Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লিলি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ডুবুরি

    বুলা পরনের ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া সালোয়ার কামিজটার কোমরের কাছটায় পেঁচিয়ে থাকা দড়িটাকে একবার হাত দিয়ে দেখে নিল ঠিকমতো বাঁধা আছে কিনা৷

    পুকুরের পাড় থেকে একদম একফালি চাঁদের মতো বেঁকেচুরে একটা নারকেল গাছ রয়েছে৷ সেটার আগাটা পুকুরের ওপর এমনভাবে নুয়ে রয়েছে যে পাতাগুলো মাঝেমাঝেই পুকুরের জলে লেগে ভিজে যাচ্ছে৷

    বুলার কোমরের দড়ির অপরপ্রান্তটা বেশ কিছুটা দূরের সেই নারকেল গাছের গুঁড়ির সাথে শক্তভাবে বাঁধা৷ গাছের নীচে একটা হাফপ্যান্ট আর ফুটো ধরা গেঞ্জি গায়ে দাঁড়িয়ে ভুতো৷

    ভুতো বুলাকে দেখে জয়ের ভঙ্গিতে বরাবরের মতো এবারেও বুড়ো আঙুলটা উপরে তুলল৷

    বুলা মাথার ওয়াটারপ্রুফ টর্চটা টাইট করে নিয়ে বাবার বেঁধে দেওয়া গলার মাদুলিটা আলতো করে স্পর্শ করল কয়েক মুহূর্ত, তারপর হঠাৎ ওই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সমরেশের সাথে একটা চোখাচোখি হয়ে যাওয়ায় আর দেরি না করে হাতদুটোকে উঁচু করে মাথার ওপর তুলে রকেটের ভঙ্গিতে ঝাঁপ দিল কুসুমগ্রামের সবচেয়ে বড় দিঘিটায়৷

    ওর পাঁচ ফুট দু-ইঞ্চির রোগাভোগা শরীরটা মুহূর্তে তলিয়ে গেল জলের অতলে৷

    বুলা ডুবে যাওয়ার পর কয়েক সেকেন্ড দিঘির শ্যাওলা জমা কালো জলে একটা বুদবুদ শব্দ হল, ছোট ছোট গোলাকার ঢেউ উঠে বলয়ের মতো মিশে যেতে লাগল কালো জলে৷ তারও কিছুক্ষণ বাদে সব নিস্তব্ধ হয়ে গেল৷

    পাড়ে দাঁড়িয়ে তখন প্রায় জনাপঁচিশেক লোক৷ থানার দারোগা, তিনটে কনস্টেবল আর গ্রামের মান্যগণ্য কয়েকজন বাদ দিলে বেশির ভাগই খেটে খাওয়া গরিব মানুষ৷

    তারা প্রবল কৌতূহলে নিজেদের মধ্যে ফিসফাস করছে৷

    মিনিটখানেক বাদে সুকুমারবাবু তাঁর ব্যবসার ডানহাত মানিককে ফিসফিস করে শুধোলেন, ‘‘হ্যাঁ রে, মেয়েটা কাজটা ঠিক করতে পারবে তো? মানে আমরা ফেঁসে-টেসে যাব না তো? তুইও বললি আমিও রাজি হয়ে গেলুম, মাথাও কাজ করছে না….!’’

    মানিক মাছি তাড়াবার ভঙ্গিতে বলল, ‘‘কী যে বলেন কর্তাবাবু, এ কী যে সে ডুবুরি নাকি? হলই বা মেয়েছেলে, এ-তল্লাটের কুড়ি-পঁচিশটা গ্রামে ওর মতো ওস্তাদ ডুবুরি আছে কি না দেখান তো! আর তা ছাড়া মোটা টাকার টোপ দিয়েছি কর্তা, কোনো চিন্তা নেই৷ এ-মেয়ের তো আর এই গ্রামের এঁদো পুকুরে পড়ে থাকার কথা নয়, নেহাত কপাল জোরে…!’’ মানিক হঠাৎ জিভ কেটে চুপ করে গেল৷ আড়চোখে দেখল, নাহ, সুকুমারবাবু তেমন খেয়াল করেননি৷ ও কথা ঘোরাবার জন্য তাড়াতাড়ি বলল, ‘‘কিন্তু কত্তা, পুলিশকে আগেভাগেই খবর দিলেন কেন, একেই তো এই দারোগাটা ঠিক সুবিধের নয়৷’’

    সুকুমারবাবু গলাটা খাদে নামিয়ে বললেন, ‘‘সেইজন্যই তো সাবধানের মার রাখলাম না মানিক! পুলিশকে বলেছি বউটার স্বভাবচরিত্তির ভালো না, এই কালো দিঘির পাড়ে প্রায়ই ওর পুরোনো প্রেমিকের সাথে লটঘট করতে আসত, ধরা পড়ে যেতে লজ্জায় নিজেই…৷’’

    মানিক মাঝপথে বলল, ‘‘বুঝেছি বুঝেছি কত্তা৷ এবার চুপ করুন৷ দেওয়ালেরও কান আছে৷ তবে কোনো চিন্তা নেই, একেই টাকা শুনে ওর মাথা ঘুরে গেছে, তার ওপর মেয়েটা পাকা ডুবুরি! আপনি শান্ত হয়ে বসুন৷ নাহলে পুলিশ সন্দেহ করবে যে!’’

    কথাটা অবশ্য অক্ষরে অক্ষরে সত্যি৷ বুলার বয়স মাত্র একুশ-বাইশ হলেও এই বয়সেই সে আচ্ছা আচ্ছা ডুবুরিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে৷ আর পারবে না-ই বা কেন, মানিক মনে মনে ভাবল, কার মেয়ে দেখতে হবে তো! বুলার বাবা কার্তিক তো মানিকেরই বন্ধু ছিল, ছোটবেলায় একসাথে কত খেলাধুলো করেছে৷ ছোট থেকেই কার্তিকও এরকম সারাটা দিন জলেই পড়ে থাকত, নিজে রিকশা চালালেও নিজের অপূর্ণ ইচ্ছেটা মেয়েকে দিয়ে পূর্ণ করবে বলেই বোধ হয় সাঁতারু বুলা চৌধুরীর নামে নাম রেখেছিল বুলা৷ মেয়েটা যখন একরত্তি ছিল, তখন থেকেই ডুবসাঁতার, চিতসাঁতারে কেরদানি দেখে হাঁ হয়ে যেত সারা গ্রামের মানুষ৷ অল্পবয়সে এখানকার ইস্কুলের খেলার মাস্টার অলোকবাবুর চোখেও পড়ে গিয়েছিল মেয়েটা৷

    কলকাতার একটা ভালো ক্লাবে যেদিন ভর্তি করে এল মেয়েটাকে, সেদিন খুশিতে জ্বলজ্বল করা কার্তিকের মুখটা মনে পড়ল মানিকের৷ সবাই অল্প-অল্প করে দিয়ে যথাসাধ্য সাহায্যও করেছিল৷ স্টেট মিটের কী একটা খেলার পর মেয়েটাকে নিয়ে দু-লাইন ছাপাও হয়েছিল কলকাতার কাগজে৷ কার্তিকের তখন কী আনন্দ, সারা গ্রামকে পারলে মিষ্টি খাওয়ায়৷ কিন্তু তারপরেই, মানিক দীর্ঘশ্বাস ফেলল, কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল!

    পেছন থেকে কাঁধে কার হাত পড়তেই মানিক চমকে মুখ ফেরাল, সুকুমারবাবুর একমাত্র ছেলে সমরেশ৷ মুখে একরাশ উৎকণ্ঠা, চিন্তায় ফর্সা কুটিল মুখটা লাল হয়ে গেছে, কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, ‘‘কী হবে গো মানিককাকু? আমার বন্ধু দুটো, তুমি আর বাবা ছাড়া কিন্তু কেউ জানে না!’’

    মানিক কিছু না বলে মনে মনে কিছু খিস্তিখেউড় করল, তারপর অভয় দেওয়ার ভঙ্গিতে সমরেশের হাতদুটো চেপে ধরল৷ কপট সহানুভূতি ছাড়া সে আর কী-ই বা দিতে পারে! সে সামান্য দোকানের কর্মচারী বৈ কিছুই নয়, এই সময় কী থেকে কী বলে ফেলবে তার নেই ঠিক, তার থেকে মুখে কুলুপ এঁটে থাকাই ভালো৷ সারাটা জীবনই তো তাই করে এল৷ এই সমরেশ যখন সদ্য বড় হয়ে ওঠা বুলার পেছন পেছন ঘুরত, প্রেমের অভিনয় করত, ভুলিয়ে-ভালিয়ে যেদিন মেয়েটাকে গ্রামের শেষ প্রান্তে ওদেরই বাগানবাড়িটায় নিয়ে গিয়েছিল সেদিনও মানিক মুখে কুলুপই এঁটে ছিল, নিজের চোখে সবটা দেখলেও কাউকে কিছু বলার সাহস হয়নি, ভাবল মানিক৷

    * * * *

    বুলার ছোটবেলার অভ্যেস হল, জলে ঝাঁপ দিয়েই লম্বালম্বি ভাবে একদম মাটির তলায় চলে যাওয়া; সেখানকার গাছ, নাম-না-জানা জলের নীচের ফুলগুলোর সাথে মিলেমিশে বেড়াতে ভারী ভালো লাগে ওর৷ নিজের মনে আপন খেয়ালে জলের একদম তলায় নির্ভাবনায় ও ভেসে বেড়ায়, দশ মিনিট দম আটকে রাখা ওর কাছে জলভাত৷ সাধে কি গ্রামের সবাই ওকে জলপরি বলে?

    কাজের সময়েও ও সেটাই করে৷ তবে তখন অবশ্য আর ফুল, গাছ এসবের দিকে তাকিয়ে সময় নষ্ট করে না, কাজের জিনিস খুঁজতেই ব্যস্ত থাকে৷ আজকেও ও সেটাই করছিল৷ তবে আজ থেকে থেকে ভারী আনমনা হয়ে যাচ্ছিল বুলা৷ পাঁচ বছর আগে খিদের জ্বালায় যখন এই পেশাটা ওকে নিতে হয়েছিল, তখনো ও ভাবেনি পেশাটা ওর নেশাও হয়ে যাবে৷ আক্ষেপ যে হয় না একেবারেই তা নয়, বিশেষ করে বাবার মরা মুখটার কথা যখন মনে পড়ে; কিন্তু তারপর ও ভাবে এ-ই বা খারাপ কি! না-ই বা সে বুলা চৌধুরী হতে পারল, আগের মাসে পাশের হরুগ্রামের মিত্রবাবুদের কোলের ছেলেটা যখন পুকুরে ডুবে গিয়েছিল, বুলা যখন তাকে তুলে এনেছিল জল থেকে, প্রচুর জল পেটে গেলেও বাচ্চাটা যখন বেঁচে গিয়েছিল, তখন ওদের বাড়ির সবার মুখে যে হাসি দেখেছিল সেটা সাঁতারের চ্যাম্পিয়ন হলে ও দেখতে পেত কি?

    কিন্তু সেরকম খুব কমই হয়৷ একটা বড় গাছের লতার মতো পাতাগুলোকে সাবধানে পাশ কাটিয়ে সাঁতার কাটতে কাটতে ভাবছিল বুলা৷ বেশির ভাগই আসে মামুলি কেস, হয় কারুর কুয়োয় সোনার দুল বা নাকছাবি পড়ে গেছে, কারুর আবার পুকুরে চাবি পড়ে গেছে এইসব৷ রেটও খুবই কম৷ জিনিস খুঁজে দিতে পারলে পাঁচশো নাহলে একশো৷ তাও অর্ধেক সময় সেটাও জোটে না বুলার৷ প্রথম প্রথম মেয়ে ডুবুরি বলে এ-তল্লাটের সবাই বেশ ভিড় করত দেখতে, এখন সেটাও আর নেই৷ সবার গা-সওয়া হয়ে গেছে৷ মানুষজনও এত গরিব, সবসময় টাকা চাইতেও পারে না বুলা৷ বাড়িতে সে আর মা দুটি তো প্রাণী৷ তার এই রোজগার আর মায়ের দু-বেলা ঠিকে কাজ, দুজনের ভালোই চলে যায়৷

    কিন্তু আজ সকালে মানিককাকা যখন বাড়িতে ডাকতে গিয়েছিল, তখন মা খেঁকিয়ে উঠেছিল, ‘‘তুই ওই বাড়ির কাজ করতে যাবি? মনে নেই ছেলেটা কী করেছিল তোর?’’

    বুলা মনস্থির করতে কিছুক্ষণ সময় নিয়েছিল৷ কোমরের বহু পুরোনো ব্যথার জায়গাটা টনটন করে উঠেছিল, যেখানটায় সমরেশের বন্ধুরা বাঁশ দিয়ে মেরেছিল৷ পিঠের কিছু আঁচড়, কিছু দাগও চোখে পড়েছিল, তারপর দড়িটা নিতে নিতে বলেছিল, ‘‘মা, এটা আমার কাজ৷ এর জন্য আমি টাকা পাই৷’’

    মা আরো জোরে মুখঝামটা দিয়েছিল, ‘‘ইইইহ! কত বড় রোজগেরে মেয়ে এলেন আমার রে! মুখ তো আগেই পুড়িয়েছিস, এখন আবার লোক হাসাতে চাস?’’

    বুলা উত্তর না দিয়ে মানিককাকার সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছিল৷ কথায় কথা বাড়ে৷ কী দরকার! ওর একমাত্র খুদে শাগরেদ ভুতোকে ডেকে নিয়ে রওনা হয়েছিল এই গ্রামের একদম শেষপ্রান্তের কালো দিঘির দিকে৷

    বুলাকে জলের মধ্যে বেশি খুঁজতে হল না৷ দিঘির একটু বাঁ কোণের দিকে যেতেই ও বউটাকে দেখতে পেয়ে গেল৷ পা দুটোকে যতটা সম্ভব দ্রুতগতিতে নাড়াতে নাড়াতে ও বউটার কাছে গেল৷ বাচ্চা মেয়ে৷ শান্তভাবে শুয়ে রয়েছে মাটির তলায়৷ জলের তোড়ে হাল্কা হাল্কা দড়ি বাঁধা ফর্সা পা-দুটো নড়ছে৷ হাতদুটোকেও পিছমোড়া করে পেছনে বাঁধা৷ নাকের কাছটা হাল্কা লাল হয়ে আছে, এ ছাড়া আর কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই৷

    বুলার বুকটা মুচড়ে উঠল৷ হোক না সমরেশের বউ, হোক না বুলা যাকে সবচেয়ে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিল, যার ছলচাতুরীতে ভুলে গিয়ে নিজের সব শেষ করে দিয়েছিল, তার বউ, তবু মেয়ে তো! সমরেশ কী করে পারল এভাবে মারতে?

    জলের নীচে এমনিই অন্ধকার, তার ওপর পেশাদার ডুবুরিদের মতো বুলার সাজসরঞ্জাম কিছুই নেই, একটা ছোট টর্চকে সে মাথার সাথে ভালো করে বেঁধে নিয়ে নামে৷ সেই টর্চের আলোয় ও নিজের বুকে লুকিয়ে রাখা মানিক-কাকার দেওয়া ছোট ছুরিটা সন্তর্পণে বের করল৷ মানিককাকা পঞ্চাশ হাজার টাকা দেবে বলেছে৷ অথচ, কাজটা সেরকম কিছুই নয়৷ খুনটাকে আত্মহত্যা বলে চালাতে হবে৷ তার জন্য শুধু সমরেশের তাড়াহুড়োতে খুলতে ভুলে যাওয়া দড়িগুলোকে কেটে দিতে হবে৷

    বুলার সকালে মানিককাকার বলা কথাগুলো আবার মনে পড়ল৷ বুলাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে শান্তভাবে ধীর গলায় মানিককাকা বলেছিল, ‘‘বুলা মা, একটা কাজ করে দিতে হবে৷ তুই আমাদের গ্রামের মেয়ে, তুই থাকতে আর কাকেই বা বলব! সমরেশকে তো জানিসই, মাথাগরম ছেলে, রাগের মাথায় একটা ভুল করে ফেলেছে৷’’

    বুলার সমরেশের নাম শুনেই বুকটা ছ্যাঁত করে উঠেছিল৷

    বেশ তো আছে সে, অনেক বছর তো হয়ে গেল, আবার সমরেশ কেন! বুলা হাজার বার নিজেকে তো সেজন্য ধিক্কার দিয়েছে, তবু এখনো কেন! ছোট বয়সের সরলতায় সমরেশের শয়তানি ও ধরতে পারেনি৷ অনেকের সাবধান করে দেওয়াতেও ও বুঝতে পারেনি যে গ্রামের সবচেয়ে বড়োলোকের একমাত্র ছেলে সমরেশের কাছে বুলার মতো মেয়েরা খেলা ছাড়া কিছুই নয়৷ তখন বুলা দিনরাত সাঁতার নিয়েই পড়ে আছে, বাবার উৎসাহে তৈরি করছে নিজেকে ন্যাশনাল মিটের জন্য৷ ভোর ভোর উঠে চলে যেত সমরেশদের বাড়ির পেছনদিকের বিশাল পুকুরে৷ বাবা ছিল ওদের বাড়ির বাঁধা রিকশাওয়ালা, মেয়ের প্র্যাকটিসের জন্য এইটুকু অনুমতি বুলার বাবা আদায় করতে পেরেছিল মনিবের কাছ থেকে৷ সেখানেই প্রথম দেখা সমরেশের সাথে৷

    দিনের পর দিন সূর্যঠিক মতো ফোটার আগেই বুলা জলে নেমে পড়ত, আর পুকুরপাড়ে হাজির হত সমরেশ৷ প্রথম দিকের আড়ষ্টতা কেটে যেতে বুলার মনে হয়েছিল সমরেশ ওর প্রেমে পাগল৷ কিছুদিনের মধ্যেই ডকে উঠেছিল ভোরবেলার প্র্যাকটিস, ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করত দুজনে৷ প্রথম প্রথম বুলা ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকত, তার নিজের বাবা যে বাড়ির রিকশাওয়ালা, গ্রামের সেই সবচেয়ে বড়োলোকের ছেলে তাকে এত ভালোবাসে? এও কি সম্ভব?

    কিন্তু সমরেশের দিনের পর দিন প্রেমের কথায় সে ভয়ও কবে ফুৎকারে উড়ে গিয়েছিল বুলার ষোলো বছরের মন থেকে৷ এমনই পাগল হয়ে গিয়েছিল ও প্রেমে যে কলকাতার একটা ভালো টুর্নামেন্টের দিন যখন সমরেশ আলগোছে ওকে স্টেশন থেকে বাইকে তুলে নিয়ে ওদের বাগানবাড়িটায় নিয়ে গিয়েছিল, তখনো ওর কিছু মনে হয়নি৷ কিন্তু সেখান থেকে বেরোনোর সময় চোখে পড়ে গিয়েছিল বাবার বন্ধু ইরফানচাচার৷

    বাবা রাগে পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল, বুলাকে বেধড়ক পিটিয়েও শান্ত হয়নি, রাগের মাথায় ছুটেছিল সমরেশদের বাড়ি, ওর বাবাকে সব জানাতে৷ বাবার মাসমাইনের বাঁধা চাকরিটা চলে যাবে জেনেও বাবা থামেনি কারণ সমরেশের মেয়েঘটিত রোগের কথা সারা গ্রাম জানত৷

    বুলা স্বাভাবিক স্বরে মানিককাকার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, ‘‘কী কাজ?’’

    মানিককাকা গলা আরো খাদে নামিয়ে বলেছিল, ‘‘কাল রাত্তিরে সমরেশের সাথে ওর বউয়ের একটু তর্কাতর্কি হয় বুঝলি! সমরেশ রাগের মাথায় বউটাকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে!’’

    বুলার আতঙ্কে কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ মানিককাকা একটা ঢোঁক গিলে আবার বলে চলেছিল, ‘‘তোকে পুরোটা বলতেই হবে, তাই বলছি৷ বউটা মরে যেতে সমরেশ আর ওর দুটো চ্যালা লাশটাকে ভোর রাতে কালো দিঘিতে ফেলে এসেছে৷ যাতে পুলিশ এলে বোঝে যে বউটা নিজেই পুকুরে ডুবে মরেছে৷’’

    বুলা স্থিরভাবে শুনে যাচ্ছিল৷ মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে হওয়া বউটাকে এরকমভাবে মেরে ফেলল? অবশ্য সমরেশ তো এরকমই, সেটা বুলার থেকে ভালো আর কে জানে! সেদিন গিয়ে ওদের বাড়িতে সব কিছু খুলে বলে আসার পর ঠিক দু-দিন বাদে যখন রক্তবমি করতে করতে বাবা মারা গেল, আর তারও ঠিক চারদিন বাদে বুলাকে যখন দ্বিতীয়বারের জন্য সমরেশদের বাগানবাড়িতে ঢুকিয়ে ওর সব চ্যালাচামুন্ডাদের দল নিজেদের লালসা মিটিয়ে নিয়ে বুলাকে পেটাতে পেটাতে ওর কোমরের পেছনদিকের হাড়টাকে ভেঙে দিয়েছিল, তখনো তো সমরেশ এরকমই ছিল৷ বুলার এখনো দিনটা স্পষ্ট মনে পড়ে, আর মনে পড়লেই ওর শরীরটা কেমন অবসন্ন লাগে! ছেলেগুলো যখন একের পর এক বুলার ওপর অত্যাচার করছিল, মারছিল নির্মমভাবে, দূরের চেয়ারে বসে সিগারেট হাতে সমরেশ তখন নিষ্ঠুর হেসে বলেছিল, ‘‘তোর বাপ আমার কীর্তির কথা সারা গ্রাম রাষ্ট্র করবে বলে ভয় দেখিয়েছিল না? কী ভেবেছিল যে আমি তোকে বিয়ে করব? খুব শখ না?….’’ আরও কত নোংরা অশ্রাব্য কথা৷

    বুলা শান্তভাবে একটু বিদ্রূপের হাসি হেসে মানিককাকাকে বলেছিল, ‘‘তো কী হয়েছে! পুলিশ থেকে শুরু করে থানার সবাই তো ওদের কেনা!’’ ঠিক যেমনটা হয়েছিল ওর বেলায়! নেশা না করা ভালোমানুষ বাবাটা যখন রক্তবমি করে মরে গেল, তখন গ্রামের ডাক্তার সাফ জানিয়েছিল বিষ খেয়ে মারা গেছে৷ গলার কাছটা খুব ব্যথা করে উঠেছিল বুলার৷ কিন্তু কিছুই তো করতে পারল না বুলা! বাবার খুন, ওর ওরকম অবস্থা, সব কিছুর জন্য থানায় যেতে পাত্তাই পায়নি ও৷ ওদের গ্রামের দারোগা, যে ফি সন্ধেয় সমরেশদের বাড়ির আড্ডায় হাজির হয়, দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছিল ওকে৷

    মানিককাকা এবার বলেছিল, ‘‘না রে বুলা, বলছি না, একটা গণ্ডগোল হয়ে গেছে৷ একে তো আগের দারোগা আর নেই, নতুন যে এসেছে, সে ঘুষখোর নয়, তার ওপর তাড়াহুড়োতে বউটার হাত-পায়ের দড়িগুলো ওরা খুলতে ভুলে গেছে৷’’ বুলার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে চলেছিল মানিক কাকা, ‘‘আমারই কী কপাল বল! পেটের দায়ে এই বয়সে এইসব নোংরা কাজে সায় দিতে হয়৷ আর এখন তো এমন হয়ে গেছে, আমি বেঁকে বসলে আমায় শেষ করে দেবে৷ ছেলেমেয়ে নিয়ে গ্রামে থাকি, জলে বাস করে কি আর কুমিরের সাথে বিবাদ করা যায় বল?’’

    বুলা বলেছিল, ‘‘আমায় কী করতে হবে?’’

    মানিককাকা স্থির চোখে ওর দিকে তাকিয়েছিল, ‘‘জানি, তোর অনেক রাগ ওদের ওপর৷ কিন্তু এখনো যদি রাগ দেখাস, তোকে আর তোর মাকে শেষ করে দেবে ওরা৷ তার থেকে যা হবার তো হয়েই গেছে, এখন সামনের দিকে বরং তাকা৷ যদি লাশটা পুকুরে ভেসে ওঠার আগেই গিয়ে দড়িগুলো কেটে দিয়ে আসতে পারিস, পঞ্চাশ হাজার টাকা পাবি৷ ভাবতে পারছিস? তোর মায়ের বুকের রোগটা পুরো সেরে যাবে!’’ পাঁচটা কড়কড়ে হাজার টাকার নোট ওর হাতে গুঁজে দিতে দিতে বলেছিল মানিককাকা, ‘‘এটা অ্যাডভান্স৷ শিগগির চল আমার সাথে৷’’

    বুলা তখনো চেয়ে আছে দেখে মানিককাকা গলা আরেক ধাপ খাদে নামিয়ে বলেছিল, ‘‘তুই কী ভাবছিস? তোকে এতকিছু বললাম, তারপর তুই না গেলে তোকে ওরা ছেড়ে দেবে? তার চেয়ে কাজটা উতরে দে, টাকাটা পেলে তোদের অনেক সুরাহা হবে৷’’

    মানিককাকার পিছু পিছু কালো দিঘিতে আসতে আসতে বুলা ভাবছিল, যার জন্য ওর বাবা মরে গেল, যার জন্য ওর কোমরটা ভেঙে যাওয়ায় ওর সাঁতারের কেরিয়ার শেষ হয়ে গেল, যার জন্য ওর শরীরটা কয়েকটা পশু ক্ষতবিক্ষত করল, তাকেই ও বাঁচাতে যাচ্ছে? প্রকৃতির কী অদ্ভুত পরিহাস! কিন্তু কিছু করার নেই, মনটাকে শক্ত করেছিল বুলা৷

    বুলা মেয়েটার মুখটার ওপর পরম মমতায় হাত বোলাল৷ বয়সে ওর থেকে ছোটই হবে৷ কপালে স্বামীর কল্যাণের জন্য পরা সিঁদুর জলে ভিজে সারা কপালে লেপ্টে রয়েছে৷ হাতের শাঁখা-পলাগুলো দু-একটা ভেঙে গেছে৷

    কয়েক মাস আগেই প্রচুর যৌতুক দিয়ে যখন মেয়েটার বাবা বিয়ে দিয়েছিল তখনো কি এই দিনটার কথা ভাবতে পেরেছিল? মানিককাকা বলছিল দড়িগুলো খুলে দিলে ওরা চালিয়ে দেবে এটা জলে ডুবে আত্মহত্যা৷ এটা যে বালিশ চাপা দিয়ে খুন তা বুঝতেই পারবে না পুলিশ৷ বুলা ঠোঁট কামড়াল৷ কিন্তু এ যাত্রায় সমরেশকে না বাঁচালে ওর আর ওর মায়ের চরম ক্ষতি করবে ওরা, এটাও পরিষ্কার৷

    বুলার এতক্ষণ ধরে রাখা দম শেষ হয়ে আসছিল৷ ও আর বেশি ভাবল না, হাতের ছুরিটাকে দূরের লতানে গাছটার দিকে ছুড়ে ফেলে দিল৷ তারপর পুলিশের নতুন দারোগাটা যেখানটা দাঁড়িয়েছিল সেইদিকটায় আন্দাজ করে করে লাশটাকে ঠেলে নিয়ে চলতে লাগল৷

    গভীর পুকুর, তায় সাথে লাশ, তবু বুলা নিজের ভাঙা রুগ্ন শরীরটার সব শক্তি একত্র করে নীচ থেকে ঠেলে উপরে তুলল লাশটাকে৷

    টেনে হিঁচড়ে তুলতেই ডাঙার লোকগুলো হইহই করে এগিয়ে এল লাশ তোলার কাজে হাত লাগাতে৷ এক পলকের জন্য ও সমরেশের দিকে সোজাসুজি তাকাল, বউটার হাত-পায়ের দড়িগুলো দিনের আলোয় ঝকঝক করছে আর সেটা দেখে সমরেশের মুখটা সাদা হয়ে গেছে৷ জান্তব একটা ক্রুর হাসি হেসে বুলা আবার ডুব দিল৷

    এবার জলের অনেক, অনেক গভীরে৷

    ওর জন্য এই জলের তলার পৃথিবীটাই ভালো৷ কী হবে ওপরের নোংরামির জগতে উঠে?

    দমটাকে আটকে আর না রেখে ছেড়ে দিল ও৷ কোমরের বাঁধা দড়িটা খুলে ছুড়ে দিল জলের মধ্যে৷ নিঃশ্বাস নিতে পারছে না আর, হাত-পাগুলো কেমন যেন অবশ হয়ে যাচ্ছে, চোখদুটোও যেন ঝাপসা হয়ে আসছে, তবু তার মাঝেই অনুভব করতে লাগল বুলা, ওর শরীরের নীচটা যেন মাছের মতো হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে, আশপাশের ছোট ছোট মাছগুলোর সাথে ও নিজেও একটা মাছ হয়ে চু-কিত-কিত খেলতে লাগল, ঠিক ছোট্টবেলার মতো৷

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনীলাম্বরের খিদে – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article গ্লানির্ভবতি ভারত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }