Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লে মিজারেবল – ভিক্টর হুগো

    ভিক্টর হুগো এক পাতা গল্প1486 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.৮ ভোরের আলো

    অষ্টম পরিচ্ছেদ

    তখন ভোরের আলো সবেমাত্র ফুটে উঠছিল। সারারাত ঘুম হয়নি ফাঁতিনের। শেষরাতের দিকে এক মধুর কল্পনার বশবর্তী হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। এই সুযোগে সিস্টার সিমপ্লিস তার কাছ থেকে ওষুধের শিশি থেকে এক দাগ কুইনাইন আনার জন্য গেল। জানালা দিয়ে আসা ভোরের আলোয় ওষুধের শিশিগুলোকে খুঁটিয়ে দেখছিল সে।

    সহসা মুখ ঘুরিয়ে দেখেই বিস্ময়ে চিৎকার করে উঠল। দেখল মঁসিয়ে ম্যাদলেন নীরবে ঘরে ঢুকছে। সে বলল, মঁসিয়ে লে মেয়র?

    ম্যাদলেন নিচু গলায় বলল, সে কেমন আছে?

    সিস্টার সিমপ্লিস বলল, এখন কিছুটা ভালো আছে বটে, কিন্তু তার জন্য গতকাল আমরা সব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম।

    এরপর সে ম্যাদলেনকে বলল, গতকাল ফাঁতিনের অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যায়। তার পর সে যখন বিশ্বাস করে আপনি তার মেয়েকে আনার জন্য মঁতফারমেলে গেছেন তখন সে হঠাৎ ভালো হয়ে ওঠে। মেয়র কোথায় গিয়েছিল তা জিজ্ঞাসা করতে সাহস পেল না। কিন্তু সে মেয়রের মুখের হাবভাব দেখে বুঝল মেয়র সেখানে যায়নি।

    ম্যাদলেন বলল, আমি খুশি। তোমরা তার ভুল না ভেঙে ঠিকই করেছ।

    সিস্টার বলল, তা হয়তো ঠিক। কিন্তু আপনি তার মেয়েকে আনেননি, এখন তাকে কী বলব?

    ম্যাদলেন দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগল। তার পর বলল, ঈশ্বর আমাকে পথ বলে দেবেন।

    তখন দিনের আলো স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সে আলোয় তার মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। সে মুখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বিস্ময়ে চিৎকার করে উঠল সিস্টার সিমপ্লিস, হা ভগবান! মঁসিয়ে মেয়র, কী হয়েছে আপনার? আপনার মাথার চুল সব সাদা হয়ে গেছে।

    সাদা!

    তার কোনও আয়না ছিল না। মৃত রোগীরা শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হবার জন্য ডাক্তাররা একরকম ছোট আয়না ব্যবহার করত। সেই আয়নাটা নিয়ে ম্যাদলেন নিজের মাথাটা দেখল। সে অন্য কথা ভাবতে ভাবতে আনমনে বলল, তাই তো।

    এক অজানিত আশঙ্কায় হিম হয়ে গেল সিস্টারের অন্তরটা।

    ম্যাদলেন বলল, আমি একবার তাকে দেখতে পারি?

    সিস্টার ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করল, মঁসিয়ে কি তার মেয়েকে আনতে যাচ্ছেন না?

    ম্যাদলেন উত্তর করল, হ্যাঁ যাব। কিন্তু দু-তিন দিন দেরি হবে।

    আরও দেখুন
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা কমিকস
    বইয়ের
    গ্রন্থাগার
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা উপন্যাস
    অনলাইন বুক

    সিস্টার বলল, তার মেয়েকে না আনা পর্যন্ত সে আপনাকে দেখতে না পেলে ভাববে আপনি এখনও ফেরেননি সেখান থেকে। তা হলে আমরা তাকে সহজেই শান্ত করতে পারব। তার পর ওর মেয়ে এসে পড়লে ও ভাববে আপনিই তাকে নিয়ে এসেছেন। তা হলে আর আমাদের মিথ্যা কথা বলতে হবে না।

    ম্যাদলেন আবার ভাবতে লাগল। তার পর শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল, না সিস্টার, এখনি তার সঙ্গে দেখা করতে হবে আমায়। হয়তো আমি খুব কম সময় পাব।

    সিস্টার হয়তো কথাটার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে লাগল। এ কথাটা যেন সমস্ত ব্যাপারটাকে আরও রহস্যময় করে তুলল। সে মুখ নামিয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে বলল, তা হলে সে এখন ঘুমিয়ে থাকলেও ভেতরে যেতে পারেন।

    ফাঁতিনের ঘরের দরজাটা খোলা বা বন্ধ করার সময় জোর শব্দ হয়। ম্যাদলেন ঘরের ভেতর ঢুকে গিয়ে তার বিছানার মশারিটা তুলল। সে তখন ঘুমোচ্ছে। কিন্তু তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। মুমূর্ষ সন্তানকে দেখে মা’র যেমন অন্তরটা বিদীর্ণ হয়ে যায় ম্যালেনেরও তাই হচ্ছিল। ফাঁতিনের মুখ ও গালের ম্লান ফ্যাকাশে ভাবটা এক শান্ত শুভ্রতায় পরিণত হয়ে উঠেছিল। তার নিষ্পাপ যৌবন জীবনের একমাত্র অবশিষ্ট সৌন্দর্য টানা টানা চোখ দুটো মুদিত থাকলেও সে চোখের পাতাগুলো অল্প অল্প কাঁপছিল। অদৃশ্য পাখা মেলে ঊর্ধ্বলোকে উড়ে চলার এক অপ্রাকৃত প্রস্তুতি হিসেবে তার গোটা অচেতন দেহটা যেন অশান্ত হয়ে উঠেছিল। এ অবস্থায় কেউ তাকে দেখে ভাবতে পারবে

    আরও দেখুন
    বই
    বাংলা ই-বই
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    সেবা প্রকাশনী বই
    Books
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    অনলাইন বই

    এক দুরারোগ্য রোগ তার দেহটাকে ভেতরে ভেতরে জীর্ণ করে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে তাকে। তাকে দেখে শুধু এই কথাই মনে হবে যে সে মরছে না, ঊর্ধ্বে উক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তার প্রাণের পাখিটা।

    যখন আমরা কোনও ফুল তুলতে যাই তখন সে ফুলের বৃন্তটা কেঁপে ওঠে। দেখে মনে হয় একই সঙ্গে আত্মদানে সংকুচিত এবং আগ্রহান্বিত হচ্ছে সে বৃন্ত। তেমনি মৃত্যুর রহস্যময় হাতটা যখন দেহের বৃন্ত থেকে আত্মাটাকে ছিন্ন করে নিতে আসে তখন আমাদের দেহটা কেঁপে কেঁপে উঠতে থাকে এমনি করে।

    ফাঁতিনের বিছানার পাশে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ম্যাদলেন। একবার ফাঁতিনের দিকে আর একবার তার মাথার উপর ক্রশটার দিকে তাকাতে লাগল সে। আজ হতে দু মাস আগে প্রথম যেদিন সে তাকে দেখতে আসে সেদিনও সে এমনি করে ক্ৰশটাকে দেখেছিল। সেদিনও এমনি করে ঘুমিয়েছিল ফাঁতিনে। আজ ফাঁতিনের চুলটা ধূসর আর তার চুলটা সাদা হয়ে গেছে একেবারে।

    আরও দেখুন
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    অনলাইন বুক
    বই পড়ুন
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    সাহিত্য পর্যালোচনা

    সিস্টার ম্যালেনের সঙ্গে ঘরে ঢোকেনি। ম্যাদলেন তার ঠোঁটে একটা আঙুল দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ঘরে যেন অন্য কোনও লোক আছে এবং তাকে চুপ করতে বলছে। এমন সময় চোখ খুলল ফাঁতিনে। চোখ মেলে তাকাল সে। সে হাসিমুখে শান্তভাবে বলল, কসেত্তে কোথায়?

    .

    ২

    বিস্ময় বা আনন্দের আবেগ ছিল না তার কণ্ঠে। সে কোনও অঙ্গভঙ্গি করল না। সে নিজেই ছিল যেন আনন্দের এক প্রতিমূর্তি। এমন এক নিরুদ্বেগ নিশ্চয়তা আর আশ্বাসের সঙ্গে এই প্রশ্নটা উচ্চারিত হল তার কণ্ঠে যে তা শুনে অবাক হয়ে গেল ম্যাদলেন।

    ফাঁতিনে বলতে লাগল, আমি জানতাম আপনি এসে গেছেন। আমি ঘুমের মধ্যেও আপনাকে দেখছিলাম, আমি সারারাত ধরে আপনাকে দেখেছি। মনে হচ্ছিল আপনি যেন এক জ্যোতির মূর্তি এবং কত দেবদূত আপনাকে ঘিরে ছিল।

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    সেবা প্রকাশনী বই
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা ভাষা
    বইয়ের
    সাহিত্য পত্রিকা
    PDF
    পিডিএফ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

    দেয়ালের উপর ঝোলানো ক্রশটার পানে তাকিয়ে রইল ম্যাদলেন।

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    গ্রন্থাগার
    অনলাইন বই
    Library
    বাংলা সাহিত্য
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ই-বই
    পিডিএফ

    ফাঁতিনে বলল, কসেত্তে কোথায়? তাকে কেন আমার বিছানায় বসিয়ে দিলেন না? তা। হলে আমি জেগে উঠেই তাকে দেখতে পেতাম।

    ম্যাদলেন অস্পষ্ট স্বরে কী বলল তা সে নিজেই বুঝতে পারল না। এমন সময় ডাক্তার এসে ঘরে ঢুকল। তাকে ডাকা হয়েছিল। ম্যালেনের মনে হল ডাক্তার যেন তাকে উদ্ধার করতে এসেছে।

    ডাক্তার বলল, তুমি শান্ত হও বাছা। তোমার মেয়ে এসে গেছে।

    ফাঁতিনের চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং সেই উজ্জ্বলতা ক্রমে ছড়িয়ে পড়ল তার সারা মুখখানায়। আবেগের সঙ্গে সে তার দুটো হাত দিয়ে কী একটা জড়িয়ে ধরতে যাচ্ছিল।

    সে বলল, কেউ তাকে ঘরে নিয়ে আসবে না?

    সে ভাবছিল কসেত্তে যেন তখনও কোলের সেই ছোট্ট শিশুটি আছে।

    ডাক্তার বলল, এখন নয়। এখনও তোমার গায়ে জ্বর আছে। কোনও রকম উত্তেজনা ক্ষতিকর হবে তোমার পক্ষে। আগে সেরে ওঠ।

    ফাঁতিনে বলল, কিন্তু আমি এখন ভালো হয়ে গেছি। আমি ভালো আছি। আপনি এত বোকা হলেন কী করে? আমি আমার মেয়েকে দেখতে চাই।

    ডাক্তার বলল, কত তাড়াতাড়ি তুমি উত্তেজিত হয়ে পড়ছ। এ অবস্থায় তাকে আমি আনতে পারি না। তাকে শুধু দেখলেই হবে না। তার জন্যই তোমাকে বাঁচতে হবে। তুমি একটু শান্ত হলেই তাকে নিয়ে আসব আমি নিজে।

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বই
    অনলাইন বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা বই

    মাথাটা নাড়িয়ে ফাঁতিনে বলল, আমাকে মাপ করবেন মঁসিয়ে ডাক্তার, আমি ভালো থাকলে এত কথা বলতাম না। কিন্তু এখন কী বলছি ভুল হয়ে যাচ্ছে; মনে রাখতে পারছি না। অবশ্য আমি বুঝি আপনারা আমাকে উত্তেজিত হতে দিতে চান না। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, আমার মেয়েকে দেখে আমি উত্তেজিত হব না। আমি তার সঙ্গে খুব আস্তে কথা বলব। আমি সারারাত ধরে তার হাসি-হাসি উজ্জ্বল মুখখানা দেখেছি। এখন আর আমার কোনও রোগ নেই। ঠিক আছে, আমি চুপ করে শান্ত হয়ে থাকব। তা হলে ওরা আমার মেয়েকে নিয়ে আসবে।

    ফাঁতিনের বিছানার পাশেই একটা চেয়ারে বসে ছিল ম্যাদলেন। ফাঁতিনে জোর করে নিজেকে সামলে নিয়ে চুপ করে রইল, যাতে ওরা তার মেয়েকে নিয়ে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকে সংযত করতে পারল না। একসঙ্গে পরপর অনেকগুলো প্রশ্ন করে বসল ম্যাদলেনকে।

    সে বলল, আপনার অসীম দয়া মঁসিয়ে মেয়র। যেতে কোনও কষ্ট হয়নি তো? আমার মেয়ে কেমন আছে? আসতে তার খুব কষ্ট হয়নি তো? সে হয়তো এখন আমাকে চিনতে পারবে না। এখন হয়তো ভুলে গেছে। কতদিন আগে দেখেছে। শিশুরা পাখির মতো ক্ষীণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন। তার পোশাক-আশাক ঠিক ছিল তো? থেনার্দিয়েররা তাকে খেতে দিত? তার যত্ন নিত? আমি যখন কপর্দকহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলাম থেনার্দিয়েররা। আমায় দারুণ পীড়ন করতে থাকে টাকার জন্য। যাক, এখন সব কিছু মিটে গেছে। আমি এখন সুখী। মঁসিয়ে মেয়র, কসেত্তে দেখতে সুন্দরী তো? তাকে আপনি একবার আনতে পারেন না? আমার জন্য এইটুকু অন্তত করুন।

    ফাঁতিনের একটি হাত টেনে নিয়ে ম্যাদলেন বলল, কসেত্তে সত্যিই সুন্দরী। সে ভালো আছে। তুমি শীঘ্রই দেখতে পাবে তাকে। তুমি কিন্তু খুব বেশি কথা বলছ। তোমার হাত দুটো চাদরের বাইরে বার করলেই কাশি হচ্ছে।

    প্রায়ই কাশিতে তার কথাগুলো বাধা পাচ্ছিল। ফাঁতিনে কোনও প্রতিবাদ করল না। বুঝতে পারল তারই ভুল। বেশি কথা বলে ওদের বিশ্বাস হারাচ্ছে। তবু সে শান্তভাবে আবার বলতে লাগল, মঁতফারমেল জায়গাটা খুব সুন্দর, তাই নয় কি? গ্রীষ্মকালে সেখানে অনেক দর্শক যায়। বেনার্দিয়েররা ভালো আছে? জায়গাটার লোকবসতি ঘন নয়। ওদের হোটেলটা খুবই ছোট।

    ম্যাদলেন তার হাতটা ধরে ছিল তখনও। ফাঁতিনের দিকে তাকিয়ে ছিল সে একদৃষ্টিতে। একটা কথা বলার ছিল তাকে। কিন্তু বলতে গিয়েও বলতে পারছিল না। ডাক্তার চলে গেছে, শুধু সিস্টার সিমপ্লিস ঘরে ছিল তখনও।

    হঠাৎ নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে চিৎকার করে উঠল ফাঁতিনে, আমি তার কথা শুনতে পাচ্ছি। তার কথা শুনতে পাচ্ছি।

    হাসপাতালের উঠোনে একটি বাচ্চা মেয়ে খেলা করছিল। হাসপাতালের কোনও মেয়ে কর্মীর সন্তান। মেয়েটি ছোটাছুটি করছিল। নাটকে কল্পিত দুটি সাজানো দৃশ্যের মতো অনেক সময় বিচ্ছিন্ন ঘটনা পরস্পরের কাছে কেমন অদ্ভুতভাবে মিলে যায়।

    আরও দেখুন
    ই-বুক রিডার
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    অনলাইন বুক
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বইয়ের
    বাংলা কুইজ গেম

    ফাঁতিনে বলল, আমি বেশ বুঝতে পারছি, এ কসেক্তের কণ্ঠস্বর।

    মেয়েটি ছুটতে ছুটতে সেদিকে একবার এসে আবার চলে গেল। তার কণ্ঠস্বরটা ক্রমে মিলিয়ে গেল দূরে। যতদূর পারল সে কণ্ঠস্বর শুনতে লাগল ফাঁতিনে। কণ্ঠস্বর আর শুনতে না পাওয়ার ফলে তার মুখটা কালো হয়ে উঠল। সে বলল, ডাক্তারটা কী নিষ্ঠুর! একবার মেয়েটাকে দেখতে দিল না আমায়। ওর মুখটা দেখলেই নিষ্ঠুর মনে হয়।

    কিন্তু অন্য এক বড় আশায় উদ্দীপিত হয়ে সে বালিশে মাথাটা এলিয়ে দিয়ে নিজের মনে কথা বলে যেতে লাগল। আমরা সত্যিই খুব সুখী হব। আমাদের একটা ছোটখাটো বাগান থাকবে। মঁসিয়ে ম্যাদলেন কথা দিয়েছেন, সেখানে কসেত্তে খেলা করে বেড়াবে। এতদিনে তার হয়তো অক্ষর পরিচয় হয়ে গেছে। আমি তাকে এবার থেকে বানান শেখাব। সে যখন ঘাসের উপর দিয়ে প্রজাপতি ধরে বেড়াবে আমি তখন তার পানে তাকিয়ে থাকব। এখন তার বয়স সাত। বারো বছর বয়সে তার প্রথম কমিউনিয়ন হবে। তার মাথায় থাকবে সাদা ঘোমটা।….ও সিস্টার, আমি কত স্বার্থপর! আমি আমার মেয়ের কমিউনিয়নের কথা ভাবছি।

    এই বলে হাসতে লাগল সে।

    ম্যাদলেন এবার ফাঁতিনের হাতটা ছেড়ে দিল। অতল চিন্তার গভীরে ডুব দিয়ে ফাঁতিনের কথা শুনতে শুনতে তার মনে হচ্ছিল সে যেন কোনও বৃক্ষশাখায় প্রবাহিত বনমর্মরের ধ্বনি শুনছে।

    কিন্তু কথা বলতে বলতে সহসা থেমে গেল ফাঁতিনে। সে থেমে যেতেই তার পানে তাকাল ম্যাদলেন। ফাঁতিনের চোখমুখ কেমন যেন ভয়াবহ হয়ে উঠল। সে কনুই-এর উপর ভর দিয়ে বসে ফ্যাকাশে মুখে ভয়ে চোখদুটো বিস্ফারিত করে ঘরের প্রান্তে তাকিয়ে কী দেখছিল।

    ম্যাদলেন ব্যস্ত হয়ে বলে উঠল, কী হল ফাঁতিনে? কী ব্যাপার?

    ফাঁতিনে কোনও কথা বলল না। ম্যালেনের হাতটা ধরে দরজার কাছে কী দেখাল।

    মুখ ঘুরিয়ে ম্যাদলেন দেখল জেভার্ত দাঁড়িয়ে।

    .

    ৩

    সত্যিই তাই।

    সেদিন রাতে সাড়ে বারোটা বাজতেই ম্যাদলেন অ্যারাসের কোর্ট ছেড়ে হোটেলে চলে গেল। কারণ মন্ত্রিউলগামী ডাকগাড়িতে একটা সিট সংরক্ষণ করে রেখেছিল। সেই গাড়িতেই সে ফিরে যাবে। মন্ত্রিউল-সুর-মেরে পৌঁছেই সে প্রথমে লাফিত্তেকে লেখা চিঠিটা পাঠিয়ে দেবে। তার পর সে হাসপাতালে ফাঁতিনেকে দেখতে যাবে।

    এদিকে ম্যাদলেন কোর্ট-ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে সরকারপক্ষের উকিল উঠে দাঁড়িয়ে মন্ত্রিউল-সুর-মের-এর মেয়রের এই হঠকারিতার সমালোচনা করে বলল, উনি হঠাৎ কী করে ধরে নিলেন শ্যাম্পম্যাথিউ’র জায়গায় উনিই কারাদণ্ড ভোগ করবেন এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে অবশ্য উনিই যে জাঁ ভলজাঁ সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে আরও অনেক কিছু প্রমাণ করার আছে।

    কিন্তু বিচারপতি ও জুরিরা একমত হতে পারলেন না সরকারপক্ষের উকিলের সঙ্গে।

    আসামিপক্ষের উকিল বলল, মঁসিয়ে ম্যাদলেন যে প্রমাণ দিয়ে গেছেন তাতে শ্যাম্পম্যাথিউ-এর বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ খণ্ডিত হয়ে গেছে। সুতরাং তাকে মুক্তি না দেওয়ার কোনও কারণ থাকতে পারে না। বিচারপতি তার কথা সমর্থন করলেন। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুক্তি পেল শ্যাম্পম্যাথিউ। যদি সে জাঁ ভলজাঁ না হয় তা হলে কে সেই ভলজাঁ? তা হলে ম্যাদলেনই হবে সেই জাঁ ভলজাঁ।

    কোর্টের কাজ সেদিনকার মতো বন্ধ করে বিচারপতি তার খাস কামরায় সরকারপক্ষের উকিলকে নিয়ে আলোচনা করতে লাগলেন। মন্ত্রিউলের মেয়রকে। অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে তারা দু জনেই একমত হলেন। বিচারপতি নিজের হাতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা লিখলেন। আইন তার নিজের পথে চলবে। বিচারপতি একজন বুদ্ধিমান, যুক্তিপ্রবণ ও সহৃদয় ব্যক্তি হলেও আইন ও ন্যায়বিচারের দিক থেকে তিনি ছিলেন কঠোর প্রকৃতির এবং আপোষহীন রাজতন্ত্রী। মেয়র ম্যাদলেন যখন ম্রাটের চেলস-এ অবতরণের কথা বলার সময় বোনাপার্ট না বলে সম্রাট বলে তখন তিনি তা শুনে ব্যথিত হন।

    তিনি সঙ্গে সঙ্গে ম্যাদলেনকে গ্রেপ্তার করার জন্য এক পরোয়ানা লিখে এক বিশেষ। দূতকে সে পরোয়ানা দিয়ে মন্ত্রিউলে পাঠিয়ে দেন, যাতে ইন্সপেক্টর জেতার্ত ম্যাদলেনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে পারে।

    জেভার্ত অ্যারাসে সাক্ষ্য দিয়েই মন্ত্রিউলে চলে আসে। সে সকালে ঘুম থেকে উঠেই। পরোয়ানা পায়। দূত ছিল একজন অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসার। সে অ্যারাসের কোর্টে যা যা গতকাল সন্ধ্যায় ঘটে তা জেভাৰ্তকে বলে। জেভার্তের প্রতি বিচারপতির নির্দেশ ছিল, মন্ত্রিউলের মেয়র ম্যাদলেনকে জেল-ফেরত কয়েদি জাঁ ভলজাঁ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জেভার্ত যেন তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে রাখে।

    জেতার্তকে যারা ভালো করে চেনে না তারা সে যখন হাসপাতালে ম্যাদলেনের খোঁজে যায় তখন তার মনের মধ্যে কী ধরনের চিন্তা বা অনুভূতির খেলা চলছিল তা ঠিক বুঝতে পারবে না। তার বাইরের ভাবটা ছিল শান্ত ও আত্মস্থ এবং তার ধূসর চুলগুলো ছিল ভালোভাবে আঁচড়ানো। যারা তাকে চিনত তারা তখন তাকে ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখলে আশ্চর্য হয়ে যেত।

    জেভার্ত ছিল শৃঙ্খলাপরায়ণ লোক। তার চেহারা ও পোশাক-আশাক সব সময় গুছানো থাকত। তার কোর্টের বোতাম সব সময় দেওয়া থাকত। কখনও যদি তার সরকারি পোশাকের কিছুটা অগোছালো থাকত তা হলে বুঝতে হবে তার মনের ভেতর কোনও কারণে ঝড় বইছে।

    জেভার্ত হাসপাতালে ম্যাদলেনকে গ্রেপ্তার করতে যাবার সময় চার-পাঁচজন পুলিশ সঙ্গে নিয়ে যায়। তাদের হাসপাতালের উঠোনে রেখে সে সোজা ফাঁতিনের ঘরে চলে যায়। সে মেয়রের কাছে যেতে চাইলে দারোয়ান তাকে নিয়ে যায় বিনা বাধায়। জেভাৰ্ত ফাঁতিনের ঘরে ঢুকে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে দরজার কাছে।

    জেভার্তের টুপিটা তার মাথার উপরেই ছিল। তার বাঁ হাতটা ছিল তার কোটের বোতামের উপর। তার বগলের মধ্যে ছিল ধাতব হাতলওয়ালা ছড়িটা। তাকে প্রথমে কেউ দেখতে পায়নি। তার ওপর প্রথমে ফঁতিনের চোখ পড়তেই সে চিৎকার করে ওঠে ভয়ে।

    ম্যাদলেন তার দিকে তাকাতেই জেভার্তের চেহারাটা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। তার আনন্দের চাপা আবেগটা ভয়ঙ্কর হয়ে ফুটে ওঠে মুখের ওপর। তার মুখটা এমন এক শয়তানের মতো হয়ে ওঠে যেন তার হারানো শিকার খুঁজে পেয়েছে হঠাৎ।

    সে যে অবশেষে জাঁ ভলজাঁকে হাতের মুঠোর মধ্যে পেয়ে গেছে এই চিন্তার সুতো ধরে তার আন্দোলিত আত্মাটা গম্ভীর হয়ে চোখ-মুখের উপরে উঠে এল। মাঝখানে সে সন্ধানের সুতোটা হারিয়ে ফেলে শ্যাম্পম্যাথিউ নামে লোকটাকে ভলজাঁ বলে ধরে নেওয়ায় যে অপমানের কবলে পড়েছিল, সে অপমান-জয়ের গর্বে ও আনন্দের আবেগের স্রোতে কোথায় ভেসে গেল। সে বুঝতে পারল তার চোখ কখনও ভুল করে না। এক কুৎসিত জয়ের আত্মম্ভরী আনন্দ আর গভীর পরিতৃপ্তি যেন তার উদ্ধত চেহারাটার ওপর ঢেউ খেলে যাচ্ছিল।

    জেতার্ত তখন যেন স্বর্গসুখ অনুভব করছিল তার মনে। সে তার গুরুত্ব খুব বেশি করে অনুভব করছিল। সেই মুহূর্তে তার মনে হচ্ছিল সে যেন ন্যায়বিচার, আলো আর সত্যের মূর্ত ও জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। সে মূর্তি যত সব অশুভ অন্ধকার শক্তিকে পদদলিত করার মহান কার্যে নিরত। সে যেন বাস্তব জগতে নেই, এক মহাশূন্যে ভাসছে আর তার চারদিকে আইনের অবিসম্বাদিত কর্তৃত্ব, বিচারে অমোঘ রায়, জনগণের ধিক্কার নৈশ আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির মতো কিরণ দিচ্ছে। সে যেন তখন আইন-শৃঙ্খলার অভিভাবক, ন্যায়বিচারের বিদ্যুলোক, সমাজের প্রতিশোধ এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রশক্তির প্রতিনিধি রূপে এক অনাস্বাদিতপূর্ব গৌরবের আলোকবন্যায় অভিস্নাত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তার উদ্ধত আত্মম্ভরী চেহারাটা এক অতিপ্রাকৃত শক্তিলীলায় প্রমত্ত ধ্বংসোন্মাদ এক দেবদূতের মতো নীলনির্মল আকাশে বিচরণ করে বেড়াচ্ছিল যেন। তার হাতের বজ্রমুষ্টিটা হয়ে উঠেছিল যেন এক আতপ্ত তরবারি। এক নিবিড়তম তৃপ্তির হাসি হাসতে হাসতে সে যেন সমাজ ও সংসারের যত রকমের পাপ, অপরাধ, বিদ্রোহ ও নরকের উপর ঘৃণা ও দর্পভরে হেঁটে চলেছিল সব কিছু মাড়িয়ে দিয়ে।

    তবুও এই উদ্ধত আত্মম্ভরী চেহারাটার মধ্যে কোথায় যেন একটা মহত্ত্ব ছিল। সে ভয়ঙ্কর হলেও তাকে ঘৃণ্য বলা যায় না। দৃঢ়তা, নিষ্ঠা, সততা, আত্মপ্রত্যয়, কর্তব্যবোধ প্রভৃতি গুণগুলো কুপথে চালিত হয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেও তাদের মধ্যে কিছুটা মহত্ত্ব অবশিষ্ট থেকে যায়। সেই ভয়াবহতার মাঝেও মানবিক বিবেকরূপী এক মহত্ত্ব থেকে যায় তার মধ্যে। যে কারণ এইসব গুণগুলোকে ভুল পথে চালিত করে ভয়ঙ্কর করে তোলে তা হল এক ভ্রান্ত ধারণা। তাছাড়া আর কোনও কারণ নেই। কোনও অত্যুৎসাহী ব্যক্তি সততার সঙ্গে কোনও নিষ্ঠুর কাজ করে এক নির্মম আনন্দ লাভ করলেও সে আমাদের এক বিষাদগ্রস্ত শ্রদ্ধা আকর্ষণ করে। জেভার্ত না জানলেও তার ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর আনন্দ এক ধরনের অনুকম্পা লাভ করে আমাদের কাছ থেকে। এক নিষ্ঠুর কঠোরতার সঙ্গে সম্পন্ন যে কোনও শুভ কর্ম ও চিন্তার মধ্যে যেসব অশুভ শক্তি লীলাচঞ্চল হয়ে ওঠে, সেইসব অশুভ শক্তিগুলো একযোগে যেন মূর্ত হয়ে উঠেছিল জেভার্তের মুখের ওপর। তার মুখের সে দৃশ্য সত্যিই মর্মবিদারক।

    .

    ৪

    যেদিন জেভার্তের হাত থেকে ফাঁতিনেকে উদ্ধার করে ম্যাদলেন সেদিন থেকে জেভার্তের দিকে কখনও চোখ ফেরায়নি ফাঁতিনে। তার রুগণ মন জেভার্তের আসার কারণ কিছু বুঝতে না পারলেও জেভার্ত যে তারই জন্য এই হাসপাতালে এসেছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ রইল না তার মনে। তাকে চোখে দেখার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর এক পূর্বাস্বাদ অনুভব করল যেন সে। সে দু হাতে মুখ ঢেকে চিৎকার করে উঠল কাতরভাবে, মঁসিয়ে ম্যাদলেন, আমাকে বাঁচাও।

    জাঁ ভলজাঁ (ম্যাদলেনকে এবার থেকে আমরা এই নামেই ডাকব) উঠে দাঁড়িয়ে ব্যস্ত হয়ে বলল, ভয় পেও না, ও তোমার জন্য আসেনি।

    এবার জেভাৰ্তের দিকে তাকিয়ে ভলজাঁ বলল, তুমি কী জন্য এখানে এসেছ আমি তা জানি।

    জেতার্ত বলল, তা হলে তাড়াতাড়ি কর।

    কথাগুলো সে এমন নির্মমভাবে এবং এত তাড়াতাড়ি বলল যে মনে হল যেন কোনও মানুষ কথা বলছে না, একটা পশু গর্জন করছে। প্রথাগত কোনও রীতিনীতি মেনে চলল না সে। সে গ্রেপ্তারের কথাটা সরকারিভাবে ঘোষণা করল না অথবা পরোয়ানাটা দেখাল। তার কাছে জাঁ ভলজাঁ ছিল যেন তার বিরামহীন দুশ্চিন্তার এক রহস্যময় বস্তু, এক ছায়াশ যার সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে লড়াই করে এসে আজ তাকে ধরাশায়ী করতে পেরেছে। এই গ্রেপ্তার যেন সেই লড়াইয়ের শেষ পরিণতি, কোনও ঘটনার সূচনা নয়। যে তীক্ষ্ণদৃষ্টির শলাকা দিয়ে আজ হতে দু মাস আগে তিনের দেহটাকে ভেদ করে তার অস্থিমজ্জাকে বিদ্ধ করেছিল, সেই দৃষ্টিশলাকা দিয়ে আজ আবার জাঁ ভলকে বিদ্ধ করল সে। ‘নাও তাড়াতাড়ি কর’ নির্মমভাবে এই কথাগুলো ছুঁড়ে দিল তার দিকে।

    জেভার্তের কড়া কথাগুলো ফাঁতিনের কানে যেতেই সে আবার চোখ মেলে তাকাল। কিন্তু মেয়র কাছে থাকায় মনে সাহস পেল সে।

    জেভার্ত ঘরের ভেতর কিছুটা এগিয়ে গিয়ে বলল, তা হলে তুমি আসছ?

    ফাঁতিনে হতবুদ্ধি হয়ে তার চারদিকে তাকাল। ঘরের মধ্যে তখন সে ছাড়া শুধু ছিল সিস্টার সিমপ্লিস আর মেয়র। তা হলে ফাঁতিনে ছাড়া আর কাকে সে কথা বলবে জেভাৰ্ত? সহসা এমন এক অবিশ্বাস্য ও অবাঞ্ছিত ঘটনা সে নিজের চোখে দেখল যা সে রোগের ঘরেও কল্পনা করতে পারেনি কোনও দিন, যা দেখার সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে কাঁপন ধরে গেল তার। সে দেখল পুলিশ ইন্সপেক্টার জেভার্ত মেয়র মঁসিয়ে ম্যাদলেনের জামার কলার ধরেছে আর মেয়র তা নতশিরে মেনে নিয়েছে।

    ফাঁতিনে বলে উঠল, মঁসিয়ে মেয়র। সব দাঁত বার করে এক কুটিল অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল জেভাৰ্ত। বলল, সে আর মেয়র নেই।

    জাঁ ভলজাঁ জেভাতের হাত থেকে তার ঘাড়টা ছাড়াবার কোনও চেষ্টা করল না। সে শুধু মুখে বলল, জেভার্ত–

    জেভার্ত বলল, বল ইন্সপেক্টার।

    ঠিক আছে ইন্সপেক্টার, আমি গোপনে তোমার সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই।

    জেভার্ত বলল, যা কিছু বলার আছে বলে ফেল। আমার সঙ্গে কেউ চুপি চুপি কথা বলে না।

    জাঁ ভলজাঁ চাপা গলায় বলল, আমি একটা বিষয়ে তোমার অনুগ্রহ চাই।

    আমি বলছি, বলে ফেল।

    কিন্তু সেটা শুধু তোমাকেই একান্তভাবে বলতে চাই।

    আমি সে কথা শুনতে চাই না।

    জাঁ ভলজাঁ জেভার্তের দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল, আমাকে মাত্র তিন দিনের সময় দাও। এই হতভাগিনী মহিলার মেয়েটিকে আনার জন্য তিন দিনের সময় দাও। এর জন্য তোমাকে আমি যে কোনও পরিমাণ টাকা দেব। ইচ্ছা করলে তুমি আমার সঙ্গেও যেতে পার।

    জেতার্ত বলল, তুমি কি ঠাট্টা করছ? তুমি কি বোকা! তিন দিন বাইরে থাকবে এই মেয়েটার মেয়েকে আনার জন্য? চমৎকার!

    ফাঁতিনে কাঁপতে লাগল। সে কাঁপতে কাঁপতে বলল, আমার মেয়েকে আনতে হবে? সে তা হলে আসেনি? সিস্টার, আমার কথার জবাব দাও, কসেত্তে কোথায়? আমি তাকে দেখতে চাই। মঁসিয়ে ম্যাদলেন—

    জেভার্ত  মেঝের উপর পা-টা ঠুকল। বলল, চুপ কর ব্যভিচারিণী কোথাকার! এ বেশ রাজত্ব হয়েছে, যেখানে জেলমুক্ত কয়েদিরা ম্যাজিস্ট্রেট হয় আর বারবনিতারা কাউন্টপত্নীদের মতো সেবা-শুশ্রূষা পায়। কিন্তু আমরা এ সবকিছুর অবসান ঘটাতে চলেছি এবং তার সময় এসেছে।

    ভলজাঁ’র জামার কলারটা আরও জোরে ধরে জেতার্ত ফাঁতিনেকে লক্ষ্য করে বলতে লাগল, আমি তোমাকে বলে দিচ্ছি। এখানে মঁসিয়ে ম্যাদলেন বা মেয়র বলে কেউ নেই। এখানে আছে শুধু এক দাগি অপরাধী, এক কয়েদি, যার নাম জাঁ ভলজাঁ এবং যাকে আমি ধরে আছি।

    ফাঁতিনে তার হাতে ভর দিয়ে বিছানার উপর খাড়া হয়ে বসল। তার দৃষ্টি জেতার্ত থেকে ভলজাঁ, আর ভলজাঁ থেকে সিস্টারের দিকে ঘুরে বেড়াতে লাগল। সে কী বলতে গেল, কিন্তু পারল না, শুধু একটা গোঙানির মতো কাতর শব্দ বেরিয়ে এল তার মুখ থেকে। তার দাঁতগুলো কড়মড় করতে লাগল। জলে ডুবে যাবার সময় কোনও লোক যেমন কিছু একটা ধরার চেষ্টা করে তেমনি করে সে দু হাত বাড়িয়ে কী করতে গেল। তার পর বালিশের উপর ঢলে পড়ল। মাথাটা খুঁজে পড়ল তার। চোখ দুটো বড় বড় করে বন্ধ করল সে আর মুখটা হাঁ করে রইল।

    ফাঁতিনের দেহটা নিষ্প্রাণ হয়ে গেল।

    ভলজাঁ এবার জোর করে জের্তের হাতটা সরিয়ে দিয়ে অনায়াসে তার ঘাড়টা মুক্ত করল। তার পর জেতার্তকে বলল, তুমি এই মেয়েটিকে হত্যা করেছ।

    জেভার্ত প্রচণ্ড রাগের সঙ্গে বলল, ঠিক হয়েছে। আমি এখানে তর্ক করতে আসিনি। অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। নিচে পুলিশ পাহারা আছে। তুমি যাবে, নাকি তোমার হাতে হাতকড়া লাগাব?

    ঘরের কোণে অব্যবহৃত একটা লোহার খাট ছিল। ভলজাঁ সেখানে গিয়ে তার থেকে একটা লোহার রড টেনে বার করে সেটা হাতে নিয়ে জেভার্তের সামনে এসে দাঁড়াল। জেভার্ত ভয়ে দরজার কাছে পিছিয়ে গেল।

    ভলজাঁ সেই লোহার রডটা হাতে নিয়ে ফাঁতিনের বিছানাটার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে মুখ ঘুরিয়ে জেভার্তকে বলল, এই মুহূর্তে তুমি আমার কাজে হস্তক্ষেপ করবে না।

    ভয়ে কাঁপতে লাগল জেভাৰ্ত। সে একবার ভাবল নিচে গিয়ে পুলিশদের ডেকে আনবে। কিন্তু আবার ভাবল, সে বাইরে যেতে গেলে ভলজাঁ দরজায় খিল দিয়ে তাকে আটকে দিতে পারে। তাই সে দরজার কাছে নীরবে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল ভলজাঁ কী করে।

    খাটের মাথার উপর লোহার রডে কনুই রেখে হাতের তালুতে মুখ রেখে ফাঁতিনের নিথর নিস্পন্দ দেহটার দিকে তাকিয়ে নীরবে কী ভাবতে লাগল ভলজাঁ। ফাঁতিনের মৃত্যুর কথাটাই তখন তার সমস্ত মন জুড়ে বিরাজ করছিল। এক অনির্বচনীয় করুণা ফুটে উঠেছিল তার মুখের ওপর। কিছুক্ষণ পরে সে ফাঁতিনের মৃতদেহটার উপর ঝুঁকে পড়ে খুব নিচু গলায় কী বলতে লাগল।

    সে তাকে কী বলল? একজন মৃত মহিলাকে একজন দণ্ডিত ব্যক্তি কী বলতে পারে? কোনও জীবন্ত মানুষ তার যে কথা শুনতে পেল না, সে কথা কি মৃতজন শুনতে পেল? অনেক সময় এমন সব অপ্রাকৃত অবান্তর ঘটনা ঘটে যা এক মহান বাস্তবতা হিসেবে শ্রদ্ধা পায় মানুষের কাছ থেকে। সিস্টার সিমপ্লিস সেই দৃশ্যের একমাত্র সাক্ষী হয়ে পরে বলেছিল, ভলজাঁ যখন ফাঁতিনের কানে কানে অশ্রুত শব্দে কী সব বলছিল, তখন ফাঁতিনের ফ্যাকাশে সাদা ঠোঁট দুটোয় আর তার শূন্য চোখে এক মৃদু হাসি ফুটে ওঠে। মৃত্যুর মাঝেও তার চোখ দুটো বিস্ফারিত হয়ে ওঠে।

    ফঁতিনের মাথাটা দু হাতে ধরে মৃত্যুশোকাহত মাতার মতো পরম যত্নে বালিশের উপর রেখে দিল ভলজাঁ। তার নাইট গাউনের ফিতেটা বেঁধে দিল। তার মাথার চুলগুলো ঠিক করে গুছিয়ে দিয়ে তার উপর টুপিটা লাগিয়ে দিল। শেষে তার চোখের পাতাগুলো বন্ধ করে দিল।

    ফাঁতিনের একটা হাত বিছানার পাশে ঝুলছিল। ভলজাঁ সেই হাতটা নিয়ে চুম্বন করল।

    এরপর সে জেভার্তের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, এবার কী করতে হবে বল।

    .

    ৫

    জাঁ ভলজাঁকে গ্রেপ্তার করে মন্ত্রিউল থানার হাজত-ঘরে বন্ধ করে রাখল জেভাৰ্ত।

    মঁসিয়ে ম্যালেনের গ্রেপ্তারের ঘটনা দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করল সারা শহরে। সে একজন ভূতপূর্ব কয়েদি এ কথা শুনে সকলেই ঘৃণায় পরিত্যাগ করল তাকে। সে যেসব ভালো কাজ করেছিল এতদিন ধরে সেসব কাজের কথা ভুলে গেল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। অবশ্য অ্যারাসে কী ঘটনা ঘটেছিল তা শহরের কেউ জানত না।

    শহরের নানা জায়গায় একদল করে লোক জটলা পাকিয়ে তার কথা বলাবলি করতে লাগল। কেউ বলল, শুনেছ, লোকটা জেলফেরত কয়েদি।

    আর একজন বলল, কে? মঁসিয়ে ম্যাদলেন? অসম্ভব!

    কিন্তু একথা সত্যি। তার নাম ম্যাদলেন নয়, বর্জা না কি। তাকে গ্রেপ্তার করে শহরে থানায় রাখা হয়েছে। পরে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হবে। কয়েক বছর আগের এক ডাকাতির ঘটনার অভিযোগে অ্যারাসের আদালতে তার বিচার হবে।

    আর একজন বলল, আমি কিন্তু মোটেই আশ্চর্য হইনি এ ঘটনায়। আমার প্রায়ই মনে হত লোকটা এত ভালো কাজ কেন করছে। আমার মনে সন্দেহ ছিল। সে নিজে কোনও সাজপোশাক করত না। শুধু অকাতরে দান করত। কোনও একটা রহস্য আছে এর মধ্যে–এই কথাই শুধু আমার মনে হত।

    শহরের অনেক অভিজাত লোকের বাড়ির বৈঠকখানাতেও তার কথা আলোচিত হল। একদিন এক বৃদ্ধা বলল, ভালোই হল। বোনাপার্টপন্থীদের শিক্ষা হওয়া উচিত।

    এইভাবে ম্যালেনের প্রেতাত্মাটা মন্ত্রিউল শহর থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল। কেবল তিন-চারজন লোক বিশ্বস্ত রয়ে গেল তার স্মৃতির প্রতি। তাদের মধ্যে ছিল সেই বুড়ি মেয়েটি যে ম্যালেনের বাড়িতে থেকে তার দেখাশোনা করত।

    সেদিন সন্ধ্যায় বুড়িটি দারোয়ানের ঘরের কাছে বসে ভাবতে লাগল। আজ সারাদিন কারখানা বন্ধ ছিল। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। হাসপাতালে ফাঁতিনের মৃত্যুশয্যার পাশে শুধু সিস্টার সিমপ্লিস আর সিস্টার পার্পেচুয়া বসে ছিল।

    ম্যাদলেন বাড়ি ফিরে আসবে এই আশায় সেদিনও বসে ছিল সে। ম্যাদলেন বাড়ি ফিরলে সে তার ঘর থেকে চাবি বার করে দিত। তার বাতি জ্বেলে দিত। তার পর ম্যাদলেন তার নিজের ঘরে চলে যেত।

    এমন সময় তার ছোট জানালাটা খুলে কে একটা হাত ঢুকিয়ে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে চাবিটা বার করে নিল।

    ভয়ে ও বিস্ময়ে কোনও কথা বলতে পারল না বুড়িটি। তার পর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ঈশ্বর আমায় ক্ষমা করুন মঁসিয়ে মেয়র। আমি ভেবেছিলাম আপনি

    ম্যাদলেন বলল, তুমি ভেবেছিলে আমি জেলে গেছি। হ্যাঁ, আমি জেলেই গিয়েছিলাম। হাজতে ছিলাম। জানালার একটা রড ভেঙে আমি এখানে এসেছি। আমি উপরতলায় আমার ঘরে যাচ্ছি। একবার সিস্টার সিমপ্লিসকে ডেকে দেবে? সে বোধ হয় হাসপাতালেই আছে।

    বুড়ি মেয়েটা চলে গেল সঙ্গে সঙ্গে। ভলজাঁ জানত সে বড় বিশ্বস্ত এবং সে কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না।

    ভলজাঁ উপরতলায় গিয়ে নিজের ঘরের দরজাটা খুলল। তার পর বাতি জ্বালাল। জানালার সার্সিগুলো বন্ধই রেখে দিল সতর্কতা হিসেবে। কারণ জানালাগুলো বড় রাস্তা থেকে দেখা যায়। আলো দেখলে লোকে সন্দেহ করবে।

    এবার ভলজাঁ ঘরের খাট, চেয়ার, আসবাবপত্রগুলো দেখতে লাগল। বিছানাটাতে সে তিন রাত শোয়নি। সেদিন রাতে সে যেসব আসবাবগুলো সরিয়ে ঘরটা ওলটপালট করেছিল, চাকরে আবার সেগুলো সব গুছিয়ে ঠিক করে রেখেছে। ঘরে আর আগুন জ্বালানো হয়নি। আগুনের জায়গাটায় ছাইয়ের গাদায় তার আগের লাঠিটা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পেতিত গার্ভের মুদ্রাটা আগুনে পুড়ে কালো হয়ে গেছে।

    ভলজাঁ একটা কাগজ বার করে তার উপর লিখল, এইখানে আমার আগের পোড়া লাঠিটা আর পেতিত গার্ভের কাছ থেকে চুরি করা মুদ্রাটা রইল। এই মুদ্রার কথাটা আমি আদালতে বলেছিলাম। লেখার পর কাগজটা আর মুদ্রাটা ঘরের এমন এক জায়গায় রাখল যাতে কেউ ঘরে ঢুকলেই সেগুলো তার নজরে পড়ে। এরপর ড্রয়ার থেকে একটা পুরনো শার্ট বার করে সেটা ছিঁড়ে বিশপের দেওয়া রুপোর বাতিদান দুটো জড়িয়ে নিল। জেল থেকে দেওয়া যে কালো রুটিটা এতদিন ধরে সে রেখে দিয়েছিল সেটা সে টুকরো টুকরো করে ফেলল। পরে যখন পুলিশ এসে ঘরটা তছনছ করে তখন সেই টুকরোগুলো পায়।

    দরজায় মৃদু একটা করাঘাত হল এবং সিস্টার সিমপ্লিস ঘরে ঢুকল। তার মুখটা ম্লান এবং চোখদুটো লাল হয়ে উঠেছিল। তার হাতে একটা বাতি ছিল এবং হাতটা কাঁপছিল। আমরা যতই আত্মস্থ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ হই না কেন, দুর্ভাগ্যের নির্মম কশাঘাত এমনি করে আমাদের বিচলিত করে, এমনি আমাদের আসল স্বরূপটা টেনে বার করে বাইরে। সেদিনের ঘটনা যা তার সামনে ঘটে গেছে তাতে সন্ন্যাসিনীর মাঝে সুপ্ত নারীসত্তা আবার জেগে উঠেছে। সে সারাদিন কেঁদেছে। তার সর্বাঙ্গ শিহরিত হয়েছে ক্ষণে ক্ষণে।

    ভলজাঁ এর মধ্যে একটা চিঠি লেখে। চিঠিটা সে সিস্টারের হাতে দিয়ে বলল, এটা কুরেকে দেবে সিস্টার। তুমি এটা পড়ে দেখতে পার।

    সিস্টার চিঠিটা পড়ল। তাতে লেখা ছিল, মঁসিয়ে লে কুরেকে আমি যে টাকা রেখে যাচ্ছি তার সব ভার নেবার জন্য অনুরোধ করছি। সেই টাকায় তিনি আমার মামলার খরচ চালাবেন এবং যে মেয়েটি হাসপাতালে মারা গেছে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য যা লাগবে তা দিয়ে দেবেন। বাকি যা থাকবে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে তা বিলিয়ে দেবেন।

    সিস্টার কী বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারল না। শেষে সে জিজ্ঞাসা করল, ভলজাঁ শেষবারের মতো মৃত ফাঁতিনেকে দেখবে কি না।

    ভলজাঁ বলল, না, ওরা আমাকে খুঁজছে। মৃত্যুশয্যার পাশে ওরা আমাকে গ্রেপ্তার। করলে তার শান্তি বিঘ্নিত হবে।

    তার কথা শেষ হতেই নিচে কাদের পায়ের শব্দ শোনা গেল। সেই সঙ্গে শোনা গেল নিচে সেই বুড়ি মেয়েটি প্রতিবাদের সুরে জোর গলায় কী বলছে। সে বলছে, আমি সারাদিন এখানে বসে আছি। কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেখিনি।

    একজন লোক বলল, কিন্তু উপরকার ঘরে আলো জ্বলছে।

    ভলজাঁ বুঝতে পারল নিচে জেভাৰ্ত কথা বলছে।

    ঘরের মধ্যে একটা জায়গা ছিল যেখানে কেউ থাকলে ঘরে কেউ ঢুকলে তাকে দেখতে পাবে না। জাঁ ভলজাঁ বাতির আলোটা নিবিয়ে দিয়ে সেইখানে লুকিয়ে পড়ল। সিস্টার সিমপ্লিস টেবিলের পাশে নতজানু হয়ে প্রার্থনা করতে লাগল।

    এমন সময় দরজা খুলে জেতার্ত ঘরে ঢুকল। বারান্দায় কয়েকজন লোকের গলা শুনতে পাওয়া গেল। বুড়ি তখনও তাদের সঙ্গে বাদ-প্রতিবাদ করছে। ঘরের মধ্যে একটা বাতি মিটমিট করে জ্বলছিল।

    সিস্টারকে প্রার্থনা করতে দেখে জেতার্ত লজ্জা পেয়ে গেল।

    জেভার্তের প্রকৃতিটা যত কঠোরই হোক না কেন ধর্মের প্রভুত্বের প্রতি তার একটা শ্রদ্ধা ছিল। তার মতে একজন যাজক বা সন্ন্যাসিনী কোনও ভুল করতে পারে না, কোনও পাপকাজ করতে পারে না। ধর্মবিশ্বাসের দিক থেকে সে ছিল একেবারে গোড়া। ধর্মের প্রভুত্ব সম্পর্কে তার মনে কোনও সংশয় বা প্রশ্ন ছিল না। তার মতে যাজক বা সন্ন্যাসিনীদের আত্মা আর বাস্তব জগতের মধ্যে ছিল এমন এক প্রাচীরের ব্যবধান, যার মধ্যে যাতায়াতের কেবল একটা মাত্রই দরজা ছিল। সে জাঁ হল সত্যের দরজা।

    সিস্টার সিমপ্লিসকে প্রার্থনা করতে দেখে জেভার্তের চলে যেতে ইচ্ছা হল।

    কিন্তু তার একটা কর্তব্য আছে। যে কর্তব্য পালন করার জন্য সে এখানে এসেছে। সে কর্তব্য সে অস্বীকার করতে পারে না।

    জেতার্ত জানত সিস্টার সিমপ্লিস জীবনে কখনও মিথ্যা কথা বলেনি। তাই তাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখত।

    জেতার্ত এবার সিস্টারকে বলল, সিস্টার, আপনি কি এ ঘরে একা আছেন?

    সিস্টার সিমপ্লিস এক কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ল। সে বুড়ি মেয়েটি ভয়ে কাঁপতে লাগল। তার মনে হল সিস্টার মূৰ্ছিত হয়ে পড়বে।

    সিস্টার সিমপ্লিস মুখ তুলে জেতার্তকে বলল, হ্যাঁ।

    জেভার্ত বলল, মাপ করবেন। আজ সন্ধ্যায় আপনি জাঁ ভলজাঁ নামে একজন লোককে দেখেছেন? আজ সে হাজত থেকে পালিয়ে এসেছে। আমরা তাকে খুঁজছি। আপনি তাকে দেখেছেন?

    সিস্টার বলল, না।

    দ্বিতীয়বার মিথ্যা কথা বলল সিস্টার সিমপ্লিস। এ মিথ্যা তার আত্মত্যাগেরই সমতুল।

    জেভার্ত বলল, আমি ক্ষমা চাইছি।

    এই বলে ঘর থেকে চলে গেল সে।

    যে সিমপ্লিস সংসার ত্যাগ করে দীর্ঘকাল ধর্মের কাজে যোগদান করেছে তার কথা সত্য বলে ধরে নিল। সে লক্ষ করল না একটা বাতি টেবিলের উপর নেভানো ছিল।

    এক ঘণ্টা পরে একটা লোককে কুয়াশার মধ্য দিয়ে প্যারিসের পথে একা দেখা যায়। সে লোক হল জাঁ ভলজাঁ। দু একজন গাড়ির চালক গাড়ি চালিয়ে সে পথে যাবার সময় দেখে একটা লোক আলখাল্লা পরে আর হাতে একটা পুঁটলি নিয়ে প্যারিসের পথে হেঁটে চলেছে। সে আলখাল্লাটা কোথায় পেয়েছে ভলজাঁ তা কেউ জানে না।

    যে পৃথিবীর মাটি আমাদের সকলের মাতা, আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল সেই পৃথিবীর মাটিতে চিরবিশ্রাম লাভ করে ফাঁতিনে।

    জাঁ ভলজাঁ যে টাকা রেখে গিয়েছিল, কুরে সে টাকার বেশিরভাগ গরিব-দুঃখীদের জন্য রেখে দিয়ে তার থেকে খুব অল্প টাকাই ফাঁতিনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য খরচ করে। কবরখানার এক প্রান্তে দীন-দরিদ্রদের জন্য সংরক্ষিত এক জায়গায় তাকে অতি সাধারণভাবে কবর দেওয়া হয়। তার কবরটাও ছিল তার বিছানার মতোই দীন হীন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটয়লার্স অভ দ্য সী – ভিক্টর হুগো
    Next Article কেন আমি নাস্তিক – ভগৎ সিং

    Related Articles

    ভিক্টর হুগো

    টয়লার্স অভ দ্য সী – ভিক্টর হুগো

    November 6, 2025
    ভিক্টর হুগো

    দ্য ম্যান হু লাফস – ভিক্টর হুগো

    November 6, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }