Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তীর্থের পথে – ১

    ১

    সূর্য এখন কুম্ভরাশিতে।

    রূপেন্দ্রনাথ সস্ত্রীক এসেছেন শহর বর্ধমানে। কুসুমমঞ্জরী এখনো নববধূই। মাত্ৰ দুইমাস পূর্বে বিবাহ হয়েছে তাদের। যে আমলের কথা, তখন ‘মধুচন্দ্রমা’ শব্দটা অভিধানে ছিল না। বাঙলা ভাষার অভিধান তখনো জন্মায়নি, সংস্কৃততেও শব্দটার ব্যবহার নাই। বিবাহের অব্যবহিত পরে এই সস্ত্রীক দেশভ্রমণের তিনটি হেতু। কোনটি মুখ্য তা নির্ণয় করা কঠিন। যেটি স্বীকার করে নেওয়া শোভন, সেটিকেই সর্বাগ্রে লিপিবদ্ধ করি :

    যেভাবে দুর্গাচরণ একদিন বিবাহের ঠিক পূর্বে রূপেন্দ্রের কাছে নিয়ে এসেছিলেন নবদ্বীপ পরিদর্শনের প্রস্তাব, প্রায় অনুরূপ প্রস্তাব নিয়ে একদিন হাজির হলেন নন্দদুলাল চাটুজ্জে। তাঁর বড়কর্তা, অর্থাৎ নগেন্দ্রনাথ দত্ত-মশাই ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, ভেষগাচার্য যেন একবার তাঁর ভদ্রাসনে পদধূলি দেন। বর্ধমানে।

    নগেন্দ্রনাথ বর্ধমানের একজন অত্যন্ত ধনী গৃহস্থ। বর্ধমানভুক্তির প্রধান ইজারাদার। রাজ-সরকার কর্তৃক নিয়োজিত রাজস্ব আদায়ের দালাল। বিশাল এলাকায় তাঁর কর্মক্ষেত্র। নন্দ-খুড়ো তাঁর তরফে সোঞাই গ্রাম-সংলগ্ন পঞ্চগ্রামের উপ-ইজারাদার। নগেন্দ্রের বয়স অনুমান পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন। সম্প্রতি তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রীর মস্তিষ্কবিকৃতির লক্ষণ দেখা দিয়েছে। শহর বর্ধমানের কবিরাজ এবং হাকিমের দল হাল ছেড়ে দিয়েছেন। বলাবাহুল্য তার পূর্বে ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবচ, শান্তি-স্বস্ত্যয়নের যাবতীয় পর্যায় পাড়ি দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রথমা স্ত্রী স্বর্গলাভ করেছেন বছর-দুয়েক—তিন-চারটি সন্তান রেখে। ছোটটি নেহাৎ দুগ্ধপোষ্য না হলেও বালকমাত্র। তাই বাধ্য হয়ে দত্তমশাইকে এই দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করতে হয়েছে। কিন্তু কী দুর্দৈব, বৎসরখানেকের ভিতরেই নববধূর মস্তিষ্কবিকৃতির লক্ষণ দেখা গেল। দত্তজা নিতান্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত খরচ করতে পিছপাও নন। নন্দখুড়োর মুখে ভেষগাচার্যের অলৌকিক ক্ষমতার কথা শুনে, এই প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।

    রূপেন্দ্রনাথ এককথাতেই সম্মত হয়ে গেলেন।

    তাঁর ইচ্ছা ছিলই—বিবাহের পর একবার ত্রিবেণী যাবেন। গুরুদেবকে সস্ত্রীক প্রণাম করে আসবেন। তাছাড়া মঞ্জুকে নিয়ে নবদ্বীপ, শান্তিপুরে তীর্থ সেরে আসবেন। ভারতচন্দ্রের কাছে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আরও একটা হেতু ছিল। সেটি বেদনাবহ এবং কৌতুকের।

    রূপেন্দ্রনাথের ভদ্রাসনে একটিই শয়নকক্ষ। যে কক্ষে পূর্বযুগে শয়ন করতেন ওঁর পিতৃদেব—সৌরীন্দ্রনাথ। ইদানীং সেটি ছিল জগুঠাকরুণ আর কাতুর যৌথ অধিকারে। রূপেন্দ্র রাত্রিবাস করতেন বার-বাড়িতে, যা সেকালে ছিল চতুষ্পাঠী, বর্তমানে গৌরবে ওঁর বৈঠকখানা এ-ছাড়া প্রাঙ্গণ অতিক্রম করে আরও দুটি ছোট ছোট একচালা আছে—ঠাকুরঘর এবং পাকশালা। রূপেন্দ্রের বিবাহের প্রায় সমসময়েই কাতুর জন্য একটি পৃথক কামরার প্রয়োজন হয়ে পড়ল। জগুঠাকরুণের সঙ্গে রাত্রিবাস করা আর তার পক্ষে সম্ভবপর নয়। সম্ভবপর হয়তো, বাঞ্ছনীয় না। গঙ্গাচরণ রুগী হিসাবেই এসে আশ্রয় নিয়েছিল বটে, কিন্তু এতদিনে তাকে চিনে ফেলেছে সবাই। জগুঠাকরুণ বাস্তুচ্যুত হয়েও উচ্ছ্বসিত! মেয়ে-জামাইকে এক সাথে পাবেন, এ আশা ছিল না তাঁর।

    তা যেন হল, কিন্তু এই ‘ঠাঁই-নাই” ভদ্রাসনে দু-জোড়া নবদম্পতির রাত্রিযাপনের কী আয়োজন করা যায়? স্বীকার্য, কাত্যায়নীর বিবাহ হয়েছে পূর্বদশকে; কিন্তু নারীজন্ম যে তার সার্থক হয়েছে এই সপ্তাহেই। জগুপিসি একটা সহজ সমাধান দাখিল করতে গিয়ে ভাইপোর কাছে ধমক খেয়েছেন। আরোগ্য-নিকেতনের জনশূন্য কক্ষগুলির সঙ্গে এ সমস্যার সম্পর্ক নাকি বায়স ও পক্কশ্রীফলের।

    বৈঠকখানা ঘরটি বার-মহলে, বে-আব্রু, ফলে সমস্যাটার সমাধান হয়নি

    তোমরা যদি বল,’বাপু হে লেখক! তোমার ঐ নলচের আড়াল দেওয়ায় কিছুই ঢাকা পড়ছে না। যা বোঝার তা আমরা ঠিকই বুঝতে পেরেছি! ‘মধুচন্দ্রমা’ শব্দটা অভিধানে থাক না থাক, যুগলে গুরুপ্রণাম করার অছিলাটা যতই তীব্র হোক, আমরা বুঝে নিয়েছি, কোনটা মুখ্য হেতু—তাহলে আমি প্রতিবাদ করব। আমার বিরুদ্ধ-যুক্তিটাও শোন, তারপর রায় দিও। তাই যদি হবে, তবে রূপেন্দ্র কেন জগু-পিসিমাকে বলবেন, আপনিও চলুন না পিসিমা, তীর্থ-দর্শন করে আসবেন?

    পিসিমাই রাজি হননি। বোধকরি তাঁর আশঙ্কা ছিল, গঙ্গাচরণ দুনিয়ার মায়া কাটিয়েছে। সে আর কোনদিন ফিরে আসবে না। কাতু মুখপুড়ির হাতে ঐ যে শাখা-খাড় বজায় আছে তার হেতু—নিদারুণ দুঃসংবাদটা এ গাঁয়ে এখনো এসে পৌঁছায়নি। মেয়ে-জামাই পেয়ে তাঁর তীর্থদর্শনের বাসনাটা উপে গেছে।

    এবার তোমরাই বল : মধুচন্দ্রমায় কেউ বুড়ি পিসিকে সঙ্গী হতে ডাকে?

    জীবন ওঁর রুগীদের দেখভাল করার দায়িত্ব নিয়েছে।

    রূপেন্দ্রর বিবাহও এক এলাহী কাণ্ড!

    ভেষগাচার্য বৈদ্যবিদায় গ্রহণ করেননি। ব্রজেন্দ্রনারায়ণ আরোগ্যনিকেতন বানিয়ে দিয়েছিলেন বটে, কিন্তু তাঁর মন ভরেনি। এবার তাঁর পালিতা কন্যার বিবাহে তিনি যদি এলাহী কাণ্ড করেন, তাহলে রূপেন্দ্রর কী বলার থাকতে পারে?

    ফুলশয্যার রাত্রে ঘটল একটি কৌতুকের ঘটনা। এটাও বেদনাবহ!

    রূপেন্দ্রর ভদ্রাসনে সেই একমাত্র শয়নকক্ষেই জোড়াপালঙ্কে ফুলশয্যার আয়োজন কাত্যায়নী, মৃন্ময়ী আরও পাড়ার পাঁচ এয়ো এসে ফুলে-ফুলে সাজিয়েছে ঘরখানা। কনেকে সাজিয়েছে কাতু, বরকে মীনু। নির্দ্বিধায়। গালে-কপালে চন্দন-ফোঁটা নেব না বললে শুনছে কে? পাকস্পর্শ আর ফুলশয্যা একই দিনে। নিমন্ত্রিতদের বিদায় করতে করতে রাত প্রায় তৃতীয় যামের দিকে ঢলে পড়তে চলেছে।

    সব মিটিয়ে রূপেন্দ্র যখন শয়ন করতে এলেন তখন বাঁড়ুজ্জেবাড়ি নিস্তব্ধ। নিমন্ত্রিতরা ফিরে গেছে যে-যার বাড়ি। জগু-পিসি শুয়ে পড়েছেন। গঙ্গাচরণও। কাতুকে কোথাও দেখতে পেলেন না। একাই প্রবেশ করলেন শয়নকক্ষে। পাঁলঙ্কের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন।

    বালার্ক-রক্তিম বিক্রমপুরী খাসা-মসলিন, ঊর্ধ্বাঙ্গের উচ্ছ্বাস দৃঢ়নিবদ্ধ কঞ্চলিকায় সংহত, স্তবকিত জলদ-সম্ভারের মতো কবরীগুচ্ছে পুষ্পস্তবক অনুবিদ্ধ। সীমন্তের মধ্যভাগে সৌভাগ্যস্মারক রক্তিমাভা। অলক্তকরাগরঞ্জিত রাতুল চরণে কলহংসকণ্ঠনিঃস্বনমধুর নূপুর

    রূপেন্দ্র সেদিকে এক পদ অগ্রসর হতেই মেয়েটি মুখ তুলে তাকায়। চম্পকাঙ্গুলি স্পর্শ করায় ওষ্ঠাধরে। রূপেন্দ্র বিস্মিত। ‘তখনই নজর হল, নববধূ তর্জনীসঙ্কেতে কী যেন দেখাচ্ছে। পরমুহূর্তেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কক্ষের অপরপ্রান্তে স্তূপাকার করা কিছু শয্যাদ্রব্য—লেপ-তোষক-কম্বল-বালিশ। তার একটি পুঁটুলি সন্দেহজনক। বোঝা গেল, কেন এতক্ষণ কাতুকে খুঁজে পাননি।

    ধরা পড়ে বেচারি নিতান্ত অপ্রস্তুত। রূপেন্দ্র বলেন, তুই এখানে! ওদিকে গঙ্গা তোকে সারা বাড়ি গোরু-খোজা খুঁজছে।

    কাতু বলে, বৌরানী ধরিয়ে না দিলে দেখতাম-

    কী দেখত, তা আর বলে না।

    রূপেন্দ্র ওকে বিতাড়িত করে ফিরে এলেন। কক্ষদ্বার অর্গলবদ্ধ করতে ভোলেননি।

    এবার পালঙ্ক থেকে অবতরণ করল নববধূ। গলায় আঁচল দিয়ে নামিয়ে রাখে একটি সলজ্জ প্রণাম। রূপেন্দ্র ওকে বাহুমূল ধরে তুলে ধরেন। বলেন, সারাদিন খুব ধকল গেছে, নয়? খুব ঘুম পেয়েছে তো?

    নববধূ শিরশ্চালনে নেতিবাচক গ্রীবাভঙ্গি করে। আর তাতেই, কী জানি কেন, লজ্জায় রাঙা হয়ে যায়।

    রূপেন্দ্র ওকে পালঙ্কে বসিয়ে দেন। বলেন, সেই জিনিসটা কোথায়? সেই সেদিন যেটা তোমাকে দিয়েছিলাম?

    মঞ্জুরী নতমস্তকে বললে, সে কথা আজ নয়।

    বটেই তো! আজ সব মধুময়। ‘বিষ’-এর প্রসঙ্গ আজ নয়। এই ‘মধুনক্তম্’-এ ও-কথা তোলাই উচিত হয়নি তাঁর। তবে নাকি পেশায় কবিরাজ, নিরাপত্তার কথাটা তুচ্ছ করতে পারেন না। এবার প্রসঙ্গান্তরে আসেন, এই একপক্ষকালে কী বিচিত্রভাবে বদলে গেল তোমার জীবনটা!

    নববধূ নতনেত্রে বললে, সে তো আপনারও!

    তা বটে! সংসারে জড়িয়ে পড়লেন। বলেন, সম্প্রতি নদীয়া গিয়েছিলাম। শুনেছ?

    —শুনেছি! সোনার গৌরাঙ্গ দেখে এসেছেন?

    রূপেন্দ্র তখনই জানালেন না যে, তা তিনি দেখেননি। যুগলে দেখবেন বলে। বরং বলেন, তুমি আমাকে ‘আপনি’ বলছ কেন? এতদিন যা বলেছ, বলেছ; কিন্তু অগ্নিসাক্ষী করে যখন তোমাকে সহধর্মিণী করেছি …..

    —আপনি কতবড় পণ্ডিত!

    —তোমার কাছে কি সেটাই আমার পরিচয়?

    মুখটা লাল হয়ে ওঠে। মাথা নেড়ে নেতিবাচক ভঙ্গি করে।

    —তাহলে? আমাকে ‘তুমি’ই বলবে। অন্তত নির্জনে। বড়-মা যেমন বলেন।

    হয়তো এটা ওর অজ্ঞাত তথ্য। রূপেন্দ্র সেটা কীভাবে জেনেছেন তাও জানতে চাইল না। দৃঢ়ভাবে মাথা নেড়ে বলে, সে আমি পারব না। কিছুতেই না! আপনি কত বড়!

    —ও! কিছুতেই পারবেন না! তাহলে আর কী উপায়? আমি বিশ্বাস করি, সব বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর সমান অধিকার। ঠিক আছে, জোর-জবরদস্তি করা আমার স্বভাব নয়। আপনি আমাকে তাহলে ‘আপনি’ বলেই কথা বলবেন।

    কুসুমুঞ্জরী অবাক বিস্ময়ে কিছুক্ষণ নির্বাক তাকিয়ে থাকে। তারপর বলে, আপনি অমন করছেন কেন? আমার কী দোষ হল?

    —কেমন করছি? আপনার দোষ হয়েছে, তা তো বলিনি।

    —না, মানে আপনি আমাকে ‘আপনি’ বলে কথা বলছেন কেন?

    –সে কথাই তো বলছি এতক্ষণ। দাম্পত্যজীবনে স্বামী-স্ত্রীকে থাকতে হবে একই সমতলে। আপনি যখন আমার সমতলে নামতে পারছেন না, তখন আমিই আপনার সমতলে উঠে আসি।

    এবার দৃঢ়ভাবে মেয়েটি বলল, ছি ছি! তা কিছুতেই হবে না! আপনি আমাকে ‘আপনি’ বললে – …. না, না, সে কিছুতেই হবে না।

    রূপেন্দ্র ছদ্ম গাম্ভীর্যে বলেন, তাহলে তো একটিই বিকল্প—বাক্যালাপ বন্ধ করা। আজকের এই শুভরাত্রে সেটাই কি আপনার প্রস্তাব?

    কুসুমমঞ্জরীর প্রায় কেঁদে ফেলার উপক্রম। মাথা নিচু করে বলে, বেশ, আপনি যেভাবে বলতে বলছেন সেভাবেই বলব ….

    —’আপনি যেভাবে বলতে বলছেন!’ —আপনার পূজ্যপাদ পরমপতি কীভাবে বলতে আদেশ দিয়েছেন?

    দুহাতে মুখ ঢেকে কুসুমমঞ্জরী বললে, তুমি ভারী ‘ই—য়ে’!

    —‘কিয়ে’?—রূপেন্দ্র এবার ওকে দুই বাহুমূল ধরে নিজের দিকে আকর্ষণ করলেন। এটা বোধকরি প্রত্যাশিত। নববধূর দেহ কেমন যেন শিথিল হয়ে যায়, চোখ দুটি আবেশে মুদে আসে। রূপেন্দ্র ঐ চুম্বনভূষিতার দিকে মুখটা নামিয়ে আনার মুহূর্তেই বাধা!

    পালঙ্কের নিচে থেকে ভেসে এল এক অস্ফুট আর্তনাদ!

    চমকিত রূপেন্দ্র এক লাফে নেমে পড়েন পালঙ্ক থেকে। ঘৃত-প্রদীপটা জ্বলছিল পিলসুজের উপর। সেটি হাতে তুলে নিয়ে পালঙ্কের নিচে দৃষ্টিপাত করলেন।

    অপ্রত্যাশিত দৃশ্য। বাক্স-পেটরার অন্তরালে মৃন্ময়ী বসে ছিল ঘাড় গুঁজে, এতক্ষণে প্ৰায় শুয়েই পড়েছে।

    দুজনে কোনক্রমে বার করে আনলেন উৎসবসজ্জিতা সীমন্তিনীকে। যন্ত্রণায় যেন বিকৃত হয়ে গেছে মীনু। রূপেন্দ্র ঝুঁকে পড়ে প্রশ্ন করেন, কী হয়েছে মীনু? যন্ত্রণা হচ্ছে?

    —হুঁ!

    কোথায়? পেটে?

    গ্রীবাভঙ্গিতে স্বীকার করে।

    কী অন্যায়! কী অপরিসীম অন্যায়! কৌতুকের একটা সীমা থাকবে তো? পূর্ণগর্ভা একটি রমণী—প্রথম সন্তানবতী হতে চলেছে—ঐ সঙ্কীর্ণ স্থানে …

    রূপেন্দ্র মুহূর্তে রূপান্তরিত হয়ে গেলেন। তিলমাত্র ইতস্তত করলেন না। এ মূহূর্তে তিনি বর নন, পুরুষ নন, ভেষগাচার্য! নির্দ্বিধায় একটি হাত রাখলেন ওর যূথিপুষ্পঅনুবিদ্ধ কবরীগুচ্ছে, অপর হাত জানুদ্বয়ের নিচে। অবলীলাক্রমে ভূশয্যা থেকে উঠিয়ে তাকে শুইয়ে দিলেন পালঙ্কে!

    ছি, ছি, ছি! কেন মৃত্যু হল না সেই মুহূর্তে? যে ফুলশ্যে সে সারাটা দিন ধরে সাজিয়েছে তার উপরেই তাকে কোলপাঁজা করে শুইয়ে দিলেন সোনাদা। আর তাঁর মঞ্জু পালঙ্ক থেকে নেমে কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে আছে। যেন বিতারিতা দুয়োরানী! মৃত্যু না হক, জ্ঞান হারালো না কেন? কিন্তু জ্ঞান হারালে কি প্রতিবর্তী প্রেরণায় সেও আলিঙ্গনাবদ্ধ করে ধরত ঐ সোনার গৌরাঙ্গকে!

    কোনক্রমে বললে, না-না-না! আমাকে নামিয়ে দিন! এ বিছানায় আমার শুতে নেই!—চুপ কর তুমি! কথা বল না।

    কুসুম অস্ফুটে বলে, দোর খুলে দেখব? ঠাকুরঝিকে ডেকে আনব?

    —না! আগে আমাকে বুঝে নিতে দাও!

    এ কী! এ কী! এ কী করছে সোনাদা? ওর কি মায়া, মমতা, হায়া কায়া কিচ্ছু নেই? রূপেন্দ্র তিলমাত্র ইতস্তত করলেন না। রোগিণীকে শুইয়ে দিয়েছেন। সবার আগে জানতে হবে গর্ভস্থ ভ্রূণের হৃদ্‌স্পন্দন শোনা যাচ্ছে কি না—তার কিছু ক্ষতি হয়েছে কি না। তাঁর সেই আজব যন্ত্রটা এই মুহূর্তে কোথায় আছে জানেন না। উৎসবগৃহে সবকিছুই লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে।

    দু-হাতের দশটি আঙুলে—যেন এ-কাজে কতই অভ্যস্ত—উন্মোচন করে দিলেন ঐ পরস্ত্রীর নীবিবন্ধের গ্রন্থী। অনায়াসে অনাবৃত করে দিলেন শায়িতা মেয়েটির উদরদেশ। শাড়িটা নামিয়ে দিলেন অনেকটা—কুসুমমঞ্জরীর দৃষ্টির সম্মুখে—প্রায় সেই সঙ্গোপন উপত্যকায়, যাকে কালিদাস বলেছেন, “নতনাভিরন্ধ্রং ররাজ তন্বী নবরোম রাজি। নীবীমতিক্রম্য সিতেতরস্য…”

    মৃন্ময়ী বাধা দিতে পারল না। সে যেন পাথরপ্রতিমা! কণ্ঠে তার স্বর ফুটল না। রূপেন্দ্র সেই অনাবৃত নিম্ন-উদরে চেপে ধরলেন তাঁর কান। গাভীর গলকম্বলে হস্তস্পর্শ করলে তার দেহ যেভাবে থরথর করে কেঁপে ওঠে সেভাবেই কাঁপতে থাকে মৃন্ময়ীর রোমাঞ্চিত বিবশ তনুদেহ।

    অনেক-অনেকক্ষণ পরে রূপেন্দ্র মাথাটা তুললেন। শাড়িটা টেনে দিলেন স্বস্থানে। বললেন, একদম নড়াচড়া করবে না। বাচ্চাটা ঠিক আছে।

    হাসবে না কাঁদবে মৃন্ময়ী ভেবে পেল না। লজ্জা, বেদনা, আনন্দ কোন অনুভূতি কাকে ছাপিয়ে উঠেছে তা যেন ওর বোধসীমার বাহিরে! রূপেন্দ্র নববধূকে বললেন, ঐ কলসীতে জল আছে। ওর মুখে-চোখে ছিটিয়ে দাও। আমি দেখছি, কাতুকে ডেকে আনতে হবে।

    রুদ্ধদ্বার খুলে দিয়েই দেখেন, সেখানে কাতু আর শোভারানী। ঘরের ভিতর তাকিয়ে দেখে কাত্যায়নী সশঙ্ক কণ্ঠে বলে, কী হয়েছে দাদা?

    তোরা খুব অন্যায় করেছিস! ওকে কি এখন ঐ ভাবে পালঙ্কের তলায় ঢুকিয়ে দিতে হয়? ভাগ্যক্রমে হয়নি কিছু, কিন্তু হতে পারত।

    —মীনু কি …. ওকে কি …..

    —না! ওকে ঠাঁইনাড়া করা চলবে না। যেমন আছে তেমনই থাক। মীনু আর মঞ্জু পালঙ্কে শোবে। আমার জন্য একটা মাদুর নিয়ে আয়।

    কাতু মাথা ঝাঁকিয়ে দৃঢ়স্বরে বলে, তা হয় না! কিছুতেই না! মা টের পেলে …

    রূপেন্দ্রনাথ চাপা গর্জন করে ওঠেন, ধেড়ে বয়সে মার খাবি? যা বলছি কর। ওকে ঠাঁইনাড়া করা চলবেনা তিন-চার ঘণ্টা।

    তারপর শোভারানীর দিকে ফিরে প্রশ্ন করেন, বাড়িতে কী বলে এসেছ? কতরাত্রে ফিরবে? পাকি আছে?

    —না! বাবা-মশাই জানেন, আমরা কাল সকালে ফিরে যাব। তখনই পাল্কি আসবে।

    —ঠিক আছে। শোন! তুইও শোন্ কাতু আজ রাত্রে এ ঘটনার কথা যেন কাকপক্ষীতে টের না পায়। আমরা তিনজনেই থাকব এ ঘরে। আমাকে একটা মাদুর এনে দে শুধু।

    শোভা জানতে চায়, ছোট-মার কিছু হয়নি তো? ওঁর পেটের ….

    —না। হতে পারত, হয়নি। হতে পারে, এখনো নড়াচড়া করলে-

    মৃন্ময়ী দুটি হাত জোড় করে বললে, রুপোদা, আপনার দুটি পায়ে পড়ি, আমাকে ছেড়ে দিন … এ আমি পারব না, কিছুতেই পারব না!

    রূপেন্দ্রকে প্রত্যুত্তর করতে হল না। তাঁর পাশ থেকে শোভারানীই তাঁর হয়ে জবাব দিল। সে জবাব ক্ষুরধার—কেটে কেটে বসে : পারবেন, ছোট-মা! এমন নরম ফুলশেযে একটা রাত কাটাতে পারবেন না? পারবেন। আর মাদুরেরই বা কী দরকার? এড়োএড়ি করে শুলে সোনাদা দুজনকে দুপাশে নিয়েই পালঙ্কে শুতে পারবেন।

    সহজ-সরল সমাধান! অশোভন বা অশালীন কোন বক্রোক্তি নেই!

    কিন্তু মৃন্ময়ী যেন একেবারে সাদা হয়ে গেল। বিকৃত হয়ে গেল মুখটা। দাঁত দিয়ে নিচেকার ঠোঁটটা এত জোরে কামড়ে ধরেছে যে, রক্ত ফুটে ওঠার উপক্রম।

    রূপেন্দ্র বলেন, কী হল? আবার যন্ত্রণা শুরু হল? পেটে?

    কী জবাব দেবে হতভাগী? উদরদেশে নয়, অপরিসীম যন্ত্রণাটা যে ওর বুকে। শোভারানী জেনে-বুঝে দু-পায়ে মাড়িয়ে দিয়ে গেল ওর হৃৎপিণ্ডটা। সরল সমাধানের অছিলায় গরল উদগীরণ!

    তা বটে! ভুলটা রূপেন্দ্রনাথের। ভুলের মাশুল দিতে হবে বৈকি! ফুলশেযের রাতে সবার আগে যে নববধূর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন একটি নিষিদ্ধ বস্তু! সেটাই এতক্ষণে ফেরত দিল : শোভারানী।

    কিন্তু কার বিরুদ্ধে এই বিষোদ্গার? কুলীনঘরের ঐ অরক্ষণীয়া কাকে দংশন করতে চায়? নববধূ না ছোট-মা? অথবা কে জানে, হয়তো তার মূল লক্ষ্য ছোট-মার ঐ আদরের ‘সোনাদা’–সেই আগুনবরণ ছেলেটা যে, চোখে না দেখেই নাকচ করেছিল এক অরক্ষণীয়াকে, চিরকুমার থাকার অছিলায়!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }