Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লিলুয়া বাতাস – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প130 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. নীলা ফুপুর চোখ লাল

    নীলা ফুপুর চোখ লাল। মুখ ফোলা। তিনি গত দুদিন ধরে ঘরে আছেন। ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাতে মনে হয় ঘুমাচ্ছেনও না। কাল রাত তিনটার সময়ও দেখেছি তার ঘরে বাতি জ্বলছে। অসুখ-বিসুখ নিশ্চয়ই না। অসুখ হলে চাদর গায়ে বিছানায় শুয়ে থাকতেন। মাথা টিপে দেবার জন্যে কিংবা মাথায় পানি ঢালার জন্যে আমার ডাক পড়ত। এখনো ডাক পড়ছে না। বড় কোনো ঘটনা হয়তো ঘটেছে। নাটক থেকে বাদ পড়েছেন। কিংবা মুকুল ভাই আরো কোনো কাণ্ড ঘটিয়েছেন। সন্ধ্যাবেলায় আমি তাঁর ঘরে উঁকি দিলাম। তিনি চাদর গায়ে চোখ বন্ধ করে শুয়েছিলেন। আমাকে দেখে ধড়মড় করে উঠে বসলেন। ভাঙা গলায় বললেন, কী চাস?

    আমি বললাম, কিছু চাই না। তোমার গলা ভাঙল কীভাবে?

    ফুপু বললেন, হুট হাট করে ঘরে ঢুকবি না।

    চলে যাব?

    চেয়ারে বোস।

    আমি চেয়ারে বসলাম। ঘরে বাতি জ্বালানো হয় নি। জানালা বন্ধ। ঘর অন্ধকার। ভ্যাপসা গরমে ফুপু গায়ে চাদর জড়িয়ে রেখেছেন। আমি বললাম, তোমার জ্বর না-কি?

    জানি না। তুই একটা কাজ করে দে, আমাকে ঘুমের ওষুধ কিনে এনে দে। পঞ্চাশটা কিনবি, ইউনিকট্রিন। নাম মনে থাকবে?

    না।

    আমি লিখে দিচ্ছি। একটা ফার্মেসি থেকে এতগুলি দিবে না। বিভিন্ন ফার্মেসিতে যাবি, ঘুরে ঘুরে কিনবি। পারবি না?

    পারব।

    এতগুলো ঘুমের ওষুধ দিয়ে কী করব জিজ্ঞেস করলি না?

    খাবে। ঘুমের ওষুধ দিয়ে মানুষ আর কী করে?

    এতগুলা ওষুধ একসঙ্গে খেলে আমার অবস্থা কী হবে বুঝতে পারছিস?

    একসঙ্গে খাবে?

    অবশ্যই একসঙ্গে খাব। এ ছাড়া আমার কোনো গতি নেই।

    ফুপু, বাতি জ্বালাব?

    না।

    মুখ দেখতে পাচ্ছি না তো! এইজন্যে কথা বলে আরাম পাচ্ছি না।

    গাধার মতো কথা বলিস না। আর পা দোলাচ্ছিস কেন? পা দোলাবি না। গাধা!

    আমি পা দোলানো বন্ধ করলাম। অন্ধকার চোখে সয়ে গেছে। ফুপুর চেহারা দেখা যাচ্ছে। তাঁকে খুবই সুন্দর লাগছে। মানুষের চেহারার এই এক অদ্ভুত ব্যাপার। সব আলোয় সব মানুষকে একরকম দেখা যায় না। কাউকে দুপুরের খটখটা আলোয় ভালো লাগে। কাউকে ভালো লাগে সকালে, আবার কাউকে আধো আলো আধো অন্ধকারে।

    বাবলু!

    বল শুনছি।

    তোকে পা দোলাতে নিষেধ করেছি, তুই তো দুলিয়েই যাচ্ছিস।

    ফুপু আমি পা দোলাচ্ছি না।

    ড্রয়ার খুলে দেখ টাকা আছে, একশ টাকার একটা নোট নিয়ে যা। আমার জন্যে এক প্যাকেট সিগারেট আনবি।

    তুমি সিগারেট খাও?

    হঠাৎ হঠাৎ খাই। আমাদের অভিনয়ের লাইনে অনেকেই খায়। চন্দনা বলে যে মেয়েটা আছে, মডেলিং করে, সে তো চেইন স্মোকার। চন্দনাকে চিনেছিস?

    না।

    চকলেটের অ্যাড করেছে। সুন্দর অ্যাড। বয়স কত শুনলে চমকে উঠবি–ত্রিশ। সে অবশ্যি মুখে বলে আঠারো। মেকাপ ছাড়া চন্দনাকে দেখলে তোর ইচ্ছা করবে গালে থাপ্পড় মারতে। গিরগিটির শরীরের মতো উচা-নিচা চামড়া। বিরাট বিরাট গর্ত। পেনকেক দিয়ে গর্ত ভরাট করতে হয়।

    পেনকেকটা কী?

    পেনকেক কী তোকে বলতে পারব না। সিগারেট আনতে বলছি আন। মালবরো লাইট আনবি।

    এইটা কি তোমার ব্র্যান্ড?

    আমার কোনো ব্র্যান্ড-ফ্রেন্ড নেই। আমি তো চন্দনার মতো চেইন স্মোকার না যে আমার ব্র্যান্ড লাগবে। যখন যেটা পাই খাই। মালবরোটা ভালো। আমেরিকান সিগারেট। রোস্টেড টোবাকো।

    রোস্টেড টোবাকো কী জিনিস?

    এতকিছু তোকে বলতে পারব না।

    আমি সিগারেট কিনে এনে দেখি ঘরে বাতি জ্বলছে। ফুপুর গায়ে চাদর নেই। তিনি হাত-মুখ ধুয়েছেন। মনে হয় কাপড়ও বদলেছেন। তাকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি বাইরে যাবার জন্যে তৈরি। তাঁর ভাঙা গলাও ঠিক হয়ে গেছে। তিনি সিগারেটের প্যাকটটা হাতে নিতে নিতে বললেন, আমার জন্যে কড়া করে এক কাপ চা নিয়ে আয়। সিগারেট শুধু শুধু খেয়ে আরাম পাওয়া যায় না। চায়ের সঙ্গে খেতে হয় কিংবা ড্রিংকসের সঙ্গে।

    তুমি ড্রিংকসের সঙ্গে কখনো খেয়েছ?

    দুএকবার পাল্লায় পড়ে খেয়েছি। জিন এন্ড লাইম। এক ধরনের ককটেল। জিন সামান্যই থাকে।

    খেতে কেমন?

    শরবতের মতো একটু তিতা ভাব আছে। তোর কি খেতে ইচ্ছা করছে না

    হুঁ।

    খবরদার! এইসব জিনিসের ধারে কাছে যাবি না। তুই গাধা আছিস গাধাই থাকবি। ঘোড়া হতে যাবি না।

    ফুপু, গাধা নিয়ে একটা জোক আছে। তোমাকে বলি? খুবই মজার।

    ফুপু চোখ সরু করে তাকিয়ে আছেন। জোক শোনার ব্যাপারে তাঁর ভালোই আগ্রহ আছে। তবে বেশিরভাগ জোকই তিনি ধরতে পারেন না। সবাই যখন হাসে তখন তিনি করুণ মুখ করে সবার দিকে তাকান। মাঝে মাঝে বাধ্য হয়ে হাসেন। হাসার পর তার মুখ আরো করুণ হয়ে যায়।

    আমি জোক শুরু করলাম— ফুপু শোন। একবার এক ছেলে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে মাকে বলছে, মা, আজ আমাদের স্কুল টিচার আমার খুব প্রশংসা করেছেন। ছেলের মা বললেন, উনি কী বলেছেন? ছেলে বলল, স্যার আমাদের সবার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা সবাই গাধা। তারপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আর এই রটা সবচে বড় গাধা!

    ফুপু হাসতে শুরু করেছেন। তার হাসি বিখ্যাত। বেশিরভাগ সময়ই হাসতে হাসতে তাঁর হেঁচকি উঠে যায়। তিনি বিষম খান। একবার তো খাট থেকে মাটিতে পড়ে ভালো ব্যথাও পেয়েছিলেন।

    ফুপু হাসছেন। তার হাসির মিটারের কাঁটা লাফিয়ে লাফিয়ে উপরের দিকে উঠছে। আমি তাঁকে হাসন্ত অবস্থায় রেখে তার জন্যে চা আনতে গেলাম। আমি নিশ্চিত ফিরে এসে দেখব তার হাসি তখনো বন্ধ হয় নি। হাসির সঙ্গে হেঁচকি যুক্ত হয়েছে।

    সে রকম দেখা গেল না। ফুপু আগের অবস্থায় ফিরে গেছেন। বসে আছেন খাটে। গায়ে চাদর। ঘরের বাতি নিভিয়ে দিয়েছেন। তবে বাথরুমের বাতি জ্বলছে। বাথরুমের দরজা সামান্য খোলা বলে বাথরুমের আলো এসেছে। ঘর সিগারেটের ধোঁয়ায় ভর্তি। চা বানিয়ে আনার অতি অল্প সময়ে তিনি কয়েকটা সিগারেট খেয়ে ফেলেছেন বলে আমার ধারণা। ফুপু চায়ের কাপ হাতে নিতে নিতে বললেন, চন্দনা মেয়েটা কী যে বিপদে পড়েছে! মেয়েটার ভালো বিয়ে ঠিক হয়েছিল। ছেলে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। ইউরোপিয়ানদের মতো চেহারা। লম্বা, ফর্সা, খাড়া নাক। একদিন চন্দনার সঙ্গে শুটিং-এ এসেছিল দেখেছি। সেই বিয়ে বাতিল।

    কেন?

    চন্দনার একটা বাজে ভিডিও বাজারে রিলিজ হয়েছে।

    তার মানে কী?

    ফুপু হাতের সিগারেট ফেলে দিয়ে নতুন সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললেন, চন্দনা একজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা করেছিল সেই ভিডিও গোপনে করা হয়েছে। তারপর ছেড়ে দিয়েছে ইন্টারনেটে। সেখান থেকে নিয়ে ভিডিও কোম্পানি সিডি বের করে বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। সিডির নাম নাইট কুইন চন্দনা। তবে কভারে তারা চন্দনার একটা নরম্যাল ছবি দিয়েছে। শাড়ি পরা ছবি। এই ছবি দেখলে বোঝাই যাবে না ভেতরে কী আছে।

    আমার ক্ষীণ সন্দেহ হলো এরকম একটা সিডি ফুপুকে নিয়েও বের হয়েছে। তাঁর নিঘুম রাত কাটানো, ঘুমের ওষুধ কিনতে চাওয়ার পেছনে আর কোনো কারণ থাকার কথা না। আমি সাহস করে বলে ফেললাম, ফুপু, তোমারও কি সিডি বের হয়েছে?

    ফুপু কঠিন চোখে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভাঙা গলায় বললেন, তোকে কে বলেছে? জহির?

    আমি বললাম, আমাকে কেউ বলে নি। আমি অনুমান করেছি। লিলুয়া বাতাস-৬

    থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেব, আমার সঙ্গে মিথ্যা কথা? অবশ্যই তোকে জহির বলেছে। সে না বললে তুই জানবি কীভাবে? জহির ভিডিওর দোকানের মালিক হয়ে বসেছে। আজেবাজে ভিডিও বিক্রি করে পয়সা কামাচ্ছে। ছোটলোক কোথাকার!

    ফুপু হাউমাউ কান্না শুরু করলেন। তার কান্নাও হাসির মতো বিখ্যাত। একবার শুরু হলে থামে না। চলতেই থাকে। তাকে এই অবস্থায় রেখে ঘর থেকে বের হলাম। কিছুক্ষণ ছাদে হাঁটলাম। এই বাড়ির ছাদ বিপজ্জনক ছাদ। রেলিং দেয়া হয় নি। বর্ষায় শ্যাওলা পড়ে ছাদ পিচ্ছিল হয়ে থাকে। এমন একটা পিচ্ছিল ছাদের ধার ঘেঁসে একজনই হাঁটতে পারে, তার নাম জহির। জহির ভাই প্রতি বর্ষায় দুতিনবার এই কাজটা করেন। তাঁর নাকি মজা লাগে।

    ছাদের ঠিক মাঝখানে এগারোটা ফুলের টব আছে। টবগুলির মালিক ফুপু। তার জন্ম এগারো অক্টোবর বলে এগারো তার লাকি সংখ্যা। এইজন্যে ফুলের। টবের সংখ্যা এগারো। ফুপু তাঁর টবগুলির কোনো যত্ন নেন না। সব গাছই কিছুদিনের মধ্যে মরে যায়। তখন আবার কেনা হয়। ফুপু ঠিক করে রেখেছেন তার গায়েহলুদ হবে ছাদে। তাঁর চারদিকে তখন থাকবে এগারোটা ফুলের টব। এগারো সংখ্যাও নাকি অতি রহস্যময়। নিউমারোলজি মতে এগারো হচ্ছে দুই। এক এবং এক যোগ করে দুই। নিউমারোলজি মতে ফুপুর জুডায়িক সাইন লিব্রা। এদিকে জন্মতারিখ হিসেবেও তাঁর জুডায়িক সাইন লিব্রা। এটাও নাকি বিরাট ব্যাপার। ব্রিার পাওয়ার বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেল। এইসব হিসাব নিকাশ মুকুল ভাই করে দিয়েছেন। তিনি শুধু যে বিখ্যাত পরিচালক তা-না, তিনি আবার পামিস্ট্রি নিউমারোজি, এসট্রলজি এইসবও জানেন।

    ফুপু মুকুল ভাইয়ের আদিভৌতিক ক্ষমতায়ও মুগ্ধ। তার প্রসঙ্গ উঠলে ফুপু চোখ বড় বড় করে বলেন— টেলেন্টেড লোক, বুঝলি! হাত দেখে এমন হড়হড় করে তোর অতীত বলবে যে তুই টাসকি খেয়ে যাবি। হিপনোসিসও উনি জানেন। তবে করতে চান না। ব্রেইনে চাপ পড়ে তো এইজন্যে। হিপনোসিস করে উনি যে-কোনো মানুষকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘুম পাড়িয়ে দেবেন। অভিনেতা মাহফুজ ভাই অনেক বড় বড় কথা বলেছিলেন, মুকুল ভাই একদিন তার সামনে বসিয়ে কয়েকটা পাস দিলেন। মাহফুজ ভাই মুখ হা করে ঘুমাতে লাগল। অন রেকর্ড আছে। স্টিল ফটোগ্রাফারকে দিয়ে ছবি তোলানো হয়েছে। যাতে মাহফুজ ভাই পরে অস্বীকার করতে না পারেন। অবশ্যি মাহফুজ ভাই ঠিকই অস্বীকার করেছেন। তিনি সবাইকে বলেছেন, আমি আসলে ঘুমাই নি, ঘুমের ভাণ করেছি।

    আমি ছাদ থেকে নামলাম বৃষ্টি শুরু হবার চার-পাঁচ মিনিট পর। এই চারপাঁচ মিনিট আমি ফুপুর সাজানো এগারোটা টবের মাঝখানে বসে রইলাম। মাঝখানটা ফুপু সাদা রঙ দিয়ে বৃত্ত দিয়ে রেখেছেন। তিনি যখন এখানে বসেন তখন না-কি গাছগুলি থেকে একধরনের এনার্জি পান। আমি কোনো এনার্জি পাই নি। এগারো সংখ্যা আমার জন্যে না, হয়তো এ কারণেই। তাছাড়া এগারোটি টবের মধ্যে মাত্র চারটাতে গাছ আছে। বাকিগুলির গাছ মরে গেছে। এটাও একটা কারণ হতে পারে।

    ফুপুর ঘরে আরেক দফা উঁকি দিলাম। আমার প্রধান উদ্দেশ্য ফুপুর কান্না থেমেছে কি-না দেখা, অপ্রধান উদ্দেশ্য টবের গাছগুলি মরে গেছে এই খবর জানানো। চারা কিনতে হলে এখনি কিনতে হবে। বৃক্ষমেলা চলছে। এবারের বৃক্ষমেলার স্লোগান গাছ জীবনের জন্যে।

    বাবলু, দরজা ফাঁক করে উঁকি দিবি না। এইসব আমার পছন্দ না। ঘরে ঢোক।

    আমি ঘরে ঢুকলাম।

    তুই একজনকে একটা চিঠি দিয়ে আসতে পারবি?

    মুকুল ভাইকে?

    কাকে দেব সেটা পরে বলব। তুই পারবি কি-না সেটা বল। যাওয়া আসার রিকশাভাড়া ছাড়াও আলাদা দুশ টাকা পাবি।

    এখন দিতে হবে?

    হ্যাঁ, এখনই দিতে হবে। তুই চিঠি নিয়ে যাবি, যদি দেখিস উনি বাসায় নেই, তাহলে রাস্তায় অপেক্ষা করবি। যত রাতই হোক অপেক্ষা করবি। চিঠি উনার হাতে দিতে হবে। অন্যের হাতে দেয়া যাবে না।

    চিঠি লিখে রেখেছ?

    হ্যাঁ। তোর অন্যের চিঠি খুলে পড়ার অভ্যাস নেই তো?

    আমি জানি নেই। তারপরেও জিজ্ঞেস করলাম। এই চিঠি তুই যদি পড়িস তাহলে রোজ হাশরের দিনে দায়ী থাকবি।

    ফুপু আমার হাতে চিঠি দিলেন। খামের ওপর লেখা পরম শ্রদ্ধাভাজন মুকুল ভাই।

    দুশ টাকা দেয়ার কথা ছিল, আরো একশ দিলাম। ঠিক আছে?

    ঠিক আছে।

    রোজ হাশরে দায়ী থাকার বিষয়টা আমার তেমন ভয়াবহ মনে হলো না। ফুপুর ঘর থেকে বের হয়েই চিঠি খুলে পড়লাম

    মুকুল ভাই,

    আপনি আমার কাছে দেবতা। না না, ভুল বললাম, দেবতার চেয়েও বড়। আপনি আমার সব। আপনি যা বলেছেন আমি তাই করেছি। ভবিষ্যতেও করব। যতদিন বাঁচব ততদিন করব। এখন আমার মহাবিপদ। এখন আপনি বলে দিন, আমি কী করব? আমি কি ঘুমের ওষুধ খাব? নাকি সিলিং ফ্যানে ফাস নিব? আপনি যা বলবেন তাই হবে।

    আমার ওপর তুফান বয়ে যাচ্ছে, আর আপনি শুনলাম হোতাপাড়ায় প্রজাপতির মন নাটকের শুটিং শুরু করেছেন। খবরটা প্রথম বিশ্বাস করি নি। ইতি আপার কাছে টেলিফোন করে নিশ্চিত হয়েছি।

    মুকুল ভাই, আপনার-আমার এই ভিডিওটা কে তুলেছে? আপনি কি বের করতে পেরেছেন? মনে হয় না আপনার সেই চেষ্টা আছে। কারণ ভিডিওতে আপনাকে চেনা যায় না। আপনি বেশির ভাগ সময় আড়ালে ছিলেন, যে কয়বার ক্যামেরার সামনে এসেছেন আপনার মুখ দেখা যায় নি। আর আমি ছিলাম পুরোপুরি ক্যামেরার সামনে। আমাকে সবাই চিনবে। আমার সঙ্গের পুরুষ মানুষটাকে কেউ চিনবে না।

    মুকুল ভাই, আমি কী করব আপনি বলে দিন। প্লিজ প্লিজ প্লিজ! আরেকটা কথা, প্রজাপতির মন নাটকে আপনি আমাকে একটা রোল দিবেন বলেছিলেন। নায়িকার সৎবোন আমার করার কথা ছিল। অথচ সেই রোল এখন ইতি করছে। আমার কপাল এত খারাপ কেন মুকুল ভাই? আমার আরো অনেক আগেই মরে যাওয়া উচিত ছিল। কেন এখনো বেঁচে আছি? হে দয়াময়, তুমি আমার মৃত্যু দাও। মৃত্যু দাও। মৃত্যু দাও।

    ইতি–
    আপনার কাছের এক অভিমানী
    নীলা

     

    চিঠির শেষে অনেকগুলি ক্রস চিহ্ন। সাংকেতিক কোনো ভাষা। কয়েকটা আবার বৃত্ত দিয়ে ঢাকা।

    সময় কাটানোর জন্যে আমি চলে গেলাম দি ইমেজ-এ। রাত করে বার। ফিরতে হবে। ফুপুর কাছে প্রমাণ করতে হবে আমি অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষ। করে মুকুল ভাইয়ের হাতে চিঠি দিয়েছি। লুকিয়ে থাকার জন্যে দি ইমেজ ভালো জায়গা। জহির ভাই জাহাজ ভাঙা ফার্নিচারের দোকান থেকে লোহার একটা বাথটাব কিনেছেন। সেটা এখনো দেখা হয় নি। নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে।

    জহির ভাই জঞ্জাল কিনে বাড়ি ভর্তি করার মানুষ না।

    জহির ভাই বাথটাবেই ছিলেন। আধশোয়া হয়ে বই পড়ছেন। বইটার নাম— The Spiral Staircase। কভারে একটা মেয়ের ছবি। মেয়েটা পার্কের বেঞ্চে বসে বই পড়ছে। ইদানীং জহির ভাইয়ের বই পড়া রোগ হয়েছে। যখনই তার ঘরে যাই দেখি তিনি বই পড়ছেন। তাঁর শোবার ঘর ভর্তি করে ফেলেছেন বই দিয়ে।

    বাথটাবটা দেখে তেমন ভালো কিছু মনে হলো না। বাথটাব হয় লম্বা, এটা গোল ধরনের। নিচে চাকা আছে। তিনটা চাকা। চাকার কারণে এটাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঠেলে নেয়া যায়। এখন বাথটাবটা জহির ভাইয়ের শোবার ঘরে। বিছানার সঙ্গে লাগানো।

    জহির ভাই আমাকে দেখে বললেন, খবর কী রে?

    আমি বললাম, খবর নেই।

    আজ দুপুর থেকে বাথটাবে বসা। মাঝখানে দুবার উঠে শুধু বাথরুমে গিয়েছি।

    বাথটাবে কতক্ষণ থাকবে?

    বুঝতে পারছি না। সারারাত থাকতে পারি, আবার পাঁচ মিনিটের মধ্যে উঠে যেতে পারি।

    জহির ভাই হাতের বই বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে হঠাৎ গম্ভীর গলায় বললেন, তোর ফুপুর খবর কী বল তো? সে কি স্বাভাবিক আছে? নাটক করে বেড়াচ্ছে?

    মোটামুটি স্বাভাবিক।

    একটা সিগারেট ধরিয়ে আমার হাতে দে। বাথটাবে শুয়ে থাকলে একটাই সমস্যা, ভেজা হাতে সিগারেট ধরানো যায় না।

    আমি সিগারেট ধরিয়ে দিলাম। জহির ভাই সিগারেট টানতে টানতে বললেন, তোর ফুপু বাংলাদেশের সবচে বোকা মহিলা। ঠিক বলেছি কি-না বল!

    ঠিক বলেছ।

    তাকে তুই একটা কথা বলতে পারবি?

    পারব।

    তাকে বলবি যে, তার ব্যাপারটা আমি দেখছি। এর বেশি কিছু বলতে হবে। এইটুকু বললেই বুঝবে।

    আচ্ছা বলব। আজই বলব।

    তোর বাবার খবর কী?

    জানি না। অনেক দিন দেখা হয় না।

    উনার মামলা কোর্টে কবে উঠবে?

    জানি না।

    খোঁজ নিয়ে আমাকে জানাবি। ঐদিন কোর্টে থাকব।

    আচ্ছা।

    আর আমার মার খবর কী?

    ভালোই আছে।

    ভূত-প্রেত এখনো দেখছেন?

    হুঁ। একটা ভূত না-কি তাঁর বুড়া আঙুলে কামড় দিয়ে রক্ত বের করে দিয়েছে!

    জহির ভাই হাসতে শুরু করেছেন। নীলা ফুপুটাইপ হাসা। হেসেই যাচ্ছেন। হাসি থামছে না।

    হাসির শব্দে আকৃষ্ট হয়েই বোধহয় শিয়ালমুত্রা চলে এলেন (তিনি এখন দি ইমেজেই থাকেন)। শিয়ালমুত্রার গায়ে ঘাগরা জাতীয় একটা ঝলমলে পোশাক। তার চেহারায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তনের কারণ মাথার চুল। চুল রঙ করিয়ে সোনালি করা হয়েছে। চোখের পাতাতেও সোনালি রঙ দিয়েছেন। তিনি মুখে যে রঙ-চঙ মেখেছেন তাতে বোধহয় কোনো গণ্ডগোল হয়েছে। মুখের দাঁত আরো ভেসে উঠেছে। এমন চেহারা মুকুল ভাইয়ের চোখে পড়লে কাজ হতো। মুকুল ভাই তাঁকে অবশ্যই রোল দিতেন— নায়িকার ভ্যাম্প মা টাইপ রোল। ভূতের নাটক হলে পেত্নীর রোল।

    শিয়ালমুত্রা জহির ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে খুকিদের মতো গলায় বললেন, তাহলে কিন্তু আমি একটা কাণ্ড ঘটাব। ঘড়ি ধরে দশ মিনিট। এই এখন থেকে শুরু হলো। আমি ঠিক দশ মিনিট পরে টাওয়েল-হাতে আসব।

    জহির ভাই বিছানায় রাখা বই আবার টেনে নিলেন। তিনি দশ মিনিটের মধ্যে উঠবেন কি উঠবেন না এটা বোঝা যাচ্ছে না।

    শিয়ালমুত্রা এবার আমার দিকে তাকিয়ে মধুর গলায় বললেন, খোকা, তুমি একটু আমার সঙ্গে এসো তো! তোমার সঙ্গে কথা আছে। তোমার নাম যেন কী?

    বাবলু।

    বাবলু এসো।

    আমি বাধ্য ছেলের মতো তার পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন ভিডিও কাউন্টারে। ভিডিও কাউন্টারে লোকজন নেই। টিভিতে কী একটা হিন্দি ছবি চলছে। শিয়ালমুত্রা রিমোট কন্ট্রোলে ছবি বন্ধ করলেন। তার গলার স্বর থেকে কোমল ভাব দূর হয়ে গেল। তিনি খসখসে গলায় বললেন, তোমার ফুপু যে একজনের সঙ্গে সেক্স করেছে আর সেই ছবি সিডিতে এসেছে, এইটা জানো?

    আমি বললাম, জানি।

    বাহ্‌বা। বিরাট লায়েক ছেলে তুমি। দেখেছ সেই ছবি?

    না।

    দেখ নাই কেন? আত্মীয়স্বজনের সেক্স দেখতে ভালো লাগে না? অন্যেরটা দেখতে ভালো লাগে? সবসময় এইখানে ঘোরাঘুরি করো কেন? যাও, বাড়িতে যাও। আর যদি কখনো এখানে তোমাকে দেখি থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিব। যাচ্ছ না যে, ব্যাপার কী?

    এখন যেতে পারব না। রাত এগারোটার দিকে যাব।

    তোমার সাহস তো কম না! তুমি এক্ষণ যাবে। এক্ষণ। আমি বললাম এক্ষণ, এক্ষণ।

    শিয়ালমুত্রার হিস্টিরিয়ার মতো হয়ে গেল। শরীর কাঁপতে কাঁপাতে তিনি বলেই যাচ্ছেন— এক্ষণ, এক্ষণ, এক্ষণ। তাঁর বড় বড় নিঃশ্বাস পড়ছে। চোখ লাল। আমি ঘর থেকে বের না হলে এই মহিলা অবশ্যই মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন। আমি বের হয়ে গেলাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরোদনভরা এ বসন্ত – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article শ্যামল ছায়া – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }