Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগর – ১

    ১

    নবদ্বীপ।

    জননী জাহ্নবীর দুই আত্মজা—ভাগীরথী আর জলাঙ্গীর বিয়ে হল ভিন্ন ভিন্ন-গাঁয়ে। রাঙা চেলিতে কিশোরীতনু ঢেকে দুই চন্দন-চর্চিতা বালিকাবধূ গেল দু-মুখো, ঘর-সংসার করতে। তারপর যে-যার শ্বশুরঘরে গিন্নিপনা সেরে এ-গ্রাম সে-গ্রাম ঘুরতে ঘুরতে একেবারে দুজনের মুখোমুখি!

    ‘ওমা! মুখপুড়ি! তুই হেথায় এলি কোত্থেকে?’ বলে এ-ওর গলা জড়িয়ে ধরল। সেই যে কথায় বলে না—’গাঙে গাঙে দেখা হয়, তবু বোনে বোনে হয় না!’—এ যেন সেই বিত্তান্ত। দেখা হতেই দুই বোন দুজনকে বুকে জড়িয়ে ধরল। হাপুস-নয়নে কান্না। কত সুখ-দুঃখের গপ্পো। তারপর পানের বাটা খুলে বললে, নে, পান খা!

    দুই বোনের সেই মিলনস্থলটির নামই হল গিয়ে—নবদ্বীপ!

    কোন্ বিস্মৃত অতীতে এই জনপদটি গড়ে উঠেছিল তা বাপু ভুলে বসে আছে বুড়ো ইতিহাস। শুধালে বলে, কী জানি বাপু, জান্নে!

    কেউ বলে, দুই নদীর মিলনস্থলে রাখা সেই সোনার পানের বাটার উপরে জেগে উঠেছিল একটা চরা বা দ্বীপ। নতুন গজানো দ্বীপ বলে তার নাম ‘নবদ্বীপ’। আবার কেউ বলে, ছাই জান তোমরা—’নব’ মানে ‘নতুন’ নয়; এ হল গিয়ে ‘আটের-পরে-দশের-আগের’ নয়। ঐ নতুন-জাগা চরে আশ্রয় নিয়েছিলেন এক মহান তন্ত্রসাধক। লোকচক্ষুর আড়ালে তিনি ওখানে বসে গুপ্ত সাধন-ভজন করতেন। সাঁজের বেলায় জ্বেলে দিতেন নয়টি প্রদীপ—নবগ্রহের উদ্দেশ্যে। সারারাত নদীকিনারে জ্বলত সেই নয়টি প্রদীপ। নদীপথে নৌকার যাত্রীরা ঘন আঁধারে তান্ত্রিককে তো দেখতে পেত না—দেখত শুধু অনির্বাণ শিখায় জ্বলছে নয়টি ঘৃতপ্রদীপ। তা থেকেই ঐ দ্বীপের নাম হয়ে গেল নব-দীপ, বা নবদ্বীপ।

    সেন বংশীয় নৃপতি বল্লাল সেন এখানে বানিয়ে ছিলেন একটা জবর প্রাসাদ—একেবারে গাঙের কিনার সই-সই: ‘গঙ্গাবাস’। সেটা দ্বাদশ শতাব্দীর ঘটনা। ঐ প্রাসাদ থেকেই পরে মহম্মদ বতিয়ারের আক্রমণে বৃদ্ধ লক্ষ্মণ সেন গঙ্গাযোগে পলায়ন করেন। তোমাদের যদি বিশ্বাস না হয়, তাহলে এখনো গিয়ে দেখে আসতে পার—সেই গঙ্গাবাসের দু-দশখানা ছোট মাপের পাতলা বাঙলা ইট—গাঙের পুবপারে। ঐ যে এখন জমজমাট মায়াপুর আশ্রম হয়েছে তার মাইল -খানেক উত্তরে—বামুনপুকুর গাঁয়ে। তবে আমার কথা শুনে অতদূরে গিয়ে যদি দেখ সবই ভোঁ—ভাঁ, তাহলে আমাকে দোষ দিও না বাপু! বিশ্বাস কর, আমাদের হাফ-প্যান্ট-পরা যুগে—বিশ-ত্রিশের দশকে তা আমরা স্বচক্ষে দেখেছি!

    এখন হয়তো কিছুই নেই, পরে একথা লোকে বিশ্বাস করবে না। তাই আমাদের শিশুকালে কী ছিল তাই বরং লিপিবদ্ধ করে যাই—

    প্রাচীন মায়াপুর থেকে আধমাইলটাক উত্তরে বামুনপুকুর গাঁ। সেখানে কোন পুকুর দেখেছি কিনা মনে নেই, তবে চাঁদকাজীর সমাধি ছিল। আর সেই সমাধির ঠিক পাশে ছিল প্রকাণ্ড—অতি প্রকাণ্ড একটা গোলক-চাঁপার গাছ। আজও যদি সেটা বেঁচে থাকে, তবে চাঁদকাজীর সমাধিটা খুঁজে নিতে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না। এত বড় গোলকচাঁপার গাছ তোমার কখনো দেখনি। ভাল কথা, চাঁদকাজীকে চিনতে পারলে তো? তাঁর আসল নাম মৌলানা সিরাজউদ্দীন। তাও চিনতে পারলে না? বলি শোন, গৌড়েশ্বর হুসেন শাহ্র নামটা শুনেছ তো? সেই যিনি ফতোয়া জারী করেছিলেন—শ্রীচৈতন্যদেব নগর সংকীর্তন করতে পারবেন না। এই চাঁদকাজী ছিলেন সেই হুসেন শাহ্র শিক্ষক। তাঁরই মোক্তবে পড়তে যেতেন হুসেন শাহ্। কী পড়তেন? শোন বলি : মোক্তবে তখন তিনজাতের শিক্ষা দেওয়া হত। প্রথমত ‘তাবি’, অর্থাৎ ভৌত-বিজ্ঞান, দ্বিতীয়ত ‘রিয়াজি’—তার মানে হল গিয়ে অঙ্ক আর অলঙ্কার শাস্ত্র। শেষ ‘ইলাহি’–ধর্মতত্ত্ব, অল্লাহ্র উপাসনা। এ তিন বিদ্যা আয়ত্ত না করলে মুসলমান সমাজে ‘আলিম’ হওয়া যেত না।

    চাঁদকাজী ‘মোছলমান’, কিন্তু ভক্ত বৈষ্ণবেরা সে আমলে ঐ সমাধি প্রদক্ষিণ করে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করতেন, চিরাগ জ্বেলে দিয়ে যেতেন। ঐ চাঁদকাজীর শিক্ষার বনিয়াদ ছিল বলেই না হুসেন শাহ্ শেষ-মেশ উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন শ্রীচৈতন্যদেবের মহিমা।

    সমাধি মন্দিরের কিনার-ঘেঁষে মৌলানা সিরাজউদ্দীনের প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ।

    অদূরেই ‘বল্লাল ঢিবি’।

    প্রায় সওয়া শ মিটার দীর্ঘ আর তিনতলা সমান উঁচু। দূর থেকে মনে হয় একটা প্রাকৃতিক টিলা। আসলে তা গঙ্গাবাসের ধ্বংসস্তূপ। এখন এলাকাটা পুরাতত্ত্ব বিভাগের দায়িত্বে সংরক্ষিত। আমরা ওখানেই দুদশখানা পাতলা বাঙলা-ইট দেখেছি প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে। তোমরা পথ চিনে চিনে অকুস্থলে পৌঁছে হয়তো এখন দেখতে পাবে শুধু সেই নীলরঙা বোর্ডে পরিচিত সাদা হরফের একটা বাঁধা বয়ান। ইংরাজী ভাষার ‘লুটিশ’—যার বয়ান লর্ড কার্জনের :

    এই স্থান সংরক্ষিত!

    শ্রীচৈতন্যদেবের প্রায় সমকাল থেকে বাঙালী মনীষার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে নবদ্বীপ। তার দুটি ধারা—যেন ভাগীরথী আর জলাঙ্গীর মিলন। জলাঙ্গী—নব্যন্যায়; আর ভাগীরথী

    জলাঙ্গী—নব্যন্যায়; চৈতন্যভাবধারা। দ্বিতীয় ভাবধারার সঙ্গে আমরা সুপরিচিত—তাই নব্যন্যায় চর্চার কথাই বলি—

    প্রাক-চৈতন্যযুগ থেকেই বেদান্তের অনুশীলন হত—শঙ্করাচার্যের মায়াবাদকে খণ্ডনের একটা প্রবণতা দেখা যেত। এ অঞ্চলে ন্যায়-বৈশেষিকের প্রাধান্যের ফলে। আদি শঙ্করাচার্যের গুরু গোবিন্দপাদের গুরুদেবের নামই ছিল ‘গৌড়পাদ’। নামেই হয়তো পরিচয়, তিনি ছিলেন—গৌড়জন। গৌড়ীয় নব্যন্যায়ের চর্চা যদিচ প্রাগ্বর্তীকাল থেকেই অন্তঃসলিল ধারায় প্রবাহিত ছিল, তবু তা ভীমনাদিনী হয়ে উঠল বাসুদেব সার্বভৌমের (জন্ম আনুমানিক : 1420) সময় থেকে। বাসুদেব এবং তাঁর সুযোগ্য শিষ্য রঘুনাথ শিরোমণি (জ-আ : 1455) এ ধারার যুগ্ম-ভগীরথ। এবং স্মার্ত রঘুনন্দন।

    ন্যায়শাস্ত্রের প্রধান গ্রন্থ মহর্ষি গৌতম বিরচিত ন্যায়সূত্র। পরে ঋষি বাৎস্যায়ন রচনা করেন তার ভাষ্য, আর তারও পরে উদ্দোতকর প্রণয়ন করেন ন্যায়ের টীকা-টিপ্পনী। নব্যন্যায়ের চর্চা প্রধানত সীমিত ছিল মিথিলায়। গৌড়ীয় বিদ্যার্থীকে ঐ জ্ঞান আহরণের জন্য মিথিলায় যেতে হত। কী-ভাবে সেই নব্যন্যায় মিথিলা থেকে নবদ্বীপে আসে তা নিয়ে কিছু কাহিনী প্রচলিত আছে। কাহিনীর নায়ক কোথাও বাসুদেব সার্বভৌম, কোথাও বা তাঁর শিষ্য রঘুনাথ শিরোমণি। নায়ককে সনাক্ত নাই বা করলাম, গল্পটা শোন—

    গৌড়ীয় পণ্ডিত নব্যন্যায় অধ্যয়ন করতে মিথিলায় এসেছেন। মিথিলার তদানীন্তন শ্রেষ্ঠ নৈয়ায়িক পক্ষধর মিশ্রের চতুষ্পাঠীতে দীর্ঘদিন অধ্যয়ন করে স্বহস্তে রচনা করলেন নানান টীকা-টিপ্পনী। শিক্ষা সমাপনান্তে যখন তিনি গুরুর কাছে বিদায় চাইলেন তখন পক্ষধর মিশ্র বললেন, ও কী বাবা! তোমার ঐ পুঁথিগুলি তো তুমি গৌড়ে নিয়ে যেতে পার না। গৌড়ীয় পণ্ডিত সবিস্ময়ে বলেন, কেন গুরুদেব? এগুলি তো আমার স্বহস্ত-লিখিত পুঁথি! এ তো আমার নিজস্ব সম্পদ?

    গুরু বললেন, সে-কথা অনস্বীকার্য। কিন্তু এগুলি যদি তুমি গৌড়মণ্ডলে নিয়ে যাও তাহলে ভবিষ্যতে তো সেখান থেকে আর কোন শিক্ষার্থী মিথিলায় আসবে না। আমি কী ভাবে সজ্ঞানে আমার মাতৃভূমি মিথিলার সর্বনাশ করি?

    শিষ্য বলেন, যুক্তিপূর্ণ কথা। সে-ক্ষেত্রে আমাকে এ গুরু-গৃহে আরও এক সপ্তাহকাল বসবাসের অনুমতি দিন।

    গুরু সহাস্যে বলেন, এক সপ্তাহ কেন, বাবা? তুমি স্বীকৃত হলে মিথিলারাজের কাছ থেকে উপযুক্ত বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। তুমি আজীবন মিথিলাবাসী হয়ে থাকতে পার।

    তরুণ পণ্ডিত স্মিত হেসে বলেন, তা কেমন করে হবে, গুরুদেব? আমিও তো সজ্ঞানে আমার মাতৃভূমি নবদ্বীপের সর্বনাশ করতে পারি না।

    সপ্তদিবস-রজনী শিষ্য ঐ চতুষ্পাঠীর এক রুদ্ধদ্বার গৃহে তাঁর রচিত টীকা-টিপ্পনী আদ্যন্ত কণ্ঠস্থ করে ফেললেন। বিদায়কালে যখন রিক্তহস্তে প্রত্যাবর্তন করলেন তখন নব্যন্যায়ের বিভিন্ন সূত্র ও ব্যাখা তাঁর মস্তিষ্ক-মঞ্জুষায় থরে থরে সাজানো।

    গৌড়ীয় বিদ্যার্থীকে অতঃপর নব্যন্যায় চর্চার জন্য মিথিলায় যেতে হত না।

    এই প্রচলিত কাহিনীর অনুপ্রেরণাতেই সতেন্দ্রনাথ তাঁর ‘বাঙালী’ কবিতায় লিখেছিলেন, …পক্ষধরের পক্ষশাতন করি/বাঙালীর ছেলে ফিরে এল ঘরে যশের মুকুট পরি।’

    কারও মতে ঐ নবীন গৌড়ীয় পণ্ডিত স্বয়ং বাসুদেব সার্বভৌম। সেটি ভ্রান্ত হতে বাধ্য। কারণ তিনি পক্ষধর মিশ্রের সমসাময়িক পণ্ডিত এবং পিতা নরহরি বিশারদের নিকটেই নব্যন্যায় শিক্ষা করেন—জীবনে কখনো মিথিলা যাননি। পুরী গেছেন, বারাণসী গেছেন, মথুরা-বৃন্দাবন পরিক্রমা করেছেন; কিন্তু মিথিলা নয়।

    কারও মতে এ কাহিনীর নায়ক রঘুনাথ শিরোমণি, যাঁর আর এক নাম ‘কাণভট্ট’ শিরোমণি। তিনি বাসুদেব সার্বভৌমের শিষ্য; তাঁর একটি চোখে দৃষ্টিশক্তি ছিল না বলেই ঐ নাম। তিনিও কিন্তু পক্ষধর মিশ্রের কাছে নব্যন্যায় শিখতে যাননি।

    তার মানে কি সত্যেন দত্ত ওটা ভুল লিখেছেন? পক্ষধরের পক্ষশাতন কোন বাঙালী পণ্ডিত করেননি? না, সেটাও ঠিক নয়। করেছিলেন। অযোধ্যা নয়, বাল্মীকির মনোভূমিই যেমন শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থান, ঠিক তেমনি ঐ খণ্ডকাহিনীটি প্রচলিত প্রবাদ হওয়া সত্ত্বেও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের পরিবেশিত কাব্যসত্য ঋত! সেই সত্যকাহিনীটি এবার বলি—

    নব্যন্যায়ের এক জটিল তত্ত্বের সমাধান হচ্ছিল না। মৈথিলী পণ্ডিতেরা এ বিষয়ে দ্বিমত তখন মিথিলারাজ এক মহতী বিচার- সভার আয়োজন করলেন। একপক্ষে মৈথিলী বিদ্বৎসমাজের শ্রেষ্ঠ নৈয়ায়িক পক্ষধর মিশ্র, অপরপক্ষে নবদ্বীপপন্থী গৌড়ীয় পণ্ডিতেরা। মিথিলারাজের নিমন্ত্রণ এসে পৌঁছাল নবদ্বীপের পণ্ডিতসমাজের মধ্যমণি বাসুদেব সার্বভৌমের নিকট। বাসুদেব স্বয়ং সে বিচার-সভায় গমন করলেন না। পাঠিয়ে দিলেন নিজের প্রিয় শিষ্য রঘুনাথ শিরোমণিকে। তাঁর সঙ্গে আর দুই পণ্ডিত—কুশদহ বিদ্বৎসমাজের জনৈক তর্কসিদ্ধান্ত—যার পূর্ণ পরিচয় সংগ্রহ করতে পারিনি, আর নলদ্বীপ ভট্টাচার্য বংশীয় বিষ্ণুদাস সিদ্ধান্ত।

    বিচার্য বিষয়টা যে কী, তা বুঝবার মতো বিদ্যে আমার নেই। একটি উদ্ধৃতি শুধু পরিবেশন করতে পারি, মহাপণ্ডিত দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্যের “বাঙ্গালীর সারস্বত অবদান (১ম)” গ্রন্থ থেকে। দেখুন, আপনারা ধরতাইটা ধরতে পারেন কি না—“বিচার্যের বিষয় ছিল সামান্য লক্ষণা-নামক ন্যায়শাস্ত্রসম্মত অলৌকিক সন্নিকর্ষ।”

    ঘটনাটা 1480-85-এর ভিতর।

    স্বয়ং বাসুদেব সার্বভৌমের পরিবর্তে গৌড়মণ্ডল থেকে তিন-তিনজন নব্যপণ্ডিত উপস্থিত হয়েছেন দেখে ক্ষুব্ধ হলেন মহাপণ্ডিত পক্ষধর মিশ্র। যদিচ তিনি পূর্বপক্ষের দলপতি, তবু তাঁর শিষ্যত্রয়ীকে ঐ গৌড়াগত উত্তরপক্ষের সঙ্গে তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বললেন। স্বয়ং নীরব শ্রোতার ভূমিকা অবলম্বন করলেন।

    কিন্তু ক্রমে দেখা গেল, মিথিলাপক্ষ বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে এর পর পক্ষধর মিশ্র স্বয়ং বিতর্কে অংশগ্রহণ করতে শুরু করলেন। কিন্তু রঘুনাথ শিরোমণির ক্ষুরধার যুক্তিতে তাঁর সমস্ত যুক্তিই ভেসে গেল। পক্ষধর সংযম হারালেন! তিনি ছিলেন স্বভাব কবি—শেষ পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি রঘুনাথের উদ্দেশ্যে একটি শ্লেষাত্মক শ্লোক রচনা করে তাঁকে আক্রমণ করলেন-

    “বক্ষোজপানকৃৎ‍[১] কাণ[২]! সংশয়ে জাগ্রতি স্ফুটং।
    সামান্যলক্ষণা কস্মাদকস্মাদবলুপ্যতে।।”

    [১. বক্ষোজপানকৃৎ= যে বুকের দুধ খায়, অর্থাৎ দুগ্ধপোষ্য শিশুমাত্র
    ২. কাণ = কানা।]

    তৎক্ষণাৎ ন্যায়াধিশ বিচারক তর্কযুদ্ধ সমাপ্ত হয়েছে বলে ঘোষণা করলেন। বললেন, মৈথিলী বৃদ্ধ পণ্ডিত নিজ স্বীকৃতিমতে পরাজিত! কারণ তাঁর যুক্তিতর্ক আর নৈর্ব্যক্তিক নয়। তা তরুণ উত্তরপক্ষ অবলম্বনকারীদের প্রতি প্রযুক্ত অহৈতুক কটুভাষা মাত্র। ব্যক্তিগত আক্রমণ!

    এটিই হল কবি সত্যেন্দ্রনাথের ঐ অনবদ্য পংক্তিটির যাথার্থ্য!

    বাসুদেব সার্বভৌম পরে শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাবে বৈষ্ণবধর্মের দ্বৈতবাদ স্বীকার করে নেন তিনি তত্ত্বচিন্তামণির এক অনবদ্য টীকা রচনা করেন। রঘুনাথের শ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘অনুমানদীধিতি। পরবর্তীকালে জগদীশ তর্কালঙ্কার (জ:আ:1540) নব্যন্যায়ের আর এক স্তম্ভ। এঁর আর একটি কীর্তি: চৈতন্যদেবের প্রভাবে তিনি আচণ্ডালকে শিষ্যত্বদানে পরান্মুখ হননি। বাস্তবে তাঁর কয়েকজন প্রখ্যাত শূদ্র শিষ্য ছিলেন। আরও অর্ধশতাব্দী পরে গদাধর ভট্টাচার্য, হরিদাস ন্যায়ালঙ্কার, মথুরানাথ তর্কবাগীশ প্রভৃতি নবদ্বীপের উজ্জ্বল রত্ন। মধুসূদন সরস্বতী বোধ করি অদ্বৈতবাদের তদানীন্তন শ্রেষ্ঠ প্রচারক। তাঁর নামে একটি বহুল প্রচারিত শ্লোক আজও শোনা যায়—

    “সরস্বত্যাঃ পারং বেত্তি মধুসূদন সরস্বতীঃ
    মধুসূদন সরস্বত্যাঃ পারং বেত্তি সরস্বতীঃ।।”[১]

    [১. বাগদেবীর জ্ঞানের সীমান্তে যেমন উপনীত হতে পেরেছিলেন মধুসূদন সরস্বতী, তেমনি মধুসূদনের জ্ঞান-সীমার পরিমাপ একমাত্র বাগদেবীরই পক্ষে করা সম্ভব।]

    নবদ্বীপ-গৌরবের দ্বিতীয় ধারাটি চৈতন্য-আশ্রয়ী। সে তথ্য সর্বজনবিদিত। শ্রীচৈতন্যের স্মৃতি-বিজড়িত কত-কী আছে নবদ্বীপে, মায়াপুরে, শান্তিপুরে চৈতন্যদেবের জন্মস্থান যে নবদ্বীপধাম, এ বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই। প্রশ্ন : সেটি কি গঙ্গার পশ্চিমপারে? অথবা পূর্বে, জলাঙ্গী নদীর উত্তরে? যুক্তিগ্রাহ্য মত—চৈতন্যদেবের জন্মস্থান ঐ মায়াপুর। এ মতের পিছনে বহু পণ্ডিত, ভক্ত এবং পুরাতত্ত্ববিদদের সমর্থন। প্রাচীন ইতিহাস আর বৈষ্ণব গ্রন্থমতে নবদ্বীপ গঙ্গার পূর্বতটে অবস্থিত। গঙ্গার পশ্চিম তীরস্থ জনপদকে মনে হয় প্রাচীন নবদ্বীপ মণ্ডলের অন্তর্গত কোলদ্বীপ বা ‘কুলিয়া-পাহাড়পুর’। ভুললে চলবে না ভাগীরথীর মূল জলধারা তখন ভিন্ন খাতে বইত—জলাঙ্গী, মাথাভাঙা, গড়াই, ইছামতি তখন ছিল দুর্বার। ক্রমে তা পদ্মার পথ খুঁজে নেয়। পরম বৈষ্ণব নরহরি চক্রবর্তী বা ঘনশ্যাম দাস—যিনি দীক্ষা নিয়েছিলেন শ্রীনিবাস আচার্যের কাছে, আর শ্রীরূপ গোস্বামী প্রতিষ্ঠিত গোবিন্দজীর ভোগ নিজে হাতে রান্না করতেন—তিনি তাঁর সুবৃহৎ গ্রন্থ ‘ভক্তি-রত্নাকরে’ লিখে গেছেন—

    “নবদ্বীপ মধ্যে মায়াপুর নামে স্থান।
    যথা জন্মিলেন গৌরচন্দ্র ভগবান।।
    যৈছে বৃন্দাবনে যোগপীঠ সুমধুর।
    তৈছে নবদ্বীপে যোগপীঠ মায়াপুর।।”

    চৈতন্যদেবের সমসাময়িক কাশীর দণ্ডী সমাজের নেতা প্রকাশানন্দ সরস্বতী—যাঁকে মহাপ্রভু নতুন নাম দিয়েছিলেন ‘প্রবোধানন্দ সরস্বতী—তিনি তাঁর ‘নবদ্বীপ শতক’ গ্রন্থেও এই মায়াপুরের নাম উল্লেখ করেছেন।

    এই সব বিষয়ে সবিশেষ জ্ঞাত ছিলেন রূপেন্দ্রনাথ। এই সব তীর্থ স্বচক্ষে দেখবেন, তাদের যাথার্থ্য বিচার করবেন—এমন মনোবাসনা নিয়ে তিনি চলেছেন নবদ্বীপে।

    .

    আমাদের কাহিনীর কালে নবদ্বীপাধিপতি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বয়স বত্রিশ বৎসর। তখনো তিনি ‘মহারাজ’ হননি। সে খেতাব পেয়েছিলেন পরবর্তী দশকে, সিরাজ-বিতাড়ন নাটকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করায়। প্রজানুরঞ্জন, গুণগ্রাহী, নিজে সংস্কৃত ও ফারসী ভাষায় সুপণ্ডিত, শস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী এবং বিদগ্ধ সঙ্গীতজ্ঞ। কিন্তু কূটকৌশলী, প্রাচীনপন্থী, আর আদিরসের দিকে তাঁর ঝোঁক। নবদ্বীপ থেকে তাঁর রাজধানী প্রায় সাত ক্রোশ দূরে—’গোয়াড়ি-কৃষ্ণনগর’। গোয়াড়ি গ্রামের নামটা যুক্ত করতে হয় ‘খানাকুল-কৃষ্ণনগর থেকে পৃথক করতে।

    রাজা কৃষ্ণচন্দ্র গুণগ্রাহী অতি ব্যাপক অর্থে। ন্যায় ও বেদান্তের পণ্ডিত, কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কুস্তিগীর, লাঠিয়াল, মৃৎশিল্পী, হাস্যরসিক—প্রভৃতি সকলেই তাঁর অনুগৃহীত। আকবর বাদশাহের মতো তাঁর সভাতেও নবরত্নের প্রভা! স্মার্ত রঘুনন্দনের বংশধর হরিরাম তর্কালঙ্কার, অদ্বৈতাচার্যের অধস্তন পুরুষ শান্তিপুর বিদ্বৎসমাজের তদানীন্তন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত গোস্বামীপাদ রাধামোহন বিদ্যাবাচস্পতি, নবদ্বীপের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ নৈয়ায়িক শঙ্কর তর্কবাগীশ তাঁর রাজসভার তিন উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। কালীভক্ত কবি রামপ্রসাদ সেন এর পদ্মরাজ-মণি। আর পেঁড়ো-ভুরশুটের সেই বাণীর বরপুত্র—রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র সে সভার কমলহীরে! আকবর-দরবারে বীরবলের প্রতিচ্ছায়া ঘূর্ণী গ্রাম নিবাসী হাস্যার্ণব গোপালচন্দ্র ভণ্ড!

    এসব তথ্যই মোটামুটি জানা ছিল রূপেন্দ্রনাথের। এঁদের সকলের খ্যাতি-তখন গোটা রাঢ়খণ্ডে বিস্তৃত। তিনি এসব কথা আরও বিস্তারিতভাবে শুনেছিলেন তাঁর শিক্ষাগুরু মহাপণ্ডিত জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের কাছে। তিনিও ঐ কৃষ্ণচন্দ্রের বৃত্তিভোগী—যদিও তিনি কৃষ্ণনগর রাজসভায় কদাচিৎ পদধূলি দিতেন। বস্তুত তিনি ছাড়াও রাঢ়খণ্ডের অনেকানেক পণ্ডিত ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বৃত্তিভোগী। যেমন হুগলি গুপ্তিপাড়ার রামদেব তর্কবাগীশের সুযোগ্য পুত্র বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার। তিনি প্রায়ই রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আহ্বানে কৃষ্ণনগরে তাঁর সভা অলঙ্কৃত করতে আবির্ভূত হতেন। তিনি মুখে মুখে কবিত্বপূর্ণ সংস্কৃত শ্লোকে ‘পাদপূরণ’ করতে পারতেন। পরবর্তীকালে ওয়ারেন হেস্টিংস-এর উদ্যোগে বাঙলাদেশের তদানীন্তন প্রধান কয়েকজন স্মার্ত পণ্ডিতের প্রচেষ্টায় যখন ‘বিবাদার্ণবসেতু’ সংকলন-গ্রন্থ রচিত হয়, তখন বাণেশ্বর তার প্রধান রূপকারের ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }