিষ্ণু তুখোড় তরুণ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। আলো আঁধারের পথ থেকে কুড়িয়ে নিয়েছিলো জীবনের সারাৎসার। সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে নষ্ট স্বদেশে সৃষ্ট মানুষের বিপরীতে সটান দাঁড়িয়ে মুখোশ উন্মোচনে খামতি ছিল না। সমকালের মানুষের কাছে স্বতন্ত্র ও স্বকীয়তায় অনন্য রুদ্র। সব কিছু ছাপিয়ে উপচে পড়েছিল তার কবিতার পঙক্তিগুলো।(৩৩)

    রুদ্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে রুদ্র ছিলেন এক অজাতশত্রু মানুষ। অত্যন্ত সরল, কিন্তু প্রতিবাদী, সাহসী। তার বন্ধু রেজা সেলিমের দৃষ্টিতে–

    ঢাকার বাইরে ছিল রুদ্রের আর একটি জগৎ। আমার সুযোগ ঘটেছিলো বাংলাদেশের অনেক জেলা ও তৎকালীন মহকুমা শহরে অনুষ্ঠিত সাহিত্য বা কবিতা-সম্মেলনে যোগ দেবার। আমরা দেখতাম সে-সব অনুষ্ঠানে রুদ্র একটি বড়ো আকর্ষণ। ওর অকপট সারল্য সাহস, ব্যক্তিত্ব, কবিত্ব এবং আর একটি প্রধান গুণ কবিতাকে আবৃত্তি করা–সব কিছুরই সম্মিলিত আকর্ষণ ক্ষমতা ছিল। আমার বিশ্বাস এই সবগুলো মিলে-মিশে ব্যক্তি রুদ্রকেও জনপ্রিয় করে তুলেছিল।(৩৪)

    তাঁর কবি-বন্ধু কামাল চৌধুরীর দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে রুদ্রের ভিন্ন চরিত্র। রুদ্রের কবি-জীবনের ভেতরের ব্যক্তিজীবনকেও কামাল চৌধুরী চিনতেন। রুদ্রসম্পর্কে তার উপলব্ধি–

    রুদ্র স্বভাবে অমিতচারী ছিলো। সে ছিলো বেপরোয়া। তার চালচলন, আচার-আচরণ ছিলো আমাদের চেয়ে স্বতন্ত্র। শোকসভায় কবি রফিক আজাদ তাকে মাইকেল ঘরানার উত্তরসূরী বলেছিলেন। যথার্থ অর্থে রুদ্র ছিলো তাই। প্রতি সন্ধ্যায় হাটখোলার নন্দের দোকানে হাজিরা না দিলে তার চলতো না। আমরা অনেকেই অনিয়মিতভাবে সেখানে গিয়েছি তবে রুদ্রের সাথে তাল মিলিয়ে ওঠা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। জলীয় ব্যাপারটি তার নিত্যদিনের কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছিলো। এজন্য কোনো নিষেধ, অনুরোধ শুনতে সে রাজি ছিলো না।

    বাইরে এই বেপরোয়া বেহিসেবি জীবন, অথচ ভেতরে ভেতরে রুদ্র ছিলো আশ্চর্য রকম সুশৃংখল। কবিতার কাগজ-কলম থেকে শুরু করে পরিধেয় বস্ত্র কোনোকিছুই এলোমেলোভাবে রাখতো না। হাত-মুখ ধুয়ে শান্ত নির্বিকার ভঙ্গিতে বসে প্রতিদিনকার ঘটনা লিখে জানাতে প্রেমিকাকে। জীবনের সব সত্য প্রকাশযোগ্য নয়–একথা মানতে রাজি ছিলো না রুদ্র। বলতো যে তাকে ভালোবাসবে সে যেন জেনেশুনেই ভালোবাসে। আসলে তার হৃদয় ছিলো বিশাল এক সারল্যে ভরা। প্রয়োজনে অনেকের সে বিরোধিতা করেছে তবে কখনো ষড়যন্ত্র করে নি। কাব্যহিংসা তার ছিলো–তবে পরশ্রীকাতরতা ছিলো না কখনো।(৩৫)

    তাঁর আরেক বন্ধু কবি আলমগীর রেজা চৌধুরীর মূল্যায়ন–

    রুদ্রের মধ্যে কিছুটা বেপরোয়া ভাব ছিলো। দ্রোহী স্বভাব, কী চলনে, কী বলনে! কবিতায় শেকড়সন্ধানী আত্মমগ্নতা আমাকে প্রথম থেকে আকর্ষণ করেছিলো। পঁচফুট সাড়ে চার ইঞ্চি লম্বা, মাথায় কঁকড়া চুলের অধিকারী, মুখে গোঁফ, পোষাকে রং চকচকে পাঞ্জাবি, আর জিন্সের প্যান্ট। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিলো ওর অসাধারণ দুটো চোখ। সত্যি কসম করে বলি, আমি ওকে হিংসে করতাম। রুদ্রকে বল্লে ও হাসতো। সবকিছুর মধ্যে বাউলাপনা ছিলো। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে যখন টিএসসি মোড় থেকে বাংলা একাডেমির দিকে হেঁটে যেত তখন মনে হত নগরে বাউল। ঢাকা শহরে প্রত্যেক অলিগলির কোনো-না-কোনো মুদির দোকানদারের সঙ্গে ওর জানাশোনা ছিলো। প্রচুর সিগারেট খেতে পারতো। স্টার ছিলো ওর প্রিয় ব্রান্ড। পরবর্তীতে গেল্ডলিফ। চা খেত প্রচুর। যে-কোনো জায়গায় বসে যেত চা খেতে। ফুটপাত থেকে ফাইভ স্টার। আর মদ! হ্যাঁ সম্ভবত এটাও ওর প্রিয় বিষয়ের একটি। কবিতার মতো। প্রিয় নারী লীমার মতো। রাজনীতির মতো।

    সত্যি রাজনীতি ওর প্রিয় বিষয় ছিলো–কী কবিতায়, কী জীবনযাপনে! ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য। ডাকসুতে নির্বাচন করেছিলো সাহিত্য-সম্পাদক হিসেবে। এ-প্রসঙ্গে একটি স্মৃতি মনে পড়ছে। এ-সময় আমাদের আরো দু’জন বন্ধু আলী রীয়াজ এবং কামাল চৌধুরী একই পোস্টে নির্বাচন করেছে। জাফর ওয়াজেদ। সদস্য পদের জন্য। ভিন্ন ভিন্ন ছাত্রসংগঠন এদেরকে মনোনয়ন দিয়েছিলো। ৩০৯ নম্বর ফজলুল হক হল আমাদের নির্বাচন প্রচারকেন্দ্র। একই পোস্টের জন্যে প্রচারের ব্যাপারে আমার ভূমিকা সমান। শুধু নির্বাচনের দিন আমি ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পালিয়ে গিয়েছিলাম। আলী রীয়াজ ডাকসুতে সাহিত্য-সম্পাদক নির্বাচিত হয়। আমার এ-হেন ব্যবহারের জন্যে রুদ্র সামান্যতম ক্ষুব্ধ হয় নি। শুধু স্মিত হেসে বল্ল-আগামী দিনগুলোতে সংগ্রাম করবি কীভাবে? সত্যিকার অর্থে আমি কাউকে দুঃখ দিতে চাই না। আমাদের সম্পর্কের সুতো ততদিন অত্যন্ত শক্তভাবে গ্রন্থিত হয়ে গিয়েছে।(৩৬)

    প্রকৃত বিচারে রুদ্রের কোনো শত্রু ছিল না। যারা তাঁর বিরুদ্ধচারণ করতো রুদ্র তাদেরকেও বকে টেনে নেয়ার বিশাল হৃদয় তৈরি করেছিলেন। অনেক ঘনিষ্ঠজনদের নিকট থেকে আঘাত পেয়ে কেঁদেছেন, অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, আবার তারা এলে কিংবা দেখা হলে সেই রুদ্রই একগাল হাসি দিয়ে বুকে টেনে নিয়েছেন। তার এসব প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে বন্ধু কথাসাহিত্যিক ইসহাক খান জানান–

    এলোমেলো এই অশান্ত তরুণকে অনেকেই ভুল বুঝেছে। আসল সত্যটি তারা খোঁজে নি। আমি আসল সত্যটি লিখব। লিখব রুদ্রের শত্ররা কিভাবে তাকে আঘাত করেছে। সেই অভিমানে সারারাত কেঁদেছে রুদ্র। তারপরও বিশাল হৃদয়ের এই সিংহপুরুষ তার শত্রুদের সঙ্গে হেসে কথা বলেছে। আবার বুকে টেনে নিয়েছে। কখনও-কখনও আমি অভিযোগ করে বলতাম, ‘তুই আসলে বন্ধু চিনতে ভুল করিস।’ হেসে বলতো, ‘বন্ধু আমি ঠিকই চিনি। ওদের সঙ্গে মিশি, কারণ ওরা আমার বিরোধিতা করলেও শেষপর্যন্ত আমার কাছেই ফিরে আসতে হয়। সেক্ষেত্রে পরাজয় কার? আমার? না ওদের?’

    হ্যাঁ, রুদ্র মিথ্যে বলে নি। ওরাই বার বার হেরে গিয়ে ফিরে ফিরে এসেছে। সর্বকালের জন্যে রুদ্র অপরাজিত।(৩৭)

    সব কিছু ছাপিয়ে রুদ্রের যে-রূপটি বেশি প্রতিভাত, তা হল তার রুদ্ররূপ, প্রতিবাদী রুদ্ররূপ। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংস্কৃতিকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গঠন করেন। আবার এশীয় কবিতা উৎসবের প্রতিবাদে আয়োজন করেন জাতীয় কবিতা উৎসবের। কিন্তু এসব সংগঠন যখন ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখছে, অনেকে ফায়দা লোটার জন্যে সংগঠনে আসছে, রুদ্র তখন সরে দাঁড়িয়েছেন। এ-সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে তিনি শুধু দিয়েছেন, বিনিময়ে কিছু নেন নি। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন বলেন,

    রুদ্রের জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে যেমন মূল ভূমিকা ছিল, সেটি যখন অস্তিত্ব অটুট প্রতিষ্ঠা পেলো, তখন সে নেই। আবার পরিষদের অস্তিত্ব যখন একটু নড়বড়ে হয়ে দেখা দিলো রুদ্র এসে হাজির, আবার যখন পরিষদটি বেশ দৃঢ়পায়ে দাঁড়াবার সিদ্ধান্ত নিলো, তখন সে নেই। রুদ্র যেন ত্রাণকর্তার মতো প্রয়োজনে আসতো আর যেতো। জানি না অন্য ব্যাপারে তার কী ভূমিকা থাকতো, তবে জাতীয় কবিতা পরিষদের বেলায় তার ভমিকা এমনিভাবেই পালিত হয়েছে। মননে ও চিন্তায় রুদ্র দেশদরদী ছিল। দরদষ্টিসম্পন্ন ছিল ওর চিন্তা-চেতনা। কবিতার বেলায়ও তার দৈশিক ঐতিহ্য এবং আবহমান বাংলার আদিরূপের উপাসনা, মগ্নতা ও সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যেতো। এসব কারণে তার কবিতা এত লোকপ্রিয় ছিল। আমরা যারা ওর চেয়ে বয়সে বড় ছিলাম, তাদের প্রতি সে সবসময় শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখাতো। মনে মনে দ্ৰোহী আবার বাইরে ভদ্র ও বন্ধুপ্রিয়। ব্যক্তিগত মনোকষ্টে খুব ব্যথিত হয়েছে কিন্তু বাইরে তত প্রকাশ না-পেলেও তার কবিতার মধ্য দিয়ে সেটি প্রকাশিত হয়েছে। তার কষ্ট কবিতার লাইনে ফুটে উঠেছে। এসব জাতকবির লক্ষণ। কিন্তু সব কিছুকে ছাড়িয়ে দেশের জন্যে বোধ, কষ্ট-সুখ, আনন্দ-বেদনা, ভালোবাসা সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তার কবিতার মাধ্যমে। মানবপ্রেমিক যেমন ছিলো তেমনি দেশপ্রেমীও।(৩৮)

    হ্যাঁ, রুদ্র ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। তাই দেশের স্বাধীনতাকে বিপন্ন হতে দেখে, কিংবা পরাজিত শত্রুর উত্থান দেখে তিনি শংকিত। দেশবাসীকে জাগিয়ে তোলার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নেন। নিজের হাতে গড়া সংগঠনে যখন তিনি স্বৈরাচারী পরিবেশ লক্ষ করেন, সেখানেও জ্বলে ওঠে তার প্রতিবাদী রুদ্ররূপ। তার বন্ধু কবি তুষার দাশের ভাষায়–

    Rudra was a friend. But as a person he was on a higher plain because he had all the courage which we never had. From the stage of Jatiya Kabita Parishad he spoke out in the face of numerous adversaries; ‘I am reading out my poems in defiance of the autocratic government and all the autocracies inside this very Kabita Parishad.’ It was not possible for us to protest as he did. There, Rudra was the most courageous soul of our brave time. To call him a friend is a source of pride.

    He possessed a natural simplicity. We came to the city at a much later age and yet we were consumed by an urban crookedness, inferiority complex, deception and slyness. But nothing could destroy his simplicity. His smile reflected his simple personality and was familiar to all acquaintances.(৩৯)

    রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ভণ্ডামিকে তিনি সহ্য করতে পারতেন। আপোসকামিতাকে ঘৃণা করতেন। নিজের শরীর স্বাস্থ্যের প্রতি বেখেয়ালি ছিলেন–এই তার বড় দোষ। আর কবি হিসেবে ছিলেন একটু বেশি। আবেগপ্রবণ। তার ব্যক্তিচরিত্র এবং কবিচরিত্র সম্পর্কে কবি ফেরদৌস নাহার বলেছেন–

    রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বড় মাপের একজন মানুষ ছিলেন। কবি হিসেবে তার কোনো ক্ষুদ্রতা ছিল না। একটু সেন্টিমেন্টাল ছিলেন। তবে তার যাপিত কবি-জীবনকে অনেকটা ইচ্ছাকৃত বলে মনে হয়। কবিতা নিয়ে তার Regular Practice ছিল। তার সময়ে যে তিনি বড় মাপের এবং উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। তার প্রেমের কবিতাগুলি অসাধারণ। তাঁর সরাসরি প্রতিবাদের ভঙ্গিটিও আমার ভালো লাগে।(৪০)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস – শ্রী কৈলাসচন্দ্ৰ সিংহ প্রণীত
    Next Article বাঙালনামা – তপন রায়চৌধুরী

    Related Articles

    তপন বাগচী

    রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস – শ্রী কৈলাসচন্দ্ৰ সিংহ প্রণীত

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }