Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তীর্থের পথে – ১২

    ১২

    সিঙ্গুরে ওঁরা রাত্রিবাস করেননি। আট ক্রোশ পথ পাড়ি দিয়ে পরদিন সন্ধ্যায় এসে পৌঁছালেন ফ্রেডরিকনগরে। ভাগীরথীতীরে।

    ফ্রেড্‌রিকনগর সে-আমলে দিনেমারদের অধিকারে। ডেনমার্কের রাজার নামে এই জনপদের নাম। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম-পাদে জনপদটি ইংরাজ বেণেদের বিক্রয় করে দিনেমার কোম্পানি ভারত শোষণের আশা ত্যাগ করে চলে যায়। পরে এর নাম হয় শ্রীরামপুর। তার আদালতের নিকটে গোরস্থানে কিছু সমাধিফলক ভিন্ন দিনেমার শাসনের কোন চিহ্ন আজ ঐ জনপদে নাই।

    যাত্রীদলটি অবশ্য এই ফেরঙ্গভূমে ঘাঁটি গাড়েনি। নিকটেই হিন্দু ভূস্বামীদের পাশাপাশি দুখানি বর্ধিষ্ণু গ্রাম—মাহেশ আর বল্লভপুর। মাহেশের রথ সুবিখ্যাত। মনে আছে নিশ্চয়, ‘রাধারানী’ ঐ মাহেশের রথের মেলাতেই হারিয়ে যায়। এই ফ্রেডরিকনগর—বলা উচিত ‘শ্রীরামপুর’, বঙ্গসাহিত্যের এক তীর্থ। আমাদের কাহিনীকালের পরবর্তী জমানায় এখানেই পাদরী মার্শম্যান, ওয়ার্ড এবং কেরী সাহেব বাংলা ছাপাখানায় প্রথম সংবাদ-পত্র ‘সমাচার দর্পণ’ প্রকাশ করেন। এখানেই আছে তাঁদের তিনজনের সমাধি। শ্রীরামপুরের ছত্রপুরী, বা চাতরা পল্লীতে সে-আমলেও ছিল একটি শীতলা মন্দির—চাতরার-মা। ওঁরা কিন্তু এসে আশ্রয় নিলেন বল্লভপুরের রাধাবল্লভ-মন্দিরে। বোধকরি বৈষ্ণব বলে।

    রাধাবল্লভের মূর্তিটি ভাস্কর্য-শিল্পের এক অপূর্ব নিদর্শন।

    এই মূর্তির বিষয়ে একটি লোকগাথা আছে।

    এ পল্লীটির আদি নাম : আক্‌না। কৃত্তিবাসী রামায়ণে ‘আক্‌না’-গ্রামের উল্লেখ আছে। সুতরাং পাঁচ-ছয় শত বছরের প্রাচীন গ্রাম তো বটেই। ষোড়শ শতাব্দীতে ঐ আক্‌না গাঁয়ের নাম পরিবর্তিত হল—যখন রুদ্ররাম পণ্ডিত সেখানে প্রতিষ্ঠা করলেন রাধাবল্লবজীউর আটচালা মন্দির। আক্‌না হয়ে গেল ‘রাধাবল্লভপুর’।

    রুদ্ররাম ছত্রপুরীতে মাতুলালয়ে থাকতেন। তাঁর মাতুলগৃহে ছিল একটি অপূর্ব নিমকাঠের শ্রীগৌরাঙ্গ মূর্তি। জনশ্রুতি, ভাস্কর শ্রীগৌরাঙ্গদেবকে স্বচক্ষে দেখেনি, কিন্তু 1650 খ্রীষ্টাব্দে গুপ্তিপাড়া মঠে শ্রীচৈতন্যদেবের যে মূর্তিটি স্থাপিত হয় তারই অনুকরণে দক্ষ ভাস্করের গড়া এই দারুমূর্তি। রুদ্ররামের মাতুল ছিলেন বৈষ্ণব, কিন্তু রুদ্ররাম স্বয়ং শাক্ত বংশের সন্তান। একদিন রুদ্রকে ঐ দারুময় গৌরাঙ্গদেবের মূর্তির সম্মুখে ধ্যানস্থ দেখে মাতুল তাঁকে তিরস্কার করে বলেন, তুমি ঘোর শাক্তবংশের সন্তান, এঁর পূজার অধিকার তোমার নাই।

    রুদ্ররাম নিদারুণ দুঃখিত হন। বিনা প্রতিবাদে তিনি গৃহত্যাগ করেন। ঘোর অরণ্যে একাকী তপস্যায় নিরত থাকেন। তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে একদিন অন্তরাল থেকে আবির্ভূত হলেন এক দণ্ডী সন্ন্যাসী। ধ্যানভঙ্গে তাঁকে দেখেই শিহরিত হয়ে ওঠেন রুদ্রপণ্ডিত। এ কে? মাতুলালয়ে যে নিম্বকাষ্ঠের দারুময় মূর্তিকে দেখেছেন এ তো সশরীরে তিনি!

    সন্ন্যাসী বললেন, কী চাস্?

    রুদ্র পণ্ডিত বললেন, যা পেলে চাওয়ার অন্ত হয়, তাই চাই প্রভু।

    —কিন্তু তিনি তো বহুবর্ণা। কী রূপে তাঁকে দেখতে চাস্—রাধাবল্লভ, শ্যামসুন্দর, না নন্দদুলাল?

    রুদ্রপণ্ডিত মনস্থির করে উঠতে পারেন না। সত্যই তো, তাঁর ইষ্টদেবতা—কে? যে মোহিনী রূপে তিনি শ্রীরাধিকার নয়ন-বল্লভ হয়েছিলেন, না যে শ্যামরূপে তিনি এই প্রপঞ্চময় জগতে সুন্দরের মূর্ত প্রতীক? অথবা যে বাৎসল্য মাধুর্যে তিনি নন্দ-যশোদার হৃদয় জয় করেছিলেন? তাঁর নয়নে তখন দরবিগলিত ধারায় আনন্দাশ্রু। সন্ন্যাসী বলেন, শোন, তোকে গুপ্তধনের সন্ধান বলে দিচ্ছি : গৌড়েশ্বরের শয়নকক্ষের দ্বারদেশে পশ্চিমপার্শ্বে একটি কষ্টিপাথর আছে। তার ভিতর অন্বেষণ করে দ্যাখ। যাঁকে পাবি তিনিই তোর ইষ্টদেব। তাঁকে পেলেই চাওয়ার অন্ত হবে।

    রুদ্রপণ্ডিত সাষ্টাঙ্গে প্রণত হলেন। গাত্রোত্থান করে দেখেন—সন্ন্যাসী অন্তর্হিত।

    রুদ্রপণ্ডিত গৌড়ে এলেন। তখন সুলতানী আমল। সুলতানের প্রধান অমাত্য একজন নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব—তিনিই মহামন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সব কথা খুলে বললেন। বিস্মিত হলেন মহামন্ত্রী। বলেন, হ্যাঁ, নির্দিষ্টস্থানে একটি বৃহদায়তন কষ্টিপাথর আছে বটে; কিন্তু কই তার ভিতর কোন দেবমূর্তি তো কখনো দেখিনি। আচ্ছা লক্ষ্য করে দেখব।

    পরদিন প্রস্তরখণ্ডটি নিরীক্ষণ করতে গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন মহামন্ত্রী। স্পষ্ট দেখতে পেলেন—পড়ন্ত সূর্যের আলো পড়েছে সেই প্রস্তরখণ্ডে, আর তাতে ঘর্মের মুক্তাবিন্দু ফুটে উঠেছে। পাথরের স্বেদস্রোত! এ তো অলৌকিক!

    প্রস্তরখণ্ডের নিকটে মহামন্ত্রীকে ঐভাবে বসে থাকতে দেখে সুলতান কৌতূহলী হয়ে ঘনিয়ে এলেন। বলেন, অমন করে কী দেখছেন আপনি?

    মহামন্ত্রী কৌশলে কার্যসিদ্ধি করতে চাইলেন। বলেন, জাঁহাপনা, এই দেখুন! এই কৃষ্ণবর্ণের প্রস্তরখণ্ডটি অশ্রুবিসর্জন করছে! একে অবিলম্বে মুক্তি দিন, না হলে রাজ্যের অমঙ্গল হতে পারে।

    সুলতান তৎক্ষণাৎ স্বীকৃত হলেন। বলেন, এ পাথরখানা এখনি নিয়ে যান।

    মহামন্ত্রী লোক দিয়ে সেই বিরাট কষ্টিপাথরখানি স্বগৃহে নিয়ে এলেন।

    গৌড়ের প্রখ্যাত এক হিন্দু ভাস্করকে তিনি ডেকে পাঠালেন। পাথরখানা দেখালেন। বলেন, দেখুন, এ থেকে কি কোনও মূর্তি নির্মিত হতে পারে?

    ভাস্কর বললেন, একখানা নয়, মহামন্ত্রী। আমি দেখতে পাচ্ছি ঐ কষ্টিপাথরের ভিতর তিনখানি মূর্তির সমাহার ঘটেছে। তিনটিই পুরুষ মূর্তি।

    মহামন্ত্রী এবং রুদ্ররাম বিস্মিত। বলেন, কই, আমরা তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। আপনি কী করে দেখছেন?

    —ঁগুরুর কৃপায়। শিল্পীর সাধনায়। ভাস্করের ধ্যানে!

    —কোন দেবতার মূর্তি প্রত্যক্ষ করছেন আপনি? বর্ণনা দিন।

    —তিনটিই শ্রীকৃষ্ণের। তাঁর তিন অপরূপ রূপ। এক : যেরূপে তিনি শ্রীরাধিকার মনোহরণ, করেছিলেন : রাধাবল্লভ! দুই : যে শ্যামরূপে তিনি ‘সত্য-শিব’এর সঙ্গে ‘সুন্দররূপে সম্পৃক্ত : শ্যামসুন্দর! তিন : যে রূপে তিনি বাৎসল্যরসে জননীবক্ষে ক্ষীরসমুদ্রে তুফান তোলেন : নন্দদুলাল!

    রুদ্ররামের দেহ কদম-ফুলের মতো রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠে! এই তিন দেবতার নামই তো করেছিলেন সেই মহাসন্ন্যাসী!

    ভাস্কর বলেন,..মহামন্ত্রী, আপনি নির্বাচন করে বলুন কোন মূর্তিখানি চাইছেন?- আমি বিনা পারিশ্রমিকে সেটি উৎকীর্ণ করে দেব; কিন্তু বাকি প্রস্তর-খণ্ড আমার হবে। আমার পারিশ্রমিক।

    মহামন্ত্রী বলেন, এ প্রস্তাবে আমি সম্মত নই, ক্ষোদকাচার্য! আমি কাঞ্চনমূল্যে আপনাকে পারিশ্রমিক প্রদান করব। তিনটি মূর্তিই আমার চাই।

    অগত্যা তাই। তিনটি মূর্তিই উৎকীর্ণ করলেন ভাস্কর—তিনটিই অপূর্ব।

    মহামন্ত্রী রুদ্রপণ্ডিতকে বলেন, একটি আমি রাখব, বাকি দুটি আপনি নিয়ে যান। কোনটিকে আপনি দেবেন বলুন?

    রুদ্রপণ্ডিত বলেন, নির্বাচন আপনি করবেন মহামন্ত্রী। আপনার অনুগ্রহ ভিন্ন এ সম্পদ আমি কিছুতেই লাভ করতাম না; দ্বিতীয়ত ক্ষোদকাচার্যের পারিশ্রমিক আপনিই সম্পূর্ণ প্রদান করেছেন। নির্বাচনের অধিকার আপনারই।

    মহামন্ত্রী বলেন, ও-কথা বলবেন না, আপনি তপস্যায় সন্তুষ্ট করে দেবতার নিকট থেকে এই বিচিত্র সন্দেশটি সংগ্রহ করেছেন। যা হোক, আপনার ইচ্ছানুসারে আমি এই ঁনন্দদুলাল মূর্তিটিকেই আমার কাছে রাখলাম। আমার স্বগ্রামে এঁর প্রতিষ্ঠা করব। বাকি দুটি আপনার।

    গৌড়ের অনেক সৎ-বৈষ্ণব ওঁর কাছ থেকে যে-কোন একটি মূর্তি ভিক্ষা করলেন। কিন্তু মনস্থির করতে পারলেন না রুদ্ররাম। স্থির করলেন যুগলমূর্তিই প্রতিষ্ঠা করবেন নিজ গ্রামে।

    আর্থিক সঙ্গতি সামান্য। সিদ্ধান্তে এলেন, একটি পর্ণকুটির নির্মাণ করে উভয় মূর্তিই স্থাপন করবেন। কিন্তু দৈব যার সহায়, তাঁর আবার কিসের অভাব! মন্দিরের ভিৎ খনন করতে গিয়ে লাভ করলেন এক ঘড়া আকবরী মোহর!

    শেষ কপর্দকটি পর্যন্ত ব্যয় করলেন মন্দির নির্মাণে! যুগলমন্দির সমাপ্ত হলে সাড়ম্বর প্রতিষ্ঠার আয়োজন হল। দেশ-দেশান্তরের বৈষ্ণবাচার্যদের আমন্ত্রণ করলেন রুদ্ররাম—নবদ্বীপ, কাটোয়া, শান্তিপুর, ত্রিবেণী, তেঘরা, সপ্তগ্রাম।

    এমনকি নিমন্ত্রণ রাখতে উপস্থিত হলেন স্বয়ং বীরভদ্র-আচার্য।

    প্রভু নিত্যানন্দতনয়—‘নেড়া’-সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা। তখন তিনি অশীতিপর বৃদ্ধ। কিন্তু অশক্ত নন। আচার্য বীরভদ্র গোস্বামী বললেন, রুদ্র.! একটি কথা বলি বাবা, কিছু মনে কর না। দেবতার বরে যুগল দেবমূর্তি পেয়েছ। দুর্লভ প্রাপ্তি! কিন্তু তার একটিকে রাখ, একটি দান কর। না হলে সাধনা ঐকান্তিকতা লাভ করবে না।

    ব্যথিত হলেন রুদ্ররাম। প্রতিপ্রশ্ন করেন, আপনার কি সিদ্ধান্ত এ দেউল যথেষ্ট বৃহৎ নয়? দুটি মূর্তির স্থান হবে না?

    —ঠিক তাই! এ দেউলে একের বেশি দেবতার স্থানাভাব!

    ভ্রূকুঞ্চিত হল রুদ্ররামের। বলেন, দেখা যাক। সত্যই যদি স্থানাভাব হয়, তাহলে তিনিই আমাকে স্বপ্নাদেশ দেবেন।

    বীরভদ্র সহাস্যে বলেন, কিন্তু তিনি ‘কিনি’? রাধাবল্লভ না শ্যামসুন্দর? কে তোমাকে স্বপ্নাদেশ দেবেন?

    রুদ্ররাম বিরক্ত হয়ে বলেন, দেখা যাক কার কৃপা হয়। কেউ না দিলে বুঝব যে, স্থানাভাব হচ্ছে না।

    —তোমার যেরূপ অভিরুচি, বাবা।

    প্রায় এক দশক পরের কথা। বীরভদ্র গোঁসাই-এর শতবর্ষ পূর্ণ হতে তখনো কিছু বাকি। এই সময় রুদ্ররামের পিতৃবিয়োগ হয়। পিতৃশ্রাদ্ধেও তিনি বৃহৎ আয়োজন করেছেন। অনেকানেক পণ্ডিত সমাগত হলেন। তার ভিতর অতি বৃদ্ধ বীরভদ্র গোঁসাইজী।

    কিন্তু শ্রাদ্ধের পূর্বরাত্রি থেকে শুরু হয়ে গেল অকাল বর্ষণ। মাঘ মাস, বৃষ্টির কোনও আশঙ্কা ছিল না। ফলে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। সমস্ত পণ্ড হবার উপক্রম! সমবেত পণ্ডিতেরা বললেন, পারলে একমাত্র ঐ সিদ্ধপুরুষই রক্ষা করতে পারেন। উনি ‘মেঘবন্ধনবিদ্যা”, আয়ম্ভ করেছেন।

    রুদ্ররাম যুক্তকরে তাঁরই শরণ নিলেন।

    বৃদ্ধ বললেন, হ্যাঁ, ব্যবস্থা তো সহজেই করা চলে। তোমাকে আমি ঐ ‘মেঘবন্ধনমন্ত্রটি’ শিখিয়ে দিচ্ছি। তুমি তোমার ইষ্টদেবের নিকট ঐকান্তিক নিষ্ঠায় প্রার্থনা মন্ত্রটি উচ্চারণ করলেই বারিপাত বন্ধ হবে।

    রুদ্ররাম করজোড়ে বলেন, বলুন প্ৰভু?

    —কিন্তু মুশকিল এই : তুমি ‘ঐকান্তিক’ হবে কী করে? তোমার ইষ্টদেবের যে যুগলমূর্তি! ধ্যানে তো একজনকেই দেখতে হবে!

    রুদ্ররাম বলেন, ওঁরা দুজনেই কি এক নন?

    —নিশ্চয়ই। শ্যাম-শ্যামা-শিব-সরস্বতী মায় আল্লাহ্ও তিনি। বল, কে তোমার ইষ্টদেব?

    রুদ্ররাম লুটিয়ে পড়লেন পরমসাধকের চরণে। বলেন, বুঝেছি প্রভু! লোভ আর মোহের বশবর্তী হয়ে অনেক সৎ বৈষ্ণবকে প্রত্যাখ্যান করেছি। আর করব না। শ্যামসুন্দরকে আপনি নিয়ে যান। আমার বর্তমান সাধনা শুধু রাধাভাবের।

    বীরভদ্র বলেন, মনে আছে বাবা? তুমি প্রশ্ন করেছিলে, ‘দেউল কি যথেষ্ট বড় নয়?’ আমি জবাবে বলেছিলাম, ‘ঠিক তাই।’ তুমি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সেদিন। বোঝনি, আমি এই দেউলটার কথা বলেছিলাম, বাবা।

    বলিরেখাঙ্কিত তর্জনীটি তিনি স্পর্শ করালেন রুদ্ররামের পাঁজরে।

    বীরভদ্রের অলৌকিক ক্ষমতায় শ্রাদ্ধকার্য সুসম্পন্ন হল।

    সেই থেকে আক্‌না গ্রাম হয়ে গেল : রাধাবল্লভপুর।

    বীরভদ্র প্রতিষ্ঠা করলেন “শ্যামসুন্দরকে স্বগ্রামে—অপূর্ব সে মন্দির, আজও অটুট—ভাগীরথীর পরপারে : খড়দহে।

    ‘খড়দহ’ নামটা কী করে হল জান তো? তাও জান না? কিছুই জান না দেখছি দিদিভাই-দাদুভাইরা! বুড়োকে বকিয়ে বকিয়ে মারছ। বার-বার খেই হারিয়ে যাচ্ছে আমার। যা হোক, জান না বললে যখন, তখন শোন বলি :

    শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদেশে প্রভু নিত্যানন্দ গার্হস্থ্যধর্মে দীক্ষা নিলেন। নবদ্বীপের নিকটস্থ শালিগ্রামের পণ্ডিত সূর্যদাস সরখেলের দুটি কন্যা—বসুধাদেবী আর জাহ্নবীদেবীকে একযোগে পত্নীত্বে বরণ করলেন। গৃহিণী হলে গৃহ আবশ্যিক। এতদিন অবধূতের শয়নের ব্যবস্থা ছিল হট্টমন্দিরে। এখন আর তা চলে না। গঙ্গাতীরের এক গ্রামে দুই পত্নীকে নিয়ে উপনীত হলেন প্রভু নিত্যানন্দ। শুনলেন, স্থানীয় ভূস্বামী গঙ্গাতীরে আছেন। তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে সামান্য ব্রহ্মোত্তর ভূখণ্ড প্রার্থনা করলেন।

    জমিদার-মশাই তখন ইয়ারবন্ধুদের নিয়ে জমিয়ে বসেছেন মৎস্য শিকারে। বললেন, শুনেছি আপনি এককালে অবধূত ছিলেন, অর্থাৎ সন্ন্যাসী! আপনি ‘বে’ করলেন কোন আক্কেলে? আগে সেটাই আমাকে বুঝিয়ে বলুন।

    প্রভু নিত্যানন্দ বিনয়ের অবতার। তৃণাদপি সুনীচ। জিজ্ঞাসুকে কখনো প্রত্যাখ্যান করেন না। করজোড়ে বললেন, অবধূত দুই প্রকার—শৈব ও বৈষ্ণব। মহানির্বাণতন্ত্র মতে তার চারি প্রকার শ্রেণীবিভাগ, যথা ব্রহ্মাবধূত, ধীরাবধূত, শৈবাবধৃত ও কূলাবধূত। শেষোক্ত শ্রেণী কুলাচার ধর্ম-মতে অভিষিক্ত থাকেন। তিনি গৃহাশ্রমে সাধন-ভজন করেন। আমি পরম প্রভুর আদেশক্রমে বর্তমানে সেই কুলাবধৃত। আপনি আমাকে সামান্য ভূখণ্ড দান করলে…

    জমিদার-মশাই, ওঁকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ও-সব তত্ত্বকথা আমাকে শোনাতে আসবেন না। সন্ন্যাসী হবার পরেও যখন বে-করতে পেরেছেন তখন গঙ্গাগর্ভে ভদ্রাসনও নিশ্চয় নির্মাণ করতে পারবেন। ঐখানে আপনি আপনার ভদ্রাসনটি নির্মাণ করে বংশানুক্রমে ভোগ করতে পারেন।

    হুঁকো-বরদার তখন এক-আঁটি জ্বলন্ত খড়ের সাহায্যে তাঁর ছিলিমে অগ্নি-সংযোগে ব্যাপৃত ছিল। জমিদার-মশাই তার হাত থেকে জ্বলন্ত খড়ের আঁটিটা কেড়ে নিয়ে গঙ্গায় নিক্ষেপ করে বললেন, ঠিক ঐখানে। জলের মধ্যে!

    নিত্যানন্দ করজোড়ে বললেন, তাই হবে প্ৰভু!

    মোসায়েবের দল অট্টহাস্যে কেয়াবাৎ দিয়ে ওঠে।

    নিত্যানন্দ ভ্রূক্ষেপ করলেন না। খড়-দড়ি-বাঁশের এন্তাজামে গেলেন। জমিদার-মশাই বয়স্যদের বললেন, পাগলটাকে তোমরা বাধা দিও না। দেখাই যাক না—রগড় কতদূর গড়ায়।

    রগড় যতদূর গড়ালো তাতে সকলের চোখ কপালে ওঠে। প্রজ্জ্বলিত খড়ের আঁটিটি যেখানে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল সেখানে জেগে উঠল একটা চর। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল তা। নিত্যানন্দ সেখানেই নির্মাণ করলেন তাঁর ভদ্রাসন : খড়দহ গ্রামে।

    গ্রামটির উৎপত্তি এই অলৌকিক ঘটনায়।

    মজার কথা, মাত্র আড়াই ক্রোশ দূরে ‘সাঁইবেনা’ গ্রাম। গৌড়েশ্বরের মহামন্ত্রীর আদি নিবাস সেখানেই নির্মিত হয়েছে “নন্দদুলালজীর মন্দির।

    অর্থাৎ সেই কষ্টিপাথরের ভিতর লুক্কায়িত ত্রি-মূর্তির—গৌড়ের ক্ষোদকাচার্য যাঁদের দেখতে পেয়েছিলেন তাঁর ধ্যানের দৃষ্টিতে, তাঁরা কাছাকাছিই আছেন আজও। ভাগীরথীর পশ্চিমপারে রাধাবল্লভ আর পুব-পারের পাশাপাশি গাঁয়ে “শ্যামসুন্দর আর “ নন্দদুলালজী। মাঘী-পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে পর্যায়ক্রমে তিন-দেবতার দর্শন নাকি মহাপুণ্য কাজ

    যতদূর মনে পড়ছে—নিতান্ত বাল্যকালে ঐ তিন দেবতাকেই একত্র ঝুলনে দুলতে দেখেছি। কৃষ্ণনগর রাজবাটিতে—বারোদোলের মেলায়। নামগুলিই শুধু মনে আছে : রাধাবল্লভ, শ্যামসুন্দর, নন্দদুলাল। তাঁরা পর্যায়ক্রমে রাধাবল্লভপুর, খড়দহ আর সাঁইবেনার বাসিন্দা কিনা তা বাপু হলপ করে বলতে পারব না। খুব সম্ভবত তাই।

    ‘রাধাবল্লভজী’ মন্দির-প্রতিষ্ঠার পূর্বোক্ত কাহিনীটি রূপেন্দ্রনাথ যাত্রাপথেই সকলকে বিবৃত করতে করতে এসেছেন। কর্তামশাই তাই নিদান হেঁকেছেন—তাঁরা ফ্রেডরিকনগর বা শ্রীরামপুরে রাত্রি যাপন করবেন না। আশ্রয় নেবেন ঐ গ্রামে। রাধাবল্লভপুরে। শোনা গেল, সেই দেবোত্তর সম্পত্তিতে একটি সুবৃহৎ যাত্রীনিবাস আছে। তীর্থযাত্রীরা তিন তিথি সেই ধর্মশালায় আশ্রয় পেতে পারে।

    আরও একটি আকর্ষণ ছিল। স্বীকার করতে সঙ্কোচ হয়—তবু বলব, সাধনভজন করছেন বলে ওঁরা তো নির্লোভ সন্ন্যাসী নন। রবি-বাউলের ঐ পংক্তিটা—‘সেরা রস রসনায়’ তখনো রচিত হয়নি বলে কি তত্ত্বটা তাঁদের না-জানা? এ মন্দিরে বাল্যভোগে একটি বিচিত্র-প্রণালীতে প্রস্তুত ভোগ নিবেদন করা হয়—আহা যেন অমৃত। শোন বলি :

    ‘লোচিকা’-র নাম নিশ্চয় শুনেছ? মিহি গোধূমচূর্ণের ঘৃতপক্ক পিষ্টক। সে তো সে-আমলে অনেকানেক বৈষ্ণব-আখড়ায় ভোগের জন্য প্রস্তুত হত। এ তারই এক রকমফের। পিষ্টকের দুটি পরতের ভিতর পাচক কী-জানি কী-করে প্রবিষ্ট করিয়ে দেয় আর্দ্রক-মৌরী-হিঙ্গু-জীরা-সুরভিত ‘ডাইল’-এর এক অনুপান। ঘৃতভর্জিত এই বিশেষ পিষ্টকটি সে আমলে গৌড়মণ্ডলের মাত্র দুইটি দেবমন্দিরে ভোগার্থে প্রস্তুত হত। প্রথমত মুর্শিদাবাদ কান্দির সিংহ-পরিবার প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে, দ্বিতীয়ত এখানে। দুইটি দেববিগ্রহের একই অভিধা : রাধাবল্লভ। পিষ্টকটি পরবর্তীকালে শুধু বৈষ্ণব বাবাজীদেরই নয়, সাধারণ গৌড়বাসীর কাছেও বড়ই আদরণীয় হয়ে পড়ে। এখন তার বহুল ব্যবহার।

    তোমরা হয়তো তার নামটি শুনে থাকবে : ‘রাধাবল্লভী’!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }