Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প267 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জামগাছের ডাল

    মফস্‌সল স্কুলে পড়ার অনেকরকম সুবিধে আছে। আমাদেরও ছিল। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত—এই তিন ঋতুতেই আমাদের নানারকমের বাড়তি ছুটির ব্যাপার ছিল। প্রথমে বলি গরমকালের কথা।

    আমাদের স্কুলের মাঠটা এত বড় যে, সেখানে একসঙ্গে তিনটে করে ফুটবল ম্যাচ হত। এইসব ম্যাচ চলত পুরো গরমের সময়টা ধরে। তিনটে বাজতে-না-বাজতেই একেবারে হইচই ব্যাপার। জেলার দূর দূর ক্লাবের ছেলেরা সব খেলতে আসত। খেলা বিকেলে হলে হবে কী, দুপুর থাকতে থাকতেই প্লেয়াররা গা গরম করতে মাঠে নেমে যায়। তাদের সঙ্গে আসত সমর্থকের দল। সংখ্যায় অনেক। তারা মাঠের ধারে ছায়ায় বসে খুব মন দিয়ে চ্যাঁচানো প্র্যাকটিস করত। এই অবস্থায় স্কুল চলা খুবই মুশকিলের। বইয়ের দিকে মুখ থাকলেও মন থাকত মাঠের দিকে। একসময় স্যারেরা আমাদের মাথায় গাঁট্টা দিয়ে পড়ায় মন ফিরিয়ে আনতেন। কিন্তু ততক্ষণে মাঠে ম্যাচ শুরু হয়ে গেছে এবং স্যারেদের মন চলে গেছে মাঠে। একসময় দেখা যেত, ক্লাসে বসে আমরা ভূগোলের ম্যাপ আঁকছি আর তাঁরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ‘গোল, গোল’ বলে চিৎকার করেছেন। এই সমস্যার সমাধান করা সহজ ব্যাপার নয়। স্কুলবাড়ি বা মাঠ কোনওটাকেই সরানো যায় না। সুতরাং ফাইনাল বা সেমিফাইনালের মতো বড় বড় খেলার দিন আমরা ছুটি পেয়ে যেতাম। এটা ছিল আমাদের ‘ফুটবল-ছুটি’।

    শীতের সময়ও বাড়তি ছুটির মজা পেতাম। কোনও কোনও দিন খুব ঠান্ডা পড়ত। উত্তর থেকে শিরশির করে হাওয়া দিচ্ছে। সবাই বলছে, ‘কোল্ড ওয়েভ’। ফুলহাতা সোয়েটার ভেদ করে সেই হাওয়া ঢুকে পড়ছে গায়ের ভেতরে। সেই সময় টিফিনের পর আমাদের অনেক ক্লাসঘরই ‘হাড়-কাঁপানো’ ধরনের হয়ে যেত।

    অঙ্কের স্যার সুশীলবাবু ছিলেন বেজায় রাগী প্রকৃতির মানুষ। অঙ্ক না-পারলে তিনি আমাদের ওপর ভয়ানক রেগে যেতেন। হুংকার দিতেন। বলতেন, তোদের মাথা গবেটদের থেকেও খারাপ। নইলে এত সোজা অঙ্ক পারিস না। আবার অঙ্ক পারলেও রেগে যেতেন। তখন রাগতেন অঙ্কের ওপর। গজগজ করতেন আর বলতেন, ছিঃ, এত সোজা অঙ্ক! গবেটগুলো পর্যন্ত করে দিচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক কারণেই সুশীল-স্যার ক্লাসে এলে আমাদের শরীরে একটা কাঁপুনি আসত।

    খুব শীতের দিনগুলোতে এই কাঁপুনি আর আলাদা করা যেত না। আমরা বুঝতে পারতাম না, কাঁপছি কেন, শীতে না ভয়ে?

    এইসব দিনে রোদ পড়ে গেলে স্যারেরা আর ক্লাসে থাকতেন না। আমাদের পড়া দিয়ে তাঁরা বারান্দায় গিয়ে রোদে দাঁড়াতেন। সেখান থেকে রোদ সরে গেলে তাঁরা গুটিগুটি পায়ে রোদের খোঁজে যেতেন ছাদে। একসময় সেখান থেকেও রোদ চলে যেত। তখন বাধ্য হয়েই তাঁদের স্কুলমাঠে গিয়ে গোল হয়ে বসতে হত। আর আমরা ক্লাসঘরে গা-গরম করবার জন্য কাগজের বল বানিয়ে লোকালুফি খেলতাম।

    এমন সময় হেডস্যার আসতেন টহল দিতে। তিনি ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে গম্ভীর মানুষ। গম্ভীর হয়ে বলতেন, ছেলেরা, এক-একটা কাজের জন্য এক-একটা জায়গা। যেমন, ক্লাসরুম হল পড়ার জায়গা। মাঠ হল খেলার জায়গা। তোমাদের জায়গা সম্পর্কে ধারণা এখনও পরিষ্কার হয়নি, তোমরা পড়াশোনা করবে কী? তোমাদের কান টেনে ছিঁড়ে ফেলা উচিত। কিন্তু এখন সে-কাজ আমি করব না। কারণ এখন তোমরা মাঠে যাবে এবং একটু খেলাধুলো করে গা-গরম করবে। তোমাদের কান গরম করবার ব্যবস্থা আমি পরে করব।”

    এটা হল গিয়ে আমাদের শীতের বাড়তি ছুটি। বছরে দিন দুই-তিন উত্তরে হাওয়ার কল্যাণে আমাদের কপালে এই বাড়তি ছুটি জুটত।

    আমাদের স্কুলে বৃষ্টির ছুটি অর্থাৎ রেনি-ডে ব্যাপারটা ছিল বেশ শক্ত।

    এটা দেখতেন আমাদের ড্রিল কাম হেল্থ টিচার। কলকাতা শহরে যেমন বৃষ্টির জলে বাস-ট্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে স্কুল ছুটি হয়ে যায়, আমাদের ওখানে সেসব বালাই ছিল না। ড্রিলস্যার কোনও বৃষ্টিতেই আমাদের ছুটির ব্যবস্থা করতেন না। আমরা বৃষ্টিতে ভিজে এলেও না। ড্রিলস্যারের মত হল— মাঝেমধ্যে বৃষ্টিতে ভেজা স্বাস্থোর পক্ষে শুধু ভালই নয়, বিশেষরকম জরুরি। এতে সর্দিজ্বর হবে। তা হোক। ভেতরের ভাইরাসটা বেরিয়ে যাক। বৃষ্টিতে ছুটি হবে না, আবার কামাই করাও চলবে না। উপস্থিতির ওপর ড্রিলস্যারের কড়া নজর থাকত। ছুটি পেলে ভেজায় মজা আছে, কিন্তু ছুটি না-পেলে ভেজায় মজা নেই। জ্বর নিয়ে শুয়ে থাকার দুঃখ আছে। সুতরাং আমরা চেষ্টা করতাম স্কুলে ঢোকার আগে যতটা কম পারা যায় ভিজতে। মাথায় ছাতা ঢেকে, রেনকোটে গা মুড়িয়ে নিতাম।

    একবার খুব মুশকিল হল।

    আগের দিনের সারারাত বৃষ্টিতে স্কুলের সামনের রাস্তায় এক হাঁটু জল জমেছে। জুতো মোজা জলে একেবারে চুপচুপে। স্কুলসুন্ধু সবাই বারান্দার রোদে সেগুলো খুলে শুকোতে দিলাম। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। তিনশো ছেলের ছশোখানা কালো জুতো, ছশো পিস কাদামাখা সাদা মোজা। নানা সাইজের সেসব জুতো দেখে মনে হচ্ছে যেন জুতোর কারখানা খোলা হয়েছে।

    বিরাট গোলমাল দেখা দিল ছুটির পর। আমরা জুতো মোজা পায়ে গলাতে গিয়ে দেখি কেলেঙ্কারি হয়েছে। জুতোয় বই-খাতার মতো নাম লেখা থাকে না। ফলে কেউ আর দু’পাটি মেলাতে পারছি না। কেউ পেয়েছে দুটো ডান পায়ের জুতো, কারও বাঁয়েরটা ডান পায়ের থেকে পাক্কা দু’সাইজের বড়। কেউ আবার হাতে দুটো ডান পায়ের জুতো নিয়ে দাড়িয়ে আছে কাদোকাদো মুখে। মোজার ক্ষেত্রে সমস্যা আরও ভয়ংকর। ভিজে মোজা শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে স্বাধীনভাবে ওড়াওড়ি করেছে। করতে গিয়ে তারা সংখ্যায় প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ড্রিলস্যার জুতো-সমস্যার সমাধান করতে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হল। ডান-বাঁয়ের হিসেবে জট পাকিয়ে একাক্কার কাণ্ড। অনেকেই সারের ধমকধামক খেয়ে ভুল জুতো নিয়ে বাড়ি যেতে বাধ্য হল। সবাই যে পায়ে করে নিয়ে যেতে পারল তা নয়, অনেককেই জুতো পায়ের বদলে হাতে বহন করতে হল। ক্লাস ফাইভের বিক্রমের কপালে জুটল ক্লাস নাইনের সুমনের জুতো। ক্লাস টেনের তমালের ডানপায়ের পাটিটা আসলে ক্লাস সিক্সের প্রতিমের এবং বাঁ পায়েরটা ক্লাস এইটের বিজয় বক্সীর। এই কম্বিনেশন তো আর পায়ে দেওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে হাতে নিতে হল।

    জুতো-বিভ্রাট চলল টানা পনেরো দিন। ছাত্রদের মধ্যে খুব ঝগড়া লেগে গেল। এ বলছে, তুই আমার জুতো নিয়ে গেছিস। ও বলছে, তুই আমার জুতো পরেছিস। সেই ঝগড়া ছড়াল বড়দের মধ্যেও। জুতোর খোঁজে বাড়ি থেকে বাবা-মা’রা হেডস্যারের কাছে এলেন। তাঁরা এত বিরক্ত করতে শুরু করলেন যে, শেষপর্যন্ত স্কুল-অফিসে ‘জুতো অনুসন্ধান কেন্দ্র’ খোলা হল। সেখানে সকাল ন’টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত জুতো বিষয়ক কমপ্লেন নেওয়া হল। ছাত্রদের জন্য কড়া নোটিস পড়ল, ‘ভুল জুতো জমা না দিলে ক্লাস-প্রমোশন আটকে দেওয়া হবে।’

    এই নোটিসে ভয় পেয়ে অনেকে বাড়ি থেকে পুরনো জুতো, এমনকী, কেউ কেউ ছোট ভাই, বোনের জুতো পর্যন্ত জমা দিয়ে ফেলল। কিছুদিনের মধ্যেই দেখা গেল অফিসের এক কোণে ছোটখাটো একটা জুতোর পাহাড়!

    সেই পাহাড় কীভাবে সরানো হল আমাদের জানা নেই, তবে আমরা জানতে পারলাম, বৃষ্টিতে ছুটি দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের ড্রিলটিচারের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে বৃষ্টিতে ভেজা তো দূরের কথা, সেরকম কালো করে মেঘ করলেই আমরা ছুটি পেয়ে যেতাম।

    আমরা এই ছুটির নাম দিলাম, ‘মেঘ-ডে’। এই ছুটি হল আমাদের বাড়তি ছুটি। রেনি-ডের পাশাপাশি মেঘ-ডে’র ছুটি। এই ছুটি অন্য স্কুলের ছাত্রদের কপালে জোটে না।।

    মফস্‌সল স্কুলের এত সুবিধের মধ্যেও, ক্লাস এইটে উঠে আমরা একটা বড় অসুবিধের মধ্যে পড়ে গেলাম।

    আমাদের ক্লাসঘরটা ছিল দোতলায় পেছন দিকে, স্কুলের মধ্যে থেকেও যেন স্কুল থেকে একটু বাইরে। নির্জন, চুপচাপ। বড় রাস্তার চেঁচামেচি, অন্য ক্লাসের হট্টগোল চট করে আমাদের ঘরে এসে পৌঁছোত না। মাস্টারমশাইরা বলতেন, “পড়াশোনার পক্ষে একেবারে আদর্শ।” কথাটা মিথ্যে নয়। পড়ায় মন দেওয়ার জন্য এমন শান্ত ক্লাসঘর স্কুলবাড়িতে আর একটাও ছিল না। যদিও অ্যানুয়াল পরীক্ষাগুলোতে দেখা যেত, ক্লাস এইটেই ফেলের হার সবচেয়ে বেশি। তবে সেটা ঘরের দোষ নয়। দোষ ছাত্রদের। ঘরের গুণটাকে সম্ভবত তারা ঠিকমলে নিতে পারত না। যাক, সে আলাদা কথা।

    আমাদের এই ঘরে ছিল খুব বড় বড় কয়েকটা জানলা। জানলাগুলো দিয়ে ক্লাসঘরে দারুণ আলো-হাওয়া ঢুকত। সবচেয়ে বড় কথা হল, এই জানলা দিয়ে আকাশ দেখা যেত অনেকটা করে। বাবরের জন্মদিন বা সালোকসংশ্লেষের সূত্র আটকে গেলে আমরা সেই নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারতাম। কিছুক্ষণ তাকালে পড়া ভুলে যাওয়ার দুশ্চিন্তা দূর হত। মনের মধ্যে একটা উদাস উদাস ভাব তৈরি হত। মনে হত এমন চমৎকার আকাশের কাছে দু’-চারটে কানমলা আর এমন কী ব্যাপার?

    এইসব জানলা আটকানো হত না। খুব ঝড়-বৃষ্টি হলে একমাত্র অন্য কথা। তখন আমরা হুটোপাটি করে বন্ধ করতাম।

    বৈশাখ মাসের গোড়ায় সমস্যাটা প্রথম খেয়াল হল।

    কালবৈশাখীর ঝড় সাধারণত হয় বিকেলে। সন্ধের মুখোমুখি। সেদিন বিকেলের ঝড় এল দুপুরেই। সবে থার্ড পিরিয়ড শুরু হয়েছে। বলা নেই কওয়া নেই, ঝুপ করে আকাশ কালো করে শোঁ শোঁ হাওয়া। জানলা আটকাতে গিয়ে দেখা গেল মাঝের দিকে একটা কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না। একটা ঝাপসা জামগাছ তার বেশ মোটাসোটা একটা ডাল জানলার গরাদ দিয়ে ক্লাসঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই ডাল জানলার কোনও কপাটই বন্ধ করতে দিচ্ছে না। একগাদা সবুজ পাতা নিয়ে সে একেবারে নাছোড়বান্দা। কিছুতেই নড়বে না। ক্লাসের তাগড়াই ছেলে হিসেবে যারা নাম করেছে, সেই পটল, গদা আর রতন বিস্তর ঠেলাঠেলি করেও কিছু করতে পারল না। জামগাছের ডাল একেবারে গোঁ ধরেই রইল। অগত্যা ঝড়ের হাওয়া আর ধুলোতে ঘরের ভেতরে একেবারে তছনছ অবস্থা। খাতা উড়ে যাচ্ছে, বইয়ে মলাট রাখা যাচ্ছে না। ভুগোলস্যার ম্যাপ পয়েন্টিং শেখাচ্ছিলেন। দেওয়ালে টাঙানো সেই ম্যাপ যেন ডানা পেয়েছে। তাকে সামলায় কার সাধ্যি?

    স্যার খুব বিরক্ত হয়ে বললেন, এ কী! ব্যাপারটা অনেক আগেই দেখা উচিত ছিল। একটা গাছের ডাল এত বড় হয়ে ঘরে ঢুকে পড়েছে, অথচ এতদিন কারও চোখে পড়ল না!

    আমাদের ক্লাসের মানস ছিল সাহসী ধরনের। সে বলল, স্যার, এতদিন তো ঝড় হয়নি তাই চোখে পড়েনি।

    স্যার চোখ পাকিয়ে বললেন, “কেন? গাছ কি হাওয়া যে, ঝড়ের সঙ্গে ঘরে ঢুকে পড়েছে? মূর্খের মতো কথা বোলো না। নিলডাউন হয়ে যাও।”

    টিফিনের সময় সেদিন আর আমরা কেউ ক্লাসঘর থেকে বেরোলাম না। বেরোনোর প্রশ্নও ওঠে না। ঘরে-ঢুকে-পড়া গাছের ডাল নিয়ে আমাদের তখন প্রবল উৎসাহ। মফস্সলে থাকি, এখানে বাড়ির থেকে গাছপালা বেশি। সুতরাং তাদের নিয়ে আদিখ্যেতা করার মতো কিছু নেই। কিন্তু এই ভাল না বলে কয়ে ক্লাসঘরে ঢুকে পড়েছে। শুধু ঢুকে পড়েনি, ঢুকে পড়ে একেবারে তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়েছে। এর পরেও আগ্রহ না দেখিয়ে উপায় কী? তার ওপর খুব তাড়াতাড়ি আমরা আবিষ্কার করে ফেলেছি, মোটা ডালটা একা ঢোকেনি, সঙ্গে বেশ ছোটখাটো কয়েকটা শাখা-প্রশাখাও এনেছে। তারা জানলার লোহার গরাদ এবং কাঠের পাল্লা জড়িয়ে ধরেছে।

    একটু পরে স্কুলের তিন বেয়ারা গম্ভীর মুখে এসে হাজির। বোঝাই যাচ্ছে গাছ ঢোকার অপরাধে বেচারিদের ভূগোলস্যারের কাছে খুবই বকুনি খেতে হয়েছে। তারা জানলার পাশ থেকে আমাদের সরিয়ে দিয়ে সরেজমিনে তদন্ত শুরু করল। তদন্তের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও করল।

    আলোচনা ছিল এরকম:

    গাছ ঢুকেছে তো আমাদের কী দোষ?

    ঠিকই, ডাল কি আমরা টেনে হিঁচড়ে ঢুকিয়েছি?

    তা ছাড়া এই গাছ তো আমরা পুঁতিনি। কম করে কুড়ি বছর আগের গাছ। পঁচিশও হতে পারে। তখন তো এই ইস্কুলই হয়নি। তা হলে আমাদের বলা কেন?

    অত বকবক না-করে ডালটা ভেঙে দে।

    খেপেছিস? ফুল ছাঁটার এই কাঁচি দিয়ে জাম গাছের ডাল কাটবি? করাত লাগবে। বাইরে থেকে গাছে উঠে তবে করাত দিয়ে কাটতে হবে।

    সে অনেক ঝক্কি। হেডসারের অর্ডার হোক, তাপর দেখা যাবে।

    অর্ডার হলেই তো হবে না। আমি গাছে উঠব না। আমি গাছে ওঠার চাকরি করি না। আমি ঘণ্টা বাজানোর চাকরি করি। গাছ থেকে পড়ে কোমর ভাঙলে ঘণ্টা বাজাবে কে?

    আলোচনা-শেষে তিনজনেই চিন্তিত মুখে ঘর ত্যাগ করল।

    চিন্তা আরও বাড়ল পরের দিন। গাছের ডাল রাতারাতি কোথা থেকে একটা কাকের বাসা জোগাড় করে ফেলল। আমরা জানলা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখলাম, বাসার মধ্যে ব্ল্যাকবোর্ড মোছর ডাস্টার, তিন টুকরো চক এবং দুটো বেগুনি ডিম।

    বাসার মালিকরা গোড়ার দিকে শান্ত থাকলেও যথেষ্ট গোলমাল শুরু করল অঙ্কক্লাসে। সুশীলবাবু যেই পাটীগণিত শুরু করতে যান, কাকেরা পরিত্রাহি চেঁচাতে শুরু করে। হয়তো পাটীগণিত তাদের তেমন পছন্দের বিষয় নয়। কাকেরা ক্লাস এইটের ছাত্র নয়। তারা স্যারের লাল চোখের পরোয়া করল না। তাড়াতে গেলে উলটে তেড়ে এল। ক্লাসে ঢুকে পড়ে আর কী! হাল ছেড়ে দিয়ে একসময় স্যার ক্লাস ছাড়লেন। যাওয়ার আগে বলে গেলেন, ব্যাকগ্রাউন্ডে কাকের ডাক নিয়ে অঙ্ক শেখানো যায় না। যতদিন না গাছের ঝামেলা দূর হবে ততদিন আমি এই ক্লাসে ঢুকছি না। সে তোমরা যতই দুঃখ পাও।

    দুঃখ কোথায়? এরকম আনন্দের ঘটনা আমাদের ক্লাস এইটের জীবনে আর কখনও ঘটেনি। আমরা অভিভূত হয়ে কাক-পরিবারকে জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে বিস্কুট এবং মাখন পাউরুটি খেতে দিলাম। এদিকে দু’দিনের মধ্যে স্কুলে ছড়িয়ে পড়ল, ক্লাস এইটের ক্লাসঘরে অঙ্কস্যারকে কাকে ঠুকরেছে। এতদিন মাস্টারমশাইরা ক্লাসে এলে আমরা ভয় পেতাম। জামড়ালের দৌলতে এবার মাস্টারমশাইরা আমাদের ক্লাসে আসতে লাগলেন ভয়ে ভয়ে।

    কিন্তু এইভাবে তো আর বেশিদিন চলতে পারে না। একদিন হেডস্যার নিজে এলেন। এসে খুব গম্ভীর গলায় বললেন, “শুনলাম, তোমাদের এই ঘরে গাছের ডাল নিয়ে কী সব ঝামেলা হয়েছে। টিচাররা কেউ পড়াতে পারছেন না। আমি আজ নিজে তোমাদের ক্লাস নেব। হাতে-কলমে ব্যাপারটা দেখতে চাই। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই। এই বাঁদরামি তোমরা বেশিদিন চালাতে পারবে না। আজ বিকেলেই এই ডাল কেটে ফেলা হবে। সদর থেকে গাছ কাটার লোক আসছে। মোটা ডাল তো, দড়িটড়ি বেঁধে ব্যবস্থা করতে হবে। বলেছি, ডালটার একেবারে গোড়া থেকেই কাটতে হবে। নইলে কোনদিন দেখব আবার বেড়ে গেছে। নাও, তোমরা সব গ্রামার বই বের করে দেখি।

    খুবই দুঃসংবাদ। ক’দিন ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়া জামগাছের ডাল আমাদের খুবই দেখাশোনা করেছে। তবে ক্লাস এইটে পড়া ছাত্রদের ভাগ্য বেশিদিন ভাল যায় না। তার ওপর কাকেরা দু’দিন আগে ছানাপোনাদের নিয়ে চলে গেছে। টিফিন খাইয়ে তাদের ধরে রাখা যায়নি। এতই অকৃতজ্ঞ যে, যাওয়ার আগে আমাদের দিকে একবারও ফিরেও তাকায়নি। মানস পরামর্শ দিয়েছে, ওই ডালে যদি একটা মৌচাকের ব্যবস্থা করা যায়। এতে নাকি কিছুদিনের জন্য স্যারদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে। পরামর্শ ভাল, কিন্তু কার্যকর করা খুবই জটিল ব্যাপার। যদি-বা কোনওভাবে করাও যায়, তা হলেও প্রশ্ন আছে। হুল ফোটানোর সময় মৌমাছিরা কি মাস্টারমশাই আর ছাত্রদের আলাদা করতে পারবে? মানস এ-ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারেনি। যাক, এখন আর সেসব ভেবে লাভ নেই। ডাল তো আজই কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে বাঁচার আর কোনও পথ নেই। আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গ্রামার বই খুললাম।

    কাক মুখ ফিরিয়ে না-তাকালেও আকাশ কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের দিকে তাকাল। আগের দিন ছিল শুধু ঝড়। আজ শুরু হল শুধু বৃষ্টি। তুমুল বৃষ্টি। একেবারে চারদিক সাদা করে দিল। ভোলা জানলা দিয়ে প্রথমে এল বৃষ্টির ছাঁট। কিছুক্ষণের মধ্যেই জামগাছের ডাল বয়ে আনল বড়বড় জলের ফোঁটা। অল্পক্ষণেই ঘর জলে থইথই। আমরা বেঞ্চে পা গুটিয়ে বসলাম। বেঞ্চের তলা দিয়ে গাছের হলুদ, সবুজ পাতা জলে নৌকোর মতো ভেসে যেতে লাগল।

    এসব দেখে হেডস্যার আরও গম্ভীর হয়ে গেলেন। তিনি খোলা জানলার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। গাছের ডাল দেখলেন, ডালের ফাঁক দিয়ে আকাশের মেঘ দেখলেন, বৃষ্টি দেখলেন। জলের ফোঁটা তাকেও ভিজিয়ে দিল। চশমা মুছতে মুছতে বললেন, হুঁ, যা শুনেছিলাম দেখছি তার চেয়ে খারাপ। ভেরি ব্যাড। এ তো আর ক্লাসরুম নেই, গাছতলা হয়ে গেছে। না, ভাবছি শুধু ডাল নয়, গাছটা পুরোই কাটিয়ে দেব। ছি ছি, এ আবার কী কাণ্ড! নাও, তোমরা গ্রামারে মন দাও। একটা ভুল হলে কান টেনে ছিঁড়ে ফেলব।

    আমরা খাতায় মন দিলাম, হেডস্যার দাঁড়িয়ে রইলেন জানলার সামনে পাহারাদারের মতো। মন আমাদের আরও খারাপ হয়ে গেছে। এক তো গ্রামারের ধাক্কা, তার ওপর গোটা গাছ কেটে ফেলার ঘোষণা।

    ক্লাস-শেষের ঘণ্টা পড়লে বড় আশ্চর্য এক দৃশ্য দেখলাম! মুখ তুলে দেখি হেডসার তখনও সেই না-আটকাতে-পারা জানলার সামনে দাঁড়িয়ে! তাঁর মুখ গম্ভীর, থমথমে। বৃষ্টি থেমে গেছে। নিজে থেমে গেলেও সে রেখে গেছে চমৎকার ভেজাভেজা একটা হাওয়া। জামগাছের পাতায় জলের বড়বড় ফোঁটা। ভেজা হাওয়ায় সেই জলের ফোঁটা দোল খাচ্ছে।

    ঘণ্টার শব্দে স্যার আমাদের দিকে ফিরলেন।

    বললেন, “কী ছেলেরা, কাজ সব হয়েছে।”

    আমরা বললাম, হ্যাঁ, হয়েছে।

    ঠিক আছে, তা হলে এবার এক-এক করে এদিকে এসো। দেখে যাও, কতবড় রামধনু উঠেছে। সাধারণত এত ঝকঝকে রামধনু দেখা যায় না। এইরকম সুন্দর জিনিস দেখতে পাওয়া একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। আজ তোমরা সেই সৌভাগ্যবান। শুধু তোমরা কেন, জানলা খোলা না থাকলে আমিও দেখতে পেতাম না। তবে মনে রাখবে, এক-এক করে দেখবে, কোনওরকম বাঁদরামি করলে কান টেনে ছিঁড়ে ফেলব।

    বিকেলে সদর থেকে গাছ কাটার লোক এল ঠিকই, কিন্তু তাকে গাছ না-কেটেই ফিরে যেতে হল। কোনও এক রহস্যময় কারণে হেডস্যার সিদ্ধান্ত বদল করেছেন। গাছ তার ডালপালা নিয়ে নিজের মতোই থাকবে।

    পরদিন জামগাছের ডাল ক্লাস এইটের ছাত্রদের রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে একটা ছোট্ট কাঠবেড়ালি উপহার দিয়ে বসল। সে আমাদের পায়ের কাছে ঘুরঘুর করত। আমাদের কাছ থেকে টিফিন খেত। অঙ্কক্লাসের সময় ঘরের এক কোণে চুপ করে বসে ঘুমোত। একসময় আবার ডাল বেয়ে গাছে ফিরে যেত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }