Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    বিনোদ ঘোষাল এক পাতা গল্প235 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাবার বন্ধু

    সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ রিকশাটা এসে থামল বাড়ির গেটের সামনে৷ এই সময়টা অপুর চূড়ান্ত ব্যস্ততা থাকে৷ অফিস বেরোনোর তাড়া৷ স্নান সেরে এসে বারান্দায় দাঁড়িয়ে গা মুছছিল৷

    মা হয়ে গেছে বেড়ে দাও৷ মাকে ভাত বেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে দিতেই দেখল রিকশা এসে থেমেছে আর তারপর রিকশাওলা তার নিজের সিট থেকে নেমে এক বৃদ্ধকে ধরে নামাল৷ বৃদ্ধের যে হাঁটার ক্ষমতাও নেই সেটা বোঝাই যাচ্ছে৷ রিকশাওয়ালার কাঁধে ভর দিয়ে কোনওমতে নামল সে৷ এখন আবার কে এল! উফফ!

    বৃদ্ধকে একহাতে নিজের গায়ে প্রায় লেপটে নিয়ে অন্যহাতে রাস্তার ধারে অপুদের বাড়ি ঢোকার গ্রিলের গেটটা খুলল রিকশাওলা৷ মুখে বলল সাবধানে আসুন৷

    বৃদ্ধ কী বলল কিছুই শোনা গেল না৷ অপু ঘরে ঢুকে দেখল মা ডাইনিং টেবিলে ভাত বাড়ছে৷ থালার ওপরে ধোঁয়া ওঠা ভাত৷ ভাতের হাঁড়ি থেকে খোসাসমেত ডিমটা হাতায় করে তুলে থালার পাশের বাটিতে রাখল মা৷ বাটিতে নুন আর কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজ দিয়ে মাখা আলুভাতে৷ অপু বেশিরভাগ দিনই আলুভাতে, ঘি আর ডিমসিদ্ধ খেয়ে অফিসে যায়৷ দুপুরের খাবার হয় বাইরে অথবা মা টিফিন বাক্সে ভরে দেয়৷ রুটি-পরোটা চচ্চড়ি ইত্যাদি৷

    খেতে বসে অপু বলল একজন বুড়ো লোক ঢুকছে দেখলাম বাড়িতে৷ রিকশায় এসেছে৷

    কে?

    চিনতে পারলাম না৷

    ও৷ বলে ডিমের খোসা ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে অপুর মা তপতী৷ আসলে এই বাড়িতে মাঝেমাঝেই অচেনা লোক আসেন৷ কারণ অপুদের রাধাগোবিন্দের মন্দির রয়েছে৷ প্রায় নব্বই বছরের পুরোনো অধিষ্ঠিত কুলদেবতা৷ অপুর ঠাকুর্দা গোবিন্দলাল ভট্টাচার্য এই অষ্টধাতুর যুগল বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ শালগ্রাম শিলাও থাকার ফলে নিত্য তিনবেলা ঠাকুরের বাল্যভোগ থেকে শুরু করে মধ্যাহ্নে অন্নভোগ, সন্ধেবেলায় ভোগারতি সবই হয়৷ ঠাকুর্দা চলে যাওয়ার পর সেই দায়িত্বও নিয়েছিল অপুর বাবা৷ রাধাগোবিন্দ অন্ত প্রাণ৷ তো ঠাকুর থাকার কারণে অপুর জ্ঞান হওয়া ইস্তক দেখে আসছে এই বাড়িতে প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে ভক্তদের আনাগোনা লেগেই রয়েছে৷ কেউ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দুই হাত জড়ো করে প্রণাম করে যায়, কেউ ভেতরে এসে বারান্দায় উঠে প্রণাম সারে৷ চেনা-অচেনা সবরকমই মানুষ আসেন৷৷ সকলের সঙ্গে যে কথা হয় তাও নয়৷ সেইজন্য অপুর মুখে একজন বাড়িতে আসছে শুনে কোনও ভাবান্তর হল না তপতীর৷

     

     

    খেতে বসল অপু৷ এবার মিনিট পাঁচ-ছয়ের মধ্যে নাকে-মুখে গুঁজেই বাইকে উত্তরপাড়া রেলস্টেশন৷ সেখান থেকে ডাউন ট্রেনে হাওড়া স্টেশন তারপর বাসে ঝুলে মিন্টোপার্কে অফিস৷ অপু একটা ইন্সিওরেন্স কোম্পানির ডেটা এন্ট্রি অপারেটর৷ মোটামুটি স্যালারি৷ মা আর ছেলের চলে যায়৷ গরম ভাতে ঘি দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস অপুর এসেছে পারিবারিক সূত্রে৷ বাপ-ঠাকুর্দা দুইজনেই ছিলেন গাওয়া ঘি এর ভক্ত৷ পাতে একটু ঘি না পড়লে তাদের ভাত হজম হত না৷ অপু সেই ট্রাডিশন এখনও টেনে চলেছে৷ ভাত ভেঙে ঘি ঢেলে তার মধ্যে আলুসিদ্ধর দলাটা কিছুটা মেখে নিয়ে মুখে পুরতেই শুনতে পেল বারান্দায় কেউ একজন ফ্যাসফেসে গলায় ডাকছে৷ বউদি আছেন নাকি? অ বউদি৷

    ওই লোকটাই ডাকছে, দেখো তো৷ মুখে ভাত চিবোতে চিবোতে বলল অপু৷

    তপতী বিরক্ত হল৷ লোকের আসার আর সময় হয় না৷ এত কাজ পড়ে৷ নিজের মনে বিড়বিড় করতে করতে ঘর ছেড়ে বেরোল তপতী৷ অপুদের বাড়িটা অনেক পুরোনো ইংরেজি এল শেপের৷ লম্বা লাল সিমেন্টের বারান্দার পাশে সার সার অনেকগুলো ঘর৷ পূর্বমুখী বাড়িটির ঠিক মাঝের ঘরটি হল ঠাকুরঘর৷ ঘরের ভেতরে দরকার ঠিক মুখোমুখি সিংহাসনে রাধাগোবিন্দের অধিষ্ঠান৷ যারা বিগ্রহকে দর্শন, প্রমাণ করতে আসেন বারান্দায় উঠে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ঠাকুরদর্শন করেন৷ ঠাকুরঘরের দরজা সারাদিন খোলা থাকলেও কোলাপসিবল গেটটা আটকানোই থাকে৷

     

     

    অপু খেতে খেতে শুনতে পেল মা ওই লোকটার সঙ্গে কথা বলছে৷ বুড়োটার গলার স্বর কিছুই প্রায় শোনা যাচ্ছে না৷ মায়ের গলা শোনা যাচ্ছে৷ মা বেশ গলা চড়িয়েই বলল, এই অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরোলেন কেন? পড়ে-টরে গেলে…আপনি সামনের ঘরে বসুন৷ আমি চা দিচ্ছি৷

    কে এসেছে? খুব সামান্য কৌতূহল হল অপুর৷ তবে সেটা স্থায়ী হল না৷ গপাগপ ভাতের গ্রাসের মুখে তুলতে থাকল৷

    পাঁচ মিনিটের মধ্যে খাওয়া শেষ করে বেসিনে হাত ধুয়ে জুতো পরে বেরোতে যাবে তপতী এসে বলল বাদলদা এসেছে, তোকে খুঁজছে বেরোবার সময় একবার দেখা করে যা৷

    কে বাদলদা?

    তোর বাবার বন্ধু বাদল গুপ্ত৷ মনে নেই? সেই যে আসত…

    মাকে আর মনে করাতে হল না৷ ওহ হ্যাঁ বুঝেছি৷ হেবিব বুড়ো হয়ে গেছে তো, দূর থেকে দেখে চিনতেই পারিনি৷

     

     

    কাছ থেকেও চিনতে পারবি না৷ কী চেহারা হয়েছে তাকানো যায় না৷ একবার দেখা করে আয়৷

    উফফ এখন…একদম সময় নেই মা৷ দেখা করলেই কথা বলতে হবে৷

    যা না একবার মুখটা দেখিয়েই বেরিয়ে যাবি৷ তোকে খুব ভালোবাসত ছোটবেলায়৷

    মা কথাটা এমনভাবে বলল যে অপু এড়াতে পারল না৷ পায়ে জুতো গলাতে গলাতে বলল, যাচ্ছি৷

    একবার প্রণাম করিস৷

    হুঁ৷

    একেবারে প্রথম ঘরটা বৈঠকখানা৷ বাবা যখন ছিল তখন এই ঘরের মেঝেতে সারাক্ষণ বিছনো থাকত দুটো লালপাড় মাদুর৷ বাবার বন্ধুরা মিলে এই ঘরে কখনও বসাত কীর্তনের আসর কখনও এমনিই আড্ডা৷ কখনও সকালে কখনও দুপুর, অনেকসময় বিকেলে বসে সন্ধে গড়িয়ে রাত হয়ে যেত৷ এই ঘরে বসে বাবা ও তার বন্ধুরা কত রাত হরিবাসর করেছে, সেইসব স্মৃতি…ভাবতে ভাবতে একটু অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছিল অপু৷ নিজেকে মনে মনে ফিরিয়ে এনে উঠে দাঁড়িয়ে কাঁধে অফিসের ব্যাগ নিয়ে গেল বাইরের ঘরে৷ গত ছয় বছর এই ঘরে আর মাদুর বিছনো থাকে না৷ বছর দুয়েক আগে অপু একটা রট আয়রনের সোফা আর টিটেবিল কিনে এই ঘরে রেখেছে৷ বন্ধুবান্ধব পরিচিতদের কেউ এলে এই ঘরেই বসে৷ অপু ঘরে ঢুকে দেখল সেই বাদলজেঠু সোফাতে প্রায় এলিয়ে বসে রয়েছে৷ পা দুটো সামনে টান করে ছড়িয়ে পুরোনো অভ্যাসমতো নাচাচ্ছে আর মাথাটা হেলিয়ে চোখ বন্ধ রেখে বিশ্রীভাবে শ্বাস নিচ্ছে৷ শ্বাসের মধ্যে কেমন একটা ঘরঘরে শব্দ৷ মা বলে না দিলে সত্যিই বোঝা কঠিন ছিল এ সেই বাদলজেঠু মানে বাদল গুপ্ত৷ মানুষের সুন্দর স্বাস্থ্য যে কী ভয়ংকর হয়ে যেতে পারে তা প্রথমবার দেখেছিল অপু নিজের বাবার ক্ষেত্রে৷ ওই বিশাল চেহারাওলা লোকটা মাত্র দুই বছরের মধ্যে শুকিয়ে গুটিয়ে এইটুকু হয়ে গিয়েছিল, নিজের বাবাকেও চেনা যেত না, গোল মুখে ফোলা গালদুটো এমনভাবে চুপসে গিয়েছিল যে পুরো মুখটাই হয়ে উঠেছিল বীভৎস৷ তাকাতে কষ্ট হত৷ বাবা চলে যাওয়ার পর অনেক রাত দুই চোখের পাতা এক করতে পারত না অপু৷ বারবার ওই করুণ চেহারাটা চোখের সামনে ভেসে উঠত৷ চোখে সামান্য ঘুম এলেও স্বপ্নে চলে আসত কেমো নিতে নিতে কঙ্কাল হয়ে ওঠা বাবা৷ অপু ভাবত বাবার সেই চিরপরিচিত সুন্দর চেহারাটা কেন যে একবারের জন্যও মনে পড়ে না!

     

     

    অপু বাদল জেঠুর সামনে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেল বাদলজেঠু কেমন আছ? পারল না প্রশ্নটা করতে৷ কেমন আছ-র বদলে জিজ্ঞাসা করল জেঠু জল খাবে?

    বাদল চোখ খুললেন৷ দুই চোখের কোণে অল্প পিচুটি জমে৷ সোফা হয়ে ফ্যাঁসফেঁসে গলায় বললেন, এই তো বিনোদ৷ তোকেই খুঁজছিলাম৷ অফিস যাচ্ছিস? বাহ ভালো ভালো৷ এই বয়সেই তো রোজগার করতে হবে, তা বিয়ে-থা করেছিস?

    না বলার আগেই ওর পাশে এসে দাঁড়াল তপতী, বলল মেয়ে খুঁজছি৷

    আজকাল আবার বাপ-মাকে মেয়ে খুঁজতে হল নাকি? নিজে খুঁজিসনি? হেসে জিজ্ঞাসা করল বাদল৷ গালে বিজিবিজি সাদা দাড়ি, মাথায় কয়েকগাছা সাদা চুল খাড়া হয়ে রয়েছে৷ শুকনো তোবড়ানো গালদুটো হাসির কারণে দুইপাশে সরতেই ভেতর থেকে দুই-তিনটে মাত্র কালচে দাঁত বেরিয়ে এল৷ বাকি কটা আর নেই৷ মুখে ছোপছোপ কালো দাগ৷

    তপতী বলল নাহ তার অফিস ছাড়া আর কোনও কিছুরই সময় নেই৷

     

     

    নরেনদার খুব শখ ছিল ছেলের ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়ার৷ বারবার বলত সেই কথা৷ মেনুও ঠিক করে ফেলেছিল৷ ডায়েরিতে লেখা ছিল সেই মেনু৷ যাক বিয়ে করলে চেষ্টা করিস সেই মেনু রাখতে নরেনদা খুশি হবে৷

    অপুর আবার মনে পড়ল বাবার মুখটা৷ শেষদিকের সেই যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখটা৷ সারাজীবন হাসিখুশি আমুদে মানুষটার জন্য শেষ দুটো বছর যে কী অভিশপ্ত হয়ে উঠেছিল৷ চলে যাওয়ার দিন সাতেক আগের এক রাতের কথা বার বার মনে পড়ে৷ অপু তখনও চাকরি পায়নি৷ সারাদিন টিউশন করে আর চাকরির অ্যাপ্লিকেশন করে চলে৷ একদিন রাত দশটা নাগাদ রাতের খাবার খেয়ে নিজের ঘরে ঢুকে ক্লান্ত শরীরে বিছানায় সবে গা এলিয়েছে অপু, মা এসে বলল দেখো তো বাবা ডাকছে৷

    কেন? সামান্য বিরক্তই হয়ে উঠেছিল ও৷

    দেখো না, কী যেন বলবে তোকে৷ আমি বলেছিলাম তুই ক্লান্ত…

    মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অপু বলেছিল আচ্ছা যাচ্ছি৷ বাবা যে ঘরের বিছানায় প্রায় মিশে গিয়ে সারাদিন শুয়ে থাকত সেখানে গিয়ে টাঙানো মশারির সামনে জিজ্ঞাসা করেছিল, বলো কী বলছ?

     

     

    মশারির ভেতর থেকে ঠান্ডা হাতটা ধরেছিল৷ বাবার হাত কাঁপছিল অল্প অল্প৷ কী হয়েছে তোমার? শরীর খারাপ লাগছে?

    আমি মরতে চাই না অপু৷ মশারির ভেতরের আবছা বাবা ফুঁপিয়ে উঠেছিল সেই রাতে৷

    উফফ কেন যে…কেন যে সেই অসহ্য দৃশ্যগুলো বার বার মনে পড়ে৷

    অপু ঝুঁকল বাদলজেঠুকে প্রণাম করার জন্য৷ ময়লা, বহু পুরোনো সাদাটে একটা পায়জামার নিচে শীর্ণ দুটো পায়ের পাতা৷ আঙুলে বিশ্রি বড়বড় ট্যারাব্যাকা নখ৷ হাত ছুঁয়ে প্রণাম করতে একটু ঘেন্নাই লাগল অপুর৷ বাবা যতদিন অসুস্থ ছিল, যখন আর নিজের পরিচর্যা করতে একেবারেই পারত না তখনও কিন্তু এক বেলার জন্যও এমন নোংরা হয়ে ওঠেনি৷ তার কারণ অবশ্যই মা৷ বাবা যেদিন বিকেলে চলে গেল সেদিন সকালেও মা যত্ন করে বাবার পায়ের নখ কেটে দিয়েছিল নেলকাটার দিয়ে৷

    লম্বা একটা শ্বাস ছাড়ল অপু৷ আবার ভালো করে তাকাল বাদলজেঠুর দিকে৷ যেভাবে শ্বাস নিচ্ছে তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে আর বেশিদিন আয়ু নেই৷ বেশিদিন কেন বেশিক্ষণও না থাকতে পারে৷

     

     

    বস, তোকে কতদিন দেখি না, একটু কথা বলি৷

    ওর এখন বসার সময় নেই বাদলদা৷ অফিস রয়েছে৷ দেরি হয়ে যাবে৷ বলল তপতী৷

    অহ আচ্ছা যা, আমি আছি…আমি আছি…কয়েকবার বলল বাদল৷

    অপু সরে এসে মাকে ইশারায় ডাকল৷ তপতী কাছে আসতেই অপু নীচু গলায় বলল মা আমি কিন্তু এর অবস্থা খুব সুবিধার বুঝছি না৷ কঠিন কোনও অসুখ হয়েছে৷ একেবারে শেষ অবস্থা৷

    তপতী বলল, হ্যাঁ দেখে চেনা যাচ্ছে না৷ কী শৌখিন মানুষ ছিল আর কী…তুই আর দেরি করিস না, যা৷

    .

    ট্রেনে যেতে যেতে পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ছিল অপুর৷ সেইসব দিনগুলো৷ ঠাকুর্দাকে ও চোখে দেখেনি, কিন্তু বাবার আমলে বাড়িতে রাধাগোবিন্দের দোল উৎসব হত৷ প্যান্ডেল, উদয়অস্ত নামকীর্তন, ভোগারতি, কর্পূর, ধূপ-ধুনোর গন্ধ, সঙ্গে মাইকে শ্রীটুল হারমোনিয়াম, বেহালা, কর্তাল আর লীলাকীর্তনের পদ…আহা সেইসব দিনগুলো৷ এই সাতাশ বছরের জীবনে অন্তত পনেরো-ষোলো বছর পর্যন্ত এমন ধুমধাম উৎসব নিজের বাড়িতে দেখেছে অপু৷ বাবা অসুস্থ হওয়ার বছর কয়েক আগে থেকে অবশ্য উৎসবের জাঁকজমকে একটু ভাটা পড়েছিল, কারণ বাবা এত পরিশ্রম করে উঠতে পারছিল না৷ আসলে শরীর যে তার ভেতরে ভেতরে খারাপ হতে শুরু করেছে সেটা একেবারে শেষবেলা পর্যন্ত গোপন রাখার চেষ্টা করেছিল৷

     

     

    বাবার বন্ধু মানেই ছিল কীর্তন, কৃষ্ণনামগানের বন্ধু৷ নারায়ণ জেঠু, প্রদীপকাকা, মানিক জেঠু, প্রিয়লালজেঠু, ভদ্রেশ্বর জেঠু আরও অনেক অনেক বন্ধু ছিল বাবার৷ এরা কেউ গাইতে পারত কেউ বা বাজাত হারমোনিয়াম বা শ্রীখোল অথবা আড়বাঁশি৷ বাদলজেঠুর উপস্থিতিটা সবথেকে বেশি নজরকাড়া৷ একেবারে বাবুয়ানি মেজাজ ছিল জেঠুর৷ মাইনে করা রিকশাওলা ছিল৷ তা রিকশাওলার নাম ছিল তপন৷ চাটগাঁ-র বাঙাল বাদলজেঠুর কথাবার্তার মধ্যে সেই টোন ছিল৷ রিকশা যখন এসে নামত অপুদের বাড়ির সামনে অপু দেখত ধপধপে সাদা পাঞ্জাবি আর চোস্তা পরে বাদলজেঠু নামছে৷ দামি পাতলা ফিনফিনে সুতির কাপড়ের সেই পাঞ্জাবির দুই হাতায় গিলে করা৷ গলায় নীল সুতোর কাজ, গা থেকে ভুর ভুর করে চন্দনের গন্ধ বেরোচ্ছে৷ পাঞ্জাবিতে সোনার বোতাম, গলায় সরু সোনার চেন, গোল্ডেন ফ্রেম চশমা৷ কলপ করা কুচকুচে কালো চুল পরিপাটি ব্যাকব্র্যাশ৷ ঘিয়ে রঙের কোলাপুরি চটি৷ বাদল জেঠু ধীরে-সুস্থে বাড়িতে ঢুকত তার একহাতে ধরা থাকত দই বা মিষ্টির বড় হাঁড়ি অন্যহাতে ফিলটার উইলস৷ জেঠুকে দেখলেই মন খুশি হয়ে উঠত অপুর৷ কারণ তিনি যখনই আসতেন অপুর জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসতেন৷ কখনও চকোলেট, কখনও শোনপাপড়ি অথবা ক্রিম বিস্কুটের প্যাকেট৷ এসেই ডাক দিতেন কই আমার বাবা কই?

     

     

    হাফপ্যান্ট অপু সঙ্গে সঙ্গে এসে দাঁড়াত জেঠুর গা ঘেঁষে, সিগারেট আর চন্দন মেশানো একটা অপূর্ব গন্ধ! পাঞ্জাবির পকেট থেকে জেঠু বার করে দিত অপুর জন্য আনা জিনিসটা৷ তারপর বলত যা মাকে বল গিয়ে ভালো করে চা বানাতে৷

    খুব সুন্দর গানের গলা ছিল বাদলজেঠুর৷ হারমোনিয়াম নিয়ে মাইকে যখন কৃষ্ণওও…বলে সুর বসাত শ্রোতারা আহা করে উঠতেন৷ গাইতে গাইতে ভাবের ঘোরে জেঠুর দুইচোখ দিয়ে জল গড়াত৷ আর অপুর কষ্ট হত, ভাবত জেঠুর এত কষ্ট কেন? অবশ্য গানের সময় শুধু বাদলজেঠু নয় কখনও বাবাও কাঁদত ফুঁপিয়ে৷ কাঁদত আর গাইত৷ প্রতিবছর দুর্গাপুজোর কয়েকদিন আগে জেঠু এসে মাকে একটা শাড়ি দিয়ে বলত বউদি দেখুন পছন্দ হয় কি না৷ মা হাসিমুখে বলত, খুব সুন্দর৷ বাবার থেকে কম করে বছর সাত-আষ্টেকের বড় বাদলজেঠু৷ অপু অনেকবার শুনেছে, কখনও বাবা কিংবা মা বাদলজেঠুকে বলছে বাদলদা এবার আর বাছাবাছি করবেন না, বিয়েটা করে ফেলুন৷ অনেক বয়স হল কিন্তু৷ এখন যাও বা সম্বন্ধ আসছে এরপর কিন্তু আর পাবেন না৷ আপনার দাদা-বউদিদেরও তো বয়স হচ্ছে তারা আর ক’দিন দুইবেলা খাওয়াবে আপনাকে?

     

     

    বাদলজেঠু সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে বলত না না এই বছর এক্কেবারে ফাইনাল৷ ঘটককে বলেছি একটু যেন গায়ের রংটা ফর্সা হয়, আর মুখটা যেন…বউদি বিয়ে ফাইনাল হলে আপনাকে একটা ভালো শাড়ি দেব৷ একটু রাধাগোবিন্দকে বলুন যেন এবার হয়ে যায়৷

    এমনই সহজ মন ছিল বাদলজেঠুর৷ নাহ বিয়ে শেষপর্যন্ত আর হয়নি৷ মেয়ে খুঁজতে খুঁজতে তার খোঁজার বয়সও পেরিয়ে গিয়েছিল৷ বাবার কাছে অপু জেনেছিল বাদলজেঠুর খরচের হাত যত দরাজ ছিল রোজগারে তেমন মন ছিল না৷ পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ আর নিজে টুকটাক বিজনেস, সেই বিজনেসেরও কোনও ঠিক ঠিকানা নেই কখনও ইমারতি কখনও কীর্তনের দল আবার কখনও মাছ ধরার ট্রলার ভাড়া নেওয়া৷ মন কোনও কিছুতেই স্থির না থাকার কারণে প্রতিটা বিজনেসেই লস৷ পকেটে টাকা থাকলেই দেদার খরচ আর শেষ হলেই ধারদেনা করতেও পিছত না৷ তিন ভাইয়ের যৌথ পরিবার৷ বাদলজেঠুই কনিষ্ঠ৷ বিয়ে-থা না করায় দুই দাদার ঘরেই দুইবেলা আহার৷ তবে সম্পর্ক তিক্ত হচ্ছিল দিনে দিনে৷ মাঝে মাঝে অপু শুনত বাদলজেঠু খুব আফসোস করে বাবা আর মাকে বলছে বুঝলেন এই বাড়িতে আর থাকতে ইচ্ছে করে না৷ আমার দুটো দাদাই হাড়ে বজ্জাত৷

     

     

    বাবা যখন অসুস্থ হয়ে পড়ল তখনও মাঝে মাঝে বাদলজেঠু আসত বাবাকে দেখতে৷ হাতে ফলের প্যাকেট৷ তবে বাবা চলে যাওয়ার পর ওর আসাও কমে গেছিল৷ শুধু ওর নয়, বাবার বন্ধুরা আর কেউই তেমন আসত না৷ উৎসবগুলো সবই একে একে বন্ধ হয়ে গেল৷ কে করবে?

    শেষবার বাদলজেঠু সেদিন বাড়িতে এসেছিল সেটাও কম করে বছর চারেক আগে হবে৷ সেবারও দেখা হয়েছিল অপুর সঙ্গে৷ চেহারা বেশভুষা সেবারেও যথেষ্ট মলিন ছিল কিন্তু তবু এবারের মতো নয়৷ এমন অবস্থা কী করে হল কে জানে…!

    .

    রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বাড়ি ফিরতেই রীতিমতো চমকে গেল অপু৷ মা দরজা খুলতে খুলতে নিচু গলায় বলল একটা কাণ্ড হয়েছে৷

    কী?

    বাদলদা যায়নি৷ রয়ে গেছে৷

    মানে! জুতোটা খোলার আগেই থমকে গেল অপু৷ কেন যায়নি?

    জানি না৷ প্রথমে বলল দুপুরে ভোগ খাবে৷ না তো বলতে পারি না৷ ঠিক এই কটা ভাত আর সামান্য তরকারি মুখে দিলেন৷ কোনওকালেই বেশি খেতেন না৷ এখন একেবারে পাখির আহার৷ খেয়ে উঠে বললেন বুঝলেন বউদি আমি কটা দিন এখানে থাকব৷ সাতটা দিন আমি একটু থেকে তারপর চলে যাব৷

    মানেটা কী? তুমি রাজি হয়ে গেলে? বিরক্ত হয়ে উঠল অপু৷

    আরে আমি বললাম আপনার শরীর এমন অসুস্থ এখানে কে দেখাশোনা করবে? তো বললেন আমাকে কোথাও কেউ দেখার নেই বউদি৷ কিচ্ছু দেখাশোনা করতে হবে না৷ আমাকে ওই সকালে আর বিকেলে এককাপ করে চা দেবেন৷ দুপুরে একটু ভাত আর রাতে বাতাসা দিয়ে একটু মুড়ি ব্যস৷ বলে তোর বাবার ঘরে শুয়ে পড়ল৷

    বাহ শুয়ে পড়ল আর তুমি কিছু বললে না! বিরক্ত হয়ে উঠল অপু৷ কী অবস্থা দেখেছ চেহারার? আজ আছে কাল নেই অবস্থা৷ শরীরে কী রোগ ধরেছে কেউ জানি না, কেন এতদিন পর আচমকা এসেছে তাও জানা নেই৷

    তপতী বলল আসলে কী করে বলি বলতো চলে যান? ভালো করে কথা পর্যন্ত বলতে পারে না এমন শ্বাসকষ্ট৷ সন্ধেবেলা এইটুকু মুড়ি দিয়েছিলেন তাও পুরোটা খেতে পারেনি৷ সারাদিন ধরেই শুয়ে রয়েছে৷

    তোমাকেও বলিহারি! ধরো আজ রাতেই যদি মরে যায় তখন সেই ঝামেলা কে পোহাবে? দেখে মনে তো হয় না আর সাতকুলে কেউ রয়েছে বলে৷ তখন কোথায় দৌড়ব আমি?

    তপতী কী বলবে বুঝতে না পেরে হাঁ করে মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, না না মরবে কেন? অত খারাপও নয়, তাহলে নিজে নিজে এলেন কী করে…বলেই একটু থামল তারপর যেন নিজের মনেই বলল, সন্ধেবেলায় যখন যখন চা দিলাম আমাকে বললেন, বুঝলেন বউদি নরেনদার বড় সৌভাগ্য রাধাগোবিন্দের চরণের কাছে নিজের প্রাণটা গিয়েছে৷ আহা আমারও যদি নরেনদার মতো ভাগ্য হত…

    মা তুমি এই শোনার পরেও থাকতে দিলে! প্রায় আর্তনাদ করে উঠল অপু৷ এবার বুঝতে পেরেছ তো ওর এখানে আসার কারণ? এখানে মরতেই এসেছে৷ সকালে চেহারা দেখেই বুঝেছি ঘরবাড়িও গেছে, কিচ্ছু নেই৷ হায় ভগবান!

    দাঁড়া দাঁড়া তুই অত অস্থির হস না৷ আমার মনে হয় না এসব কিছু…খারাপও লাগে অপু৷ একসময় কী ছিলেন মানুষটা৷ তোর বাবাকে খুব ভালোবাসতেন৷

    মা এখন এসব ভেবে লাভ নেই৷ বরং এটা ভাব যদি কিছু একটা হয়ে যায়…

    আরে বার বার একই কথা বলছিস! দুম করে কি কেউ মরে যায়? দেখছিস তো কথা বলছে, হাঁটছে…

    যদি নিজে নিজে মরতে চায়? এতক্ষণ ধরে মাথার ভেতরে ঘুরপাক খেতে থাকা কথাটা মাকে বলেই ফেলল অপু৷

    ছেলের কথা শুনে কেমন যেন চমকে উঠল তপতী৷ কী বলছিস?

    খুব ভুল কি বলছি? এমন সম্ভাবনা কি থাকছে না?

    তপতী এবার আর কিছু বলার মতো খুঁজে পেলেন না৷ বরং ছেলের যুক্তির কাছে হেরে গিয়ে অসহায়ভাবে বললেন দেখ কী করবি৷ তুই কথা বল৷ তবে…আজ রাত্তিরটা ছেড়ে দে৷ এত রাতে কোথায় যাবে বল?

    অপু৷ কিছু বলল না৷ নিজের ঘরে ঢুকে জামাকাপড় ছেড়ে আগেই সোজা গেল বাদলজেঠু যে ঘরে শুয়ে রয়েছে সেখানে৷ জেঠু বাবার খাটটায় চিৎ হয়ে শুয়ে রয়েছে৷ পরনে একটা হলদেটে হয়ে যাওয়া স্যান্ডো গেঞ্জি৷ আর লুংগি৷ মানে এই দুটো জিনিস ওর সঙ্গেই ছিল৷ চেহারাটা বিছানায় মিশে গিয়েছে৷ অপু একবার মনে করার চেষ্টা করল বাবার চেহারা কি শেষ দিকে এতটাই খারাপ হয়েছিল? না বোধহয়৷ হলেও অন্তত এর মতো হতভাগ্য ছিল না বাবা৷

    বাদলজেঠু চিত হয়ে শুয়ে পা নাচাচ্ছে৷ চোখ বন্ধ এবং হাতদুটো বুকের ওপরে জড়ো করা৷ বিছানার পাশে রাখা জলের বোতল, গ্লাস, খালি চায়ের কাপ প্লেটের ওপর রাখা৷

    জেঠু ঘুমোচ্ছে? জিজ্ঞাসা করল অপু৷

    চোখ মেলল বাদল৷ অপুর দিকে তাকিয়ে কয়েক সেকেন্ড ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে তারপর বলল না না ঘুম কই? বোস৷ অফিস থেকে কখন এলি?

    এই একটু আগে৷

    চা খেয়েছিস?

    না খাব৷ বলেই অপু সরাসরি জিজ্ঞাসা করল তুমি আজ বাড়ি ফিরলে না?

    নাহ বউদিকে বলেছি এখানে কটাদিন থাকব৷ তারপর ফিরব৷

    তুমি কি ওই পুরোনো বাড়িতেই থাক?

    না না সেসব কবে চলে গেছে এখন…ওই থাকি…

    অপু যা বোঝার বুঝে নিল৷ বলল কিন্তু জেঠু আমি তো মাকে নিয়ে কাল সকালে বেরোবো৷ মামাবাড়ি মানে বর্ধমানে যাব কয়েকদিনের জন্য৷ মা তোমাকে কিছু বলেনি?

    নাহ বউদি কিছু…

    মা…ও মা…

    তপতী বাইরেই দাঁড়িয়েছিল৷ অপুর ডাক শুনে ঘরে এসে বলল, কী বলছিস?

    তুমি জেঠুকে বলোনি তোমাকে নিয়ে কাল বর্ধমানে যাব৷

    কই…আমাকে…

    আরে তোমাকে বলেছিলাম না কয়েকদিন আগে? ভুলে গেছ? বলতে বলতে মাকে চোখ টিপে ইশারা করল অপু৷

    ও হ্যাঁ বলেছিলি না…তাই তো…কোনওমতে কথাগুলো বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল তপতী৷ অপু বাকিটা ট্যাকল করল, জেঠু, তুমি এক কাজ কোরো তাহলে কাল সকালে চলে যেও৷ আমরা ফিরে আসি তারপর আবার নাহয় এসে কয়েকদিন থেকে যেও কেমন…আসলে ওখানে বলা রয়েছে৷

    চলে যাব? আমি যে কয়েকটা দিন…

    আসলে তুমি তো কিছু বলেও আসোনি৷ আমাদের কাল যেতেই হবে, খুব দরকার রয়েছে…মিথ্যে কথাগুলো বলতে সত্যিই খারাপ লাগছিল অপুর৷ আজ সারাদিন ধরে পুরোনো জীবনের ছোটছোট মুহূর্তগুলো মনে এসেছে ওর৷ অনেকদিন পর স্মৃতির টুকরোগুলো নাড়াচাড়া করতে বড় ভালো লেগেছে কিন্তু স্মৃতি-ভাবনা আর বাস্তবে বড় ফারাক৷

    তুমি তাহলে কাল সকালে চা-টা খেয়েই যেও৷ বলতে বলতে অপু দেখছিল বাদলের আশেপাশে কোনও ওষুধের স্ট্রিপ বা ব্লেড ইত্যাদি কিছু রয়েছে কি না৷ নাহ কিছুই নেই৷

    আচ্ছা…৷ চলে যাব তাহলে৷ শান্তভাবে উত্তর দিল বাদল৷ তারপর আবার চোখ বুজে ফেলল৷

    অপু ঘর থেকে বেরিয়ে দেখল মা রান্নাঘরে৷ হাঁড়ি থেকে গরম ভাত ঢালছে নতুন একটা থালায়৷ অপু কিছু বলার জন্য একবার থামল তারপর কিছু না বলেই ঘর পেরিয়ে চলে গেল৷

    .

    সকাল সাতটা নাগাদ রোজ ঘুম থেকে ওঠে অপু৷ আজও উঠল৷ ওঠামাত্রই মনে পড়ল বাদলজেঠুর কথা৷ মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা গুরগুর করে উঠল৷ ধড়মড় করে উঠে ওই ঘরে দেখতে দেখতে যেতে গিয়ে দেখল পাশের ঘরে মা স্টিলের আলমারি খুলে বসেছে৷ এই সকালে জামা কাপড়ের আলমারি খুলে মা কী করছে?

    মা৷ ডাকল অপু৷

    উঁ মুখ না ফিরিয়েই উত্তর দিল তপতী৷ তারপর শুধু বলল, দেখেছি, ঠিক আছে৷ একটু পরে চা দেব৷ চা খেয়ে চলে যাবে বলেছেন৷ তুই চিন্তা করিস না৷ মায়ের গলা যেন সামান্য ভারি৷

    শুনে কিছুটা নিশ্চিন্ত হল অপু৷ তারপর আবার জিজ্ঞাসা করল তুমি সকালে আলমারি খুলে কী করছ?

    খুঁজছি৷ আলমারির ভেতরে হাত ঢুকিয়ে জামাকাপড়ের স্তূপের মধ্যে কী যেন খুব মনোযোগ দিয়ে খুঁজছিল তপতী…৷ কোথায় যে গেল…এখানেই তো ছিল… নিজের মনেই বলতে বলতে আবার বলে উঠল এই তো এতক্ষণে পেয়েছি…বাব্বাহ! বলে স্বস্তির শ্বাস ফেলল তপতী৷

    কী ব্যাপার বলো তো৷ কী পেলে?

    তপতী উত্তর না দিয়ে শুধু বলল রান্নাঘরে চা-টা বসানো রয়েছে একটু ছেঁকে নিবি৷ তুই তোরটা শুধু নিয়ে নে, আমি আমার আর বাদলদারটা নিয়ে নেব৷

    হুঁ বলে রান্নাঘরের দিকে এগোল অপু৷

    প্রায় আধঘণ্টা পরে অপু দেখল বাদলজেঠু তৈরি হয়ে বেরোচ্ছে৷ ঠাকুরঘরের সামনে এসে রাধাগোবিন্দকে সাষ্টাঙ্গে প্রমাণ করল, সম্বল বলতে একটা ছোট পুরোনো প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ৷ ওর মধ্যে গতকালকের লুংগি আর একটা গামছা৷ প্রণাম সেরে মেঝেতে দেওয়ালে ভর দিয়ে কোনওমতে উঠে দাঁড়াল৷ মা এসে সামনে দাঁড়িয়েছে৷

    বউদি চলি তাহলে ফ্যাঁসফেঁসে গলায় বলল বাদল জেঠু৷

    একটু দাঁড়ান বাদলদা৷ অপুর বাবা খুব শখ করে এই তসরের পাঞ্জাবিটা বানিয়েছিল৷ পরতে পারেনি, অপু তো পাঞ্জাবি পরে না৷ আপনি পরবেন? নিন এটা৷ বলে হাতে ধরা একটা পাট করা গোলগলা পাঞ্জাবি বাদলজেঠুর দিকে এগিয়ে দিল মা৷

    আমাকে দিচ্ছেন? আবার কোঁচকানো গালে টান দিয়ে হাসল বাদল জেঠু৷ চোখদুটো জুলজুল করে উঠল উটকো আনন্দে৷ হাতের প্লাস্টিকটা মেঝেতে নামিয়ে রেখে পরম যত্নে দুই হাত বাড়িয়ে পাঞ্জাবিটা নিয়ে বড় আদরে দেখল তারপর বলল পরেই নিই কী বলেন?

    হ্যাঁ যা ইচ্ছে আপনার৷

    ওখানে দাঁড়িয়েই নিজের গায়ের ময়লা কোঁচকানো প্রাচীন পাঞ্জাবিটা গা থেকে ছেড়ে শতচ্ছিন্ন স্যান্ডেগেঞ্জির ওপর ওই নতুন ঝকঝকে ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবিটা পরল বাদলজেঠু৷ পাঞ্জাবি পরতে গিয়েও যেন হাঁফিয়ে উঠল৷ তারপর পুরোনো পাঞ্জাবিটা পাকিয়ে প্লাস্টিকে ভরে নিয়ে বলল, চলি বউদি৷ আসি রে অপু, মাকে সাবধানে নিয়ে যাস৷ বারান্দার নিচে রাখা অর্ধেক ক্ষয়ে যাওয়া চটিতে পা গলিয়ে খুব ধীরে ধীরে পা ফেলে এই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেল বাদলজেঠু৷ অপু আর তপতী দুজনেই চুপ করে তাকিয়ে থাকল যতক্ষণ না সেই পাঞ্জাবিটা ওদের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডানাওলা মানুষ – বিনোদ ঘোষাল
    Next Article অনির্বাণ অমিতাভ – বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিনোদ ঘোষাল

    ডানাওলা মানুষ – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    বিনোদ ঘোষাল

    কৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }