Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোঞাই – ৪

    ৪

    নন্দ চাটুজ্জের ভদ্রাসনে মহাপ্রসাদ কিছু বেশি পরিমাণে সেবা করা হয়ে গেছে। দুর্গাচরণ তাই জানিয়ে রেখেছেন, রাত্রে এক কুচো প্রসাদ মুখে দেবেন মাত্র। সন্ধ্যাহ্নিক সেরে তিনি উঠে এলেন ভিতরবাড়িতে। এত সকাল-সকাল সচরাচর তিনি বৈঠকখানা ছেড়ে আসেন না। সন্ধ্যায় তাঁর কাছে আসতে থাকে নানান দর্শনার্থী। অধিকাংশই তন্তুবায় পরিবার। তাদের নানান আর্জি, নানান দাবী-দাওয়া। আজ কিন্তু উনি এক প্রহর রাত না হতেই শয়নকক্ষে প্রবেশ করলেন। মৃন্ময়ী ঘরে ঘরে ধুনো দিচ্ছিল বিশেষ করে শয়নকক্ষে। মশা প্রচণ্ড! সন্ধ্যাবেলায় ধুনো না দিলে ওরা ঝাঁকে ঝাঁকে ঢুকে পড়ে। বামুনবাড়ি বলে রেয়াৎ করে না। দুর্গা ওকে কাছে ডাকলেন, শোন। এখানে এসে বস দিনি। কতা আছে।

    —রসুন, তেলের বাটিতে এট্টু তেল গরম করে আনি।

    —থাক না, ছুট্‌কি। একদিন পদসেবা না করলে তোমার সগ্যের বাতি কমতি হবে না। বসো দিনি। দুটো প্রাণের কতা কই! আজ একটা ভারি মজার কতা শুনে এলুম চাটুজ্জেবাড়ি তোমারে বলি।

    মৃন্ময়ীকে উনি সচরাচর ‘ছোট গিন্নি’ নামে ডাকেন। আবেগ উথলে উঠলে—‘ছুট্‌কি’! মৃন্ময়ী ওঁর নাগালের মধ্যে একটা তালপাখা এগিয়ে দিয়ে বলে, কী শুরু করলেন আপনি! সঝে রাতে প্রাণের কতা! ঠাকুরপোর আহ্নিক এখনো সারা হয়নি। ঠাকুরঘরে অংবং করছেন।

    —করুন। তুমি ইদিকে এস দিনি।

    মৃন্ময়ী ওঁর চতুর্থপক্ষ। এ সংসারে এসেছে সম্প্রতি। এখনো বছর পোরেনি। নববধূই বলা চলে। তখন সে ছিল পঞ্চদশী। এক বছরেই ষোলকলা পুরেছে। ভাগ্যবতী বলতে যা বোঝায়। এই ভরভরান্ত গাঙ্গুলী পরিবারে রাজ-রাজেশ্বরী হয়ে এসেছিল একেবারে অসপত্ন-অধিকারে! কটা এয়োতি মেয়ের সে ভাগ্য হয়? বড়-সতীন—যদি আজও বেঁচে থাকেন—তাহলে পঞ্চাশোর্ধবা—দীর্ঘদিন কাশীবাসী। একটিমাত্র সন্তান তাঁর—কন্যাসন্তান। মাঝের দুই সতীন অসময়ে সংসারের মায়া কাটিয়েছে। একটি সন্তান প্রসব করতে গিয়ে—আহা ছেলেই হত তার, হল না। দ্বিতীয় জন আন্ত্রিক রোগে। বৃদ্ধ বয়সে লুপ্ত-পিণ্ডোদক হবার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে বৃদ্ধকে চতুর্থপক্ষ করতে হল। তবে মৃন্ময়ীকে বিবাহ করতে প্রথমটা কিছুতেই স্বীকৃত হননি—তার একমাত্র অপরাধ, সে অত্যন্ত সুন্দরী! দৃঢ় আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন, না, না, সে হয় না। আমি তো শুধু বংশধরের কামনায় ……

    কন্যাদায়গ্রস্ত ব্রাহ্মণ পীতু মুখুজ্জে ওঁর হাতদুটি ধরে বলেছিলেন, কী আবোলতাবোল বলছেন গাঙ্গুলী-মশাই! পুত্র কামনাতেই তো সবাই বিবাহ করে! শাস্ত্রেই আছে—‘পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা’! আমি যে নিতান্ত গরিব! উপযুক্ত কুলীনের মর্যাদা দেবার সামর্থ্য কি আমার আছে? কোথায় বিয়ে দেব?

    দুর্গাচরণ শেষমেশ সম্মত হয়েছিলেন, কিন্তু এক কঠিন শর্তে! শুধু শাঁখা-সিঁদূর। আর মাত্র এক কপর্দক কৌলিন্য মর্যাদা!

    ওটা নিতেই হয়। শাস্ত্রীয় নির্দেশ!

    তা মনস্কামনা সিদ্ধ হয়েছে গাঙ্গুলীমশায়ের। বছর না ঘুরতেই নববধূর গর্ভসঞ্চারের লক্ষণ পরিস্ফুট! গৃহকর্তার আনন্দের আর সীমাপরিসীমা নাই! এই বাষট্টি বৎসর বয়সে যে নিয়োগপ্রথার সাহায্য নিতে হল না, এটাই পরম তৃপ্তি। বস্তুত সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা আদৌ আছে কি না এ বিষয়ে তাঁর নিজেরই সন্দেহ ছিল। ছয় দশক দুনিয়াদারী করে তিন-তিনটি সহধর্মিণীকে পার করার পরেও তাঁর ধর্মরক্ষা হয়নি—পুত্র সন্তান ছিল না এতদিন। কনিষ্ঠ দুটি ভ্রাতা আছে, তাদের সন্তানও আছে—কিন্তু পুত্রের হাতে পিওলাভের একটা আলাদা তৃপ্তি! প্রতিজ্ঞা করেছেন, এবার যদি পুত্রসন্তান লাভ করেন তাহলে আগামী বৎসর এ ভদ্রাসনে দুর্গোৎসব লাগিয়ে দেবেন। গ্রামে একটিই দুর্গা পূজা হয়—ভাদুড়ী বাড়ি—এবার ‘বারিন্দির’দের কব্জা থেকে মুক্তি পেয়ে এই রাঢ়ভূমে পূজা পাবেন জগজ্জননী। সেই লোভে পড়েও কি মা দুর্গা ওঁকে একটি সোনার চাঁদ উপহার দেবেন না? কন্যা সন্তান আছে—বড় বৌয়ের। শোভারাণী। মৃন্ময়ীর চেয়ে মাত্তর বছর তিনেকের বড়। তার মা-মাগী কাশী যাবার আগে তাকে ওঁর স্কন্ধে চাপিয়ে দিয়ে গেছে। পাষাণী যাকে বলে, আর কী!

    মৃন্ময়ীকে চাটুজ্জে-বাড়ির কেচ্ছাটা না শোনানো পর্যন্ত ওঁর তৃপ্তি হচ্ছিল না। ব্যাপারটা ঠিক মতো সমঝে উঠতে পারেননি। দ্বিপ্রহরে প্রাগাহার পর্যায়ে দ্বাদশ ব্রাহ্মণ তামাকু সেবন করছিলেন। পংক্তিভোজনে বসবার আহ্বান শুনে নিতান্ত খোলা মনে বলেছিলেন, রুপো বাঁড়ুজ্জে এখনো আসেনি দেখছি?

    অন্দরমহলের দ্বারপ্রান্তে দণ্ডায়মান ছিলেন গৃহস্বামী স্বয়ং, নন্দ চাটুজ্জে। তিনি তৎক্ষণাৎ বলে ওঠেন, রুপো গুনতির বামুন নয়। আপনারা বারো জন এসেছেন। আসুন……..

    —তা এসেছি। কিন্তু রুপো বাঁড়ুজ্জের ভিটে তো আর তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে নয়। কেউ আগ্ বাড়িয়ে তাকে ডেকে আনলে সবাই একসঙ্গে…

    না। তার দেরী হবে। সে ভিন্‌ গাঁয়ে গেছে রুগী দেখতে।

    অতপর সবাই পংক্তি ভোজনে বসে পড়েন। বেণী চাটুজ্জে বসে ছিল ঠিক ওঁর পাশেই। নন্দের জ্ঞাতি ভাই—সরিক আর কী। দুর্গাচরণের কর্ণমূলে নিবেদন করেছিল, ‘একবগ্গা’ আসবে না গাঙ্গুলীদাদা। সে নেমন্তন্ন গ্রহণই করেনি।

    স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন দুর্গাচরণ। পঞ্চদেবতার অন্যতম শেষ দেবতাটি হাপিত্যেসে গণ্ডূষ -জলের অপেক্ষায় আছেন। অস্ফুটে ‘অপানায় স্বাহা’র বদলে বলে ফেলেন, বল কী হে? কেন?

    —পরে বলব।

    এই মর্মান্তিক সংবাদটা কি মধ্যাহ্ন আহারের পরে পরিবেশন করা চলত না? মন দিয়ে আর মহাপ্রসাদ গ্রহণ করতেই পারেননি। ব্যাপার কী? এ যে অবিশ্বাস্য! যদ্দুর মনে পড়ে একবগ্গার পাড়ে তো একটাই মাথা দেখেছেন! তাহলে?

    আহারান্তেও সমস্যাটার সমাধান হয়নি। নন্দ সবাইকে চোখে চোখে রেখেছেন সেবান্তিক তাম্বাকু সেবনের পর্যায়ে। ওরই ফাঁকে একবার সুযোগ পেয়ে বেণীকে একটা কনুইয়ের গোত্তা মারার সৌভাগ্য জুটেছিল, কী ব্যাপার হে? সৌদামিনী? অ্যাদ্দিন পরে?

    —ঠিক জানি না দাদা। সদুর কেচ্ছা কি একবগ্গা জানে? সে তো তখন ভিন গাঁয়ে। আপনার ভাদ্দর-বৌ বলছিল, নন্দদা নাকি জগুদিদির কাছে প্রস্তাব তুলেছিলেন—হরিমতির সঙ্গে…

    —তা তো হতেই পারে; তার সঙ্গে নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করার কী সম্পর্ক?

    বেণী জবার দেবার সুযোগ পায়নি। হঠাৎ দেখে জগুঠাকরুণ সন্দিগ্ধ চোখে এগিয়ে আসছেন। বলে, আরে জগুদিদি! আপনি কখন এলেন?

    জগুঠাকরুণ অনিমন্ত্রিত এসেছেন। মধ্যাহ্নে শুধু ব্রাহ্মণ-সেবার আয়োজন। তিনি বিধবা, মানুষ। তাঁর আহারের প্রশ্ন তো নেই। তিনি না এসে পারেননি। সকাল থেকে দেখা-শোনা করছেন, তরকারি কুটে দিচ্ছেন। পাগল ভাইপোটার ঐ হিমালয়ান্তিক অপরাধের যদি সামান্য কিছুটা স্খালন হয়।

    দুর্গাচরণ ভালমানুষটি সেজে বলেন, কখন এসেছেন মানে? এ তো জগুদিদির নিজের বাড়ি। জগুদিকে বাদ দিয়ে সোঞাই গাঁয়ে কোন যজ্ঞিবাড়ির কাজ কখনো হয়েছে, যে আজ নতুন করে হবে?

    জগুঠাকরুণ কথা ঘোরান, মিনুটা এখন কেমন আছে? এ সময়ে খুব সাবধানে রাখবে ভাই। ঘরের বার হতে দেবে না। নজর-টজর না লাগে।

    ছয়দশকের দুনিয়াদারীর অভিজ্ঞতা নিয়ে হবু পিতা বোধকরি লজ্জা পেলেন। নতমস্তকে বলেন, সেসব তো আপনাদেরই দেখার কথা, দিদি। আসবেন সুযোগ মতো। পায়ের ধুলো দেবেন, আশীর্বাদ করবেন, আর ঐ সঙ্গে দুটো সৎ পরামর্শও দেবেন! তা, ভাল কথা। রুপো কোন গাঁয়ে গেল চিকিচ্ছে করতে? এতটা বেলা হয়ে গেল……

    নন্দ বৃদ্ধাকে মিথ্যাভাষণের হাত থেকে অব্যাহতি দিলেন। বলেন, না, আর খোশ গল্প নয়। জগুদি, আপনি এবার মেয়েদের ঠাঁই করতে বলুন।

    দুর্গাচরণ মনে মনে হেসেছিলেন। বেণীটা তাহলে তো মিছে কথা বলেনি। একবগ্গা বাঁড়জ্জে তাহলে নন্দ চাটুজ্জের নাকে সত্যিই ঝামা ঘষে দিয়েছে! কিন্তু কেন? একবগ্গা ঠাকুর এভাবে ক্ষেপে গেল কেন?

    একটু পরে সংসারের কাজ সেরে মৃন্ময়ী এসে বসল ওঁর শয্যাপ্রান্তে। তেল না হয় নাই দিল পায়ে হাত বুলিয়ে দেওয়াটা বাদ দেবে কেন? বলে, এবার বলুন, কী বলছিলেন তখন?

    এই এক যন্ত্রণা! মৃন্ময়ী ওঁর সন্তানকে গর্ভে ধারণ করতে পারল, কিন্তু ‘আপনি’ ছেড়ে ‘তুমি’তে নামতে পারল না। নিবিড়তম মুহূর্তেও!

    দুর্গা গম্ভীর হয়ে বলেন, বামুনদি তো কাজ ছেড়ে দেননি, তাহলে তোমার এই হাল কেন ছোটগিন্নি?

    জনান্তিকে ‘ছুটকি’ থেকে ‘ছোটগিন্নি’তে যখন সম্বোধনটা সরে গেছে তখন বুঝে নিতে হবে কর্তা অসন্তুষ্ট। কারণটা বুঝে উঠতে পারে না। কাজলকালো দুটি চোখ মেলে বলে, মানে?

    —যে রাঁধে, শুনেছি সে চুল বাঁধে না। তার একটা কৈফিয়ৎ থাকে। তা তোমার এ হাল কেন হল?

    শোভারাণীর বিকালের দিকে তেড়ে জ্বর এসেছিল। মালোয়ারি। এ জ্বর ঘরে ঘরে। এই অসে এই যায়। ওর মাথায় জলপটি দিতে দিতে মৃন্ময়ী বিকালে চুল বাঁধার সময় পায়নি। স্বামীর প্রশ্নে ফিক্ করে হেসে বলে, আপনার সব দিকে নজর!

    —মাথার পিছনেও এক জোড়া চোখ না থাকলে কি এত বড় সংসারটা চালাতে পারি ছোটগিন্নি? আর শুধু কি সংসার? এই পঞ্চগ্রামের গোটা সমাজটা। সে কতা নয়, কিন্তু ভরসন্‌ঝে বেলায় এলোচুলে থাকতে নেই—বিশেষ করে পোয়াতি মাগীর—এই কটা কতাও কি শিখিয়ে দেয়নি তোমার মা-আবাগি?

    মৃন্ময়ী নিতান্ত গরিব ঘরের মেয়ে। শাঁখা-সিঁদূর সম্বল করে এ সংসারে এসেছিল। তার পিতৃকুলকে উদ্ধার করেছেন কুলীন কুলতিলক। প্রায় বছরখানেক সকাল-সন্ধ্যা শ্বশুরালয়ের নানান জনের মুখে বাপমায়ের সম্বন্ধে এজাতীয় মধুর বিশেষণ শুনে শুনে এখন সে অভ্যস্তা। কোন ভাবান্তর হয় না আর। পিঠভরা চুলের শেষপ্রান্তে একটা গ্রন্থি দিয়ে বলে, কী মজার কতা বলবেন বলছিলেন তখন?

    দ্বিপ্রহরে সংগৃহীত মজাদার কেচ্ছাটা সবিস্তারে বর্ণনা করেন, যার উপসংহার : হেতু যাই হোক, নন্দ চাটুজ্জের নিমন্ত্রণ প্রত্যাখান করেছে একবগ্গাটা!

    নামটা শুনেই কেমন যেন বিহ্বল হয়ে পড়ে মৃন্ময়ী।

    একবগ্গা-ঠাকুর! রূপেন্দ্রনাথ! ওর প্রতিবেশী। পীতাম্বর চাটুজ্জের চালাখানা পদ্মদীঘির পুবপারে আর বাঁড়ুজ্জে বাড়ির ভদ্রাসন পশ্চিমপারে। মাঝখানে ঐ পদ্মদীঘি—রসি কয়েক ব্যবধান। রসি কয়েক, তবু অতলান্ত। রুপোদা ওর চেয়ে নয় বছরের বড়। তাঁর সান্নিধ্য ও অবশ্য খুব ঘনিষ্ঠভাবে পায়নি, পাশের বাড়ির বাসিন্দা হয়েও। তিনি তো মিনুর জ্ঞান হবার পর থেকেই গুরুগৃহে। তবে কাত্যায়নী ওর সমবয়সী, সখী। সকাল-সন্ধ্যা দেখা হত। প্রাণের কথা হত। তা হোক, রুপোদা বৎসরান্তে এক বার আসত। দেখা হত।

    ‘নয়’ একটা গাণিতিক সংখ্যা। গণিত বলে সেটা নিৰ্গুণ। ঐ নয়’ সংখ্যাটা। নয়টি আসরফি আর নয়টি কপর্দকের মূল্যমানে যা ফারাক তার জন্য ‘নয়’ দায়ী নয়। কিন্তু হিসাবটা কি ঠিক? সব ‘নয়’ কি এক জাতের?

    স্মৃতি ভিড় করে আসছে। প্রায়-শৈশবের একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। দামোদরের বাইচ প্রতিযোগিতা হচ্ছে। ভিড়ে-ভিড়। কিছুতেই দেখতে পাচ্ছিল না বেচারি। হঠাৎ রুপোদা ওকে কোলে তুলে নিয়ে বসিয়ে দিল কাঁধে। বললে, কী রে মিনু? এবার দেখতে পাচ্ছিস? কাতু চিৎকার করে নিচে থেকে বলে, নেমে আয় বলছি! পাজি, বাঁদর। ও তো আমার দাদা! আমি ওর কাঁধে চড়ব। তুই চড়েছিস্ কোন আক্কেলে?

    রুপোদা বোনকে ধমক দিয়েছিল, হিংসুটেমি করলে তোকে কোনদিন কোলে নেব না কিন্তু কাতু!

    তখন মিনুর বয়স ছয়। তাহলে রুপোদার কত? নয়ে ছয়ে পনের

    মনে পড়ে আরও একদিনের ঘটনা। পিতৃশ্রাদ্ধ করতে এসেছিল রূপেন্দ্রনাথ। কাচা গলায় উদাস দৃষ্টি মেলে বসেছিল সামনের দাওয়ায়। মিনু তার কোল ঘেঁষে বসে পড়ে বলেছিল, তুমি কেঁদ না, সোনাদা। আমার তো বাবা আছেন, আমরা দুজন তাঁকে ভাগ করে নেব। কেমন?

    সোনাদা সেদিন ম্লান হেসে ওর চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়েছিল শুধু। একজন পিতৃবিয়োগে মুহ্যমান, আর-জন তার ছোট্ট দুটি হাত দিয়ে তার চোখের জল মুছিয়ে দিতে চায় হিসাব কষে দেখ, একজন আট, আর জন সতের। ফারাক সেই সমান—নয় বছর।

    সোনাদা! নামটা ওরই দেওয়া। মনে আছে, একদিন প্রশ্ন করেছিল, আচ্ছা তোমার নাম ‘রুপোদা কেন গো? ‘সোনাদা’ হলে আরও মানোতো।

    রূপেন্দ্র ছদ্মগাম্ভীর্যে বলেছিল, তুই আমার দাম কমিয়ে দিতে চাইছিস, মিনু? জানিস না, সোনার চেয়ে রুপো দামী?

    হঠাৎ হকচকিয়ে যায়। তাই নাকি? রুপোদা তো মিছে কথা বলে না। পরে বাবামশাইকে প্রশ্ন করে জেনে নিয়েছিল। রুপোদার পিঠে গুম্‌ম বসিয়ে বলেছিল : মিথ্যুক! তোমাকে আমি কী শাস্তি দিই দ্যাখ!

    —কী শাস্তি দিবি? তোর কিলে আমার কিছু হয় না!

    —শুধু কিল কেন? তোমাকে সবার সামনে আমি ‘সোনাদা’ বলে ডাকব।

    তা কিন্তু পারেনি। কারণ পরের বছর দুর্গোৎসবে যখন রুপোদা ফিরে এল, তখন সে কেমন যেন তালঢ্যাঙা হয়ে গেছে। না ভুল হল, দুর্গোৎসবে সেবার আসতে পারেনি। প্রায় দেড় বছর পরের কথা। ততদিনে মিনুও মৃন্ময়ী হয়ে উঠতে শুরু করেছে। একাদশবর্ষীয়া কিশোরী। তার দেহেমনেও ভিতর থেকে পরিবর্তন শুরু হয়েছ। বুঝতে পেরেছিল সর্বসমক্ষে ওঁকে আর ‘সোনাদা’ ডাকা যায় না। সে বড় লজ্জার কথা! সেবার উনি ফিরে এসেছিলেন ফাল্গুন মাসে—দুর্গোৎসব পার করে। জগুপিসির ‘মায়ের দয়াত হয়েছে খবর পেয়ে। রঙ-দোলের আগেই ভাল হয়েছিল পিসি। তখন দখিন থেকে বইতে শুরু করেছে একটা পাগলা হাওয়া। প্রতি বছরই হয় তো তা বয়। কিন্তু মৃন্ময়ী সেই কিশোরী বয়সে তখন প্রথম বুঝতে শিখছে—ওটা ‘মন-কেমনের’ হাওয়া। প্রতি বসন্তেই হয়তো নিলর্জ্জ কোকিলটা অমন আকুলভাবে ডাকে। এ বছরই যেন সেটা প্রথম খেয়াল হল। কাতুকে রঙ দিতে গিয়েছিল বাড়জ্জে বাড়ি। কাতু কোথায় লুকিয়ে বসে আছে ঘাপটি মেরে। আনাচে-কানাচে খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ মুখোমুখি পড়ে গিয়েছিল তাঁর। রুপোদার হাতে একটা আবীরের পুঁটুলি। সেও বুঝি এতক্ষণ ছেলের দলে রঙ খেলছিল। দোর আগলে বললে, এবার?

    বুকের মধ্যে ধড়াস্ করে উঠেছিল কিশোরী মেয়েটির। এ কে? ঐ তালঢ্যাঙা মানুষটা? আর ওর গলার স্বরও তো রুপোদার মতো নয়! আশেপাশে তাকিয়ে দেখে–ত্রিসীমানায় কেউ নেই! কী সর্বনাশ! এখন যদি ঐ লোকটা ওকে…….

    রুপোদা ‘এবার’? বলে ওর দিকে এক পা এগিয়ে আসতেই কী যেন কিসের আশঙ্কায় ওর সারা দেহ থরথর করে কেঁপে উঠল। ওর মনে হল—এখনি দুই হাত বাড়িয়ে রুপোদা ওকে বুকে টেনে নেবে। আর তার পর ওর মুখে, বুকে, সর্বাঙ্গে….

    দুরন্ত লজ্জায় দু-হাতে মুখ ঢেকে বলে ওঠে, নৃ-না!

    রুপোদা থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। ওর আতঙ্কতাড়িত কচি মুখখানার দিকে অবাক দৃষ্টিতে নির্নিমেষলোচনে শুধু তাকিয়ে দেখেছিল। তারপর কী ভেবে যেন অনুমতি ভিক্ষার সুরে জানতে চেয়েছিল, কী ব্যাপার রে মিনু?

    মুখ থেকে হাত সরায়নি। আবীরমাখা লালে-লাল মাথাটা ঝাঁকিয়ে সে পুনরুক্তি করেছিল শুধু, ন্‌-না!

    কী বুঝল তা সেই জানে। হাসতে হাসতে বললে, রঙ মাখতে এত ভয়? ঠিক আছে, আমি আলতো করে একটা টিপ্ শুধু পরিয়ে দিই তোমার কপালে। কেমন? বোকা মেয়ে! তুমি এখনো খুকি!

    বোকা! বোকা কে? আমি, না তুমি? কথা কটা শুধু মনেই ফুটেছিল, মুখে নয়। কপালে একটা টিপ নিয়ে এক ছুটে পালিয়ে গিয়েছিল। একটু দৌড়েই, থেমে, পিছন পানে তাকিয়ে দেখেছিল। না, রুপোদা ওকে তাড়া করে আসেনি!

    আড়ালে গিয়ে ইচ্ছে করছিল নিজের গালেই ঠাস্ ঠাস্ করে চড় কষাতে। স্নানের সময় সেই এক বিন্দু আবীরের টিপটুকুও ধুয়ে গেল! যাক্! কিন্তু সোনাদা সেই প্রথম ওকে ‘তুই-তোকারি’— করতে পারেনি। চিরটা কাল যাকে ‘তুই” বলেছে, তাকে সেদিন বলতে হয়েছিল, ‘তুমি এখনো খুকি।’

    কেন গো? এই বোকা মেয়েটাকে তুমি বুঝিয়ে দেবে গো পণ্ডিতমশাই? ‘তুই’ কেমন করে ‘তুমি’ হয়ে যায়?

    —কেন গো? কারণটা কী হতে পারে?

    রীতিমতো চমকে উঠেছে মৃন্ময়ী। তার নিজের মনের ঐ নিভৃত প্রশ্নটা এই নির্জন কক্ষে স্বামীর কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়ে ওঠায়।

    —কী হল? দেয়ালা দেখছ নাকি? অমন চমকে উঠলে যে?

    —কিছু নয়। কী জিজ্ঞেস্ করছিলেন যেন?

    —মানে, কারণটা কী হতে পারে? কেন একবগ্গা এমন কাণ্ডটা করে বসল? সেই সৌদামিনীর কেচ্ছা?

    এতক্ষণ স্মৃতিচারণে যে পুণ্যতোয়া ভাগীরথীর উজান পথে কৈশোর-বাল্যের গোমুখ গঙ্গোত্রীর নির্মল জলে অবগাহন করছিল তাতে এসে মিশল পূতিগন্ধময় নর্দমার ক্লেদাক্ত জল! মনটা বিষিয়ে ওঠে! টানা নথে অনুবিদ্ধ নাকটা কুঞ্চিত হয়ে ওঠে। বলে, সদুপিসি! বাবা! পারেনও বটে আপনারা! মরেও সে হতভাগীর শান্তি নেই!

    —আহাহা! আবার আমাকে টানছ কেন ছোটগিন্নি? আমি কী করেছি?

    নন্দ চাটুজ্জে তার বালবিধবা শ্যালিকাটিকে আশ্রয় দিয়েছিল নিজ ভদ্রাসনে। যৌবনপ্রাপ্তির পর তার অপঘাত মৃত্যু হয়েছে বছর-পাঁচেক আগে। কেউ বলে আত্মহত্যা, কেউ বা—হত্যাই। অনেকেরই বিশ্বাস কীর্তিটা স্বয়ং নন্দেরই—মানে, অন্তিম মৃত্যুর আগের যে মৃত্যু—অর্থাৎ কে সেই বিধবাটির গর্ভসঞ্চ.. করেছিল তাও নাকি সবার জানা। তবে প্রকাশ্যে সবাই মেনে নিয়েছিল—খাদ্যে বিষক্রিয়া। কার্তিক ময়রার পচা পক্কান্নো খেয়ে। পঞ্চায়েত তাই কার্তিককে অর্থদণ্ডও করেছিল—মায়ের থানে একটি পাঁঠা দিতে হয়েছিল তাকে। অবশ্য কার্তিক আড়ালে স্বীকার করে, তার দামটা নন্দ গোপনে ওকে মিটিয়ে দিয়েছিলেন। মৃন্ময়ী এ-গ্রামেরই মেয়ে। ফলে আর পাঁচজনের মতো এসব কেচ্ছা তার না-জানা নয়। এতদিন পরে সেই হতভাগিনীর নামটা উঠা পড়ায় তাই ও-কথাটা বলে ফেলেছে।

    দুর্গাচরণ বলেন, বেণী আবার একটা উল্টো কতা শোনালো, বুয়েছ? তার বউয়ের খপর—নন্দ চাটুজ্জে নাকি হরিমতির সঙ্গে সুরোর বে-র কথা বলে। তাতেই ঐ একবগ্গা ঠাকুর ক্ষেপে গিয়ে—

    —তা তো ক্ষেপবারই কথা বাপু! ওঁর সঙ্গে কি হরিমতিকে মানায়?

    —তুমি যে অবাক করলে ছোটগিন্নি! কুলীন ঘরের আইবুড়ো ধেড়ে খোকা! কেউ বিয়ের কথা তুলতে এলে মায়ের পেসাদ প্রেত্যাখ্যান করবে?

    মৃন্ময়ীকে স্বীকার করতেই হয়, সে-কথা ঠিক। এটা রুপোদার একটু বাড়াবাড়ি হয়েছে।

    দুর্গাচরণ হেসে ফেলেন, ‘রুপোদা’ কী গো! তুমি যে সম্পর্কে তার খুড়ি!

    মৃন্ময়ী লজ্জা পায়। কথাটা তার খেয়াল ছিল না।

    দুর্গা কৌতুক করে ওর তলপেটে আঙুল ছুঁইয়ে বলেন, একবগ্গাটাকে ‘রুপোদা’ যে ডাকবে সে তো এখানে ঘুমুচ্ছে গো!

    মৃন্ময়ী দুহাতে মুখ ঢাকে।

    কর্তা পাশ ফিরে শুলেন। বলেন, পিঠে এট্টু সুড়সুড়ি দিয়ে দাও দিনি।

    স্বামীর পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে আর এক দিনের কথা মনে পড়ে গেল মৃন্ময়ীর। সেই তাঁর সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ। গ্রামে ফিরে আসার পরে তাঁকে আর দেখেনি। তার পূর্বেই মৃগী গাঙ্গুলীবাড়ির নববধূ হয়ে গেছে। ওর বিয়ে হয়েছিল মাঘে। সে বছর আশ্বিন মাসের কথা। সে বারও উনি গাঁয়ে এসেছিলেন দুর্গোৎসবে। তখনো কিন্তু দুজনের বয়সের ফারাক সেই নয় বৎসর। মিনু পনের, রূপেন্দ্রনাথ চব্বিশ।

    বিজয়ার পরদিন সকালে মৃন্ময়ী এসেছে জগুপিসিকে প্রণাম করতে। কাতু বললে, দাদাকে পেন্নাম করবি না, মিনু?

    মীনু হেসে বলেছিল, করব না! বলিস কীরে! সবাই বলে, তিনি দিগ্‌গজ পণ্ডিত হয়ে গেছেন। একটা পেন্নাম ঠুকে দিলে ভালমন্দ আশীর্বাদ পেয়ে যাব!

    কাতু বলেছিল, দস্তুরি যদি দিস্, ভালোমত আশীর্বাদ পাইয়ে দেব। কী বর চাস বলদিনি? শিবের মতো বর?

    মিনু ফিফিসিয়ে বলেছিল, শিবের মতো হোক-না-হোক। তোর মতো বেপাত্তা বর যেন না হয়!

    তারপর লজ্জিত হয়ে কাত্যায়নীর হাতখানা টেনে নিয়ে বললে, ছি, ছি। বচ্ছরকার দিনে বেফাঁস কথাটা বলে তোকে মিছিমিছি দাগা দিলাম।

    কাত্যায়নী ম্লান হেসে বলেছিল, কিন্তু কতাটা তো মিছে নয় রে মীনু! এ সব্বোনাশ যেন শত্রুরেরও না হয়। কোনদিন মানুষটাকে চোখেই দেখিনি!

    একট! দীর্ঘশ্বাস চেপে বলেছিল, আয়।

    —কোথায়? রুপোদা কী করছে?

    —চিরটাকাল যা করেছে। পুঁথি পড়ছে।

    পুবের জানালাটা খোলা। এক ঝলক প্রভাত-সূর্যালোক ঘরে ঢুকে পড়ে যেন থমকে গেছে। রূপেন্দ্রনাথ তন্ময় হয়ে কী একটা পুঁথি পড়ছিলেন। কাত্যায়নী তাঁকে ডাকতে গেল। মৃন্ময়ী হঠাৎ মুখ চেপে ধরল তার। কাতু সবিস্ময়ে চোখ দিয়ে প্রশ্ন করে, কী?

    মৃন্ময়ী নিঃশব্দে ওষ্ঠাধরে আঙুল ছোঁওয়ায়।

    ধ্যানমগ্ন বিদ্যার্থীর ঐ তন্ময় ভাবটা ছিন্ন করতে তার মন সরছিল না। ওর মনে পড়ে গেল—একবার ভাদুড়ী-বাড়ির নাটমঞ্চে ‘নিমাই সন্ন্যাস’ পালা দেখেছিল। এক গাদা রঙ-চঙ মেখে, চোখে সুর্মা আর ঠোঁটে অলক্তক-হিঙ্গুলী লাগিয়েও সেই মেকি নিমাই পণ্ডিত এত সুন্দর হতে পারেনি! রূপেন্দ্রের ঊর্ধ্বাঙ্গ নিরাবরণ, শুধু সামবেদী উপবীত। মস্তক মুণ্ডিত, শিখাপ্রান্তে কোনও পুষ্প অনুবিদ্ধ নেই। চোখ দুটি আয়ত, উন্নত নাসা,—ঠিক যেন নিমাই পণ্ডিত! সোনার গৌরাঙ্গ। সার্থক নাম : সোনাদা! কাত্যায়নীর কণ্ঠস্বরে ধ্যানভঙ্গ হল তাঁর।

    —দাদা, মীনু তোমাকে পেন্নাম করতে এয়েছে!

    ধ্যানস্থ সন্ন্যাসী চোখ তুলে চাইলেন যেন। তখনো তাঁর ঘোর কাটেনি। তারপর সচকিত হয়ে উঠে দাঁড়ান। কোচার খুঁটটা খুলে নিয়ে গায়ে জড়িয়ে বলেন, তুমি আমাদের সেই মীনু?

    —বিশ্বাস হচ্ছে না?—প্রশ্ন করে কাত্যায়নী।

    রূপেন্দ্রনাথ বলেন, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কথা নয় কাতু—কিন্তু পথে-ঘাটে দেখলে ওকে আমি চিনতেই পারতাম না! কী সুন্দর মানিয়েছে তোমাকে এই শাড়িখানিতে!

    কাতু মুখ টিপে হাসে, শুধু শাড়িখানাই নজরে পড়ল দাদা? দৃষ্টি বটে তোমার!

    রূপেন্দ্রনাথ জবাবে কী একটা কথা বললেন। উচ্ছসিত শোনালো তাঁর কণ্ঠস্বর। বেচারী মৃন্ময়ী—উনি কথাটা বলেছেন বিশুদ্ধ সংস্কৃতে! অর্থ গ্রহণ হয়নি তার।

    মৃন্ময়ী তার শান্তিপুরে ডুরে শাড়ির আঁচল গলায় জড়িয়ে ব্রাহ্মণের পদপ্রান্তে নামিয়ে রাখে একটি সলজ্জ প্রণাম। সাহস করে পদস্পর্শ করতে পারে না!

    রূপেন্দ্রনাথ যুক্তকরে বললেন, ওঁ, নমঃ নারায়ণায়!

    কাত্যায়নী বলে, এমন একটা জমকালো পেন্নামের ঐটুকু আশীর্বাদ?

    হেসেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ওটা আশীর্বাদ নয় রে বোকা! আমি মীনুর প্রণামটা নারায়ণকে নিবেদন করলাম শুধু—

    —তার মানে তুমি ওর পেন্নামটা নিলে না?

    —পাগলি! তুই বুঝবি না!

    কাত্যায়নী রীতিমতো জেদ করে, ওসব শুনছি না। ওকে আশীর্বাদ করতে হবে। কর বলছি।

    —বেশ তাই করছি……

    বলেই আবার একটি শ্লোক বললেন দেবভাষায়।

    কাত্যায়নী রীতিমতো বিরক্ত! বলে, অং বং নয়। সোজা কথায় মানেটা কী হল বলতে হবে! শ্লোকটা কি তুমি মুখে মুখে বানালে?

    —না, এটা মহাকবি কালিদাসের। তিনি বলছেন, তোমার আখগুলের মতো ভর্তা হৌক, জয়ন্তের মতো কীর্তিমান সুতঃ। তুমি পৌলমী হবে! তোমার মতো কল্যাণময়ীর আর কোন আশীর্বাদই যেন সুপ্রযুক্ত নয়!

    এখনো মনে পড়লে গায়ে কাঁটা দেয়।

    না, অন্বয়-ব্যাখা শুনেও সে কিছু বুঝতে পারেনি। কিন্তু কথাগুলো যেন ওর মনের পাষাণফলকে খোদাই করে লেখা হয়ে গিয়েছিল।

    বাড়িতে ফিরে এসে সে পিতার কাছে প্রশ্ন করে বুঝে নিয়েছিল—‘আখণ্ডল’ মানে ইন্দ্ৰ, ‘সুত’ মানে সন্তান। আর ‘পৌলমী’ হচ্ছে ইন্দ্রাণীর নাম।[১]

    [মূল শ্লোকটি :
    ১ আখণ্ডল সম ভর্তা জয়ন্ত প্রতিমোসুতঃ।
    আশীরন্যাঃ ন তে যোগ্যাঃ পৌলমী মঙ্গলা ভব।।]

    তখনই ওর সারা দেহ ফোটা-কদমের মতো কণ্টকিত হয়ে উঠেছিল!

    হঠাৎ শয্যার উপর উঠে বসেন দুর্গাচরণ।

    আবার চমকে ওঠে মৃন্ময়ী, কী হল?

    —আমার মাথায় একটা জবর ফন্দি এয়েছে ছোটগিন্নি। তোমার ক্ষুধামান্দ্য তো লেগেই আছে। মাঝে মাঝে বমির বেগও আছে। পাগলাটাকে ডেকে পাঠাই—বদ্যি হিসাবে। সে তোমাকে একবার দেখে যাক। ঐ ফাকে জেনে নেওয়া যাবে, কেন সে জলে বাস করে স্বেচ্ছায় কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করতে চাইছে। কী বল?

    মৃন্ময়ীর বুকের ভিতর গুড়গুড় করে মেঘ ডাকল। তিনি এ বাড়িতে আসবেন! আবার মুখোমুখি দেখা হবে! আবার গলায় আঁচল দিয়ে তাঁকে প্রণাম করার সৌভাগ্য হবে! কিন্তু…..

    —ইতস্তত কিসের গো? তুমি তো তার পাড়ার মেয়ে। ন্যাংটো হয়ে হামা দিয়েছ তাদের বাড়িতে।

    আঃ! কর্তার কথার কোন আড় নেই! সে তো বহু যুগ আগেকার কথা! মীনুর তখন এক, আর সোনাদার দশ—সেই ‘নয়’ কি আজকের ‘নয়? যখন রূপেন্দ্রনাথ পঁচিশ, আর মৃন্ময়ী পরস্ত্রী?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }