Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রূপ দর্শন

    অন্নদাশঙ্কর রায় এক পাতা গল্প18 Mins Read0

    রূপ দর্শন

    সেদিন নয়নমোহনের সঙ্গে বহুকাল পরে দেখা। এসেছিলেন এক বিয়েবাড়িতে বরযাত্রী হয়ে। আমি ছিলুম কন্যাপক্ষের নিমন্ত্রিত। দেখা হতেই দু-হাত ধরে বললেন, ‘মনে পড়ে?’

    আমি তাঁর দুই হাতে ঝাঁকানি দিয়ে বললুম, ‘না, মনে পড়বে কেন? মনে পড়ার তো কারণ নেই। মনে পড়ার তো কথা নয়।’

    তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেন। ইচ্ছা ছিল তোমার ওখানে উঠতে। কিন্তু জানই তো বরযাত্রীরা স্বাধীন নয়। এসেছি একটা দলের সঙ্গে দলচর হয়ে। সেইজন্যে—’

    ‘সেইজন্যে একখানা চিঠি লিখেও জানাতে নেই যে আসবার কথা আছে ময়মনসিংহে। না নয়নদা, তোমাকে আমার মনে পড়ে না। মনে পড়বে যদি তুমি এখনও আমার ওখানে ওঠো।’

    ‘না ভাই, এ যাত্রা নয়। এরপরে আবার যদি কোনোদিন আসা হয় তো নিশ্চয়। এবার আমাকে মাফ করতে হবে। বুঝলে?’

    তাঁর কন্ঠস্বরের কারুণ্য আমাকে স্পর্শ করেছিল। আমি তাঁকে পীড়াপীড়ি করলুম না, শুধু একবার চা খেতে ডাকলুম। তিনি রাজি হলেন। পরের দিন চা খেতে এসে শুধালেন, ‘তুমি আমাকে একবার কী বলেছিলে মনে আছে?’

    বিশ বছর পরে দেখা। কী করে আমার মনে থাকবে কী বলেছিলুম কবে? আমি মাথা নেড়ে জানালুম, না, মনে নেই।

    ‘বলেছিলে, রূপ ভগবান সবাইকে দিয়েছেন, দেখবার চোখ দেননি সবাইকে। যাদের দিয়েছেন তারাই শিল্পী, তারা সকলের রূপমুগ্ধ।’

    ‘তাই নাকি? কই, আমার তো মনে নেই।’

    ‘তোমার মনে থাকার কারণ নেই, আমার মনে থাকার কারণ আছে। তাই সেদিন ভাবছিলুম, তোমার কথাই অবশেষে সত্য হল কবি।’ তিনি আমাকে কবি বলে ডাকতেন।

    ‘কিন্তু সত্য না হলেই ভালো হত।’ তিনি সেই নিশ্বাসে বললেন। ‘এ যা হল তা আরও মর্মান্তিক।’

    আনি জানতুম নয়নদার বিয়ের গল্প। জানতুম না তার পরিণতি। নয়নদার বিয়েতে আমি বরযাত্রী হয়েছিলুম, কবিতা লিখে ছাপিয়েছিলুম। বোধহয় বউদির রূপ দর্শন করে সান্ত্বনাচ্ছলে বলেছিলুম, রূপ ভগবান সবাইকে দিয়েছেন, দেখবার চোখ দেননি সবাইকে। তার মানে, রূপ ভগবান সবাইকে দেননি, যাকে দেননি সেও রূপবতী কবির চোখে।

    আমি তো রিয়্যালিস্ট নই, হলে সাফ কথা শুনিয়ে দিতুম নিষ্ঠুরভাবে। কিন্তু যাঁর বিয়ে তিনি ছিলেন বাস্তববাদী। রূঢ় বাস্তব তাঁকে কাঁদিয়ে ছাড়ল। বিয়ের পরে তিনি আমাদের কারো কারো কাছে চোখের জল ফেলে বলেছিলেন, ‘ভাই, এ যে পোড়াকাঠ।’ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেছিলেন, ‘দাঁত বার করা, নাক চাপা, এ যে করালী।’

    নয়নমোহনের নিজের মত ছিল না, তিনি শাসিয়ে রেখেছিলেন আত্মঘাতী হবেন। কিন্তু তাঁর দাদারা তাঁর মাকে বুঝিয়েছিলেন যে, ডিক্রিদারের হাত থেকে সম্পত্তি রক্ষা করতে হলে ডিক্রিদারের দুহিতাকে বধূ করতে হবে। মা বললেন, ‘সম্পত্তি যদি যায় তো কে তোকে সুন্দর মেয়ে দেবে? কী দেখে? তখন তো সেই কালো মেয়েই বিয়ে করতে হবে। দেখিস আমার কথা ফলে কি না ফলে।’

    এর উত্তরে নয়নদা বলেছিলেন, ‘তা কেন হবে! আমি যদি বিয়ে না করি।’

    ‘শোনো কথা! যদি বিয়ে না করি। তা কি কখনো হয়! বিয়ে না করলে তোকে রেঁধে খাওয়াবে কে?’

    নয়নদার ঠাকুমা তখনও বেঁচে। তিনিই নাতির নাম রেখেছিলেন নয়নমণি। নয়নমণি থেকে বিবর্তনসূত্রে নয়নমোহন। বুড়ি বললেন, ‘তোর বাপও বলত বিয়ে করব না, সন্ন্যেসি হব। কী বলে ওকে, কী আনন্দ? বেবাক আনন্দ। বাপ বিয়ে না করলে তুই হতিস কী করে? বল আমাকে, বল।’

    বউদিরা বললেন, ‘দেখছ তো আমাদের দশা। রূপ থেকেও নেই, কেননা রুপো নেই। গয়না পর্যন্ত বন্ধক। আসল জিনিস হল টাকা। তোমার শ্বশুরের তা আছে। এমন পাত্রী হাতছাড়া করতে নেই। করলে তোমায় বলব লক্ষ্মীছাড়া।’

    নয়নমোহন বাড়ির অবস্থা জানতেন না। বউদিদের কথায় হুঁশ হল। তিনি ছিলেন রিয়্যালিস্ট, তাই শেষপর্যন্ত মত দিলেন। কিন্তু অন্তর থেকে তো দেননি। অন্তর কেন তা মানবে? সেইজন্যে বিয়ের পরের দিন তাঁর কাঁদুনি। এবং সেই উপলক্ষ্যে আমার সান্ত্বনাবাণী।

    আমরা যাঁরা তাঁর অন্তরঙ্গ ছিলুম তাঁরা জানতুম এ বিবাহে তিনি সুখী হবেন না। হতে পারেন না। কারণ আর সব বিষয়ে বাস্তববাদী হলেও বিবাহ সম্বন্ধে তিনি ছিলেন আদর্শবাদী। তাঁর পরম কাম্য ছিল তন্বী-শ্যামা-শিখরিদশনা-পক্ব বিম্বাধরোষ্ঠী। কখনো কাউকে ভালোবেসেছিলেন কি না বলতে পারব না, কিন্তু যাকে তিনি ভালোবাসবেন সে কেমন হবে তা তিনি তাঁর অন্তরঙ্গদের মাঝে মাঝে শোনাতেন।

    বিয়ের পরে রসিকতা করে কে একজন তাঁকে বলেছিল, ‘তুমিই জিতলে। যা চেয়েছিলে অবিকল তাই পেলে। তন্বী মানে রোগা, শ্যামা মানে কালো, শিখরিদশনা মানে পাহাড়ের মতো দাঁত, আর পক্ব বিম্বাধরোষ্ঠী মানে ফাটা তেলাকুচার মতো ঠোঁট দুটির মাঝখানে অনেকটা ফাঁক।’

    নয়নদা বেচারার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়েছিল ও-কথা শুনে। তাঁর সবচেয়ে মনে লেগেছিল আরেকজনের বক্রোক্তি, ‘নয়ন, তুমি চোখে অন্ধকার দেখছ।’

    আমরা তাঁর বন্ধুরা তাঁকে নানাভাবে সান্ত্বনা দিয়ে প্রকৃতিস্থ করি, নইলে তিনি হয়তো বিকৃতিবশত কিছু একটা করে বসতেন। আমি যে ঠিক কী কথা বলেছিলুম আমার মনে ছিল না। তাঁর মনে ছিল দেখছি।

    ‘তোমার কথাই অবশেষে সত্য হল, কবি,’ তিনি বললেন, ‘কিন্তু সত্য না হলেই ভালো হত। এ যা হল তা আরও মর্মান্তিক।’

    আমি উৎকন্ঠিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলুম, ‘কী হয়েছে নয়নদা? খারাপ কিছু নয় তো?’

    ‘না, খারাপ কিছু নয়। সমূহ কুশল।’

    আমি নিশ্চিন্ত হলুম, কিন্তু নিরস্ত হলুম না। জানতে চাইলুম, ‘তাহলে আরও মর্মান্তিক কেন?’

    তিনি বললেন, ‘শোনো তাহলে।’

    সত্যেন দত্তের একটি জাপানি কবিতা থেকে অনুবাদ মনে পড়ে।

    অতি বড় অভাগা যে আমি একটা

    আমি কিনা পেয়ে গেলুম মনিব্যাগটা।

    বিয়ের পরে আমার মনোভাব ধীরে ধীরে দাঁড়াল ওই জাপানিটির মতো। আর কিছু না পাই টাকার থলি তো পেয়েছি। এই-বা কজন পায়! জীবিকার জন্যে আমাকে পরের চাকরি করতে হবে না, স্বাধীন ব্যাবসাতে মূলধনের অভাব হবে না, ব্যাবসা ফেল মারলেও সংসার অচল হবে না, লক্ষ্মী হবেন অচলা। এ কি কম কথা! এত যে দুশ্চিন্তা ছিল এমএ পাস করে তার পরে কী করব, কোথায় স্থিতি পাব, সব দুশ্চিন্তা জল হয়ে গেল। সমবয়সিদের কেউ কেউ এখনও স্থিতি পায়নি, খবর রাখো বোধহয়। বিশ বছর পরেও তাদের জীবনযাত্রা অস্থির। আর আমি সবদিক থেকে গুছিয়ে নিয়েছি। স্বাস্থ্য আমার এত ভালো যে একদিনও অনিদ্রা হয় না। আর তোমার তো শুনি কোনোদিন সুনিদ্রা হয় না। তুমি কৃপার পাত্র। কালো মেয়ে বিয়ে করলে ভালো থাকতে।

    জান তো আমাদের কেমন খানদানি বংশ। আগেকার দিনে সুন্দর মেয়ে আমরা লুট করে বিয়ে করতুম। তারপরে কৌলীন্যপ্রথার সুযোগ নিয়ে সুন্দর মেয়ে ঘরে আনি। বর্ণকৌলীন্য যখন উঠে গেল তখন কাঞ্চনকৌলীন্য আমাদের ওই কাজে লাগল। আমরা পণ নিতুম না, যৌতুক নামমাত্র নিতুম, কিন্তু বউ আনতুম সুন্দরী দেখে। এর ব্যতিক্রম যে হত না তা নয়। এমন কোন নিয়ম আছে যার নিপাতন নেই? কিন্তু তা বলে আমার নিজের বেলা ব্যতিক্রম হবে এ আমি কল্পনা করিনি। আমার দাদারা সুন্দরী বিয়ে করেছেন। আমার ধারণা ছিল আমারও জন্মস্বত্ব সুন্দরী ভার্যা। বাবা যদি হঠাৎ মারা না যেতেন, সম্পত্তি যদি মর্টগেজ রেখে না যেতেন, তাহলে এ অঘটন ঘটত না। বংশের ব্যতিক্রম হয়ে নাম হাসাতুম না।

    তোমাকে আমি হিংসা করি। তোমার মতো ভাগ্যবান বন্ধুদের সবাইকে হিংসা করি। যেদিন তোমার বিয়ের খবর পড়ি সেদিন যেন বুকে শেল বাজল। বিশ বছর দেখা হয়নি বলে আশ্চর্য হচ্ছ। এ জীবনে দেখা হল এইটেই আশ্চর্য। তুমি জিতেছ, আমি হেরেছি। তোমার সঙ্গে কোন মুখে দেখা করতুম! আমারই মতো যারা দুর্ভাগা তাদের সঙ্গে দেখা হয় বছরে দু-বছরে একবার। কেউ কেউ আবার এমন হতভাগা যে সেই জাপানি বেচারার মতো মানিব্যাগটা তুলে নিয়ে দেখে—‘ট্রামগাড়ি চাপাপড়া ব্যাং চ্যাপটা।’

    গোপেনকে মনে আছে তোমার? আবগারি সুপারিন্টেণ্ডেন্ট হয়েছে এখন। গোপেন আমাকে রামপ্রসাদি গান গেয়ে শোনাত। বলত, কালো ভুবন আলো। তেমন তার সাজা পেতে হল নিজের। বিয়ে হল কালো মেয়ের সঙ্গে। আশা করেছিল শ্বশুর তাকে অর্ধেক রাজত্ব দিয়ে যাবেন, কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষ বিয়ে করে দিয়ে গেলেন আরও কয়েকটি কৃষ্ণকলির অভিভাবকত্ব। গোপেন কিন্তু আমাকে বাঁচবার প্রেরণা দিয়েছিল। তাকে বলতুম, আচ্ছা, কালো নাহয় আলো, কিন্তু খাঁদা কী করে টিকোলো হবে? সে বলত, চীন দেশে খাঁদা নাকের ওপর তিন হাজার বছর ধরে কবিতা লেখা হয়ে আসছে, ও-দেশের রামপ্রসাদি গান কালীভক্তির নয়, খাঁদি ভক্তির। তা যেন হল, কিন্তু দাঁত বার করা কি সহ্য হয়? যেন খেতে আসছে। গোপেন বলত, এর উত্তর দিয়ে গেছেন জয়দেব কবি। বদসি যদি কিঞ্চিদপি দন্তরুচি কৌমুদী। খেতে আসছেন না, বলতে আসছেন যে তুমি আমার প্রিয়, আমি তোমার প্রিয়া। বচনের উল্লাসে জ্যোৎস্নার মতো ফুটে উঠছে দশন।

    মানুষের বাইরেটা কিছু নয়, ভিতরটা আসল। রূপ কিছু নয়, গুণই আসল। একথা আমি কত লোকের মুখে শুনেছি, বিশ্বাস করেছি, মুখ ফুটে বলেওছি কিন্তু সান্ত্বনা পাইনি। রূপের স্বাদ কি গুণে মেটে? রূপ ক্ষণকালের, গুণ চিরকালের। তা বলে কি ক্ষণপ্রভার মূল্য কিছু কম? যখন শুনতুম বউটি বড়ো গুণের তখন খুশি হতুম খুবই, কিন্তু তার চেয়েও খুশি হতুম যদি শুনতুম চোখ দুটি তো বেশ। গুণের প্রশংসা যত শুনতুম রূপের সুখ্যাতি তার সিকির সিকিও নয়। রাগ ধরত যখন ওরা বলত বউমানুষের রূপের প্রয়োজন নেই। রূপের প্রয়োজন নাকি রূপোপজীবিনীর! তবে বউদিদিদের আনা হয়েছিল কী দেখে? তাঁদের রূপবন্দনায় পঞ্চমুখ যারা তারাই আবার রূপের অসারতা ঘোষণা করত আমাদের শুনিয়ে শুনিয়ে।

    মাঝে মাঝে মনে পড়ত তোমার উক্তি। রূপ ভগবান সবাইকে দিয়েছেন। সবাইকে দিয়েছেন তো কৃষ্ণাকেও দিয়েছেন। তাহলে আমার চোখে পড়ে না কেন? লোকের চোখে পড়ে না কেন? এর উত্তর, দেখবার চোখ তিনি সবাইকে দেননি; আমাকে দেননি, লোকেদেরকে দেননি। কৃষ্ণার রূপ আছে, আমাদের চোখ নেই। এ কি সত্য? অনেক ভেবেছি, কিন্তু সত্য বলে মেনে নিতে পারিনি। ধরে নিয়েছি এটা একটা স্তোকবাক্য। এ বলে তুমি আমাকে সান্ত্বনা জানিয়েছ। ওটা তোমার বন্ধুকৃত্য কিন্তু বন্ধুতানিরপেক্ষ ধ্রুবসত্য নয়। তোমার বিয়ের পরে মনে হয়েছিল তুমি আমাকে পরিহাস করে ও কথা বলেছিলে, ওটা তোমার শ্লেষ। কিছুকাল তোমার ওপর বিরূপ হয়েছিলুম। তোমাকে আক্রমণ করে একটা প্রবন্ধ লিখে মাসিকপত্রে পাঠিয়েছিলুম। তারা ছাপল না। ভাগ্যিস ছাপেনি।

    ক্রমে আমার প্রতীতি হল যে, রূপবোধ একটা সংস্কার। জনম অবধি আমি রূপ নিরীক্ষণ করেছি, সেইজন্যে কৃষ্ণাকে মনে হচ্ছে কুরূপ। ধরো, যদি শিশুকাল থেকে কুরূপ নিরীক্ষণ করতুম তাহলে কি কৃষ্ণাকে মনে হত কুরূপ। না, তাহলে তাকে মনে হত আর সকলের অনুরূপ। এই প্রতীতির পর আমি একান্নবর্তী পরিবার থেকে পৃথক হতে চাইলুম। কেন, সে কথা খুলে বললুম না। বউদিদিদের মুখ দর্শন করে তারপরে কৃষ্ণার মুখ দর্শন করলে কৃষ্ণাকে কুরূপ দেখাবেই। এর একমাত্র প্রতিকার বউদিদিদের মুখ দর্শন না করা। যে-বাড়িতে কেবল কৃষ্ণাই একমাত্র নারী সে-বাড়িতে সুরূপ-কুরূপের বৈষম্য নেই। দেখলুম কৃষ্ণাকে আমার তত খারাপ লাগছে না। তার চোখ দুটি সত্যি সুন্দর। তার প্রোফাইলের ফোটো নিয়ে দেখা গেল মন্দ মানায় না। রূপ বলতে আমরা শুধু গায়ের রং আর মুখের সৌষ্ঠব বুঝি। এতে কিন্তু অনেকের প্রতি অবিচার করা হয়। কৃষ্ণা ক্ষীণমধ্যা, এখানে তার জিত। সে সুকেশী, এখানে তার জিত। তার তনুরেখা বঙ্কিম ও সুমিত, এখানে তার জিত। তার গড়ন মাংসল নয়, দিঘল, এখানে তার জিত। হাতের আঙুল, পায়ের পাতা অপূর্ব ব্যঞ্জনাময়, এখানে তার জিত। এভাবে বিশ্লেষণ করলে কৃষ্ণার জিত অনেক বিষয়ে। কিন্তু সৌন্দর্য তো বিশ্লেষণ করবার বস্তু নয়। আর আমিও নই সম্পূর্ণ নিরাসক্ত সমালোচক। ও যদি আমার না হয়ে পরের হত আমি ওকে রূপের পরীক্ষায় পাস মার্ক দিতুম। কিন্তু ও আমার হয়েই ফেল করেছে। এইটেই মর্মান্তিক।

    একটি ছেলে একটি মেয়ে হবার পর আমি বাইরের বারান্দায় পৃথক শয্যা পাতলুম। কৃষ্ণা ভেবেছিল দু-দিনের বৈরাগ্য। একটু হেসেছিলও। কিন্তু মাসের পর মাস কাটে, আমার সংকল্পের পরিবর্তন হয় না। আমার মনে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না, আমি মনস্থির করে ফেলেছিলুম। ওদিকে কৃষ্ণার মনে দোটানা। সে একা শুয়ে শান্তি পায় না, অথচ আমার কাছে এসে বাইরে শুতে সাহস পায় না। একদিন শেষরাত্রে সে এল আমার কাছে। এসে লুটিয়ে পড়ল। তার কন্ঠে দুর্জয় ক্রন্দন। ধরা গলায় বলল, ‘তুমি কি আর আমার সঙ্গে শোবে না?’

    তাকে অনেক বোঝালুম, কিন্তু বৃথা চেষ্টা। শেষে রাগ করে বললুম, ‘আমি কোথাও চলে যাব, হিমাচলে কি পন্ডিচেরিতে।’ তা শুনে সে কেঁদে আকুল। পরের দিন জেদ ধরল, ‘আমাকে আমার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দাও। এবাড়িতে যে-ই আসে সে-ই জানতে চায় আলাদা বিছানা কেন? লজ্জায় মারা যাই।’ বাপের বাড়ি থেকে কয়েক মাস পরে আপনি ফিরে এল। বাপের বাড়িতেও সকলে জানতে চায় আলাদা থাকার কারণ কী। লজ্জায় মারা যায়। ফিরে এসে আবার সেই একই সমস্যা। লজ্জায় বাঁচে না। একদিন আমাকে মিনতি করে বলল, ‘অন্তত এক বিছানায় শোও। মাঝখানে ছেলে-মেয়ে। লোকলজ্জা থেকে বাঁচাও।’

    তাই হল। কিন্তু ইতিমধ্যে দুজনের মধ্যে সেই যে বিচ্ছেদ ঘটেছিল সে আর বুজল না। এ যেন নেহাত একটা লোক-দেখানো সেতুবন্ধ। সকলে জানল যে আমরা একটি সুখী ও সম্ভ্রান্ত দম্পতি। আমরা জানলুম যে আমাদের মাঝখানে দুস্তর ব্যবধান। অশ্রুজলের সাগর।

    ভগবানকে ডেকে কত বার বলেছি, ‘প্রভু, ওকে একটি দিনের জন্যে রূপবতী করো, দিনের আলোর মতো রূপ দাও। চিত্রাঙ্গদাকে দিয়েছিলে একটি বছরের জন্যে, কৃষ্ণাকে দাও একটি দিনের জন্যে।’

    হঠাৎ ঘড়ির দিকে নজর পড়ায় নয়নমোহন চমকে উঠলেন।

    ‘তোমার ওটা কি ঘড়ি না ঘোড়া হে?’

    আমি বললুম, ‘ও-ঘড়ি ফাস্ট চলেছে।’

    ‘কিন্তু আমার আর বেশিক্ষণ থাকা চলবে না। মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। আমরা আজ রাত্রের ট্রেনে যাচ্ছি, যেটা দশটায় ছাড়ে।’

    ‘আর একটা দিন’, আমি অনুরোধ করলুম, ‘এখানে থেকে গেলে পারতে। তোমার তো চাকরি নেই।’

    ‘চাকরি নেই, কিন্তু যা আছে তা চাকরির বাড়া। মজদুররা ধর্মঘটের নোটিশ দিয়েছে, এখন গিয়ে তাদের মানভঞ্জন করতে হবে।’

    এরপরে তিনি তাঁর কাহিনির খেই ধরলেন।

    কৃষ্ণা জানত যে তার রূপের অভাব আমাকে প্রতিনিয়ত পীড়া দিচ্ছে, সেইজন্যে সে প্রাণপণে চেষ্টা করত রূপের অভাব গুণ দিয়ে পূরণ করতে। অন্য কেউ হলে স্নো পাউডার মেখে সং সাজত, নানা রঙের শাড়ি ব্লাউজ পরে প্রজাপতি সাজত। কিন্তু সাজপোশাকের ওপর আমার শ্রদ্ধা ছিল না বলে তারও লক্ষ ছিল না। তার লক্ষ ছিল গুণের ওপর। সে তার লক্ষ্যভেদ করেছিল। তবু আমার মন পায়নি।

    এর কারণ রূপের অভাব গুণ দিয়ে পূরণ করা যায় না। রূপের অভাব রূপ দিয়েই পূরণ করতে হয়। তা যে পেরেছে সে অসাধ্যসাধন করেছে। এই অসাধ্যসাধন কৃষ্ণার সাধনা ছিল না। অন্য কোনো সাধনা এর স্থান নিতে পারে না। তাই তার গুণের সাধনা আমাকে জয় করেনি। উমার তপস্যা শিবের মতো বিরূপাক্ষের জন্যে। আমার মতো সুরূপাক্ষের জন্যে নয়। আমার নয়ন যদি সায় না দেয় তো মন সায় দেয় না। মন যদি সায় না দেয় তো দেহ সায় দিতে চায় না। গুণ দিয়ে কি বিকার দূর করা যায়?

    আমি যে বিকারবোধ করি একথা তাকে মুখ ফুটে বলিনি। সে বুদ্ধিমতী, নিজেই বুঝে নিয়েছিল; তাই একদিন আমাকে বলেছিল, ‘তুমি আর একটি বিয়ে করো বা যেখানে ইচ্ছা যাও। এমন করে ক-দিন চালাবে।’ এর উত্তরে আমি বলেছিলুম, ‘পরিবারে অশান্তি ডেকে আনতে চাইনে। যেমন চলছে চলুক।’

    বস্তুত আমার একদন্ড ফুরসত ছিল না, দিনরাত কাজ আর কাজ। হোসিয়ারির কারখানা খুলেছিলুম, দেখাশোনা করতে হত আমাকেই, শ্লিপিং পার্টনার আমার তিন সম্বন্ধী, ওয়ার্কিং পার্টনার আমি। কখন খাই কখন শুই কিছুই ঠিক নেই। শুধু এই ঠিক যে বছরের শেষে লাভ দেখাতে হবে। লাভ যদি না দেখাতে পারি তো সম্বন্ধীরা টাকা তুলে নেবেন। তখন আমি মূলধন পাব কোথায়?

    কৃষ্ণা যখন উপলব্ধি করল যে তার গুণেও সাধনা ব্যর্থ হয়েছে, রূপের সাধনাও সুদূরপরাহত, তখন আমাকে একা রেখে ছেলে-মেয়েসমেত দার্জিলিং চলে গেল। সেখানেই তারা লেখাপড়া শিখবে ও মানুষ হবে। আমি দুঃখিত হলুম, কিন্তু বাধা দিলুম না। ওর একটা পরিবর্তন দরকার। কে জানে হয়তো শীতের দেশে বাস করে রংটা এক পোঁচ ফর্সা হতে পারে।

    অকস্মাৎ স্বাধীনতা পেয়ে আমার অবস্থাটা হল বৈপ্লবিক, যেমন হতে যাচ্ছে ভারতবর্ষের। কী যে করি স্বাধীনতা নিয়ে, বহুকালের সঞ্চিত ক্ষুধা নিয়ে, বঞ্চিত জ্বালা নিয়ে—কী যে করি! কী যে করি!

    তুমি শুনে অবাক হবে যে কিছুই করলুম না। তার কারণ যা-ই করতে যাই তা-ই মনে হয় তুচ্ছ। মনে হয় এমন কিছু করা উচিত যা কেউ কোনোদিন করেনি, যা উচ্চাদপি উচ্চ। তেমন কিছুর নাগাল পেলে হয়। কাব্যের নায়িকারা হোসিয়ারির কল পরিদর্শন করতে এলে হয়! ট্রয়ের হেলেন, বৃন্দাবনের রাধা, ইরানের লায়লা, চিতোরের পদ্মিনী—কোথায় দেখা পাই এঁদের! কেউ কি এঁরা পথ ভুলে বক্তিয়ারপুর আসবেন না!

    তোমার মনে আছে কি না জানিনে, কলেজে আমার প্রিয় কবি ছিলেন টেনিসন আর প্রিয় কবিতা ছিল ‘সুন্দরী নারীদের স্বপ্ন।’ অবশ্য আরও প্রিয় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও কালিদাস, কিন্তু টেনিসন একটু বিশেষ অর্থে প্রিয়—ওই ‘সুন্দরী নারীদের’ জন্যেই। হায়! এত যে তাঁদের নাম জপ করলুম, রূপ ধ্যান করলুম, তবু তো তাঁদের কারও করুণা হল না। মেন লাইনে ট্রেন দাঁড়ালেই আমার মনে হত এই ট্রেনেই তিনি এসেছেন, এসে আমাকে খুঁজছেন। সব কাজ ফেলে স্টেশনে ছুটে যেতুম, গিয়ে নিরাশ হতুম। লোকে বলাবলি করত, ‘ফি ট্রেনেই এঁর জানানা আসছেন। বাউরা হয়েছেন।’ আমি কিন্তু ওসব গায়ে মাখতুম না, নিরাশ হলেও যেতুম।

    একদিন স্টেশনে গিয়ে দেখি ট্রেন থেকে নামছেন ট্রয় দেশের হেলেন নয়, বৃন্দাবনের রাধা নয়, দার্জিলিঙের কৃষ্ণা। ছেলে-মেয়েদের দার্জিলিঙের বোর্ডিং স্কুলে রেখে এসেছেন, সেখানে তারা সুখে আছে। আমার না-জানি কত অসুবিধা হচ্ছে একথা ভেবে তাঁর অস্বস্তি বোধ হল, তাই চলে এলেন। যাক, আমাকে বাঁচালেন। লোকে স্বীকার করল, না বাউরা নয়। আর আমিও স্বীকার করলুম যে স্বাধীনতার ঝক্কি পোষায় না। তার চেয়ে স্ত্রীর হাতের মোচার ঘণ্ট মিষ্টি।

    কিন্তু মোচার ঘণ্ট এবার মিষ্টি লাগল না। দেখা গেল কৃষ্ণা কেবল চিঠি লিখছে বসে। ধরে নিলুম ছেলেমেয়ের জন্যে বড্ড মন কেমন করছে, চিঠি লিখে মনের ভার হালকা করছে। কিন্তু প্রতিদিন ওর নামে একই মানুষের লেখা খামে-বন্ধ চিঠি আসতে দেখে সন্দেহ জাগল কার হাতের লেখা এসব! মেয়েলি হাতের কি না। কয়েক বার ইতস্তত করে ঢোক গিলে জিজ্ঞাসা করলুম তাকে। সে বিনা বাক্যে উত্তর দিল চিঠিগুলো আমার সামনে রেখে।

    বিস্ময়! বিস্ময়ের পর বিস্ময়! উর্দু ভাষার একজন উদীয়মান কবি দার্জিলিঙে বসে গজল লিখছেন। সাকি বলে যাকে সম্বোধন করছেন সে আমার কৃষ্ণা। সাকির কাছে নিত্যনূতন গজল আসছে স্বাক্ষরিত হয়ে। প্রেরণাও ফুরোয় না, গজলও ফুরোয় না। বলা বাহুল্য, উর্দু আমরা দুজনেই জানতুম। আমিই শিখিয়েছিলুম কৃষ্ণাকে। স্বয়ং শিখেছিলুম মুসলমান বন্ধুদের কাছে। সে-বিদ্যা যে এভাবে কাজে লাগবে কল্পনা করিনি। হতভম্ব হলুম। কবির নাম হাফিজ দিয়ে আরম্ভ। তাঁকে তাই হাফিজ বলে উল্লেখ করব।

    হাফিজ নাকি পতঙ্গের মতো রওশনের রূপমুগ্ধ। রূপের বর্ণনা যা দিয়েছেন তা আমার পক্ষে আবিষ্কার। এত রূপ যে আমার অগোচর ছিল তা বিশ্বাস করা শক্ত। কিন্তু বিশ্বাস না করেও পারিনে। কারণ কবি যা লিখেছেন তা পরিহাসের সুরে নয়। তবে কি একথা সত্য যে আমার চোখে যে রূপহীনা অন্যের চোখে সে রূপসি। এ কি কখনো সত্য যে কুরূপা বলে কেউ নেই, ওটা দৃষ্টিবিভ্রম! বা চোখের ধাঁধা।

    তখন আমার মনে পড়ল তোমার উক্তি। ভগবান রূপ সবাইকে দিয়েছেন, দেখবার চোখ দেননি সবাইকে। যাদের দিয়েছেন তারাই শিল্পী, তারা সকলের রূপমুগ্ধ। এই উর্দু কবি একজন শিল্পী। ইনি তাই কৃষ্ণার রূপ দেখে রওশনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হায়, আমিও যদি শিল্পী হতে পারতুম…! আমার শিল্পরচনার দৌড় বক্তিয়ারপুরের গণেশ মার্কা গেঞ্জি ও হনুমান মার্কা মোজা। ওই চোখে ভগবানের দেওয়া রূপ প্রত্যক্ষ করা যায় না। চোখ দুটোকে বদলে নেওয়া চাই। ভাবলুম, কিছুদিন হনুমান ও গণেশের ধ্যান ছেড়ে গৌরীশংকর ও কাঞ্চনজঙ্ঘা অবলোকন করব। স্ত্রীকে বললুম, ‘চলো আমরা দার্জিলিং যাই। দেখে আসি টুবলুকে টুটুকে।’

    আঃ! কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে দু-চোখ জুড়িয়ে গেল। কী করে তার বর্ণনা দেব? আমি তো কবি নই। কিন্তু এও আমি বুঝতে পারিনে যে কাঞ্চনজঙ্ঘার মতো নারী থাকতে কৃষ্ণার মতো নারী কী করে বন্দনা পায়। কবিদের কি সত্যিকারের সৌন্দর্যবোধ আছে? আমার তো মনে হয় না।

    হাফিজকে নিমন্ত্রণ করেছিলুম। জরিদার শেরওয়ানি ও চুড়িদার পায়জামা পরে তিনি এলেন, শুনলুম তিনি নবাব ঘরানা। মুর্শিদাবাদে বাড়ি। পরের মুখে নিজের স্ত্রীর রূপবর্ণনা তো শোননি, তুমি কী করে বুঝবে আমার ব্যথা। আমার যা লাগছিল আমিই জানি। শুধালুম, ‘আচ্ছা, এ কি তবে সবই সত্য হে আমার স্ত্রীর ভক্ত…’ মনে আছে তো রবীন্দ্রনাথের সেই কৌতুকের কবিতাটি? ‘চির ভক্ত’কে ‘স্ত্রীর ভক্ত’ করেছি।

    কবি বললেন, ‘কাব্যের সত্য জীবনের সত্য এক নয়। যেমন চিত্রের সত্য ফোটোগ্রাফের সত্য এক নয়। এও সত্য, আবার সেও সত্য।’

    কৃষ্ণা সেখানে ছিল না, থাকলে হয়তো আঘাত পেত। ইতিমধ্যে তার ধারণা জন্মেছিল সে যথার্থই সুন্দরী। দুই অর্থে। কাব্যে ও জীবনে।

    ঘড়ির দিকে চেয়ে নয়নদা চঞ্চল হয়ে উঠলেন। আমি তাঁকে অভয় দিলুম যে ট্রেন ধরিয়ে দেবার দায়িত্ব আমার। তখন তিনি পূর্বানুবৃত্তি করলেন।

    দার্জিলিঙে আমার চোখ খুলে গেল। দেখলুম কৃষ্ণার গায়ের রং এক পোঁচ ফর্সা হয়নি বটে, কিন্তু রং ধরেছে ভিতরে। সে যেন এতদিন পরে আপনাকে আবিষ্কার করেছে। আবিষ্কার করেছে সে সুন্দরী। সাতাশ কি আটাশ বছর বয়সে যদি কোনো মেয়ে প্রথম আবিষ্কার করে সে সুন্দরী তাহলে তার সেই আবিষ্কার তাকে বিপ্লবের আস্বাদন দেয়। এ যেন একটা আগস্ট বিপ্লব। হিংসার ক্ষমতা নেই বলে দীর্ঘকাল অহিংসা অনুশীলন করার পর অকস্মাৎ আবিষ্কার করা গেল আমরা হিংসার ক্ষমতা রাখি। দেখছ তো দেশ কেমন রক্তপিপাসায় অধীর হয়ে উঠেছে। যতক্ষণ-না একটা আণবিক বোমা কলকাতায় কী বম্বেতে পড়ছে ততক্ষণ এ পিপাসার নিবৃত্তি নেই।

    কৃষ্ণাকে নিয়ে আমার দশা হল মহাত্মার মতো। কী করে তাকে বোঝাই যে তার আবিষ্কারটা কাব্যের সত্য, জীবনের সত্য নয়। যে একথা বোঝাতে পারত সে হাফিজ। হাফিজ ক্রমে দুর্লভ হল, তার চিঠিও একসময় বন্ধ হল। কিন্তু ক্ষতি যা করে গেল তার জের চলতে থাকল। কৃষ্ণা বিশ্বাস করল হাফিজের জবানবন্দি সাচ্চা, আমার জবানবন্দি ঝুটা। আমি তাকে এগারো বছর ধরে ঠকিয়ে এসেছি। আমি প্রবঞ্চক। সে আমার মুখের দিকে ভালো করে তাকায় না, আমিও কেমন যেন অপরাধী বোধ করি নিজেকে। একে তো আমাদের দৈহিক সম্বন্ধ ছিল না, মানসিক সম্বন্ধেও ভাঙন ধরল।

    দার্জিলিং থেকে একসাথেই ফিরি। আমি প্রস্তাব করেছিলুম, সে যদি দার্জিলিঙে একা থাকতে চায় তো পারে থাকতে। সে নাকচ করল, বোধহয় লোকনিন্দার ভয়ে। বক্তিয়ারপুরে ফিরে আমি আমার কাজকর্মে ডুব মারলুম। আর সে চলল উজান বেয়ে। বয়স তার দিন দিন কমতে লাগল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কাটায় আয়নার সামনে। চুল বাঁধে, চুল খোলে, আবার বাঁধে। শাড়ি পরে, শাড়ি ছাড়ে, আবার পরে। সাজপোশাকের বাহার ছিল না, শুরু হল। স্নো পাউডার মেখে জুতো পালিশের মতো চেহারা হল। তা হোক, তাতে আমার আপত্তি নেই, যার টাকা আছে সে যদি দু-হাতে ওড়ায় তো আমার কী? কিন্তু মাঝখানে ছেলে-মেয়ে না শোওয়ায় সে একেবারে আমার কোলে এসে শোয়। আশা করে আমি তার রূপ দেখে ভুলব। ক্ষণকালের জন্যে ভুলিনি যে তা নয়, কিন্তু সেটা আমার নিজের দুর্বলতা, তার মাদকতা নয়। সে কিন্তু ধরে নেয় যে তার মধ্যে অপূর্ব মোহিনীশক্তির সঞ্চার হয়েছে। অমনি মোহিনীশক্তির অনুশীলনে রত হয়। এদিকে আমি বিকারবোধে অস্থির। কী করে পরিহার করব ভেবে পাইনে।

    আর একটি সন্তান হল, এটি ছেলে। খুব খুশি হলুম দুজনে। আমি বললুম, ‘আর কেন? এখন থেকে পূর্বব্যবস্থা বহাল হোক।’ সে কিছু বলে না, মুচকি হাসে। ছেলের জন্যে ছোট্ট একটা বেবি কট কেনা হল। ছেলেটি সেইখানে শোয়। আর আমি প্রতি রাত্রে রবীন্দ্রনাথের সেই শোচনীয় পঙক্তিগুলি আবৃত্তি করি—

    রে মোহিনী রে নিষ্ঠুরা ওরে রক্তলোভাতুরা

    কঠোর স্বামিনী

    দিন মোর দিনু তোরে শেষে নিতে চাস হরে

    আমার যামিনী।

    অগত্যা পন্ডিচেরির কথা বলাবলি করতে হল। হিমালয়ে মহাপ্রস্থান করতে পারি আভাসে ইঙ্গিতে জানালুম। কিন্তু কে বিশ্বাস করবে ও-কথা! আমার হোসিয়ারি ফাঁপতে ফাঁপতে টেক্সটাইলের আকার ধারণ করেছিল। কটন মিলের উদ্যোগ আয়োজনে জীবনটা মধুর হয়েছিল। রূপ নাহয় পাইনি, কিন্তু রুপো তো পেয়েছি অজস্র অঢেল। রূপের মায়া আমাকে ধরে রাখতে পারবে না, কিন্তু রুপোর মায়া? দেখা গেল কামিনীর চেয়ে কাঞ্চনের আকর্ষণ কম নয়। থেকে গেলুম কাঞ্চনের টানে। কৃষ্ণা কিন্তু ঠাওরাল কামিনীর টানে। তার মুখে হাসি আর ধরে না। মোহিনীশক্তির জয়।

    সেই হাড়িকাঠ থেকে উদ্ধারের উপায় নেই দেখে গুরু ডেকে এনে মন্ত্র নিলুম গার্হস্থ্য সন্ন্যাসের। কৃষ্ণাকে সাধলুম, ‘তুমিও নাও।’ তার চোখ দিয়ে আগুন ছুটল। কী যে হল তার জানিনে, যখন খুশি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় একা, পাড়ায় পাড়ায় গল্প করে বেড়ায় আহার নিদ্রা ভুলে। রাত্রে খুঁজেপেতে ধরে নিয়ে আসি, বন্ধ করে রাখি। চিকিৎসকের পরামর্শে গুরুর অনুমতি নিয়ে স্বামী-স্ত্রী সম্বন্ধ আবার পাতাতে যাই। ফল হয় উলটো। কাতর সুরে বলে, তুমি আমার বাপের বয়সি, তুমি মাননীয় বৃদ্ধ, তোমার কি শোভা পায় এ অধর্ম! আমি নাকি তার বাপের বয়সি! হে হরি! আমি নাকি মাননীয় বৃদ্ধ! হে ঈশ্বর!….

    নয়নদা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন। কাঁদো কাঁদো সুরে বললেন, ‘পাড়ার ঘরে ঘরে গিয়ে আমার নামে রটায় আমি নাকি তাকে সুন্দরী পেয়ে তার উপর বলপ্রয়োগ করি। বুড়ো বয়সে আমার নাকি ভীমরতি ধরেছে। ….ও হো হো। …আমার আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না ভায়া। বেলডাঙায় আমাদের দু-নম্বর মিলটা তৈরি হয়ে গেলেই আমি চোখ বুজব।…সবাই বলছে ওকে পাগলাগারদে পাঠাতে। কিন্তু সেটা হবে যথার্থ অধর্ম। না, সে আমি পারব না। কিন্তু এও আমার অসহনীয়, আমার মান গেল, আমি হেয় হয়ে গেলুম লোকচক্ষে।’

    আমি তাঁর চোখ মুছিয়ে দিলুম সেকালের মতো। এক হস্টেলে একঘরে বাস করতুম আমরা। রাত কেটে যেত সুন্দরী নারীদের স্বপ্নে। নয়নদার নিশ্চিত প্রত্যয় ছিল সুন্দরী নারী তাঁর ভাগ্যে অবধারিত। সেটা তাঁর জন্মস্বত্ব। জন্মস্বত্বের খন্ডন হল দেখে তিনি কেঁদে আকুল হয়েছিলেন বিশ বছর আগে। চোখ মুছিয়েছিলুম আমরা কয়েক জন বয়স্য।

    সান্ত্বনাচ্ছলে সে-বার বলেছিলুম, রূপ ভগবান সবাইকে দিয়েছেন, দেখবার চোখ দেননি সবাইকে। এবার কী বলব? বলার আছে কী?

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅজাতশত্রু
    Next Article যৌবনজ্বালা

    Related Articles

    অন্নদাশঙ্কর রায়

    বাংলার রেনেসাঁস

    April 7, 2025
    অন্নদাশঙ্কর রায়

    আর্ট ও বাংলার রেনেসাঁস – অন্নদাশঙ্কর রায়

    April 7, 2025
    অন্নদাশঙ্কর রায়

    পথে প্রবাসে ও নির্বাচিত প্রবন্ধ – অন্নদাশঙ্কর রায়

    April 7, 2025
    অন্নদাশঙ্কর রায়

    আগুন নিয়ে খেলা – অন্নদাশঙ্কর রায়

    April 7, 2025
    অন্নদাশঙ্কর রায়

    পুতুল নিয়ে খেলা – অন্নদাশঙ্কর রায়

    April 7, 2025
    অন্নদাশঙ্কর রায়

    পুতুল নিয়ে খেলা – অন্নদাশঙ্কর রায়

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }