Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লিলি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রিভেঞ্জ

    অন্যদিন অফিস আসতে আসতে আমার প্রায় দশটা পনেরো-কুড়ি হয়ে যায়৷ পোষা পাখিগুলোকে খাইয়ে, অ্যাকোয়ারিয়ামের লাল-নীল মাছগুলোর সাথে সুখ-দুঃখের গল্প করে তারপর আসি আমি৷ আমার প্রাসাদোপম বাংলোয় মালি, বাবুর্চি, খানসামা, বেয়ারা মিলিয়ে প্রায় জনা দশেক কর্মসহায়ক থাকলেও এই কাজ ক-টা আমি নিজের হাতে করতেই ভালোবাসি৷ আমার চব্বিশ ঘণ্টার ড্রাইভার রামলাল অন্তত তিনবার এসে উশখুশ করে, বিনীত গলায় বলে, ‘‘ম্যাডাম, স্টার্ট করি?’’

    কিন্তু আজ সে-সব কিছুই করতে হয়নি৷

    বরং ভোর ভোর উঠে নিয়মমাফিক হালকা ফ্রি-হ্যান্ড করে ব্রেকফাস্ট সেরে সাড়ে ন-টা নাগাদ আমি নিজেই গাড়ি বের করে ড্রাইভ করে আমার অফিসে চলে এসেছি৷

    আমার কর্মচারীরা সবাই বেশ অবাকই হয়েছে আজ, কিন্তু নিজের মুখে কিছু বলতে সাহস পায়নি৷ বলা ভালো, সে সাহস আমি ওদের কোনোদিনই দিইনি৷ প্রবল ব্যক্তিত্বের আবরণটাকে মুখোশ হিসেবে ব্যবহার করতে করতে কখন সেটাই আমার শরীরের অঙ্গ হয়ে উঠেছে, কর্ণের কবজের মতো৷ আর শুধুমাত্র জেলাশাসক বলে নয়, মাত্র আড়াই বছরেই আমি এই বিশাল মাপের ঝামেলাপ্রবণ জেলাটাকে নিজের নখদর্পণে নিয়ে এসেছি৷ শাসক দলের নেতা থেকে শুরু করে অপোনেন্ট পার্টি এমনকি এ-জেলার তাবড় তাবড় ক্রিমিন্যালরাও এখন একবাক্যে স্বীকার করে, ডি এম দিব্যদর্শিনী রায়চৌধুরীর জেলায় বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খায়৷

    আমার বাংলো থেকে অফিসের দূরত্ব প্রায় দু-কিলোমিটার৷ ব্রিটিশ আমলের বিশাল বাংলো, অঢেল জায়গার ওপর সযত্নে গড়ে তোলা৷ লাল সুরকির পথ বাংলো ছেড়ে বেরিয়ে সোজা চলে গিয়েছে আমার অফিস অর্থাৎ জেলাশাসকের দপ্তরের দিকে৷ এই চত্বরটা পুরোটাই রেস্ট্রিক্টেড, তাই স্টিয়ারিং-এ হালকা হাত রেখে গতকাল রাতের বৃষ্টির ঠান্ডা আমেজটা উপভোগ করছিলাম, এমন সময় ফোন বাজল৷

    হাতে নিয়ে দেখি মহুল৷ ফোন তুলে ‘হ্যালো’ বলতেই ওপাশ থেকে মহুলের উত্তেজিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল, ‘‘কীরে? অফিস চলে গেছিস? আমার কথাগুলো মনে আছে তো? মালটা কিন্তু আজ আসবেই তোর কাছে, একদম পাক্কা খবর!’’

    আমি হাল্কা হাসলাম৷ মহুল এখন হাওড়ার একটা ব্লকের বি ডি ও৷ পদমর্যাদায় মহুল আমার থেকে প্রায় তিন ধাপ নীচের অফিসার হলেও আমাদের মধ্যে তুই-তোকারির সম্পর্ক কারণ আমরা অনেকদিনের বন্ধু৷ অ-নে-ক দিনের, যখন আমি সবে কলেজ পাশ করে বেরিয়ে সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলাম৷ মাঝে অনেক ঝড়ঝাপটা এলেও আমাদের বন্ধুত্ব এখনো অটুট৷

    আমি শান্ত গলায় বললাম, ‘‘আসুক না, চাপের তো কিছু নেই!’’

    মহুল আবার উত্তেজিত গলায় বলল, ‘‘চাপের তোর কিছু নেই, কিন্তু সেই বাছাধনের আছে৷ তুই কিন্তু কড়ায়-গন্ডায় উশুল করে নিবি দিব্য!’’

    আমি টুকটাক দুয়েকটা কথা সেরে ফোন রেখে দিলাম৷ গাড়ি ততক্ষণে ডি এম অফিসের গেটে ঢুকছে৷ দু-ধারে দাঁড়িয়ে থাকা উর্দিপরা দারোয়ান আজ ড্রাইভারের আসনে আমাকে দেখে বেশ অবাক, ঘন ঘন সেলাম ঠুকছে৷ আমি নিজের মনেই হাসলাম৷ এখনো দপ্তরের নব্বইভাগ লোকই আসেনি, আমি আগে এসে গেছি দেখে শুধু শুধু তারা টেনশনে পড়ে যাবে৷

    আমি কিছু না বলে আমার কেবিনে ঢুকে গেলাম৷ মহুলের কাছে নিজেকে যতই নিরাসক্ত দেখাই না কেন, সত্যিই কি আমার ভেতরে কোনো ঘূর্ণিপাকের সৃষ্টি হয়নি? তাহলে কেনই বা সাত সকালে অফিসে ছুটে এসেছি আর কেনই বা কাল সারারাত ছটফট করেছি! নিজের চেয়ারে বসে আমার সেক্রেটারির রেখে যাওয়া ভারী ফাইলগুলো টেনে নিলাম৷ সব ফাইলই রেডি, শুধু আমার সই বাকি আছে৷ প্রথম ফাইলটা খুলে সই করতে যেতেই হঠাৎ কী করে যেন চোখের সামনে দশ বছরের পুরোনো স্মৃতিগুলো ছবির মতো ভেসে উঠল৷ কাল থেকেই উঠছে, এরকমই হঠাৎ হঠাৎ৷ স্পষ্ট দেখতে পেলাম বহুকাল আগের সেই সন্ধেটাকে যখন আমি সেজেগুজে উৎকণ্ঠা ভরা মুখে অপেক্ষা করছি কখন দেবব্রতর বাড়ির লোকেরা আসবে৷ মন্দিরা আমার মুখে ঝুঁকে পড়ে ওরই নিয়ে আসা মেক আপ লাগাচ্ছে, মা মাঝে মাঝেই একবার করে কারণে-অকারণে ঘুরে যাচ্ছে, বাবা বাইরের তদারকিতে ব্যস্ত৷ মন্দিরা একবার বলছে, ‘‘তোকে কী সাজাব বল তো! সাতজন্মে মুখে কিছু মাখিস না! ভুরুটাও তো প্লাক করতে পারিস!’’

    আমি মৃদুস্বরে বলছি, ‘‘তুই ছাড় না এসব! দেবব্রত এসব পছন্দ করে না, ওর আমাকে সাজগোজ ছাড়াই দেখতে ভালো লাগে বুঝলি!’’ বলতে বলতে আমার মুখে কি একটু লজ্জার আভা দেখা দিচ্ছে?

    কথাটা সত্যি৷ দেবব্রত কখনো আমাকে সাজতে বলেনি৷ তখন প্রেসিডেন্সি কলেজে একটা আই এ এস কোচিং সেন্টার ছিল, সেখানে পড়তে গিয়ে দেখা৷ নামে সেটা আই এ এস কোচিং হলেও আদপে ডব্লু বি সি এস হবার জন্যই লোকে যেত বেশি৷ যদিও প্রথম থেকে আমি নিজের লক্ষ্যে স্থির ছিলাম যে আই এ এস আমি হবই, ক্লাসের বাকি প্রায় সবাই কিন্তু ডব্লু বি সি এস হতে পারলেই নিজেদের ধন্য মনে করবে এমনটাই ছিল, দেবব্রতও তার ব্যতিক্রম নয়৷ আসলে বাঙালি ছেলে-মেয়ে বাবা-মায়ের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবার ইঁদুরদৌড়ে শামিল হতে গিয়ে ভুলতে বসেছে যে দেশের প্রথম আই এ এস অফিসার একজন বাঙালিই৷ আমার মনে পড়ল, প্রথম ক্লাস শুরুর দিন যখন ডিরেক্টর স্যার জিজ্ঞেস করেছিলেন, সবাই ডব্লু বি সি এস বললেও আমি দৃঢ় গলায় বলেছিলাম, ‘‘স্যার, আমি আই এ এস হতে চাই৷’’ তখন বেশ কিছুজন অবাক আর কিছুজন অবিশ্বাস আর বিদ্রূপের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল৷

    পরের বছরই যখন ডব্লু বি সি এস পাশ করে আমার আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছি আই এ এসে বসার, তখন দেবব্রতকেও ইন্সপায়ার করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওর সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না৷ হতাশ গলায় বলেছিল, ‘‘আই এ এস! শুনলেই গলা শুকিয়ে যায় দিব্য! ওসব ছাড়ো তো! দুজনেই ডব্লু বি সি এস পাশ করেছি, আর কী চাই? খুব শিগগির পোস্টিং পেয়ে যাব; বাড়িতে কবে বলছ বল তো আমাদের ব্যাপারটা?’’

    যদিও আমার ইচ্ছে ছিল আরো দু-তিন বছর আই এ এসের জন্য চেষ্টা করে তারপর বাড়িতে বলব, তবু দেবব্রতর পীড়াপীড়িতে বলেছিলাম বাড়িতে৷ তা ছাড়া আরো একটা বিপদ হাজির হয়েছিল৷

    বাবা-মা তো শুনে আহ্লাদে আটখানা হয়ে গিয়েছিল৷ ডব্লু বি সি এস মেয়ে, ডব্লু বি সি এস জামাই, আর কী চাই! আমার বাবা-মাও কল্পনা করতে পারত না যে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত বাড়ি থেকে কেউ আই এ এস হতে পারে! বাঙালির তথাকথিত মানসিকতা৷ আমার স্কুলমাস্টার বাবা শুনে হাঁ করে তাকিয়েছিল, ‘‘আই এ এস দিবি!’’

    আমি অধৈর্য হয়ে বলেছিলাম, ‘‘হ্যাঁ দেব৷ কেন যারা আই এ এস হয় তাদের কি চারটে হাত-পা থাকে, না দুটো নাক থাকে যে এরকম করছ? এই জন্যই ওয়েস্ট বেঙ্গলে বাঙালি আই এ এসের সংখ্যা এত কমে গেছে!’’

    হঠাৎ আমার সেক্রেটারির ডাকে আমার হুঁশ এল, ‘‘ম্যাডাম, ঘাটালের এম পি এসেছেন দেখা করতে৷ ওঁদের এরিয়ার একটা এম পি তহবিলের রাস্তা কন্সট্রাকশনে গণ্ডগোল হয়েছে৷ কনট্রাক্টরের লেবাররা স্ট্রাইক ডেকেছে৷’’

    আমি ভেতরে নিয়ে আসতে বলে চেয়ারে হেলান দিলাম৷ ঘাটালের এম পি একজন নামকরা ফিল্মস্টারও, সেদিনই তার একটা সিনেমা দেখছিলাম, একটা ছেলে প্রেমে পড়ে পাগল হয়ে গিয়েছে৷

    আচ্ছা আমিও কি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম? নিশ্চয়ই তাই? নাহলে কেনই বা মাথা থেকে নিজের ছোটবেলার স্বপ্ন ঝেড়ে ফেলে দেবব্রতকে বিয়ে করতে, নিজের একটা সংসার গড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম? কেনই বা দেবব্রতর কাছে বিশ্বাস করে নিজেকে তুলে দিয়েছিলাম!

    মা আগে দু-একবার মিনমিন করে বারণ করেছিল, বলেছিল, ‘‘কী দরকার মন্দিরাকে নিয়ে দেবব্রতর সাথে সবসময় দেখা করতে যাওয়ার! সোমত্থ মেয়ে, ওর আজ এখানে থাকার প্রয়োজনটাই বা কী!’’

    আমি মায়ের আপত্তির আসল কারণটা ঠিকই বুঝেছিলাম কিন্তু পাত্তা দিইনি৷ পড়াশোনোয় লবডঙ্কা হলেও মন্দিরা ছিল যাকে বলে ডাকসাইটে সুন্দরী, ওর দুধে-আলতা গায়ের রং আর টানা টানা ঘন চোখের প্রেমে প্রচুর ছেলে হাবুডুবু খেত৷ অন্যদিকে আমি ছিলাম চাপা রঙের লম্বা দোহারা ছোট কোঁকড়ানো চুলের একটা মেয়ে৷ পড়াশোনোয় মন্দিরা আমার ধারেকাছে না এলেও আমাকে ভারী ভালোবাসত৷ আমি ফুৎকারে মায়ের কথা উড়িয়ে দিয়েছিলাম, আমার দেবব্রত ওরকম ছেলেই নয়! দেবব্রত আমার রূপে আকৃষ্ট হয়নি, হয়েছে আমার গুণে, আমার মননে, আমার মানসিকতায়৷ সেখানে কোথায় লাগে ওই স্থূলবুদ্ধির মন্দিরা!

    কিন্তু আমার ভাবনা আর বাস্তব সত্যিই সেদিন এক সুরে গান গায়নি৷ সেদিন সন্ধেটা শেষ হয়েছিল বেশ অন্যরকম ভাবে৷ আমার থেকে বেশি যখন মন্দিরাকে ইন্টারভিউ করছিলেন ওঁরা, মন্দিরার লজ্জা লজ্জা করে বলা কথায় ওঁরা যখন বিগলিত, আমার আই এ এস হতে চাওয়ার কথা শুনে দেবব্রতর বাবা যখন হাত উল্টে বলেছিলেন, ‘‘ছেলে ডব্লু বি সি এস অফিসার, সেখানে বউমা আই এ এস হলে সামলাব কী করে! না বাবা, ওসব আই এ এস-টাই এ এস আমাদের মতো ঘরে মানাবে না!’’, তখনই আমার বুকের পাঁজরগুলো একটা একটা করে ভাঙতে শুরু করেছিল৷

    লজ্জা বা ন্যাকামি কোনোদিন আমার স্বভাবে ছিল না, পরিষ্কার স্পষ্ট কথা বলে সোজা চোখ তুলে দেবব্রতর মুখের দিকে চেয়েছিলাম, দেখেছিলাম অধোবদন পিতৃ-আজ্ঞা পালনে ভিরু মুখ৷

    ঘাটালের এম পি সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে ঘরে ঢুকে বললেন, ‘‘নমস্কার ম্যাডাম, আসব?’’

    আমি হেসে উঠে দাঁড়ালাম৷ বাংলা সিনেমার এই ইয়ং হিরো ঘটনাচক্রে রাজনীতিতে এসে পড়লেও মানুষ হিসেবে বেশ ভালো, একটা আন্তরিকতা আছে, আগেও এসেছেন দু-একবার৷ সৌজন্য বিনিময়ের পর কাজের কথা শুরু হল৷

    আধঘণ্টা পর যখন এম পি মশাই বিদায় নিলেন, ততক্ষণে মহুলের মেসেজ এসেছে দু-বার, প্রতিশোধ নেবার কথা মনে করিয়ে দিয়ে৷ সত্যিই, কীভাবে শোধ নেব আমি সেই অপমানের? দেবব্রতর বাড়ির লোকেদের অপমানজনক কথাতেও আমি সেদিন ভেঙে পড়িনি, কিন্তু ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছিলাম তার ঠিক তিন দিন বাদে বাড়ির কাছের এক পার্কে, যেখানে দেবব্রত আমাকে স্পষ্ট বলেছিল, ‘‘দিব্য, আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবেসেছিলাম৷ কিন্তু….তুমি ঠিক ঘরের বউ টাইপ নও৷ বাবা-মায়ের ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করো, ওঁরা পুরোনো দিনের মানুষ, ছেলের বউয়ের কাছ থেকে ওঁরা আগেরকার দিনের মতোই ব্যবহার চান৷’’ আমি সেদিন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েছিলাম, আমার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে চিৎকার-চেঁচামেচিও করিনি৷ কারণটাই যে ধরতে পারছিলাম না!

    তারও মাসচারেক বাদে যখন দেবব্রতর সাথে মন্দিরার বিয়ের কথা শুনেছিলাম সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম আসল কারণটা৷ আমার মেধা, আমার রুচি, আমার গুণ সবই দেবব্রতর কাছে ম্লান হয়ে গিয়েছিল মোটা মাথার মন্দিরার রূপের ঝলকে৷

    তারপর আমি দাঁতে দাঁত চেপে পড়াশোনো শুরু করি৷ তখনকার দিনে একজন অবিবাহিতা মেয়ের একা গিয়ে গর্ভপাত করানোটা মোটেই সহজ ব্যাপার ছিল না৷ মহুল আমার পাশে ছিল৷ বাড়িতে আমি বাবা-মায়ের চোখে এমন একজন হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিলাম যে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরেছে৷ মা তো একদিন রাগে-দুঃখে বলেই ফেলল, ‘‘ভালো ছেলেটাকে পেয়েছিলি, তোর কপালে সইল না৷ এত কিসের দেমাক তোর?’’

    আমি তখন কোনো উত্তর দিইনি৷ দিয়েছিলাম বছরদুয়েক পর৷

    দু-বছর বাদে আই এ এসে যখন সারা ভারতের মধ্যে প্রথম দশের মধ্যে একমাত্র বাঙালি হিসেবে আমার নাম ওঠে, ততদিনে দেবব্রত আমার কাছে একটা পুরোনো ঘায়ে পরিণত হয়েছে, যার আর ব্যথা না থাকলেও দাগটা রয়ে গেছে, থেকে যাবে আজীবন৷

    তাই গত পনেরোদিন ধরে মহকুমা শাসক দেবব্রত সেনের দীর্ঘদিন ধরে চালানো দুর্নীতি যখন এক এক করে প্রকাশিত হচ্ছে, টেলিমিডিয়ার স্টিং অপারেশনে যখন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোচ্ছে অবিরাম গতিতে, একে একে প্রকাশ হয়ে পড়ছে দেবব্রত সেনের অন্ধকার জগতের সাথে হাত মিলিয়ে টাকা খেয়ে অসঙ্গত, অন্যায় বিল পাশগুলো, তখনো খুব একটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়নি মনে৷ শুধু তেতো মনে ভেবেছিলাম এই সব লোকেরা সিভিল সার্ভিসে আসে কেন! গরিব মানুষগুলোর জন্য বরাদ্দ করা টাকাগুলো আত্মসাৎ করতে যাদের বিবেকে বাধে না, তারা তো পশুরও অধম!

    বিয়ের ইচ্ছা আমার আর ছিল না৷ তাই ছোটবেলার ইচ্ছেটাকে সত্যি করতে একজন সৎ কর্মঠ আই এ এস অফিসার হিসেবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম কর্মযজ্ঞে, আমাদের দেশের একদম নীচের তলাকার মানুষগুলোকে রাজনীতির স্বার্থমাখা উপকারের বাইরে গিয়ে এগিয়ে নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম৷ ফলস্বরূপ এই আট বছরেই দেশের অন্যায়ের সাথে আপোশ না করা ইয়ং গুটিকয়েক আই এ এস-দের মধ্যে আমার নাম একদম ওপরের দিকে৷ বাবা-মা চলে গেছেন তাও ক-বছর হল৷ দেশের জন্য, মানুষের জন্য আমার জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়ে আমি সত্যিই লোহার মতো অনমনীয় হয়ে উঠেছি৷

    কিন্তু সাতদিন আগে হেড কোয়ার্টার থেকে আসা আর্জেন্ট নোটিস আর মহুলের উপর্যুপরি ফোন আমাকে দুর্বল করে দিয়েছে৷ দেবব্রত সেনের দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তের জন্য যে হাই কম্যান্ড ইনভেস্টিগেশন কমিশন গঠন করা হয়েছে তার চেয়ারপার্সন আমি৷ একমাসের মধ্যে দেবব্রত সেনের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ কমিশনকে দিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে আমাকে৷ আর কাল মহুল ফোন করে জানাল আজ নাকি গোপনে দেবব্রত আমার কাছে ক্ষমা চাইতে আসবে, অনুনয়-বিনয় করবে আমি যাতে ওকে ক্লিনচিট দিই৷ ক্লিনচিট দিলে ও সাময়িক সাসপেন্ড হলেও চাকরিটা যাবে না৷

    আমি অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে বলেছিলাম, ‘‘সত্যি আসবে! তুই ঠিক জানিস! মানে এতটা মোটা চামড়া…!’’

    মহুল বাধা দিয়ে বলেছিল, দেবব্রত নাকি নিজের স্বার্থের জন্য সব করতে পারে, সে নেতাদের পা চাটা হোক, বা দরকারে তাঁবেদারি করা! আর আমাকে ইমোশনাল সুড়সুড়ি দিয়ে কাজ হাসিল করাটা কোনো ব্যাপারই নয় ওর কাছে৷

    সারাটা সকাল গড়িয়ে দুপুর পড়ে এল৷ দুপুর গড়িয়ে বিকেল৷ দেবব্রত কিন্তু এল না৷ মহুলের ইনফরমেশন তাহলে ভুল ছিল, ভাবতে ভাবতে বাংলোয় ফিরলাম আমি৷ এসে সারাদিনের মানসিক চাপে বড় ক্লান্ত লাগছিল৷

    অবশেষে রাত সাড়ে আটটার সময় দেবব্রত এসে হাজির হল আমার বাংলোয়৷ আমার আর্দালি এসে বলতে আমি ভেতরে আসার আদেশ দিলাম৷ বেশ মোটা কাতলামাছের মতো চেহারা হলেও চুল উশকোখুশকো, বোঝাই যাচ্ছে গত কয়েকদিনের ঝড়ে বেচারা কাহিল হয়ে পড়েছে৷ ফর্সা মুখের ওপর একটা পোড়া ক্লান্তির ছাপ বোঝা যাচ্ছে স্পষ্ট৷

    আমি মনে মনে আপশোশ করলাম৷ আমার আগেই বোঝা উচিত ছিল ও আমার অফিসে না গিয়ে বাংলোয় আসবে৷ মনে মনে ভাবলাম আমি, টেবিলের নীচ দিয়ে টাকা নেওয়া যাদের অভ্যাস, তারা মাথা উঁচিয়ে কোথাও যেতে অনেকদিন ভুলে গেছে৷

    আমার বিশাল ড্রয়িঙের একটা চেয়ারে দেবব্রত কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল৷ আমিই নীরবতা ভাঙলাম, ‘‘কেমন আছ? মন্দিরা ভালো আছে?’’

    দেবব্রত মুখ তুলে তাকাল, চোখে স্পষ্ট আশার আলো, ও হয়তো আশা করেনি আমি এত ভালোভাবে শুরু করব৷ বলল, ‘‘আমাকে বাঁচাও দিব্য! ছেলেটাকে লন্ডনে পড়তে পাঠিয়েছি, মন্দিরার কেমো চলছে, জলের মতো টাকা খরচ হচ্ছে, এর মধ্যে আমার চাকরিটা চলে গেলে আমাকে সুইসাইড করতে হবে!’’

    আমি মনে মনে হাসলাম৷ ছেলেকে লন্ডনে পড়ানোর জন্য তাহলে কত গরিবের প্রাপ্য টাকা মেরেছে দেবব্রত? আমি আড়চোখে আমার ফোনের দিকে তাকালাম, তখনো মহুলের হোয়াটসঅ্যাপ ঢুকছে, ‘‘দেবব্রত শিয়ালের মতো চতুর দিব্য! খবরদার ওকে ক্ষমা করিস না! বরং তোকে ও যে অপমানটা করেছিল, সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে!’’

    আমি চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করলাম, ‘‘সেদিন আমিও প্রেগন্যান্ট ছিলাম দেবব্রত! সুইসাইড করাটা বরং আমারই বেশি যুক্তিযুক্ত ছিল, কী বল!’’

    দেবব্রত গুটিয়ে একটা কেন্নোর মতো হয়ে গেল৷ কিছুক্ষণ মাথা হেঁট করে থেকে হঠাৎ কেঁদে ফেলল৷ তারপর চেয়ার থেকে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল আমার পায়ের ওপর৷ আমি ঘটনার আকস্মিকতায় পা-টা সরিয়ে নিলাম৷ ও হাউমাউ করে উঠল, ‘‘আমাকে ক্ষমা করো দিব্য৷ তু-তুমি আমাকে বাঁচাও৷ আমি মরে যাব! তু-তুমি যা চাইবে আমি তাই করতে রাজি আছি৷’’

    আমি চমকে উঠলেও ভেতরে জমে থাকা অনেকদিনকার কষ্টটা যেন কেমন কর্পূরের মতো উবে যাচ্ছিল, নিজের সৌভাগ্যে নিজেই অভিভূত হয়ে পড়ছিলাম! ভাগ্যিস এই অমেরুদণ্ডী অসৎ ক্লীবলিঙ্গটাকে আমি বিয়ে করিনি!

    এর জন্য সত্যিই ওর একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য!

    আমি ওর হাত ধরে তুলে চেয়ারে বসালাম৷

    * * * *

    আমি নিরপেক্ষভাবে ইনভেস্টিগেট করিয়েছিলাম৷ সাক্ষ্যপ্রমাণ সবই দেবব্রতর বিরুদ্ধে যাওয়ায় ওর চাকরি তো যায়ই, বিচারে সাড়ে তিনবছর জেল হয়, সঙ্গে মোটা জরিমানা৷

    না, নিজের প্রতিশোধস্পৃহার জন্য আমি আমার সততার সঙ্গে আপোশ করিনি৷

    তবে আমার একসময়ের প্রাণের চেয়েও প্রিয় যে বান্ধবী, যাকে আমি নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করতাম, ভালোবাসতাম, সেই মন্দিরার চিকিৎসার ভার যতটা সম্ভব নিয়েছিলাম আড়ালে থেকে৷

    দেবব্রত যখন জেলে, তখন আমার সেক্রেটারিকে দিয়ে কলকাতার সেরা হাসপাতালগুলোর একটায় চিকিৎসা করিয়েছিলাম মন্দিরার৷ কিন্তু একবারও দেখা করতে যাইনি৷ ইচ্ছে হয়নি, কেন জানি না৷

    আমার এক বন্ধু ইংল্যান্ডের ভারতীয় দূতাবাসের হাই কমিশনার তখন, তাকে অনুরোধ করে ওদের ছেলেটাকে ওর পড়ার খরচা চলে যাওয়ার মতো একটা স্কলারশিপেরও ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম৷

    মহুল হাজারবার বারণ করলেও কর্ণপাত করিনি৷ দিব্যদর্শিনী রায়চৌধুরীর কাছে কর্তব্যের ওপরে আর কিচ্ছু নেই৷

    মহুল ফোন করে চিৎকার করছিল, ‘‘যে বন্ধু তোর এতবড় সর্বনাশ করেছিল, তাকেই ট্যাঁকের পয়সা খরচা করে সারাচ্ছিস? ভুলে গেলি দেবব্রতর বাপ-মা তোকে কী বলেছিল? ও তোকে কীরকম ভাবে ডিচ করেছিল? প্রতিশোধ তো নিলিই না, উল্টে ওর গুষ্টির পেছনে টাকা ঢালছিস! তুই কি পাগল?’

    আমি ক্লান্ত গলায় বললাম, ‘‘আমি মানুষ৷ মান আর হুঁশ দুটোই তাই রাখার চেষ্টা করি মহুল৷ আর…প্রতিশোধ নিলাম তো! কেউ নির্মমভাবে রিভেঞ্জ নেয়, আবার কেউ সৎ পথে হেঁটে প্রতিশোধ নেয়৷ দুটোরই মোটিভ এক! দুটোতেই ভিক্টিমরা দগ্ধে দগ্ধে মরে বুঝলি!’’

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনীলাম্বরের খিদে – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article গ্লানির্ভবতি ভারত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }