Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লে মিজারেবল – ভিক্টর হুগো

    ভিক্টর হুগো এক পাতা গল্প1486 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪.০৫ মনের যে বেদনাটা তীব্র ছিল

    পঞ্চম পরিচ্ছেদ

    ১.

    এদিকে মাসকতক আগে কসেত্তে’র মনের যে বেদনাটা তীব্র ছিল, আজ সেটা ধীরে ধীরে কমে আসতে লাগল। যৌবনের স্বাভাবিক প্রাণচঞ্চলতা, বসন্তের উন্মাদনা, তার বাবার প্রতি ভালোবাসা, পাখির গান আর ফুলের উজ্জ্বলতা এক স্নিগ্ধ বিস্মৃতির প্রলেপ বুলিয়ে দিচ্ছিল যেন তার মনের ওপর। তবে কি তার মনের মধ্যে গোপনে জ্বলতে থাকা অতৃপ্ত প্রেমের আগুনটা নিবে গিয়েছিল একেবারে, না সেটা একরাশ ছাই-এর অন্তরালে তখনও জ্বলছিল? কিন্তু সে যাই হোক, সে কোনও বেদনার আঘাত অনুভব করতে পারছিল না তার মনে। একদিন মেরিয়াসের কথাটা মনে হতেই সে ভাবল, আর আমি তার কথা ভাবি না।

    কয়েকদিন পর কসেত্তে তাদের বাগানের গেটের কাছ থেকে দেখল সুদর্শন যুবকবয়সী এক অশ্বারোহী সামরিক অফিসার রাস্তা দিয়ে ঘোড়ায় চেপে যাচ্ছে। তার পোশাকটা ছিল বেশ চকচকে, মুখে মোচ, চমৎকার চুল, সুন্দর নীল চোখ, কোমরে তরবারি। তার উদ্ধত অহঙ্কারী চেহারাটা ছিল মেরিয়াসের একেবারে বিপরীত। সে তখন একটা সিগারেট খাচ্ছিল। কসেত্তে ভাবল তাদের পাড়ায় র‍্যু দ্য বেবিলনের ব্যারাক বা সৈন্যনিবাসে যে সেনাদল আছে ওই অশ্বারোহী যুবক সেই সেনাদলের অন্তর্গত।

    পরদিন সেই নির্দিষ্ট সময়ে সেই অশ্বারোহী যুবককে দেখতে পেল কসেত্তে। তার পর থেকে রোজই সে দেখতে পেত তাকে একই সময়ে। ক্রমে সেই সেনাদলের অন্যান্য অফিসারেরাও লক্ষ করল ওই অঞ্চলে ঝোপে-ঝাড়ে ভর্তি অযত্নলালিত অব্যবহৃত একটা বাগানের মধ্যে একটি সুন্দরী তরুণী দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক যখন তাদের লেফটেন্যান্ট থিওদুল গিলেনৰ্মাদ সেই পথে যায়।

    সেই সব অফিসারেরা একদিন থিওদুলকে বলল, তোমার ওপর মেয়েটার নজর পড়েছে। থিওদুল তখন তার উত্তরে বলল, কিন্তু যেসব মেয়ে আমার দিকে তাকায় তাদের দিকে তাকাবার মতো সময় কোথায় আমার?

    এদিকে মেরিয়াস তখন কসেত্তেকে দেখতে না পেয়ে গম্ভীর হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল! সে শুধু তখন মনে মনে এই কথা বলছিল, মরার আগে তাকে যদি একবার দেখতে পেতাম। কিন্তু যখন কসেত্তে এই যুবক অফিসারের দিকে তাকিয়ে থাকত তখন যদি তাকে সেই অবস্থায় মেরিয়াস একবার দেখত তা হলে ঘটনাস্থলেই মারা যেত মেরিয়াস।

    কিন্তু এতে দোষটা কার? কারওরই না। মেরিয়াস ছিল এমনই এক যুবক যে একবার দুঃখে পড়লে সে দুঃখকে আলিঙ্গন করে থাকে, তাকে বুকে রেখে লালন করে চলে, কিন্তু কসেত্তে দুঃখকে গভীরভাবে অনুভব করার পর তার থেকে মুক্ত করে ফেলে নিজেকে। বেশিদিন সে দুঃখের সঙ্গে জড়িয়ে রাখে না নিজেকে।

    আরও দেখুন
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা বই
    বাংলা কুইজ গেম
    বাংলা কমিকস
    বুক শেল্ফ
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা ই-বুক রিডার
    Books
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা উপন্যাস

    কসেত্তে’র মনের অবস্থাটা তখন ছিল কোনও নারীসত্তার পক্ষে সত্যিই বিপজ্জনক। সে মন ছিল উদ্দাম এবং বন্ধুবিহীন। আসলে নিঃসঙ্গ কোনও তরুণীর মন হচ্ছে আঙুরলতার মতোই। আঙুরলতা যেমন সামনে কোনও মর্মরমূর্তি বা কোনও পান্থশালায় স্তম্ভ বা কোনও গাছকে হাতের কাছে পেলেই তাকে জড়িয়ে ধরে, তরুণীর নিঃসঙ্গ মনও তেমনি হাতের কাছে পুরুষকে একবার ভালো লেগে গেলেই তাকে জড়িয়ে ধরতে চায়। ধনী-গরিব যাই হোক, যেসব তরুণীর মা থাকে না তাদের বিপদ আরও বেশি। ধন বা ঐশ্বর্য কাউকে কখনও কোনও ভুল-ত্রুটির হাত থেকে বাঁচাতে পারে না। অনেক সময় কোনও যুবকের সঙ্গে মিশতে গিয়ে গরমিল দেখা দেয়। দু জনের আত্মায় মিল হয় না। বাইরের চেহারা ও বেশভূষা নয়, পুরুষদের মনই হচ্ছে নারীদের আশ্রয়স্থল। অনেক সময় দেখা যায় বংশগৌরবহীন এক অচেনা অজানা যুবক বাইরে নিঃস্ব হয়েও অন্তরের দিক থেকে কত উন্নত চিন্তা ও ভাবসম্পদে পরিপূর্ণ, এক মর্মরমূর্তির মতোই প্রস্তরকঠিন এক দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত তার চরিত্রগৌরব, অথচ আবার কোনও বিত্তবান ঐশ্বর্যবান যুবককে বাইরে দেখতে যা-ই মনে হোক, অন্তরের দিক থেকে কত নিঃস্ব, কত দীনহীন সে; কত সব হিংস্র চিন্তাভাবনা আর উদ্ধত আবেগ আর অনুভূতিতে সে অন্তর কত পরিপূর্ণ–যেন আঙুরলতার দ্বারা আলিঙ্গিত যে কোনও পান্থশালার কাষ্ঠস্তম্ভ।

    আরও দেখুন
    বাংলা কবিতা
    বাংলা কুইজ গেম
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ভাষা
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা কমিকস
    সেবা প্রকাশনী বই
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    ই-বই ডাউনলোড

    কিন্তু কসেত্তে’র অন্তরের অবস্থাটা সত্যি সত্যিই কেমন ছিল? আসলে তার প্রেমাবেগটা যেন তখন ঘুমিয়ে ছিল তার অন্তরের গভীরে। তার অন্তরের উপর দিকে কিছু তরল আবেগের অশান্ত অস্থির চঞ্চলতা থাকলেও তার প্রকৃত প্রেমসত্তাটি এক গভীরতর প্রদেশে স্তব্ধ হয়ে ছিল এক প্রশান্ত গাম্ভীর্যে। সেই সুদর্শন যুবক অফিসারের কথাটা সে তার মনের উপরিপৃষ্ঠে ভাবলেও তার সে মনের গভীরে কি মেরিয়াসের স্মৃতিটার তখনও কিছু অবশিষ্ট ছিল? সে হয়তো নিজেই তা জানত না।

    এমন সময় একটা বিশেষ ঘটনা ঘটল।

    .

    ২.

    সেবার এপ্রিল মাসের প্রথম পক্ষে একবার অল্প কিছুদিনের জন্য বাইরে বেড়াতে গেল ভুলজা। আমরা জানি ভলজাঁ মাঝে মাঝে এমনি করে দু তিন দিনের জন্য বাইরে যেত। কিন্তু কোথায় কী জন্য যেত তা কসেত্তে জানত না। সেদিন ভলজাঁ যাবার সময় বলে গেল তার ফিরতে দু দিন কি তিন দিন দেরি হবে। এবার সে একটা গাড়িতে করে কসেত্তেকে নিয়ে লা প্ল্যানশের পর্যন্ত গেল। তার পর গাড়ি থেকে নেমে সে কোথায় চলে গেল। গাড়িটা কসেত্তেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এল। সংসারখরচের টাকাপয়সায় টান পড়লেই ভলজাঁ এইভাবে চলে যেত মাঝে মাঝে।

    আরও দেখুন
    অনলাইন বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    ই-বই ডাউনলোড
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা অডিওবুক
    Books
    বাংলা গল্প
    বুক শেল্ফ

    ভলজাঁ চলে যেতে কসেত্তে সন্ধ্যাটা তার ঘরেই একা একা কাটাত। একঘেয়েমিটা কাটাবার জন্য এক একসময় সে পিয়ানো-অর্গানটা বাজিয়ে গান করত। গান শেষ করে ভাবত সে।

    একদিন সন্ধ্যার সময় হঠাৎ সে বাগানে কার পদশব্দ শুনতে পেল।

    তখন রাত্রি দশটা বাজে। তার বাবা তখন বাড়িতে ছিল না এবং তুস তখন শুয়ে পড়েছে। কসেত্তে একটা বন্ধ জানালার ধারে গিয়ে কান পেতে শব্দটা শোনার চেষ্টা করল।

    সেই পদশব্দ শুনে কসেত্তে বুঝল কেউ খুব ধীর পায়ে আসছে। কসেত্তে এবার তার শোবার ঘরে ছুটে গিয়ে বন্ধ জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরে দৃষ্টি চালিয়ে দেখতে লাগল। সেদিন ছিল জ্যোত্মারাত। পূর্ণ চাঁদের আলোয় সব কিছু দেখা যাচ্ছিল।

    কিন্তু কোনও লোককে দেখতে পেল না কসেত্তে। সে জানালাটা খুলে দিল। দেখল বাগানে কোনও লোক নেই। গেটের ওপারে রাস্তাটাও একেবারে জনশূন্য।

    আরও দেখুন
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    পিডিএফ
    বাংলা ভাষা
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা সাহিত্য
    বই
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার

    কসেত্তে ভাবল, আসলে ওটা কারও পদশব্দ নয়, তার মনের ভুল। সে ওয়েবার রচিত যে কোরাস গানটা গেয়েছে একটু আগে সেই গানের দ্বারা সৃষ্ট এক ভয়াবহ আবেশ থেকেই এ ধারণা হয়েছে। সে গান শুনে শ্রোতাদের মনের মধ্যে এমন এক ভয়াল মায়াময় অরণ্যের ছবি ভেসে ওঠে যেখানে ঘনায়মান সন্ধ্যার অন্ধকার অদৃশ্যপ্রায় শিকারিদের পায়ের দ্বারা দলিত পাতা আর হাত দিয়ে ডালপালা ভাঙার এক ভুতুড়ে শব্দ হয়।

    পরদিন গোধূলিবেলায় সন্ধ্যার কিছু আগে একা একা বেড়াচ্ছিল কসেত্তে। তার মনে সাহসের অভাব ছিল না। ভবঘুরে জীবনের অনেক অভিজ্ঞতা আছে তার জীবনে। সে কপোত নয়, সত্যিই সে লার্ক। লার্ক পাখির মতোই দূর আকাশের অনিশ্চিত অজানা শূন্যতায় অনেক ঘুরে বেড়িয়েছে সে। সে যখন বেড়াতে বেড়াতে এলোমেলোভাবে চিন্তা করছিল তখন তার কেবলি মনে হচ্ছিল কে যেন বাগানের মধ্যেই তার আশেপাশে গাছের গুঁড়ির আড়ালে চলাফেরা করছে সতর্কিত পদক্ষেপে। গতকাল রাতে যে পদশব্দ শুনেছিল এ শব্দ ঠিক তেমনি। আবার ভাবল, হাওয়ায় গাছের ডালে ডালে ঘর্ষণের ফলেই হয়তো এ শব্দ হচ্ছে।

    বাগান থেকে বেরিয়ে বাড়িতে ফিরে আসার জন্য সে যখন উঠোনটা পার হচ্ছিল তখন হঠাৎ ভয়ে চমকে উঠল সে। তার নিজের ছায়ার পাশে আর একটা মানুষের ছায়া দেখল সে। সে ছায়ামূর্তির মাথায় ছিল একটা টুপি। মূর্তিটা তার পেছনে কয়েক পা দূরে তারই দিকে এগিয়ে আসছিল।

    আরও দেখুন
    পিডিএফ
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    সেবা প্রকাশনী বই
    বুক শেল্ফ
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা গল্প
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা কুইজ গেম
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা ভাষা

    চলতে চলতে থেমে গেল কসেত্তে। ছুটে পালাল না বা ভয়ে চিৎকার করল না। স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকিয়ে তার অনুসরণকারী ছায়ামূর্তিটাকে ভালো করে দেখার চেষ্টা করল। কিন্তু আশ্চর্য! কাউকে দেখতে পেল না। সে আবার বাগানে ফিরে গিয়ে সাহসের সঙ্গে খোঁজ করতে লাগল। কিন্তু এবারও কাউকে দেখতে পেল না। তবে কি গতকালকার মতো এটাও তার মনের ভ্রান্তি! আবার এটা ভূতও নয়; ভূতেরা কখনও গোল টুপি পরে না মাথায়।

    পরদিনই বাড়ি ফিরে এল ভলজাঁ। সে এলে তাকে এ কথাটা বলল কসেত্তে। সে বলল, বোকা মেয়ে কোথাকার! মুখে এ কথাটা বললেও মনে মনে কিছুটা বিচলিত হয়ে উঠল সে।

    ভলজাঁ তখনি বাগানে গিয়ে গেটটা ভালো করে পরীক্ষা করল। কিন্তু দেখল সেটা ঠিকই আছে।

    সে রাতে মোটেই ঘুমোল না কসেত্তে। সারারাত জানালার ধারে বসে জেগে কাটাল। এক সময় আবার সেই পদশব্দটা শুনতে পেল।

    বদ্ধ জানালার ফুটোটার ভেতর দিয়ে সে দেখল বাগানের মধ্যে একটা লোক মোটা একটা লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। কসেত্তে ভয়ে চিৎকার করতে যাচ্ছিল এমন সময় এক ঝলক চাঁদের আলো লোকটির উপর পড়তেই সে দেখল তার বাবা। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল কসেত্তে। ভাবল, তার বাবা কথাটা শুনে খুবই বিচলিত হয়ে পড়েছে।

    আরও দেখুন
    বাংলা কমিকস
    Books
    বই পড়ুন
    বাংলা কবিতা
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা কুইজ গেম
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার

    কসেত্তে রাত্রিবেলায় তার ঘরের জানালার ফুটো দিয়ে দেখল পর পর দুটো রাত ভজ জেগে বাগানে ও বাড়ির সারা উঠোনটায় পাহারা দিয়ে কাটাচ্ছে।

    তৃতীয় রাত্রিতে রাত্রি প্রায় একটার সময় হঠাৎ তার বাবার ডাকে ঘুম ভেঙে গেল কসেত্তে’র। তার বাবা উঠোন থেকে এক উচ্চ হাস্যরোলের সঙ্গে তার নাম ধরে ডাকছে। বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে ড্রেসিং গাউনটা পরে জানালার ধারে গিয়ে জানালাটা খুলে দাঁড়াল। দেখল তার বাবা উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে। তার বাবা তাকে বলল, আমি তোমাকে ডাকছিলাম এই জন্যে যে সব ঠিক আছে। ওই ছায়াটার দিকে তাকিয়ে দেখ।

    এই বলে সে পাশের বাড়ির একটা চিমনির ছায়া দেখাল যে ছায়াটা উঠোনের ঘাসের উপর পড়েছে এবং সেটা দেখতে টুপিপরা একটা লোকের মতো দেখাচ্ছে।

    কসেত্তেও হাসতে লাগল। পরদিন সকালে প্রাতরাশ খাবার সময় ক’দিন আগে দেখা সেই ভুতুড়ে ছায়াটা সম্বন্ধে হাসাহাসি করতে লাগল দু জনে। সে আর এ নিয়ে ভাবল না। সে ভেবে দেখল না সে সেদিন যখন ছায়াটা দেখে তখন চাঁদ আকাশে আজকের মতো এই একই জায়গায় ছিল কি না এবং সে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখলো ছায়াটা কেন সরে যায় সেখান থেকে। মোট কথা, বাগানে সেদিন কোনও অচেনা লোক বাইরে থেকে ঢুকেছিল এই ধরনের চিন্তাটা সে সরিয়ে দিল তার মন থেকে।

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা কমিকস
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    অনলাইন বই
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    অনলাইন বুক

    কিন্তু দিনকতক পর আবার একটা ঘটনা ঘটল।

    .

    ৩.

    বাগানে রাস্তার দিকের রেলিং-এর ধারে পাথরের একটা বসার জায়গা ছিল। সেটা রাস্তা থেকে রেলিং-এর ভেতর দিয়ে হাত বাড়িয়ে ছোঁয়া যেত। একদিন সন্ধ্যার সময় কসেত্তে সেখানে একা একা বসে ছিল। ভলজাঁ তখন বাড়িতে ছিল না। কোথায় বেড়াতে বেরিয়েছিল। পাথরের বেঞ্চটার পাশে একটা ঝোঁপ ছিল। তখন এপ্রিল মাস। কসেত্তে তখন সন্ধ্যায় তার মার কথা ভাবছিল। তার মনে হচ্ছিল তার মা’র প্রেতাত্মা এই বাগানের ছায়ার মধ্যে কোথায় যেন অদৃশ্য অবস্থায় লুকিয়ে আছে।

    স্নিগ্ধ শীতল বাতাস বইছিল। শিশিরভেজা ঘাসের উপর দিয়ে বাগানটায় ঘুরে ঘুরে পায়চারি করে বেড়াতে লাগল। সে ভাবল আরও মোটা জুতো না পরলে তার ঠাণ্ডা লাগবে। তার সর্দি হবে।

    আরও দেখুন
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    Library
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    অনলাইন বই
    বাংলা সাহিত্য
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বইয়ের
    সেবা প্রকাশনীর বই

    এরপর আবার সেই পাথরের বেঞ্চের উপর বসল কসেত্তে। বসতে গিয়ে তার চোখ পড়ল তার সামনে একটা বড় পাথর পড়ে রয়েছে, অথচ এ পাথর কিছুক্ষণ আগেও ছিল না। পাথরটা নিশ্চয় নিজে থেকে এখানে আসেনি, কেউ সেটা বাইরে থেকে এনেছে। কিন্তু দেখার সঙ্গে সঙ্গেই সত্যিই ভয় পেয়ে গেল সে। পাথরটার বাস্তবতা সম্বন্ধে কোনও সন্দেহ নেই তার। কিন্তু পাথরটাকে সে ছুঁল না। সে ছুটে তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। বাগানের দিকের বাড়ির দরজাটাও তার আগে বন্ধ করে দিয়ে এসেছে। সে তুসাঁকে বলল, বাবা ফিরে এসেছেন?

    এখনও আসেননি ম্যাদময়জেল।

    ভলজাঁ যেদিন নৈশভ্রমণ করতে যায় সেদিন ফিরতে রাত হয় তার।

    কসেত্তে বলল, ঘরের জানালাগুলো বিশেষ করে বাগানের দিকের জানালা-দরজাগুলো ঠিকমতো বন্ধ করে দাও তো? ঠিকমতো খিলগুলো এঁটে দাও তো?

    তুঁসা বলল, অবশ্যই ম্যাদময়জেল। কসেত্তে জানত না এ কর্তব্যে কোনওদিন অবহেলা করে না তুসা।

    আরও দেখুন
    বাংলা ভাষা
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা গল্প
    ই-বুক রিডার
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা ই-বই
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বই

    কসেত্তে বলল, জায়গাটা বড় নির্জন।

    তুঁসা বলল, কথাটা সত্যি। বিশেষ করে মঁসিয়ে যখন বাড়িতে থাকেন না তখন আমাদের খুবই ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। কেউ আমাদের খুন করলেও কেউ দেখবার নেই। রাত্রিবেলায় হঠাৎ উঠে হয়তো দেখবে ঘরে একজন লোক ঢুকে আছে। তুমি চিৎকার করলে হয়তো তোমার গলা কেটে ফেলবে।

    কসেত্তে বলল, তালাচাবি সব ঠিক আছে তো?

    সে রাতে এত ভয় পেয়ে গিয়েছিল কসেত্তে যে সে তুসাঁকে বাগানে পাথরটাকে দেখে আসতে পর্যন্ত বলল না। সারা বাড়িটার দরজা-জানালাগুলোর খিল-কপাট ঠিকমতো বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা ভালো করে দেখে নিয়ে শুতে গেল কসেত্তে। কিন্তু সে রাতে ঠিকমতো ঘুম হল না।

    পরদিন সকালে রোদ উঠতে তার মনে হল হয়তো সেদিনের সেই পদশব্দ শোনার মতো এটাও এক ভ্রান্তি। রাত্রির ভয় দিনের আলোতে উবে গেল। তবু কিছুটা বেলার পর বাগানে গিয়ে সেই পাথরটাকে একবার দেখতে গেল কসেত্তে। পাথরটা বড়, তবু দিনের আলোতে সাহস পেয়ে পাথরটা সরাবার চেষ্টা করল সে। পাথরটা সরাতেই তার তলায় খামেভরা একটা চিঠি দেখতে পেল। খামটার উপর কোনও ঠিকানা লেখা নেই আর আঁটাও নেই। খামটা খুলে তার ভেতর ভাঁজ করা কাগজটা খুলে পড়তে লাগল কসেত্তে। আর কোনও সাধারণ কৌতূহল নয়, এবার একটা আশঙ্কা দানা বেঁধে উঠল তার মনে। কিন্তু দেখল কাগজ নয়, একটা ছোট নোটবই। সেই নোটবইটাতে বিভিন্ন দিনে সুন্দর হস্তাক্ষর লিখিত কয়েকটি করে ছত্র রয়েছে। কিন্তু সে অনেক খুঁজেও যার লেখা তার কোনও নাম খুঁজে পেল না। কসেত্তে উজ্জ্বল আকাশটার পানে তাকাল। বাগানের অ্যাকেসিয়া ফুলগুলোকে একবার দেখল। মাথার উপর একটা বাড়ির ছাদে একদল পায়রা কূজন করছিল, কিন্তু সব কিছুর থেকে চোখ দুটো সরিয়ে এনে নোটবইটার উপর নিবদ্ধ করল সে। সে বুঝল যে-ই লিখুক এগুলো নিশ্চয় তার জন্য লেখা হয়েছে, কারণ এটা তারই জন্য তার বাগানে এনে রাখা হয়েছে। সুতরাং এগুলো অবশ্যই পড়ে দেখতে হবে।

    আরও দেখুন
    বাংলা লাইব্রেরী
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বই পড়ুন
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা কুইজ গেম
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    গ্রন্থাগার
    অনলাইন গ্রন্থাগার

    .

    ৪.

    কসেত্তে পড়ে দেখতে লাগল।

    সমগ্র বিশ্ব একটি আত্মার মধ্যে এসে কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং সেই আত্মা প্রসারিত হতে হতে ঈশ্বরের কাছ পর্যন্ত চলে গেছে এই আত্মাই হল প্রেম।

    প্রেম হচ্ছে নক্ষত্রমণ্ডলের প্রতি দেবদূতদের অভিবাদন।

    অতৃপ্ত প্রেম অন্তরকে বিষাদে কত আচ্ছন্ন করে তোলে।

    যে প্রেমময় আত্মা সারা জগৎকে পরিব্যাপ্ত করে আছে, সে আত্মার অনুপস্থিতিতে কী বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়। প্রিয়তমাই ঈশ্বরে পরিণত হয় একথা কত সত্য। ঈশ্বর এই জগতের সব বস্তু আত্মার জন্যই সৃষ্টি করেছেন আর সেই আত্মা সৃষ্ট হয়েছে প্রেমের জন্য।

    আরও দেখুন
    অনলাইন বই
    ই-বুক রিডার
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা কবিতা
    Library
    বাংলা ই-বই
    বাংলা কুইজ গেম
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন

    লিলাক ফুলে সজ্জিত টুপির নিচে মিষ্টি মুখের সামান্য একফালি হাসি আমাদের আত্মাকে স্বপ্নের এক সৌধচূড়ায় পাঠিয়ে দিতে পারে।

    সব বস্তুর আড়ালে ঈশ্বর আছেন লুকিয়ে। সব জড়বস্তু কালো, মানুষ এমনই এক বস্তু যা অস্বচ্ছ–এদের কারওর মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরকে দেখা যায় না। কোনও মানুষকে ভালোবাসা মানেই তাকে স্বচ্ছ করে তোলা।

    এমন কিছু চিন্তা আছে, যা প্রার্থনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন আমাদের দেহ যে ভঙ্গিতেই থাক না কেন, আমাদের আত্মা যেন নতজানু হয়ে প্রার্থনা করে।

    বিরহী প্রেমিকরা অসংখ্য কল্পনার প্রলেপ দিয়ে তাদের বিচ্ছেদবেদনার উপশম করার চেষ্টা করে। তারা তখন পরস্পরকে চিঠি লিখতে না পারলেও তারা তাদের প্রেমাস্পদের কাছে পাখির গান, ফুলের গন্ধ, শিশুর কলহাসি, সূর্যের আলো, বাতাসের দীর্ঘশ্বাস, নক্ষত্রগুলোর জ্যোতি বিশ্বসৃষ্টির সকল সৌন্দর্যের উপাদান দিয়ে তাদের প্রেমের উপাসনা করে তারা। ঈশ্বরের সকল সৃষ্ট বস্তুই প্রেমের সেবা করার জন্যই সৃষ্ট হয়েছে। সকল বস্তুকে রূপান্তরিত করার মতো শক্তি প্রেমের আছে।

    হে বসন্ত, তুমিই আমার চিঠি হয়ে তার কাছে যাও।

    অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সমন্বয়ে কালের যে অনন্তত্ব সে অনন্তত্বের সব ফাঁক সব শূন্যতা একমাত্র প্রেমই পূরণ করে দিতে পারে। অনন্তত্বের মতো প্রেমও অফুরন্ত।

    প্রেম ও আত্মার প্রকৃতি একই। আত্মার মতোই প্রেমও এক স্বর্গীয় জ্যোতি, অনাবিল, অবিভাজ্য ও অক্ষয়। এক আগ্নেয় লিঙ্গের মতো অমর অনন্ত এই প্রেম আমাদের অন্তরে বাস করে। কোনও পার্থিব শক্তি তাকে সীমাবদ্ধ, খণ্ডিত বা তার আগ্নেয় তেজকে নির্বাপিত করতে পারে না। এই প্রেমের উত্তপ্ত জ্যোতিকে আমাদের অস্থিমজ্জায় অনুভব

    করে পারি না আমরা; তার উজ্জ্বলতা মর্ত্যলোক হতে প্রসারিত হয়ে চলে যায় সুদূর স্বর্গলোকের গভীরে।

    হে আমার প্রেম, দুটি অন্তর্ভেদী দৃষ্টির সম্মিলিত উপাদানে গড়া দুটি আত্মার এক বিশুদ্ধ আবেগ, আমার উপাস্য দেবতা, তুমি কি আসবে না আমার জীবনে? আমার বহু আকাক্ষিত সুখকে কি সম্ভুত করে তুলঁবে না আমার জীবনে? আমরা দু জনে নির্জনে কত বেড়াব, কত উজ্জ্বল সুখের দিন উপভোগ করব! দেবদূতের পাখা থেকে ঝরে পড়া কয়েকটি বিরল মূহূর্ত সমৃদ্ধ করে তুলঁবে আমাদের দুজনের জীবনকে।

    প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনের আনন্দকে শুধু দীর্ঘায়িত করা ছাড়া ঈশ্বর তাদের আর কোনও উপকার করতে পারেন না। প্রেম মানুষের আত্মাকে যে অবিচ্ছিন্ন সুখের নিবিড়তা দান করে তা ঈশ্বরেরও অসাধ্য। ঈশ্বর স্বৰ্গকে পূর্ণতা দান করেন, প্রেম পূর্ণতা দান করে মানুষের জীবনকে।

    আমরা নক্ষত্রের দিকে তাকাই প্রধানত দুটো কারণে। একটা কারণ এই যে তা কিরণ দান করে, আর একটা কারণ তা দুর্গম রহস্যময়। কিন্তু আমাদের পাশে যে নারীকে পাই তার জ্যোতি নক্ষত্রের জ্যোতির থেকে কম হলেও তার রহস্যময়তা আরও বেশি।

    বাতাস না হলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাই আমরা। কিন্তু প্রেমের অভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে আমাদের আত্মা।

    প্রেম যখন দুটি ভিন্ন জীবনের ধাতুকে বিগলিত ও বিমিশ্রিত করে এক সুমহান ঐক্যবোধে উন্নীত করে, একমাত্র তখনি জীবনের আসল রহস্যটি ধরা পড়ে। প্রেম হচ্ছে একই ভাগ্যের দ্বারা চালিত দুটি জীবনের এক মিলিত সত্তা, একই আত্মার দুটি পাখা। প্রেম মানেই আত্মার পাখায় ভর দিয়ে আকাশ পরিক্রমা করে বেড়ানো।

    যেদিনই কোনও নারী তোমার পাশ দিয়ে যেতে যেতে তার চোখের আলো অথবা মুখের হাসি দান করবে তোমাকে সেদিনই নিজেকে হারিয়ে ফেলবে তুমি, তুমি প্রেমে পড়ে যাবে তার। তোমার সমস্ত চিন্তাশক্তিকে তোমার প্রেমাস্পদের ওপর এমনভাবে কেন্দ্রীভূত করবে যে সে তোমার কথা ভাবতে বাধ্য হবে।

    প্রেম যা শুরু করে, একমাত্র ঈশ্বরই তা সম্পন্ন করতে পারেন।

    কোনও একটি হারানো দস্তানা বা রুমাল পেয়ে প্রেমিকা হতাশায় ডুবে যেতে পারে অথবা আবেগের তরঙ্গদোলায় দুলতে পারে। তবে প্রেমের অনন্তত্বের জন্য চাই অন্তহীন দুর্মর আশা। প্রেম অণু থেকেও ক্ষুদ্রতর ও মহৎ হতে মহত্তর দুটি উপাদানে গড়া।

    যদি পাথর হও তো চুম্বনের মতো আকর্ষণশক্তিসম্পন্ন হও, যদি গাছপালা হও তা হলে প্রাণচঞ্চলতায় ফেটে পড়; আর যদি মানুষ হও তা হলে প্রেমময় হয়ে ওঠ।

    প্রেম কখনও তৃপ্ত হয় না। প্রেমিকরা সুখ পেলে চায় স্বর্গোদ্যান আর স্বর্গলাভ করতে চায় ঈশ্বর।

    প্রেমের মধ্যেই আছে সব কিছু। প্রেমের মধ্যেই আছে স্বর্গের সুখ। মর্ত্যের দুঃখ আর অনাবিল দেহতৃপ্তির আবেগ।

    ‘সে কি এখনও লুক্সেমবুর্গ বাগানে বেড়াতে যায়?’…’না মঁসিয়ে’… ‘এই গির্জায় কি সে উপাসনা করতে আসে?’… ‘সে এখানে আর আসে না’…’সে কি বাড়িতে থাকে?’…’না, সে অন্যত্র চলে গেছে’…‘কোথায় গেছে তারা?’…‘তা তো বলে যায়নি।’

    নিজেরই আত্মার ঠিকানা না জানাটা কত দুঃখের।

    প্রেমের কিছু শিশুসুলভ দিক আছে। অন্য সব আবেগের কতকগুলি ক্ষুদ্রতা বা নীচতা আছে। যে আবেগ আমাদের ক্ষুদ্র করে তোলে তা লজ্জার বস্তু; তাকে আমরা ধিক্কার দিই; কিন্তু যে প্রেম আমাদের শিশুর মতো সরল করে তোলে তাকে জানাই শ্রদ্ধা।

    একটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার ঘটে গেছে, তুমি সেটা জান কী? আমি অন্ধকারে ডুবে আছি। একজন আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাবার সময় আমার জীবনের সূর্যটা নিয়ে গেছে।

    হায়, এক সমাধিগর্ভের ভেতরে দু জনে পাশাপাশি শুয়ে থাকাটাই আমার কাছে অনন্তত্ব। জানি, প্রেমের জন্য কষ্ট পাচ্ছ তুমি, তবু ভালোবেসে যাও। প্রেমের জন্য মৃত্যুবরণ করা মানেই অমর হয়ে থাকা।

    প্রেম! আলো আর অন্ধকারের মিশ্রিত উপাদানে গড়া জীবনের এক অদ্ভুত রূপান্তর, যা বেদনার মাঝেও এনে দেয় আনন্দের এক গভীর আবেগ।

    পাখিরা কত সুখী! তাদের বাসা আছে বলেই কণ্ঠে গান আছে তাদের।

    প্রেম হচ্ছে স্বর্গ থেকে বয়ে আনা এক মুক্ত বাতাস।

    জীবন মানেই ভাগ্যনির্দিষ্ট এক অজানিত পরিণতির পথে শত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে এগিয়ে চলা। মানুষ যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন সে জীবনের সব কিছুর মধ্যে অনন্ত বা অসীমকে দেখে; মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই সব অনন্ত শান্ত হয়ে যায়। শেষ বা সীমা বলে যদি কিছু থাকে তা হলে মানুষ তা একমাত্র মৃত্যুতেই দেখতে পারে। ভালোবেসে দুঃখ বরণ করে যাও। আশা ত্যাগ করো না কখনও। যারা শুধু দেহকে ভালোবাসে, রূপ আর চেহারাকে ভালোবাসে, মৃত্যু এসে সে সব কেড়ে নেয় তাদের কাছ থেকে। তাই আত্মাকে ভালোবেসে যাও তুমি, যা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না কোনওদিন।

    আমি পথে একজন গরিব কপর্দকহীন প্রেমিককে দেখলাম। তার টুপিটা পুরনো, জামা জীর্ণ। তার জুতোর ভেতরে কাদা ঢুকছে, কিন্তু পবিত্র নক্ষত্রলোকে পরিপ্লাবিত হচ্ছে তার আত্মা।

    ভালোবাসা পাওয়াটা আশ্চর্যের ব্যাপার হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসতে পারাটা মহত্তর ব্যাপার। ভালোবাসার আবেগই মানুষকে প্রকৃত বীরত্ব দান করতে পারে। প্রেমাবেগসমৃদ্ধ কোনও আত্মাই যা কিছু অপবিত্র ও ক্ষুদ্র তাকে প্রত্যাখ্যান করে ত্যাগ করে যা কিছু পবিত্র ও মহান তাকে বরণ করে নিতে পারে। কোনও হীন অশুভ চিন্তা তখন তার মনে বাসা বাঁধতে পারে না, হিমবাহের মধ্যে যেমন কোনও কাঁটাগাছ জন্মাতে পারে না। চিরপ্রশান্ত যে মহান আত্মা পৃথিবীর যত সব দুঃখবেদনার আবেগানুভূতি, ঘৃণা, মিথ্যাচার, অহঙ্কার থেকে মুক্ত হয়ে অরণ্যচ্ছায়ার প্রান্তভাগ ছাড়িয়ে মেঘমালার সীমা অতিক্রম করে সুদূর আকাশমণ্ডলের গভীরে বিরাজ করে, সে আত্মা কখনও মর্ত্যলোকের ভাগ্যচক্রের লীলাচঞ্চলতাকে অনুভব করতে পারে না, যেমন কোনও পর্বতশৃঙ্গ ভূমিকম্পকে অনুভব করতে পারে না।

    যে কখনও সূর্যকে ভালোবাসেনি, কখনও কোনওভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে না তার জীবন।

    .

    ৫.

    চিঠিটা ক্রমশই ভাবিয়ে তুলঁতে লাগল কসেত্তেকে। চিঠিটা পড়া তার শেষ হয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই সেই অশ্বারোহী অফিসার ঘোড়ায় চড়ে বাগানের গেটটার পাশ দিয়ে চলে গেল। রোজ এই সময়েই সে যায়। আজ তাকে দেখে ঘৃণায় নাকটা কুঞ্চিত হয়ে উঠল তার।

    নোটবই-এর পাতাগুলো নেড়েচেড়ে দেখল কসেত্তে। হাতের লেখাটা বেশ ভালো। তবে কালিটা বিভিন্ন পাতায় বিভিন্ন রকমের দেখা যাচ্ছে কোথাও ঘন কালো, কোথাও কালিটা পাতলা। সব কিছু পড়ে তার মনে হল যে এসব লিখেছে সে ভাবনা-চিন্তা করে সাজিয়ে-গুছিয়ে কিছু লেখেনি, মন থেকে ঝড়ে পড়া এলোমেলো চিন্তাগুলো আবেগের সঙ্গে লিখে ফেলেছে সে। এ ধরনের পাণ্ডুলিপি জীবনে এর আগে কখনও পড়েনি কসেত্তে। প্রতিটি ছত্রই এক অপূর্ব ঐশ্বর্যে মণ্ডিত হয়ে তার চোখের সামনে ভাসছিল। সেই দুর্বোধ্য লেখাগুলোর সব অর্থ সে বুঝতে না পারলেও সে লেখা এক নতুন চেতনা, এক নতুন উপলব্ধি এনে দিচ্ছিল তার অন্তরে। সে কনভেন্টে ছাত্রী থাকাকালে তার শিক্ষিকারা আত্মা সম্বন্ধে অনেক কিছু বলেছে; কিন্তু তারা কখনও পার্থিব প্রেম-ভালোবাসার কথা বলেনি। এ যেন আগুনে কয়লা ফেলার হাতাটার কথা না বলে আগুনের কথা বলা। এই পনেরো পাতার লেখাটা আলোকিত এক নতুন জগতের পথ খুলে দিল যেন। প্রেমের স্বরূপ ও দুঃখবেদনা, জীবন, ভাগ্য, অনন্ত, আদি, অন্ত –এই সব কিছুর অর্থ নতুন করে তলিয়ে দেখতে লাগল সে। এই লেখাগুলোর অন্তরালে লেখককে যেন দেখতে পাচ্ছে। তার আবেগপ্রবণ, উদার, সরল প্রকৃতি, আর বিরাট দুঃখ এবং বিরাট আশা প্রতিটি ছত্রে মূর্ত হয়ে উঠেছে। তার বন্দি অন্তরের মাঝে এক গভীর আবেগ ঢেউ খেলে খেলে যাচ্ছে। এই পাণ্ডুলিপিটা চিঠি ছাড়া আর কী? অথচ কোনও নাম-ঠিকানা নেই, তারিখ বা স্বাক্ষর নেই। চিঠিটা জরুরি, কিন্তু কোনও দাবি নেই। অথচ, এর প্রতিটি কথা সত্য; সত্যের উপাদানে রচিত রহস্যময় এক ধাঁধাপাখাওয়ালা কোনও দেবদূতের দেওয়া যেন এক অভ্রান্ত প্রেমের নিদর্শন, যা কোনও কুমারী পড়বে। এতে মিলনের সংকেত আছে, কিন্তু সারা পৃথিবীর মধ্যে সে মিলনের কোনও স্থানের নির্দেশ নেই। কোনও এক প্রেতের হাতে লেখা এক ভুতুড়ে চিঠি, যা কোনও কাল্পনিক এক কুমারীর উদ্দেশ্যে লিখিত হয়েছে। এক শান্ত অথচ আবেগপ্রবণ এক অচেনা ব্যক্তি মৃত্যুর মাঝে দাঁড়িয়ে তার প্রিয়তমার কাছে মানুষের ভাগ্যনির্দিষ্ট পরিণতি এবং জীবন ও প্রেমের এক রহস্যকে তুলে ধরেছে। সে যেন এক পা সমাধির মধ্যে রেখে একটা আঙুল আকাশের পানে তুলে ধরে এই চিঠি লিখেছে। কাগজের উপর যে ছত্রগুলো লেখা হয়েছে। তা যেন আত্মা থেকে কতকগুলি বৃষ্টিফোঁটার মতো ঝরে পড়েছে।

    কিন্তু এ চিঠি কোথা থেকে এসেছে? এর লেখক কে? এ চিঠি নিশ্চয় কোনও পুরুষের কাছ থেকে এসেছে। এ চিঠি পড়তে পড়তে যেন কসেত্তের চোখে দিনের উজ্জ্বল আলো ফুটে উঠল। তার সব দুঃখ দূর হয়ে গেল। এক অনির্বচনীয় আনন্দ আর বেদনার ঢেউ খেলে যেতে লাগল তার অন্তরে। এ হল সেই যুবক, যে এখানে এসেছিল। ঝোঁপের ধারে তার হাতটা এগিয়ে এসেছে। কসেত্তে যখন তাকে ভুলে গিয়েছিল, তখন সে তাকে খুঁজে বার করেছে। কিন্তু সে কি সত্যি সত্যিই ভুলে গিয়েছিল তাকে কখনই না। সে যে ভুলে। গেছে–এই কথাটা ক্ষণিকের জন্যও পাগলের মতো বিশ্বাস করেছিল। সে তাকে প্রথম থেকেই ভালোবেসে এসেছে। তার প্রেমের আগুনটা স্তিমিত হতে হতে নিবে গিয়েছিল হয়তো। কিন্তু এখন বুঝল সে আগুন নিবে যায়নি একেবারে, বরং সে আগুন তার অন্তরের গভীরে আরও প্রবলভাবে জ্বলে এসেছে এবং সে আগুন আজ এই মুহূর্তে আবার বাইরে ফেটে পড়েছে। সে আগুনের শিখায় তার সমগ্র সত্তা আলোকিত হয়ে উঠেছে। অপর একটি আত্মা থেকে একটি জ্বলন্ত দেয়াশলাইয়ের কাঠি অকস্মাৎ যেন তার আত্মার মধ্যে এসে পড়ে। তাতে তার সেই আপাত নির্বাপিত আগুনটা জ্বলে ওঠে। নোটবইয়ে লেখা শব্দগুলোর দিকে তাকিয়ে কসেত্তে মনে মনে বলে উঠল, আমি তাকে কত ভালো করে চিনি, এই সব কথা আমি আগেই তার চোখের দৃষ্টিতে পড়েছি।

    পর পর তিনবার চিঠিটা পড়া শেষ হতেই কসেত্তে পাথরের উপর কার জুতোর শব্দে মুখ তুলে তাকিয়ে দেখল লেফটেন্যান্ট থিওদুল গেটের কাছে এসে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তাকে দেখে কসেত্তে’র মনে হল লোকটা মোটা, দেখতে খারাপ, বেয়াদব, আর ঘৃণ্য। তাকে কোনও একটা কিছু ছুঁড়ে মারার ইচ্ছা হল তার।

    বাগান থেকে তখনি বাড়ির ভেতরে চলে এল কসেত্তে। শোবার ঘরে ঢুকে নোটবইটা আবার পড়ল সে। সেটা যেন মুখস্থ করে ফেলল। তার কথা ভাবতে লাগল। অবশেষে সে নোটবইটা চুম্বন করে তার পোশাকের ভেতর বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখল। সব কিছু স্থির করে ফেলল সে। সে আবার অতৃপ্ত প্রেমের এক গভীরতার আবেগের গভীরে ডুবে গেল। স্বর্গীয় সুখের এক অন্তহীন দিগন্তু আবার উদ্ভাসিত হয়ে উঠল তার সামনে।

    সেদিন থেকে দিনরাত কী ভাবতে লাগল কসেত্তে। কিন্তু কিছুই চিন্তা করত না, শুধু অজস্র কল্পনা ভিড় করে আসতে লাগল তার মনে। স্পষ্ট করে কিছুই অনুমান করতে পারত না সে, এক অস্পষ্ট ও কম্পমান আশার অস্থির আলোয় বিভ্রান্ত হয়ে পড়ত সে। কোনও বিষয়েই সে নিশ্চিত হতে পারত না। কোনও কিছু এক দৃঢ় প্রত্যাখ্যানের সঙ্গে সরিয়ে দিতেও পারত না মন থেকে। এক ম্লানিমা ছড়িয়ে পড়ল তার সারা মুখে আর এক মৃদু কম্পন খেলে যেতে লাগল তার সারা দেহে। এক একসময় সে যেন স্বপ্ন দেখত জেগে জেগে এবং মনে মনে বলত, এটা কি সত্যি? তখন সে তার পোশাকের তলায় নোটবইটা তার বুকের উপর চেপে ধরে তার স্পর্শ অনুভব করত। জাঁ ভলজাঁ যদি তখন তার চোখ-মুখের পানে একবার তাকাত তা হলে তা দেখে ভয়ে কেঁপে উঠত সে। সে ভাবত, হ্যাঁ, সে-ই, এ চিঠি এসেছে তার কাছ থেকে। সে আরও ভাবত নিশ্চয় কোনও দেবদূত বা স্বর্গীয় বা ঐশ্বরিক সুযোগের মধ্যস্থতাই তাকে আবার ফিরিয়ে এনেছে তার কাছে।

    .

    ৬.

    সেদিন সন্ধ্যায় ভলজাঁ বেরিয়ে গেল বাইরে এবং কসেত্তে তার পোশাক পাল্টে সাজতে লাগল। সে যুবতী মেয়েদের এমন একটা গাউন পরল যা পরলে ঘাড় আর বুকের কাছটা দেখা যায়। কেন সে এই সাজসজ্জা করছে, তা সে নিজেই জানে না। সে কি কোনও অতিথির প্রতীক্ষায় আছে? না।

    সন্ধ্যা হয়ে আসতেই সে বাগানে চলে গেল। তুস তখন বাড়ির পেছন দিকে রান্নাঘরে কাজে ব্যস্ত ছিল। বাগানের নিচু ডালগুলোকে সরিয়ে সেই পাথরের বেঞ্চটায় গিয়ে বসল। দেখল সেই বড় পাথরটা তখনও পড়ে রয়েছে। সে যেন কৃতজ্ঞতার এক নিবিড় আবেগে হাত বুলাতে লাগল পাথরটায়। সহসা সে যেন পেছনে কার পদশব্দ শুনতে পেল। সে পেছন ফিরে তাকিয়েই চমকে উঠল।

    হ্যাঁ, সেই যুবক। তার মাথায় টুপি ছিল না। তার মুখখানা স্নান এবং চেহারাটা রোগা রোগা দেখাচ্ছিল। তার কালো পোশাকটা অন্ধকারে দেখাই যাচ্ছিল না। তার চোখের দৃষ্টিটাও আচ্ছন্ন ছিল গাছের ছায়াতে। তার অতুলনীয় মুখসৌন্দর্যের অন্তরালে মৃত্যুর ছায়া, তার পলায়মান আত্মার ছায়া উঁকি মারছিল, যা দেখে মনে হচ্ছিল সে কোনও প্রেমূর্তি না হলেও সে যেন কোনও জীবন্ত মানুষ নয়। সে তার টুপিটা ঝোঁপের ধারে ফেলে দিয়েছিল।

    মূৰ্ছিতপ্রায় কসেত্তে কোনও কথা বলতে পারল না। সে ধীর পায়ে যুবকের দিকে এগিয়ে গেল। তার চোখ-মুখ সে ঠিক দেখতে না পেলেও সে চোখে বিষাদের সঙ্গে এক ধরনের উত্তপ্ত আবেগ ফুটে ছিল।

    কসেত্তে একটা গাছের গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে না দাঁড়ালে পড়ে যেত।

    এরপর যুবকটি কথা বলতে শুরু করল। তার কণ্ঠস্বর এত মৃদু ছিল যে গাছপালার মর্মরধ্বনিকে ছাপিয়ে উঠতে পারল না তা। যুবক বলতে লাগল, এখানে আসার জন্য আমাকে ক্ষমা করবে। আমার মনে বড় কষ্ট, আমি আর থাকতে পারলাম না, তাই না এসে পারলাম না। আমি বেঞ্চের নিচে যে চিঠিটা দিয়ে গিয়েছিলাম সেটা পড়েছ? তুমি হয়তো আমাকে চিনতে পেরেছ? তুমি ভয় পেও না। অনেক দিন আগের কথা হলেও তোমার হয়তো মনে আছে, তুমি লুক্সেমবুর্গের বাগানে আমার দিকে তাকিয়েছিলে। আর একদিন তুমি আমার পাশ দিয়ে চলে গিয়েছিলে। ঘটনা দুটো ঘটেছিল প্রায় এক বছর আগে ১৬ জুন আর ২ জুলাই তারিখে। তার পর আর দেখা পাইনি তোমার। তুমি র‍্যু দ্য লোয়েস্তের বাড়িতে কিছুদিন ছিলে। আমি তা লক্ষ করেছিলাম। কিন্তু পরে সেখান থেকে চলে যাও। একদিন ওদিনের খবরের কাগজ পড়তে পড়তে তোমার মতো টুপিপরা একটি মেয়েকে দেখে তার পিছু পিছু ছুটেছিলাম, কিন্তু পরে দেখলাম, তুমি নও। অবশেষে আমি এই রাত্রিকালেই তোমার কাছে এসেছি। কিন্তু ভাবনার কোনও কারণ নেই, কেউ আমাকে দেখেনি। আমি প্রায়ই এসে সন্ধের সময় তোমার জানালার দিকে তাকিয়ে থাকি। আমি এখানে নিঃশব্দে পদচারণা করি যাতে তোমার কোনও অসুবিধা না হয়। একদিন সন্ধেবেলায় আমি তোমার পেছনেই ছিলাম। কিন্তু তুমি ঘুরে দাঁড়াতেই আমি লুকিয়ে পড়ি। একদিন তোমার গান শুনে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। জানালা দিয়ে ভেসে আসা তোমার গান শুনলে কি তোমার কোনও ক্ষতি হয়? আমার কাছে তুমি এক দেবদূত। তুমি আমাকে মাঝে মাঝে আসতে দেবে। এখানে। আমি মরতে বসেছি। তুমি যদি জানতে কত ভালোবাসি তোমায়! এত কথা। বলার জন্য আমাকে ক্ষমা করবে তুমি। জানি না কী বলছি, হয়তো তোমাকে আমি বিরক্ত করে তুলঁছি।

    ওমা! এই বলে প্রায় মূৰ্ছিত হয়ে সেখানেই বসে পড়ল কসেত্তে।

    কিন্তু সে বসার আগেই যুবকটি তাকে ধরে ফেলল। তাকে নিবিড়ভাবে দু হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরল।

    কসেত্তেকে জড়িয়ে ধরে থাকার সময় যুবকটি কাঁপছিল। তার মনে হচ্ছিল কুশায়াভরা তার মাথাটার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। তার মনে হল সে একই সঙ্গে এক ধর্মীয় কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে অধর্মাচরণ করছে। তবে যে সুন্দরী তরুণীর দেহটি তার নিবিড় আলিঙ্গনের মধ্যে ধরা আছে তার জন্য কোনও দেহগত কামনা অনুভব করছিল না সে।

    কসেত্তে যুবকটির একটা হাত টেনে নিয়ে তার বুকের উপর চাপিয়ে রাখল। যুবকটি তার পোশাকের মধ্যে নোটবইটার অস্তিত্ব বুঝতে পেরে বলল, তা হলে কি তুমি আমাকে ভালোবাস?

    কসেত্তে ক্ষীণকণ্ঠে বলল, অবশ্যই, তুমি তা জান।

    তার কণ্ঠটা এত ক্ষীণ ছিল যে তা শোনাই যাচ্ছিল না। কথাটা বলেই সে তার মাথাটা যুবকের বুকের মধ্যে খুঁজে দিল। যুবকটিকে তখন বিজয়ী বীরের মতো মনে হচ্ছিল।

    যুবকটি তখন বেঞ্চটার উপর বসল। কসেত্তে তার পাশে বসল। কেউ কোনও কথা বলল না। আকাশে তারা ফুটে উঠছিল একটা-দুটো করে। তাদের ঠোঁট দুটো এক সময় মিলিত হল। কেমন করে এই চুম্বনকার্য সমাধা হল তা জানে না তারা। যেমন করে পাখিরা গান গায়, বরফ গলে যায়, গোলাপের পাপড়িগুলো একে একে খুলে যায়, যেমন করে পাহাড়ের চূড়ায় অন্ধকার গাছপালার আড়ালে দুধের মতো সাদা ভোরের আলো। ফুটে ওঠে, তেমনি নিঃশব্দে এক অমোঘ প্রাকৃতিক নিয়মের বশেই যেন তাদের ঠোঁট দুটি চুম্বনে নিবিড় হয়ে ওঠে।

    দু জনেই যেন কাঁপছিল। তারা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে ছিল। শৈত্যনিবিড় রাত্রি আর বেঞ্চটার কনকনে ঠাণ্ডা, শিশিরভেজা ঘাস আর মাটির স্যাঁতসেঁতে ভাব, কোনও কিছুরই খেয়াল ছিল না তাদের। তারা দু জনে দু জনের হাত ধরে দু জনের দিকে তাকিয়ে ছিল।

    যুবকটি বাগানে কী করে এল সেকথা জিজ্ঞাসা করেনি কসেত্তে। তার মনে হল এটা যেন খুবই একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। মাঝে মাঝে তাদের হাঁটু দুটো ঠেকে যাচ্ছিল আর তাদের দেহ দুটো কেঁপে উঠছিল। এবার কসেত্তে কী বলতে গেল আমতা আমতা করে। তার ঠোঁট দুটো আর গলার স্বরটা কাঁপছিল, যেন ফুলের পাপড়ির উপর বৃষ্টির ফোঁটা ঝরে পড়ছিল।

    শান্ত ও নক্ষত্রখচিত রাত্রি বেড়ে উঠছিল তাদের মাথার উপর। অশরীরী আত্মার মতো তারা নিজেদের সব কথা, তাদের স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ-বেদনা ও ব্যর্থতার কথা বলল। তাদের দু জনের মধ্যে দেখা না হলেও দূরে থেকে হতাশার মাঝেও কিভাবে পরস্পরকে ভালোবেসে এসেছে সেকথাও বলল। তাদের যৌবন ও প্রেমের উত্তাপে বিগলিত হয়ে সরল বিশ্বাসে তাদের অন্তরের সব গোপন কথা বলল একে একে। এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা যেন তাদের অন্তর বিনিময় করল নিজেদের মধ্যে। একে অন্যের আত্মায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠল।

    তাদের সব কথা বলা হয়ে গেলে কসেত্তে যুবকটির কাঁধের উপর মাথাটা রেখে বলল, তোমার নাম কী?

    আমার নাম মেরিয়াস। তোমার নাম?

    কসেত্তে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটয়লার্স অভ দ্য সী – ভিক্টর হুগো
    Next Article কেন আমি নাস্তিক – ভগৎ সিং

    Related Articles

    ভিক্টর হুগো

    টয়লার্স অভ দ্য সী – ভিক্টর হুগো

    November 6, 2025
    ভিক্টর হুগো

    দ্য ম্যান হু লাফস – ভিক্টর হুগো

    November 6, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }