Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লীলাবতী – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প283 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. আমার নাম আনিস

    আমার নাম আনিস। আনিসুর রহমান।

    এই অঞ্চলে আমার অনেকগুলি নাম আছে— কুঁজা মাস্টার, গুঁজা মাস্টার। কুঁজা হয়ে হাঁটি এইজন্যে কুঁজা মাস্টার। কলেজের প্রিন্সিপ্যাল গণি সাহেব আমাকে ডাকেন ভোঁতা-মাস্টার। সবসময় মুখ ভোঁতা করে রাখি বলে এই নাম। হ্যাঁ, আমি সবসময় মুখ ভোঁতা করে রাখি। মাঝে মাঝে মুখ ভোঁতা করে রেললাইনে বসে ভাবি— একটা ট্রেন এসে গায়ের উপর দিয়ে চলে গেলে কেমন হয়?

    রেলগাড়ি ঝমাঝম
    ভোঁতা মাস্টার আলুর দাম।

    না হয় নাই, ছড়াটা আরো লম্বা–

    আইকম বাইকম তাড়াতাড়ি
    ভোঁতা মাস্টার শ্বশুরবাড়ি
    রেলগাড়ি ঝমাঝম
    ভোঁতা মাস্টার আলুর দাম।

    আলুর দাম হওয়া খারাপ কিছু না। সব সমস্যার সমাধান। আমার সমস্যা ভালো লাগে না, এইজন্যেই আমি সমস্যার ভিতর থাকি। যে যার নিন্দে, তার দুয়ারে বসে কান্দে। যে যা পছন্দ করে না তাকে তার মধ্যে থাকতে হয়। যেসব মানুষ আমি পছন্দ করি না— তারা থাকে আমার আশেপাশে। যেমন সিদ্দিকুর রহমান।

    সিদ্দিকুর রহমান সাহেবকে আমি পছন্দ করি না। কেন করি না। আমি জানি না। নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। কারণটা আমার কাছে পরিষ্কার না। একটা কারণ হতে পারে মানুষটা ক্ষমতাবান। জমি-জমা, অর্থ-বিত্ত, লোক-লঙ্কর বিরাট রাজত্ব। আর আমি বেতনবিহীন কলেজের হতদরিদ্র ভোঁতা মাস্টার। দস্তয়োভস্কির উপন্যাসের চরিত্র। আমার নুন নাই পান্তাও নাই। তবে নুন পান্তা যে কাঁচামরিচ দিয়ে ডলে খেতে হয় সেই কাঁচামরিচটা আছে।

    রেললাইনের উপর বসে আমি প্রায়ই ভাবি–একজন মানুষ যার নাম সিদ্দিকুর রহমান, সে দস্তয়োভস্কির নামও শুনে নাই। কিন্তু সে নিজে দস্তয়োভস্কির এক চরিত্র এবং সে এরকম আরো চরিত্র পুষছে। আমি আনিসুর রহমান সেরকম একটি চরিত্র। ভোঁতা মাস্টার, কুঁজা মাস্টার, গুঁজা মাস্টার। নাম নেই মানুষ। নাম থাকে না পশুদের। তাহলে আমি কি পশু গোত্রের কেউ? কিংবা ক্ৰমে ক্রমে পশু হয়ে যাচ্ছি?

    গত সন্ধ্যাবেলায় আমি রেললাইনের উপর বসেছিলাম। হঠাৎ ভূতের মতো পেছন থেকে উদয় হলেন সিদ্দিকুর রহমান। তাঁর সঙ্গে আমার কিছু কথাবার্তা হলো। আমার কথাবার্তা বলার বিন্দুমাত্র ইচ্ছাও ছিল না। উপায় কী? অতি ক্ষমতাধর সামন্ত প্ৰভু প্রশ্ন করলে তাঁর ক্রীতদাসদের জবাব দিতে হয়। হ্যা আমি ক্রীতদাস। অবশ্যই ক্রীতদাস। তিনবেলা অন্নদান করে তিনি আমাকে কিনে নিয়েছেন। আমি তার অন্নদাস।

    সিদ্দিকুর রহমান প্রশ্ন করলেন, সন্ধ্যাবেলা রেললাইনের উপর বসে আছ কেন?

    আমি অতি বিনীত ভঙ্গিতে বললাম, স্যার, আপনাকে আরেকদিন বলব।

    এই লোক আর চাপাচাপি করল না। চাপাচাপি করলে কিছু একটা বানিয়ে বলে দিতাম। যদিও আমার বলার ইচ্ছা ছিল–আমি রেললাইনে বসে থাকলে তোর কী? রেললাইন তোর তালুকের উপর দিয়ে যায় নাই। সরকারি রেললাইন। ইচ্ছা হলে আমি বসে থাকব। ইচ্ছা হলে শুয়ে ঘুমাব। আমার উপর দিয়ে মালগাড়ি চলে যাবে।

    হ্যাঁ, তুই তুই করেই বলতাম। সব মানুষ সমান। মেধায় বুদ্ধিতে একজন বড় একজন ছোট। অথচ আমরা মানুষ বিচার করার সময় তার মেধাবুদ্ধি দেখি না। আমরা দেখি মানুষটার টাকা পয়সা আছে কি-না। উদাহরণ দিয়ে বুঝাই? এই অঞ্চলের জামে মসজিদের ইমাম সাহেবের নাম আব্দুল নুর— নূরের চাকর। এই নূরের চাকরের সঙ্গে গত শনিবার আমার দেখা। আমি উনাকে দেখে মাথা নিচু করে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি (এটা আমার স্বভাব।— আমি সবসময় চেষ্টা করি। সবাইকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে। বেশির ভাগ সময় সম্ভব হয় না।) উনি বললেন, মাস্টার সাহেব, আসসালামু আলায়কুম।

    আমি থমকে দাঁড়িয়ে বললাম, ওয়ালাইকুম সালাম।

    উনি গলা তীক্ষ্ণ করে বললেন, একজন মুসলমানের সঙ্গে আরেকজন মুসলমানের যখন দেখা হয় তখন সালাম দিতে হয়। এটা ইসলাম ধর্মের শিক্ষা।

    আমি বললাম, জি জি।

    উনি বললেন, যে বয়োকনিষ্ঠ সে আগে সালাম দিবে। এটাই ধর্মীয় বিধান। আপনি আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। কিন্তু আপনি সালাম দেন না। এর কারণটা কী? জুমার দিন। আপনি জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন না, এর কারণ কী?

    আমি বললাম, আমি আপনার মতো ভালো মুসলমান না, আমি খারাপ মুসলমান। এইজন্যেই যাই না।

    পাঞ্চেগানা নামাজ পড়েন না?

    জি-না।

    আল্লা-খোদা বিশ্বাস করেন? না-কি তাও করেন না?

    আমি জবাব দিলাম না। জবাব দিতে পারতাম। বলতে পারতাম, জি-না আমি আল্লাহ খোদা, ভগবান, জেসাস ক্রাইস্ট, গড কিছুই বিশ্বাস করি না। আমাকে মালেকভাই বলেছিলেন, শুধু নিজেকে বিশ্বাস করবি আর কিছুই বিশ্বাস করবি না। আমি কুঁজা মাস্টার আরো কুঁজা হয়ে গেলাম। মওলানা আব্দুল নূর কঠিন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর খড়খড়ে গলায় বললেন, চিন্তা করে জবাব দেন।

    যে প্রশ্নগুলি এই মওলানা আমাকে করেছেন সেই প্রশ্ন তিনি কিন্তু সিদ্দিকুর রহমান সাহেবকে করবেন না। কারণ সিদ্দিকুর রহমান সাহেবের হিসাব আলাদা। উনি প্রতিবছর গ্রামের একজন মানুষকে নিজ খরচে হজে পাঠান। মওলানা সাহেবকেও একদিন পাঠাবেন। আব্দুল নূর সেই অপেক্ষায় আছেন। মওলানা সাহেবের মাসিক একশত টাকা বেতনও তিনি দেন। সারা বৎসরের খোরাকির চাল দেন।

    মওলানা আব্দুল নূর এখনো আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। যেন আমার প্রশ্নের জবাব না। শুনে তিনি যাবেন না। আমি বললাম, মওলানা সাহেব, আপনার বয়স সিদ্দিকুর রহমান সাহেবের চেয়ে অনেক বেশি। ধর্মীয় নিয়মে পথেঘাটে দেখা হলে উনারই উচিত আপনাকে সালাম দেয়া। উনি তা করেন না। আগবাড়িয়ে সবসময় আপনি সালাম দেন। এর কারণ কী? উনি তো প্রায়ই জুম্মার নামাজেও যান না। এই প্রসঙ্গে কি আপনি তাঁকে কিছু বলেছেন?

    একটু আগে মওলানা সাহেব আমার জবাবের অপেক্ষা করেছেন। এখন আমি তার জবাবের অপেক্ষা করছি। ফলাফল কেউ কারো প্রশ্নের জবাব দিলাম না। দুজনই মাথা নিচু করে দুদিকে চলে গেলাম।

    আমি অভাজন ব্যক্তি। আমার ফটফট করে কথা বলা উচিত না। আমি বলিও না। মুখ বুজে থাকি। মাঝে মাঝে মেজাজ খারাপ হয় তখন বলি। সমস্যা হলো আমার সারাক্ষণই মেজাজ খারাপ থাকে। তখন ইচ্ছা করে আশেপাশে যারা থাকে তাদের সবার মেজাজ খারাপ করে দেই। আমার মেজাজে কারো কিছু যায় আসে না। কেউ খেয়ালও করে না। শুধু সিদ্দিকুর রহমান সাহেবের দুই মেয়ে খেয়াল করে। তারা আমার ভয়ে অস্থির হয়ে থাকে।

    দুই মেয়ের একজনের নাম কইতরী, আরেকজন জইতরী। কইতর হলো কবুতর। কবুতর থেকে কইতরী। তাহলে জাইতরীটা কী? জইতর বলে কোনো পাখি কি আছে? যে পাখির নাম থেকে এসেছে জাইতরী? না-কি নামের সঙ্গে মিল রেখে নাম? সিদ্দিকুর রহমান সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো জবাব দিতে পারবেন না। গ্রামের মানুষদের চিন্তাভাবনা জমি-জমার বাইরে যায় না। তিনি তার বড়মেয়ের নাম রেখেছেন। লীলাবতী। এই নামের অর্থ কি তিনি জানেন? যে লীলা করে বেড়ায় সে-ই লীলাবতী। লীলা অর্থ কেলি, প্রমোদ। অর্থ ঠিকমতো জানলে সিদ্দিকুর রহমান মেয়ের নাম লীলাবতী রাখতেন না।

    লীলার কথা থাক। কইতরী জইতরীর কথা বলি। এই দুই কন্যাকে আমি প্রতি সন্ধ্যায় পড়াই। ওরা মাথা দুলিয়ে পড়ে, আমি তাদের সামনে মূর্তির মতো বসে থাকি। আমার বাম-হাতে থাকে একটা বেত। (বেতটা বাঁ-হাতে থাকার কথা না, ডান-হাতে থাকার কথা; কিন্তু আমি লেফটহ্যান্ডার। মালেক ভাইও লেফটহ্যান্ডার।) মেয়ে দুটি ভীত চোখে কখনো আমার দিকে তাকায় আবার কখনো বেতের দিকে তাকায়। কখন আমার হাতের বেত তাদের উপর নেমে আসবে তা তারা যেমন জানে না, আমিও জানি না। যে-কোনো কারণে আমার মেজাজ খারাপ হলে তার ফল ভোগ করে মেয়ে দুটি। তারা নিঃশব্দে কাদে। আমার ভালো লাগে। কাদুকা। সবাই কাঁদুক।

    মেয়ে দুটির বয়স কত— এগার বারো, না-কি আরো কম? আমি জানি না, আমার জানতে ইচ্ছাও করে না। এদের গায়ে বেতের বাড়ি দেয়া নিতান্তই অনুচিত কাজ। আমি এই অনুচিত কাজটা করি। তাতে পরে যে আমার অনুশোচনা হয়, তা না। মেয়ে দুটি ভালো। তাদের উপর যে শারীরিক নির্যাতন হয়। সেই খবর তারা গোপন করে রাখে, কাউকে বলে না।

    আমিও ভালো। আমার উপর যে মানসিক নির্যাতন চলে আমিও সেটা গোপন করে রাখি। রাস্তায় কেউ যখন জিজ্ঞেস করে— কুঁজা মাস্টার! যান কই? আমি ভদ্রভাবেই প্রশ্নের জবাব দেই। কখনো বলি না, কুঁজা না ডাকলে হয় না? ডাকুক। যার যা ইচ্ছা। আমি তো লোকালয়ে বাস করি না। আমি সভ্যসমাজের বাইরের এক ভূখণ্ডে বাস করি। যেখানে খবরের কাগজ আসে না। এইটুকু জানি, দেশের গভর্নর মোনায়েম খাঁ। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমউদ্দিন। পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন। যা জেনে এই অঞ্চলে এসেছিলাম তার বাইরে কিছু জানি না।

    আমার জানার উপায়ও নেই। আমি ভাটি অঞ্চলের এক গর্তে ঢুকে গেছি। এই গর্ত থেকে বের হবার কোনো উপায় আমার নেই। অথচ এই আমি একসময় আন্দোলন করেছি। আহারে কী উত্তেজনার দিন! মধ্যরাতে দেওয়ালে চিকা মারা! চা খেতে খেতে গোপন মিটিং। বিপ্লব আনার মিটিং। বিপ্লব আনার রাস্তা করতে হবে। কারণ বিপ্লব খানাখন্দ দিয়ে আসে না, তাকে তোয়াজ করে আনতে হয়। তার জন্যে প্রশস্ত সড়ক দরকার।

    সড়ক বানানোর কলাকৌশল জানতে একবার গেলাম ম্যালেক ভাই-এর কাছে। রোগা একজন মানুষ। চাঁদর দিয়ে সারা শরীর ঢাকা। ছোট গোল একটা মুখ চাঁদরের ভিতর থেকে বের হয়ে এসেছে। খাড়া নাক। তীক্ষ্ণ চোখ। মালেক ভাই বললেন, আল্লাহ বিশ্বাস করো?

    আমি বললাম, জি করি।

    তিনি বললেন, আল্লাহ যেসব মানুষকে সমান বানিয়েছেন এটা বিশ্বাস করো।

    আমি বললাম, জি করি।

    নাম কী?

    আনিস।

    শোনো আনিস, আল্লাহ সব মানুষকে সমান বানান নাই। কাউকে রূপবান বানিয়েছেন, কাউকে অন্ধ করে পাঠিয়েছেন। কাউকে বানিয়েছেন রাজা, কাউকে ক্রীতদাস। বুঝতে পেরেছ?

    চেষ্টা করছি।

    ভালোমতো চেষ্টা করো। যেদিন মাথা থেকে আল্লাহ খোদা ভগবান এইসব দূর করতে পারবে সেইদিন আমার কাছে আসবে। আমি তোমাকে পার্টির সদস্য করে নেব। তোমার মতো নির্বোধি পার্টির প্রয়োজন আছে।

    এখন কি চলে যাব?

    হ্যাঁ, চলে যাবে। তোমার সঙ্গে খেজুরে আলাপ করার সময় আমার নাই।

    একটা বই দিচ্ছি, বইয়ের একটা গল্পের নাম— ‘White nights’, লেখকের নাম দস্তয়োভস্কি। পরেরবার যখন আসবে গল্পটা পড়ে আসবে।

    পরেরবার যখন গেলাম। তিনি বললেন, গল্পটা পড়েছ?

    আমি বললাম, জি।

    চোখের পানি ফেলেছ?

    আমি হ্যা-সূচক মাথা নাড়লাম। তিনি হাসতে হাসতে বললেন, কতটুক পানি ফেলেছ? চায়ের কাপে এক কাপ না আধা কাপ?

    মাপি নাই তো!

    এখন থেকে সবকিছু মাপবে, দুঃখ মাপবে। আনন্দ মাপবে। বইটা ফেরত এনেছ?

    জি।

    আরেকটা বই নিয়ে যাও। পড়ে। এই বই পড়ে চোখে পানি আসে না, তবে আসতেও পারে। একেকজন মানুষ একেকরকম।

    আমাকে বই পড়া শিখিয়েছেন মালেক ভাই। চিন্তা করতে শিখিয়েছেন মালেক ভাই। কী উত্তেজনাময় দিনই না গিয়েছে। একদিন আমাদের আস্তানায় পুলিশ এসে উপস্থিত। আমরা আগেই খবর পেয়ে পালিয়ে গেলাম। ধরা পড়লেন মালেক ভাই। উনার পায়ে সমস্যা, উনি দৌড়াতে পারেন না।

    এখন আমার জীবনে কোনো উত্তেজনা নেই। উত্তেজনাহীন জীবনে সুনিদ্রা হবার কথা। আমার রাতে ঘুমাই হয় না। আমি রাত জেগে জেগে দস্তয়োভস্কির উপন্যাস ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট-এর বাংলা অনুবাদ করি।

    It was towards evening on a sweltering day early
    in July that a young man left the Cubicle sublet to
    him S-Lane, went Out into the street and, with
    slow and somewhat irresolute steps, made for
    K-Lane.

    জুলাই মাসের এক বিকেলে…

    অনুবাদ আগায় না। আমার কাছে ইংরেজি ডিকশনারি নেই। অনেক শব্দের মানে আমি জানি না। Sweltering day অর্থ কী? আমার এখন এমনই অবস্থা সামান্য একটা ডিকশনারিও আমি কিনতে পারছি না। অথচ একসময় বড় বড় স্বপ্ন দেখতাম। বিপ্লবের সূতিকাগার মহান রাশিয়ায় যাব। রাশিয়ান ভাষা শিখব। মূল রুশভাষা থেকে অনুবাদ করব দস্তয়োভস্কি। আমার সব স্বপ্ন আমার সঙ্গে গর্তে ঢুকে গেছে। কোনোদিন যদি গর্ত থেকে বের হই। তাহলে কি স্বপ্নগুলি সঙ্গে নিয়ে বের হব, না-কি তারা গর্তেই থেকে যাবে?

    এখন গর্তের ভেতর আমি আর কলেজ লাইব্রেরি থেকে আনা দস্তয়োভস্কির উপন্যাস ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট-এর মলিন একটা কপি। যে কপিটার আঠার, বিশ এবং বাইশ এই তিনটা পৃষ্ঠা পােকায় কাটা। আমি গর্তে বসে এই মহান উপন্যাসের অনুবাদ করি। ডিকশনারির অভাবে অনুবাদ আগায় না। কলেজের প্রিন্সিপ্যাল গনি সাহেবকে লাইব্রেরির জন্যে ডিকশনারি কিনতে বলেছিলাম। উনি হাই তুলতে তুলতে বললেন, ফান্ড নাই। কোনো শব্দের অর্থ জানতে চাইলে আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন। মেট্রিকে আমি ইংরেজিতে সিক্সটি ফোর পেয়েছিলাম। সেই সময় এইটাই ছিল হাইয়েস্ট।

    সিদ্দিকুর রহমান সাহেবকে বললে তিনি নিশ্চয়ই ময়মনসিংহ থেকে ডিকশনারি আনিয়ে দেবেন। কিন্তু আমার বলতে ইচ্ছা করে না। প্রায় মুর্থ মানুষদের সঙ্গে আমার কথা বলতে ইচ্ছা করে না। আমার দল আলাদা। মূর্খদের সঙ্গে কথা বলার মানে সময় নষ্ট। মূর্থের কথা শুনবে আরেক মূর্খ। জ্ঞানীর কথা শুনবে জ্ঞানী। সিদ্দিকুর রহমানের কথা শুনবে সুলেমান-লোকমান। আমার কথা শোনার মানুষ। আপাতত নেই। কোনো একদিন হয়তো হবে। না হলেও ক্ষতি নেই।

    সিদ্দিকুর রহমান মানুষটাকে মূর্খ বলা বোধহয় ঠিক হচ্ছে না। মানুষটার মধ্যে কিছু রহস্যময়তা আছে। তিনি একা একা নদীর পাড়ে হাঁটেন। জঙ্গলে ঢুকে পড়েন। রহস্যময় মানুষ পুরোপুরি মূর্থ হয় না। এই লোকও নিশ্চয়ই মূর্খ না। তারপরেও তার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। কারণ তিনি অন্যের কথা শুনতে পছন্দ করেন না। নিজে কথা বলতে পছন্দ করেন।

    মাঝে মাঝে রাতে খাবার সময় তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে যান। তার সঙ্গে খানা খেতে হবে। তখনই আমি বুঝি আমাকে তিনি কিছু শুনাতে চান। আমি জানি তিনি আমাকে যে গল্প শুনাতে চান সেই গল্পের প্রতি আমার কোনো আকর্ষণ তৈরি হবে না। তারপরেও অতি বিনয়ের সঙ্গে গল্প শুনতে হবে।

    মাস্টার।

    জি।

    পানিতে মানুষের মতো কোনো সম্প্রদায় কি বাস করে?

    আপনার প্রশ্নটা বুঝলাম না। পানিতে যাযাবর সম্প্রদায় বাস করে। নৌকায় নৌকায় ঘুরে।

    আমি বেদের কথা বলছি না। পানির নিচে থাকে। মাঝে মাঝে তাদের দেখা যায়।

    আপনি কি মৎস্যকন্যাদের কথা বলছেন?? রূপকথার বইয়ের মৎস্যকন্যা?

    না, মৎস্যকন্যা না। পানির নিচে বাস করে। মানুষের মতো, অথচ মানুষ না।

    আপনার প্রশ্নটাই বুঝতে পারছি না।

    তাহলে থাক। খানা খাও।

    আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে খানা খেতে বসি। এই লোক থাকুক পানির নিচের অদ্ভুত জিনিস নিয়ে। যে জিনিস অর্ধেক মানুষ অর্ধেক অন্যকিছু। আমার প্রয়োজন পূর্ণমানুষ। অর্ধেক মানুষ না।

    সিদ্দিকুর রহমান নামের মানুষটা যে আমাকে পছন্দ করেন এটা আমি বুঝতে পারি। মানুষের ঘৃণা যেমন বুঝা যায়, ভালোবাসাও বুঝা যায়। মালেক ভাই আমাকে পছন্দ করতেন। তিনি কিছু না বললেও তার পছন্দ বুঝতে পেরেছিলাম। একদিন তিনি আমাকে বললেন, তুই তো বাঁ-হাতি, আমিও বাঁহাতি। ইন্টারেস্টিং তো।

    আমি বললাম, ইন্টারেস্টিং কেন?

    তিনি বললেন, যারা দোজখে যাবে তারা যে সেখানে বা-হাত ব্যবহার করবে, এটা জানিস?

    জানি না তো!

    পড়াশোনা না করলে জানাবি কীভাবে? পড়াশোনা কর।

    মালেকভাই কেন আমাকে পছন্দ করতেন সেটা বের করতে পারি নি। আমি কেন তাঁকে পছন্দ করতাম সেটা বের করেছি। আমি তাঁর কথা শুনে চমৎকৃত হতাম। মানুষকে চমৎকৃত করার কৌশলটা আমি তাঁর কাছ থেকে শিখেছি।

    এই কৌশল আমি সিদ্দিকুর রহমান সাহেবের উপর মাঝে মাঝে প্রয়োগ করি। সিদ্দিকুর রহমান সাহেবের মতো মানুষরা চমৎকৃত হতে পছন্দ করেন। তার চারপাশে চমৎকৃত হবার মতো কিছু নাই। জলমহালের বন্দােবস্তা। ফসল কাটা। ফসল তোলা। জমি কেনা। বাজারের ঘরের বিক্রি-বাটা দেখা। পাটের মৌসুমে পাটের ব্যবসা। গুড়ের মৌসুমে গুড়। ধনী থেকে আরো ধনী হবার মতো বিষয়। চমৎকৃত হবার মতো কিছু না।

    এই লোকের বিশাল বাড়ি। একটা না, কয়েকটা। একেকটার একেক নাম— শহরবাড়ি, বাংলা বাড়ি, মূল বাড়ি। আবার নদীর কাছে একটা বাড়ি

    এখন শুনছি জঙ্গল কিনবে। কয়েকদিন আগে তার সঙ্গে খানা খাচ্ছি। উনি হঠাৎ বললেন, জলপাইগুড়ির জঙ্গল কখনো দেখেছ?

    আমি বললাম, না।

    উনি বললেন, আমি যৌবনে একবার গিয়েছিলাম। দুই রাত দুই দিন ছিলাম। গহীন জঙ্গল। বন্য বরাহ, হাতি, গণ্ডার, নীল গাই। নিজের চোখে দেখেছি। এরকম একটা জঙ্গল কিনতে পারলে আর কোনো আফসোস থাকত না।

    আমি বললাম, জঙ্গল কিনতে চান?

    হুঁ। একা একা জঙ্গলে হাঁটব। গাছপালা, বন্য ফুল, পশুপাখি দেখব। আর চমৎকৃত হব।

    তাঁকে চমৎকৃত করার মতো অনেক কিছুই আমি করতে পারি। কিন্তু আমি করি না। মানুষকে চমকে বেড়ানো আমার কাজ না। সিদ্দিকুর রহমান সাহেবকে চমকে দেবার মতো কথা আমি অনেক বলতে পারি। যেমন আমি বলতে পারিআপনাদের এক পূর্বপুরুষ হামিদুর রহমান বৃটিশ সরকারের কাছ থেকে খান বাহাদুর উপাধি পেয়েছিলেন। কেন পেয়েছিলেন। আপনি কি জানেন? আমি জানি। তিনি চারজন স্বদেশীকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। চারজনের মধ্যে তিনজনই ছিল মুসলমান। এরা পুলিশের ভয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে তাঁর ঢাকায় টিকাটুলি এলাকার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। চারজন স্বদেশীর তিনজনের ফাঁসি হয়ে যায়। একজনের হয় কালাপানি। আর উনার হয় খান বাহাদুর উপাধি। রাজভক্তির পুরস্কার।

    আমি ইতিহাসের ছাত্র। আমি ইতিহাস খুঁজে বেড়াই।

    সিদ্দিকুর রহমান সাহেবের বড় কন্যা লীলাবতী বিষয়েও কিছু কথা বলে আমি তাঁকে চমৎকৃত করতে পারি। লীলাবতী ছিল সপ্তম শতকের বিখ্যাত ভারতীয় গণিতবিদ পণ্ডিত ভাস্করাচার্যের একমাত্র কন্যা। ভাস্করাচার্য গণিত বিষয়ে দুটি বিখ্যাত গ্ৰন্থ রচনা করেন। একটির নাম সিদ্ধান্ত শিরোমণি আর অন্যটির নাম লীলাবতী। তিনি চেয়েছিলেন তার আদরের একমাত্র কন্যার নাম পৃথিবীতে স্থায়ী হয়ে যাক। কন্যার নামে অতি জটিল গণিত বইয়ের নাম আর কোনো গণিতজ্ঞ রাখেন নি।

    কী সুন্দর গল্প! সিদ্দিকুর রহমান এই গল্প শুনলে বিশেষভাবে চমৎকৃত’ হয়ে বলতেন— এই গল্প তোমাকে কে বলেছে?

    তার উত্তরে আমি বলতাম, বই বলেছে। আমি বইপড়া লোক। জঙ্গলের জন্তু-জানোয়ার দেখা লোক না। জন্তু-জানোয়ার দেখে চমৎকৃত হওয়া যায়, কিছু জানা যায় না। ভাস্করাচার্য কেন অঙ্ক বই-এর নাম লীলাবতী রাখলেন সেই গল্পটা আরো ভালোমতো শুনতে চান?

    সিদ্দিকুর রহমান আগ্রহ নিয়ে বলতেন, শুনতে চাই।

    তখন আমি বলতাম, তাহলে আমার সঙ্গে চলুন। সন্ধ্যার পর যখন কুয়াশা ঘন হয়ে পড়বে তখন দুজনে রেললাইনে পা তুলে বসব। দুজনের হাতে থাকবে জ্বলন্ত সিগারেট। সিগারেট টানতে টানতে গল্প করব। রাজি আছেন? কী, কথা বলেন না কেন? রাজি?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅনিল বাগচির একদিন – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article শঙ্খনীল কারাগার – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }