Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোঞাই – ১৩

    ১৩

    পার্শ্ববর্তী গ্রামে যে গৃহে গিয়েছিলেন সেখানেও ছিল একটি মৃত্যুপথযাত্রী রোগী। সারাটা দিন সেখানে থাকতে হল। সেটিও ব্রাহ্মণবাড়ি। বাধ্য হয়েই সেখানেই মধ্যাহ্ন-আহার সারতে হল। অপরাহ্ণ বেলায় রোগীর অবস্থা কিছু ভালোর দিকে পরিবর্তিত হওয়ায় ঔষধপত্রের ব্যবস্থা করে গ্রামের দিকে ফিরতে থাকেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে একটি অশ্ব ক্রয় করেছেন সম্প্রতি। সৈনগুপ্ত তার নাম। নিজেই তাকে দানাপানি দেন, পরিচর্যা করেন। জীবন দত্তও করে।

    সমস্ত দিন একটি রোগপাণ্ডুর মুখের ছবি ভাসতে থাকে তাঁর মনের পটে। মেয়েটি ‘অনাথা’। গোঁসাইজী লিখেছেন। ‘নাথ’ অর্থ কি স্বামী? অর্থাৎ বিধবা? কে জানে? সধবা যে নয়, এটুকু বোঝা যায়। কিন্তু একটি ‘অনাথা’,হতভাগিনীর বাবদে মোহন্ত-মহারাজ এত অর্থব্যয় করছেন কেন? সে কি ওঁর ‘সেবাদাসী? আবার লিখেছেন সে শুধু ‘হতভাগিনী’ নয়, ‘ভাগ্যবতী’–-‘রাইরানী’ হওয়ার জন্য দৈবনির্বাচিতা। মেয়েটিকে ঘিরে একটা রহস্যজাল গড়ে উঠছে বলেই কি ওঁর এই চিত্তচাঞ্চল্য? সে শুধু আর্ত নয়—সে বিশেষ!

    গৃহে যখন প্রত্যাবর্তন করলেন তখনো সন্ধ্যা নামেনি। দেখলেন, গো-শকটটি বৃক্ষচ্ছায়ায় অপেক্ষারত। রোগিণীর এখনো জ্ঞান হয়নি। কাত্যায়নী বসে আসে তার শিয়রের কাছে। আর কোন জনমানব নেই।

    —কেমন আছে রে? জ্ঞান হয়েছিল?

    —পুরো জ্ঞান হয়নি। দুপুরে একবার চোখ মেলে তাকিয়েছিল।

    —এরা সব কোথায়?

    কাত্যায়নী জানায়, প্রৌঢ়া মধ্যাহ্ন আহারান্তে নিদ্রাগতা। এখনো ঘুমাচ্ছে। বোধ করি পূর্বরাত্রে সম্পূর্ণ জাগরিত থাকতে হয়েছিল তাকে গো-যানে। সেপাইগুলো কে-কোথায় কাতু জানে না। রোগিণীর জ্বরতাপ দেখলেন কপালে হাত দিয়ে। জ্বর অনেকটা কমেছে। নাড়ি দেখলেন—হ্যাঁ, ঔষধে কাজ হয়েছে। নাড়ির গতিবেগ উন্নতির দিকে।

    বললেন, সারা রাত ওকে এখানে রাখা ঠিক নয়। কার্তিকের হিম সহ্য হবে না। তুই ঘরে একটা বিছানা পেতে দে।

    কাত্যায়নী জানায় আরোগ্য নিকেতনের নবনির্মিত একটি কক্ষে সে বিছানা পেতে রেখেছে। কিন্তু সেপাইগুলো ফিরে না আসা পর্যন্ত কী করে রোগিণীকে স্থানান্তরিত করা সম্ভব?

    রূপেন্দ্রনাথ বলেন : সে তোকে ভাবতে হবে না। তুই একটু দুধ গরম করে নিয়ে আয়। নড়াচড়ায় যদি ঘুম ভেঙে যায় তাহলে দুধটুকু খাইয়ে দেওয়া যাবে। আমিই ওকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে যাব।

    সহজ সরল নির্দেশ, কিন্তু কাতুর বুঝি তা মাথায় ঢুকল না। সে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে তার দাদার দিকে। ফলে ধমক খায়, কী বললাম মাথায় ঢুকল না? আমি তো সংস্কৃতে বলিনি কাতু।

    থতমত খেয়ে কাত্যায়নী তৎক্ষণাৎ স্থানত্যাগ করে। রূপেন্দ্রনাথ এপাশে ফিরে এগিয়ে আসেন রোগীকে স্থানান্তরিত করতে। ঠিক তখনি পশ্চিমাকাশে অস্তসূর্য মুক্তি পেল মেঘের বন্ধন থেকে। এক মুঠি হলুদ—আবীর রোদ ছড়িয়ে দিলেন সূর্যদেব শেষ বিদায়ের পূর্বে। রূপেন্দ্রনাথের মনে পড়ে গেল আয়ুর্বেদশাস্ত্রের নির্দেশ : ‘বিদায়ের পূর্ব মুহূর্তে সূর্য যেমন প্রকৃতির ললাটে শেষ চুম্বন চিহ্ন এঁকে দিয়ে যায় তেমনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার পূর্বে রোগীর ললাটে ফুটে ওঠে এক মহিমাময় দ্যুতি।’

    এই অস্তসূর্যের ‘কনে-দেখা আলোয় রোগীর ভ্রমধ্যে তেমন কোন দ্যুতি ফুটে উঠেছে কি না দেখবার জন্য ধন্বন্তরি মুখটা ওর অচৈতন্য আননের সন্নিকটে নিয়ে এলেন।

    আর তৎক্ষণাৎ সত্যটা প্রণিধান করলেন : ও রোগী নয়, রোগিণী! পূর্ণযৌবনা একটি নারী!

    বুঝতে পারেন, কেন কাতু অমন অবাক চোখে তখন তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল। তার জ্ঞানত দাদা কখনও কোন নারীদেহ এভাবে আলিঙ্গনাবদ্ধ করে বহন করে নিয়ে যায়নি।

    নজর হল, অসাবধানে মেয়েটির বক্ষাবরণ কিছুটা অপসারিত। নিশ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে সাথে তার প্রাণধারণের প্রেরণা বক্ষের যুগ্মকামনায় ফুলে-ফুলে উঠছে। অত্যন্ত অস্বস্তি বোধ করলেন দৃশ্যটায়। ভ্রমধ্যে নজর গেল না।

    বরং স্মরণ হল আয়ুর্বেদশাস্ত্রের অপর একটি শ্লোক : ‘তৃতীয় ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে যৌবনপ্রাপ্তা কোনও নারীদেহ কদাচ পরীক্ষা করিবে না। তার দেহস্পর্শ করিবে না।’

    নির্দেশটির অর্থ, উদ্দেশ্য, প্রাঞ্জল। কিন্তু সে নির্দেশের কি ব্যতিক্রম নাই? নির্জন প্রান্তরে যদি কোন মুমূর্ষু যৌবনপ্রাপ্তার সন্ধান পান, তাহলে তাকে উপেক্ষা করে পলায়ন করতে হবে—যেহেতু তৃতীয় ব্যক্তি অনুপস্থিত? বিবেকের নির্দেশকে নস্যাৎ করতে হবে—যেহেতু শাস্ত্রীয় অনুশাসনটি দেবনাগরী হরফে সংস্কৃতে রচিত?

    মনস্থির করলেন পণ্ডিত। না, এ অনুশাসন তিনি মানেন না, বর্তমান অবস্থায়-মানতে রাজি নন। প্রথমেই ঐ অচৈতন্যার আঁচলটি টেনে দিলেন বুকের উপর। একগুচ্ছ রুক্ষ কুন্তলচূর্ণ এসে পড়েছিল কপালের উপর—-আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিলেন তা। তারপর একটি হাত সাবধানে স্থাপন করলেন ওর মাথার নিচে, দ্বিতীয় হাত জানুদ্বয়ের তলা দিয়ে। অনায়াসে মেয়েটিকে পাজাকোলা করে তুলে নিলেন বুকে।

    কী হাল্কা। যেন একটি কবুতর।

    অতি সাবধানে মূর্ছিতাকে বহন করে নিয়ে এলেন নির্দিষ্ট কক্ষে। সেখানে সদ্যরচিত ‘শয্যাপার্শ্বে দুধের পাত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে ‘কাত্যায়নী। পথের দিকে নজর থাকায় রূপেন্দ্রের খেয়াল হয়নি, কোলে তুলে নেওয়ার পরমুহূর্তেই মেয়েটি চোখ মেলে তাকিয়েছে। ওঁর বাহুবন্ধে এলায়িততনু মেয়েটি নির্নিমেষ নয়নে ওঁকেই দেখছিল এতক্ষণ। শয্যায় তার দেহটি স্থাপিত করার উপক্রম করতেই সে দুই বাহু দিয়ে সবলে ওঁর কণ্ঠ বেষ্টন করে ধরল। তার দুটি চোখে ততক্ষণে আনন্দের জোয়ার। অস্ফুটে সে বললে, এসেছ? এত দেরী হল যে?

    একটা বিদ্যুত-তরঙ্গ প্রবাহিত হয়ে গেল রূপেন্দ্রের সর্বদেহে। ভারমুক্ত হতে পেরেছেন, কিন্তু বন্ধনমুক্ত নয়। বুঝতে অসুবিধা হয়নি—এ ঘোর প্রলাপ। অসংলগ্ন উক্তি! কাকে কী বলছে, তা ও জানে না। কিন্তু রজ্জুতে সর্পভ্রম হলে ভ্রমাত্মক ব্যক্তির সর্পদর্শনজাত ভীতি যেমন নিখাদ, এই প্রলাপোক্তিও তেমন একটা মিথ্যা মোহের বাস্তব মাদকতা বিস্তার করতে চাইছে যেন।

    নিরুপায় রূপেন্দ্র ভগিনীকে আদেশ দিলেন, পিছন থেকে ওর হাতের বাঁধন আলগা করে দে।

    দুধের পাত্রটা নামিয়ে রেখে কাত্যায়নী এগিয়ে এল। আদেশ পালন করল। রূপেন্দ্ৰ বন্ধনমুক্ত হলেন। দেখলেন রোগিণী পুনরায় অচৈতন্য। কিন্তু তার পূর্বেই তিনি অনুভব করেছেন ঐ মৃত্যুপথ যাত্রিণীর আর্তি—য়ে বাঁচতে চায়! কিছুক্ষণ পূর্বে দৃষ্টির মাধ্যমে মনে হয়েছিল নিশ্বাস-প্রশ্বাসের তালে-তালে ওর যুগ্মবক্ষের স্ফীতি শুধুমাত্র প্রাণধারণের তাগিদে, এখন স্পর্শের মাধ্যমে বুক দিয়ে, হৃদয় দিয়ে, অনুভব করেছেন—না, ও শুধু মানবশিশু হয়েই বাঁচতে চাইছে না—নারী হিসাবে বেঁচে উঠতে চাইছে।

    রোগিণীর দিকে যেন আর তাকিয়ে দেখতে পারছেন না। নতমস্তকে আত্মস্থ হতে চাইছেন। কাতু বললে, ঐ কথাটা ও কেন বললে দাদা?

    —প্রলাপ। বিকারের ঘোরে।

    —তা বুঝেছি। কিন্তু ও তোমাকে ভুল করে কাকে ভেবেছিল?

    —ওর কোন নিকট-আত্মীয়। দাদা-টাদা হবে।

    —দাদা?

    এবার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। ধমক দিয়ে ওঠেন, দাদা কি বাবা, কি পিসেমশাই তা কি আমার জানার কথা? তুই বড় বোকার মতো কথা বলিস কাতু। দে, পারিস তো দুধটুকু খাইয়ে দে।

    স্থানত্যাগ করেন। পলায়নই বলা যায়। কারণ, কাত্যায়নীকে ধমক দিলেও বোঝেন—যেমন কাতু বুঝেছে—ঐ আকুলতা, ঐ সম্ভাষণ দাদা, বাবা, পিসেমশায়ের প্রতি প্রযুক্ত নয়। মেয়েটি নিঃসন্দেহে বিধবা। বিকারের ঘোরে সে তার মৃত জীবনমরণের সাথীকেই দেখতে পেয়েছিল খণ্ডমুহূর্তের জন্য।

    এতক্ষণে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে। বাড়ির দাওয়ায় এসে বসলেন। রোগিণীর কথা নয়, নিজের কথাই চিন্তা করতে থাকেন। ন্যায়ের সেই সূত্রটিকেই বিচার করতে বসেন মনে মনে : ঠিক কথা। রজ্জুতে সর্পভ্রম হলে ভ্রমাত্মক ব্যক্তির ভীতির পরিমাপটা সমানই হওয়ার কথা; কিন্তু সে ব্যক্তির যদি পূর্বজ্ঞান থাকে যে, ওটা সর্প নয়, রজ্জু? তাহলে সে ভয় পাবে কেন? রূপেন্দ্রনাথ তো উচ্চারণ মাত্র বুঝতে পেরেছিলেন—মেয়েটির ঐ উক্তি নিতান্ত প্রলাপ। তাঁর দিকে দৃপাত করে শব্দকয়টি উচ্চারিত হলেও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি তৃতীয় ব্যক্তি। তাহলে? বিগতভর্তা যুবতীর প্রলাপোক্তিতে তিনি বিচলিত হলেন কেন? তার স্বামীর উদ্দেশ্যে উচ্চারিত প্রেমসম্ভাষণে তিনি শিহরিততনু হন কোন অধিকারে? এ তো পর্স্বাপহরণ!

    —রুপেন আছ নাকি?

    চমকিত হয়ে দেখেন তারাপ্রসন্ন এগিয়ে আসছেন। সন্ধ্যা উত্তীর্ণ। কৃষ্ণপক্ষের রাত। এক আকাশ তারা। পল্লীর বিভিন্ন কুটিরে শঙ্খধ্বনি নীরব হয়েছে। একটানা ঝিঝি পোকার ডাক। ঝোপেঝাড়ে শুধু মুঠো-মুঠো জোনাকি।

    —তারাদা নাকি? এস, বস।

    নিজে বসেছিলেন মেঠো দাওয়ায়। তারাপ্রসন্নের জন্য একটি চৌপায়া এগিয়ে দিলেন। তিনি সেটি সরিয়ে দিয়ে ঘনিয়ে এসে বসলেন। বললেন, মেয়েটি বাঁচবে?

    —তুমি জানলে কী করে?

    —মোহন্ত মহারাজ বাবামশাইকেও একটি পত্র লিখেছেন যে। কুসুমমঞ্জরীকে পাঠিয়ে দিয়েছেন তোমার কাছে। চিকিৎসা করাতে।

    —কুসুমমঞ্জরী? মেয়েটির নাম?

    —হ্যাঁ। তুমি জানতে না? ওর যে এ বছর রাইরানী হওয়ার কথা।

    —‘রাইরানী’ কাকে বলে তারাদা?

    —ও। তুমি বুঝি কিছুই জান না? শোন।

    তারাপ্রসন্ন দীর্ঘ কাহিনী শোনালেন। এসব বৃত্তান্ত তাঁর ভাল ভাবে জানা। নিতান্ত ঘটনাচক্রে। তারাপ্রসন্নের প্রথমা পত্নী তারাসুন্দরী—ভাদুড়ী-বাড়ির ঐ রেওয়াজ, অর্থাৎ বিবাহের পর প্রথমা পত্নীর নাম হয়ে যায় স্বামীর নামে—রূপনগরের মেয়ে। তিনি কুলীন বারেন্দ্র ঘরের সুন্দরী বালিকা ছিলেন। তাঁর পিতৃদেবের উপাধি সান্যাল—বাৎস্যগোত্র। কন্যা সন্তানের ফুটফুটে রূপ দেখে শৈশবেই সান্যাল মশাই আত্মজাকে মামাবাড়ি পাঠিয়ে দেন। স্বগ্রামে আনয়ন করতেন না—পাছে কারও নজর পড়ে যায়। তারাপ্রসন্ন বিবাহ করতে যান স্ত্রীর মাতুলালয়ে, পিতৃগৃহে নয়!

    —কারও নজরে পড়ে যায়’ মানে?

    ধর্মপত্নীর কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যগুলিই এবার সবিস্তারে বর্ণনা করতে থাকেন : প্রেমদাস মোহান্ত একটি নববৃন্দাবন রচনা করেছেন। বৃন্দাবনে যেমন এক কৃষ্ণ আর ষোড়শ গোপিনী, রূপনগরেও তারই প্রতিচ্ছবি। মোহান্ত বাবাজীর অসংখ্য গোপিনী, কিন্তু ‘রাইরানী মাত্র একজনই। এক বৎসরের মেয়াদে। প্রতি বৎসর রাসপূর্ণিমার দিন নির্বাচিত হয়ে যায় পর বৎসর রাসপূর্ণিমায় কোন ষোড়শী ‘রাইরানী’ হবে। দ্বাদশমাসে দ্বাদশবার প্রতি-পূর্ণিমায় তার কাছে ভেট যায়—মুর্শিদাবাদী রেশমের শাড়ি, অলঙ্কার, গন্ধদ্রব্য, অগুরু-চন্দন। সেবাদাসীরা তার অঙ্গমার্জনা করে, তাকে নানান আভরণে সাজায়। এই এক বৎসরকাল সে কিন্তু গোবিন্দদর্শনে বঞ্চিতা। মন্দিরে তার আসার অধিকার নেই। তখন তার বিরহের কাল। প্রতি পূর্ণিমায় আখড়ার ব্যবস্থাপনায় মন্দির-সংলগ্ন নাটমঞ্চে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রেমদাস বাবাজী এসে বসেন। আশীর্বাদ করেন। ‘মাথুর পালা’ গীত হয়। বিরহের গান। তারপর দ্বাদশ মাস বিরহযাপনান্তে রাসপূর্ণিমায় মেয়েটিকে ‘রাইরানী সাজানো হয়। হস্তিপৃষ্ঠে তাকে নগর প্রদক্ষিণ করানো হয়। মুহুর্মুহু পুষ্পবৃষ্টি হতে থাকে। নগরবাসী হরিসংকীর্তন করতে করতে অনুগমন করে। সন্ধ্যায় শোভাযাত্রা এসে থামে গোবিন্দ মন্দিরে। সেদিন সান্ধ্য-আরতির অধিকার ঐ ভাগ্যবতীর। অতঃপর কীর্তন। এবার মিলনের গান। মধ্যরাত্রে আসর ভাঙে। বরমাল্য নিয়ে তখন রাইরানী প্রবেশ করেন গোবিন্দজীর শয়নকক্ষে—মন্দিরে নয়, মন্দির-সংলগ্ন একটি পুষ্পশোভিত ফুলশয্যাগৃহে। প্রেমদাস বাবাজী পট্টবস্ত্র পরিধান করে, চন্দন-তিলক সেবা-অন্তে গোবিন্দের তরফে তার পাণিগ্রহণ করেন। তাকে আশীর্বাদ করেন। রাইরানীর জীবনযৌবন ধন্য হয়ে যায়।

    এক বৎসরের মেয়াদ। পরবর্তী রাসপূর্ণিমা পর্যন্ত। তখন আবির্ভূতা হন নতুনকালের নবীনা রাইরানী। বাসিফুলে কি দেবতার পূজা হয়? তবে নাকি দেবতাদের একটি দিবারাত্র মানবিক বিচারে এক বৎসর, তাই এই বৎসরান্তিক পালাবদলের পালা।

    পুরাতনী? সে তখন আর রাইরানী নয়—সেবাদাসী। অসংখ্য সেবাদাসীর অন্যতমা কখনো বা গোবিন্দের ঐ নির্মাল্যটি কাঞ্চনমূল্যে মাথায় করে গৃহে নিয়ে যায় রূপনগরের কোনও বিত্তশালী বৈষ্ণবসাধক—সেবাদাসী করে। তার প্রণামীতে স্ফীত হয় দেবতার তহবিল। গোবিন্দের ইচ্ছেয় যার অধিকার একমাত্র প্রেমদাস বাবাজীর।

    একটা নিরুদ্ধ আক্রোশে ফেটে পড়তে ইচ্ছা করছিল রূপেন্দ্রনাথের। আশ্চর্য! এই হচ্ছে হিন্দু সমাজ! এই হচ্ছে ধর্মের স্বরূপ। এতবড় একটা ক্লেদাক্ত অনাচারকে সারা দেশ মাথা পেতে মেনে নিয়েছে। কেউ রুখে দাঁড়ায় না। বরং দু-হাত তুলে হরিসংকীর্তন করতে করতে পাপাচারকে ধর্মীয় প্রলেপ দেয়।

    —কী মনে হয়? মেয়েটি বাঁচবে?

    রূপেন্দ্র বলেন, আয়ুর্বেদশাস্ত্রের নির্দেশ আজ লঙ্ঘন করতে ইচ্ছা করছে, তারাদা। মৃত্যুকে প্রতিহত করতে ওর পক্ষে একটিই ঔষধ—এক পুরিয়া বিষ!

    তারাপ্রসন্ন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, কী করবে বল ভাই, রূপেন্দ্র? এই হচ্ছে হিন্দুধর্ম।

    তিক্তকণ্ঠে রূপেন্দ্র বলেন, ওরা বলুক, কিন্তু তুমিও একথা বললে তারাদা? এই ধর্ম? ধর্ম কী? ‘ধৃ’-ধাতুতে গড়া ‘ধর্ম’ হচ্ছে পিলসুজ, যা ধরে রাখে। কিন্তু কাকে ধরে রাখে? যারা তার বিকৃত ব্যাখ্যা করে কামচরিতার্থ করছে, তাদের? না! ‘ধর্মং যো বাধতে ধর্মো ন স ধর্মঃ কুবৰ্ত্ত তৎ—‘ স্বয়ং বেদব্যাসের উক্তি। মঙ্গলকে, শিবকে যে ধারণ করে তাই ধর্ম—পাপকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ধর্ম নয়।

    তারাপ্রসন্ন বলেন, কিন্তু আমরা যে নিরুপায় ভাই। এটাই যে সামাজিক নির্দেশ।

    —সমাজ! হাঃ! ‘সমাজ’ শব্দটা পুংলিঙ্গ, তারাদা। ক্লীবলিঙ্গ নয়। তোমরা, বঙ্গদেশের ভূস্বামীরা রুখে দাঁড়াও, দেখি আমরা সমাজটাকে বদলাতে পারি কি না।

    —আমি ভূস্বামী নই রূপেন্দ্র। তাই বাবামশায়ের তরফে তোমাকে ডাকতে এসেছি। তিনি অবিলম্বে তোমাকে একবার দেখা করতে বলেছেন।

    —এখনই চল। ঐ মেয়েটির বিষয়ে আলোচনা?

    —সম্ভবত না। বাবামশাই কাল প্রত্যুষে কাটোয়া যাচ্ছেন। আমাকে তো বললেন, পিতৃপক্ষে গঙ্গাতীরে তর্পণ করতে যাচ্ছেন; কিন্তু আমার মনে হল আরও কিছু গভীর উদ্দেশ্য আছে। কাল থেকে মনে হচ্ছে তিনি বেশ উত্তেজিত। ক্রমাগত পদচারণা করে চলেছেন। আমি এই একটু আগে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলাম ঐ কুসুমমঞ্জরীর বিষয়ে; তিনি এককথায় আমাকে থামিয়ে দিলেন।

    —এককথায় থামিয়ে দিলেন! কী বললেন তিনি?

    —বললেন, রূপনগরের মোহন্ত মহারাজ অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। তাঁর বিরুদ্ধাচরণ কোনভাবেই করা উচিত হবে না। তাছাড়া রূপেন্দ্র চিকিৎসক—এসব বিষয়ে তার মাথা না ঘামালেও চলবে।

    রূপেন্দ্রর একটা আঘাত লাগল। জেঠামশাই বৃদ্ধ, প্রাচীনপন্থী, কিন্তু তাঁকে সংস্কারাচ্ছন্ন কূপমণ্ডূক বলে মনে হয়নি কখনো। তাঁর এ সিদ্ধান্তে ব্যথা পাওয়ারই কথা। প্রশ্ন করেন, তুমি কী পরামর্শ দাও?

    —আমি কী বলব? বাবামশাই যখন…

    তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে দেন, না! আমি তোমার ব্যক্তিগত মতামত জানতে চাইছি তারাদা। ধর, জেঠামশাই আগামীকালের বদলে যদি গতকাল কাটোয়া রওনা হয়ে যেতেন? তাহলে তাঁর অনুপস্থিতিতে সিদ্ধান্তটা তো তোমাকেই নিতে হত। তুমি সে ক্ষেত্রে কী করতে?

    তারাপ্রসন্ন একটু চিন্তা করে বলেন, আমি সে ক্ষেত্রে গোঁসাই মহারাজকে জানিয়ে দিতাম, মেয়েটির সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অল্প; তিনি যেন বিকল্প ব্যবস্থা করেন।

    —অর্থাৎ ওর পরিবর্তে আর কোন ছাগশিশুকে যূপকাষ্ঠে প্রেরণ করতে!

    —তাহলে তুমি কী করতে বল?

    —শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ। আমাদের ছলনার আশ্রয় নিতে হবে। আমরা জানিয়ে দেব, রাসপূর্ণিমার পূর্বেই মেয়েটি সুস্থ হয়ে যাবে। বিকল্প ব্যবস্থার কোন প্রয়োজন নাই। তারপর একেবারে শেষ মুহূর্তে জানিয়ে দেব মেয়েটি সুস্থ হল না। এমনটা তো হতেই পারে।

    —মিথ্যাচার? তঞ্চকতা?

    —না! সত্যাচার! ধর্মরক্ষা।

    —তাতে কী লাভ?

    —অন্তত একটি বছর একটি মেয়ে রক্ষা পাবে। গতবৎসর যে মেয়েটি রাইরানী হয়েছে—তার তো যা সর্বনাশ হবার হয়েই গেছে—তার মেয়াদ এক বৎসর বৃদ্ধি পেয়ে যাবে, অজানা-অচেনা এক কামুক শ্রেষ্ঠীর অঙ্কশায়িনী হবার যন্ত্রণাটা পিছিয়ে যাবে।

    তারাপ্রসন্নের ভ্রুকুঞ্চন হল। বললেন, রূপেন্দ্র, আমাকে খোলাখুলি বল তো, বাবামশাই যদি বারণ করেন তা সত্ত্বেও তুমি এই ছলনার আশ্রয় নিতে চাও?

    মেদিনীনিবদ্ধ দৃষ্টিতে রূপেন্দ্র বলেন, আমিই রোগিণীর অভিভাবক। তার ভালমন্দ আমাকেই দেখতে হবে।

    তারাপ্রসন্ন ‘ওর হাতখানা টেনে নিয়ে বলেন, তুমি আগুন নিয়ে খেলা করতে চা‍ইছ রূপেন্দ্রনাথ। প্রেমদাস মোহন্তের গুপ্তচর সমস্ত রাঢ়খণ্ড ঘুরে বেড়ায়। অত্যন্ত কুটকৌশলী সে। অপরিসীম তার ক্ষমতা। তার নিজস্ব সৈন্যদল আছে। টের পেলে সোঞাই গ্রামখানাকে সে নিশ্চিহ্ন করে দেবে!—

    —মুসলমান রাজত্বে সে গোসাই মানুষ এতটা ক্ষমতা পেল কী করে? আর কোন সম্প্রদায়ের হিন্দু সাধকের নিজস্ব সৈন্যদল আছে বলে তো শুনিনি।

    —না। প্রেমদাস বাবাজী সে দিক থেকে এক দুর্লভ ব্যতিক্রম। ‘অঙ্গাঙ্গিভাবমজ্ঞাত্বা কথং সামর্থ্যনির্নয়ঃ?[১]—বাবাজীর মুরুব্বির জোর আছে। তুমি জানতে না?

    [১. কার সঙ্গে কী জাতের খাতির আছে তা না জানা পর্যন্ত কারও প্রকৃত ক্ষমতা বোঝা যায় না।]

    —না। কে মুরুব্বি?

    —স্বয়ং ফতেচাঁদজী!

    —বল কী। কিন্তু তিনি তো বৈষ্ণব নন?

    —না। শোন বলি—

    ফতেচাঁদজীর নাম শুনেই তাঁকে চিনতে পেরেছেন রূপেন্দ্রনাথ। আপনি-আমিও চিনব। তবে নামে নয়, কৌলীক উপাধিতে। আপাতত তারাপ্রসন্ন-কথিত কাহিনীটি শোনাই—

    ফতেচাঁদ ছিলেন নিতান্ত গরিব পিতামাতার সন্তান। সুদূর রাজস্থান থেকে ভাগ্যান্বেষণে এসেছিলেন বঙ্গদেশে। কিশোর বয়সে। অত্যন্ত সুদর্শন, স্বাস্থ্যবান, উচ্চাভিলাষী ও বুদ্ধিমান। কৌতূহলী হয়ে রূপনগরে এসেছিলেন রাসের মেলা দেখতে। সেখানে খুব জমকালো রাসমেলা হয়। সে বৎসরের নির্বাচিতা রূপনগরের রূপবতীকে হস্তিপৃষ্ঠে নগর প্রদক্ষিণ করানো হয় সন্ধ্যায় প্রেমদাস বাবাজীর রাসলীলার আসর। সে এক দুর্লভ দৃশ্য। রাসমঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে রাইরানীকে পাশে নিয়ে সিদ্ধপুরুষ প্রেমদাস মোহন্ত—একমেবাদ্বিতীয়ম্ শ্রীকৃষ্ণের প্রতীক। আর তাঁকে ঘিরে তালে তালে নৃত্যরতা বিশ-বাইশজন গোপিনী। ষোলো থেকে ছত্রিশ—যারা প্রাক্তন রাইরানী, বর্তমানে গোপিনী। তাদের পরিধানে টাইট ‘চো আর কাঁচুলি—মোগলাই কখক নর্তকীদের ঢঙে। নিম্নাঙ্গে ঘাঘরা এবং বরাঙ্গে ওড়না। ঢাকাই মসলিনের। এতই স্বচ্ছ যে, যৌবনপুষ্ট তনুদেহের স্বরূপ অনুধাবনে ‘ভক্তদের কোন বাধা সৃষ্টি করে না। এমনকি ইতিমধ্যে যেসব গোপিনী অন্য কোন ধনীভক্তের সেবাদাসী হবার সৌভাগ্য লাভ করেছেন, তারাও ঐ বার্ষিক উৎসবে যোগদান করতে আসে। নৃত্যগীতে অংশ গ্রহণ করে। ভক্তেরা দোহার দেয়। মাথা নাড়ে।

    কিশোর ফতেচাঁদ সেই সুন্দরীদের হাট দেখতে এসেছিলেন। দেবরাজ ইন্দ্রের সভাতেও নাকি একযোগে এতগুলি সুন্দরীর সমাবেশ ঘটে না। একেবারে সামনের সারিতে বসেছিলেন তিনি।

    প্রেমদাস বাবাজী নিজেও তখন তরুণ। তাঁর বিলক্ষণ নেশা হয়েছে। সিদ্ধি, না বড় কলকে অথবা তরল পানীয় জানা নেই, কিন্তু ঘোর লেগেছে তাঁর। গোপিনীদের দেহ হিন্দোলের তালে-তালে ঝাড় লণ্ঠনগুলোও যেন পাক খাচ্ছে। হঠাৎ তাঁর নজর হল, সামনের সারিতে বসে আছে এক বালকৃষ্ণনন্দকিশোর। অপূর্ব সুপুরুষ ছেলেটি। বাৎসল্যরস উথলে উঠল। তিনি হাতছানি দিয়ে তাকে ডাকলেন। এক কদম কীর্তন তখন সবে থেমেছে। নূতন কীর্তনীয়া তান ধরেনি। বাদক তার বাঁধছে, সুর বাঁধছে। গোঁসাইজী প্রশ্ন করলেন, কী নাম রে তোর?

    —আজ্ঞে, ফতেঁচাদ।

    —বোষ্টম?

    —না, প্রভু। আমি জৈন। শ্বেতাম্বর সম্প্রদায়ের।

    —তবে মধুর লোভে এখানে ঘুরঘুর করছিস কেন? দ্যাখ, এদের কাউকে মনে ধরে? পাঁচ আঙুলে গ্রহবারণ পঞ্চরত্ন : মুক্তা, প্রবাল, নীলকান্ত, পদ্মরাগ ও হীরকখণ্ড। দক্ষিণ হস্তটি প্রসারিত করে গোপিনীদের দেখিয়ে দেন। তারা এতক্ষণ নৃত্যরতা ছিল। শ্রমজনিত শ্বাসপ্রশ্বাসে জোড়া-জোড়া স্বর্ণকলস উথালপাথাল করছে। তারা হেসে মুখে ওড়না চাপা দেয়। কারও বা কাজলকালো চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ঐ কন্দৰ্পকান্তিকে দেখে।

    ফতেচাঁদ কৌতুক বোধ করেন। অনিন্দ্যকান্তি গোপিকাকুলের উপর চোখ বুলিয়ে বলেন, আমি নিতান্ত অদ্যভক্ষ্যধনুর্গুণ গোঁসাইজী। সাধিকা পুষব কী ভাবে?

    হঠাৎ কী যেন হল সিদ্ধপুরুষের। দুই বাঘের থাবায় খামচে ধরলেন তরুণের দুই বাহুমূল নিকটে আকর্ষণ করলেন। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কী যেন দেখতে থাকেন তার ভূমধ্যে। তারপর ধীরে ধীরে তাকে মুক্ত করে দেন। বলেন, মেয়াদ শেষ হয়ে গেল। যাকে মন চায় তুলে নিয়ে যা। সূর্য উত্তরায়ণে যাত্রা করার পূর্বেই তুই লাখপতি হয়ে যাবি।

    দু-একটি প্রগল্ভা সকৌতুকে বলে ওঠে, আমাকে, আমাকে শেঠজী।

    ফতেচাঁদ দারুণ কৌতুক বোধ করেন। গোপিনীদের দিকে ফিরে বললেন, একটু দেরী হবে সুন্দরীরা। মকর-সংক্রান্তির এখনো এক পূর্ণিমা বাকি। আমি এখন শেঠজী নই, ফকিরজী।

    সবাই খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে।

    ফতেচাঁদ গোঁসাইজীর দিকে ফিরে যুক্তকরে নিবেদন করেন, প্রভু! মনে মনেই যখন খেতে দিচ্ছেন তখন দুধ কেন? ক্ষীরের বাটিই বরাদ্দ করুন। লাখপতির বদলে ক্রোড়পতি।

    প্রেমদাস বৈষ্ণব। সদা সুনীচ—তৃণাদপি। রাগ করতে জানেন না। ‘রাগ’ বলতে বোঝেন ‘অনুরাগ’। একগাল হেসে বললেন, কথাটা প্রত্যয় হল না, বাবা নন্দকিশোর? জানিস্ না, আমি বাক্‌সিদ্ধ?

    —জানি প্রভু! তবে আমার নাম ‘নন্দকিশোর’ নয়, ‘ফতেচাঁদ’। আমার পূর্বপুরুষ ছিলেন রাজস্থানী বণিক। আমি তাঁদের এক অযোগ্য পুত্র।

    প্রেমদাস স্মিত হেসে বলেন, বুঝেছি। রাজস্থানী বণিক বংশের বেটা বলেই ‘ক্ষীর’ ছাড়া মুখে আর কিছু রোচে না। তা বেশ। ক্ষীরই বরাদ্দ করে দিলাম। একমাসের মধ্যেই তুই—না লাখপতি নয়, ক্রোড়পতি হয়ে যাবি। যা’ ভাগ! পালা!

    ভক্ত অনুচরেরা ঐ রসভঙ্গকারী বিধর্মীকে সসম্মানে পথ দেখিয়ে রাসমঞ্চের বাইরে নিয়ে যায়। যেসব ভদ্রঘরের মেয়ে গোপিনীবৃত্তিতে পাকা হয়েছে তাদের কেউ কেউ পিছন থেকে বলে ওঠে—মাসখানেক পরে ফিরে এস ফকিরজী! আমাদের বিরহ যন্ত্রণার অবসান কর।

    আশ্চর্য ঘটনাচক্র। প্রায় অবিশ্বাস্য!

    সিদ্ধপুরুষ প্রেমদাস গোঁসাই-এর ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল। মকর-সংক্রান্তির পূর্বেই ফকির হয়ে গেল আমীর। এ যেন রূপকথার গল্প! অপুত্রক ধনকুবের মানিকচাঁদের নজর পড়ল ঐ অসামান্য রূপবান তরুণটির উপর। মানিকচাঁদও রাজস্থানী বণিক—শ্বেতাম্বর বণিক, সম্প্রদায়ের। ফতেচাঁদকে দত্তক নিলেন তিনি। ফতেচাঁদ প্রণাম করতে এলেন প্রেমদাস বাবাজীকে।

    মানিকচাঁদ বা ফতেচাঁদকে সে আমলে সবাই চিনত। দু’শ বছরের ব্যবধানে আপনি-আমি হয়তো ঠিক ধরতাইটা ধরতে পারছি না; কিন্তু উপাধিটা শুনলে আজও তাঁদের সনাক্ত করতে পারবেন। ওঁদের কৌলীক উপাধি—জগৎশেঠ।

    ‘জগৎশেঠ’ কোন ব্যক্তিবিশেষের নাম নয়। পারিবারিক পরিচয়। মহাকালের স্রোতে আমরা যে ঘাটে বর্তমানে নৌকা ভিড়িয়েছি তার বছর পনের পরে পলাশীর আমবাগানে যিনি ক্যাপ্টেন ক্লাইভকে ইতিহাসের ভিড়ে ঠেলে-ঠুলে ঠাঁই করে দিলেন তিনি যেমন ‘জগৎশেঠ মহতাপচাদ’, তেমনি প্রেমদাস বাবাজীকে যিনি গড় গড়বার অনুমতি নবাব সরকার থেকে পাইয়ে দিলেন তিনি—‘জগৎশেঠ ফতেচাঁদ।’ মহতাপের পূজ্যপাদ পিতামহ।

    শুধু অর্থকৌলীন্য নয়, ফতেচাঁদ ছিলেন আলিবর্দীর প্রিয়পাত্র অন্য এক হেতুতেও। প্রাগ্ববর্তী নবাব—সরফরাজ খার—হাত থেকে আলিবর্দীর শাসনদণ্ড ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

    হাতেম আলী এতবড় মুরুব্বির জোরকে উপেক্ষা করতে পারেননি—প্রেমদাস বাবাজীকে গড় গড়তে দিতে হয়েছিল। প্রেমদাস তাই নিজস্ব বেতনভুক সৈন্যও রেখেছেন। তারাপ্রসন্ন যা বলেছেন তা বড় মিছে কথা নয়—‘অঙ্গাঙ্গি ভাবমজ্ঞাত্বা—। বাবাজী ইচ্ছা করলে সোঞাই গ্রামখানিকে রাঢ়খণ্ডের মানচিত্র থেকে মুছে দেবার ক্ষমতা রাখেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }