Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লে মিজারেবল – ভিক্টর হুগো

    ভিক্টর হুগো এক পাতা গল্প1486 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪.১১ ব্যারিকেডের কথা

    একাদশ পরিচ্ছেদ

    ১.

    এর আগে কুরফেরাক যে ব্যারিকেডের কথা বলে সে ব্যারিকেড হল শাঁব্রেরির ব্যারিকেড। র‍্যু দ্য লা শভ্রেরি অঞ্চলে কোরিনথের হোটেলে ওরা মিলিত হত। গ্রান্তেয়ার প্রথমে জায়গাটা আবিষ্কার করে। কুরফেরাকের দল সেখানে খাওয়া-দাওয়া করত আর নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করত। মালিক পিয়ের হুশেলুপ খুব ভালো লোক ছিল। খাদ্য ও পানীয়ের জন্য ওরা কম টাকা দিত, অনেক সময় কিছুই দিত না। হোটেলমালিক হুশেলুপ কিছুই বলত না তার জন্য।

    হুশেলুপের মুখে মোচ ছিল। তার উপরটা খুব কড়া আর কণ্ঠস্বরটা গম্ভীর ছিল। নবাগত খরিদ্দাররা তাকে দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যেত। আসলে পিস্তলের মতো দেখতে নস্যির ডিবের মতো তার গম্ভীর ছদ্মবেশের অন্তরালে পরিহাসরসিক একটা মন লুকিয়ে থাকত। তার স্ত্রী মেরে হুশেলুপ দেখতে খুব কুৎসিত ছিল। পিয়ের হুশেলুপের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী হোটেল চালায়। কিন্তু তখন খাদ্য ও পানীয়ের মান খারাপ হয়ে যায়। তবু কুরফেরাক আর তার বন্ধুর দল সে হোটেলে খেত। ১৮৫০ সালে পিয়ের হুশেলুপ মারা যাওয়ার পর মাতেলোত্তে আর গিবেলোত্তে নামে দু জন মেয়েকে নিয়ে তার স্ত্রী হোটেল চালাত

    ৫ জুন সকালে কোরিনথের হোটেলের বাসিন্দা ল্যাগলে দ্য মিউ আর জলি প্রাতরাশ করছিল। তারা ওই হোটেলেই দু জনে একসঙ্গে খাওয়া-থাকা করত। তারা তখন। প্রাতরাশ করছিল। তখন গ্রান্তেয়ার সেখানে হঠাৎ এসে পড়ে। গ্রান্তেয়ারকে দেখে আর এক বোতল মদ নিয়ে আসে গিবেলোত্তে। কিছু খাবার আগেই এক বোতল মদ শেষ করে ফেলল গ্রান্তেয়ার। তার পর বলল, হে আমার প্রিয় ল্যাগলে, তোমার জামাটা ময়লা আর ছেঁড়া।

    ল্যাগলে বলল, আমার কুৎসিত চেহারাটার সঙ্গে এই জামাটা সঙ্গতিপূর্ণ। পুরনো পোশাক মানুষের পুরনো বন্ধুর মতো। যাই হোক, তুমি কি বুলভার্দে থেকে আসছ?

    না, ওদিকে আমি যাইনি।

    আমি আর জলি মিছিলটাকে ওদিকে যেতে দেখি। জলি বলল, দৃশ্যটা আশ্চর্যজনক। অথচ এ রাস্তাটা দেখ, কত নির্জন। এখান থেকে বোঝা যাবে না প্যারিস শহরে কী তুমুল। কাণ্ড চলছে। মনে হবে এইসব গোটা অঞ্চলটা একটা গির্জা আর এখানে যারা থাকে তারা সবাই সন্ন্যাসী যাজক।

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা বই
    সেবা প্রকাশনী বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বইয়ের
    বই পড়ুন
    বাংলা কবিতা
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    পিডিএফ

    গ্রান্তেয়ার বলল, ওদের কথা আর আমায় বল না। যাজকদের কথা শুনতে আমার গায়ে জ্বালা ধরে। আজ সকালে বাজে ঝিনুকের মাংস খেয়ে আর হোটেলের কুৎসিত মেয়ে দেখে আমার মাথা ধরে গেছে। সমগ্র মানবজাতিকে আমি ঘৃণা করি। র‍্যু রিচলু দিয়ে আসার পথে একটা বড় লাইব্রেরি দেখলাম। তার পর আমি আমার পরিচিত মেয়েটাকে দেখতে যাই। মেয়েটাকে দেখতে বসন্তকালের মতো সুন্দর। দেখলেই আনন্দ হয়। গিয়ে দেখি একটা সোনারুপোর দোকানের মালিক তার প্রেমে পড়েছে। মেয়েরা টাকার গন্ধকে ফুলের গন্ধের মতো মনে করে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। মাস দুই আগে মেয়েটা পরিশ্রম করে জীবিকার্জন করত এবং সুখেই ছিল। এখন সে টাকাওয়ালা এক ধনী লোকের সঙ্গ পেয়ে খুব খুশি হয়ছে। তাকে আগের মতোই সুন্দর দেখাচ্ছে। পৃথিবীতে নীতি বলতে কিছু নেই। মার্টেল ফুল হচ্ছে প্রেমের প্রতীক, লরেল হচ্ছে যুদ্ধের প্রতীক, অলিভ হচ্ছে শান্তির প্রতীক। পৃথিবীতে ন্যায়বিচার বলে কোনও কিছু নেই। সারা জগৎ শিকারি পশুতে ভর্তি। যত সব ঈগলগুলো মাংসের লোভে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

    গ্রান্তেয়ার তার গ্লাসটা তুলে আর এক গ্লাস মদ চাইল। মদের গ্লাসটা পান করার পর আবার কথা বলতে শুরু করল। সে বলল, যে ব্রেনাস রোম জয় করেছিল সে যেমন ঈগল ছিল তেমনি সোনারুপোর দোকানের যে মালিকটা সুন্দরী মেয়েটাকে হাত করে সে-ও একটা ঈগল। দু জনেই সমান নির্লজ্জ। সুতরাং বিশ্বাস করার মতো কিছু নেই। শুধু মদ পান করে যাও। মদই একমাত্র সত্য। তোমার মতবাদ যাই হোক, তুমি যে দলের লোক হও না কেন, তাতে কিছু যায়-আসে না। তুমি শুধু মদ খেয়ে যাও। তুমি একটু আগে বুলভার্দ আর মিছিলের কথা বলছিলে, তাতে কী হয়েছে? আর একটা বিপ্লব হতে চলেছে। কিন্তু যে পদ্ধতিতে ঈশ্বর এ বিপ্লব ঘটাতে চলেছেন সেটা বড় বাজে লাগছে। আমি যদি ঈশ্বর হতাম, তা হলে সব কিছুর সোজাসুজি খাড়াখাড়ি ব্যবস্থা করে ফেলতাম। সমগ্র মানবজাতিকে এমনভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে রাখতাম যে মানবজগতের কোনও ঘটনার মধ্যে কোনও অসংগতি বা অযৌক্তিকতা থাকত না, তার মধ্যে কোনও যদি’ ‘কিন্তু’ বা ঐন্দ্রজালিক রহস্যময়তার অবকাশ থাকত না। তোমরা যেটাকে প্রগতি বল, সেই প্রগতির গাড়িটাকে চালায় দুটো জিনিস মানুষ আর ঘটনা। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় এই মানুষ আর ঘটনাই প্রগতিরূপ গাড়ি চালাবার পক্ষে যথেষ্ট নয়। সে গাড়ি চালাবার জন্য সাধারণ মানুষের পরিবর্তে চাই প্রতিভাবান মানুষ আর ঘটনার পরিবর্তে চাই বিপ্লবের মতো বিশেষ ঘটনা। বিপ্লব দ্বারা কী প্রমাণ হয়? তার মানে ঈশ্বর হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছেন। ঈশ্বর যখন দেখেন বর্তমান আর ভবিষ্যতের মধ্যের ফাঁকটাকে কোনওমতে পূরণ করা যাচ্ছে না তখন রাষ্ট্রযন্ত্রে একটা বড় রকমের পরিবর্তন আনেন। এ ছাড়া তিনি আর কোনওভাবে প্রতিকার করতে পারেন না। যখন আমি দেখি স্বর্ণ ও মর্ত সব জায়গায় দুঃখের অগ্নিস্রোত বয়ে যাচ্ছে, তখন আমি রাজারাজড়াদের ও সমগ্র মানবজাতির দুর্ভাগ্য ও সকরুণ পরিণতির কথা ভাবি। যখন দেখি শীতকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে আকাশটা ফুটো হয়ে বৃষ্টি পড়ছে, হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছে, পাউডারের মতো তুষার ছড়িয়ে পড়ছে। যখন সূর্য আর চন্দ্রের কলঙ্কগুলো দেখি, মানবজগতে দেখি নানারকমের বিশৃঙ্খলা, যখন দেখি পরস্পরবিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনও ঐক্য বা শৃঙ্খলা নেই তখন ভাবি ঈশ্বরকে পরম ঐশ্বর্যবান বলে মনে হলেও তিনি নিঃস্ব, আসলে তার কোনও ঐশ্বর্য নেই। কোনও দেউলে হয়ে পড়া ধনী ব্যবসায়ীর বলনাচের আসর বা ভোজসভার ব্যবস্থা করার মতো তখন তিনি বিপ্লবের ব্যবস্থা করেন। আজ ৫ জুন। আমি সকাল থেকে সূর্য ওঠার জন্য অপেক্ষা করে আছি। কিন্তু সারাদিন অন্ধকার হয়ে আছে। সূর্যের আলো নেই। জগতের সব কিছুই বিরক্তিকর, কোনও বস্তুর সঙ্গে অন্য বস্তুর, মানুষের সঙ্গে মানুষের মিল নেই। সব জায়গাতেই দেখবে বিশৃঙ্খলা। এই জন্যই আমি হয়ে উঠেছি তার বিরোধী, তাই বিপ্লবীদের দলে যোগ দিয়েছি। আমার মনে কিন্তু কোনও হিংসা নেই কারও প্রতি। প্রকৃত অর্থে জগত্তা যা আমি তাই বলছি। পৃথিবীটা পুরনো আর বন্ধ্যা। আমরা বৃথা পরস্পরের সঙ্গে মারামারি করে মরছি।

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বই পড়ুন
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বইয়ের
    বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    সেবা প্রকাশনী বই
    অনলাইন বুক
    বাংলা বই

    দীর্ঘ বক্তৃতার পর গ্রান্তেয়ার কাশতে লাগল।

    জলি বলল, তুমি বিপ্লবের ওপর বক্তৃতা দিচ্ছ আর মেরিয়াস গলায় গলায় প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।

    ল্যাগলে বলল, কার প্রেমে কিছু জান?

    না।

    গ্রান্তেয়ার বলল, মেরিয়াস প্রেমে পড়েছে। আমি বেশ বুঝতে পারছি তার চারদিকে কুয়াশা। সে হচ্ছে কবি জাতের মানুষ, তার মানে পাগল প্রকৃতির। মেয়েটার নাম মেরি বা মেরিয়া বা মেরিয়েত্তে যাই হোক না কেন, তারা প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। সব ভুলে আবেগভরে চুম্বন করতে করতে তারা স্বর্গে চলে যাবে। দুটি সংবেদনশীল আত্মা নক্ষত্রের রাজ্যে ঘুমোবে।

    গ্রান্তেয়ার আরও এক বোতল মদ পান করতে যাচ্ছিল এমন সময় একটি নবাগত তাদের সামনে এসে হাজির হল। নবাগতের বয়স মাত্র দশ। পরনে ছেঁড়া-খোঁড়া পোশাক, অযত্নলালিত দেহ। ছেলেটি কোনও ইতস্তত না করেই ল্যাগলে দ্য মিউকে বলল, আপনি কি মঁসিয়ে বোসেত?

    আরও দেখুন
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা ই-বই
    বাংলা কমিকস
    বই পড়ুন
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা কুইজ গেম
    Library
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা গল্প

    ল্যাগলে বলল, ওটা আমার অন্য নাম। কী চাও তুমি?

    ছেলেটি বলল, তা হলে শুনুন। বুলভার্দে লম্বা চেহারার মাথায় সুন্দর চুলওয়ালা এক যুবক আমাকে বলল মেরে হুশেলুপকে আমি চিনি কি না। আমি তখন তাকে বললাম, আপনি কি র‍্যু শাঁব্রেরি হোটেলের ভূতপূর্ব মালিকের বিধবা পত্নীর কথা বলছেন? সে বলল, হ্যাঁ ঠিক বলেছ। তুমি সেখানে গিয়ে মঁসিয়ে বোসেতের খোঁজ করবে এবং তাকে ‘এ বি সি’ এই কথাটা বলবে। এর জন্য সে আমাকে দশ দ্যু দেয়।

    ল্যাগলে বলল, জলি তুমি দশ স্যু আর গ্রান্তেয়ার, তুমিও দশ স্যু দাও।

    এইভাবে ছেলেটি আরও কুড়ি স্যু পেল।

    ল্যাগলে ছেলেটিকে বলল, তোমার নাম কী?

    আমার নাম গাভ্রোশে।

    আরও দেখুন
    পিডিএফ
    অনলাইন বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    অনলাইন বুক
    বাংলা কমিকস
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    ই-বই ডাউনলোড
    নতুন উপন্যাস
    বিনামূল্যে বই
    সেবা প্রকাশনীর বই

    তা হলে তুমি আমাদের কাছে থাক।

    গ্রান্তেয়ার বলল, আমাদের সঙ্গে তুমি প্রাতরাশ খাও।

    ছেলেটি বলল, তা আমি পারব না। কারণ আমি মিছিলে আছি। পলিতানাস্ক নিপাত যাক এই ধ্বনি দিচ্ছি আমি।

    গাভ্রোশে এক পা পিছিয়ে সম্মানের সঙ্গে অভিবাদন জানিয়ে চলে গেল।

    গ্রান্তেয়ার বলল, রাস্তার ভবঘুরে ছেলে হলেও সরল এবং সৎ।

    ল্যাগলে ভাবতে ভাবতে বলল, এ, বি, সি–মানে ল্যামার্কের শবযাত্রা।

    গ্রান্তেয়ার বলল, লম্বা চেহারা সুন্দর চুলওয়ালা যুবকটি হল এঁজোলরাস। সে তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছে।

    বোসেত তাকে বলল, তুমিও যাচ্ছ তো?

    আরও দেখুন
    বই
    বই পড়ুন
    ই-বই ডাউনলোড
    PDF
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    অনলাইন বুক
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা ভাষা
    বাংলা কবিতা

    আমি আগুনের মধ্য দিয়ে যাব বলে কথা দিয়েছিলাম, জলের মধ্য দিয়ে নয়। আমার সর্দিটাকে বাড়াতে চাই না।

    গ্রান্তেয়ার বলল, আমি এখানেই থেকে যাব। শবানুগমন থেকে প্রাতরাশ খাওয়া অনেক ভালো।

    ল্যাগলে বলল, ভালো কথা। আমরা যেখানে আছি সেখানেই থেকে যাই। আরও কিছু মদপানে করা উচিত আমাদের। আমরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এড়িয়ে যেতে পারি, কিন্তু বিদ্রোহকে এড়াতে পারি না।

    জলি বলল, আমরা সবাই তাই চাই।

    ল্যাগলে বলল, ১৮৩০ সালের অসমাপ্ত কাজ আমরা শুরু করতে চাই। জনগণ সব তৈরি।

    গ্রান্তেয়ার বলল, আমি তোমাদের বিপ্লবের কিছু বুঝি না। তা নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। আমি রাজ সরকারকে ঘৃণা করি না। যে রাজা মাথায় সুতোর টুপি পরে এবং যার রাজদণ্ড ছাতায় পরিণত হয়েছে সে রাজার বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই। এই বৃষ্টির দিনে লুই ফিলিপ দুটো কাজ করতে পারে জনগণের মাথার উপর সে তার রাজদণ্ডটা ঘোরাতে পারে আর ঈশ্বরের দিকে তার ছাতাটা তুলে ধরতে পারে।

    আরও দেখুন
    অনলাইন বুক
    বাংলা কবিতা
    ই-বই ডাউনলোড
    বুক শেল্ফ
    বই পড়ুন
    Library
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা বই
    Books

    আকাশে ঘন মেঘ থাকায় ঘরখানা অন্ধকার দেখাচ্ছিল। হোটেলে বা রাস্তায় কোনও লোক ছিল না। সবাই মিছিল দেখতে গেছে।

    বোসেত বলল, এখন মনে হয় রাতদুপুর। কিছু দেখা যাচ্ছে না। গিবোলেত্তে, একটা আলো এনে দাও।

    গ্রান্তেয়ার মদ খেতে খেতে বলল, এঁজোলরাস আমাকে ঘৃণা করে। সে হয়তো ছেলেটাকে বোসেতের কাছে পাঠাবার কথা ভেবেছিল। জলি ভালো ছোকরা নয়, আর গ্রান্তেয়ার মহান। তাই বোসেতের কাছে ওকে পাঠাই। তবে এঁজোলরাস নিজে এলে তার সঙ্গে আমি শয়তানের কাছেও যেতে পারি।

    এইভাবে ওরা তিনজনেই রয়ে গেল। জলি আর বোসেতকে মদের লোভ দিয়ে আটকে রাখে গ্রান্তেয়ার। সেদিন বিকালের দিকে দেখা যায় তাদের টেবিলের উপর অনেকগুলো মদের খালি বোতল পড়ে আছে। দুটো বাতি জ্বলছে।

    গ্রান্তেয়ার মদ খাওয়া থামিয়ে পা ছড়িয়ে বসেছিল। তার মুখে হাসিখুশির ভাবটা ঠিক ছিল। জলি আর বোসেত তার কাছে বসে তার সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছিল সমানে। গ্রান্তেয়ার এক সময় বলল, সব দরজা খুলে দাও, সবাই আসুক ভেতরে, মাদাম হুশেপুলকে আলিঙ্গন করুক। মাদাম হুশেলুপ বয়োপ্রবীণা, তুমি আমার কাছে সরে এসে যাতে আমি ভালো করে দেখতে পারি তোমায়।

    আরও দেখুন
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা কুইজ গেম
    বাংলা ভাষা
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    পিডিএফ
    সেবা প্রকাশনীর বই

    এরপর গ্রান্তেয়ার নেশার ঝেকে বলতে লাগল, কে আমার অনুমতি না নিয়েই আকাশ থেকে কয়েকটা তারা এনে টেবিলের উপর জ্বেলে দিয়েছে। সেগুলো বাতি হয়ে জ্বলছে।

    জলি বলল, শোন মাতেলোত্তে আর গিবেলোত্তে, তোমরা আর গ্রান্তেয়ারকে মদ দেবে না। ঈশ্বরের নামে বলছি। ও আজ জলের মতো পয়সা খরচ করছে। সকাল থেকে ও ছ ফ্ৰাঁ নব্বই সেন্তিমে খরচ করেছে।

    এই সময় বাইরে গোলমালের শব্দ শোনা গেল। অনেকে ছোটাছুটি করছিল। ‘অস্ত্র ধারণ কর’ বলে অনেকে চিৎকার করছে।

    গ্রান্তেয়ার মুখ ঘুরিয়ে দেখল এঁজোলরাস, কুরফেরাক, গাভ্রোশে, কমবেফারে, ভেয়ারের নেতৃত্বে এক বিক্ষুব্ধ জনতা র‍্যু ডেনিস থেকে আসছে। তাদের প্রত্যেকের হাতে বন্দুক, পিস্তল, তরবারি, হাতবোমা প্রভৃতি অস্ত্র ছিল।

    বোসেত হাতে তালি দিয়ে কুরফেরাককে ডাকল। কুরফেরাক বলল, কী বলছ?

    বোসেত বলল, কোথায় যাচ্ছ তোমরা?

    ব্যারিকেড করতে।

    এখানে ব্যারিকেড করছ না কেন? এটা তো ভালো জায়গা।

    ঠিক বলেছ ল্যাগলে।

    এই বলে সে অন্যদের লা শাশোরিতেই ব্যারিকেড তৈরি করার জন্য বলল।

    .

    ২.

    রাস্তা থেকে একটা সরু গলিপথ বেরিয়ে আসার জায়গাটা ব্যারিকেডের পক্ষে সত্যিই ভালো। বোসেত মদ খেয়ে মাতাল হলেও তার হ্যাঁনিবলের মতোই দূরদৃষ্টি ছিল। চোখের নিমেষে হোটেলের জানালা-দরজা সব বন্ধ হয়ে গেল। কতকগুলি চুনের খালি পিপের ভেতর পাথরখণ্ড ভরে রাখা হল। জানালাগুলো থেকে লোহার রড ছাড়িয়ে নেওয়া হল। মাদাম হুশেলুপ কাতর কণ্ঠে প্রার্থনা করতে লাগল, ঈম্বর আমাদের রক্ষা করুন।

    বোসেত বাইরে ছুটে কুফেরাককে অভ্যর্থনা জানাতে গেল। গ্রান্তেয়ার ঘরের ভেতর থেকে বলতে লাগল, তোমাদের মাথায় ছাতা নেই কেন? সর্দি হবে যে!

    কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাইরে পথের পাথর, কাঠ প্রভৃতি দিয়ে মানুষের থেকে উঁচু একটা প্রাচীর খাড়া করা হল। তার উপর ভারী একটা বাসকে পথের উপর রাখা হল। ঘোড়ার গাড়িগুলো থেকে ঘোড়াগুলো খুলে দিয়ে গাড়িগুলোকেও ব্যারিকেডের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হল।

    মাদাম হুশেলুপ হোটেলের দোতলার ঘরে বসে সব কিছু লক্ষ করে যাচ্ছিল আর বিড় বিড় করে আপন মনে কী বলে যাচ্ছিল। জলি এক সময় তার পেছন থেকে তার অনাবৃত ঘাড়ের উপর একটা চুম্বন করে গ্রান্তেয়ারকে বলল, মেয়েদের ঘাড়টাকে আমার সবচেয়ে সুন্দর বলে মনে হয়।

    এদিকে গ্রান্তেয়ার তখন মাতেলোত্তে ঘরে ঢুকতেই তার কোমরটা জড়িয়ে ধরে হেসে বলল, মাতেলোত্তে কুৎসিত। মেয়েটা ভালো। আমি জোর করে বলতে পারি ও লড়াই ভালো করবে। মেরে হুশেলুপের বয়স হলেও চেহারাটা শক্ত। সে-ও ভালোই লড়াই করতে পারবে। ওরা দু জনে লড়াই করে গোটা অঞ্চলটাকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলঁতে পারবে। বন্ধুগণ, আমরা সরকারের পতন ঘটাতে চাই। আমার অঙ্কে বুদ্ধি নেই বলে বাবা আমাকে দেখতে পারতেন না। আমি শুধু বুঝি প্রেম আর স্বাধীনতা। আমি হচ্ছি ভালো মানুষ গ্রান্তেয়ার। আমার টাকা নেই, টাকা রোজগারের কথা ভাবিওনি। আমি যদি ধনী হতাম তা হলে পৃথিবীতে কেউ গরিব থাকত না। উদার প্রকৃতির লোকরা ধনী হলে পৃথিবীর দুঃখ ঘুচে যেত। যিশুর যদি রথচাইল্ডের মতো ধনসম্পদ থাকত তা হলে তিনি কত লোকের উপকার করতেন, পৃথিবীর কত ভালো করতেন। মাতেলোত্তে, তুমি আমাকে চুম্বন কর। তোমার মধ্যে প্রেমের আবেগ আছে, তুমি লাজুক প্রকৃতির, তোমার গালদুটো সিস্টারের চুম্বনের জন্য আর তোমার আর তোমার ঠোঁটদুটো প্রেমিকের চুম্বনের জন্য তৈরি হয়েছে।

    কুরফেরাক বলল, তোমার মাতলামি বন্ধ কর।

    গ্রান্তেয়ার বলল, আমি হচ্ছি উঁচু দরের এক ম্যাজিস্ট্রেট আর আনন্দ উৎসবের রাজা।

    এঁজোলরাস ব্যারিকেডের উপর দাঁড়িয়ে বন্দুক হাতে গ্রান্তেয়ারের পানে কড়া দৃষ্টিতে। তাকাল। সে ছিল যেমন স্পার্টানদের মতো বীর তেমনি পিউরিটানদের মতো গোড়া নীতিবাদী। সে বলল, গ্রান্তেয়ার, তুমি অন্য কোথাও গিয়ে ঘুমিয়ে তোমার মদের নেশাটা কাটাও গে। এখানে আবেগের মত্ততা আছে, কিন্তু মাতলামির কোনও অবকাশ নেই। ব্যারিকেডের অপমান করো না।

    এঁজোলরাসের এই তিরস্কারে ফল হল। গ্রান্তেয়ার টেবিলের উপর কনুই রেখে গম্ভীরভাবে বসে রইল। তার পর বলল, এঁজোলরাস, তুমি জান, তোমার ওপর আমার বিশ্বাস আছে।

    যাও, চলে যাও।

    আরও দেখুন
    Library
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ইসলামিক বই
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা কুইজ গেম
    বাংলা ভাষা
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা

    আমাকে এখানেই ঘুমোতে দাও।

    এঁজোলরাস বলল, না, অন্য কোথাও গিয়ে ঘুমোও।

    তবু গ্রান্তেয়ার বলল, আমাকে এখানেই ঘুমোতে দাও, দরকার হলে আমি এখানেই মরব।

    এঁজোলারাস ঘৃণাভরে গ্রান্তেয়ারের দিকে তাকিয়ে বলল, গ্রান্তেয়ার, তুমি কোনও কিছুই পারবে না। কোনও যোগ্যতাই নেই তোমার। তুমি কোনও কিছু বিশ্বাস করতে, চিন্তা করতে, ইচ্ছা বা সংকল্প করতে, বাঁচতে বা মরতে কোনও কিছুই পারবে না।

    গ্রান্তেয়ার গম্ভীরভাবে বলল, তুমি দেখবে, দেখে নেবে।

    সে আরও কী অস্পষ্টভাবে বলল। তার পর তার মাথাটা টেবিলের উপর গভীর ঘুমে ঢলে পড়ল। এটা হচ্ছে মদের নেশার দ্বিতীয় স্তরের প্রতিক্রিয়া।

    .

    ৩.

    বাহোরেল ব্যারিকেড দেখে আনন্দে চিৎকার করে বলে উঠল, এবার এ রাস্তাটা লড়াইয়ের উপযুক্ত জায়গা হয়ে উঠেছে, চমৎকার দেখাচ্ছে।

    কুরফেরাক হোটেলের অনেক আসবাব, জিনিসপত্র ও জানালার রড ছাড়িয়ে ব্যারিকেড দেওয়ার পর মাদাম হুশেলুপকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল। সে বলল মেরে হুশেলুপ, একদিন তুমি বলেছিলে গিবেলোত্তে জানালা দিয়ে একটা কম্বল ফেলেছিল বলে কে নাকি অভিযোগ করেছিল।

    হুশেলুপ বলল, কথাটা ঠিক, মঁসিয়ে কুরফেরাক, ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন। তোমরা কি এই টেবিলটাকেও নিয়ে গিয়ে ব্যারিকেডের উপর চাপিয়ে দেবে? সেদিন গিবেলোত্তে একটা কম্বল আর ফুলদানি জানালা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় সরকার একশো ঐ জরিমানা করেছে।

    আমরা তা তোমাকে দিয়ে দেব মেরে হুশেলুপ।

    কিন্তু সে টাকা কোনওদিন পাবে বলে বিশ্বাস হল না হুশেলুপের। উল্টে তার হোটেলের সব জিনিসপত্র নষ্ট হতে চলেছে।

    তখন বৃষ্টি থেমে গেছে। শ্রমিকরা অস্ত্র হাতে দলে দলে এসে যোগ দিচ্ছিল। এঁজোলরাস, কমবেফারে আর কুরফেরাক সব কিছু তদারক করছিল আর নির্দেশ দান করছিল। তখন আর একটা ব্যারিকেড তৈরি করা হচ্ছিল। র‍্যু মদেতুরে তৈরি দ্বিতীয় ব্যারিকেডটা করা হচ্ছিল শুধু খালি পিপে আর পাথর দিয়ে।

    তিরিশজন শ্রমিক একটা বন্দুকের দোকান লুট করে তিরিশটা বন্দুক হাতে নিয়ে ব্যারিকেডের কাজে যোগ দিল। তারা সকলেই উদ্যমের সঙ্গে কাজ করতে লাগল। এক বিরাট জনতা ছিল তাদের সঙ্গে। বিচিত্র ধরনের মানুষ, বিভিন্ন বয়সের লোক–সকলেরই মনে এক উদ্দেশ্য, সকলের মুখেই এক কথা। কোনও এক উৎসব থেকে কতকগুলি মশাল হাতে করে নিয়ে এসেছিল তারা। তারা সবাই বলাবলি করছিল রাত দুটো-তিনটের সময় বিরাট এক জনতা তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। তারা সবাই কেউ কারও নাম না জানলেও সবাইকে ভাই বলে মনে করছিল। এক জাতীয় বিপর্যয় তাদের মধ্যে জাগিয়ে তুলেছিল এক মহান ভ্রাতৃত্ববোধ।

    হোটেলের রান্নাঘরে আগুন জ্বালানো হল। তাতে যত সব কাঁটা-চামচ প্রভৃতি ধাতুর জিনিসগুলো গালিয়ে গুলি তৈরির কাজে লাগানো হল। গ্লাসে করে সবাইকে মদ বিতরণ করা হচ্ছিল। মাদাম হুশেলুপ, মাতেলোত্তে আর গিবেলোত্তে উপরতলার একটা ঘরে ভয়ে বসেছিল হতবুদ্ধি হয়ে। তাদের মধ্যে গিবেলোত্তে আর কয়েকজনের সঙ্গে কম্বল ছিঁড়ছিল। আহত লোকদের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করার জন্য ছেঁড়া কম্বলগুলোর দরকার। যে তিনজন বিপ্লবী গিবেলোত্তেকে সাহায্য করছিল এ কাজে তাদের মাথায় চুল আর মুখে দাড়ি ছিল। তাদের মুখের সেই কালো দাড়ি আর বলিষ্ঠ চেহারাগুলো দেখলে ভয় লাগছিল মেয়েদের।

    র‍্যু দে বিলেত্তেতে কুরফেরাক, কমবেফারে আর এঁজোলরাস অচেনা যে একজন বয়স্ক বলিষ্ঠ চেহারার লোককে তাদের দলে যোগদান করতে দেখে সেই লোকটি বড় ব্যারিকেডটার কাজ দেখাশোনা করছিল। ছোট ব্যারিকেডটা দেখাশোনা করছিল গাভ্রোশে। কুরফেরাকের বাসায় মেরিয়াসের খোঁজ করতে এসেছিল যে যুবকটি সে কখন চলে গেছে কেউ দেখেনি। গাভ্রোশে হাসতে হাসতে এমন লাফালাফি করে মাতামাতি করে কাজ করছিল যে দেখে মনে হচ্ছিল সবার মধ্যে উদ্যম জাগানোই ছিল তার কাজ। নিরাশ্রম দারিদ্রের সঙ্গে একটা অকারণ আনন্দ তাকে অনুপ্রাণিত করে তুলেছিল এ কাজে। এক প্রবল ঘূর্ণিবায়ুর মতো তার উত্তেজিত কণ্ঠস্বরের দ্বারা আকাশ-বাতাস পূর্ণ করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সে। তাকে সব জায়গায় দেখা যাচ্ছিল এবং তার কথা শোনা যাচ্ছিল। যারা অলস প্রকৃতির এবং যারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল গাভ্রোশে ঘুরে ঘুরে তাদের উত্তেজিত ও অনুপ্রাণিত করে তুলঁছিল। তার কথায় ও কাজে মজা পাচ্ছিল সবাই। আবার চিন্তাশীল প্রকৃতির যারা তারা বিরক্ত বোধ করছিল।

    মাঝে মাঝে সে হাঁকাহাঁকি করে বলছিল, আরও পাথর চাই, আরও পিপে চাই। একটা ঝুড়ি চাই। ব্যারিকেডটাকে আরও উঁচু করতে হবে, এটা ঠিক হয়নি। দরকার হলে বাড়িটাকে ভেঙে দাও। ওই দেখ, কাঁচওয়ালা একটা দরজা রয়েছে।

    একজন শ্রমিক বলল, কাঁচওয়ালা ওই দরজাটা নিয়ে কী করবে বালক লুমো?

    গাভ্রোশে বলল, তুমি নিজে লুমো। কাঁচওয়ালা দরজা ব্যারিকেড়ে দিলে তাতে আক্রমণ করা সহজ হবে ব্যারিকেডটাকে, কিন্তু তার মধ্যে ঢোকা সহজ হবে না। তাতে সৈনিকদের হাত কেটে যাবে।

    ঘোড়া ছাড়া পিস্তলটার জন্য বিরক্তিবোধ করছিল গাভ্রোশে। সে তাই একটা বন্দুকের জন্য চিৎকার করছিল, সে বলছিল, কেউ আমাকে একটা বন্দুক দেবে না?

    কমবেফারে বলল, তোমার মতো ছেলে বন্দুক নিয়ে কী করবে?

    কেন নেব না? ১৮৩০ সালে আমার হাতে একটা বন্দুক ছিল। তা দিয়ে দশম চার্লসকে তাড়াই।

    এঁজোলরাস বলল, যখন সব প্রাপ্তবয়স্কর হাতে বন্দুক তুলে দিতে পারব তখন ছেলেদের হাতে বন্দুক দেওয়ার কথা ভাবব।

    গাভ্রোশে গম্ভীরভাবে বলল, তুমি মরে গেলে তোমার বন্দুকটা নেব।

    এঁজোলরাস বলল, এঁচোড়পাকা ছেলে।

    সবুজ শিংওয়ালা যুবক।

    রাস্তার ওপারে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে সব কিছু লক্ষ করতে থাকা এক যুবকের দিকে ওদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হল। গাভ্রোশে চিৎকার করে তাকে বলল, চলে এস আমাদের দলে। তোমার গরিব দেশের জন্য কিছু করবে না?

    তার কথা শুনে যুবকটি পালিয়ে গেল।

    .

    ৪.

    খবরের কাগজগুলোতে পরদিন খবর বেরোল র‍্যু দ্য লা শাঁব্রেরিতে বিপ্লবীরা যে ব্যারিকেড তৈরি করেছে তা দোতলার সমান উঁচু। কিন্তু কথাটা সত্যি নয়। বিপ্লবীদের তৈরি কোনও ব্যারিকেডই ছ-সাত ফুটের বেশি উঁচু নয়। ব্যারিকেডগুলো এমনভাবে তৈরি করা হত যাতে সামনের দিক থেকে কেউ তার উপর উঠতে না পারে। সামনের দিকে থাকত পিপে পাথর কাঠ আর ভাঙা গাড়ির লোহালক্কড়। পেছনের দিকে পাথরগুলো এমনভাবে সিঁড়ির মতো সাজানো থাকত যাতে কেউ সহজে উঠতে পারে তার উপর। র‍্যু মঁদেতুরের ব্যারিকেডটা ছোট ছিল। ব্যারিকেডের পেছনে যে সব বড় বড় পাকা বাড়ি ছিল সেগুলোতে লোক থাকলেও তাদের দরজা-জানালা সব বন্ধ ছিল।

    এক ঘণ্টার মধ্যেই দুটো ব্যারিকেড তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়ে গেল। যে দু-একজন পথচারী সাহস করে রাস্তা দিয়ে র‍্যু ডেনিসের দিকে যাচ্ছিল তারা সে ব্যারিকেড দেখে ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়। ব্যারিকেড তৈরির কাজ হয়ে গেলে তার উপর। একটা করে লাল পতাকা উড়িয়ে দেওয়া হল। কুরফেরাক হোটেল থেকে একটা টেবিল এনে এক জায়গায় রাখল। এঁজোরাস একটা বাক্স এনে তার উপর রেখে সেটা খুলে বন্দুকধারী লোকদের মধ্যে কার্তুজ বিতরণ করতে লাগল। অনেকের কাছে বারুদের পাউডার ছিল।

    জয়ঢাকের যে ধ্বনি সরকারি সেনাবাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আহ্বান জানাচ্ছিল সে ধ্বনি শহরের বিভিন্ন জায়গায় ধ্বনিত হচ্ছিল। ধ্বনিটা ক্রমশই এগিয়ে আসছিল। বিপ্লবী জনতা সেদিকে কোনও কান দিচ্ছিল না। তাদের ঘাঁটির বাইরে তিন জায়গায় তিনজন প্রহরী মোতায়েন করে এঁজোলরাস। এরপর সবাইকে বন্দুকে গুলি ভরার হুকুম দিল সে। তখন গোধূলিবেলা। ঘনায়মান সান্ধ্য ছায়ার এক অটল নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল। সংকল্পে কঠিন, ব্যাপক অস্ত্রসজ্জার সমারোহে অশুভ সেই নিস্তব্ধতার মাঝে এক ভয়ঙ্কর ও বিষাদাত্মক ঘটনার প্রতীক্ষিত পদধ্বনি যেন অশ্রুত অথচ নির্মমভাবে ধ্বনিত হচ্ছিল।

    .

    ৫.

    এই প্রতীক্ষার সময় তারা কী করছিল? তারা যা করছিল সেটাও একটা মনে রাখার মতো ইতিহাস।

    পুরুষ কর্মীরা যখন কার্তুজ তৈরি করছিল, মেয়েরা তখন ব্যান্ডেজ তৈরি করছিল, রান্নাঘরে একটা বড় কড়াই-এর উপর বন্দুকের গুলির জন্য সিসে গলানো হচ্ছিল, ব্যারিকেডের বাইরে প্রহরীরা যখন পাহারা দিচ্ছিল সজাগ দৃষ্টিতে আর এঁজোলরাস একমনে সবকিছু পরিদর্শন করে দেখছিল তখন কুরফেরাক, কমবেফারে, জাঁ প্রুভেয়ার আর কয়েকজন মিলে ব্যারিকেডের কাছে এক জায়গায় গুলিভরা বন্দুক নিয়ে বসে প্রেমের কবিতা আবৃত্তি আর গান করছিল। কবিতাটি ছিল এই :

    প্রিয়া, আজও কি তোমার মনে পড়ে সেই কথা?
    আশা ছিল যবে মনের মাঝারে, বুকভরা যৌবন
    কোনও চিন্তা ছিল নাকো মনে, ছিল নাকো কোনও ব্যথা,
    মনপ্রাণ জুড়ে ছিল বিরাজিত প্রেমের গুঞ্জরন।
    শিহরে জাগাত স্পর্শ আমার তোমার ব্যাকুল মনে
    কত ফুল আমি এনে যে দিতাম তোমার পদ্মহাতে,
    কত পথিকদৃষ্টি হত যে ধাবিত তব যৌবনপানে
    অলির মতো উড়তে চাইত তব পুষ্পিত আঁখিপাতে।
    চুম্বন আমি করেছিনু যবে প্রথম প্রেমের দিনে
    শান্ত মানুষ সয়ে যেত সবে সকল অত্যাচার
    কোনও দ্বন্দ্ব কোনও বিক্ষোভ ছিল নাকো কোনওখানে
    বিশ্বাস ছিল ঈশ্বরপরে সব জীবনের সার।

    অতীত যৌবনজীবনের প্রেমময় স্মৃতির সৌরভ, আকাশে প্রথম সন্ধ্যাতারা ফুটে ওঠার শান্ত মুহূর্ত, পরিত্যক্ত পথের সমাধিসুলভ নির্জনতা, এক অশুভ ঘটনার নির্মম আগমনের ভয়াবহ আভাস–সব মিলিয়ে ওদের কণ্ঠে আবৃত্ত কবিতাটিকে এক সকরুণ ভাবমাহাত্ম্য দান করেছিল। জাঁ প্রভেয়ার সত্যিই একজন কবি ছিল।

    ছোট ব্যারিকেডটায় একটা ছোট আলো আর বড় ব্যারিকেডটায় একটা মোমের মশাল জ্বালানো হয়েছিল। হোটেলের নিচের তলার ঘরে গাভ্রোশে কার্তুজ তৈরি করছিল। সেখানে একটা বাতি জ্বলছিল। কিন্তু উপরতলার ঘরে কোনও আলো ছিল না। এছাড়া হোটেলের বাইরে পথেঘাটে অন্ধকার ঘন হয়ে উঠেছিল। ব্যারিকেডের মাথার উপর উড়তে থাকা লাল পতাকার রংটা এক অশুভ লক্ষণে কালো দেখাচ্ছিল।

    .

    ৬.

    রাত্রি বাড়তে লাগল। কিন্তু কোনও ঘটনা ঘটল না। মঝে মাঝে এক একটা বন্দুকের গুলির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। সরকার পক্ষের এই দীর্ঘ নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার একটা অর্থ ছিল। তার অর্থ ছিল এই যে সরকার তখন সৈন্য সমাবেশে ব্যস্ত ছিল। এদিকে বিপ্লবীদের পঞ্চাশজন নেতা ষাট হাজার লোকের হত্যাকাণ্ডের অপেক্ষায় স্তব্ধ হয়ে ছিল।

    বড় রকমের প্রতিকূল ঘটনার সম্মুখীন হয়ে দৃঢ়চেতা লোকরাও যেমন অধৈর্যে বিচলিত হয়ে পড়ে, এঁজোলরাসও তেমনি বিচলিত হয়ে পড়েছিল কিছুটা। সে গাভ্রোশের খোঁজ করছিল।

    এদিকে গাভ্রোশে যখন নিচের তলার একটা ঘরের মধ্যে একা কার্তুজ তৈরি করছিল একটা বাতির আলোয় তখন যে লোকটি র‍্যু বিলেত্তেতে বিপ্লবীদের দলে এসে যোগ দেয়, যাকে তাদের কেউ চিনত না, সেই লোকটি একটি ঘরের মধ্যে এসে অন্ধকার একটা কেণে একটা চেয়ারে বসে পড়ে। তাকে একটা বড় বন্দুক দেওয়া হয়েছিল। সেটা তখন তার দুটো হাঁটুর মধ্যে ছিল। যে লোক আসার পর বিরাট কর্মতৎপরতা দেখায় সে এখন শান্তভাবে কী ভাবতে লাগল। গাভ্রোশে আগে তাকে ভালো করে দেখেনি। কাজে মেতে ছিল সব সময়। এখন সে নিঃশব্দে পা ফেলে নবাগত অচেনা লোকটির কাছে গিয়ে ভালো করে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। হঠাৎ সে আশ্চর্য হয়ে আপন মনে বলতে লাগল, না না, এ কখনও হতে পারে না এ অসম্ভব। সে বিস্মিত ও হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল। তার সমস্ত চেতনা ও বুদ্ধি সজাগ হয়ে উঠল।

    এমন সময় এঁজোলরাস এসে ঘরে ঢুকে গাভ্রোশেকে বলল, তুমি ছোট আছ, কেউ দেখতে পাবে না। তুমি বাড়িগুলোর সামনে দিয়ে রাস্তায় গিয়ে কী অবস্থা দেখে এস।

    গাভ্রোশে মুখ ঘুরিয়ে দাঁড়াল। তার পর বলল, আমরা ছোট হলেও কাজে লাগতে পারি। ঠিক আছে, আমি তা করব। কিন্তু এবার বড়দের দিকে একবার তাকাও।

    এই বলে ইশারা করে ঘরের কোণে বসে থাকা লোকটির দিকে হাত বাড়িয়ে তাকে দেখাল।

    এঁজোলরাস বলল, কী হয়েছে?

    ও পুলিশের গুপ্তচর। পুলিশের লোক।

    তুমি ঠিক জান?

    একপক্ষ কালও হয়নি, একদিন পঁত রয়ালে আমি যখন পথ হাঁটছিলাম ও আমাকে তুলে নিয়ে যায়।

    এঁজোলরাস সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে একজন শ্রমিকের কানে কানে একটা কথা বলে। শ্রমিক তিন-চারজন লোককে ডেকে নিয়ে এসে ঘুরে ঢুকে কোণে বসে থাকা লোকটিকে ঘিরে দাঁড়ায়। এঁজোলারাস তখন সরাসরি লোকটির কাছে গিয়ে বলে, কে তুমি?

    এই আকস্মিক অপ্রত্যাশিত প্রশ্নে চমকে ওঠে লোকটি। সে উঠে দাঁড়িয়ে কড়াভাবে তাকাল এঁজোলরাসের মুখপানে। একটুখানি হাসি হেসে দৃঢ়ভাবে বলল, বুঝেছি… হ্যাঁ আমি।

    তুমি একজন পুলিশের চর।

    আমি হচ্ছি আইনের প্রতিনিধি।

    তোমার নাম কী?

    জেভাৰ্ত।

    জেভার্ত কিছু করার আগেই এঁজোলরাস তার দলের সেই চারজন লোককে ইশারা করতেই তারা বেঁধে ফেলল লোকটিকে এবং তার পকেটগুলো হাতড়ে দেখতে লাগল। তার পকেটে একটা কার্ড আর কিছু স্বর্ণমুদ্রা পাওয়া গেল। কার্ডটার একদিকে পুলিশের বড় কর্তার সই করা একটা নির্দেশনামা ছিল। তাতে একদিকে লেখা ছিল, ইন্সপেক্টর জেভাৰ্ত, বয়স ৫২, তার রাজনৈতিক কাজ শেষ হলে সেন নদীর দক্ষিণ তীরে দুবৃত্তরা গা ঢাকা দিয়ে থাকে, এই বিবরণের সত্যাসত্য নিজে পঁত দ্য অঞ্চলে গিয়ে দেখে আসবে।

    জেতার্তকে বাঁধা হয়ে গেলে সে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে রইল অবিচলভাবে। সে একটা কথাও বলল না। তার হাত দুটো পেছন দিকে বাঁধা ছিল। গাভ্রোশে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে সব কিছু লক্ষ করে যাচ্ছিল নীরবে। সব কিছু দেখার পর সে জেভার্তের এই শাস্তি সমর্থন করল। তার পর সে জেভাৰ্তকে বলল, তা হলে সামান্য উঁদুরও বিড়ালকে ধরতে পারে।

    জেভার্তকে একটা খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হল। খবর পেয়ে কুরফেরাক, কমবেফারে, ফুলি, বোসেত, জলি প্রভৃতি অনেকে ঘরে এসে দেখতে লাগল। এঁজোলরাস সবাইকে বলল, ইনি হচ্ছেন পুলিশের চর।

    এবার জেভাৰ্তের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল সে, আমাদের ব্যারিকেডের দু মিনিট আগে তোমাকে গুলি করে মারা হবে।

    জেতার্ত শান্ত ও নির্বিকারভাবে বলল, এই মুহূর্তে মারা হবে না কেন?

    আমাদের একটা গুলি নষ্ট হবে।

    আমাকে মারার জন্য একটা ছুরি ব্যবহার করতে পার।

    এঁজোলরাস বলল, শোন, আমরা হচ্ছি সমাজের বিচারক, খুনি নই।

    এরপর সে গাভ্রোশেকে বলল, তুমি চলে যাও, যা বলেছি করে এস।

    গাভ্রোশে যেতে গিয়ে দরজার কাছে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। ওর বন্দুকটা আমাকে দাও। আমি বাদককে তোমাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে গেলাম, কিন্তু তার ঢাকটা আমি চাই।

    এই বলে সামরিক কায়দায় এঁজোলরাসকে অভিবাদন জানিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল গাভ্রোশে। ব্যারিকেডের পাশের সরু পথটা দিয়ে বড় রাস্তার দিকে চলে গেল।

    .

    ৭.

    গাভ্রোশে চলে যাবার কিছুক্ষণ পরেই যে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ না দিলে পাঠকরা গোটা ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন না। বুঝতে পারবেন না, বিপ্লবের জন্মলগ্নে সমগ্র দেশ কিভাবে প্রসব-বেদনায় ছটফট করে, গণবিক্ষোভকালে এক চরম বিশৃঙ্খলার সঙ্গে কিভাবে এক মহান গণসংগ্রাম মিশে থাকে।

    বিপ্লবী জনতার মধ্যে আর একজন শ্রমিকের ছেঁড়া পোশাকপরা অচেনা লোক যোগদান করেছিল। তার নাম ছিল লে কিউবাক। তার আচরণটা ছিল অসংযত মাতালের মতো। সে জনতার কিছু লোককে মদ খাবার জন্য উৎসাহ দিচ্ছিল। সেই সঙ্গে সে ব্যারিকেডের পেছনে যে একটা পাঁচতলা বড় বাড়ি ছিল সেটা খুঁটিয়ে দেখছিল। সহসা সে চিৎকার করে বলে উঠল, বন্ধুগণ, ওই বাড়িটা থেকে গুলি চালানো সহজ হবে। জানালা থেকে গুলি চালালে রাস্তার দিকে কোনও শত্রুসৈন্য কাছে ঘেঁষতে সাহস পাবে না।

    একজন বলল, কিন্তু বাড়িটার সব দরজা-জানালা বন্ধ।

    আমরা দরজায় ধাক্কা দিতে পারি।

    ওরা দরজা খুলবে না।

    আমরা তখন দরজা ভেঙে ফেলব।

    বাড়িটার দরজা-জানালা একেবারে বন্ধ ছিল। বাড়ির সদর দরজাটা বেশ মজবুত। লে কিউবাক নিজেই দরজায় ধাক্কা দিতে লাগল। কিন্তু কোনও সাড়া না পেয়ে পর পর তিনবার সে জোর ধাক্কা দিল। কিন্তু তবু ভেতর থেকে কেউ সাড়া দিল না।

    কিউবাক বলল, ভেতরে কে আছে?

    কেউ সাড়া দিল না।

    লে কিউবাক তখন তার বন্দুকের বাঁট দিয়ে ধাক্কা দিতে লাগল। দরজাটা পুরনো আমলের ওক কাঠ আর লোহা দিয়ে তৈরি। বন্দুকের বাঁটের ধাক্কায় বাড়িটা কেঁপে উঠল, কিন্তু দরজাটা ভাঙল না। তখন তিনতলায় একটা জানালা খুলে গেল। তাতে আলো দেখা দিল। আর সেই সঙ্গে পাকা চুলওয়ালা একটা লোকের মাথা দেখা গেল। হয়তো সে-ই ছিল বাড়ির দারোয়ান।

    লোকটি বলল, আপনারা কী চান?

    লে কিউবাক বলল, দরজা খোল।

    দরজা খোলার হুকুম নেই।

    তা হলেও ঢুকতে হবে।

    দরজা খোলার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

    লে কিউবাক তার বন্দুকটা তুলে লোকটার মাথা লক্ষ্য করল। তার পর বলল, তুমি দরজা খুলবে কি না?

    না মঁসিয়ে।

    তুমি খুলবে না?

    না মঁসিয়ে।

    লোকটি কিউবাকের বন্দুকটা দেখতে পায়নি। কারণ কিউবাক রাস্তার উপর যেখানে। দাঁড়িয়ে ছিল সেখানটা অন্ধকার ছিল।

    লোকটার কথা শেষ হতে না হতেই সে কিউবাকের বন্দুকটা গর্জে উঠল। সে বন্দুকের গুলিটা লোকটার চিবুকে ঢুকে তার ঘাড় ফুটো করে বেরিয়ে গেল। তার নিস্পন্দ মাথাটা জানালার উপর ঢলে পড়ল। তার হাতে ধরা বাতিটা পড়ে গিয়ে নিবে গেল।

    লে কিউবাক বন্দুকটা মাটিতে নামিয়ে রেখে বলল, এবার হল তো?

    কিন্তু তার কথা শেষ হতেই হঠাৎ একটা হাত এসে তার ঘাড়টা শক্ত করে ধরে ফেলল। বারবার এক কণ্ঠস্বর বলে উঠল, নতজানু হয়ে বস।

    লে কিউবাক মুখ ঘুরিয়ে দেখল এঁজোলরাস পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। গুলির শব্দ পেয়ে বেরিয়ে আসে সে।

    এঁজোলরাস আবার বলল, নতজানু হও।

    কুড়ি বছরের এক যুবক এক রাজকীয় প্রভুত্বের সঙ্গে পেশিবহুল চেহারার এক শ্রমিককে নলখাগড়া গাছের মতো নত হতে বাধ্য করল। লে কিউবাক বাধা দেবার চেষ্টা করল। কিন্তু সে দেখল, এক অতিমানবিক শক্তির কবলে পড়ে গেছে সে। লম্বা অবিন্যস্ত চুলওয়ালা এঁজোলরাসের মেয়েদের মতো মুখখানা প্রাচীন গ্রিকদেবতার মতো মনে হচ্ছিল। তার চোখ দুটো এক ন্যায়সংগত পবিত্র ক্রোধের উত্তাপে জ্বলছিল। তার নাসারন্ধ্র দুটো কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল সে যেন পৌরাণিক যুগের ন্যায়ের দেবতা।

    যে সব লোক চারদিকে ছড়িয়ে ছিল তারা ঘটনাস্থলে এল। কিন্তু এঁজোলরাসের কাছে আসতে সাহস পেল না। তারা জানত এ ক্ষেত্রে কোনও প্রতিবাদ করা চলবে না।

    লে কিউবাক এবার নিজেকে মুক্ত করার কোনও চেষ্টা না করে নত হয়ে আত্মসমর্পণ করল। তার সর্বাঙ্গ কাঁপছিল। এঁজোলরাস তার ঘাড়টা ছেড়ে তার হাতঘড়িটার দিকে তাকাল। তার পর বলল, এবার তৈরি হও, মাত্র এক মিনিট সময় আছে। প্রার্থনা কর। অথবা চিন্তা কর।

    লে কিউবাক বলল, ক্ষমা কর। তার পর মুখা নিচু করে অস্পষ্টভাবে বিড় বিড় করে কী বলতে লাগল।

    এঁজোলরাস তার হাতঘড়ি থেকে একবারও চোখ ফেরাল না। এক মিনিট হয়ে গেলে সে রিভলবারটা হতে তুলে নিয়ে লে কিউবাকের মাথার চুলগুলো মুঠোর মধ্যে ধরল।

    লে কিউবাক নতজানু বসতেই সে তার কানের কাছে পিস্তলের মুখটা ধরে গুলি করল। যে সব বিপ্লবী সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে সংগ্রাম করার জন্য হঠকারিতার সঙ্গে ছুটে আসে তারা তাদের মুখ ঘুরিয়ে নিল।

    লে কিউবাকের নিথর-নিস্পন্দ দেহটা রাস্তার উপরেই পড়ে গেল। এঁজোলরাস সেই মৃতদেহটার উপর একটা লাথি মেরে বলল, এটা সরিয়ে ফেল।

    তিনজন লোক সঙ্গে সঙ্গে মৃতদেহটা নিয়ে ছোট ব্যারিকেডটার উপর ফেলে দিল। এঁজোলরাস গভীরভাবে কী ভাবতে লাগল। তার আপাতশান্ত চেহারাটার অন্তরালে আর কোনও ভয়াবহ এক মেঘচ্ছায়া ঘনিয়ে উঠছে কি না, তা কে বলতে পারে। চারদিক একেবারে চুপচাপ।

    এঁজোলরাস সহসা বলতে লাগল, হে নাগরিকবৃন্দ, এই লোকটি যা করেছিল তা ঘূণ্য আর আমি যা করেছি তা ভয়ঙ্কর। সে কারণে হত্যা করেছে। কারণ বিপ্লব হবে নিয়ম-শৃঙ্খলার অধীন। অন্য ক্ষেত্রের থেকে বিপ্লবের ক্ষেত্রে অকারণ নরহত্যা অনেক বেশি অপরাধ। বিপ্লব ও প্রজাতন্ত্রের পুরোহিতগণ আমাদের সব কাজ বিচার করে দেখবেন। আমাদের কোনও কাজ যেন নিন্দনীয় না হয়। তাই এই লোকটিকে মৃত্যুদণ্ড দান করেছি আমি। তবু আমি যা করেছি তা ঘৃণ্য এবং অনিচ্ছার সঙ্গেই করেছি। আমি আমার এই কাজের জন্য আমার নিজের বিচার করেছি এবং সে বিচারের রায় একটু পরেই তোমরা জানতে পারবে।

    উপস্থিত জনতার মধ্যে ভয়ের একটা শিহরণ খেলে গেল।

    কমবেফারে বলল, আমরাও তোমার ভাগ্যের অংশীদার হব।

    এঁজোলরাস বলল, তা হতে পার। কিন্তু আমার আরও কিছু বলার আছে। যে নির্মম প্রয়োজনীয়তার খাতিরে আমি এই লোকটিকে মৃত্যুদণ্ড দান করেছি, প্রাচীনকালের লোকেরা সেই প্রয়োজনীয়তাকেই নিয়তি বলত। অগ্রগতির নিয়ম অনুসারে এই নিয়তিই সেই ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসায় পরিণত হবে। এই ভালোবাসাই আমাদের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতে কোনও মানুষকে কেউ হত্যা করবে না। জগতে কোথাও কোনও অন্ধকার বা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোনও বর্বরতা ও গৃহযুদ্ধের কোনও অবকাশ থাকবে না। এমন দিন অবশ্যই আসবে যেদিন পৃথিবীজুড়ে বিরাজ করবে শান্তি, ঐক্য, আনন্দ আর প্রাণচঞ্চলতার আলো। সেদিনকে ত্বরান্বিত করার জন্যই মৃত্যুবরণ করতে হবে আমাদের।

    এবার চুপ করে গেল এঁজোলরাস। যেখানে একটু আগে লে কিউবাককে হত্যা করেছে সে, সেইখানে পাথরের প্রতিমূর্তির মতো নীরবে দাঁড়িয়ে রইল সে। সে যেন একাধারে পুরোহিত এবং ঘাতক। তার ঠোঁট দুটো বন্ধ করে সে জনতার দিকে স্থির কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কমবেফারে আর জাঁ প্রুভেয়ার হাত ধরাধরি করে স্তব্ধ হয়ে ব্যারিকেডের পাশে একাধারে দাঁড়িয়ে রইল। এঁজোলরাসের কঠোর মুখখানার পানে একই সঙ্গে প্রশংসা আর করুণাঘন দৃষ্টিতে তাকাল। তার মুখখানা যেমন স্ফটিকের মতো উজ্জ্বল তেমনি পাহাড়ের মতোই কঠোর এবং অকম্পিত।

    পরে পুলিশ রিপোর্ট থেকে জানা যায় আসলে লে কিউবাক ছিল ক্লাকেসাস। সে ছিল একজন দাগি অপরাধী। সে হঠাৎ কোথায় অদৃশ্য হয়ে যায়।

    এই ঘটনাটা ঘটে যাওয়ার পরই কুরফেরাক দেখে যে যুবকটি আজ সকালে তার বাসায় মেরিয়াসের খোঁজ করতে এসেছিল, সে তাদের দলে যোগ দিতে এসেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটয়লার্স অভ দ্য সী – ভিক্টর হুগো
    Next Article কেন আমি নাস্তিক – ভগৎ সিং

    Related Articles

    ভিক্টর হুগো

    টয়লার্স অভ দ্য সী – ভিক্টর হুগো

    November 6, 2025
    ভিক্টর হুগো

    দ্য ম্যান হু লাফস – ভিক্টর হুগো

    November 6, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }