Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প267 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আশ্চর্য রেডিয়ো

    ডান দিকের নব্টায় মোচড় দেওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটা ঘটল।

    হলুদ হয়ে যাওয়া ছেঁড়া পরদার ওপাশ থেকে স্পিকার একটা চাপা আর গভীর শোঁ শোঁ আওয়াজ করে উঠল। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই শব্দ যেন ঢুকে পড়ল শরীরের ভেতর! প্রথমে শিরদাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত মাথায়। কেমন একটা শিরশিরানি ভাব! ভোম্বলের ভাল লাগছে। খুশি খুশি লাগছে। মনে হচ্ছে, পারবে। চেষ্টা করলে সে অনেক কিছু পারবে!

    মন খুশি লাগায় ভোম্বল ঘাবড়ে গেল। আজ তো এমন হওয়ার কথা নয়! সকাল থেকেই সে মনমরা। আজ তার অ্যানুয়াল পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে। সে পাশ করতে পারেনি। অর্থাৎ এবছরও তাকে থাকতে হচ্ছে ক্লাস সেভেনে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বিষয়ে তার নম্বরের অবস্থা ভয়ংকর। ইতিহাস, ভূগোল, ইংরেজি এবং বিজ্ঞানের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। বিজ্ঞানে ভোম্বল এবার স্কুলের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ কম নম্বর পেয়েছে। মোট সাড়ে সাত। ফেলেরও একটা নম্বর আছে, এই নম্বর তাকেও হার মানিয়েছে। এরকম সময় মন খুশি হওয়া যথেষ্ট ঘাবড়ে দেওয়ার মতোই ব্যাপার।

    ভোম্বল তাড়াতাড়ি নব ঘুরিয়ে রেডিয়ো বন্ধ করল। শোঁ শোঁ আওয়াজ থামল। এ কী কাণ্ড রে বাবা! একটা নব ঘোরাতেই মনের মধ্যে এরকম তোলপাড়! এ তো ম্যাজিক! একরকম হওয়ার কথা হচ্ছে আর-একরকম।

    ভোম্বল এখন রয়েছে তিনতলায়। ছাদের কোণে, ছোট্ট চিলেকোঠার ঘরে। সময় সুযোগ পেলেই ভোম্বল লুকিয়ে ছাদে চলে আসে এবং এই ঘরে ঢুকে পড়ে। বড় প্রিয় জায়গা তার। আসলে এটা ঠিক ঘর নয়, বাড়ির গোডাউন। রাজের বাতিল, ভাঙা, খারাপ হয়ে যাওয়া জিনিসে বোঝাই। বেতের চেয়ার বেত নেই, দরজা ছাড়া কাঠের আলমারি, ছেঁড়া বই, বাঁকা আয়না, খোঁড়া টেবিলের সঙ্গে মিলেমিশে রয়েছে দাদুর চোঙঅলা অচল গ্রামাফোন, দিদির ফিতে-ছিঁড়ে-যাওয়া ক্যাসেট, ভাঙা রেকর্ড, মায়ের রান্নাঘরের কাটা বল্ব, ঠাকুমার বিয়ের গয়নার বাক্স আর তার লম্বা চাবি, দাদার ফেলে দেওয়া কম্পিউটার চিপ্স। ছড়িয়েছিটিয়ে আছে বাবার মরচে-পড়া স্ক্রু-ড্রাইভার, মাথা-ভাঙা হাতুড়ি, সরু, মোটা নানা ধরনের তার, জং-ধরা কাঁচি, দড়ি। এ ছাড়াও অজস্র নাম-জানা এবং নাম-না-জানা অনেক জিনিস। মজার ব্যাপার হল, এ-ঘরে কয়েকটা চেনা জিনিস পুরনো হয়ে গিয়ে এমন চেহারা নিয়েছে যে, এখন আর চট করে চেনা যায় না। ভোম্বল নাড়াচাড়া করতে করতে মাঝেমধ্যে সেইসব অচেনা জিনিসের কয়েকটা চিনে ফেলে। তখন খুব মজা লাগে। অনেকটা যেন আবিষ্কারের মজা!

    তবে মজার পাশাপাশি এই খেলায় বিপদও আছে। এই তো গত রবিবার দুপুরে একটা বিপদ হল। আলমারির ওপরে ভোম্বল দেখল একটা কাঠের সিন্দুক। সেটাকে টেনে হিঁচড়ে নীচে নামিয়ে দেখে, সিন্দুক কই, এ তো একটা হারমোনিয়াম। অনেকগুলো রিড নেই। বেলোটাও আরশোলায় প্রায় খেয়ে নিয়েছে। ঘরের কোণে ফেলে রাখা বাতিল পরদার কাপড়, পেরেক, হাতুড়ি, কঁচি, কাঠের টুকরো নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বসে গেল ভোম্বল। তিনঘণ্টার ঘাম-ঝরানো পরিশ্রমের পর মরা হারমোনিয়াম প্রাণ ফিরে পেল। তবে সে-প্রাণ যে সে প্রাণ নয়। ভয়ংকর প্রাণ! কাঠের টুকরো বসিয়ে তৈরি রিডের ওপর হাত বোলাতে যা ঘটল তা আর যাই হোক, বাজনা নয়। একেবারে আর্তনাদ! সেই আর্তনাদ শুনে তিনতলা থেকে ছুটে এল দিদি। তার হাতে পড়ার বই। সামনেই কলেজের পরীক্ষা। দিদি ভোম্বলের একটা কান ভাল করে পাকড়াতে-না-পাকড়াতে দোতলা থেকে মা এলেন। দুপুরে সবে চোখে-পাতায় হয়েছিল তাঁর। এসেই পিঠে দু’ঘা। এখানেই শেষ নয়। এত বছর চুপ করে থাকা হারমোনিয়ামের প্রাণখোলা আর্তনাদ পৌঁছেছিল একতলাতেও। গম্ভীরমুখো বাবা আরও গম্ভীর হয়ে উঠে এলেন ছাদে। গম্ভীর গলায় ঘোষণা করলেন, চিলেকোঠার ঘরে বিকেলেই তালা পড়বে।

    বকুনি ভোম্বলের গায়ে তেমন লাগে না। এর জন্য বাবা তাকে বলেন, বোকা।

    মা বলেন, গোবেচারা।

    দাদা বলে, ইডিয়ট।

    দিদি বলে, গাধা।

    দাদা-দিদি দু’জনে মিলে বলে, এমন একটা নামের জন্যই নাকি ছেলেটা এত গবেট হয়েছে। বাবা-মা’র উচিত, এখনই ওর ভোম্বল নামটা বদলে দেওয়া। বাবা বলেছেন, তাই দেবেন।

    ভোম্বলের নাম এখনও বদলানো হয়নি, চিলেকোঠার ঘরে তালাও পড়েনি। আজ এই ফেলের দিনেও চুপিচুপি এখানে চলে এসেছে ভোম্বল। বহুদিন ধরে সে দেখছে, ঘরের একপাশে মাকড়সার জাল আর ধুলোর মাঝখানে মাঝারি মাপের একটা বাক্স ঝিমোচ্ছ। ঠিক যেন একটা বুড়ো মানুষ! ভোম্বল ভেবেছিল, বাক্সটা একবার নেড়েচেড়ে দেখবে। আজ সুযোগ নিল। জিনিসটাকে কাছে আনল। মাকড়সার জাল সরিয়ে, ধুলো মুছে চমকে উঠল। এ কী! এ যে একটা রেডিয়ো! পুরনো দিনের রেডিয়ো। এ রেডিয়ো আজকাল আর দেখা যায় না। নিশ্চয় ঠাকুরদার আমলের জিনিস। কে জানে, তার আগেরও হতে পারে। রেডিয়োর সামনের পরদাটা ছিঁড়ে গেছে অনেকখানি। ভেতর থেকে উঁকি মারছে স্পিকার। সেটাতেও মরচে ধরেছে। একেবারে নীচে তিনটে বড় বড় নব্। সেগুলোর নীচের লেখা আবছা হয়ে গেছে। ফলে কোনটা কীসের নব্ এখন আর বোঝবার কোনও উপায় নেই।

    সময় নষ্ট না-করে ভোম্বল রেডিয়োটা নিয়ে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরীক্ষার নম্বর তার মাথা থেকে পালাল। রেডিয়ো খোলা বা লাগানোর কাজ সে কিছুই জানে না। জানার কথাও নয়। তবু মিনিট কুড়ির চেষ্টায় স্ক্রু-ড্রাইভার ঘুরিয়ে, হাতুড়ি ঠুকে, কাঁচি দিয়ে কেটে প্রায় সবটাই সে খুলে ফেলল। ভেতরের যন্ত্রপাতি আলাদা করতেও বেশি সময় লাগল না। এতে ছোটখাটো অনেককিছু ভেঙে গেল, কিছু আবার মেঝেতে ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ল। দু’-একটা টুকরো গড়িয়ে এদিক সেদিক চলেও গেল। ভোম্বল অবশ্য এতে মোটেও ঘাবড়াল না। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করল ডবল উৎসাহে। এই পর্যায়ে তাকে ভাঙা রেডিয়ো জোড়া লাগাতে হবে। একসময় সে-কাজও শেষ হল। তবে খুলে ফেলা যন্ত্রপাতি লাগাতে এবার তাকে অনেকটাই কল্পনার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। উপায় কী? অনেক কিছুই যে হারিয়ে গেছে, নয়তো ভেঙেছে। ভোম্বলের সাড়ে সাত পাওয়া বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিতে সেগুলোর বদলে সেলোটেপ, সুতো, আঠা দিয়ে ভেতরে লেগে গেল বাতিল কম্পিউটারের চিপ, গোল্লা পাকানো তার, নারকোল দড়ি, ভাঙা রেকর্ডের অংশ, এমনকী গয়নার বাক্সের জং-ধরা চাবিটা পর্যন্ত!

    কাজ শেষ হলে হাতের ধুলো ভাল করে প্যান্টে মুছে নিল ভোম্বল। এবার রেডিয়োটাকে চালাতে হবে। পা টিপে নেমে গেল একতলায়। বড় এমার্জেন্সি আলো থেকে গোপনে চারখানা ব্যাটারি বের করে আবার পা টিপে উঠে এল ছাদে।

    ঠেসেঠুসে সেই ব্যাটারি ঢুকিয়ে, প্রথম নব্টা ঘোরানোর পর-পরই ঘাবড়ে দেওয়ার ঘটনাটা ঘটেছে। জোড়াতালি দিয়ে লাগানো বাতিল রেডিয়ো চাপা শব্দে ডেকে ফেল-করা ভোম্বলের মনে খুশির ভাব এনেছে!

    রেডিয়ো বগলদাবা করে ছাদ থেকে নেমে এল ভোম্বল। মাথা ভোঁ ভোঁ করছে। কিছুই বুঝতে পারছে না, শুধু বুঝতে পারছে, আজ সে এমন একটা জিনিস আবিষ্কার করে ফেলেছে, সেটা আর যাই হোক, চিলেকোঠার ছাদে ফেলে রাখবার মতো নয়।

    হাতে একটা বই নিয়ে দিদি শুয়ে আছে খাটের ওপর। পা নড়ছে। মুখ হাসিহাসি। মনে হচ্ছে, কোনও হাসির বই পড়ছে। আসলে কিন্তু তা নয়। দিদির হাতের বইটা নিঃসন্দেহে খটোমটো ধরনের কোনও পড়ার বই। ওর এটাই গুণ। খুব সহজভাবে পড়াশোনা করে খুব ভাল রেজাল্ট করে।

    ভোম্বলকে পরদা সরিয়ে উঁকি দিতে দেখে দিদি বড় করে হাসল। বলল, আরে আয়, আয়, ভেতরে আয়। মিষ্টি এনেছিস?

    ভোম্বল ঘরে ঢুকল। গম্ভীরমুখে বলল, মিষ্টি আনব কেন?

    দিদি হাসতে হাসতে উঠে বসল। বলল, বাঃ, আনবি না? শুনলাম এবার নাকি দারুণ রেজাল্ট করেছিস।

    পড়াশোনায় নিজে খুব ভাল হলে কী হবে, দিদির এই দোষটা খুব বিচ্ছিরি। ভেম্বলের পড়াশোনা নিয়ে সবসময় ঠাট্টা তামাশা করবে। দিদির কথায় পাত্তা না-দিয়ে ভোম্বল রেডিয়োটা টেবিলের ওপর রাখল। দিদি চোখ বড় করে বলল, এটা কী রে! রেডিয়ো মনে হচ্ছে। হ্যাঁ, রেডিয়োই তো! কোথা থেকে পেলি রে ভোম্বল? স্কুল থেকে প্রাইজ পেলি নাকি? জানতাম পাবি। ভূগোল, ইতিহাস আর বিজ্ঞানে যা নম্বর জুটিয়েছিস মায়ের কাছে শুনলাম, তাতে তোর কপালে যে প্রাইজ নাচছে তা আমি বুঝেছিলাম। তবে এত তাড়াতাড়ি পাবি সেটা বুঝতে পারিনি। একেই বলে একেবারে হাতে-গরম।

    ভোম্বল কথা না বাড়িয়ে বলল, দিদি, রেডিয়ো শুনবি?

    দিদি খাটে পা ঝুলিয়ে হাসতে হাসতে বলল, শুনব না? আলবাত শুনব। ফেল-করার প্রাইজ বলে কথা! মনে হচ্ছে, এ-রেডিয়ো শোনবার মজাই আলাদা হবে। একটা গান চালা দেখি। এফ. এম. হবে এতে?

    রেডিয়োটা দিদির দিকে ঘুরিয়ে ভোম্বল চোখ সরু করে তাকাল। হবে কি? কিছু কি হবে? মনে হয় না হবে। তার যা হয়েছে, সেটা নিশ্চয় ছিল মনের ভুল। পরীক্ষার ফলের জন্য তার মন এখন দুর্বল। দুর্বল মনে অনেকরকম ভুল হয়। দিদির তো আর মন দুর্বল নয়। তাই তার ভুলও হবে না। তবু একবার পরীক্ষা করতে ক্ষতি কী? কোন নব্টা ঘোরাবে সে? এক নম্বরটা? না, এবার দু’নম্বরটা ঘুরিয়ে দেখা যাক।

    কাঁপা হাতে নব্ ঘোরাল ভোম্বল। প্রথমে সেই শোঁ শোঁ শব্দ। এবারে যেন আরও চাপা, আরও গম্ভীর। দিদি চোখ নাচিয়ে বলল, কোথায় রে ভোম্বল, গান কোথায় রে? এ তো শুধু নয়েজ্। অবশ্য ফেলের প্রাইজে এটাই অনেক। গান পেয়েছে ফার্স্ট বয়, নয়েজ্ পেয়েছে ফেল বয়। হি হি। নিশ্চয়ই ওরা রেডিয়ো থেকে গানটান ফেলে দিয়ে শুধু নয়েজ্ ভরে দিয়েছে।

    ভোম্বল কোনও কথা শুনছে না। তার বুক ধুকপুক করছে। কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে তাকে?

    ঠিক দু’মিনিট। দু’মিনিট পরেই দিদির মুখের হাসি ভ্যানিশ। চোয়াল শক্ত। চোখ নাচানো থেমে গেছে। এ কী, দিদি যে গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে! চোখদুটো ছলছল করছে না? কী হল? প্রথম নব্টা ছিল খুশির, এটা কি তবে উলটো নব্? দুঃখের? মনে হচ্ছে তাই। অল্পক্ষণের মধ্যেই দেখা গেল, দিদি উদাস চোখে জানলা দিয়ে তাকিয়ে আছে। তারপর ফিসফিস করে বলল, ভোম্বল, তোর কি কষ্ট হচ্ছে?

    অবাক হয়ে ভোম্বল বলল, কষ্ট! কই না তো।

    দিদি কাঁদোকাঁদো গলায় বলল, হচ্ছে, নিশ্চয়ই হচ্ছে। তুই বুঝতে পারছিস না। পরীক্ষার রেজাল্ট এরকম হলে দুঃখ-কষ্ট তো হবেই। তুই চিন্তা করিসনি ভোম্বল, এবার তোর ইতিহাস আর ভূগোলের দায়িত্ব আমার। ইস, এতদিন যে কেন তোর দিকে একদম মন দিইনি। খুব খারাপ লাগছে। যাক, সব ঠিক হয়ে যাবে। দেখবি, পরের বছর দারুণ হবে। ইতিহাস ভুগোলে মার মার কাণ্ড করে দেব। রোজ সন্ধেবেলা আমার কাছে বই নিয়ে চলে আসবি। আমিও পড়ব, পাশে বসে তুইও পড়বি। পড়তে যখন ইচ্ছে হবে না, তখন ভাইবোনে মিলে গল্প করব।

    ভোম্বল বুঝতে পারছে, অবস্থা মোটেই ভাল নয়। দিদি রুমাল দিয়ে চোখ মুছছে। এর পরের স্টেজই নিশ্চয়ই ভেউ ভেউ করে কান্না। ভোম্বল আর কথা না-বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি রেডিয়ো বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। এতক্ষণ তার হাত-পা কেঁপেছে, এবার গোটা শরীরটা কাঁপছে। এ কী জিনিস বানিয়ে ফেলেছে সে! এ তো ভয়ংকর জিনিস! একটা নবে খুশি, আর একটা নবে দুঃখ! বাকি রইল তিন নম্বর নব্টা। সেটায় কোন কারসাজি লুকিয়ে রয়েছে কে জানে!

    তিনতলার বারান্দার একপাশে দাদু বসে আছেন। দিনের বেশিরভাগ সময়েই এই ইজিচেয়ারে বসে থাকেন তিনি। লাঠিটা হেলান দিয়ে রাখা থাকে পাশে। বুড়ো মানুষটার চোখ বোজা। তবে চোখ বোজা থাকলেই যে তিনি ঘুমোন এমন নয়। এমনি এমনিই চোখ বুজে থাকেন। সম্ভবত কানও বন্ধ রাখেন। বারান্দার ওপাশে নীল আকাশ, সবুজ গাছ, দূরের ঝিল, পাখিদের ডাক— কিছুই তিনি দেখতে চান না, শুনতে চান না। অবসর নেওয়ার পর থেকেই দাদু এমন ঝিমোনো-মার্কা হয়ে গেছেন। কোনও কিছুতেই তাঁর যেন উৎসাহ নেই। প্রথমদিকে ভাবা হয়েছিল, অসুখবিসুখ করেছে। ডাক্তার দেখানো হল। হার্ট, রক্ত, হাড়— সব পরীক্ষা হল। না, কোনও গোলমাল নেই। বাবা-মা দাদুকে কত বোঝালেন। বড়পিসি গড়িয়া থেকে, ছোটপিসি দমদম থেকে এবং কাকা আসানসোল থেকে এসে পর্যন্ত বলে গেলেন। বাবা বলেছেন, সকালের বাজারটা তো তুমি করলেই পারো। এই তো কাছেই। হাঁটাচলাও হবে। ব্লাড সার্কুলেশন বাড়বে।

    মা বলেছেন, “বিকেলে ঝিলের পাশে একটা চক্কর দিয়ে এলেই তো পারেন বাবা। নিদেনপক্ষে ঘরে বসে ভোম্বলের ইংরেজিটা তো একটু দেখিয়ে দিন। আপনি তো ইংরেজির মাস্টার ছিলেন।

    কথা কানে যায় না দাদুর। চোখ বোজাই থাকে। মাঝেমধ্যে ঠোঁট উলটে বলেন, ভাল লাগে না, কিছুই ভাল লাগে না। আর তো মাত্র ক’টা দিন। চলে যাওয়ার সময় তো হয়ে গেছে। আজকাল দাদুর বিষয়ে বাড়ির সবাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

    ভোম্বল ভেবে দেখল, রেডিয়োর তিন নম্বর নব্ পরীক্ষা করবার পক্ষে এই মানুষটাই সবচেয়ে সুবিধের। তেমন কিছু গোলমাল হলে অন্তত কাউকে নালিশ করবেন না।

    ইজিচেয়ারের সামনে, মেঝের উপর রেডিয়োটা রাখল ভোম্বল। গলা নামিয়ে বলল, ভাল আছ দাদু?

    দাদু সামান্য চোখ খুলে ভোম্বলকে দেখলেন। মাথা নাড়লেন। এই নাড়ার মানে ভালও হতে পারে, আবার খারাপও হতে পারে।

    ভোম্বল চেয়ারের হাতলে ভর দিয়ে বলল, দাদু, আজ আমার পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে।

    দাদু বললেন, ও। বলে চোখ বুজলেন ফের। ভোম্বল বিরক্ত হল। আচ্ছা মানুষ তো! নাতির পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে তবু কেমন হয়েছে শুনতে চাইছেন না। ভোম্বল এবার একটু গলা তুলে বলল, দাদু, আমি ফেল করেছি। বিজ্ঞানে সবচেয়ে কম নম্বর পেয়েছি। সাড়ে সাত। ইংরেজিও ভাল হয়নি।

    দাদু উত্তর দিলেন, ও।

    ভোম্বলের বিরক্তি আরও বাড়ল। বোঝে ঠ্যালা। বিজ্ঞানে সাড়ে সাত শুনে সবাই যখন চমকে গেছেন, তখন দাদু বলছেন ও! এ তো মারাত্মক। ভোম্বল এবার বলল, দাদু, রেডিয়ো শুনবে?

    দাদু চোখ খুললেন। কোনও উত্তর দিলেন না।

    উত্তরের অপেক্ষা না-করে ভোম্বল তিন নম্বর নব্ ঘুরিয়ে রেডিয়ো চালু করল। আওয়াজ উঠল শোঁ শোঁ শো…।

    কোথায় একটা পাখি টুইটুই করে ডাকছে। ডেকেই চলেছে। শেষ দুপুরের রোদ-মাখা বাতাস পুবের ঝিল থেকে নিয়ে আসছে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। নবম আলোয় বারান্দা-লাগোয়া নারকোল গাছের পাতাগুলোকে দেখলে মনে হচ্ছে, নীল আকাশের গায়ে ঘন সবুজ রং দিয়ে কেউ আলপনা এঁকে রেখেছে। কিন্তু এসব দিকে ভোম্বলের মন নেই। সে একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে তার ঝিমোনো-দাদুর দিকে।

    মিনিটখানেক পর দাদু প্রথমে চোখ খুললেন। তারপর সেই চোখ বড় করলেন। তারপর সোজা হয়ে বসে একমুখ হাসলেন। বললেন, বাঃ বেশ ভাল লাগছে তো হে!

    ভোম্বল অবাক হয়ে বলল, কী ভাল লাগছে?

    দাদু মাথা নেড়ে বললেন, তা তো জানি না বাপু। ভাল লাগছে, ব্যস, ভাল লাগছে। দাদুর চোখ চকচক করছে। যেন হাসছেন। এ যেন অচেনা এক দাদু!

    ভোম্বল তিন নম্বর নব্‌টা আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ভেবে বলো দাদু, আর-একটু ভেবে বলো তো, কী ভাল লাগছে তোমার?

    দাদু ভুরু কুঁচকে ঠোঁটে আঙুল দিলেন। ডান কানটাকে বাড়িয়ে ফিসফিস করে বললেন, অ্যাই, চুপ কর। চুপ কর একেবারে। একটা পাখি ডাকছে না?

    ভোম্বল অবাক হয়ে বলল, হ্যাঁ, ডাকছে তো। ঝিলের পাখি। রোজ বিকেলেই তো ওরা উড়ে উড়ে আসে।

    দাদু উঠে দাঁড়িয়ে রেলিংয়ের ধারে চলে গেলেন। ভোম্বল ছুটে গিয়ে পাশে দাঁড়াল। মানুষটার ভিতরে যে এত উৎসাহ লুকিয়ে আছে কে জানত?

    দাদু এবার ভোম্বলকে আরও চমকে দিয়ে বললেন, বিকেলে ঝিলের পাশে একটা চক্কর দিয়ে আসব ভাবছি।

    নিজের কানে শুনলেও ভোম্বলের কথাটা বিশ্বাস হল না। সে অবাক হয়ে বলল, সত্যি? তুমি যাবে?

    দাদু ভোম্বলকে কাছে টেনে নিয়ে বললেন, সত্যি যাব। মরে যাওয়ার আগে মনে হচ্ছে, অনেক কিছু দেখা এখনও বাকি থেকে যাবে। যতটা পারি দেখে নিই। কী বলিস? হা হা। আর হ্যাঁ শোন, তুইও আমার সঙ্গে যাবি। আচ্ছা, বল তো দেখি, ঝিলের পাখিরা কত সুন্দর— এর ইংরেজি কী হবে? পারবি না তো? জানতাম পারবি না। গাধা কোথাকার। আমার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে ভার্ব, টেন্‌স আর অ্যাডজেক্টিভটা ঝালিয়ে নিবি। ঘরে বসে বই পড়ে শেখার চেয়ে বাইরে ঘুরে, নিজের চোখে দেখে শিখলে অনেক সহজে শেখা যায়। মনে রাখবি, ঠিক চারটের সময় রওনা দেব।

    ভোম্বল জিজ্ঞেস করল, দাদু, আমি কি গ্রামার বইটা সঙ্গে নেব?

    দাদু গম্ভীর হয়ে বললেন, না, নিবি না। প্রকৃতির মধ্যেই অনেক বই থাকে। আর-একটা কথা শোন, অত হাঁটাহাঁটির পর খিদে পেয়ে যাবে মনে হচ্ছে। তুই বরং এখনই তোর মাকে বলে রাখ, ক’টা বেগুনি রেডি করে রাখতে। ফিরে এসে মুড়ি দিয়ে গরম গরম খাওয়া যাবে। বাড়িতে-ভাজা বেগুনিতে কোনও দোষ নেই।

    ভোম্বল হাঁ হয়ে দাদুর দিকে তাকিয়ে আছে। মানুষটার কী হয়েছে সে বুঝতে পারছে না। তবে কিছু একটা হয়েছে। আশ্চর্য রেডিয়োর উৎসাহ-নব্ বন্ধ করবার কথা তার মনে নেই। সেখান থেকে আওয়াজ আসছে শোঁ শোঁ শোঁ…।

    এরপর সারাটা দিন ধরে রেডিয়োর খুশি, দুঃখ এবং উৎসাহ-নব্ অনেক কাণ্ড করল। সন্ধেবেলা ভয়ংকর রাগী গৃহশিক্ষক পরিতোষবাবু যখন মার্কশিট হাতে ঠকঠক করে কাঁপছেন, তখন পড়ার টেবিলের তলায় লুকিয়ে-রাখা রেডিয়োতে খুশি হওয়ার নব্টা ঘুরিয়ে দিল ভোম্বল। পরিতোষ মাস্টারের রাগ একেবারে জল হয়ে গেল কয়েক মিনিটে! কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি হেসে বললেন, তোমার এই রেজাল্টে আমি খুশি হয়েছি ভোম্বল। এই রেজাল্ট আমার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। ভাল ছাত্রকে ভাল ফল করানো কোনও কাজই হতে পারে না। খারাপ ছাত্রকে ভাল করে তৈরি করাটাই আসল। এবার আমি সেই চেষ্টাই করব। তোমার পরীক্ষার রেজাল্ট আমার চোখ খুলে দিল। ভেরি গুড। ভেরি, ভেরি গুড। ভোম্বল তোমাকে অভিনন্দন। ফেল-করা ছাত্রকে গৃহশিক্ষক হাত ধরে অভিনন্দন জানাচ্ছেন দেখলে বাড়ির লোকেরা ভয় পেয়ে যাবেন। ভাববেন নম্বর দেখে মাস্টারমশাইয়ের মাথার গোলমাল হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি রেডিয়ো বন্ধ করে ভোম্বল অবস্থার সামাল দিল।

    বাড়ির কোনও ব্যাপারেই দাদার মন নেই। সারাক্ষণ নিজেকে নিয়ে সে ব্যস্ত। কম্পিউটার নিয়ে অনেক দূর পড়াশোনা করবার পর এই মুহূর্তে তার একটাই চিন্তা, কীভাবে বিদেশে যাওয়া যায়। ভাইয়ের ক্লাস সেভেনের পরীক্ষার ফল তার কাছে অতি তুচ্ছ বিষয়। সেই দাদাকেও ম্যানেজ করে রেডিয়ো শোনাল ভোম্বল। আর শোনানোর সময় ঘুরিয়ে দিল উৎসাহ-নব্। ফালতু জিনিস নিয়ে সময় নষ্ট হচ্ছে ভেবে দাদা প্রথমটায় বিরক্ত বিরক্ত মুখ করে রইল। কিন্তু সে অবশ্য বড়জোর মিনিটপাঁচেকের জন্য। তারপরই পরিস্থিতির বিরাট পরিবর্তন। দাদা লাফিয়ে উঠে বলল, দারুণ, দুরন্ত, দুর্দান্ত! তুই যে একটা মরা জিনিসে প্রাণ ফিরিয়েছিস ভোম্বল! করেছিস কী! অ্যাঁ! এরপর এতে আনবি কথা। তারপর সুর। তুই পারবি, নিশ্চয়ই পারবি। ভাবিস না ভোম্বল, পৃথিবীর বহু মানুষ স্কুল কলেজের দরজা পেরোতে পারেনি, কিন্তু অনেক বড় বড় কাজ করে চমকে দিয়েছে। সেই তালিকা তোকে আমি দিয়ে দেব। তুই তোর আবিষ্কারের কাজ চালিয়ে যা, আমি তোর পাশে আছি। এখনই চল, তোর চিলেকোঠার ঘরটা একবার দেখে আসি।

    রান্নাঘরে মা দাদুর জন্য বেগুনি ভাজছেন আর অল্প অল্প হাসছেন। হাসছেন কেন? সকাল থেকে যে-মানুষটা হাঁড়ির মতো মুখ করে ছিলেন, তিনি এখন হাসবেন কেন? ভোম্বলকে ঘুরঘুর করতে দেখে মা বেশি করে হাসলেন। বললেন, নে ভোম্বল, গরম গরম দুটো বেগুনি খেয়ে নে। আর ক’দিনই বা বাড়ির খাবার পাবি?

    ভোম্বল চমকে উঠল। মায়ের কথার মানে সে বুঝতে পারছে না। মা বললেন, বুঝতে পারলি না তো? চিন্তা করিস না, পারবি, তোর বাবা অফিস থেকে ফিরলেই সব জলের মতো হয়ে যাবে। সকাল থেকে ভাবছিলাম তোর মতো গুণী ছেলেকে নিয়ে আমরা কী করব? একটু আগে তোর বাবা টেলিফোন করে সেই চিন্তা দূর করেছেন। জানিয়েছেন সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে।

    কথা শেষ করে মা গুনগুন করে গান ধরলেন। ভাবটা এমন যে বাবা ফিরলে খুব মজার কোনও ঘটনা ঘটবে।

    মায়ের হাসি, গান— লক্ষণগুলো ভোম্বলের ভাল ঠেকছে না। তার মন বলছে, বড় বিপদ আসছে। সেই বিপদ থেকে বাঁচানো আশ্চর্য রেডিয়োর কম্ম নয়। তবু মরিয়া হয়ে সে একটা চান্স নিল। রান্নাঘরের দরজার আড়ালে জিনিসটা রেখে দুঃখের নব্টা সামান্য একটু ঘুরিয়ে দিল। মিনিটখানেকের মধ্যে মায়ের গুনগুন বন্ধ! আরও মিনিটখানেক পর ভোম্বলকে ডেকে মা নরম গলায় বললেন, বাবা ফেরবার আগেই তাড়াতাড়ি বইটই নিয়ে বসে যা তো ভোম্বল। একটা বিচ্ছিরি ব্যাপার হয়েছে। দেখি, তোর বাবাকে কীভাবে ম্যানেজ করা যায়। আর শোন, দ্যাখ তো, কোথা থেকে একটা বিচ্ছিরি শোঁ শোঁ আওয়াজ আসছে। তুই কি শুনতে পাচ্ছিস?

    মাকে মিথ্যে বলা ঠিক নয়। তবু ভোম্বল মাথা নেড়ে বলল, কই, না তো!

    অফিস থেকে বাবা ফিরলেন রাত করে। শান্তভাবে চা খেতে খেতে টিভিতে খবর শুনলেন। কুম্বলের বলের প্রশংসা করলেন। মঙ্গল গ্রহের রঙিন ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে বললেন, বাঃ, বিজ্ঞান কত এগিয়ে গেছে। চা খাওয়া শেষ হলে তিনি আরও শান্তভাবে ঘোষণা করলেন, ভোম্বলের জন্য বোর্ডিং স্কুলের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। কালই তাকে সেখানে দিয়ে আসা হবে। আপাতত বেশি জিনিস নেওয়ার দরকার নেই। চার সেট জামাকাপড় নিলেই চলবে। তবে সোয়েটার মাস্ট। পুরুলিয়ার ঠান্ডাটা আবার একটু আগে পড়ে কিনা!

    পাশের ঘরে বসে ভোম্বলের গলা ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। এই ভয়ংকর বিপদের কথা সে কল্পনাও করতে পারেনি। বাড়ি ছেড়ে তাকে চলে যেতে হবে? তার উপর মনে হচ্ছে, রেডিয়োটা সে ভুল করে বাবার ঘরেই ফেলে এসেছে। ঠিক কোথায় রেখেছে মনে পড়ছে না। টেবিলের উপরও হতে পারে, আবার বইয়ের তাকেও হতে পারে। বাবা যদি ওটা দেখতে পান? শুধু দেখতে পেলে না হয় একটা কথা, কিন্তু যদি চালিয়ে ফেলেন? তা হলে তো কেলেঙ্কারি। হয়তো উৎসাহ-নব্টা ঘুরিয়ে ফেললেন। উৎসাহ বেড়ে গেল চড়চড় করে। এতটাই উৎসাহ যে, কাল সকালের জায়গায় হয়তো আজ রাতের ট্রেনেই ভোম্বলকে নিয়ে পুরুলিয়া রওনা দিলেন। খুশির নবে হাত দিলেও ঝামেলা আছে। বোর্ডিঙে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পেরে বাবা হয়তো দারুণ খুশি হয়ে পড়লেন। এতই খুশি যে, মায়ের হাজার কাকুতি মিনতিতেও কান দিলেন না। বাকি রইল দুঃখের নব্। ভোম্বলের মন বলছে, তাতেও তার মুক্তি হবে না। এই নবের শোঁ শোঁ আওয়াজে ভোম্বলের রেজাল্টের দুঃখ মানুষটার মনে ফুলে-ফেঁপে দশগুণ হয়ে গেল। ভোম্বল কোথায় যেন শুনেছে, খুব দুঃখের সময় মানুষের মন পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। সেই মন সহজে নড়ানো যায় না।

    না, বাঁচার আর কোনও পথ নেই দেখা যাচ্ছে। ভোম্বলের ইচ্ছে করছে, ছুটে গিয়ে বাবার ঘর থেকে রেডিয়োটা নিয়ে আসে। তারপর মেঝেতে আছড়ে ভেঙে ফেলে। কেন যে ছাই জিনিসটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়েছিল?

    কিন্তু ঘটনা ঘটল অন্যরকম।

    রাতে খেতে বসার আগে দাদু বাবাকে ডেকে পাঠালেন। বললেন, হ্যাঁরে, শুনলাম ছেলেকে নাকি বোর্ডিঙে পাঠাবি? খেপেছিস নাকি? ভোম্বল বাড়ি থেকে গেলে আমার ঝিলের ধারে বেড়াতে যাওয়ার কী হবে? শুরু করতে-না-করতেই শেষ? তোরা দেখছি আবার আমাকে চেয়ারে বসিয়ে ছাড়বি। ওসব পরিকল্পনা একদম বাদ দাও বাপু। তা ছাড়া ছেলেটাকে সবে টেন্‌সটা বোঝতে শুরু করেছি। এখনও ভার্ব, অ্যাডজেক্টিভ সব বাকি।

    খেতে বসে দাদা বলল, “বাবা, শুনলাম ভোম্বলের জন্য তুমি নাকি বোর্ডিং স্কুল ঠিক করেছ। খানিক আগে হলে আমি বলতাম, খুব ভাল করেছ। কিন্তু এখন সে-কথা বলতে পারছি না। চিলেকোঠার ঘরে ওর যে কর্মকাণ্ড দেখলাম তাতে আমি মুগ্ধ। আমি নিশ্চিত, তুমি যদি দ্যাখো তা হলে তোমারও একই অবস্থা হবে। তুমিও মুগ্ধ হবে। কত অচেনা, হারিয়ে-যাওয়া, ফেলে-দেওয়া জিনিসকে যে ভোম্বল নতুন করে চিনে ফেলেছে, সেটা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ফালতু জিনিসও এত কাজে লাগতে পারে। আমার খুবই অবাক লাগছে। পরীক্ষায় ও ছেলের এত খারাপ হবে কেন? বাবা, ঠিক করেছি, কাল থেকে ভোম্বলের অঙ্ক আর বিজ্ঞানটা আমিই দেখিয়ে দেব। সেরকম হলে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা আমি একবছর পিছোতেও পারি।

    দিদি বেশি কিছু বলেনি। মাথা নিচু করে বলেছে, ভোম্বলের খারাপ রেজাল্টের জন্য আমিও সমানভাবে দায়ী বাবা। এতদিন ওকে কোনও সাহায্য তো করিনি, উলটে শুধু ঠাট্টা করেছি। ইতিহাস, ভূগোলটা এবার আমিই ওকে পড়াব ভেবেছি। এই অবস্থায় বোর্ডিঙে পাঠিয়ে দেওয়াটা আমার পক্ষে খুবই অনুশোচনার হবে। বাবা, আমি চাই, তুমি আমাকে একটা সুযোগ দাও।

    বছর ঘুরে গেছে। দাদার আমেরিকা যাওয়া পাকা। দিদি দারুণ রেজাল্ট করে কলেজের পড়া শেষ করেছে। দাদু রোজ বিকেলে ঝিলের ধারে হেঁটে আসেন। এদিকে বিজ্ঞানে বিরানব্বই পেয়ে ক্লাস এইটে উঠে পড়েছে ভোম্বল। ইংরেজি, ইতিহাস, ভুগোলেও ভাল নম্বর হয়েছে। সবাই খুব খুশি। রেজাল্টের দিন মা বাড়িতে বেগুনি-পার্টি দিলেন। দাদু সাতখানা খেয়ে বললেন, আর-একটা হবে নাকি বউমা?

    আর সেই রেডিয়ো? সেই রেডিয়োর কী হল?

    কিছুদিন এ-ঘরে ও-ঘরে পড়ে থেকে সে আবার ফিরে গেছে চিলেকোঠার ঘরে। পড়াশোনার জন্য ভোম্বল ছাদে ওঠবার সময় পায় না মোটে। চিলেকোঠার ঘরে এখন তালা ঝুলছে। মাকড়সার জাল, ধুলোয় চাদর মুড়ি দিয়ে এককোণে চুপ করে বসে আছে আশ্চর্য রেডিয়ো, হঠাৎ দেখলে মনে হবে, একটা বুড়ো মানুষ। খুশি, দুঃখ আর উৎসাহের ম্যাজিক-নব্গুলো বুকে নিয়ে সে অপেক্ষা করে আছে।

    বলা তো যায় না, কবে আবার কে আসে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }