Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপালী দ্বীপ – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প102 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. মনিরুজ্জামান ওসি সাহেবের সামনে

    মনিরুজ্জামান ওসি সাহেবের সামনে বসে আছে। মনিরুজ্জামানের গায়ে থ্রি পিস সুট, লাল টাই! কোটের বাটন হোলে পাতাসহ গোলাপের কুঁড়ি। গোলাপটা ঠিক আছে-পাতা দুটি মরে গেছে। মনিরুজ্জামানের মুখে তেলতেলে ভাব হাসি। সে আজ সারা দিনে প্রচুর পান খেয়েছে বলে মনে হয়। দাঁত খয়েরি বর্ণ ধারণ করেছে। ঠোঁট দুটিও লাল। মনিরুজ্জামানের হাতে সাদা রুমাল। কিছুক্ষণ পরপর ঠোঁট মোছার জন্যে রুমাল ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    মনিরুজ্জামানের পাশে আছে হারুনুর রশীদ। হারুনুর রশীদের কাজ হচ্ছে মনিরুজ্জামানকে ছায়ার মতো অনুসরণ করা। হারুনুর রশীদ পাতলা একটা পাঞ্জাবি পরে আছে। নিচে গেঞ্জি নেই বলে পাঞ্জাবির ভেতর দিয়ে তার লোমভৰ্তি বুক দেখা যাচ্ছে। হারুনুর রশীদের মুখ খুব গম্ভীর। সেই তুলনায় মনিরুজ্জামানের মুখ হাসি-হাসি।

    মনিরুজ্জামান বলল, তারপর ওসি সাহেব, ভাই, কেমন আছেন বলেন দেখি।

    জি, ভাল আছি।

    সকলে চলে আসতাম–ফার্স্ট ফ্লাইট পেলাম না। গাড়িতে রওনা হলে পৌঁছতে পৌঁছতে বিকাল হবে। সেকেন্ড ফ্লাইটে এসেছি।

    ভালো করেছেন।

    আমি এসেই আপনার বিষয়ে খোঁজখবর করেছি; খবর যা পেয়েছি তাতে মনটা ভালো হয়েছে। আমি হারুনুর রশীদকে বললাম, এরকম অফিসার যদি দশটা থাকে, তাহলে দেশ ঠিক হয়ে যায়। কী হারুন, বলি নাই?

    হারুন হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ে।

    মনে হচ্ছে সে কথা কম বলে। কিংবা মাথা নাড়াই তার চাকরি।

    দেশের আজ যে অবস্থা তা কিন্তু দেশের জনগণের জন্যে না। খারাপ অফিসারের জন্যে। জনগণ কখনো ভুল করে না।

    আপনি আমার বিষয়ে কী খোঁজ পেয়েছেন?

    সব খোঁজই পেয়েছি ভাই। প্ৰদীপ জ্বলে উঠলে দূর থেকে টের পাওয়া যায়-আলো দেখা যায়। বুঝলেন রহমান সাহেব, আমি খবর পেয়েছি, আপনি অত্যন্ত অনেস্ট অফিসার। ঘুষ খান না। অন্যায় করেন না। ঠিক শুনি নাই রহমান সাহেব?

    জি, ঠিকই শুনেছেন।

    আপনার নাম রহমান তো?

    আব্দুর রহমান আমার নাম।

    এত বড় একটা কাজ যে আপনি করলেন, অনেস্ট অফিসার বলেই করতে পারলেন। ঘুষ-খায় অফিসারের আত্মা থাকে ছোট—সাহস থাকে না। কী হারুন, আমি এই কথা বলি নাই?

    হারুন আবার হ্যাঁ-সূচক ঘাড় নাড়ল।

    মনিরুজ্জামান গলা নিচু করে বলল, এত বড় একটা কাজ সুন্দরভাবে করার জন্যে আমি ছোটভাই হিসেবে আপনাকে সামান্য উপহার দিতে চাই। না করবেন না। না করলে মনে ব্যথা পাব।

    মনিরুজ্জামান হারুনুর রশীদের দিকে তাকিয়ে ইশারা করল। হারুনুর রশীদ ব্রিফকেস খুলে ব্ৰাউন পেপারের একটা মোটা মোড়ক ওসি সাহেবের ফাইলের কাছে রেখে ভারি গলায় বলল—ফিফটি আছে।

    ওসি সাহেব বললেন, ফিফটি কি?

    ফিফটি থাউজেন্ড স্যার।

    মনিরুজ্জামান বলল, উপহার কী কিনব, কী আপনার পছন্দ, তা তো জানি না। এই জন্যেই ক্যাশ। পছন্দমতো একটা কিছু কিনে নেবেন ভাই সাহেব। ছোট ভাইয়ের ওপর মনে কিছু নিবেন না।

    আচ্ছা।

    বুঝলেন ভাই সাহেব, খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম। আপনি রাগই করেন কি-না। উপহার এক জিনিস আর ঘুষ ভিন্ন জিনিস।

    তা তো বটেই।

    এখন ভাই সাহেব, মেয়েটাকে বের করে দেন-ঢাকায় নিয়ে যাই।

    মেয়েটাকে বলছেন কেন? বলুন স্ত্রীকে বের করে দিন।

    ও হ্যাঁ হ্যাঁ। অল্পদিন হয়েছে বিয়ে, এখনো অভ্যস্ত হইনি। যাই হোক, আমি স্ত্রীকে নিয়ে যেতে এসেছি। আমার স্ত্রীর যে বড় চাচা উনিও আসছেন। বাই রোডে আসছেন।

    ওসি সাহেব শান্ত গলায় বললেন, ব্যাপারটা আপনি যত সহজ ভাবছেন তত সহজ না। সামান্য জটিলতা আছে।

    কী জটিলতা? মনিরুজ্জামান চোখ সরু করে বলল।

    আপনার স্ত্রী জবানবন্দি দিয়েছেন, আপনার সঙ্গে বিয়ে হয় নি। যে রাতে বিয়ে হবার কথা সেই রাতে উনি পালিয়ে গেছেন।

    ও বললে তো হবে না। ও তো এখন এরকম বলবেই। আরো যে জঘন্য কিছু বলে নাই সেটাই আমার সৌভাগ্য। বিয়ে যে হয়েছে তার কাগজপত্র আছে। দেখতে পারেন। হারুন, কাবিননামাটা দেখাও তো।

    হারুন ব্রিফকেস খুলে কাবিননামা বের করল।

    মনিরুজ্জামান বলল, খুব ভালো করে দেখেন। আমার স্ত্রীর দস্তখত আছে। দেখতে পাচ্ছেন?

    জি।

    চারজন সাক্ষী আছে। সাক্ষী কারা এইটাও একটু লক্ষ করুন। আপনারা পুলিশের লোক, কিছুই আপনাদের চোখ এড়াবে না। তবু মনে করিয়ে দেয়া। একজন আছেন মিনিস্টার, প্রতিমন্ত্রী না, আসল মন্ত্রী। একজন আর্মির ব্রিগেডিয়ার, একজন হচ্ছেন ইউনিভার্সিটির ফুল প্রফেসর। আরেকজন বিশিষ্ট শিল্পপতি এ আর খান। নাম শুনেছেন আশা করি।

    বলেন কী! এঁরা সবাই কি আপনার আত্মীয়?

    জি না। তবে পরিচিত।

    সাধারণত দেখা যায়, বিয়েতে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনরা সাক্ষী হয়। আপনার বেলাতেই ব্যতিক্রম দেখলাম।

    আমার সবই ব্যতিক্রম। দেখলেন না—বৌকে বিয়ের পরেই ভাগিয়ে নিয়ে চলে গেল। তবে হজম করতে পারে নাই-বদহজম হয়ে গেছে। হা-হা-হা।

    আপনাকে খুব আনন্দিত মনে হচ্ছে।

    অবশ্যই আনন্দিত। আম ছালা সব ধরা পড়ে গেছে। সাথের বদগুলোকে মাইন্ড পিটন দিয়েছেন তো?

    জি না, দেই নাই। ভদ্রলোকের ছেলেপুলে, পিটন দিয়ে শেষে কোন বিপদে পড়ি!

    কোনো বিপদে পড়বেন না। আমি তো আছি আপনার পিছনে। আমি মানুষটা ছোটখাটো কিন্তু আল্লাহর দয়ায় আমার যোগাযোগ ভালো।

    সেটা বুঝতে পারছি।

    অনেকেই বুঝতে পারে না। প্রয়োজন বোধ করলে হেভি পিটন দিয়ে দেন। এদের চুরির মামলায় ফেলে নাকানি-চুবানি খাওয়ানো যায় না? আমার স্ত্রীর গায়ে চার লাখ টাকার জড়োয়া গয়না ছিল—এই মামলা … ধান দেখেছে, বুলবুলি দেখে নাই। এইবার বুলবুলি দেখবে। ছোট্ট বুলবুলি।

    হারুনুর রশীদ বলল, স্যার আপনি কাইন্ডলি বেগম সাহেবকে রিলিজ করে দেন। আমরা ঢাকার দিকে রওনা হয়ে যাই। বেলাবেলি পৌঁছতে হবে।

    এত সহজে তো ভাই হবে না। মামলা করেছেন, আমরা আসামি কোর্টে চালান দেব। কোর্ট যা করার করবে।

    সে কী?

    আপনি মামলা করেছেন ঢাকায়—আমরা আসামি ঢাকা পাঠাব।

    তাহলে এত যন্ত্রণার প্রয়োজন নাই। মামলা তুলে নিব। আপনি আমার স্ত্রীকে শুধু রিলিজ করে দিন।

    সেটাও সম্ভব না। একটা বেড়াছেড়া লেগে যাবে বলে মনে হয়।

    কী বেড়াছেড়া?

    যাদের থানা-হাজতে আটকে রেখেছি তারা এত সহজে ছেড়ে দেবে তা মনে হয় না।

    যারা আমার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছে ওদের ওপর আমার কোনো রাগ নাই। ছেলেমানুষ ভুল করেছে। মানুষমাত্রই ভুল করে। তাছাড়া সমস্যাটা মূলত তৈরি করেছে আমার স্ত্রী। কাজেই শাস্তি যা দেবার আমি আমার স্ত্রীকেই দেব। আপনি ওদের ছেড়ে দিন। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাই।

    আপনি বিকেলে আসুন।

    বিকেলে আসব কেন?

    আমি আসতে বলছি। এইজন্যে আসবেন।

    ওসি সাহেব, আপনি তো ঝামেলা করছেন। আমি ঝামেলা পছন্দ করি না।

    ঝামেলা আমিও পছন্দ করি না। মহিলাকে আমি ছেড়ে দিলাম, আপনিও গাড়িতে করে জোর করে নিয়ে গেলেন, পরে দেখা গেল আসলেই আপনাদের বিয়ে হয় নি।

    কাগজপত্র দেখালাম না?

    কাগজপত্রের দাম নাই।

    মনিরুজ্জামান সাহেব, পুলিশে কাজ করছি। দশ বছর ধরে—এই দশ বছরে একটা জিনিস শিখেছি-মানুষের চেয়ে বেশি মিথ্যা বলে কাগজ।

    সিগনেচার আপনি বিশ্বাস করেন না?

    জি না।

    আমি কিন্তু জানি কী করে বিশ্বাস করাতে হয়। বিশ্বাস করাবার মতো ব্যবস্থা নিয়ে আসব।

    আসুন। বিশ্বাস করাতে পারলে আমি ওনাকে ছেড়ে দেব। আপনি নিয়ে চলে যাবেন। শান্তি দিতে চাইলে দেবেন। পথেই কোথাও গলা টিপে মেরে ফেলতে পারেন। আপনার সমস্যা হবে না। ডাক্তাররা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আপনার কথামতো দেবে। পুলিশও ফাইনাল রিপোর্ট যা চাইবেন তাই দেবে।

    শুধু আপনি দিবেন না?

    জি না।

    কোন দিবেন না?

    কারণ আমি মানুষটা খারাপ।

    আমি ঠিক এক ঘণ্টা পরে আসব।

    এক ঘন্টা পরে এলে হবে না। আপনাকে বিকেলে আসতে বলেছি—আপনি বিকেলে আসবেন।

    হাতিঘোড়া গেল তল, চার পয়সার ওসি বলে কত জল?

    ওসি সাহেব হাই বলল, মনিরুজ্জামান বলল, মেয়েটা কোথায়? আমি ঐ মেয়েটার সঙ্গে কথা বলব। আমাকে কথাও বলতে দেবেন না?

    দেব। কথা বলতে দেব।

    মনিরুজ্জামান হারুনুর রশীদের দিকে তাকিয়ে ইশারা করল।

    হারুনুর রশীদ অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পঞ্চাশ হাজার টাকার ব্ৰাউন পেপারের প্যাকেট হাতে নিয়ে ঝট করে ব্রিফকেসে ভরে ফেলল। কাজটা সে করল দেখার মতো দ্রুততায়।

     

    পাগলী নতুন শাড়ি পরেছে। মাথায় চুল আঁচড়েছে। তাকে আর চেনা যাচ্ছে না। সে নিজেও মনে হয় হকচকিয়ে গেছে। চুপচাপ বসে আছে, কোনোরকম হৈচৈ করছে না। কিছুক্ষণ পরপর নিজের দুটা হাত তার চোখের সামনে ধরে গভীর মনোযোগের সঙ্গে কী যেন দেখছে। জরী বলল, তুমি কী দেখো?

    পাগলী হাসল।

    নাম কী তোমার?

    পাগলী জবাব দিল না।

    তোমার কি শাড়িটা পছন্দ হয়েছে?

    পাগলী হ্যা-সূচক মাথা নাড়ল এবং আবারও তার দুটা হাত চোখের সামনে মেলে ধরল।

    মুনা বলল, জরী আপা, মেয়েটাকে কী সুন্দর লাগছে দেখছেন?

    হুঁ, দেখছি।

    এত সুন্দর একটা মেয়ে পথে ঘোরে! আশ্চর্য!

    নইমা শুয়ে আছে। কম্বল বিছানো হয়েছে। কম্বলের উপর ফুলতোলা নতুন চান্দর। নতুন বালিশ। সবই আনানো হয়েছে। নইমা বালিশে মাথা রেখেই ঘুমুচ্ছে। তার জ্বর এসেছে। মুনা বসে আছে। নইমার মাথার কাছে।

    আনুশকা বলল, ওর জ্বর কি বেশি মুনা?

    হুঁ।

    সমস্যা হয়ে গেল তো!

    আপনাকে দেখে কিন্তু মনে হচ্ছে না। আপা কোনো সমস্যা আছে। শান্তমুখে বসে আছেন।

    আনুশকা হাসল। মুনা বলল, আপা, আমাদেরকে কি ওরা এখানে রাতেও আটকে রাখবে?

    না, ছেড়ে দেবে। সন্ধ্যার আগেই ছেড়ে দেবে।

    কীভাবে বলছেন?

    আমাদের সঙ্গে শুভ্ৰ আছে না? শুভ্রর কোনো সমস্যা তার বাবা-মা হতে দেবেন না।

    ওনারা তো আর জানেন না এখানে কী হচ্ছে।

    ইতোমধ্যে জেনে গেছেন বলে আমার ধারণা। তারা তাদের ছেলের ওপর লক্ষ রাখবেন না, তা হয় না।

    আনুশকার কথার মাঝখানেই মনিরুজ্জামান এসে দাঁড়াল। জরী হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। ভূত দেখলেও কেউ এত চমকায় না।

    মনিরুজ্জামান বলল, খেল তো ভালো দেখালে। যাই হোক, এখন সমস্ত খেলার অবসান হয়েছে। বিকেলে তোমাকে নিয়ে ঢাকা রওনা হব।

    আমাকে নিয়ে ঢাকা রওনা হবেন মানে? আমি আপনার সঙ্গে ঢাকা যাব কেন?

    স্বামীর সঙ্গে কোথাও যাবে না, এটা কেমন কথা?

    আপনি আমার স্বামী?

    অবশ্যই। বিয়ের কাবিননামাও নিয়ে এসেছি। ওসি সাহেবকে দেখলাম।

    বিয়ের কাবিননামা?

    এক লক্ষ এক টাকা কাবিনের কাবিননামা। বিকেলের মধ্যে তোমার বড় চাচাও চলে আসবেন।

    জরীর মুখে কথা আটকে গেল। কী একটা কথা অনেক বার বলতে গিয়েও বলতে পারল না।

    মনিরুজ্জামান হৃষ্ট গলায় বলল, আচ্ছা যাই—দেখা হবে বিকেলে।

    জরী তাকাল আনুশকার দিকে। আনুশকা হাসছে। আনুশকার হাসি দেখে পাগলীও হাসতে লাগল। এতে নইমার ঘুম ভেঙে গেলো। সে উঠে বসল এবং আনন্দিত গলায় বলল, কী হয়েছে? কী হয়েছে?

    মনিরুজ্জামান আর দাঁড়াল না। তার অনেক কাজ বাকি আছে। কাজ শেষ করতে হবে। নষ্ট করার মতো সময় হাতে নেই। ওসির স্ক্রু টাইট দিতে হবে, তবে যাবার আগে দলের ছেলেগুলিকে দেখে যাওয়া দরকার।

    রানা দেখল, থ্রি পিস সুট পরা এক ভদ্রলোক আসছেন। সে উৎসাহের সঙ্গে উঠে বসল। মনে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কেউ আসছে। তাদের মুক্তির ব্যবস্থা হচ্ছে। রানাই আগ বাড়িয়ে বলল, স্লামালিকুম।

    মনিরুজ্জামান বলল, ওয়ালাইকুম সালাম। আপনারা ভালো?

    জি স্যার, আছি মোটামুটি।

    কষ্ট হয় নি তো?

    মোতালেব বলল, কোনো কষ্ট হয় নি। অত্যন্ত আনন্দে সময় কাটছে। সময় কি ব্যাপার আগে জানতাম না। এখন জানি। আরো বৎসরখানেক এখানে থাকতে পারলে সায়েন্সের অনেক কিছু শিখতাম। আপনাকে তো ভাই চিনতে পারিছ না-আপনার পরিচয়?

    আমার নাম মনিরুজ্জামান। আমি জরীর হাসবেন্ড।

    কার হাসবেন্ড?

    জরীর। আমি তাকে নিতে এসেছি। বিকেলে ওকে নিয়ে চলে যাব। আপনারা যেখানে যাচ্ছেন চলে যান। আপনাদের ওপর আমার কোনো রাগ নেই। আপনাদের একটু সমস্যা হলো—তার জন্যে আমার স্ত্রীর হয়ে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

    রানা বলল, কী বললেন? আপনি কে?

    জরীর হাসবেন্ড।

    শুভ্ৰ বিস্মিত হয়ে বলল, জরী তো বিয়ে করে নি!

    মনিরুজ্জামান হাসিমুখে বলল, আপনাদের তাই বুঝিয়েছে, ঘটনা ভিন্ন। বিয়ে হয়েছে, কাবিন হয়েছে। এক লক্ষ এক টাকা মোহরানা। যাই, কেমন? খোদা হাফেজ।

    মনিরুজ্জামান হন।হন করে এগুচ্ছে। তার পেছনে হারুনুর রশীদ। হারুনুর রশীদ যে এতটা লম্বা তা আগে বোঝা যায় নি। এখন বোঝা যাচ্ছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে, একটা তালগাছ ব্রিফকেস হাতে কুজো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    দলের সবাই খানিকক্ষণ চুপচাপ বসে রইল। সঞ্জু বলল, অবস্থা ভালো মনে হচ্ছে না। শুভ্ৰ, তুই কি একটা কাজ করবি?

    কী কাজ?

    তুই তোর বাবাকে টেলিফোন করে ঘটনাটা বলবি? জরীকে একটা লোক জোর করে ধরে নিয়ে চলে যাবে-আর আমরা যাব দারুচিনি দ্বীপে। তা কী করে হয়?

    শুভ্ৰ চুপ করে আছে। সঞ্জু বলল, কথা বলছিস না কেন?

    বাবাকে কী বলব?

    তোর কিছু বলতে হবে না। তোর বাবাই তোর ভেতর থেকে সব কথা টেনে বের করে নিয়ে আসবেন।

    শুভ্ৰ অস্বস্তির সঙ্গে চুপ করে আছে। রানা রাগী ভঙ্গিতে বলল, তুই এমন স্টোন ফেস হয়ে গেলি কেন? বাবার সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা লাগছে?

    শুভ্র বলল, বাবাকে কিছু বলার দরকার নেই।

    বলার দরকার নেই কেন?

    আমার ধারণা বাবা সবই জানেন।

    গাধার মতো কথা বলবি না শুভ্ৰ। তোর বাবা কোনো পীর-ফকির না যে সব জানে। তোকে টেলিফোন করতে বলা হয়েছে, তুই টেলিফোন করবি এবং কাঁদো-কাঁদো গলায় বলবি, আমাদের রক্ষা করো। এস ও এস। বাঁচাও বাঁচাও।

    এরা কি আমাদের টেলিফোন করতে দেবে?

    এইটা একটা টেকনিক্যাল কথা বলেছিস। তোকে টেলিফোন করতে দেবে। কি-না সেটা হচ্ছে কথা। সম্ভবত দেবে না—তবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

    বল্টু বলল, প্রয়োজনে আমি ওসি সাহেবের পা চেপে ধরব। অনেক ধরনের মানুষের পা ধরেছি, পুলিশের পা কখনো ধরি নি। পা ধরে সবচে বেশি মজা কখন পেয়েছিলাম জানিস? একবার এক পীর সাহেবের পা ধরেছিলাম-কী মোলায়েম পা! ধরলে ছাড়তে ইচ্ছা করে না।

     

    শুভ্র ওসি সাহেবের সামনে বসে আছে। ওসি সাহেব টেলিফোন সেট তার দিকে বাড়িয়ে বললেন, নিন, টেলিফোন করুন।

    শুভ্ৰ বিব্রত মুখে বলল, আমি নাম্বার ভুলে গেছি।

    নাম্বার ভুলে গেছেন মানে? নিজের বাসার নাম্বার মনে নেই?

    জি না। বাসায় তো কখনো টেলিফোন করা হয় না। তবে আমার হ্যান্ডব্যাগের পকেটে একটা ডায়েরি আছে—সেখানে নাম্বার লেখা আছে।

    আচ্ছা, হ্যান্ডব্যাগ আনিয়ে দিচ্ছি। শুভ্র ডায়েরির জন্যে অপেক্ষা করছে। ওসি সাহেব কৌতূহল এবং আগ্রহ নিয়ে শুভ্ৰকে দেখছেন।

    টেলিফোন ধরলেন শুভ্রর মা। শুভ্র বলল, মা, কেমন আছ?

    রাহেলা প্ৰায় হাহাকার করে উঠলেন, তুই কেমন আছিস বাবা?

    ভালো।

    তোর চশমা! তোর চশমা আছে?

    হুঁ, আছে।

    খাওয়া-দাওয়ার কি কোনো সমস্যা হচ্ছে?

    না, কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

    বাইরের পানি খাচ্ছিস না তো?

    উঁহু।

    একসঙ্গে বেশি করে পানির বোতল কিনে নে।

    আচ্ছা মা, নেব।

    গত রাতে ভালো ঘুম হয়েছিল তো?

    হুঁ।

    এদিকে আমি সারারাত ঘুমুতে পারি নি। শুধু দুঃস্বপ্ন দেখেছি। শুভ্ৰ, তুই ভালো আছিস তো?

    আমি ভালো আছি মা।

    তোর বন্ধুরা? ওরা ভালো আছে তো?

    হ্যাঁ, ওরাও ভালো আছে। আচ্ছা মা, বাবা কি অফিসে, না বাসায়?

    তোর বাবা বাসায়। আজ কোথাও যায় নি। ওর শরীরটা নাকি ভালো না।

    বাবা কী করছেন?

    বিছানায় শুয়ে শুয়ে রেস্ট নিচ্ছে। বই পড়ছে।

    কী বই পড়ছেন মা?

    কী বই পড়ছে তা তো দেখিনি—দেখে আসব?

    না, তুমি বাবাকে দাও।

    তুই আমার সঙ্গে আরেকটু কথা বল শুভ্ৰ। তারপর তোর বাবাকে দেব।

    উঁহু, তুমি আগে বাবাকে দাও। তারপর আমি আবার তোমার সঙ্গে কথা বলি।

    তুই কি আমাকে মিস করছিস শুভ্র?

    হুঁ। মা, তুমি বাবাকে দাও।

    ইয়াজউদ্দিন সাহেব টেলিফোন-রিসিভার হাতে নিয়ে ভারি গলায় বললেন, হ্যালো।

    শুভ্র বলল, বাবা, তুমি কী বই পড়ছ? তোমার হাতে এখন কী বই?

    বইটার নাম হলো Moon is down.

    শুভ্ৰ খুশি-খুশি গলায় বলল, তুমি আমার টেবিল থেকে বইটা নিয়েছ, তাই না?

    হুঁ।

    এটা তোমার জন্মদিনে দেবো বলে আনিয়ে রেখেছিলাম। প্যাকেট করা বই তুমি খুললে কেন? না বলে প্যাকেট খোলা তো নিষেধ।

    মানুষের প্রকৃতি এমন যে সে সব সময় নিষেধ অমান্য করে।

    বইটা তোমার কেমন লাগছে বাবা?

    ভালো, খুব ভালো।

    তোমার কি চোখে পানি এসেছে?

    এখনো আসেনি।

    পঞ্চাশ পৃষ্ঠার পর থেকে দেখবে—একটু পরপর চোখ ভিজে উঠেছে। তুমি ক পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়েছ?

    কুড়ি-পঁচিশ পৃষ্ঠা হবে।

    বাবা তোমার সঙ্গে আমার খুব জরুরি কয়েকটা কথা আছে।

    এখন তুমি ছুটি কাটাতে গেছ, এখন আবার জরুরি কথা কী? এখন শুধু হালকা কথা বলবে।

    কথাটা খুব জরুরি বাবা।

    আমি তোমার কোনো জরুরি কথা শুনতে চাচ্ছি না।

    বাবা, আমরা খুব বিপদে পড়েছি।

    মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করেছ, বিপদে তো পড়বেই। বিপদে পড়বে, আবার বিপদ থেকে বের হয়ে আসবে। আবার পড়বে। দিস ইজ দ্য গেম।

    পুলিশ আমাদের ধরে এনে হাজতে রেখে দিয়েছে।

    ও, আচ্ছা।

    আমাদের সঙ্গে জরী নামের যে মেয়েটি আছে—তার হাসবেন্ড এসেছে তাকে নিয়ে যেতে।

    হাসবেন্ড নিয়ে যেতে চাইলে তো তোমরা কিছু করতে পারবে না। পুরুষশাসিত সমাজে স্বামীর অধিকার স্বীকৃত।

    লোকটির সঙ্গে জরীর বিয়ে হয় নি। লোকটা মিথ্যা কথা বলছে। মিথ্যা কথা বলে মেয়েটিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।

    উল্টোটাও তো হতে পারে। হয়তো মেয়েটাই মিথ্যা বলছে। মেয়েরা পুরুষদের চেয়েও গুছিয়ে মিথ্যা বলতে পারে। একজন পুরুষ যখন মিথ্যা কথা বলে তখন বোঝা যায়। সে মিথ্যা বলছে। কিন্তু একটা মেয়ে যখন মিথ্যা বলে তখন বোঝার কোনো উপায়ই নেই সে মিথ্যা বলছে।

    তুমি খুবই অদ্ভুত কথা বলছ বাবা।

    এটা আমার কথা না। যে বইটা এই মুহূর্তে আমি পড়ছি সেই বইয়ের নায়ক বলছে, তোর প্রিয় বই Moon is down-এ-ই এটা লেখা।

    ঐ লোকটা একটা ফ্রড বাবা। ওর প্রতিটা কথাই মিথ্যা।

    ও আচ্ছা।

    বাবা শোনো—আমরা ভয়ংকর বিপদে পড়েছি। তুমি কি কিছু করতে পারো আমাদের জন্য?

    না।

    না কেন?

    আমি তোমাকে বিপদে ফেলি নি, কাজেই বিপদ থেকে তোমাকে টেনে তোলার দায়িত্বও আমার নয়। তুমি স্বাধীনতা চেয়েছ, তোমাকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। বন্ধু-বান্ধব নিয়ে রওনা হয়েছ। এখন তুমি হুট করে আমার সাহায্য চাইতে পারো না।

    শুভ্ৰ চুপ করে রইল। ইয়াজউদ্দিন সাহেব বললেন, তা ছাড়া আমি সারা জীবন বেঁচে থাকব না। এ জীবনে আমি যা সঞ্চয় করেছি সেইসব রক্ষার দায়িত্ব তোমার। আজ যদি এই সামান্য বিপদ থেকে নিজের চেষ্টায় বের হতে না পারো, তাহলে ভবিষ্যতে বড় বড় বিপদ থেকে উদ্ধার পাবে কী করে? বুঝতে পারছি আমি কী বলছি?

    পারছি।

    যখন কোনো সমস্যা আসবে তখন সমস্যাটাকে একটা বস্তুর মতো তোমার সামনের টেবিলে রাখবে। নানান দিক থেকে সমস্যাটা দেখবে। এক সময় লক্ষ করবে সমস্যাটির একটা দুর্বল দিক আছে। তুমি আক্রমণ করবে দুর্বল দিকে।

    আমার সমস্যার দুর্বল দিক কোনটা বাবা?

    যে লোক সমস্যা তৈরি করেছে, মেয়েটির হাসবেন্ড বলে যে নিজেকে দাবি করছে সেই সবচে দুর্বল। সে দুর্গ তৈরি করেছে মিথ্যার উপর। এ জাতীয় লোকেরা ভীতু প্রকৃতির হয়। এদের ভয় দেখালে এরা অসম্ভব ভয় পায়। এদের ভয় দেখাতে হয়। ছোটখাটো ভয় না। বড় ধরনের ভয়।

    ভয় কীভাবে দেখাব?

    সেটা তুমি জানো কীভাবে ভয় দেখাবে।

    আমি ভয় দেখালেই সে ভয় পাবে কেন?

    তুমি ভয় দেখালে সে ভয় পাবে, যদি সে জানে তুমি কে। তোমার ক্ষমতা কী?

    বাবা, আমার তো কোনো ক্ষমতা নেই।

    তোমার ক্ষমতা হচ্ছে, তোমার অর্থ! তোমার সঙ্গে চেকবই আছে না?

    জি, আছে।

    তুমি যদি চেকবই বের করে এক কোটি টাকার একটা চেক লিখে দাও, সেই চেক ফেরত আসবে না। ব্যাংক সেই চেক অনার করবে। এইখানেই তোমার ক্ষমতা। এই ক্ষমতা দিয়ে তুমি যে কোনো মানুষকে ভয় দেখাতে পারো।

    কিন্তু বাবা, এই ক্ষমতা তো মিথ্যা ক্ষমতা। হ্যাঁ, এই ক্ষমতা মিথ্যা। কোনো ক্ষমতাবান লোকই এই ব্যাপারটা জানে না। Thats the thing about you. শুভ্র অনেকক্ষণ কথা হলো, এখন টেলিফোন রাখি?

    তুমি আর কিছু বলবে না বাবা?

    হ্যাঁ বলব। I love you my son. এবং তুমি তোমার মুন ইজ ডাউন বইটিতে আমার সম্পর্কে যে উক্তি করেছ তা আমি পড়েছি। থ্যাংক য়্যু।

    ইয়াজউদ্দিন টেলিফোন নামিয়ে রেখে হাতের বই খুললেন। প্রথম পাতায় শুভ্র সবুজ কালি দিয়ে লিখে রেখেছে

    বাবা,
    জন্মদিন শুভেচ্ছা।
    আমার খুব ইচ্ছা করে আমি তোমার মতো হই।
    শুভ্র।

    ইয়াজউদ্দিন দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে মনে মনে বললেন, শুভ্ৰ শুভ্রর মতোই থাকুক। ওকে আমার মতো হতে হবে না।

    রাহেলা বললেন, তুমি টেলিফোন রেখে দিলে কেন? আমি শুভ্রের সঙ্গে কথা বলতাম।

    স্যারি। আমি আবার যোগাযোগ করে দিচ্ছি।

    না লাগবে না।

    রাহেলার চোখে পানি এসে গেছে। তিনি চোখ মুছছেন।

    ওসি সাহেব বললেন, শুভ্র সাহেব, আপনার টেলিফোনের কথা তো শেষ হয়েছে।

    জি।

    কী বললেন আপনার বাবা?

    বাবা আমাকে মনিরুজ্জামান নামের ঐ লোকটার সঙ্গে কথা বলতে বললেন।

    কথা বলবেন?

    জি, কথা বলব।

    উনি চলে এসেছেন। আমি ডেকে দিচ্ছি। আপনারা কথা বলুন। নিরিবিলি কথা বলুন।

    ওসি সাহেব, আপনিও থাকতে পারেন।

    মনিরুজ্জামান এসে বসল শুভ্রর সামনের চেয়ারে। মনিরুজ্জামানের পাশে বসেছে হারুনুর রশীদ। সে কৌতূহলী হয়ে শুভ্রকে দেখছে।

    শুভ্র বলল, স্লামালেকুম।

    ওয়ালাইকুম সালাম। আমি আপনাকে চিনতে পারি নি ভাই। আপনি ইয়াজউদ্দিন সাহেবের ছেলে। বাহ ভালো। আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুব আনন্দিত হয়েছি। ছিছি, এটা তো বিরাট লজ্জার ব্যাপার হয়ে গেল, ইয়াজউদ্দিন সাহেবের ছেলে কি-না হাজতে। ইয়াজউদ্দিন সাহেবের কাছে তো মুখ দেখাতে পারব না।

    শুভ্র বলল, আপনি আমাদের এই ঝামেলা দূর করবেন, আশা করি।

    অবশ্যই, অবশ্যই। আমি ওসি সাহেবকে বলে দিয়েছি। আপনাদের ওপর থেকে যত চার্জ ছিল সব তুলে নেয়া হয়েছে। আপনারা আপনাদের মতো বেড়াতে যাবেন। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে ফিরে যাব।

    জরীও আমাদের সঙ্গে যাবে।

    কী বললেন?

    শুভ্ৰ শান্তমুখে বলল, আপনি যথেষ্ট যন্ত্রণা করেছেন। তার পরেও আপনাকে ক্ষমা করেছি। এরচে বেশি যন্ত্রণা করার চেষ্টা করলে ক্ষমা করব না।

    কী করবেন?

    আপনি জীবিত ঢাকা ফিরবেন না।

    কী বললেন?

    এই বাক্যটি আমি দ্বিতীয় বার বলব না। তবে যে বাক্যটি বলা হয়েছে—তা কার্যকর করার সমস্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই তথ্যটা আপনার জানা থাকা দরকার।

    শুভ্ৰ উঠে দাঁড়াল। মনিরুজ্জামান বলল, আরে বসেন, বসেন। রাগ করে উঠে যাচ্ছেন কেন? চা খান। ওসি সাহেব, আমাদের একটু চা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন না রে ভাই।

    শুভ্ৰ বলল, আমি চা খাই না।

    মনিরুজ্জামান হাত ধরে টেনে তাকে বসিয়ে ফেলল। হাসিমুখে বলল, আমাদের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি থাকবে এটা কেমন কথা? আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে …

    এখানে আলাপ-আলোচনার কিছু নেই।

    আচ্ছা, না থাকলে নাই। চা তো খাওয়া যাবে। আমার সঙ্গে চা খেতে তো অসুবিধা নেই?

    অসুবিধা আছে।

    ওসি সাহেব হাই তুলতে তুলতে বললেন, শুভ্ৰ সাহেব, ঢাকা থেকে আপনার কাছে এক ভদ্রলোক এসেছেন। রফিক নাম। উনি থানার বাইরে অপেক্ষা করছেন। আপনি কি ওনার সঙ্গে কথা বলবেন?

    শুভ্র বলল, ওনাকে অপেক্ষা করতে বলুন।

    মনিরুজ্জামানের মুখ ছাইবৰ্ণ হয়ে গেল। সে পরপর দুবার টোক গিলল।

    শুভ্ৰ দেখল তার বাবার কথাই ঠিক হয়েছে। ভয় কাজ করছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজোছনা ও জননীর গল্প – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article হিমুর দ্বিতীয় প্রহর – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }