Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লা নুই বেঙ্গলী – মির্চা এলিয়াদ

    মির্চা এলিয়াদ এক পাতা গল্প263 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লা নুই বেঙ্গলী – ৩

    ৩

    আজ আমি অনেকক্ষণ ধরে ডায়েরির পাতা ওল্টালাম। আমার আসামে থাকার দিনগুলোয় যা লিখেছিলাম আবার পড়লাম। দৈনন্দিন জীবন-যাপনের সংক্ষিপ্ত বিবরণগুলোকে পরম্পরা অনুযায়ী সাজিয়ে নিয়ে পরবর্তীকালে আমার পরিবর্তিত জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এটা জরুরী ছিল।

    কাজে যোগ দিয়েছিলাম অত্যন্ত উৎসাহ আর কৌতূহলী মন নিয়ে। আমি ছিলাম বাস্তবিকই বোধহয় প্রথম পথপ্রদর্শক। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে রেলপথ-নির্মাণের কাজ, আমার মনে হচ্ছিল, ভারতবষ সম্পর্কে একটা বই লেখার চেয়ে অনেক জরুরী আর প্রয়োজনীয়। কিন্তু এটাও ঠিক, ওই অতি প্রাচীন, প্রায় সভ্যতার প্রথম যুগের অঞ্চলের সঙ্গে আমাদের আধুনিক যন্ত্রপাতির সংঘাত-মিলনের ঘটনা যে- কোনো ঔপন্যাসিকের বিষয়বস্তু হতে পারতো অনায়াসে। আমার কাজের মধ্যে দিয়ে আমি যে ভারতবর্ষকে চিনছিলাম, তার সঙ্গে তখনও অবধি আমার পড়া ভারতবর্ষের ওপর লেখা উপন্যাস বা খবরের কাগজের রিপোর্টের কোনো মিল ছিল না। বিষাক্ত গাছপালা, অবিশ্রান্ত বৃষ্টি, মাথার যন্ত্রণার উদ্রেককারী তাপপ্রবাহ ইত্যাদি সঙ্গে নিয়ে আমি বাস করতাম যে আদিবাসীদের সঙ্গে, তারা অনায়াসেই নৃতত্ত্ববিদদের আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু হতে পারতো। ঐ ফার্ন লতাগুল্ম-আচ্ছন্ন জায়গায় যারা থাকতো তারা ছিল একাধারে সরল এবং নিষ্ঠুর। চেষ্টা করতে কসুর করিনি ওদের মধ্যে সভ্যতার প্রাণ সঞ্চার করতে।

    ওদের নীতিবোধ, শিল্পবোধ বোঝার চেষ্টা করলাম। সংগ্রহ করতে শুরু করলাম ওদের লোকগাথা, বংশ-পরিচয়ের ইতিহাস। ছবিও তুললাম অসংখ্য। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, যতই আমি ওই প্রায়-অসভ্য মানুষদের ভেতরে প্রবেশ করছিলাম ততই আমার মর্যাদাবোধ, অহঙ্কার প্রখর হচ্ছিল। এতদিন এগুলো কোথায় ছিল? এমনকি আমার মনে এরকম কিছু থাকতে পারে বলেও আমার ধারণা ছিল না। কিন্তু ওই জঙ্গলে সত্যি সত্যিই আমি ছিলাম সৎ আর আমার রিপু দমন করার ব্যাপারে অনেক বেশি সক্ষম।

    কিন্তু বৃষ্টি! রাতের পর রাত অনিদ্রার শিকার হয়ে আমি শুনতাম ছাদের ওপর বৃষ্টির অবিরাম ছন্দ। অবিস্মরণীয় সেই শব্দ। মুষলধারে সেই বৃষ্টি দিনের পর দিন চলতো। ছেদ পড়তো হয়ত মাত্ৰ কয়েক ঘন্টার জন্য। কিন্তু তখনও একটা কুয়াশার মতো পরিবেশে ঝিরঝির করে তার রেশ চলতো। সেই সূক্ষ্ম বৃষ্টির কণাগুলো ছিল বরফের মতো ঠাণ্ডা কনকনে, তার মধ্য দিয়ে যখন আমি হেঁটে যেতাম, অদ্ভুত এক তীব্র বুনো সুবাস মস্তিষ্ক আচ্ছন্ন করে দিতো।

    বিকেলে হয় আমার বাংলার বারান্দায় পায়চারি করতাম, নয়তো নিরালা, নির্জন শোবার ঘরে বসে স্যাঁতসেঁতে তামাক পাইপে পুরে ধূমপানের চেষ্টা করতাম।

    আরও দেখুন
    বই
    লেখা
    লেখার
    Book
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ই-বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন

    মাঝে মাঝে এই জীবন অসহ্য মনে হতো। এক তীব্র অস্থিরতা শরীর মন জুড়ে বিদ্রোহ জানাতো। ছট্‌ফট্ করতাম, ঘুষি পাকিয়ে বারান্দার থামে আঘাত করতাম। চিৎকার করে উঠতাম; বৃষ্টির মধ্যেই নিরুদ্দেশের পথে বেরিয়ে পড়তাম কোনো এক অজানা দেশের সন্ধানে, যেখানে আকাশ অনন্তকাল ধরে মুষলধারে বৃষ্টিপাত করে না, বা ভিজে স্যাঁতসেঁতে উঁচু ঘাসের জঙ্গল নেই। ভীষণ মনে পড়তো তমলুকের কথা। সেই সমতল ভূমি, লবণাক্ত বাতাসের ঝাপটা, মরুভূমির মতো শুষ্ক বাতাস। এখানকার পরিবেশ, জঞ্জাল, পচা গন্ধ আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল।

    বাংলোয় আমি ছাড়া আর থাকতো আমার তিনজন চাকর আর বাংলোর মালিক। কদাচিৎ কোনো বিদেশী আসতো; পাটচাষের পর্যবেক্ষক, মহকুমার কোনো ইংরেজ সরকারী কর্মচারী অথবা চীনযাত্রী কোনো চা-ব্যবসায়ী। সে সময় আমরা এক সঙ্গে বসে হুইস্কি খেতাম। অন্যান্য দিন কাজ থেকে ফিরে এসে স্নানের পর আমি একাই মদ্যপান করতাম। মদ খেতে খেতে এমন একটা অবস্থায় পৌঁছতাম যখন নিজের অস্তিত্বের কোনো অনুভূতি আর আমার থাকতো না। তখন আমার গায়ে আঁচড় কাটলেও আমি কোনো কষ্ট অনুভব করতাম না। শ্বাস-প্রশ্বাসে একটা জ্বালা অনুভব করতাম। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেই মাথা ঘুরে যেত। আমার ইচ্ছাশক্তি লুপ্ত হতো। শূন্যে যে কতক্ষণ ধরে তাকিয়ে থাকতাম তা কে জানে। সময়ের জ্ঞান হারিয়ে যেতো। লম্বা চেয়ারে গা এলিয়ে, নাইট-গাউন পরে বসে থাকতাম। নেশার ঘোরে আমার চিবুক এসে ঠেকতো বুকে। এইভাবে একটা সময় আমার মনে হতো, ভিজে স্যাঁতসেঁতে ভাব কেটে গিয়ে আমার শরীরের পরিচিত উত্তাপ ফিরে এসেছে। এক একদিন এর পর লাফিয়ে উঠে পোশাক পরে নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই বেরিয়ে পড়তাম। ধুলোর মতো জলকণা মিশ্রিত বাতাসে শ্বাস নিতে নিতে বিষণ্ণ চিত্তে আমি স্বপ্ন দেখতাম একটা সুখী, সাধারণ জীবনের। শহর বা শহরের উপকন্ঠে একটা সাধারণ ছোট বাড়ি, শহরে দিনে অন্তত একবারও যাওয়া যায় এরকম একটা জায়গা হলেই চলবে। বৃষ্টির মধ্যে ভবঘুরের মতো ঘুরতে ঘুরতে এই সব ভাবতাম আমি। ঘুরে বেড়াতাম যতক্ষণ না অন্য কাজে প্রবৃত্তি আসত, অথবা ঘুম পেতো।

    আরও দেখুন
    লেখা
    লেখার
    বই
    বুক শেল্ফ
    Book
    বই পড়ুন
    PDF
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বইয়ের
    বাংলা উপন্যাস

    আসামে থাকাকালীন আমার ঘুম ছিল খুব গভীর। বিশেষ করে সেই তিন সপ্তাহ, যখন আমি সদিয়ার চল্লিশ মাইল দূরে জঙ্গলে কাজ করতাম। ওখান থেকে মাঝে মাঝে প্রায় মধ্যরাত্রে মোটরে বাংলোয় ফিরে আসতাম। পাহাড়ী রাস্তার খাদ এড়িয়ে অনেক ঘুর পথে ঘরে ফিরে এসে তখন আর জামা কাপড় ছাড়ার ইচ্ছে থাকতো না। প্রচুর রাম দিয়ে এক কাপ চা আর সঙ্গে কুইনাইন খেয়ে পোশাক পরেই শুয়ে পড়তাম। পরের দিন সকাল নটার মধ্যেই আবার ফিরে যেতে হতো কর্মক্ষেত্রে।

    ক্রমশ আমার পোশাক-পরিচ্ছদে অবহেলা এলো। আর প্রয়োজনই বা কি ছিল! কয়েক শো মাইলের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই শ্বেতকায় ছিল। তারা মৌসুমী আবহাওয়ার সময় পাহাড়ে থাকতোই না। আর ছিল কিছু অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান পরিবার। এদের বাড়িতে আমি কয়েকবার থেকেছি, যখন আমার মানসিক অবসাদ আর সহ্য করতে পারছিলাম না। ওই সব পরিবারে ইংরেজীতে কথাবার্তা আমাকে যেন কিছুটা স্বস্তির পরিবেশে ফিরিয়ে আনতো। সকলে মিলে সন্ধ্যা থেকেই আমরা মদ খেতে শুরু করতাম।

    রবিবার আমার চাকরেরা শিলং চলে যেত সারা সপ্তাহের রসদ আনতে। সেদিন আমি দুপুর অবধি ঘুমোতাম। জেগে উঠে দেখতাম মাথা ভারী হয়ে আছে আর মুখ ফুলে কিম্ভুত-দর্শন হয়েছে। বিছানাতে শুয়ে শুয়েই ডায়েরি লিখতাম। খুঁটি-নাটি অনেক কিছু টুকে রাখতাম পরবর্তীকালে আসামে শ্বেতকায়দের জীবনযাত্রা নিয়ে যদি কখনও একটা বই লিখি এই ভেবে। এর জন্য আমার নিজেকে বিশ্লেষণেরও প্রয়োজন হতো। আমার কর্মচাঞ্চল্যহীন স্নায়বিক অবসাদের দিনগুলো, আবার পাশাপাশি রেললাইন-পাতার প্রথম পথপ্রদর্শক রূপে আমার ভূমিকা, যেখানে আমার মন গর্ব আর শক্তিতে ভরপুর, এসবই তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করতাম।

    আরও দেখুন
    লেখা
    বুক শেল্ফ
    লেখার
    বই
    Book
    Books
    বিনামূল্যে বই
    বই পড়ুন
    বাংলা অডিওবুক
    নতুন উপন্যাস

    সারা জুলাই মাসে আমি একবার মাত্র শিলং গিয়েছিলাম। অনেক অনেক দিন বাদে সূর্যের কিরণ গায়ে মাখলাম। সিনেমা দেখলাম আর আমার গ্রামোফোনটা সারিয়ে নিলাম। কয়েকটা ডিটেকটিভ উপন্যাস কিনলাম। আসামে যাওয়ার পর থেকে এ ছাড়া অন্য কিছু পড়ার মত মানসিক অবস্থা ও আমার ছিল না।

    আমি জানতে পেরেছিলাম হেড অফিসে আমার কাজের খুব প্রশংসা হচ্ছে। সেটা জেনেছিলাম আমি সরাসরি নরেন্দ্র সেনের কাছ থেকেই, আমাদের শিলং-এর প্রতিনিধি মারফৎ নয়। এই প্রতিনিধি লোকটাকে আমি একদম সহ্য করতে পারতাম না। প্রচণ্ড অহঙ্কারী এই আইরিশ লোকটার সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাকে একবার শিলং-এ যেতে হয়েছিল। শুধু তার দেখা পাবার জন্য আমাকে সে অকারণে অপেক্ষা করিয়ে রেখে ছিল বেশ কিছুক্ষণ। অথচ সে সময় তার এতটুকুও ব্যস্ততা ছিল না।

    প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মিঃ সেনের একটা করে ইংরাজীতে টাইপ করা কয়েক লাইনের চিঠি আসতো। কাজ স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছিল। সদিয়ার কাছে কঠিন গিরিপথগুলোর সংস্কারে কাজ আর পুরো রাস্তাটা পরিদর্শনের কাজ শেষ করে যদি রিপোর্টটা তৈরি করে ফেলতে পারি, তাহলে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি কলকাতায় যেতে পারবো, এরকম একটা সম্ভাবনাও দেখা দিলো। কিন্তু প্রচণ্ড অবসাদের সময় যে ভয়টা আমার কেবলই হতো, ঠিক তাই হলো। আগস্ট মাসের গোড়ার দিকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। আমার স্নায়ুর ওপর অত্যন্ত চাপ থাকার ফলে প্রচণ্ড ম্যালেরিয়ার আক্রমণ আরও জটিল আকার ধারণ করলো।

    আরও দেখুন
    Book
    বুক শেল্ফ
    বই
    লেখা
    লেখার
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বইয়ের
    সাহিত্য পত্রিকা
    বইয়ের

    একদিন বিকেলের আগেই বাংলোয় ফিরে এলাম। শরীর ভাল লাগছিল না। ঘরে এসে চা খেতে গিয়ে মনে হলো কোনো স্বাদ পাচ্ছি না। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এল। হ্যারন্ডের পরামর্শ মনে পড়লো। তিন গ্লাস ব্র্যাণ্ডি খেয়ে আমি শুতে গেলাম। পরদিন আর ওঠার ক্ষমতা রইল না। ভুল বকতে শুরু করলাম। ফ্র্যাঙ্ক নামে এক অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান ডাক্তার এলেন আমায় দেখতে। সব দেখেশুনে তিনি আমাকে সেদিনই সদিয়া পাঠিয়ে দিলেন। তখন পড়ন্ত বিকেল, কিন্তু সূর্য বিস্ময়করভাবে উজ্জ্বল ছিল। ফুল, পাখি, প্রকৃতি দেখতে দেখতে আমি চললাম সদিয়ার পথে। স্টেশনে এক শ্বেতাঙ্গিনীকে দেখে বিস্মিত হলাম। গত চারমাসে আমি কোনো বিদেশী মহিলা দেখিনি।

    তারপর কি হয়েছিল আমার স্পষ্ট কিছু মনে নেই। শুধু বুঝতে পারছিলাম আমায় শিলং-এ আনা হয়েছে এবং আমাকে ইউরোপীয়ানদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কলকাতায় টেলিগ্রাম পাঠানো হয়েছিল। আমার জায়গায় বদলী লোক আসার আগেই নরেন্দ্র সেন আমায় দেখতে এলেন। এর পাঁচ দিন পর ট্রেনের একটা প্রথম শ্রেণীর কামরায় আমাকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হলো। সঙ্গে রইলো দুজন নার্স এবং হ্যারল্ড। কলকাতায় পৌঁছে আমাকে সোজা তোলা হলো ট্রপিকাল হাসপাতালে।

    আরও দেখুন
    Book
    লেখার
    বুক শেল্ফ
    বই
    লেখা
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা ভাষা
    Library
    বাংলা লাইব্রেরী

    একদিন সকালে ঘুম ভাঙার পর আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম আমার ঘরের দেওয়ালগুলো সাদা রঙের। ঘরে ক্যারামেল এবং অ্যামোনিয়কের গন্ধ। জানালার কাছে একটা চেয়ারে বসে এক ভদ্রমহিলা কিছু একটা পড়ছেন। মাথার ওপর চলমান পাখার একটানা শোঁ-শোঁ শব্দ। মনে হচ্ছিল আমার আধো ঘুম-জাগরণের মধ্যে কেউ যেন জোসেফ কাডের বই ‘লর্ড জিম’-সম্পৰ্কে কিছ বলছিল। বিছানায় সোজা হয়ে বসে আমার বলতে ইচ্ছে করছিল যে উপন্যাসটা নেহাৎই মাঝারি ধরনের। এর চেয়ে অনেক ভালো উপন্যাস কাডের যৌবনে লেখা ‘আলমেয়ারাস্ ফলি’।

    আমি ভদ্রমহিলার উদ্দেশে বললাম, ‘আমেয়ারাস্ ফলি’ না পড়লে কাডের প্রতিভা সম্পর্কে যথার্থ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।

    ভদ্রমহিলা আমার বিছানার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললেন—যাক্, ভগবানকে ধন্যবাদ, আপনি তাহলে কালা হয়ে যান নি

    তারপর প্রশ্ন করলেন—আপনার কিছু লাগবে?

    আরও দেখুন
    লেখার
    লেখা
    Book
    বই
    বুক শেল্ফ
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    নতুন উপন্যাস
    অনলাইন বুক
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী

    আমার ঠাণ্ডা, রুগ্ন খোঁচা-খোঁচা গালে হাত বুলোতে বুলোতে বললাম, আমি দাড়ি কামাতে চাই।

    আরো বললাম, এই রকম অভদ্র চেহারায় আপনার মুখোমুখি হওয়ার জন্য ক্ষমা চাইছি আমি।

    ভদ্রমহিলা হাসিতে ফেটে পড়লেন। তারপর বললেন—যাক, আপনার জ্ঞান ফিরে এসেছে তাহলে। আমরা তো বলতে গেলে ক্রমশ হতাশই হয়ে পড়ছিলাম। এখন মিঃ হ্যারল্ড কার-কে টেলিফোন করতে হবে। উনি রোজ আপনার খবর নিতে আসেন।

    হ্যারল্ডের যে আমার প্রতি এতখানি টান, সেটা জানতে পেরে আবেগে আমার চোখে জল এসে গেল। এই অপরিচিত, বান্ধবহীন অবস্থায় নিজেকে ভীষণ একা আর অসহায় মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, কত দূরে আমার দেশ প্রায় পাঁচ সপ্তাহের পথ, আর আমি এখানে একা মৃত্যুপথযাত্রী।

    ভদ্রমহিলা স্নিগ্ধ স্বরে প্রশ্ন করলেন—কি হলো আপনার?

    আরও দেখুন
    বই
    বুক শেল্ফ
    লেখার
    লেখা
    Book
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

    বললাম—কিছু না। আপনি যদি একটু আমার দাড়িটা কামাবার ব্যবস্থা করে দেন ….

    আমার চোখের জল বাঁধ মানছিল না। মৃদু স্বরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করে ফেললাম—আপনার কি মনে হয় আমি ভালো হয়ে উঠবো? আমি আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারবো? আবার দেখতে পাবো নিউইয়র্ক, প্যারিস?

    তাঁর উত্তরটা আমার মনে পড়ছে না। কিন্তু সেই দিনটা আমার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে। এর পরই আমায় দেখতে এলেন কয়েকজন ইউরোপীয়ান ডাক্তার। তাঁরা চলে যাবার কয়েক মিনিট পরেই হ্যারল্ড এসে আমার করমর্দন করলো। তারপর অনর্গল বকে যেতে লাগলো, কলকাতার নানারকম খবরাখবর দিয়েঃ পারতির এখন প্রেমের খেলা চলছে মিডল ব্যাঙ্কের এক ম্যানেজারের সঙ্গে। গারতি এখন সিনেমা যায় সাড়ে তিন টাকার টিকেটে। বিয়ের পর নরিনকে দেখতে কুৎসিত হয়ে গেছে। আমার শোবার ঘরে এখন একটা অ্যাংলো ইন্ডিয়ান পরিবার বাস করছে। আর, হ্যারল্ড নিজে কিন্তু যুবকই আছে। এখনো বিকেলের দিকে স্কুলের মেয়েদের ধরে নিজের ঘরে নিয়ে আসে, আর আসন্ন প্রসবা স্ত্রীর সামনেই নোংরামি করে। স্ত্রীর চিৎকার চেঁচামেচি সে কানেই তোলে না… ইত্যাদি ইত্যাদি।

    আরও দেখুন
    Book
    লেখা
    বই
    বুক শেল্ফ
    লেখার
    বাংলা লাইব্রেরী
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    Books
    বাংলা গল্প
    বাংলা শিশু সাহিত্য

    আমরা যখন এই ধরনের বাজে কথাবার্তায় মগ্ন ছিলাম তখন মিঃ সেন ঘরে ঢুকলেন। তিনি পরম আন্তরিকতায় আমার হাত দুটো চেপে ধরলেন এবং আমার কপালে হাত বুলিয়ে দিলেন। আমি ওঁকে হ্যারল্ডের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলাম। হ্যারল্ড যে ভাষায় মিঃ সেনকে সম্ভাষণ করলো, তা খুব ভদ্র ও মার্জিত ছিল না। বুঝতে পারছিলাম মিঃ সেন হ্যারল্ডের উপস্থিতিতে বিব্রত বোধ করছিলেন। মিঃ সেন বললেন, অ্যালেন, তুমি অত্যন্ত পরিশ্রমের ফলেই অসুস্থ হয়ে পড়েছো। চিন্তা করো না, ভালো হয়ে যাবে। অন্যান্য সব ব্যবস্থা আমি করে রেখেছি।

    পরের দিন অফিস ছুটির পর তিনি আবার আসবেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিঃ সেন বিদায় নিলেন।

    মিঃ সেন বিদায় নেবার সঙ্গে সঙ্গে হ্যারল্ড আমাকে বললো, এই জাতীয় লোক সম্পর্কে খুব সাবধান থাকবি, অ্যালেন। উনি তোর ওপর এতো সহানুভূতি দেখাতে শুরু করলেন কেন? তোর সঙ্গে ওঁর মেয়ের বিয়ে দেবেন না কি?

    লজ্জায় লাল হয়ে কপট রাগ দেখিয়ে আমি বললাম—উল্টো-পাল্টা অযৌক্তিক কথা বলিস না তো!

    অনেক দিন পর, মৈত্রেয়ীর মুখটা আবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো। কিন্তু এ এক অন্য মৈত্রেয়ী! মিসেস সেনের মুখের সঙ্গে যেন এ মুখের সাদৃশ্য অনেক বেশি। পানের রসে লাল টুকটুকে ঠোঁট, ঘাড়ের ওপর কালো চুলের খোঁপা, মুখে মৃদু হাসিতে প্রচ্ছন্ন ব্যঙ্গ নিয়ে আরও সজীব। বেশ কিছুক্ষণ ওর রূপের ধ্যান করলাম আমি। মৈত্রেয়ীকে অনেক দিন না দেখতে পাওয়ার বেদনা, শীঘ্রই আবার তাকে দেখতে পাওয়ার আশা ও আনন্দ, আবার কথা বলার সময় যে অস্বস্তি হবে, এ সবের মিশ্র প্রতিক্রিয়া আমার মন ছুঁয়ে গেল। এই সময়ে হ্যারন্ডের উপস্থিতি আমার শুধু বিরক্তিকর নয়, অসহ্য মনে হচ্ছিল। জানি না কী করে সেই আশ্চর্য অনুভূতির ব্যাখ্যা করবো। মৈত্রেয়ীর প্রতি আমার কোনো বিশেষ শ্রদ্ধার ভাব বা ভালবাসা, কিছুই ছিল না। আমি তাকে দেখেছিলাম খুবই সাধারণ একজন অহঙ্কারী বাঙালী মেয়ে হিসেবেই। সে ছিল এমন অদ্ভূত প্রকৃতির এক নারী যে একাধারে শ্বেতকায়দের ঘৃণা করতো আবার তাদের প্রতি আকৃষ্টও হতো।

    আরও দেখুন
    বই
    লেখার
    বুক শেল্ফ
    Book
    লেখা
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা ই-বুক রিডার
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ভাষা

    হ্যারল্ড আমাকে যা বলে গিয়েছিল, সে সব শুনে আমার আনন্দ হবার মতো কিছু ছিলো না। সে চলে যাক এটাই আমি চাইছিলাম। এক দিনে পর পর অনেক কিছুই ঘটে গেল। অনেক কিছুই জানলাম আর অনুভব করলাম। একটু সুস্থ হওয়া আমার শরীর এবং মনে মৈত্রেয়ীর আবির্ভাব সেই মুহূর্তে আমায় যেন কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলছিল। বুঝতে পারছিলাম তার বাস্তব শারীরিক উপস্থিতি নতুন কোনো সমস্যার সৃষ্টি করলেও করতে পারে।

    ভারতবর্ষে আসার পর আমি কখনো অসুস্থ হইনি, আর এত দীর্ঘকালীন অসুস্থতার স্মৃতিও আমার নেই। ইচ্ছে করতো বিছানা থেকে নেমে, জামাকাপড় পরে কলকাতার রাস্তায় বেরিয়ে পড়ি। শহরের আলো আমার স্মৃতি আর বেদনা নতুন করে জাগিয়ে তুলছিল। ইচ্ছে করতো চায়না টাউনে গিয়ে ‘চাউ’ খাই, ‘চাও’-এর পেঁয়াজ, নুডলস, ডিমের কুসুম, বাগদা চিংড়ির গন্ধ ও স্বাদ—সব যেন আমি অনুভব করতে পারছিলাম। ইচ্ছে করছিল ফেরার পথে ‘ফিরপো’-এ নেমে জাজ্ শুনতে শুনতে একটা ককটেল খাই। হাসপাতালের বিস্বাদ খাবার আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। ধূমপান করাও নিষেধ ছিল।

    পরদিন আমাকে দেখতে এলো আমার দুই বান্ধবী, গারতি আর ক্লারা। ওরা আমার জন্য প্রচুর চকোলেট, সিগারেট আর ফল নিয়ে এসেছিল। আমি কেবল ওদের বলছিলাম এখান থেকে পালাতে চাই, স্বাধীনতা চাই। এমন সময় হ্যারল্ড এসে পড়লো। সে আমার যেদিন ছুটি হবে সে রাত্রে পার্টি দেবার পরিকল্পনা শুরু করে দিলো। শুধু পার্টিই হবে না, সঙ্গে থাকবে লেকভ্রমণ। অনুষ্ঠানে যাতে কোনো খুঁত না থাকে তার জন্য গারতি তখনই কাগজ পেনসিল জোগাড় করে নিমন্ত্রিতদের তালিকা তৈরি করতে লেগে গেল। তালিকা থেকে দুই সিম্পসন বাদ যাবে এটাও ওরা ঠিক করে ফেলল। কারণ নরিনের বাগদান অনুষ্ঠানের সময় গারতি দেখতে পেয়ে গিয়েছিল যে ইশাক ঘরের কোণে লুকিয়ে লুকিয়ে ‘র’ হুইস্কি খায় আর জেরাল্ড সিগারেট চুরি করে—ক্যাথারিনকে অবশ্য নিমন্ত্রণ করতেই হবে, কারণ সে নাকি আমার অসুখের কথা শুনে দারুণ দুঃখ প্রকাশ করেছে আর মাঝে মাঝে আমার খবর নিয়েছে। হুবার ভাইরা আর সুন্দরী আইভির ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এরকমই ঠিক করা হলো। বাদ বাকী নিমন্ত্রিতদের ব্যাপারে সবাই একমত হলো।

    আরও দেখুন
    লেখার
    বুক শেল্ফ
    লেখা
    বই
    Book
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    PDF
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ই-বই

    গারতিই বেশি কথা বলছিল এবং আমার হয়েই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। তার কথা শুনে হাসবো না কাঁদবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমার মন এখানে ছিল না। গারতির মুখ থেকে আমার দৃষ্টি সরে গিয়ে প্রায়ই শূন্যে নিরুদ্দেশ্য হয়ে যাচ্ছিল।

    এমন সময় নার্স এসে খবর দিলো মিঃ সেন আসছেন। আমি পড়লাম মহা ঝন্‌ঝাটে। যখন কোনো সম্মানীয় ভারতীয়কে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান যুবক-যুবতীদের সামনে আমায় দেখা করতে হতো, তখন একটা অস্বস্তি আমি অনুভব করতামই। গারতি আর ক্লারা কৌতূহলী চোখ নিয়ে দরজার দিকে তাকালো। প্রথমে ঘরে প্রবেশ করলেন নরেন্দ্র সেন মুখে স্মিত হাসি নিয়ে। তা পরেই এলো মৈত্রেয়ী। লঘু এবং ক্ষিপ্র ছিল পদক্ষেপ। আমার মনে হলো, আমার হৃৎস্পন্দন থেমে গেল। মনে পড়লো যে আজ আমি দাড়ি কামাইনি, যে নাইট গাউনটা পরে আছি তার আমার নয় এবং ওটা আমাকে একেবারেই মানাচ্ছে না। নিজেকে হাস্যকর একটা জীব বলে মনে হচ্ছিল। মিঃ সেনের সঙ্গে করমর্দন করলাম একটু কষ্টের ভান করে, যাতে নিজের অপ্রতিভভাবটা একটু ঢাকতে পারি। তারপর আমি মৈত্রেয়ীকে নমস্কার জানাবার জন্য কপালে হাত ঠেকালাম। এই কপট গাম্ভীর্য আনতে গিয়ে আমার হাসি পেয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কী ভালো লেগেছিল যখন মৈত্রেয়ীকে আমার বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেবার পর সে অত্যস্ত স্বাভাবিক সপ্রতিভতার সঙ্গে তাদের করমর্দন করলো, আর জিজ্ঞাসা করলো, “How do you do?” মিঃ সেন হাসতে হাসতে বললেন, আমার মেয়ে দুটো পাশ্চাত্য রীতিতে ভব্যতা প্রকাশ করার ধারাটা ভালই রপ্ত করেছে।

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    Book
    লেখার
    লেখা
    বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা ভাষা

    তিনি সর্বক্ষণ গারতিকে লক্ষ্য করছিলেন এবং বিশেষ করে খেয়াল করেছিলেন তাঁর সূক্ষ্ম মতামতের সময় গারতির প্রতিক্রিয়া।

    আমি যেন এক আগ্নেয়গিরির ওপরে বসেছিলাম। একদিকে আমার দুই বান্ধবী আর হ্যারল্ড নিজেদের মধ্যে বকবক করে চলেছিল, আর অন্য দিকে ঘরে উপস্থিত মিঃ সেন তাঁর মেয়েকে বাংলায় কিছু বলছিলেন। মৈত্রেয়ী আগ্রহভরে চারদিকে দেখছিল, কিন্তু তার দৃষ্টিতে তাচ্ছিল্য আর ব্যঙ্গ। যতবারই মৈত্রেয়ী কোনো আলোচনায় যোগ দিচ্ছিল, ততবারই তার ঠোঁটে ছিল একটা মৃদু হাসি যাতে ব্যঙ্গ আর সূক্ষ্ম পরিহাস মিশে ছিল। আমি মৈত্রেয়ীর মতো কোনো সরল মেয়ের মুখে এ জিনিস আশা করিনি। আমার অপরিচ্ছন্ন চেহারার জন্য নিজের ওপর আমার রাগ হচ্ছিল। একসঙ্গে গারতি, ক্লারা, হ্যারল্ড আর মিঃ সেনদের উপস্থিতি আমার কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    মনে মনে ভাবছিলাম মৈত্রেয়ীর মধ্যে মুগ্ধ হবার মতো কিছু নেই। ওকে ভালবাসতে পারা তো দূরে থাক, বড়জোর মাঝে মাঝে হয়তো দু-একবার দেখা করার ইচ্ছা জাগতে পারে। কিন্তু তবু তার সম্বন্ধে আমার একধরনের ঔৎসুক্য আমি অনুভব করছিলাম।

    মৈত্রেয়ী বললো—মসিয়ে অ্যালেন, আমাদের বাড়ি কবে যাচ্ছেন?

    মৈত্রেয়ীর কণ্ঠস্বরে একটা অদ্ভূত সুর ছিল যার ফলে আমার তিন বন্ধুই একসঙ্গে ঘুরে ওর দিকে তাকালো।

    আমি বললাম—যেদিনই ভাল হবো সেই দিনই যাবো।

    কথা বলতে আমি ইতস্তত করছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না কী বলে ওকে সম্বোধন করবো। ‘মিস’ শব্দটা ঠিক মানায় না, আবার ওকে ‘দেবী’ বলে সম্বোধন করতেও আমার সাহস হচ্ছিল না আমার এই হতবুদ্ধিভাব লজ্জায় আমাকে লাল করে তুলেছিল, তাই ক্ষমা চাইতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।

    বললাম—কিছু মনে করবেন না। ঘরটা গুছোনো নেই, দাড়ি কামাতে পারিনি আজকে, সারাদিন খুব ক্লান্ত লাগছে।

    আমি তীব্র ক্লান্তির ভাণ করতে থাকলাম, আর মনে মনে কামনা করতে লাগলাম, সবাই যেন চলে যায়। কারণ একসঙ্গে সকলের এই উপস্থিতিতে আমার দারুণ অস্বস্তি হচ্ছিল।

    নরেন্দ্র সেন বললেন—অ্যালেন, তুমি কি জানো যে আমরা ঠিক করেছি এর পর থেকে তুমি আমাদের বাড়িতে থাকবে! এটা আমার স্ত্রীর প্রস্তাব আর আমরা সবাই এটাতে একমত হয়েছি। তুমি এখানকার রান্না করা খাবারে অভ্যস্ত নও এবং এর পর যদি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ো তখন তার ফল মারাত্মক হতে পারে। এছাড়া আর একটা দিকও আছে, আমাদের ওখানে থাকতে তোমার টাকা- পয়সার খরচও কম হবার সম্ভবনা রয়েছে। ফলে সেই জমানো টাকা নিয়ে তুমি বছরে একবার হলেও দেশে যেতে পারবে, নিজের লোকজন আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারবে। আর আমার বিশ্বাস তুমি নিশ্চয় বুঝতে পারো যে তোমার উপস্থিতি আমরা……

    নরেন্দ্র সেন তাঁর বাক্য সম্পূর্ণ করলেন না, শুধু মৃদু হাসিতে তা শেষ করলেন। মৈত্রেয়ী সোজা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিল। সে আমায় কিছু বললো না, শুধু আমার উত্তরের অপেক্ষায় রইল। তাঁরা চলে যাবার পরই কেন ডায়েরিতে লিখে রাখিনি ঠিক সেই মুহূর্তে মানসিক অবস্থা কী রকম ছিল, সেই কথা ভেবে আজ আমার বড় অনুশোচনা হয়। একথা বলছি এই কারণে নয় যে ঘটনাগুলো বহু পুরোনো। আসলে পরবর্তীকালে যে মারাত্মক ভাবাবেগ এবং বিদ্রোহী মনোভাব আমার মধ্যে এসেছিল তা আমাকে সম্পূর্ণভাবে উদাসীন করে দিয়েছিল এবং ফলত আমার সই সময়কার অনুভূতিগুলো নিষ্প্রভ হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও আজও স্পষ্ট মনে পড়ে আমার চিন্তা তখন দ্বিধা- বিভক্ত।

    একদিকে একটা এমন জীবন যাপনের হাতছানি যা আগে কখনো কোনো শ্বেতাঙ্গের কপালে জোটেনি এবং যে জীবন লুসিয়্যাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু। একদিকে মৈত্রেয়ীর প্রতি আমার আকর্ষণ, যার প্রতিক্রিয়াকে পরবর্তীকালে মৈত্রেয়ীর তরফ থেকে এক রহস্যময় ঐতিহাসিক খামখেয়ালিপনা বলেও আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। অন্য দিকে আমার স্বাধীনতা প্রিয় মনের বিদ্রোহ। মনে হচ্ছিল ওখানে থাকলে আমার সমস্ত স্বাধীনতা খর্ব হবে, আমার ঊর্ধ্বতনের প্রচ্ছন্ন অদৃশ্য শাসনে আমার যৌবনের সমস্ত সাধ আহলাদ, এমন কি মদ্যপানও বোধ হয় বন্ধ হয়ে যাবে। আর সিনেমা দেখার ব্যাপারেও বোধ হয় তা সপ্তাহে একটাতে নেমে আসবে। এই দুটো বোধই আমাকে এত তীব্যভাবে আক্রমণ করেছিল যে, কোনটাকে প্রাধন্য দেবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিন্তু উত্তর তো একটা সময় দিতে হবেই, তাই আমি বলে ফেললাম—মিঃ সেন, আপনার কাছে আমার ঋণের শেষ নই। আমার ভয় হচ্ছে আমি না আপনাকে অসুবিধায় ফেলি।

    বলতে গিয়ে কথাগুলো আমার মুখে একটু জড়িয়ে যাচ্ছিল। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম ঐ দুটি মেয়ে—গারতি আর মৈত্রেয়ীর মুখের দিকে। বুঝতে পারছিলাম যে তারা দুজনে আমাকে নরেন্দ সেনের খাঁচায় পোরা ব্যবস্থার প্রস্তাবটায় বেশ মজা পাচ্ছিলেন। মিঃ সেন আর মৈত্রেয়ী আমার বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অন্যরা ছিল জানালার কাছে। নরেন্দ্র সেন হেসে বললেন—বোকার মতো কথা বলো না। আমার বাড়ির একতলায় লাইব্রেরীর পাশেই কয়েকটা ঘর খালি পড়ে রয়েছে। অসুবিধে আবার কি হবে! তাছাড়া তুমি থাকলে, আমার পরিবারের মধ্যে কিছুটা ইউরোপীয়ন সভ্যতাও তো ঢুকবে।

    আমি মনে মনে ভাবছিলাম শেষ কথাগুলো কি মিঃ সেন ঠাট্টা করে বললেন? কিন্তু গারতি আমার চিন্তাসূত্র ছিন্ন করে দিল। আগেই আমরা বন্ধুরা নিজেরা কথা বলে ঠিক করে নিয়েছিলাম যে মিঃ সেন বা তার সুন্দরী মেয়েরা যদি এই ধরনের কোনো বিপদে ফেলেন, তখন গারতি আমায় জিজ্ঞাসা করবে, অ্যালেন, তোমার প্রেমিকার খবর কি? নরিন ইসাবেল বা লিলিয়ান যারই নাম প্রথমে মাথায় আসবে তারই নাম জিজ্ঞাসা করলেই হবে। মিঃ সেনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে গারতির সঙ্গে আমার চুক্তির কথা ভুলে গিয়েছিলাম কিন্তু গারতির মনে পড়লো এবং ঠিক সময়েই সে সেই প্রশ্নটা আমার দিকে ছুঁড়ে দিল।

    মিঃ সেন প্রশ্নটা শুনেই কেমন অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। মৈত্রেয়ী প্রশ্নকর্ত্রীকে দেখার জন্য মাথা ঘোরালো। উত্তরের অপেক্ষা না করে গারতি বলেই চললো—যাও যাও, অত সাধু সাজার কি আছে? বাড়ি ছাড়ার আগে তোমাকে ওর মতামত নিতে হবে তো? কি মিঃ সেন, ঠিক বলিনি?

    মিঃ সেন গম্ভীর মুখে বললেন—হ্যাঁ, তা তো বটেই।

    মৈত্রেয়ী দারুণ অবাক হয়ে গারতিকে দেখছিল। তারপর সে সোজা তার বাবার চোখে চোখে রাখলো। ব্যাপারটা চাপা দেবার জন্য মিঃ সেন তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন অ্যালেন, তোমার পড়ার জন্য বই এনেছি। আমার মেয়ে পছন্দ করেছে Out of the East। বইটা ওর ইচ্ছে ছিল তোমাকে শোনাবে। কিন্তু আজ তো অনেক দেরি হয়ে গেল…..।

    মৈত্রেয়ী বললো–বাবা, আমি তো ভালো ইংরাজী পড়তে পারি না এদিকে গারতি তার প্রথম প্রচেষ্টা বিফলে গেছে দেখে বলে উঠলো—কিন্তু অ্যালনে তোমার প্রেমিকার ব্যাপারে কিছু বললে না তো?

    তাকে থামাবার জন্য আমি চিৎকার করে বললাম—আমার কোনো প্ৰেমিকা নেই।

    শুনে গারতি নিচু গলায় মিঃ সেনের কানে কানে বলে চললো—ও মিথ্যে কথা বলছে। আসলে ও একটা পাক্কা লম্পট।

    সে একটা চমকপ্রদ দৃশ্যের সৃষ্টি হলো বটে। হতভম্ব, লজ্জিত মিঃ সেন মৈত্রেয়ীর দিকে তাকালেন। হ্যারল্ডদের হাব-ভাব দেখে মনে হল তারা ভাবছে তারা জিতে গেছে। জানালার পাশ থেকে সে তাই আমায় বিজয় সংকেত করছিল। ঐ রকম একটা পরিস্থিতিতে আমার অবস্থাটা সহজেই অনুমেয়। আর আমি তখন মনে মনে প্রার্থনা করছিলাম, একটা অলৌকিক কিছু ঘটুক যাতে সব কিছু মিটমাট হয়ে যায়। নিজেকে আড়াল করার জন্য যন্ত্রণার ভান করে দু’হাত দিয়ে কপাল ঘষতে থাকলাম। মিঃ সেন বললেন—আমরা চলি। অ্যালেন তোমার এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিৎ।

    মিঃ সেন আমার করমর্দন করলেন, আমিও চললাম বলে হ্যারল্ড মিঃ সেন ও তার কন্যার কাছ থেকে বিদায় নিলো। কোনো সৌজন্য প্রকাশ না করেই।

    হ্যারল্ড এবং মিঃ সেনেরা রেরিয়ে যাওয়া মাত্রই গারতি আর ক্লারা হাসিতে ফেটে পড়লো। গারতি বললো—অ্যালেন, দেখলে কেমন হারিয়ে দিলাম!

    ক্লারা মন্তব্য করলো—কিন্তু দেখতে খারাপ নয়। শুধু নিগারদের মতো, এই যা। ও মাথার চুলে ওগুলো কি পরেছে অ্যালেন?

    পুনরায় আমার পুরনো মানসিকতা চাড়া দিয়ে উঠল। বিশ্বাস না থাকলেও মন্তব্যগুলো আনন্দ সহকারেই শুনতে লাগলাম। এমন কি মিঃ সেনদের বিরুদ্ধে মন্তব্যে আমিও যোগ দিলাম। গারতি পুরনো কথায় ফিলে গেল। বললো—নাও, তালিকাটা শেষ বারের মতো দেখে নেওয়া যাক। আমার মনে হয় হুবার ভাইদেরও নিমন্ত্রণ করলে ভালো হয়। বড় ভাই ডেভিডের গাড়িটা তাহলে পাওয়া যেতে পারে। আর অ্যালেন, আমার উপস্থিত বুদ্ধির একটু প্রশংসা করো—কিরকম বাঁচিয়ে দিলাম তোমাকে, বলো?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমোকছুদুল মোমিনিন বা বেহেশতের পথ
    Next Article মোতাহের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }