Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোঞাই – ৯

    ৯

    ব্রজসুন্দরীকে নামিয়ে আক্‌না হয়েছে পূজামণ্ডপে। বাড়িটি চক মেলানো। অর্থাৎ চারিদিকে সারি সারি ঘর। মাঝখানে প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। সেটা পূজামণ্ডপ। এখানেই দুর্গাপূজা, শ্যামাপূজা হয়। আবার ঝুলনে রাধাকৃষ্ণের দোলনমঞ্চ। এই প্রাঙ্গণেই বসে যাত্রার 127. আসর। কীর্তনের আসর। বর্তমানে ঐ প্রাঙ্গণের কেন্দ্র-স্থলে একটি সুসজ্জিত পালঙ্কে গৃহস্বামিনী শায়িতা। তাঁর পরিধানে নিতান্ত বেমানান একটি অত্যন্ত মহার্ঘ বেনারসী শাড়ি। বেমানান এজন্য যে, বৃদ্ধার পরিধানে তা দৃষ্টিকটু। কিন্তু জগুঠাকুরুণ কোন কথা শোনেননি। বলেছিলেন, গঙ্গাজল, আর কোনদিন তো তোকে কিছু বলতে আসবনি। কতা শোন! এই বে-র বেনারসী পরেই ড্যাংডেঙিয়ে যাত্রা করতে হবে।

    জগুঠাকুরুণ ব্রজসুন্দরীর ‘গঙ্গাজল’। সখী। ব্রজসুন্দরী এই শেষ অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেননি। বড়বৌমা—তারাপ্রসন্নের স্ত্রী, তাই এই শাড়িখানিই পরিয়ে দিয়েছেন তাঁকে। বৃদ্ধার মাথায় অপর্যাপ্ত সিন্দুর, চরণদুটি অলক্তকরাগরঞ্জিত। তিনি শয্যালীন। কিন্তু পূর্ণ জ্ঞান আছে। বিহ্বল দুটি চোখ মেলে তিনি সবাইকে দেখছিলেন। চিনতে পারছিলেন। শয্যালীন হলেও তাঁর মাথার পিছনে কয়েকটি উপাধান—শায়িত অবস্থায় প্রণাম করতে নেই—এমনকি অন্তর্জলিযাত্রার পথিককেও!

    রূপেন্দ্রনাথ যখন এসে উপস্থিত হলেন তখনো অপরাহ্ণের আলো আছে। সন্ধ্যা হতে আরও দুদণ্ড বাকি। সমস্ত গ্রাম ভেঙে পড়েছে। প্রাঙ্গণে তিলধারণের ঠাঁই নাই। শয্যালীনাকে ঘিরে পুরললনার দল। পুরুষেরা প্রাচীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে। বাহিরেও অনেক দর্শনার্থী। তারা সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করে প্রণাম করে অন্য নিষ্ক্রমণ দ্বার দিয়ে বহির্গত হয়ে যাচ্ছে। সারা দুপুর ধরে। রূপেন্দ্রনাথ অনেককেই চিনতে পারলেন, যদিও তিনি গ্রামের অনেককেই চেনেন না। বরাবর ভিনগাঁয়ে থাকায়। বৃদ্ধার চরণপ্রান্তে বসে আছেন বৌষ্ঠান—তারাপ্রসন্নের সহধর্মিণী। তার পাশে পুঁটু। ওপাশে নন্দখুড়োর দুই স্ত্রী, তার পরে শোভারাণী, মতি, মৃন্ময়ী। তার পাশে কাত্যায়নী। জগুপিসি বৃদ্ধার মাথার কাছে। রূপেন্দ্রনাথের লক্ষ্য হল বৃদ্ধা সজ্ঞানে আছেন। দু-চারটি কথাও বলছেন। কথোপকথন শুনতে পাচ্ছিলেন না তিনি। পেলে বুঝতে পারতেন—জগুঠাকুরুণ প্রশ্ন করেছিলেন, কীরে গঙ্গাজল? ভয় করছে?

    বৃদ্ধা বলছিলেন, ওমা, ভয় করবে কেন রে? ভর-ভরাম্ভ সংসার রেখে যাচ্ছি—এতো আনন্দের যাওয়া। শুধু ঐ বুড়োটার জন্যে—ওকে একটু দেখিস্, গঙ্গাজল!

    ঢেঁকি নাকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। রূপেন্দ্রনাথ রোগীবাড়ি এসেছিলেন তাঁর সেই বিচিত্র পুলিন্দাটি হাতে নিয়ে। এখন মনে হল ভুল করছেন তিনি। এ রোগের চিকিৎসা নেই। এই রোগীবাড়ি থেকে কেউ তাঁকে কোনদিন ডাকেনি—চিকিৎসক হিসাবে। কিন্তু এ বাড়ির দ্বার তাঁর কাছে অবারিত। বছর বছর দোল-দুর্গোৎসবে এসেছেন। সামাজিক নিমন্ত্রণ রাখতে তো কতবার। ব্রজসুন্দরী তাঁকে ভালও বাসতেন খুব। ব্রজেন্দ্রনারায়ণও। কিন্তু এখন তিনি অবাঞ্ছিত! যে রোগী মৃত্যুর কাছে দাসখত লিখে দিয়ে বসে আছে তার চিকিৎসা হয় না!

    দাসখৎ? না, কথাটা ঠিক হল না। বরং বলা উচিত মৃত্যুই ওঁর কাছে দাসখৎ লিখে দিয়েছে। মৃত্যু তার মহিমা, তার ভয়াবহতা, তার আতঙ্ককে ত্যাগ করে রীতিমতো চোরের মতো এসে চুপটি করে দাড়িয়েছে ওঁর পদপ্রান্তে। নতনেত্রে। তার লজ্জার সীমা-পরিসীমা নেই। নেহাৎ অভ্যাসবশে প্রতীক্ষা করছে—কখন ঐ সীমন্তিনী ড্যাংডেঙিয়ে যাত্রা শুরু করবেন।

    —রুপেন!

    সম্বিত ফিরে পান রূপেন্দ্রনাথ। পাশে ফিরে দেখেন তারাপ্রসন্ন এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁর পাশটিতে। চোখাচোখি হতে বলেন, বাবামশাই তোমাকে একবার ডাকছেন

    —জেঠামশাই! কই কোথায় তিনি?

    —এস আমার সঙ্গে।

    তাই তো! গৃহস্বামীর অনুপস্থিতিটা তো এতক্ষণ নজরে পড়েনি

    ব্রজেন্দ্রনারায়ণ বসেছিলেন পাশের ঘরে। একা। ঘরজোড়া তক্তাপোশে ফরাস বিছানো। উনি কিন্তু বসেছিলেন একটি আরাম-কেদারায়। ইঙ্গিতে বসতে বললেন রূপেন্দ্রনাথকে।

    তারাপ্রসন্ন দাঁড়িয়েই রইলেন।

    রাশভারী মানুষটি একবার তাকিয়ে দেখলেন পাশের দিকে। বললেন, তোমার বড়-মার এতবড় অসুখে তোমাকে একবারও ডাকিনি। তুমি অভিমান করতে পারো রূপেন্দ্র। কিন্তু কেন ডাকিনি জান?

    রূপেন্দ্রনাথ নতনেত্রে নীরব রইলেন।

    —এ পোড়া দেশে স্ত্রীলোকের চিকিৎসা হয় না বলে। স্ত্রীজাতির তিন অবস্থা—অথবা, সধবা আর বিধবা। বাকি দুজনের তো কথাই নেই, এমনকি সধবাও চায় ড্যাংডেঙিয়ে স্বর্গে যেতে। কী করে চিকিৎসা করবে তুমি?

    এবারও রূপেন্দ্রনাথ জবাব দিলেন না।

    —তোমাকে এখনি ডেকে পাঠিয়েছি কিন্তু চিকিৎসক হিসাবে পরামর্শ নিতেই।

    এতক্ষণে চোখ তুলে তাকালেন, চিকিৎসক হিসাবে?

    —হ্যাঁ, রূপেন্দ্র। তুমি একবার ওঁর নাড়িটা দেখ। দেখে বল—আমার কী কর্তব্য। ব্যবস্থা কাটোয়ায় করব না নবদ্বীপে? অর্থাৎ ওঁর মেয়াদ…

    বাক্যটা অসমাপ্ত থাকলেও বুঝতে অসুবিধা হল না। রূপেন্দ্র তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ান।

    —আর একটি কথা, বাবা। কী বুঝলে তা শুধু আমাকে জানিও। আগামী পূর্ণিমা পর্যন্ত কি উনি আছেন?

    রূপেন্দ্রনাথ ফিরে এলেন প্রাঙ্গণে। তারাপ্রসন্ন ওঁকে পথ করে, ভিড় সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বসালেন রোগীর পাশটিতে। বড়মাকে প্রণাম করতেই তিনি বললেন, এসেছিস? এবার সত্যিই চললাম রে, রুপো!

    —আপনার নাড়িটা দেখি।

    —নাড়ি? কী হবে রে? …ও বুঝেছি! গঙ্গা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারব কিনা? পারব রে, পারব! ভুলিস না রুপো—‘নিয়তি কেন বাধ্যতে’? প্রশ্নটার জবাব হচ্ছে : ‘মনসা’! মনের জোর থাকলে মৃত্যুকেও—না, ফেরানো যায় না, কিন্তু তাকে অপেক্ষা করতে হয়!

    রূপেন্দ্রনাথের ইচ্ছা হল পুনর্বার ঐ মৃত্যুপথ যাত্রিণীর পদধূলি নিতে। পরিবর্তে ওঁর রোগজীর্ণ হাতটি তুলে নিয়ে নাড়ি ধরে বসলেন।

    মনঃসংযোগ করতে পারলেন না কিন্তু। প্রাঙ্গণে তিন-চারশ লোক-পুরুষ ও স্ত্রী। একটা কলগুঞ্জনে ওঁর একাগ্রতা ব্যাহত হচ্ছিল। মুখ তুলে বললেন, তারাদা, সকলকে নীরব হতে বলুন। কেউ কোন শব্দ করবেন না।

    তারাপ্রসন্নকে সে কথা দ্বিতীয়বার বলতে হল না। রূপেন্দ্রনাথ যথেষ্ট উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন তাঁর নির্দেশ। সভাস্থল স্তব্ধ হয়ে গেল। সালঙ্কারা শীর্ণ হাতের মণিবন্ধে দুটি আঙুল স্পর্শ করে ভেষগাচার্য ধ্যানে বসলেন। নিমীলিত নেত্র। সমংকায়শিরোগ্রীব ভঙ্গি।

    অষ্টোত্তর শতবার গায়ত্রীমন্ত্র জপ করতে যতটা সময় লাগে তাও যেন অতিবাহিত হয়ে গেল। তারপর যেন ধ্যানভঙ্গ হল। ধীরে ধীরে হাতটি নামিয়ে রাখলেন।

    বৃদ্ধা এবার প্রশ্ন করেন, কী বুঝলি রে পাগলা ঠাকুর? তোর বড়মা নবদ্বীপ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে?

    হাসলেন রূপেন্দ্রনাথ। প্রতিপ্রশ্ন করলেন, ‘নিয়তি কেন বাধ্যতে? বড়মা?

    উঠে দাঁড়ালেন এবার। কেমন যেন বিহ্বল হয়ে পড়েছেন। সভাস্থ সকলের উপর দৃষ্টি বুলিয়ে নিলেন। মৃন্ময়ী ঠিক ওঁর সামনেই অনিমেষ লোচনে তাকিয়ে আছে—নজর পড়ল সেদিকে। কী যেন মনে পড়ে গেল। আবার ধীরে ধীরে বসে পড়লেন। পুলিন্দা হাড়ে বার করলেন তাঁর সেই বিচিত্র যন্ত্রটি। বললেন, আপনার বুকটা একটু দেখব, বড়মা!

    পাশেই খখস্ শব্দ। নজর পড়ল সেদিকে। বললেন, শব্দ করবেন না।

    মৃন্ময়ী জড়সড় হয়ে চুপ করে বসে রইল। বৃদ্ধা বললেন, দেখ্‌

    যন্ত্রটার একপ্রান্ত বৃদ্ধার বুকে বসিয়ে অপর প্রান্তে কান লাগাতে গেলেন।

    আঃ! আবার কিসের শব্দ!

    ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন, একটি থেলো হুঁকো হাতে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছেন দুর্গাচরণ। তারই গুড়ুক খাওয়ার শব্দ। রূপেন্দ্রনাথ পুনর্বার বলেন, তারাদা, যাঁরা তামাক খেতে চান, তাদের বাইরে যেতে বলুন। শব্দে আমার অসুবিধা হচ্ছে।

    গাঙ্গুলীমশাই থেলো হুঁকোটা একজন খিদমদগারের হস্তে সমর্পণ করলেন।

    রূপেন্দ্রনাথ যন্ত্রে কান লাগিয়ে বৃদ্ধার হৃদস্পন্দন শুনলেন দীর্ঘসময়। তারপর নিঃশব্দে উঠে চলে গেলেন। কেউ কোন প্রশ্ন করল না।

    এ ঘরে একই ভঙ্গিতে বসে আছেন ব্রজেন্দ্রনারায়ণ। রূপেন্দ্রনাথ নিঃশব্দে গিয়ে বসলেন তাঁর পাশে। ব্রজেন্দ্র আড়চোখে সেদিকে তাকিয়েই চমকে উঠলেন। অভিজ্ঞ ভূয়োদর্শীর বুঝতে অসুবিধা হল না—রূপেন্দ্রনাথ অত্যন্ত বিচলিত। যেন রোগিণীকে পরীক্ষা করে তিনি কী-একটা মর্মান্তিক সংবাদ জেনেছেন, বলতে সাহস পাচ্ছেন না। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও ব্রজেন্দ্র দেখলেন নতনয়নে নবীন ভেষগাচার্য দারুণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তিনি এখনো নীরব।

    একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল বৃদ্ধের। বললেন, বুঝলাম।

    রূপেন্দ্রনাথ চকিতে মুখ তুলে বলেন, কী? কী বুঝেছেন আপনি?

    —কতটা সময় পাব? ডুলিতে যদি সরাসরি নবদ্বীপে নিয়ে যাই? পৌঁছানো যাবে না?

    হঠাৎ আসন ছেড়ে এগিয়ে এলেন রূপেন্দ্র। আবেগের সঙ্গে বৃদ্ধের হাত দুটি ধরে বললেন, যাপনার কাছে একটা ভিক্ষা চাইব, জেঠামশাই; দেবেন?

    ব্রজেন্দ্রনারায়ণ রীতিমতো বিস্মিত। তারাপ্রসন্ন এখনো স্থানত্যাগ করেননি। তিনি দাঁড়িয়ে ইলেন দ্বারপথে। ঘটনার প্রবাহ লক্ষ্য করে তিনি কক্ষের ভিতরে প্রবেশ করলেন। দ্বারের পাল্লা দুটি নিঃশব্দে বন্ধ করে দিলেন ভিতর থেকে।

    ব্রজেন্দ্রনারায়ণ কী বলবেন যেন ভেবে পাচ্ছেন না। এমন কথা বাঁড়ুজ্জে পরিবার তিন পুরুষে কখনো বলেনি! রূপেন্দ্রনাথের পিতামহকে কিছু ব্রহ্মোত্তর ভূখণ্ড দান করতে চেয়েছিলেন ওঁর পিতৃদেব। সেই সাগ্নিক ব্রাহ্মণ প্রত্যুত্তরে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, কেন ভাদুড়ীমশাই? আপনার রাজ্যে কি অগ্রদানী বামুনের আকাল পড়েছে? রূপেন্দ্রের পিতাও জমিদারের খরচে তাঁর চতুষ্পাঠী সম্প্রসারিত করতে স্বীকৃত হননি। সেই বংশের সন্তান রুপো বাঁড়ুজ্জে এই মর্মান্তিক সময়ে নিজে প্রার্থী হয়ে ভিক্ষা চাইছে!

    —জেঠামশাই!

    —তার পূর্বে আমাকে বল—তুমি কী বুঝেছ? গঙ্গা পর্যন্ত উনি পৌঁছাতে পারবেন!

    —হ্যাঁ। তাঁকে নিয়ে গেলে তিনি শুধু সশরীরে কাটোয়া নয়, নবদ্বীপেই পৌঁছাবেন!

    —তাহলে আমি আজ দাতাকর্ণ! বল, কী প্রার্থনা করছ আমার কাছে? সব কিছুই আজ এই আনন্দের দিনে তোমাকে দিতে প্রস্তুত! বল, কী চাইছো?

    জিজ্ঞাসিত হয়ে বিড়ম্বনায় পড়লেন যেন। কীভাবে এই অবাস্তব প্রস্তাবটা পাড়বেন—কী ভাষায়—তা যেন প্রণিধান করে উঠতে পারছেন না। ওঁর নীরবতার সুযোগে বৃদ্ধ পুনর্বার বলে ওঠেন, আমার আশঙ্কা হয়েছিল, তুমি ওঁর নাড়ি দেখে বুঝেছ যে, তোমার বড়মার শেষ ইচ্ছাটা আমি পূরণ করতে পারব না। তা যদি না হয়… কিন্তু একটা কথা রুপেন, কিছু মনে কর না বাবা, তোমার কথাটা আমার কানে একটু বেসুরো লেগেছে! এ তো বাঁড়ুজ্জে বংশের রেওয়াজ নয়!

    —যাচ্ঞা মোঘা বরমধিগুণে, নাধমে লব্ধকামাঃ।[১]

    [১. যাঁরা মহৎ তাঁদের কাছে প্রার্থনা করে বিফল হওয়াও ভাল, অধমের কাছে মনস্কামনা সিদ্ধ হওয়ার চেয়ে।]

    —অধিগুণ তোমার জেঠার আছে কিনা জানি না, কিন্তু আগেই বলেছি—আজ আমি দাতাকর্ণ! আমার পৌরুষ আর ধর্ম ছাড়া তুমি আজ যা ইচ্ছা প্রার্থনা করে দেখতে পার।

    রূপেন্দ্রনাথ বললেন, শুনুন জেঠামশাই, গুরুর আশীর্বাদে ‘নিদান’ যদি বিন্দুমাত্রও আয়ও করে থাকি, তাহলে নিশ্চয় বুঝেছি, পক্ষকালের মধ্যে বড়মা আমাদের ছেড়ে যাবেন না। আপনি ওঁর যাত্রা স্থগিত রাখুন। একপক্ষ কালের জন্য। এই একপক্ষকাল আমাকে একবার শেষ চেষ্টা করতে দিন।

    স্তম্ভিত হয়ে গেলেন ব্রজেন্দ্র, এ কী বলছ রূপেন? কাল প্রভাতে আমরা যাত্রা করব! সব কিছু যে প্রস্তুত!

    —আপনি কিন্তু সত্যবদ্ধ জেঠামশাই! আমি আপনার পৌরুষ বা ধর্মে হস্তক্ষেপ করিনি।

    ব্রজেন্দ্রনারায়ণ আসন ছেড়ে উঠে পড়েন। বারকতক কক্ষের ভিতরেই পদচারণা করে হঠাৎ থেমে বলেন, কিন্তু কী লাভ? আরও কয়েক মাস পঙ্গু হয়ে বেঁচে থাকার? এ যে ওঁর নিয়তি।

    —পঙ্গু হয়েই যে থাকবেন একথা তো আমি বলিনি জেঠামশাই। আর ‘নিয়তির কথা বলছেন? ‘নিয়তি কেন বাধ্যতে?—এই প্রশ্নের জবাবটা কী, জানেন?—’মনসা’!

    —কে বলেছেন?

    —বড়মা!

    —কবে?

    —এইমাত্র!

    আবার পদচারণা শুরু করেন ব্রজেন্দ্র। তারাপ্রসন্ন আর স্থির থাকতে পারেন না। ডেকে ওঠেন, বাবা?

    —কিন্তু গুরুদেব যে বিধান দিয়ে বসেছেন?

    —তাঁকে ডাকুন। রুপেন তো তাঁর নির্দেশ অমান্য করার পরামর্শ দেয়নি। সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে শুধু। আপনি বরং গুরুদেবকে বলুন—আপনার বাসনা, যজ্ঞ সমাপ্তির ভস্মতিলক মাথায় নিয়েই পক্ষকাল পরে মা যাত্রা করবেন।

    পুত্রের দিকে সপ্রশংস দৃষ্টিতে তাকালেন এবার। এ প্রস্তাবে হয় তো গুরুদেব স্বীকৃত হয়ে যাবেন। লোক-চক্ষুর আড়ালে যজ্ঞের কোনও মহিমা থাকবে না।

    গুরুদেব রাজী হলেন।

    রূপেন্দ্রনাথ পক্ষকালের মধ্যে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন না আদৌ। নিরলস নিষ্ঠায় বালু-ঘড়ি হাতে বসে রইল রোগিণীর শিয়রে। দণ্ড-দণ্ড ঔষধ প্রস্তুত করে সেবন করালেন। এমনকি পথ্যও প্রস্তুত করালেন নিজের তত্ত্বাবধানে। জগুঠাকরুণ আর কাত্যায়নী- সকাল-সন্ধ্যা সংবাদ সংগ্রহ করে যেত। কাত্যায়নী একদিন সুযোগ মতো ওঁর কর্ণমূলে বলতে গেল, দাদা, আজ মিনু খুড়িমা এসেছিল, বললে—-

    রূপেন্দ্রনাথ একটি হাত তুলে শুধু বললেন, থাক! আমার একাগ্রতা ব্যাহত করে দিস্ না কাতু। বাড়ি যা—

    বিচিত্র ঘটনাচক্র। পক্ষকাল পরে একদিন যজ্ঞ সমাপ্ত হল। গুরুদেব তাম্রপাত্রে ঘৃত-নিষিক্ত যজ্ঞভস্ম নিয়ে যেদিন রোগিণীর শিয়রে উপস্থিত হলেন সেদিন আর তিনি শয্যালীনা নন। উঠে বসেছেন।

    ব্রজসুন্দরী মাঝে-মাঝে জিজ্ঞাসা করতেন, তুই আমার সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে দিলি কেন রে, পাগলা?

    রূপেন্দ্রনাথ মিটিমিটি হেসে বলতেন, কী করব? জেঠামশাই যে আমাদের জন্য একটা নতুন জেঠিমা আনতে কিছুতেই রাজি হলেন না?

    —জেঠা তো হলেন না। ভাইপো কেন অমন জিদ্দি ধরে বসে আছে?

    .

    পরবর্তী পূর্ণিমায় জমিদার বাড়িতে সাড়ম্বরে সত্যনারায়ণের পূজা হল। গোটা গ্রাম প্রসাদ পেয়ে গেল এসে। এমনকি ভিন-গাঁয়ের মানুষও। ব্রতকথার আসরে বড়মা আসন-পিড়ি হয়ে বসতে পেরেছিলেন। মানুষজন শুধু তাদের ‘বড়মা’কে পেন্নাম করেই তৃপ্ত হতে পারে না—খোঁজ করে, আর সেই পাগ্‌লা কোবরেজ-মশাই কোনজনা গো?

    গুরুদেব বললেন, কেমন? বলিনি? এ যজ্ঞ অমোঘ! অব্যর্থ! ‘অশ্বমেধাসহস্রানি’র যে পুণ্যফল, ‘লক্ষং প্রদক্ষিণাঃ পৃথ্ব্যাঃ’-র যে ফল—এই মহাযজ্ঞে ‘তদ্‌ফলম্’! বুঝলে না, বাবা, যমদূতেরা ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে পারেনি।

    সকালেই সেটা সহজে বুঝে নিল। এই রকম একটা ভবিষ্যদ্বাণীই করেছিলেন বটে উনি।

    ব্রজেন্দ্রনারায়ণও তা স্বীকার করলেন, কিন্তু ঐখানেই থামলেন না তিনি। একবগ্গাঠাকুরকে অন্তরালে ডেকে জনান্তিকে যে নতুন নামে সম্বোধন করলেন কী-জানি কী করে তা ছড়িয়ে পড়ল সারা গ্রামে। ব্রজেন্দ্র ওঁকে বললেন, ধন্বন্তরি! তোমাকে কী বৈদ্যবিদায় দেব, বল?

    —বড়মা আমার নিজের মায়ের মতো, জেঠামশাই!

    —বটেই তো! তুমিও আমার ছেলের মতো! তারাকে যদি একটা মহাল দান করতে পারি, তাহলে তোমাকেই বা কিছু ব্রহ্মোত্তর লিখে দিতে পারব না কেন?

    রূপেন্দ্রনাথ যুক্তকরে নীরব রইলেন।

    —কী হল? জবাব দাও? স্বীকার কর!

    —স্বীকার করলে কথাটা যে আপনার কানে আবার বেসুরো লাগবে জেঠামশাই। আপনি নিজেই যে সেদিন বলেছিলেন—সেটা বাঁড়ুজ্জে বংশের রেওয়াজ নয়। বৈদ্যবিদায় হিসাবে আমি সকলের কাছ থেকে সমপরিমাণেই সম্মানমূল্য নিয়ে থাকি। অর্থাৎ যেখানে আমি বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসা করছি না।

    ব্রজেন্দ্রনারায়ণ বলেন, কিন্তু ‘অধিগুণ’ আর ‘অধম’-এর পার্থক্যের প্রসঙ্গ তো তুমি নিজে থেকেই তুলেছিলে?

    এবারেও রূপেন্দ্রকে নীরব দেখে কেমন যেন বিচলিত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। হঠাৎ সেই সেদিন ও যেমন করে বৃদ্ধের হাতদুটি আবেগভরে টেনে নিয়েছিল সেইভাবে রূপেন্দ্রের হাতদুটি ধরে বললেন, আজ আমিই তোমার কাছে ভিক্ষা চাইছি রুপেন! বামনের দ্বারে আজ বলিরাজা ভিক্ষাদানের অধিকারটুকু প্রার্থনা করছে।

    রূপেন্দ্রনাথ নিচু হয়ে বৃদ্ধের পদধুলি নিলেন। শান্তস্বরে বললেন, আপনি বিদ্বান, পণ্ডিত, বিবেচনা করে দেখুন,—আপনি যা চাইছেন তা আমার ধর্ম! আমার পৌরুষ! আমার বংশে কেউ কখনো যে ভিক্ষা নেয়নি, জেঠামশাই!

    তৎক্ষণাৎ হাত দুটি ছেড়ে দিলেন। অভ্যস্ত ভঙ্গিতে পিঞ্জরাবদ্ধ সিংহের মতো বারকতক পদচারণা করে নিলেন রুদ্ধদ্ধার কক্ষে। তারপর ফিরে এসে আবার বসলেন তাঁর আরাম-কেদারায়। বললেন, শোন! আমি কখনো কারও কাছে পরাজয় স্বীকার করিনি। আজও করব না। আমার বিকল্প প্রস্তাবটি শোন। বল, এতে কি তুমি স্বীকৃত? এ প্রস্তাবে কি আমি তোমার পৌরুষ অথবা ধর্মে হস্তক্ষেপ করছি?

    জমিদার মশায়ের বিকল্প প্রস্তাবটি বিচিত্র।

    তিনি লক্ষ্য করেছেন, স্বগ্রামে প্রতিষ্ঠা না পেলেও চিকিৎসক হিসাবে ওঁর কাছে ভিগায়ের মানুষ প্রায়ই আসে। এবার যে অলৌকিক প্রক্রিয়ায় তিনি অন্তর্জলিযাত্রার রোগিণীকে সংসারে ফিরিয়ে এনেছেন তাতে অচিরেই দূর-দূরান্তর থেকে বাড়ুজ্জে বাড়িতে রোগীর দল আসতে শুরু করবে। হয়তো তাদের চিকিৎসা করতে দু-দশদিন সময় লাগবে। গাছের তলায় আশ্রয় নেওয়া ছাড়া তাদের গত্যন্তর নাই। জমিদারের একটি অতিথিশালা অবশ্য আছে; কিন্তু সেটা গ্রামের অন্য প্রান্তে। তাছাড়া সেখানে রোগীকে আশ্রয় দেওয়ার নানান বাধা। ব্রজেন্দ্রনারায়ণের প্রস্তাব, ধন্বন্তরির ভদ্রাসনের দক্ষিণপূর্বে যে পুষ্করিণীটি আছে—পদ্মদীঘি—তার পাড়ে পাশাপাশি পাঁচটি কুটির নির্মিত হবে। সে জমি জমিদারের, কুটিরের মালিকও থাকবেন তিনি। শুধু তাতে আশ্রয় নেবে গ্রামান্তরের রোগী বা তার পরিবারবর্গ—ধন্বন্তরির নির্দেশে। যারা আশ্রয় পাবে তাদের জন্য জমিদারের ব্যবস্থাপনায় ‘সিধা’ যাবে অথবা কাঁচা-ফলার। পরিকল্পনাটি পেশ করে বলেন, বল ধন্বন্তরি! আমি কি তোমার পৌরুষ বা ধর্মে হস্তক্ষেপ করেছি?

    ব্রজেন্দ্রনারায়ণ এই বিচিত্র ব্যবস্থা কেন করতে চাইছেন আন্দাজ করতে অসুবিধা হয় না। সেকালে কোন কোন জমিদার প্রজার মঙ্গলবিধানে, পিতৃমাতৃস্মৃতিতে এই জাতীয় দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করতেন।

    রূপেন্দ্রনাথ করজোড়ে বলেন, না, জেঠামশাই! আপনি নরনারায়ণের সেবা করতে চাইলে আমি অন্তরায় হব কেন? এ তো অতি শুভ প্রস্তাব। তবে সে-ক্ষেত্রে আমার দুটি বিকল্প প্রস্তাব আছে।

    —বল?

    —আপনি পাঁচটির পরিবর্তে আপাতত তিনটি আশ্রয়গৃহ নির্মাণের আদেশ দিন। একটি পুরুষের, একটি স্ত্রীলোকের, এবং তৃতীয়টি বেশ কিছু দূরে, সংক্রামক রোগীর—নরনারী নির্বিশেষে

    বিস্মিত ব্রজেন্দ্রনারায়ণ বলেন, কেন ধন্বন্তরি? তোমার জেঠামশাই ‘অধিগুণ’ হতে চাইলে তাঁকে ‘অধম’ করতে চাইছ কেন? পাঁচটি কমিয়ে তিনটি…

    রূপেন্দ্রনাথ সহাস্যে বলেন, আজ্ঞে না। আপনার অর্থসাশ্রয় করতে এ-কথা বলিনি। যে অর্থ সাশ্রয় হবে তাই দিয়ে আপনি ঐ পদ্মপুকুরের চতুর্দিকে শক্ত একটা বেড়া দেবার ব্যবস্থা করুন। ঐ পুষ্করিণীতে অবগাহন স্নান, বস্ত্রাদি বা বাসনপত্র ধৌত করা নিষিদ্ধ করতে হবে। পদ্মপুকুর থেকে এখন শুধুমাত্র পানীয় জল সংগ্রহ করা যাবে।

    বৃদ্ধ স্মিতহাস্যে বললেন, তোমার এই অদ্ভুত প্রস্তাব সম্বন্ধে আমার মতামত জ্ঞাপন করার পূর্বে একটি প্রতিপ্রশ্ন করছি—বল তো, পদ্মপুকুরে একটিও পদ্ম নাই, তবু ওর নাম কেন ‘পদ্মপুকুর?

    রূপেন্দ্র স্বীকার করেন, জানি না। বোধকরি এককালে ওতে পদ্ম ছিল, মানে যখন নামকরণ করা হয়।

    —না। আমার প্রপিতামহীর নাম ছিল পদ্মরাণী। ঐ পুষ্করিণীটি আমার পিতামহ খনন করান মাতৃস্মৃতিতে। ওটি প্রতিষ্ঠিত জলাশয়। প্রতিষ্ঠাকালে আমার পূজ্যপাদ পিতামহ “নারায়ণ সাক্ষী রেখে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন—ঐ জলে জনসাধারণের অবগাহন স্নানের অধিকার যাবৎচন্দ্রাকমেদিনী স্বীকৃত। তা ছাড়া ঐ প্রতিষ্ঠিত পুষ্করিণীতে ‘করণ হয়ে থাকে। ‘করণ বোঝ? কুলীন শ্রেণীর বারেন্দ্র পুত্রকন্যার বিবাহে সম্মত হবার পর অবগাহন স্নানান্তে পুষ্করিণীর জলে দাঁড়িয়ে বিবাহসূত্রে আত্মীয়তার বন্ধন স্বীকার করেন। প্রতিজ্ঞা করেন।

    রূপেন্দ্র বলেন, প্রতিষ্ঠিত পুষ্করিণীর অভাব তো সোঞাই গ্রামে নেই জেঠামশাই। ‘নীলসায়র’ দীঘি তো মাত্র কয়েক রসি দূরে। অতঃপর সেখানেই ‘করণত হবে। পদ্মদীঘি সংরক্ষিত করা হলে অসুবিধা কারও হবে না।

    —না, তা হয় না। অসুবিধা হয় তো হবে না। কিন্তু আমার পিতৃপুরুষেরা যে প্রতিজ্ঞা করেছেন, তা তো আমি ব্যত্যয় হতে দিতে পারি না …কিন্তু কেন এই অদ্ভুত শর্তটি আরোপ করতে চাইছ তুমি?

    —সে অনেক কথা। কিন্তু আপনি যদি এতে সম্মত না হন তাহলে আমিও আপনার প্রস্তাবে সম্মত হতে পারি না!

    ব্রজেন্দ্রনারায়ণ কয়েকটা মুহূর্ত জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন—যেন ভ্রাতুষ্পুত্র নয়, দ্বন্দ্বযুদ্ধের প্রতিপক্ষ! যেন দুই ইজারাদার নবাব সরকারে এসেছেন রাজস্বের নিলাম-ডাকে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে অধিকার অর্জনে!

    হঠাৎ উঠে পড়েন ফের আসন ছেড়ে। একই ভঙ্গিতে বার কতক পদচারণা করে ফিরে এসে বলেন, আমি যদি ঐখানে একটি নূতন পুষ্করিণী খনন করাই?

    —তাতে যে আপনার অনেক-অনেক বেশি খরচ হয়ে যাবে,জেঠামশাই?

    এতক্ষণে ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। গর্জন করে ওঠেন, সেটুকু বুঝবার মতো বৈষয়িক বুদ্ধি আছে তোমার জেঠামশায়ের। বাজে কথা থাক। সোজাসুজি বল, তাহলে কি তুমি স্বীকৃত?

    রূপেন্দ্রনাথ আসন ত্যাগ করে উঠে দাঁড়ান। বলেন, সানন্দে।

    —বস। কথা এখনো শেষ হয়নি।

    —আবার কী?

    —তুমি ভুলে গেছ। দুটি শর্তের কথা বলেছিলে তুমি। দ্বিতীয়টি?

    —ও হ্যাঁ। আবার বসে পড়েন।

    এবার দ্বিতীয় শর্তটি ব্যক্ত করেন। প্রয়োজনে রূপেন্দ্রনাথ কোন অহিন্দুকেও ওখানে আশ্রয় দিতে পারবেন। পীরপুরের কোন মুসলমান পরিবার যদি তাঁর কাছে দীর্ঘদিনের চিকিৎসার জন্য আসে, তাহলে তাদেরও তো একই জাতের সমস্যা হবে।

    এক কথায় সম্মত হলেন ব্রজেন্দ্রনারায়ণ। বললেন, ঠিক কথা। আর্তের জাত নেই। সেক্ষেত্রে আমি সে গৃহের কলি ফিরিয়ে নেব। শাস্ত্রীয় নিয়মে গৃহশুদ্ধি করে নেব।

    —এখানকার ব্রাহ্মণ সমাজ আপত্তি করবেন না?

    —সম্ভবত করবেন। কিন্তু কাঞ্চনমূল্যও তো বড় কম কথা নয়।

    —আরও একটা কথা জেঠামশাই। এটা আমার শর্ত নয়, আব্দার।

    —বল?

    —প্রতিষ্ঠানটির নাম হবে: ‘ব্রজসুন্দরী আরোগ্য নিকেতন।

    ব্রজেন্দ্র স্মিত হাসলেন। বলেন, কিন্তু নামকরণ যে আমি মনে মনে আগেই স্থির করে রেখেছি রূপেন্দ্র : ‘ধন্বন্তরী আরোগ্য নিকেতন’।

    আবার উঠে দাঁড়াতে হল। বলেন, না। তাহলে ওটা আর আমার আব্দার নয়, শর্ত! ভেবে দেখুন, বড়মা যদি নিজের মনের জোরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষতে স্বীকৃত না হতেন, তাহলে আমার ঔষধে কোন ফলই হত না। আমার চেয়ে অভিজ্ঞ কবিরাজ এ রাঢ়খণ্ডে ভূরি ভূরি; কিন্তু বড়মার চেয়ে মহিয়সী নারী আপনি আর একটিও দেখাতে পারেন?

    ব্রজেন্দ্র কৌতুক বোধ করেন। বলেন, কী মাহাত্ম্য দেখতে পেলে তাঁর? অনাবৃষ্টির বছরে বৃষ্টি নামানো?

    —আজ্ঞে না। বড়মা কুসংস্কারকে জয় করেছেন বলে! স্ত্রীলোক বিদ্যাচর্চা করলে তার বৈধব্যযোগ অনিবার্য—এতবড় কথাটাকে তিনি উড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন বলে! কোন সীমন্তিনী নারীর পক্ষে এ যে কতবড় কীর্তি, তা তো আপনার অজানা নেই জেঠামশাই।

    ব্রজেন্দ্র হাসতে হাসতে বলেন, নাঃ! ‘ধন্বন্তরী নয়—তোমার ঐ বদনামটাই টিকে থাকবে : ‘একবগ্গা ঠাকুর’।

    জেঠামশায়ের পদধূলি নিয়ে এবার বিদায় নেন। বলেন, আশীর্বাদ করুন—ঐ বদনামটার মর্যাদা যেন কোনদিন ক্ষুণ্ণ না করি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }