Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তীর্থের পথে – ৩

    ৩

    অভ্যর্থনার কোন ত্রুটি হয়নি। আন্তরিকতায় না হলেও আড়ম্বরে। সোঞাই গাঁ থেকে এসেছেন দত্তজার সৌখীন বজরায়, দামোদর বেয়ে—সোজা পুবমুখো। তারপর দামোদরের শাখানদী বাঁকা ধরে বর্ধমানে। দত্তজার ভদ্রাসন একেবারে বাঁকা সই-সই। অর্থাৎ সদর দ্বার রাজপথে কিন্তু প্রাসাদের খিড়কি ঘেঁষে বহে চলেছে বাঁকা। প্রাচীরবেষ্টিত প্রাসাদে পাশাপাশি দুটি ঘাট, পুরুষ ও স্ত্রীলোকদের। অর্থাৎ অবগাহন স্নানের প্রয়োজনে কাউকে বাড়ির বাইরে যেতে হয় না।

    বজরাটা ঘাটে এসে ভিড়ল সূর্যোদয়ের একটু পরে। মাস ফাল্গুন। ঘাটে এখনো স্নানার্থীরা কেউ নেই। নির্জন। বড় মাঝি গলুইয়ের মাথায় দাঁড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখে একটি শাঁখ বাজিয়ে দিল। বোধহয় এটাই প্রথা—এভাবেই ঘাটের মাঝি গৃহস্থের শ্রুতি আকর্ষণ করে।

    রূপেন্দ্র ঘাটে নামলেন। হাত ধরে সাবধানে নামিয়ে আনলেন মঞ্জুকে। মাঝিরা হাতে-হাতে নামিয়ে দিল পোটলা-পুঁটলি। শঙ্খধ্বনি হবার একটু পরেই সোপান বেয়ে নেমে এল একজন তরুণ, সঙ্গে এক অবগুণ্ঠনবতী। পিছন পিছন কিছু খিদমদার। তরুণ-তরুণী দুজনেই প্রণাম করল এঁদের। মঞ্জরী সঙ্কোচে আপত্তি জানায়। তরুণ শুনল না, বললে, সে কী মা? আপনি ব্রাহ্মণী, প্রণাম নিতে হবে বইকি।

    তারপর রূপেন্দ্রকে বলে, আমার নাম শিবতোষ, ঠাকুরের নাম শ্রীনগেন্দ্রনাথ দত্ত। আমি তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র। বজরায় অসুবিধা হয়নি তো কিছু?

    রূপেন্দ্র বলেন, কিছু না।

    —আসুন, আমার সঙ্গে।

    রূপেন্দ্রনাথ ঐ তরুণটির পিছন পিছন গোটা বাড়িটা প্রদক্ষিণ করে সামনের অতিথিশালার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। লক্ষ্য হল, অবগুণ্ঠনবতী মঞ্জুর হাত ধরে নিয়ে চলেছে অন্দরমহলে। পোঁটলা-পুঁটলি সবই তার পিছন-পিছন।

    অতিথিশালায় নির্দিষ্ট কক্ষটি দেখিয়ে দিয়ে শিবতোষ প্রশ্ন করে, আপনার প্রাতরাশ পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা করি?

    —না! আমি প্রথমে স্নান করব, তারপর সন্ধ্যাহ্নিক। তারপর ওসব হবে। দত্ত-মশাই কি শয্যাত্যাগ করেছেন?

    শিবতোষ বক্রপন্থায় প্রত্যুত্তর করল, প্রথম সুযোগেই তাঁকে জানিয়ে দেব যে, আপনারা নিরাপদে উপস্থিত হয়েছেন।

    তিনি গাত্রোত্থান করেছেন কিনা বোঝা গেল না।

    দ্বারপ্রান্তে একটি গামছা কাঁধে দাঁড়িয়েছিল। শিবতোষ বললে, এ হল কালী। আপনার খিদমদ্‌গার। জাতে উগ্রক্ষত্রিয়। জলচল। সর্বক্ষণ এখানেই থাকবে। যখন যা প্রয়োজন হবে, বলবেন। আপনি প্রস্তুত হয়ে নিন। পরে আসব।

    কালী এসে প্রণাম করল ব্রাহ্মণকে। শিবতোষ প্রাসাদের দিকে ফিরে গেল।

    পাকা ইটের গাঁথনি, কক্ষটি বেশ বড়। চারটি শয্যা চারপ্রান্তে। তিনটি শূন্য। উপরে টানা পাখা। দেওয়ালে হরিণের শিং। এক পাশে একটি মেজ, তদুপরি ভৃঙ্গার ও পানপাত্র–পানীয় জলের।

    কালী বললে, তেল মাখবেন তো কোবরেজ-মশাই?

    রূপেন্দ্র বলেন, সে ঘাটে গিয়ে। কিন্তু মার্জনা-অঙ্গবস্ত্র না হলে—

    কালী মুখব্যাদন করল।

    —মানে, গামছা আর কি। স্নান করে গা মুছতে হবে তো? তুমি এক কাজ কর, কালি—অন্দরমহল থেকে তোমার গিন্নি-মায়ের কাছ থেকে … মানে, আমার স্ত্রী আর কি, একখানা ধুতি আর একটা গামছা চেয়ে নিয়ে এস। পোঁটলা-পুঁটলি তো সব তাঁর কাছে।

    কালী অত্যন্ত অপ্রস্তুতভাবে মুখ নিচু করে ঘাড় চুলকাতে থাকে!

    –কী হল? কী বললাম বুঝতে পারলে না?

    —বুঝবনি কেনে ঠাউর; কিন্তুক তাতে যে অনেক বখেড়া। একটি বেলা যাবে …

    রূপেন্দ্র বুঝে উঠতে পারেন না, সমস্যাটা কী? অন্দরমহল তো এক রশি দূরে।

    কালী বুঝিয়ে দেয়। ওঁর আদেশ পালন করতে হলে ওকে মাঝমহলের গোমস্তা-মশায়ের কাছে আর্জি পেশ করতে হবে তাঁর এত্তেলা পেয়ে অন্দর মহল থেকে ক্ষান্তমণি বা নিভাননী বা আর কেউ—যার ‘হাত-অপসর’ আছে, সে মাঝমহলে এসে সংবাদটা শুনবে। তারপর সেই সংবাদটা জ্ঞাত করবে মাঠানের নির্বাচিতা খাশদাসীকে কল্যাণেশ্বরী জানেন, সে কে! এর পর সেই দাসীটি ঐ দুটি দ্রব্য সংগ্রহ করে এনে মাঝমহল পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। কালী তা নিয়ে ফিরে আসতে আসতে একদণ্ড পার হয়ে যাবার আশঙ্কা!

    রূপেন্দ্র কী করবেন ভেবে পেলেন না। ভবিষ্যতে দুটি পৃথক গাঁটরি বানাতে হবে এটা বুঝতে পারেন। এ জাতীয় বিড়ম্বনা বারে বারেই হবার আশঙ্কা। কিন্তু আপাতত কী করা যায়?

    সমাধান বাৎলালো কালী নিজেই। তার হেপাজতে নতুন বস্ত্র এবং গামছা আছে। অনেক অতিথি অতর্কিতে নৈশবাসে বাধ্য হন। তখন তাঁদের যাতে কোন অসুবিধা না হয়, তাই অতিথিশালায় এ জাতীয় বিকল্প ব্যবস্থা রাখা থাকে। ঠাকুর-মশাইয়ের আপত্তি না থাকলে সে বার-মহলের গোমস্তামশায়ের অনুমতি নিয়ে এক প্রস্থ কাপড়-গামছা এখনি এনে দিতে পারে। রূপেন্দ্র ইতস্তত করছিলেন, কিন্তু কালীর পরবর্তী সংযোজনে তিনি সম্মত হয়ে যান—অতিথি যদি ঐ আনকোরা নতুন বস্ত্র ও গামছা সঙ্গে নিয়ে না যান তবে তা দ্বিতীয় অতিথিকে প্রদান করার হুকুম নেই। সেটি পরিচারকের প্রাপ্য হয়—অর্থাৎ এক্ষেত্রে কালীচরণের।

    স্নানাহ্নিকের· পর কালীচরণ পরিবেশন করল ঠাকুরের বাল্যভোগের প্রসাদ। ফল-মূল-মিষ্টান্ন। একটি পরিচিত মিষ্টান্ন নজরে পড়ল ওঁর : ল্যাংচা।

    রূপেন্দ্র প্রশ্ন করলেন, দত্তমশায়ের জলযোগ হয়েছে?

    কালী জবাবে বললে, এখনো তাঁই আসেননি।

    —আসেননি! উনি কি বর্ধমানে নেই?

    কালী ইতস্তত করল। তারপর স্বীকার করল, বদ্দমানেই আছেন। মানে, বাগানবাড়ির থনে এখনও আসেননি।

    দত্তমশায়ের এ বিষয়ে কোনও লুকোচুরি নেই। তাই প্রথমে ইতস্তত করলেও স্বীকার করতে ওর বাধল না। অর্থকৌলিন্য যার আছে সে বাগানবাড়িতে রাত কাটাবে এর মধ্যে লুকোছাপার কী আছে?

    এক প্রহর বেলায় শিবতোষ ওঁকে নিয়ে গেল বৈঠকখানায়। গৃহস্বামী প্রত্যাবর্তন করেছেন প্রতীক্ষা করছিলেন। বয়স পঞ্চান্ন হতে পারে, কিন্তু শরীর মজবুত। বার্ধক্য তো দূরের কথা প্রৌঢ়ত্বও যেন এখনো তাঁর নাগাল পায়নি। রূপেন্দ্রনাথকে সাড়ম্বরে অভ্যর্থনা করে বসালেন নানান কুশল প্রশ্ন করলেন। রোগিণীর কথাও কিছু বললেন। স্থানীয় চিকিৎসক বলেছেন ব্যাধিটার নাম : মৃগী!

    অর্থাৎ মূর্ছারোগ আর কি। বিবাহের পর প্রথম ছয়মাস এ উপসর্গ ছিল না। কুমারী অবস্থায় কখনো হয়নি। প্রথম দিকে দু-তিন মাস পর পর হত; ইদানীং প্রতি সপ্তাহেই দু-একবার হচ্ছে। রোগের আক্রমণ হলে হাত-পায়ের ক্ষেপণ হয়, জ্ঞান থাকে না, দাঁতে দাঁত লেগে যায়।

    সমস্ত বিবরণ শুনে, কী-জাতের চিকিৎসা ইতিপূর্বে হয়েছে জেনে নিয়ে রূপেন্দ্র বললেন, অপরাহ্ণে আমি রোগিণীকে দেখব। তারপর কথা হবে আপনার সঙ্গে।

    দত্তজা বলেন, এসে যখন পড়েছেন তখন দু-দশদিন বর্ধমানে থাকুন।

    —না, আমি দিন-দুয়েক থাকব। তারপর যাব ত্রিবেণী। সেখান থেকে নবদ্বীপ।

    নগেন্দ্রনাথ ওঁর সস্ত্রীক তীর্থ পরিক্রমার মনোবাসনা কথা শুনে বললেন, আমার পরামর্শ—সবার আগে সিংহল দ্বীপে যান। সেখানে “বাবাকে দেখে চলে যাবেন ভাগীরথীর কিনারে। দক্ষিণ দিক থেকে উজানে চলতে থাকুন—দুপাশে অসংখ্য মন্দির আর তীর্থ। ত্রিবেণী পাবেন, আরও উত্তরে এসে নবদ্বীপ।

    রূপেন্দ্র অবাক হয়ে বলেন, সিংহল দ্বীপ! সে তো সাগর-পারে!

    —না, না, আমি সেই বিজয়সিংহের সিংহল দ্বীপের কথা বলচিনি। এই দামোদর ধরেই এক রাত দক্ষিণবাগে যেতে হবে। ভোর ভোর পৌঁছাবেন এক বিজন বনে। সেখানে সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে এক অনাদি শিবলিঙ্গ। ভারী জাগ্রত দেবতা। হুগলি জেলায়। শুনুন মশাই, একটা দারুণ সুযোগও হয়ে যাচ্ছে। পশু এখান থেকে একটা মহাজনী, নৌকা যাবে ভারামলপুরে। মন্দির তৈরীর সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে। তাতেই যাতে যেতে পারেন তার করে দিচ্ছি।

    শোনা গেল, ঐ বিজন বনে এই অনাদিলিঙ্গ শিবকে খুঁজে বার করেছে একজন স্থানীয় গে তার নাম মুকুন্দ ঘোষ। কী একটা অলৌকিক সূত্রে—বিস্তারিত জানা নেই নগেন্দ্রনাথের। তবে সেই স্বয়ম্ভূলিঙ্গ শিব নাকি হুগলির এক রাজা—বাহিরগড়ের ক্ষত্রিয় রাজবংশীয় রাজা বরামল্লকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছেন, বাবার জন্য মন্দির বানিয়ে দিতে। তাতেই এই মহাজনী নৌকায়, বোঝাই হয়ে মন্দির নির্মাণের মালমশলা চলেছে সেই অরণ্যে। নগেন্দ্রনাথের মতে, এ এক দৈব যোগাযোগ—না হলে, পথঘাট কিছুই নাই, নবাবিষ্কৃত এই তীর্থ সাধারণ যাত্রীর পক্ষে দুরতিক্রম্য। রূপেন্দ্র স্বীকৃত হলেন।

    নগেন্দ্রনাথ পুত্রকে ডেকে বলে দিলেন, ভেষগাচার্য মাত্র দুইদিন বর্ধমানে থাকবেন। ওঁদের দুজনকে যেন স্থানীয় দ্রষ্টব্য সব কিছু ঘুরিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়। পাল্কিতে নয়, হেরম্বদাসের পিঠে।

    নন্দ চাটুজ্জের মাধ্যমে নগেন্দ্রনাথ ব্রজেন্দ্রনারায়ণের কাছ থেকে ঐ প্রকাণ্ড হাতিটা কিনে নিয়েছেন। ব্রজেন্দ্রনারায়ণ বলেছিলেন, হাতির মালিক তিনি নন, সোঞাই গ্রামবাসী। তিনি অছি মাত্র—হস্তির খাদ্যের জোগান দেন এবং ব্যবহার করেন। ফলে নগেন্দ্রনাথ নিজ ব্যয়ে সোাই গাঁয়ের হাটতলাটি পাকা করে দিয়েছেন। বর্ষার সময় যাতে ব্যাপারী আর খরিদ্দারেরা ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে পারে। একটি সাঁকোও বানিয়ে দিয়েছেন।

    সেই মতই ব্যবস্থা হল। হস্তিপৃষ্ঠে নগর পরিদর্শন।

    বর্ধমান রাজবংশের কথা ইতিপূর্বেও কিছু বলেছি। সঙ্গম রায় কাপুর থেকে কৃষ্ণরায়ের আত্মজা সত্যবতীর আত্মদানের কথা। জনপদটি কিন্তু তার বহু যুগ আগে থেকেই ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, এই নামটি জৈন তীর্থঙ্কর বর্ধমান মহাবীরের নামানুসারে। প্রাচীন জৈন ধর্মগ্রন্থ ‘অঙ্গ-পাঠে জানা যায় যে, ঐ ধর্মপ্রচারক এখানে তাঁর সদ্ধর্ম প্রচার মানসে আগমন করেছিলেন। তখন এখানে আর্যবসতি ছিল না। ঐ গ্রন্থে তাদের বলা হয়েছে ‘চুয়াড়’। তারপর আড়াই হাজার বছর কেটে গেছে। বর্ধমান মহাবীরের ধর্মমত এ বঙ্গভূমি থেকে সরে গেছে অনেক অনেকটা দূরে; কিন্তু ‘চুয়াড়’-রা স্বধর্মচ্যুত হয়নি। তারা সমান দাপটে আজও বঙ্গভূমে মস্তানি করে চলেছে!

    বর্ধমান মহাবীর ঐ ধর্মগ্রন্থ মতে প্রথমে চুয়াড়দের দ্বারা অপমানিত ও প্রহৃত হন, যদিও শেষে তারা তাঁর ধর্মমত গ্রহণ করে। সেটা খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর ঘটনা।

    কারও মতে গ্রীক ঐতিহাসিক বর্ণিত গঙ্গারিডি রাজ্যের রাজধানী ‘পার্থোলিস্’ বাস্তবে এই বর্ধমান শহর। সে রাজ্যের দ্বিতীয় রাজধানী ছিল সপ্তগ্রাম। ইতিহাসে দেখছি, 1574 খ্ৰীষ্টাব্দে আকবরের সৈন্যদল বর্ধমান-শাসক দাউদ খাঁর পরিজনবর্গকে বন্দী করে আর 1606 খ্রীষ্টাব্দে, আকবরের মৃত্যুর পরের বছর নিহত হন শের আফকন, জগৎবিখ্যাতা সুন্দরী নূরজাহাঁর প্রথম স্বামী। ঐ শের অফকন ও তাঁর কন্যা লাডলি বেগমকে নিয়ে গোটা একটা উপন্যাসই ইতিপূর্বে লিখে ফেলেছি। ফলে সে-সব কথা যাক।

    শিবতোষ পিতার আদেশে বর্ধমানের দ্রষ্টব্য সব কিছু ওঁদের ঘুরিয়ে দেখাল। কিন্তু সে-আমলে দেখার মতো ছিলই বা কী? মহারাজার প্রাসাদটাও আকারে অনেক ছোট। বর্তমানে যে প্রাসাদ দেখা যায়, তা পরবর্তীকালের মহারাজ মহাতারকাদের নির্মিত। তিনিই গোলাপবাগে একটি পশুশালা নির্মাণ করেন। লর্ড কার্জনের সম্মানার্থ নির্মিত ‘ভারতদ্বার’ তোরণ তো আরও পরবর্তী জমানার। সে আমলে অবশ্য ছিল শ্যামসায়র আর কৃষ্ণসায়র দীঘি, আর বর্ধমান শহরের এক ক্রোশ পশ্চিমে, শাহী সড়কের ধারে আর একটি কীর্তি। নবাবহাট গ্রামে একটি দীর্ঘিকা, আর তাকে ঘিরে একশ আট শিবমন্দির। অদূরেই তালিতগড় দুর্গ। আমাদের কাহিনীর কালে বর্ধমানরাজ তিলকচাঁদ বারে বারে ঐ দুর্গে গিয়ে আশ্রয় নিতেন—বর্গীর দল এগিয়ে আসছে সংবাদ পেলেই।

    .

    একটা অবান্তর কথা বলি, কিছু মনে কর না :

    আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে ঐ নবাবহাটের একশ আট শিবমন্দিরে এ গ্রন্থের লেখক সস্ত্রীক কাটিয়ে এসেছিল একটি মধ্যাহ্ন। আমরা খিচুড়ি বানিয়ে খেয়েছিলাম। তখন দেখেছিলাম, ঐ দীঘির জলে স্নান করা মানা, বাসন-পত্র ধোয়া বারণ। দীঘি থেকে শুধু পানীয় জল সংগ্রহ করা যেত। এখন হয়তো নলকূপ বসেছে, পাইপ-লাইনও বসেছে; কিন্তু এ গ্রন্থের লেখক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় সেখানে দেখে এসেছিল সেই ব্যবস্থাটি, যা রূপেন্দ্রনাথ করেছিলেন সোঞাই গাঁয়ে, আড়াইশ বছর আগে, তাঁর একবগ্গা দীঘিতে!

    .

    পরদিন সকালে রূপেন্দ্রনাথ বর্ধমান থেকে বিদায় নিলেন। রুগী দেখেছেন, রোগ নির্ণয়ও করেছেন। তা নিয়ে কিছু অপ্রিয় আলোচনাও হয়েছে।

    নগেন্দ্রনাথ জানতে চেয়েছিলেন, কী বুঝলেন বলুন কোবরেজমশাই, এ অসুখ সারবে?

    -সারবে। নিশ্চিত সারবে। ঠিক মতো চিকিৎসা করলে। কিন্তু আপনি কি পারবেন?

    কী বলছেন? পারব না? আমার অসাধ্য কিছু নেই! বলুন, কী করতে হবে?

    তখন শিবতোষও উপস্থিত। রূপেন্দ্র তাকে বললেন, তুমি একটু অন্যত্র যাও শিবতোষ; আমি তোমার বাবার সঙ্গে কিছু কথা গোপনে আলোচনা করতে চাই।

    শিবতোষ তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ায়। নগেন্দ্রনাথ বলেন, না, না, তুই বস।

    তারপর রূপেন্দ্রর দিকে ফিরে বলেন, শুনুন কোবরেজমশাই, আমার সময় হয় না আদৌ। সেবা-শুশ্রূষা, ঔষধপত্র দেওয়া, সব করে বধূমাতা আর এই শিবু। আপনার যা বলার আছে অসঙ্কোচে ওর সামনে বলতে পারেন। ওরাই তো সবকিছু করবে।

    রূপেন্দ্র বলেন, গোপনীয়তার প্রয়োজনটা আপনার না থাকতে পারে, আমার আছে।

    ভ্রূকুঞ্চিত হল নগেন্দ্রনাথের। তাঁর কথার প্রতিবাদ কেউ করে না, করতে সাহস পায় না। সামলে নিয়ে বললেন, ও, আচ্ছা। ঠিক আছে, তুই যা।

    শিবতোষ কক্ষত্যাগ করার পর বলেন, এবার বলুন?

    —আমি এইমাত্র বলেছি, ঠিক মতো চিকিৎসা করালে ওঁর রোগমুক্তি হবে; কিন্তু চিকিৎসার প্রয়োজন ওঁর নাই। প্রয়োজন আপনার। তাই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলাম—আপনি কি পারবেন?

    নগেন্দ্রনাথ নির্বাক তাকিয়ে রইলেন কয়েকটি মুহূর্ত। তারপর বললেন, বুঝলাম না।

    —আপনার স্ত্রীর অসুখটা দৈহিক নয়, মানসিক। রোগের মূল হেতু—যেহেতু তিনি আপনার কাছে যথাযথ স্ত্রীর মর্যাদা পাচ্ছেন না!

    —স্ত্রীর মর্যাদা পাচ্ছে না? কী বলছেন আপনি? সে তো যা চায়, তাই পায়।

    —না, পান্ না। নিশ্চয় জানেন, ভেষগাচার্যের কাছে কোন কিছু গোপন করতে নেই। এবার বলুন তো দত্তমশাই—আপনি কতদিন পূর্বে আপনার স্ত্রীর সঙ্গে এক শয্যায় রাত্রি-যাপন করেছেন? কবে তার স্ত্রীর মর্যাদা শেষ মিটিয়েছেন?

    নগেন্দ্রনাথের মুখমণ্ডল রক্তবর্ণ ধারণ করল। বললেন, আপনার স্পর্ধার একটা সীমা থাকবে তো, কোবরেজমশাই! কতদিন আগে আমি স্ত্রীকে নিয়ে এক শয্যায় শয়ন করেছি এ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে আপনার বাধল না?

    —প্রশ্ন করতে আমার যে বাধেনি তা তো দেখতেই পাচ্ছেন, উত্তর দিতেই না বাধছে আপনার? শুনুন, ক্ষুৎপিপাসা-নিদ্রার মতো এও এক জৈবিক প্রবৃত্তি। আমি জানি না, কেন আপনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেছেন; কিন্তু আমার আশঙ্কা আপনার স্ত্রী অক্ষতযোনি!

    —চোপরও বেয়াদপ!—গর্জন করে উঠে দাঁড়ান নগেন্দ্রনাথ। পিঞ্জরাবদ্ধ শার্দুলের মত বার-কতক কক্ষ মধ্যে পায়চারি করে ফিরে এসে ওঁর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলেন, আপনাকে ওর চিকিৎসা করতে হবে না। কী বৈদ্যবিদায় দিতে হবে শুধু বলুন?

    রূপেন্দ্রনাথও উঠে দাঁড়িয়েছেন। বললেন, ভিতরবাড়িতে খবর পাঠান। আমার স্ত্রীকে জিনিসপত্র সমেত বাইরে চলে আসতে বলুন। আমি আপনার দেউড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি।

    নগেন্দ্রনাথ হঠাৎ নিবে যান। ওঁর হাতটা ধরে বলেন, আমার অন্যায় হয়ে গেছে। কিছু মনে করবেন না। মানে, আত্মসংযম হারিয়ে…..

    —না! কিছু মনে করিনি আমি। আপনি প্রচুর অর্থের মালিক, শিক্ষাদীক্ষা বোধকরি কিছু নেই। ভদ্রভাবে কথাবার্তা বলতে পারবেন না, এ তো প্রত্যাশিত। যা হোক, ভিতরে খবর পাঠান।

    —আমি আপনার হাত ধরে ক্ষমা চাইছি,ভেষগাচার্য! ঠিকই বলেছেন আপনি! শিক্ষাদীক্ষা, আমার তেমন কিছু হয়নি! বলুন, ক্ষমা করেছেন?

    —করেছি।

    দুজনেই উপবেশন করেন অতঃপর। নগেন্দ্রনাথ বলেন, এবার বলুন, কী চিকিৎসা করতে চান? ঔষধপত্রের ব্যবস্থা…

    —সে-কথা আমি আগেই বলেছি, দত্তমশাই। আপনি আপনার জীবনযাত্রায় পরিবর্তন না করলে আমি তাঁর চিকিৎসা করতে পারব না।

    –বেশ বলুন, আমাকে কী করতে হবে?

    —মদ্যপান ত্যাগ করতে বলছি না, কিন্তু সন্ধ্যার পর বাগানবাড়ি যাওয়া বন্ধ করতে হবে। সাত দিন ঐ ঔষধই চলবে, অষ্টম দিনে তাঁর কাছে গিয়ে বলতে হবে, এইমাত্র আমাকে যা বললেন—

    —বুঝলাম না। কাকে কী বলতে হবে?

    —আপনার ধর্মপত্নীকে গিয়ে বলবেন, যা আমাকে এইমাত্র বললেন : ‘আমি তোমার হাত ধরে ক্ষমা চাইছি। বল, ক্ষমা করেছ?

    নগেন্দ্রনাথ নতনেত্রে অনেকক্ষণ বসে রইলেন চুপ করে। তারপর বললেন, তাহলেই ও ভাল হয়ে যাবে?

    —খুবই সম্ভাবনা। মোট কথা—এটাই একমাত্র চিকিৎসা। আপনার সঙ্গে তাঁর বয়সের যথেষ্ট পার্থক্য। আপনার জীবনযাত্রার সঙ্গেও তাঁর পরিচয় আছে। বাগানবাড়ি, বাইজী বা উপপত্নীকে আপনি একেবারে ত্যাগ করতে পারবেন বলে মনে হয় না; কিন্তু আপনার স্নেহ, প্রেম, সোহাগ পেলে খুব সম্ভব তাঁর এ মূর্ছা রোগ সেরে যাবে। গেল কি গেল না, আপনি আমাকে জানাবেন। না গেলে, আমি আবার তাঁকে দেখব।

    নগেন্দ্রনাথ বললেন, আমি চেষ্টা করব। ক্ষমা যখন করেছেন এবার বলুন, কী বৈদ্যবিদায় দেব?

    —না, দত্তমশাই! আমি কর্পদকমাত্র নিতে পারব না এখন।

    –কেন?

    —আমাকে বৈদ্যবিদায় দেবার অধিকার আপনাকে অর্জন করতে হবে। আমি যে ব্যবস্থা দিয়ে গেলাম তা যদি যথাযথ পালন করতে পারেন, আপনার ধর্মপত্নীকে সুস্থ করতে পারেন তখনই আমি আপনার কাছ থেকে হাত পেতে কিছু নিতে পারব!

    —কিন্তু বৈদ্যের পরামর্শ নিয়ে বৈদ্যবিদায় না দিলে যে নরকদর্শন করতে হয়।

    —জানি! অন্তত সেই ভয়েই যদি আপনি আপনার জীবনযাত্রার ছকটা পাল্টাতে পারেন তাহলেই আমি আনন্দিত। আমার বৈদ্যবিদায় প্রত্যাখ্যান করার সেটাও একটা হেতু।

    নগেন্দ্রনাথ অধোবদন হলেন। একথার জবাব নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }