Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোঞাই – ১০

    ১০

    —কইরে, তোরা কোথা গেলি সব? খেঁদি, বুঁচকি, ছোটখুকি, শোভা-মা?

    নন্দ চাটুজ্জে সটান অন্দরমহলে ঢুকে পড়েছেন।

    গাঙ্গুলীবাড়িতে অবশ্য তাঁর অবারিত দ্বার। মৃন্ময়ী রান্নাঘরের দাওয়ায় বসে মোচা কুটছিল। তার মাথায় আধো-ঘোমটা, কারণ ঠাকুরপোরা কেউ বাড়ি নেই। হঠাৎ পুরুষকণ্ঠে ঐ বাজখাঁই অওয়াজ শুনে সে শশব্যস্তে কপাটের আড়ালে আত্মগোপন করে।

    নন্দ একগাল হেসে বলেন, আমাকে দেখে আপনার অত সরম কিসের বোঠান? আর বঁটিটে যে খাড়া করা রইল, ভর সন্ধ্যেবেলা!

    এটা অশাস্ত্রীয় কাজ। মৃন্ময়ী ইতস্তত করে। বঁটি ছেড়ে উঠে যাওয়ার সময় সেটাকে শুইয়ে রেখে যেতে হয়। নাহলে গৃহস্থের অকল্যাণ। কিন্তু নন্দ ঠাকুরপো যেভাবে ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন—

    শোভা বুঝল। চট করে বঁটিটা শুইয়ে দিয়ে বললে, আসুন কাকা। বসবেন আসুন-

    —তোর বাপ কি কচ্ছে রে শোভা?

    —আহ্নিক করছেন। এই হয়ে এল।

    —আহ্নিক! বলিস কী রে? আজ যে সায়ংসন্ধ্যা নাস্তি।

    ঠাকুরঘর এমন কিছু তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে নয়। তাছাড়া দুর্গাচরণ যখন সন্ধ্যাহ্নিক সারেন তখন কান দুটি সজাগ রাখেন। নন্দভায়ার নিদান শুনেই ‘শ্রীবিষ্ণু’ বলে উঠে বাহিরে আসেন। পরিধানে পাটের কাপড়, বরাঙ্গে নামাবলী, শিখাপ্রান্তে একটি কলকে ফুল। বলেন, চাটুজ্জে নাকি? এস, এস। কিন্তু ওটা কী বললে? আজ সায়ংসন্ধ্যা নাস্তি? কই, তিড়বিড়ে তো সকালে সেকথা বলে গেল না?

    ‘তিড়বিড়ে’ ওঁর পিতৃদত্ত নাম নয়। তবে নিত্যপূজার ব্যবস্থা যাঁর হেপাজতে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের হেতুতেই সবাই বলে তিড়বিড়ে-ঠাকুর। দুর্গার অভিযোগ, সেই তিড়বিড়ে-ঠাকুরের উচিত ছিল জানিয়ে যাওয়া যে, আজ সায়ংসন্ধ্যার প্রয়োজন নেই।

    নন্দ বলেন, দুটো পাঁজিতে দু-রকম মত কিনা, তাই—

    —সেক্ষেত্রে যজমানের যেটা সুবিধা সেই মতই তো বিধান দেবে! ‘আস্তি-নাস্তি’ বেছে নিয়ে। আধঘণ্টা ধরে অহেতুক মশার কামড় খাচ্ছি!

    নন্দভায়াকে নিয়ে এসে বসালেন তাঁর ঘরে। শোভারানীকে বললেন, বিশুকে বল, কুলীনহুকোয় তামাক দিয়ে যেতে।

    বাঙলা দেশের গ্রামে তখন সচরাচর তিন জাতের হুঁকো : বামুন, কায়েৎ আর বেনৈ। বাদবাকিরা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। তবে এ গ্রামের নিষ্ঠাবান সমাজপতিরা কিছু উপবিভাগের বিধান দিয়েছেন। বামুন-হুকোও আবার তিন জাতের : কুলীন, কাপ আর ছুরিত্তির। আর কিছু না, তাতে কার কতটা কৌলীন্য-মর্যাদা সেটা বারে বারে ঝালিয়ে নেওয়া যায়। তাছাড়া কুলীনদের মনে রাখা দরকার—কৌলীন্য খোয়ালে, হুঁকা-শ্রেণীবিন্যাসেও সমাজে একধাপ নেমে যেতে হবে।

    আলোচনার শুরুটা হয়েছিল ভালই—চাষবাস, ফলন, ইত্যাদি দিয়ে। ক্রমে অনিবার্যভাবে ইদানিং কালের আচারভ্রষ্টতা আর ছোটজাতের ঔদ্ধত্যে। পরে নন্দ বললেন, ‘একটা খপর শুনেছ দাদা, দীঘির পাড়ে ঘর উঠছে?

    দুর্গাচরণ বললেন, ওটা আমার শ্বশুরবাড়ির পাড়া চাটুজ্জে। খপর না পাবার কোন হেতু নেই। একবগ্গার রুগীপত্র নাকি গাছতলায় কষ্ট পাচ্ছে, তাই দানসাগর ঘর তুলে দিচ্ছেন।—তা দিন। তাঁর জমি, তাঁর সম্পত্তি, আমাদের কী বলার আছে; কিন্তু বিশু বললে, বা স্থা হচ্ছে একই ঘরে ওঁরা ছত্রিশ জাতকে ঠাঁই দেবেন। বলি, সেটা শুনেছ?

    —শুনেছি। সে-কথার জবাবটাতো তুমিই দিলে। জমি তাঁর, সম্পত্তি তাঁর, কাকে থাকতে দেবেন তার বিধান কি তুমি-আমি দেব?

    —এটা একটা কথা হল? আমি যদি গাঁয়ের পঞ্চজনাকে আমার বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে সাত জাতকেএকপংক্তিতে বসাই, তাহলে তা মেনে নেবে দুর্গাদা? যেহেতু জমি আমার, ভূরিভোজের ব্যবস্থা আমার?

    দুর্গা বললেন, কথাটা ভাববার। নেমন্তন্ন করার কথায় মনে পড়ে গেল, হ্যাঁ চাটুজ্জ্যে, একবগ্গা নাকি তোমার নেমন্তন্ন নেয়নি? কথাটা ঠিক?

    —কে বললে?

    —বলেনি কেউ। সেদিন মায়ের প্রসাদ নিতে সে তো এল না? কেমন যেন একটা কানাঘুষো শুনলাম।

    —একবগ্গা বলেছে, সে ‘মহাপ্রসাদ’ ছোঁয় না! সে নাস্তিক!

    দুর্গা আকাশ থেকে পড়লেন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব কিছু শুনলেন। বলা বাহুল্য নন্দ চাটুজ্জে সেদিন সন্ধ্যার কথোপকথন যতখানি সম্ভব বিকৃত করে পেশ করলেন। উপসংহারে বললেন, একটা কিছু বিহিত কর গাঙ্গুলীদা! শুধু ধোপা-নাপিত বন্ধ করলেই চলবে না, গাঁ থেকে তাড়াতে হবে।

    দুর্গাচরণ, বললেন, হুঁ! ব্যবস্থা একটা কিছু করতে হচ্ছে। অঙ্কুরেই এসব পাপ বিনাশ করা উচিত! এতবড় দুঃসাহস!

    নন্দ ঘনিয়ে এসে বলেন, আমিও একটা উড়ো খপর শুনলাম, কতাটা সত্যি?

    —কী?

    —বোঠানকে দেখতে এসে নাকি একবগ্গা কী এক কুপ্রস্তাব দিয়েছিল?

    যেন প্রতিবর্তী প্রেরণা। দুর্গাও বলেন, কে বললে?

    —কে বললে, সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু কতাটা সত্যি?

    দুর্গাচরণ ইতিমধ্যে উপলব্ধি করেছেন, একবগ্গার কোন কুমতলব সেদিন ছিল না। কথাটার মধ্যে অশ্লীল কিছু থাকলে সবার সমুখে সে জমিদার গিন্নিকে বলতে পারত না ‘–বড়মা আপনার বুকটা একটু দেখব।’ তাছাড়া জামা-কাপড়ের উপর দিয়ে বুক-দেখার সেই আজব যন্ত্রটাকেও এতদিনে চিনে নিয়েছেন। তাই কথাটা ঘুরিয়ে নিলেন, না হে, কু-প্রস্তাব কিছু নয়। সেখানে তো শোভা ছিল, আম্মো ছিলাম। তবে কতার ধরনধারণ ঠিক ভদ্রজনোচিত নয়। খুড়িকে বার দুই নাম ধরে ডেকে বসল। হোক তোর পাড়ার মেয়ে। তাই বলে, শোভার সমুখে তুই ওকে ‘মীনু’ বলে ডাকিস কোন আক্কেলে?

    নন্দ সায় দিলেন, শিক্ষাদীক্ষা না থাকলে যা হয়। ছেলেবেলা থেকে বাউণ্ডুলের মতো এ গাঁয়ে সে গাঁয়ে ঘুরেছে তো। কিন্তু কী করে ওকে কায়দা করা যায় বল তো?

    —দেখছি! ছিদ্দির একটা বার করি আগে।

    —ঐ তো ছিদ্দির! ‘মহাপ্রসাদ খাব না’ বলা!

    দুর্গা ধমকে ওঠেন, বোকার মতো কথা বল না, চাটুজ্জে। সে ঘরের কোণে তোমাকে কী বলছে তাই নিয়ে ঘোঁট পাকানো কি ঠিক? টুটি টিপে ধরলে সে যদি বলে, কে বলেছে? বাজে কথা!

    —জগুঠাকরুণ শুনেছে। কাতু ছিল।

    —তারা তো তখন চোরের সাক্ষী গাঁটকাটা। বলবে, “কই না তো! তখন? একবগ্গা যদি বলে বসে, নিয়ে আসুন গোটা পাঁঠা। বলি দিয়ে আমি একাই খাব? তখন? তাছাড়া, বুয়েছ না, জমিদার গিন্নির ব্যাপারে এখন সবাই ওকে মাথায় করে নাচছে। ঝড়ে কাক মরে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে—

    —’ঝড়ে কাক মরে’?

    —মরে না? অতবড় তান্ত্রিক সাধক কৃষ্ণানন্দ বাচস্পতি যজ্ঞ করলেন, আড়াই মণ গব্য ঘৃত আহুতি দিলেন, সেসব কিছুই না?

    —তা বটে! তাহলে?

    —শোন ভায়া। এসব ব্যাপারে তাড়াহুড়া করা ঠিক নয়। ঝোপ বুঝে কোপ মারতে হবে। যাতে এক কোপেই ধড় থেকে মাথাটা নেমে যায়। শাস্ত্রে বলেছে না—‘মনসা চিন্তেৎ কৰ্ম্মো, বচসা ন প্রকাশয়েৎ’।

    —কথাটা আম্মো শুনেচি। মানেটা জানি না। কোন শাস্ত্রে আছে গো গাঙ্গুলীদা?

    —মনসামঙ্গলে।

    —অ! তা মানেটা কী?

    —মা মনসা কখনো কারও সাথে বচসা করেন না, চরম মুহূর্তে একটি ছোবলেই কম্মো সারা! বুয়েচো না?

    পরাজয় স্বীকার করে নেননি বৃদ্ধ জমিদার ঐ তরুণ ভেষগাচার্যের কাছে। খনন করা হল নূতন পুষ্করিণী। আজব তার আকৃতি। প্রথমটা সকলে ধরে নিয়েছিল এটা খননকারকদের একটা মারাত্মক ভ্রান্তি। দু-একজন বড় মিস্ত্রিকে সেটা দেখিয়ে দিতেও চেয়েছিল; কিন্তু বড় মিস্ত্রি বলে–না, বড় কর্তার ঐ রকমই হুকুম। পুষ্করিণীর উত্তর ও দক্ষিণ পাড় সমান্তরাল, পুব-পশ্চিম পাড় তা নয়। হেতুটা সহজবোধ্য। উত্তরপাড়ের দৈর্ঘ্য চারশ দশ হাত, দক্ষিণ পাড়ের তিনশ ষাট! অর্থাৎ পঞ্চাশ হাতের হেরফের। কারা বুঝি ব্রজেন্দ্র—নারায়ণের কাছে দরবার করতেও গিয়েছিল, তাঁর এমন অদ্ভুত নির্দেশ সত্যই আছে কিনা জানতে। অথবা মিস্ত্রি নিজের ভ্রান্তিটা কর্তার ঘাড়ে চাপাতে চাইছে।

    শুনে ব্রজেন্দ্র শুধু গম্ভীরভাবে বলেছিলেন, বল কী? দীঘিটাও অমন ‘একবগ্গা’ হয়ে গেল! এবার ঠেকাতে পারেননি। আরোগ্য নিকেতনের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করতে রাজি হননি। এবার পারলেন না। দীঘির নাম হয়ে গেল—অনিবার্যভাবে : ‘একবগ্গা দীঘি!’

    তার চারিদিকে উঠল প্রাচীর। না, বাঁশ বা শালখুঁটির বেড়া নয়। পাকা ইটের পাঁচিল। চুন-সুরকি মশলার। নির্মিত হল তিনটি আশ্রয়গৃহ। ধন্বন্তরির তত্ত্বাবধানে। গ্রামে ঢেঁড়া দেওয়া হল—ঐ পুষ্করিণী থেকে শুধুমাত্র পানীয় জলই সংগ্রহ করা যাবে, অবগাহন নিষিদ্ধ। এমনকি সংগ্রহকারী নিজ নিজ জলপাত্র ঐ পুষ্করিণীতে নিমজ্জিত করতে পারবে না। পানীয় জল সংগ্রহ করতে হবে বিচিত্র পদ্ধতিতে—একটি ঢেঁকিকলের রজ্জুর সঙ্গে আবদ্ধ নির্দিষ্ট জলপাত্রের সাহায্যে। বিচিত্র তার আকৃতি। সতীশ কামার রূপেন্দ্রনাথের নির্দেশ মোতাবেক এই অদ্ভুত পাত্রটি তৈরী করে বলেছিল, সারা জেবনভর কয়েক হাজার পাত্তর বানিয়েছি বাবু-মশাই, কিন্তুক্—এমন আজব পাত্তর বানাই নাই, যা মাটিতে থোওয়া যায় না।

    তা সত্যি। পাত্রটির তলদেশ সূচালো। জমিতে তাকে রাখা যায় না। সেটি রজ্জুবদ্ধ অবস্থায় ত্রিশঙ্কুর মতো আকাশমার্গে ঝুলতে থাকে। ঢেঁকিকলের মাধ্যমে পানীয় জলটা সংগ্রহ করে তা পাত্রান্তরে সঞ্চয় করতে হয়!

    পাগলের খেয়াল যাকে বলে!

    একবগ্গা-ঠাউরের উৎকট রসিকতা!

    শিরোমণি মশাই একদিন মাঝ সড়কে পাকড়াও করলেন ওঁকে। বললেন, আমাকে বুঝিয়ে বল তো রূপেন, এমন অদ্ভুত একটা জলপাত্র তুমি কেন তৈরী করালে? আর অমন চমৎকার একটা পুষ্করিণী খনন করিয়ে তা ‘প্রতিষ্ঠা করতে দিলে না কেন?

    রূপেন্দ্রনাথ জানেন, এইসব স্থবির কূপমণ্ডূকদের সংস্কারকে যুক্তিতর্ক দিয়ে দূর করা যায় না। এ বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা। পাঁজি-পুঁথিতে দেবনাগরী হরফে যা লেখা আছে তাই হচ্ছে ধ্রুব সত্য। ‘আয়ুর্বেদ’ যদি ‘বেদ’ না হত, অথর্ববেদের অংশভাক্ বলে তাকে প্রচার না করা হত, তাহলে কেউ ওঁর ঔষধ মুখে তুলেই দেখত না। তাই তিনি ‘মা ব্লুয়াৎ সত্যমপ্রিয়ম্ নীতিবাক্যটাই সম্প্রসারিত করে নিয়েছেন। যাতে সাধারণের সামূহিক মঙ্গল তা তথ্যগতভাবে মিথ্যা হলেও তত্ত্বগতভাবে সত্য। তাই অনায়াসে বলতে পারেন, আমি যে স্বপ্নে ঐরকমই একটা প্রত্যাদেশ পেয়েছিলাম শিরোমণি-কাকা।

    সহজ সরল কথা। বুঝতে কোন অসুবিধা হল না শিরোমণি-ঠাকুরের। বলেন, তাই বল!

    বৃদ্ধ শিরোমণিকে যত সহজে নিবৃত্ত করতে পেরেছিলেন অত সহজে সন্তুষ্ট করা গেল না কিন্তু যুবক জমিদারতনয়কে। তারাপ্রসন্নও একদিন পাকড়াও করলেন ওঁকে, কী প্রত্যাদেশ পেয়েছ রূপেন্দ্র?

    রূপেন্দ্রনাথ সেই সংক্ষিপ্ত আলাপচারী বিস্মৃত হয়ে গেছেন। সবিস্ময়ে জানতে চান, কী প্রত্যাদেশ? কে বলেছে।

    —শিরোমণি ঠাকুরকে নাকি তুমি বলেছ যে, মায়ের প্রত্যাদেশেই ঐ একবগ্গা দীঘিকে তুমি প্রতিষ্ঠা করতে দাওনি।

    রূপেন্দ্রনাথ মিটি মিটি হাসতে থাকেন।

    —না, না, হেসে পার পাবে না। বল, স্বপ্নে তুমি কী প্রত্যাদেশ পেয়েছিলে?

    —কোন প্রতিষ্ঠিত পুষ্করিণী থেকে নয়, শুধু মাত্র সংরক্ষিত পুকুরের জলপান করলেই সোঞাই গাঁয়ের এই ব্যাপক আন্ত্রিক রোগ দূরীভূত হবে। একে একে প্রতিটি পাড়াতেই আমি এ-ভাবে দু-একটি পুষ্করিণীকে সংরক্ষিত করব।

    কেন এ প্রচেষ্টা—এই প্রশ্নটা জাগাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারাপ্রসন্ন সে দিক দিয়েও গেলেন না। তদানীন্তন চিন্তাধারায় তাঁর পরবর্তী প্রশ্নটি হল, কিন্তু ঁমায়ের কোন মূর্তিকে স্বপ্নে দেখতে পেলে তুমি? কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী—

    বিচিত্র মানুষের কৌতূহল।

    রূপেন্দ্রনাথ বললেন, না, তারাদা, কোন দেবীমূর্তিকে আমি স্বপ্নে দেখিনি।

    —তাহলে তোমাকে প্রত্যাদেশটা দিলেন কে?

    এবার হেসে বলেছিলেন, তারাদা, তুমি বাবামশায়ের টোলে বেশ কিছুদিন ব্যাকরণ অধ্যয়ন করেছিলে। বল দেখি, ‘প্রত্যাদেশ’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি কী?

    —সেসব কবে ভুলে মেরে দিয়েছি। এ-কথা কেন?

    —প্রতি+আ+দিগ্‌+অ (ভো)!

    —এই শুরু হল পণ্ডিত্যেমি! বেশ, না হয় তাই হল। তাতে কী? আমার প্রশ্নের জবাব কোথায়?

    —‘প্রত্যাদেশ’ শব্দটির দুটি অর্থ। প্রথম অর্থ : ‘দৈববাণী’, যে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন শিরোমণি-ঠাকুর, করেছ তুমি। কিন্তু ওর দ্বিতীয় আর একটি অর্থ আছে: ‘পূর্বের আদেশ প্রত্যাহার করা’। আমি দ্বিতীয় অর্থে শব্দটা ব্যবহার করেছি। মিথ্যাভাষণ করিনি।

    —কিন্তু কার আদেশ? কী আদেশ প্রত্যাহার করার কথা বলছ?

    —কার আদেশ তা এখনি সঠিক বলতে পারছি না, তুমি এ গ্রামের কোন ঠাকুরমশাইকে প্রশ্ন করে জেনে নিতে পার। কোথাও না কোথাও এই শাস্ত্রীয় নির্দেশটি নিশ্চয় লেখা আছে দেবনাগরী হরফে—প্রতিষ্ঠিত পুষ্করিণীর দৈবমাহাত্ম্য এমন যে, তাতে আন্ত্রিক রোগাক্রান্ত রোগীর বস্ত্রাদি ধৌত করলে জল অপবিত্র হয় না।

    তারাপ্রসন্ন বলেন, জিজ্ঞাসা করার কী আছে? এ কথা তো শিশুও জানে, প্রতিষ্ঠিত পুকুরের জল অপবিত্র, হয় না।

    —সেই দেবনাগরী হরফে লেখা আদেশটা ‘প্রত্যাহার’ করার একটা প্রত্যাদেশ পেয়েছিলাম—স্বপ্নে নয়, শিক্ষায়। শাস্ত্রজ্ঞানে নয়, বিজ্ঞানের আশীর্বাদে।

    তারাপ্রসন্ন স্বীকার করেন, বুঝলাম না।

    —বসো। বুঝিয়ে বলি।

    তারাপ্রসন্ন নব্যযুগের মানুষ। রূপেন্দ্রনাথের অপেক্ষা মাত্র বছর-পাঁচেকের বড়। ভবিষ্যৎ-জমিদার। তাঁকে স্বদলে আনতে হবে। রূপেন্দ্রনাথের অনেক-অনেক স্বপ্ন। এই সোঞাই গ্রামকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে আধুনিকতার একটা বাতাবরণ সৃষ্টি করবেন। অন্ধ কূপমণ্ডূকগুলোকে বুঝিয়ে দিতে হবে—দেবনাগরী হরফে যেখানে যা কিছু লেখা আছে তাই অভ্রান্ত সত্য নয়! গ্রাম্য জীবনের নৌকার কাণ্ডারী হচ্ছেন ভূস্বামী। জমিদার নিজেই যদি কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয় তবে বিবেকবুদ্ধির বর্তিকায় নতুন করে পথ খোঁজা যাবে না। ব্রজেন্দ্রনারায়ণ বার্ধক্যে উপনীত; তারাপ্রসন্ন নব্য যুবক। তাকে স্বদলে আনতে হবে।

    বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব তাঁকে বোঝাতে থাকেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }