Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লীলাবতী – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প283 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৩. ভিটাবাড়িতে লিচুগাছ

    ভিটাবাড়িতে লিচুগাছ লাগানো নিষেধ।

    যে ভিটাতে ফলবান লিচুবৃক্ষ থাকে সেই ভিটা জনশূন্য হয়— এই প্রবাদ আছে। তারপরেও শহরবাড়ির সামনে সিদ্দিকুর রহমান দুটি লিচু গাছ লাগিয়েছেন। দশ বছরেই গাছ দুটি বিশাল আকৃতি নিয়েছে। গত তিন বছর থেকে ফল দিচ্ছে। বৈশাখে গাছ দুটি লাল টকটকে হয়ে যায়। দূর থেকে মনে হয়। গাছে আগুন ধরে গেছে। সিদ্দিকুর রহমান হুকুম দিয়েছেন, গাছের লিচু গাছেই থাকবে। কারোর লিচু খেতে ইচ্ছা হলে সে গাছ থেকে ছিড়ে নিয়ে খাবে।

    গত বছর সিদ্দিকুর রহমান লিচুতলা বঁধিয়ে দিয়েছেন। হঠাৎ হঠাৎ তিনি এখানে এসে বসেন। তাঁর বসার সময়ের কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই বলেই লিচুতলা সবসময় ঝকঝকে রাখা হয়। বাঁধানো অংশে একটা শুকনো পাতাও পড়ে থাকে না।

    মঞ্জু, লিচুতলায় বসে আছেন। তার সামনে জইতরী। দু’জন গভীর মনোযোগে সাপলুড়ু খেলছে। কইতরী বসে আছে মঞ্জুর গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে। সাপলুড়ু খেলা জটিল আকার ধারণ করেছে। দুটি গুটিই পাশাপাশি যাচ্ছে। জইতরী সাপের মুখে পড়ে পিছিয়ে পড়েছিল, কিছুক্ষণ আগে সিঁড়ি পেয়েছে।

    বাজির খেলা হচ্ছে। বাজির পরিমাণ সামান্য না, এক টাকা। জাইতরীর কাছে টাকা নেই। সে বলেছে, সে যদি হারে তবে টাকাটা দেবে ঈদের পরে। ঈদে সে সালামি পায়। সালামির টাকা থেকে দেবে। মঞ্জু। এই শর্তে রাজি আছেন। কইতরী বোনের গুটি চালানো কঠিন চোখে লক্ষ করছে। জাইতরীর নাকি চোরামি করার স্বভাব আছে। চার উঠলে সে পাঁচ চেলে গুটিকে সিড়ির মুখে নিয়ে যায়। কইতরীর কঠিন চোখের সামনে জইতরী এই সুযোগ পাচ্ছে r।।

    দুটি গুটিই এখন নিরানব্বই-এর ঘরে আটকে আছে। এক না উঠলে খেলা জেতা যাবে না। যার আগে উঠবে সে-ই জিতবে। মঞ্জু প্রতিবারই দোয়া-দরুদ পড়ে ফু দিয়ে দান দিচ্ছেন। লাভ হচ্ছে না।

    খেলার এই পর্যায়ে মঞ্জু বললেন, আমি আর টেনশন নিতে পারছি না। একটা কাজ করলে কেমন হয়— এসো লটারি করি। একটা কাগজে তোমার নাম লেখা থাকবে। একটাতে থাকবে আমার নাম। কইতরী কাগজ টানবে। যার নাম উঠবে সে-ই জিতবে। জাইতরী, রাজি আছো?

    জইতরী বলল, হুঁ।

    যাও তাহলে কাগজ-কলম নিয়ে আসো। আমার লটারির ভাগ্য অবশ্যি খুবই ভালো। আমার জিতে যাওয়ার কথা। তার উপর আজ রবিবার।

    রবিবারে কী হয়?

    রবিবার হলো আমার জন্মবার। জন্মবারে মানুষের ভাগ্য থাকে সবচে ভালো। আমি যে জিতব এটা নিয়েও এখন বাজি রাখতে পারি।

    লুড়ুর বাজিতে জইতরী জিতল। মঞ্জুর এমন মনখারাপ হলো যে জইতরীর মনখারাপ হয়ে গেল। এত বড় মানুষ কিন্তু কী ছেলেমানুষ! বাজিতে হেরে কাদো। কাদো মুখ হয়ে গেছে। জাইতরীর ইচ্ছা করছে, এক টাকার নোটটা ফেরত দিয়ে দেয়।

    মঞ্জু বললেন, আরেক দান খেলবে? এইবার দুই টাকা বাজি। তুমি হারলে এখন দিবে এক টাকা, বাকি এক টাকা দিবে। ঈদের দিন।

    ঈদ পর্যন্ত আপনি থাকবেন?

    না থাকলেও ঈদের দিন টাকা নিতে আসব।

    দ্বিতীয় দফায় খেলা শুরু করার আগেই বদু এসে খবর দিল, চাচাজি আপনারে ডাকে। জাইতরী এবং কইতরী দুই বোনের মুখ একসঙ্গে কালো হয়ে গেল। বাবার ভয়ে এরা সবসময় অস্থির হয়ে থাকে।

     

    সিদ্দিকুর রহমান পুকুরঘাটে বসেছিলেন। তার পেছনে লোকমান ছাতা ধরে আছে। আকাশ মেঘলা। ছাতা ধরার প্রয়োজন নেই। এই সত্য লোকমানও জানে। তারপরেও সে ছাতা ধরে আছে। এমনভাবে ধরেছে যেন সত্যি সত্যি রোদ আটকাচ্ছে।

    সিদ্দিকুর রহমান উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন, মঞ্জু, তুমি সোনালু গাছ চেনো?

    মঞ্জু বললেন, জি না।

    চল তোমাকে গাছ দেখায়ে আনি।

    সোনালু গাছ দেখার চেয়ে জইতরী-কইতরীর সঙ্গে লুড়ু খেলতে পারলে মঞ্জুর ভালো লাগত। তার মতে গাছপালা আয়োজন করে দেখার কিছু না। মানুষটা এমন যে মুখের উপর না করা যায় না। মেজাজি মানুষ। ছেলেকে তালাবন্ধ করে রেখে দিয়েছে। কারোর তাতে কিছু যাচ্ছে। আসছে এমনও মনে হচ্ছে না। সবাই এমন ভাব করছে যেন এটা কোনো বিষয়ই না। কারোর কাছে যখন বিষয় না। তখন মঞ্জুর কাছেও বিষয় না। সে এই কারণেই মহানন্দে লুড় খেলে বেড়াচ্ছে।

    সিদ্দিকুর রহমান বললেন, হলুদ রঙের লতানো ফুল হয়। চৈত্রমাসে ফুল ফোটে। তখন মনে হয় হলুদ চুলের কোনো মেয়ে চুল ছেড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমার খুবই পছন্দের গাছ। তোমার কি কোনো পছন্দের গাছ আছে?

    জি না। সব গাছ আমার কাছে একরকম মনে হয়। ডালপালা, পাতা।

    বটগাছও আমার পছন্দ। তবে সব বট না— মহাবট।

    মহাবট কোনটা?

    বটগাছেরও নানান রকমফের আছে। মহাবট দেখার জিনিস। কালিগঞ্জে একটা মহাবট আছে। আমি যখন দেখতে গিয়েছিলাম তখন দেখেছি। একশ আঠারোটা ঝুড়ি

    আপনি বসে বসে ঝুড়ি গুনেছেন?

    বসে বসে গুনি নাই। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গুনেছি। গাছভর্তি হরিয়াল পাখির আস্তানা। হরিয়াল পাখি চেনো?

    জি না।

    হরিয়াল পাখি বটের ফল ছাড়া কিছু খায় না। সব পাখি মাংসাশী, শুধু হরিয়াল নিরামিষ পাখি। এই পাখি ফল ছাড়া কিছু খায় না বলে এর মাংসও অতি স্বাদু। তুমি হরিয়ালের মাংস খেয়েছ?

    জি না।

    আচ্ছা তোমাকে হরিয়ালের মাংস খাবার ব্যবস্থা করব।

    আপনার সোনালু গাছ আর কত দূরে?

    এই তো এসে গেছি।

    মঞ্জু প্রায় বলেই ফেলছিল, এতদূর এসে গাছ দেখে পোষায় না। কথা মুখে আটকে গেল। সোনালু গাছ দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনটা গাছ। গাছের গা ঘেঁসে যাচ্ছে নদীর পানি।

    নদীর নাম ভোমরা। শীতের সময় পানি থাকে না, বর্ষায় পানি হয়, সেই পানি থাকে। ভাদ্র পর্যন্ত।

    মঞ্জু বৃক্ষপ্রেমিক কিংবা প্রকৃতি-প্রেমিক কোনোটাই না, তারপরেও মুখ দিয়ে বের হয়ে গেল— বাহ!

    সিদ্দিকুর রহমান বললেন, জায়গাটা তোমার পছন্দ হয়েছে?

    অবশ্যই। অবশ্যই পছন্দ হয়েছে।

    সিদ্দিকুর রহমান বললেন, আমি বলেছিলাম তোমাকে সামান্য সম্মান করতে চাই, মনে আছে না?

    জি মনে আছে।

    এই জায়গাটা আমার। তিন বিঘার মতো জমি। জমিটা আমি তোমাকে লিখে দিতে চাই। যদি তোমার আপত্তি না থাকে।

    মঞ্জু, হতভম্ব গলায় বললেন, কী বলেন এইসব!

    সিদ্দিকুর রহমান বললেন, আমি এখন চলে যাব। তুমি একা কিছুক্ষণ থাকো। দেখ কেমন লাগে। দুপুর একটার সময় ভোমরা ব্রিজের উপর দিয়ে ট্রেন যাবে। অতি সুন্দর দৃশ্য।

    মঞ্জুর চোখ থেকে হতভম্ব ভাব এখনো দূর হয় নি। সিদ্দিকুর রহমান মানুষটাই বিচিত্র প্রকৃতির— এটা ঠিক আছে। যত বিচিত্ৰই হোক কোনো মানুষই নিতান্ত অপরিচিত একজনকে তিন বিঘা জমি দিয়ে দেয় না।

    সিদ্দিকুর রহমান ডাকলেন, নিরঞ্জন আছ?

    সোনালু গাছের আড়াল থেকে নিরঞ্জন বের হয়ে এলো। ধুতি লুঙ্গির মতো করে পরা খালি গায়ের একজন বয়স্ক মানুষ। মাথার চুল সবই পাকা। সে বের হয়েই হাতজোড় করে আছে।

    নিরঞ্জন!

    জে আজ্ঞে!

    মঞ্জুকে জায়গা দেখাও। সীমানা কোন পর্যন্ত বুঝায়ে বলো।

    জে আজ্ঞে।

    রান্নাবান্না করেছ না?

    নিরঞ্জন হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল। সিদ্দিকুর রহমান বললেন, অতিথি রেখে গেলাম, যত্ন করে খাওয়াবে।

    নিরঞ্জন আবারো হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল। সে এখনো জোড় হাত করে দাঁড়িয়ে আছে। তার দৃষ্টি মাটির দিকে।

    সিদ্দিকুর রহমান নদীর পাড ঘেঁসে হাঁটছেন। তিনি কোথায় যাবেন সেটা লোকমান ধরার চেষ্টা করছে। হয়তো তিনি নদী পার হবেন। নদী পার হবার সাঁকো অনেক দূরে। কোনো কোনো দিন উনার হাঁটতে ভালো লাগে। আজ কি সেরকম একটা দিন? তিনি দ্রুত হাঁটছেন। এত দ্রুত যে লোকমান তাল মিলিয়ে আসতে পারছে না। মাঝে মাঝেই পিছিয়ে পড়ছে।

    লোকমান!

    জি।

    মঞ্জু, মানুষটা কেমন বলো দেখি।

    ভালো।

    কী কারণে ভালো?

    লোকমান জবাব দিতে পারল না। চাচাজি মাঝে-মধ্যেই এমন সব প্রশ্ন করেন যার জবাব দেয়া যায় না। অথচ তিনি জবাব শোনার জন্যে অপেক্ষা করেন।

    কেন ভালো বলতে পারলা না?

    জে না।

    মানুষটার মধ্যে মায়া বেশি। সে জইতরী-কইতরীকে কেমন মায়া করে, দেখো নাই?

    জি দেখেছি।

    পশুপাখির মধ্যে কি মায়া আছে লোকমান?

    জি দেখেছি।

    সামান্য ভুল বলেছ। পশুর মধ্যে মায়া আছে। পাখির মধ্যে নাই। পাখি মায়ার বশ হয় না। পশু হয়। ঠিক বলেছি?

    জি।

    এইখানে একটা কথা কিন্তু আছে লোকমান। মানুষ মায়া দিয়ে পশু বশ করার চেষ্টা করেছে। পাখি বিশের চেষ্টা কখনো করে নাই। কেন করে নাই জানো?

    জে না।

    পশুর কাছ থেকে মানুষ উপকার পায়। পাখির কাছ থেকে পায় না। পাখির কাছ থেকে উপকার পাওয়া গেলে মানুষ পাখি বশ করার চেষ্টা নিত। এখন বুঝেছ?

    জি।

    এখন বলো মঞ্জু নামের লোকটাকে আমি জমি দিতেছি কেন?

    জানি না।

    আমি মায়া দিয়ে লোকটাকে বশ করার চেষ্টা নিতেছি। আমার নিজের মধ্যে কিন্তু মায়া নাই। তারপরেও আমি মায়ার খেলা খেলি। কেন খেলি জানো?

    জি না।

    মায়ার খেলা বড় মজার খেলা এইজন্যে খেলি। আরেকটা মজার খেলা হলো ঘৃণার খেলা। এই খেলাটা আমি আমার ছেলের সঙ্গে খেলতেছি।

    নদী পারাপারের সাঁকো এসে গেছে। সিদ্দিকুর রহমান সাঁকোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। সাঁকো পার হবেন কি হবেন না। এই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তার মাথার উপর চিল উড়াউড়ি করছে। তিনি এখন আগ্রহ নিয়ে চিলের উড়াউড়ি দেখছেন।

    লোকমান!

    জি।

    আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি পাখি বশ করার চেষ্টা নিব। ভালো হবে না?

    জি ভালো হবে।

    গাইড়ার ভিটায় রোজ একবেলা ধান ছিটায়ে দিবা। যেন পাখি এসে ধান খেতে পারে। প্রতিদিন একটা বিশেষ সময়ে আধমণ ধান।

    জি আচ্ছা।

    আজ কি বার?

    বুধবার।

    শুক্রবার থেকে শুরু করব।

    জি আচ্ছা।

    ধান ছিটায়ে দিয়ে চলে আসবা। কেউ থাকবা না।

    গরু-ছাগল ধান খাইয়া ফেলবে।

    কাঁটাতারের বেড়া থাকবে। গরু-ছাগল ঢুকবে না।

    জি আচ্ছা।

    চল গাইড়ার ভিটার দিকে যাই।

    সিদ্দিকুর রহমান হাঁটতে শুরু করেছেন। লোকমান চিন্তিত বোধ করছে। গাইড়ার ভিটার মতো এত বড় এলাকায় কাটাতার দিয়ে বেড়া দেয়া অতি কঠিন কাজ। এক-দুই দিনের কাজ না। কাঁটাতার আনতে ময়মনসিংহ যেতে হবে। খুঁটি পুততে হবে। বিরাট ঝামেলা।

    গাইড়ার ভিটায় এসে লোকমান ধাক্কার মতো খেল। অনেক লোকজন সেখানে খুঁটি পোতার কাজ করছে। কাটাতার লাগাচ্ছে। সিদ্দিকুর রহমানকে দেখে হেড মিস্ত্রি রশিদ এগিয়ে এলো। সিদ্দিকুর রহমান বললেন, শুক্রবারের মধ্যে কাজ শেষ হবে না?

    রশিদ বলল, অবশ্যই।

    লোকমানের মনটা খারাপ হয়েছে। বেশ খারাপ। এমন বিশাল কর্মকাণ্ড অথচ সে কিছুই জানে না।

     

    মঞ্জু দুপুরে খুব আরাম করে খেয়েছেন। সবই নিরামিষ— বেগুন, ভাজি, শাক, আলু ভর্তা, ডাল। প্রতিটি খাবারই অতি সুস্বাদু। মঞ্জু বললেন, নিরঞ্জন ভাই, আপনি কি দ্ৰৌপদী বলে কারোর নাম শুনেছেন?

    নিরঞ্জন না-সূচক মাথা নাড়ল।

    মঞ্জু বললেন, দ্ৰৌপদী ছিল এই পৃথিবীর সেরা রাধুনি। আপনার রান্না খেয়ে বুঝেছি সে আপনার দাসী হবার যোগ্যও না। বুঝেছেন আমার কথা?

    হুঁ।

    আপনি আমার কথা কিছুই বুঝেন নাই। যাই হোক, না বুঝলে নাই। আপনার কাছে আমি রান্না শিখব। বুঝেছেন?

    হুঁ।

    প্রতিদিন আমি আসব। একটা করে আইটেম আমাকে শিখাবেন। পারবেন না?

    হুঁ।

    প্রথম শিখাবেন আলুভর্তা। এইটাই মনে হয় সবচে সোজা। সোজাটা দিয়েই শুরু হোক। ঠিক আছে?

    হুঁ।

    আপনার কাছে সব রান্না শিখে আমি একটা ভাতের হোটেল দিব। হোটেলের নাম দিব।— নিরঞ্জনের ভাতের হোটেল। ঠিক আছে?

    হুঁ।

    আপনি কি মাছ-মাংস রাঁধতে পারেন?

    পারি।

    কাল মাছ খাওয়াবেন। পারবেন না?

    হুঁ।

    কাল আমি দুজন অতিথি নিয়ে আসব। জাইতরী কইতরী। ঠিক আছে?

    হুঁ।

    সকালবেলা এই দুইজনকে নিয়ে চলে আসব, সন্ধ্যাবেলা যাব। নদীর পাড়ে বসে লুড়ু খেলিব। জাইতরী-কইতরী এই দুইজনকে চিনেন?

    না।

    সিদ্দিক সাহেবের দুই মেয়ে। এমন লক্ষ্মী মেয়ে আমি আমার জীবনে দেখি নাই। দেখব বলেও মনে হয় না। আর না দেখাই ভালো। ভালো জিনিস কম দেখতে হয়। ভালো জিনিস বেশি দেখলে ভালোর মান থাকে না।

    নিরঞ্জন বলল, হুঁ।

    মঞ্জু বললেন, আপনি হুঁ ছাড়া আর কিছু বলতে পারেন?

    নিরঞ্জন জবাব দিল না। মঞ্জু বলল, করেন কী আপনি? এইখানে একা থাকেন?

    হুঁ।

    বউ ছেলেমেয়ে নাই?

    আছে।

    তাহলে একা থাকেন কেন?

    নিরঞ্জন ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বলল, আমি পতিত হইছি, আমার জাইত গেছে। আমারে সমাজ থাইক্যা বাইর কইরা দিছে। এইজন্যে একলা থাকি। বড় সােব আমারে পালে।

    পতিত হয়েছেন কেন?

    বড় সাহেবের জন্যে একদিন গো-মাংস রান্না করছিলাম, এইজন্যে পতিত হইছি।

    বলেন কী? শুধু রান্না করার জন্যে সমাজ থেকে বের করে দিয়েছে! খেয়ে দেখেন নি!

    আমি নিরামিষ ছাড়া কিছু খাই না।

    মঞ্জুর মন মায়ায় ভরে গেল। আহা বেচারা। তার জন্যে কিছু করা উচিত।

     

    জইতরী। দুপুরে খায় নি। সে খুবই মন খারাপ করেছে। কারণ মঞ্জুমামা লুড়ু খেলা নিয়ে একটা অন্যায় করেছেন। ইচ্ছা করে বাজিতে হেরে জাইতরীকে জিতিয়ে দিয়েছেন। লটারির দুটা কাগজেই জইতরীর নাম লিখেছেন। সে কাগজ দেখে টের পেয়েছে। জাইতরী এভাবে বাজি জিততে চায় নি। জাইতরী ঠিক করেছে, সে আর কোনো দিনই মঞ্জুমামার সঙ্গে কথা বলবে না। বড় পীর সাহেবের কসম— কথা বন্ধ। জাইতরী জানে সবচে কঠিন কসম— বড় পীর সাহেবের কসম। এই কসম ভাঙা মানেই মৃত্যু। কিছুক্ষণ পরই জইতরীর মনে হলো, সে একটা ভুল করে ফেলেছে। বড় ভুল। মঞ্জুমামার সঙ্গে কথা না বলে সে থাকতে পারবে না। তাকে যা করতে হবে তা হলো কসম ভাঙানোর ব্যবস্থা। একেক কসম একেকভাবে ভাঙাতে হয়। শুধু আল্লাহর নামে যে কসম সেটা ভাঙতে কিছু করতে হয় না। আল্লাহপাক কসম ভাঙলে রাগ করেন না। নাপাক অবস্থায় আল্লাহর নাম নেয়া যায়। কিন্তু বড়পীর সাহেবের নাম নেয়া যায় না।

    জইতরী মন খারাপ করে ঘুরছে। পীর সাহেবের নামের কসম ভাঙানোর উপায় বের করতে পারছে না। এইসব জিনিস সবচে ভালো জানেন মা। তাকে আজ কিছু জিজ্ঞেস করা যাবে না। তার মাথা আজ অতিরিক্ত গরম। যখন তার মাথা অতিরিক্ত গরম থাকে তখন তিনি কাউকে চিনতে পারেন না। আজ জইতরী কয়েকবার তাঁর ঘরের সামনে দিয়ে গিয়েছে। তিনি জইতরীকে চিনতে পারেন নি।

    এই বিষয় নিয়ে সে নতুন বউকেও জিজ্ঞেস করতে পারে। পরীবানু নামের এই মেয়েটা নিশ্চয়ই কসম ভাঙার বিষয় জানে। সমস্যা একটাই, নতুন বউয়ের সঙ্গে তার এখনো কোনো কথা হয় নি। জাইতরী আগ বাড়িয়ে কারোর সঙ্গে কথা বলে না। পরীবানুও মনে হয় তার মতো। সেও আগ বাড়িয়ে কথা বলে না। বেশির ভাগ সময় নিজের ঘরে বসে থাকে। ঘরের ভেতর হাঁটাহাঁটি করে। জাইতরী দেখেছে। হাঁটাহাঁটির সময় এই মেয়ে নিজের মনে কথা বলে। বিড়বিড় করে কথা। জইতরীর সঙ্গে এখানেও তার মিল আছে। জাইতরীও নিজের মনে কথা বলে।

    পরীবানু খাটে পা বুলিয়ে বসে ছিল। তার ঘরের দরজা খোলা। খোলা দরজা দিয়ে রোদ এসে পড়েছে পরীবানুর গায়ে। অন্ধকার ঘরে পরীবানুর গায়ে রোদ পড়ার কারণে ঝলমল করছে। বারান্দা থেকে এই দৃশ্য দেখে জইতরীর এতই ভালো লাগল যে সে ঘরে ঢুকে পড়ল। পরীবানু বলল, জাইতরী কিছু বলবে?

    জইতরী বলল, না।

    পরীবানু বলল, তোমার সঙ্গে আমার আলাপ পরিচয় হয় নাই। মন এত খারাপ থাকে, কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। তুমি মনে কিছু নিও না। আসো আমার পাশে বসে। দুইজনে কিছুক্ষণ গল্প করি।

    জইতরী খাটে উঠে বসল। পরীবানু বলল, তোমার মতো সুন্দরী মেয়ে আমি আমার জীবনে দেখি নাই। তুমি যখন শাড়ি পরা ধরবে তখন তোমাকে নিয়া আমি একটা গীত বাধব।

    জইতরী বলল, তুমি গীত বাধতে জানো?

    পরীবানু ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বলল, জানি। গীত বাধতে জানি, গাইতেও জানি। সবেরে অবশ্যি মিথ্যা কইরা বলি আমি কিছু জানি না।

    মিথ্যা বলো কেন?

    নিজেকে আড়ার রাখার জন্যে মিথ্যা বলি। মেয়েছেলেদের নিজেদের আড়াল করার জন্যে অনেক কিছু করতে হয়। তুমি নিজেও করো। করো না?

    জইতরী হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল। পরীবানুকে তার সামান্য পছন্দ হতে শুরু করেছে। জাইতরী বলল, আমি বড় পীর সাহেবের নামে কসম কাটছি! এখন কসম ভাঙব। আমার কী করা লাগবে তুমি জানো?

    জানি।

    জানলে বলে।

    বড়পীর সাহেবের উপরে যিনি তাঁর নামে কসম ভাঙতে হবে। বড়পীর সাহেবের উপরে আছেন আমাদের নবী-এ করিম। তার নামে কসম ভাঙবা। কী নিয়া কসম কাটছিলা?

    জইতরী কসমের ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করল। ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লক্ষ করল, কথা বলতে তার ভালো লাগছে। শুধু যে ভালো লাগছে তা না, যতই কথা বলছে পরীবানু মেয়েটাকে তার ততই ভালো লাগছে। পরীবানু বলল, তুমি কি মঞ্জু নামের মানুষটারে খুব ভালো পাও?

    হুঁ। খুব বেশি ভালো পাও?

    হুঁ।

    তোমারে একটা উপদেশ দেই, মন দিয়া শোনো। নিকট আত্মীয়ের বাইরে কোনো পুরুষমানুষরে মেয়েদের বেশি ভালো পাওয়া উচিত না।

    জইতরী বলল, উচিত না কেন?

    মেয়েছেলের মন অন্যরকম। মেয়েছেলে সবসময় ভালো যারে পায় তারে নিয়া সংসার করতে চায়। তুমি যখন আরেকটু বড় হইবা তখন বুঝবা। এখন বুঝবা না। তুমি বড়পীর সাহেবের নামে কসম কাটছ, মঞ্জু নামের মানুষটার সাথে কথা বলবা না। কসম না ভাঙাই ভালো। কসম ভাঙাইবা না।

    পরীবানু পা দোলাচ্ছে। তার আচার-আচরণ স্বাভাবিক। সে কথা বলার সময় জাইতরীর দিকে তাকাচ্ছেও না। কথা বলছে সহজ-স্বাভাবিক গলায়। অথচ এমনভাবে কথা বলছে যেন সে সবই জানে।

    জইতরী।

    হুঁ।

    আমার কথায় তুমি কিছু মনে নিও না। আমার মন মিজাজ ভালো না। কখন কী বলি তার নাই ঠিক।

    পরীবানু চোখ মুছল। সহজ-স্বাভাবিকভাবে যে মেয়ে কথা বলছিল মুহুর্তেই তার চোখে পানি। জাইতরী অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। পরীবানু চোখ মুছে হোসে ফেলে বলল—

    ক্ষণেকে চোখে পানি ক্ষণেকে হাসি
    সেই কন্যা হয় রাক্ষস রাশি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅনিল বাগচির একদিন – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article শঙ্খনীল কারাগার – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }