Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোটাকম্বল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1632 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.৬৭ হে অন্তরযামী ত্রাহি

    হে অন্তরযামী ত্রাহি!
    তুমি বিনা মোর কেহ আর নাহি ॥

    আমি সব মেনে নিতে পারি, পারি না কেবল একটা জিনিস, আমার মায়ের ছেড়ে যাওয়া সংসারে। অন্যের কর্তৃত্ব। অন্যের বিশ্বাসে আমি হাত দিতে চাই না; কিন্তু আমার নিজের একটা বিশ্বাস আছে। মানুষের এই আসা আর যাওয়ার পরও, সংগীতের মতো একটা রেশ থেকে যায়। দেহ থেকে মুক্তি পাবার পর আত্মার স্বাধীনতা বেড়ে যায়। যেখানে আছি, সেখানে আছি, যেখানে নেই সেখানেও আছি। বিজ্ঞান ঘোড়ার ডিম কী বলবে! তার পরিধি কতটুকু! দুইয়ের পাশে দুই রেখে গুনবে, এক দুই-তিন-চার। এক যে চার হতে পারে, অনন্ত হতে পারে সেই সত্যটি জানা আছে কেবল সাধকদের। কবিদেরও সে অনুভূতি আছে। তা না হলে এমন লাইন আসে কোথা থেকে?

    একি জ্যোতি, একি ব্যোম দীপ্তদীপ-জ্বালা
    দিবা আর রজনীর চির নাট্যশালা
    একি শ্যাম বসুন্ধরা, সমুদ্রে চঞ্চল
    পর্বতে কঠিন, তরু পল্লবে কোমল,
    অরণ্যে আঁধার। এ কি বিচিত্র বিশাল
    অবিশ্রাম রচিতেছে সৃজনের জাল
    আমার ইন্দ্রিয়যন্ত্রে ইন্দ্রজালবৎ।

    প্রত্যেক প্রাণীর মাঝে প্রকাণ্ড জগৎ। সাধকের কথা মিথ্যে, আর টেস্টটিউব নাড়া বিজ্ঞানীর কথা সত্য! যাঁরা না চাখলে মিষ্টির মিষ্টতা স্বীকার করেন না, যারা না দেখলে অস্তিকে নাস্তি করে দেন, তাদের কথায় কল চলতে পারে, মানুষ চলতে পারে না। কেউ না জানুক আমি জানি, এ বাড়ির সর্বত্র মায়ের অস্তিত্ব বর্তমান। একটা কাসার বাটি জোর করে মাটিতে কে বসাবার পর পাশ থেকে দেখলে কী দেখা যাবে? বাটিকে ঘিরে আর একটি বাটি কাঁপছে। অস্তিত্বের এই কম্পন মানুষের বেলায় অত সহজে বিলীন হয় না। কত লক্ষ যোনি ঘুরে মানুষের জন্ম! জীবচক্রের শেষ ক্রম। তারপর কী? সৃষ্টি বিজ্ঞানীরা জানেন না। জানেন সাধক। কেউ যদি প্রশ্ন করেন, গান থেমেছে? বলব, হ্যাঁ থেমেছে, কিন্তু সুর ভেসে আছে।

    কুলদানন্দ ব্রহ্মচারীজির ডায়েরি আমি লাইন বাই লাইন পড়েছি। ভাগলপুরের কাছে বস্তি বলে একটি অঞ্চলে ব্রহ্মচারীজির দাদা থাকতেন। সেখানে নির্জন একটি ঘরে সেই মহাপুরুষ রাতে যে-খাটে শুতেন, সেই খাটটি রোজ রাতে এসে কেউ প্রচণ্ড ঝাঁকিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে দিয়ে চলে যেত। বন্ধ ঘরে মাঝরাতে এই উৎপাতের কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ছিল না। হাসপাতাল-সংলগ্ন আবাসস্থল। ব্রহ্মচারীজির অগ্রজ বললেন, আশ্চর্য হবার কিছু নেই, হতেই পারে। বহু অবাঞ্ছিত মৃত্যু এখানে প্রতিদিন হচ্ছে, বহু আত্মা ঘুরছে চারপাশে। সংলগ্ন হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে, একটি বেডের কথা তিনি বললেন। সেই শয্যায় যাঁকেই রাখা হত, তিনিই পরের দিন তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালাতেন। কারণ অনুসন্ধান করে দেখা গেল, সেই খাটে যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল, মৃত্যুর পরেও তিনি তার অধিকার ছাড়তে পারেননি। মাঝরাতে এসে আগন্তুকের বুকে চেপে বসে কিল চড় ঘুসি মারতেন। খামচে দিতেন। অবশেষে তুলে ফেলে দিতেন নীচে। কোনও সাধক নিশ্চয়ই ভূতের গল্প বানাবেন না। সাধারণ মানুষের মতো তারা ভূতের ভয়ও পাবেন না। যা সত্য তা সত্য। যার বিশ্বাস আছে তার আছে। প্রেত যদি বায়বীয় একটা ব্যাপারই হবে, তা হলে তার ওজন আসে কোথা থেকে! বুকে চেপে বসলে দম বন্ধ হয়ে আসে কেন? যদি অঙ্গপ্রত্যঙ্গই না থাকবে, তা হলে কিল চড় ঘুসি মারে কী করে! সমস্ত ব্যাপারটার মধ্যেই একটা অজ্ঞাত বিজ্ঞান রয়েছে। পরমহংস বিশুদ্ধানন্দজির কাছে গেলে বুঝিয়ে দিতেন, সূর্যবিজ্ঞানে সবই সম্ভব। সূর্যের রশ্নিজালের মিলনে, গঠনে, অমিলনে, বস্তুজগতের উদ্ভব। সেই মহাত্মা শুধুমাত্র হাতে নাড়াচাড়া করে গাঁদাকে গোলাপ আবার সেই গোলাপকে জবাতে রূপান্তরিত করতে পারতেন সকলের চোখের সামনে অক্লেশে। তিনি বলতেন সূর্যবিজ্ঞানই সৃষ্টিতত্ত্বের মূল রহস্য। সেইজন্যে সূর্যের আর এক নাম সবিতা। এর পাশাপাশি আরও বিজ্ঞান আছে, যেমন চন্দ্রবিজ্ঞান, বায়ুবিজ্ঞান, নক্ষত্রবিজ্ঞান, শব্দবিজ্ঞান, ক্ষণবিজ্ঞান। এসব জ্ঞান তিনি পেয়েছিলেন তিব্বতে থাকার সময়। তিনি প্রয়োজন বোধে তার শরীরের যে-কোনও অঙ্গকে আকারে বিশাল ও বিপুল করে ফেলতে পারতেন। যেমন আদেশ করার সময় তাঁর তর্জনীকে তিনি এমন স্ফীত করতে পারতেন আদিষ্ট বিস্ময়ে হতবাক হতেন। আমাদের চোখের, কানের, মনের অনেক পরিমিতি আছে। আমরা সব শব্দ শুনতে পাই না, সব আলো দেখতে পাই না। আমাদের মগজের তিনের চার অংশ ঘুমিয়ে আছে। তাকে জাগাবার কৌশল সাধারণ মানুষের নেই। একের চারেই এত সব হচ্ছে। সাধকরা বলেন, ধ্যান করো। বিক্ষিপ্ত মনকে অন্তর্মুখী করো। সহস্রদলকে বিকশিত করো। তখন দেখবে, তুমিই বিশ্ব, বিশ্বই তুমি। যেখানে লয় নেই, ক্ষয় নেই, রূপান্তর আছে। সূর্যের সহস্রধারায় বস্তুপুঞ্জ অণুতে পরমাণুতে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন গঠিত পুনর্গঠিত হচ্ছে। একই বহু, বহুই এক। বিশুদ্ধানন্দজি বলছেন, সমস্ত বস্তুর ভেতরেই সমস্ত বস্তু অল্পবিস্তর আছে। পরমাণুর গ্রহণ আর বর্জনই বস্তুর এক এক রূপে আবির্ভাব ও বিলয়। জড় বিজ্ঞানীর কাছে বিজ্ঞানের কী-ই বা শেখার আছে! কিছু দেখা, আর সেই দেখার ওপর ভিত্তি করে কিছু সূত্র নির্মাণ। কিছু শিখতে হলে যেতে হবে যোগীর কাছে, যাঁরা বলছেন: সূর্যই হল সব বিজ্ঞানের মূল স্তম্ভ। সৃষ্টি, স্থিতি, সংহার এককথায় জাগতিক আর ব্যবহারিক সবকিছুই সূর্যাধীন। ইচ্ছাশক্তি, জ্ঞানশক্তি, ক্রিয়াশক্তির উৎস সূর্যমণ্ডল। শুধু তাই নয়, সূর্যের পথ ধরে দেবান সম্ভব। সূর্যই মুক্তির দ্বার। যোগে আর বিজ্ঞানে কোনও তফাত নেই, তফাত শুধু প্রণালীতে। যোগের পথে বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের পথে যোগ দুই-ই সম্ভব।

    আমার এইসব বিশ্বাসের কথা আমি কাউকে বলতে পারব না, বলতে চাইও না। কে শুনবে। পাগল ভেবে করুণার দৃষ্টিতে তাকাবে। আমি জানি, এ সংসার ছেড়ে মা এখনও যেতে পারেননি। তিনি অন্য তরঙ্গে, আমাদের চোখে ধরা পড়ে না এমন রূপে বর্তমান। মাতামহ তা হলে অমন তুলসী তুলসী করতেন না। তার সেই দৃষ্টি ছিল। তিনি ছিলেন গৃহী তান্ত্রিক। তার অনেক বিভূতি ছিল। অদ্ভুত অদ্ভুত সব দুর্ঘটনা থেকে পিতৃদেব কীভাবে রক্ষা পেয়ে আসছেন? এ পাড়ায় আমাদের শত্রুর তো অভাব নেই। মাঝে মাঝেই মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। কে তাদের দাঁত ভেঙে দেন! গুরুজনের সঙ্গে আমি তর্কে নামতে চাই না, আমি শুধু আমার বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই।

    এই যে কাকিমা এখন ড্রয়ার খুলে সব কাপড়চোপড় গোছগাছ করতে লেগেছেন, কার হুকুমে! নিজের অধিকারের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। ড্রয়ারের দ্বিতীয় খোপে আমার মায়ের কিছু শাড়ি আর ব্লাউজ আছে, রেশমের মতো নরম এক ধরনের পেটিকোট আছে। কী যেন তার নাম, স্যারাঙ্গ না সারঙ্গ। সব ছেড়ে ওইসব নিয়ে টানাটানি করছেন কেন! জানেন না ওগুলো হল পবিত্র স্মৃতি! আমি ঘরে বসে আছি, একবার আমাকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন বোধ করলেন না। পিঠের দিকে আঁচলে ঝুলছে চাবির থোলো। আমাদের সংসারের চাবি কবে কীভাবে ওঁর অধিকারে চলে গেল! তাজ্জব ব্যাপার! ভদ্রমহিলা কি আমার মায়ের স্থান অধিকার করতে চাইছেন? চেহারায় বেশ একটা লাবণ্য এসেছে। রং যেন ফেটে পড়ছে। চোখে এক ধরনের জ্যোতি এসেছে। সব ব্যাপারেই বাড়তি উৎসাহ। ধরে আনতে বললে বেঁধে আনেন।

    মাঝে মাঝে আমি আড় চোখে তাকিয়ে দেখছি। খুব শুদ্ধ দৃষ্টি নয়। শুদ্ধ হলে শরীরের চিন্তা আসত না। এই মহিলার পাশাপাশি থেকে সাধনভজন অসাধ্য। আচারের ঘরে অম্বলের রুগি বাঁচতে পারে না! তিলে তিলে মৃত্যুই আমার কপালের লিখন।

    ভদ্রমহিলা মাঝে মাঝে এটা সেটা প্রশ্ন করছেন, যার উত্তরে আমাদের পারিবারিক ইতিহাস বেরিয়ে আসবে। মায়ের সঙ্গে আমার পিতার সম্পর্ক কেমন ছিল! জানেন আমার কিছুই জানার কথা নয় তবু যতসব মেয়েলি প্রশ্ন। কোনওটারই উত্তর আমি দিচ্ছি না, হুঁ হাঁ করে যাচ্ছি বা চুপ করে থাকছি। এক একটা জিনিস বেরোচ্ছে, প্রশ্নের পর প্রশ্ন আসছে, উত্তর ফিরছে না।

    আমি খাটে পাশ ফিরে শুয়ে আছি। পিতৃদেব দ্বিপ্রহরের আহারের পর সামান্য বিশ্রাম নিচ্ছেন। আমার শরীরও ভাল নয়, তা ছাড়া মাতুল আজ সন্ধের ট্রেনে ফিরে চলেছেন। আজ আর আমার অফিসে যাওয়া হল না। দেরাদুনে যাবার সময় এগিয়ে আসছে। আর তানানানা করে বসে থাকার কোনও মানে হয় না। কাকিমা মাতুলের সঙ্গে যেতে রাজি হলেন না। ভদ্রমহিলার প্রখর মানসম্মান বোধ। বললেন, ওখানে গেলে তো আমার মতো থাকতে হবে। এ কথা আর কাউকে অবশ্য বলেননি, বলেছেন আমাকেই, একান্তে। শুনে আমি স্তম্ভিত। সেই মুহূর্তে খুব খারাপ একটা কথা আমার জিভের ডগায় এসেছিল, কোনওরকমে আটকে ফেলেছিলুম, তা না হলে বলেই ফেলতুম, খেতে পেলে শুতে চায়!

    হঠাৎ ভালবাসা কেন কুৎসিত ঘৃণার চেহারা নিল! কারণটা কী? স্বামী নির্মলানন্দ বলেছেন, নিজেকে অনুসন্ধান করো। অনুসন্ধানের ফলে যেসব বস্তু বেরিয়ে আসছে, দেখে চমকে উঠছি। কর্পোরেশনের ম্যানহোলে মনে হয় এর চেয়ে কম ময়লা জমে আছে। মনটা একেবারে পচে গেছে। অ্যামপুট না করলে বাঁচার আশা নেই। কুৎসিত এক ধরনের ঈর্ষায় ভেতরটা পুড়ছে। সর্বনাশ! আমার দেবোপম পিতৃদেবকে কি আমি রাইভ্যাল মনে করতে শুরু করেছি! আমার আত্মহত্যা করা উচিত। সাধুসঙ্গে সগ্রন্থপাঠে আমার ঘোড়ার ডিম হবে। আমি একেবারে নষ্ট হয়ে গেছি। ঘরে বসে বসে, কারুর সঙ্গে না মিশেও আমি গোল্লায় চলে গেলুম। ভেকের মতো ভোগী একটা সত্তা ভেতরে বসে কর্কশ ডাক ছাড়ছে।

    আমার সমস্ত চিন্তায় ছেদ পড়ে গেল। কাকিমা খুব সুন্দর একটা সিল্কের শাড়ি নিয়ে আমার খাটের পাশে এসে দাঁড়ালেন, “দেখেছ, কী সুন্দর শাড়ি তখন তৈরি হত! একেবারে নরম তুলতুলে। ডিজাইনটা দেখো একবার! কী তখন থেকে শুয়ে শুয়ে উ উ করছ! ওঠো না।

    কাকিমা আমার চুলের মুঠি ধরে টেনে ওঠাতে চাইলেন। মেয়েদের এ এক ধরনের দানবীয় সোহাগ। ভালবাসার জোয়ারে হজম করা যায়, ঘৃণায় মনে হয় অসহ্য উৎপাত। চুল ধরে তুলতে গিয়ে হাত ফসকে শাড়িটা পাটে পাটে ভেঙে মেঝেতে ধসে পড়ল। দুটো কান আমার গরম হয়ে উঠল। ধৃষ্টতা সীমাহীন! মৃত মানুষ আর দেবতায় কোনও তফাত আছে! এই শাড়িতে আমার মায়ের স্পর্শ, ঘ্রাণ লেগে আছে। যিশুখ্রিস্টের অঙ্গাচ্ছাদনের মতো এই বস্ত্র পবিত্র, আমার কাছে হোলি বাইবেলের মতো।

    উঠে বসে বললুম, এ কী করছেন আপনি? এসবে আপনাকে কে হাত দিতে বলেছে। বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে! এ বাড়ির আপনি কে? হু আর ইউ!

    রাগের ঝেকে এক নিশ্বাসে কথাটা বলে ফেললুম। অনেকক্ষণ ধরে একটু একটু করে জমছিল। থাইসিসের রুগির ফুসফুসক্ষরিত রক্তের মতো। অপমানে ভদ্রমহিলার টুকটুকে ফরসা মুখ লাল হয়ে গেল। মেয়েদের কী অদ্ভুত মন! সঙ্গে সঙ্গে চোখের কোলে জল এসে গেল। একটি করুণ ছবি ধীরে ধীরে ভোরের শিশির-ভেজা ফুলের মতো চোখের সামনে ফুটে উঠল। নিচু হয়ে অতি যত্নে শাড়িটি তুলে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তে একটি সাদা স্ট্যাচুর মতো পিতৃদেব ঘরে এলেন।

    আমি বলেছি, পলাশ।

    চমকে উঠলুম। আমার পিতা জীবনে এই বোধহয় প্রথম ভাল নাম ধরে সম্বোধন করলেন। মুখের চেহারা শীতল। চোখদুটি ইস্পাতের ফলার মতো তীক্ষ্ণ। আশ্চর্য! পিতা কি এই মহিলাকে আগলাবার জন্যে ছুটে এসেছেন? এটা কি এক ধরনের আশকারা নয়, যার উৎস মানুষের মনের দুর্বলতা? পিতা আরও ঠান্ডা আরও কঠিন গলায় বললেন, আমি বলেছি। তুমি না জেনে এইরকম রূঢ় কথা বলতে পারলে? তোমার স্বভাব দেখছি বেশ পালটেছে! পাখি তুমি, বেশ উড়তে শিখেছ, আর এ বাসার প্রয়োজন কী, তাই না?

    মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, আপনিও বেশ পালটেছেন।

    ভয়ে চোখ বুজিয়ে ফেললুম, এ আমি কী বলেছি! পিতৃদেব বললেন, আমি? আমি সেই একই আছি, দ্যাট সেম ওল্ড হরিশঙ্কর। তবে হ্যাঁ, একটা ব্যাপারে আমি পালটেছি, কাল আমার যে বয়েস ছিল, আজ তা একদিন বেড়েছে। আগামীকাল বেড়ে যাবে আরও এক দিন। তোমার দেখার ভুল। আমি জানি তোমার কী হয়েছে! তোমার দৃষ্টিবিভ্রম হয়েছে!

    আপনি আমার পালটানোর কী দেখলেন?

    শুনবে তা হলে?

    আজ্ঞে হ্যাঁ।

    প্রথম পরিবর্তন, তোমার মধ্যে সবসময় একটা রাগের খেলা চলেছে। কোনও কথাই আগের মতো আর সহজ সরল করে বলতে পারছ না। ছিলে ফুটন্ত ফুলের মতো, হয়ে গেছ কুঁড়ি। অকারণে, আজকাল তুমি আমাকে এড়িয়ে চলতে চাও।

    কারণ আছে।

    জানি জানি, কারণ ছাড়া কার্য হয় না।

    আপনি কারণটা সঠিক জানেন না।

    হতে পারে। অনুমান সবসময় সঠিক পথে চলে না। তবে একটা কথা তোমাকে বলি, স্নেহ আর ভালবাসা দুটো মানুষকে এক সুরে বেঁধে দেয়, একই তরঙ্গে তারা কেঁপে কেঁপে ওঠে। তুমি আমাকে ঘৃণা করো, বলল ঠিক কি না! সত্য বলবে। বি ফ্র্যাঙ্ক।

    স্বামী নির্মলানন্দ আমাকে ফ্র্যাঙ্ক হতেই বলেছেন। কিছু চেপে রাখবে না। জলের তোড়ে ঠেলে বের করে দেবে। বললুম, ঠিক ঘৃণা নয়, তবে সমালোচনা করতে ইচ্ছে করে। আপনার সবকিছু আর আগের মতো সমর্থন করতে পারি না, মেনে নিই।

    সমালোচনার মতো কিছু দেখলে অবশ্যই সমালোচনা করবে। তুমি যেমন আমার পুত্র তেমনই আমার বন্ধু। বলো তুমি, কোথায় আমি তোমার সমর্থন হারিয়েছি?

    যেমন ধরুন, যেসব জিনিস আমার মা ব্যবহার করতেন, সেসব জিনিস আমার কাছে ভীষণ পবিত্র। সে জিনিস আমরা ছাড়া অন্য কেন স্পর্শ করবে?

    তোমার মা কি আমার স্ত্রী ছিলেন না?

    ছিলেন।

    দু’জনেরই সমান অধিকার।

    আমার কিছু বেশি, পবিত্রতার দিক থেকে। স্ত্রীর চেয়ে মা অনেক বেশি পবিত্র।

    স্ত্রী পবিত্র নয়?

    মায়ের সঙ্গে সন্তানের রক্তের সম্পর্ক।

    ও, তার মানে তুমি দুটো সম্পর্কে একটা ভেদ টানতে চাইছ? একটা রক্তের, সেই হেতু পবিত্র, আর একটা দেহের, সেই হেতু অপবিত্র। দেহ কখন রক্তে এসে যায় জানো কি? তুমি তো বিজ্ঞানের ছাত্র, ফিউশন কাকে বলে জানো? জানো কি এমন বন্ধন আছে যা অবিচ্ছেদ্য, মৃত্যু ছাড়া যে বন্ধন খোলে না। জানো তুমি?

    জীবিত অথবা মৃত স্ত্রীকে মানুষ ফেলে দিতে পারে, অস্বীকার করতে পারে, অবহেলা করতে পারে। মাকে তা করা যায় না, যারা করে তারা পাপী।

    তার মানে? তুমি বলতে চাইছ আমি তোমার মাকে জীবিত অবস্থায় অবহেলা করেছি, আর মৃত্যুর পর ভুলে গেছি! হায় রে বিচারক! কী তার প্রমাণ।

    যে-জিনিস আপনি আমাকেও স্পর্শ করতে দিতেন না, সেই জিনিস আপনি এই মহিলাকে টেনে টেনে বের করার অনুমতি দিয়েছেন, শুধু তাই নয়, অসন্তোষ প্রকাশ করায় তেড়ে এসেছেন আমাকে। অথচ এই মহিলা একদিন আপনার বিছানায় বসেছিলেন বলে, আপনি আমাকে তিরস্কার করেছিলেন।

    বিছানায় বসলে এখনও করব। পুরুষের শয্যা পবিত্রস্থান, সাধনপীঠ।

    আর মায়ের স্মৃতি বাজারের প্রদর্শনী! মা আর আপনাতে জীবিত নেই। এবার সত্যই তার মৃত্যু হয়েছে।

    তোমার ইঙ্গিত বোঝার মতো বুদ্ধি আমার আছে, পলাশ। তবে একটা কথা, তুমি বড় তাড়াতাড়ি। সিদ্ধান্তে এসে গেছ। মানুষ সম্পর্কে তোমার কোনও ধারণা নেই।

    মনে আছে, সেই জবার ব্যাপারে আপনি আমাকে কী বলেছিলেন?

    তুমি কি তার রিটার্ন দিতে চাইছ?

    আমি কেন, জনসাধারণ কী বলছে খবর রাখেন?

    জনসাধারণ? তারা কে? আমি কি একটা পাবলিক ফিগার, যে তাদের ভয় করে চলতে হবে! আমি হরিশঙ্কর, একটা ইনডিভিজুয়্যাল ম্যান, যে শুধু তার বিবেকের নির্দেশে চলে, বিবেকের কাছে সমর্থন খোঁজে। তুমি আমাকে দেখছ না? ও, না, আমারই ভুল। তুমি তো চোখে দেখো না, তুমি দেখো কানে, লাইক স্নেকস।

    আপনি সংসারের চাবি এই ভদ্রমহিলার হাতে তুলে দিয়েছেন কেন? জানেন এই চাবি আমার মায়ের আঁচলে বাঁধা থাকত!

    এতে তোমার মহাভারত এমন কী অশুদ্ধ হল? তোমার শিক্ষা কি পরকে আপন করতে শেখায়নি? কনফিডেন্স শব্দটা কি তোমার কাছে অপরিচিত! তোমার বউ আসুক এ চাবি তো তারই। এটা তো স্টপ গ্যাপ।

    বউ কোনওদিনই আসবে না। আমি বিয়ে করব না।

    তুমি আমাকে ছোট করে বিদ্রোহ জানাতে চাও?

    আপনি ছোট হবেন না, জেনে রাখুন সেই মেয়েটি চরিত্রহীন।

    তার মানে? এও কি তোমার এক নতুন আবিষ্কার?

    নিজের চোখে দেখা।

    আশ্চর্য! চরিত্রহীনতা চোখে দেখা যায়। সে তো অনুসন্ধানের বস্তু, আবিষ্কার করতে হয়।

    সত্যের মতো মানুষ হোঁচট খেয়েও তার ওপর পড়তে পারে। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। হঠাৎ হুমড়ি খেয়ে আমি সেই সত্যের ওপর পড়ে গেছি। মেয়েটি আমার চেয়েও ভাল একটি ম্যাচ জোগাড় করে ফেলেছে। তার সঙ্গেই সারা কলকাতা চষে বেড়াচ্ছে। তা ছাড়া, সেদিন বাগবাজারের মোড়ে পঙ্কজবাবুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তিনি আমাকে এমন একটা কথা বলেছেন, যা শুনলে আপনাদের এতদিনকার বন্ধুত্ব বিচ্ছেদ হয়ে যাবে।

    শুনতে পারি?

    পারেন। তিনি বললেন, পলাশ, তোমার বাবা এটা কী করলেন, আমার মেয়ে ইললিগ্যাল একজন শাশুড়ি নিয়ে কীভাবে ঘর করবে! আমাদের একটা নিখুঁত বংশের ধারা আছে।

    ইজ ইট? এই কথা বলেছে? অল রাইট।

    পিতৃদেবের চোখদুটো জ্বলজ্বল করছে। কিছু কথা থাকে যা শত চেষ্টাতেও চাপা যায় না। ঠেলে বেরিয়ে আসে, একটার পেছনে আর একটা। এই মুহূর্তে নিজেকে আমার পিতার চেয়েও মহান মনে হচ্ছে। আমি ইস্পাত, উনি খাগড়া। আমার ধারে উড়ে গেলেন।

    আচ্ছা, পুরো ব্যাপারটা আমি একটু খতিয়ে দেখি। বিবেকের কাছে সারেন্ডার করব, না জনসাধারণের কাছে!

    সদর থেকে হাক এল, চিঠি আছে, পার্সেল।

    ধীরে ধীরে নীচে নেমে গেলুম। বারান্দায় পিতৃদেব দাঁড়িয়ে আছেন, উদাসমুখে, আকাশের দিকে তাকিয়ে। পাশ থেকে দেখলে মনে হবে খোদাই করা পাথরের মূর্তি। কাকিমা যেন দম দেওয়া পুতুল। শাড়িটা রেখে ড্রয়ার বন্ধ করলেন। ঢিস করে একটা শব্দ হল।

    বেশ মোটা একটা প্যাকেট। পিতার নামে এসেছে। রেজিস্টার্ড পার্সেল। ফর দিয়ে সই করে নিলুম। মনে হচ্ছে একটা বই আছে। হঠাৎ বই এল কোথা থেকে?

    বইয়ের প্যাকেট হাতে তিনি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সেইখানে গিয়ে বললুম, আপনার নামে একটা বই এসেছে। আকাশের দিক থেকে তার চোখ ফিরল না। এক ঝাঁক পায়রা উড়ছে চিকচিক করে। সুদূর থেকে ভেসে এল তার গলা, খুলে দেখো। বই আবার কে পাঠালে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleফাঁস – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }