Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লৌকিক এবং অলৌকিক গল্প – প্রফুল্ল রায়

    প্রফুল্ল রায় এক পাতা গল্প238 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এক উকিল এবং তার এক মক্কেল

    এক উকিল এবং তার এক মক্কেল

    শুরু করার আগে পুরনো দিনের কথা একটু বলে নেওয়া যাক। নইলে গল্পটা তেমন জমবে না। তখনও দেশভাগ হয়নি। এপার বাংলা আর ওপার বাংলা মিলিয়ে ছিল আস্ত বাংলাদেশ। সারা পৃথিবী জুড়ে সেই সময় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলছে।

    রন্টুর বয়স তখন দশ কি এগারো। তাদের বাড়ি ছিল অখণ্ড বাংলার ঢাকা ডিস্ট্রিক্টের বিক্রমপুরের বিশাল একটা গ্রামে।

    গ্রামের পাশেই ইছামতী নদী। বসিরহাটের গা ঘেঁষে সরু, শীর্ণ আরেক ইছামতী বয়ে গেছে। এই দুই নদী এক নয়। ঢাকা জেলার সেই ইছামতী পদ্মা থেকে বেরিয়ে এসেছে। পদ্মার মতো বিরাট না হলেও তার কাছাকাছি। বহুদূরে পেনসিলের আবছা আঁচড়ের মতো এপার থেকে ওপারটা মনে হত। এই ইছামতীর মাঝামাঝি ছিল বড় বড় চার—পাঁচটা চর। কোনও চরই ফাঁকা নয়। সব ক’টাতেই টিন বা খড়ের চালের বাড়িঘর বানিয়ে প্রচুর মানুষজন থাকত। চারপাশে জল, মধ্যিখানে বসতি।

    রন্টুদের গ্রাম থেকে সাড়ে তিন মাইল দূরে ছিল মস্ত এক গঞ্জ। সেখানে বিস্তর দোকানপাট, ধান—চাল—পাটের আড়ত, ডাক্তারখানা, কবিরাজখানা, তা ছাড়া সরকারি নানা অফিস, আদালত আর ছিল স্টিমারঘাটা, লঞ্চঘাটা, কেরায়া নৌকো আর গয়নার নৌকোর ঘাট। সকাল থেকে সন্ধে অবধি এলাকাটা গমগম করত।

    এখানে যে গয়নার নৌকোর কথা বলা হল সেটা আসলে কী? স্টিমার বা লঞ্চ যেমন অনেক প্যাসেঞ্জার নিয়ে নানা জায়গায় পাড়ি দেয়, গয়নার নৌকোও অনেকটা সেইরকম। বিপুল আকারের নৌকোগুলো তিরিশ— চল্লিশজন করে যাত্রী তুলে যে যেখানে যাবে সেখানে পৌঁছে দিত। কাছাকাছি কোথাও গেলে ভাড়া কম, দূরে গেলে ভাড়া বেশি।

    ফি রবিবার গঞ্জের লাগোয়া প্রায় সিকি মাইল জায়গা জুড়ে হাট বসত। সেদিন চারপাশের পঁচিশ—তিরিশটা গ্রাম আর ইছামতীর চরগুলো থেকে হাজারে হাজারে মানুষ নৌকোয় চেপে হাটে চলে আসত। গঞ্জের সামনের দিকটা শ’য়ে শ’য়ে নৌকোয় ছেয়ে যেত। অন্য দিনের চেয়ে হাটের দিনে গঞ্জে দশ—বিশগুণ মানুষের ভিড়। তাই হইচইও বেশি। দু—আড়াই মাইল দূর থেকে লক্ষ কোটি মাছির ভনভনানির মতো সেই আওয়াজ শোনা যেত।

    রবিবারের হাটের দিন রন্টুকে নিয়ে তার দাদু নৌকোয় চড়ে নানা জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য গঞ্জে যেতেন। রন্টুকে সঙ্গে না নিয়ে উপায় ছিল না। কেননা সে তো আর শান্তশিষ্ট সুবোধ বালকটি নয়। না নিয়ে গেলে তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে ছাড়বে।

    গঞ্জে দেদার মজা। সেখানে গাজি—বেকারির কেক পাওয়া যায়। শুধু কি কেক, কলকাতার ব্রিটানিয়া কোম্পানির বিস্কুট, লজেন্স ছাড়াও আসে ‘দেব সাহিত্য কুটির’—এর প্রহেলিকা আর কাঞ্চনজঙ্ঘা সিরিজের নতুন নতুন ডিটেকটিভ গল্পের বই। কেক বিস্কুট লজেন্স তো বটেই, তার চেয়ে বেশি করে চাই দমবন্ধ—করা গোয়েন্দা কাহিনি। সেই সঙ্গে দেশ—বিদেশের ভ্রমণের গল্পের বই পাওয়া গেলে রন্টু আহ্লাদে একেবারে ডগমগ। সেসব কিনে না দিলে দাদুর নিস্তার নেই।

    এক রবিবার রন্টুরা গঞ্জে গেছে। আদালতে দাদুর জরুরি কিছু কাজ ছিল। তাই নৌকো থেকে নেমে রন্টুকে নিয়ে তিনি সোজা সেখানে চলে গেলেন। হাটের কেনাকাটা পরে হবে। হলুদ রংয়ের লম্বা একটা দালানে ছিল কোর্ট। বিল্ডিংটার ভেতরে তিনটে দেওয়াল তুলে তিনটে বড় বড় কামরায় ছিল তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাস। বাকি চার নম্বর কামরাটায় সাব—রেজিস্ট্রি অফিস।

    কোর্টের সামনের দিকে একশো বছরের প্রাচীন এক বটগাছ। সেটার ডালপালা থেকে কত ঝুরি যে নেমেছে তার লেখাজোখা নেই। বটগাছের তলায় বারো—চোদ্দোটা বেঞ্চি পাতা। সেগুলো উকিলদের সেরেস্তা। কোর্টে মামলা না থাকলে মক্কেলদের নিয়ে সেখানে বসত তারা। সেরেস্তাগুলো থেকে একটু দূরে বটগাছের তলাতেই তিনটে মিষ্টির দোকান। রাজভোগ, মোহনভোগ, মাখা সন্দেশ, পান্তুয়া ছাড়াও বাখরখানি ওই দোকানগুলোতে পাওয়া যেত।

    বটগাছটার পর খানিকটা ফাঁকা জায়গা। তারপর ইছামতীর পাড় ঘেঁষে গয়নার নৌকোর ঘাট।

    দাদু রন্টুকে নিয়ে বটগাছের তলায় চলে এলেন। সেখানে ভিড় কম। তিন—চারজন উকিল তাদের মক্কেলদের নিয়ে এধারে—ওধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে কথা বলছে। অন্য উকিলরা নিশ্চয়ই আদালতে মামলা করতে গেছে।

    রন্টুর দাদু তাঁদের গ্রাম তো বটেই, চারপাশের তিরিশ—চল্লিশটা গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষদের একজন। সেই সময় মানুষের আয়ু বেশি হত না। বড়জোর ষাট—পঁয়ষট্টি। দাদু তখন ষাট, সত্তর পেরিয়ে তিয়াত্তরে পা দিয়েছেন। তিনি ছিলেন খুবই জ্ঞানী মানুষ, সেই আমলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট। চারদিকে গ্রামের মানুষজন তাঁকে চিনত, সমীহ করত।

    বটগাছের তলায় যে উকিলরা বসে ছিল, সবাই দাদুকে দেখে হাতজোড় করে উঠে দাঁড়িয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে বলতে লাগল, ‘প্রণাম প্রণাম বড়কর্তা, মেলা দিন পর এহানে আপনের পায়ের ধূলা পড়ল। লগে নাতিরেও দেখতে আছি। বহেন বহেন।’ গ্রামগঞ্জের মানুষ যাদের সঙ্গে মা সরস্বতীর একটু আধটুও সম্পর্ক আছে তারা তাঁকে বলত ‘বড়কর্তা’, আর যারা বর্ণপরিচয়ের একটি অক্ষরও চোখে দেখেনি তাদের কাছে তিনি ‘বড়কত্তা’।

    ওদিকে উকিলদের মক্কেলরাও উঠে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছে।

    রন্টু আগেও বেশ কয়েকবার দাদুর সঙ্গে আদালতে এসেছে। এখানকার সব উকিলকেই সে চেনে, নামও জানে। যে তিন—চারজন এখন বটগাছের তলায় রয়েছে, চুপচাপ তাদের দিকে তাকিয়ে রইল সে।

    দাদু বলছিলেন, ‘না রে, আজ আর বসার সময় হবে না। একটা দরকারি কাজ সেরে আমাকে হাটে দৌড়োতে হবে। অনেক কিছু কেনার আছে। সেসব সেরে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধে হয়ে যাবে। আরেক দিন তোদের সঙ্গে বসে গল্প করব।’ তাঁর চেয়ে বয়স যাদের কম, তিনি তাদের ‘তুই’ করে বলতেন। সেটা তাদের ছোট বা তুচ্ছ করার জন্য নয়, তাঁর বলাটার মধ্যে স্নেহ মাখানো থাকত।

    নেংটি ইঁদুরের মতো শুঁটকো চেহারার একটা উকিল, নাকের তলায় খাড়া খাড়া কাঁচা—পাকা গোঁফ, চোখে নিকেলের গোল চশমা, পরনে ছাই ছাই রংয়ের কোট—প্যান্ট, পায়ে বাটা কোম্পানির আদ্যিকালের ফিতে—বাঁধা ফ্যাকাসে কেডস—নাম তার নিশিকান্ত সাহা রায়। দাদুর সঙ্গে রন্টু যখনই কোর্টে এসেছে, অবিরল এই পোশাকেই তাকে দেখা গেছে। কোট—প্যান্ট একসময় কুচকুচে কালো আর কেডস জোড়া ধবধবে সাদাই ছিল হয়তো। রং উঠে উঠে এখন সেগুলোর ওই দশা।

    নিশিকান্ত বকের মতো লম্বা লম্বা পা ফেলে দাদুর কাছে চলে এল। তড়বড় করে বলল, ‘আপনে বহেন তো বড়কর্তা। কী কাম আমারে হুদা ক’ন। অহনই কইরা দিতে আছি।’ তার গলার স্বরটা ক্যানকেনে, ফাটা কাঁসর বাজালে যেমন আওয়াজ বেরোয় অনেকটা সেইরকম।

    দাদু বললেন, ‘না না, তোকে দিয়ে হবে না। সাব—রেজিস্ট্রি অফিস থেকে আমাকেই গিয়ে সই করে দুটো রসিদ নিতে হবে। তুই একটা কাজ কর—’

    ‘ক’ন ক’ন কী করতে হইব?’

    ‘আমার এই নাতি রন্টুকে চিনিস তো?’

    ‘চিনুম না?’ কত ছোট থিকা দেখতে আছি। জবর ভালা পোলা।’

    দাদু চোখ কুচকে বললেন, ‘ভালো ছেলে! একেবারে হাড় বিচ্ছু। আমি রেজিস্ট্রি অফিসের কাজটা সেরে আসি। ততক্ষণ রন্টুকে তোর কাছে রাখ। এক মুহূর্তও স্থির হয়ে বসে থাকার পাত্র নয়। কখন যে ওর মাথায় কী খেয়াল চাপবে, কেউ জানে না। হুট করে হয়তো কোনও দিকে টহল দিতে বেরিয়ে গেল—’

    ‘চিন্তা কইরেন না বড়কর্তা। রন্টু তেমুন কিচ্ছু করব না। আমার পাশে অরে বহাইয়া রাখুম। আপনে ঘুইরা আহেন।’

    দাদু আর দাঁড়ালেন না, সোজা কোর্ট বিল্ডিংটার দিকে চলে গেলেন। অন্য যে উকিলরা ছিল তারা একে একে নিজেদের মক্কেলদের সঙ্গে করে দূরের বেঞ্চিগুলোতে গিয়ে বসল।

    নিশিকান্ত রন্টুকে বলল, ‘বহো, বহো—’ তাকে বেঞ্চিতে বসিয়ে পাশে বসতে বসতে একটা খাবারের দোকানের দিকে গলা বাড়িয়ে তার মার্কামারা ক্যানকেনে গলায় হাঁকল, ‘মহেশ, বড়কর্তার নাতির লেইগা দুইখান বাখরখানি, দুইখান রাজভোগ আর একদলা মাখা সন্দেশ পাঠাইয়া দে—’

    একটু পরেই একটা অল্পবয়সি ছোকরা পদ্মপাতায় বাখরখানি আর মিষ্টিগুলো সাজিয়ে এনে দিয়ে গেল।

    নিশিকান্ত বলল,’খাও রন্টু, আমি এয়ার লগে একটু কথা কই—’

    রন্টু আগেই লক্ষ করেছিল, একটা লোক, বয়স চল্লিশ—বেয়াল্লিশ হবে, নিশিকান্ত উকিলের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। ভিজে বেড়ালের মতো চেহারা। গোল গোল চোখ, মাথার চুল ছোট ছোট করে ছাঁটা। গায়ের চামড়া খসখসে। পরনে আধময়লা ধুতির ওপর ফতুয়া। খালি পা। দেখলে মনে হয় ভাজা মাছটি উলটে খেতে জানে না। লোকটা যে নিশিকান্ত উকিলের মক্কেল তা বোঝা যাচ্ছিল।

    রন্টু পদ্মপাতায় সাজানো রাজভোগে মনোনিবেশ করেছিল ঠিকই, তবে তার চোখ দুটো ছিল নিশিকান্ত উকিল আর তার মক্কেলটির দিকে।

    মক্কেল বলল, ‘উকিলবাবু, বড়কত্তায় তো রেজিস্টারি অফিসে চইলা গ্যাছেন, এইবার কী কইবেন ক’ন।’

    নিশিকান্ত ঝাঁঝিয়ে উঠল, ‘কয়বার কইতে হইব—অ্যাঁ?’

    রন্টুর মুখে রাজভোগ, কিন্তু চোখ আর কানদুটো শুঁটকো উকিল আর তার মক্কেলের দিকেই রয়েছে। বুঝতে পারছিল তারা গঞ্জে আসার আগে কোনও ব্যাপারে দু’জনের কথাবার্তা চলছিল। ফের সেটা শুরু হয়েছে।

    এবার মক্কেলটি মাথা নীচু করে খুব মনোযোগ দিয়ে ঘাড় চুলকোতে লাগল।

    একদৃষ্টে কয়েক লহমা তার দিকে তাকিয়ে রইল নিশিকান্ত। চশমার ওধারে চোখ দুটো যেন জ্বলছে। আচমকা তার গলার ভেতর থেকে বাজ পড়ার মতো আওয়াজ বেরিয়ে এল—’হারামজাদা চৈতন পাল—’ বলেই চিড়িক মেরে উঠে দাঁড়িয়ে ডান হাতটা নাচাতে লাগল, ‘ট্যাকা, ট্যাকা, ট্যাকা বাইর কর।’

    আস্তে আস্তে মাথা তুলল চৈতন। চোখ পিট পিট করতে করতে ঢোঁক গিলে মুখটা বেজায় করুণ করে বলল, ‘বড়কত্তারা আহনের আগে আপনেরে চাইর ট্যাকা দিছি না?’

    মাটিতে পা ঠুকতে ঠুকতে মুহুর্মুহু গর্জন ছাড়তে লাগল, নিশিকান্ত।—’তিন তিন বার তর মামলা লইয়া জজসাহেবের এজলাসে চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া গলা ফাইড়া ফালাইছি। হাররা মামলা অহন জিতার মুখে। একেক দিন কোর্টে উঠলে আট ট্যাকা কইরা আমার ফি। তাইলে তিনদিনের পাওনা হইল তিন আষ্টে চব্বিশ ট্যাকা। সিধা হিসাব। আগে দিছস সাত ট্যাকা, আইজ পাইছি চাইর ট্যাকা। একুনে এগারো ট্যাকা। বাকি তেরো ট্যাকা বাইর কর।’ তার হাতটা আরও জোরে জোরে নড়তে লাগল।

    ভীষণ মুষড়ে পড়ল চৈতন।—’উকিলকত্তা, আমার কাছে আর ট্যাকা নাই। জজসাহেবের এজলাস থিকা বাইর হওনের সোমায় কইছিলেন একমাস পর ফির মামলার তারিখ পড়ছে। হেই দিন আপনের পুরা ট্যাকা মিটাইয়া দিমু। বিশ্বাস করেন, মা রক্ষাকালীর কিরা।’

    ‘রক্ষাকালীরে টানাটানি করিস না। এইর আগেও তো তেনার নামে দশবার কিরা কাটছস কিন্তু দিছস কি? আইজ কোনও কথা শুনুম না, ট্যাকা বাইর কর—’

    কাঁচুমাচু হয়ে হাতজোড় করে চৈতন পাল বলল, ‘যে চাইরডা ট্যাকা আছিল আপনেরে দিয়া দিছি। আমার কাছে আর কিচ্ছু নাই। মা রক্ষাকালী থাউক, মা দুগগা, মা লক্ষ্মী, মা বিষহরি, মা নাটাই চণ্ডী, বাবা ভোলানাথ, বম্মা, বিষ্ণু—হগগল দেব দেবীর নামে কিরা কাটতে আছি, পরের মাসের মামলার দিন সব মিটাইয়া দিমু—’

    কী ভেবে এবার আর হুঙ্কার ছাড়ল না নিশিকান্ত উকিল। অনেকক্ষণ তার মক্কেলের পা থেকে মাথা অবধি নিরীক্ষণ করল। তারপর খুব নরম গলায় বলল, ‘চৈতন পাল, একবার আমার কাছে আয়—’

    চৈতন অবাক।—’আমি তো কাছেই আছি—’

    ‘আরও কাছে—’

    ‘ক্যান কত্তা, আরও কাছে যামু ক্যান?’

    ‘তর লগে এট্টু কোলাকুলি করুম। আয়—

    হতভম্বের মতো এগিয়ে এল চৈতন। নিশিকান্ত উকিল বলল, ‘ক্যান এত কাছে ডাকলাম, কিছু বুঝলি?’

    আস্তে আস্তে মাথাটা ডাইনে—বাঁয়ে নাড়ল চৈতন পাল। তার মানে বোঝেনি।

    ‘এইবার বুঝবি। তর জামা কাপড়গুলান এট্টু ভালা কইরা দেখুম।’

    চৈতন এতক্ষণ সিঁটিয়ে ছিল। এবার একগাল হেসে বলল, ‘দ্যাখেন দ্যাহেন। আমার আপত্তি নাই।’

    নিশিকান্ত চৈতনের ফতুয়ার পকেটে হাত ঢুকিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজল কিন্তু চারটে পকেটে একটা সিকি—আধলাও পাওয়া গেল না। সব ফাঁকা। সে জানে তার মক্কেলটি সোজা সরল ব্যক্তি নন, অতি ধুরন্ধর। নিশিকান্ত তার বুকে চাপড় মেরে মেরে বুঝতে চেষ্টা করল, জামার ভেতর লুকোনো টাকার থলি টলি আছে কিনা। না, নেই। তার হাত এবার একই কায়দায় সারা পেটে তল্লাশি চালাল। না, সেখানেও কোনও কিছুর হদিস পাওয়া গেল না।

    রন্টুর খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। চোখদুটো গোলাকার করে সে উকিল আর মক্কেলের কাণ্ডকারখানা দেখছিল। লক্ষ করল, নিশিকান্তর মুখচোখ রাগে গন গন করছে কিন্তু চৈতন্যের মুখে সেই হাসিটি লেগেই আছে।

    নিশিকান্ত সহজে ছাড়ার পাত্র নয়। তার হাত এবার মক্কেলের তলপেটে নেমে এল।

    চৈতন আঁতকে উঠল, ‘করেন কী উকিল কত্তা, করেন কী! আর নীচে নাইমেন না।’

    হুঁশ ফিরে এল নিশিকান্তর। সত্যিই তো, আরও নীচে হাত নামালে সেটা ভীষণ বিশ্রী ব্যাপার হবে। অগত্যা ক্ষান্ত দিতে হল। তবে আশা ছাড়ল না উকিলবাবু, দুই হাত বুকের ওপর আড়াআড়ি করে রেখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বলল, ‘পিছন ফিরা খাড়া—’

    আদেশ পালিত হল। পেছন ফিরে দাঁড়াল চৈতন। নিশিকান্ত বুক—পিঠের মতো তার সারা পিঠেও হাত চালাল। না, গুপ্তধন সেখানেও নেই।

    ওদিকে ইছামতীর গয়নার নৌকোর ঘাট থেকে মাঝিরা চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেছে, ‘যেনারা যেনারা চরবেগুলা, চরলখিন্দর, চরইসমাইল, চরবাসন্তীতে যাইবেন, চইলা আহেন, আহেন। নাও অহনই ছাইড়া দিব। আহেন আহেন—’

    চৈতন ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সে রীতিমতো চঞ্চল হয়ে উঠেছে। বলল, ‘উকিলকত্তা, খুজাখুজি তো মেলা করলেন। চরের নাও ছাইড়া দিলে পরের নাও—এর লেইগা আমারে গঞ্জে তিন—চাইর ঘণ্টা বইয়া থাকতে হইব। হুকুম করেন, আমি চইলা যাই। চিন্তা নাই, আপনের ট্যাকা মাইর যাইব না। কড়ায় গণ্ডায় মিডাইয়া দিমু। অ্যালা যাই কত্তা?’

    এত করেও কিছু মিলল না। নিশিকান্ত উকিল হতাশ হয়ে পড়েছে। চিরতা—গেলা মতো মুখ করে বিরস গলায় বলল, ‘যা তাইলে—’ সে একেবারে হাল ছেড়ে দিয়েছে।

    রণ্টু বুঝতে পেরেছে চৈতন পাল ইছামতীর কোনও একটা চরে থাকে।

    চৈতন বলল, ‘পন্নাম উকিলকত্তা—’ বলেই লম্বা লম্বা পায়ে গয়নার নৌকোর ঘাটের দিকে হাঁটা দিল। বেশ খানিকটা দূরে চলে গেছে সে, আচমকা নিশিকান্ত উকিলের দুচোখে যেন ঝিলিক খেলে গেল। সামনের দিকে হাত বাড়িয়ে জোরে জোরে নাড়তে নাড়তে ডাকতে লাগল, ‘এই চৈতন, চৈতন, যাইস না, যাইস না—’

    চৈতন থমকে গেল। ঘুরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ডাকেন ক্যান কত্তা?’

    ‘একহান কথা শুইনা যা—’

    ‘নাও ছাইড়া দিব।’

    ‘ছাড়ব না। মাঝিরা আধাঘণ্টা চিল্লাচিল্লির পর নাও ছাড়ে। আমার কথাহান কইতে তিন মিনিটও লাগব না। আয়—আয়—’

    পায়ে পায়ে এগিয়ে এল চৈতন। বলল, ‘ক’ন উকিলকত্তা—’

    ‘আরেকবার পিছন ফিরা খাড়া দেহি।’

    ‘ক্যান কত্তা, ক্যান?’

    ‘যা কই তাই কর—’

    ধন্দ—ধরা মানুষের মতো একবার নিশিকান্তর দিকে তাকিয়ে পেছন ফিরল চৈতন।

    নিশিকান্ত বলল, ‘তর সারা গায়ে তালাশ করছি, খালি কাছাডা দেখা হয় নাই।’

    ‘না, না—’ গলা ফাটিয়ে চিক্কর ছেড়ে তিন—চারটে পাক খেয়ে ভিরমি খেতে খেতে কোনওরকমে সামলে নিল চৈতন।—কাছায় হাত দিয়েন না উকিলকত্তা, হাত দিয়েন না—’

    কে কার কথা শোনে। নিশিকান্ত ততক্ষণে চৈতনের কাছাটা টেনে খুলে হাতের মুঠোয় চেপে ধরেছে। মুহূর্তে সেটার ভেতর থেকে একটা ছোট কাপড়ের থলি বের করে বলল, ‘এইডা কী?’

    চৈতন চেঁচাতে লাগল, ‘খুইলেন না উকিলকত্তা, খুইলেন না। ওইডার ভিতরে কিছু নাই—’

    তার কথা কানেই তুলল না নিশিকান্ত সাহা রায়। মুহূর্তে থলির মুখটা খুলে তার ভেতর থেকে বের করে আনল ষষ্ঠ জর্জের ছবিওয়ালা আটটা রুপোর টাকা, কিছু সিকি, আধুলি, দু—আনি আর তামার পয়সা।

    তখন ইংরেজ রাজত্ব চলছে। সেই আমলে পূর্ব বাংলার গ্রামেগঞ্জে কাগজের নোট ক’টাই বা দেখা যেত! কাজ কারবার চলত রুপোর টাকা, সিকি আধুলি—টাধুলি দিয়ে।

    হাতের ভেতর টাকাগুলো নাচাতে নাচাতে নিশিকান্ত বলল, ‘কী রে চৈতন, তুই তো কইছিলি কিছু নাই, তাইলে এগুলি কী?’

    চৈতন হাহাকার করে উঠল, ‘নিয়েন না, নিয়েন না, আমি এক্কেরে পথে বইয়া যামু।’

    নিশিকান্ত উত্তর দিল না। দুই ঠোঁটের ফাঁকে হালকা একটু হাসি ফুটিয়ে টাকাগুলো কোটের পকেটে ঢুকিয়ে দিল।

    চৈতনের হাহাকার চলছেই।—’মইরা যামু কত্তা, এক্কেরে মইরাই যামু—’

    নিশিকান্তকে গলানো গেল না। বলল, ‘নিজের বড় টেটন ভাবছিলি। কাছায় ট্যাকাপয়সার থইলা গুইজা পার পাইয়া যাবি, কেমুন? ঘুঘু দেখছ, ফান্দ দেখো নাই, তুমি যাও ডাইলে ডাইলে, আমি যাই পাতায় পাতায়। যা ভাগ—’

    চৈতনের নড়ার লক্ষণ নেই।

    গয়নার নৌকোর মাঝিদের হাঁকাহাঁকি চলছেই। নিশিকান্ত বলল, ‘কী রে, অহনও খাড়াইয়া অছিস যে!’ নাও তো ছাইড়া দিব।’

    বারকয়েক ঢোঁক গিলে চৈতন কাঁদো কাঁদো মুখে বলল, ‘উকিলকত্তা, আপনে তো আমার সব্বস্ব কাইড়া নিলেন। চরে ফিরুম কেমনে? এউক্কা পয়সাও তো নাই। নাও ভাড়া দিমু কই থিকা?’

    নিশিকান্ত উকিলের হয়তো একটু করুণাই হল। পকেট থেকে একটা সিকি (এখনকার পঁচিশ পয়সা) বের করে ছুড়ে দিল। সেটা কুড়িয়ে নিয়ে ধুঁকতে ধুঁকতে গয়নার নৌকোর ঘাটটার দিকে চলে গেল চৈতন।

    আর নিশিকান্ত সাহা রায় এবার রন্টুর দিকে তাকিয়ে ভুরু নাচাতে নাচাতে জিজ্ঞেস করল, ‘নাতিবাবু, কিছু বুঝলা?’

    মিটিমিটি হাসতে হাসতে রন্টু বলল, ‘সবই বুঝেছি। খুব ভালো একটা ম্যাজিক দেখালেন।’

    দাঁত বের করে হাসতে লাগল নিশিকান্ত উকিল।

    __

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাগল মামার চার ছেলে – প্রফুল্ল রায়
    Next Article সিন্ধুপারের পাখি – প্রফুল্ল রায়

    Related Articles

    প্রফুল্ল রায়

    আলোর ময়ুর – উপন্যাস – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    কেয়াপাতার নৌকো – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    শতধারায় বয়ে যায় – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    উত্তাল সময়ের ইতিকথা – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    গহনগোপন – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    নিজেই নায়ক – প্রফুল্ল রায়ভ

    September 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }