Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোটাকম্বল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1632 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.০৯ Dark idolatry of self

    Dark idolatry of self

    টাকার কথা আসছে কেন হরিশঙ্কর? তুমি কি এই দালালটার কাছে টাকা ধার করেছিলে?

    মাতামহ ব্যাপারটা বুঝতে চাইলেন। রঙ্গমঞ্চে আপাতত চরিত্ররা স্থির। চেয়ার পা উলটে পড়ে আছে যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত অশ্বের মতো। থানইটের মতো কিছু কেতাব ইতস্তত বিক্ষিপ্ত। উত্তেজনায় মেসোমশাইয়ের ভুঁড়ি ইঞ্চিখানেক চুপসে যাওয়ায় কাপড়ের কষি আলগা হয়ে গেছে। টাইট করে বাঁধার চেষ্টা করছেন। কনক আর একটা ঝাড়ু এনে উবু হয়ে বসে কাঁচের কোয়া ঠেলে ঠেলে এক জায়গায় জড়ো করছে। পিঠের দিকে খোলা অংশে শাড়ির আঁচল লাগলে আরশোলা ভেবে চমকে চমকে উঠছে। মুকু চেষ্টা করছে বইয়ের র‍্যাকটাকে সোজা করার। বিধুজ্যাঠা শাসিয়েটাসিয়ে, কোর্টকাছারির ভয় দেখিয়ে পালিয়েছেন। মাতামহ বুকের কাছে ঠোঙাটি তখনও ধরে আছেন। অনেকক্ষণ লোভ সামলেছেন। আর পারলেন না। বেশ বড় সাইজের একটি বেগুনি বের করে সযত্নে দাতে কাটলেন। মুচুড় করে শব্দ হল।

    মুকু ভূপাতিত চেয়ারটিকে খাড়া করেছে। পিতা সাবধানে পেছনে সরে গিয়ে চেয়ারে বসে পড়লেন। এতক্ষণ সব বেসামাল হয়ে গিয়েছিল। আবার হিসেবজ্ঞান ফিরে আসছে। মাতামহ। বিধুবাবুর বসে যাওয়া চেয়ারে বসলেন না। অপবিত্র হয়ে গেছে। পাশের আর একটা চেয়ারে বসলেন। মুখে বেগুনি, মাকালীর লাল জিভের মতো সামনে লকলক করছে।

    মেসোমশাই কোমরের কষি কোনওমতে বাগে আনতে পেরেছেন। আর একটা চেয়ারে বসে তারও ওই একই প্রশ্ন, কী টাকা টাকা করছিল ওই স্কাউড্রেলটা!

    মাতামহ বেশ সন্দেহের চোখে প্রশ্নকারীর দিকে তাকালেন। চোখ ঘুরে গেল কনক আর মুকুর ওপর দিয়েও। এরা আবার কারা? সংসারটা বেশ শ্মশানের মতো হয়ে ছিল! হঠাৎ শ্মশান জাগাতে এ কাদের আগমন? প্রশ্ন করলেন, আপনাকে তো ঠিক চিনলুম না? সঙ্গে সঙ্গে নিজের পরিচয় দিলেন, আমি হরিশঙ্করের শ্বশুরমশাই।

    কী ট্রেনিং! মুকু আর কনক সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসে হেঁট হয়ে গড়াগড় তিনজনকে প্রণাম করে ঘরের মাঝখানে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। নৃত্যের একটা ছন্দ চলে গেল চোখের সামনে দিয়ে। মেসোমশাই বললেন, আমার মেয়ে।

    মাতামহ একটা হাত বুকের কাছে আশীর্বাদের ভঙ্গিতে সাপের ফণার মতো তুলে ধরে বললেন, সে তো বুঝলুম, কিন্তু আমিটা কে?

    পিতা বললেন, এঁকে আপনি আগে হয়তো দেখেননি, মেজদার ভায়রাভাই। পণ্ডিত মানুষ। ডাকসাইটে উকিল।

    মাতামহ সঙ্গে সঙ্গে বললেন, কী, চলবে? বেগুনি, আলুর চপ, আলুর বড়া বা ফুলুরি?

    আজ্ঞে, সবই তো সুস্বাদু, মুখরোচক। তবে আমি যে আবার অম্বলের রুগি!

    মাতামহ হা হা করে হেসে বললেন, পুরুষমানুষের অম্বল? হরিশঙ্কর, শুনেছ? পুরুষমানুষের অম্বল! ও তো মেয়েদের অসুখ গো! অম্বল, মাথাধরা, গেঁটে বাত, বাধক। গরম তেলেভাজা না, খেলে তোমার ও ব্যামো সারবে না বাপু! সুখদা মোক্ষদা মা, আমার দিকে এসো তো!

    কনক আর মুকু এগিয়ে গেল। যাক, দু’জনের আর একজোড়া নতুন নাম হল। মাতামহ ঠোঙাটি কনকের হাতে তুলে দিতে দিতে বললেন, বাঃ, বেশ মেয়েটি তো? একেবারে দুর্গাপ্রতিমা! আমার নাতিটার বিয়ে দিয়ে দিলে হয়। এই ভস্মলোচনের সংসারে একটি অন্নপূর্ণার বড় প্রয়োজন। মাতা চ পার্বতী দেবী পিতা দেবো মহেশ্বরঃ। বান্ধবা শিবভক্তাচ স্বদেশোভুবনয়ম।

    ঠোঙাটা বুকের কাছে ধরে, মাথাটাকে তার ওপর গুঁজে, মুকুর পা মাড়িয়ে আমাকে ধাক্কা মেরে মাতা অন্নপূর্ণা ঘর ছেড়ে পালালেন। এই লাজুক লাজুক প্রস্তাবে বাচ্চা মহাদেবটিকেও কামরাঙার মতো মুখ করে, দেয়ালে পিঠ ঘষে ঘষে গুটিগুটি সরে পড়তে হল।

    রান্নাঘরে গিয়ে দাঁড়াতেই কনক বললে, যাও! তোমার সঙ্গে কথা বলব না।

    আমার তো আবার সবেতেই পাকামো! এই আহ্লাদে আটখানা, এই আবার বিষাদে ফুটিফাটা। এখন ভেতরটা নেত্য করছে।

    কনক বসে বসে ঠোঙা থেকে তেলেভাজা বের করছে। চট করে আঁচলটা মাথায় তুলে দিলুম। মন ধমকে উঠেছিল, কী গ্রাম্য রসিকতা! হৃদয় শোনেনি, হাত বশে থাকেনি।

    আর মা অন্নপূর্ণা! তিনি কপাত করে আমার হাত চেপে ধরে কটাস করে আঙুল কামড়ে দিলেন। মোস্ট আন-অন্নপূর্ণাসুলভ কর্ম। দৃশ্যটি মুকু দেখে ফেললেন এবং মৃদু হেসে বুঝিয়ে দিলেন, বেশ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে, কোনও মেয়ে যদি কটাস করে আঙুলের মাথা কামড়ে দেয় তা হলে তার কী অর্থ! সুখেন? না সুখেন নয়। আরও পবিত্র কেউ। যে এর ভেতরের রোমান্সটা চটকে বের করে দিয়ে বিশ্রী একটা দেহের স্বাদ ঢুকিয়ে দেবে না। মায়া? না, মায়াও নয়। তা হলে মাতামহকেই জিজ্ঞেস করব। প্রাণের কথা বলার মতো এমন প্রাণ আর কোথায় পাব!

    মাছ আনা মাথায় উঠেছে। বসার ঘরে তিন সংসারী আলোচনায় বসেছেন। ব্যাপারটা যেমন আকস্মিক তেমনই কদর্য। পৃথিবীটা বড় অদ্ভুত জায়গা। একদিকে যেমন ভাল, আর একদিকে তেমনই খারাপ।

    কী বলছে ব্যাটা? তোমার মেজদা টাকা ধার নিয়েছিল? মাতামহ আলুর চপ খেতে খেতে প্রশ্ন করলেন।

    কোনও ডকুমেন্ট আছে? মেসোমশাইয়ের প্রশ্নের ওপর প্রশ্ন।

    ওর আস্তিনে কী আছে ওই জানে। মাঝে মাঝে কেবল তড়পে যাচ্ছে। আমার পরামর্শ ছাড়া মেজদা জীবনে কোনও কাজ করেনি। সে এই লোফারটার কাছে টাকা ধার করতে যাবে, আমি বিশ্বাস করি না। অসম্ভব। ইমপসিবল। আর টাকা তাকে ধার করতে হবে কেন? তার কোনও অভাব ছিল? সে তো ধার দিয়েই ফতুর। ওই রাসকেল আমাকে বলে গেল, মেজদার মেরে আমি বড়লোক! ছি ছি কানে যেন গরম সিসে ঢেলে দিয়ে গেল। মেজদা যা রেখে গেছে, আমি কাকে দোব? দোবটা কাকে? কেউ তো নেই। মেজদার বংশই তো লোপাট হয়ে গেছে। আমি কি পার্সেল তার ওপরে পাঠাব!

    মাতামহ বললেন, মেজকত্তা একটু খরচে ছিল। দানধ্যানও ছিল প্রচুর। তুমি সে তুলনায় বেশ হিসেবি।

    এই রে, মরেছে রে! আমার মাতামহের এই এক যা দোষ! মনে যা এল, দুম করে বলে ফেললেন। মা ব্রয়াত সত্যমপ্রিয়ম। কে কার কথা শোনে! এইজন্যে যে অপ্রিয় হতে হয়, তা বোঝেন না। পিতা কঠিন মুখে তাকালেন, সংসারী মানুষকে একটু হিসেবিই হতে হয়। দিয়তাম, ভুজ্যতাম করলে আপনার ছেলেটির মতো অবস্থা হবে। আয় একশো, ব্যয় হাজার, পাঁচজনের কাছে হাত পেতে বেড়াও। বাইরে কোঁচার পত্তন, ভেতরে ছুঁচোর কেত্তন।

    হ্যাঁ, তুমি ঠিক বলেছ। ব্যাটা যেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। রোজ মোগলাই খানা চাই। কানে আতর চাই। একপা হাঁটার ক্ষমতা নেই, গাড়ি চাই, সেবাদাসী চাই। বউয়ের কী তোয়াজ। ব্যাটা যেন বিল্বমঙ্গল! পরশুদিন একটা শাড়ি এল, দাম শুনলে চক্ষু চড়কগাছ, দুশো টাকা!

    বেহিসেবি হওয়া যেমন ভাল নয়, আবার আপনার মতো ওয়ানপাইস ফাদারমাদার হওয়াটাও ঠিক নয়।

    আরে দুর, আমার পাইসই নেই তো ফাদারমাদার। তোমার যেমন কথা!

    মেসোমশাই উসখুস করছিলেন। আলোচনা লাইন চেঞ্জ করে অজ্ঞাত দিকে চলেছে। পারিবারিক গোপনীয়তা বেরিয়ে আসছে। খক করে একবার কেশে চূড়ান্ত রায় দিলেন, হোয়েন দেয়ার ইজ নো ডকুমেন্ট, দেয়ার ইজ নো ক্লেম। যিনি ধার নিয়েছেন তিনি আর জীবিত নেই। একটা মানহানির মামলা ঠুকে দিন।

    মাতামহ মহাউল্লাসে বললেন, এই তো আইন আমাদের পাশে, আমাদের কাত করে যাবে এক ব্যাটা দালাল! ঠুকে দাও, ঠুকে দাও। আমার জামাইকে আমি রিপ্রেজেন্ট করব।

    কত টাকা দাবি করছে? মেসোমশাই আর একটু গভীরে যেতে চাইলেন।

    পাঁচ হাজার। বলছে খেপে খেপে দিয়েছে। মেজদা মুদিখানায় কিছু ধার রেখে গিয়েছিল, হাজারখানেকের মতো। ভয়ে আমাকে বলেনি। সাধুখাঁ খাতা দেখাতেই আমি সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দিয়েছি, অফকোর্স উইথ এ প্রেয়ার, মেজদা, এবার তুমি যেখানেই জন্মাও, লম্বা হাত খাটো করার মতো এমন ভাই তোমার পাশে থাকবে না। তুমি সেই স্বভাব নিয়ে এসো, যে স্বভাব বলে, কাট ইয়োর কোট অ্যাকর্ডিং টু ইয়োর ক্লথ।

    মাতামহ বললেন, মুদিখানার হাজার তুমি না দিলেও পারতে। ওরা তিন টাকাকে তিরিশ টাকা করে রাখে। ওসব হল বানানো খাতা।

    তা বললে কি চলে? ও আপনি পারেন, আমি পারি না, আমার শাস্ত্র আলাদা। আর একটা ধার ছিল, অতি সামান্য। জানতেও পারতুম না, যদি না মেজদা স্বপ্নে এসে বলে যেতেন।

    কীরকম? কীরকম? মাতামহ একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন। পরকালের গন্ধ পেয়েছেন।

    ভোররাতে মেজদা এলেন।

    নিশ্চয়ই ট্রেন লেট ছিল। আমি এতকাল রেলকোম্পানির মালবাবু ছিলুম। লেট না থাকলে কোনও ট্রেন শেষরাতে হাওড়ায় ইন করে না।

    আপনি ছিলেন মালবাবু, কথা বলছেন জলপাইবাবুর মতো।

    অর্থ?

    সুকুমার রায়। জল পাই আর জলপাই এক করে পাগল করে মেরেছিল। হচ্ছে স্বপ্নের কথা চলে গেলেন অন্য লাইনে, রেললাইনে।

    বয়েস হরিশঙ্কর। বয়েস। বয়েসে বাতুল। তুমি বলো, বলো। লঙ্কা চিবিয়ে ফেলেছি। ব্লটিং পেপারে একটু চিটেগুড় পেলে জিভে সেঁটে ধরতুম।

    কাশীর চিনি মিলতে পারে। চিটেগুড় পাবেন গুলিখোরদের আখড়ায়।

    কনক চা নিয়ে এল না, এল মুকু। লজ্জা হয়েছে। বিয়ের কথায় মেয়েরা কেমন যেন মেদুর হয়ে যায়। আরে বোকা, ও তো মাতামহর ঠাট্টা। বৃদ্ধদের ওই তো রীতি। সুন্দরী মেয়ে দেখলেই একেবারে ফুলশয্যার ছবি আঁকা। লাল মেঝে। বাঘথাবা খাট। নীল কামুক মশারি। ফলাও সাদা চাদর। বিলাসী বালিশ। রজনীগন্ধার ছড়ি। যুঁইয়ের মালা বাজু বেয়ে জড়িয়ে মড়িয়ে মাতোয়ালা। ইন্দ্রিয়ে সুবাসের সুড়সুড়ি। ফরাসডাঙার ধুতি আর গরদের পাঞ্জাবি পরে প্যাঙা বসে আছে গ্যাট হয়ে। বত্রিশ ইঞ্চি বুকের ছাতি বেড়ে ছেচল্লিশ ইঞ্চি একটি প্রেমের তাকিয়াকে ধরবে বলে। আর পাকা মেয়েরা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সেই কঁচা অর্ঘ্যটিকে ভেতর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যাও না যাও, ওই যে বসে আছেন ঠুটো জগন্নাথ, জগন্নাথ স্বামী রসানন্দো রাধাসরসবপুরালিঙ্গনসুখখা। বৃদ্ধের চোখে হারিয়ে যাওয়া সেই অতীত রাতের ছবি। পাকা পেয়ারার মতো দিদিমার বদলে ঘরে একটা কাঠের সিন্দুক। কতদিন দেখেছি, মাতামহ সিন্দুকের গায়ে হাত বুলোত বুলোতে বলছেন, হ্যাঁগা, শেষপারানির কড়িটি তুমি রেখেছ তো!

    যাক, চা এসে গেছে, বলে মাতামহ চায়ে একটা চওড়া চুমুক চালিয়ে বাপস বলে কাপ নামিয়ে রাখলেন। ঝালের জিভে গরম চা উত্তপ্ত শাবলের মতো ঢুকেছে। ভয়াবহ মুখে ফেলে আসা আলোচনার টুকরো তুলে নিলেন, শেষরাতে মেজকত্তা এলেন?

    আজ্ঞে হ্যাঁ! তিনি এলেন উত্তরের দরজা দিয়ে।

    হ্যাঁ, ওই দিকেই যে হিমালয়! নো কমেন্টস। এটা জিওগ্রাফির ক্লাস নয়। দিস ইজ প্যারাসাইকোলজি। বাবা, কতরকমের প্যারা আছে গো! প্যারাটাইফয়েড, প্যারাচুট, প্যারালিসিস, প্যারাগ্রাফ, প্যারামর্শ।

    প্যারামর্শটা কী?

    পরামর্শকে একটু বাঁকা পথে চালালেই প্যারামর্শ। উকিলরা যা দেয় তা হল প্যারামর্শ। ওই প্যারামর্শর ঠেলাতেই সারাজীবন কোর্টের খোঁটায় কলুর বলদের মতো ঘুরেই চলেছি, মামলার তেলে আমার উকিল বন্ধুবিহারী দিন দিন চকচকে হচ্ছে। মাগের গতর দেখলে সুন্দরবনের কেঁদোর জিভে জল আসবে।

    মাগ ছাড়া অন্য শব্দ মাথায় এল না?

    আহা, ওই যার চেহারা তাকে আমি কেমন করে রমণী বলি? একটা মানানসই শব্দ বলতে হবে তো? তুমি সবেতেই যদি চটে যাও তা হলে তো বোবা হয়েই থাকতে হয়। তা হলে তুমি রামকৃষ্ণের ওপর রাগো, রামপ্রসাদের ওপর রাগো। আমি তো তাও মাগি বলিনি! রামপ্রসাদ বলে আমার কোষ্ঠী, শুদ্ধ সেই তারাবেশে। মাগি জানে না যে মন কপাটে খিল দিয়েছি কত কষে।

    আপনি অফুল।

    নিশ্চয়ই কোনও বিলিতি ফুল। কুন্দ, কমল, বকুল, বেল, যুঁই, জবা, ঘেঁটুর দলে নয়। বুঝেছি খুব বিরক্ত হচ্ছ। কী করি বলো, সারাদিন কথা বলার লোক পাই না। ছেলে ওল্ডফুল বলে মুখ বেঁকিয়ে সরে পড়ে। দেখেশুনে পুত্রবধূ নিয়ে এলুম। ছেলে সরে পড়ল ফুসলে নিয়ে। বড়লোকের মেয়ে, ছেলে শ্বশুরের সেরেস্তায় বন্ধক পড়ে গেল। বউ বললে, ওঠো তো ওঠো বোসো তত বোসো। সঙ্গী আমার কেউ নেই হরিশঙ্কর। দেয়াল, বেটির ছবি, দোরগোড়ার নারকোল গাছ, গোটাকতক কাক, আর আমার এই সুদের সুদ নাতি। মেরে তাড়াবে তাড়াও। তোমারই রকে গিয়ে বসব। লোকে বলবে জামাই শ্বশুরকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। জানো, গত তিনদিন আমার পেটে দানাপানি পড়েনি। কেউ একবার জিজ্ঞেস করেনি, বুড়ো, তুমি কিছু খেয়েছ? দোতলায় মোগলাই, একতলায় হরিমটর। মাতামহ চোখ রগড়ালেন। সঙ্গে সঙ্গে উঁহু করে হাত সরালেন, বাপস জ্বলে গেল, আঙুলে আলুর চপের লঙ্কা লেগে ছিল।

    পিতার প্রশ্ন, দানাপানি জোটেনি কেন?

    আর বলল কেন? সে আর এক দুঃখের কথা। এখন সই করতে গেলে হাত কাঁপে। যতবার টাকা তোলার ফর্মে সই করি, পোস্টমাস্টার বলে সই মিলছে না। সাক্ষী ধরে আনুন। শেষে জিজ্ঞেস করলুম, মশাই আমি তা হলে কোন শালা? সইয়ের আমি, না আমার সই!

    আজ থেকে আপনি আমার এখানে খাবেন। যদ্দিন আমি বেঁচে থাকব। তবে একটা অনুরোধ, যতদূর সম্ভব হুগলি জেলার ওই গ্রাম্য শব্দগুলো ব্যবহার না করার চেষ্টা করবেন। শুনলেই আমার পিত্তি চটে যায়। মনে থাকবে?

    মাতামহ বাধ্য ছেলের মতো মাথা নাড়লেন। গালে জলের রেখা। দুঃখ আর লঙ্কা নিংড়ে বের করেছে।

    মেসোমশাই বললেন, আমারও একটা প্রতিবাদ আছে। উনি একটু আগে উকিলদেরও একহাত নিয়েছেন। বলেছেন আমরা মক্কেলকে যা দিই তা হল প্যারাম। মক্কেল মেরে, তেল বের করে আমাদের চেকনাই। হাইলি অবজেকশনেবল।

    মাতামহ জল-ভরা চোখে হেসে উঠলেন। কানন দেবীও এমনটি পারবেন না। অনেকটা রোদ আর বৃষ্টির মতো। হাসতে হাসতে বললেন, তোমাকে বলিনি গো। তুমি তো আমাদের ঘরের উকিল। ঘরকা মুরগি ডাল বরাব্বর। অনেকদিন আগে বিভক্তির শ্লোক মুখস্থ করেছিলুম, প্র, পরা, অপ, সম, নি, অভি, দুর, বি৷ হরিশঙ্করের প্যারার সঙ্গে মেলাতে গিয়েই কথায় কথা বাড়ে, টাকায় বাড়ে সুদ। ও কিছু না। তোমাকে আমি কিছু বলিনি।

    মুরগি বলাটা মনে হয় উপযুক্ত হল না, যতই হোক হিন্দুর ছেলে!

    পিতার মুখ দেখে মনে হল ভীষণ বিরক্ত হয়েছেন। কথার জালে ক্রমশই এমন জড়িয়ে পড়ছেন কীভাবে যে কেটে বেরিয়ে আসবেন ভগবানই জানেন। আঙুল তুলে মাতামহকে বললেন, আপনি অনেকটা গেঞ্জির মতো। কোনা ধরে টান দিলেই হল, ফড়ফড়, ফড়ফড় খুলেই চলেছেন। ওর জন্যে আমি যেমন এক নব-সারমন-অন-দি মাউন্ট তৈরি করছি, আপনার জন্যও সেইরকম একটা তৈরি করতে হবে।

    ওই একটাতেই হবে হরিশঙ্কর। আবার নতুন করে খাটবে কেন?

    খাটতেই হবে। দু’জনের দু’রকম নেচার। আপনার জন্যে পয়লা উপদেশ হবে, কম কথা বেশি। আহার। খাবার না দেখলে ঠোঁট ফাঁক হবে না।

    আঃ, চমৎকার চমৎকার! তুমি আমাদের হিন্দু যিশু, তোমাকে শিশুর মতো কোলে তুলে আমার ধেই ধেই করে নাচতে ইচ্ছে করছে। প্রেমদাতা নিতাই বলে গৌরহরি, হরিবোল। হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ-যাদবায় নমঃ। যাদবায় মাধবায় কেশবায় নমঃ। মাতামহ মাথা নেড়ে নেড়ে সুর করে গাইতে লাগলেন। পিতা তড়াক করে চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠে বললেন, অ্যাবসলিউটলি ব্যাড টেস্ট। নাম। নিয়ে ব্যঙ্গ।

    গান থেমে গেল। সরল মুখে মাতামহ বললেন, কেন, শাক্ত কি মাঝে মাঝে বৈষ্ণব হতে পারে না?

    কেন পারবে না? সব ধর্মেরই শেষে মৃত্যু। তা বলে আপনি আমার নাম নিয়ে সুর করে হরি হরায় নমঃ, হরি হরয়ে নমঃ করবেন? অত্যন্ত কুরুচির পরিচয়।

    আরে এ হরি সে হরি নয়। ইনি সেই লোকনাথং ত্রিলোকেশং পীতাম্বরধরং হরিম। তুমি তো শুধু হরি নও, হরি আর শঙ্কর একসঙ্গে পাটিসাপটা হয়ে বসে আছ। রেগে আছ তো, তাই বুদ্ধিবৈকল্য। হয়েছে। না বাবা, তোমার সামনে আর বসব না। কী বলতে কী বলে ফেলব!

    মাতামহ উঠে দাঁড়ালেন। কোলের ওপর থেকে গোটাকতক মুড়ি মেঝেতে ছিটকে পড়ল। ভয়ে ভয়ে মুড়ির দানা ক’টা মেঝে থেকে নিচু হয়ে তুলতে তুলতে বললেন, তোমার কোনও কথাই শোনা হল না।

    আপনিই তো সব ভন্ডুল করে দিলেন।

    আচ্ছা বেশ, আমি যদি এখন একটাও কথা না বলে চুপ করে লক্ষ্মীছেলের মতো বসি!

    চেষ্টা করে দেখুন।

    মাতামহ চেয়ারে বসে মেঝে থেকে কুড়োনো মুড়ির একটা দানা মুখে পুরলেন। কার সামনে কী কাজ। পিতার নজর সর্বত্র, আরে ছিঃ ছিঃ। আপনি ওই মেঝের মুড়ি দাতে কাটছেন, ছি ছি ছিঃ। দেশে এত বড় দুর্ভিক্ষ চলেছে জানতুম না তো! কদিন না খেয়ে আছেন?

    মেঝেটা তো বেশ পরিষ্কার হরিশঙ্কর।

    আরে একটু আগেই ওখানে বিধু নেচে গেছে। যান, মুখ ধুয়ে আসুন। আপনাকে দেখছি এবার কোমরে ঘুনসি বেঁধে, দড়ি দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখতে হবে, দামড়া গোপালের মতো। দ্বিতীয় শৈশব শুরু হয়ে গেছে।

    একদিন তোমারও হবে। না, না, হবে না, হবে না। মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে।

    স্তম্ভিত ঘরে মাতামহ মুখ ধুয়ে ফিরে এলেন। চেয়ারে বসলেন ধীরে ধীরে, যেন শব্দ না হয়। শুভ্র ব্যাকব্রাশ করা চুলে জল হাত বুলিয়েছেন। ধবধবে সাদা ভুরু জলে ভিজে ভিজে। তপঃক্লিষ্ট মুখ অদ্ভুত প্রসন্ন। কেঁচার খোঁটে মুখ মুছতে মুছতে বহু দূর থেকে বললেন, নাও শুরু করো।

    কথা বলার ধরনে বেশ বোঝা যায়, দেহ ঘরে, মন উড়ে চলে গেছে বহু দূরে। আমাদের ছাতে বহুকাল ধরে এক খণ্ড কাঠ পড়ে আছে। জলে ভেজে, রোদে পোড়ে, শীতে শুকোয়, হিম খায়, বসন্তের বাতাস পায়। এর নাম নাকি সিজনিং। কাঠ ধীরে ধীরে লোহা হয়ে উঠছে। মাতামহকে। দেখলে, আমার সেই কাঠের টুকরোটার কথা মনে পড়ে। Seasoned Sailor returns from the Seven Seas/ His eyes speak of Cyclones/ Hairs bleached white.

    পিতা শুরু করলেন, রাত প্রায় ফিকে হয়ে এসেছে। ভোরের মেটে আলোয় মেজদা উত্তরের দরজা খুলে এলেন। গায়ে সাদা উত্তরীয়। আমার মাথার সামনে এসে দাঁড়ালেন। মেজদা তুমি? মুখে অপূর্ব হাসি। মানুষের মুখে অমন হাসি দেখা যায় না। স্বর্গীয় হাসি। তুমি কেমন আছ মেজদা? বললেন, সে তোমাকে বোঝাতে পারব না হরি। না থেকেও থাকার আনন্দ। এলে বুঝতে পারবে। সে এক মহাসম্মেলন। তুমি কি আবার আসবে? মেজদা বললেন, আপাতত নয়। তোমাকে একটা কথা বলার জন্যে আজ এলুম। ওই যে কেবল মুচি, যাবার দু-তিন দিন আগে ওকে দিয়ে আমার চটির স্ট্র্যাপটা সেলাই করিয়েছিলুম। পয়সা দিয়ে যেতে পারিনি। বড় ভাল মানুষ। কোনওদিন চাইবে না। তুমি সকালেই গিয়ে দেনাটা শোধ করে এসো। আলমারিতে আমার চশমার খাপে স্যাময় লেদারের তলায় টাকা আছে। পুরোটাই দিয়ে দিয়ো।

    আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই মেজদা নিমেষে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। ঘুম ভেঙে গেল। ফুটো দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়লে যেমন হয়, সেইরকম একটা রুপোলি রেখা ক্রমশ গুটোতে গুটোতে বহু দূরে চলে গেল। সারাঘরে সুন্দর গন্ধ। আমি একজন কেমিস্ট। অমন গন্ধ পৃথিবীর কোনও আতরে খুঁজে পাইনি। জানি না ব্রহ্মকমলের কেমন গন্ধ!

    মাতামহের চোখ বড় বড় হয়ে উঠেছে। মেসোমশাই বিলেত-ফেরত ব্যারিস্টার। মুখ দেখে মনের ভাব বোঝার উপায় নেই। সামনে ঝুঁকে পড়ে মাতামহ বললেন, তারপর কী হল!

    আলমারি খুললুম। চশমার খাপ। সত্যিই টাকা রয়েছে। একটা দশটাকার নোট। সকাল হল। কেবলকে জিজ্ঞেস করলুম। সাধুসন্ত মানুষ। কিছুতেই স্বীকার করবে না। শেষে বললে, হ্যাঁ, মেজবাবু জুতো সারিয়েছিলেন। তবে সে পয়সা আমি আর কিছুতেই নিতে পারব না। স্বপ্নের কথা বলতেই কেঁদে আকুল। একজোড়া সোয়েডের নিউকাট দেখিয়ে বললে, ওই দেখুন, মেজকত্তার জুতো। তৈরি হল, পরা আর হল না। এই তো মানুষের জীবন! টাকা কী হবে? সেই টাকা দশটা ফ্রেমে বাঁধাই করে দোকানে ঝুলিয়ে রেখেছে। সেই মেজদা বিধুর কাছে টাকা ধার করেছেন আমাকে। বিশ্বাস করতে হবে?

    মেসোমশাই বললেন, একটা মানহানির মামলা ঠুকে দিই। আর দেরি নয়। ফার্স্ট, থানায় একটা ডায়েরি করে আসতে হবে।

    না। মামলা-মকর্দমা নয়। আমি টাকাটা ওর নাকের ডগায় ছুঁড়ে ফেলে দোব।

    সেকী? মাতামহ আর মেসোমশাই দুজনেই একসঙ্গে চিৎকার করে উঠলেন।

    পাঁচ হাজার টাকার চেয়ে আমার কাছে আমার ইজ্জত অনেক মূল্যবান। ওর জন্যে, ওর জন্যেই আমি ওই জোচ্চোরটা যা চায় তাই দোব।

    পিতা দূর থেকে আমাকে বারকতক আঙুলের খোঁচা মারলেন।

    মেসোমশাই বললেন, এর মধ্যে ও আসছে কী করে?

    ভবিষ্যতে কেউ যেন না বলতে পারে, তোমার বাবা চোর ছিল, জোচ্চর ছিল, চরিত্রহীন ছিল। দেয়ালে যখন ঝুলব, তখন দেবতার মতো ঝুলব। পৃথিবীর আদর্শ পিতাদের তিল তিল নিয়ে আমি হব তিলোত্তম। কোনওদিন ওর মনে যেন এই ক্ষোভ দেখা না দেয়, আমার পিতা যা বলতেন তা করতেন না। হি ওয়াজ এ বান্ডল অফ প্যারাডক্স। দেবদেবীতে আমার বিশ্বাস নেই, দেবচরিত্রে আমার বিশ্বাস আছে। আমার চরিত্রই আমার গর্ব। সেই গর্বের ছোঁয়া লাগবে আমার 91698 1691 All over the land they will be telling of Dugald Stewart. Mothers will teach their children to be men by him. High will his name be with the teller of few teles. There are things greater than death. Dugald Stewart-এর জায়গায় হরিশঙ্কর। পাঁচ হাজার টাকা নাথিং বাট স্ক্র্যাপ অফ পেপারস।

    শুনুন, শুনুন হরিদা, সেন্টিমেন্ট ভাল, সেন্টিমেন্টাল হওয়া ভাল নয়। রামকৃষ্ণ বলেছেন, ফোঁস করবে। সেটি ছেড়েছ কী মরেছ। চরিত্র এক জিনিস, দুর্বলতা আর এক জিনিস। ভীরুতা কি ভাল? মেসোমশাই বেশ গম্ভীর মুখে বললেন।

    ভয়? যে ঈশ্বরকে ভয় করে না, যে শয়তানকে ভয় পায় না, জীবনের সিংহদুয়ারে যে একা প্রহরীর মতো সারাজীবন খাড়া তার অভিধানে ভয় শব্দের স্থান নেই বিনয়দা।

    আছে আছে, সাবকনসাসে’ লুকিয়ে আছে বদনামের ভয়, চরিত্রহননের ভয়। It is the dark idolatry of Self/Which, when our thoughts and actions once are donel Demands that man should weep, and bleed, and groan/Seek not glories that are in heaven.

    বেশ, এর ও উত্তর আছে, We have no wings, we cannot soar. But we have feet to scale and climb. দেখতে দোষ কী, কতটা ওঠা যায়, হায়ার, স্টিল হায়ার।

    চেয়ারে শরীর এলিয়ে দিয়ে মাতামহ বললেন, বেশ জমেছে হে? তবে বাংলায় হলে খুলত ভাল।

    মাতামহের তারিফে বিশেষ কেউ কান দিলেন না। এজলাসে দুই বাঘা উকিল যেন সমানে সমানে লড়ছেন। আসামি হল মানুষের চরিত্র। পিতা বললেন, তা হলে একটা ঘটনা শুনুন।

    আবার ঘটনা? মাতামহ টানটান হয়ে বসলেন।

    দেরাদুন থেকে ট্রেনে ফিরছি। আমি ওপরের বাঙ্কে। ওপরের বিপরীত বাঙ্কে আমার এক বন্ধু। তার নীচে একটি ছেলে। একেবারে নীচের বাঙ্কে একজন বাঙালি মহিলা। মহিলার বিপরীতে হ্যাটকোট পরা এক প্রৌঢ় মানুষ। আমার নীচের বাঙ্ক খালি।

    মাতামহ বললেন, সব গুলিয়ে গেল। তোমরা কে যে কোথায়?

    আপনার আর বুঝে কাজ নেই। মডেল তৈরি করে না দেখালে আপনি বুঝতে পারবেন না। সে ইনটেলিজেন্স আপনার নেই। আমারও সে সময় নেই।

    কে কোথায় আছ বুঝতে পারলে ভাল হত।

    থাক। যা বুঝলেন তাইতেই সন্তুষ্ট থাকুন। ট্রেন চলছে। প্রৌঢ় ভদ্রলোক হলেন কিশোরটির পিতা।

    কেমন করে জানলে? মাতামহের বাগড়া।

    পিতার ধমক, আবার আপনি কিন্তু শর্ত ভেঙে পূর্বের অবস্থায় ফিরে চলেছেন।

    মাতামহ অপরাধীর মুখে বললেন, স্বভাব যায় না মলে।

    ট্রেন চলেছে। বিপরীত বাঙ্কে শুয়ে থাকা আমার বন্ধু কেমন যেন উসখুস করছে।

    প্রথমে কারণটা বুঝতে পারিনি। আমার বাঙ্ক থেকে আমি ছেলেটিকে দেখতে পাচ্ছি, আর সেই মহিলাকে দেখতে পাচ্ছি। অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ছে না। মহিলা বসে আছেন জড়োসড়ো হয়ে। আমার বন্ধু হঠাৎ তড়াক করে বাঙ্ক থেকে লাফিয়ে নেমে পড়ল। নেমেই সেই সায়েবি পোশাক পরা লোকটির কলার চেপে ধরল, রাসকেল। খুবই অশ্লীল ব্যাপার। আমার নজরে পড়ার কথা নয়, বন্ধুর নজরে পড়েছে, লোকটা হল একজিবিশনিস্ট।

    সে আবার কী? মাতামহ জানতে চাইলেন।

    সে একটা অসুখ, এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

    ছোঁয়াচে?

    মানসিক ব্যাধি। মহিলা বাঙালি। আমাদের বললেন, আপনারা দয়া করে আমার পাশে বসুন। কলকাতা পর্যন্ত যাব। একা ভীষণ ভয় করছে।

    তোমরা চেন টেনে লোকটাকে নামিয়ে দিলে না কেন? আইন আছে, পাগল, ছাগল, ছোঁয়াচে রোগী, কেরোসিন, বারুদ, মাতাল, ট্রেনে ট্রাভেল করতে পারবে না। ঘাড়ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দাও।

    মাতামহ এমনভাবে বললেন, যেন ট্রেন চলছে, ঘটনা ঘটছে।

    পিতা আবার শুরু করলেন, আমরা ওপর থেকে নীচে নেমে এসে সেই মহিলার দু’পাশে বসলুম। কথায় কথায় জানা গেল, মহিলার স্বামী দেরাদুনে সম্প্রতি মারা গেছেন। ফিরে চলেছেন। কলকাতায় নতুন জীবন শুরু করতে। বিবাহিত জীবন মোমবাতির মতো গলে গলে নিবে গেছে। চার বছরেই সব শেষ। মানুষ কী জীব দেখুন। লালসার জিভ লকলক করে বেরিয়ে এলেই হল। চেক-ভালভ বলে কিছু নেই। এরাই আবার গর্ব করে বলে, অমৃতস্য পুত্রা।

    মাতামহর প্রতিবাদ, একটা মানুষ দেখে সব মানুষকে গালাগাল দিয়ো না। গরলের পুত্র একটা-দুটো, অমৃতের পুত্ৰই বেশি। তা ছাড়া তুমি তো বললে, লোকটা অসুস্থ! কী যেন অসুখ। বললে? ও রোগের নাম বাপের জন্মে শুনিনি।

    না শোনাই ভাল? কিছু অসুখ আছে যার ওষুধ হল লাঠি। লাঠৌষধি। ব্রায়োনিয়া নয়, অ্যাকোনাইট নয়, পটপটি নয়। লালসার দাওয়াই হল শাশুড়ি-ছ্যাঁকা। জিভটি টেনে বের করো, আর খুন্তিকে লাল করে পুড়িয়ে ছ্যাঁকা।

    তুমি আমাকে বলছ না তো হরিশঙ্কর? পান্তুয়া দেখলে যে আমার নোলা সকসক করে ওঠে।

    এ নোলা সে নোলা নয়। এ হল নোলকের নোলা। প্রস্টেট থেকে বেরিয়ে এসে কুলকুণ্ডলিনীতে সুড়সুড়ি দেয়। মানুষ তখন সারমেয়ের মতো জিভ বার করে হ্যাঁ হ্যাঁ করতে থাকে। অমৃতের পুত্র উদম হয়ে হেঁচকি তোলে। সময় নেই, অসময় নেই, স্থান কাল-পাত্রের বিচার নেই। আমার পাখিই ভাল, আমার পাখিই ভাল। সূক্ষ্ম আহার, সূক্ষ্ম বিয়োগ, দুটি ডিম। একটু তা। লাল-ঠোঁট বাচ্চা। পালকের বাহার। অনন্ত আকাশ। গান, শুধু গান। দ্বিপদ প্রাণী যখন চতুষ্পদ হয়ে যায় তখন ব্যাপারটা এত ভালগার হয়ে দাঁড়ায়? আমাদের ভোলা ষাঁড় অনেক অনেক ডিগনিফায়েড।

    মেসোমশাই সামান্য অধৈর্য হয়ে বললেন, এখনও কিন্তু উপসংহারে এলেন না।

    ও হ্যাঁ। ঠিকই তো। মানুষের ব্যবহারে বড় বিচলিত হয়ে পড়েছিলুম। যা বোঝাবার জন্যে এই গল্পের অবতারণা, তা হল, সেই হ্যাটকোটধারী পশুমানবটি কুপেতে আর বসতে পারলেন না, বাইরের প্যাসেজে দাঁড়িয়ে রইলেন। অনেক রাতে বাথরুমে যাবার পথে প্যাসেজের শেষ প্রান্তে পিতা-পুত্রকে মুখোমুখি দেখলুম। ছেলে বাপকে জিজ্ঞেস করছে, হোয়াট হ্যাভ ইউ ডান ফাদার?

    গলায় অভিমান, অভিযোগ। ফাদার ফাম্বল করছে। ইউ হ্যাভ ডান সাম রং। হোয়াই, হোয়াই? হোয়াই? হোয়াই? গলা ভেঙে এসেছে কান্নায়। আমি চাই না, আমি চাই না আমার পুত্র, জীবিত আমি মৃত আমির সামনে পঁড়িয়ে অভিযোগের আঙুল তুলে বলে, কেন, কেন তুমি এমন কাজ করতে গেলে? আমার চরিত্রের অর্কিড হাউসে ও ঝুলতে থাকবে হিমালয়ের সৌন্দর্য নিয়ে। সেই কারণেই আমি বিধুকে পাঁচ হাজার টাকা দোব।

    সেকী? মেসোমশাই, মাতামহ, দুজনেই আবার চিৎকার করে উঠলেন। এ যেন সাতকাণ্ড রামায়ণ শুনে সীতা কার বাবা বলে চিৎকার করে ওঠা।

    সেকী টেকি নয়, ডিসিশন ইজ ডিসিশন।

    মাতামহ বললেন, হরিশঙ্কর, তোমারও ওই লাঠৌষধি। বিধুকে তুমি টাকা দিয়ে দেখো!

    মেসোমশাই বললেন, এ হল আইনের অবমাননা। লোকটাকে আমি জালিয়াতি কেসে ফেলে যাবজ্জীবন করে ছাড়ব ভেবেছিলুম। আপনি বাদ সাধলেন। কিল খেয়ে কিল হজম করে পুত্রবধূর৷৷ কয়েকদিন পরেই আপনি শ্বশুর হবেন, আপনার এ কী ভীরুতা।

    মাতামহ বললেন, ও হবে শ্বশুর? শ্বশুর হলুম আমি। এ জিনিস দ্বিতীয় আর পাবে না। মেয়ে নেই আমার জামাই আছে। আর তার ঘাড়ে বসে লুচি চলছে, মালপো চলছে। দু’বার তীর্থভ্রমণও হয়ে গেছে।

    মেসোমশাই চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে বললেন, বাথরুমে বসে ঠান্ডা মাথায় আর একবার চিন্তা করুন হরিদা।

    চিন্তা? পিতা হাসলেন। পাঁচ হাজার টাকা আমাকে বেঁধে ফেলার আগেই লোহা গরম থাকতে থাকতেই হাতুড়ি মারব। মন বড় দুর্বল। আমি ক্যাশবাক্স খুলব, এখুনি টাকা বের করব, এখুনি দিয়ে আসব। কে জানে? মন বড় দুর্বল। মন বড় অপলকা। পিতা ক্যাশবাক্সর দিকে এগোতে লাগলেন। তা না হলে রক্ষক ভক্ষক হয়ে যায়?

    তার মানে? পইতের চাবিটি হাতে ধরে পিতা ঘাড় ঘুরিয়ে তীক্ষ্ণ হাসি হেসে বললেন, ওই যে আমার ট্রেনের বন্ধু!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleফাঁস – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }