Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শক্তিপদ রাজগুরু সাহিত্যের সেরা গল্প

    শক্তিপদ রাজগুরু এক পাতা গল্প234 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মানুষের পৃথিবী

    রুক্ষ পাথুরে মাটি, ট্যাংনার কোপ পড়ে পাথরে, আগুনের ফুলকি ওঠে, ধাতব শব্দ ওঠে মাটির বুক থেকে। গদাধর তবু থামে না। গজ গজ করে।

    —শালা পাথরের নিকুচি করেছি। পাথরগুলো বেছে ফেলে দে নিতে আর বৌ কোদাল নিয়ে মাটিগুলো চারিয়ে যা তুই আর রূপসী দুজনে।

    চড়চড়ে রোদে ক’টি প্রাণী ওই নির্জন বন্ধুর প্রান্তরে এই রোদের মধ্যেও কাজ করে চলেছে। কাজ নয়, ওরা যেন লড়াই-ই করছে এই কঠিন পরিবেশে, বাঁচার লড়াইই। এই শক্ত পাথুরে অহল্যা মাটিতে ওই ক’টি প্রাণী বাঁচার লড়াই করছে। হাসিল করছে এই রুক্ষ মাটিকে। একেই তারা ফলবতী করে তুলবে। এইখানেই তাদের বাঁচার রসদ সংগ্রহ করতে হবে। বন পাহাড় ঘেরা ছোট একটা উপত্যকাই চারিদিকে ন্যাড়া পাহাড়। আশপাশে কিছু শাল, মহুয়া কেঁদ গাছ রয়ে গেছে। রয়েছে কিছু আটালি লতা-ল্যান্টার্ন, লতাপলাশের ঝোপ, ওই রুক্ষতার বুকে একটা ঝোরায় সামান্য জল বয়ে চলেছে। কাচধার জল, পাথরে পাথরে ঘা খেয়ে নেচে চলেছে চঞ্চলা দুরন্ত একটি কিশোরীর মত ওই উপত্যকার বুক চিরে। গ্রামবসত এদিকে বড় একটা নেই, বসতি যা আছে তা পাহাড়ের ওদিকে, ওদিকেই চলে গেছে একটা রাস্তা, দিনান্তে কয়েকখান বাস, মাঝে মাঝে দু’একটা মাল বোঝাই ট্রাকও ছুটে যায়, সভ্যজগতের সঙ্গে এইটুকুই যোগসূত্র।

    এই পথ ধরেই একদিন গদাধর নস্করও এসেছিল এই ফুলপাহাড়ীর ডুংরীতে সপরিবারে, তার গ্রামের মাটি থেকে বিতাড়িত হয়ে। সঙ্গে তার স্ত্রী কুসুম, মেয়ে রূপসী আর ছেলে নিতাই। আজও গদাই সেই দিনগুলোর কথা ভোলেনি। এই রুক্ষ মাটির বুকে ট্যাংনা কোদাল চালিয়ে কিছু জমিকে আল দিয়ে হাসিল করেছে তারা দিন পনের অক্লান্ত পরিশ্রম করে। ওই ঝোরাটাকে উপরের দিকে পাথর নুড়ি মাটি দিয়ে কিছু বাঁধের মত করে আটকে ওই ঝোরার জলের কিছুটা ঢালু পাহাড়ী পথ বেয়ে তাদের জমিতে এনে ফেলেছে। ওই প্রবহমান জলধারার সোহাগে তাদের রুক্ষ জমিগুলোও ক’দিন বেশ নরম সরস হয়ে উঠেছে। এসেছে নতুন প্রাণের সম্ভাবনা। ভিজে মাটিতে একটা মিষ্টি সুবাস ওঠে।

    ওদিকে রুক্ষতার মাঝে একটা পিপুল আর কয়েকটা শাল কেঁদ গাছ এখনও টিকে আছে পাহাড়ির গায়ে। ওখানটা একটু ছায়াশীতল। ওই গাছগুলোর আশপাশেই গদাধর পাথর মাটির দেওয়াল দিয়ে ওদিকে গ্রাম থেকে তালপাতা এনে ছাউনি দিয়ে ঘরও বানিয়েছে। ঘর নয় মাথা গোজার মত ঠাঁই। গদাই বলে—এই ঘরেই থাকতে হবে এখন। তারপর যদি দিন বদলায় তখন ঘরই করব রে বৌ। কুসুম চেয়ে থাকে এই রুক্ষ পর্বতসানুর ওই বিচিত্র আশ্রয়ের দিকে। মনে পড়ে তাদের নিজের ঘরের কথা। সেই জগতের কথা।

    ছোট্ট সবুজ ধানমাঠ গাছ-গাছালি ঘেরা তার ফেলে আসা সেই নশীপুরের কথা। কুসুম বলে—ঘর ভগবানের দয়ায় এটুকু তবু মিলেছে। গদাইও জানে ওই কথার অর্থ, গদাই বলে—সাতপুরুষের ভিটেই তো তোর ভগবান কেড়ে নিয়েছেরে, সব হারিয়ে পথে-পথে ছেলেমেয়ের হাত ধরে ঘুরেছি কতদিন পথের কুকুরের মত, তবু এখানে এসে কিছু তো পেয়েছি রে। দেখি তোর ভগবান এখানেই ক’দিন অন্ন মাপে। সবই তো কেড়ে নিলেন ওই ভগবান।

    সেই দুঃখটাকে আজও ভুলতে পারেনি গদাই। নশীপুরে তার বাপ পিতেমর ভিটেতে শান্তিতেই ছিল। মাাটির কোঠা বাড়ি পাঁচিল ঘেরা বাড়িটার উঠানে একটা আম, নারকেল গাছও কটা ছিল। পাতকুয়োর জলে সেচ দিয়ে বড় উঠানে কুসুম নিজেই শাক, লাউ পেঁপে কুমড়ো এসবের চাষ করত। লাউমাচায় ঝুলত অসংখ্য লাউ; গদাইও তার বিঘে কয়েক জমিতে চাষ করত আর ভুবন দত্তের কাছে বিঘে পাঁচেক জমি নিয়ে ভাগচাষ করত। সরেস জমি, বর্ষার প্রথম দিকেই ধান পুঁতত, আবার গ্রীষ্মেও কিছু জমিতে বোরো ধান হতো, এছাড়া সরষে, আলু, পিঁয়াজ এসবও করত।

    কুসুম আর গদাই-এর সংসারে এল প্রথমে মেয়ে, সুন্দর চেহারা। কুসুমের রূপ যৌবন ছিল দেখার মত।

    গদাই বলত—এই মাটির ঘরে তুকে মানায় না বৌ! কুসুম গদাই-এর বাহুবন্ধনে নিজেকে সঁপে দিয়ে বলত।

    —তালে পাকা দালানই বানাও?

    গদাই বলে—দিন দেয় তো তাও হবেক রে। ভুবনবাবু বলেছে আর বিঘে পাঁচেক সরেস জমি ভাগে দিবেক আর নেতাইকেও ইস্কুলে পাঠাব। পড়াশোনা করে ছেলে লায়েক হলে তখন দালান দিবই।

    —রূপসীর বিয়ে দিতে হবেক নাই? পাকা গৃহিণীর মত প্রশ্ন করে কুসুম। গদাই দিনের শেষে মাঠের কাজ সেরে ফিরে এবার দাওয়ায় হুঁকো নিয়ে বসে আরাম করে হুঁকো খেতে খেতে বলে,

    —হবেক, হবেক? রূপসী বড় হোক, তারপর সব হবেক, উর আমি খুব ভাল ছেইলার সাথে বিহা দিব রে!

    সেবার বর্ষাও তেমন ভাল হয়নি।

    আকাশে আসে কালো মেঘের দল। ছায়া নামে বাঁশবন আমবাগানে, মাঠে বীজধানগুলো লকলকিয়ে উঠেছে, ওদের এবার চাষ করা জমিতে পুঁততে হবে। আষাঢ়ের বর্ষার জলে ওরা লকলক করে বাড়বে, গোছ বাঁধাবে, আসবে আগামী ফসলের সম্ভাবনা।

    কিন্তু সেই মেঘের দল ঝড়ো হাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দু’এক পশলা বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে, আবার থেমে যায়, মাঠের বুকে জলও জমেনা। পাখনা দেবার মত জল নেই জমিতে, ধান চারা পুঁতবে কোথায়?

    আকাশ থেকে কালো বাদল মেঘের দলও কোথায় হারিয়ে গেছে চাষ আবাদও তেমন হয় না। কুসুম ঠাকুরমন্দিরে প্রণাম করতে যায় রোজ। ভক্তিভরে প্রণাম করে, হরিতলায় গোবরা মাডুলী দেয়। গদাধর বলে,

    —তোর ভগমান ইবার গেল কুথাকে রে? চাষ বাস নাই—ঘরে ঠায় বসে আছি। জল বৃষ্টি দিতে বল।

    কুসুম বলে—তার ইচ্ছা হলেই বৃষ্টিও হবেক।

    —ছাই হবেক। ইবার না খেয়ে মরতে হবেক। গদাই গজগজ করে।

    কথাটা তার একেবারে মিথ্যা হয় না। সেবার ওই অঞ্চলে বৃষ্টিও তেমন হয়নি। বেশির ভাগ মাঠই অনাবাদী পড়ে থাকে। দু’দশ বিঘে শোল জমিতে কিছু ধান হয়, তাও সামান্যই। এবার সাধারণ মানুষ বিপদেই পড়ে। পৌষ মাস পূর্ণতার নয়, এবার শূন্যতার মাস। তবু কারও সর্বনাশ, কারও পৌষ মাস।

    নিশিকান্তবাবু গ্রামের মধ্যে সঙ্গতিপন্ন লোক। ইদানীং কবারই তিনি নানা কৌশলে ভোটে জিতে পঞ্চায়েতের প্রধান হয়েছেন। তার জমি জমাও কম নয়, ক’বছরেই আরও অনেক জমি তার হাতে এসেছে। এখন জিপ নিয়ে ঘোরেন, শহরেও কি সব ব্যবসাপত্র চালু করেছেন। গ্রামেও তখন তার খুব রমরমা। এই অজন্মার বছরে এবার নিশিকান্ত সরকারী রিলিফ দেবার ব্যবস্থাও করেছেন। নিজেরই পুকুর কাটাচ্ছেন সরকারী পয়সায়, গম আর টাকা দিয়েছে সরকার, নিশিকান্ত যেন দয়া করে ওই বেচারাদের কাজ দিচ্ছেন।

    গদাই-এর ধানের দরকার। নিশিকান্তের গোলা ভরা ধান—এদের ঘরশূন্য। সেদিন নিশিকান্ত দেখে এসেছে গদাই-এর বৌ কুসুম তার বাড়িতে ক্ষেতের ফসল, মাঠে ধানের হিসাব নিয়ে আসে। গদাই হিসাবপত্র তেমন বোঝেনা। ও খাটতে পারে গাধার মত। সংসার চালায় কুসুমই। সেইই মাঝে মাঝে আসে এ বাড়িতে। গদাই চুপ করে থাকে—কথা বলে কুসুমই।

    নিশিকান্ত দেখেছেন মেয়েটাকে। এখনও ওর দেহে টান টান যৌবনের মত্ততা। নিটোল মসৃণ হাত। চোখ দুটোয় কি যেন গহীন রহস্য লুকানো। নিশিকান্তের মনে ঝড় ওঠে। টাকার অভাব তার নেই, এখন সে চায় অন্য কিছু। শহরের উপকণ্ঠে ধানকল রয়েছে, তারই এক দিকে একটা সৌখীন বাংলোও করেছে। বেশ নিরিবিলি ঠাঁই। নিশিকান্ত সেখানে মাঝে মাঝে থাকে—মেয়েদের প্রতি একটা দুর্বার আকর্ষণ তার আছে। আর সেটা কেন্দ্রীভূত হয় ওই কুসুমকে দেখেই, তার মনের অতলে ঝড় ওঠে।

    কুসুমের সংসারে এখন টানাটানি চলেছে, এবার ধান তেমন হয়নি। কিন্তু নিশিকান্ত গদাইকে বলে ধান হয়নি মানে? আমারও জমি আকাল, আকালেও ধান হয়, সব তুই গিলেছিস, এখন ‘না’ বললে হবে? বের কর ধান।

    গদাই জবাব দিতে পারেনি, বোঝাতেও পারেনি যে ধান এবার তেমন হয়নি, গা বেয়ে বৃষ্টির জল, কোতরায় বৃষ্টি না হলে ধান তেমন হয় না। তাই কুসুমকেই পাঠায় সে—তুই বলগে দত্ত মাশায়কে।

    তাই কুসুম এসেছে নিশিকান্তর কাছে। দুপুরের দিকে লোকজন কম থাকে, নিশিকান্ত একাই বৈঠকখানায় বসে আছে—একঝলক আসার মত কুসুমকে দেখে চাইল। কেমন যেন ঘোর লাগে নিশিকান্তর।

    কুসুম বলে—ধান ইবার হয়নি দত্ত মশায়। নিজেরাই উপোস দিছি।

    দত্ত মশায় বলে—তাই নাকি রে, গদাই তো কিছু বলেনি।

    স্তব্ধ দুপুর, একটা ঘু ঘু কোথায় উদাস সুরে ডেকে চলেছে, হাওয়া কাঁপে বাঁশবনে, নিশিকান্ত কিছু টাকা বের করে বলে,

    —নিয়ে যা টাকাটা, আর কাল এসে খোরাকি ধান নিয়ে যাবি মণ দশেক। গদাইকে আসতে বলবি।

    গদাই কুসুমের পথ চেয়েছিল। কে জানে দত্তমশায় আবার কি বলে, কুসুম ফিরে এসে সব জানাতে গদাই বলে,

    —বুঝলি দত্তমশাই মানুষ লয়রে, দেবতা। আকালের বছর ধান টাকা তো দিল, কালই যাব ওনার কাছে।

    নিশিকান্ত জানত গদাই আসবে, সেও এর মধ্যে কাগজপত্রও তৈরি করিয়ে রাখে পঞ্চায়েতের কেরাণী হরিপদকে দিয়ে, হরিপদ এসব কাজে খুবই পটু, তার নিষ্ঠায় কোন ফাঁকফোকর থাকে না।

    গদাই আসতে নিশিকান্ত বলে—তুই এক নম্বর গাড়োল। ঘরে খোরাকি নেই বৌ বাচ্চার খাবার নেই, বলবি তো। তোদের জন্য এত ভাবি আর তোরা পর ভাবিস আমাকে? নে, দুশো টাকা রাখ—আর এখানে টিপ ছাপ দে। সরকারী টাকা তো রসিদ লাগবে তাই গদাধরও টিপছাপ দিয়ে দেয় সেই কাগজে নিশ্চিন্ত মনেই।

    কুসুম আসে, ধান ত নিয়ে যায় খুশি মনে, তবু ছেলেমেয়েকে খাবার দিতে পারব এই অজন্মার বছরে।

    গ্রামে গ্রামে নামে অভাবের করাল ছায়া, অনেকেই গ্রাম ছেড়ে শহরে চলেছে রুজি রুটির সন্ধানে, গদাই বলে,

    —আমাদের ত যেতে হত রে, দত্ত মশাই বাঁচিয়েছেন।

    কুসুমের তবু কেমন ভাল লাগে না। পাড়ার অনেকেই চলে গেছে। তাদের চালাঘরগুলো পড়ে অছে। জনমানব নেই। রাতের অন্ধকারে শিয়ালগুলো ঘোরে শূন্য ভিটেতে। কুসুমের চোখে ভেসে ওঠে অকারণেই নিশিকান্তর সেই নীলাভ চাহনি, সেই চাহনি যেন ফুটে ওঠে ওই শিয়ালগুলোর চোখে।

    সেদিন গদাই গেছে মাঠে, যোড়ের জল সেঁচে কিছু আনাজপত্র করেছে সেগুলোতে জল দিতে হবে। রূপসী নেত্যও গেছে বাবার সঙ্গে, তারাও জল দেবে। কুসুম একাই রয়েছে বাড়িতে। আশপাশের ঘরগুলোও শূন্য, কেদারদা, ভূষণকাকা নীপুরা সবাই চলে গেছে শহরে কাজের সন্ধানে।

    হঠাৎ নিশিকান্তকে ঢুকতে দেখে চাইল কুসুম। নিশিকান্ত বলে—এদিকে যাচ্ছিলাম, ভাবলাম দেখেই যাই তোমাদের। সারা পাড়া যে খাঁ খাঁ করছে রে।

    কুসুম বলে, কাজের সন্ধানে শহরে গেছে সব্বাই।

    নিশিকান্ত এদিকে ওদিকে চেয়ে বলে গদাইকে দেখছি না।

    ও যোড়ধারে গেছে জলসিয়াত করতে, কুসুম জানায়।

    নিশিকান্ত এবার নিজেই একটা মোড়া দেখে টেনে নিয়ে বসে বলে,

    —তা ভাল আছ তো কুসুম। তোমার কথা প্রায়ই মনে হয়। তা এখানে এ ভাবে না থেকে তুমি চল না আমার শহরে ধানকলে, কাজ তেমন কিছুই না। মেয়ে কামিনদের হাজিরা রাখবে, ওদের কাজ করাবে। থাকার জায়গা পাবে, খোরাকিও পাবে আর দশ টাকা রোজ। তুমি পারবে এসব কাজ।

    রাজী থাকলে বল—হপ্তায় একদিন ছুটি পাবে। বাড়ি আসবে। তারপর চাষ বাস শুরু হলে গাঁয়ে চলে আসবে।

    কুসুম চুপ করে থাকে, নিশিকান্ত বলে—কথাটা ভেবে দেখ, তোমার জন্য না হয় পনের টাকা রোজই দোব, যেতে চাও কাল খবর দিও গদিতে। আমি যাব আমার সঙ্গেই না হয় যাবে। বাসের হাঙ্গামা থাকবে না।

    কুসুম দেখছে লোকটাকে। কেমন ওই রাতের শিয়ালগুলোর মতই লোভী চাহনি ওর চোখে কেমন ভয় ভয় করে। আবার ও চাকরীর কথাটাও মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারে না। গদাই আসতেই কথাটা বলে গদাইকে। গদাইও ভাবছে কথাটা। বলে,

    —কি করবি বৌ?

    কুসুম ভেবেই রেখেছে, সে বলে—না উখানে চাকরি করব নাই।

    কুসুম এর মধ্যে শুনেছে নিশিকান্তের চাকরী দেবার কথা। নামোপাড়ার সৌরভী, বিশু খয়রার বৌ হেমাকেও নিয়েছেন নিশিকান্ত। তারা আর কেউ ঘরে ফেরেনি। ধানকলেও আর কাজ তাদের নেই, কেষ্ট বলে—উরা এখন শহরের খারাপ পাড়াতেই পড়ে আছে। ইখানে ফেরার মুখতো নেই। ওই নরকপুরীতেই মরবেক নষ্টা মেয়েগুলান।

    কুসুম ওইভাবে অন্ধকারে হারিয়ে যেতে চায়না। বলে সে,

    —না, উ চাকরী করব নাই গ! উখানে যেতে বলোনী। না খেতে পাই তবু ইমাটিতেই পড়ে থাকব।

    কিন্তু নিশিকান্ত হাল ছাড়েনি। একবার এখান থেকে নিয়ে যেতে পারলে সে কুসুমের সর্বনাশ করে ওই নরকেই পাঠাবে। ইদানীং নিশিবাবু শহরের দু’একজনের সঙ্গে এই অন্ধকারে নারী বসতির কারবারেও নেমেছে।

    কিন্তু কুসুম কেন, এবার গদাইও বলে

    —উ কাজ করতে যাবেক নাই বাবু।

    নিশিকান্ত গদাই এর দিকে চাইল। বলে— তোদের ভালর জন্যেই বল্লাম। না যাস—যাবি না। তবে হ্যাঁ আমার ধান টাকা মায় সুদ এবার ফেরৎ দিতে হবে।

    চমকে ওঠে গদাই। কুসুমও। বাধা পেতেই নিশিকান্ত যেন বদলে গেছে।

    গদাই বলে—ধান না উঠলে দোব কোথা থেকে বাবু?

    নিশিকান্ত বলে—সে তুই বুঝবি। কালই আসবি কাছারিতে।

    এবার গদাই প্রমাদ গণে। বলে,

    —কি হবেক রে বৌ?

    কুসুমও তা জানে না। বলে টাকা দেবে কোথা থেকে এখন?

    —তাই তো ভাবছি। গদাইও কোন পথ পায় না।

    এবার নিশিকান্ত বুঝেছে কুসুম তার হাতে আসবে না। যত সহজে কাজ হয়েছিল, এক্ষেত্রে তা হবে না বলেই মনে হয়। তাই সেও এবার অন্যপথই ধরবে। গদাই আসতে এবার নিশিকান্ত সেই কাগজ বের করে বলে তোর পাঁচ বিঘে জমিই বন্ধক রেখেছিলি। দেনা দিতে না পারলে ও জমি আমারই হয়ে যাবে। ও জমি আর তুই চাষ করবি না—আমি দখল নিলাম।

    আর্তনাদ করে ওঠে গদাই— তিনশো টাকা আর পাঁচ মন ধান দে পাঁচ বিঘে জমির দখল নেবে? ই ক্যামন কথা গ?

    কেরাণী হরিপদই বলে— কি বলছিস রে? এ্যা—তিনহাজার টাকা নগদ আর পঁচিশমন ধান নিলি আর এখন ছাপ মিছে কথা বলছিস? কাগজে যা লেখা আছে আজও তাতো মানবি? গর্জে ওঠে গদাই, ওসব মিছে কথা। তুমাদের জোচ্চুরি, তুমরা সবাই জোচ্চোর চোর।

    —কি বললি? নিশিকান্ত গর্জে ওঠে যতবড় মুখ নয় তত বড় কথা।

    বিপদের সময় দিলাম দয়া করে, এখন বলে কিনা জোচ্চোর? নিশিকান্ত ওকে সপাটে একটা চড় মারতে ছিটকে পড়ে গদাই। চেয়ারের হাতলে লেগে কপালটাই কেটে যায়, রক্ত পড়তে থাকে।

    গর্জাচ্ছে নিশিকান্ত—শেষ করে দোব ব্যাটাকে।

    গদাইও গর্জে ওঠে শ্যাষ করবেক? মিথ্যে দেনার দায়ে সব কেড়ে নেবা আইন নাই? এর বিচার হবেক নাই?

    বের হয়ে যায় গদাই। থানা পাশের গ্রামেই। রক্তাক্ত অবস্থাতেই সে থানাতেই যায়। এর বিহিত সে করবেই। দু’চারজন কৌতূহলী লোকও জুটে গেছে। কে বলে বাড়ি যা গদা, গদাই এত সহজে থামবে না। সে থানাতেই এসেছে বিচারের আশায়। দারোগাবাবু বলেন সব শুনে দলিল করেছিস। টাকা ধান নিলি ফেরৎ দিবি না? আইন মানবি না? উল্টে নালিশ করতে এসেছিস? ওই নিশিবাবুই মেরেছে না আর কোথাও মারামারি করে নিশিবাবুর নামে দোষ দিতে এসেছিস রে?

    গদাই অবাক। বলে সে—উ মিছে কাগজ। এত টাকা, ধান লিইনি। দারোগাবাবু বলে—কাগজে যা লেখা আছে তাই মানতে হবে। আর নিশিবাবু তোকে মেরেছেন কোন সাক্ষী আছে?

    গদাই এবার বোবা। সত্য ঘটনাকে এরা মানবে না। সাক্ষীও দেবে না কেউ। দারোগাবাবু কোন জরুরী কাজে বের হয়ে যায়। মেজবাবু বলে—যাতো এখন! সাক্ষী টাক্ষী আনগে। গদাই ফিরে আসে। অবশ্য তার আগেই থানার বড়বাবুই নিজে গিয়ে খবরটা দেয় নিশিবাবুকেই। জানায়—ওকে তাড়িয়ে দিইছি। তবুও নিশিকান্ত গর্জে ওঠে, থানায় যায় ব্যাটা, এত বড় হিম্মৎ। পদা, কালই ওর সব জমিতে লাঙল দিয়ে দখল নে। বাধা দিতে এলে ঠ্যাং ভেঙে দিবি ওর।

    গদাই এর পর কি করবে জানে না। কুসুমও অবাক হয়।

    —এত টাকা ধান কবে নিলাম গো?

    গদাই বলে—কাগজে তো টেক লিখেছে, এখন কি হবেক?

    ওদের ভাবনার কূল তল নেই।

    এমনি সময় নিত্য এসে খবর দেয়—বাবা, আমাদের জমিতে দত্তবাবুর কিরষাণ পদ খুড়ো লাঙল দিচ্ছে। বোড়ধারের জমির সব শশা-ঝিঙে রামঝিখের গাছগুলান তুলে ফেলাইছে—সে কি? সদাই ছুটলো, পিছনে কুসুম রূপসীও। নেত্য বাবার সঙ্গে দৌড়চ্ছে। কিন্তু গদাই দেখে মাঠের আগে চারপাঁচ জন লাঠিয়ালও মজুত। পদা খান দুয়েক লাঙল নামিয়ে তারই জমিতে চাষ দিচ্ছে। গর্জে ওঠে গদাই—খবরদার, পদা উঠে আয় জমি থেকে।

    পদা বলে—কোটে যা। নিশিবাবু এসব জমির দখল নেছে। মাঠে নামবিনা।

    গদাই দেখে দুজন লাঠিয়াল তাকে ঘিরে ফেলেছে। কুসুমও এসে পড়ে। সেই বলে—সরে এস। ভগবান ইয়ার বিচার করবেক। কান্নায় ভেঙে পড়ে কুসুম।

    আজ বেশ বুঝেছে কুসুম, ওই লোভী শয়তান তাদের সবই কেড়ে নিতে চায়। জমিজমা গেছে কেড়ে নিয়েছে মুখের গ্রাস। এবার বাঁচাই তাদের কাছে সমস্যা হয়ে উঠেছে। গদাই বলে,

    —এতকাল দিনে রাতে ভগমানকে ডেকেছিস। ইবার দ্যাখ তুর ভগবান কি বলে? গরীরের ভগমানও নাইরে। নাহলে ইয়ার বিচার হয় না। কুসুম চুপ করে থাকে। জানে না কি করে চলবে তাদের দিন। নেত্য রূপসীও বুঝেছে এবার তাদের সামনে অন্ধকারই নামছে।

    রাতে ঘুমিয়ে পড়েছে কখন গদাই জানেনা। হঠাৎ ঘুম ভাঙে চারিদিকে আগুন— হকচকিয়ে যায় সে, কুসুমও উঠে পড়ে। গোয়ালের চালায় গরুগুলো বিকট চিৎকার করছে। চিৎকার করে গদাই—আগুন আগুন!

    পাড়াপড়শীও বিশেষ নেই। তারা আগেই চলে গেছে শহরে রুজি রুটির সন্ধানে। সাহায্য করারও কেউ নেই। কোনমতে ওই বেড়া আগুন থেকে রূপসী নেত্যকে নিয়ে বাইরে আসে। দেখে রাতের অন্ধকারে তাদের ঘরটা জ্বলছে। গরু দুটো দড়ি ছিঁড়ে আতঙ্কে কোনদিকে পালিয়েছে।

    …পিঠ গা পুড়ে যাচ্ছে গদাই, কুসুমের। এই রোদের তীব্র উত্তাপের স্পর্শে ওদের মনে পড়ে সেই ঘর পোড়ার রাত্রির কথা। সে এক দুঃস্বপ্নের রাত্রি। সব হারানোর রাত্রি। মানুষের আশ্রয় হারানোর মত যন্ত্রণা আর নেই।

    সেই যন্ত্রণাকে তিলে তিলে অনুভব করেছে তারা। সব হারিয়ে সেদিন গ্রাম ছেড়ে অজানার সন্ধানে বের হয়ে বহু ঘাট পার হয়ে বানে ভাসা খড়কুটোর মত এই নির্জন উপত্যকায় এসে আশ্রয় নিয়েছিল।

    এখানেই ঘর বেঁধেছে এই অচেনা অজানা পরিবেশে। সমতল সবুজের ছোঁয়া নেই এখানে। কুসুম বলে—ওই নীচু জমি দুটোতে ধান হবেক, জলও কাছেই আর উপরে জমিতে মকাই দাও। ইখানে ওটারই চাষ বেশি দেখছি। এর মধ্যে ওরা বাড়ির আশপাশের কিছু জায়গায় পাথর ফেলে দিয়ে সেখানে আলু, বেগুন, কুমড়ো, শাক লাগিয়েছে। অহল্যা মৃত্তিকা ছিল প্রাণরসে ভরপুর। সেই মাটিতে ফসল হয়েছে চমৎকার। মৃত্তিকা যেন ব্যগ্র হয়ে থাকে মানুষের হাতের স্পর্শের জন্য, সেটা পেলেই সে ফলবতী হয়ে ওঠে।

    রূপসী, নেত্য ঘর তাদের গ্রাম, খেলার সাথীদের ছেড়ে এসে কেমন নিঃসঙ্গ হয়ে উঠেছিল। এখানে গ্রামের সেই কলরব নেই। তারা মাত্র দু’জনেই ঘোরে ওই বনে, ঝর্ণার ধারে। স্তব্ধ চারিদিক। ওঠে ঝোরার ঝর ঝর সুর, পাখীদের ডাক। একটা কুকুরও এসে জুটেছে দূরের গ্রাম থেকে।

    এখানে সেও আশ্রয় পায়। নেত্য ওর নাম রেখেছে কালি। মিশকালো রং-এর বেশ তাগড়া একটা কুকুর। রূপসী নেত্য ক্রমশ মাঠের কাজের ফাঁকে পাহাড়ের এদিক ওদিকেও ঘোরে। নেত্য সেদিন বাবার সঙ্গে পাহাড়ের ওদিকের কোন গ্রামে হাটেও গেছলো তাদের ক্ষেতের বেগুন টম্যাটো কুমড়ো নিয়ে।

    নেত্য দেখে গ্রামটাকে। দোকান পাশারও রয়েছে। হাটে মাল বিক্রীর পর গদাই কিছু জিনিসপত্রও কেনে, নিত্য একটাকার জিলাবীও কেনে। চারটে জিলাবী।

    রূপসী ক্রমশ বড় হচ্ছে। প্রকৃতির ঋতু বদলের পালা যেমন থামে না, দিনরাতের গতিও থামে না, তেমনি রূপসী এখন ছোট্ট থেকে একটি কিশোরীতে পরিণত হয়েছে। এই নির্জন পরিবেশেও তার বাড়বাড়ন্ত থেমে যায়নি।

    এই নির্জন পরিবেশেও বসন্ত আসে। গাছগাছালিতে আসে নতুন পাতা, শাল ফুলের গন্ধে মেশে ল্যাটানল—বনচাপার সুবাস পাখীদের কলরব ওঠে। রূপসী নেত্য বের হয়ে ঝোরার ধারের বনে, বনফুলের সন্ধানে। বনজামের চারাগাছে এসেছে ফুলের গুচ্ছ, বর্ষার সেই কালো মেঘের হানা নেই—নেই শীতের রুক্ষতা। এসেছে বসন্তের দিন।

    নেত্য বলে—গাঁয়ে যাবি দিদি। ওখানকার মন্দিরে খুব ধুমধাম করে দোল খেলা হয়।

    রূপসীর এই নির্জন নিঃসঙ্গতা ভাল লাগে না। সে দেখে পাখীগুলোকে। ওরা নীল আকাশে উড়ে যায় পাহাড় সীমা পার হয়ে কোন দূর দিগন্তে। ওর মনও তেমনি উধাও হতে চায়। ছোট এই পাহাড় ঘেরা উপত্যকায় তার মন বন্দী হয়ে থাকতে চায় না।

    কুসুম এই জীবনকেই মেনে নিয়েছে। কঠিন পরিশ্রমের জীবন। তবু এই পরিশ্রম তাদের ব্যর্থ হয়নি। ঊষর উপত্যকা মানুষের স্পর্শে এখন যেন বদলে গেছে। মকাই খেতে এখন সবুজ গাছে মকাই এসেছে। নীচু জমিতে ওরা অক্লান্ত পরিশ্রমে ধানও ফলিয়েছে। কোন ধান-এর শীষগুলো নুইয়ে পড়ে। গদাই-কুসুম নিজেরা বাঁকে করে ঝোরা থেকে জল এনে গাছগুলোকে আজ ফলবতী করে তুলেছে। ওই ফসলে ওদের ঘাম রক্ত মেশান।

    গদাই বলে—সামনের বার ঝোরায় আরও বড় বাঁধ দেব বৌ, জল তখন আপনিই ক্ষেতে আসবে। মকাই-অড়হর ক্ষেতে জল কিছু না হয় দোব। ধান ক্ষেতে জল দিতে হবে না। নতুন ফসল ওঠে। এ মাটির প্রথম ফসল। সোনা ধান দেশঘর হারিয়ে এই নতুন পরিবেশে এসে আবার বাঁচার আশ্বাস পায় তারা।

    গদাই বলে, চল, গ্রামের মন্দিরে পুজো দিতে যাব।

    এ যেন তাদের কাছে এক উৎসবই।

    গদাই কুসুম নেত্য রূপসী আসে পাহাড়ী পথ বেয়ে এদিকের জগতে। রূপসী দেখে এক নতুন পরিবেশ। গ্রামের হাটতলা সেদিন জমজমাট। কয়েকটা প্রাচীন শাল মহুয়া গাছের জটলা—ওদিকে দোকানপাট। গদাই-এর চেনা জানা দু’একজনও রয়েছে এখানে। হাটেই আলাপ।

    ওদিকে একটা সিনেমা হলও রয়েছে। রূপসী বলে—এখানে সিনেমাও আছে তাহলে?

    নেত্য বলে—বড় জায়গারে। ওদিকে ইস্কুল বাড়িও রয়েছে। বাবা বলেছে সামনের বছর থেকে ওই ইস্কুলে ভর্তি করে দেবে।

    মন্দিরে এসেছে কুসুম। সেই দেশ ছাড়ার পর কটা বছর যেন ভগবানকে ডাকতেই ভুলে গেছল সে। আজ মন্দিরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে দেবতার সামনে। পুজো দিচ্ছে পূজারী ঠাকুর, ঘণ্টা বাজে, কুসুম বলে,

    —সব হারিয়ে আবার তোমার চরণেই ফিরে এসেছি ঠাকুর।

    এবার শান্তি দাও, দুমুঠো অন্ন, একটু আশ্রয়, এর বেশি কিছু চাই না ঠাকুর। দয়া কর।

    রূপসী নেত্য দু’জনে ঘুরছে মন্দিরের আশপাশের দোকানে।

    ওদিকে হাটতলার ভিড় তখনও চলেছে। একটা তাঁবুর সামনে একজন তরুণ প্যান্ট আর সাদা শার্ট পরে মাইকে কি বলে চলেছে।

    রূপসী দাঁড়িয়ে পড়ে। তাঁবুর ভিতর কি সব খেলা চলেছে। এক টাকার টিকিট। সেই ছেলেটা তখন মাইকে কথা বলা বন্ধ করে কাগজের টুকরো খাচ্ছে আর সেই টুকরোগুলোকে লম্বা কাগজের নল করে বের করছে। মন্ত্রের জোরে তার টুপি থেকে রুমাল, মায় পায়রাও বের হয়। রূপসী বলে,

    —যাদুকর বুঝলি!

    নেত্যর পকেটে পয়সা নেই। তাহলে ঢুকে আরও যাদুর খেলা দেখতো। হতাশ হয়ে ফেরে। রূপসী বলে—পয়সা পেলে একদিন যাদু দেখতে আসব।

    দিনশেষে পড়ন্ত বেলায় আবার ঘরে ফেরা। একটা দিন রূপসীর মনে কি যেন উত্তেজনা আনে। পাহাড়ের ওদিকে আলো আনন্দ কলরব। ঘর বাড়ি, এদিকের উপত্যকায় স্তব্ধতার মাঝে জাগে পাখীর ডাক। অন্ধকার নামে পাহাড়ের গায়ে। এক নির্জন জগৎ। রূপসীর ভাল লাগে না।

    কুসুম এসে আজ সন্ধ্যাদীপ জ্বালে, শাঁখ বাজায়। তুলসী গাছটাও এখন সবুজ সজীব। কুসুম বলে ভগবান ঠিক মুখ তুলে চাইবেন দেখ। গদাই বিড়ি খাচ্ছে দাওয়ায় বসে। বলে সে—ভগমান! গরীবদের কুন ভগবান নাইরে।

    কুসুম বলে—উ কথা বলে না গো। তিনিই কেড়ে নেন। আবার দেনও তিনি। তবু পায়ের তলে মাটিতো আবার দিয়েছেন। এবার মকাই বিচেও ভাল পয়সাই পাবে। তারপর আবার ধান হবে। আর আনাজ বিচেও তো খর্চা চলছে।

    —দিনরাত খেটে তো মরছিস!

    গদাই-এর কথায় কুসুম বলে ইবার নেত্যকে ইস্কুলে পড়াব। আর অচেনা জায়গা তবু স্বজাতের ঘরে ছেলেও দ্যাখো, রূপসীর বিয়েও দিতে লাগবে।

    ঝর্ণার জলে রূপসী স্নান করতে আসে। জায়গাটা বেশ নির্জন। ঝর্ণার দুপাশে বুনো জমি, শাল গাছের জটলা। এখানে পাহাড়ের কোলে ঝর্ণার জল গ্রীষ্মেও থাকে বুক ভোর। গাছের ছায়া পড়ে, কাঁচধার জলে দেখা যায় মাছগুলো ঘুরছে। নেত্য মাঝে মাঝে ছিপ ফেলে এখানে পুঁটি, ট্যাংরা, আর মাছও ধরে। সেদিন মুখ বদলাতে পারে তারা। মাঝে মাঝে রূপসীও এখানে এসে বসে। একটা গাছের গুঁড়ি ভেঙে পড়ে আছে জমির ধারে। ওখানে বসে থাকে, কি এক নতুন জগতের স্বপ্ন দেখে রূপসী।

    আজও এসেছে স্নান করতে এখানে।

    বুক ভোর জলে স্রোতও থাকে। নির্জন এই অরণ্যে রূপসী মুক্ত প্রকৃতির মাঝে একা। নিজেকে দেখে বার বার; তার সদ্য উন্নত বুক, নিটোল দুটো পা— দেহের সোচ্চার রেখাগুলোকে নিজেই দেখে আর মনে হয় এ যেন কোন এক নতুন রূপসী যাকে সে চেনেনা। নতুন করে দেখছে।

    হঠাৎ একটা শব্দ শুনে সচকিত হয়ে চাইল। দেখে একটি তরুণ ওই ল্যান্টার্ন ঝোপের মধ্য থেকে তাকে দেখছে। দেখছে তার উন্মুক্ত উন্নত বুক, মসৃণ নাভিমূল— নিটোল জঙ্ঘা। অস্ফুট আর্তনাদ করে রূপসী ঝোরার জলে ডুবিয়ে নেয় নিজেকে ওর দৃষ্টির আড়াল করতে। নিজেকে জলে ডুবিয়ে ওই দিকে ভীত চকিত চাহনিতে চাইল। ছেলেটি এবার বের হয়ে আসে ঝোরার ধারে। বলে ভয় পেয়ে গেলে নাকি? আরে আমি বাঘ ভালুক নই। তুমি বুঝি নতুন এসেছ ওই যে ওদের বাড়িরই?

    কোনমতে ঘাড় নাড়ে রূপসী। নির্জন নিভৃতে একান্তে এমনি করে কোনও ছেলের সঙ্গে সে কথা বলেনি। ছেলেটিকে দেখে চিনতে পারে এবার। সেই তরুণ যাদুকর। ওকেই সেদিন হাটতলায় দেখেছিল। ছেলেটি বলে,

    —এদিকে এসে পড়েছিলাম ঘুরতে ঘুরতে। যাক দেখা হয়ে গেল তোমার সঙ্গে।

    রূপসী এর মধ্যে উঠে পড়েছে জল থেকে। তার নিটোল সদ্যযৌবনা দেহের সঙ্গে ভিজে শাড়িটা বসে গেছে। তার দেহের এত সম্পদের খবর আজ যেন সে পেয়েছে ওই তরুণের মুগ্ধ চাহনিতে।

    তরুণই বলে—একদিন এস যাদু দেখতে। নিজেই পকেট থেকে একটা চিরকুট দিয়ে বলে—এটা গেটে দেখালে কেউ পয়সা চাইবে না। আসবে কিন্তু!

    ছেলেটি চলে যায়। এবার রূপসীও খুশী। আজ এই নিভৃত বনভূমিতে ওই তরুণটির চোখে যেন নিজেকেই নতুন করে আবিষ্কার করেছে। তাকে যাদু খেলা দেখার আমন্ত্রণও জানিয়ে গেছে। কি খুশীতে মন ভরে ওঠে রূপসীর। জীবনে সে কিছুই পায়নি। এবার তার বঞ্চিত মন যেন অনেক কিছুই পেতে চায়।

    নেত্য এখন বড় হয়েছে। হাট বাজার করতে সে নিজেই এখন পাহাড় পার হয়ে ওই গ্রামে যায়। এবার ওখানের স্কুলেও পড়তে যাবে। যাতায়াতে মাইল ছয়েক পথ। তবু ওটুকু পথ যাতায়াত করবে সে। এবার মকাইও ভাল হয়েছে, সারা উঠান ভরে গেছে মকাই-এর কাটা গাছে। এবার রাশিকৃত মকাই দানা ছাড়াতে হবে। নতুন করে আরও বিঘে খানেক জমি হাসিল করেছে গদাই। এবার একজন কাজের লোক রাখতে হবে। দুটো গরুও কিনেছে নেত্য। তাদের দুধ নিয়ে যায় হাটে।

    রূপসীই বলে—নেত্য, চল যাদুকরের খেলা দেখে আসি। নেত্যও তাই চায় কিন্তু পয়সা? রূপসীই বলে—তার ব্যবস্থা করেছি। চলতো। মাকে বলি—

    কুসুমও দেখেছে ছেলে-মেয়ে দুটোর জীবনে গ্রামের সেই খেলা আনন্দের অবকাশ কিছুই নাই। এখন এখানের জীবনে কিছুটা আহার আশ্রয়ের ব্যবস্থা হতে এবার তাই কুসুম রূপসী নেত্যর কথা ভাবছে। নেত্য বলে—মা, দিদি আর আমি হাটতলায় যাদুকরের খেলা দেখতে যাব। দেরী হবে না।

    কুসুম বলে—যা। আসার সময় হাট থেকে গরুর খোল আর সরষের তেল আনবি। পয়সা নিয়ে যা।

    এত সহজে মুক্তির অবকাশ মিলবে ভাবেনি রূপসী। আজ দু’জনে বের হয় সেই আনন্দের জগতে। হাটতলার ওদিকে বাদ্যি বাজনা বাজছে। যাদুকরের তাঁবুর সামনে বেশ ভিড়। রূপসীকে দেখে সেই তরুণ এগিয়ে আসে—এসে গেছ? এস, এস। এটি?

    —ও নেত্য, আমার ভাই। রূপসী জানায় তরুণকে।

    নেত্যও দেখছে তাকে। ফুল প্যান্ট শার্ট পরেছে। গলায় টাই। বেশ ছিমছাম চেহারা। সেইই নিয়ে যায় ওকে একটা ছোট তাঁবুতে। ক্যাম্প খাট পাতা। কোথা থেকে চা বিস্কুটও আনে ওদের জন্য।

    —নাও চা খেয়ে নাও। তারপর খেলা দেখতে যাবে নেত্যবাবু।

    রূপসী একটা টুলে বসেছে। ছেলেটি দেখছে ওকে । রূপসীর মনে ওই বাজনার সুর।

    যাদুকরের খেলাও বিচিত্র। সেই তরুণটিকেও দেখা গেল মঞ্চে। যাদুকরের সঙ্গে সেও খেলা দেখাচ্ছে। শূন্য থেকে খপ করে টাকা ধরছে অনেক টাকা— আর উড়িয়ে দেয়, টাকা পরিণত হয় পায়রায়, হাততালি পড়ে। রূপসীও হাততালি দেয়। একটা মানুষকেই চোখের সামনে বাক্সে পোরে। বাক্স খুলতে দেখে কেউ নেই। রূপসী চমকে ওঠে, নেত্যও; এ যেন এক সুর-স্বপ্ন-আলোর জগৎ।

    খেলার শেষে ওরা বের হয়। তরুণও আসে কেমন দেখলে খেলা?

    —দারুণ! নেত্য বলে।

    রূপসীর চোখে কি নেশা। সে শুধু চেয়ে থাকে। সেই দৃষ্টিতে ফুটে ওঠে নীরব তৃপ্তির আবেশ। বাড়ি ফিরে নেত্য—রূপসীর সেই গল্প আর থামে না। কুসুম গদাইও অনেকদিন পর ছেলে মেয়ের খুশী দেখে খুশী হয়।

    রূপসী সেদিন স্নান করে ফিরছে, হঠাৎ দেখে সেই তরুণকে। সবুজ ফুলফোটা পাখী ডাকা জগৎ। রূপসীর মনে কি স্বপ্ন জাগে। যেন কোন রাজপুত্তুর এসেছে তার সামনে, অবশ্য পক্ষীরাজ ঘোড়ায় নয় সাইকেলে। রূপসী অবাক হয়—তুমি!

    তরুণ বলে—তোমাকে দেখতে মন চাইল, চলে এলাম।

    নেত্যও মাঠে কাজ করছিল, সেও এগিয়ে আসে। ওরাই নিয়ে আসে তরুণকে তাদের বাড়িতে।

    তরুণ দেখছে ঝোরার ধারে সবুজ ক্ষেত, ওদিকে ধান গাছ-এর সবুজে এসেছে প্রকৃতির দাক্ষিণ্য, এ মাটিকে এরা ফলবতী করেছে। মাঠে শশা, বেগুন, টমেটো সবই রয়েছে। প্রকৃতি এই নিভৃতে একটি নিঃস্ব পরিবারকে তার সব দাক্ষিণ্য উজাড় করে দিয়েছে।

    কুসুমও এগিয়ে আসে।

    নেত্য বলে—দারুণ যাদুকর মা।

    তরুণ বলে—না-না। এমনিই খেলা দেখাই।

    হঠাৎ আগমনে যেন খাবলে একটা টাকা ধরে দুটো টাকা— নিজের মাথা থেকেই ধরে একটা টাকা। হাসছে রূপসী। বিকালে নামছে পাহাড়ের আড়ালে সূর্য, ঢলে গেলেই এখানে বিকাল নামে। রূপসী নেত্য তাকে এগিয়ে দিতে আসছে।

    রূপসী আজ কি স্বপ্ন দেখে। এ তার একান্ত নিজস্ব একটি স্বপ্ন। তরুণ বলে—এই অন্ধকার বন পাহাড়ে থাক কি করে?

    রূপসীও এটা বারবার ভেবেছে, বলে—যাব কোথায়?

    তরুণ বলে—তোমার ঠাঁই এখানে নয়, ওই শহরে, সেখানে নতুন করে বাঁচবে তুমি। এত কষ্টের মধ্যে নয়।

    —কি করে তা হবে? রূপসী বলে।

    তরুণ বলে—সবই হতে পারে, সবই সম্ভব। অবশ্য যদি চাও ব্যবস্থা করতে পারি।

    রূপসীর মনে কথাটা সাড়া জাগায়, সে এই নির্জন বনপাহাড় থেকে অন্যত্র গিয়ে নতুন করে বাঁচবে। তরুণই বলেছে তাকে, পথ চেয়ে থাকে তার, সেই নির্জন বনভূমিতে আসে তরুণ। রূপসীও সেখানে যায়। দু’জনে সেই ছায়া অরণ্যভূমিতে ঘনিষ্ঠ হয়—রূপসী স্বপ্ন দেখে। অনেক স্বপ্নই। ক্রমশ দুঃসাহসী হয়ে ওঠে সে।

    সেদিন কুসুম গদাই ধান নিড়াচ্ছে, ধানগাছগুলো সবুজ সতেজ হয়ে উঠেছে, ওদিকে আখের খেতও করেছে, হাটে আখ ভাল দামে বিক্রী হয়, একটা খেতে কলার চাষও করেছে, উপত্যকার বুকে এসেছে সবুজের প্রশান্তি, বেলা পড়ে আসছে, ওরা ঘরে ফিরে দেখে রান্নাও হয়নি, রূপসীও ঘরে নেই। নেত্য হাটে গেছলো সে ফিরে এসেছে, হাটের মেলা উঠে গেছে, সেই যাদুকরের তাঁবুও আর নেই। জায়গাটা ফাঁকা—ওরা চলে গেছে অন্য কোন শহরের মেলায়।

    বাড়ি ফিরে দেখে মা বাবা এদিক ওদিক খুঁজছে। রূপসীকে আর পাওয়া যায় না। ডাকছে ওরা বনে পাহাড়ে রূপসী—ডাকটা শূন্য উপত্যকায় ধ্বনি প্রতিধ্বনি তুলে ফিরে আসে, রূপসী আর নেই। সে যেন অসীম শূন্যে মিলিয়ে গেছে, নেত্যও খোঁজে দিদিকে, কালী কুকুরটাও এদিকে ওদিকে দৌড়ায়, সেই ডোবার ধারে বনেও আসে, কিন্তু কোন চিহ্নই নেই। গদাই স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে—কাঁদছে কুসুম, নেত্যর মনে সেই তরুণের কথা। দিদি যেন ওর সঙ্গে থাকলে বদলে যেত, দিদিটা খুব স্বার্থপর—তাকে ছেড়ে চলে গেল।

    রূপসী বোঝেনি এতো যাদুকরের এক খেলা। সবকিছুই সে অদৃশ্য করে দিতে পারে। বদলে দিতে পারে। তরুণও তাই করেছে। রূপসীকে শহরে এনে অন্ধকারের জগতেই অদৃশ্য করে দেয়, অবশ্য তার জন্য সে বেশ কিছু টাকাই পেয়েছে, স্বপ্ন দেখে আরও অনেকটা পাবার। তার ব্যবস্থাও করে ফেলেছে সে। তার জন্যও কম নয়—অনেক টাকাই পাবে।

    শহরের পরশমল শেঠ ধনী ব্যবসায়ী, ইদানীং সে সুন্দর পরিবেশে একটা ফার্ম হাউস করার কথা ভাবছে, ওই যাদুকরের দলের মালিকও সে, তাই তরুণও এখানে আসে, সেই সন্ধান দেয় ওই বনপর্বত ঘেরা সুন্দর উপত্যকার। খবর দেয়। পরশমল ফের হাঁক পাড়ে সরেজমিনে জায়গাটা দেখতে—খোঁজ খবর দিতে।

    পরশমলের লোকবল—অর্থবলও আছে, তাই সব খবরই পায় সে, আর কিছু টাকার বিনিময়ে বনবিভাগ থেকে ওখানে ট্যুরিস্ট স্পট বানাবার অনুমতিও পেয়ে যায়।

    গদাই কুসুমরা রূপসীর খোঁজখবর করেও কোন সন্ধানই পায়নি, নেত্যও বুঝেছে দিদি তার ফিরবে না, ক্ষেতের ধান পেকেছে, টিয়াপাখির ঝাঁক নামে, কালী তাড়া করে তাদের, ওরা ধান কাটছে।

    হঠাৎ দু’তিনটে জিপ ওই পাহাড়ী পথে এসে তাদের ক্ষেতের ধারেই থামল, বনবিভাগের উর্দিপরা লোকজন-পুলিশও নামে, সঙ্গে শেঠ পরশমল, বনবিভাগের লোকরাই বলে—এসব ফরেস্টের জায়গা, তোমাদের কে এখানে বসতে বলেছে, বেআইনী দখল করেছ, ছেড়ে দাও, না হলে জোর করে তুলে নিয়ে যাব থানায়।

    গদাই চমকে ওঠে, তার চোখের সামনে যেন অন্ধকার নামছে, এই মাঠ জমি-ফসল-এতদিনের এত চেষ্টা সব অর্থহীন হয়ে গেছে।

    কুসুম কেঁদে ওঠে—এ জমি আমরা হাসিল করেছি কত কষ্টে।

    ওরা অনড়, কে গর্জে ওঠে চলে যাও—না হলে তুলে নে গিয়ে জেলে পুরে দেব, ওঠ ওঠ জমি থেকে, জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে যাও এখান থেকে।

    কুসুমের চোখে জল, গদাই পায়ে পায়ে উঠে আসে নিজে জমি থেকে। বাতাসে দুলছে সশীষ পাকা ধানের মঞ্জরী, আখ খেতে এসেছে সবুজের আভাস—এই মাটিতে তাদের কোন হকই নেই।

    আবার সেই বাঁকের দুদিকে সংসার, তাদের ঘরগুলো টিলার উপরে থেকে পিছন ফিরে দেখে সেই সবুজ উপত্যকাকে শেষ বারের মত, ওরা এসেছিল চারজন, আজ ফিরে চলেছে তিনটি প্রাণী—আর সেই কুকুরটাও, কোথায় যাবে তা জানেনা ওরা, হাটতলার মন্দিরে ঘণ্টা বাজে।

    গদাই বলে—বৌ তুর ভগমান সত্যিই নাইরে, গরীবের জন্য একটুকু ঠাঁই, দুমুঠো অন্ন—ভগমান কোন কিছুই নাই। তারা সবুজ উপত্যকা থেকে বিতাড়িত হয়েছে আবার মানুষের কঠিন রুক্ষ্ণ বাস্তব জগতে যেখানে সবুজের কণামাত্র স্নিগ্ধতা-আশ্বাস কিছুই নেই তাদের জন্য।

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু
    Next Article বরদা সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শক্তিপদ রাজগুরু

    মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    জীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    তিল থেকে তাল – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }