Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাশীধাম – ৭

    ৭

    প্রত্যাবর্তনের পথে কেউ কোন কথা বলেননি। যে-যার চিন্তায় বিভোর ছিলেন। বিদ্যার্ণব যে উদ্দেশ্যে ব্যাসকাশীতে ছুটে গিয়েছিলেন—মহাযোগীর অলৌকিক ক্ষমতার সাহায্যে এই পার্থিব সঙ্কট থেকে উদ্ধারের পথ, তা পাননি; কিন্তু কী যেন একটা ব্যাপার ঘটেছে যা বুদ্ধি দিয়ে না বুঝলেও অনুভূতি দিয়ে বুঝতে পেরেছেন। বাবার কথাগুলো যেন ছিল দ্ব্যর্থবোধক—জীবাত্মা-পরমাত্মার সদুপদেশ—তদুপরি ঐ শঙ্খটার উল্লেখ! কী যেন এক গূঢ় সংকেত ছিল সেই আপাত-অসঙ্গত কথার। সে ব্যাসকূট ভেদ করতে পারেননি; কিন্তু স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন বিদ্যালঙ্কারের চোখে-মুখে যেন অদ্ভুত একটা দীপ্তি। শুধু দীপ্তি নয়। তৃপ্তি। কেন?

    তিনজন যখন গুরুকুল চতুষ্পাঠীতে ফিরে এলেন বেলা তখন দ্বিপ্রহর। আম্রকুঞ্জে রমারঞ্জন বিদ্যার্থীদের নিয়ে অধ্যাপনরত। সে এ সময় তার গুরুদেবের মত আত্ম-সমাহিত হতে পারে না। ত্রিমূর্তিকে উদ্যানের ফটক অতিক্রম করতে দেখে সে যেন ভূত দেখল!

    এতক্ষণ সে মনশ্চক্ষে দেখছিল বৃদ্ধ গুরুদেব তার সহাধ্যায়িনীর হাতখানি ধরে বাদশাহী সড়ক বেয়ে এগিয়ে চলেছেন পুবমুখো। কথা ছিল ওঁরা সড়ক ধরে যাবেন না, পারতপক্ষে বাদশাহী সড়কের সমান্তরাল, মেঠো পথে এগিয়ে যাবেন—পৌঁছাবেন সাসারাম। সেই যেখানে আছে বাদশাহ শের শাহর মারা। সেখানে থেকে রোহিতাশ্ব দুর্গ এক দিনের পথ। এই তিনটি দিন যদি সংবাদটা গোপন রাখা যায় তাহলেই কার্যসিদ্ধি। রোহিতাশ্ব দুর্গে ওঁরা আশ্রয় পেলে আর ভয় নেই। শুধু দেখতে হবে এই তিনদিনের ভিতর রাজাসাহেবের অশ্বারোহী গুপ্তচর আর কোতোয়াল যেন পলাতকদের নাগাল না পায়।

    কিন্তু এ কী! যাত্রার সঙ্গে সঙ্গেই যে ওঁরা ধরা পড়ে গেছেন! না হলে মূর্তিমান আপদের মতো রামলগন কেন ওঁদের দুজনকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে!

    অর্গলবদ্ধ গৃহের নির্জনতায় দ্বারকেশ্বর ডাকলেন, মা! কাছে আয়। তুই কিছু বুঝতে পারলি!

    রূপমঞ্জরী তার পোষা পাখিদের আহ্বার্য বিতরণ করছিল। কাছে ঘনিয়ে এসে বললে, পেরেছি, বাবা!

    —আমারও তাই মনে হল। বাবার কথার মধ্যে স্পষ্টতই কিছু একটা গূঢ় ইঙ্গিত ছিল। তাই নয়?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ।

    —আশ্চর্য! আমি তো কিছুই বুঝতে পারিনি।

    —সেটাই যে স্বাভাবিক, বাবা। কাশীতে এসে আমি আমার পূর্বজীবনের কথা এ পাঁচ বছরে কাউকে যে বলিনি। আপনিও কোনদিন জানতে চাননি…..

    —আজ বলবি?

    —বলব। কিন্তু তার পূর্বে আমার কৌতূহলটা চরিতার্থ করুন। আপনি আমাকে মন্ত্রদীক্ষা দিতে স্বীকৃত হননি। বলেছিলেন, আপনি দীক্ষিত সন্ন্যাসী নন, এটাই বাধা। ঐ সঙ্গে আরও বলেছিলেন, মনে মনে আপনি আমার মন্ত্রগুরুকে নির্বাচন করে রেখেছেন…

    —না মা! নির্বাচন করার কী অধিকার আমার? উনি নিতান্ত খেয়ালী মানুষ। ইদানীং কাউকে দীক্ষা দেননি এটুকু জানি। তবে শিশু ভোলানাথ তো! আমার মনের ইচ্ছাটা নিজে থেকেই পূর্ণ করতে চাইলেন।

    —কিন্তু মাঝপথে থেমেও গেলেন। আপনি কি মনে করেন সবটাই ওঁর শিশুসুলভ চপলতা?

    —না, নিশ্চয় নয়। সময় হলেই তিনি তোকে স্বপ্নাদেশে আহ্বান জানাবেন। মন্ত্রদীক্ষা নিতে ডাকবেন।

    —কিন্তু আজই কেন তা দিলেন না? কর্ণমূলে বীজমন্ত্র? তিনি তো নিজে থেকেই বলেছিলেন, “গঙ্গাস্নান করে আয়।”

    —সচল বিশ্বনাথের লীলা-খেলা অচল বিশ্বনাথের মতোই দুর্বোধ্য। ওঁর সব কথা, সব আচরণ আমরা আমাদের জ্ঞানবুদ্ধি মতে বুঝতে পারি না। তোকে তো স্পষ্টই বললেন—সারস্বত সাধনাতেই আরও অগ্রসর হতে হবে। তাই বললেন না? বাপের ঘাটে পাড়ি জমাবার আগে বেটির ঘাট পার হয়ে আয়?

    বিদ্যালঙ্কার কোন কথা বললেন না। তিনি গভীরভাবে কী-যেন ভাবছেন।

    কী ভাবছিস রে মা?

    একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল বিদ্যালঙ্কারের। বললেন আপনার কাছে কিছু স্বীকারোক্তি করার আছে, বাবা। আমি সজ্ঞানে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছি।

    ভ্রূকুঞ্চন হল বিদ্যার্ণবের। বললেন, পাপের স্বীকৃতি?

    —পাপ? না, পাপ নয়! আমার ব্যক্তিগত স্বার্থ যখন জড়িত নয়, ব্যক্তিগত ফলাকাঙ্ক্ষা-বর্জিত কর্মে পাপ কেন হবে? তবে সজ্ঞানে ‘তথাকথিত’ মিথ্যার আশ্রয়। আমার আশঙ্কা সেই অপরাধেই বাবা আমাকে মন্ত্র দিলেন না। আপনি আমাকে বুঝিয়ে বলুন : উদ্দেশ্য যদি ‘শুভ’ হয়, তাহলে অসত্যের পথে সেই লক্ষ্যে উপনীত হওয়া অন্যায়, অপরাধ, পাপ?

    দ্বারকেশ্বর প্রশান্ত হাসলেন। বললেন, প্রশ্নটাই অবৈধ মা। সত্য-শিব-সুন্দর পরস্পর সম্পৃক্ত! অসত্যের পথে ‘শিব’-এ উপনীত হওয়া যায় না, অপিচ ‘সত্য’-র পথ কখনো অশিবে সমাপ্ত হয় না। এ সংশয় তোর মনে কেন জাগল রে, বেটি?

    —সেদিন ‘কুরুক্ষেত্র তালাও’-এর বিচার সভায় আমি সজ্ঞানে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছি। আমার নৈতিক অধঃপতন ঘটেছে।

    ‘কুরুক্ষেত্র তালাও’-এর বিচার সভায়? কই? না! আমি তো সেখানে উপস্থিত ছিলাম। একবার মাত্র কিছু অসংযম লক্ষ্য হয়েছিল আমার, কিন্তু পরমুহূর্তেই তুই নিজেকে সংযত করেছিলি। সেই যুগাবতার শ্রীরামচন্দ্রের শম্বুক প্রসঙ্গে। সে কথাই কি বলছিস?

    —সে কথাই বলছি, বাবা। কিন্তু আপনি যে অর্থে গ্রহণ করছেন সে-অর্থে নয়। ঐ মুহূর্ত থেকেই আমি মিথ্যাচারী হয়েছিলাম।

    —না! অসংযত মুহূর্তে তুই বলে ফেলেছিলি—‘শম্বুক উপাখ্যানে বাল্মীকি শ্রীরামচন্দ্রের পূত চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করেছেন’—কিন্তু পরমুহূর্তেই তুই নিজেকে সংশোধন করেছিলি।

    —ঐ যেটাকে আপনি সংশোধন বলছেন, সেটাই আমার মিথ্যাভাষণ। উক্তিটা প্রত্যাহার করাই আমার অন্যায়, অসত্যাচরণ! আমার মূল লক্ষ্যটা ছিল শুভ-আমার মতো কোনও হতভাগিনী যদি ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হতে চায়, তাহলে সে যেন আমার মতো বাধার সম্মুখীন না হয়—এটাই ছিল ‘আমার একমাত্র লক্ষ্য। বলুন—সেটা কি শুভপ্রচেষ্টা নয়?

    বিদ্যার্ণব নতনেত্রে কী যেন চিন্তা করছিলেন। হঠাৎ প্রতিপ্রশ্ন করেন, ও কথা থাক। তার পূর্বে আমাকে বল্–ঐ কথাটা কেন বলি? শম্বুক উপাখ্যান প্রসঙ্গে। শ্রীরামচন্দ্র যদিও ঈশ্বরের অবতার তবু তিনি নরদেহধারীরূপে যখন অবতীর্ণ তখন তাঁকে দেশকালের বিধান মেনে চলতে হবে না? শ্রীচৈতন্যদের যেভাবে যবন হরিদাসকে কোল দিয়েছিলেন সেটা ত্রেতা যুগে শ্রীরামচন্দ্রের পক্ষে সম্ভবপর ছিল না।

    বিদ্যালঙ্কার বলেন, দেশকালের বিধান যে নতমস্তকে সর্বত্র মেনে চলে সে কথাসাহিত্য বা কাব্যের অন্যতম চরিত্র, মহাকাব্যের নায়কের কাছে পাঠকের প্রত্যাশা তিনি দেশকালের ঊর্ধ্বে উঠবেন। তা সে যাই হোক, কিন্তু শ্রীরামচন্দ্র মহাকাব্যের নায়িকার প্রতি যে ব্যবহার করলেন তাতে তো তিনি দেশকালের বিধান মেনেও নায়কোচিত পরিচয় রাখতে পারেননি! সেটাকে কীভাবে সমর্থন করবেন?

    —কিসের কথা বলছিস্ তুই?

    —সীতাদেবী মহাকাব্যের সার্থক নায়িকা। তাঁর মন্ত্র “ইহ প্রেত্য চ নারীণাং পতিরেকো গতিঃ সদা।”[১]

    [১. ইহজগতে বা পরলোকে সর্বদা পতিই হচ্ছে নারীর একমাত্র গতি (রা: ২/২৭/৬)।]

    দশানন তার বৈভবে, পরাক্রমে, ত্রিভুবনজয়ী রাজসিক আড়ম্বরে যখন বন্দিনী সীতার হৃদয় জয় করতে চাইছে তখন পতিব্রতা অপরিসীম দার্ঢ্যে তিরস্কার করে বলছেন :

    “যদন্তরং সিংহশৃগালয়োবনে…
    যদন্তরং কাঞ্চনসীসলোহয়োঃ…
    যদন্তরং বায়সবৈনতয়য়োঃ…”[২]

    [২. অরণ্যমধ্যে সিংহ ও শৃগালের যে পার্থক্য, সুবর্ণের সঙ্গে সীসা-লৌহের যে পার্থক্য, মহাগরুড়ের সঙ্গে কাকের যে পার্থক্য তোমার সঙ্গে শ্রীরামচন্দ্রের সেটাই পার্থক্য [রা. ৩/৪7/45-47]।]

    কতখানি মনোবল থাকলে, পাতিব্রত্যের অহঙ্কার কী পরিমাণ অভ্রংলেহী হলে, এ-কথা একটি বন্দিনী তার অপহারককে বলতে পারে; তা সহজেই অনুমেয়! রাবণ ত্রিভুবন জর্ করেছে, কিন্তু সীতার হৃদয় জয় করতে পারল না! সতীর দেহ স্পর্শ করতেও সাহসী হল না! এবার চিন্তা করে দেখুন, বাবা, রাবণ-নিধনের পরে সেই পাতিব্রত্যের মূর্ত প্রতীক সীতাকে প্ৰথম দর্শনে মহাকাব্যের নায়ক কী সম্ভাষণ করলেন—

    “…ন ত্বদর্থং ময়া কৃতঃ।
    প্রখ্যাতস্যাত্মবংশস্য ন্যঙ্গজ্ঞ পরিমার্জতা।।”[১]

    [ভেব না, তোমাকে উদ্ধার করতে আমি এ যুদ্ধজয় করেছি। বাস্তবে নিজের বিখ্যাত বংশের কলঙ্কমোচনের জন্যই আমাকে এ যুদ্ধজয় করতে হয়েছে [রা. ৬/১১৫/১৫-১৬]।]

    কী নিষ্ঠুর মিলন-সম্ভাষণ! কথাটা যদি সত্যই মনে হয়ে থাকে, তাহলেও দীর্ঘ বিরহের পর প্রথম সম্ভাষণেই কি তা উশ্চার্য? ‘মা ব্রুয়াৎ সত্যমপ্ৰিয়ম’ নীতি-বাক্যটাও কি জানা ছিল না শ্রীরামচন্দ্রের?

    বিদ্যার্ণব ক্ষুণ্ণ হন। বলেন, প্রজানুরঞ্জন রাম যে নিরুপায় ছিলেন, মা!

    —না বাবা! তা বললে মানব কেন! দীর্ঘ বিরহের পর এটা সীতা ও রামের প্রথম সাক্ষাৎ! প্রজারা তখনো কিছু বলেনি। বাল্মীকি রামায়ণের বর্ণনায়।

    —কিন্তু তিনি তো অন্তর্যামী, জানতেন এ আপত্তি উঠবেই। সীতাদেবী দীর্ঘ দিন রাবণের অবরোধে বন্দিনী ছিলেন। তাঁকে পুনরায় রাজমহিষী করা চলে না। তাতে রঘুবংশের অপবাদ। বাল্মীকি-সৃষ্ট মহানায়ক তা কীভাবে মেনে নেবেন?

    —উত্তরে তিনটি কথা বলব, বাবা। প্রথম কথা : রাজসিংহাসনের সঙ্গে শ্রীরামচন্দ্রের অচ্ছেদ্যবন্ধন ছিল না, যেমন ছিল সীতার সঙ্গে। তিনি অযোধ্যার সিংহাসনলাভের মোহ ত্যাগ করতে পারলে ভরত তা সুশাসনে রাখতেন। দ্বিতীয় কথা : রঘুবংশের অপবাদের প্রশ্নটা গ্রাহ্য নয়, বাল্মীকি রচিত পরবর্তী শ্লোকে। রামচন্দ্র ধর্মপত্নীকে অনায়াসে বলতে পারলেন, “লক্ষ্ণণে বাথ ভরতে কুরু বুদ্ধিং যথাসুখম।”[২] রাবণের অবরোধে বন্দিনী থাকার অপরাধে যদি সীতা বর্জনীয় হন, তাহলে ভরতকে বা লক্ষ্মণকে—যে লক্ষ্মণ দ্বাদশ বৎসরকাল সীতার চরণ ভিন্ন মুখের দিকে চোখ তুলে তাকায়নি—তাদের স্কন্ধে সীতাকে অধিষ্ঠিত করতে চাইছেন কেন? তৃতীয় কথা: লোকাচার—যে যুক্তি আপনিই দেখিয়েছেন। সমকালীন লোকাচার—বশিষ্ঠর নির্দেশ—বলাৎকৃতা নারী প্রায়শ্চিত্তে শুচি হন। সে-কথা জানা ছিল বলেই রামচন্দ্র সীতাকে বলেছিলেন—লক্ষ্মণকে বিবাহ করতে! তাই শুধু শম্বুক উপাখ্যান, বা বালীবধের জন্যই নয়, রামচন্দ্রকে মহাকাব্যের উপযুক্ত নায়ক বলে স্বীকার করতে পারি না।

    [২. লক্ষ্মণ বা ভরত যাতে তোমার সুখ হয়, তাকেই পতি হিসাবে বরণ কর [রা-৬/১১৫/২২]।]

    বিদ্যার্ণব নিরতিশয় আহত হলেন। শ্রীরামচন্দ্রকে তিনি মহাকাব্যের নায়ক রূপে চিহ্নিত করতেন না, শ্রীজয়দেবের নির্দেশে দশাবতারের অন্যতম অবতার বলেই পূজা করতেন। তবু আদরিণী কন্যার এ চপলতা ক্ষমা করে বলেন, ঠিক আছে মা, ও আলোচনা থাক বরং! বল্ ‘কুরুক্ষেত্র তালাও’-এর বিচারসভায় কোন জাতের মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলি?

    —যা আমি বিশ্বাস করি না, তাই বলেছি। যা বিশ্বাস করি, তা বলিনি। কারণ বিচারকমণ্ডলী তা গ্রহণ করতেন না। আমি লক্ষ্যে উপনীত হতে পারতাম না—পরাজিত হতাম!

    —কী তুই বিশ্বাস করিস? আর কী বিশ্বাস করিস না?

    —আমি বিশ্বাস করি না সেই সব দেবনাগরী হরফে লেখা তথাকথিত শাস্ত্র-বাক্য, যা আমার বিবেক-নির্দেশের পরিপন্থী। আর বিশ্বাস করি সেই মহামানবের অন্তিম উপদেশ: আত্মদীপো ভব, আত্মশরণো ভব, অনন্যশরণো ভব’।[১]

    [১. “নিজেকে প্রদীপশিখা করে তোলো। সেই বিবেকদীপের আলোয় নিজের পথ খুঁজে নিও। অপরের শরণ নিও না”—মৃত্যুশয্যায় শায়িত গৌতমবুদ্ধ শিষ্য আনন্দকে একথা বলেছিলেন। আনন্দ যখন প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনার মহাপরিনির্বাণের পর আমরা কার কাছে যাব পথের সন্ধান জানতে?’ তখন এই তাঁর শেষ বাণী।]

    দ্বারকেশ্বর বললেন, শাক্যসিংহ শ্রীকৃষ্ণের নবম অবতার। ভগবান শঙ্করাচার্য তাঁর স্থান নির্দেশ করেছেন দশাবতার-স্তোত্রে। শ্রীজয়দেবও তা করেছেন।

    —কিন্তু কবি জয়দেব ওটা খুশি মনে করেননি বাবা। না হলে ‘নিন্দসি যজ্ঞবিধেঃ’ লিখেই কেন আর্তনাদ করে উঠবেনঃ ‘অহহ!’

    —‘অহহ’ আর্তনাদ পরবর্তী পংক্তির শেষ শব্দটির উদ্দেশ্যে।[২]

    [২. সুপরিচিত পংক্তিটি “নিন্দসি যজ্ঞবিধেরহহ শ্রুতিজাতম্/সদয়হৃদয় দর্শিত পশুঘাতম্।।”]

    —সম্ভবত তা নয়, বাবা। বৌদ্ধধর্মকে নিঃশেষিত করে, ব্রাহ্মণ্যধর্মকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে আচার্য শঙ্কর গৌতম বুদ্ধকে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন অন্য হেতুতে। কারণ তিনি জানতেন যে, ভারতবর্ষকে যদি আত্মদীপের আলোয় পথ চলতে দেওয়া হয় তাহলে তাঁর পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

    —কী পরিকল্পনা? উত্তর-মীমাংসা সম্ভূত অদ্বৈতবেদান্ত মত?

    —আজ্ঞে না। তাঁর চার মঠের চার নবীন দেবতা! তাঁর দশনামী সম্প্রদায়। তাঁর একদেশদর্শী দর্শন!

    —’একদেশদর্শী দর্শন’! আদি শ্রীমৎ শঙ্করাচার্যের?

    —হ্যাঁ, বাবা। তাই বলেছি আমি। আমাকে বিস্তারিত বলতে দিন। বলুন, কোথায় আমার সমীক্ষার ভ্রান্তি।

    দীর্ঘ বিশ্লেষণ করলেন হটী বিদ্যালঙ্কার। এসব কথা কোনদিন বলেননি গুরুদেবকে। আজ কী জানি কী করে রুদ্ধদ্বারটি উন্মোচিত হয়ে গেল। উত্তেজনায় হয়তো খেয়াল করেননি পিতৃদেবের সঙ্গে গুরুদেবের শিক্ষায় একটা মৌল পার্থক্য আছে। যা এতদিন প্রচ্ছন্ন ছিল। প্রকাশ হলে যে কী জাতের সর্বনাশ হবে বোধ করি তা প্রণিধান করেননি।

    মগ্নচৈতন্য অবস্থায় তিনি যেন স্বগতোক্তি করে চলেছেন—আত্মদীপের আলোকে ব্ৰাহ্মণ্য ধর্মের যে ক্রমাবনতি উপলব্ধি করেছেন তারই এক দীর্ঘ বিশ্লেষণ। নারীত্বের অবমানতা দেখে এককালে তাঁর পিতৃদেব, পরে তিনি নিজে, যেভাবে নিপীড়িত হয়েছেন,ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন :

    উপনিষদের যুগে জ্ঞানপিপাসাই ছিল ঋষিদের একমাত্র প্রেরণা। ঐহিক বিপদ থেকে পরিত্রাণের কথা তাঁরা চিন্তা করেননি; বৈষয়িক উন্নতিবিধানে রচনা করেননি কোন মন্ত্র। তাঁদের তখন স্থিরলক্ষ্য—অন্ধকার থেকে আলোকে পদার্পণ, মৃত্যু থেকে অমৃতে উত্তরণ! বিশুদ্ধ জ্ঞানপিপাসাই একমাত্র লক্ষ্য—জানতে হবে সেই অবাঙ্মানসগোচরকে। প্রণিধান করতে হবে কোন উদ্দেশ্যে সেই ‘একবর্ণা’ ‘বহুধা’ হয়েছেন। ক্রমে উপনিষদের ঋষি উপনীত হলেন সেই সত্যে : এ শুধু অহৈতুকী আনন্দের এক উচ্ছ্বাস! ব্রহ্মের উদ্দেশ্য-কারণত্ব হল : রসের আস্বাদন! ‘রসো বৈ সঃ। রসং হ্যেবায়ং লব্ধানন্দী ভবতি[১]।’ এই আনন্দতত্ত্বকে উপলব্ধি করে উপনিষদের ঋষি অমৃতের পুত্রগণকে সম্বোধন করে বলেছেন : “তোমরা শোন! সেই আদিত্যবর্ণের ওপারের তত্ত্ব আমি জেনেছি।” বললেন : “আনন্দাদ্ধ্যেব খল্বিমানি ভূতানি জায়ন্তে।”[২]

    [১. রসেই তিনি আছেন। ‘রস’-এই তিনি আনন্দ লাভ করেন।
    ২. আনন্দর উৎসমুখে এই জগৎপ্রপঞ্চের উৎপত্তি।]

    এই নিত্যসত্য যেদিন জ্ঞানের আলোকে উপলব্ধি করলেন সেদিন উপনিষদের ঋষি প্রকৃতি-পুরুষের ভেদাভেদকে অস্বীকার করতে পেরেছিলেন। নারী সেই অমৃতময়ী যুগে নরকের দ্বার ছিল না, ছিল পুরুষের অর্ধাঙ্গিনী—পরিপূরক। ব্রহ্মবাদীর পাশাপাশি ঠাঁই পেয়েছিলেন ব্রহ্মবাদিনীর দল। যাজ্ঞবল্ক্যের পাঁজর ঘেঁষে মৈত্রেয়ী!

    তারপরেই এল ষড়দর্শনের যুগ।

    হারিয়ে গেল উপনিষদের সেই অমৃতময়ী মন্ত্রটি—‘আনন্দ’ই আছে, আর কিছু নাই! এল নূতন চিন্তাধারা—মনুষ্যজীবন ঐকান্তিকভাবে ‘দুঃখময়’। কর্মফলবন্ধনের সূত্রে আবদ্ধ মানুষ জন্ম-জন্মান্তর ধরে এই দুঃখময় জীবনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত। পুরুষার্থ হল-ঐ দুঃখ থেকে উত্তরণ! কী ভাবে? ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষের সাধনমার্গে।

    দ্বারকেশ্বর প্রশ্ন করেন, সেটাই কি পুরুষার্থ নয়?

    হাসলেন বিদ্যালঙ্কার। বললেন, সেটাই আমার প্রথম প্রশ্ন বাবা—ঐ শব্দটা : ‘পুরুষার্থ! লিঙ্গে কিছু ভুল হল না কি? মৈত্রেয়ী, গার্গী, লীলাবতী, মদালসার লক্ষ্য কী ছিল? পুরুষার্থ না ‘প্রকৃত্যর্থ’? ঐ শেষোক্ত শব্দটার স্বীকৃতি ব্রাহ্মণ্য দর্শনে নাই! শব্দটা অজ্ঞাত! কিন্তু ‘পুরুষার্থের পরিবর্তে ষড়দর্শন কি ‘মনুষ্যর্থ’ শব্দটা ব্যবহার করতে পারত না? না, সেই ষড়দর্শনের যুগ থেকে ব্রাহ্মণ্য

    ধর্ম এসে গেল পুরুষের কব্জায়! এর পর ‘পুরাণ’ আর ‘সংহিতার’ যুগ। আরও কোণঠাসা হয়ে গেল নারীজাতি। ষড়দর্শনের যুগে নারী-পুরুষের ভেদাভেদটা তত প্রকট নয়। তখন শুধু তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। সাংখ্য আর যোগদর্শন প্রকৃতি-পুরুষ তত্ত্বের উদ্‌গাতা। তাতে নারীকে নরকের দ্বার বলা হয়নি। ন্যায় ও বৈশেষিকের অন্য জাতের চিন্তা : কেন বলা হল ব্যক্তি-আত্মা আর জড়-জগৎ উভয়েই মৌলিক সত্তা। পূর্ব-মীমাংসা বৈদিক কর্মকাণ্ডের দিকে নিবদ্ধদৃষ্টি। উত্তর-মীমাংসা জন্ম দিল এমন এক মতবাদ যা সাধারণ নরনারীর নাগালের বাহিরে : অদ্বৈতবেদান্ত দর্শন!

    কিন্তু ঠিক তার পরের ধাপে এসে উপনীত হলেন ষড়দর্শনের ভাষ্যকারের দল। উপনিষদ বলেছিলেন : সৃষ্টির মূলে আছে: ‘আনন্দ’! ষড়দর্শন বলেছিলেন, না! সৃষ্টির মূলে আছে কর্মফলবন্ধনের ‘দুঃখ’। এ সব তাত্ত্বিক কচকচি। হিন্দু ভারতের সমাজে এর কোন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু এবার যাঁরা এসে ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির হাল ধরলেন, তাঁরা তাত্ত্বিক কচকচিতেই তাদের কর্মকাণ্ড সীমিত করলেন না। দিতে শুরু করলেন সামাজিক বিধান : কর্তব্য আর অকর্তব্যের তালিকা। স্বর্গ লাভের সরল প্রকরণ আর নরকবাসের শাস্তি। যদিচ ‘নরক’ শব্দটা বা ঐ ধারণাটা বেদ-এ কুত্রাপি নাই! এল নানান ‘পুরাণ’ আর ‘সংহিতা’। এই চিন্তাধারার প্রভূত প্রভাব পড়ল সাধারণ নরনারীর উপর। শুরু হল, দ্বিসহস্রবর্ষব্যাপী ব্রাহ্মণ্যধর্মের অবক্ষয়।

    স্থির হল—ধর্ম শুধুমাত্র থাকবে পুরুষের কব্জায়।

    —নারীর নয়—নারী হচ্ছে: নরকের দ্বার!

    আশ্চর্য! পরম আশ্চর্য! এই আকাশজোড়া মিথ্যাটাকে সমগ্র ভারতবর্ষ বিনা প্রতিবাদে মেনে নিল! এমনকি, স্বয়ং আদি শঙ্করাচার্য! তাতেই তাঁকে বলেছি একদেশদর্শী!

    দ্বারকেশ্বর বিদ্যার্ণব ইন্দ্রিয়সংযমে অভ্যস্ত। তবু তাঁর নাসারন্ধ্র স্ফুরিত হয়ে উঠল। বললেন, শব্দটা দ্বিতীয়বার উচ্চারণ করলে বিদ্যালঙ্কার—কিন্তু কোন উদাহরণ দিয়ে তা প্রতিষ্ঠা করনি এখনো।

    মা নয়, বিদ্যালঙ্কার! সেটা খেয়াল করেছেন কিনা বোঝা গেল না, কিন্তু প্রত্যুত্তরের সময় তাঁর সম্বোধনটাও পরিবর্তিত হয়ে গেল। বললেন, গুরুদেব! আচার্য শঙ্কর সারাজীবন শুধু পুরুষকেই নির্দেশ দিয়ে গেছেন। গৃহী পুরুষ, সন্ন্যাসী পুরুষ। হেতু?

    নারী হচ্ছে নরকের দ্বার!

    ‘কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ’-র পরিপূরক ‘কা তব ভর্তা’র কথা বলতে তাই তিনি ভুলেছেন। ভর্তাই যে নারীর শেষ ‘মোক্ষ’! তাই তাঁর অনুশাসনে নারী হয় উপেক্ষিত, নয়. নিগৃহীত জ্যোষীমঠ-সংক্রান্ত তাঁর ‘মঠানুশাসন অনুজ্ঞা’য় লক্ষ্য করে দেখুন, গুরুদেব, তিনি ভবিষ্যৎ শঙ্করাচার্যদের—তাঁর চারধামের মঠাধীশদের বলেছেন ‘শুচিতাযুক্ত, জিতেন্দ্রিয়, বেদ-বেদাঙ্গাদি শাস্ত্র বিশারদ’ হতে হবে। বেশ কথা! কিন্তু তাঁরা এ ধরাধামে আবির্ভূত হবেন কোন অলৌকিক প্রক্রিয়ায়? তা তো বলে গেলেন না? ঐ ভবিষ্যৎ শঙ্করাচার্যের পিতৃদেবেরা যদি ‘নরকের দ্বারস্থ না হয়—যে ‘নরক’ শব্দটাই বেদ-এ অনুক্ত—তাহলে কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন ধারায় প্রবাহিত হবে তাঁর চতুর্থামের ধর্মপ্রচারের আয়োজন? আপনি আমাকে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিন গুরুদেব—কোথায় আমার ভ্রান্তি। এটা কি একদেশদর্শিতা নয়?

    দ্বারকেশ্বর নিরুত্তর। মেদিনীনিবদ্ধদৃষ্টিতে চিন্তামগ্ন।

    ক্ষুব্ধ কণ্ঠে হটী বিদ্যালঙ্কার বলে ওঠেন, অথচ আপনারা বলেন—আদি শঙ্করাচার্য পূর্ণ ভগবান! গৌতম বুদ্ধ নবম অবতারমাত্র! তুলনা করে দেখুন—শাক্যসিংহ পরমপুরুষ, কিন্তু প্রকৃতির ঋণ তিনি কড়ায় গণ্ডায় পরিশোধ করে দিয়ে এসেছেন রাহুলমাতার মাতৃত্বধর্মকে সার্থক করে! তাঁর সন্ন্যাসজীবনও ছিল স্ত্রী-সংসর্গবর্জিত। কিন্তু তার হেতু এ নয় যে, নারী নরকের দ্বার! তিনি জিতেন্দ্রিয়, কিন্তু ‘ন চ পশ্যেৎ মুখং স্ত্রীণাং ন তিষ্ঠৎ তৎসমীপতঃ’—নারীত্বের অবমাননাকর এই নির্দেশ তিনি মানতেন না। সন্ন্যাস জীবনে তিনি তাঁর গর্ভধারিণী জননীর সঙ্গে মুখোমুখি বসে সদ্ধর্মের ব্যাখ্যা করেছেন, প্রিয়শিষ্য ‘যশ’-এর সহধর্মিণীকে ধর্মোপদেশ দিয়েছেন। কী অপরিসীম মহিমা তাঁর! বৈশালীরাজ ও নগর শ্রেষ্ঠীদের আমন্ত্রণ উপেক্ষা করে বারবনিতা আম্রপালীকে বলেছেন, “তোমার সর্বতোভদ্রে একরাত্রের জন্য আমায় আশ্রয় দেবে, মা?’ আম্রপালীর পতিতালয়ে নির্দ্বিধায় রাত্রিবাস করেছেন মহাকারুণিক। শেষ জীবনে সন্ন্যাসিনীদের পৃথক সঙ্ঘারাম প্রতিষ্ঠার অনুমতিও দিয়েছিলেন। তাই ‘থেরগাথার’ পাশাপাশি রচিত হয়েছে ‘থেরীগাথা! যার উদাহরণ, ব্যতিক্রম হিসাবেও, নেই, দ্বিসহস্রবৎসরব্যাপী এই ব্রাহ্মণ্যধর্মে! বলুন, গুরুদেব, বৌদ্ধধর্মের এই সমদর্শনের অনুরূপ কোন কিছু কি আছে ব্রাহ্মণ্যধর্মের পুরাণে আর সংহিতায়?

    অষ্টাদশ পুরাণের ভিতর একমাত্র মার্কণ্ডেয় পুরাণে পেয়েছি মদালসার কাহিনী—মদালসা অলকের উপাখ্যান। আর কোনও ব্রহ্মবাদিনীর সন্ধান পাইনি। সর্বত্র নারীর ধর্ম : স্বামীর চরণ সেবা, সন্তানের উৎপাদন! সংহিতাগুলিতে আরও অবক্ষয়ী চিন্তাধারা—বিষ্ণু সংহিতার ভার্যানিরূপণ, স্ত্রীধর্ম, দশবিধ সংস্কার নারীর পক্ষে অবমাননাকর। গার্গী-মৈত্রেয়ীর কোন উত্তরসূরিণী পুরাণ বা সংহিতা রচনা করেননি। পুরুষেরাই শুধু লিখে গেছেন,—ভর্তানিরূপণ, পুরুষধর্ম-এর বিবরণ! পরাশর সংহিতা ‘অগম্যাগমন’-এর প্রায়শ্চিত্ত-বিধান বিস্তারিত ভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন—কামের বশবর্তী হয়ে নিষিদ্ধ সম্পর্কের নারীতে উপগত হলে কী কী প্রায়শ্চিত্ত! আশ্চর্য! পরাশর ঋষির একবারও মনে পড়ল না—সেই হতভাগিনীটার কথা! যে ঐ পুরুষের পাশববৃত্তির শিকার হয়েছে। সেই ধর্ষিতা নারী কী ভাবে সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে সে-কথা লিপিবদ্ধ করতে তিনি বেমালুম ভুলে গেছেন! শ্রীমদ্ভগবৎগীতায় শ্রীকৃষ্ণ বললেন, শোন অর্জুন! ‘স্ত্রীষু দুষ্টায়ু’ হলে ‘বর্ণসঙ্কর’ জন্মগ্রহণ করে। শুনে অর্জুন বললেন, ‘বটেই তো! তাঁর মনে এ প্রশ্ন আদৌ জাগ্রত হল না যে, এক লক্ষ দুষ্টা স্ত্রীলোককে এক কল্পকাল ঐ জরাসন্ধের কারাগারে বন্দী করে রাখলেও তারা সম্মিলিতভাবে একটি মাত্রও ‘বর্ণসঙ্কর’কে জন্ম দিতে সক্ষমা হবে না! এ প্রশ্ন কেন জাগল না অর্জুনের মনে? কারণ তিনি ঐ একদেশদর্শী ব্রাহ্মণ্য ধর্মের চিন্তাধারায় অন্ধ। মানতে রাজি নন যে, পাপ একা নারী করতে পারে না—তার অধিকার শুধু অর্ধেক পাপের। বাকিটা পুরুষের! গুরুদেব! আমার মনে হয়েছে—এই একদেশদর্শিতার ফলেই ব্রাহ্মণ্য ধর্মের এই অবক্ষয়ীরূপ! হিন্দু ভারত বারে বারে পদানত হয়েছে যবনের, মুসলমানের। অথচ এসব কথা সেদিন আমি বলিনি—সেই কুরুক্ষেত্র তালাও এর বিচার সভায়। শ্রীরামচন্দ্রের শম্বুকবধ উপাখ্যান উত্থাপন করেই সংযত হয়েছিলাম! বলিনি এজন্য যে, আমার বিচারকেরা এই সত্য প্রণিধান করতে পারতেন না। তাঁরা যা বোঝেন, যা, মানেন, সেইসব পুরাণ আর সংহিতা থেকে ক্রমাগত উদ্ধৃতি শুনিয়ে গেছি। আমি অসত্যের পথে জয়লাভ করেছি।

    দীর্ঘ বিশ্লেষণ করে হটী বিদ্যালঙ্কার নীরব হলেন। ক্ষুব্ধ দ্বারকেশ্বর বলে ওঠেন, তাহলে তুমি কেন তৈলঙ্গস্বামীর কাছে দীক্ষা নেবার জন্য অত উদগ্রীব হয়েছিলে? নাথপন্থী বৌদ্ধ গুরুর তো অভাব নেই?

    —একই হেতুতে গুরুদেব! পুরাণ আর সংহিতা-প্রণেতার দল যেভাবে উপনিষদের মহাসত্যকে হত্যা করেছেন, ঠিক সেভাবেই গৌতম বুদ্ধের বিনয়পিটক আজ কলুষিত হয়েছে তাঁর অধস্তন শিষ্য-শিষ্যাদের দ্বারা। কী প্রভেদ আজ এই পঞ্চ-মকার আশ্রয়ী শক্তি-উপাসকদের সঙ্গে ঐ বজ্রযানী বৌদ্ধ-তান্ত্রিকের ব্যভিচারের? সর্বত্রই তো ধর্মের নামে ইন্দ্রিয়জ কামনাবাসনার তির্যক তৃপ্তির আয়োজন! বিবেকের নির্দেশে কেউ চলে না। ব্রাহ্মণ্যধর্ম যেমন অযৌক্তিকভাবে বিশ্বাস করে—বেদ অপৌরুষেয়, অভ্রান্ত…

    জ্যামুক্ত ধনুকের মতো আসন ত্যাগ করে উঠে দাঁড়ালেন মহামহোপাধ্যায় দ্বারকেশ্বর বিদ্যার্ণব। আর সংযমের আড়াল রইল না। বলেন, কী? কী বললে?

    হটী বিদ্যালঙ্কারও দাঁড়িয়ে পড়েছেন। যুক্তকরে মেদিনীনিবদ্ধ দৃষ্টিতে তিনি নিস্পন্দ।

    উদ্‌গীরণোন্মুখ আগ্নেয়গিরির মতো বৃদ্ধের সারা দেহ তখন থরথর করে কাঁপছে। বলেন, এতদূর তোমার ঔদ্ধত্য! চতুর্বেদের অপৌরুষেয়তা, অভ্রান্ততা বিষয়ে তোমার অন্তরে সংশয় জেগেছে?

    এবারেও প্রত্যুত্তর করলেন না। নিবাতনিষ্কম্প দীপ-শিখার মতো যুক্তকরে মুদিত নেত্রে শাস্তির জন্য প্রতীক্ষা করছেন বিদ্যালঙ্কার।

    —নীরব থেক না বিদ্যালঙ্কার! প্রশ্নের জবাব দাও!

    শান্ত ধীর কণ্ঠে এবার বলেন, চতুর্বেদের মূল্যায়নও তো করতে হবে আত্মদীপের আলোকে…

    —ব্যস্! থাক! আর কোন কথা নয়!

    দুরন্ত ক্রোধে পরমুহূর্তেই কক্ষত্যাগ করে গেলেন। নিজের একান্ত সাধনকক্ষে প্রবেশ করে ভিতর থেকে অর্গলবদ্ধ করে দিলেন দ্বার। সমস্ত দিন বার হলেন না কক্ষ থেকে। উপবাসে অতিবাহিত হল একটি বেদনাদায়ক বিচ্ছেদের দিন। না গুরু, না শিষ্যা কেউই পরস্পরের দিকে এগিয়ে এলেন না।

    এতবড় আঘাত দ্বারকেশ্বর তাঁর দীর্ঘজীবনে কখনো পাননি। পথের প্রান্তে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন শেষজীবনের একটি অবলম্বন। কন্যা-স্নেহে তাকে মানুষ করে তুলছিলেন। অধীত বিদ্যা তিল-তিল করে দান করে যাচ্ছিলেন ঐ প্রিয় শিষ্যাকে। আশা ছিল—এই সাত-পুরুষের গুরুকুল চতুষ্পাঠীর মর্যাদা সে রক্ষা করবে! হল না! কিছুই হল না! রূপমঞ্জরীর পূর্ব জীবন-কথাটাও শোনা হল না! কোন কৌতূহলই নেই আর! শেষ জীবনে এ কী জড়ভরত হয়ে পড়ছিলেন তিনি! স্নেহের বন্ধনে ইষ্ট-চিন্তাও যেন ব্যাহত হচ্ছিল ইদানীং। অন্তরে পেয়েছেন সুদূরের আহ্বান! রাত্রি প্রভাতেই সব কিছু ছেড়েছুড়ে তিনি যাত্রা করবেন!

    বেদের অপৌরুষেয়তা…! না! আর চিন্তা করতে পারছেন না! মা মা ব্রহ্ম নিরাকুৰ্যাং!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }