Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লবঙ্গীর জঙ্গলে – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প171 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লবঙ্গীর জঙ্গলে – ৪

    ৪

    বলদগুলোকে ওরা এই জঙ্গলে নিয়ে আসে পাহাড় থেকে কাটা কাঠ টেনে নামাবার জন্যে। পম্পাশরের বড় রাস্তা থেকে লবঙ্গীর জঙ্গলের এতখানি ভিতরে ওদের হাঁটিয়ে আনা যায় না। প্রথমত, সময় লাগে অনেক। দ্বিতীয়ত, পথে বাঘের ভয়। ক্যাম্পে লোকজন থাকে। সারারাত আগুন জ্বলে। ক্যাম্পের আশে-পাশেও কুলীদের ঝুপড়ি থাকে। বাঘ সহজে সাহস করে না ক্যাম্পে আসতে। তাছাড়া মোষ ও বলদগুলো একসঙ্গেই থাকে। তবে মাঝে মাঝে যে বাঘ কাছাকাছি না আসে, তা নয়। তখন বলদ ও মোষগুলো একসঙ্গে দাঁড়িয়ে উঠে ভঁস্ ভঁস্ করে নিশ্বাস ফেলে, জোরে জোরে শিং নাড়ায়। ওদের গলার ঘণ্টাগুলো জোরে বেজে ওঠে। লোকজনের ঘুম ভেঙে যায়। ওরা হল্লা করে, টিন বাজায়, মশাল জ্বালায়। বাঘ সরে যায়।

    হাঁটিয়ে যেহেতু আনতে পারেনি, তাই কাঠ বয়ে নিয়ে যাওয়ার ট্রাকের জন্যে যেই রাস্তা হয়ে গেছিল, অমনি ট্রাকে করে বলদগুলোকে নিয়ে আসা হচ্ছিল। এই বলদটা, চুলের কাঁটার মতো এক বাঁকে যে, কখন ট্রাক থেকে নীচের খাদে পড়ে গেছিল তা কেউ খেয়াল করেনি। ক্যাম্পে এসে খেয়াল হয়েছিল। পরদিন খোঁজ করতে করতে দেখা গেল বেচারী পা-ভেঙ্গে, পড়ে আছে খাদে। খাদ বেশি গভীর না থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছিল বেচারা।

    এখন সেই ভাঙা পা সারাচ্ছে কম্ফু। একটা লাল রঙা ওষুধ তৈরি করেছে ও। কচি শিমুলের গোড়ার শিকড়, হাড়কঙ্কালির ছাল, পুাসিয়া লাতার গোড়া, বুড়ো শ্যাওড়ার ছাল বেটে জড়া তেল দিয়ে ঔষুধটা বানিয়েছিল ও। তারপর সেই ওষুধ লাগিয়ে ডবা বাঁশ কেটে স্প্রিন্টার তৈরি করে তা দিয়ে বেঁধে দিয়েছিল পা।

    একটা শলাই কাঠের মশাল মাটিতে পুতে, জায়গাটা আলোকিত করে হাঁটু গেড়ে উবু হয়ে বসে ওষুধ লাগাচ্ছিল কম্ফু বলদাটার পায়ে। বলদটার দুটো বড় বড় উজ্জ্বল চোখে ওর শরীরে ব্যথা প্রতিফলিত হচ্ছিল।

    আমি পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।

    কম্ফু নিজের মনে বিড় বিড় করে কি সব বলছিল। ওষুধ লাগানো হয়ে গেলে বাঁশের স্প্রিন্টার দুটো নতুন লতা দিয়ে আবার ভালো করে বেঁধে দিল ও বলদটার পায়ের সঙ্গে।

    আমি শুধোলাম, সেরে উঠছে?

    কম্ফু বলল, তা তো বটেই। তবে পুরো ভালো হতে আরো সময় লাগবে। গত সপ্তাহে উঠে দাঁড়িয়েছিল! এ সপ্তাহে রোজ অনেকক্ষণ সময় দাঁড় করিয়ে রাখছি। শিগগিরই কাজে লাগতে পারবে। তারপর, যেন একটু বিষণ্ণ হয়েই বলল, এর কাজ শুরু হলেই, আমার কাজ শেষ।

    এখানে একটা বলদের দাম আজকাল অনেক। একজন মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি। চিকিৎসার জন্যে বহুদূর জঙ্গলের বস্তি থেকে কম্ফুকে খবর পাঠিয়ে আনিয়েছে রত্নাকর, ক্যাম্পের ম্যানেজার। বলদ এবং মানুষেরও চিকিৎসার জন্যে। তখনকার মতো চিকিৎসা শেষ হলে কম্ফু বলল, চলো বাবু, কি বলবে আমাকে শুনি।

    আমরা দুজনে ক্যাম্পে সামনের উঁচু পথটাতে একটু ফাঁকা জায়গা দেখে দুটো পাথরে বসলাম।

    কম্ফুকে বললাম, তুমি চন্দ্রকান্তকে দেখেছো?

    কম্ফু কিছুক্ষণ আমার চোখের দিকে চেয়ে রইল, তারপর চোখ চেয়েই বলল, হ্যাঁ। দেখা তো হয়। মাঝে-মাঝে। তারপর অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, তেমন তো জংলী জানোয়ারের সঙ্গেও দেখা হয়।

    -থাকেন কোথায়? আমি শুধোলাম।

    -তা জানি না, তবে দেখা হয়ে যায় মাঝে-মাঝে। জঙ্গলের মধ্যে। দিনে বিশেষ বেরোয় না। রাতে বেরোয়। বাঘের জাত তো!

    তারপর আবার অনেকক্ষণ থেমে স্বগতোক্তির মতো বলল, মরবে কোনদিন সাপের কামড়ে। গরম তো পড়ছে আস্তে আস্তে।

    –এই দিকে কোন সাপ বেশি?

    —সব সাপই আছে। তবে ভয় বেশি শঙ্খচূড়কে। তেড়ে এসে ধাওয়া করে ছোবলায়।

    আমি একটু চুপ করে থেকে বললাম, তোমার সঙ্গে চন্দ্রকান্তর কথা হয়?

    —কি কথা? বলেই, কম্ফু আমার চোখের দিকে তাকাল।

    —আমি বললাম, কোনো কথা।

    কম্ফু বলল, হয়; কিছু কিছু।

    বুঝলাম কম্ফু আমার কাছে সহজ হতে পারছে না।

    কম্ফু আমাকে শুধোল, তুমি এতদূরে এসেছো কেন চন্দ্রকান্তর খোঁজে? চন্দনীর সঙ্গে আবার বিয়ে দেবে?

    আমি বললাম, চন্দ্ৰকান্ত আমার বন্ধু হন। তা ছাড়া চন্দনীর জন্যেও এসেছি, ওদের যখন বিয়ে হয় তখন আমি ছিলাম বিড়িগড়ে

    কম্ফু গম্ভীর মুখে বলল, বিয়েটা তোমাদের না দেওয়াই উচিত ছিল। যে মরদ বউয়ের দেখাশোনা করতে পারে না তার বিয়ে করা কেন? চন্দ্রকান্তর আর যে গুণই থাক না কেন, বউ-এর সঙ্গে ব্যবহারটা ভালো করেনি সে।

    তারপর হঠাৎ কম্ফুর চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। শুধোল, তুমি কখনও বিড়িগড়ের দুর্গে গেছ?

    —হ্যাঁ। আমি বললাম।

    কম্ফু বলল, ঐ দুর্গের কাছে একটা লতাঝোপ আছে, সেই লতার রস থেকে একটা ওষুধ বানিয়ে তা দিয়ে আমি কর্কট রোগ সারাতে পারি।

    —ক্যানসার?

    আমি অবাক হয়ে বললাম!

    কম্ফু বলল, ক্যানসার কি জিনিস? কোনো জানোয়ার? আমাদের জঙ্গলে- পাহাড়ে ও জানোয়ার নেই। আমি রোগের কথা বলছি।

    তারপর বলল, তুমি আমাকে ঐ দুর্গে কখনও নিয়ে যেতে পারবে?

    আমি বললাম, পারি। তুমি চন্দ্রকান্তর সঙ্গে আমার দেখা করিয়ে দাও।

    কম্ফু আমার চোখের দিকে আবার তাকাল অনেকক্ষণ। তারপর বলল, তুমি জাতে ব্যবসাদার?

    আমি হাসলাম। বললাম, না। কিন্তু চন্দ্রকান্তর সঙ্গে দেখা হওয়া দরকার।

    কম্ফু আবার নিজেকে গুটিয়ে নিল। বলল, সে তোমার বরাত।

    বলেই, হাতের লাঠিটা নিয়ে মাটিতে ঠুকতে লাগল। লাঠির মুখটা একেবারে সাপের ফণার মতো।

    আমি লাঠিটা একটু চাইলাম ওর কাছে, দেখব বলে।

    কফু লাঠিটা এগিয়ে দিল।

    লাঠিটা আশ্চর্য! এরকম লাঠি আগে কখনও দেখিনি।

    কম্ফু বলল, এটা জাদু করা লাঠি। জামো পেনু, থ্রিভি পেনু, কাটি পেনু, সকলের আশীর্বাদ আছে এতে।

    -ওরা তো খন্দদের দেবতা। তুমি কি খন্দ না কি?

    আমি শুধোলাম।

    কম্ফু বলল, ভগবান কি কারো কেনা নাকি? যে যাকে মানে, সেই-ই তার ভগবান।

    আমি বললাম, তা ঠিক।

    তারপর বললাম, তুমি কাল যখন জঙ্গলে যাবে আমাকে নিয়ে যাবে?

    কম্ফু বলল, আমি সারাদিন কত ক্রোশ ঘুরি লাতা-পাতা জোগাড় করতে, তুমি পারবে অত কষ্ট করতে? শহুরে বাবু।

    আমি বললাম, নিয়েই চলো না। পারি কি না পরখ করো।

    কম্ফু বলল, সে বড় অসুবিধে। আমার সঙ্গে গিয়ে কাজ নেই তোমার।

    তারপর বলল, ধরো যদি হঠাৎ দেখা হয়ে যায় চন্দ্রকান্তর সঙ্গে, তোমার কথা কি বলব?

    আমি বললাম, বোলো, বিড়িগড়ের শালাবাবু এসেছে তার খোঁজে। আরও বোলো, চন্দনীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। আমরা দুজনেই তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।

    —বলব। কম্ফু নৈর্ব্যক্তিক গলায় বলল।

    আমি চমকে উঠলাম। বললাম, তাহলে নিশ্চয়ই কাল দেখা হবে তোমার সঙ্গে চন্দ্রকান্তর।

    কম্ফু এবার চমকে উঠল।

    এড়িয়ে গিয়ে বলল, না, কখনও কখনও দেখা হয়ে যায়।

    আমার মনে হল কম্ফু আমাকে মিথ্যা বলছে। ওর সঙ্গে হয়তো রোজই দেখা হয় চন্দ্রকান্তর।

    কম্ফুকে বললাম, তুমি আমার সঙ্গে দেখা করিয়ে দাও।। ভালো বকশিস্ দেব। কম্ফু অদ্ভুত এক হাসি হাসল।

    বলল, টাকা দিয়ে কি করব আমি? চলে যাচ্ছে তো বেশ! তাছাড়া এই জঙ্গলে টাকাও যা, কাগজও তাই।

    আমি অবাক হলাম। বললাম, তোমার টাকার দরকার নেই?

    কম্ফু সগর্বে বলল, দরকার হয়নি।

    —তোমার বউ ছেলে? আমি শুধোলাম, ওদেরও দরকার নেই?

    —কিসের দরকার? আমার বউ অন্য দশজনের বউ-এর মতো নয়, সে কম্ফু বদ্যির বউ। তার কাছে টাকার চেয়ে ইজ্জতের দাম বেশি আর আমার ছেলেকে আমি আমার মতো বদ্যি করতে চাই। ও গ্রামে গঞ্জে গেলে চাকরি খুঁজবে, বড় হলে ঠিকাদারের মুহুরী হবে, কারখানায় কাজ করবে, কি রাস্তা বানাবে। আমার নাম কম্ফু আমি মরা মানুষকে বাঁচিয়ে তুলতে পারি। জঙ্গল ছেড়ে গেলে আমার মধ্যের শক্তি নষ্ট হয়ে যাবে। আমি খুব ভালো আছি। আমাকে টাকার লোভ দেখিও না।

    আমি বললাম, আমার সঙ্গে জিপ গাড়ি আছে। তোমাকে নিয়ে মহানদী পেরিয়ে বড়সিলিঙা হয়ে বড়মূল হয়ে, টাক্রা হয়ে, বিড়িগড়ে নিয়ে যাবো তাহলে লতার জন্যে। যাবে?

    —যাবো। খুশি হয়ে কম্ফু বলল।

    তারপর বলল, থাক্। আমাকে লোভ দেখিও না। লোভ জাগলে আর আমার ওষুধ ধরবে না। দেখছ না, পা-ভাঙ্গা বলদটা কেমন সেরে উঠছে। তোমাদের শহরের ডাক্তাররা পারতো?

    আমি বললাম, না।

    —তবে? কম্ফু বলল।

    তারপর বলল, বকশিসের দরকার নেই। আমি দেখব তোমার জন্যে কি করতে পারি।

    বেশ বিপদে পড়লাম। কোনো একটা হদিস না পেয়ে এই নিশ্ছিদ্র জঙ্গলে চন্দ্রকান্তকে খুঁজে বের করা সামান্য কথা নয়। কম্ফুর সাহায্য ছাড়া তা প্রায় অসম্ভব। অথচ্ কম্ফুর কতদিনে দয়া হবে বোঝা যাচ্ছে না।

    খাওয়া-দাওয়ার পর চন্দনী গিয়ে ওর ঘরে শুয়েছে এখন। আমি ঘরের বাইরে কাটা গাছের গুঁড়িতে বসে পাইপ খাচ্ছি। নালার পিছনের জঙ্গল থেকে একটা নাইটজার একটানা ডেকে চলেছে টাকু-টাকু-টাকু-টাকু-টাকু। জ্যোৎস্নাটা অনেক জোর হয়েছে। আর ক-দিন বাদেই দোল পূর্ণিমা। পাহাড় থেকে হনুমান ডাকাডাকি করছে হুপ-হুপ-হুপ-হুপ করে। সেই আওয়াজ ছড়িয়ে যাচ্ছে দূরের পাহাড়ে পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে নীচের উপত্যকায়! বাঘ বা চিতা দেখে থাকবে ওরা। রাস্তার পাশে কতগুলো গেণ্ডুলি গাছ। সাদা নরম তাদের গা। এখন পাতা নেই—জ্যোৎস্নায় ওদের গুঁড়ি ও শাখা-প্রশাখাগুলো উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। পত্রশূন্য ফলভরা আমলকী গাছের ডালে ডালে জ্যোৎস্না চুঁইয়ে পড়ছে।

    নারাণ গান ধরেছে—

    দয়া করো দীনবন্ধু শুভে যাউ আজ দিন
    কড়জোড়ি তুম পাদে করুছি এ নিবেদন।
    সত্য শান্তি প্রদায়ক, দুষ্ট দণ্ড বিধায়ক
    রুক্‌মিনী প্রাণনায়েক প্ৰভু পতিত পাবন ॥

    রত্নাকর ধমক দিয়ে নারাণের ভজন থামিয়ে দিয়ে, নিজেও যে গান গাইতে পারে তা শোনাবার জন্যে চটুল গান ধরল।

    ফুলরসিয়ারে মন মোর ছুঁয়ি ছুঁয়ি যা
    তো লাগি বিকশী চাহিছি একুঞ্জে
    গুঞ্জন দেই যা যা।
    যা না’রে ফেরি, আসি পাশে যা না
    গা মন ভরি, করো না তুমনা
    ঝুরিলে কি আউ আসিব এ দিন
    হসি লেটি গাই যা-যা —
    সাজি কেতে কুঞ্জে, কেতে ফুল সেজে
    মহক্ ছটাই মরে নিতি লাজে
    লাজ ত্যজি আজি করুছি আরতি
    থরে ধীরে চাহি যা যা ॥

    রত্নাকরের সংগীত প্রতিভা চন্দনীকে না জানালেই নয়।

    বউ-ছেলে গ্রামে ফেলে বছরের মধ্যে আট-ন-মাস জোয়ান ছেলেগুলো জঙ্গলে পাহাড়ে পড়ে থাকে। এর মধ্যে চন্দনীর মতো একজন অতিসুন্দরী যুবতীর আগমনে অনেকেরই সংগীতপ্রতিভা এবং আরও যাবতীয় প্রতিভার উন্মেষ ঘটেছে। সকলেই চন্দনীকে ইম্পেস করবার জন্যে নিজের নিজের বিভিন্ন মাধ্যমে উন্মুখ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চন্দনী যে পয়সার বিনিময়ে করুণা বিতরণ করেছিল নদীপারে, এ তো এদের সকলেরই জানা। এও জানা যে দোর্দণ্ড-প্রতাপ চন্দ্ৰকান্ত আর এ-নারীর উপর কোনো দাবি রাখে না। রত্নাকর প্রথমে কর্তৃত্ব দেখিয়ে চন্দনীকে আবিষ্ট করতে চেয়েছিল। আমার জন্যে সেপথে সুবিধা না হওয়ায় এখন মধুর পথে এগোতে চেষ্টা করছে।

    রত্নাকরের গানের রেশ তখনো মিলিয়ে যায়নি, এমন সময় দূর থেকে জঙ্গলের মধ্যে একটা গোঁ গোঁ আওয়াজ শোনা গেল। যারাই জঙ্গলে থাকে, জঙ্গলে আসা- যাওয়া করে, এ-শব্দের সঙ্গে বিশেষ পরিচিত। জিপের এঞ্জিনের আওয়াজ এ।

    যারা ঘুমিয়ে পড়েছিল তাদের ঘুম ভেঙে গেল। যারা ঘুমোবে ভাবছিল, তারা উঠে বসল। আওয়াজটা ক্রমশ জোর হতে লাগল। আলোর আভাস দেখা যেতে লাগল খাদের পাশের উঁচু ঘোরালো রাস্তাটাতে।

    আমি তাড়াতাড়ি একবার চন্দনীর ঘরের সামনে গেলাম। উঁকি দিয়ে দেখি ও জড়োসড়ো হয়ে দু-হাঁটু জড়ো করে দু-হাত দিয়ে হাঁটু জড়িয়ে বসে আছে।

    আমি বললাম, তুমি ঘরেই থেকো। কোনো ভয় নেই।

    হঠাৎ দেখি কম্ফু লাফাতে লাফাতে নিজের ঝুপড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আমার পাশে বসল। ওর হাতে সেই লাঠিটা। তারপর আমার সঙ্গে অর্গুনগাছের ফলের টক্ রাঁধলে কেমন খেতে হয় তা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করে দিল।

    জিপটা ক্যাম্পের আনাচ কানাচ আলোয় আলোকিত করে এসে দাঁড়াল।

    তিন-চারজন লোক নামল জিপ থেকে। পুলিশের লোক নয়।

    রত্নাকর ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসে যে বেঁটে মতো লোকটি ড্রাইভারের পাশে বসেছিল, তাকে খুব ভক্তিভরে প্রণাম করল।

    লোকটি বলল, দারিয়ানী চন্দনী এখানে এসেছে?

    দারিয়ানী কথাটার উপর খুব জোর দিল লোকটা।

    তারপর রত্নাকরকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেবার আগেই বলল, ওকে আমার চাই। ডাক্ ওকে। কাল সকালে ফেরৎ দিয়ে যাব সত্যি! ছবি কথা রাখবে।

    লোকটা জড়িয়ে জড়িয়ে কথা বলছিল।

    রত্নাকর ব্যাপার বেগতিক দেখে, আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, ঐ বাবু নিয়ে এসেছেন চন্দনীকে। ওঁকে জিগ্‌গেস করুন।

    আমি উঠে গিয়ে লোকটার সামনে দাঁড়ালাম। লোকটার মুখ দিয়ে ভক্‌ভক্ করে দিশি মদের গন্ধ বেরুচ্ছিল। চোখ দুটো রাতের জানোয়ারের চোখের মতো চক্‌চক্‌ করছিল।

    আমি কিছু বলার আগেই লোকটা নিজের বুকে তর্জনী ঠেকিয়ে বলল, আমার নাম ছবি নায়েক–আমি চন্দনীকে চাই। পয়সা দেবো। আমার এক্ষুনি চাই ওকে। ওকি আপনার রাখন্তি?

    লোকটার আস্পর্ধা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম।

    একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম, চন্দনী আমার সঙ্গে এসেছে। এবং থাকবে। এক্ষুনি এখান থেকে চলে না গেলে বিপদ হবে, আপনি যেই হন না কেন?

    লোকটার পরনে ধুতি, বাফতার পাঞ্জাবি, গালের একটা দিক পোড়া—বেঁটে, গাঁট্টা-গোট্টা চেহারা। লোকটা অনেকক্ষণ ঢুলু ঢুল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তাপর হঠাৎ আমার পা জড়িয়ে ধরে বলল, কিছু মনে করবেন না। অপরাধ নেবেন না।

    বলেই জিপে গিয়ে উঠল।

    কফু বলল, পালান্ পালান্ ঠিকাদারবাবু নইলে ঝামেলা হবে।

    ছবি ঠিকাদার বলল, যাচ্ছি ভাই; এখুনি যাচ্ছি।

    বড় বিনয়ের সঙ্গে বলল কথাটা।

    তারপর আমাকে বলল, চলি বাবু! রাগ করবেন না আমার উপর। অপরাধ হয়ে থাকলে মাপ করবেন।

    হঠাৎ, রোগা-পটকা নারাণ দৌড়ে এসে আমাকে নিচু গলায় বলল, বাবু সাবধান।

    জিপটা চলে যেতেই কম্ফুও যেমন হঠাৎ এসেছিল, তেমনি হঠাৎ চলে গেল, একটাও কথা না বলে।

    যেতে যেতে দাঁড়িয়ে পড়ে হঠাৎ মুখ ঘুরিয়ে বলল, এ সাপ শঙ্খচূড়ের চেয়েও সাংঘাতিক। এর জাত জানেন? তারপর আমি কিছু বলার আগেই বলল, এর নাম বেনে-সাপ!

    অপসৃয়মাণ জিপের লাল টেইল-লাইটটা মিলিয়ে যেতেই নারাণ মাথা নেড়ে নেড়ে গাইতে লাগল :

    দোয়াপর যুগরে হরি গুপ্তে বরি গুপপুরী
    দুষ্টু কংসুক নিবারি রজা কল উগ্রসেন,
    ভারতভূমি মধ্যরে সুদর্শন ধরি করে
    পাণ্ডবংক ছলে হরি, কৌরবে কল দহন।
    দয়া করো দীনবন্ধু মতে যাউ শুভদিন ॥

    রত্নাকর ওকে ঠেলে ঘরে পাঠিয়ে দিল। বলল, আফিং জোর চড়ে গেছে। তারপর একটু চুপ করে থেকে বলল, বাবু এরপর খুব গোলমাল হবে।

    আমি বললাম, বুঝতে পারছি।

    রত্নাকর বলল, ছবি নায়েক একবার এমনি করে কম্ফুর বউকেও জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে সারারাত আটকে রেখেছিল। লোকটা ভালো না, ওর কাছে কুলির চেয়ে কামীন বেশি। সব কামীনের ডিউটি পড়ে ওর ঘরে রাতের বেলা ঘুরে ঘুরে। লোকটা ঐরকমই। ননসেন্স।

    শেষ কথাটায় একটা ইংরেজি বলল, একাদশ-ফেল রত্নাকর।

    আমি বললাম, কি হবে তা দেখা যাবে। এসব লোকের মেরুদণ্ড থাকে না।

    রত্নাকর নারাণ ওরা সব চলে যেতেই চন্দনী আমার পিছনে এসে দাঁড়িয়ে আমার পিঠে হাত ছোঁয়াল।

    আমি চমকে উঠে তাকাতেই দেখি ভয়ে ওর মুখটা শুকিয়ে এতটুকু হয়ে গেছে।

    আমি বললাম, চলো তুমি আমার ঘরেই শোবে। কোনো ভয় নেই তোমার।

    আমার হোলডল্ বিছানো বিছানা পাতা ছিল। চন্দনী ওর কাঁথা নিয়ে এসে মাটিতে শুলো এক কোণায়। পা দুটো গুটিয়ে বুকের কাছে নিয়ে ভীরু শিশুর মতো শুয়ে পড়ল লজ্জায় মুখ ঢেকে।

    আমি বললাম, আমার বিছানায় উঠে শোও। মাটিতে শুলে বিছে কামড়াবে।

    ও অন্ধকারে উঠে বসল। যেন আমার কথা ওর বিশ্বাস হল না। আমার নিজেরও বিশ্বাস হল না আমার নিজের গলার স্বরকে।

    চন্দনী হামাগুড়ি দিয়ে এসে আমার পাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে আশ্রিত কোনো ভীরু জীবের মতো শুয়ে পড়ল।

    একটু পরে দেখি ওর চোখের জলে আমার বিছানা ভিজে গেছে।

    আমি বাঁ-হাত দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে আমার বুকের কাছে টেনে আনলাম। চন্দনী আরামে, আশ্রয়ে পরম নিশ্চিন্তিতে আমার বুকের মধ্যে একটু পরে ঘুমিয়ে পড়ল।

    আমার ঘুম এল না। পাতার ফাঁক-ফোঁক দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে ঘরটার মধ্যে। চন্দনীর মুখে। ওর ঘুমন্ত চোখে। মাথায় ও কি তেল মাখে জানি না। কেমন একটা ফুল-ফুল গন্ধ ওর চুলে।

    বাইরে কাক-জ্যোৎস্না। নাইটজার পাখিটা ডেকেই চলেছে টাকু—টাকু——টাকু- টাকু—টাকু। উপত্যকার উপরে জ্যোৎস্নায় ভেসে ভেসে একটা পিউ-কাঁহা পাখি ডাকছে পিউ-কাঁহা পিউ-কাঁহা। কোথায় যেন ওর প্রিয়া হারিয়ে গেছে, চন্দনীর স্বামীর মতো।

    কোনো যুবতী নারীকে এত কাছে নিয়ে কখনও আমি শুইনি এর আগে। অবকাশ ঘটেনি। সারা বুকের, সারা অঙ্গের এত কাছে আগুন নিয়ে কি কেউ ঘুমাতে পারে? চন্দনী অভ্যস্ত। ও ঘুমুলো কিন্তু সারারাত আমি শুয়ে শুয়ে বাইরে বসন্তবনের ফিফিসানি শুনলাম। পিউ-কাঁহাটা সারারাত তার প্রিয়াকে ডেকেই গেল। তবু সাড়া দিলো না প্রিয়া।

    বিছের কামড়ের হাত থেকে চন্দনী বাঁচল নিশ্চয়ই।

    কিন্তু একটা অন্য বিছে আমাকে সারারাত কামড়ে মারল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোজাগর – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article বনবিবির বনে – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }