Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোটাকম্বল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1632 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.৩২ ওই দেখা যায় বাড়ি আমার

    ওই দেখা যায় বাড়ি আমার
    চারি দিকে মালঞ্চের বেড়া

    অবিশ্বাসী পিতা আমার সহজে কিছু বিশ্বাস করতে চান না। আমাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনে হাসতে হাসতে বললেন, যাক, বিনা পয়সায় ম্যাজিক দেখে এলেন। আধ্যাত্মিক ম্যাজিক।

    বিশ্বাসী মাতামহের মনে বড় লাগল। তিনি বললেন, আচ্ছা, আমি না হয় বোকা বুড়ো। গাধাতে আর আমাতে কোনও তফাত নেই; কিন্তু আমার এই বুদ্ধিমান নাতিটিকে তুমি জিজ্ঞেস করো। এক তুড়িতে সে প্রায় ঘণ্টা আড়াই মৃতের মতো পড়ে রইল। দেহ রইল আশ্রমে, মন ছুটল ভুবন ভ্রমণে।

    আরে মশাই, ওকে বলে সম্মোহন। ও বিদ্যে আমাদের পি সি সরকারও জানেন। তা হলে তো হুডিনিকে এনে গেরুয়া পরিয়ে আশ্রমে বসাতে হয়।

    মাতামহ তর্কের হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, তুমি যখন বিশ্বাস করবে না তখন কার ক্ষমতা তোমাকে বিশ্বাস করায়! তুমি ভূত মানলেও ভগবানকে একেবারেই মানতে চাও না। ভগবানের কী যে খেলা!

    বিশ্বাস অবিশ্বাস জানি না, আসলে আমার অত অবসর নেই। জীবন ক্রমশই ছোট হয়ে আসছে, এখনও অনেক কাজ বাকি। যতটা পারা যায় ততটা সেরে যেতে হবে তো। কে জানে আর আসা। হবে কি না! আমি দুটো ঘটনা বিশ্বাস করি, জন্ম আর মৃত্যু, আর বিশ্বাস করি সময়ের গতি। সময়ের নদীতে, বিভিন্ন দূরত্বে বাঁশের খোটার মতো আমরা পোঁতা রয়েছি। হুহু করে জল ছুটছে উলটো দিকে। স্রোত কখনও প্রবল, কখনও মৃদু। টাইম টেকস অল।

    তুমি প্রারব্ধ বিশ্বাস করো না? তুমি পুনর্জন্ম বিশ্বাস করো না?

    আমি যা দেখি তাই বিশ্বাস করি। অভিজ্ঞতার বাইরে যেতে চাই না। জন্ম দেখি, বিশ্বাস করি। সেটা পুনর্জন্ম কি না, অনর্থক সেই বিচারে সময় নষ্ট করার মতো সময় আমার নেই। মৃত্যু দেখি, বিশ্বাস করি। প্রকৃতিতে শক্তির খেলা দেখি, বিশ্বাস করি। ন্যাচারাল ফোর্সেস। বিশ্বাস করি নিজের শক্তিকে, মেধাকে। হু ইজ গড? ভগবান আবার কে?

    মাতামহ ভীষণ আহত হয়ে বললেন, আমার আর কিছু বলার নেই।

    কী করে বলবেন? ভগবানকে তো আপনি আর হাত ধরে আমার সামনে হাজির করতে পারবেন না। আমার মতোই একজন মানুষকে ভগবান বলে চালাতে চাইবেন।

    তুমি আগুন খেতে পারবে?

    চেষ্টা করলেই পারব। এত কিছু খেতে পারছি, অভ্যাস করলে আগুনও খেতে পারব।

    অত সহজ নয়, হরিশঙ্কর।

    বেশ, আপনি নাপ্পি খেতে পারবেন?

    সে আবার কী?

    বার্মিজদের প্রিয় খাদ্য। মাটির তলায় পুঁতে রাখা পোকা-ধরা পচা মাংস।

    অসম্ভব, ভাবলেই গা গুলিয়ে উঠছে।

    ওরা কিন্তু সবচেয়ে বড় উৎসবের দিনে সম্মানিত অতিথিকে নাপ্পি পরিবেশন করে থাকে। সবচেয়ে বড়া খানা, আমাদের বিরিয়ানির মতো। সবই হল অভ্যাসযোগ। উট কাটাগাছ খায়। আপনি পারবেন। আমাদের ফকস সাহেবও আগুন খেয়ে মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের করে। গণপতি ম্যাজিশিয়ান, কাটা পেরেক, কাঁচ, অ্যাসিড মুড়িমুড়কি আর শরবতের মতো খেতে পারেন। এর মধ্যে ধর্ম নেই, ঈশ্বরও নেই। কৌশল।

    তোমার কোনও কথাই আমি ঠিকমতো ধরতে পারি না। আজ এক রকম বলো, কাল এক রকম বলো। এই সেদিন বললে, ভূত আছে। ভূত থাকলে ভগবানও আছে। আজ বলছ কিছুই নেই। ঘুরঘুরে বাবা জাদুকর হলেও, তোমার ছেলে তো ম্যাজিশিয়ান নয়। ও তা হলে কীভাবে দেহমুক্ত হয়ে সারাভারত ঘুরে এল। শেষে সেই হৃষীকেশের এক আশ্রমে কনককে খুঁজে পেল।

    এই ঘরে বসে আমিও সারাভারত এখুনি ঘুরে আসতে পারি। দেখবেন? আমি এক্ষুনি কন্যাকুমারী চলে যাব! কল্পনাপ্রবণ মানুষ অনেকরকম ধাপ্পা দিতে পারে। কাঞ্চীপুর বর্ধমান ছয় দিনের পথ, একদিনে উত্তরিল অশ্বমনোরথ।

    কী তুমি বলছ হরিশঙ্কর! তোমার মতো কালাপাহাড় কেউ দেখেছে! আমার নাতি ধাপ্পা দেবে?

    ধাপ্পা দেবে কেন? স্বভাবে দুর্বল শরীরে দুর্বল। সে পড়েছে বলিষ্ঠ মনের খপ্পরে। ওর। কল্পনাটাকেই তিনি সত্যির মতো করে দেখিয়েছেন। একে বলে সাজেশন। যেমন মায়ায় জগৎভ্রম। কোথাও কিছু নেই, অথচ আমরা ঘরবাড়ি দেখছি, পাহাড়পর্বত দেখছি, গাছ দেখছি, ফুল দেখছি। স্বপ্নই কেমন সত্য হয়ে উঠছে। আজ থেকে ছ’বছর আগে ও আমার সঙ্গে হৃষীকেশে গিয়েছিল। বম্বে, মাদ্রাজ, দিল্লি, কানপুর কোথাও গেল না ও গেল হৃষীকেশে। সেখানে সারদা ভবনের প্রেয়ার হলে কনককে দেখে এল। এর চেয়ে সহজ রচনা আর কী আছে!

    রচনা?

    হা রচনা। পরীক্ষায় দেয় না? তোমার জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, একটি দিন, ওই জাতীয় একটা কিছু। মেসোমশাই সর্দিতে ফেসর ফোঁসর করতে করতে ঘরে এলেন। ভদ্রলোকের মন আর শরীর দুটোই ভেঙে পড়েছে। মুকু এমনিই একটু অমিশুক ধরনের ছিল। দিদির অন্তর্ধানে আরও গম্ভীর হয়ে। গেছে। বেশির ভাগ সময়েই বারান্দায় বসে বসে উদাস চোখে আকাশ দেখে। কাছে গেলে সরে যায়।

    মেসোমশাই চেয়ারে বসে বললেন, তা হলে আমরা কবে যাচ্ছি?

    পিতা বললেন, কোথায় যাবেন?

    কেন হৃষিকেশে? কনক যে-আশ্রমে আছে।

    কী করে বুঝলেন কনক হৃষীকেশেই আছে?

    এই যে ওঁরা বললেন।

    ওঁরা কি দেখে এসেছেন?

    না তা নয়, তবে দৈবপ্রভাবে দেখেছেন।

    পিতা বললেন, আমার আর কিছু বলার নেই। তিনি উঠে চলে গেলেন। একেবারে ঘরের বাইরে। মাতামহ বললেন, এই একটা মানুষ! কখন যে কীরকম! বাঘকে বাগ মানানো যায়। আমার এই জামাইটিকে যায় না। আমিও চলি। হাওয়া বড় এলোমেলো বইছে।

    মেসোমশাই অসহায়ের মতো বললেন, একটা সিদ্ধান্তে তো আসতে হবে!

    তা হবে, তবে সিদ্ধান্তে আসার মালিক তো উঠে চলে গেল। সে দলে না ভিড়লে কিছুই তো করা যাবে না।

    মেসোমশাই হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, উঃ কী ফাঁপরেই যে পড়া গেল!

    মাতামহ সত্যিই চলে গেলেন। মেসোমশাই আমার সঙ্গে বিশেষ কথাবার্তা বলেন না। অপরাধীদের তালিকায় আমি বোধহয় পয়লা নম্বরে আছি। আসামি নাম্বার ওয়ান।

    কেউ কিছু না করুক, আমি করবই। প্রয়োজন হলে গৃহত্যাগেও প্রস্তুত। আমি কনককে স্বচক্ষে দেখেছি। চোখ কি চোখের! চোখ তো মনের। পিতা যাই বলুন, ঘুরঘুরে বাবার অসীম শক্তি। আমি আমার থেকে বেরিয়েছি, আবার আমাতে এসে ঢুকেছি। এমন অভিজ্ঞতা ক’জনের হয়! ম্যাজিক বলে উড়িয়ে দিলেই উড়ে যাবে! জ্ঞান দিয়ে, বিজ্ঞান দিয়ে কি সবকিছুর সমাধান হয়! তাই যদি হবে তা হলে মাঝরাতে ঘরে সেই জোড়া চামচিকি ঢুকলে, পিতা কেন রহস্যময় গলায় বলেন, চুপ, চুপ, এসেছে। সে তা হলে কীসের ইঙ্গিত!

    দুপুরে সবে চান করে উঠেছি, কাকিমা ফিসফিস করে বললেন, তুমি আমার একটা উপকার করবে?

    বেশ ভয় পেয়ে গেলুম, তবু বললুম, কী উপকার?

    কাপড় ছেড়ে এসে তুমি আমার পুজোটা করে দেবে?

    কী পুজো?

    এমন কিছু না, ঠাকুরকে একটু ফুল, বাতাসা আর জল দিয়ে দেবে, আর একটা ধূপ জ্বেলে দেবে।

    রোজ তো আপনি দেন, আজ আমি কেন?

    মেয়েদের মাসে পাঁচ দিন ঠাকুর ছোঁবার উপায় থাকে না।

    কেন?

    উঃ আচ্ছা বোকার পাল্লায় পড়েছি! সব কেনর উত্তর দেওয়া যায় না। বুঝে নিতে হয়। পাঁচ দিন। মেয়েদের শরীর খারাপ থাকে। এত বড় ছেলে হলে, কত কী যে জানো না!

    কাপড় ছেড়ে আবার নীচে নামতে হল। সেদিন অফিস থেকে একটা ফ্রিপ্যাকেট পেয়েছি। তাতে ছিল, গোটাকতক গায়েমাখা সাবান, দুটো কাপড় কাঁচার বড় বার সাবান, মাথায় মাখার দু’শিশি তেল, স্নো, সেন্ট, পাউডার। ঠিক করেছিলুম হাফ কাকিমাকে দোব, আর হাফ দেব মায়াকে। যতই হোক মায়া আমার প্রেমিকা। একটু পাগলি আছে। সেদিন একটা চিঠি লিখেছে। কী তার ভাষা! মনে হয় কোনও বই থেকে টুকে দিয়েছে। প্রিয়তম, জীবন বড় ছোট। একদিন ফুরিয়ে গেলে টের পাবে, তখন চোখের জল ফেললেও আমাকে আর পাবে না। তুমি বলেছিলে সাধু হবে, আমি হব তোমার ভৈরবী। তোমার একটা কথারও যদি ঠিক থাকত। শুনলুম চাকরি পেয়েছ? চলো এবার তা হলে পালাই। চিঠিটা গোল করে ঢোলের মতো একটা মাদুলির মধ্যে ঢুকিয়ে রেখেছি। পিতৃদেবের হাতে পড়লেই হয়েছে আর কী!

    তেল সাবান স্নো পেয়ে কাকিমা কী খুশি। একবার এর ছিপি খোলেন, ওর ঢাকনা খোলেন, গন্ধ শোকেন আর বারেবারে বলেন, এই সব তুমি আমাকে দিলে? তুমি আমাকে একেবারে দিয়ে দিলে? কখন মাখি বলো তো! একদিন এইসব মেখেটেখে, বেশ সেজেগুঁজে কোথাও গেলে হয়! যাবে একদিন?

    কাকাবাবু রাগ করবেন।

    তাও তো বটে! আমি এক ক্রীতদাসী, হেঁশেল ঠেলার জন্যেই জন্মেছি। জন্ম আঁতুড়ঘরে, মৃত্যু রান্নাঘরে। যাই বলল, তোমাকে আজ বেশ ঠাকুর ঠাকুর দেখাচ্ছে।

    তাড়াতাড়ি বলুন, কী করতে হবে। এখুনি ওপরে হাঁকাহাঁকি শুরু হয়ে যাবে।

    তুমি ওই কুলুঙ্গির পরদাটা সরাও। ধূপ জ্বালো, বাসি ফুল ফেলে নতুন ফুল দাও, কৌটোয় বাতাসা আছে, পুজোর থালায় গোটাকতক সাজিয়ে দাও, ছোট এক গেলাস গঙ্গাজল ধরে দাও। পরদা টেনে চোখ বুজিয়ে আসনে বসে বলল, মা খাও, মা খাও।

    কাকিমা বড় গোছানে। এই এঁদো ঘরেই কী সুন্দর আয়োজন! পরদাটি একপাশে সরাতেই তেত্রিশ কোটি দেব-দেবতার বেশ কয়েকজনের দর্শন মিলে গেল। পরিচ্ছন্ন পটে হাসিহাসি মুখ মা কালী, দশভুজা দুর্গা, গণেশ, মা লক্ষ্মী, মা সরস্বতী, সুদর্শন চক্রধারী নারায়ণ, মাটির মহাদেব, পেতলের রাধাকৃষ্ণ।

    চেয়ারের ওপর গোল করা ছিল কম্বলের আসন। মেঝেতে পেতে চোখ বুজিয়ে বসলুম। সবই মায়ের খেলা। কেমন ফাঁদে ফেলে দিলেন। কাকিমা না বললে, এমন নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণের মতো। আসনে বসতুম কি! কার পুজো কে করে! চোখ বুজোতেই, প্রথমে ভেসে উঠল কাকিমার মুখ। সেদিনের সেই ছবি, হাতে জবাফুল নিয়ে বেরোবার সময় দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। সে মুখ চোখের সামনে থেকে সরতেই চায় না। অতি কষ্টে যদিও বা সরানো গেল, সামনে এসে দাঁড়ালেন ঘুরঘুরে বাবা। আমি বললুম, বাবা খাও। কী আর করব, দেবী যখন দর্শনে দুর্লভ, দেবতার প্রতিনিধিকেই নৈবেদ্য নিবেদন করি।

    বাবা হাসলেন। বলতে চাইলেন, সামান্য ফুল বাতাসা কী খাব রে শালা! আমার ভোগ আলাদা। বাবা দুই চোখের মাঝখানের অন্ধকারে হারিয়ে গেলেন। এসে দাঁড়ালেন ঊষাদি। বাঃ বেশ মজা! জয়ামাতার আসতে কী হয়েছিল! ঊষাদির হাতদুটো আমার মুখের দিকে এগিয়ে আসছে। এখুনি উঁচু করে তুলে ধরে ঠোঁটে ভিজেভিজে চুমু এঁকে দেবেন। শরীরে রোমাঞ্চ হচ্ছে। মনে মনে বললুম, না না, আর না।

    ঊষাদি সরলেন বটে, এসে গেলেন চিত্রাদেবী। ঘনঘন রুমাল নাড়ছেন আর বলছেন, বাব্বা, কী গরম! ব্যর্থ চেষ্টা। কোনও দেবীই এই পোড়া চোখে আসবে না। দৃষ্টি দূষিত হয়ে গেছে। আসন। গুটিয়ে উঠে দাঁড়ালুম। কাকিমা বললেন, ‘উঃ তোমার কী ভক্তি গো। খাড়া বসে আছ তো বসেই আছ। তোমার মতো ভক্তি পেলে আমি নির্ঘাত স্বর্গে যেতুম। নাও, প্রসাদ তুলে নাও। একটা বাতাসা মুখে ফেলো, আমি জল এনে দিচ্ছি।

    ঝকঝকে মাজা গেলাসে জল খাচ্ছি, কাকিমা বললেন, আহা রে গরমে পিঠটা ঘেমে গেছে। মুক্তোর দানার মতো ঘাম ফুটেছে, এসো মুছিয়ে দিই।

    শাড়ির আঁচল দিয়ে আমার পিঠের ঘাম মোছাতে লাগলেন। এবার গায়ে কাঁটা দিল ভয়ে। পিতৃদেব একবার যদি দেখতে পান, বলবেন, যাও, চান করে এসো। আঁচলে অশুদ্ধ হয়েছে।

    আমি তা হলে এবার আসি কাকিমা!

    না, আর তোমাকে আটকাব না। কাল সকালে তুমি আমার পুজোটা করে দেবে!

    সময় পাব! কাল তো আমার অফিস!

    ওই তো চান করে ওপরে ওঠার আগে।

    ঠিক আছে। কাকাবাবু কোথায় গেছেন?

    কাকিমা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, তবলা বাজাতে।

    কোথায়? দূরে?

    মহিষাদল রাজবাড়িতে।

    কবে ফিরবেন?

    যবে সেই মেয়েমানুষটা ফিরবে।

    মেয়েমানুষ?

    সে তুমি বুঝবে না। তুমি এখনও বড় সরল। মানুষের বয়েস বাড়লে তার সব চলে যায়। তোমাকে একটা জিনিস দেখাব, একটু দাঁড়াও।

    কাকিমা নিচু হয়ে চৌকির তলা থেকে একটা টিনের বাক্স বের করলেন। ডালা খোলার সময় কোচ করে একটা শব্দ হল। নাকে এসে লাগল অতি পরিচিত, সুখ-সুখ সঞ্চয়-সঞ্চয় সংসার-সংসার একটা গন্ধ। এ গন্ধে ত্যাগ নেই, সন্ন্যাস নেই, অনেকটা মেয়েদের অঙ্গের গোপন গন্ধের মতো। বহু দূর থেকে ভেসে আসা, বহু দূরে চলে যাওয়া। কিছু কিছু ব্যাপার আছে, যা আমার কাছে ভারী অদ্ভুত। গোলাপি রং, বাক্সের ডালা খোলার শব্দ, ভেতরের ন্যাপথলিন আর সেন্ট মেশানো গন্ধ, ঝুলনের পুতুল, কালীয়দমন, বকাসুর বধ, উত্তরা অভিমন্যু, রথের চাকা বসে-যাওয়া বীর কর্ণ, সুভদ্রা হরণ, বর্ষাকাল, রথ, একই সঙ্গে পেঁয়াজি আর কঁঠালের গন্ধ। মনের ভেতর মঞ্জিল তৈরি হয়।

    কী গো তোমার ঘোর লেগে গেল নাকি? কোন জগতে চলে গেছ? তখন থেকে তোমার পেছনে। দাঁড়িয়ে আছি।

    আপনার বাক্স খোলার শব্দে ছেলেবেলায় চলে গিয়েছিলুম?

    ইস, তুমি একেবারে ঠিক বলেছ। বাক্সটা খুললে আমারও তোমার মতোই মনে হয়। কোথায় যে চলে যাই। আর একবার মরে জন্মাতে ইচ্ছে করে।

    আপনি এর মধ্যে কতবার মরেছেন কাকিমা?

    ওই হল রে বাবা। বলতে গিয়ে গুলিয়ে গেছে। মরে আর একবার জন্মাতে ইচ্ছে করে। নাও। দেখো। সিল্কের সুতো দিয়ে বোনা গেঞ্জির মতো কী একটা জিনিস কাকিমা আমার হাতে তুলে দিলেন।

    কী এটা? গেঞ্জি?

    হ্যাঁ গো? কার বলো তো?

    কার? কাকাবাবুর?

    আজ্ঞে না মশাই। তোমার। কাউকে বলবে না। আর দু-এক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

    এই সুতো পেলেন কোথায়?

    সে খবরে তোমার দরকার কী? বড়াভাজা খাবে?

    বড়া আমার বড় প্রিয়, না বলি কী করে?

    তা হলে এসো, পিড়ে পেতে দিই, বোসো, গরম গরম ভাজি। বড়া ভাজতে ভাজতে কাকিমা বললেন, আমার বড় শখ ছিল।

    কী শখ?

    ওই সেই মাথা-খোলা ঘোড়ার গাড়ি চড়ে সারা কলকাতাটা একবার ঘুরব।

    ঠিক আছে, ঘোরাব।

    আরও একটা আছে।

    কী, বলে ফেলুন?

    লাজুক-লাজুক মুখ করে বললেন, কাপের আইসক্রিম খাব।

    ঠিক আছে খাওয়াব।

    আর একটা ভীষণ ইচ্ছে ছিল।

    বলুন?

    নাঃ, সেটা আর তোমাকে বলব না। সে ভগবানকে বলার জিনিস।

    বুঝেছি।

    হাসতে হাসতে বললেন, বুঝেছ তো? বড় একা লাগে। আমার তো কেউ নেই।

    ঘুরঘুরে বাবার কাছে যাবেন? তিনি সব পারেন।

    একদিন নিয়ে চলো না গো!

    ঠিক আছে, পরের অমাবস্যায় নিয়ে যাব। সারারাত কিন্তু থাকতে হবে!

    ও বাব্বা, তা হলেই তো বিপদ!

    খানকতক বড়াভাজা খেয়ে ওপরে উঠে এলুম। শুনলুম কাকিমা গান গাইছেন, ওই দেখা যায় বাড়ি আমার চারদিকে মালঞ্চের বেড়া। গলাটি বেশ সুন্দর। কোথা থেকে এই গানটি শিখলেন কে জানে! মুকু এসে গম্ভীর মুখে বললে, বাবা একবার ডাকছেন।

    মেসোমশাই মেঝেতে মাদুরের ওপর হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে আছেন, হাল-ভাঙা তলা-হ্যাঁদা নৌকোর মতো। ঘরে ঢুকতেই নরম গলায় বললেন, বোসো।

    ভদ্রলোকের ব্যারিস্টারি সুর পালটে গেছে। আহা, মাটিতে কেন, মাদুরে উঠে বোসো।

    মেসোমশাই শয়ান থেকে অর্ধশয়ান হলেন। আমার মুখের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, একটা কথা বলব?

    হ্যাঁ বলুন না?

    আমার আপত্তি নেই। বুঝলে, আমার আর কোনও আপত্তি নেই। তা ছাড়া তুমি চাকরিবাকরি করছ।

    আপনি কী বলছেন, কিছুই বুঝতে পারছি না।

    খুব পারছ বাবা। তুমি কি কম ছেলে, ওই যে মিটমিট করে, কলসা নাড়ায়, সে বড় সাংঘাতিক।

    দেখুন, আমাদের এখন বিপদের দিন, দাগা মারা কথা নাই বা বললেন।

    আমার মাথার ঠিক নেই বাবা, তুমি বাপ হলে বুঝতে। কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কীসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে! তুমি কনককে খুঁজে বের করো, আমি তোমার সঙ্গেই তার বিয়ে দেব।

    আমার সঙ্গে? বোনের সঙ্গে ভাইয়ের বিয়ে?

    আহা, তুমি তো সেরকম ভাই নও। রক্তের সম্পর্কে ভাই হলে কথা ছিল। তুমি তো ছেলে খারাপ নও। তা ছাড়া হরিদা, অমন মানুষ তুমি আর দুটি পাবে না। একজন মানুষের মতো মানুষ। অনেস্ট, সেনসিল, এ ম্যান অফ ক্যারেক্টার। যা শুনছি, তা ঠিক?

    কী শুনছেন?

    হরিদা একেবারে গঙ্গার ধারে একটা জায়গা কিনেছেন?

    বোধহয়। আমি ঠিক জানি না।

    চেপে যাচ্ছ?

    সত্যিই জানি না। আমার সঙ্গে বৈষয়িক কথাবার্তা একেবারে হয় না।

    আরে, তুমি বাপের এক ছেলে। সব খবর রাখবে। একটু একটু করে সব বুঝেসুঝে নেবে। মানুষের জীবন। কিছু বলা যায়? আজ আছে কাল নেই।

    আর কিছু বলবেন?

    কাছে সরে এসো, চুপিচুপি, বিটুইন ইউ অ্যান্ড মি। কনককে কোথায় রেখেছ? ওয়ার্ড অফ অনার কাউকে বলব না।

    আশ্চর্য মানুষ আপনি! আমাকে কী করে আপনি কিডন্যাপার ভাবলেন?

    না, তোমার সঙ্গে বেশ একটু ইন্টিমেসি গড়ে উঠেছিল। আর আমি একটু অন্য রাস্তায় চলতে চাইলুম। যদি জানো, বলে ফেলো বাপু।

    আমি জানি না। তবে জানার চেষ্টা করছি। আমি কনককে দেখেছি। সে আছে আশ্রমে। মনে হয় সন্ন্যাসিনী হয়ে যাবে। এখনও অবশ্য গেরুয়া পরেনি।

    মাথা ন্যাড়া করেছে?

    না, এখনও করেনি।

    কতরকমের গল্প যে তোমরা বানাতে পারো!

    আপনাকে তো আমি বিশ্বাস করতে বলিনি। আমার বিশ্বাস আমারই থাক।

    তোমার স্বভাবটি বড় উদ্ধত। আর হবে না কেন? বাবার এক ছেলে। আদরে আদরে খাস্তা হয়ে গেছ!

    তা হবে।

    পিতা সকাল থেকেই এক যান্ত্রিক উদ্ভাবন নিয়ে বড় ব্যস্ত। কয়েক টিন রং এসেছে। যত বাক্সপ্যাটরা আছে, সব নতুন অঙ্গসজ্জায় ডোল পালটাবে। হলদে নীল হবে, নীল কমলা হবে, সবুজ লাল হবে। যে রং এসেছে, সে রং বুরুশে লাগানো যাবে না। রং বড় তাড়াতাড়ি উড়ে যায়। টানা যায় না। প্রেগান চাই। সেই স্পে-গানের উদ্ভাবনে সকাল গড়িয়ে গেছে। মনে হয় দুপুরও পার করে দেবেন। খাওয়াদাওয়া মাথায় উঠল। কাপ কাপ চা চলছে। গোটা ছয়েক কাপ পড়েছে। সব। একবারে ধোয়া হবে।

    রান্নাঘরের দিক থেকে তার কণ্ঠ ভেসে এল, যাঃ, হয়ে গেল। খেল খতম।

    পেটামোটা গোলগলা একটা শিশির মুখে রবারের ছিপি। ছিপিতে দুটো গর্ত। একটা গর্তে সোজা একটি কাঁচের নল, অন্য গর্তে একটি বাঁকা নল। এই পর্যন্ত থিয়োরিতে কোনও গোলমাল ছিল না। সোজা নলে ফুঁ মারলেই বাঁকা নলে তরল পদার্থ তোড়ে বেরোবে। আধ শিশি রং ভরে পিতা যেই ফুঁ মেরেছেন, বাতাস ও তরল রঙের ঊর্ধ্বচাপে ফটাস করে ছিপি ছিটকে চলে গেছে। চতুর্দিকে রঙের স্রোত বইছে। মাতামহ দেখলেই গান গেয়ে উঠতেন, হোরি খেলত নন্দকুমার। সুপক্ক সিঙ্গাপুরি কলার ভুরভুরে গন্ধ বাতাসে। এই রঙে এমন একটা কিছু আছে, যার গন্ধটাই পাকা কলার মতো।

    রঙের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে গিয়ে, পিতা নেপোলিয়ানের মতো মুখ করে বসে আছেন। নাকের ডগা লাল টুকটুকে। দাড়িতেও রং লেগেছে। ছিপিটা পড়ে আছে চিতপাত হয়ে। কলার গন্ধ পেয়ে বলাইবাবু ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। কাকে সামলাই! রঙে ভাসমান পিতাকে না কচ্ছপটাকে! ওদিকে এই অবেলায় সিঁড়ি বেয়ে একটি কণ্ঠস্বর উঠে আসছে, হরি আছিস, হরি! পিতা বললেন, রিসিভ দেম, রিসিভ দেম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleফাঁস – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }