Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লা নুই বেঙ্গলী – মির্চা এলিয়াদ

    মির্চা এলিয়াদ এক পাতা গল্প263 Mins Read0
    ⤷

    লা নুই বেঙ্গলী – ১

    ১

    মৈত্রেয়ীর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাতের সঠিক তারিখটা মনে না থাকায়, কাহিনীটা কোথা থেকে শুরু করবো ঠিক বুঝতে পারছি না। সত্যি বলতে কি সে বছরে আমার ডায়েরিতে এ বিষয়ে কিছুই লেখা নেই। অনেক পরে স্যানাটোরিয়াম থেকে ছুটি পাবার পর তার নাম ডায়েরিতে পেলাম? আমি তখন থাকতাম ভবানীপুরে, নরেন্দ্র সেনের বাড়ি। সেটা ১৯২৯ সাল। সে বাড়িতে মৈত্রেয়ীকে আমি দেখেছি অন্তত দশমাস আগে। কাহিনী শুরু করবার সময় আমার অস্বস্তি একটাই। আমি মৈত্রেয়ীর সে সময়কার মুখ, কেন জানি না, ঠিক মনে করতে পারছি না। তাছাড়া আমাদের প্রথম সঙ্কাতের সেই বিস্ময়, অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ আর উদ্বেলতার কথা আমি কী করে ভাষায় প্রকাশ করবো তাও বুঝতে পারছি না।

    মনের মধ্যে শুধু তার একটা অস্পষ্ট স্মৃতিই এতকাল ধরে রেখেছিলাম, অক্সফোর্ড বুক অ্যাণ্ড স্টেশনারি স্টোর্সের সামনে, মোটরে অপেক্ষমান মৈত্রেয়ীর সেই চেহারা। তার বাবা আর আমি ‘বড়দিন উপলক্ষে কিছু বই পছন্দ করতে সেখানে ঢুকে ছিলাম। মনে আছে সেদিন তাকে প্রথম দেখে এক অস্বস্তিকর শিহরণ হয়েছিল আমার শরীরে। সঙ্গে সঙ্গে একটা বিতৃষ্ণার ভাবও এসেছিল। কৌতূহলও যে হয়নি এমন নয়। আমার কৌতূহলী চোখ দেখেছিল তার কালো রঙের খুব বড় বড় চোখ আর পুরু ঠোঁট। আর দেখলো উন্নত বুক যা বাঙালী কুমারী মেয়েদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী খুব দ্রুত বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়ে যায়। …..মৈত্রেয়ীর সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো। আমাকে নমস্কার করার সময় সে যখন কপালে হাত ঠেকালো, আমি দেখলাম তার দুটি নগ্ন বাহু। তার গায়ের রঙ অনুজ্জ্বল, বাদামী, মাটি আর মোমের যেন সংমিশ্ৰণ।

    সে সময়ে আমি থাকতাম ওয়েলেসলী স্ট্রীটের ‘রিপন ম্যানসনে’। আমার পাশের ঘরে থাকতো ‘হ্যারল্ড কার’। হ্যারল্ড ছিল ‘আর্মী-নেভী’ স্টোর্সের কর্মচারী। আমরা দুজনে ছিলাম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার সঙ্গে কলকাতার অনেক পরিবারের পরিচয় ছিল। তার সঙ্গে আমি অনেক সন্ধ্যা এইসব পরিবারদের বাড়িতে কাটিয়েছি। সপ্তাহে একদিন যুবতী মেয়েদের আমরা আমাদের নাচের আসরে আনতাম।

    মৈত্রেয়ীর নগ্ন বাহু আর তার অদ্ভূত কালচে বাদামী গায়ের রঙের কথা আমি হ্যারল্ডকে জানাবো ভাবছিলাম। হাত দুটো আমার কাছে সত্যিই পুরুষালি লেগেছিল এবং সেজন্য অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। আসলে এ বিষয়ে আমার যা মনে হয়েছিল, তা আমি ওর কাছে যাচাই করে নিতে চেয়েছিলাম।

    আরও দেখুন
    লেখালেখির
    বুক শেল্ফ
    লেখা
    Book
    লেখার
    বই
    বাংলা বই
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    Library

    দৃশ্যটা এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে। হ্যারল্ড তখন দাড়ি কামাচ্ছিল। ওর পা দুটো তখন একটা ছোট টেবিলের ওপর তোলা। সামনে ছোট আয়না, চায়ের কাপ আর হাল্কা বেগুনি রঙের নাইট গাউন, যাতে জুতোর কালির দাগ। মনে আছে এ জন্য ও ওর চাকরকে মেরে রক্ত বার করে দিয়েছিল, অথচ সে বেচারীর কোনো দোষ ছিল না। একদিন রাত্রিবেলা Y. M. C. A.-তে নাচের পর মত্ত অবস্থায় সে নিজেই নাইট-গাউনটা নোংরা করে দিয়েছিল। যাই হোক, আমি দেখছিলাম, তার অগোছালো বিছানার ওপর কয়েকটা খুচরো পয়সা পড়ে আছে। আর আমি তখন কাগজ পাকিয়ে সরু করে পাইপের মুখ পরিষ্কার করার বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম।

    আমার কথা শুনে সে বললে, না রে অ্যালেন, একটা বাঙালী মেয়েকে তোর ভালো লাগবে কি করে? ওদের দেখলে গা ঘিনঘিন করে, ওদের সঙ্গও বিরক্তিকর। আমি তো এখানে জন্মেছি। আমি ঐসব মেয়েদের তোর চাইতে অনেক ভালোভাবে জানি। বিশ্বাস কর, ওরা এতো নোংরা যে ওদের সম্বন্ধে আর কিছু ভাবা যায় না। আর প্রেম? সে তো একেবাবেই চলে না। আর তাছাড়া ওই মেয়েটা তোকে কোনোদিনও পাত্তা দেবে ভেবেছিস্!

    আসলে হ্যারল্ডই ওই ভুল করেছিল। আমি ভালোভাবে এক বাঙালী তরুণীর বর্ণনা করেছি, তাই শুনেই সে ধরে নিয়েছিল যে, আমি তাকে ভালোবাসতে চাইছি। হ্যারল্ড, সব অ্যাংলো ইণ্ডিয়ানদের মতই নির্বোধ আর গোঁড়া কিন্তু বাঙালী মেয়েদের নিয়ে ওর রূঢ়, নির্বোধ সমালোচনা আমার মনে এক অদ্ভূত প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলো। বসে থাকতে থাকতেই আমার অস্পষ্ট ধারণা হলো যে মৈত্রেয়ীর স্মৃতি ইতিমধ্যেই ক্ষণিকের জন্য হলেও আমার বাসনা-কামনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এই আবিষ্কার আমায় একাধারে খুশি করলো আবার বিচলিতও করলো। যন্ত্রচালিতের মত পাইপ পরিষ্কার করতে করতে আমি আমার ঘরে চলে গেলাম।

    আরও দেখুন
    লেখার
    বই
    Book
    লেখালেখির
    লেখা
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    ই-বই ডাউনলোড
    বই পড়ুন

    এইসব কথা আমার ডায়েরিতে আমি কিন্তু কিছুই লিখে রাখিনি। না লিখলেও সেই সব মুহূর্তগুলো আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছিল। বিশেষ করে সেই দিনটির কথা, যে দিন রাত্রে আমি জুঁই ফুলের মালা উপহার পেয়েছিলাম মৈত্রেয়ীর কাছ থেকে।

    তখন আমি ভারতে সবেমাত্র আমার চাকরি-জীবন শুরু করেছি। কুসংস্কারাচ্ছান্ন মন নিয়েই এসেছি এদেশে। রোটারী ক্লাবের মেম্বার আমি, সে গর্বও ছিল, আর ছিল আমার জাতীয়তাবোধ, পাশ্চত্যে আমার জন্মের অহংকার ইত্যাদি। আমার সে সময়ে পাঠ্য ছিল পদার্থবিদ্যা, গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞানের বই। এ সব পড়তাম অথচ ছেলেবেলায় কল্পনা করতাম মিশনারী হবো আমি। আরও একটা অভ্যাস ছিল আমার। যত্নের সঙ্গে লিখতাম আমার প্রিয় ডায়েরি।

    এদেশে আমি এসেছিলাম Noel & Noel কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে। এখানে টেকনিক্যাল ড্রাফটসম্যান হিসাবে বদ্বীপে খাল খননের কাজে যোগ দিয়েছিলাম। এখানেই পরিচয় হলো এডিনবার্গের ডিপ্লোমাপ্রাপ্ত প্রধান ইঞ্জিনিয়ার এবং কলকাতার অন্যতম গণ্যমান্য ব্যক্তি, মৈত্রেয়ীর বাবা নরেন্দ্র সেনের সঙ্গে। আমার জীবনের পরিবর্তনের সূত্রপাত ঠিক সেখান থেকেই। আমার আয় হয়তো তুলনায় অল্প ছিল, কিন্তু আমার কাজে আমি আনন্দ পেতাম। ক্লাইভ স্ট্রীটের অফিসের মধ্যে ছোট্ট উনুনে রান্না করা, অসংখ্য কাগজে সই করা অথবা তার মর্মোদ্ধার করা, গ্রীষ্মের প্রতি সন্ধ্যায় স্নায়বিক অবসাদের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য মাতাল হওয়ার একঘেয়ে রুটিন-জীবন। দুতিন সপ্তাহ অন্তরই বাইরের কাজে যেতে হতো। আর যখন যেতাম, তখন মুক্তি পেতাম ঐ একঘেয়েমি থেকে। তমলুকের নির্মাণ কার্যের প্রাথমিক দায়িত্ব আমার হাতে ন্যস্ত ছিল। প্রতিবারই অফিস থেকে কর্মক্ষেত্রে এসে যখন দেখতাম বাঁধগুলো আরও উঁচু হয়ে উঠেছে, তখন আমার মন আনন্দে ভরে উঠতো।

    আরও দেখুন
    Book
    লেখালেখির
    লেখা
    বুক শেল্ফ
    লেখার
    বই
    বাংলা অডিওবুক
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার

    সে সময়টা সত্যিই সুখের সময় ছিল। ভোরবেলা হাওড়া-মাদ্রাজ এক্সপ্রেস ধরে প্রাতরাশের আগেই কাজের জায়গায় পৌঁছে যেতাম। স্টেশনটা ছিল যেন প্রতীক্ষারত বন্ধুর মতো। তাছাড়া ভারতে প্রথম শ্রেণীতে ভ্রমণ যথেষ্টই আরামদায়ক। মেরুণ রঙের হেলমেটটা প্রায় চোখের ওপর নামিয়ে প্ল্যাটফর্মের ওপর দিয়ে গটগট করে হেঁটে যেতাম, বগলে গোটা পাঁচেক ইলাস্ট্রেটেড ম্যাগাজিন, হাতে দুপ্যাকেট ক্যাপস্টান সিগারেট আর পেছনে আমার চাকর। তমলুকে থাকাকালীন আমি বড্ড বেশি সিগারেট খেতাম। এমনকি প্ল্যাটফর্মের সিগারেট স্টলগুলোর সামনে দিয়ে যাবার সময় কেবলই মনে হতো সিগারেট বোধ হয় যথেষ্ট কেনা হয়নি। একদিনের বিশ্রী অভিজ্ঞতা আমি ভুলবো না। সিগারেটের অভাবে মজুরদের কাছ থেকে খৈনী নিয়ে পরখ করতে গিয়ে আমার সারা অঙ্গে সে কী কাঁপুনী। আমি কখনই কামরার সহযাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করতাম না। মোট কথা, আমার সহযাত্রী বলতে যারা ছিল, তারা অক্সফোর্ডের মাঝারি ধরনের ছাত্র, অথচ এখানকার ‘বড় সাহেব’, যাদের পকেটে সর্বদাই থাকতো ডিটেকটিভ উপন্যাস, আর নয়তো এমন সব ভারতীয় বড়লোক, যারা টাকার জোরে প্রথম শ্রেণীতে ভ্রমণে অভ্যস্ত হলেও ঠিকমতো কোট পরতে আর দাঁত মাজতে শেখেনি। তার থেকে আপন মনে জানালার বাইরে তাকিয়ে বাংলার সমতল ভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করা ছিল অনেক আনন্দের।

    আরও দেখুন
    লেখালেখির
    লেখা
    বুক শেল্ফ
    Book
    লেখার
    বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা ভাষা

    একমাত্র সাদা চামড়ার মানুষ বলেই আমার কর্মস্থলের ওপর ছিল আমার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব। কয়েকজন অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান অবশ্য ছিল, যারা ব্রীজের কাজই মূলত দেখা শোনা করতো, কিন্তু তারা কখনই আমার সমমর্যাদা পেত না। তারা ট্রেনে তৃতীয় শ্রেণীতে যাতায়াত করতো এবং ওখানকার রীতি অনুয়ায়ী খাকী রঙের ছোট হাফ প্যান্ট আর বড় পকেটওয়ালা খাকী রঙের হাফসার্ট পরে বিশুদ্ধ হিন্দীতে মজুরদের গালিগালাজ করতো। অপর পক্ষে আমার হিন্দী উচ্চারণ ছিল খুবই খারাপ আর ভাষাটাও হতো বেশ অশুদ্ধ। কিন্তু তাতে কিছু এসে যেত না। শ্রমিকদের ওপর আমার প্রভাব ছিল অন্য কারণে। কারণটা হলো আমি বিদেশী। সুতরাং আমার বক্তব্য অভ্রান্ত এবং শ্রেষ্ঠ, এটাই ছিল অবধারিত। সারাদিন ওদের সঙ্গে বক্ করে, সন্ধ্যায় তাঁবুতে ফিরে লেখালেখির কাজ সেরে শেষে পাইপটা ধরিয়ে নিবিষ্ট মনে চিন্তা করা, এটাই ছিল আমার প্রাত্যহিক কর্ম। সমুদ্রের ধারে তালগাছের সারি আর উগ্রগন্ধযুক্ত ঝোপঝাড়ওয়ালা এই সমতল জায়গাটায় সাপের উপদ্রব যথেষ্ট থাকলেও আমার খুব ভাল লেগে গিয়েছিল। হট্টগোল কোলাহল থেকে দূরে নির্জন, নিস্তব্ধ এই জায়গাটা আমার মনে এনে দিতো এক অসীম প্রশান্তি। নীল আকাশের নিচে এই সবুজ পরিত্যক্ত সমতলভূমি যেন ভ্রমণকারীদের জন্যে বিষণ্ণ প্রতীক্ষায় থাকতো। তখনকার দিনগুলো ছিল যেন অবকাশযাপনের সময়ের মতো আনন্দমুখর। প্রচুর উৎসাহ। আমার ওপর কর্তৃত্ব করার কেউ ছিল না। ডাইনে বাঁয়ে হুকুম চালাতাম। শুধু অভাব ছিল একজন বুদ্ধিমান সঙ্গীর। তেমন সঙ্গী যদি কেউ তখন থাকতো তাহলে হয়ত তাকে আমি অনেক বিস্ময়কর কিছু শোনাতে পারতাম।

    আরও দেখুন
    Book
    বুক শেল্ফ
    লেখালেখির
    লেখা
    বই
    লেখার
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    অনলাইন বই

    ঘটনাচক্রে একদিন লুসিয়্যাঁ মেজ-এর সঙ্গে আমার দেখা হয়ে গেল। আমি রোদে পুড়ে ক্ষিদে- তেষ্টায় কাতর হয়ে প্ল্যাটফর্মের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছি, আমার চাকর গেছে ট্যাক্সি ডাকতে, আর এদিকে তখন সবে বম্বে এক্সপ্রেস এসে পৌঁছেছে। তার ফলে হাওড়া স্টেশনে প্রচণ্ড ভীড়। এর মধ্যে দেখা লুসিয়্যাঁর সঙ্গে।

    লুসিয়্যাঁর সঙ্গে আমার আলাপ বছর দুয়েক আগে এডেন বন্দরে। জাহাজ কয়েক ঘন্টার জন্য থেমে ছিল। আমি যাবো ভারতবর্ষের পথে আর লুসিয়্যাঁ মিশরে যাবার জন্য একটা ইটালিয়ান জাহাজের অপেক্ষায়। যদিও সে ছিল একটু বেশি মাত্রায় দাম্ভিক তবু তীক্ষ্ণবুদ্ধি সম্পন্ন, প্রতিভাবান এই সাংবাদিককে আমার বেশ ভালো লেগেছিল। জাহাজে বসেই সে তখন একটা অর্থনৈতিক প্রবন্ধ লিখছিল, দেশের মূল্যতালিকা আর সেই বন্দরের মূল্যতালিকার তুলনামূলক পর্যালোচনা করে। লুসিয়্যাঁর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। একঘন্টা মাত্র একটা মোটরে ঘুরে, যে-কোনও একটা শহর সম্পর্কে সে নিখুঁত বিবরণ লিখতে পারতো। যে সময়ে তার সঙ্গে আমার আলাপ, তখন তার একাধিকবার ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান ঘোরা হয়ে গেছে। যারা মহাত্মা গান্ধীর সমালোচনা করতো তাদের সঙ্গে সে ছিল একমত। তবে সেটা মহাত্মাজী যা করেছিলেন তার জন্য নয়, উনি যা করতে পারতেন অথচ করেন নি, সেই ব্যাপারে তার বক্তব্য ছিল তীক্ষ্ণ যুক্তিভিত্তিক।

    আরও দেখুন
    লেখা
    লেখালেখির
    লেখার
    Book
    বই
    বুক শেল্ফ
    বাংলা কমিকস
    বাংলা ভাষা
    Library
    বিনামূল্যে বই

    আমাকে হঠাৎ দেখে কিছুমাত্র অবাক না হয়ে লুসিয়্যাঁ ফরাসী ভাষায় চিৎকার করে উঠলো, হ্যালো অ্যালেন! সেই ভারতেই রয়ে গেছিস? শোন, লোকটাকে বলে দে তো, আমার ইংরেজী না বোঝার সুযোগ নিয়ে আমাকে কোনো হোটেলে না তুলে দেয়। সোজা Y.M.C.A.-তেই যেন যায়। ভারতের পটভূমিতে একটা বই লিখছি। বইটা সাকসেসফুল হবেই। ডিটেকটিভ উপন্যাসে রাজনীতির মশলা মেশানো। শোনাবো তোকে।

    আধুনিক ভারতের ওপর লুসিয়্যাঁর একটা বই লেখার ইচ্ছে অনেক দিনের। এর জন্য কয়েক মাস ধরে সে বিভিন্ন লোকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। জেলখানাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছে, অনেক ছবিও তুলেছে। সেদিন সন্ধ্যাবেলায় Y.M.C.A.. হোটেলে গিয়ে তার অ্যালবামগুলো দেখলাম এবং বুঝলাম একমাত্র ভারতীয় নারীদের ব্যাপারটাই তাকে কিছুটা অসুবিধায় ফেলেছে। এ ব্যাপারে তার কোনো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। পর্দার অন্তরালে যাদের জীবন-যাত্রা চলেছে তাদের সম্পর্কে লুসিয়্যাঁর ধারণা ছিল স্বাভাবিকভাবেই খুব অস্পষ্ট। তাদের নাগরিক অধিকার সম্বন্ধে তার কিছুই জানার অবকাশ ছিল না। বিশেষতঃ সে খুবই কৌতূহলী ছিল বাল্যবিবাহ সম্পর্কে। অনেক বার সে আমাকে প্রশ্ন করেছে যে, এদেশে আট বছরের মেয়েরও বিয়ে দেওয়া হয় কিনা। অস্বীকার করতে পারিনি, কারণ এ ঘটনার উল্লেখ আমি এক বিশিষ্ট ব্যক্তির বইতে পড়েওছি, যিনি এখানে প্রায় তিরিশ বছর ধরে ম্যাজিস্ট্রেটের মত দায়িত্বশীল পদে আসীন ছিলেন।

    আরও দেখুন
    বই
    Book
    বুক শেল্ফ
    লেখালেখির
    লেখা
    লেখার
    সাহিত্য পত্রিকা
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    নতুন উপন্যাস

    এসব ব্যাপারে আলোচনা করতে করতে ঘেরা বারান্দার লাউঞ্জে একটা সুন্দর সন্ধ্যা কেটেছিল। কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাকে এ সমস্ত বিষয়ে বিশেষ কোনো ধারণা বা জ্ঞান আমি দিতে পারলাম না। আমি নিজেও এদেশের নারীদের চিনতাম না। কদাচিৎ তাদের সিনেমা হলে অথবা সভা- সমিতিতে দেখেছি। ভাবতে ভাবতে একটা বুদ্ধি মাথায় এলো, যদি নরেন্দ্র সেনকে অনুরোধ করি আমার বন্ধুকে চায়ের নিমন্ত্রণ করতে তাহলে হয়ত লুসিয়্যাঁ তাঁর কাছ থেকে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য পেলেও পেতে পারে। আর সেই সুবাদে আমিও মৈত্রেয়ীকে হয়ত কাছ থেকে দেখার একটা সুযোগ পেতে পারি। সেই অক্সফোর্ডের দোকানের সামনে প্রথম দেখা হয়েছিল, তার পরে তাকে আর আমি দেখিনি। মিঃ সেনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল আন্তরিকতার, যদিও তা সীমাবদ্ধ ছিল অফিসের কাজকর্ম এবং গাড়িতে একসঙ্গে যাতায়াতের সময় কথাবার্তার মধ্যে। অবশ্য এর মধ্যে দুবার তিনি আমায় তাঁর বাড়িতে চা খেতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন, কিন্তু তখন আমার অবসর সময়ের পদার্থবিদ্যা, গণিতবিদ্যার আকর্ষণ কাটিয়ে ওঁর বাড়ি যেতে পারিনি।

    আমি মিঃ সেনকে জানালাম, লুসিয়্যাঁ ভারতের ওপর একটা বই লিখছে যেটা প্যারিস থেকে প্রকাশিত হবে এবং এ ব্যাপারেই সে ওঁর সঙ্গে কিছু আলোচনা করতে চায়। মিঃ সেন সানন্দে রাজী হলেন এবং সেই দিনই সন্ধ্যায় আমাদের নিমন্ত্রণ জানালেন। আনন্দের সঙ্গে লুসিয়্যাঁকে খবরটা জানালাম। লুসিয়্যাঁ কোনো দিনই কোনো সম্ভ্রান্ত ভারতীয়ের বাড়িতে ঢোকেনি, তাই সে নিজে মনে মনে তৈরি হতে লাগলো একটা নিখুঁত বিবরণ নেওয়ার জন্য। লুসিয়্যাঁ আমায় প্রশ্ন করলো—মিঃ সেনেরা কী জাত?

    আরও দেখুন
    লেখালেখির
    লেখা
    বুক শেল্ফ
    Book
    লেখার
    বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ই-বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স

    —ব্রাহ্মণ, তবে যতটা সম্ভব কম গোঁড়া। রোটারি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা-সভ্য, ক্যালকাটা ক্লাবের সভ্য, চমৎকার টেনিস প্লেয়ার এবং নিজের গাড়ি অধিকাংশ সময় নিজেই চালিয়ে থাকেন। ব্রাহ্মণ হলেও মাংস খান; বাড়িতে অতিথি এলে, এমন কি অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান হলেও স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিতে দ্বিধা করেন না। আমি নিশ্চিত, মিঃ সেনকে তোর ভালো লাগবেই।

    তবে একথা অবশ্যই স্বীকার করা উচিত যে ভবানীপুরে তাঁর বাড়ি আমি অফিসের প্রজেক্ট-প্ল্যান নিতে যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে দেখলেও, বাড়ির ভেতরে যে জিনিস-পত্র আমি দেখলাম তা আমাকে লুসিয়্যাঁর চেয়ে কম বিস্মিত করেনি। দরজায় স্বচ্ছ পর্দা, নরম কার্পেটে ঢাকা মেঝে; কাশ্মিরী উলের কাপড় দিয়ে ঢাকা সোফা। সোফার পাশে ছোট ছোট একপায়াওয়ালা টেবিল। টেবিলে চায়ের কাপ আর এক ধরনের খাবার রাখা, যাকে ঠিক ‘কেক’ না বলে ‘পিঠে’ বলা ভালো, ভারতীয়রা তাই বলে থাকে বটে। মিঃ সেন নিজেই ওগুলো পছন্দ করেছেন যাতে তাঁর অতিথিকে তিনি স্থানীয় খাদ্য সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল করতে পারেন।

    আমি অবাক হয়ে ঘরটা দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন এইমাত্র ইউরোপ থেকে ভারতের মাটিতে পা দিলাম। দুটো বছর এদেশে কাটালেও আমার কখনও ইচ্ছা হয়নি। একটা বাঙালী পরিবারের অন্দর মহলের জীবনটা জানতে, এমন কি অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রা না হোক, তাদের শিল্পকর্মগুলো সম্পর্কেও বুঝতে বা তাদের সৌন্দর্য উপলদ্ধি করতে। এ যাবৎ ঔপনিবেশিক প্রভুর জীবনই যাপন করেছি অফিসে বা কোম্পানির কর্মক্ষেত্রে। কাজ নিয়ে ব্যস্ততা, অবসরে বই পড়া অথবা সেই সব প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে সময় কাটানো, যা আমার নিজের দেশেও এমন কিছু দুর্লভ বস্তু ছিল না। সে দিন বিকেলেই আমার মনে এই সব প্রশ্ন ভীড় করে এলো। লুসিয়্যাঁ অত্যন্ত উৎসাহভরে কোনো কোনো ব্যাপারে আমার মতামত চেয়ে নিজের অনুভূতি আর পর্যবেক্ষণের ফলশ্রুতি যাচাই করতে দেখছিল। মিঃ সেনের কথাবার্তা সে সঠিক বুঝতে পেরছে কিনা তা-ও যাচাই করছিল। আমি ক্রমশ চিন্তার ভীড়ে ডুবে যাচ্ছিলাম। সে সময়ে ডায়েরিতেও কিছু লিখিনি, তাই আজ বিস্তৃত বিবরণ দিতে পারছি না। সেদিন গোধূলিলগ্নে মৈত্রেয়ী আমার মনে কি ধরনের ছাপ ফেলেছিল। আজ ভাবতে খুবই অবাক লাগে, সেদিন সেই সব মানুষদের সম্পর্কে এতটুকু ধারণা করতে আমি কী করে সক্ষম হইনি যারা কিছুকাল পরেই আমার জীবনধারা সম্পূর্ণ ভাবে পাল্টে দেবে।

    আরও দেখুন
    লেখার
    বই
    লেখা
    Book
    বুক শেল্ফ
    লেখালেখির
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা অডিওবুক
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী

    ফিকে চা-রঙের স্বচ্ছ শাড়ি, রূপোলী জরির কাজ করা চটি, গায়ে চেরী হলুদ রঙের শালে তাকে খুবই সুন্দরী মনে হচ্ছিল। তার কুঞ্চিত কালো কেশরাশি, গভীর কালো চোখ, আরক্তিম অধর, যৌবন- উদ্বেলিত শরীর দেখে মনে হচ্ছিল, তা যেন বাস্তব হয়েও পুরোপুরি বাস্তব নয়! অদম্য কৌতূহলী চোখ মেলে তাকে আমি দেখছিলাম। রেশমের মত লুঘু তার অঙ্গ সঞ্চালন, লজ্জাজড়িত, ভয়মিশ্রিত মৃদ হাসি, নতুন নতুন সরধ্বনিতে বেজে ওঠা কণ্ঠস্বর, সব কিছু দেখে শুনে মনে হচ্ছিল এই মহান সৃষ্টির মধ্যে কতই না রহস্য লুকিয়ে আছে। মৈত্রেয়ীর ইংরেজী ছিল বিশুদ্ধ কিন্তু স্কুল-ঘেঁষা। কিন্তু যতবারই সে মুখ খুলছিল, আমি আর লুসিয়্যাঁ তার দিকে না তাকিয়ে পারছিলাম না।

    চায়ের স্বাদ ছিল আশাতীতভাবে উপাদেয়। প্রত্যেকটা খাবার চেখে দেখে লুসিয়্যাঁ সেগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করে জ্ঞাতব্য তথ্য টুকে নিচ্ছিল। প্রশ্ন করছিল ভাঙা ইংরেজীতে। মিঃ সেন অবশ্য বলছিলেন যে তিনি ফরাসী বোঝেন, তাঁকে দুবার প্যারিসে কনফারেন্সে যোগদান করতে হয়েছে এবং তাঁর লাইব্রেরীতে কিছু ফরাসী উপন্যাসও আছে। লুসিয়্যাঁ তাঁকে অত্যন্ত চলতি ফরাসীতেও মাঝে মাঝে প্রশ্ন করেছিল। আর মিঃ সেন তার উত্তরে মৃদু হেসে ‘তা বটে, তা বটে’ গোছের উত্তর দিচ্ছিলেন আর আমাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন পরম পরিতৃপ্তির দৃষ্টিতে।

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    লেখার
    লেখালেখির
    বই
    Book
    লেখা
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    ই-বই ডাউনলোড

    লুসিয়্যাঁ, হঠাৎ মৈত্রেয়ীর পোশাক আর অলঙ্কার কাছ থেকে দেখতে চেয়ে বসলো। মিঃ সেন সানন্দে রাজী হলেন, কিন্তু মৈত্রেয়ী ভয় পেয়ে জানালার দিকে সরে গেল। ভয়ে তার ঠোঁটটা তখন কাঁপছিল। লুসিয়্যাঁ ওর কাছে দিয়ে অলঙ্কারগুলো হাত দিয়ে স্পর্শ করে গভীর বিস্ময় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য প্রশ্ন করে চলেছিল আর উত্তরগুলো টুকে নিচ্ছিল। মৈত্রেয়ীর পা থেকে মাথা অবধি কাঁপছিল আর সে কোন দিকে যে তখন দৃষ্টি রাখবে তা বুঝতে পারছিল না। এক সময় তার চোখ আমার চোখের ওপর পড়লো। তার চোখে চোখ রেখে আমি মৃদু হেসে ইঙ্গিতে তাকে আশ্বস্ত করলাম। সে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এবং ক্রমশ শান্ত হয়ে এলো। মনে এলো যেন সে খুঁজে পেয়েছে তার নির্ভরতার বন্দর। কতক্ষণ যে তাকিয়েছিল তা বলতে পারবো না, কিন্তু এটুকু বলতে পারি, এ যাবৎ বিনিময় করা দৃষ্টির সঙ্গে সে দৃষ্টির কোনো মিল ছিল না। লুসিয়্যাঁর দেখা শেষ হলো। মৈত্রেয়ী তার জায়গায় ফিরে গেল, কিন্তু পরস্পরের দিকে তাকানো আমার সেই মুহূর্ত হয়ে রইলো অতি গোপন আর উষ্ণ এক অভিজ্ঞতা।

    মৈত্রেয়ীর থেকে দৃষ্টি এড়াতে আমি তার বাবার দিকে মনোযোগ দিলাম। কিন্তু তাঁকে কেমন যেন নিষ্প্রভ আর ভাবলেশহীন মানুষ বলে মনে হচ্ছিল। কাছ থেকে তাঁকে আমি পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম। প্রকাণ্ড একটা মুখে বড় বড় দুটো কুৎকুতে চোখ, কালো মাথাটা যেন একটা হাঁড়ির মতো নিচু কপাল, কালো কয়লার মত কোঁকড়ানো চুল, ঝোলা কাঁধ, বেঢপ ভুঁড়িওয়ালা পেট, বেঁটে পা, এই সব দেখে আমার একটা কোলা ব্যাঙের কথা মনে পড়লো। এই মানুষটার ভেতরেও যে স্নেহ, সহানুভূতির প্রাচুর্য আছে, তা বোঝাই দুষ্কর ছিল। তবুও মানুষটাকে আমার সম্মোহক, বুদ্ধিমান, দক্ষকর্মী, খোসমেজাজী, শান্ত আর সৎ মনে হলো।

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    লেখার
    লেখালেখির
    Book
    লেখা
    বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    গ্রন্থাগার
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    নতুন উপন্যাস

    এরকম সময় তাঁর স্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা দেবী এলেন। তাঁর সঙ্গে পরিচয় হলো। কিন্তু কেন জানি না আমার মনে হোল মিসেস সেন যেন এক অকারণ ভয়ের ভাব নিয়ে এলেন। তাঁর পরনে ছিল নীল রঙের শাড়ি আর গায়ে ছিল সোনালী কাজ করা নীল শাল। তাঁর পায়ে কোনো জুতো ছিল না। পায়ের পাতা আর আঙুল ছিল আলতা রঞ্জিত। তিনি ইংরেজী প্রায় জানতেন না বললেই হয়, আর বোধ হয় সেজন্যই কথার বদলে মৃদু হেসে প্রত্যুত্তর দিচ্ছিলেন। সেদিন বোধ হয় তিনি খুব পান খেয়ে ছিলেন, তাই তাঁর ঠোঁট ছিল রক্তিম। তাঁকে এত কম বয়সী, লজ্জাশীলা আর সজীব লাগছিল যে তাঁকে অনায়াসে মৈত্রেয়ীর মা না বলে বড় বোন হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যেতো। তাঁর মেজো মেয়ে ছুবু সেই সময়ে ঘরে এলো। তাঁর বয়স আন্দাজ দশ-এগার হবে। চুল ছোট করে ছাঁটা, ইউরোপীয়ান পোশাক পরা কিন্তু পায়ে কোনো জুতো ছিল না।

    তার নগ্ন পা, বাহু, সুন্দর কালচে মুখ, আমাদের দেশের বোহেমিয়ান মেয়েদের কথা মনে পড়িয়ে দিচ্ছিল।

    এরমধ্যে একটা অঘটন ঘটে গেল। তার অনুপুঙ্খ বর্ণনা দেওয়া আমার পক্ষে দুঃসাধ্য। ঘরের মধ্যে তিনটি মহিলা প্রায় গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে, সবার মুখেই বাইরের লোকের সামনে দাঁড়ানোর জন্য এক ভয়ার্তভাব, আর মিঃ সেন তাদের স্বাভাবিক হতে আর কথা বলাবার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত। মিসেস সেন চা পরিবেশনের দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎই মত পাল্টে তিনি বড় মেয়েকে বললেন আমাদের চা দিতে। জানি না কার দোষে ঘটল অঘটন। হঠাৎ চায়ের পট উল্টে গিয়ে পড়লো লুসিয়্যাঁর প্যান্টের ওপর। গরম চায়ে ভিজে গেল তার প্যান্ট। তাকে সাহায্যের জন্য সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লো। মিঃ সেন তাঁর শান্ত ভাব হারিয়ে চিৎকার করে বাংলায় সবাইকে প্রচণ্ড বকাবকি করতে করলেন। লুসিয়্যাঁ ফরাসীতে কিছুই হয়নি বলে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো কিন্তু কে তার ভাষা বুঝছে বা কথা শুনছে! মিঃ সেন ভাঙা ফরাসীতে লুসিয়্যাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে তাকে অন্য জায়গায় বসতে অনুরোধ করলেন। সোফার রেশমের ঢাকাটা বদলাবার জন্য মেয়েরা ব্যস্ত হয়ে পড়ল। মিঃ সেন ক্রমাগত তাদের বকেই যেতে লাগলেন। পক্ষান্তরে আমার আর লুসিয়্যাঁর অবস্থা হলো শোচনীয়। সে মুহূর্তে আমাদের যে কী করণীয়, আমরা তা বুঝতে পারছিলাম না। যদিও ফেরবার পথে লুসিয়্যাঁ ঘটনাটা নিয়ে দারুণ হাসাহাসি করছিল, কিন্তু ঘটনাটা ঘটবার সময় তার মুখ যা হয়েছিল তা দেখবার মতো। সে সময়ে একমাত্র মিসেস সেনকেই দেখেছিলাম অচঞ্চল।

    কথাবার্তা আর বেশিক্ষণ জমেনি। মিঃ সেন লুসিয়্যাঁকে তাঁর কাকার কথা বললেন। তার কাকা ছিলেন সংস্কৃতে পণ্ডিত। সরকারি স্বীকৃতিও তাঁর ছিল। কাকার সংগ্রহের বহু প্রাচীন সংস্কৃত পুঁথি দেখালেন। আমরা ওঁদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম দেখলাম। পরে ওঁর সংগ্রহের প্রাচীন কিছু শিল্পনিদর্শনও উনি দেখালেন।

    জানালার বাইরে বাড়ির উঠোনটা দেখা যাচ্ছিল। উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা, ছোট ছোট পাতাবাহারি গাছ, লতানে গাছের ফুল। আরেক দিকে একটা তাল গাছ মাথা তুলে অস্তিত্ব জানান দিচ্ছিল। হাওয়ায় তার পাতা কাঁপছিল। এতদিন কলকাতায় আছি, কিন্তু এই নিস্তব্ধ অন্দর মহলের অভ্যন্তরে কোথা দিয়ে যেন এক আনন্দস্রোত বয়ে যাচ্ছিল তা আমার সম্পূর্ণ অজানা ছিল। বারান্দা দিয়ে হেঁটে বেরিয়ে আসছি, এমন সময়ে হঠাৎ সেই স্তব্ধতা ভেঙে ভেসে এলো এক সম্মিলিত হাসির রোল। মহিলা-শিশু কণ্ঠের সেই হাসির আওয়াজ সরাসরি আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেল। শিহরণ এলো শরীরে, মনে। ফিরে তাকাতেই আমার চোখে পড়ল এক অদ্ভুত দৃশ্য। প্রায় বিবস্ত্র মৈত্রেয়ী উপুড় হয় পড়েছে উঠোনের সিঁড়ির ধাপে। চুলগুলো মুখের ওপর, হাত দুটো বুকের কাছে। হাসির দমকে তার শরীর কাঁপছে। হাসতে হাসতে সে গোড়ালির এক এক ঝটকায় পায়ের চটি ছুড়ে ফেলে দিচ্ছিল সামনের দেওয়ালের দিকে। তাকে ওই অবস্থায় দেখে আমার যেন আশ মিটছিল না। মনে হচ্ছিল সেই কয়েক মিনিট সময় অনন্তে পর্যবসিত হোক। তার হাসি, শৃঙ্খলমুক্ত দেহের বন্য আগুন, এসব দেখা উচিত ছিল কিনা আমি জানি না, তবে সে-জায়গা ছেড়ে নড়বার শক্তিও যেন আমার ছিল না।

    অনেক ঘর পার হয়ে সদর দরজা অবধি আসার পরও উদ্দাম হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমোকছুদুল মোমিনিন বা বেহেশতের পথ
    Next Article মোতাহের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }