Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাশীধাম – ৮

    ৮

    পর দিন সকালে দেখা করতে এল রমারঞ্জন। নিবেদন করল একটি বেদনাদায়ক সংবাদ। যা রুদ্ধদ্বারকক্ষ থেকে রূপমঞ্জরী টের পায়নি।

    গুরুদেব শেষরাত্রে একাকী একবস্ত্রে গৃহত্যাগ করেছেন। উদ্দেশ্য : হরিদ্বারে অমৃত-কুম্ভযোগে স্নান। আগামী বৈশাখে, মেষরাশিস্থে ভাস্করে গঙ্গাদ্বারে পূর্ণকুন্তযোগ :

    “পদ্মিনীনায়কে মেষে কুম্ভরাশিগতে গুরৌ।
    গঙ্গাদ্বারে ভবেৎ যোগঃ কুম্ভনামা তদোত্তমঃ।।”

    সূর্য যখন বিষুবসংক্রান্তিতে, আর দেব-পুরোহিত বৃহস্পতি ‘ঘট’-এ, অর্থাৎ কুম্ভরাশিতে, তখনই হরিদ্বারে এই অমৃতকুম্ভযোগ।

    বোধকরি প্রিয়শিষ্যার কণ্ঠে উচ্চারিত ঐ ঘৃণিত বাক্যটি শ্রবণের পাপ—যা নাকি গোহত্যা-ব্রহ্মহত্যার সমতুল্য—তা থেকে স্খালনের এ ছাড়া গত্যন্তর নাই!

    একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল বিদ্যালঙ্কারের। হাত দুটি জোড় করে উদ্দেশ্যে প্রণাম করলেন। এই ভাল হল! এই ভাল হল!

    অপাপবিদ্ধ ঐ মহাজ্ঞানীটি মুক্তি পেয়েছেন। এক পক্ষকালের মধ্যেই অনিবার্যভাবে নেমে আসবে প্রলয়। এই পবিত্র গুরুকুল মহাবিদ্যালয়ের একটি বিদ্যার্থীকে ওরা ছিনিয়ে নিয়ে যাবে; পৈশাচিক উল্লাসে এ আশ্রমের উপর নিক্ষেপ করবে পূতিগন্ধময় ক্লেদাক্ত পুরীষ! উপায় নেই! সে মহামৃত্যু সহ্য করতে হবে হটী বিদ্যালঙ্কারকে! কাশীধামের সমগ্র পণ্ডিত সমাজ নতমস্তকে সহ্য করতে বাধ্য হবে এই নারকীয় অত্যাচার!

    ঈশ্বর করুণাময়! তখন দ্বারকেশ্বর গঙ্গাদ্বারে অমৃতকুম্ভযোগে স্নানরত।

    রমারঞ্জন ইতস্তত করল না। জানতে চাইল, দিদি! এ কথা কি সত্য যে, আপনি গুরুদেবকে বলেছেন বেদের অভ্রান্ততা বিষয়ে আপনার সংশয় আছে?

    বিদ্যালঙ্কার ম্লান হেসে জবাবে বললেন, না ভাই, সে-কথা আমি বলিনি। আমি শুধু বলতে চেয়েছিলাম—বৈদিক অনুশাসনের যে রূপ আমরা আজ দেখতে পাই তার অভ্রান্ততা নিজ-নিজ বিবেকের কষ্টিপাথরে যাচাই করে নিতে হবে।

    —কেন? এ সংশয় কেন জাগল আপনার অন্তরে? বেদ যে অভ্রান্ত—এ তো স্বতঃসিদ্ধ!

    —জবাব দিচ্ছি। কিন্তু তার আগে আমার একটি প্রতিপ্রশ্নের জবাব দাও তো ভাই—তোমার-আমার গুরুদেব সজ্ঞানে মিথ্যাভাষণ করেন না, এটা তোমার কাছে একটা স্বতঃসিদ্ধান্ত!

    —নিশ্চয়! তিনি কখনো অনৃতভাষণ করেন না। কিন্তু সে-কথা কেন?

    —এবার আমাকে বুঝিয়ে বল দেখি, তা সত্ত্বেও তুমি কেন আমার কাছে ঐ প্রশ্নটা করলে?

    রমারঞ্জন এত দুঃখেও হেসে ফেলে। বলে, দুটি স্বতঃসিদ্ধান্তের দ্বন্দ্ব উপস্থিত হয়েছিল যে, দিদি! আপনি বেদের অভ্রান্ততা বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন—এই তথ্যটাও যে মেনে নিতে পারছিলাম না।

    —তবেই দেখ! প্রতিমুহূর্তে আমরা আমাদের পূর্বকৃত ধ্যানধারণার সত্যতা যাচাই করতে চাই। নিজের বুদ্ধি-বিবেচনায় বিচার করে দেখতে চাই। তারপর বিবেকের নির্দেশে সিদ্ধান্তে আসি। ধর্মের পথ যে ‘ক্ষুরস্য ধারা’! আত্মদীপের আলোক ব্যতিরেকে প্রতিটি পদক্ষেপে পদচ্যুতির আশঙ্কা। তুমি যে প্রশ্নটা করেছ তারও ঐ একই উত্তর। ভেবে দেখ, বেদ-এর মন্ত্রগুলি আমরা মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষির কণ্ঠে উচ্চারিত হতে শুনিনি। তার যে লিখিত রূপ দেখছি তার সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে আছে অযুত-নিযুত অনুকারকের হস্তাক্ষর। তাঁরা মহাপণ্ডিত, কিন্তু অপৌরুষেয় নন, তাঁরা মরমানব। অনুকরণের সময় তালপাতার পুঁথিতে ভুলভ্রান্তি এসে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত অনেক বৈদিক শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। পরবর্তীকালের ভাষ্যকারেরা—এমনকি আদি শঙ্করাচার্য তার যে অর্থ বলেছেন তা স্বীকার করার পূর্বে যাচাই করতে হবে না? ধর একটা বাঙলা শব্দ : ‘অপর্যাপ্ত’। বৈয়াকরণিক হয়তো বললেন তার অর্থ ‘যা পর্যাপ্ত নয়’! অথচ ঠিক বিপরীত অর্থবোধকভাবে কি শব্দটির প্রয়োগ হয় না? অর্থাৎ যা ‘পর্যাপ্তের অতিরিক্ত’! কোন অর্থটা গ্রহণ করব? কে বলবে? তোমার-আমার বিবেক ভিন্ন? ‘বেদ অভ্রান্ত’ কি না এই প্রশ্নের সঙ্গে যে ঐ প্রশ্নটির সম্পৃক্ত—বেদ-এর কোন্ পাঠ, কোন্ ব্যাখ্যা, কোন্ ভাষ্য?

    রমারঞ্জন সক্ষেদে বললে, গুরুদেব বোধহয় এসব কথা আপনার সঙ্গে আলোচনাই করেননি, তাই নয়?

    —হ্যাঁ, তাই। আমরা সচরাচর সংস্কারের দ্বারা পরিচালিত হই। আমার মুখে ঐ কথাটা শ্রবণমাত্র তিনি এতদূর মর্মাহত হয়ে পড়লেন যে, তীর্থযাত্রার পূর্বে আমার প্রণামটাও নিয়ে গেলেন না। দুর্ভাগ্য আমার!

    রমারঞ্জন প্রশ্ন করে, আপনি কি গুরুদেবকে এ-কথাও বলেছিলেন যে, হিন্দুধর্মে নারীর মর্যাদা স্বীকৃত হয়নি?

    আবার হাসলেন বিদ্যালঙ্কার। বললেন, এই দেখ, কীভাবে শ্রুতিনির্ভর তথ্য বিকৃত হয়ে যায়। একটি রাত মাত্র কেটেছে, অথচ এর ভিতরেই আমার বক্তব্যটা বিকৃত হয়ে গেছে। আমি ওকথা আদৌ বলিনি। বলেছি, উপনিষদ্-উত্তর পুরাণ ও সংহিতার যুগ থেকে ব্রাহ্মণ্যধর্মে নারীর মর্যাদা ক্রমঅবক্ষয়ের পথে চলেছে। গৌতম বুদ্ধ—যিনি হিন্দুধর্মের একজন মহাপুরুষ, ব্রাহ্মণ্যধর্মের নয়—তিনি কীভাবে বারবনিতা মাতা আম্রপালীর মর্যাদা মিটিয়ে দিয়েছিলেন সে-কথাও আমি সবিস্তারে বলেছিলাম।

    —কিন্তু আপনার কি মনে পড়ে না মহাভারতের সেই খণ্ড-কাহিনীটি? গৃহস্থবধূর কাছে একজন তত্ত্বজ্ঞানী সন্ন্যাসীর অপদস্থ হওয়ার কথা?

    —নারীর কাছে পুরুষের পরাজয়? কোন খণ্ডকাহিনীর উল্লেখ করছ তুমি?

    রমারঞ্জন কাহিনীটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করতে থাকে। একটু পরেই সে-কথা স্মরণ হল হটী বিদ্যালঙ্কারের। কিন্তু তিনি রমারঞ্জনের উচ্ছ্বাসকে মাঝপথে থামিয়ে দিলেন না। মহাভারতের সেই খণ্ড—কাহিনীটি এই রকম :

    একজন সন্ন্যাসী দীর্ঘদিন এক নির্জন অরণ্যে তপস্যায় নিরত ছিলেন। তারপর একদিন একটি ক্রৌঞ্চবকের উপদ্রবে হঠাৎ তাঁর ধ্যানভঙ্গ হল। ওঁর মাথার উপর দিয়ে উড়বার সময় পাখিটি পুরীষত্যাগ করে এবং ঘটনাক্রমে তা পতিত হয় ধ্যানরত সন্ন্যাসীর মস্তকে। সন্ন্যাসী ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে ঊর্ধ্বে দৃকপাত করা-মাত্র পাখিটি ভস্ম হয়ে গেল। সন্ন্যাসী প্রণিধান করলেন—তিনি অলৌলিক বিভূতি লাভ করেছেন। অর্থাৎ কেউ তাঁর বিরক্তি উৎপাদন করলে দৃকপাতে তাকে ভস্ম করে দেবার ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন।! ঐ ঘটনার কিছুদিন পরে এক গৃহস্থ বাড়িতে যখন তিনি ভিক্ষা চেয়েছেন তখন গৃহস্বামিনীর আসতে কিছু দেরী হয়েছিল। ক্ষুদ্ধ সন্ন্যাসী সেই মহিলাটিকে বললেন, কী এমন রাজকার্য করছিলে যে, সন্ন্যাসীকে রুদ্ধদ্বারের সম্মুখে অপেক্ষা করতে হয়?

    গৃহিণী শান্তস্বরে বললেন, রাজকার্য নয়, বাবা, আমি স্বামী-পুত্রকে আহার্য পরিবেশন করছিলাম।

    সন্ন্যাসী বলেন, এতদূর স্পর্ধা তোমার! অভুক্তা সন্ন্যাসীর চেয়ে স্বামীপুত্ৰই বড় হল?

    গৃহস্থ বধূটি শান্তস্বরে জবাব দিলেন, সন্ন্যাসীঠাকুর। আপনি আমার দিকে ওভাবে তাকাবেন না। আমি ক্রৌঞ্চবর নইঞ ভিক্ষা গ্রহণ করে নিজ পথে গমন করুন। আমার সংসারের অনেক কাজ বাকি পড়ে আছে।

    কাহিনীটি জানা ছিল। তবু ধৈর্য ধরে সবটা শুনলাম। তারপর বললেন, এই খণ্ডকাহিনীটি কিন্তু আমার যুক্তিকেই প্রতিষ্ঠা করছে। অর্থাৎ মহিলাটির মুক্তি—স্বামীপুত্রের সেবার মাধ্যমেই। সেখানে ঐ বেয়াড়া প্রশ্নটা পেশ না করে বসে : ‘যেনাহম্ নামৃতাস্যাম তেনাহম্ কিম কুর্যাম?’ কিন্তু ওটি তো খণ্ডকাহিনীমাত্র—মহাভারতের মূল কাহিনী অনুসারে নারী তার ভর্তার অস্থাবর সম্পত্তিমাত্র। স্বামী তাকে পণ রেখে পাশা খেলতে পারেন; পরাস্ত হলে সেই কুলনারীকে সর্বসমক্ষে বিবস্ত্রা করায়। কোন ধর্মীয় আপত্তি নেই। শুধু মহাভারত নয় রমা—সর্বত্র দেখতে পাবে নারীর পৃথক সত্তা, তার আত্মমর্যাদা উপেক্ষিত। সে পুরুষের খেলার পুতুলমাত্র! ধর বৈষ্ণব ভক্তমাল গ্রন্থ বিল্বমঙ্গল। কাহিনীর নায়ক নদীতটে অহল্যা নাম্নী একটি রূপবতী পুরললনাকে দেখে মুগ্ধ হলেন। স্নানান্তে ঐ মহিলা যখন স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করছেন তখন দেখা গেল কাহিনীর নায়ক তাকে অনুসরণ করছেন। তিনি দেখলেন সেই সধবা মহিলাটি একজন বণিকের ধর্মপত্নী। কাহিনী অনুসারে ঐ ঘটনার পূর্বেই নায়ক বিল্বমঙ্গল সোমগিরির নিকট দীক্ষা নিয়েছেন। সেই দীক্ষিত নায়ক বণিকগৃহে আতিথ্য গ্রহণ করলেন এবং বণিক পত্নীকে একরাত্রের জন্য প্রার্থনা করলেন। কিমাশ্চর্যমতঃপরম! স্ত্রীর প্রতি কর্তব্যের চেয়ে বড় হয়ে উঠল কামুক অতিথির প্রতি অতিথি-বৎসলতা! তিনি সে রাত্রে স্ত্রীকে পাঠিয়ে দিলেন, বিল্বমঙ্গলের শয়নকক্ষে! বিচার করে দেখ রমা, কাহিনীকারের একমাত্র উদ্দেশ্য ভক্তির সঞ্চার করা—‘বিল্বমঙ্গল’ একান্ত ভাবে ভক্তিমূলক গ্রন্থ। অথচ কেউ কখনো সেই অহল্যা নামে মেয়েটির দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনাটা যাচাই করল না! রাত্রিপ্রভাতে ধর্ষিতা সতীসাধ্বী কী করেছিল? যে যদি আত্মঘাতিনী না হয়ে থাকে তাহলে দ্বিচারিণী হওয়ার অপরাধে বণিক কি তাকে ত্যাগ করেছিল? কাহিনীকার সে কথা বলতে ভুলেছেন। হিন্দুশাস্ত্রে—পুরাণে-সংহিতায়-কাব্যে ক্রমাগত এই একই দৃষ্টিভঙ্গি—পুনরুক্তি দোষে ক্লান্তিকর! পরশুরাম পিতৃআজ্ঞায় নির্দ্বিধায় কুঠারঘাতে জননীর শিরেশ্ছেদ করলেন! কী যুক্তি? তাঁর মাতা তো পিতার অস্থাবর সম্পত্তিমাত্র! এবং সেই পরশুরাম আমাদের দশাবতারের একজন। লক্ষহীরা ব্যধিগ্রস্ত স্বামীকে পিঠে করে বারবনিতার গৃহে পৌঁছে দিচ্ছে—কেন?’[১] সেটাই যে তার সতীত্ব ধর্মের পরিচয়। কেন ‘অগ্নিপরীক্ষা’ দিতে হল সীতাকে? যদি তিনি রাবণকর্তৃক ধর্ষিতা হয়ে থাকেন, তাহলে সেটা কি তাঁর অপরাধ? আদিকবি সে প্রশ্ন আদৌ উত্থাপন করেননি। বরং দেখিয়েছেন, সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পরেও শ্রীরামচন্দ্র সীতাকে বর্জন করছেন। কেন? না, তিনি প্রজানুরঞ্জন। শ্রীরামচন্দ্রের একবারও মনে হল না রাজা-প্রজার বন্ধনটা অচ্ছেদ্য নয়, স্বামীস্ত্রীর মতো। রাজ্য ত্যাগ করলে ভরত বা লক্ষ্মণ প্রজাদের দায়িত্ব নিতে পারত—কিন্তু সীতার একমাত্র আশ্রয় দ্বিধাবিভক্ত ধরণী।

    [১. তোমাদের নিশ্চয় মনে আছে রবিঠাকুরের কলম বার করে মৃণাল তার স্বামীকে এই প্রসঙ্গে লিখেছিল “কুষ্ঠরোগীকে কোলে করে তার স্ত্রী বেশ্যার বাড়িতে নিজে পৌঁছে দিয়েছে, সতীসাধ্বীর সেই দৃষ্টান্ত তোমাদের মনে জাগছিল; জগতের মধ্যে অন্যতম কাপুরুষতার এই গল্পটা প্রচার করে আসতে তোমাদের পুরুষের মনে আজ পর্যন্ত একটুও সংকোচ বোধ হয়নি।” (স্ত্রীর পত্র)]

    না রমারঞ্জন—আমার সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত : নারীজাতির প্রতি এই অশ্রদ্ধা, অপমানই হিন্দু-সমাজের, হিন্দুসংস্কৃতির এই অধঃপতনের হেতু। বারে বারে তাই সে পদানত হয়েছে বহিরাগত বিধর্মীদের কাছে।

    রমারঞ্জন এ অভিযোগের জবাব খুঁজে পায়নি।

    .

    সেরাত্রে বড় অদ্ভুত একটা স্বপ্নাদেশ পেলেন হটী বিদ্যালঙ্কার।

    স্বপ্ন? না। স্বপ্ন কেন হবে? তখন তো তিনি জাগ্রত, সমংকায়শিরোগ্রীব ভঙ্গিতে। পদ্মাসনে। পূজার ঘরে।

    বিদ্যালঙ্কার প্রত্যহ রাত্রে ধ্যানে বসতেন। এ বিদ্যাও তাঁকে শিখিয়েছেন তাঁর পিতৃদেব। কৈশোর অতিক্রমণে। বিধবা হওয়ার পরে। সহমরণের চিতা থেকে ফিরে আসার পরে। শৈশবকাল থেকেই বাবামশাইকে দেখেছেন ধ্যান করতে। জননীকে হারিয়েছেন জন্মলগ্নে। বাবামশাই ছিলেন ওঁর বাবা ও মা। বাবার দেখাদেখি উনিও শৈশবে চুপচাপ বসে থাকতেন পিতৃদেবের অদূরে—আর একটি কুশাসনের উপর। একটু বড় হয়ে জানতে চেয়েছিলেন—ধ্যানে আপনি কার কথা চিন্তা করেন বাবা?

    রূপেন্দ্রনাথ বলেছিলেন, আমি মন্ত্র নিইনি রে হটী। আমার কোনও ইষ্ট দেবদেবী নাই। আমি ‘ভূমা’কে ধ্যান করি।

    অর্থগ্রহণ হয়নি সে বয়সে। পরে, বাবামশাই ওঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। শিখিয়ে দিয়েছিলেন। সে আজ প্রায় দুই দশক আগের কথা। আজ তাঁরও কোনও ইষ্ট দেবদেবী নাই। বীজমন্ত্র পাননি। কিন্তু এখন তিনি বুঝতে পারেন, নঙর্থক ধ্যান কীভাবে ইতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। ধ্যানে উনি ইন্দ্রিয়গ্রামকে সংযত করেন, সংহত করেন। জাগতিক যাবতীয় চিন্তাকে বিদূরিত করে নঙর্থক জগতে প্রবিষ্ট হবার চেষ্টা করেন। ‘না’-য়ের জগতে। এ ঘর নাই। এ দেহ নাই। এ জগৎ নাই—আছেন জগত-প্রপঞ্চের সেই আদিভূত কারণ!

    প্রথমে দীপশিখার উপর মনঃসংযোগ করতেন। ইদানিং তাও করতে হয় না। চোখ বুজলে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেহাতীত আত্মার স্বরূপ ভূমানন্দের স্বাদ পান।

    সে রাত্রেও তাই করতে চেয়েছিলেন।

    স্থির সিদ্ধান্তে এসেছেন—আর সপ্তাহখানেক তিনি আছেন এই ধরাধামে। চৈতালী পূর্ণিমা হচ্ছে চিহ্নিত তিথি। তার পূর্বেই তাঁকে বিদায় নিতে হবে এই রূপরসশব্দস্পর্শগন্ধময় পৃথিবী থেকে। ঘটাকাশ মিলিত হয়ে যাবে পটাকাশে।

    মালোয়া রাজ্যের রূপোপজীবিনী রূপমতী ওঁর পথ প্রদর্শক। মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে কী ভাবে বাঁচা যায় তা সেই শিখিয়ে দিয়ে গেছে।

    সে রাত্রেও উনি ধ্যানস্থ হয়েছেন। রাত্রি গভীর। চরাচর নিস্তব্ধ। সহসা ঘ্রাণে উপলব্ধি করলেন এক অপূর্ব পদ্মগন্ধ। ধীরে ধীরে চোখদুটি খুলে গেল তাঁর। দেখতে পেলেন কক্ষের ভিতর ঘনীভূত হয়েছে এক অলৌকিক আলোকচ্ছটা। সেই দীপ্তিময় আলোক-বৃত্তের কেন্দ্রস্থলে ক্রমে প্রস্ফুটিত হল একটি পরিচিত আলেখ্য। চিনতে অসুবিধা হল না—তাঁর স্বর্গত পরমপূজ্য পিতৃদেব—রূপেন্দ্রনাথ ভেষগাচার্য। তিনি এসেছেন মৃত্যুতীর্থে উপনীত হবার মুহূর্তে কন্যাকে আশীর্বাদ করতে। কিন্তু তাঁর এ কী ভঙ্গি? পদ্মাসনে বসে আছেন—যেন তৈলঙ্গ স্বামী।

    ঠিক তখনই যেন অন্তরীক্ষ্য থেকে দৈববাণী হল : এখনো ‘রূপ’-এর মোহ? ‘সত্য’কে চিলি না?

    স্তম্ভিত হয়ে গেলেন হটী বিদ্যালঙ্কার। অর্থগ্রহণ হল না তাঁর। বললেন, কী বলছেন, বাবা? কোথায় রূপের মোই? কখন প্রত্যাখ্যান করলাম সত্যকে?

    —তবে ‘রূপমতী’ কেন রে হটী? কেন নয় ‘সত্যবতী’?

    —সত্যবতী! সে কে?

    কোনও প্রত্যুত্তর হল না। বিদ্যালঙ্কার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আবার তাকিয়ে দেখলেন সেই অলৌকিক মূর্তির দিকে। না—উনি তৈলঙ্গ স্বামী নন, রূপেন্দ্রনাথও নন—উনি একজন রাজপুরুষ। হাতে রাজদণ্ড, মাথায় রত্নখচিত স্বর্ণমুকুট।

    বিদ্যালঙ্কার আর্তকণ্ঠে বলে ওঠেন, কে? কে আপনি?

    —চিনতে পারছিস না হটী? আমি তোর বাবা—রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় কাপুর।

    মূর্ছিত হয়ে ভূশয্যায় লুটিয়ে পড়লেন, হটী।

    মূর্ছা ভাঙল অনেক অনেকক্ষণ পর। উঠে বসলেন। রাত তখন তৃতীয় যাম। শরীর দুর্বল। তা তো হতেই পারে। গুরুদেব গৃহত্যাগ করার পর থেকে বস্তুত তিনি অনাহারে আছেন। শরীর মানবে কেন?

    আচ্ছন্নের মতো দেওয়ালে ঠেকা দিয়ে বসলেন। স্বপ্নের কথাগুলো মনে পড়ল একে একে। প্রতিটি দৃশ্য। প্রতিটি কথোপকথন। ধীরে ধীরে সমস্যাটার সমাধান হয়ে আসে। স্বপ্নাদেশের অর্থ প্রণিধান করতে অসুবিধা হল না আর। বর্ধমানের মেয়ে—রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের উপাখ্যান কি ভোলা যায়? প্রায় দেড়শত বৎসর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে—তবু আজও কৃষ্ণসাগরের নিস্তরঙ্গ জলে যেন প্রতিবিম্বিত হয় সেই অনিন্দ্যকান্তির মুখখানি : রাজকুমারী সত্যবতী!

    সপ্তদশ শতাব্দীর শেষপাদ। সুদূর লাহোর থেকে এক ক্ষত্রী কাপুর বংশের রাজপুরুষ এসে ছিলেন পুরীধামে তীর্থ করতে। সঙ্গম রায় কাপুর। তীর্থ সেরে প্রত্যাবর্তনের পথে বর্ধমান শহরের কাছাকাছি একটি গ্রাম—তার নাম বৈকুণ্ঠপুর—তাঁর মনে ধরে গেল। স্বদেশে আর ফিরে গেলেন না। ছায়া-সুনিবিড় ঐ গ্রামেই একটি ভদ্রাসন নির্মাণ করে বসবাস শুরু করলেন। শুরু করলেন ব্যবসা। এক পুরুষেই প্রচুর ধনসম্পত্তি সঞ্চয় করলেন তিনি। তাঁরই উত্তরাধিকারী কৃষ্ণ রায়। করিৎকর্মা পুরুষ। বাদশাহ্ আওরঙ্গজেবের কাছ থেকে নিয়ে এলেন ফরমান। হয়ে বসলেন ঐ অঞ্চলের জমিদার। বর্ধমান রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। উপাধি পেলেন চৌধুরী। খেতাব পেলেন রাজা। নির্মিত হল বর্ধমান রাজবাটি। খনন করালেন এক বিরাট দীঘি—যা আজও কানায় কানায় টলমল : কৃষ্ণসায়র।

    সপ্তদশ শতাব্দী শেষ হতে আর মাত্র চারটি বছর বাকি। সেই সময় চেতুয়া-বরদার জমিদার শোভা সিং আক্রমণ করল বর্ধমান রাজ্য। মুগল শাসনের বিরুদ্ধে রহিম খাঁ নামে এক বিদ্রোহী আফগান সর্দার যোগ দিল শোভা সিং এর সঙ্গে। এই যৌথ আক্রমণ প্রতিরোধ করতে সেনাদলকে পরিচালনা করে স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে রওনা দিলেন রাজা কৃষ্ণরায়। সঙ্গে তাঁর যুবকপুত্র অম্বর রায়।

    স্বামীর ও পুত্রের ললাটে রানী-মা এঁকে দিলেন রক্ত-তিলক। যাত্রার পূর্বমূহূর্তে রাজা কৃষ্ণরায় পুরললনাদের ডেকে বললেন, যুদ্ধে আমার এবং অম্বরের মৃত্যু হয়েছে সংবাদ পেলে বাবা বিশ্বনাথের এই প্রসাদ তোমরা মুখে দিও। ধর্মরক্ষা হবে!

    রানী-মা বুঝলেন। তীব্র হলাহলটি চার ভাগ করে একটি রাখলেন নিজের জন্যে। এক ভাগ পুত্রবধূর, বাকি দুটি দুই কন্যার।

    দিবসান্তে এল মর্মান্তিক দুঃসংবাদ। রাজা এবং রাজপুত্র উভয়েই সম্মুখযুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেছেন। যে কোন মূহূর্তে বিজয়ী সৈন্যদল রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করতে পারে।

    রানী-মা পূজা করছিলেন। পূজা অসমাপ্ত রেখে বার হয়ে এলেন মন্দির থেকে। দুই কন্যা আর পুত্রবধূ অপেক্ষা করছিল। তাদের বুকে টেনে নিলেন। বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে মনটা হাল্কা করার সময় নেই। কেউ হারিয়েছে স্বামীকে, কেউ পিতাকে! হতভাগিনী বর্ধমান-মহিষী একই খণ্ডমূহূর্তে হারিয়েছেন স্বামী-পুত্র! কিন্তু কে কার চোখের জল মুছিয়ে দেবে? রাজ-প্রসাদের সিং-দরোজা ভেঙে পড়ার ভীমনাদ যে ভেসে এসেছে তার পূর্বেই। রানী-মা বললেন, নে মা! নিজের হাতে তোদের আগে খাইয়ে দিই। তোদের বাঁচাতে পেরেছি না জেনে গেলে যে মরেও আমি শান্তি পাব না।

    ছেলেবেলায় যেমন করে ওদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে ‘কাগের দলা-বগের দলা’ খাইয়েছেন তেমনি করে দুই মেয়ের মুখে তুলে দিতে গেলেন তীব্র কালকূট!

    পুত্রবধূ প্রসাদ মুখে দিয়ে লুটিয়ে পড়ল শাশুড়ীর পায়ের উপর। সদ্য-বিধবার সিঁথিতে জ্বলজ্বল করছে রাঙা-সিঁদূর।

    বড় মেয়ে এগিয়ে এল : এবার আমাকে দাও মা!

    রানী-মা তার কপালে একটি চুম্বন-চিহ্ন এঁকে দিয়ে বললেন, আয় মা! নে!

    এর পর কনিষ্ঠা কন্যা। সত্যবতী। ষোড়শী রাজকন্যা। অপূর্ব সুন্দরী। বাবার নয়নের মণি। দাদার আদরের বোনটি।

    মা ডাকলেন, আয়?—তাঁর দু চোখে শ্রাবণ ধারা। নিজে হাতে আজ মেয়েকে বিষ দিতে হচ্ছে।

    মেয়ে এক-পা পিছিয়ে গেল। বললে, ন্‌-না!

    —না? না কিরে? বাবা কী বলে গেল শুনিসনি?

    —শুনেছি! বাবার কোন্ কথাটা কবে শুনেছি আমি? পারব না। আমি এখন মরতে পারব না।

    সোপান বেয়ে ওদিকে উঠে আসছে শত্রু সৈন্য। আর একটি মাত্র রুদ্ধ কপাট। এঘরের। সময় নেই। মা জাপটে ধরল মেয়েকে। বললে, খেতেই হবে! নে! খা!

    সত্যবতী ছিটকে সরে গেল। বললে, তুমি নিশ্চিন্ত মনে প্রসাদ মুখে দাও মা! আমি আসছি, এখনই আসছি। কিন্তু তার আগে আমাকে প্রতিশোধ নিতে দাও। যে শয়তান আমার দাদাকে, আমার বাবাকে……

    হতভাগিনীর কথাটা শেষ হল না। মড়মড়িয়ে ভেঙে গেল অন্দরমহলের রুদ্ধ দরওয়াজা। দুর্বিনীতা কন্যা! কথা শোনেনা! কী করবেন? বাবা বিশ্বনাথের চরণে মনে মনে তাকে সমৰ্পণ করে রানী-মা তাঁর অংশের প্রসাদটুকু মুখে ফেলে দিলেন।

    জীয়ন্তে ধরা দিল সত্যবতী।

    তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল শোভা সিং। সে একা নয়। রহিম খাঁও! দুই সহযোগী মূহূর্তে হয়ে ওঠে দুজনের দ্বন্দ্বী। শোভা সিং বললে, খাঁ—সাহেব! গোটা রাজকোষ তোমার। আমাকে বখ্া দিতে হবে না। লেকিন এ ‘জহর’ আমার।

    রহিম খাঁ মেনে নিল। বললে, খামোশ! মান্ লি!

    মূর্খ শোভা সিং। সে চিনতে পারেনি। সে বুঝতে পারেনি। ‘জহর’ শব্দটার যে দুটো অর্থ আছে, তা ওর মনে পড়েনি!

    সত্যবতী বন্দিনী হল স্বেচ্ছায়। কোন প্রতিবাদ করেনি সে। সুবেদার শোভা সিং- আদেশে মেয়েটিকে প্রহরীরা পৌঁছে দিল তার শয়নকক্ষে। তারা স্বপ্নেও ভাবেনি—মেয়েটি তার কঞ্চলিকার অন্তরালে বুকের উপত্যকায় লুকিয়ে রেখেছে একটি ক্ষুদ্র, কিন্তু তীক্ষ্ণ ছুরিকা। বাবার দেওয়া একটা শৌখিন উপহার।

    মেয়েটিকে শোভা সিংয়ের শয়নকক্ষে পৌঁছে দিয়ে প্রহরীরা কুর্নিশ করে বার হয়ে গেল ঘর ছেড়ে। শোভা এগিয়ে এল। রুদ্ধ করে দিল কবাট! কোন সোহাগের কথা বলল না। সে জানে, মেয়েটি সেদিনই তার বাবাকে হারিয়েছে, ভাইকে হারিয়েছে—মহব্বতের মিঠে মিঠে বুলি এখন তার বরদাস্ত হবে না। রানী মহলের আর পাঁচটা মেয়ে ধর্ষিতা হওয়ার আশঙ্কায় জান দিয়েছে। এ ছুকরি নিতান্ত ছেলেমানুষ—সাহস পায়নি আত্মহত্যা করতে। জান দেওয়ার বদলে ইজ্জৎ দেওয়াটাকে ও পসন্দ করেছে।

    শোভা সিং এগিয়ে এল। পরুষ পেষণে নিষ্পেষিত করল সেই অনাঘ্রাতা যুবতীকে। তার বিম্বাধরে দেগে দিল এক হিংস্র চুম্বনচিহ্ন! ঠোঁটদুটো জ্বলে উঠল সত্যবতীর। কিন্তু সে ঠেলে সরিয়ে দিল না শোভা সিংকে।

    ততক্ষণে পাশবসত্তা পূর্ণমাত্রায় জাগরিত। শোভা এক টানে খুলে নিল ওর ওর্না। আর এক টানে ছিঁড়ে ফেলল ওর ঘাঘরা। ভিতরে অধোবাস। দেহের সঙ্গে লেপটে থাকা চুড়িদার চুস্ত বা শেরওয়ানী-পাজামা। তা টেনে খোলা যায় না অথবা ছেঁড়া। উত্তর ও পশ্চিম ভারতের এই বিচিত্র পোশাকে বঙ্গললনারা ততদিনে অভ্যস্তা। পূর্বযুগেই জীমূতবাহনের দায়ভাগ গ্রন্থে বর্ণনা আছে—”বঙ্গনারীরা, বিশেষ করে নর্তকীরা, পায়ের কণ্ঠা পর্যন্ত বিলম্বিত আঁটসাঁট পাজামা পরতেন।”[১] শোভা সিং সত্যবতীর নীবিবন্ধের ফাঁসটা খুঁজতে থাকে। কী বজ্র আঁটুনি গেরো! কামাবেগে পিশাচটার সন্দেহ হল না—এ জাতীয় গ্রন্থির অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে। টানাটানি করে খুলতে না পেরে মেয়েটিকেই বললে, খুল্!

    [১. ‘বাঙালীর ইতিহাস’—নীহাররঞ্জন রায়]

    সত্যবতী পাথর-প্রতিমা।

    টেনে এক চড় মারতে ইচ্ছা করছিল শোভা সিং এর। কিন্তু না, তাতে ছুকরির মেজাজটা খিঁচড়ে যাবে—জমবে না! দু-হাতে সে ঐ গিঁটটাকে খুলবার জন্য তৎপর হয়ে পড়ে।

    এই মুহূর্তটির জন্যই এতক্ষণ দৈহিক নিগ্রহ সয়েছে কৃষ্ণ রায়ের আদরিণী আত্মজা। ধর্ষণকারী দুইহাতে গ্রন্থিমোচনে নিবিষ্ট হয়েছে দেখে অতি সন্তর্পণে সে তার ডান হাতখানা প্রবেশ করিয়ে দিল নিজ বুকের উপত্যকায়!

    পরমুহূর্তেই রুদ্ধদ্বারের বাহিরে প্রহরীদ্বয় চমকে ওঠে। একটা গগনবিদারী আর্তনাদ! আর্তনাদ একটা প্রত্যাশিত—ঔরতের আর্তি! রমণ শীৎকার! কিন্তু এ যে পুরুষকণ্ঠ! এ যে শোভা সিং-এর আর্তনাদ!

    রুদ্ধদ্বার ভেঙে ওরা যখন ধর্ষণকক্ষে প্রবেশ করল তখন সত্যবতীর দেহে প্রাণ নেই। আর বর্ধমান রাজপ্রাসাদজয়ী শোভা সিং চিৎ হয়ে পড়ে আছে ভূশয্যায়। তার কণ্ঠে আমূল বিদ্ধ হয়ে আছে একটি ক্ষুদ্র কিন্তু মারাত্মক ছুরিকা।

    শৌখিন একটা অস্ত্র। বাবা নাকি জন্মদিনে উপহার দিয়েছিল আদরের কন্যাকে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }