Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপমঞ্জরী – ১ম খণ্ড – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প751 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. হুগলী

    ৩. হুগলী

    বঙ্কিমী পথপ্রদর্শন অনুসারে সপ্তগ্রাম ছেড়ে এবার হুগলী যেতে হয়।

    আদি সপ্তগ্রামের ক্রোশখানেক দক্ষিণে দুটি জনপদ : ব্যাণ্ডেল আর হুগলী। যেন হরিহরাত্মা। সরস্বতী নয়, ভাগীরথী তীরে। ‘ব্যাণ্ডেল’ শব্দটাও বঙ্কিমীপথে এসেছে ‘বন্দর’ শব্দ থেকে : বন্দর →বন্দল → বণ্ডল → ব্যাণ্ডল → ব্যাণ্ডেল।

    আমরা ইতিপূর্বেই দেখেছি পর্তুগালরাজ পোপের সনদ পেয়ে নিজেকে পূর্বপৃথিবীর ঈশ্বর বলে ভাবতে শুরু করেছেন। পাঠিয়ে দিয়েছেন তাঁর প্রতিনিধিকে উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করে ভারতবর্ষের পশ্চিম উপকূলে।

    প্রথম ভাইসরয় ভারতবর্ষে এসে পৌঁছালেন 1505 খ্রীষ্টাব্দে : ফ্রাঁসিস্কো দ্য আলমেইডা।

    পরবর্তী ভাইসরয় আফেঁসো দ্য আলবুকার্ক। রাজধানী স্থানান্তরিত করা হল গোয়ায়।

    এবার দৃষ্টি পড়ল ভারতবর্ষের পূর্বপ্রান্তে। দুটি বন্দর তাদের লক্ষ্য—সমুদ্র উপকূলে চট্টগ্রাম আর সরস্বতী তীরে সপ্তগ্রাম। কিন্তু সরস্বতী নদীর জলধারা ক্রমশ বিশুষ্ক হয়ে আসছে, তাই ওরা উপনিবেশ গড়ল কিছু দক্ষিণে—ব্যাণ্ডেল-হুগলীতে।

    কেটে গেছে বছর-পঞ্চাশ। বাবর-হুমায়ুন শের শাহকে পাড়ি দিয়ে ভারতবর্ষের ইতিহাসে এসে গেছে আকবর-জমানা। আকবর নিরক্ষর, কিন্তু সর্বধর্মের মর্মকথা জানবার আগ্রহ তাঁর। তিলক কাটেন, নিরামিষ আহার করেন, রাজান্তঃপুরে হোম পর্যন্ত হয়, মন্ত্রপাঠ চলে। একটি বিশেষ দরবারকক্ষই নির্মিত হয়েছে সর্বধর্মের মূল কথা অনুধাবনের জন্য : ইবাদৎ-খানা-ই খাশ্।

    1579। সম্রাট আকবরের বিশেষ দূত আবদুল্লা এক দোভাষীকে নিয়ে উপস্থিত হল গোয়ায়। বিচিত্র আমন্ত্রণপত্র! সম্রাট দু-জন জেসুইট পাদ্রীকে বাইবেল ও গসপেলের বিভিন্ন গ্রন্থ সমেত রাজধানী ফতেপুর সিক্রিতে আহ্বান করেছেন। জানিয়েছেন—তাঁর উদ্দেশ্য খ্রীষ্টধর্মের মর্মকথা জানবার; পাদ্রীদের নিরাপত্তার দায়-দায়িত্ব সম্রাটের।

    এমন আজব কথা ভাইসরয় কল্পনা করতে পারেন না। তবে ঝুঁকিটা নিলেন। তিনজন পাদ্রীকে প্রেরণ করলেন আগ্রায়—দলনেতা রুডলফ্ অ্যাকোয়ভিভা। সম্রাট মন দিয়ে ওদের কথা শোনেন, মেরী মাতার একটি মূর্তিকেও স্থান দিয়েছেন রাজপ্রাসাদে; কিন্তু যে আশা নিয়ে পাদ্রীরা এসেছিলেন; তা পূরণ হল না–সম্রাট খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণ করলেন না।

    কিন্তু বছরখানেকের ভিতরেই তাঁরা একটি সনদ পেলেন সম্রাটের কাছ থেকে—সুদূর বঙ্গদেশে হুগলীতে একটি কুঠি নির্মাণের অনুমতি। 1580 খ্রীষ্টাব্দে। তার বিশ-ত্রিশ বছর আগে থেকেই হুগলীতে পর্তুগীজদের একটা আস্তানা গড়ে উঠেছিল। কারণ ব্যাণ্ডেল গীর্জার নির্মাণকালটা 1559; তবে এই প্রথম পাকাপাকি সনদলাভ।

    পর্তুগীজদের উদ্দেশ্য ছিল ত্রিমুখী। কিছু এসেছিল বাণিজ্য করতে, কিছু সত্যই খ্রীষ্টের বাণী ও ধর্মপ্রচার মানসে। তারা গীর্জা বানাতে থাকে এখানে-ওখানে। কূপমণ্ডূক সমাজপতি আর ক্ষমতাবান জমিদারদের প্রভাবে যারা হিন্দু-ধর্মচ্যুত হয় তাদের ওরা সাদরে গ্রহণ করে, দীক্ষিত করে, গড়ে তোলে প্রথম ইঙ্গবঙ্গ সমাজ। তৃতীয় দল—তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, নিছক দস্যু—এসেছে দেশটাকে লুট করতে। তারা জলে-ডাঙায় চালিয়ে যায় অকথ্য অত্যাচার—নির্বিরোধী মনুষ্য বসতিতে। তাদের প্রধান ঘাঁটি চট্টগ্রাম, খুলনা, নোয়াখালি, সন্দীপ, বরিশাল। গ্রামের পর গ্রাম তারা শ্মশান করে দিয়েছে। সর্বস্ব লুণ্ঠন করে ধর্ম নষ্ট করেছে পল্লীবধূর—তারপর চালান দিয়েছে ক্রীতদাসীর হাটে। তাদের বলে : হার্মাদ। কথাটা এসেছে ‘আর্মাডা’ থেকে। কুঠিয়াল আর পাদ্রীরা প্রকাশ্যে বলেন—ওরা আমাদেরও শত্রু; কিন্তু গোপনে স্বজাতীয়দের প্রতি অনুকম্পা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে।

    ঘটনাচক্রে ঐ সময়ে শুকিয়ে যেতে থাকে সরস্বতী নদীর সাবেক জলধারা। সপ্তগ্রামের পতন আর হুগলীর উত্থান প্রায় সমকালীন ঘটনা। হার্মাদদের এই অত্যাচারে শুধুমাত্র দক্ষিণবঙ্গের শান্তিই ব্যাহত হয়নি—এর পরোক্ষ ফল বিপর্যস্ত করে দিল গোটা বঙ্গসংস্কৃতিকেই। কারণ বহুশতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী বাঙলার বহির্বাণিজ্যের পথ গেল চিররুদ্ধ হয়ে। সপ্তডিঙা, মধুকর ভাসিয়ে বাঙালী সওদাগর আর যেতে পারে না—সিংহল, চম্পা, চীন! ভাষান্তরে পশ্চিমের গবাক্ষপথে ভারতবর্ষে প্রবেশ করে পর্তুগীজরা বন্ধ করে দিল আমাদের পুবের দরওয়াজা। ফলে ঐ বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল অভ্যন্তর ভাগের বাজার মার খেল। কেটে গেল আরও পঞ্চাশ বছর। আকবরের দেহান্তে জাহাঙ্গীর এখন ভারতসম্রাট। জাহাঙ্গীরের জমানায় সেনাপতি মানসিংহ যখন দ্বিতীয়বার বঙ্গভূমে এলেন দ্বাদশ ভৌমিক বা বারো ভূঁইয়াদের বিদ্রোহ দমন করতে, তখন কিছু হার্মাদ নৌ-সেনাপতি বিদ্রোহীদলে যোগ দিল, সুযোগ বুঝে—ফ্রান্সিস কার্ভালো, গঞ্জালেস্, রডা এসে হাত মেলালো প্রতাপাদিত্যের সঙ্গে।

    সে সময়ে হুগলীর কুঠিয়ালরাও তাক বুঝে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। ভাগীরথী বেয়ে কোন জাহাজ বা বাণিজ্যতরী যাতায়াত করলে তারা শুল্ক আদায় করতে শুরু করেছে। হিন্দু মন্দিরে দেবদেবীর মূর্তি ভাঙছে। মাঝে-মাঝে কুঠিয়ালরা সম্রাটের হারেমে অপহরণ-করা সুন্দরী মেয়ে পাঠায়। জাঁহাপনার রাগ পড়ে যায়। কিন্তু অত্যাচারের নেশায় পর্তুগীজ দস্যুরা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে বসল একবার। এক জাহাজ হজযাত্রীর সর্বস্ব লুণ্ঠন করে তাদের হত্যা করল। জাহাপনা জাহাঙ্গীর আর স্থির থাকতে পারলেন না। বাঙলার সুবেদারকে হুকুম দিলেন হুগলীর কুঠি ধূলিসাৎ করে দিতে।

    অচিরেই মুঘল বাহিনী এসে অধিকার করে নিল হুগলী-ব্যাণ্ডেল জনপদ। কেল্লা এবং গীর্জাটি হল ধ্বংস। বহু পর্তুগীজকে বন্দী করে পাঠিয়ে দেওয়া হল আগ্রায়, তার ভিতর ছিলেন ব্যাণ্ডেল-গীর্জার সাত্ত্বিক প্রকৃতির প্রধান ধর্মযাজক দা’ক্রুজ। সম্রাট আদেশ দিলেন হস্তিপদতলে পিষ্ট করে তাঁকে হত্যা করতে হবে। অলৌকিকভাবে নাকি তিনি রক্ষা পান।

    চার্চকে ক্ষমা করলেন, কিন্তু ব্যবসায়ীদের নয়। ওলন্দাজ কুঠির সঙ্গে বাণিজ্যের নয়া চুক্তি করলেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। সেটা হুগলীর নয়, চুঁচুড়ার কাহিনী।

    এ পর্যন্ত যা বলেছি তা ইতিহাস, ঐ উপাদানটুকু নিয়ে এবার গল্প ফাঁদা যাক :

    1604 খ্রীষ্টাব্দ। সম্রাট আকবর অসুস্থ। বস্তুত মৃত্যুশয্যায়। টোডরমল্ল ইতিমধ্যে বঙ্গদেশের রাজস্ব-ব্যবস্থার ছকটা বানিয়ে ফেলেছেন। সেলিম অর্থাৎ যুবরাজ জাহাঙ্গীর ইতিমধ্যে একবার ‘খোকা-বিদ্রোহ’ করেছে—বাপের একমাত্র অপরাধ সে বড় বেশিদিন বেঁচে আছে। তা বুড়ো-হাবড়াকে সিংহাসনচ্যুত করতে পারেনি। যেটুকু তার ক্ষমতায় কুলায় সেটুকুই করেছে বিদ্রোহীপুত্র—পিতার অকৃত্রিম বন্ধু, প্রখ্যাত পণ্ডিত ও ইতিহাসবেত্তা আবুল ফজলকে গুপ্তঘাতকের মাধ্যমে হত্যা করিয়েছে।

    অশ্বারোহণে ফাদার দা’ক্রুজ ফিরে আসছিলেন গীর্জায়। পরিধানে পাদ্রীর ঢিলেঢালা কালো পোশাক, মাজার কাছে ফাঁস দেওয়া। নিরস্ত্র তিনি। হঠাৎ বিরাট গীর্জা-চৌহদ্দীর গেটের বাহিরে অশ্বের গতিরোধ করেন। অবতরণ করে পদব্রজে এগিয়ে আসেন। সিংদরোজার বাহিরে একজন অত্যন্ত সুদর্শন মুসলমান যুবক নির্নিমেষনেত্রে লক্ষ্য করছে গীর্জার স্থাপত্য-শিল্প। পোশাক-পরিচ্ছদ রাজপুরুষের, মাথায় জমকালো টুপি, কোমরে দীর্ঘ তরবারি। তার পাশেই একটি মহিলা। সর্বাঙ্গ কালো বোরখায় ঢাকা। শুধু দুটি চম্পকাঙ্গুলি দিয়ে মুখ-ঢাকাটুকু তুলে সেও গীর্জার চূড়ায় ক্রুশকাষ্ঠটির দিকে তাকিয়ে আছে। চম্পক-গৌর বর্ণ, এণাক্ষীবিনিন্দিত দৃষ্টি।। স্তম্ভিত হয়ে গেলেন যুবক পাদ্রী! রমণীদেহে এমন সৌন্দর্য তিনি কখনো প্রত্যক্ষ করেননি—না বাস্তবে, না শিল্প—কর্মে। রোম, ফ্লোরেন্স, ভেনিস, মিলানের চিত্রসংগ্রহশালা তিনি দেখেছেন—রাফায়েল, তিজিয়ানো, করেজ্জিও তাঁর অপরিচিত নয়—কিন্তু এ কী!

    অস্ফুটে স্বগতোক্তি করেন পাদ্রী : আফ্রোদিতে!

    শব্দে পাশ ফিরে তাকায়। অপরিচিত পুরুষকে দেখে তৎক্ষণাৎ মুখাবরণটি স্বস্থানে নামিয়ে দেয়। এতক্ষণে লক্ষ্য হল মহিলার পাঁজর ঘেঁষে একটি ফুটফুটে ফুলের মতো মেয়েও দাঁড়িয়ে আছে। দাক্রুজ রাজপুরুষটিকে বললেন, বে-নস্ দীয়াস্।[১]

    [১. Buenos dias = হ্যালো!]

    সম্বোধনটি পর্তুগীজ নয়, স্প্যানিশ। দা’ক্রুজ বোধকরি ভেবেছিলেন, এ ভাষা অন্তত ওরা বুঝবে। যুবাপুরুষ কাঁধ ঝাঁকিয়ে খানদানি উর্দুতে বললেন, আপনার ভাষাটা আমার অজানা, মহাশয়। সম্ভবত আপনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ফলে, আমার জবাব, সেলাম আলাইকুম্।

    —আলাইকুম সালাম!—দা ক্রুজ দীর্ঘদিন আছেন ভারতবর্ষে। ভাঙা ভাঙা উর্দু বলতে পারেন। বলেন, বাইরে কেন? আসুন, ভিতরে আসুন।

    যুবাপুরুষ বলেন, আমরা বিধর্মী, মুসলমান—

    —সেটা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু মা মেরীর গীর্জা সকল ধর্মের জন্যই অবারিতদ্বার। আমি এই উপাসনা-গৃহের প্রধান পুরোহিত—দা’ক্রুজ। আপনাকে সাদরে আমন্ত্রণ করছি।

    আগন্তুক বলেন, অত্যন্ত প্রীত হলাম। আমার নাম শের আফকন। আমি বর্ধমানের সুবেদার। সস্ত্রীক হুগলীতে এসেছিলাম। এটি আমার কন্যা : লাডলি।

    —লাডলি নয়, লাভলি! আর বেগম সাহেবার নাম আমি জানি না; তাঁর নাম হওয়া উচিত : আফ্রোদিতে!

    শের আফকন আরবী-ফার্সিতে আলিম, কিন্তু বুঝে উঠতে পারেন না এ শব্দটির অর্থ। সঙ্গিনীকে বলেন, এস মেহের, পাদ্রী-সাহেব আমাদের ভিতরে যেতে ডাকছেন।

    মেহেরুন্নিসা ফিফিস্ করে স্বামীকে কী-যেন বলে। শের বলেন, বেগমসাহেবা জানতে চাইছেন ভিতরে কি আপনার সহধর্মিণী আছেন?

    —আছেন, আছেন। গৃহস্বামিনীর তরফেই আমি নিমন্ত্রণ করছি।

    শের আফকন সপরিবারে ভিতরে এলেন। গীর্জাটি ঘুরে ঘুরে দেখলেন। অল্টারের পিছনে রঙিন কাচের একটি অতি দীর্ঘ গবাক্ষ। তাতে নানান নকশা। মাঝখানে মা মেরীর এক মর্মরমূর্তি। শিশুক্রোড়ে মাতৃমূর্তি। সংলগ্ন বাগিচায় নানান মরশুমী ফুল; একান্তে কবরখানা। একটি বেলা ওঁরা কাটিয়ে গেলেন ব্যাণ্ডেল-চার্চে। মাদাম দা’ক্রুজ মোহিত হয়ে গেলেন মেহেরুন্নিসার সৌন্দর্যে। মেহের সুযোগ মতো জানতে চায়, ‘আফ্রোদিতে’ শব্দটার অর্থ কী? মাদাম দা’ক্রুজ খিলখিলিয়ে হেসে ওঠেন। বলেন, কে বলেছে? ঐ পাদ্রী তো? ওর দোষ নেই!—বুঝিয়ে দেন, ‘আফ্রোদিতে’ গ্রীকশিল্পীদের ধারণায় সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী।

    পাদ্রীসাহেবের নির্বন্ধাতিশয্যে ‘আলমেয়ারথো’টা[১] সেখানে সারতে হল। দাক্রুজ ওঁদের আশ্বস্ত করলেন কোন ভোজ্যদ্রব্যে শূকরমাংস মিশ্রিত নেই।

    [১. Almuerzo = মধ্যাহ্ন ভোজন।]

    কথাপ্রসঙ্গে শের বলেন, আপনি তো এদেশের ভাষাটা চমৎকার শিখে নিয়েছেন। মাদামও শিখেছেন দেখছি। কতদিন আছেন হিন্দুস্থানে?

    পাদ্রী দা’ক্রুজ রহস্য করে শুনিয়ে দিলেন একটি পর্তুগীজ ছড়া :

    ‘Vicerei Va, vicerei vam
    Padre Paulista sempredtem.’[২]

    [২.  Vicerous come and Vicerous go, but the Jesuit Fathers are always there : লাটেরা আসে লাটেরা যায়, চিরদিন কেউ থাকে না তারা। পাদ্রী সাহেব বারোমাস ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন একপায়ে খাড়া।।]

    পরবর্তী ঘটনাটি প্রায় বিশ বছর পরের

    ইতিমধ্যে সম্রাট আকবরের দেহান্ত ঘটেছে। নূরউদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর তখন ভারতসম্রাট।

    হুগলীর পর্তুগীজ কুঠিয়ালদের অত্যাচারে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর হুকুম দিলেন হুগলীর দখল নিতে। সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ। অচিরেই মুঘল সেনাপতি দখল করে নিল পর্তুগীজ উপনিবেশ। হুগলী দুর্গ এবং ব্যাণ্ডেল গীর্জাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হল। বহু পর্তুগীজ খ্রীষ্টানকে বন্দী করে বঙ্গাল-মুলুক থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হল আগ্রায়। বন্দীদলে আছেন হুগলী গীর্জার প্রধান ধর্মযাজক দা’ক্রুজ সস্ত্রীক।

    জাহাঙ্গীর বাদশাহ্ মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে রকমফের করতেন সেকথা আগেই বলেছি। স্বচক্ষে সেই মৃত্যুদৃশ্য দর্শন করা তাঁর এক বিলাস। এক্ষেত্রে জাহাপনা হুকুম জারী করলেন, ঐ পর্তুগীজ পাদ্রীটাকে হস্তিপদতলে দলিত-মথিত করতে হবে। মাদাম দা’ক্রুজ মহিলা—তাকে লঘুশান্তি দেওয়া হল—শুধুমাত্র স্বামীর মৃত্যুদৃশ্য দর্শন!

    একাজের জন্য একটি সুশিক্ষিত হস্তী সম্রাট আকবরের জমানা থেকেই আছে। প্রকাণ্ড রণহস্তী। অদ্ভুত তার শিক্ষা। আগ্রা কিল্লায় বাদশাহ যখন দেওয়ান-ই-আম-এ দরবারে বসেন তখন ঐ গজদানবকে রজ্জুবদ্ধ অবস্থায় উপস্থিত করে মাহুত। বাদশাহ আসেন দক্ষিণপুরের জাহাঙ্গীরী মহল থেকে, উঠে বসেন মসনদে। আকবরের কোন মহিষী প্রকাশ্য দরবারে বসতেন না। জাহাঙ্গীরের ক্ষেত্রে এটি হয়নি। তাঁর পাশে উপবেশন করেন ভারতসম্রাজ্ঞী নূরজাহাঁ। তিনি আসেন পিছনের দরওয়াজা দিয়ে, খাশমহল থেকে, শীস্-মহল পথে।

    বসেন অনবগুণ্ঠিতা হয়ে। এটাও জাহাঙ্গীরের এক বিলাস—জগতকে দেখানো, তিনি শুধু ভারতেশ্বর নন, সুন্দরী-শ্রেষ্ঠার মরদ!

    নূরজাহাঁ : জগতের আলো। অন্তত এককালে ছিল বর্ধমানের সুবেদার শের আফকনের ঘরের ঘৃত প্রদীপ। আকবরের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই গদিয়াল হয়ে জাহাঙ্গীরের প্রথম কাজ ঐ শের আফকনকে হত্যা করে মেহেরুন্নিসাকে ছিনিয়ে নিয়ে আসা। মেহের প্রথম কয়েক বছর স্বামীহন্তাকে স্বীকার করে নেয়নি। ক্রমে পোষ মেনেছে। শুধু তাই নয়, পোষ মানিয়েছে। বস্তুত জাহাঙ্গীর-জমানায় ভারত শাসন করেছে নূরজাহাঁ—জাহাঙ্গীর নয়। রাজকীয় দলিল, ফর্মান, যেখানেই জাহাঙ্গীরের স্বাক্ষর সেখানেই নূরজাহাঁ। এমনকি স্বর্ণমুদ্রায় পর্যন্ত ছাপ দেওয়া হত ‘বহুভ শাহ্ জহাঙ্গীর যাফৎ সদ জেবর/বনামে নূরজাহাঁ বদসহে বেগম অর।’ অথচ এমনই তার কূটকৌশল যে, সম্রাট স্বয়ং অনুধাবন করতে পারতেন না—তিনি বেগমের হাতের পুত্তলীমাত্ৰ!

    জাহাঙ্গীর শাস্তি বিধান করলেন। হস্তিপদতলে বন্দীর মৃত্যু। সচরাচর এই মৃত্যুদণ্ডটি অনুষ্ঠিত হয় প্রকাশ্যে, সভাভঙ্গে। মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞা প্রাপ্ত হতভাগ্যকে রজ্জুবদ্ধ অবস্থায় ভূতলে ফেলে রাখা হয়। জাহাঙ্গীর জানেন—মৃত্যুদণ্ড দীর্ঘায়ত করার মধ্যে একটা মজা আছে। সাধারণত আমীর, ওমরাহ—যাঁরা এই নৃশংস দৃশ্য দেখতে চান না, তাঁরা উঠে চলে যান। নূরজাহাঁ স্থানত্যাগ করেন। তখন হত্যাউৎসবে মেতে ওঠেন বাদশাহ্। করতালি দিতেই মাহুত সুসজ্জিত গজদানবকে পরিচালিত করে অগ্রসর হয়ে আসে। অদ্ভুত শিক্ষা গজরাজের। সে বন্দীর নিকটস্থ হয়ে শুণ্ড উৎক্ষিপ্ত করে একটি বৃংহিত ধ্বনি করে। তারপর একটি পা তুলে ঐ ভূতল-শায়িত হতভাগ্যের মস্তকের উপর উৎক্ষিপ্ত করে অপেক্ষা করে। বাদশাহ্ যতক্ষণ না দ্বিতীয়বার করতালিধ্বনি করেন ততক্ষণ গজদানবকে তিন-পায়ে দেহভার রক্ষা করে প্রতীক্ষা করতে হয়। জাহাঙ্গীর এইসময় তাড়াহুড়া করেন না। শায়িত বন্দীর মুখচ্ছবি রসিয়ে রসিয়ে উপভোগ করেন, কখনো বা তার মরণান্তিক আর্তনাদ। তারপর তালি বাজান। গজরাজ তার উৎক্ষিপ্ত চরণটি ধীরে ধীরে নামিয়ে আনে—দেহের অন্য কোনও অংশে নয়, ঠিক মাথার উপর। পাকা কয়েৎবেলের মতো ফট্ করে সেটা ফেটে যায়! ভারী মজার সে দৃশ্য।

    পাদ্রী দা’ক্রুজকে রজ্জুবদ্ধ অবস্থায় ভূতলশায়ী করা হয়েছে। তার মস্তকটি একটি পাষাণখণ্ডের উপর ন্যস্ত। সুসজ্জিত হস্তীর উপর মাহুত প্রতীক্ষা করছে। আমীর-ওমরাহরা অনেকে উঠে গেলেন। জাহাঙ্গীরের লক্ষ্য হল নূরজাহাঁ স্থানত্যাগ করেননি। বলেন, এবার তুমি ভিতরে যাও। এখন মৃত্যুদণ্ড হবে।

    নূরজাহাঁর লক্ষ্য হল, অদূরে মাদাম দা’ক্রুজ শায়িতা। দুর্ভাগ্যবশত তাঁকে স্বামীর মৃত্যুদৃশ্যটি দেখানো যাচ্ছে না। তিনি মূর্ছিতা। নূরজাহাঁ বললেন, না, আমি থাকব। আমি দেখব

    সম্রাট কিছু বিচলিত। এমন তো কখনো হয় না! পেয়ারী বেগম তো এমন কথা ইতিপূর্বে কখনো বলেনি। জানতে চান তার হেতু।

    নূরজাহাঁ বলেন, দীন-দুনিয়ার মালিক! আমি গতকাল রাত্রে একটি অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি। স্বয়ং পয়গম্বর যেন আমাকে এসে বলছেন—ঐ পাদ্রীটা আমার প্রিয় ভক্ত। ও আল্লাতালাকেই ‘গড’ নামে উপাসনা করে। তুই তোর স্বামীকে বল, ওকে মুক্ত করে দিতে!

    জাহাঙ্গীর বিস্মিত হয়ে বলেন, তারপর? তারপর?

    —তখন আমি পয়গম্বরকেই সালাম জানিয়ে বললাম, আপনি তো অসীম ক্ষমতাবান। আপনি নিজেই তো ওকে রক্ষা করতে পারেন। আমাকে কেন বলছেন? আমি জানি, আমার স্বামী কখনো অন্যায় করেন না, তাঁর রাজকার্যে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করি না। তারপর আমার নিদ্রাভঙ্গ হল। তাই আমি দেখতে চাই তিনি ওঁকে রক্ষা করেন কিনা

    জাহাঙ্গীর কিছুটা বিচলিত। তারপর সজোরে করতালি ধ্বনি করে ওঠেন।

    গজগমনে অগ্রসর হয়ে এল মহামাতঙ্গ। যথারীতি শুণ্ড উৎক্ষিপ্ত করে গজর্ভায়ে অভিনন্দন জানালো বাদশাহকে। তারপর একটি পদ উৎক্ষিপ্ত করে প্রতীক্ষা করল। জাহাঙ্গীরের আজ ধৈর্য মানছে না। সজোরে করতালি দিয়ে ওঠেন তিনি।

    কী আশ্চর্য! কী অপরিসীম আশ্চর্য! গজরাজ প্রত্যাশিত কর্ম করল না। উৎক্ষিপ্ত পদটি নামিয়ে আনল ভূতলে। নিপুণ-শুঁড়ে একটানে বন্ধনমুক্ত করে দিল বন্দীকে! যেন শুঁড় দিয়ে আদর করল তাঁকে! ধীর পদে ফিরে গেল তার স্বস্থানে।

    বাদশাহ বিহ্বলের মতো বেগমের দিকে ফিরে বলেন, কী করতে বল এখন? নূরজাহাঁ একটি সেলাম করে বলেন, জাহাপনা। আপনার রাজকার্যে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করি না। কী করবেন তা আপনার বিবেচ্য। তবে পয়গম্বরের স্বপ্নাদেশ যদি মানেন…

    বাকিটা অনুক্ত রইল।

    জাহাঙ্গীরের আদেশে দা’ক্রুজকে মুক্তি দেওয়া হল। তাঁকে সসম্মানে হুগলীতে প্রত্যাবর্তনের আদেশও দেওয়া হল। এমনকি রাজকোষ থেকে গীর্জাটি পুননির্মাণের ব্যবস্থাও করা হল। কাহিনীর যে অংশটুকু নেপথ্যে আছে তা এবার বলি :

    হুগলীতে ফিরে যাবার আগে মাদাম দা’ক্রুজ নূরজাহাঁর খাশমহলে এসে দেখা করেছিলেন। চোখের জলে ভাসতে ভাসতে বলেন, আপনার কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার সীমা পরিসীমা নেই। কিন্তু একটা কথা, ভারতেশ্বরী! এ কাজের জন্য মাহুতকে যে পরিমাণ অর্থ উৎকোচ দিয়েছেন সেটুকু আমাদের পরিশোধ করতে দিন।

    নূরজাহাঁ স্মিত হেসে প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন, আপনার গীর্জায় যে নুন খেয়েছি তার দাম দিতে হবে না? সেটা যে নিমকহারামি হয়ে যাবে।

    মাদাম দা’ক্রুজ বলেন, গ্রাথীয়াস![১] তাহলে কণ্ঠহারটি রাখুন। লাডলিকে দেবেন। প্রতিদান নয়, উপহার।

    হাত বাড়িয়ে মালাটা নিতে হল।

    একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল ভারতেশ্বরীর। মন খুলে মাদামকে বলতে পারলেন না— উপহারটা লাড়লি-বেগমকে দেওয়া যাবে না। মায়ের সঙ্গে সে কথা বলে না। পিতৃহন্তার অঙ্কশায়িনী জননীর সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই।[২]

    [১. Gracias = লাখ-লাখ সুক্রিয়া,
    ২.  বিস্তারিত বিবরণ লেখকের ‘লাডলি-বেগম’ উপন্যাসে।]

    .

    হুগলী থেকে আমরা অনেকটা দূরে সরে এসেছি। চল, সেখানে ফেরা যাক।

    শাহজাহাঁ সিংহাসনে আরোহণ করে পর্তুগীজদের অধিকার থেকে হুগলী-ব্যাণ্ডেল পুনরায় অধিকার করে নেন। তার একটি বিশেষ হেতু আছে। জাহাঙ্গীরের শেষাবস্থায় যুবরাজ খুররম্ একবার ‘খোকা-বিদ্রোহ করেন। মুঘল বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত হয়ে পালিয়ে আসেন বঙ্গদেশে। সে-সময় তিনি হুগলীর পর্তুগীজ গভর্নরের কাছে সামরিক সাহায্য প্রার্থনা করেন; কিন্তু অভিজ্ঞ গভর্নর বুঝতে পারেন এ ব্যাপারে যুবরাজকে সাহায্য করা উচিত হবে না। খুররম প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। মসনদে বসে তারই প্রতিশোধ নিলেন এতদিনে শাহজাহাঁ।

    সেটা সম্রাট শাহজাহার শাসনকালের দ্বাদশ বৎসর! রাজধানী তখনো আগ্রা। দিল্লীর লালকেল্লায় পুরা-কদমে কাজ চলছে। এ-যুদ্ধে পর্তুগীজরা প্রায় তিনমাস কাল মুঘল বাহিনীকে প্রতিহত করে রেখেছিল। মুসলমান ঐতিহাসিকেরা লিখে গেছেন—মুঘল সেনাপতি সেই সময় ভাগীরথীর উপর একটি সাঁকো’ নির্মাণ করেন। স্থানটা শ্রীরামপুরের কাছাকাছি। সম্ভবত সেটি একটি ‘পন্টুন-সাঁকো’—অর্থাৎ পাশাপাশি নৌকা সাজিয়ে বানানো সাঁকো—যা বানিয়ে ছিলেন জারেকশাস দার্দানালেস প্রণালীতে, বহু বহু পূর্বযুগে; আর যা বানিয়েছিলেন ইংরেজ স্থপতি বহু-বহু পরবর্তীযুগে—প্রথম হাওড়া ব্রীজ; যা তোমরা দেখনি, আমরা হামেহাল পার হয়েছি, জোয়ার-ভাঁটা খেয়াল করে। কারণ তদানীন্তন ভাগীরথীর বিস্তার ও প্রযুক্তিবিদ্যার জ্ঞানের কথা মনে করে এটাই একমাত্র সমাধান। তবে মুঘল সেনাপতি সুবেদার কাশেম খাঁ দুর্গবেষ্টনকারী পরিখার বাঁধ দিয়ে জল নিষ্কাশন করতে পেরেছিল। পরে বারুদ দিয়ে দুর্গপ্রকারের খানিকটা অংশ উড়িয়ে দেয়। সেই পথে মুঘল সৈন্য দুর্গের ভিতর প্রবেশ করে। হুগলী দুর্গের পতন হয়। বহু পর্তুগীজ নরনারী হতাহত হয়। ওদের অনেকগুলি জাহাজ ও গ্রাব ডুবিয়ে দেওয়া হয়। বস্তুত এই যুদ্ধেই ভারতে পর্তুগীজ প্রাধান্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। মহামান্য পোপের সনদ যাই বলুক না কেন এই ঘটনার দুই দশক পরে, অর্থাৎ সপ্তদশ শতাব্দীর পঞ্চম দশকে পর্তুগীজদের পরিত্যক্ত ভূখণ্ডে ইংরেজরা একটি কুঠি বানায়। প্রথম দিকে ব্যবসায়ে তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারে না। পরে, অর্থাৎ পলাশী যুদ্ধের ঠিক একশ বছর আগে ঐ কুঠি লাভবান হতে শুরু করে। সোরা, লবণ ও রেশমের ব্যবসায়ে। তবু মুঘল সুবেদারের সঙ্গে ইংরেজ কুঠিয়ালদের বিবাদ-বিসম্বাদ লেগেই ছিল। আরও দুই দশক পরে এই কুঠি থেকেই একদিন জোব চার্নক নেমে আসেন ভাগীরথীর মোহনার দিকে।

    একদিন নোঙর গাড়েন : গোবিন্দপুরে। সেটাই কলকাতা পত্তনের সূচনা। জোব চার্নকের হুগলী ত্যাগের পর নবাবী ফৌজ হুগলী কুঠি দখল করে। সেটি পুনরুদ্ধার করেন রবার্ট ক্লাইভ পলাশীযুদ্ধের প্রাক্কালে।

    ইংরেজ সৈন্য হুগলীর দুর্গ ও ফৌজদারের সমস্ত সম্পত্তি অধিকার করে নেয়। এক সপ্তাহকাল হুগলী-ব্যাণ্ডেলের সংলগ্ন গ্রামগুলি নির্বিচারে লুট করে। বর্তমানে যেখানে হুগলীর কালেক্টার-সাহেবের বাসভবন দুর্গটি ছিল সেখানে।

    বঙ্গসংস্কৃতিতে হুগলীর আর একটি দানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মর্তব্য—বঙ্গদেশে সর্বপ্রথম ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা হয় এখানেই। রাজা-রাজড়ার কুকীর্তির কথা শোনাচ্ছিলাম এতক্ষণ; এবার দুটি মেহনতী মানুষের কথা বলি : পঞ্চানন কর্মকার আর মনোহর দাশ! তাঁদের যৌথ সহযোগিতা ভিন্ন উইলকিন্স-সাহেব ঐ ছাপাখানাটি বানাতে পারতেন না। হ্যালহেড-সাহেব এই ছাপাখানা থেকে যখন প্রথম বাংলা ব্যাকরণ মুদ্রণ করেন তখনও রাজা রামমোহনের জন্ম হতে দু-বছর বাকি।

    হুগলী ত্যাগ করে যাবার আগে পর্তুগীজদের প্রসঙ্গটা শেষ করে নিই।

    দা-গামা আর তার উত্তরসূরীরা এসেছিল এ দেশে লুট করতে। কিন্তু ‘মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ।’ ঐ দলের সঙ্গেই এসেছেন অনেক মহান পর্তুগীজ—যাঁরা মানুষের ভালো করতে চান। সবার আগে বলতে হয় সেন্ট ফ্রান্সিস্ জেভিয়ারের কথা (1506-52)। গোয়াতে এসে পদার্পণ করেন 1542-খ্রীষ্টাব্দে। “He laboured with equal zeal and success among the Corrupt Europeans and the native population.” বহু নির্যাতিত অচ্ছুৎকে খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত করেন। পরে শ্রীলঙ্কা ও জাপানেও যান। তাঁর মরদেহ গোয়াতেই রক্ষিত।

    এই পর্তুগীজরাই বাংলাভাষার প্রথম বই ছেপে প্রকাশ করে। ভারতে নয়, খোদ রাজধানী লিসবনে। হরফও বাংলা নয়, রোমান হরফ। সময়টা আমাদের কাহিনীর প্রায় সমকালে—1743 খ্রীষ্টাব্দে। মুদ্রিত হয়েছিল তিনখানি পুস্তক। প্রথমটির লেখক আন্তোনিও দো রোজারিও; পরের দুখানির লেখক : মানোয়েল দ্য আসস্যুস্সা। বইটির নাম—মলাটে যা লেখা ছিল: Crepar Xaxtroer Orths. Bhed— Xixio Guror Bichar!

    অর্থভেদ’ হল? বঙ্গানুবাদে : “কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ—শিষ্যগুরুর বিচার।”

    এ-ছাড়া বাংলাভাষায় মিশে আছে অসংখ্য পর্তুগীজ শব্দ : সাবান, আলমারি, জানলা, তোয়ালে, বালতি, বোতাম, ‘আলপিন’ থেকে ‘কামান’। আরও কত শব্দ : আলকাতরা, আচার, কাকাতুয়া, চা, গির্জা, নিলাম, তামাক, চাবি, ফিতা, গুদাম, লণ্ঠন, বারান্দা, ইস্পাত, কম্পাস, কামরা। অনেক ফুলফল তারা আমদানি করেছিল : আনারস, পেঁপে, পেয়ারা, কামরাঙা, আলু, জারুল, সফেদা, চীনাবাদাম, কমলালেবু এমনকি সেই ফুলটি—‘কালো যাকে বলে গাঁয়ের লোক’ : কৃষ্ণকলি!

    সবার আগে এসেছিল পর্তুগীজ—তাদের আস্তানা হুগলী-ব্যাণ্ডেল। তার পরে আসে দিনেমাররা। সব শেষে ইংরাজ আর ফরাসী। দিনেমারদের আস্তানা ছিল ওলন্দাজ-নগর বা চুঁচুড়া। পর্তুগীজ নাবিকেরা আফ্রিকা বেষ্টন করে যে জলপথটি খুঁজে পেয়েছিল তার চার্ট, ম্যাপ ইত্যাদি সযত্নে লুকিয়ে রাখত—যেন ‘চিচিংফাক’মন্ত্র। কিন্তু কিছু ওলন্দাজ নাবিক চাকরি সূত্রে ওদের জাহাজে বার কয়েক যাতায়াত করার ফলে গুপ্তধনের চাবিকাঠিখানি পেয়ে গেল।

    ওলন্দাজ অধিকারের পূর্বযুগে চুঁচুড়ার ইতিহাস অজ্ঞাত। তখন সেটি ছিল এই গৌড়দেশের অযুত-নিযুত গ্রামের মতো গঙ্গাতীরবর্তী একটি শান্ত জনপদ। হুগলীতে যখন পর্তুগীজ প্রভাব বিনষ্ট হল, শাজাহানী-জমানায়, তখনই মাথা চাড়া দিয়ে উঠল চুঁচুড়া’। সপ্তদশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে। তারপর দেড়শ বছর ধরে ওরা ওখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে। তাদের চরম উন্নতি অষ্টাদশ শতকের অষ্টম দশকে।

    হুগলীর কথায় ফিরে আসি :

    অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে পারস্যের রাজধানী তেহরান থেকে আসেন—খাঁ জাহান খাঁ। হুগলীতেই থাকতেন। প্রথমে মুঘল, পরে ইংরেজ বেনিয়া কোম্পানির কাছে সুবেদারী পেয়ে। বিলাসিতার চূড়ান্ত বাহ্যাড়ম্বরে তিনি ভাষায় স্থান পেয়েছেন। মাত্রাতিরিক্ত বিলাসিতা দেখলে আমরা বলি : লোকটা যেন নবাব খাঞ্জা খাঁ। তিনি নবাব ছিলেন না আদৌ।

    দানবীর হাজী মহম্মদ মহসীনের বিখ্যাত ইমামবাড়া হুগলীর এক দিকচিহ্ন।

    আরও একজন হুগলীবাসী প্রবাদ কথায় অমর হয়ে আছেন।

    ‘—লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন!’

    গৌরী সেনও দানবীর। প্রচুর ধনসম্পত্তিও করেছিলেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠা করা গৌরীশঙ্কর দেউলটি আজও টিকে আছে। তা ধনী ব্যক্তি তো ডজন-ডজন, তার ভিতর কেউ কেউ মন্দিরও প্রতিষ্ঠা করেন। দানধ্যানও অনেকে করেন এ-কথা অস্বীকার করব না। তার ভিতর সেন-মশাই কী করে প্রবাদবাক্যে নিজের ঠাঁই করে নিয়েছেন? বলি শোন :

    সেন-মহাশয় অনেক বিচার-বিবেচনা করে দেখলেন—যে লোকটা দান চাইতে আসে তার বড় সঙ্কোচ। হাত পেতে কিছু চাইতে হবে—সে বড় লজ্জা! কী করা যায়? উনি দারুণ এক বুদ্ধি খাটালেন। প্রার্থীদলকে সেই লজ্জা-সঙ্কোচের হাত থেকে রেহাই দিতে একটি অভিনব ব্যবস্থা করলেন। হুগলী বাজারে গিয়ে কয়েকটি বড় বড় দোকানে—মুদী-দোকান, জামা-কাপড়ের দোকান, দশকর্ম ভাণ্ডারে বলে এলেন, ‘দেখ বাপু, আমার নাম করে কেউ যদি কিছু খরিদ করে তাহলে তোমরা তার দাম চেও না, ক্রেতার নামও জানতে চেও না। খরচটা শুধু খাতায় লিখে রেখ। মাসান্তে আমার কর্মচারী এসে দামটা মিটিয়ে যাবে।’

    তাঁর সেই অপরিসীম বদান্যতার সুযোগ যে শুধু সমকালই নিয়েছে তা বলতে পারি না। আজও সরকারী চাকরি পেয়ে অথবা ভোটে জিতে তাঁর নামটি আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি :

    ‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }