Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তীর্থের পথে – ৪

    ৪

    ঠিকই আন্দাজ করেছিলেন নগেন্দ্রনাথ। সন্ধ্যারাত্রে রওনা হয়ে ভোর-ভোর ওঁরা এসে পৌঁছালেন ভারামলপুরের রামীধোপানির ঘাটে। ইট-পাথরে বোঝাই মহাজনী নৌকা মাঝি-মাল্লা ছাড়া যাত্রী ওঁরা মাত্র দুজনই। নৌকা যে ঘাটে ভিড়ল সেখানে জনমানব নেই। তখনও ভাল করে সকাল হয়নি। গাছ-গাছালিতে পাখ-পাখালির কলরব। গাছ, গাছ আর গাছ, একখানা খড়োঘরও নজরে পড়ে না। এ অঞ্চলে যে মনুষ্যবসতি আছে তারই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। পশ্চিমা মাঝি বললে, শিউজীকী দর্শন করনেকে লিয়ে যাইবন তো, ঠাকুর মোশা? বহ্ সড়ক পাকড়কে সিধা যাইয়ে। নজদিগই হ্যয়।

    সড়ক কোথায়? ওড়কলমি, শেয়ালকাঁটা আর কচুঝোপের মাঝখান দিয়ে একটা পায়ে-চলা পথ। দুটি মানুষ পাশাপাশি হাঁটতে পারে না। আগুপিছু চলতে হয়। দুপাশে নাম-না-জানা হাজার গাছ। মাঝে-মাঝে কিছু-কিছু চেনা গাছ: বাবলা, পালতে মাদার, ছাতিম, পাকুড়। আগাছায় ভরা। সকালের রোদ এখনো সে বনভূমির কপালে সোনার জিওনকাঠি ছোঁয়ায়নি। ঘুম-কাতুরে বনানীর শীতের ঘুম এখনও ভাঙেনি। মাঝে মাঝে কুয়াশার গলাবন্ধ জড়ানো তার গলায়।

    মঞ্জরী সভয়ে জিজ্ঞাসা করে, মানুষজনের বাস আছে তো এখানে?

    প্রশ্নটা সে মাঝিকে করেনি, করেছিল রূপেন্দ্রনাথকে; কিন্তু বুড্‌ঢামাঝি শুনে ফেলেছে। সেই জবাব দিল, ডরিয়ে মৎ মা-জী, ইখানে চৌর-ডাকাত ইয়া শের না আছে।

    তারপর রূপেন্দ্রনাথের দিকে ফিরে বললে, আপকো সামান হিয়া রহনে দিজিয়ে। বে-ফিক রহিয়ে সমানকা বারে-মে। যাইয়ে, দর্শন তো কর্ লিজিয়ে পহিলে।

    বুঝিয়ে বলল, সব মাল ‘ঢোলাই’ করতে, অর্থাৎ নৌকা থেকে নামিয়ে ঘাটে থাক দিয়ে সাজাতে ওদের একটি বেলা যাবে। তার ভিতর একজন যাবে গো-গাড়ি যোগাড় করতে। উটি-বখৎ গো-গাড়ির সারি বাবার থানে চলতে শুরু করবে।

    সহধর্মিণীর হাত ধরে রূপেন্দ্রনাথ হিম-হিম ঘাটে নামলেন। বনপথ ধরে এগিয়ে চলেন। পাঁচকদম এগিয়েই প্রবেশ করলেন, যাকে বলে নিবিড়-অরণ্যে। শুধু গাছ আর গাছ। এবার বড় বড় গাছ। তবে কুমারী মেয়ের সিঁথির মতো বনপথের নিশানাটা বজায় আছে। জনবসতি নিশ্চয় আছে, এই বনপথই তো তার প্রমাণ। পথচলতি মানুষের নিত্যমার্জনা না থাকলে বনলক্ষ্মীর এই সিঁথিটি বজায় থাকত না। পাগলের উস্কো-খুস্কো চুলের মতো সে চিহ্নটি হারিয়ে যেত।

    অদ্ভুত একটা গন্ধ—আরণ্যক-সৌরভ। গাছ-গাছালির। ডালে-ডালে অসংখ্য পাখির কিচকিচানি। ডালে মৌচাক। মৌমাছির একটানা ভোঁ-ওও! ফাল্গুন মাস। প্রকৃতিতে এখন মিলনের মহোৎসব। মাঝে একজোড়া ধূসর রঙের খরগোশ আগাছা জঙ্গল ভেদ করে ছুটে বেরিয়ে এল বনপথে। ওঁদের দুজনাকে দেখে হঠাৎ ভ্যাবাচাকা। তার পরেই ছুট-ছুট-ছুট।

    ক্রোশখানেক পথ পাড়ি দেবার পর গাছের দৌরাত্ম্য কমে এল। একটু যেন ফাঁকা ফাঁকা—বড় বড় উলুঘাসের বন। তারপর বাঁক ঘুরতেই দেখা গেল দুচারটি খড়ো চালা। জনবসতির লক্ষণ। দূর থেকেই নজরে পড়ল, কোন কোন গৃহস্থ বাড়ির ভিতর থেকে ধোয়া কুণ্ডলী বেরিয়ে এসেছে। এই সাত-সকালে কুয়াশার সঙ্গে জট পাকিয়ে ফেলেছে।

    ছোট্ট একটি ঝিমন্ত গ্রাম। সবই খড়ো চালা। উলুখড়ের। বাঙলা-চালা। মানে, ছাদের ছাউনি ধনুকের আকারে নক্শা রচনা করেছে বাঁশ বা নারকেল খুঁটির মাথায়। দু-একটি গরু নজরে পড়ল। গো-গাড়ির ভাঙা চাকা। বিচালির গাদা।

    মেঠো দাওয়ায় নাকে-গামছা, উদাম-গা একজন প্রৌঢ় মানুষ ঝাঁটা বুলাচ্ছিল। ওঁদের আসতে দেখে ঝাঁটাগাছ নামিয়ে টান-টান হয়ে দাঁড়ায়। অবাক মানে। এ জাতীয় বেগানা লোক দেখতে অভ্যস্ত নয় মনে হল।

    রূপেন্দ্রনাথ বলেন, বাবার থান আর কতদূরে?

    মুণ্ডিতমস্তক আর শিখাতেই পরিচয়। প্রৌঢ় লোকটা ঝুঁকে পড়ে বললে, পেন্নাম ঠাউরমশাই, কোত্থেকে আসা হচ্ছে?

    —বর্ধমান। বাবার থান কতদূরে বলতে পারেন? এখানে সম্প্রতি যে অনাদি শিবলিঙ্গ আবিষ্কৃত হয়েছে.

    —প্রৌঢ় ওঁর ভ্রম সংশোধন করে দেয়, ‘অনাদি’ লয় বাবা, তাঁর নাম তারকেশ্বর। তা সেই তাঁরে দেখতি বধ্যমান থিকে আসিছেন। এ তো বড় আজব কতা!

    রূপেন্দ্র বলেন, অনাদি শিবলিঙ্গ নয়? ভাস্কর নির্মিত?

    গলকণ্ঠটা বারকতক ওঠা-নামা করল। যুক্তকরে নির্বাক দাঁড়িয়ে রইল কয়েকটা মুহূর্ত। শেষে বললে, মুই মুখ্যু গোয়ালার পো—নেতাই ঘোষ, আজ্ঞে। আপনকার কতা মুই বুঝতে লারছি ঠাকুরমশা! তা ভেঁড়িয়ে কেন মা? অনেকটা পথ এয়েছেন, বসেন।

    দাওয়ার সামনেই একটা বাঁশের মাচা। ভরাট বাঁশের ছয়-খুঁটির উপর তলতা-বাঁশের ঘননিবদ্ধ সারি। প্রৌঢ় তার গামছাটা দিয়ে সেটা মুছে দিল। ধুলো ছিল না, কিন্তু হিমে ভিজে-ভিজে ছিল।

    দুজনেই বসলেন। কথাটা সত্যি। রূপেন্দ্র অভ্যস্ত হলেও মঞ্জরীর পক্ষে একটু জিরিয়ে নিতে পারলে মন্দ হয় না। রূপেন্দ্র বলেন, আপনি এটাকে ‘আজব কথা’ বললেন কেন? তীর্থদর্শনে কি ভিনদেশের মানুষজন আসে না?

    —হক্কতা! আসে! নিয্যস আসে। কিন্তুক এই ভার্মালপুর কি তীর্থস্তান আজ্ঞে? এ মুকুন্দ-খুড়োর এক নিপাট খ্যাপামি! দিব্যি সংসারি মনিষ্যি, তিনজোড়া দুধেল গাই, দিনে আধমনটাক দুধ হতেন—দ্যাখ্ -না -দ্যাখ্ বদ্দ পাগল হই গেল!

    –কার কথা বলছেন? মুকুন্দ কে?

    –দ্যাখবান অখনই। এই বাবার থানেই পড়ি আছে। রাতেও ভিটেয় আসে না! গেল সনের বর্ষায় চালাটা হুম্‌ড়ি খায়ি পড়ি গ্যালো। ভুরুক্ষেপ নাই।

    হয়তো লোকটা আরও কিছু বলত। বাধা পড়ল। ঘরের ভিতর থেকে এগিয়ে এল এক  প্রৌঢ়া। লালপাড় মলিন শাড়ি। হাতে শাঁখা, নোয়া। মুখটা দেখা যায় না। ঘোমটায় ঢাকা দু-হাতে ধরা আছে একটা কাঁসার থালা। তার উপর দু-ঘটি গরম দুধ। দুটি শালপাতায় দু-টুকরো খেজুড় গুড়।

    –এ আবার কী?

    —গোয়ালা-মনিষ্যি আজ্ঞে। আর কী করি বামুনসেবা করি কন?

    প্রৌঢ়া ফিস-ফিস্ করে মঞ্জরীকে প্রশ্ন করে, ইখান থনে কই যাবেন?

    মঞ্জরী বলে, ত্রিবেণী।

    নৌকাতেই গায়ত্রীজপ সেরে নিয়েছেন। রূপেন্দ্র ইতস্তত করলেন না। নিতাই ঘোষের ব্রাহ্মণসেবায় অন্তরায় হলেন না। এক হিসাবে ভালই হল। এখানে দোকানপাট তো কিছু নজরে পড়ছে না। সারা দিনে কী জুটবে, আদৌ জুটবে কিনা, তা বাবা তারকেশ্বরই জানেন।

    প্রৌঢ়ের কাছে আরও কিছু সংবাদ পাওয়া গেল। শিবলিঙ্গটি আবিষ্কৃত হয়েছে কয়েক বছর আগে। আকৃতি শিবলিঙ্গের মতো নয়। ধরিত্রীর মাতৃগর্ভ থেকে শিশু ভোলানাথ হঠাৎ মাথা তুলে ঐ আরণ্যক শোভাকে দেখতে চেয়েছিলেন। বিজন অরণ্য তো? কেই বা ওঁকে লক্ষ্য, করছে? ভেবেছিলেন টুক করে এক নজর দেখেই ধরিত্রীমায়ের পেট-কোঁচড়ে লুকিয়ে পড়বেন। কিন্তু তা হল না। জগৎটাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন তিনি! ব্যথিতও! তাঁর ভক্তদের কত দুঃখ, কত কষ্ট! বাবা বজ্রাহত হয়ে পাষাণ হয়ে গেলেন। নিটোল কষ্টিপাথর। না, নিটোল নয়, মাথায় একটা গর্ত মতো আছে। কেউ বলে, দশ-বিশ পুরুষ আগে জায়গাটা এমন বিজন অরণ্য ছিল না। এখানে ছিল এক গোপভূম। গাঁয়ের মেয়েরা ঐ পাথরখানির উপরে ধান ভানতো, গান গেয়ে-গেয়ে। তাতেই হয়েছে ঐ গর্ত।

    মুকুন্দ খুড়ো অবশ্য সে কথা মানে না। বলে, সমুদ্রমন্থনকালে বাবা যখন দেবতাদের বাঁচাতে হলাহলের পাত্রটা এক চুমুকে খেয়ে ফেলেছিলেন—‘সেই যে গ, যখন তেনার গলকণ্ঠটি নীলবরণ হয়ি গেল’—তখন বারেকের জন্য তাঁর মাথা ঘুরে ওঠে। টাল সামলাতে পারেন না। মন্দারের পাথরে—‘মন্দার’বুঝলে তো হে? সেই যি পাহাড়টো মন্থনদণ্ড হইছিল, তারই গায়ে আছাড়ি পড়িছিলেন। ওটি সেই টক্করের দাগ! বুয়েছ?”

    জঙ্গলের মাঝখানে অনেকটা জায়গা হাসিল করা হয়েছে। বড় বড় গাছ কেটে নামানো হয়েছে; আগাছা কেটে সাফা করা। প্রায় বিশ হাত চওড়া, পঞ্চাশ হাত লম্বা। তার মাঝখানে ঐ কালো পাথরের মেদিনীবিদীর্ণ কৌতূহল—ভূতাত্ত্বিকের ভাষায় ‘আউটক্রপ’। পাথরখানির চারদিকে খুঁটি—বাঁশ আর আধলা তাল। তার উপর শুকনো ডালপালার একটা আচ্ছাদন—রৌদ্রনিবারণ মানসে। অদূরে প্রকাণ্ড একটা বেল গাছ। পাথরটা ঘিরে আকন্দের জঙ্গল—অজস্র ফুল ফুটে আছে। বেলগাছতলায় বসে আছেন একজন সন্ন্যাসী। বয়স আন্দাজ করা শক্ত—তিন কুড়ি নির্ঘাৎ পাড়ি দিয়েছেন। উদাম গা—বুকের লোম পর্যন্ত সাদা, চুল-দাড়ি তো বটেই। নিম্নাঙ্গে একটি কৌপীন। আসনপিড়ি হয়ে বসেছিলেন মাটিতে; দূর থেকে ওঁদের দেখতে পেয়েই চমকে উবু হয়ে উঠে বসেন। ডান হাতখানা ভূর উপর রোদ-আড়াল করা ভঙ্গিতে ধরে একদৃষ্টে লক্ষ্য করতে থাকেন। কাছাকাছি এসে রূপেন্দ্রনাথ যুক্তকরে কিছু বলার আগেই সন্ন্যাসী বলে ওঠেন, আসুন রাজামশাই! এত দেরী হল যে?

    ওঁরা স্বামীস্ত্রী পরস্পরের দিকে তাকিয়ে দেখেন। রূপেন্দ্রনাথের জীবনে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, কিন্তু সেবার প্রশ্নকর্ত্রী ছিল বিকারগ্রস্তা—এ তো তা নয়। বললেন, আমার কি আরও আগে আসার কথা ছিল?

    —ছিল নি? এক মাস হয়ি গেল! বাবা বলিছিলেন,—হপ্তাখানেকের ভিৎরিই আসপেন!

    এই বৃদ্ধের পিতৃদেব জীবিত? তিনি ওঁকে এমন একটা আজব প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন! বৃদ্ধ সন্ন্যাসীর মস্তিষ্ক-বিকৃতির লক্ষণ নাকি এটা?

    বৃদ্ধ পুনরায় বলেন, আপনে বরা-আজা বটে তো?

    —আজ্ঞে না, আমি আসছি বর্ধমান থেকে। আমার নাম শ্রী রূপেন্দ্রনাথ দেবশর্মা!

    বৃদ্ধ নিরাশ হলেন। আবার পা-বিছিয়ে বসলেন। বললেন, অ! দামোদর বেয়ে আলেন নিচ্চয়—বাহিরগড়ের বরা-আজার নাওটা দেখিছেন গাঙে?

    এবার বুঝতে পারেন—‘বরা-আজা’ বলতে উনি ভারামল্ল বা বরাহমল্ল রাজার কথা বলছেন। এবার জানান যে, সেই বরাহমল্ল রাজার একটি প্রকাণ্ড মহাজনী নৌকা আজ সকালেই এসে ভিড়েছে রামীধোপানির ঘাটে। সেটা ইট-পাথরে বোঝাই, উনি সেই নৌকাতেই এসেছেন বটে।

    বৃদ্ধ সন্ন্যাসী আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন। হঠাৎ ওঁদের দিকে পিছন ফিরে ঐ নিকষ কালো পাথরখানাকে সম্মোধন করে বলে ওঠেন, তবে তো ছলনা করিনি বাবা! ইট-পাথর তো এয়েছে! এবার তোর মন্দির হয়ি যাবে!

    তারপর হঠাৎ উবুড় হয়ে পাথরখানার কানে-কানে যেন বলেন, তা হ্যারে, মন্দির হয়ি গেলি তার একটেরে মোরে ঠাঁই দিবি তো? আম্মো তো তোরই মতো রোদে জলে পড়ি আছি? বল্‌। হক কতা কি না?

    প্রায় একটি বেলা গেল ঐ অর্ধোন্মাদের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্যটা উদ্ধার করতে। উন্মাদ উনি নিশ্চয়ই, তবে ঐ—যাকে বলে ‘ভাবের ঘরে পাগল’। সমকালীন আর এক ‘মন-মাতাল’ পাগলকে যেমন ‘মদ-মাতালেরা’ ‘পাগল’ বলে! উনি আদৌ সন্ন্যাসী নন, এই বিজন জঙ্গলে কে ওঁকে সন্ন্যাস দেবে, মন্ত্রদীক্ষা দেবে? তাই পূর্বাশ্রমের অভিধাতেই ওঁর পরিচয় : মুকুন্দরাম ঘোষ।

    সম্পন্ন গৃহস্থ ছিলেন একদিন। নিতাই ঘোষ ভুল বলেনি কিছু। তিন-জোড়া দুধেলা গাই—দৈনিক আধমনটাক দুধ ‘হতেন’। একা মানুষের সংসার; স্ত্রীবিয়োগ হয়েছে অনেক দিন দুটি কন্যার বিবাহ দিয়েছেন। পুত্রটি ছিল লাঠি খেলায় ওস্তাদ-সে রাজসরকারের পাইক। তবু একদিন ছেলে ফিরে আসবে এই আশা বুকে নিয়েই বৃদ্ধ পড়েছিলেন ভিটে আঁকড়ে। দুধ বেচে কপর্দক সঞ্চয় করতেন। কড়ি-কড়ি-কপর্দক-সিক্কাটাকা! মাটির হাঁড়িতে পুঁতে রাখতেন ঘরের মেঝেতে গর্ত করে। দুটি রাখাল কিশোর গো-মাতাদের দেখভাল করত। বৃদ্ধ তখনো কর্মক্ষম। ঝাঁকে ঝুলিয়ে দুধটা বেচে দিয়ে আসতেন নিকটবর্তী ভারামলপুরের সম্পন্ন গৃহস্থবাড়িতে। তারপর একটা অদ্ভুত ঘটনা! রাতারাতি দুধের যোগান হয়ে গেল আধাআধি। কী ব্যাপার? রাখাল সহকারী দুজনে জানালো, কপিলার দুধ বেমক্কা ‘থমকে গেছে’!

    কপিলা ওঁর সবচেয়ে ভালো জাতের গাই। একাই দিনে দশসের দুধ দেয়। সদ্য সন্তানবতী সে। দেখ্‌-না-দেখ তার বাঁটের দুধ ‘থমকে যাবে’ কেন? মুকুন্দরাম প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে এলেন—রাখাল কিশোর দুটি দুধ চুরি করছে। গোপনে বেচে দিয়ে আসছে অন্য কোনও ঘোষের-পোকে। কিন্তু ছেলে দুটি দীর্ঘদিন আছে ওঁর কাছে। এ জাতীয় তঞ্চকতা কখনো করেনি। বিশ্বাস করতে মন চায় না। সরেজমিন তদন্ত করবার সিদ্ধান্ত নিলেন।

    গাঙের কিনার ঘেঁষে বিস্তীর্ণ গোচারণভূমি। জমিদারের খাশ লাখেরাজ। চাষ করা বারণ। গো-চারণ ক্ষেত্র। পাঁচ ঘোষের-পো তাদের গো-মাতাগুলিকে সকাল বেলা ছেড়ে দিয়ে আসে সেই গোচারণ ভূমিতে। বাছুরদের মুখে জাল-বাঁধা। শাঁখে-ফুঁ-পড়া সন্ধ্যায় সার বেঁধে নিজে-নিজেই ফিরে আসে গরুর পাল—ঐ যাকে বলে গোধূলি লগ্নে। এ জঙ্গলে শেয়াল আছে, খটাশ আছে, কিন্তু দিনের বেলা যূথবদ্ধ গরুর পালকে তারা আক্রমণ করতে সাহস পায় না।

    মুকুন্দরাম সেদিন তক্কে তক্কে থাকলেন। দেখলেন, সূর্য পশ্চিম দিগ্বলয়ের দিকে ঢলে পড়তেই কপিলা দলছুট হয়ে গেল। ঢুকে পড়ল জঙ্গলের ভিতর। প্রায় পঞ্চাশ হাত ব্যবধানে মুকুন্দও অনুসরণ করলেন তাকে। কাঠুরিয়াদের যাতায়াতে যে বনপথের সৃষ্টি হয়েছে সে পথ ধরে কপিলা বেশ কিছুটা অগ্রসর হয়ে গেল। কিন্তু তারপর হঠাৎ বেমক্কা ঢুকে পড়ল এক নিবিড় অরণ্যে। গিয়ে থামল একখানা কালো কষ্টিপাথরের উপর। স্থির হয়ে দাঁড়ালো। তারপর ঊর্ধ্বমুখে ডাক দিল : হা–ম্বা—!

    ঠিক যে স্বরে সে ডাকে তার বাছুরকে। কিন্তু কী আশ্চর্য? কপিলার বকনা-বাছুর মুংলি তো এ দিগড়ে নেই। ‘তাইলে ও ডাকে কারে’? প্রায় বিশ হাত দূরে গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে চুপিসারে লক্ষ্য করছিলেন মুকুন্দরাম : দ্যাখাই যাক্, ব্যাবারডা কোন বাগে ডাঁড়ায়!

    যা ‘ডাঁড়ালো’ তাতে তাঁর সারাদেহের রোমকূপও ‘ডাঁড়িয়ে’ ওঠে।

    কপিলের ঐ স্তনভারনম্র আহ্বান শুনে বেল গাছের মগডাল থেকে নেমে এল এক-জোড়া গোক্ষুর সাপ। ফণায় তাদের খড়মের চিহ্ন। লিক্‌ক্লিক করছে চেরা জিব! মুকুন্দরাম ঘোষের পো; গোরুর হক্-হদিস তাঁর নখদর্পণে। অথচ কী আশ্চর্য! কপিলা না দিল দৌড়, না করল ফোঁস-ফোঁস

    একটা কালনাগ পাকে পাকে জড়িয়ে ধরল তার পিছনের ঠ্যাঙ জোড়া, বাঙলা ‘৪’-অঙ্কের নক্‌শা ছকে। কপিলা কোন প্রতিবাদ করল না, স্থির হয়ে রইল। আর নাগিনী পাকে-পাকে জড়িয়ে ধরে তার পালান। নিষ্পেষণ করতে থাকে ওর।অমৃতরসভাণ্ডার। ফিনকি দিয়ে দুধ বার হয়ে এল বাঁট থেকে, যেন পিচকারি! কালো কষ্টিপাথরখানা হয়ে গেল শ্বেতপাথর।

    দুগ্ধভাণ্ডার নিঃশেষিত হয়ে যাবার পর নাগদম্পতি মুক্তি দিল কপিলাকে। রুদ্ধশ্বাসে কপিলা দৌড়ালো তার বাথানপানে। মুকুন্দরাম অপেক্ষা করলেন, সমঝে নিতে চান—নাগদম্পতি এরপর কী করে।

    দেখলেন, শ্রাবণের ধারার মতো দুগ্ধস্রোত সর্পিল গতিতে এসে সঞ্চিত হল একটি প্রাকৃতিক গর্তে। নাগ-নাগিনী সেই ডোবা থেকে মুখ ডুবিয়ে যেন বাবার চরণামৃত পান করল। মুকুন্দরাম ফিরে এলেন ভিটেতে। তখন আঁধার ঘনিয়েছে। প্রত্যক্ষ সত্যকেও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। এমনটা কী করে হয়?

    সে-রাত্রেই স্বপ্নাদেশ পেলেন। বাবা ওকে ডাকছেন। সেই বিচিত্র আহ্বান, যা কয়েক দশক বাদে শুনবেন লালাবাবু—পাইকপাড়ার দেওয়ান গঙ্গাগোবিন্দের পৌত্র কৃষ্ণচন্দ্ৰ সিংহ : ‘বেলা যে যায় রে! বানায় আগুন দিবি না?’

    যদি বল—‘পাগল’, তবে তাই। মুকুন্দরাম ঘোষ সন্ন্যাস নেননি। তবে সংসার ত্যাগ করেছিলেন। কপনিসার সাধক বাকি জীবন কাটিয়ে গেছেন সেই বেলগাছ তলায়। কী শীত, কী গ্রীষ্ম, কী বর্ষা। শুরু করে দিলেন নির্জন সাধনা। গুরু? ঐ তো—ঐ কালো পাথরখানা। ধরিত্রীর গর্ভ থেকে মুখ-বার-করা ঐ শিশু ভোলানাথ। তিনি যা স্বপ্নাদেশ দেন তাই শোনেন, যেভাবে চালান সেভাবেই চলেন। এক হাতে বনজঙ্গল সাফা করে বাবার মাথায় বেঁধে দিলেন লতাপাতার একচালা : আহা! রোদে-জলে তোর বড় কষ্ট।

    বাবা স্বপ্নে দেখা দিলেন। বলেন, তোরও তো বড় কষ্ট যাচ্ছে, মুকুন্দ! র, বরা-রাজাকে বলে দিচ্ছি, একখান পাকা ঘর বানিয়ে দিতে। বাপ-বেটায় থাকব।

    সত্যই স্বপ্নাদেশ পেলেন হুগলীজেলার বাহিরগড়ের ক্ষত্রিয় নৃপতি বরাহমল্ল। লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে চাইলেন—স্বপ্নে যা প্রত্যক্ষ করেছেন তা কি বাস্তব? এল রাজার লোক, খোঁজ-খবর নিয়ে ফিরে গিয়ে জানালো রামীধোপানির ঘাটের কয়েক রসি দূরে সত্যই বসে আছে এক নেংটিসার পাগলা সাধু। বেলগাছ তলায়। আর একখণ্ড কালো-পাথরের উপর বেঁধেছে লতাপাতার এক চালা।

    রাজার প্রতিভূ এসে মুকুন্দরামকে জানিয়ে গেল অচিরেই মন্দির বানানো হবে; রাজামশাই রানীমাকে নিয়ে স্বয়ং আসবেন তীর্থদর্শনে। তাই রূপেন্দ্র আর মঞ্জরীকে দেখে ওঁর ধারণা হয়েছিল—ওঁরাই বুঝি সেই রাজারানী।

    ‘আজা-আনির মতোই সোন্দর তো! তাই ভেরম হই গেল, আজ্ঞে!’

    .

    আড়াই শ বছর কেটে গেছে তারপর। সহস্রাব্দীর এক পাদ। আমূল বদলে গেছে সব কিছু। শুধু বাস্তবে নয়, মানচিত্রেও আজ খুঁজে পাবে না ভারামলপুর গাঁ-খানি। এখন ওর নাম তারকেশ্বর। নিবিড় অরণ্যানী নিশ্চিহ্ন। রামীধোপানি ঘাটও এক গলা ঘোমটা টেনে সরে গেছে অন্যত্র। গাঙই যে দেশান্তরী, তা ঘাট পড়ে থাকবে কোন সুবাদে? দামোদর-নদের সাথেই না বাঁধা ছিল ঘাট, অচ্ছেদ্যবন্ধনে? কানা-দামোদর—তার যে ক্ষীণ রেখাটুকু ঐ অভিধা বহন করে—তা সরে গেছে ভিন-দেশে। মরাগাঙের অশ্বখুর দহগুলো ভরাট হয়ে গেছে; সেখানে উঠেছে শালখুঁটির বনিয়াদ-নির্ভর দ্বিতল-ত্রিতল মোকাম। খুঁজলে এখন সেখানে সন্ধান পাবে ভি. ডি. ও ক্যাসেট পার্লার।

    বাঙলা মায়ের আঁচলের খুঁট খুলে আচমকা ভেসে গেল—চন্দ্ৰনাথ; একমুঠো ধুতরো ফুলের মতো। আজ তাই মায়ের এই পুব-আঁচলে তারকেশ্বরই শ্রেষ্ঠ শৈবতীর্থ।

    কিন্তু সব কিছু হারায়নি। হারায় না। খোঁজ নিলে দেখতে পাবে মন্দিরের গা-সইসই সেই পাগলা সাধুর সমাধি : ‘মুকুন্দ ঘোষের থান’। দুধ-পুকুরটাও আছে—এখন তাতে বাঁধানো ঘাট—সেই যে ডোবাটায় সেকালে সঞ্চিত হত কপিলার স্বতঃ-উৎসারিত অমৃতরস। তাই তো ওর নাম—‘দুধপুকুর’।

    আরও একটি জিনিস খোয়া যায়নি এই আড়াই শ’ বছরে—মানুষের ধর্মবিশ্বাস। মুকুন্দ ঘোষের মতোই কাঁধ থেকে বাঁকে ঝুলিয়ে বিশ্বাসবারি নিয়ে চলেছে নিরন্ন মানুষের মিছিল : ‘ভোলেবাবা পার করে গা’।

    তোমাদের ‘গপ্পো’ শুনিয়েছি, কিন্তু আপনাদের কাছে কিছু কৈফিয়ৎ দেবার আছে! হুগলী জেলার প্রামাণিক ইতিহাস রচয়িতা সুধীরকুমার মিত্র মশায়ের মতে তারকেশ্বরের মঠের প্রতিষ্ঠা হয় 1729 খ্রীষ্টাব্দে। তার পূর্বেও হয়তো এখানে কোন শৈবমন্দির ছিল; কারণ তারকনাথের মন্দিরের ভিতর একটি প্রস্তরখণ্ডে খোদাই করা আছে—‘শুভমণ্ড শকাব্দ ১৫৪৩’—অর্থাৎ 1621 খ্রীষ্টাব্দ। সম্ভবত নিকটবর্তী কোন মন্দির থেকে ঐ পাথরটি সংগৃহীত। মিত্র-মশাই বলছেন, ‘মুকুন্দ ঘোষ হতেই তারকনাথের প্রথম প্রকাশ’; ‘বালিগড়ি পরগণার রাজা ভারামল্ল তারকনাথের প্রথম মন্দির নির্মাণ করে দেন এবং দেবতার সেবার জন্য এক হাজার তেইশ বিঘা জমি দান করেন।’

    ভূসম্পত্তি! ভক্তদের দান! অন্নদামঙ্গলের সেই ভিক্ষাজীবী ভবঘুরেটা না তার সঙ্গিনীকে বলেছিল—‘সাধ হয় একদিন পেট পুরে খাই’? সেই সর্বত্যাগী শিবের সম্পত্তি ক্রমে হয়ে উঠল কুবের-ঈর্ষিত। গুটি গুটি এসে জুটলেন মোহান্ত বাবাজীরা। মুকুন্দ ঘোষের দেহান্তের পরে এসে জাঁকিয়ে বসলেন দশনামী সম্প্রদায়ের গিরি উপাধিকারী সন্ন্যাসীরা। তাঁদের ‘শৈবমঠ বিবরণে আছে—‘স্থাপিত প্রধান গদী শ্রীতারকেশ্বরে। মল্লের ভূভাগ রাজ্য খণ্ড খণ্ড করে।

    লেখা নেই, ‘প্রধান গদী’ প্রতিষ্ঠিত হবার পর সেই ভারতচন্দ্র বর্ণিত ভবঘুরেটা তার জীবনসঙ্গিনী ‘অন্নরিক্তা’র হাত ধরে কোন পথে নিরুদ্দেশ যাত্রা করল ভিক্ষার সন্ধানে। সহদেব গোস্বামী বিরচিত ‘ধর্মমঙ্গল’ পুঁথিতে আছে আর একটি কৌতুককর বার্তা। রাজা বরাহমল্ল প্রথমবার স্বপ্নাদেশ পেয়ে এবং সরেজমিনে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ঐ কষ্ঠিপাথরখানি এই বিজন অরণ্য থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাবেন। নিজ রাজধানী রামনগরে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করে এক মন্দির নির্মাণ করবেন। রাজাদেশে এল শ্রমিকদল। পঞ্চাশ হাত মাটি খুঁড়েও তারা বাবার তলদেশের সন্ধান পায়নি। কেন পায়নি তার যে ব্যাখ্যা সহদেব গোস্বামী দিয়েছেন—তার সঙ্গে ভূতত্ত্ববিজ্ঞান-এর সম্পর্ক নেই। ‘জিওলজিকাল আউট-ক্রপের তলদেশের সন্ধান যে ওভাবে পাওয়ার নয় এ-কথা বলেননি। বরং বলেছেন—রাজা বরাহমল্ল পুনরায় স্বপ্নাদেশ পেলেন। বাবা বলছেন :

    তারকেশ্বর শিব আমি কাননে বসতি।
    অবনী ভেদিয়া বাছা আমার উৎপতি।।
    অকারণ দুঃখ পায়া মোরে কেন খোঁড়?
    গয়া-গঙ্গা-বারাণসী আদি মোর জড়।।

    রাজা বরাহমল্লের আদিম মন্দির ভগ্ন হলে বর্ধমানের মহারাজা সে মন্দির পুনর্নির্মাণ করে দেন। কিন্তু সে মন্দিরটিও আয়তনে ছোট বলে যাত্রীদের অসুবিধা হত। তাই অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে তারকনাথের স্বপ্নাদেশ পেয়ে পাতুল সন্ধিপুর নিবাসী গোবর্ধন রক্ষিত বর্তমান ‘আটচালা শৈলীর’ বৃহদায়তন মন্দিরটি নির্মাণ করে দেন।

    মন্দিরের প্রবেশ পথের স্তম্ভ এবং খিলনত্রয়ী অলঙ্কৃত—নানান পৌরাণিক দৃশ্য, পুষ্পস্তবক ও নক্শা। আটচালা মন্দিরের কমনীয় বক্রাকৃতি নয়নাভিরাম। কিন্তু সংস্কারের নামে মাঝে মাঝে আধুনিক প্রয়োগকৌশলের প্রবণতা এ-কালীন স্থপতিবিদদের বিপথে পরিচালিত করেছে। মন্দিরের দক্ষিণ দিকের দেওয়ালে চুনবালির আস্তরের উপর ফুল-ফোটানোর প্রচেষ্টায় আদিম পোড়ামাটি-অলঙ্করণের মুখখানি ম্লান হয়ে গেছে। সব চেয়ে দাগা দেয় মন্দিরের নিচের অংশে মানুষভর উচ্চতায় চীনামাটির রঙিন টালি। এই ‘বেলবটম’ পোশাকে মন্দিরের সৌন্দর্যহানি হয়েছে। বালুচরী শাড়ির সঙ্গে ‘ম্যাচ’ করেনা ‘স্লিভলেস জ্যাকেট’! এ যেন রতনচূড়ের গা-ঘেঁষে ডিজিটাল ঘড়ি অথবা নবরত্নের টায়রা-পরা সীমন্তিনীর ‘বয়েজকাট’ কেশবিন্যাস!

    মন্দিরের সমুখে নাটমন্দিরটি তৈরী করে দেন চিন্তামণি দে–1801 খ্রীষ্টাব্দে। ইতিমধ্যে শিবের পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে প্রত্যাশিত শক্তিমন্দির : দশভুজা, চতুর্ভুজা। কায়েমী স্বার্থ ততদিনে সব কিছু কব্জা করে ফেলেছে। বিশ্বাসপ্রবণ যাত্রীদের মাথায় হাত বুলিয়ে এবং সেই মস্তকেই পনস বিদীর্ণ করে লুটে-পুটে খাবার আয়োজন : ‘এখানে পেন্নাম কর—পয়সা দাও; ওখানে ফুল ফেল,—পয়সা দাও; সেখানে চরণামৃত পান কর—পয়সা দাও।’ পূজাবিধি নানান প্রকার, ভক্তি-সঙ্গীতে নানান সুর-তান-লয়; কিন্তু মূল ধুয়োটা অপরিবর্তিত : ‘পয়সা দাও’!

    এল অর্থলোলুপতার অনিবার্য অনুষঙ্গ : কামবিকার! মোহান্ত মহারাজদের কৃপায় অবলুপ্ত হল মুকুন্দ ঘোষের সেই আদিম স্বপ্নটা। এক সময় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন পর্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা মহাসন্ন্যাসী প্রণবানন্দ মহারাজজীর কাছে। গৃহী ও সন্ন্যাসী ‘পরস্পরং ভাবয়ন্ত মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সে পাপ মোচন করেছিলেন।

    তারকেশ্বর মন্দিরে যদি যাও—আমার পরামর্শ—হাতে একটা ছোট টর্চ রেখ। টিপবাতি জ্বাললে আজও একটা জিনিস দেখতে পাবে। মেঝের তল থেকে এক হাত নিচে বাবার মাথায় আজও দেখতে পাবে সেই ক্ষতচিহ্নটা।

    : ভুলি গ্যালে নাকি হে? গরল পান করি বাবা যে টলি পড়িছিলেন মন্দার পাহাড়ের গায়ে, সেই টক্করের দাগটো গ!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }