Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প267 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চান্স

    ওই তো ভোম্বলদা।

    ওই যে, দোকানের বেঞ্চে বসে মন দিয়ে কচুরি খাচ্ছে। আরে বাবা, ওই তো ফ্যাকাশে হয়ে আসা নীল জামা, কালো ফুলপ্যান্ট পরা লোকটা। রোগা, ছোট ছোট চুল। পায়ে কেড্স। কাঁধে কিটব্যাগ। ব্যাগের ওদিকটায় একটা তাপ্পি আছে। বড় নয়, ছোট তাপ্পি।

    খাওয়া শেষ করে প্রায় হাফ ছুটে, অলিগলি দিয়ে বড় রাস্তায় এসে পৌঁছোবে ডোম্বলদা। তারপর সামনে ট্রাম, বাস যা মিলবে উঠে পড়বে লাফ মেরে। এবার সোজা মাঠ। তবে কোন মাঠ ঠিক নেই। এক-একদিন এক-একটায়। কোনওদিন ময়দান, কোনওদিন দেশবন্ধু পার্ক, কোনওদিন রবীন্দ্র সরোবর। যে-মাঠে যে-দিন ম্যাচ থাকে।

    বেশিরভাগ দিনই মাঠে পৌঁছে ভোম্বলদা দেখে, তখনও কেউ আসেনি। খুবই বিরক্ত হয়। এ আবার কেমন কথা? আরে বাবা, একটু আগে এলে ক্ষতি কী? ম্যাচ তো আর চাট্টিখানি জিনিস নয় যে এলাম, নামলাম আর খেললাম। আরে, যেখানে এতটা সময় থাকব, ছুটব, পড়ব, দাঁড়াব তার কোনও ব্যাপার নেই? মাঠের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে হয়, মেশাতে হয়। ঘাস-মাটির সঙ্গে রোজ নতুন নতুন করে চেনা-জানার দরকার আছে। দূর দূর, ছেলেপিলেরা আজকাল আর এত ভাবনাচিন্তা করে না। ম্যাচ শুরুর দশ-পনেরো মিনিট আগে আসে হেলতে দুলতে।

    এইসব ছাইপাঁশ ভাবতে ভাবতে নিজের কিটব্যাগ খুলে পোশাক বের করে ফেলে ভোম্বলদা। জার্সি, প্যান্ট, বুটজুতো। দ্রুত তৈরি হয়ে নেয়। তারপর সকালবেলার হালকা রোদ গায়ে লাগিয়ে দৌড়োত শুরু করে মাঠ ঘিরে। কখনও দাঁড়িয়ে, কখনও বসে, কখনও আবার চিত হয়ে শুয়ে পড়ে হাত-পা ছুড়ে ব্যায়াম সারে। নিজের মনেই বলে, আঃ শরীরটা একেবারে ফুরফুরে হয়ে গেল। আজ একটা চান্স পেলে দেখিয়ে দিতে পারি।

    তখনও সবুজ ঘাসের ফাঁকফোকরে চোরাগোপ্তা শিশির লুকিয়ে থাকে। সেই শিশির ভোম্বলদার পুরনো ছেঁড়া কেড্স, রংচটা জার্সিতে মাখামাখি হয়ে যায়।

    বিকেলেও একই ব্যাপার। ম্যাচ শুরুর অনেক আগেই ভোম্বলদা মাঠে হাজির। মাথার ওপর দুপুরের কনকনে রোদ। মাটি তো গরমই, এমনকী ঘাস পর্যন্ত তেতে আছে। এদিক-সেদিক গাছের ছায়ায় তখনও কেউ কেউ দুপুরের ঘুম শেষ করেনি। ভোম্বলদার কিছু যায় আসে না। ওই রোদ্দুরেই লাফিয়ে, ঝাঁপিয়ে নিজেকে ম্যাচের জন্য তৈরি করে। দূর থেকে কেউ দেখলে ভাববে, ওরে বাবা, পাগল নাকি?

    আমাদের ক্লাবের ছেলেরা মাঠে এক এক করে আসে। বিশু, কাজল, অবিনাশ, পটল, কানাই, পিন্টু। ভোম্বলদাকে দেখে মুখ টিপে হাসে। বলে, কী গো, কটা পাক হল ভোম্বলদা? ভোম্বলদা একগাল হাসে। দূর থেকে হাত নাড়ে। বুক ভরে দম নেয়। চিৎকার করে বলে, আজ বেশি হয়নি। দাঁড়িয়ে জগিং করছি। অবিনাশ হাসি চেপে অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে বলে, সে কী! বেশি না-ছুটলে হবে কী করে? ফুটবল কি আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাফানোর খেলা? ছোটো ছোটো। জোরে জোরে ছুট দাও।

    পটল মোজা পরতে পরতে ফিসফিস করে বলে, অ্যাই অবিনাশ, ওরকম করে বলছিস কেন? বেচারি। ভোম্বলদা পটলের কথা শুনতে পায় না। সে হাসতে হাসতেই বলে, ছুটব রে বাবা, ছুটব দাঁড়া, আগে গা-টা একটু গরম করে নিই। বিশু জার্সি হাতে নিয়ে বলে, হ্যাঁ হ্যাঁ, ভাল করে গা গরম করে নাও। আজকের ম্যাচ কিন্তু হেভি গরম ম্যাচ। কাজল মুখ নামিয়ে বলল, ইস, খারাপ লাগে। রোজ রোজ এরকম করে…। অবিনাশ চাপা গলায় বলল, খারাপ লাগবার কী আছে? সবাই টিমে চান্স পায় নাকি? ভোম্বলদাও সে রকম একজন। চান্স পায় না। বিশু বলল, চান্স পায় না ঠিকই, কিন্তু তবু কেউ এভাবে আশায় আশায় থাকে? নইলে এভাবে প্রতিদিন মাঠে এসে ঝাঁপাঝাঁপি করত? একটা ম্যাচেও তো সুযোগ পায় না। অবিনাশ বলটাকে পায়ে নাচাতে নাচাতে বলল, আসে কেন? কে আসতে বলেছে? নিজেই তো দেখতে পাচ্ছে, চান্স হচ্ছে না। আমরা তো বলিনি। ক্লাবের কেউই বলে না। কানাই লাফ মেরে উঠে দাঁড়াল। বলল, অপেক্ষায় থাকে। যদি কোনওদিন চান্স হয়ে যায়। আর কবে হবে? বয়স তো বাড়তে লাগল। মনে হয় না, কোনওদিন হবে। একটা বোকা। পটল বলল, শুধু বোকা নয়। বিরাট বোকা। শুধু বোকা হলে কয়েক বছর পরেই হাল ছেড়ে দিত। বিরাট বোকা বলেই এতদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অবিনাশ মুচকি হেসে বলল, শুধু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে না, লোকও হাসাচ্ছে। চল, এবার মাঠে নেমে পড়। অ্যাই মানিক, বলটা এদিকে দে। দেখবি, ভোম্বলদার দম শিগগিরই ফুরিয়ে যাবে। মনে হয়, সে-দিনের আর খুব বেশি দেরিও নেই। মানিক বলে একটা লাথি মেরে বলল, অবিনাশ, একবার ধীরেনদাকে বলে দেখ না। একটা ম্যাচে যদি ওকে নেওয়া যায়। বড় কোনও ম্যাচ বলছি না। ছোটখাটো টুর্নামেন্টও তো হচ্ছে। অন্তত একটা হাফ যদি লোকটা খেলতে পারে। ধীরেনদা ইচ্ছে করলে পারবে। কোচই তো সব। অবিনাশ মানিকের মারা বলটাকে বুক দিয়ে রিসিভ করল। নামিয়ে নিল পায়ে। তারপর সেটাকে নাচাতে নাচাতে বলল, খোপেছিস নাকি? আমাদের মতো ক্লাব সেই রিস্ক নিতে পারে? মনে রাখবি মানিক, খেলাটা কোনও এক্সপেরিমেন্টের জায়গা নয়। সবকিছু নিয়ে ছেলেখেলা করতে পারিস, খেলা নিয়ে পারিস না। মাথা থেকে ওসব দূর কর। ভোম্বলদার পক্ষে এটাই বেস্ট। ম্যাচের আগে গা গরম করে সাইড লাইনে বসে থাকুক। আরে বাবা, সাইডলাইনেও কিছু খেলোয়াড় দরকার হয়। সাইডলাইন প্লেয়ার। হি হি। কানাই গম্ভীর মুখে বলল, তা ছাড়া ধীরেনদা যা কড়া। মানস ফিসফিস করে বলল, কড়া না কচু। কড়া হলে তমাল তিনটে ম্যাচে খেলে গেল কী করে? কানাই এদিক-ওদিক চেয়ে বলল, অ্যাই চুপ কর। খেয়াল রাখবি, তমাল আমাদের ক্লাব প্রেসিডেন্টের ভাইপো। বিল্টু জোড়া পায়ে লাফাচ্ছিল। লাফ থামিয়ে বলল, প্রেসিডেন্টের ভাইপো তো কী হয়েছে? তিনটে খেলাতেই আমরা ওর জন্য হেরেছি। পটল বল নিয়ে হেড দিতে দিতে বলল, হেরেছি তো কী হয়েছে? তিনটে খেলায় হেরেছি বলে প্রেসিডেন্টবাবু ক্লাবকে তিন হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন। বিশু বলল, ইস, তা হলে ছ’টা খেলাতেই হারা উচিত ছিল। ছ’হাজার টাকা পেতাম। অবিনাশ এবার ধমক লাগাল, অ্যাই চুপ কর, ধীরেনদা এসে গেছে।

    ম্যাচে চান্স না-পেলেও, প্র্যাকটিসে কিন্তু ভোম্বলদা একেবারে একশোয় একশো। কোনও ফাঁকি নেই। ম্যাচ শুরুর আগে যে পনেরো-কুড়ি মিনিট সময় পাওয়া যায়, সেই সময়টায় একেবারে মাঠ দাপিয়ে বেড়ায়। সকাল-বিকেল দু’বেলাতেই। লাফালাফি, ঝাঁপাঝাঁপিতে কিছু কম যায় না। এই ছুটে যাচ্ছে, এই কিক মারছে, এই হেড দিচ্ছে। কখনও গোলকিপার সেজে বল ধরছে। কখনও স্টপার হয়ে গোলে বল মারছে। ফ্রিকিক, পেনাল্টি থ্রো সবেতেই আছে। ঘেমে নেয়ে একশা কাণ্ড। কতরকম যে কসরত দেখায়! কে জানে হয়তো ভাবে, শেষ মুহূর্তে হয়ে যাবে। এগারোজনে ঢুকে পড়বে।

    হয় না।

    ম্যাচ শুরু হলে দেখা যায়, ভোম্বলদা সেই মাঠের বাইরে। প্রথমদিকে খানিকটা সময় জার্সি, জুতো পরেই থাকে। দারুণ উৎসাহ দেখায়। সাইডলাইন ধরে ছোটাছুটি করে। চিকার করে গলা ফাটায়—

    অ্যাই মানিক, বল দে। বিশু, উঠে যা। অবিনাশ, হচ্ছেটা কী? বিশু, ম্যান বিহাইন্ড। কাজল সেকেন্ড বার ফাঁকা, গোল খাবি যে! পটল, নেমে আয়, নেমে আয় বলছি। ইস কানাই, এটা কী করলি! বলটা ধরতে পারলি না!

    একসময় হাঁপিয়ে যায়। ঘনঘন নিশ্বাস পড়ে। বসে পড়ে ঘাসের ওপর। খানিকটা দম নিয়ে নিঃশব্দে জার্সি, জুতো খুলে তাপ্পি মারা কিটব্যাগে গোছাতে থাকে যত্ন করে। পরের দিন আসতে হবে না?

    এরকম পাগলামির জন্য ভোম্বলদা নিশ্চয় বাড়িতে বকাঝকা খায়। খাবেই তো। ভোম্বলদার স্ত্রী গীতাবউদি কি আর ছেড়ে দেন? দেবেনই বা কেন? রোজ রোজ এ কী কাণ্ড! বাড়ির কাজকর্ম ফেলে সকাল-বিকেল বেরিয়ে আসা। তার ওপর বাসভাড়া, টিফিন, জার্সিটার্সি কাচাকুচি আছে। গাদাখানেক খরচ। তা-ও খেলার সুযোগ পেলে একটা কথা ছিল। এ তো যাকে বলে একেবারে অপচয়।

    কিন্তু সেদিন পিন্টু এসে যা শোনাল, তাতে আমরা একেবারে হাঁ!

    ভোম্বলদা পিন্টুদের বাড়ির গায়েই ভাড়া থাকে। একদিন পিন্টু শুনল গীতাবউদি গজগজ করছে। রাস্তার পাশেই ওদের জানলা। পিন্টু থমকে দাঁড়াল। ইস, নিশ্চয় দু’জনের ঝগড়া চলছে। অন্যদের ঝগড়া শোনা উচিত নয়, তবু পিন্টু কৌতূহল সামলাতে পারল না। সে কান পাতল। যতই হোক ঝগড়া তো খেলা নিয়েই।

    একটু শোনার পরই পিন্টু একেবারে থ!

    হ্যাঁ, ঝগড়া খেলা নিয়েই। ভোম্বলদার স্ত্রী রাগারাগি করছেন এটাও ঠিক। তবে এ যে একেবারে অন্যরকম রাগারাগি!

    গীতাবউদি গলা তুলে বলছে, কী হল, তুমি আজ মাঠে যাবে না? বিছানায় এখনও গড়াচ্ছ যে বড়!

    ভোম্বলদা হাই তুলতে তুলতে উত্তর দিল, ভাবছি আজ আর যাব না। দাও, বাজারের থলিটা দাও।

    গীতাবউদির গলায় বিরক্তি।

    মানে! বাজারের থলি দেব কেন? বাজার রোজ আমি করি, আজও করব। তুমি তোমার কাজ করো তো। যাও উঠে মাঠে যাও।

    বকুনি খেয়ে ভোম্বলদা মিনমিন করছে, দূর কী হবে? রোজই তো যাই। গিয়েও তো কোনও লাভ হবে না।

    গীতাবউদি দাঁত কিড়মিড় করে বলল, লোকে যে তোমায় বোকা বলে ঠিকই বলে। লাভ-ক্ষতির বিচার করার তুমি কে? তোমার কাজ তুমি করবে। তুমি মাঠে যাবে।

    ভোম্বলদা আরও কাঁচুমাচু গলায় বলল, একটা ম্যাচেও তে চান্স পাই না। মন খারাপ হয়ে যায়।

    গীতাবউদি দাবড়ে উঠল, মন খারাপ হয়ে যায়, ন্যাকা। নিশ্চয় ভাল খেলতে পারো না বলেই চান্স পাও না। তা ছাড়া এতদিন পাওনি বলে পরে কোনওদিন পাবে না, এ-কথা তোমাকে কে বলল? যেদিন ভাল খেলবে সেদিন ওরা ঠিক তোমায় টিমে নেবে। যাও যাও।

    ভোম্বলদা মিনমিন করে বলল, আমার জার্সি, মোজা সবই নোংরা। কেড্সটাও ধোয়া হয়নি।

    গীতাবউদি চাপা গলায় হি্সহিস করে উঠল, সব আমি করে রেখেছি। ব্যাগে ঢুকিয়ে রেখেছি। সংসারের তো কুটোটাও নাড়ো না। তোমার ওপর কে ভরসা করে?

    ভোম্বলদা গলা নামিয়ে বলল, আজ ছেড়ে দাও গীতা। বাসভাড়া…।

    গীতাবউদি আবার ধমকে উঠল, কোনওদিন বাস ট্রামের ভাড়া নিয়ে তোমাকে ভাবতে হয়? টিউশনির মাইনে পেয়েছি। তাকের ওপর দশটা টাকা রেখে গেলাম। উনি বিরাট ভাড়া জোগাড়ের লোক এসেছেন।

    এরপর পিন্টু আর দাঁড়ায়নি। সোজা চলে এসেছে। এসে আমাদের সবটা জানিয়েছে। আমরা অনেকক্ষণ চুপ করে রইলাম। মনটা খারাপ হয়ে গেল।

    অবিনাশ বলল, না, এবার ধীরেনদাকে বলতে হবে। পটল বলল, হ্যাঁ, আজই বল। পরশু নাকতলায় কাদম্বরী স্মৃতি টুর্নামেন্টের ফাইনাল। ওই দিন ভোম্বলদাকে একটা চান্স করে দিতেই হবে। কানাই বলল, সবাই মিলে বললে ধীরেনদা নিশ্চয় রাজি হবে।

    না, ধীরেনদা রাজি হল না। উলটে আমাদের ধমক দিল। বলল, গত তিন বছর আমরা এই টুর্নামেন্টে হেরেছি। এবার জিততেই হবে। এখানে টিম নিয়ে কোনও ইয়ারকি মারা চলবে না। টিমের সঙ্গে সেন্টিমেন্টের কোনও সম্পর্ক নেই। এসব ছিঁচকাঁদুনেপনা বন্ধ কর।

    না, এবারও চান্স হল না ভোম্বলদার।

    তবে ব্যাপারটা আমরা ভুলে গেলাম। ভুলে তো যাবই। আমরা যে কাদম্বরী স্মৃতি টুর্নামেন্টে জিতে গেছি! এই আনন্দে মনখারাপের অনেক কিছু ভুলে যাওয়া যায়।

    ঠিক হল বিজয় উৎসব হবে। ক্লাবঘরের সামনে টেবিলে সাদা চাদর পেতে ট্রফিটাকে রাখব। বক্স ভাড়া করে গান বাজানো হবে। আর রাতে খাওয়াদাওয়া। ভোম্বলদার উৎসাহ সব থেকে বেশি। বলল, ক্লাবঘর টুনি বাল্‌ব দিয়ে সাজানো হবে। লাল-নীল টুনি। একটা জ্বললে আর একটা নিভবে। তোমাদের কারও আপত্তি আছে? আমরা সবাই মিলে বললাম, কোনও আপত্তি নেই। পটল বলল, ট্রফির পাশে ফুটবলটাকে সাজিয়ে রাখতে হবে। ভোম্বলদা বলল, শুধু ফুটবল কেন, তোকেও রাখব। তুই দুটো গোল দিয়েছিস।

    সবাই হেসে উঠলাম।

    ধীরেনদাকে ধরা হল। ধীরেনদা বলল, খাওয়াদাওয়ার খরচ ক্লাব দিতে পারবে না। প্রেসিডেন্টকে ম্যানেজ করে রসগোল্লা-শিঙাড়ার একটা ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

    অবিনাশ নাক কুঁচকে বলল, এ মা! শিঙাড়া দিয়ে বিজয় উৎসব?

    কানাই কাঁদোকাঁদো মুখে বলল, অসম্ভব।

    ধীরেনদা গম্ভীর মুখে বলল, রসগোল্লা আর একটা করে শিঙাড়া দিয়েই এবারের মতো সেরে ফেল। বলছি তো ক্লাবের ফান্ড নেই। ঠিক আছে শিঙাড়া দুটো করে। তবে প্রেসিডেন্ট সাহেবকে মিনিট দশেক ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

    মানস বলল, হতেই পারে না। দুটো শিঙাড়ার জন্য দশ মিনিট লেকচার শুনব না। ধীরেনদা, ওনাকে বলুন ঘণ্টাখানেক বলতে। আমরা খুব হাততালিও দেব। তার বদলে বড় খাওয়াদাওয়া চাই। খাব আর লেকচার শুনব আর হাততালি দেব। বিশু বলল, খেতে খেতে হাততালি দিবি কী করে? কানাই বলল, কেন? এক হাতে দেব।

    সবাই হেসে উঠলাম।

    ধীরেনদা আরও গম্ভীর হয়ে বলল, রসিকতা করিস না। আমি এসবের মধ্যে নেই। খুব বেশি হলে আমি প্রেসিডেন্টকে ধরে ডাল-ভাত আর একটা ভাজার ব্যবস্থা করতে পারি। তাতে তোমাদের, ফিস্ট হবে? টকাই প্রায় কেঁদে ফেলল, অ্যাঁ, শুধু ডাল-ভাত আর আলুভাজা দিয়ে বিজয় উৎসব! মাংস থাকবে না? কবজি ডুবিয়ে মাংস না খেলে ফিস্ট কীসের?

    এতক্ষণ চুপ করে ছিল ডোম্বলদা। এবার আমতা আমতা করে বলল, আমি একটা কথা বলব?

    ধীরেনদা বিরক্ত হয়ে বলল, উফ! তুমি আবার কী বলবে? এর মধ্যে তুমি কোথা থেকে আসছ?

    ভোম্বলদা কাঁচুমাচু মুখে বলল, আপনি ডাল-ভাতের ব্যবস্থাটা করুন। বাকিটা আমি দেখছি।

    কানাই চোখ গোল গোল করে বলল, দেখছি মানে?

    ভোম্বলদা শুকনো হেসে বলল, তোমরা আমায় একটা চান্স দিয়ে দেখো না।

    চান্স! ভোম্বলদার কথায় চমকে উঠলাম। আবার চান্স! আমরা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম। কেউ কিছু বলার আগে আমি তাড়াতাড়ি বলে ফেললাম, ঠিক আছে, ঠিক আছে। ভোম্বলদা যখন বলছে, একটা চান্স দেওয়া যাক।

    সকলে এতই অবাক হয়ে গেল যে আপত্তি করবার কথা মাথায় এলও না। ভোম্বলদাও গদগদ মুখে বাড়ির দিকে রওনা দিল। ধীরেনদা ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, তোমরা যা খুশি করো। আমি এসবের মধ্যে নেই। ভোম্বলকে যখন চান্স দিয়েছ তখন তোমাদের ফিস্ট মাথায় উঠল।

    মাথায় উঠল না। মুখে উঠল। সব থেকে বেশি মুখে তুলল ধীরেনদা নিজেই। গীতাবউদি যে এত ভাল মাংস রান্না করতে পারে কে জানত! শনিবার রাতে ক্লাবঘরের ভেতর বসে আমরা যখন গরম ভাত দিয়ে সেই মাংস খেলাম, তখন কারও মুখে কথা নেই! তার ওপরে আবার গীতাবউদি নিজে পরিবেশন করল। পরিবেশনের গুণে সবসময় খাবারের স্বাদ দ্বিগুণ হয়ে যায়। এখানে যেন হল দশ গুণ!

    আর ভোম্বলদা? সে লজ্জা লজ্জা মুখে শুধু বলতে লাগল, ইস আর এক হাঁড়ি হলে ভাল হত। ইস…।

    ধীরেনদা চোখ বুজে হাড় চুষতে চুষতে বলল, না, ভোম্বলকে চান্স দিয়ে দেখছি ভালই হয়েছে।

    এবার ভোম্বলদার সত্যি সত্যি চান্স হল। খাওয়ানোর চান্স নয়। ম্যাচ খেলার চান্স।

    এই ঘটনার কিছুদিন পরেই শক্তি সঙ্ঘের সঙ্গে ম্যাচের তারিখ চলে এল। দু’দিন আগে ধীরেনদা ভোম্বলদাকে ডেকে বলল, তোমাকে এবার খেলতে হবে।

    ভোম্বলদা চোখ বড় বড় করে বলল, আমাকে!

    ধীরেনদা বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তোমাকে। রেডি হও। কাল থেকে জোর প্র্যাকটিস।

    আমরা বুঝতে পারলাম, সেদিনের মাংসের স্বাদ ধীরেনদা এখনও ভুলতে পারেনি। এটা নিশ্চয় তারই প্রতিদান। তবে আমরা খুশি হলাম। যে-কারণেই হোক, ভোম্বলদা একটা চান্স তো পাচ্ছে। সবাই মিলে হইহই করে বললাম, জমিয়ে খেলতে হবে কিন্তু ভোম্বলদা। প্রথম চান্সেই একেবারে মারকাটারি খেলা চাই। কাল থেকে একেবারে ভোরবেলা প্র্যাকটিসে চলে আসবে। ঠিক যেমন আসো। সবার আগে।

    ভোম্বলদা এল না। একদিন, দু’দিন, তিনদিন হয়ে গেল।

    বিশু বলল, কী রে, ঘাবড়ে গেল নাকি?

    কানাই বলল, নিশ্চয় অসুখটসুখ হয়েছে।

    অবিনাশ বলল, ভয়ে পালিয়েছে।

    পিন্টু চিন্তিত মুখে বলল, দু’দিন তো ভোম্বলদার বাড়িতে তালা ঝুলছিল। আজ আসার সময় দেখলাম ঘর খোলা।

    আমি পিন্টুকে বললাম, চল আজই একবার বাড়ি থেকে ঘুরে আসি।

    ধীরেনদা গম্ভীর মুখে বলল, কোনও দরকার নেই। এসব লোককে চান্স দেওয়াটাই আমার ভুল হয়েছে। এরা খেলোয়াড়ই নয়। নইলে এতদিন পরে চান্স পেয়েও হারায়? ছোঃ।

    ধীরেনদার বারণ সত্ত্বেও আমি পিন্টুর সঙ্গে গেলাম। ভোম্বলদা লুঙ্গি পরে, বাসি খবরের কাগজ খুলে খেলার পাতা পড়ছিল। আমাদের দেখে হইহই করে উঠল। গীতাবউদি পাঁপড় ভেজে দিল। ভোম্বলদা বলল, চা চাইবি না। চা-পাতা ফুরিয়ে গেছে।

    আমি বললাম, কিছু খাব না। আগে বলো তুমি প্র্যাকটিসে যাচ্ছ না কেন? কাল বাদে পরশু ম্যাচ।

    ভোম্বলদা প্রথমে কথাটা এড়িয়ে যেতে চাইল। পিন্টু চেপে ধরল। বলল, আগে বলো। শরীরটরির খারাপ নাকি?

    না ভালই আছি।

    তবে!

    ওসব কথা বাদ দে।

    আমি বললাম, কেন বাদ দেব? এরকম চান্স কেউ ছাড়ে। তোমাকে বলতেই হবে।

    ভোম্বলদা আমতা আমতা করে বলল, আসলে কী হয়েছে জানিস… ছেড়ে দে।

    পিন্টু বলল, ছাড়ব না। তোমাকে বলতেই হবে।

    ভোম্বলদা এদিক-ওদিক তাকিয়ে গলা নামিয়ে বলল, আসলে কী হয়েছে, এই ম্যাচে তো আমি চান্স পাইনি।

    আমি অবাক হয়ে বললাম, তুমি চান্স পাওনি! ধীরেনদা যে বলল, তোমাকে রাইট আউটে খেলাবে। তা হলে কে চান্স পেল!

    ভোম্বলদা শুকনো হেসে বলল, চান্স পেয়েছে তোদের বউদির মাংসের ঝোল। আমি ভেবে দেখলাম, এই চান্সটা নেওয়া ঠিক হবে না। গীতাও একই কথা বলল। বলল, খেলায় চান্স পেতে গেলে খেলেই পাওয়া উচিত। তোরা কী বলিস? নে এবার পাঁপড়টা খা দেখি। মিইয়ে যাচ্ছে।

    ভোম্বলদা এখনও সকালে-বিকেলে মাঠে আসে। ছোটাছুটি, লাফালাফি করে। ম্যাচের আগে নানারকম কসরত দেখায়। যদি হয়। হয় না। চান্স পায় না ভোম্বলদা। হবেই বা কী করে? এমন বোকার মতো কাণ্ড করলে চান্স হয়!

    তবু কী জানি কেন, দূর থেকে এই খেলোয়াড়কে দেখে আমাদের মন শ্রদ্ধায় ভরে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }