Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লুব্ধক – নবারুণ ভট্টাচার্য

    নবারুণ ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প64 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লুব্ধক – ৪

    ৪

    অলৌকিক ভিক্ষাপাত্রের মতো চাঁদ

    দাঁতে কামড়ে ছুটে যাচ্ছে রাতের কুকুর

    কান গজিয়ে ওঠার পরে কান-গজানো পুরনো থাকার জায়গাটা ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় নোংরা ফেলার বড়ো ভ্যাট-এর আশপাশটা বেছে নিয়েছিল৷ কয়েকদিনের নোংরা জমে ওঠার পরে এখানে বড়ো বড়ো লরি আসে৷ তাতে করে নোংরা ধাপায় চলে যায়৷ জায়গাটা নোংরা বলে বেড়াল, কুকুর ও কাক বাদে খুব একটা কেউ আসে না৷ তবে ডানদিকে হাত বিশেক দূরে একটা ভাঙাচোরা বাতিল পেচ্ছাপখানা আছে যাকে ঘিরে এমন লতা আর কাঁটাগাছের জঙ্গল যে কেউ যেতে পারে না৷ ওই ভাঙা পেচ্ছাপখানার ছাতে অনেকদিন আগে একটা পাগল সাইকেল রিক্সার পর্দার ছেঁড়া পলিথিনে জড়ানো বালিশ রেখে গিয়েছিল৷ কিন্তু আর নিতে আসেনি৷ কোনো কিছুই ফেলা যায় না, কোনো না কোনো কাজে লেগে যায়৷ বাতাসে পলিথিনটা উড়ে গেছে৷ বালিশটা বৃষ্টিতে ভেজে, আবার রোদে শুকিয়েও যায়৷ শুকনো থাকলে ওই বালিশের ওপরে নিরীহ একটা বেড়াল ঘুমোয়৷ কান-গজানোর সঙ্গে তার বিশেষ সদ্ভাব না থাকলেও ঝগড়া অন্তত নেই৷ এক ধরনের মায়াবী শেষ দুপুর আছে যখন নিরীহ বেড়ালেরা ঘুমোয়৷ ঘুম থেকে উঠে বেড়ালটা দুই থাবা ঝুলিয়ে নীচে কী হচ্ছে তা নির্লিপ্তভাবে দেখে৷ সে দেখতে পায় কান-গজানো হয় নোংরা ঘাঁটছে বা কিছু একটা তারিয়ে তারিয়ে খাচ্ছে৷ এখানে অন্য কুকুররাও আসে, তবে সবই ধারে-কাছের৷ তারা আসে, আবার চলেও যায়৷ শুধু কান-গজানো এখানে থেকে যায়, কারণ সে অ্যাসিডে কান গলে যাওয়ার ব্যাপারটা ভোলেনি৷ বরং কোথাও আয়নার মতো জল-টল জমলে বা ঝকমকে গাড়ির গায়ে সে পরে-গজানো কানটা মাঝে মাঝে দেখে নেয়৷ একদিন বিকেলে কাছাকাছি টহলদারি করে ফিরে কান-গজানো দেখতে পেল যে ফেলে যাওয়া একটা থার্মোকলের বাক্সের ওপরে তারই মতো কালো কিন্তু থাবায় নয়, বুকের ওপরে সাদা নদী, একটা কান-ঝোলা বিলিতি কুকুর বসে আছে৷ ওকে দেখেই কান-গজানো দাঁত অল্প খিঁচিয়েছিল, কিন্তু ও বিশেষ পাত্তা দিল না৷ এই কুকুরটা একে তো নেড়ি নয়, তার ওপরে আশপাশের কোনো বাড়িরও নয়৷ হলে কান-গজানো ঠিক জানতে পারত৷ কান-গজানো তাকে বলল,

    – তুই কে?

    – যেই হই তোর মতো নেড়ি নই৷ আর কথা নেই বার্তা নেই, শুরুতেই তুই তোকারি৷ জংলি কি আর এমনি বলে!

    – ঠিক আছে, ঠিক আছে, এটা আমার জায়গা৷ এখানে আস্তানা গাড়া আমি বরদাস্ত করব না৷

    – কী করবি? কামড়াবি? ভয় দেখাবি?

    – না৷

    – তাহলে কী করবি?

    – আমাকে কিছুই করতে হবে না৷ তুই যাদের পোষা তারা ঠিক তোকে ধরে নিয়ে যাবে৷ ঘেঁটি ধরে৷

    – তারাই বড়ো গাড়ি করে ঘুরে ঘুরে আমাকে দিক ভুলিয়ে ছেড়ে দিয়ে গেল, খুঁজে নিয়ে যেতে তাদের ভারি বয়েই গেছে৷

    -মানে?

    – মানেটা বোঝার বুদ্ধি তোর আছে? বুড়ো হয়ে গেছি৷ আগের মতো টরটরে নেই৷ কারণে-অকারণে ঘুম পায়৷ তাই আর রাখবে না৷ ইচ্ছে হলে আমি নিজেই তো ফিরে যেতে পারতাম৷

    – বুঝলাম, কিন্তু এত বড়ো কলকাতাটা থাকতে তুই মরতে আমার এই জায়গাটায় এলি কেন?

    – কেন এলাম সেটা তুই তো বুঝবি৷ এ তল্লাটটা এখনও একটু ফাঁকা ফাঁকা৷ এখনই ওদের নজর এদিকে পড়বে না৷ অবশ্য বলা যায় না –

    -কাদের?

    -কলকাতায় কুকুর ধরা চলছে৷ জানিস না?

    ভাঙা পেচ্ছাপখানার ছাদ থেকে বেড়ালটা বলল, – বেড়ালদেরও ধরছে নাকি?

    -এখনও ধরছে না৷ তবে কুকুরদের পরে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ালদের দিকে নজর পড়বে৷ কথাতেই বলে কুকুর-বেড়াল৷

    -আমার নাম কান-গজানো৷

    -কান-গজানো? ঠিক আছে৷

    -তোর নাম?

    -আমার নাম জিপসি৷

    -কী করছে ওরা কুকুরদের ধরে?

    -পিঁজরাপোলে নিয়ে যাচ্ছে৷

    -তারপর?

    -তারপর আবার কী? না-খাইয়ে শুকিয়ে মারছে৷ উত্তরের দিকে অনেক কুকুর ধরা পড়েছে৷ আমি তো সেখান থেকেই আসছি৷ তবে কাকেরা যে উড়ো খবর ছড়াচ্ছে তা মোটেই ভালো নয়৷

    -যেমন?

    -বলছে পুরনো, জং-ধরা কুকুর-ধরবার গাড়িগুলোকে আবার নাকি রংচং করে, ঝালাই মেরে ফের রেডি করছে৷ গণ্ডায় গণ্ডায় কুকুর ধরার সাঁড়াশি অকেজো অবস্থায় ডাঁই করে রাখা ছিল৷ সেগুলোকে ঝেড়েমুছে ফের তেল-টেল দিয়ে নতুনের মতো করে ফেলা হচ্ছে৷

    -কিন্তু উত্তর থেকে তুমি পালিয়ে কোথায় গেলে?

    -আড়াআড়ি এলে চৌরঙ্গি পড়বে৷ আমি শেয়ালদা দিয়ে রেললাইন ধরে ফেলি৷ রেললাইনের পাথরে পা কেটে গেছে৷ একটু পর পর বড়ো বড়ো রেলগাড়ি যাচ্ছে৷ কিন্তু থামিনি৷ আর এই আমায় দেখছিস তো৷ এরপর দেখবি আরও আসছে৷

    -এটাও কি কাকরা জানিয়েছে?

    -না৷ এটা নিজের চোখে দেখা৷ কানে শোনা৷ এখান থেকে মিনিট কুড়ি দৌড়লে একটা বাজার আছে না?

    -হ্যাঁ৷ ওখানে মাছের কাঁটা আছে৷

    -তা থাকতে পারে৷ ওখানে বাজারের বাইরে তিন-চারটে বড়ো বড়ো চা-বিস্কুটের দোকান আছে?

    -আছে৷

    -ওখানে তিনটে কুকুর বলাবলি করছিল যে, এবারে এদিকটায় সরে আসবে৷ তবে দল বেঁধে নয়৷ একজন একজন করে৷ তাহলে নজরে পড়বে না৷

    -এরকম কি আগে কখনও হয়েছে?

    -হয়েছে কিন্তু এই মাপে নয়৷ গরমকালে কুকুররা একটু তিরিক্ষে হয়ে থাকে৷ খ্যাঁকখ্যাঁকে৷ তখন দু-চারটেকে ধরত৷ এবার কোনো বাছাবাছির বালাই নেই৷ কুকুর হলেই হল৷ পেলেই ক্যাঁক্৷

    -উঃ, সাঁড়াশি? ঘাড় আর গলাটা কেমন শিরশির করে উঠল৷

    -শুধু কি তাই? সাঁড়াশি দিয়ে ধরে হিঁচড়ে হিঁচড়ে খাঁচার গাড়ির কাছে নিয়ে যাবে৷ তারপর ছুঁড়ে গাড়ির ভেতরে৷ এরকম করে করে গাড়িতে যখন আর কুকুর তোলা যাবে না তখন পিঁজরাপোল৷

    ওদের এই কথাবার্তার মধ্যে একটা দমকা হাওয়া এল যাকে আর-একটু রাগিয়ে দিলে ছোটোখাটো একটা ঝড় বলা যেতে পারে৷ ওরা ওপরদিকে তাকাল৷

    বেড়ালটা বলল,

    -কী হচ্ছে৷ কিছু বুঝলে?

    -ঝোড়ো বাতাস বইছে৷

    -ঘেঁচু বইছে৷ বিশতলা, তিরিশতলা ওপর দিয়ে ছায়া-কুকুরেরা দৌড়চ্ছে৷ কেন দৌড়চ্ছে বলতে পারব না৷ তবে জন্ম থেকে শুনে আসছি এরকম হওয়া ভালো নয়৷

    -আমরা তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না৷

    -পাবে৷ চেষ্টা করো, পাবে৷ দেখতে ভুলে গেছ তাই৷ ফের মনে পড়ে যাবে৷

    ছায়া-কুকুরেরা কবে মরে গেছে কেউ বলতে পারে না৷ কালান্তক সময় এলে তারা মেঘের আড়াল ছুঁড়ে ফেলে দেয়৷ সরাইল হাউন্ডের মতো ক্ষিপ্রতায় লাফ দিয়ে ছুটতে থাকে৷ তাদের থাবার আঘাতে থরথর করে কাঁপে ছায়া-শহর, ছায়া-অট্টালিকা ও ছায়া-রাজপথ৷ সামনের দুটো পা একসঙ্গে ছোঁ মেরে নেমে আসে মারাত্মক ঢেউ-এর মতো, জ্বলন্ত ফেনায় বুদবুদ ও তরল আগুন ঝলকে ওঠে, তখন পেছনের দুটি পা ছায়া-মরুতে ধাক্কা দিয়ে বালি ওড়ায়৷ তাদের ডাক বড়োই গম্ভীর৷ ক্কচিত্‍কখনও যুদ্ধবিমানের চালকেরা দেখেছে যে তাদের ম্যাক-২ বা অধিকতর শক্তিধর বিমানকে হেলায় পেছনে ফেলে আকাশ বেড় দিয়ে ছুটে চলেছে ছায়া-কুকুরের দল৷ কেউ কেউ বলে মারণ-জ্যোত্‍স্নায় ছায়া-কুকুরেরা চান্দ্র শশক শিকার করতে বেরোয়৷ তবে এ নিয়ে মতভেদ আছে৷ যদিও কেউই ছায়া-কুকুরদের অন্তরীক্ষ অতিক্রমণকে তুচ্ছ বলে মনে করেন না৷ ছায়া-কুকুরদের দলপতি হল একটি শুভ্র পবিত্র কুকুর৷ তার নাম হল লাইকা৷ কুকুর-উপকথা ‘লুব্ধক’ চারপায়ে নতজানু হয়ে লাইকাকে প্রণাম জানাচ্ছে৷

    হাওয়ার ঝাপটাটা কেটে যেতে কান-গজানো বলল,

    -তাহলে একটা কিছু হবেই, বলছ?

    -সে তো বটেই৷ হবে না, হচ্ছে৷

    -রাতে কি ধরতে আসতে পারে?

    -এখনও অতটা বুদ্ধি ওদের হয়নি৷ তার ওপরে ভয়ও আছে৷ সব কুকুর তো আর সাঁড়াশির হাঁ-তে গলা এগিয়ে দেবে না৷ লড়ে যাবে৷

    -তা তো বটেই৷ যাইহোক, তুমি এলে বলে খোঁজখবর সব পাওয়া গেল৷ একটেরে হয়ে থাকি৷ কারও সঙ্গে মিশি না৷ ওই বেড়ালটাই যা দু-একটা খবর-টবর এনে দেয়৷ দিন পাঁচেক আগে এসে বলল ও নাকি একটা মরা বাদুড় দেখেছে৷

    -তো?

    -বাদুড়ের মুখটা নাকি অনেকটা কুকুরের মতো৷ এ বিষয়ে তোমার কোনো ধারণা আছে৷

    -না৷ আমি বাদুড়দের উড়তে দেখেছি৷ বাদুড়বাগান বলে একটা জায়গা আছে, জানো?

    -সেখানে কি শুধু বাদুড়রাই থাকে?

    -দূর! আদ্যিকালে হয়তো থাকত৷ এখন চামচিকেও থাকে কিনা সন্দেহ৷ ঘুম পেয়ে যাচ্ছে৷

    -ঘুমোবে৷ কিন্তু তার আগে একটা কথা বলতে পারো?

    -কী?

    -দিনের বেলায় যদি আমাদের ধরতে আসে তাহলে আমরা কী করব?

    জিপসি কিছু বলার আগেই বেড়ালটা বলল,

    -আমি বলব?

    -বলো৷

    -এই ভাঙা পেচ্ছাপখানাটার দেওয়ালের পেছনে একটা ফাঁক আছে৷ বেশ বড়ো৷ ঝোপঝাড় হয়ে গেছে বলে বোঝা যায় না৷ ওখানে ঢুকতে পারো৷ কেউ খুঁজে পাবে না৷

    কান-গজানো বলল,

    -সে হয়তো যাওয়া যায়৷ কিন্তু ওখানে বোলতার চাক আছে৷

    -আছে না, ছিল৷ বোলতারা কবে চলে গেছে৷ এখন শুধু চাকটাই আছে৷

    -তাহলে তো চুকেই গেল হ্যাপা৷

    এই বলে কান-গজানো জিপসির দিকে তাকিয়ে দেখল জিপসি ঘুমিয়ে পড়েছে৷ আর শুধু তাই নয়, স্বপ্নও দেখছে৷ কারণ শরীরটা মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে৷ সামনের থাবাদুটোও কখনও কখনও নড়ছে৷ জিপসির ঘুমোনো দেখে কান-গজানো ভাবল একটু গড়িয়ে নিলে মন্দ হয় না৷

    নাহি মার কুক্কুরেরে, শুন দ্বিজবর৷

    শুনিয়া বিপ্রের ক্রোধ বাড়িল বিস্তর৷৷

    হাতে দণ্ড ধরি বলে নৃপতির প্রতি৷

    মোর হাতে কুক্কুরের নাহি অব্যাহতি৷৷

    পুণ্যহীন কুক্কুরের নাহি পরিত্রাণ৷

    পুণ্য-বিনা স্বর্গে বাস নহে মতিমান্৷৷

    ৩ নম্বর পিঁজরাপোলে তখন একটা তাণ্ডব চলছিল৷ কুকুরদের কাঁই কাঁই বা ঘ্যাঁকাও করে চিত্‍কার, প্রতিবাদী শুকনো ঘেউ, চাপা রাগে গর্ গর্ করা-সব মিলেমিশে এক মহা-ঐকতান৷ এরই মধ্যে কামড়া কামড়ি, জায়গা নিয়ে দখলে রাখার চেষ্টা, দেহ শুকিয়ে আসায় প্রাণপণ তেষ্টা ও পায়ের তলায় বালি মেশানো কাঁকর-মাটি যা তখনও ঠান্ডা হয়নি এবং এখানে ওখানে মাটি ফুঁড়ে উঠে এসেছে পাঁজর, করোটি, শুকনো ক্ষুর বা শিং৷ গতকাল যাদের আনা হয়েছিল তারা সারাদিন রোদে তেতে নিভে এসেছে, কেউ তলিয়ে গেছে আচ্ছন্নতায় যা অবধারিত প্রক্রিয়াতে অন্তিম প্রচ্ছায়ায় প্রবেশ করবে বা কেউ নির্বাক, শান্ত, কানও নড়ছে না যার অর্থ হল সে অসহায়তার শিক্ষা নিতে পেরেছে৷ মুখে-নাকে বালি ঢুকে গেছে কারও৷ এদের মধ্যে একটি কুকুর ট্যাক্সি চাপা পড়ে বহুদিন ধরে পঙ্গু৷ পেছনের পা দুটো অকেজো৷ সামনের দুই থাবায় ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে চলে৷ রয়েছে বৃদ্ধ কুকুরেরা যারা বহু যুদ্ধ ও সন্ধির সাক্ষী৷ সারা গায়ে প্রাচীন ক্ষতচিহ্ন৷ যেভাবে থেবড়ে মাটিতে পড়ে আছে তারা, দেখলে মনে হবে মৃতপ্রায় কুমির বা নিথর ডাইনোসর যুগের মথ৷ সারাদিন ধরে কুঁই কুঁই করে ধুঁকতে ধুঁকতে শিশুরা মরেছে৷ মা তাদের শুষ্ক জিভ দিয়ে চেটে চেটে আর্দ্রতা দিতে চেষ্টা করেছে৷ অসহায়তায় এলোমেলো ছোটাছুটি করেছে৷ মৃত্যুর পরেও মৃত শিশুরা দেয়ালা করছে ভেবে মায়াতাড়িত হয়েছে৷ কিন্তু এই মায়াই হল মৃত্যুর প্রথম সোপান৷ ওই তো নিঃশ্বাস নিচ্ছে৷ ওই তো ওঠানামা করছে ছোট্ট বুক৷ এই তো শোনা যাচ্ছে সেই হৃদস্পন্দন যা জরায়ুর মধ্যে প্রথম ক্ষীণ কম্পন হয়ে দেখা দিয়েছিল৷

    এই মৃত, মৃতপ্রায় ও অর্ধমৃতদের চেয়ে আজ যারা এসেছে তারা স্বাভাবিক কারণেই অধিকতর সজীব ও সরব৷ কিন্তু মৃতের সঙ্গে থাকলে মৃত্যুর চৌম্বকক্ষেত্রের চোরা ঠান্ডা টান না চাইলেও অনুভব করতে হয় ও স্নায়ুতে স্নায়ুতে ধীর লয়ে অবশ সঙ্গীতের মতো ছড়িয়ে পড়তে থাকে আত্মসমর্পণ৷

    ছায়া-কুকুরদের দৌড়ের সময় এখানেও বালি ও কাঁকুরে-মাটির ওপরে এক ধুলোর আঁধি উঠেছিল, কিস্তু তা থিতিয়ে গেছে মৃত কুকুর-শিশুদের নরম লোমে ঢাকা শরীরের ওপর৷ এই ধুলোর চাদর হল ঢাকা পড়ে যাওয়ার, গভীরে চলে যাওয়ার এক আয়োজন৷ ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে এভাবেই ডাইনোসরদের ওপরে ধুলো জমতে শুরু করেছিল যার মধ্যে ছিল ইরিডিয়াম৷ এই ইরিডিয়াম এসেছিল মহাকাশ থেকে প্রেরিত উল্কাপিণ্ডের শরীরে মিশে৷ কে পাঠিয়েছিল এই মহাসংহারের অস্ত্র? এর আগেও বারবার পৃথিবী থেকে প্রাণ মুছে গেছে প্রলয়ের স্পর্শে৷ ৪৫০, ৩৫০, ২২৫, ও ১৯০ মিলিয়ন বছর আগেও এই অভিশাপ এসেছিল৷ কেন? কী হেতু এই মরণোত্‍সবের? সপ্তর্ষিমণ্ডলের প্রশ্নচিহ্নে সমাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে সার্কাসের এরিনার মতো গোল পিঁজরাপোলের জমিতে দাঁড়িয়ে দেখা কলকাতার আকাশ৷

    মস্ত বড়ো টাটা সুমোটা এসে দাঁড়াতে প্রায় একই সঙ্গে কান-গজানো আর জিপসির ঘুম ভেঙে গেল৷ গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভার পেচ্ছাপ করতে নামল৷ গাড়ির মধ্যে এফ-এম রেডিয়োতে খবর হচ্ছে-

    ‘আজ চারশো আটচল্লিশটা কুকুর ধরা পড়েছে৷ এই নিয়ে মোট প্রায় সাড়ে সাতশো কুকুর ধরা সম্ভব হয়েছে৷ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জনৈক মুখপাত্র জানান যে আকড়া ফটকের কাছে কিছু দুষ্কৃতি কুকুর ধরার কাজে বাধা দেয় ও যথেচ্ছ ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে৷ অবস্থা আয়ত্তে আনার জন্য এলাকায় পুলিশ নামানো হয় ও বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতি কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তিনি আরও জানান যে, আগামীকাল থেকে সশস্ত্র পুলিশ ও র্যাফ কুকুর ধরার সময়ে হাজির থেকে শান্তি রক্ষা করবে৷ আরও স্থির করা হয়েছে যে, শিশুরা যে-সময়টা স্কুলে থাকে সেই সময়ে কুকুর ধরার অভিযান জোরদার করা হবে৷ এ ব্যাপারে শিশু-মনস্তত্ত্ববিদদের বক্তব্য সরকার মেনে নিয়েছেন যে, চোখের সামনে সাঁড়াশি দিয়ে কুকুর ধরা দেখলে শিশুদের কোমল মনে বিরূপ প্রতিক্রয়ার সৃষ্টি হতে পারে৷ আপনারা কলকাতা বেতারকেন্দ্রের এফ এম চ্যানেলে সংবাদ শুনছেন৷’

    ‘প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে একটি অজানা বিদেশি বিমান আজ ভারতের সীমানা লঙ্ঘন করলে ভারতীয় জঙ্গিবিমান ওই বিদেশি বিমানটিকে ধাওয়া করে…’

    টাটা সুমোটা চলে যাওয়ার পরে কান-গজানো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

    -আমাদের কি কিছুই করার নেই? এইভাবে মরতে হবে?

    -ভাগ্যে থাকলে মরতে হবে৷ কী করা যাবে৷ সাড়ে সাতশোর দলটা তো আরও বাড়বে৷ অনেক বাড়বে৷ ভাগ্যে যদি পিঁজারাপোলে গিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরাই লেখা থাকে তো তাই হবে৷ আমরা পারব ঠেকাতে? নিয়তি কেউ ঠেকাতে পারে না৷ কুকুর না, মানুষ না, কেউ না৷

    -তুমি ভাগ্য মানো?

    -না মেনে উপায়? ছোটোবেলায় তিন সপ্তাহ বয়সে কালো-ভাই আর আমি বিক্রি হয়েছিলাম হাতিবাগানে৷ সেখান থেকে ট্যাক্সি করে বউবাজারে এলাম৷ আমার জন্যে ডাক্তার আসত৷ একবার পড়ে গিয়েছিলাম৷ নড়তে পারতাম না৷ তখন বেলগাছিয়ার জন্তুদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল৷ রোজ দুধ খেতাম, মাংসের ছাঁট খেতাম৷ চকোলেট, আইসক্রিম – কী না খেয়েছি? আর আজ! নোংরার গাদায় বসে বেড়ালের লেকচার শুনতে হচ্ছে৷ এর পরেও বলতে হবে ভাগ্য মানি না?

    বলাই বাহুল্য, বেড়ালটা রেগে গিয়েছিল৷ অন্ধকারে চোখ চকমকি পাথরের মতো জ্বেলে সে বলল,

    -ভালো ভেবে লুকোবার জায়গাটা বলে দিলাম৷ শুনি কুকুররা কৃতজ্ঞতা জানে আর বেড়ালরা অকৃতজ্ঞের হদ্দ৷ এখন বোঝাই যাচ্ছে কোনঞ্জটা কী৷

    -আরে বাবা, মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে৷ নিছকই কথার কথা৷ আমি অন্য বেড়ালদের কথা বলছিলাম৷ তুমিই কি একলা বেড়াল নাকি? কত বলে বেড়াল রয়েছে৷

    -সে থাকুগগে৷ এখানে বেড়াল বলতে আমিই৷ কাজেই বেড়ালের নামে কিছু বললে আমার গায়েই লাগার কথা৷

    -আরে বাবা, মাফ চাইছি৷ হয়েছে? চালচুলো কিছু নেই৷ কী বলতে কী বলে ফেলি৷ অত ধরলে চলে?

    এই মৃদু ঝগড়াটা দুম্ করে থেমে গেল, কারণ প্রচণ্ড জোরে কিছুটা দূরে একটা বোমা ফাটল আর ঝলকে অন্ধকারটা এক লহমার জন্যে চমকে উঠল, যেন কারও ফোটো তোলা হল৷ বোমার আওয়াজটা মিলিয়ে যেতে না যেতে কয়েকটা হালকা শব্দ৷ গুলির৷ বেড়ালটা বলল,

    -লেগে গেল৷

    -কার সঙ্গে কার?

    -অত জানলে আর বেড়াল হয়ে জন্মাতে হত না৷

    কান-গজানো হঠাৎ বলে উঠল,

    -না৷ একটা খবর আসবে৷

    -কী খবর?

    -একটা খবর৷ আমাদের খবর৷ কুকুরদের খবর৷ আমার মন বলছে একটা খবর আসবেই৷

    -ভালো না খারাপ?

    -সেটা বলতে পারব না৷ কিন্তু একটা খবর আসছে৷ আসতে তাকে হবেই!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহারবার্ট – নবারুণ ভট্টাচার্য
    Next Article কাঙাল মালসাট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    Related Articles

    নবারুণ ভট্টাচার্য

    জার্নালিস্টের জার্নাল – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    কাঙাল মালসাট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    হারবার্ট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }