Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লে মিজারেবল – ভিক্টর হুগো

    ভিক্টর হুগো এক পাতা গল্প1486 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.১ প্যারিসের রাস্তায়

    তৃতীয় খণ্ড – প্রথম পরিচ্ছেদ

    প্যারিসের রাস্তায় একটা দুষ্টু ছেলেকে প্রায়ই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সব সময়ই তাকে প্রাণচঞ্চল দেখায়। তার মধ্যে আছে জ্বলন্ত চুল্লির উত্তাপ আর নতুন প্রভাতের আলোর উজ্জ্বলতা।

    ছোট্ট এক সুখী মানুষ। রোজ তার খাওয়া হয় না। কিন্তু রোজ সন্ধ্যায় সে খেলতে যায়। তার গায়ে জামা নেই, পায়ে জুতো নেই, মাথার উপর ছাদ বা কোনও আচ্ছাদন। নেই। মাছির মতো সে যেন শুধু উড়ে বেড়ায়। তার বয়স হবে সাত থেকে তেরো’র মধ্যে। সব সময় দল বেঁধে থাকার চেষ্টা করে, পথে পথে ঘুরে বেড়ায়, ফাঁকা জায়গায় শোয়, তার বাবার একজোড়া পুরনো পায়জামা পরে। সেই ঢিলে পায়জামাটা তার গোড়ালি পর্যন্ত নেমে আসে। তার মাথার টুপিটাও অন্য একটা বুড়ো লোকের কাছ থেকে পাওয়া এবং সেটা কানের উপর ঝুলে পড়ে। সে প্রায়ই খুব হইচই করে বেড়ায়, চারদিকে চোখ চেয়ে তাকায়, সব জায়গায় যায়, প্রচুর সময় নষ্ট করে বাজে কাজে, কাফেগুলোর আনাচ-কানাচে ঘুরঘুর করে, শহরের প্রতিটি চোরকে চেনে এবং বাজে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে, নোংরা গান গায়। তবু তার মনের ভেতরে খারাপ কিছু নেই। তার অন্তরের মধ্যে আছে এক সরল নির্দোষিতার মুক্তো। মুক্তো কখনও জলে-কাদায় গলে যায় না। মানুষ যতদিন শিশু থাকে, ঈশ্বর তাকে নির্দোষ নিষ্পাপ রাখেন।

    প্যারিস শহরটাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, কে এই খুদে মানুষটা, কে এই বখাটে ছেলেটা? তা হলে শহরটা উত্তর দেবে, ও হচ্ছে আমার ছেলে।

    .

    ২.

    এই দুষ্টু বখাটে ছেলেটা হল এক দানবীর গর্ভে জাত এক ক্ষুদ্রকায় বামন।

    ছেলেটার কপালে মাঝে মাঝে এক-আধটা জামা জোটে। কিন্তু সে জামার মোট সংখ্যা একটাই। কখনও বা সে হয়তো একজোড়া বুট জুতো পেয়ে যায়, কিন্তু সে জুতোর তলায় চামড়া থাকে না। তার হয়তো একটা বাসা আছে। সে বাড়ির দিকে তেমন মন নেই তার। সে বাড়ির দরজার উপর তার মা তার পথপানে চেয়ে বসে থাকে। বলেই সে মাঝে মাঝে বাড়ি যায়। কিন্তু পথটাই সে বেশি পছন্দ করে, কারণ সেখানেই সে বেশি স্বাধীনতা পায়। তার কতকগুলি নিজস্ব খেলাধুলা আছে। বুর্জোয়াদের ঘৃণাই তার একমাত্র শত্রু। তার কতকগুলি নিজস্ব কাজ আছে। সে পরের জন্য গাড়ি ভাড়া করে দেয়। সে বৃষ্টিতে কাদার মধ্য দিয়ে হেঁটে যায়। জনসাধারণের সুবিধার জন্য সে সরকার ঘোষিত আইন-কানুনগুলো ঘোষণা করে। ফুটপাথের উপর গজিয়ে ওঠা আগাছাগুলো তুলে ফেলে পথ পরিষ্কার করে। বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা লোহার টুকরোগুলো কুড়িয়ে এনে বিক্রি করে যে পয়সা পায় সেটাই তার একমাত্র আয়।

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    ই-বই ডাউনলোড
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বিনামূল্যে বই
    সেবা প্রকাশনী বই
    বাংলা বই

    প্যারিসের বিভিন্ন জায়গায় পোকামাকড় ধরে সে আমোদ পায়। আরশোলা, বিছে, ব্যাঙ, প্রভৃতি কত সব পোকামাকড়। এক একসময় হঠাৎ তামাশা করে মানুষকে তাক লাগিয়ে দেবার অদ্ভুত একটা ক্ষমতা ছিল ছেলেটার। হঠাৎ হাসি-পরিহাসের তুফান তুলে চমকে দিত সে আশপাশের দোকানদারদের। এদিক দিয়ে তালিবাদের মতোই তার প্রতিভা ছিল।

    রাস্তা দিয়ে যখন কোনও শবযাত্রা যেত তখন সেই দুষ্টু ছেলেটা অমনি শববাহকদের লক্ষ করে বলে উঠত, কী হে, ডাক্তার, সমাধি ভূমিতে কখনও কি কাজ করবে?

    এমন সময় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা চশমাপরা কোনও ভদ্রলোক হয়তো সেই দুষ্টু ছেলেটার দিকে ঘুরে প্রচণ্ড রাগের সঙ্গে বলে ওঠে, পাজি বদমাশ কোথাকার! তুই আমার স্ত্রীকে চিমটি কেটেছিস।

    আমি মঁসিয়ে! দেখুন, এই তো আমি রয়েছি।

    .

    ৩.

    আরও দেখুন
    বাংলা গল্প
    বই পড়ুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    PDF
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা লাইব্রেরী
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য

    যেদিন কিছু পয়সা পায় ছেলেটা সেদিন সন্ধ্যায় সে থিয়েটার দেখতে যায় এবং থিয়েটারের হলের মাঝে পা দিয়েই সে যেন অন্য মানুষ হয়ে যায়। শুককীটের কাছে যেমন প্রজাপতি তেমনি তার কাছ থিয়েটার। থিয়েটার হলটা যেন আমোদ-প্রমোদে ভর্তি একটা জাহাজ। সে সেখানে গেলেই আনন্দের জোয়ার এসে যায় তার জীবনে। আনন্দের। আবেগে সে বারবার হাততালি দেয়, যেন কোনও পাখি ডানা ঝাঁপটাচ্ছে। থিয়েটার তার কাছে স্বর্গ হয়ে ওঠে।

    শিল্প-সাহিত্যের প্রতি তার যে কোনও আগ্রহ থাকে না, তা নয়। কিন্তু চিরায়ত শিল্প-সাহিত্যের দিকে তার কোনও ঝোঁক থাকে না। তার কোনও উন্নত রুচিবোধ থাকে না। উদারহণস্বরূপ বলা যেতে পারে ম্যাদময়জেল মাবস্ নামে কোনও অভিনেত্রীর নাম করলে সে তাকে ম্যাদময়সেল হিউশ বলে ডাকে।

    কখনও আনন্দে ফেটে পড়ে সে, কখনও উচ্ছ্বাসে চিৎকার করে, হৈ-হুল্লোড় করে হাততালি দেয়, ঝগড়া করে, সবজান্তা হয়ে ওঠে, ছেলের পোশাক পরে এক খুদে দার্শনিক হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সে হয়ে ওঠে এক স্পার্টান আর পকেটমার। জ্ঞানে পাগল, গানে গল্পে আনন্দে উচ্ছল হয়ে সে কাদা মেখে অলিম্পাসে ঘুরে বেড়ায় যেন।

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বইয়ের
    বইয়ের
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    গ্রন্থাগার
    Books
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য

    প্যারিসের রাস্তার যত সব বখাটে ছেলেরা সবাই যেন ছোটখাটো এক একটা রাবায়েত। তারা অল্পতেই বিস্মিত হয়, কিন্তু সে বিস্ময় রেখাপাত করে না তাদের মনে। তারা কুসংস্কারকে ঘৃণা করে, যে কোনও আতিশয্য বা অতিশয়োক্তিতে তাদের কোনও উৎসাহ নেই, কোনও অতিপ্রাকৃত বা রহস্যময় কোনও বস্তু বা ঘটনাতে তাদের বিশ্বাস নেই। মহাকাব্যসুলভ কোনও ভাবসমুন্নতিকে তারা উপহাস করে উড়িয়ে দেয়। কাব্য বা মহাকাব্য যে একেবারে মানে না তা নয়। কিন্তু কাব্যের রস সম্বন্ধে তাদের বোধ থাকলেও তাদের অসম্মানজনক উক্তির দ্বারা যে কোনও কাব্যরসকে বিকৃত করে দেয় তারা। কোনও দৈত্যদানবের অভিনয় দেখে তারা মন্তব্য করে, সার্কাসের একটা ভড়।

    .

    ৪.

    প্যারিস শহরে একই সঙ্গে কোনও পথচারী ভদ্রলোক আর রাস্তার বখাটে ছেলে দেখা যায় না। একই সঙ্গে সম্ভ্রমশীল ভদ্রতা আর নগ্ন বিশৃঙ্খলা কোনও শহরে দেখা যায় না। পাশাপাশি। ভদ্র পথচারী যেমন রাজতন্ত্রের ধারক ও বাহক, তেমনি ভবঘুরে বখাটে ছেলেগুলো অরাজকতার প্রতীক।

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    Books
    বিনামূল্যে বই
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    Library

    প্যারিস শহরের এইসব রাস্তার ছেলেরা রাজপথের আনাচ-কানাচে আর অলিগলিতে জন্মায় আর বেড়ে ওঠে। সমাজজীবনের যত সব কঠোর বাস্তবতা আর দুঃখকষ্টের মধ্যে তারা মানুষ হয়। তাকে দেখে মনে হয় সে কিছু জানে না বা বোঝে না। কিন্তু আসলে তা নয়। সে যেমন হাসতে পারে তেমনি আবার আরও অনেক কিছু করতে পারে। যারা অন্যায়, অবিচার, স্বৈরাচার প্রভৃতির প্রতীক তাদের বোঝা উচিত ওই সব ছেলেরা বেড়ে উঠছে, তারা এই সবকিছু দেখছে।

    সমাজের যে কদর্য মাটি থেকে এইসব পথসন্তানের জন্ম সেই মাটি থেকেই আদিমতম মানবসন্তান আদমেরও জন্ম। নির্মম নিয়তি তাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। তারা ক্ষুদ্রকায় আর নিরহঙ্কার, অমার্জিত, অসভ্য; কিন্তু পরিণত বয়সে কী হবে আর দেশের ভাগ্যবিধাতাদের সৃষ্টি করে, সেই আত্মা তাদের জীবনটাকে কিভাবে গড়বে? কুমোরের চাকার মতো সৃষ্টির সেই নিষ্ঠুর চাকাটা কোন পথে ঘোরাবে?

    .

    ৫.

    আরও দেখুন
    বাংলা ভাষা
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    অনলাইন বই
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বুক শেল্ফ
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই

    রাস্তার ওই সব বখাটে বেয়ো বাউণ্ডুলে ছেলেরা জনবহুল শহরের পথঘাট যেমন ভালোবাসে তেমনি ভালোবাসে নির্জনতা। তারা একাধারে ফামকাসের মতো নগরপ্রেমিক, আবার ক্লাকাসের মতো পল্লিপ্রেমিক।

    প্যারিস শহরের প্রান্তে মফস্বল অঞ্চলে কেউ যদি দার্শনিকের মতো ঘুরে বেড়ায় তা হলে একই সঙ্গে গ্রাম আর নগরের শোভা দেখে বিমোহিত হয়ে যাবে সে। এই মফস্বল অঞ্চল আপাত দৃষ্টিতে দেখতে কুৎসিত হলেও তার একটা নিজস্ব শোভা আছে। সেখানে দেখা যাবে লম্বা লম্বা গাছগুলোর জায়গায় কিভাবে সেখানে গড়ে উঠেছে বড় বড় বাড়ি। পথের দু ধারে সবুজ ঘাসের উপর নির্মিত হয়েছে শানবাঁধানো ফুটপাত, চষা জমিগুলোর উপর গড়ে উঠেছে কত সব বড় বড় রাজপথ আর দোকানঘর। এইসব দেখে শুনে চিন্তাশীল মানুষরা বিশেষ আগ্রহের সঙ্গে ভাবতে থাকে অনেক কিছু। গ্রাম্য প্রকৃতির এই রূপান্তর দেখে তারা বিষণ্ণ না হয়ে পারে না।

    এই কাহিনীর লেখকও একদিন এইসব অঞ্চলে অনেক ঘুরে বেড়িয়েছেন।

    আমাদের মতো যারা প্যারিস শহরের উপকণ্ঠে মফস্বল অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত নির্জন পরিবেশে ঘুরে বেড়িয়েছে, তারা নিশ্চয় কোনও পরিত্যক্ত জনহীন জায়গায় ছেঁড়া ময়লা পোশাকপরা নোংরা একদল ছেলেকে জটলা পাকিয়ে থাকতে দেখেছে। তারা হল যত সব গরিব ঘরের পালিয়ে আসা ছেলে। যেসব নোংরা জায়গায় কেউ থাকে না সেইসব জায়গাই তাদের বাসস্থান। তারা চিরদিনের ভবঘুরে। তারা কোনও বিধিনিষেধের ধার ধারে না কখনও, মুখে তাদের যত সব নোংরা গান লেগেই আছে। তারা কোনওদিন স্নান করে না, নোংরা গা-হাত পরিষ্কার করে না। শুধু ঝোপে-ঝাড়ে বনফুল তুলে বেড়ায়। এখানে-সেখানে মার্বেলের গুলি খেলে। একটা পয়সা নিয়ে কাড়াকাড়ি করে, ঝগড়া করে। তারা সমাজের অবজ্ঞাত অবহেলিত, তবু তারা সুখী। প্যারিস শহরের উপান্তবাসী এইসব গরিব হতভাগ্য ছেলেদের দেখার সঙ্গে সঙ্গে একই সঙ্গে মন আনন্দে উফুল্ল হয় এবং দুঃখে হৃদয় বিদীর্ণ হয়।

    আরও দেখুন
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    Library
    PDF
    বাংলা কমিকস
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    অনলাইন বুক
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ভাষা
    গ্রন্থাগার সেবা
    ই-বুক রিডার

    মাঝে মাঝে ওই সব ছেলেদের দলের মধ্যে দু চারটে মেয়েকেও দেখা যায়। এইসব মেয়েরা হয়তো ওই সব ছেলেদেরই বোন। ওই সব মেয়েদের মধ্যে দু একটা বেশ বড় মেয়েও আছে। তাদের চেহারাগুলো রোগা, রোদেপোড়া তামাটে রঙ, মাথায় ঘাস বা লতাপাতার টুপি, খালি পা। প্রায়ই দেখা যায় তারা ঘাসে ঢাকা বনপথে দাঁড়িয়ে চেরিফল খাচ্ছে। সন্ধের সময় তাদের হাসির শব্দ শোনা যায়। দুপুরের রোদে বা রাত্রির অন্ধকারে যখনি তারা কোনও পথিকের চোখে পড়ে তখনি তাদের কথা না ভেবে পারে না সে। পথিক। সে পথিকের মনে অনেকদিন বেঁচে থাকে তারা।

    ওই সব ছেলেমেয়েদের কাছে প্যারিস শহরই হল সারা জগতের কেন্দ্রস্থল। এই শহরের চারপাশই হল সে জগতের পরিধি। মাছ যেমন জল ছেড়ে কোথাও যায় না। তেমনি তারা এই প্যারিস শহর ছেড়ে কোথাও যায় না। তাদের মতে এই শহরের সীমানার বাইরে আর কোনও জগতের অস্তিত্ব নেই।

    .

    ৬.

    আরও দেখুন
    বাংলা কবিতা
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    সাহিত্য পত্রিকা
    Books
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা ই-বই
    PDF
    অনলাইন বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

    এই কাহিনী যখন লেখা হয় তখন প্যারিসে ভবঘুরে ছেলেদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। তখন প্রতিবছর ২৬০ জন করে নিরাশ্রয় ছেলেকে ধরা হত। যে সব নতুন বাড়ি নির্মাণ হত সেইসব জায়গায় অথবা কোনও পুলের তলায় তারা থাকত। যে কোনও অপরাধ ও কুকর্ম এদের থেকেই শুরু হয়।

    তবু অন্যান্য শহরের বখাটে ছেলেদের থেকে প্যারিসের গৃহহারা বখাটে ছেলেদের একটা পার্থক্য ছিল। তারা অপরাধ এবং কুকর্ম করে বেড়ালেও তাদের মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন নীতিবোধ ছিল। তারা ছেঁড়া ময়লা পোশাক পরে থাকলেও তাদের মধ্যে একটা আশ্চর্য সততা ছিল। যে কোনও জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবে তারা অংশগ্রহণ করত। সমুদ্রের জলে যেমন লবণ গলে থাকে তেমনি প্যারিসের দুর্নীতিমূলক বিষাক্ত আবহাওয়ার ভেতরেও একটা বিকৃত নীতিবোধ মিশে থাকত সব সময়।

    তথাপি এই ধরনের কোনও বখাটে ছেলেকে পথে দেখলেই তাদের মধ্যে একটা ভগ্ন দুঃখী পরিবারের কথা মনে পড়ে যায়। আমাদের যে সভ্যতা আজও পরিণতি লাভ করতে পারেনি, সে সভ্যতায় এই ধরনের ছিন্নভিন্ন পরিবারের ঘটনা এমন কিছু আশ্চর্য নয় যে সব পরিবার থেকে তাদের ছেলেরা ছিটকে বেরিয়ে এসে পথে আশ্রয় নেয়। এক জটিল দুর্ভাগ্য তাদের যেন প্যারিসের পথের উপর আছাড় মেরে ফেলে দেয়। রাজতন্ত্রের যুগে এইসব পরিত্যক্ত ছেলেদের সহজভাবে এক স্বাভাবিক ঘটনা বলে মেনে নেওয়া হত। মিশর থেকে আসা ভবঘুরেদের নিয়ে অনেকে বই লিখত। তাদের লেখাপড়া শেখার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। সবাই বলত অল্প লেখাপড়া শেখার থেকে না শেখা ভালো।

    আরও দেখুন
    বাংলা বই
    পিডিএফ
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা কুইজ গেম
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বইয়ের
    বুক শেল্ফ
    বইয়ের
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    সাহিত্য পর্যালোচনা

    ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই-এর আমলে এইসব ভবঘুরে ছেলেদের নৌকোর দাঁড় টানার জন্য দরকার হত। অনুকূল বাতাসের ওপর নির্ভরশীল জাহাজগুলো যখন সমুদ্রের উপর নোঙর করে থাকত তখন সেইসব জাহাজে যাওয়া-আসা করার জন্য দাঁড়-টানা কতকগুলি নৌকোকে উপকূলের সঙ্গে জাহাজগুলোর যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হত। রাস্তায় পনেরো বছরের ঊর্ধ্বে কোনও ভবঘুরে ছেলে দেখলেই তাকে নৌকার দাঁড় টানার জন্য নিয়ে যাওয়া। হত। জেলখানার কয়েদিদেরও অনেক সময় এ কাজে নিযুক্ত করা হত। নাবিক দাস।

    কিন্তু রাজা পঞ্চদশ লুই-এর আমলে পুলিশ এইসব ছেলেদের পথে দেখলেই ধরে নিয়ে যেত। তার কারণ জানা যায়নি। তবে অনেক পরিবারের পিতামাতারা এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের জন্য চাপ দিত। কোনও ছেলের বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে পথে আশ্রয় নেওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।

    .

    ৭.

    আরও দেখুন
    সেবা প্রকাশনীর বই
    সাহিত্য পত্রিকা
    বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা লাইব্রেরী
    ই-বুক রিডার
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    উপন্যাস সংগ্রহ

    প্যারিসের ভবঘুরে ছেলেদের দলে সবাই যোগদান করতে পারে না। তাদের আবার শ্রেণিবিভাগ আছে। ফরাসি ভাষায় তাদের গামি বলত।

    এই ভবঘুরে ছেলেদের মধ্যে কয়েকজন আবার এক একটা কাজের জন্য তাদের দলের ছেলেদের শ্রদ্ধা পায়। একবার একটা ভবঘুরে ছেলে নোতার দ্যাম গির্জার উপর একজনকে পড়ে যেতে দেখে। তাদের মধ্যে আবার একজন বীর একটা সেবা প্রতিষ্ঠানের পেছনের দিকে কতকগুলি পাথরের প্রতিমূর্তি থেকে অনেকটা সিসে নিয়ে যায় চুরি করে। আর একজন একবার একটা ঘোড়ার গাড়িকে উল্টে যেতে দেখে। আর একজন একসময় এক সৈনিককে একটা লোকের চোখে ঘুষি মারতে দেখে। যে গির্জার। উপর থেকে একটা লোককে পড়তে দেখে সে নিজের মনে বলতে থাকে, আমার কী দুর্ভাগ্য যে আমি পাঁচতলা থেকে একটা লোককে পড়তে দেখি।

    কারও স্ত্রী যদি অসুখে মৃতপ্রায় হয়ে ওঠে তা হলে গায়ের চাষিরা তাকে বলত, অসুখ হয়েছে তো ডাক্তার ডাকার দরকার কী মঁসিয়ে? গরিবরা নিজেদের অসুখে নিজেরাই ডাক্তার। একদিন এক ভবঘুরে ছেলে একটা ফাঁসির আসামিকে বধ্যভূমিতে যাবার পথে একজন যাজকের সঙ্গে কথা বলতে দেখে যাজকের উদ্দেশে মন্তব্য করেছিল, নোংরা লোকটা যেন এক বিমানচালকের সঙ্গে কথা বলছে।

    আরও দেখুন
    বাংলা কমিকস
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বই পড়ুন
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    অনলাইন বুক
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বই
    বাংলা গল্প

    এইসব ছেলেরা গিলোটিন দেখেও নানারকম অপ্রিয় মন্তব্য করে থাকে। শুধু পথে পথে বেড়ায় না, কখনও তারা কোনও পাঁচিলে বা বাড়ির ছাদে ওঠে পাইপ বেয়ে। কখনও গাছে চড়ে। গাছ এবং চিমনির মাথাগুলো তাদের কাছে জাহাজের নাবিকদের কাছে যেমন মাস্তুল। কখনও কখনও আবার বধ্যভূমিতে গিয়ে ফাঁসির কাঠ ধরে ঝোলে।

    এক একসময় তাদের কলাকৌশল দেখে তাদের প্রশংসা না করে পারা যায় না। একবার জুভা নামে একজন দণ্ডিত আসামিকে সাহসের সঙ্গে গিলোটিনে ফাঁসি বরণ করতে দেখে একটা ভবঘুরে ছেলে বলে, ওকে দেখে হিংসা হচ্ছে। কারণ গিলোটিনে যারা ফাঁসি যায় তাদের কথা সবাই মনে রাখে যুগ যুগ ধরে।

    তাদের মধ্যে কেউ কোনও দুর্ঘটনায় পড়লে অন্য সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখে তাকে। তারা বলে, ওর এমন কেটে গেছে যে হাড় পর্যন্ত বেরিয়ে গেছে। যে যত আহত হয় সে তত বেশি শ্রদ্ধা পায়। কারও স্বাস্থ্য বলিষ্ঠ হলে সে ঘুষি পাকিয়ে বড়াই। করে বলে, আমি খুব শক্তিমান। তাদের মধ্যে কেউ যদি নেটা হয় অর্থাৎ বাঁ হাতে সব কাজ করে অথবা কেউ যদি টেরা হয় তা হলেও সে বেশি শ্রদ্ধা পায় আর পাঁচজনের কাছ থেকে। সবাই তাকে ঈর্ষা করে।

    আরও দেখুন
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বুক শেল্ফ
    Library
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বিনামূল্যে বই
    অনলাইন বই
    বাংলা কুইজ গেম

    .

    ৮.

    গ্রীষ্মকালে তারা ব্যাঙের মতো হয়ে যায়। সন্ধ্যার অন্ধকার ঘন হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তারা কয়লাবোঝাই জাহাজ অথবা ধোবানীদের নৌকো থেকে সেন নদীর জলে ঝাঁপ দেয়। এমনি করে নির্লজ্জভাবে তারা তাদের শালীনতাবোধ বিসর্জন দিয়ে পুলিশ আইন ভঙ্গ করে। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরে না। অনেক সময় তাদের এই কাজের ফলে এক নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা হয় রাজপথে। অনেকে তাদের তাড়া করে।

    কখনও কখনও দেখা যায় কোনও কোনও ভবঘুরে ছেলে লিখতে-পড়তে পারে। কেউ কেউ আবার ছবি আঁকতে পারে। একজন অন্যজনকে শেখায়। ১৮১৫ সাল থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে ভবঘুরে ছেলেরা তুর্কিদের ডাক নকল করে এবং ১৮৪৫ সালের মধ্যে তারা ছবি আঁকতে শেখে।

    কোনও এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় রাজা লুই ফিলিপ যখন পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তখন তিনি পথের ধারে দেখেন একটি বেঁটে-খাটো ভবঘুরে ছেলে একটা স্তম্ভের উপর এক সামন্তের মূর্তি আঁকছিল। রাজা লুই ফিলিপ তাঁর পিতার মতোই অমায়িক এবং মধুর স্বভাবের ছিলেন। তিনি ছেলেটাকে তুলে ধরে ছবিটাকে শেষ করার সুযোগ করে দেন। তার পর আঁকার কাজ হয়ে গেলে তাকে একটা মুদ্রা পুরস্কারস্বরূপ দান করেন।

    ভবঘুরে ছেলেরা যে কোনও বিশৃঙ্খলা আর গোলমাল ভালোবাসে। যাজকদের তারা ঘৃণা করে। একবার ৬৯ নম্বর একটা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে একটা ভবঘুরে ছেলে বিদ্রুপাত্মক অঙ্গভঙ্গি করে। যখন তাকে বলা হয় এ কাজ কেন সে করল তখন সে উত্তর। করেছিল ওখানে ছোট গির্জার এক যাজক থাকে। কিন্তু ভলতেয়ারের মতো ভবঘুরে ছেলেদের ধর্মে বিশ্বাস না থাকলেও তাদের কাউকে যদি কয়ের বয়’ বা প্রার্থনার স্তোত্ৰগানের কাজ দেওয়া হত তা হলে সে কাজ সে সুষ্ঠুভাবে করত। ভবঘুরে ছেলেদের জীবনে দুটো উচ্চাভিলাষ কখনও পূরণ হয় না। তাদের একটা উচ্চাভিলাষ হল সরকারের পতন ঘটানো আর একটা উচ্চাভিলাষ হল তাদের ছেঁড়া পায়জামায় তালি লাগানো।

    প্রতিটি ভবঘুরে ছেলেই প্যারিসের সব পুলিশকে চেনে। তাদের সবার নামও জানে। পুলিশদের জীবনের সব কথা তারা জানে। তাদের স্মৃতিগুলোকে ভবঘুরে ছেলেরা গেঁথে রাখে মনের মধ্যে। কোনও পুলিশ সম্বন্ধে কোনও ভবঘুরে ছেলেকে যদি কোনও কিছু জিজ্ঞাসা করা হয় তা হলে সে অকুণ্ঠভাবে বলবে, ওই পুলিশটা হল একটা ভণ্ড, প্রতারক,… ওই পুলিশটা হল একটা নোংরা শুয়োর… ওই পুলিশটাকে দেখলে হাসি পায়।

    .

    ৯.

    সার্কাসের ক্লাউন ভাড় পোকেলিনের মধ্যে ভবঘুরে ছেলেদের একটা ভাব দেখা যায়। পোকোলিনের জন্ম হয় লে হ্যাঁনেতে। বোমারসাই-এর মধ্যেও এই ভাব দেখা যায়।

    ভবঘুরেরা সাধারণত আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন, পরিহাসরসিক এবং দুর্বিনীত। তাদের দাঁতগুলো খারাপ, কারণ তারা কম খায়। তাদের চোখগুলো সুন্দর, কারণ তাদের বুদ্ধি তীক্ষ্ণ। জেহোভা যদি একবার হাতছানি দিয়ে ডাকে তা হলে তারা স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাবে। তারা হাত-পা দিয়ে লড়াই করে। তারা যে কোনও দিকে যে কোনও কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারে। তারা কখনও রাস্তার ধারে খালে খেলা করে, আবার কখনও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। তাদের ঔদ্ধত্য বা বিদ্রোহী ভাব বন্দুকের গুলির ভয় করে না। তারা খেলা করতে করতেই বীর হয়ে উঠতে পারে। খেলার ছলেই বীরত্ব দেখায়। থিবস্-এর ছেলেদের মতো সিংহের লেজ ধরে টানাটানি করে। জয়ঢাকের বাজনা শুনেই ‘আহা বলে চিৎকার করতে থাকে। মুহূর্ত মধ্যে তারা সাধারণ ছেলে থেকে দৈত্য-দানবে পরিণত হয়।

    এককথায় তারা অসুখী বলেই আমোদ-প্রমোদের দিকে বেশি নজর দেয়।

    .

    ১০.

    প্যারিসের বর্তমান ভবঘুরে ছেলেরা রোমের অধীনস্থ গ্রিক ছেলেদের মতো। তাদের ললাটে আছে প্রাচীন জগতের ছাপ। তারা একদিকে জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, আবার একদিকে এক দুরারোগ্য ব্যাধি, যে ব্যাধি অবশ্যই সারিয়ে তুলঁতে হবে। কিন্তু কেমন করে? আলোর দ্বারা। যে আলো সমগ্রতা দান করে, যে আলো মনের অন্ধকার দূর করে, মনকে আলোকিত করে।

    সমস্ত ফলপ্রসূ সামাজিক প্রবৃত্তিগুলো জ্ঞান, সাহিত্য, শিক্ষা প্রভৃতি থেকে জন্মলাভ করে। শিক্ষা আর প্রকৃত জ্ঞানের আলোই পূর্ণতা দান করে। আজ হোক কাল হোক, ব্যাপক লোকশিক্ষাই পূর্ণ সত্য প্রতিষ্ঠা করবে সারা দেশে। আজ যারা দেশের শাসনকর্তা তাদের ঠিক করতে হবে, প্যারিসের ছেলেরা সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠবে, না পথে পথে ঘুরে বেড়াবে। আজকের এই ভবঘুরে ছেলেরাই প্যারিসের ভবিষ্যৎ, আর প্যারিস হচ্ছে সারা দুনিয়ার ভবিষ্যৎ।

    প্যারিস হচ্ছে মানবজাতির মাথার ছাদ। এই বিশাল জনবহুল শহর একাধারে প্রাচীন এবং বর্তমান জীবনযাত্রার জীবন্ত এবং শ্রেষ্ঠ প্রতীক। প্যারিসকে দেখা মানেই ইতিহাসের গতিপ্রকৃতিকে প্রত্যক্ষ করা। জগতে কী এমন আছে যা প্যারিসে নেই? তার মধ্যে আছে ভবিষ্যদ্বক্তা এবং রাজার সৃষ্টিকর্তা, রাজনীতিবিদ আর জাদুকর। রোম একদিন একজন অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত বারবণিতাকে সিংহাসনে বসিয়েছিল আর প্যারিসে তেমনি একদিন একজন সাধারণ নিম্নমানের মেয়েকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। ফ্রান্সের রাজা পঞ্চদশ লুই যদি ক্লডিয়াসের সমকক্ষ হন তা হলে মাদাম দু ব্যারি অবশ্যই মেসালিনার থেকে ভালো ছিলেন। যদিও পুটার্ক বলতেন অত্যাচারীরা বেশিদিন বাঁচে না তথাপি সুন্না আর ডোমিসিয়ানের অধীনে রোমকে অত্যাচার ভোগ করতে হয়। কিন্তু রোমের মানুষ নরকের লেথি নদীর মতো টাইবার নদীতে স্নান করেই সব অত্যাচারের কথা ভুলে যেত। কিন্তু প্যারিসের লোকরা বিদ্রোহ করতে জানে।

    জগতের কোথাও ভালো-মন্দ এমন কোনও দিক নেই যা প্যারিসে নেই। এখানকার হোটেলে-রেস্তোরাঁয় যেমন প্রতীক্ষমানা বারবণিতা পাওয়া যায় তেমনি এই প্যারিসেরই কোনও হোটেলে একদিন ডেভিড দ্য অ্যাঙ্গার্স, বলজাক আর শার্লকের মতো প্রতিষ্ঠাবান ব্যক্তিরা একসঙ্গে বসে থাকতেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের জগতে তার প্রাধান্য সর্বাধিক। ওর প্রতিভা বিকশিত হয়ে ওঠে তার ছত্রচ্ছায়ায়। এ শহরের একদিকে যেমন অ্যাডনিস তার দ্বাদশ চক্রবিশিষ্ট বজ্রবিদ্যুতের রথে চড়ে চলে যায়, তেমনি তার অন্য দিক দিয়ে সাইলেনাস গাধার পিঠে চেপে চলে যায়।

    প্যারিসই হল সারা জগতের এক ক্ষুদ্র প্রতিরূপ। জগতের দেখার মতো যত সব সভ্যতা ও বর্বরতা আছে সেইসব সভ্যতা বর্বরতার দ্বৈত উপাদানে গড়া যেন এই প্যারিস। তাই তার গিলোটিন না থাকাটাই অস্বাভাবিক হত তার পক্ষে। এথেন্স, রোম, সাইবারিস, জেরুজালেম, পন্তিন প্রভৃতি সব নগরী প্যারিসের মধ্যেই আছে। প্লেস দ্য গ্রিভে যদি মাঝে মাঝে দু’একটা ফাঁসি না হত তা হলে অবিমিশ্র অবাধ একটানা আনন্দ-উৎসব ভালো লাগবে কেন? সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে আবার আইন ভালো কাজই করেছে।

    .

    ১১.

    প্যারিসে কোনও কিছুরই সীমা-পরিসীমা বলে কিছু নেই। যে পরিমাণ প্রভুত্ব সে করে এসেছে দীর্ঘকাল ধরে সে পরিমাণ প্রভুত্ব আর কোনও শহর করতে পারেনি কোনও দিন। আবার এখানকার লোকেরা বিজিতদের বিদ্রূপ করার ব্যাপারেও সিদ্ধহস্ত। আলেকজান্ডার একদিন এথেন্সের অধিবাসীদের বলেছিলেন, আমি শুধু তোমাদের সন্তুষ্ট করতে চাই। প্যারিস শুধু আইন প্রণয়ন করে না; সে নিত্য নতুন অনেক ফ্যাশানও সৃষ্টি করে। আবার শুধু ফ্যাশান নয়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনারও জন্ম দেয় সে। প্যারিস যখন নির্বোধ হয়ে থাকে তখন সারা জগৎ নির্বোধ থাকে তার সঙ্গে। আবার প্যারিস যখন নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং স্বীকার করে, ‘আমি কত বোকা!’ তখন সারা জগতের চোখ খুলে যায়। তখন সারা জগতের পানে তাকিয়ে হাসতে থাকে প্যারিস। কী আশ্চর্য এই শহর! তার আনন্দোচ্ছলতা বিদ্যুতের চমক; তার চঞ্চলতায় রাজার রাজদণ্ড কেপে ওঠে। তার মুখে মেঘ নেমে এলে ঝড়ের সৃষ্টি হয়। আগ্নেয়গিরির অগ্নদগারের মতো তার অট্টহাসিতে সমস্ত জগৎ কাঁপতে কাঁপতে ফেটে পড়ে। তার বিস্ফোরণ, বিক্ষোভ, তার সংকট, শিল্প সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ কীর্তিসমূহ, তার কাব্য-মহাকাব্য সারা জগতে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে তার অশালীনতা ও অধর্মাচরণের কথাও সারা জগৎ জানতে পারে। সব দিক দিয়ে সে সত্যিই অপূর্ব। তার ১৪ জুলাই-এর বিক্ষুব্ধ কর্মাকর্ম সারা জগৎকে মুক্ত করে। ৪ আগস্ট এই শহরে যা ঘটে তাতে হাজার বছরের সামন্তবাদ মাত্র তিন ঘণ্টায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। তার যুক্তিবাদ দিয়ে বৈশ্বিক ইচ্ছার হাতকে শক্ত করে। সে নিজেকে এক মহৎ ভাবাদর্শে সমুন্নত করে সেই আদর্শের আলো দিয়ে ওয়াশিংটন, কোশিউষ্ণু, বলিভার, বায়রন আর গ্যারিবল্ডির আত্মাকে আলোকিত করে। পৃথিবীর যেখানেই নতুন যুগের প্রভাত হয়েছে, সেখানেই তার আত্মিক উপস্থিতির প্রভাব প্রত্যক্ষ করা গেছে। যেমন ১৭৭৯ সালে বোল্টনে, ১৮৪৮ সালে পেস্থে, ১৮৬১ সালে পালার্মোতে। আমেরিকায় ব্রিটিশবিরোধী উচ্ছেদবাদীদের কানে কানে স্বাধীনতার মন্ত্র প্যারিসই উচ্চারণ করে। জলের ধারে গাছের ছায়াবনে সমবেত আনকোনার দেশপ্রেমিক বিপ্লবীদের সে-ই প্রেরণা দান করে। প্যারিস থেকে যে স্বাধীনতার হাওয়া বয় সেই হাওয়াতেই মিসসালোদিতে বায়রনের মৃত্যু ঘটায়। প্যারিসই ছিল সেই ভিত্তিভূমি যার উপর মিরাববা দাঁড়িয়েছিলেন, আবার প্যারিসই ছিল সেই গহ্বর যার করাল গ্রাসে রোবোস্পিয়ার পড়ে যান। তার বই, নাটক, এবং রঙ্গমঞ্চ, তার বিজ্ঞান, কলাবিদ্যা, দর্শন সমগ্র মানবজাতির কর্ম ও চিন্তার মূলমন্ত্র হয়ে ওঠে–পাস্কেল, রেনার, কর্নেল, দেকার্তে, রুশো, ভলতেয়ার, মলিয়ের সকল যুগের মনীষী হিসেবে স্বীকৃত হন। তার ভাষা বিশ্বমানবের ভাষা হয়ে ওঠে, যে ভাষা বিশ্বের সকল জাতির মানুষের মনে স্বাধীনতা এবং প্রগতির ভাবধারা জাগায়। ১৭৮৯ সালের পর থেকে সকল দেশের বীরপুরুষেরা প্যারিসের কবি এবং চিন্তাশীলদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। এত কিছু সত্ত্বেও প্যারিসের পথে পথে ভবঘুরে ছেলেরা খেলা করে বেড়ায়। যে প্যারিসের বিরাট প্রতিভা জগৎকে পথ দেখায় সেই প্যারিসেরই ভবঘুরে ছেলেরা পোড়া কয়লা দিয়ে থিসিয়াসের মন্দিরের দেয়ালে নানারকম মূর্তি এঁকে চলে।

    এই হল প্যারিস শহর। তার চিমনির ধোয়া জগতের চিন্তা জোগায়। কিছু কাঠ, কাদা মাটি আর পাথর দিয়ে গড়া সামান্য একটা শহর হলেও তার একটা নৈতিক সত্তা আছে। প্যারিস মহান থেকে মহত্ত্বর; বিরাট সমৃদ্ধির অন্ত নেই তার। কিন্তু কেন? কারণ সে সবকিছুতে সাহস করে এগিয়ে যায়।

    সাহসই হচ্ছে যে কোনও অগ্রগতির মূল ও ফলশ্রুতি। যে কোনও বড় রকমের জয়ই হল সাহসের অল্পবিস্তর পুরস্কার। ফরাসি বিপ্লবের সংগঠনের জন্য মন্টেন্ধুর ভবিষ্যদ্বাণীই যথেষ্ট ছিল না। দিদেরোর প্রচারের জন্য ফরাসি বিপ্লব ঘটেনি, বোমারসাই ঘোষণা করেছিলেন বলেও তা ঘটেনি, কন্দরসেতের পরিকল্পনার জন্যও তা ঘটেনি, আরুয়েৎ পথ পরিষ্কার করেছিলেন এবং রুশো তার স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেও তা ঘটেনি এই ফরাসি বিপ্লব ঘটানোর জন্য দাঁতনের দরকার ছিল।

    মানবজাতিকে যদি এগিয়ে যেতে হয় তা হলে তার সামনে সাহসিকতার গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত থাকা দরকার। সাহসিকতার কাজই ইতিহাসের পাতাকে উজ্জ্বল করে তোলে, মানুষের আত্মাকে আলোকিত করে। যে কোনও সূর্যোদয় বা নতুন যুগের সূচনার পেছনেই আছে সাহসিকতা। যে কোনও কাজে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া, প্রতিকূল শক্তিকে অমান্য করা, অধ্যবসায়সহকারে কাজ করা, নিজের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা, ভাগ্যের সঙ্গে সংগ্রাম করা, যে কোনও বিপর্যয়ে নির্ভীক থাকা, যে কোনও অন্যায় ও অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, আদর্শে অবিচল থাকা–এইসব দৃষ্টান্ত এবং প্রেরণার অগ্নিস্ফুলিঙ্গই মানুষকে মহৎ কাজে অনুপ্রাণিত করে তোলে।

    প্রমিথিয়াসের মশাল এবং কাম্বোনের কর্কশ কণ্ঠ থেকে একই বিদ্যুৎ নির্গত হয়।

    .

    ১২.

    প্যারিসের জনগণ সম্বন্ধে কোনও কথা বলতে গেলে বলতে হয় সেখানকার পূর্ণবয়স্ক যে কোনও ব্যক্তি আসলে যেন এক একটা ভবঘুরে ছেলে। সেখানকার ভবঘুরে ছেলেদের কথা বলা মানে শহরের কথা বলা। এই কারণেই আমরা একটা চড়ুইপাখির ছদ্মবেশে একটা ঈগলকে চিহ্নিত করেছি।

    প্যারিসের আসল অধিবাসীদের পাওয়া যাবে রাজপথের পেছন দিকে সেইসব গলির অন্ধকারে যেখানে মানুষ কাজ করে আর নীরবে দুঃখভোগ করে। কাজ আর কষ্টভোগই হল মানুষের জীবনের দুটো দিক। সামান্য সাধারণ মানুষের উইঢিবির মধ্যেই থাকে কত অদ্ভুত মানুষ। সিসারো এইসব মানুষদের বলতেন জনতা। বার্ক বলতেন, জনতা, গণশক্তি, জনসাধারণ… কথা সহজেই বলা যায়। কথায় কী যায়-আসে? যদি এই জনগণ খালি পায়ে হাঁটে বা তারা পড়তে শিখতে না পারে তা হলে তাতে কীই-বা যায়-আসে? তা হলে কি সেই অজুহাতে তাদের ত্যাগ করবে এবং তাদের দুর্দশাকে কি অভিশাপ বলবে? কিন্তু আলো কি কোনওদিন জনগণের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না? আলো আরও আলো… এবং কে জানে সেই আলোর প্রভাবেই একদিন অস্বচ্ছ বস্তু স্বচ্ছ হয়ে উঠবে। যে কোনও বিপ্লব কি জনগণের রূপান্তর নয়? দার্শনিকরা যদি জনগণকে ঠিকমতো শিক্ষাদান করেন, যদি তারা মার্শাই গাইতে গাইতে জনগণের সঙ্গে মিশে গিয়ে সূর্যোদয়ের দিকে এগিয়ে যান, তাদের মধ্যে প্রভূত উদ্যম আর উদ্দীপনার ধারাকে উদ্গত করাতে পারেন তা হলে এই জনগণই একদিন এক মহতী শক্তিতে পরিণত হয়ে উঠবে। তাদের নবজাগ্রত নীতিবোধ এবং গুণানুশীলনের জ্বলন্ত চুল্লি থেকে বেরিয়ে আসবে এক উজ্জ্বল অগ্নিশিখা। তা হলে তখন এই জনগণের অনাবৃত হাত-পা, ছেঁড়া ময়লা পোশাক, অজ্ঞতা, দারিদ্র এবং তাদের জীবনের অন্ধকার দিকগুলোকে আদর্শ পূরণের কাজে লাগানো যাবে সফলভাবে। জনগণের অন্তরের দিকে তাকালেই এই সত্য বোঝা যাবে। যে বালুকারাশির উপর দিয়ে আমরা হেঁটে যাই সেই বালুকারাশি চুল্লির মধ্যে ফেলে তাকে গলিয়ে স্বচ্ছ কাঁচে পরিণত করা যেতে পারে, যে কাঁচের স্বচ্ছতার সহায়তায় গ্যালিলিও, নিউটন একদিন দূর আকাশে তাকিয়ে নক্ষত্রমণ্ডলকে নিরীক্ষণ করতেন।

    .

    ১৩.

    দ্বিতীয় খণ্ডে আমরা যে কাহিনী বর্ণনা করেছি সে কাহিনী ঘটার সাত-আট বছর পর ভুলভার্দ দ্য তেম্পল ও শ্যাতো দ্য ইয়তে এগারো-বারো বছরের এক ভবঘুরে ছেলেকে ঘঘারাফেরা করতে দেখা যায়। এই ধরনের ভবঘুরে ছেলের কথা আমরা এর আগেই বলেছি। তফাৎ শুধু এই যে, হাসির আলোয় মুখখানা তার উজ্জ্বল হয়ে থাকলেও অন্তরটা ছিল তার শূন্যতা আর অন্ধকারে ভরা। এই ছেলেটা যে পায়জামা পরত সেটা তার বাবার কাছে থেকে পায়নি সে, আবার মেয়েদের মতো যে ব্লাউজটা সে পরত সে ব্লাউজটাও তার মায়ের নয়। এইসব পোশাক লোকে তাকে দান করেছে। তবু তার বাবা-মা দু জনই আছে। কিন্তু তার বাবা তাকে কখনও ভাবতে শেখায়নি এবং তার মা তাকে কখনও ভালোবাসেনি! এইসব ছেলেদের সকরুণ অবস্থা দেখলে সত্যিই মায়া লাগে, কারণ তাদের বাবা-মা থাকলেও তারা অনাথ শিশুর মতোই অসহায়। বাড়ি থেকে পথেই সে বেশি সুখে থাকে। পথের পাথর তাদের মা’র অন্তরের থেকে বেশি কঠিন নয়।

    যে ছেলেটার কথা আমরা বলছি সে ছেলেটার বয়স কম, তার মুখখানা স্নান, সদাসতর্ক, নতুন, আবার একই সঙ্গে প্রাণচঞ্চল ও অবসাদগ্রস্ত। সে যেখানে-সেখানে ছুটে বেড়ায়, খেলা করে, পথের ধারের খালে সে দাপাদাপি করে। কেউ তাকে ভবঘুরে ছেলে বললে সে হেসে ওঠে। তার কোনও চালচুলো বা নির্দিষ্ট বাসস্থান নেই। তবু সে সুখী, কারণ সে স্বাধীন। বালক যখন পূর্ণবয়স্ক মানুষে পরিণত হয় তখন তারা সমাজব্যবস্থার চক্রের সঙ্গে বিঘূর্ণিত হতে থাকে, সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হয় তাকে। কিন্তু যতদিন তারা ছোট থাকে, তারা সব দিক দিয়ে অব্যাহতি পায়।

    বাবা-মা’র দ্বারা অবহেলিত ও পরিত্যক্তপ্রায় হলেও মাসের মধ্যে দু তিনবার ছেলেটা আপন মনে বলে ওঠে, আমি মাকে দেখতে যাব।’ এই বলে ছেলেটি বুলভার্দ অঞ্চল ছেড়ে পোর্তে সেন্ট মার্তিন পার হয়ে নদীর বাঁধের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। তার পর নদী পার হয়ে শ্রমিকবস্তির পাশ দিয়ে সালপেত্রিয়ের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু কোথায়? আর কোথাও নয়, ৫০-৫২ নম্বর সেই গর্বোর সেই ব্যারাক বাড়িটায় যায়। সেই সময় বাড়িটাতে কয়েকটা ঘর খালি ছিল এবং তার উপর বাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে এই মর্মে একটি নোটিশ লাগানো ছিল। বাড়িটাতে তখন এমন কতকগুলি পরিবার বাস করত যারা পরস্পরকে চিনত না।

    ভলজাঁ যখন সেই বাড়িতে ছিল তখন প্রধান ভাড়াটে’ নামে অভিহিত যে একটা বুড়ি বাড়িটা দেখাশোনা করত সে মারা যায়। তার জায়গায় যে বুড়িটা তার কাজ করতে থাকে সে-ও ছিল ঠিক আগেকার বুড়িটার মতো। নতুন যে বুড়িটা আসে তার নাম ছিল মাদাম বুর্গন, তার জীবনে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না।

    গর্বের বাড়িটাতে তখন যে সব ভাড়াটে ছিল তাদের মধ্যে সবচেয়ে দৈন্যদশায় থাকত একটি পরিবার। সে পরিবারের ছিল চারটি প্রাণী–বাবা, মা, আর দুটি মেয়ে। মেয়ে দুটিই বড় ছিল। কিন্তু একটি মাত্র ছোট ঘরে একসঙ্গে থাকত তারা।

    একমাত্র দুর্দশা ছাড়া ওই পরিবারের উল্লেখযোগ্য আর কিছুই ছিল না। এই পরিবারের কর্তা যখন এ বাড়িতে আসে তখন সে বলে তার নাম জনদ্ৰেত্তে। এই পরিবারেরই হল সেই নগ্নপদ ভবঘুরে ছেলেটা। সে যেন সেখানে গিয়েছিল শুধু দারিদ্র্য আর দুরবস্থার দ্বারা সম্ভাষিত হবার জন্য। প্রায়ান্ধকার হিমশীতল ঘরখানার মতোই তার বাবা-মা’র মুখগুলো ছিল ম্লান আর হিমশীতল। সে মুখে কোনও হাসি ছিল না।

    ছেলেটা বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তার বাবা-মা তাকে জিজ্ঞাসা করে, কোথা থেকে এলি?

    ছেলেটা উত্তর করে, পথ থেকে। আবার ছেলেটা যখন বাড়ি থেকে রওনা হয় তখন আবার প্রশ্ন করে, কোথায় যাবি?’ ছেলেটা তখন উত্তর করে, ‘পথেই ফিরে যাচ্ছি। সব শেষে তার মা বলে, কেন এসেছিলি?’

    এ কথার উত্তর দেয়নি ছেলেটা। এই ধরনের স্নেহহীন, মমতাহীন পরিবেশের মধ্যে বেড়ে ওঠে ছেলেটা। কিন্তু তার প্রতি তার বাবা-মা’র এই ঔদাসীন্য এবং নির্মমতা তাকে নতুন করে বিচলিত করতে পারেনি কিছুমাত্র। সে কারও ওপর কোনও দোষারোপ করত না

    এর জন্য। সন্তানের প্রতি পিতামাতার কী রকম ব্যবহার করা উচিত সে সম্বন্ধে তার কোনও ধারণাই ছিল না।

    বুলভার্দ অঞ্চলে ছেলেটাকে গ্রাম্ৰোশে বলে ডাকত।

    তবে ছেলেটার মা তার মেয়েদের ভালোবাসত। তার বাবা জনত্রেত্তে যে ঘরটাতে থাকত তার পাশের ঘরেই একটা কপর্দকহীন গরিব যুবক থাকত। তার নাম ছিল মঁসিয়ে মেরিয়াস।

    এখন এই মঁসিয়ে মেরিয়াস সম্বন্ধে কিছু বলতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটয়লার্স অভ দ্য সী – ভিক্টর হুগো
    Next Article কেন আমি নাস্তিক – ভগৎ সিং

    Related Articles

    ভিক্টর হুগো

    টয়লার্স অভ দ্য সী – ভিক্টর হুগো

    November 6, 2025
    ভিক্টর হুগো

    দ্য ম্যান হু লাফস – ভিক্টর হুগো

    November 6, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }